Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প261 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাঘের শখ – দীপান্বিতা রায়

    বাঘের শখ – দীপান্বিতা রায়

    এক ছিল মোটা কেঁদো বাঘ। গায়ে তার ডোরা ডোরা দাগ। সোঁদরবনের বাঘ সে। ডোরা দাগ তা থাকবেই। তা সে বাঘ একদিন জঙ্গল থেকে বেরিয়ে হেলতে-দুলতে ঢুকে পড়েছে এক হাটের মধ্যে। সেদিন অবিশ্যি হাটবার নয়। হাট তাই শুনশান। বাঘ তো শুঁকে শুঁকে দেখছে পচা কপি পাতা, পোকায় খাওয়া বেগুন, ছিটিয়ে থাকা মাছের আঁশ আর ক্রমশই ভারি রিক্ত হয়ে উঠছে। হাঁস, মুরগি, ছাগলের গনূ আছে দিব্যি কিন্তু ঘুরে-টুরে বেড়াচ্ছে না একটিও। বেজার মুখে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ বাঘের চোখে পড়ল একটা বাঁশের মাচা। বেঘো বুদ্ধি তো। বাঘ অমনি লাফ দিয়ে উঠতে গেছে মাচায়। তক্ষুনি লেগেছে দারুণ এক চমক।

    আসলে মাচাটা হল এক নাপিতের। প্রতি হাটবারে সে লোকের চুল-দাড়ি কাটে। তার খদ্দেররা বসে ওই মাচায়। চুল-টুল কাটা হয়ে গেলে, তারা যাতে নিজেদের মুখটি টুক করে দেখে নিতে পারে, তাই মাচার সামনের বাঁশে একটা আয়না ঝুলিয়ে রেখেছে নাপিত। দিনের শেষে ক্ষুর, কাঁচি, সাবান, ফটকিরি সব বাক্সে ঢুকিয়ে বাড়ি নিয়ে গেলেও আয়নাটা সে আর নিয়ে যায় না। মরচে-ধরা টিনে-বাঁধানো আয়নাটা একা-একাই সারাদিন ঝোলে বাঁশের গায়ে। লাফ দিয়ে মাচায় উঠতে গিয়ে তাতেই নিজের মুখ দেখে আঁতকে উঠেছে বাঘ। আরে, এই হোঁতকামতো, সারা মুখে বিশ্রী কালো কালো দাগ-কাটা জন্তুটা আবার কে?

    প্রথমেই তো দাঁত খিঁচিয়ে, গোঁফ ফুলিয়ে অজানা জন্তুটাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করল বাঘ। কিন্তু জন্তুটা ভয়ও পেল না, পালিয়ে গেল না। বরং উলটে বাঘ দেখলে, সে ভেংচি কাটলেও ও ভেংচি কাটছে, কান নাচালে, কান নাচাচ্ছে। ব্যাপারটা কী? বাঁশের খুঁটির চারপাশটা গোল গোল করে কয়েকবার ঘুরে, শেষপর্যন্ত বাঘ বুঝতে পারলে ওটা আসলে সে নিজেই। আর অমনি ভারি মন খারাপ হয়ে গেল তার। সে হল গিয়ে বনের রাজা আর তাকে কি না অমন বিচ্ছিরি দেখতে! তাদের জঙ্গলে তো হরিণ আছে, শুয়োর আছে, কই কারুর মুখে তো এমন কালো ডোরা নেই। জঙ্গলের আশপাশে এত মানুষ থাকে, কাউকে তো কখনো ডোরাকাটা দেখেনি সে। না:, ডোরা মুছে ফেলার নিশ্চয়ই কোনো উপায় আছে। সবাই সেটা জানে। এবার তাকেও জেনে নিতে হবে। কিন্তু কার কাছ থেকে জানা যায়? হরিণকে তো জিজ্ঞাসা করার কোনো উপায় নেই। তাকে দেখলেই হাওয়ার বেগে পালিয়ে যাবে। শুয়োরও কেমন যেন গোঁয়ারগোবিন্দ গোছের। তার থেকে মানুষই ভালো। বুদ্ধিশুদ্ধি পরিষ্কার। ব্যাপারটা গুছিয়ে বলতে পারবে। হাট থেকে না-নদীর ধার বরাবর রাস্তা দিয়ে কিছুদূর গেলে গ্রাম। বাঘ রওনা দিল সেদিকে।

    শীতকাল। ধান উঠছে। সারাদিন ধরে ধান ঝাড়াঝাড়ি বাছাবাছির কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল পুঁটু। অন্য মুনিশরা কাজ সেরে বাড়ি চলে গেছে। পুঁটু মনিব-বাড়িতেই থাকে। তার মা রান্নার কাজ করেন। আর পুঁটু নিজে করে না এমন কাজ নেই। তা সারাদিন খাটাখাটনির পর খড়ের গাদার পাশে বসে পুঁটু একটু জিরিয়ে নিচ্ছিল। চোখ দুটোও লেগে এসেছে। এমন সময় কানের পাশে ঘেঁয়াক শব্দ শুনে আঁতকে উঠে দেখে, ঠিক নাকের ডগায় বসে আছে মস্ত এক বাঘ। পুঁটুর তো চুল খাড়া, হাত-পা ঢুকে গেছে পেটের মধ্যে, প্রাণ আইঢাই করছে। ভয়ে মূর্ছা যাবার জোগাড়।

    বাঘটা কিন্তু মোটেই তার ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ল না। বরং আর একবার ঘেঁয়াক করে দাঁত খিঁচিয়ে গুমগুমে গলায় জিজ্ঞাসা করলে, ‘মুখের দাগগুলো গেল কী করে শুনি?’

    পুঁটুর তখন ভয়ের চোটে দাঁতে-দাঁত লাগছে ঠকঠক করে। তবু কোনোওরকমে বললে, ‘কীসের দাগ?’

    ‘তোর মুখের কালো দাগগুলো গেল কী করে শুনি?’

    একটু আগেই ধান সেদ্ধ-করা কড়াই তুলতে গিয়ে পুঁটুর মুখে ভুসো-কালির দাগ লেগেছিল। সে ভাবলে বাঘ নিশ্চয়ই সে-কথাই বলছে। তাই তাড়াতাড়ি বললে, ‘সাবান দিয়ে মুখ ধুতেই উঠে গেছে।’

    ‘তাহলে চল আমার মুখটাও সাবান দিয়ে ধুয়ে দিবি।’

    শুনে তো পুঁটু অবাক, ‘সে কী, তুমি আবার সাবান দিয়ে মুখ ধোবে কী গো!’

    ‘কেন, আমার মুখে এই কালো কালো দাগগুলো কী খুব ভালো দেখাচ্ছে?’

    ‘ও তো তোমার ডুরে দাগ, ও তো সাবানে উঠবে না।’

    ‘আমার কথা না-শুনলে কিন্তু আমি ঘাড় মটকে দেব।’

    পুঁটু আর কথা না বাড়িয়ে বাঘকে নিয়ে গেল পুকুরঘাটে। তারপর একটু করে সাবানজলে ভিজিয়ে সেই বাঘের মুখে ঘষতে শুরু করেছে, অমনি বাঘ চেঁচিয়ে উঠল, ‘উহুঁ, উহুঁ।’

    ‘আরে আরে, চোখ বুজে থাকো, চোখ বুজে থাকো। মুখে সাবান দিলে চোখ বুজে থাকতে হয়, তাও জানো না।’

    বলে উঠল। চন্দন সাবানের গন্ধটা ভারি বিচ্ছিরি লাগলেও লক্ষ্মী ছেলের মতো চোখ বুজে বসে রইল বাঘ। পুঁটু পুকুর থেকে জল এনে তার মুখটা ভালো করে ধুয়ে দিল। মুখটুক ধুয়ে প্রথমটায় বেশ খুশি হয়েছিল বাঘ। কিন্তু পুকুরের টলটলে জলে, নিজের ছায়া দেখে আবার তার মেজাজ গরম হয়ে গেল। ‘দাগ তো ওঠেনি?’ ভয়ে ভয়ে দু-পাশে মাথা নাড়াল পুঁটু। ‘আজ রাতটা ভাবার সময় দিলাম। ভেবেচিন্তে আমার দাগ তোলার একটা উপায় বার কর। কাল সকালে আমি তোর জন্য হাটের ধারে অপেক্ষা করব। চালাকি করার চেষ্টা করিস না যেন।’ পুঁটুকে হুমকি দিয়ে শীতের মরে-আসা বেলায় হেলে-দুলে জঙ্গলেতে দিকে মিলিয়ে গেল বাঘ।

    সারারাত ঘুম এল না পুঁটুর। বাঘের ডোরা কী মুছে ফেলা যায় নাকি? সে তো অসম্ভব কাজ। রাতভর এপাশ-ওপাশ করে, যখন সবে সকালের আলো ফুটিফুটি করছে, তখন তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সূর্য উঠে, কুয়াশার চাদর একটু পাতলা হতেই চা-মুড়ি খেয়ে পুঁটু গেল কুমোরদাদুর বাড়ি। গ্রামের অন্য প্রান্তে কুমোরদাদুর বাড়ি। সারাবছর গ্রামের মানুষের জন্য সরা, হাঁড়ি, খুরি গড়ে। তবে পুজো আসলেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর গড়া। বুড়ো, মাথার চুল সব সাদা, তবে এখনও বেশ শক্তপোক্ত।

    পুঁটু গিয়ে সব কথা খুলে বললে। শুনে তো কুমারদাদুর মাথায় হাত। ‘সে আবার কীরে! বাঘের ডোরা, তা কী আর মোছা যায়?’

    ভ্যাঁক করে কেঁদে ফেলে পুঁটু বললে, ‘তুমিই একমাত্র আমাকে বাঁচাতে পারো দাদু।’

    ‘কী করে, কী করে হবে?’ ব্যস্ত হয়ে বললেন কুমোরদাদু। পুঁটুকে তিনি ভারি ভালোবাসেন।

    ‘তোমার হলুদ রঙের বাটি আর তুলিটা নিয়ে চলো। বাঘের মুখের কালো ডোরাগুলোর ওপরে হলুদ রং লাগিয়ে দেবে। তাহলেই আর দেখা যাবে না।’

    ‘বারে পুঁটু, তোর তো খুব বুদ্ধি।’ খুশি হয়ে বললে কুমোরদাদু।

    ঝোলাতে হলুদ রং, রং গোলার বাটি তুলি সব গুছিয়ে নিয়ে কুমোরদাদু আর পুঁটু চলল হাটের দিকে। সেদিন হাটবার নয়। শুনশান হাটের একপাশে গোঁফ দুলিয়ে বাঘ বসেছিল। বুক দুরদুর করলেও কুমোরদাদু খুব যত্ন করে বাঘের মুখের কালো ডোরাগুলো হলুদ রং দিয়ে ঢেকে দিল। নাপিতের আয়নায় নিজের চেহারা দেখে ঘেঁয়াত করে গোঁফের ফাঁকে মুচকি হেসে জঙ্গলের দিকে রওনা দিল বাঘ। পুঁটু আর কুমোরদাদুও নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরল।

    কিন্তু বাঘের দাগ ঢাকতে কুমোরদাদু তো লাগিয়েছে গোলা রং। জল লাগলেই তো সে রং উঠে যাবে। কিন্তু বাঘের তো আর সে কথা জানা নেই। সে দিব্যি নদীতে মুখ ডুবিয়ে জল খাচ্ছে, সাঁতার কাটছে। তাই মুখের রং তো ধুয়ে গেছে পরদিনই। কিন্তু বাঘের তো সে কথা জানা নেই। সে দিব্যি ফুর্তিতেই আছে। তবে কয়েকদিন পর তার আবার ইচ্ছে হল নিজের সুন্দর চেহারাটা দেখার। তাই ভোর না-হতেই হাজির হল নাপিতের আয়নার সামনে। কিন্তু আয়নায় নিজের চেহারা দেখে বাঘের তো চক্ষু চড়কগাছ। গোটা মুখ জুড়ে ঠিক আগের মতোই কালো কালো ডোরা।

    পরদিন দুপুরবেলা পুঁটু যখন পুকুরে চান করতে গেছে, তখন তাকে খপ করে ধরে ফেলল বাঘ। তারপর এই মারে তো সেই মারে। তাকে ঠকানো। এত বড়ো সাহস? পুঁটু বেচারি অনেক কষ্টে হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে তো তখনকার মতো নিস্তার পেল। কিন্তু বাঘ সেদিন আর নড়ল না। বললে, এখুনি বসে পুঁটুকে বুদ্ধি বাতলাতে হবে কী করে ডোরা মোছা যায়, কী করে বাঘকে আরও সুন্দর করা যায়!

    বেচারা পুঁটু গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসল। খিদেয় পেট চুঁইচুঁই করছে, শীতকাল। ফটফট করছে, নাকের ডগায় সুড়সুড়ি দিচ্ছে উত্তুরে হাওয়া, কিন্তু রেহাই নেই। অনেক ভেবে পুঁটু বললে, ‘উপায় একটা আছে। কিন্তু তাতে মেলা খরচ।’

    ‘কী রকম?’ জানতে চাইল বাঘ।

    ‘নদি পেরিয়ে ওপারে গেলে যে গঞ্জ আছে, সেখানে একটা দোকান আছে। সেখানে গেলেই নাকি সবাই সুন্দর হয়ে যায়। কালো-বোঁচা মেয়েদেরও নাকি ফরসা, হুরি-পরিদের মতো দেখতে হয়ে যায়।’

    ‘তাই নাকি!’ বাঘ তো রীতিমতো উৎসাহিত।

    ‘না, মানে,’ একটু ঢোঁক গিলে পুঁটু বলে, ‘আমার মুনিব, বাড়িতে তো অনেক মেয়েরা কাজ করে থাকে। তারা না-খেয়ে-খেয়ে টিফিনের টাকা জমিয়ে চোখের নীচের, গালের পাশের কালো দাগ তুলতে যায়। দাগ ওঠে কিনা তা অবশ্য আমি তেমন ঠাহর করে দেখনি কোনোদিন। তবে তুমি যেতে পারো। টাকা লাগবে কিন্তু।’

    সেদিন রাতে গ্রাম জুড়ে হৈচৈ। সুদখোর মহাজন বিষ্টু বুড়োর বাড়িতে বাঘ পড়েছে। বুড়ো তখন বসে বসে টাকা গুনছিল। বাঘের ডাক শুনে ছুটে গিয়ে গোয়ালের মধ্যে লুকোয়। বাঘ অবশ্য সেখানে তাকে খুঁজতে যায়নি। তবে টাকা-পয়সা আর বন্ধকী গয়নাগাঁটি, ভর্তি বাক্সটি নিয়ে বসে গেছে। বাঘের এমন বেঘোমি নিয়ে সবাই যখন আলোচনায় ব্যস্ত, সেই সুযোগে পুঁটু চুপিচুপি ক্যাশব্যাক্সটা লুকিয়ে রাখল পুকুরধারে একটা ঝোপের ভিতর।

    কিন্তু তাতেই কী আর সমস্যা মেটে। গঞ্জে যেতে হলে নদী পেরিয়ে, ভ্যান-রিকশাতে চেপে যেতে হবে বেশ খানিকটা পথ। এতখানি রাস্তা বাঘ যাবে কী করে, শেষপর্যন্ত ভেবে-চিন্তে একটা চটের বস্তায় বাঘকে ঢোকাল পুঁটু। বস্তার মুখটা ভালো করে নিজের গামছা দিয়ে বাঁধল। তারপর অতিকষ্টে সেটাকে ঘাড়ে তুলে নিয়ে উঠল নৌকোয়। বস্তার গায়ে ছোটো ছোটো কয়েকটা ফুটো ছিল। তাই বাঘের নিশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়নি। তবে সে ছিলও খুব লক্ষ্মী ছেলে হয়ে। এবড়ো -খেবড়ো রাস্তায় ভ্যান-রিকশার দারুণ ঝাঁকুনি, তবু মুখ দিয়ে এতটুকু ঘেঁয়াও আওয়াজ বার করেনি।

    গঞ্জের সাজগোছের দোকানটায় পুটু যখন পৌঁছোল তখন বেলা দুপুর। দোকান ফাঁকা, মালকিন নখে নেলপালিশ লাগাতে লাগাতে মন দিয়ে রেডিয়ো শুনছিল। পুঁটুকে বস্তা নিয়ে ঢুকতে দেখে ভারি বিরক্ত হয়ে কড়া গলায় বলল, ‘কী ব্যাপার, কী চাই?’ বস্তা নামিয়ে হাঁফাতে হাঁফাতে পুঁটু বললে, ‘না, মানে, কালো দাগ তুলতে হবে তাই…।’

    ‘কালো দাগ তুলতে হবে? কার? তোমার?’

    ‘না না…এর।’ হলেই পুঁটু বস্তার মুখটা দিল খুলে। আর বস্তা থেকে ঘেঁয়াক করে বাঘকে বেরিয়ে আসতে দেখে তক্ষুনি মুচ্ছো গেল দোকানের মালকিন।

    জলটল ঢেলে তার জ্ঞান ফেরাতে বেশ কিছুটা সময় গেল। তারপরেও অবশ্য হাত-পায়ের কাঁপুনি থামছিল না। কিন্তু পুঁটু তাকে বুঝিয়ে বললে যে বাঘ এমনিতে ভারি ভালোমানুষ। সে শুধু মুখের দাগ গুলো উঠিয়ে সুন্দর হতে চায়। তার জন্য অনেক টাকাও দেবে।

    টাকার কথা শুনে মনে জোর পেল মালকিন। উঠে বসে বাঘকে মন দিয়ে দেখে বললে, ‘উহুঁ। খুব কঠিন ব্যাপার।’

    ‘দাগ তোলা যাবে না?’ উদবিগ্ন হয়ে জানতে চাইল পুঁটু।

    ‘যাবে। কিন্তু তারপরেও কিন্তু সুন্দর দেখতে হবে না।’

    ‘কেন, কেন?’ জানতে চাইল বাঘ।

    ‘তোমার তো রীতিমতো হোঁৎকা চেহারা। সুন্দর দেখতে হতে হলে রোগা হতে হবে। কাঠি কাঠি রোগা। না-হলে কেউ সুন্দর বলবে না।’

    ‘কী করে রোগা হব?’

    ‘খাবে না। উপোস করবে। মাঝে মাঝে এই ফল-টল মানে শশা-টসা খাবে।’

    ‘শশা!’ বাঘের মুখ দেখে মনে হল তার নাকের ওপর বুঝি মৌমাছি হুল ফুটিয়েছে। মালকিন কিন্তু আবার বলল, ‘হ্যাঁ, শসা। খিদে পেল আর অমনি একটা নধর শুয়োর খেয়ে নিলে…ওসব চলবে না। একমাস সময় দিলাম। রোগা হয়ে এসো। তারপর তোমার দাগ-টাগ তুলে এমন চেহারা বানিয়ে দেব যে জঙ্গলসুদ্ধ জন্তু-জানোয়ার ধন্য ধন্য করবে। আর মানুষরা তো তোমাকে দেখলেই টিভি সিরিয়ালের জন্য ডেকে নেবে।’

    খুশিমনে জঙ্গলে ফিরে এল বাঘ। তারপর একমাস ধরে চলল কৃচ্ছসাধন । নাকের ডগায় হরিণ-শুয়োর ঘুরে বেড়াচ্ছে, তবু সে ফিরে তাকায় না। কিন্তু গাছে চড়ে ফলটল পাড়া তো আর অভ্যাস নেই। তাই বাঁদরদের সঙ্গে ভাব করতে হয়েছে। পুঁটু নিজেও মাঝে মাঝে জামরুল-সবেদা-পেঁপে এসব দিয়ে আসে। এইভাবে একমাস পেরোলে বেশ হাড়-জিরজিরে রোগা হয়ে ফের পুঁটুর সঙ্গে সাজগোজের দোকানে হাজির হল বাঘ। এবার অবশ্য তাকে বইতে পুঁটুর আর তত কষ্ট হয়নি।

    বাঘকে দেখে রীতিমতো খুশি হয়ে দোকানের মালিকিন বললেন, ‘বা:, এই তো দিব্যি হয়েছে। এবার বসে পড়ো চেয়ারে।’ বাঘ অমনি লাফ দিয়ে চেয়ারে চড়ে বসল। তার দু-চোখের ওপর দু-টুকরো টম্যাটো চাপা দিয়ে শুরু হল কেরামতি। সেসব চলল বেশ কয়েক ঘণ্টা। তারপর চোখ থেকে টম্যাটো সরিয়ে মালকিন তার সামনে আয়না ধরল। আঁতকে উঠল বাঘ। এটা আবার কে? কালো দাগ নেই বটে, কিন্তু গোটা মুখটাই কেমন যেন পাটকিলে রঙের। গোঁফগুলো ছোটো করে ছাঁটা। চোখের ওপর আবার কীসব চকচক করছে। থাবাগুলোতে একটুও কাদা-ময়লা লেগে নেই। এমনকী নখগুলো পর্যন্ত গোল গোল, ভোঁতা ভোঁতা। একটুও পছন্দ হল না বাঘের। কিন্তু কিছু করার নেই। সবাই এমন ‘আহা-আহা’ করছে যে বাঘও শেষপর্যন্ত বেজার মুখে কাষ্ঠ হাসি হেসে থলিতে গিয়ে ঢুকল। টাকাপয়সা মিটিয়ে দিল পুঁটু মালকিন বললেন, ‘প্রত্যেক মাসে একবার করে আসতে হবে। তাহলেই বাঘকে সবসময় এরকম সুন্দর দেখাবে।’

    এক সপ্তাহ হয়ে গেল সাজগোজ সেরে জঙ্গলে ফিরে এসেছে বাঘ। কিন্তু তার মেজাজ একেবারে তিরিক্ষি হয়ে আছে। জঙ্গলের কেউ তাকে দেখে সুন্দর বলেনি! হরিণরা আঁতকে উঠেছে, শুয়োররা মুখ বাঁকিয়েছে আর বাঁদররা তো রীতিমতো ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে হেসেছে। এদিকে খাওয়া-দাওয়ারও খুব অসুবিধা। বড়ো জন্তু ধরার মতো শক্তি নেই শরীরে। নখগুলি সব ভোঁতা। তাই ছোটো জন্তুও পালাচ্ছে থাবা ফসকে। কলা-পেঁপে খেতে খেতে বাঘের এবার কান্না পাচ্ছে।

    এমনি করেই কেটে গেল আরও কয়েকটা দিন। দুপুরবেলা। রোদ এখন বেশ চড়া। গাছতলায় বসে বসে ঝিমোচ্ছিল বাঘ। হঠাৎ চোখ মেলে দেখে, একেবারে তার নাকের ডগায় বসে একমনে কাঠবাদাম খাচ্ছে একটা মোটাসোটা খরগোশ। খানিকটা অভ্যাসেই থাবা চালিয়ে দিলে বাঘ। ওমা, মরে গেল খরগোশটা। চমকে উঠে বাঘ ভালো করে খুঁটিয়ে দেখলে নিজের থাবা। দশ দিনে নখ আবার অনেকটা বড়ো আর ছুঁচলো হয়ে গেছে। অনেকদিন পর খরগোশের মাংস খেয়ে সেদিন নিশ্চিন্তে ঘুমোল বাঘ।

    ঠিক ছিল একমাস পরে পুঁটুর সঙ্গে বাঘ আবার যাবে গঞ্জের দোকানে। সেই মতো মাস ফুরোলে পুঁটু এসে অপেক্ষা করছে হাটের ধারে। একটু পরেই জঙ্গল থেকে হেলেদুলে বেরিয়ে এল বাঘ। তাকে দেখেই আঁতকে উঠলে পুঁটু, ‘এ কী! তুমি তো আবার সেই হোঁৎকা হয়ে গেছ।’

    ‘হ্যাঁ হয়েছি তো। বেশ হয়েছি। ঠিক হয়েছি। মোটেই আমি আর সুন্দর হতে চাই না। সুন্দর হতে গিয়ে মরি আর কী!’ রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে বললে বাঘ। পুঁটু তো ভয়ে-ময়ে চুপ। ‘তা ছাড়া ওরকম হাড়-পাঁজরা বের করা চেহারায় আমাকে একটুও সুন্দর দেখাচ্ছিল না। আমি বেশ বুঝতে পেরেছি। এখন মুখের এই পাটকিলে রংটা কোনোরকমে উঠলে বাঁচি।’ বাঘের মনের কথাটি এতক্ষণে ঠিকঠাক বুঝল পুঁটু। ভারি আনন্দ হল তার। পিঠে হাত বুলিয়ে বললে, ‘ঠিক বলেছ। তোমার তাগড়াই চেহারায় হলুদের ওপর কালো ডোরা কী সুন্দর দেখায়! চিন্তা কোরো না। নোনা জলে মুখ ধুলে ওই পাটকিলে রংও ক-দিন বাদেই উঠে যাবে। তবে তুমি কিন্তু ভারি বুদ্ধিমান। একবার গিয়েই সার কথাটি বুঝেছ। মানুষরা তো দেখি বারে বারে যায় আর রাশি রাশি টাকা দিয়ে বোকা বনে।’ পুঁটু মুখে নিজের প্রশংসা শুনে ঘেঁয়াও করে হাসলে বাঘ। তারপর গলা নামিয়ে বললে, ‘ক্যাশবাক্সের বাকি টাকাগুলো তুমিই নিয়ে নিও। ভালোমতো খেয়েদেয়ে চেহারাটা তাগড়াই বানাও। খবরদার গঞ্জের দিকে যেন পা বাড়িও না। খরখরে জিভ দিয়ে পুঁটুর হাতটা একটু চেটে দিয়ে দুলকি চালে জঙ্গলের দিকে এগোতে এগোতে বাঘ ভাবলে, ‘না:, জব্বর খিদে পেয়েছে। আজ একটা নধর শুয়োর না-মারলেই নয়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্নিবীণা – কাজী নজরুল ইসলাম
    Next Article মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Our Picks

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }