Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হুতোমপ্যাঁচার নক্সা – কালীপ্রসন্ন সিংহ

    কালীপ্রসন্ন সিংহ এক পাতা গল্প211 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.২৮ মাহেশের স্নানযাত্রা

    মাহেশের স্নানযাত্রা

    গুরুদাস গুঁই সেরুড় কোম্পানীর বাড়ীর মেট মিস্তিরি। তিরশ টাকা মাইনে, সওয়ায় দশ টাকা উপরি রোজগারও আছে। গুরুদাসের চাঁপাতলাঞ্চলে একটি খোলার বাড়ী আছে, পরিবারের মধ্যে বুড়ো মা, বালিকা স্ত্রী ও বিধবা পিসী মাত্র।

    গুরুদাস বড় সাখরচে লোক। মা দশ টাকা রোজগার করেন, সকলই খরচ হয়ে যায়। এমন কি, কখন কথন মাস কাবারের পূর্ব্বে গয়না খানা ও জিনিসটে পত্তরটাও বাঁধা পড়ে। বিশেষতঃ আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ইলিশ মাছ ওটবার পূর্ব্বে ও ঢ্যালাফ্যালা পার্ব্বণে গুরুদাসের দু মাসের মাইনেই খরচ হয়। ভাদ্রমাসের আনন্দটি বড় ধূমে হইয়া থাকে। আর পিটে-পাৰ্ব্বণেও দশ টাকা খরচ হয়েছিল —ক্রমে স্নানযাত্রা এসে পড়লো। স্নানযাত্রাটি পরবের টেক্কা, তাতে আমোদের চূড়ান্ত হয়ে থাকে। সুতরাং স্নানযাত্রা উপলক্ষে গুরুদাস বড়ই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। খাওয়ারও অবকাশ রইল না; ক্রমে আরও পাঁচ ইয়ার জুটে গেল। স্নানযাত্রায় কি কি রকম আমোদ হবে, তাই তদ্বির ও পরামর্শ হতে লাগলো; কেবল দুঃখের বিষয় চাঁপাতলার হলধর বাগ মতিলাল বিশ্বেস ও হারাধন দাস, গুরুদাসের বুজুম্ ফ্রেণ্ড ছিলেন,–কিন্তু কিছুদিন হলো হলধর একটা চুরী মামলায় গেরেপ্তার হয়ে দু বছরের জন্য জেলে গেছেন, মতি বিশ্বাস মদ খেয়ে পাতকোর ভিতরে পড়ে গিয়েছিলেন, তাতেই তার দুটি পা ভেঙ্গে গিয়েছে, আর হারাধন গোটাকতক টাকা বাজার-দেনার জন্য ফরাসডাঙ্গায় সরে গেছেন; সুতরাং এবারে তাঁদের বিবাহে স্নানযাত্রাটা ফাঁক ফাঁক লাগছে কিন্তু তাহলে কি হয়–সংবৎসরের অমোদটা বন্ধ করা কোন ক্রমেই হতে পারে না বলেই নিতান্ত গর্মিতে থেকেও গুরুদাসকে স্নানযাত্রায় যাবার আয়োজন কত্তে হচ্ছে।

    এদিকে পাঁচ ইয়ারের পরামর্শে সকল রকম জিনিসের আয়োজন হতে লাগলো-গোপাল দৌড়ে গিয়ে একখানি বজরা ভাড়া করে এলেন। নবীন আতুরী, আনিস, রমও গাজীর ভার নিলেন। ব্রজ ফুলূরী ও বেগুন ভাজার বায়না দিয়ে এলেন–গোলাবী খিলীর দোনা, মোমবাতি ও মিটে-কড়া তামাক ও আর আর জিনিসপত্র গুরুদাস স্বয়ং সংগ্রহ করে রাখলেন।

    পূৰ্ব্বে স্নানযাত্রার বড় ধূম ছিল—বড় বড় বাবুরা পিলেস, কলের জাহাজ, বোট ও বজরা ভাড়া করে মাহেশ যেতেন; গঙ্গার বাচখেলা হতো। স্নানযাত্রার পর রাত্তির ধরে খেমটা ও বাইয়ের হাট লেগে যেতো! কিন্তু এখন আর সে আমোদ নাই–সে রাম নাই সে অযোধ্যাও নাই—কেবল ছুতোর, কাঁসারি, কামার ও গন্ধবেণে মশাইরা যা রেখেচেন! মধ্যে মধ্যে ঢাকা অঞ্চলের দু চার জমিদারও স্নানযাত্রার মান রেখে থাকেন; কোন কোন ছোকরাগোছের নতুন বাবুরাও স্নানযাত্রায় আমোদ করেন বটে!

    ক্রমে সে দিনটি দেখতে দেখতে এল। ভোর না হতে হতেই গুরুদাসের ইয়াররা সঙ্গে গুজে তইরি হয়ে তাঁর বাড়ীতে উপস্থিত হলেন। গোপাল এক জোড়া লাল রঙ্গের এষ্টকীং (মোজা) পরে দিয়েছিলেন, পেতলের বড় বড় বোতাম দেওয়া সবুজ রঙ্গের একটি কনুই ও গুলদার ঢাকাই উড়ুনী তার গায়ে ছিল; আর একটি বিলিতী পেতলের শিল আংটিও আঙ্গুলে পরেছিলেন—কেবল তাড়াতাড়িতে জুতোজোড়াটি কিনতে পারেন নাই বলেই শুধু পায়ে আসা হয়েছে। নবীনের ফুলদার ঢাকাইখানি বহুকাল বোপর বাড়ী যায় নি, তাতেই যা একটু ময়লা বোধ হচ্ছিলো, নতুবা তার চার আঙ্গুল চাটালো কালাপপড়ে ধোপদস্ত ধুতিখানি সেই দিন মাত্র পাট ভাঙ্গা হয়েছিল-মজাইটিও বিলক্ষণ দেবো ছিল। জরু সম্প্রতি ইয়ার্ডে কৰ্ম্ম হয়েছে, বয়সও অল্প, সুতরাং আজও ভাল কাপড়-চোপড় করে উঠতে পারেন নি, কেবল গত বৎসর পূজার সময়ে তার আই, ন’সিকে নিয়ে, যে ধুতি-চাদর কিনে দেয়, তাই পরে এসেছিলেন; সেগুলি আজো কোরা থাকায় তারে দেখতে বড় মন্দ হয় নি। আরো তাঁর ধুতি চাঁদারর সেট নতুন বল্লেই হয়–বলতে কি তিনি তো বেশীদিন পরেন নি, কেবল পুজোর সময়ে সপ্তমী পূজোর দিন পরে গোকুল দাঁয়ের প্রতিমে দেখতে গিয়েছিলেন—ভাসান দেখতে যাবার সময়ে একবার পরেন অর হাটখোলার যে সেই ভারী বারোইয়ারি পূজো হয়, তাতেই একবার পরে গোপালে উড়ের যাত্রা শুনতে গেছলেন—তা ছাড়া অমনি সিকের উপোর হাঁড়ির মধ্যে তোলাই ছিল।

    ইয়ারেরা আসবামাত্র গুরুদাস বিছানা থেকে উঠে দাওয়ায় বসলেন। নবীন, গোপাল ও ব্ৰজ খুঁটি ঠাসান দিয়ে উবু হয়ে বসলেন। গুরুদাসের মা চক্‌মকী, শোলা, টিকে ও তামাকের মেটে বাক্সটি বার করে দিলেন। নবীন চক্‌মকী ঠুকে টিকে ধরিয়ে তামাক সাজলেন। ব্রজ পাতকোতলা থেকে হুঁকোটি ফিরিয়ে এনে দিলেন; সকলেরই এক একবার তামাক খাওয়া হলো! গুরুদাস তামাক খেয়ে হাত-মুখ ধুতে গেলেন; এমন সময় ঝম্ ঝম্ করে এক পসলা বৃষ্টি এলো। উঠানের ব্যাংগুলো থপ থপ করে নাপাতে নাপাতে দাওয়ায় উঠতে লাগলো, নবীন, গোপাল, ব্রজ তারই তামাসা দেখতে লাগলেন। নবীন একটা সখের গাওনা জুড়ে দিলেন–

    “সখের বেদিনী বলে কে ডাক্‌লে আমারে।”

    বর্ষাকলের বৃষ্টি, মানুষের অবস্থার মত অস্থির! সৰ্ব্বদাই হচ্ছে যাচ্চে তার ঠিকানা নাই। ক্রমে বৃষ্টি থেমে গেল। গুরুদাসও মুখ-হাত ধুয়ে এসেই মারে খাবার দিতে বল্লেন। ঘরে এমন তইরি খাবার কিছুই ছিল না, কেবল পান্তাভাত আর তেঁতুল-দেওয়া মাছ ছিল, তাঁর মা তাই চারিখানি মেটে খোরায় বেড়ে দিলেন; গুরুদাস ও তাঁর ইয়ারেরা তাই বহুমান করে খেলেন।

    পূৰ্ব্বে স্থির হয়েছিল রাত্তিরের জোয়ারেই যাওয়া হবে; কিন্তু স্নানযাত্রাটি যে রকম আমাদের পরব, তাতে রাত্তিরের জোয়ারে গেলে স্নানযাত্রার দিন বেলা দুপুরের পর মাহেশ পৌঁছুতে হয়, সুতরাং দিনের জোয়ারে যাওয়াই স্থির হলো।

    এদিকে গির্জ্জের ঘড়িতে টুং টাং টুং টাং করে দশটা বেজে গেল। নবীন, ব্রজ, গোপাল ও গুরুদাস খেয়ে দেয়ে পানৃতামাক খেয়ে, তোবড়াতুবড়ী নিয়ে দুর্গা বলে যাত্রা করে বেরুলেন। তাঁর মা একখানি পাখা ও দুটি ধামা কিনে আনতে বল্লেন। তাঁর স্ত্রী পূর্ব্বের রাত্তিরে একটি চিত্তির করা হাঁড়ী, ঘুন্সি ও গুরিয়া পুতুল আনতে বলেছিল আর তার বিধবা পিসীর জন্য একটি খাজা কোয়াওলা কাঁটাল, কানাইবাঁশী কলা ও কুলী বেগুন আনতে প্রতিশ্রুত হয়েছিলেন।

    গুরুদাসের পোষাকটিও নিতান্ত মন্দ হয় নি। তিনি একখানি সরেশ গুলদার উড়ুনী গায়ে দিয়েছিলেন, উড়ুনীখানি চল্লিশ টাকার কম নয়—কেবল কাঠের কুচো বাঁধবার দরুণ চার পাঁচ জায়গায় একটু একটু খোচা গেছল; তার গায়ে একটি বিলিতি ঢাকা প্যাটানের পিরাণ, তার ওপর বুলু রঙ্গের একটি রঙ্গের হাপ চাপকান; তিনি “বেঁচে থাকুক বিদ্দেসাগর চিরজীবী হয়ে” পেড়ে এক শান্তিপুরে ফরমেসে ধুতি পরেছিলেন। জুতো জোড়াটিতে রুপোর বক্‌লস্‌ দেওয়া ছিল।

    ক্রমে গুরুদাস ও ইয়ারেরা প্রসন্নকুমার ঠাকুরের ঘাটে পৌঁছিলেন। সেথায় কেদার, জগ, হরি ও নারায়ণ তাঁদের জন্য অপেক্ষা করে ছিল; তখন সকলে একত্র হয়ে বজরায় উঠলেন! মাঝীরা শুটকী মাছ, লঙ্কা ও কড়াইয়ের ডাল দিয়ে ভাত খেতে বসেছিল। জোয়ারও আসে নাই, সুতরাং কিছুক্ষণ নৌকা খুলে দেওয়া বন্ধ রইলো।

    কিন্তু পাঁচো ইয়ার নৌকায় উঠেই আয়েস জুড়ে দিলেন। গোপাল সন্তর্পণে জবাবির চৌপলের শোলার ছিপিটি খুলে ফেল্লেন। ব্ৰজ এক ছিলেম গাঁজা তইরি কত্তে বসলো—আতুরী ও জবাবীরা চলতে সুরু হলো, ফুলুরি ও বেগুনভাজীরা সেকালের সতী স্ত্রীর মত আতুরীদের সহগমন কত্তে লাগলেন–মেজাজ গরম হয়ে উঠলো—এদিকে নারাণ ও কেদার বাঁয়ার সঙ্গতে—

    “হেসে খেলে নাওরে যাদু মনের সুখে।
    কে কবে, যাবে শিঙে ফু’কে।
    তখন কোথা রবে বাড়ী, কোথা রবে জুড়ি,
    তোমার কোথায় রবে ঘড়ি, কে দেয় ট্যাঁকে।
    তখন নুড়ো জ্বেলে দিবে ও চাঁদ মুখে॥”

    গান জুড়ে দিলেন—ব্রজ গাঁজায় দম মেরে আড়ষ্ট হয়ে জোনাকি পোকা দেখতে লাগলেন; গোপাল ও গুরুদাসের ফুর্ত্তি দেখে কে!

    এদিকে সহরেও স্নানযাত্রার যাত্রাদের গরী ধূম পড়ে গেছে। বুড়ী মাগী, কলা বউয়ের মত আধ ঘোমটা দেওয়া ক্ষুদে ক্ষুদে কনে বউ ও বুকের কাপড় খোলা হাঁ-করা ছুড়ীরা রাস্তা যুড়ে স্নানযাত্রা দেখতে চলেচে; এমন কি রাস্তায় গাড়ী পাল্কী চলা ভার! আজ সহরে কেরাঞ্চী গাড়ীর ঘোড়ায় কত ভার টানতে পারে, তার বিবেচনা হবে না, গাড়ীর ভিতর ও পিছনে কত তাংড়াতে পারে, তারই তকরার হচ্চে;—এক একখানি গাড়ীর ভেতর দশজন, ছাতে দুজন, পেছনে এক জন ও কোচবাকসে দুজন, একুনে পোনের জন, এ সওয়ার তিনটি করে আঁতুড়ে ছেলে ফাও! গেরস্তর মেয়েরাও বড় ভাই, শ্বশুর, ভাতার, ভাদ্দর-বউ ও শাশুড়ীতে একত্র হয়ে গেছেন; জগন্নাথের কল্যাণে মাহেশ আজ দ্বিতীয় বৃন্দাবন।

    গঙ্গারও আজ চূড়ান্ত বাহার! বোট, বজরা, পিনেস ও কলের জাহাজ গিজগিজ কচ্চে; সকলগুলি থেকেই মাৎলামো, রং, হাসি ও ইয়ারকির গররা উঠচে; কোনটিতে খ্যামটা নাচ হচ্চে, গুটি ত্রিশ মোসাহেব মদে ও নেশায় ভো হয়ে রং কচ্চেন; মধ্যে ঢাকাই জালার মত, পেল্লাদে পুতুলের ও তেলের কুপোর মত শরীর, দাঁতে মিসি, হাতে ইষ্টিকবচ, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, তাতে ছোট ছোট ঢোলের মত গুটি দশ মাদুলী ও কোমরে গোট, ফিনফিনে ধুতিপরা ও পৈতের গোচ্ছা গলায়-মৈমনসিং ও ঢাকা অঞ্চলের জমিদার, সরকারী দাদা ও পাতান কাকাদের সঙ্গে খোকা সেজে ন্যাকামি কচ্চেন। বয়েস ষাট পেরিয়েচে, অথচ ‘রাম’কে ‘আঁম’ ও ‘দাদা’ ‘কাকা’কে ও ‘দাঁদা’ বা ‘কাঁকা’ বলে–এরাই কেউ কেউ রঙ্গপুর অঙ্গলে ‘বিদ্যোৎসাহী’ কবলান। কিন্তু চক্র করে তান্ত্রিক মতে মদ খান ও বেলা চারটে অবধি পুজো করেন। অনেকে জন্মাবচ্ছিন্নে সূর্যোদয় দেখেছেন কি না সন্দেহ।

    কোন পিনেসে একদল সহুরে নব্যবাবুর দল চলেচে, ইংরাজী ইস্পিচে লিডনি মরের শ্রাদ্ধ হচ্ছে। গাওনার সুরে জমে যাচ্চে।

    কোন্ পান্সিখানিতে একজন তিলকাঞ্চুনে নবশাখবাবু মোসাহেব ও মেয়েমানুষের অভাবে পিসতুতো ভাই, ভাগ্নে ও ছোট ভাইটিকে নিয়ে চলেছেন–বাঁয়া নাই, গোলাবিখিলি নাই, এমন কি একটা থেলে হুঁকোরও অপ্রতুল। অথচ এম্নি সখ যে, পান্সির পাটাতনের তক্তা বাজিয়ে গুন্ গুন্ করে গাইতে গাইতে চলেচেন। যেমন করে হোক্, কায়ক্লেশে শুদ্ধ হওয়াটা চাই!

    এ দিকে আমাদের নায়ক গুরুদাসবাবুর বজরায় মাছিদের খাওয়া দাওয়া হয়েছে। দুপুরের নমাজ পড়েই বজরা খুলে দেবে। এমন সময়ে গোপাল গুরু দাসকে লক্ষ্য করে বল্লেন, “দেখ ভাই গুরুদাস! আমাদের আমোদের চূড়ান্ত হয়েছে, একটার জন্যে বড় ফাঁক ফাঁক দেখাচ্ছে, কেবল মেয়ে মানুষ নাই; কিন্তু মেয়েমানুষ না হলে তো স্নানযাত্রায় আমোদ হয় না!” ‘যা বল তা কও’—অমনি কেদার ‘ঠিক বলেচো বাপ! বলে কথার খি ধরে নিলেন; অমনি নারায়ণ বলে উঠলেন, “বাবা, যে নৌকাখানায় তাকাই সকলেই মাল-ভরা, কেবল আমরা ব্যাটারাই নিরিমিষ্‌ষি! আমরা যেন বাবার পিণ্ডি দিতে গয়া যাচ্চি।”

    গুরুদাসের মেজাজ আলি হয়ে গেছে, সুতরাং “বাবা, ঠিক বলেচো! আমিও তাই ভাবছিলেম; ভাই! যত টাকা লাগে, তোমরা তাই দিয়ে একটা মেয়েমানুষ নে এসো, আমি বাবা তাতে পেচপও নই, গুরুদাসের সাদা প্রাণ!” এই বলতে না বলতেই নারাণ, গোপাল, হরি ও ব্রজ নেচে উঠলেন ও মাঝিদের নৌকা খুলতে মানা করে দিয়ে মেয়েমানুষের সন্ধানে বেরুলেন।

    এ দিকে গুরুদাস, কেদার ও আর আর ইয়ারেরা চীৎকার করে–

    যাবি যাবি যমুনা পারে ও রঙ্গিণী।
    কত দেখবি মজা রিষড়ের ঘাটে শামা বামা দোকানী।

    কিনে দেবো মাথাঘষা, বারুইপুরে ঘুন্সীখাসা,
    উভয়ের পূরাবি আশা, ওলো সোনামণি॥”

    গান ধরেচেন, এমন সময় মেকিণ্টশ বরন্ কোম্পানীর ইয়ার্ডের ছুতরেরা এক বোট ভাড়া করে মেয়েমানুষ নিয়ে আমোদ কত্তে কত্তে যাচ্চিল, তারা গুরুদাসকে চিনতে পেরে তাদের নৌকা থেকে

    “চুপে থাক থাক রে বেটা কানায়ে ভাগ্নে।
    গরু চরাস লাঙ্গল ধরিস, এতে তোর এত মনে॥”

    গাইতে গাইতে হুররে ও হরিবোল দিয়ে, সাঁই সাঁই করে বেরিয়ে গেল। গুরুদাসেরাও দুউও ও হাততালি দিতে লাগলেন। কিন্তু তাঁর নৌকায় মেয়েমানুষ না থাকাতে সেটি কেমন ফাঁক ফাঁক বোধ হতে লাগলো। এদিকে বোটওয়ালারাও চেপে দুউও ও হাততালি দিয়ে, তার যথার্থ অপ্রস্তুত করে দিয়ে গেল।

    গুরুদাস নেশাতেও বিলক্ষণ পেকে উঠেছিলেন। সুতরাং ওর ঠাট্টা করে আগে বেরিয়ে গেল, ইটি তিনি বরদাস্ত কত্তে পানে না। শেষে বিরক্ত হয়ে ইয়ারদের অপেক্ষা না করে টলতে টলতে আপনিই মেয়েমানুষের সন্ধানে বেরুলেন; কেদার ও আর আর ইয়ারেরা–

    “আয় আয় মকর গঙ্গাজল।
    কাল গোলাপের বিয়ে হবে সৈতে যাব জল।
    গোলাপ ফুলের হাতটি ধরে, চলে যাব সোহাগ করে,
    ঘোমটার ভিতর খোটা নেচে ঝম্ ঝমাবে মল।”

    গান ধরে গুরুদাসের অপেক্ষায় রইলেন।

    ঘণ্টাক্ষণেক হলো, গুরুদাস নৌকা হতে গেছেন, এমন সময়ে ব্রজ ও গোপাল ফিরে এলেন। তাঁরা সহরটি তন্ন তন্ন করে খুজে এসেছেন, কিন্তু কোথাও একজন মেয়েমানুষ পেলেন না। তাঁদের জানত সহরের ছুটো গোছের বাচতে বাকী করেন নাই। কেদার এই খবর শুনে একেবারে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন (জয়কষ্টো মুখুজ্জে জেলে যাওয়াতে তাঁর প্রজাদের এতো দুঃখ হয় নাই, রাবণের হাতে রামের কাটা মুণ্ড দেখে অশোকবনে সীতে কত বা দুঃখিত হয়েছিলেন?) ও অত্যন্ত দুঃখে এই গান ধরে, গুরুদাসের অপেক্ষায় রইলেন।

    হৃৎপিঞ্জরের পাখী উড়ে এলো কার।
    ত্বরা করে ধর গো সখি দিয়ে পীরিতের আধার।।
    কোন কামিনীর পোষা পাখী, কাহারে দিয়েছে ফাঁকি,
    উড়ে এলো দাঁড় ছেড়ে, শিক্লীকাটা ধরা ভার।।

    এমন সময়ে গুরুদাসও এসে পড়লেন—গুরুদাস মনে করেছিলেন যে, যদি তিনিই কোন মেয়েমানুষের সন্ধান নাই পেলেন— তাঁর ইয়ারের একটা একটাকে অবশ্যই জুটিয়ে থাক্‌বে। এদিকে তার ইয়ারৈরা মনে করেছিলেন, যদিও তারাই কোন মেয়েমানুষের সন্ধান কত্তে পাল্লে না, গুরুদাসবাবু আর ছেড়ে আসবেন না। এদিকে শুরুদান নৌকায় এসেই, মেয়েমানুষ না দেখতে পেয়ে, মহা দুঃখিত হয়ে পড়লেন। কিন্তু নেশার এমন অনিৰ্বনীয় ক্ষমতা যে, তাতেও তিনি উৎসাহহীন হলেন না; গুরুদাস পুনরায় ইয়ারদের স্তোক দিয়ে মেয়েমানুষের সন্ধানে বেরুলেন। কিন্তু তিনি কোথায় গেলে পূর্ণমনোরথ হবেন, তা নিজেও জানে না। বোধ হয় তিনি যার অধীন ও আজ্ঞানুবর্তী হয়ে যাচ্চিলেন, কেবল তিনি মাত্র সে কথা বলতে পাতেন। গুরুদাসকে পুনরায় যেতে দেখে, তার ইয়ারেরাও তার পেছনে পেছুনে চল্লেন! কেবল নারায়ণ, ব্ৰজ ও কেদার নৌকায় বসে অত্যন্ত দুঃখেই—

    নিশি যায় হায় হায় কি করি উপায়।
    শ্যাম বিহনে সখি বুঝি প্রাণ যায়॥
    হের হের শশধর অস্তাচলগত সখী
    প্রফুল্লিত কমলিনী, কুমুদ মলিনমুখী
    আর কি আসিবে কান্ত তুষিতে আমায়॥

    গাইতে লাগলেন—মাঝীরা “জুয়ার বই যায়” বলে বারাম্বার ত্যক্ত কত্তে লাগলো, জলও ক্রমশ উড়েনচণ্ডীর টাকার মত জায়গা খালি হয়ে হটে যেতে লাগলো,–ইয়ারদলের অসুখের পরিসীমা রইল না!

    গুরুদাস পুনরায় সহরটি প্রদক্ষিণ কল্লেন—সিঁদুরেপটী শোভাবাজারের ও বাগবাজারের সিদ্ধেশ্বরীতলাটাও দেখে গেলেন, কিন্তু কোনখানেই সংগ্রহ কত্তে পাল্লেন না-শেষে আপনার বাড়ীতে ফিরে গেলেন।

    আমরা পূর্ব্বেই বলেছি যে, গুরুদাসের এক বিধবা পিসী ছিল। গুরুদাস বাড়ী গিয়ে তার পিসীরে বল্লেন যে, “পিসি! আমাদের একটি কথা রাখতে হবে।” তার পিসী বল্লেন, “বাপু গুরুদাস। কি কথা রাখতে হবে? তুমি একটা কথা বল্লে আমরা কি রাখবো না? আগে বল দেখি কি কথা?” গুরুদাস বল্লেন, “পিসি! যদি তুমি আমাদের সঙ্গে স্নানযাত্রা দেখতে যাও, তা হলে বড় ভাল হয়। দেখ পিসি, সকলে একটি দুটি মেয়েমানুষ নিয়ে স্নালযাত্রায় যাচ্চে, কিন্তু পিসি, শুদুই বা কেমন করে যাওয়া হয়? আমার নিজের জন্য যেন না হলো, কিন্তু পাঁচো ইয়ারের শুধু নিরিমিষ রকমে যেতে মন সচ্চে না—তা পিসি! অমোদ কত্তে কত্তে যাবো, তুমি কেবল বসে যাবে, কার সাদ্দি তোমারে কেউ কিছু বলে।” পিসী এই প্রস্তাব শুনে প্রথমে গাঁইগুঁই কত্তে লাগলেন, কিন্তু মনে মনে যাবার ইচ্ছাটাও ছিল, সুতরাং শেষে গুরুদাস ও ইরারদের নিতান্ত অনুরোধ এড়াতে না পেরে ভাইপোর সঙ্গে স্নানযাত্রায় গেলেন।

    ক্রমে পিসীকে সঙ্গে নিয়ে গুরুদাস ঘাটে এসে পৌঁছিলেন; নৌকার ইয়ারের গুরুদাসকে মেয়েমানুষ নিয়ে আসতে দেখে, হুরুরে ও হরিবোল ধ্বনি দিয়ে বাঁয়ায় দামামার ধ্বনি কত্তে লাগলো, শেষে সকলে নৌকোয় উঠেই নৌকো খুলে দিলেন। দাঁড়িরা কোসে ঝপাঝপ দাঁড় বাইতে লাগলো। মাঝি হাল বাগিয়ে ধরে জোরে দেদার ঝিঁকে মাত্তে লাগলো। গুরুদাস ও সমস্ত ইয়ারে–

    “ভাসিয়ে প্রেমন্ত্রী হরি যাচ্চ যমুনায়।।
    গোপীর কুলে থাকা হলো দায়।
    আরে ও! কদমতলায় বসি বাঁকা বাঁশরী বাজায়,
    আর মুচকে হেসে নয়ন ঠেরে স্কুলে বউ ভুলায়।।

    হরর্‌ হো! হো! হো!” গাইতে লাগলেন, দেখতে দেখতে নৌকাখানি তীরের মত বেরিয়ে গেল।

    বড় বড় যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই আজ দুপুরের জোয়ারে নৌকা ছেড়েছেন। এদিকে জোয়ারও মরে এলো, ভাটার সারানী পড়লো–নোঙ্গর-করা ও খোঁটায় বাঁধা নৌকাগুলির পাছা ফিরে গেল— জেলেরা ডিঙ্গি চড়ে বেঁউতি জাল তুলতে আরম্ভ কল্লে। সুতরাং যিনি যে অবধি গেছেন, তারে সেইখানেই নোঙ্গর কত্তে হলো—তিলকাকুন বাবুদের পান্সি, ডিঙ্গি, বজরা ও বোট বাজার পোট জায়গায়। ভিড়ানো হলো–গয়নার যাত্রীরা কিনের পাশে পাশে লগি মেরে চল্লেন! পেনেটি, কামারহাটি কিম্বা খড়দহে জলপান করে, খেয়া দিয়ে মাহেশ পৌঁছুবেন।

    কমে দিনমণি অস্ত গেলেন। অভিসারিণী সন্ধ্যা অন্ধকারের অনুসরণে বেরুলেন। প্রিয়সখী প্রকৃতি প্রিয়কার্যের অবসর বুঝে ফুলদামি উপহার দিয়ে বাসরের নিমন্ত্রণ গ্রহণ কল্লেন। বায়ু মৃদু মৃদু বীজন করে পশে দূর কত্তে লাগলেন; বক ও বালহাঁসেরা শ্রেণী বেঁধে চল্লো, চক্ৰবাকমিথুনের কাল সমর প্রদোষ, সংসারের সুখবর্দ্ধনের জন্য উপস্থিত হলো। হায়! সংসারের এমনি বিচিত্র গতি যে, কোন কোন বিষয় একের অপার দুঃখাবহ হলেও, শতকের সুখাস্পদ হয়ে থাকে।

    পাড়াগাঁ অঞ্চলের কোন কোন গাঁয়ের বওয়াটে ছোঁড়ারা যেমন মেয়েদের সাঁজ সকালে ঘাটে যাবার পূর্ব্বে, পথের ধারে পুরণো শিবের মন্দির, ভাঙ্গা কোটা, পুকুরপাড় ও ঝোপে ঝাপে লুকিয়ে থাকে—তেমনি অন্ধকারও এতক্ষণ চাবি দেওয়া ঘরে, পাতকোর ভেতরে ও জলের জালায় লুকিয়ে ছিলেন—এখন শাঁক-ঘণ্টার শব্দে সন্ধ্যার সাড়া পেয়ে বেরুলেন—তার ভয়ানক মূর্ত্তি দেখে রমণীস্বভাবসুলভ শালীনতায় পদ্ম ভয়ে ঘাড় হেঁট করে চক্ষু বুজে রইলেন; কিন্তু ফচকে ছুঁড়ীদের আঁটা ভার—কুমুদিনীর মুখে আর হাসি ধরে না। নোঙ্গোর-করা ও কিনারার নৌকোগুলিতে গঙ্গাও কথনাতীত শোভা পেতে লাগলেন; বোধ হতে লাগলো যেন গঙ্গা গলদেশে দীপমালা ধারণ করে, নাচতে লেগেচেন। বায়ুচালিত ঢেউগুলি তবলা-বাঁয়ায় কাজ কচ্চে–কোনখানে বালির খালের নীচে একখানি পিনেশ নোঙ্গোর করে বসেছেন—রকমারী বেধড়ক চলছে। গঙ্গার চমৎকার শোভায় মৃদু মৃদু হাওয়াতে ও ঢেউয়ের ঈষৎ  দোলায়, কারু কারু শ্মশানবৈরাগ্য উপস্থিত হয়েছে, কেউ বা ভাবে মজে পূরবী রাগিণীতে–

    “যে যাবার সে যাক সখী আমি তো যাবো না জলে।
    যাইতে যমুনাজলে, সে কালা কদম্বতলে,
    আঁখি ঠেরে আমায় বলে, মালা দে রাই আমার গলে!”

    গান ধরেচেন; কোনখানে এইমাত্র একখানি বোট নোঙ্গের কল্লে–বাবু ছাদে উঠলেন, অমনি আর আর সঙ্গীরাও পেচনে চল্লো; একজন মোসাহেব মাঝীদের জিজ্ঞাসা কল্লেন, “চাচা! জায়গাটার নাম কি?” অমনি বোটের মাঝী হজুরে সেলাম ঠুকে ‘আইগেঁ কাশীপুর কর্‌তা! এই রতনবাবুর গাট” বলে বক্সিসের উপক্রমণিকা করে রাখলে! বাবুর দল ঘাট শুনে হাঁ করে দেখতে লাগলেন; ঘাটে অনেক বৌ-ঝি গা ধুচ্ছিলো, বাবুদলের চাউনি, হাসি ও রসিকতার ভয়ে ও লজ্জায় জড়সড় হলো, দু একটা পোষ মান্‌বারও পরিচয় দেখাতে ত্রুটি কল্লে না–মোসাহেব দলে মাহেন্দ্রযোগ উপস্থিত; বাবুর প্রধান ইয়ার রাগ ভেঁজে–

    অনুগত অশ্রিত তোমার।
    রেখো রে মিনতি আমার।
    অন্য ঋণ হলে বাঁচিতাম পলালে,
    এ ঋণে না মলে পরিশোধ নাই!
    অতএব তার, ভার তোমার,
    দেখো রে করো নাকো অবিচার।

    গান জুড়ে দিলেন। সন্ধ্যা-আহ্নিকওয়ালা বুড়ো বুড়ো মিন্‌ষেরা, ক্ষুদে ক্ষুদে ছেলে, নিষ্কর্মা মাগীরা ঘাটের উপর কাতার বেঁধে দাঁড়িয়ে গেল; বাবুরাও উৎসাহ পেয়ে সকলে মিলে গাইতে লাগিলেন—মড়াখেকো কুকুরগুলো খেউ খেউ করে উঠলো, চরন্তী শোয়ারগুলো ময়লা ফেলে ভয়ে ভোঁৎ ভোঁৎ করে খোঁয়াড়ে পালিয়ে গেল।

    কোন বাবুর বজরা বরানগরের পাটের কলের সামনেই নোঙ্গোর করা হয়েচে, গাঁয়ের বওয়াটে ছেলেরা বাবুদের রঙ্গ ও সঙ্গের মেয়েমানুষ দেখে, ছোট ছোট নুড়ি পাথর, কাদা মাটীর চাপ ছুড়ে অমোদ কর্তে লাগলো, সুতরাং সে ধারের খড়খড়েগুলো বন্ধ কত্তে হলো–আরো বা কি হয়।

    কোন বাবুর ভাউলেখানি রাসমণির নবরত্নের সামনে নোঙ্গোর করেছে, ভিতরের মেয়েমানুষেরা উঁকী মেরে নবরত্নটি দেখে নিচ্চে।

    আমাদের নায়কবাবু গুরুদাস বাগবাজারের পোলের আসে পাশেই আছেন; তাঁদের বাঁয়ার এখনও আওয়াজ শোনা যাচ্চে, আতুরী ও আনীসদের বেশীর ভাগ আনাগোনা হচ্চে-আনীস ও রমেদের মধ্যে যাঁরা গেছলেন, তাঁরাই দুনো হয়ে বেরিয়ে আসছেন। ফুলূরী ও গোলাপী খিলিরা দেবতাদের মত বর দিয়ে অন্তর্ধান হয়েছেন, কারু কারু তপস্যার ফললাভও শুরু হয়েছে–স্নেহময়ী পিসী আঁচল দিয়ে বাতাস কচ্চেন; নৌকাখানি অন্ধকার।

    এমন সময়ে ঝম্‌ ঝম্ করে হঠাৎ এক পশলা বৃষ্টি এলো। একটা গোলমেলে হাওয়া উঠলো, নৌকোর পাছাগুলি দুলতে লাগলো—মাঝীরা পাল ও চট মাথায় দিয়ে, বৃষ্টি নিবারণ কত্তে লাগলো; রাত্তির প্রায় দুপুর!

    সুখের রাত্রি দেখতে দেখতেই যায়–ক্রমে সুখতারার সিঁতি পরে হাসতে হাসতে ঊষা উদয় হলেন, চাদ তার দিল নিয়ে অমোদ কচ্ছিলেন, হঠাৎ উষারে দেখে, লজ্জায় ম্লান হয়ে কাঁপতে লাগলেন। কুমুদিনী ঘোমটা টেনে দিলেন, পূর্ব্ব দিক ফরসা হয়ে এলো; “জোয়ার আইচে” বলে, মাঝারা নৌকা খুলে দিলে–ক্ৰমে সকল নৌকার সার বেঁধে মাহেশ ও বল্লভপুরে চলো। সকখানিই এখানে রং পোরা, কোন কোনখানিতে গলাভাঙ্গা সুরে–

    “এখনো রজনী আছে বল কোথা যাবে রে প্রাণ
    কিঞ্চিৎ বিলম্ব কর হো নিশি অবসান।।
    যদি নিশি পোহাইত, কোকিলে ঝঙ্কার দিত,
    কুমুদী মুদিত হতো শশী যেতে নিজ স্থান।”

    শোনা যাচ্চে। কোনখানি কফিমের মত নিঃশব্দ—কোনখানিতে কান্নার শব্দ কোথাও নেশার গোঁ গোঁ ধ্বনি।

    যাত্রীদের নৌকো চল্লো, জোয়ারও পেকে এলো, মালীরা জাল ফেলতে আরম্ভ কল্লে–কিনারায় সহরের বড়মানুষের ছেলেদের ট্রকপি ধোপার গাধা দেখা দিলে। ভটচায্যিরা প্রাতঃস্নান কত্তে লাগলেন, মাগী ও মিন্সেরা লজ্জা মাথায় করে কাপড় তুলে হাগতে বসেচে। তরকারীর বজরা সমেত হেটোরা বদ্দিবাটী ও শ্রীরামপুর চল্লো। আড়খেয়ার পাটুনীরে সিকি পয়সায় ও আধ পয়সায় পার কত্তে লাগলো। বদর ও দফর গাজীর ফকীরের ডিঙ্গের চড়ে ভিক্ষে আরম্ভ কল্লে। সূর্য্যদেব উদয় হলেন, দেখে কমলিনী আহ্লাদে ফুটলেন, কিন্তু ইলিশমাছ ধড়ফড়িয়ে মরে গেলেন; হায়! পরশ্রীকাতরদের এই দশাই ঘটে থাকে।

    যে সকল বাবুদের খড়দ, পেনিটি, অগিড়পাড়া, কামারহাটী প্রভৃতি গঙ্গাতীর অঞ্চলে বাগান আছে, আজ তাঁদেরও ভারী ধূম। অনেক জয়েগার কাল শনিবার ফলে গেছে, কোথাও আজ শনিবার। কারু কদিনই জমাট বন্দোবস্ত—আয়েস ও চোহেলের হদ্দ! বাগানওয়ালা বাবুদের মধ্যে কারু কারু বাচ খেলাবার জন্য পান্‌সী তইরি, হাজার টাকার বাচ হবে। এক মাস ধরে নৌকার গতি বাড়াবার জন্য তলায় চরবি ঘষা হচ্চে ও মাঝিদের লাল উর্দ্দী ও আগু পেচুর বাদসাই নিশেন সংগ্রহ হয়েচে-গ্রামস্থ ইয়ার দল, খড়দর বাবুরা ও আর আর ভদ্দরলোক মধ্যস্থ! বোধ হয়, বাদী মহীন্দর নফর-চীনেবাজারের ক্যাবিনেট মেকর—ভারী সৌখীন—সখের সাগর বল্লেই হয়।

    এ দিকে কোন যাত্রী মহেশ পৌঁছুলেন, কেউ কেউ নৌকাতেই রইলেন’; দুই একজন ওপরে উঠলেন—মাঠে লোকারণ্য, বেদীমণ্ডপ হতে গঙ্গাতীর পর্য্যন্ত লোকের ঠেল মেরেছে; এর ভিতরেই নানাপ্রকার দোকান বসে গেচে। ভিখিরীরা কাপড় পেতে বসে ভিক্ষা কচ্চে, গায়েনের গাচ্ছে, আনন্দলহরী, একতারা খঞ্জনী ও বাঁয়া নিয়ে বোষ্টমেরা বিলক্ষণ পয়সা কুড়ুচ্চে। লোকের হররা, মাঠের ধূলো ও রোদের তাত একত্র হয়ে, একটি চমৎকার মেওয়া প্রস্তুত করেছে। অনেকে তাই দিল্লীর লাড্ডুর স্বাদে স্বাদ করে সেবা কচ্চেন!

    ক্রমে বেলা দুই প্রহর বেজে গেল। সুৰ্য্যের উত্তাপে মাথা পুড়ে যাচ্চে, গামছা, রুমাল, চাদর ও ছাতি ভিজিয়েও পার পাচ্ছে না! জগবন্ধু চাঁদমুখ নিয়ে, বেদীর ওপর বসেচেন; চাঁদমুখ দেখে কুমুদিনীর ফোঁটা চুলোয় যাক, প্রলয়তুফানে জেলেডিঙ্গির তফরা খাওয়ার মত, সমাগত কুমুদিনীদের দুর্দশা দেখে কে!

    ক্রমে বেলা প্রায় একটা বেজে গেল। জগন্নাথের আর স্নান হয় না–দশ আনীর জমিদার ‘মহাশয়’ বাবুরা না এলে, জগন্নাথের স্নান হবে না। কিন্তু পচা আদা ঝাল ভরা তাঁদের আর আসা হয় না; ক্রমে যাত্রীরা নিতান্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লো, আসপাশের গাছতলা, আমবাগান ও দরজা লোকে ভরে গেল। অনেকের সর্দ্দিগৰ্ম্মি উপস্থিত, কেউ কেউ শিঙ্গে ফোঁকবার যোগাড় কল্লেন; অনেকেই ধুতুরোফুল দেখতে লাগলো। ডাব ও তরমুজে রণক্ষেত্র হয়ে গেল, লোকের রল্লা দ্বিগুণ বেড়ে উঠলো, সকলেই অস্থির। এমন সময় শোনা গেল, বাবুরা এসেচেন। অমনি জগন্নাথের মাথায় কলসী করে জল ঢালা হলো, যাত্রীরাও চরিতার্থ হলেন। চিঁড়ে, দই, মুড়ি, মুড়কি, চাটিমকলা দেদার উঠতে লাগলো। খোসপোষাকী বাবুরা খাওয়া দাওয়া কল্লেন। অনেকের আমোদেই পেট ভরে গেছে, সুতরাং খাওয়া দাওয়া আবশ্যক হলো না। কিছু বিশ্রামের পর তিনটে বেজে গেল। বাচখেলা আরম্ভ হলো–কার নৌকা আগে গিয়ে নিশেন নেয়, এরই তামাসা দেখবার জন্য সকল নৌকোই খুলে দেওয়া হলো। অবশ্যই এক দল জিৎলেন, সকলে জুটে হারের হাত্তালি ও জিতের বাহবা দিলেন। স্নানযাত্রার আমোদ ফুরুলো। সকলে বাড়ীমুখো হলেন; যত বাড়ী কাছে হতে লাগলো, শেষে ততই গৰ্ম্মিবোধ হতে লাগলো। কাশীপুরের চিনির কল, বালির ব্রিজ, কেউ পার হয়ে প্রসন্নকুমার ঠাকুরের ঘাটে উঠলেন, কেউ বাগবাজার ও আহারীটোলার ঘাটে নাবলেন। সকলেরই বিষণ্ণ বদন—ম্লান মুখ; অনেককেই ধরে তুলতে হলো; শেষ চার পাঁচ দিনের পর আমাদের নাগাড় মরে ফিরতি গোলের দরুণ আমরা গুরুদাসবাবুর নৌকোখানা বেচে নিতে পাল্লেম না।

    ———-

    প্রথম ভাগ সমাপ্ত

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভারতীয় ও পাশ্চাত্য জ্ঞানবিদ্যা : চার্বাক ও হিউম – কালী প্রসন্ন দাস
    Next Article গীতা – কালীপ্রসন্ন সিংহ

    Related Articles

    কালীপ্রসন্ন সিংহ

    মহাভারত (কালীপ্রসন্ন সিংহ অনূদিত)

    July 28, 2025
    কালীপ্রসন্ন সিংহ

    গীতা – কালীপ্রসন্ন সিংহ

    July 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Our Picks

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }