Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প261 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নবীনের প্রতিশোধ – রাজেশ বসু

    নবীনের প্রতিশোধ – রাজেশ বসু

    মা বললেন, ‘শোন বাবা, খুদকুঁড়ো যা আছে দিনমান হয়ে যাবে। কালের ভাবনা কাল দেখব।’

    মা-র কথায় কান দিল না নবীন। ক-দিন ধরে ওই খাবারই তো খাচ্ছে সে। আলুসেদ্ধও থাকে না রোজ। খালি নুন আর লঙ্কা। গলা দিয়ে নামতে চায় না। নেতাই সামন্ত শহরের বাবুদের বন দেখাতে এনেছেন। তাদের কেউ আস্ত মৌচাক চান। দিতে পারলে মোটা ইনাম। কথাটা শোনা ইস্তক বুকে মাদল বাজছে নবীনের। বেরিয়ে পড়েছে ডিঙি নিয়ে। কিছু রোজগার তো হবে। কদ্দিন আর আধপেটা খেয়ে থাকা যায়!

    নিতাই সামন্ত বলছিল, ‘সাহেব খুব দরাজ। দু-চার টাকা নাকি কিছুই না। এক হাতে চাক দিবি, অন্য হাতে টাকা। কোনও গরমিল নেই।’

    বুকের ভিতরটা ঢিপঢিপ করছিল নবীনের। টাকাটা হাতে এলে প্রথমেই আস্ত মুরগি কিনবে হাট থেকে। সঙ্গে পেঁয়াজ রসুন আলু শুকনো লঙ্কা আর মিনিকিট চাল। মাকে বলবে কষে রান্না করতে। ঝাল-ঝাল করে। পেটভরে একদম গলা পর্যন্ত খাবে নবীন। ভাবতেই জিভে জল এসে গিয়েছিল। মনে-মনে নিতাই সামন্তকে ধন্যবাদ দিয়েছিল। যদিও হোঁদল কুতকুত লোকটাকে মোটেই পছন্দ করে না সে। বনবিভাগে কাজ করে বলে যেন মাথা কিনে নিয়েছে। ভাবগতিকও সুবিধের না। যেমন ঘ্যাড়ঘেড়ে গলার স্বর, তেমনি শিয়ালের মতো দৃষ্টি। কী মতলবে ঘোরে কে জানে! বায়নাটা নিতাই সামন্ত অন্য কাউকেও দিতে পারত। বরাত ভালো নবীনের। এখন কাজটুকু সঠিক করতে পারলে হয়।

    বনবিবিকে প্রণাম করে সকাল-সকাল তাই বেরিয়ে পড়েছে নবীন। মা একটু রাগল বটে, কী করা যাবে। একেবারে মুরগি নিয়ে ফিরে রাগ জল করে দেবে। একাই বেরিয়েছে ডিঙি নিয়ে। গন্তব্য কাদাখালির চর। গেঁওয়া বাইন পশুড় গর্জনে ভরতি মহাঘন জঙ্গল সেখানে। ক-দিন আগেই বাইনগাছে চড়ে ইয়া বড়ো একখানা টুসটুসে মৌচাক দেখেছে সে সেখানে। লক্ষ্য সেটাই। সুবিধে হচ্ছে, জল থেকে খুব বেশি পথ না। মক্ষির ঝাঁকও একটু যেন কম। চাকটাও খুব বেশি উঁচুতে না। নাগালের মধ্যেই। মুশকিল শুধু একটাই। হেঁতালের বড়ো বাড়বাড়ন্ত জায়গাটায়। দক্ষিণরায়ের বাহন ঘাপটি দিয়ে থাকলেই চিত্তির!

    চিন্তাটা হতেই বুকটা গুড়গুড়িয়ে উঠল নবীনের। বিশ বছরের জোয়ান শরীরটা কঠিন হয়ে এল। ভয় যেমন হল চাপা একটা ক্রোধও তুষের আগুনের মতো ভুসভুসিয়ে উঠল। বাবার মুখখানা ভেসে উঠল চোখে। আজ থেকে সাত বচ্ছর আগে এমনি একটি দিনে দক্ষিণরায়ের বাহন টেনে নিয়ে গিয়েছিল বাবাকে। বাবা ছিল বাউলি। সেই সোঁদরবনের গহিনে গিয়ে আর ফিরল না সে। সাত বছর আগের কথা হলে কী হবে, ভীষণ সে দিনটা আজও চোখের সামনে ভাসে নবীনের।

    আগের রাতে বৃষ্টি হয়েছিল খুব। সকালটাও ছিল এমনি থমথমে। থেকে-থেকে দমকা হাওয়া। মার মনে কু-গেয়েছিল। মানা করেছিল বেরোতে। কিন্তু অমন বারণ শুনলে চলে না। বিশেষ করে যারা সোঁদরবনে থাকে।

    শালতি চেপে তিনজন গিয়েছিল জঙ্গলে। নবীনও ছিল সঙ্গে। তেরো বছর বয়স তখন তার। বাবারা নামলেও সে নামেনি। রতনকাকার সঙ্গে সে থেকে গিয়েছিল শালতিতে। মুড়ি-বাতাসা খেতে খেতে খালের দু-পাশে বিস্তৃত বনের শোভা দেখছিল সে। পাখির কলকাকলি। চিতল হরিণের টিউ-টিউ ডাক। বাতাসে ভেসে আসা বুনোফুলের গন্ধ।

    এমন সময় ভীষণ রকম চেঁচামেচির শব্দে সংবিৎ ফেরে। বাবারা ছুটে আসছে শালতির দিকে। ব্যাপারটা কী বোঝার আগেই রতনকাকা অসাধারণ দক্ষতায় শালতি ভিড়িয়ে দিল তীরে। বাবার আগে ছিল নুরচাচা। সে লাফ দিয়ে উঠতে-না-উঠতেই ঘটনাটা ঘটল। একদম ভোজবাজির মতো বিশাল একটা বাঘ এসে পড়ল কোত্থেকে। কিছু বোঝার আগেই বাবার পিছনের পায়ে কামড় বসিয়ে দিল সে। শালতিটা ডান হাতে ধরে ফেলেছিল বাবা। শুরু হল বাঘে-মানুষে প্রবল যুদ্ধ। বইঠা, কুড়ুল, খুন্তি, থালা-বাটি হাতের কাছে যা ছিল দমাদ্দম পড়তে শুরু করল বাঘের উপর। কিন্তু কী মরিয়া বাঘটা! কিছুতেই শিকার ছাড়বে না।

    শেষপর্যন্ত অবশ্য নবীনরাই জিতল। নুরচাচার কুড়ুলের একটি মোক্ষম কোপ গিয়ে পড়ল বাঘের বাঁ-কানের উপর। ভয়ানক আর্তনাদ করে বাঘটা ছেড়ে দিয়েছিল বাবাকে। কিন্তু রণে ভঙ্গ দেওয়ার আগে বিরাশিসিক্কার একটি থাবা ছুড়েছিল সে। শালতিতে উঠতে পারলেও সেই থাবাতেই গুরুতর জখম হয় বাবা। পাঁজর বেরিয়ে এসেছিল তার। ফিনকি দিয়ে কী রক্ত! হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাবাকে আর বাঁচানো যায়নি। ক্ষত বিষিয়ে উঠে তিনদিনের মাথায় চলে গিয়েছিল সে। বাঘটাকে ভোলেনি নবীন। জঙ্গলে গেলেই চোখ-কান খোলা রাখে সে। তক্কে-তক্কে থাকে। কোনোদিন যদি কানকাটা জানোয়ারটাকে বাগে পায় সে। শোধ নেবে বাবার মৃত্যুর! লোকে শুনে হাসে। বাঘের উপর বদলা! কী যে ভাবিস নবীন তুই। আসলে মনে-মনে সেও জানে ব্যাপারটা সম্ভব নয় হয়তো। কিন্তু, তবুও আশা ছাড়ে না। দা, বল্লম, কুড়ুল, এমনকী, ধারালো ছুরিকাঁচিও সঙ্গে নিয়ে ঘোরে সে। তবে আজ তার সঙ্গে বিশেষ অস্ত্র নেই। মৌচাকের চিন্তায় ভুলেছে সব। কেবলমাত্র কাঁচিখানাই সঙ্গে আছে। তেমন বিপদে পড়লে সত্যি মুশকিল। অবশ্য বড়ো-হাত কাঁচি। ছুরির মতোও ব্যবহার করা যায়।

    ডান দিক বাঁ-দিক করে কাদাখালির জঙ্গলে পৌঁছোতে একটু বেলাই করে ফেলল সে। যদিও রোদের তেজ তো নেই-ই। বরং আকাশটা থম হয়ে আছে কেমন। গুড়গুড় শব্দও উঠছে থেকে থেকে। একটু চিন্তিত হল নবীন। অসময়ে ঝড়বাদল না-হয়।

    গন্তব্যে পৌঁছে ডিঙি ভেড়াল নবীন। গামছা দিয়ে কোমরে বেঁধে নিল কাঁচিটা। নরম এঁটেল মাটিতে বাঁশের খোঁট ঠুসে ডিঙিটা বাঁধল রশি দিয়ে। খেয়াল হল, মুখোশ নিতে ভুলেছে। বাঘকে বোকা বানাতে মউলি বা কাঠুরেরা বাঘের মুখ আঁকা মুখোশ পরে নেয়। একটা পিছনে। না:, বড়ো তাড়াহুড়ো করেছে সে। ধোঁয়ার সরঞ্জামও আনেনি। অবশ্য এটা সে সব-সময় সঙ্গে রাখে না। আসলে মৌমাছি হটাতে ধোঁয়া লাগে না নবীনের। দেখবার মতো হাতের কাজ তার। অদ্ভুত দক্ষতায় কেবল আঙুল দিয়েই একটা-একটা করে মৌমাছি সরিয়ে চাক পরিষ্কার করতে পারে সে। এ কাজে দরকার অটল ধৈর্যের। আর নিবিড় নিষ্ঠার। বনবিবির দয়ায় নবীন তা অর্জন করেছে।

    খালের এধারে হলদে-সবুজ হেঁতালের বন। এর মধ্যেই মউলিদের পায়ে-চলা শুঁড়িপথ। পথের মুখে এসে একটু থমকাল নবীন। কোমরের কাঁচিতে ডান হাতটা রাখল একটু। একলা মানুষখেকোদের ডেরায় ঢুকছে! বুক ঢিপঢিপ একটু করবে বই কী। তা ছাড়া আবহাওয়াটা সুবিধের নয়। দমকা বাতাস বইছে খুব। আকাশটাও গোলমেলে। না:! মনকে বোঝাল নবীন। ভয় পেলে চলে না। মৌচাকটা তার চাই। অত টাকা। বিনা কষ্টে কেষ্ট মেলে নাকি!

    কিন্তু কপাল তার সত্যিই মন্দ আজ। চাকটা কোথায় ঠিক নজর করেছিল মনে করতে পারল না সে। ঝিরঝিরিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল বেমক্কা। তবুও গাছে চড়ল নবীন। মগডালে উঠে যদি চাকটা নজরে আসে কোথাও। কিন্তু চাক সে দেখতে তো পেলই না, বরং গুড়ুম করে আচমকা এমন একটা আওয়াজ হল। চমকে গিয়ে পড়েই যাচ্ছিল গাছ থেকে, পরক্ষণেই টিটি-ট্যাঁট্যাঁ করে কোত্থেকে সব পাখির দল চেঁচিয়ে উঠে উড়তে শুরু করে দিল মাথার উপর।

    বুকটা ধপ করে উঠল নবীনের। এই আওয়াজ সে চেনে। বন্দুকের গুলির আওয়াজ। বনরক্ষীরা মাঝে-মধ্যে গুলিটুলি ছোড়ে বটে, কিন্তু কেন জানি তার মন অন্য কথা বলছিল। নিতাই সামন্তর কাজ না তো! শহুরে বাবুদের নিয়ে ঘোরা মানেই যত সমস্ত কুকর্ম করা। পাখি শিকার। হরিণ শিকার। কে জানে আরও কত কী!

    কী মনে করে তরতরিয়ে গাছ থেকে নেমে পড়ল নবীন। হড়কে-হড়কে কাদামাটি পেরিয়ে বাঁশের খোঁট তুলে নিল মাটি থেকে। চাক উপড়ে কাজ নেই আর তার। নিতাই সামন্তর মতো লোকের সঙ্গে কোনওরকম কারবারে যাবে না সে।

    ইচ্ছে ছিল বগনাখালির দিকে যাওয়ার। সেখানে এক দঙ্গল কাঁঠালগাছ দেখে এসেছে সে। কাঠাঁল হয়েছে কিছু। গুঁড়ি থেকে মগডাল পর্যন্ত ঝুড়ি-ঝুড়ি ফল। পাকতে দেরি আছে। সব এঁচড়। দু-চারটে ছিঁড়তে পারলে অন্তত ক-টা দিনের চিন্তা থাকে না। মাংসের মতোই রান্না হবে।

    কিন্তু আজ বুঝি উপরওয়ালার সবেতেই আপত্তি। বৃষ্টির বেগ ক্রমশই বেড়ে চলেছে। ডিঙি বাইবে কী, নজরই চলে না যে। সব ঝাপসা। ডিঙির মধ্যিখানে দু-হাত মতো ছই করে নিয়েছিল নবীন। মাঝনদীতে ডিঙি রেখে সেই ছইয়ের ভিতর গুটিসুটি বসে রইল সে।

    একটানা বৃষ্টি দেখতে-দেখতে একসময় বুঝি ঝিম এসে গিয়েছিল তার। নৌকোটা হঠাৎ জোর দুলে ওঠায় চোখ খুলল সে। কে যেন চড়ে বসেছে ডিঙিতে। প্রথমবার ঠাহর করতে পারল না নবীন। কিন্তু পরক্ষণেই আরোহীকে চিনতে পেরে হৃৎপিন্ডটা এক লাফে গলায় উঠে এল তার।

    কী ভয়ংকর দৃশ্য! এ কী দেখছে সে! বারকয়েক চোখ কচলে নিল নবীন। ক-হাত তফাতের প্রাণীটিকে চিনতেও কোনো অসুবিধে হয় না। খোদ দক্ষিণরায়ের বাহন, সোঁদরবনের ত্রাস!

    কিন্তু সত্যি ত্রাস কী? বাঘটার আচরণে সেরকম কিছু দেখছে না কিন্তু নবীন। বরং বড়ো ক্লান্ত, শ্রান্ত লাগছে যেন জীবটিকে। গলায় বনরক্ষীদের যন্তর দেওয়া মালা লাগানো। মানে বাঘটিকে ধরা হয়েছিল কখনও। মালা না-কলার কী যেন বলে, ঝুলিয়ে দিয়েছে নিতাই সামন্তরা। এতে নাকি বাঘের গতিবিধি ঠাহর করা যায়। কলারের একটা দিক কিছুটা ছিঁড়ে গিয়েছে। বাঘটাই হয়তো গাছেটাছে ঘষে কলারটা খোলার চেষ্টা করেছিল। নবীনের মন হল, জিনিসটা অকেজো হয়ে গেলেই ভালো। কারো নজরদারির মধ্যে স্বাধীনভাবে থাকা যায় নাকি!

    বাঘটা হামাগুড়ি দিয়ে সোজা ছইয়ের দিকে এগিয়ে এল এবার। পেল্লায় চেহারা। শীর্ণ হলে কী হবে, আকারে তো কম না। অন্তত দশ-বারো হাত তো হবেই। দেহের ভারে নৌকো যা দুলছে, ডুবে না যায়! নবীন টের পেল তার হাঁটু দুটো কাঁপছে থরথর করে। বনবিবিকে স্মরণ করল সে। বাঘের চোখে সেও চেয়ে রইল অপলক।

    শেষে ধীরে-ধীরে গলুইয়ের দিকে পিছোতে লাগল নবীন। পায়ে কীসের ধাতব স্পর্শ? কাঁচিটা। একটু হলেও মনে বল পেল সে। বাঘের চোখ থেকে চোখ না-সরিয়ে একটু ঝুঁকে কাঁচিটা উঠিয়ে নিল হাতে। আর ঠিক তখনই লক্ষ করল, বাঘটার বাঁ-দিকের কানের কিছুটা অংশ নেই। কাটা। আরও বড়ো কথা, বাঘটার পিঠেও একটা ক্ষতচিহ্ন। এটা কিন্তু কানের মতো পুরোনো নয়, বরং রক্ত পড়ছে চুঁইয়ে।

    কিন্তু সে যা হোক, বাঘের কান কাটা দেখে নবীনের গোটা শরীরটা কামারশালার আগুনের মতো জ্বলে উঠল হঠাৎ। এই সেই বাঘ নয়তো? সাত বচ্ছর আগে যে তার বাবার জীবনটা ছিনিয়ে নিয়েছিল!

    এই দিনটির জন্যে কতদিন অপেক্ষা করে থেকেছে নবীন। বনবিবির কী অদ্ভুত মতি! মানুষখেকো জন্তুটি আজ তারই ডিঙি নৌকোয় নিজের থেকে উঠে এসেছে! আহত হয়ে তার কাছেই আশ্রয়প্রার্থী!

    গলুইয়ে বসে পড়ল নবীন। বৃষ্টি একটু ধরেছে। লালচে হয়ে আছে আকাশ। ডিঙিটা আপন খেয়ালে চলেছে ভাসতে ভাসতে। দূরে খালটার বাঁকে মনে হল নিতাই সামন্তর ভুটভুটি। বুকটা একটু দুরদুরিয়ে উঠল নবীনের। সত্যি বলতে বনের এ প্রান্তে আসার অনুমতি তারও নেই। বনরক্ষীরা দেখলেই জরিমানা চাইবে। জরিমানা মানে নগদ টাকা। যা থাকে কপালে, সাহসে ভর করে বইঠা ধরল নবীন। চোখের পলকে সামনে বাঁকটায় ঢুকিয়ে ফেলল ডিঙিটাকে। এদিক দিয়ে ঘুরপথ আছে। ভুটভুটি আসতে পারবে না। আটকে যাবে চড়ায়।

    কিন্তু তার অনুমান কিছুটা হলেও ভুল। একটুক্ষণের মধ্যেই ভুটভুটিটা বাঁকের মুখে চলে এল। ঢুকল না অবশ্য। কিন্তু নবীন স্পষ্ট শুনল নিতাই সামন্ত চিৎকার করে কীসব বলছে যেন। মনে হল, তাকে উদ্দেশ্য করেই বলা। আশ্চর্য হল নবীন। তার নৌকোয় যে বাঘ আছে, সে কথাই যেন বলছে নিতাই সামন্ত। কিন্তু বুঝল কী করে? দূরবিন চোখে দিয়ে?

    বাঘটার দিকে তাকাল নবীন। কী অবাক দৃশ্য! চুপটি করে বসে আছে হাঁটু ভেঙে। কয়েক হাত তফাতে আস্ত একটা মানুষ দেখেও মন নেই শিকারে। জিভ বের করে পিঠের ক্ষতটা চাটার চেষ্টা করছে।

    হঠাৎ বিদ্যুৎচমকের মতো খেয়াল হল নবীনের। ওই যন্ত্র না-কলটার জন্যেই নিতাই সামন্তরা বাঘকে ঠাহর করতে পারছে না তো? বলা যায় না। বন্দুকের গুলির যে আওয়াজ সে শুনেছিল, হতে পারে সেটা ওই ভুটভুটির বাবুরাই করেছে। এবং এও হতে পারে, বাঘটা ওদের গুলিতেই আহত হয়েছে!

    সর্বনাশ! কথাটা সে শুনেছিল বটে। বনরক্ষীদেরই একদল টাকার লোভে নানান কুকর্ম করছে। বন কেটে ফেলছে। বাঘের গলার সর্বনেশে ওই মালাটাই যত নষ্টের মূল। ওটা দিয়েই বাঘের হদিশ অনায়াসে টের পেয়ে যাচ্ছে বদমাশগুলো। পরিশ্রম কমে যাচ্ছে চোরাশিকারিদের।

    কী অন্যায়! কী অন্যায়! এভাবে বাঘগুলোকে মেরে ফেলছে এরা! ছি: ছি:! আসলে এইসব লোকগুলোর জন্যেই বাঘ এমন আচরণ করছে। মানুষের দিকে নজর দিচ্ছে। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত স্কুলে পড়েছে নবীন। মাস্টারমশাই বলতেন, ইচ্ছেমতো বন কেটে ফেলছে মানুষ। বাঘের খাবারের রসদে টান পড়ছে। থাকার জায়গার অভাব ঘটছে। এমনকী, প্রয়োজনমতো মিষ্টি জলও নাকি সে পাচ্ছে না। লবণজলে ভরে যাচ্ছে চারদিক। ঠিক কথা। চিন্তা করল নবীন। বাঘের আর দোষ কী! তা ছাড়া সত্যি বলতে সে নিজেই তো আস্ত মুরগি কিনে খাওয়ার স্বপ্ন দেখেছে। সেও তো প্রাণীহত্যা। মানুষ বলে দোষ নেই তাতে?

    কী মনে করে তিরবেগে বইঠা বেয়ে আরও দূরে সরে এল নবীন। এ জঙ্গল সে চেনে তার হাতের চেটোর মতো। এনালা-ওনালা করে ভুটভুটির নজরের আড়ালে চলে এল সে।

    দক্ষিণরায়ের বাহন চার-পা গুটিয়ে মা ষষ্টির বাহনের মতোই বসেছিল একদম। নবীনকে দেখল পিটপিট করে। ইচ্ছে করলেই বাঘটা থাবা বসাতে পারে তার মুখে। কিংবা কামড়ে ধরতে পারে তার গলা। কিন্তু সেরকম কিছু ঘটল না। বাঘটা দুলতে লাগল একটু-একটু। যা থাকে কপালে, নবীন এক ঝটকায় গলার কলারটা কেটে ফেলল কাঁচি দিয়ে।

    বাঘটা কী বুঝল কে জানে। কয়েক মুহূর্ত বসে থাকল তেমনি। খসে-পড়া কলারটার দিকে তাকাল একটু। লেজটা উঁচু করল। আড়মোড়া ভাঙল। তারপর একেবারে ইচ্ছে নেই এমনি ভাব করে উঠে দাঁড়াল আস্তে-আস্তে। তারপর বাধ্য কুকুরের মতো গুটিগুটি পায়ে নেমে পড়ল নৌকো থেকে। ধীরে-ধীরে ঢুকে পড়ল সবুজ গাছের ভিড়ে। কলারটা পায়ে জড়িয়ে গিয়েছিল। খুলে গিয়ে কাদার মধ্যেই পড়ে থাকল।

    নবীন আর দেরি করল না। সব শক্তি এক করে ডিঙি ঘুরিয়ে ফেলল সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়ল বড়ো খালে। আশ্চর্য! সেখানে তখনও নিতাই সামন্তর ভুটভুটি দাঁড়িয়ে আছে ইঞ্জিন বন্ধ করে। রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বাবুরা সব। একজনের হাতে বন্দুকও রেয়েছে যেন।

    নবীনের ইচ্ছে হল লোকগুলোর কুকীর্তির কথা বলে প্রতিবাদ করতে হলে জায়গামতো করবে। বলল, ‘তা ঠিক বলেছ বটে। তবে সে তো পালিয়েছে।’

    ‘কোথায়?’ ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল নিতাই সামন্ত।

    ‘কেন তোমরা জানো না?’ পালটা প্রশ্ন করল নবীন। হাত দেখিয়ে বলল, ‘ওই দিকে গিয়েছে।’

    ‘সে কী? ও তো সামসেরপুরের দিক। ও-পথে বাংলাদেশ পড়ে। ভারত না। ঢোকা ঠিক নয়। সীমানা বাঁধা।’

    ‘জানি তো,’ বলল নবীন, ‘কিন্তু বাঘটা তো জানে না। ওর কাছে সবই জঙ্গল। বাধা নেই কোনো।’

    আর কথা না। ডিঙি ছেড়ে দিল নবীন। আজ তার মনে খুব সুখ। জীবন নেওয়ার চাইতে জীবন বাঁচানোয় যে এত আনন্দ আছে জানত না সে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্নিবীণা – কাজী নজরুল ইসলাম
    Next Article মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Our Picks

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026

    কুবেরের বিষয় আশয় – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }