Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হলুদ নদী সবুজ বন – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প186 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. ঈশ্বর ডাকে

    ঈশ্বর ডাকে, অ গৌরী, গৌরী?

    বিছানায় চিৎ হয়ে পড়ে থেকে চোখ বুজে এরকম বৈরাগ্যমধুর শান্ত উদার গলায় মাঝে মাঝে ঈশ্বর তাকে ডাকে–ম্যালেরিয়া জঁকিয়ে আসার পর। জ্বর যখন অনেক দামি নেশার চেয়েও মজাদার উদ্ভট এলোমেলো বিকারের অবস্থায় তাকে টেনে নিয়ে যায়।

    মনটা বিগড়ে যায় গৌরীর। ম্যালেরিয়া তো চুপি চুপি আসে না, কমপক্ষে কাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে কথাকণি-হেঁড়া কম্বল গায়ে চাপানের হাঙ্গামা নিয়ে আসে।

    ঈশ্বর তো সারাদিন বাইরে কাটিয়ে বাইরে পেট ভরিয়ে খেয়ে খানিক রাতে ঘরে এসে শুয়েছে।

    ডাক শুনে ঘরে গিয়ে বলে, কি বলছ?

    ঈশ্বর সাড়াশব্দ দেয় না।

    কপালে তালু রেখে গৌরী টের পায়, জ্বরের নামগন্ধও নেই। গা বরং বেশ ঠাণ্ডা।

    নিশ্বাসে কি বিশ্ৰী বদ গন্ধ!

    গন্ধটা কিসের খেয়াল করে তড়িতাহতার মতো ছিটকে দু পা পিছিয়ে গিয়ে কপাল চাপড়ে কেঁদে উঠতে যাবে এমন সময় বাইরে গম্ভীর পুরুষালি গলার আওয়াজে ডাক আসে, ঈশ্বর, ঘরে আছ নাকি হে ঈশ্বর?

    কপাট গৌরী খোলে না। কান্না চেপে গলা সাফ করে চড়া গলায় শুধোয়, কে ডাকছ? মানুষটার জ্বর এসেছে, ঘুমিয়েছে।

    ঘুমিয়েছে? বাঁচা গেল বাবা। অভ্যেস নেই, একধারসে চালিয়েছে। খানা ডোবায় পড়ে মরে নি বাপের ভাগ্যি! কী গুখুরি করেছিলাম ওটাকে মাল খেতে ডেকে নিয়ে গিয়ে। খানা ডোবায় মরলে সবাই মোকে দুষত।

    সুখের গলার আওয়াজ। একটু জড়ানো অস্বাভাবিক আওয়াজ। জানা চেনা আছে, ঈশ্বর ঘরে আছে, পিসি ঘরে আছে, একেবারে অথর্ব হয়ে মরণ-দশায় পৌঁছালেও জ্যান্ত শাশুড়িটা ঘরে আছে। –কপাট খুলে ঘরে ডেকে বসালে কোনো দোষ হয় না।

    কপট গৌরী খোলে না।

    খুপরির মতো জানালার ফাঁকে মুখ রেখে বলে, কিছুই তো বুঝতে পারলাম না। তুমি ডেকে নিয়ে গিয়ে মানুষটার এই দশা করে ছেড়েছ?

    সুখে নেশার কেঁকে দিশে হারিয়ে ব্যাকুলভাবে বলে, না না, তা নয়, তা নয়। দরজাটা খোল, ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলছি।

    যাকে নিয়ে ব্যাপার, তাকেই কাল বুঝিয়ে বোলো।–বলে গৌরী সরে যায়।

    স্বস্তিবোধের তার সীমা ছিল না।

    নেশায় প্রায় অচেতন ঈশ্বরের নিশ্বাসে যে পদার্থের দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে সেটা সে নিজে থেকে ইচ্ছা করে গেলে নি, ইয়ারদের পাল্লায় পড়েও গেলে নি। সুখে এর জন্য দায়ী, এটা জানা যেন দেবতার আশীর্বাদের মতো মনে হয়।

    শেষ রাত্রে ঘুম ভেঙে গেলে ঈশ্বর উসখুস করতে করতে একবার বাইরে থেকে ঘুরে এসে আলো জ্বালে। গৌরী জেগে গিয়েছিল, গাঢ় ঘুমের ভান করে সে মটকা মেরে পড়ে থাকে।

    দেখাই যাক ঈশ্বর কি করে।

    আলো জ্বালাবার মানেটা তার মাথায় ঢোকে না। আর কাঠের তক্তপোশে পিসি আর শাশুড়ি শুয়েছে। কানে যতই কম শুনুক, একটা চোখে ছানি পড়তে শুরু হোক, অন্য চোখে নজর আছে বেশ। আলো জেলে রেখে তাকে ডেকে কৈফিয়ত দিয়ে মাফ চেয়ে মিটমাট করে নেবার চেষ্টা তো সে করতে পারবে না!

    গোসা হলে শুধু মিষ্টি মিষ্টি নরম কথায় যে তার মানের চিড়ে ভেজে না, গায়ে হাত দিতে গেলেই গোড়ায় খানিকক্ষণ সে ফাঁসফাঁস করে উঠলেও শেষ পর্যন্ত বেশ খানিকটা আদরও তাকে করতে হয় এটা নিশ্চয় ঈশ্বর ভুলে যায় নি? অথবা এখনো নেশা কাটে নি ঈশ্বরের? সুখে বলেছিল, কাল অনেক বেশি গিলেছে। বেশি খেলে এক রাতের ঘুমে হয়তো ঘোর কাটে না, কে জানে!

    গৌরী কাত হয়ে শুয়েছিল, ঈশ্বর আলো জ্বলে কি করছে দেখার সাধটা প্ৰাণপণে চেপে চোখ বুজে রেখেছিল। কারণ তাকে চোখ মেলতে দেখে ফেললে ঈশ্বর টের পেয়ে যাবে সে জেগে গিয়েছে।

    অপরাধ করার জন্য ভয়ে ভয়ে মৃদু মোলায়েম আদর খাঁটিয়ে খাঁটিয়ে তার ঘুম ভাঙাবার চেষ্টা আর করবে না।

    হয়তো কোনো একটা হুকুম দিয়েই বসবে।

    খেয়ালি মানুষ, ওকে বিশ্বাস নেই।

    ঈশ্বর হঠাৎ কাতরভাবে আওয়াজ করে ওঠে, উঃ রে বাবারে, গেলাম রে, মরলাম রে!

    বুকটা ধড়াস করে ওঠে গৌরীর।

    সে ধড়মড়িয়ে উঠে বসে।

    আলো জ্বলে এতক্ষণ ঈশ্বর কি করছিল কে জানে, দুহাতে মাথা চেপে ধরে মেঝেতে উবু হয়ে বসে এখন সে সামনে পিছনে দুলছে।

    হল কি? বেশ তো নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছিলে নেশার ঘোরে?

    কি সব খাইয়ে দিলে সুখে কাল, বিষম যন্ত্রণা হচ্ছে। যত বলি আর খাব না, এসব মোর সয় না, তত বেশি জবরদস্তি খাওয়ায়। সায়েবের পেয়ারের লোক, ইচ্ছে করলে কাজ খতম করে দিতে পারে।

    গৌরী বলে, জানি জানি, সব মোর জানা আছে। ডেকে নিয়ে জোর করে গিলিয়েছে, সে খবরটা রাখি। কি রকম যন্ত্রণা হচ্ছে গো? তোমার যদুদা বংশী খুড়োদের ডেকে আনব, পিসিকে সাথে নিয়ে?

    ওরা এসে কি করবে? সুখে কি খাইয়েছে, ওরা কি খবর জানে? ইস, যদি একবার খেয়াল হত বজ্জাতটা এমনিভাবে খাতির করে আমায় ঘায়েল করতে চায় কথা শেষ করতে পারে না, পরপর কয়েকটা হিব্ধা তুলে ঈশ্বর চুপ করে যায়।

    মনে একটু খটকা লাগে গৌরীর। বিষম যন্ত্রণায় যার প্রাণ যাচ্ছে, বাবা রে মা রে বলে কাতরাচ্ছে–সে কি লাগসই কৈফিয়তের অত কথা বলতে চায়, না বলতে পারে?

    ঈশ্বর কি জানে না যে, হাজার চড়া গোঁসা হলেও এরকম অবস্থায় আগে সে তাকে সুস্থ করার জন্য প্রাণপাত করবে, মানভঞ্জনের পালা নিজেই সে শিকেয় তুলে রাখবে?

    তবে এটাও ভাববার কথা, আজ পর্যন্ত ঈশ্বর কোনোদিন তার সঙ্গে এরকম প্যাচ কষে নি। ওটা তার ধাতে আছে কিনা সন্দেহ।

    গৌরী তাই সব হিসাব নিকাশ ভুলে যায়। উঠে গিয়ে ব্যাকুলভাবে বলে, মাথায় জল দেব?

    তাই বরং দে।

    মেটে কলসী থেকে ঠাণ্ডা জল অন্য পাত্রে গড়িয়ে আনে না গৌরী, কলসীটাই নিয়ে আসে।

    এখন কি আর পুরোনো একটা মাটির কলসীর জন্য মায়া করার সময়! অবশ্য কলসীটা ভেঙেচুরে গেলে আরেকটা মাটির কলসী আনতে বিলম্ব হবে, কয়েকদিন ঘরে তার জলের কষ্টের সীমা থাকবে না।

    কলসীর মুখ-ঢাকা মাটির সরায় জল ঢেলে ঢেলে গৌরী স্বামীর মাথা ধুইয়ে দিতে থাকে। সযত্নে সাবধানে জল ঢালে, গা যেন না ভিজে যায়।

    হঠাৎ হড়হড় করে একগাদা বমি করে ফেলে ঈশ্বর।

    গৌরীর হাত থেকে মাটির সরাটা কেড়ে নিয়ে কলসীর তলানি জলটুকু গড়িয়ে নিয়ে এক নিশ্বাসে খালি করে বলে, বাবাঃ, বাঁচলাম।

    যশোদা কখন প্ৰাচীন আম কাঠের তক্তপোশ থেকে উঠে এসে পিছনে দাঁড়িয়েছিল তারা টের পায় নি।

    বুড়ি শাশুড়ির এইসব চালচলন গৌরীর কাছে উদ্ভট লাগে। মানুষটাকে খাইয়ে দিতে হয়, প্রায় কোলে করে বাইরে নিতে হয়। এপাশ ওপাশ ফিরিয়ে দেবার জন্যও মাঝে মাঝে তাকে দরকার হয়—কটি শিশুর মতত ক্ষীণস্বরে এমন ভাবে কাঁদে!

    অথচ মাঝে মাঝে নিজেই আম কাঠের বিছানা ছেড়ে বিনা সাহায্যে উঠে আসতে পারে।

    তাদের একটি কথা বা আওয়াজও যশোদা শুনতে পায় নি। বমি করে জল খেয়ে মেঝেতে বিছানো চাটাই চট আর কথার বিছানার কোণে বসে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ঈশ্বর পেট্রোল লাইটার দিয়ে বিড়ি ধরিয়ে টানতে শুরু করলে যশোদা চড়া খ্যানথেনে গলায় বলে, মদ খেয়েছিলি, না রে বাবা? ফুলুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজী খেয়েছিলি পেট পুরে?

    নিজের কান দুটিতে শব্দের খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে যশোদা এমন চেঁচিয়ে কথা বলে যে, পাড়ায় কেন, অনেক দূরের থানায়ও বুঝি শোনা যায়।

    ধমক দিয়ে লাভ নেই। শুনতেই পাবে না।

    মুখটা গম্ভীর বিকৃত করে, ঠোঁটে আঙুল চাপা দিয়ে ইশারা করে ঈশ্বর মাকে হুকুম দেবার চেষ্টা করে–চুপ কর।

    যশোদা গ্রাহ্য করে না।

    মাথা ভরা শণের মতো পাকা চুল। তাতে বুঝি উকুনেরা দলে দলে বাসা বেঁধেছে। মাথা। চুলকোতে চুলকোতে যশোদা তেমনি চড়া খ্যানখেনে গলায় বলে, মোকে কেন ডাকলিনে বাবা? এত কষ্ট সইতে হত না। ঘি নয়তো তেল দিয়ে চিনি একটু খাইয়ে দিতাম, নুন গলে না এমন এক পিত্তর জল দিতাম। বাস্, ফুরিয়ে যেত। বমিও করতি, কষ্ট কমে গিয়ে রাতভোর ঘুমোতি নাক ডাকিয়ে।

    ঈশ্বর উঠে গিয়ে দুহাত মুঠো করে মাথার উপর তুলে ধরে সর্বাঙ্গ শক্ত করে বিশেষ একটা বীভৎস ভঙ্গি করে যোদর সামনে মুখোমুখি দাঁড়ায়।

    সে যেন ক্ষেপে গিয়েছে। সে যেন জামদগ্নির চেয়েও বিশ্রী ভয়ঙ্করভাবে উদ্যত হয়েছে নিজের মাকে খুন করে ফেলার জন্য।

    এটা শুধু সঙ্কেত, ইঙ্গিতের ভাষা।

    সাধারণ বোমার কেন, এটম বোমার আওয়াজ শোনার শক্তিও যশোদার ফুরিয়ে গিয়েছে।

    নিজে রেগে বোমার মতো ফেটে গিয়েও কোনো হুকুম যে মাকে শোনাতে বা বোঝতে পারবে না, ঈশ্বরের তা অনেক বছর থেকে জানা আছে।

    এই রকম ইশারায় সে মাকে তার আদেশ নির্দেশ জানায়।

    দু-এক দিনের ব্যাপার নয়, কয়েক বছর ঈশ্বর এমনিভাবে পঙ্গু মাকে সামলে চলছে।

    গৌরী পারে না।

    রাবণের বুক চিরে শিরা-উপশিরা থেকে রক্ত শুষে পান করা বিশেষ এক বীরের মতো যাত্রা দলের সঙের মতো রূপ নিয়ে সামনে রুখে দাঁড়ালেও যশোদা কিছুমাত্র বিচলিত হয় না।

    ছেলের শাসনের এই নির্বাক ভঙ্গি তারও অনেক দিনের জানা।

    বলে, যাচ্ছি, যাচ্ছি–শুয়ে পড়ছি গিয়ে। একটু দই কিন্তু খাস যোগাড় করে, সব বিচ্ছিরিভাব কেটে যাবে।

     

    ঈশ্বরকে ঘুষ দিয়ে বাগাবার জন্য রবার্টসন সুখেকে কাজে লাগিয়েছিল।

    টাকা কিছু বেশি লাগে কিন্তু সহজ সরল উপায়–তাকে কেউ কোনোভাবে দায়ী করতে পারবে না।

    ঈশ্বরকে কত টাকা দেবে আর নিজে কত টাকা মারবে–সেটা সুখের হিসাব নিকাশ বিচার বিবেচনা।

    তার কাজটা হাসিল করা চাই, এটা সুখে খেয়াল রাখবে।

    তার আসল কাজটা হাসিল করার জন্যই যে তার হাতে বিনা রসিদে এতগুলি কড়কড়ে নগদ টাকার নোট তুলে দেওয়া হয়েছে এই সোজা কথাটা একবার ভুলে গেলে তারই ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার হয়ে যাবে, কোনো বিশেষ কাজ হাসিল করার জন্য আর কেউ যে তার হাতে টাকা তুলে দেবে না–এটুকু জ্ঞান সুখের আছে।

    নইলে সে তো ঈশ্বরকে প্রায় অর্ধেক বখরা দিতে রাজি হত।

    ঘটনা ওইখানে থেমে থাকে না।

    প্রভাস এজেণ্ট লাগায় না। ঈশ্বরকে বাড়িতে ডাকিয়ে এনে নিজেই কথা বলে।

    বলে, একটা খুব গুরুতর ব্যাপারে তোমায় ডাকিয়েছি। মাথা ঠাণ্ডা করে বস, চা খাবার খাও, তারপর কথাটা তোলা যাবে। খুব জরুরি কথা, গোপনীয় কথা।

    বাইরের ঘরে ডেকে বসিয়ে চা খাবার খেতে দিয়ে সমাদর করে তবু ঈশ্বরের এতটুকু কাচুমাচু ভাব না দেখে প্রভাস যেমন আশ্চর্য হয়, তেমনি ক্ষব্ধ হয়!

    ছোটলোকেরা এতদিনে সত্যি সত্যি ছোটলোক হয়ে যেতে শুরু করেছে। কবছর আগে তার ফুলের বাগান করার শখ হলে এই ঈশ্বর মালীর কাজ পেয়ে তাকে যেন দেবতা মনে করত, সামনে এলে সেইরকম ভাব দেখাত।

    দু মাস পরেই অবশ্য তাকে বিদায় করে অন্য লোক রেখেছিল। জঙ্গল সাফ করতে পারে, মাটি কোপাতে পারে, ফুলের গাছ লাগাতেও পারে কিন্তু দেশী বিলিতি শখের ফুল আর পাতাবাহারের বাগান গড়তে জানে না।

    মনে মনে বিরক্ত হলেও প্রভাস বাইরে সে ভাব প্রকাশ করে না। একটু আদেশের সুরে মিষ্টি করেই বলে, তোমাকে একটা কাজ করতে হবে ঈশ্বর–একটু স্বাৰ্থ ত্যাগ করতে হবে। আমার খাতিরে, এ দেশের লোকের মানের খাতিরে। ওর গুলি বোধহয় দু-তিন ফুট ফাঁক দিয়ে ফস্কে গেল, তবু রবার্টসন বাহাদুরি করবে যে ওই বাঘটা মেরেছে। সায়েব হলেই মস্ত শিকারি হয়, এদেশের লোক বাঘ মারতে পারে না! তোমায় বলতে হবে যে, বাঘটা আমি মেরেছি।

    ঈশ্বর বলে, তবেই সেরেছেন!

    প্রভাস গম্ভীর হয়ে বলে, না, ছোট সস্তা হিসাব তুমি ধরতে পারবে না। তোমার বন্দুকের গুলিতেই বাঘটা মরেছে সত্যি কিন্তু তুমি এই নিয়ে বাহাদুরি করতে গেলে উল্টো ফল ফলবে। তোমার কথার কেউ দাম দেবে না ওই সায়েব ব্যাটা জোর গলায় বলতে পারবে যে, ওর গুলিতে বাঘ মরেছে। কিন্তু তুমি যদি বল যে, প্রভাসবাবুই বাঘটা মেরেছেন, ও ব্যাটা জব্দ হয়ে যাবে।

    ঈশ্বরের মজা লাগে, হাসি পায়। একটা বাঘ মেরেছে বানিয়ে বলতে পারার জন্য রবার্টসন কেন সুখের মারফত তাকে আড়াই শ টাকা দেয় অর্থাৎ আসলে আরো অনেক বেশি টাকা কেন খরচ করে–ভালোমতো বুঝে উঠতে পারছিল না।

    এবার ব্যাপারটা তার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রভাস ও রবার্টসনের মধ্যে একটা ভয়ানক। ঝগড়া হয়েছিল, প্ৰায় খুনোখুনি ব্যাপার, এ গুজব তার কানেও পৌঁছেছিল কিন্তু তার জানা ছিল না। যে, ওই বাঘ মারা নিয়ে দুজনের বিবাদ বেধেছিল।

    হাসি পায়, মজা লাগে–বেশিক্ষণের জন্য নয়। কি করবে ভেবে না পেয়ে তার পরেই ঈশ্বর বিব্রত বোধ করে।

    রবার্টসনের টাকা খেয়ে সে যে দলিল লিখে দিয়েছে সে কথা কি প্রভাসকে বলা যায়?

    তার জবাবের জন্য খানিকক্ষণ অপেক্ষা করে প্রভাস বলে, আমি বরং তোমায় কিছু নগদ টাকাও ধরে দিচ্ছি ঈশ্বর। শুনলাম তোমার বৌ নাকি হাসপাতালে গিয়েছে। তুমি শুধু লিখে দেবে যে, আমার গুলিতে বাঘটা মরেছে।

    ঈশ্বর খানিকক্ষণ মাথা হেঁট করে ভাবে। তার হৃদয় মনে যে কী আলোড়ন চলছে প্রভাস তা কল্পনাও করতে পারে না। বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলেও বিস্ময়ের সঙ্গেই সে ভাবে যে, নগদ টাকা পাবে শুনেও একটা বাঘ মারার বাহাদুরির দাবি ছাড়তে ঈশ্বর ইতস্তত করে!

    ঈশ্বর হঠাৎ জিজ্ঞাসা করে, কত টাকা দেবেন?

    তখন খুশি হয়ে প্রভাস বলে, তুমি কত চাও?

    ঈশ্বর বলে,  আপনাকে খুঁটি কথা বলি। বৌটি হাসপাতালে গিয়েছে, শ পাঁচেক টাকা হলে ওকে বাঁচানো যায়

    প্ৰভাস রেগে উঠে সংযম হারিয়ে একটা বিশ্ৰী মন্তব্য করে বসলে সে তাড়াতাড়ি বলে, না না, আপনার কাছে পাঁচ শ টাকা চাইছি না। যা কিছু সম্বল আছে সব বেচে দিয়ে আড়াই শ টাকার। মতো যোগাতে পারব। আপনি যদি আড়াই শ দ্যান তাহলে লিখে দিতে রাজি আছি।

    প্রভাস গম্ভীর হয়ে একটু ভাবে। তার মুখের গুমোট ভাব দেখে ঈশ্বরের রীতিমতো শঙ্কা জাগে যে, লোকজন ডেকে তাকে মারধর করে খেদিয়ে না দেওয়া হয়।

    প্রভাস কিন্তু সংক্ষেপে শুধু জিজ্ঞাসা করে, সবটা নগদ চাই?

    ঈশ্বর বলে, হা বাবু, চিকিচ্ছের ব্যাপার, প্রাণ নিয়ে টানাটানি তার গরিব চাষী মজুর মানুষ। সব খরচটা নগদ আছে না দেখলে বাবুরা চিকিচ্ছে রুই করবে না।

    প্রভাস বলে, একটু বস তাহলে। অত নগদ ঘরে নেই, যোগাড় করে আনি। এই খসড়াটা নিজের হাতে ততক্ষণে লিখে ফ্যালো–আমি ফিরে এলে সামনে সই করে দেবে।

    প্রভাসের আগে থেকে তৈরি করা ফুলস্কেপের দেড়পাতা খসড়াটা কাঁচা হাতের মোটা অক্ষরে কপি করতে করতে ঈশ্বরের বুক কঁপে, প্রাণটা জ্বালা করে।

    গৌরী মরবে ধরেই নিয়েছিল। ওকে বাঁচানোর চেষ্টা করার জন্য চুরিচামারি চালাকিবাজির একটা সুযোগ পেয়েছে বলেই মেনে নেবে?

    সুখের দেওয়া ঘুষের টাকাটা পাওয়ায় গৌরীকে হাসপাতালে পাঠানো গিয়েছিল। কিন্তু ও টাকায় কুলোবে না। ওটা ছিল শুধু টাকা পেয়ে নিজের বাঘ-মারার বাহাদুরি ত্যাগ করা।

    কিন্তু প্রভাসের কাছে টাকা সে কোন হিসাবে নেবে?

    অথচ এটাকাটা না পেলে গৌরীর ফাড়া হয়তো কাটবে না, তাকে বাঁচানো যাবে না।

    পিসি দিনরাত কানের কাছে জপ করে বৌটাকে মারিসনে ঈশ্বর মারিসনে। পুরুষমানুষ, চুরি-ডাকাতি করে টাকাটা যোগাড় করে কমাস নয় জেল খাট!

    কথাগুলি কানে আর প্রাণে যেন ঝনঝন করে বাজে।

    প্রভাসের টাকাটা নিলে গৌরী এবারকার মতো বাঁচবে। তার কপালে কি আছে কে জানে। সব জানবার বুঝবার পর রবার্টসন বা প্রভাস কি ছেড়ে কথা কইবে, তাকে সহজে রেহাই দেবে!

    খসড়া কপি করার আগেই প্রভাস ফিরে আসে। নিজের হাতে লেখা দলিলে ঈশ্বর তার সামনে স্বাক্ষর করার পর দশ টাকা পাঁচ টাকার নোট মিলিয়ে প্রভাস আড়াই শ টাকা গুনে তার হাতে দেয়।

    সুখেকে দুটো দশ টাকার নোট ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল। প্রভাসকে কিছুই ফিরিয়ে দিতে হয় না।

     

    সায়েব আর সরকারি বাবুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরী হাসপাতাল–উপায় নেই বলেই কিছু কিছু সাধারণ মানুষকে ঢুকতে দেওয়া–খরচ নিয়ে।

    নিয়মিতভাবে গৌরীকে ঈশ্বর দেখতে যেতে পারে না।

    দেখাশোনার টাইম বাঁধা। ঈশ্বরকে তখন কারখানায় আটক থাকতে হয়।

    দিন দশেক পরে ঈশ্বর গৌরীকে দুবেলা হাসপাতালে বাধা টাইমে দেখতে যাবার অবাধ অধিকার পায়।

    সেদিন ভোর আটটায় কারখানার দরজায় হাজির হলে দারোয়ান রামভজন তার পথ আটকে জানায় যে, কারখানায় ঢাকা তার বারণ।

    বড় সায়েব রবার্টসন স্বয়ং হুকুম দিয়েছে।

    কা হুয়া ভাই?–রামভজন সহানুভূতির সঙ্গে জিজ্ঞাসা করে।

    ঈশ্বরের জানাই ছিল যে, রেহাই সে পাবে না, গায়ের জ্বালায় প্রভাস আর রবার্টসন দুজনেই আঘাত হানবে।

    প্রথম আঘাত দিল রবার্টসন।

    ঈশ্বর তার নিজস্ব হিন্দিতে বলে, সাবকো বিবিকা সাথ পিরিত হুয়া, সাবকো তাই গোসা হুয়া।

    কি করা উচিত এবং সঙ্গত? ঈশ্বর ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। অন্য মজুরদের জানিয়ে দিতে পারে যে, অকারণে এবং অন্যায়ভাবে তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে লড়াই একটা শুরু করে দিতে পারা যায়।

    রবার্টসন আসল ব্যাপার প্রকাশ করবে না, অন্য অজুহাত দেবে সন্দেহ নেই।

    কিন্তু ঈশ্বরের বিবেক সাড়া দেয় না।

    গৌরীর প্রাণ বাঁচানোর জন্যই হোক আর যে কারণেই হোক ধাপ্পা দিয়ে সে পাঁচ শ টাকা বাগিয়েছে। সেটা গোপন থাকলেও সকলকে তার পক্ষ নিয়ে লড়াইয়ে নামাতে হলে কত মিছে। কথাই যে তাকে বলতে হবে, তার জন্য যারা প্রাণান্তকর দুঃখদুর্দশা বরণ করবে তাদেরও নানাভাবে ধাপ্পা দিতে হবে।

    সে-ও তো খুলে বলতে পারবে না আসল ব্যাপার।

    আজিজ, নকুল, মণ্টারা জন সাতেক রোজই একসাথে গল্পগুজব করতে করতে কাজে আসে, একজন প্রশ্ন করে, দাঁড়িয়ে যে?

    ঈশ্বর মুখ খোলার আগেই রামভজন জানিয়ে দেয়, কাজ তার খতম হয়ে গিয়েছে, বড় সাহেবের হুকুমে।

    সাতজনেই দাঁড়িয়ে যায়, পৃথকভাবে আরো দুজন গেটের মধ্যে প্রায় ঢুকে পড়েছিল–তারাও ফিরে এসে সামনে দাঁড়ায়।

    কি ব্যাপার?

    ঈশ্বরের আধা চাষী আধা মজুর সরল প্ৰাণে কি যে একটা ঝোঁক চাপে, সে বলে বসে, ওই। বাঘ মারার ব্যাপার, আবার কি! সায়েবের গুলি ফস্কে গেল, আমার বন্দুকে বাঘ মরল, এ অপমান কি সয়!

    মণ্টা গর্জন করে বলে, বটে! ইয়ার্কি পেয়েছে নাকি! নিজের গুলি ফস্কে গেল, তোর গুলিতে বাঘ মরল, সেই দোষে তোকে ছাঁটাই করবে! তোকে না ঢুকতে দিলে আমরাও আজ কেউ ঢুকব না, যারা ঢুকেছে তারাও সবাই বেরিয়ে আসবে।

    আজিজ বলে, ঠিক কথা। যাকে খুশি, যখন খুশি ছাটাই করবে–ইস্!

    ঈশ্বর বড়ই বিব্রত হয়ে বলে,  যা গে যাক, কাজ আমার জুটে যাবে।

    মণ্টা বলে, যা গে যাক্ মানে? কাজ জুটবে কি জুটবে না, মোটেই সে কথা নয়। এরকম খেয়ালখুশির ছাটাই মোরা মানব না–এ ইয়ার্কি চলবে না।

    প্রৌঢ় সাধু বলে, বটেই তো, আজ তোকে বিনা দোষে খেদাচ্ছে, কাল মোকে খেদাবে।

    কাজ শুরু করার সময় ঘনিয়ে এসেছে। ভো বাজার আওয়াজ শুনে নিখুঁত হিসাবে সময় আন্দাজ করে পিলপিল করে খাটুয়েরা আসতে শুরু করেছে। অনেক দিনের অভ্যাসে আন্দাজ হয়েছে নির্ভুল।

    কয়েক মিনিট আগে আসবে। বেশি আগে এসে কাজের পেছনে সময় নষ্ট করার বোকামি তাদের অল্প দিনেই কেটে যায়। বাধা টাইমের ধরাবাঁধা কাজ তো।

    দেখতে দেখতে ঈশ্বরকে ঘিরে ভিড় জমে ওঠে। ইতিপূর্বে যারা ভিতরে ঢুকেছিল তারাও হয় খবর পেয়ে নয় টের পেয়ে বেরিয়ে এসে ভিড় বাড়ায়।

    ঈশ্বর এভাবে ও-ভাবে রেহাই পাবার চেষ্টা করে। একবার বলে বড়ই তার অপমান বোধ হয়েছে, এখানে আর সে কাজ করবে না। তারপর বলে যে, অন্য জায়গায় বেশি মজুরিতে ভালো কাজ পাবে, ছাঁটাই হয়ে ভালোই হয়েছে। আবার বলে যে খাটুনি তার পোষায় না, এবার সে একটা দোকান দেবে।

    তার দিশেহারা ভাব বেশ খানিকটা হকচকিয়ে দেয় সকলকে। খেয়ালের বশে অন্যায় করে সায়েব তার কারখানায় ঢোকা নিষেধ করে হুকুম দিয়েছে বলে মজুর কেরানি সকলে তার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে, তাকে সাথে না নিয়ে একজনও কারখানায় ঢুকবে না স্থির করেছে–তার এমন কাচুমাচু দিশেহারা ভাব, সকলে তার পক্ষ নিয়ে লড়াই করবে তাতে এমন ঘোরতর আপত্তি!

    কাজ শুরু করার টাইম পেরিয়ে আধঘণ্টা কেটে যায়, কাজ শুরু করা যায় না।

    ইতিমধ্যে দেখা যায় যেন মন্ত্রবলে একদল পুলিশ এসে সেজেগুজে তৈরি হয়ে দাঁড়িয়েছে অদূরে কদমগাছটার তলায়।

    কয়েকজনকে ঠেলে সরিয়ে নন্দ এগিয়ে যায়, ঈশ্বরের মুখের কাছে মুখ নিয়ে শান্তকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করে, তোমার মতলবটা কি ঈশ্বর? তুমি কাদের এজেন্ট?

    প্ৰাণ ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল ঈশ্বরের। সে হঠাৎ মুখ তুলে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে, ভাই সব, কাজে যাও না তোমরা। বার বার বলছি, তোমরা শুনছ না। আমার ছাঁটাইয়ের মধ্যে অন্য ব্যাপার আছে–তোমাদের আমি তার মধ্যে জড়াব না।

    মণ্টা বাঘের মতো থাবা উঁচিয়ে গর্জন করে বলে, এ কথাটা গোড়ায় বললেই হত না। হারামজাদা?

    নন্দ তাকে টেনে সরিয়ে নিয়ে যায়।

    হৈচৈ কলরব নয়, পরস্পরের কথা বলাবলির একটা গুঞ্জনধ্বনি তুলে ভিড়টা কাজ করতে কারখানায় ঢুকতে শুরু করে।

    প্রায় পৌঁনে এক ঘণ্টা লেট হয়েছে সকলের। কিন্তু বড়ই আশ্চর্যের বিষয় যে, লেটটা হাজিরার হিসাবে গণ্য করা হয় না।

    সবাই ঠিক টাইমে কাজে যোগ দিয়েছে এটাই অফিসিয়ালি ধরে নেওয়া হয়।

    গুরুতর হাঙ্গামার আশঙ্কা জেগেছিল, এত অল্পে বিনা হাঙ্গামায় সেটা বাতিল হয়ে যাবে বড় কর্তারা কেন ছোট কর্তারাও সেটা ভাবতে পারে নি।

    সকলকে তাই জানিয়ে দেওয়া হয় যে, বিশেষ অবস্থা বিবেচনা করে কারো লেট হাজিরায় ধরা হয় নি, তবে এক ঘণ্টা ওভারটাইম খেটে দিয়ে ওটা তাদের পুষিয়ে দিতে হবে।

    আজিজ হেসে বলে, নিজেদের হিসাবটা ঠিক রাখে। লেট করেছ, মাপ করলাম, বিনা পয়সায় ওভারটাইম খেটে সেটুকু শোধ করে দিয়ে যেও!

     

    যেন নেশা করেছিল, ঘোর কেটে যাচ্ছে এমনিভাবে স্থলিতপদে ঈশ্বর হাসপাতালে যায়। সকালে দেখা করার সময় পার হয়ে গিয়েছিল, তাকে বিকালে যেতে বলা হয়।

    বিকালে হাসপাতালে গৌরীকে দেখতে যাবার পথে ঈশ্বর একেবারে সামনাসামনি পড়ে যায় কথায় মশগুল পাশাপাশি হন্টনরত প্রভাস আর রবার্টসনের।

    একজন টানছে সিগার, অন্যজন ফুঁকছে সিগারেট।

    অনায়াসে পাশের কচু কলা বাঁশ বনের আড়ালে চলে যেতে পারত ঈশ্বর ছোট ছেলেও লাফ দিয়ে পার হয়ে যেতে পারে পথের ধারের ময়লা কাদায় বুজে আসা নালাটা।

    কিন্তু সে যেমন চলছিল তেমনিভাবে চলতে থাকে। কথা কইতে কইতেই প্রভাস ও রবার্টসন তার দিকে এক নজর তাকিয়ে চলে যায়।

    দুজনের বিবাদ শুধু মিটে যায় নি, ভাবও হয়েছে। তারই জন্য সন্দেহ নেই।

    কী মজার কাগুই না জানি হয়েছিল। তার দলিলের জোরে দুজনেই কি সকলের সামনে আবার বাঘ মারার দাবি ঘোষণা করেছিল এবং একটা হাস্যকর অবস্থা সৃষ্টি করে অপদস্থ হয়েছিল? দুজনকেই সে সমান জোরের সঙ্গে বাঘ মারার সার্টিফিকেট লিখে দিয়েছিল।

    ঘটনা সে জানতে পারে অনেক কিছু ঘটবার পর। হাসপাতালে গৌরীকে দেখে ঘরে ফেরার পথের নির্জন স্থানে কয়েকজন অচেনা লোকের হাতে সে এমন বেদম মার খায় যে, কয়েকদিনের জন্য বিছানা নিতে হয়।

    তার যথাসর্বস্ব যৎসামান্য–একদিন রাত্রে সবই প্রায় চুরি হয়ে যায়।

    কদিন পরে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তার তিনপুরুষের ঘরের চালা।

    এসব অবশ্য সুখের কীর্তি।

    কিন্তু প্রভাস ও রবার্টসন সোজাসুজি প্রতিশোধের ব্যবস্থা না করলে সুখের পক্ষে এত কাণ্ড করা সম্ভব হত না।

    প্রভাসের বসার ঘরে সুখেন্দুকে ডাকিয়ে এনে দাঁড় করিয়ে রেখে বেয়ারা পেগ দিয়ে গেলে গ্লাসে গ্লাসে ঠেকিয়ে চুমুক দিয়ে দুজনে কয়েক মিনিট কথা বলেছিল। তারপর রবার্টসন সুখেকে ধমক দিতে শুরু করেই মেজাজ চড়ে যাওয়ায় তার গালে মেরে বসেছিল একটা চড়।

    রবার্টসনের মোটা কড়া থাবা। বেহিসাবী রাগের মাথায় চড় কমিয়ে দিয়ে থাকলে গালটা সুখের ফেটে যেত।

    গালটা জ্বলেপুড়ে গেলেও সুখে টের পেয়েছিল, চড়টা হিসাব করে মারা, তাকে একেবারে ঘায়েল করার উদ্দেশ্য সায়েবের নেই।

    তাকে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গ্লাসে আরেকটা চুমুক দিয়ে রবার্টসন অদ্ভুতরকম শান্ত গলায় সংক্ষেপে ব্যাপারটা তাকে জানিয়েছিল।

    এবং ভয়ানক শাস্তির ভয় দেখিয়েছিল।

    সুখে কাচুমাচু করে নি, ধীর গম্ভীরভাবে সবিনয়ে জানিয়েছিল, ঈশ্বর যে এমন বদমাশি করবে তার জানা ছিল না। ওকে সে শায়েস্তা করে দেবে।

    প্রভাস বলেছিল, ওকে শায়েস্তা করার জন্য আমাদের কাছে থেকে আবার দু-পাঁচ শ আদায় করবে তো?

    আজ্ঞে না। একটা পয়সাও চাইব না। রবার্টসন যেন জমে আসা নেশার ঝোঁকেই বলেছিল, গেট আউট, শূয়ারকা বাচ্চা।

    সুখে কিন্তু টের পেয়েছিল যে, গালে চড় মারার মতো এটাও সায়েবের হিসাব করে দেখানো মেজাজ। অর্থ অতি পরিষ্কার।

    তাকে একেবারে বাতিল করে বাদ দেবার ইচ্ছা সায়েবের নেই, কিন্তু এ ব্যাপারে হাতেনাতে সে কি করে আগে সায়েব সেটা দেখবে। নইলে আর খাতির নেই।

     

    দু মাস পরে খানিকটা সেরে উঠে গৌরী ঘরে ফেরে। ঘর? না, ঘর ছাওয়া হয় নি ঈশ্বরের। আগুনে ঝলসানো কালচে-মারা মাটির দেয়াল শুধু দাঁড়িয়ে আছে।

    ভাগ্যে গোয়ালের চালাটা বেঁচেছিল। ভাগ্যে ঈশ্বরের গরু নেই। গরু থাকলে বেচারাকে গাছতলায় ঠেলে দিয়ে তাদের ওই চালায় আশ্রয় নিতে হত।

    সেরে উঠতে শুরু করে হাসপাতাল থেকে বিদায় হয়ে এসে গৌরীও ওই চালার কোণে আশ্রয় নেয়।

    বুড়ি মা আর পিসিকে মণ্টা তার ঘরে রাত্রে শুতে দিচ্ছে তাই রক্ষা।

    মরতে হবেই এ ভয় গৌরীর আর নেই। সেরে ওঠে নি, সেরে উঠবে ধরে নেওয়া হয়েছে কিন্তু সুনিশ্চিত মরণটা অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে গৌরীর।

    বেঁচে যাবে এটা আশা করা চলে।

    তাতেই কৃতজ্ঞতার সীমা নেই গৌরীর।

    হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গোয়ালের চালার ঘরে নিচু নোংরা ভিজে কাদাটে ভিটেয় খড়। বিছিয়ে উঁচু গদি করা দেড় হাত চওড়া হেঁড়া কাঁথার বিছানায় শুয়ে সে খানিকক্ষণ দম নেয়, নিজেকে সামলায়। তারপর প্রায় গদগদ ভাষায় জিজ্ঞাসা করে, হ গো, এবারে তো ঘরে এয়েছি, এবার মোকে খুলে বল না, পাঁচ শ টাকা কোথা থেকে পেলে? কী করে মোর প্রাণ বাঁচালে?

    পোড়া ঘরটার দিকে বারেক তাকিয়েছিল গৌরী? ওমা, ঘর পুড়লে নগদ টাকা জোটে নাকি? সরকার থেকে দেয়?

    পাগল হয়েছিস? বড়লোকের কাছ থেকে টাকা বাগালে ঘর পোড়। ঘর পুড়েছে, একদম খালি গোয়ালঘরে শুয়ে আছিস, সেটা খেয়াল করেছিস?

    গায়ের আঘাতের কয়েকটা চিহ্ন আজো মিলিয়ে যায় নি–মাথার ক্ষত চিহ্নটা কোনোদিন মিলোবে না।

    ঈশ্বর সেগুলি গৌরীকে দেখায় কিন্তু আসল ঘটনাটা তাকে জানায় না। মেয়েমানুষের মুখের আগল নেই, গৌরীকে ব্যাপারটা সবিস্তারে জানালে বাঘ মারার ব্যাপারে দুজনের কাছে টাকা নিয়ে তার দুজনকে ঠকানোর কীর্তিকাহিনী সবাই জেনে যাবে।

    গৌরী মনে করবে এটা তার মস্ত বাহাদুরির কথা!

    গৌরীকে সে শুধু বলে যে, বাঘটা মারার জন্য পাঁচশ টাকা পুরস্কার পেয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প
    Next Article দিবারাত্রির কাব্য – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    পদ্মা নদীর মাঝি – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    পুতুল নাচের ইতিকথা – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    অহিংসা – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    চতুষ্কোণ – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    চিহ্ন – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    জননী – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026
    Our Picks

    মানবজমিন – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    কড়িখেলা – সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 7, 2026

    নীললোহিতের চোখের সামনে – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 7, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }