Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি ভয়ংকর বাঘ – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প261 Mins Read0
    ⤶

    মাছগুলো কোথায় পালিয়ে গেল – চিন্ময়কুমার দাস

    মাছগুলো কোথায় পালিয়ে গেল – চিন্ময়কুমার দাস

    গুয়াহাটির পান্ডু লোকনাথ মন্দিরের পাশের বাগানে তিনটি বিড়ালের বাচ্চা একমনে খেলা করছে। তাদের মধ্যে একটা বাচ্চার রং অদ্ভুত হলুদ। নরম তুলতুলে বিড়ালের বাচ্চা কোনো কিশোরের পছন্দ হবে না, তা কী হয়! অথচ প্রতীক সেদিক থেকে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিল।

    লোকনাথ মন্দিরকে বাঁয়ে রেখে দশ-বারো পা এগিয়ে গেলেই একটি তিনকোনা পুকুর। টলটলে সবুজ তার জল। সেখানে হাঁটুজলে দাঁড়িয়ে ছোট্ট জাল ফেলে মাছ ধরছে একটি লোক। লোকটির খালি গা। পরনে সবুজ গামছা।

    প্রতীক পায়ে-পায়ে সেই পুকুরপাড়ে এসে দাঁড়াল। তার উপস্থিতি টের পেয়ে জাল টানার এক ফাঁকে মাথা ঘুরিয়ে লোকটি তার দিকে চেয়ে একবার হাসল। বলল, ‘কীগো খোকা, মুখটা ওইরকম শুকনা-শুকনা ক্যান? তুমার বুঝি মন খারাপ?’

    একথার জবাব না-দিয়ে প্রতীক নিরুত্তাপ গলায় অন্য কথা জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কী কী মাছ ধরো?’

    লোকটি বলল, ‘তা অনেক মাছ। কত শুনবা। খইলস্যা, ট্যাংরা, পুঁটি, বইরাল্যা, রুইয়ের পনা…। মাছের কী কম জাত আছে খোকা?’

    লোকটি একটু বাদে জাল গোটাতে গোটাতে জল থেকে পাড়ে উঠে এল। তারপর জালটাকে ঢালু পাড়ের সাদা মাটিতে বিছিয়ে দিল। প্রতীক দেখল জালের মাঝখানে অজস্র কচুরিপানা আর কাদা। তার ফাঁক-ফোকরে লাফাচ্ছে অজস্র ছোটো- ছোটো মাছ। লোকটি মাটিতে বসে জালের কাদা আর কচুরিপানার মধ্যে থেকে মাছ বেছে-বেছে একটি মুখভাঙা মাটির হাঁড়িতে তুলে রাখতে লাগল।

    লোকটি বলল, ‘তুমারে যে জিগাইলাম, মুখে হাসি নাই ক্যান?’

    লোকটির প্রশ্নকে এবারও পাত্তা দিল না প্রতীক। সে বরং মাটির হাঁড়ির দিকে ঝুঁকে চেয়ে থাকতেই বেশি আগ্রহ দেখাল।

    জাল থেকে মাটির হাঁড়িতে উঠে এসেও ছোটো-ছোটো রকমারি মাছগুলির যেন একটুও বিরাম নেই! হাঁড়ির ওইটুকু জলের মধ্যেই সাদা-কালো মাছগুলো খলবল-খলবল করছে।

    লোকটি আবারও জিজ্ঞেস করল, ‘কী হইছে খোকা তুমার? ছোটো পোলাপাইনের মুখে হাসি না-দেখলে যে আল্লার বড়ো কষ্ট হয়!’

    এতক্ষণে প্রতীক কিছুটা অন্যমনস্কভাবে জবাব দিল, ‘কে তোমার আল্লা? তোমার বন্ধু আল্লা কী জানে না যে, আজ আমার মন ভালো নেই?’

    লোকটি বলল, ‘ক্যানরে খোকা, মন ভালো নেই ক্যান? কেউ তুমারে বকছে? বাবা-মা…’

    প্রতীকের মন বারবার মাটির হাঁড়ির মধ্যে নৃত্যরত মাছগুলোর দিকেই চলে যাচ্ছে। সেদিকে চেয়েই সে বলল, ‘মাছগুলো এত লাফাচ্ছে কেন? আমার তো মন খারাপ। কিন্তু আজ ওদের কীসের এত আনন্দ?’

    লোকটি বলল, ‘খোকা, তুমি শুধু মাছগুলারেই দেখলা! আল্লার আদেশ আছে, এই দুনিয়ার সবারই ডেইলি ডেইলি খুশিতে থাকন উচিত।’

    প্রতীক আবারও জিজ্ঞেস করল, ‘কে তোমার আল্লা? তাকে পেলে একবার জিজ্ঞেস কোরো, আমার কেন কোনো আনন্দ নেই।’

    ইতিমধ্যে জাল থেকে মাছ বাছা হয়ে গিয়েছিল। কচুরিপানাগুলোকে পাড়ের অদূরে ছুড়ে ফেলে, জালটাকে পুকুরের জলে ধুয়ে এনে রোদের মধ্যে বিছিয়ে দিতে-দিতে লোকটি বলল, ‘অল্প দাঁড়াও।’ তারপরই হঠাৎ করে কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে গেল। প্রতীককে দারুণ অবাক করে দিয়ে পরক্ষণেই লোকটি আবার তার কাছে হাজির হল।

    প্রতীক চেয়ে দেখল, লোকটির হাতে একটুকরো কচি কলাপাতা। সেই কলাপাতাকে অসাধারণ দক্ষতায় বাদামের ঠোঙার মতো করে ভাঁজ করল লোকটা। তারপর এগিয়ে গেল পুকুরের দিকে। কলাপাতার ঠোঙাটিতে অঞ্জলিবদ্ধ ডান হাত দিয়ে খনিকটা জল তুলল। এরপর জল থেকে পাড়ে উঠে এসে, মাটির হাঁড়ি থেকে চোদ্দো-পনেরোটা মাছ তুলে কলাপাতার ঠোঙার জলে ছেড়ে দিল। এবার সেটা অতিসাবধানে তুলে দিল প্রতীকের হাতে।

    হাতে নিয়ে প্রতীক দেখল, কলাপাতার ঠোঙার সবুজ জলে ছোটো ছোটো মাছগুলো যেন আরও-আরও বেশি পুকুরের আনন্দে সাঁতার কাটছে। মাঝে-মাঝে জলের উপরে লাফ দিতেও কোনো কসুর ছাড়ছে না তারা। যেন এক্ষুনি মাছগুলো জল থেকে উপরে উঠে এসে ঝাঁপিয়ে পড়বে তার হলুদ শার্টে। দৃশ্যটা সত্যিই মজার। প্রতীকের অন্ধকার মুখে এতক্ষণে কিছুটা হাসির আভাস ফুটে উঠল।

    এই ভাবান্তর লক্ষ করে লোকটি এবার প্রতীকের কাঁধে হাতের খোঁচা দিয়ে একটা ইশারা করল। তারপর লোকটি আবার পুকুরের দিকে নেমে গেল। প্রতীকও তাকে অনুসরণ করল। পুকুরের জল যখন প্রতীকের কোমর প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে, তখন লোকটি তাকে থামার ইশারা করে বলল, ‘এইবার একখান-একখান কইর‌্যা মাছগুলানরে জলে ছাইড়্যা দাও। দ্যাখবা কী মজা, কী আনন্দ!’

    প্রতীক বাধ্য ছেলের মতো তা-ই করল। কলাপাতার ঠোঙাটাকে বাঁ-হাতে ধরে, ডান হাত দিয়ে একটা-একটা করে মাছ তুলে জলের মধ্যে ছেড়ে দিতে থাকল। সে এক ভারি মজার দৃশ্য! মাছগুলো জলের মধ্যে পড়েই, তার দিকে ফিরে, ফ্যালফ্যাল করে দেখতে লাগল। তারপর কোনো কোনো মাছ টুপ করে জলের অন্ধকার গভীরে হারিয়ে যেতে লাগল। আবার কেউ-কেউ তার কোমরের চারপাশে চক্কর দিতে শুরু করল। ছোটো-ছোট মাছগুলোর এই কীর্তি দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারল না প্রতীক। প্রথম বারের মতো সে হো হো করে হেসে ফেলল।

    লোকটি খুশি হয়ে মজা করে বলল, ‘কী খোকা! আমার আল্লা তুমার মুখে কীরকম হাসি আইন্যা দিল দ্যাখলা!’

    প্রতীক উৎফুল্ল হয়ে বলল, ‘মাছগুলো ভারি দুষ্টু তো! ওদের একটু বকে দেব নাকি?’

    লোকটি বলল, ‘সেইটা তুমার কথা। আনন্দও তুমার। মাছগুলানও তুমার। তুমি ওরারে আদর করব্যা না বকবা, সেইটা আমারে জিগাও ক্যান খোকা?’

    প্রতীক বলল, ‘আচ্ছা কাকু, এই যে মাছগুলো আমাকে দেখে-দেখে চলে যাচ্ছে, ওরা ওদের বন্ধুদের সঙ্গে দেখাটেখা করে, আমি ওদের অপেক্ষায় এই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি কিনা, তা দেখার জন্য আবার এখানে ফিরে আসবে না?’

    লোকটি বলল, ‘ক্যান আইব না? হেরা তুমার বন্ধু হইয়্যা গেছে। দ্যাখবা, ঠিক তুমারে খুঁজতে আইব। কিন্তু তুমি কী তারারে চিনতে পারবা? মাছগুলানের চেহারা যে এক!’

    প্রতীক চিন্তিত হয়ে বলল, ‘তাহলে কী হবে এখন?’

    লোকটি তার কথার কোনো জবাব না-দিয়ে ইশারায় তাকে চুপ থাকতে বলে জলের দিকে ঝুঁকে পড়ল। কৌতূহলী হয়ে প্রতীকও জলের দিকে চোখ ফেরাল। সে মুগ্ধ হয়ে দেখল, তাদের সামনে একঝাঁক মাছ। মানুষের মতো মাছেদের চেহারা আলাদা-আলাদা হয় না ঠিকই, কিন্তু প্রতীকের দৃঢ় বিশ্বাস, একটু আগে যে দশ-পনেরোটা মাছকে সে জলের মাঝখানে ছেড়ে দিয়েছিল, তারা ওই ঝাঁকের মধ্যেই মিশে আছে। তাদের এক-দুটোকে যেন সে চিনতেও পারছে! তার কেবলই মনে হচ্ছে, তার ছেড়ে দেওয়া মাছগুলো তাদের বন্ধুবান্ধব সমেত তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে।

    লোকটির চোখ বিস্ফারিত। মাছগুলোকে বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে দেখতে স্বগতোক্তির মতো করে বলতে লাগল, ‘হে আল্লা, এই কান্ড আমি জীবনে দেখি নাই! মাছগুলান পোলাডারে ভালোবাইস্যা আবার ফির‌্যা আইছে!’

    মাছগুলো প্রতীকের দিকে ঢ্যাবঢ্যাব করে তাকিয়ে দেখছিল। তাদের হালকা শরীরগুলো পুকুরের জলতরঙ্গে তিরতির করে কাঁপছিল। এমন সময় আচমকা কাছেপিঠে কোথা থেকে একটা মস্ত গর্জন ভেসে এল—হুম-আঁ। সঙ্গে-সঙ্গে মাছগুলো ভয় পেয়ে এদিকে-ওদিকে ছুটে পালিয়ে গেল। পুকুরের চারপাশের বড়ো বড়ো গাছগুলোতে এতক্ষণ যে-সমস্ত পাখিরা বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল, তারা এবার অদ্ভুতভাবে কিচিরমিচির করতে করতে আকাশে পাক খেতে লাগল। দূরে অনেকগুলি কুকুর একসঙ্গে ডেকে উঠল।

    লোকটি পিঠ টানটান করে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তারপর সন্ত্রস্ত মুখে দ্রুত এদিক-ওদিক তাকাতে লাগাল। তখন আবারও উঠল সেই বীভৎস গর্জন—হম-আঁ। তা শুনে লোকটি ভয়ার্ত গলায় বলল, ‘হে আল্লা, বাঘ এইখানে কী কইর‌্যা?’ তারপরই সে প্রতীকের ডান হাত শক্ত করে ধরে, ঘুরে, পাড়ের দিকে এগোতে থাকল।

    প্রতীক অবাক হয়ে বলল, ‘আপনি কাকু বাঘের কথা বলছেন? কিন্তু বাঘ এখানে কী করে আসবে? ওরা তো জঙ্গলে থাকে।’

    লোকটি তার দিকে না-তাকিয়েই বড়ো বড়ো পা ফেলে হাঁটতে-হাঁটতে বলল, ‘জঙ্গল কী আর আইজ জঙ্গল আছে? সবই তো মাইনসের দল দখল কইর‌্যা ফেলছে। বাঘের আর দুষ কী? হেরা যাইব কই? মাইনসের সমাজে নাইম্যা আইছে তাই।’

    ওরা ইতিমধ্যেই জল থেকে উঠে, পুকুরপাড় পেরিয়ে পিচের সরু রাস্তায় উঠে এসেছে। কয়েকজন মহিলা ‘বাঘ-বাঘ’ চিৎকার করতে-করতে বাঁদিকে মন্দিরের দিকে ছুটে গেল।

    লোকটি জিজ্ঞেস করল, ‘খোকা, তুমার ঘর কুনখানে কও দেহি।’

    প্রতীকের ঝলমলে চোখমুখটা হঠাৎ করে যেন নিভে গেল। সে সংক্ষিপ্ত করে জবাব দিল, ‘জানি না।’

    লোকটি তুমুল ঘাবড়ে গিয়ে বলল, ‘অমা, ইটা কীরকম কথা। আইচ্ছা হইব। তুমি অহন আমার লগে চলো। তুমারে একা ছাড়ন যাইত না। পরে তুমারে বাড়ি দিয়া আসুম।’

    প্রতীক অবশ্য এই কথার কোনো বিরোধ করল না। সে লোকটার সঙ্গে সঙ্গে জোরে জোরে হাঁটতে লাগল।

    লোকটি নিজের মনে বলতে লাগল, ‘বাঘের পেটে ক্ষুধা। আইজ কারে নিব কে জানে!’

    প্রতীক অবশ্য সেই কথার কোনো মানে বের করতে পারল না। সে ভাবতে লাগল, বাঘ মানুষ খায়, একথা সে জানে। কিন্তু সে মানুষকে তুলে নিয়ে যাবে কেন? বাঘ কী আজকাল মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইছে?

    এমন সময় ফের সেই ডাক—হুম-আঁ।

    কিন্তু এবার ডাকটা এত কাছ থেকে শোনা গেল যে, গর্জনের তীব্রতা আর ভয়ের মিশেলে ওদের দুজনেরই শরীর কেঁপে উঠল। ওরা থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। লোকটি প্রতীকের হাত আরও শক্ত করে ধরে, বাঘের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হবার জন্য অস্থিরভাবে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল। তারপর তাকে নিয়ে যে-ই ডানদিকে পালাতে যাবে, ঠিক সে-সময় বাঁদিকের সরু গলিটা থেকে অনেক মানুষের গুঞ্জন আর আর্তনাদ ভেসে এল। অতঃপর তাদের আবার দাঁড়িয়ে পড়তে হল।

    লোকটি এবার সেই গলির দিকে পা বাড়াল। পিছন-পিছন প্রতীক। তাদের বেশিদূর এগোতে হল না। একটু গিয়েই তারা একটি আশ্চর্যজনক দৃশ্যের মুখোমুখি হল। ঘটনাটা একই সঙ্গে দারুণ ভয়ংকরও বটে।

    গলির মধ্যে একটি টাইপ ওয়ান রেল কোয়ার্টার। তার খোলা দরজা ও জানলার সামনে লাঠি হাতে অজস্র মানুষের জমায়েত। তাদের হইহই রইরই চিৎকারে কান পাতা দায়। এরই মাঝখানে কয়েকজন মহিলা বিলাপ করছে।

    লোকটির পিছন-পিছন প্রতীকও সেই ভিড়ের কাছে এগোল। তারপর সেই কোয়ার্টারের খোলা জানলা দিয়ে যা দেখতে পেল, তাতে গোটা শরীর হিম হবার উপক্রম হল।

    ঘরের ভিতর একটি বিছানা। সেখানে শুয়ে আছে একটি এক-দেড় বছরের শিশু। আর সেই বিছানার সামনে, নীচে বসে আছে একটি মস্ত বাঘ। শিশুটি মোটেও ভয় পায়নি। সে শুয়ে-শুয়ে একবার বাঘটাকে দেখছে, আরেকবার জানলার বাইরের অস্থির মানুষদের দেখছে। তার চেয়েও বড়ো আশ্চর্যের, বাঘটা বাচ্চাটার কাছে বসে আছে, অথচ তাঁকে ছুঁচ্ছে না। আক্রমণও করছে না।

    বাইরের মহিলাদের মধ্যে একজন পাগলের মতো কাঁদতে-কাঁদতে বলছে, ‘আপনারা দাঁড়িয়ে আছেন কেন, ও আমার বাচ্চাটাকে খেয়ে ফেলবে। ওটাকে মারুন।’

    মানুষও কী চুপ করে বসে আছে? যেই দরজা দিয়ে লাঠি হাতে কেউ ঢুকে পড়তে চাইছে, অমনি বাঘটা ‘হুম-আঁ’ গর্জন তুলে তার দিকে তেড়ে আসছে। ফলে কেউ আর ভিতরে ঢোকার সাহস করছে না।

    এরই মধ্যে দু-একজন বলাবলি করতে লাগল যে, বাঘটার নাকি একটা বাচ্চা হারিয়ে গেছে। তাতেই তার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ঘরের মধ্যে ঢুকে ওভাবে বাচ্চাটার সামনে কেন যে বসে আছে বাঘটা, কেউ তার মাথামুন্ডু বুঝতে পারছে না। অনেকেই উপায়ান্তর না—পেয়ে অস্থিরভাবে এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছে, একে-তাকে ডাকছে। তবু কিছুতেই বাঘের সামনে থেকে বাচ্চাটাকে উদ্ধারের মতো কোনো উপায় মিলছে না। মাছধরা লোকটিও হঠাৎ করে কখন যেন সেই দলে মিশে গিয়ে ছোটাছুটিতে লেগে গেছে।

    ভিড়ের ওই হুলুস্থূল পরিবেশের মধ্যে, এর-তার ধাক্কা খেতে-খেতে, অনেকগুলি মানুষকন্ঠের একত্র কান্না আর আতঙ্কের কথা শুনতে-শুনতে, অনেকক্ষণ ধরে কী-একটা কথা যেন প্রতীক মনে করবার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। তার একটু বাদেই হঠাৎ তাকে ভিড় থেকে বেরিয়ে গলির রাস্তার দিকে ছুটে যেতে দেখা গেল।

    পান্ডু লোকনাথ মন্দিরের পাশের বাগানে, সেই ঘণ্টা-দুয়েক আগে দেখে যাবার মতো করেই, এখনও দিব্যি খেলা করে চলেছে খয়েরি, কালো আর হলুদ রঙের বিড়ালছানা তিনটি। বাচ্চাগুলো যাতে ভয় না-পায়, সেইমতো পা টিপে-টিপে সেদিকে এগিয়ে গেল প্রতীক। খুব কাছ থেকে হলুদ বাচ্চাটাকে লক্ষ করে দেখল, তার শরীরে হলুদের উপর ডোরাকাটা অনেকগুলো কালো রেখা। সে যেটা ভেবেছিল, সেটাই ঠিক। দুটো বিড়ালের বাচ্চার সঙ্গে সেই কখন থেকে একমনে খেলা করে চলেছে একটি বাঘের বাচ্চা। বাঘের বাচ্চাটা তার মা-কে হারিয়ে ফেলার পর সম্ভবত খুঁজে পেয়েছে দুজন পরম বন্ধু।

    প্রতীক আর দেরি করল না। বাঘের বাচ্চাটাকে মাটি থেকে কোলে তুলে নিল। এই আকস্মিক ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিড়ালের বাচ্চা-দুটি থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। সেই দু-জোড়া চোখের দৃষ্টিতে ঠিক কী লেখা ছিল, তা পড়ে নেবার মতো সময় অবশ্য ছিল না প্রতীকের হাতে। সে ছুটে গেল তিনকোনা পুকুর-সংলগ্ন পিচরাস্তার দিকে।

    টাইপওয়ান সেই রেল কোয়ার্টারের সামনে ইতিমধ্যে ভিড় আরও বেড়ে গেছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে চিৎকার- চেঁচামেচি আর কান্না। প্রতীকের অবশ্য কোনো কিছুতেই ভ্রূক্ষেপ নেই। সে বাচ্চাটাকে শার্টের নীচে আড়াল করে ভিড়ের মধ্যিখানে ঢুকে পড়ল। সে কোনোক্রমে দরজার সামনে পৌঁছে গেলেই বাচ্চাটাকে ঘরের ভেতরে ছেড়ে দেবে। কিন্তু দেখা গেল, সেটা সে কিছুতেই করে উঠতে পারছে না। একেই তো সে ছোটো। তার ওপর এত মানুষের ভিড়। প্রতীক তবু হার মানল না। সে বারবার এগোনোর চেষ্টা করে যেতে লাগল। আর এই চেষ্টার ফলশ্রুতিতেই হঠাৎ এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে গেল। ভিড়ের প্রবল ধাক্কায় টাল সামলাতে না-পেরে প্রতীক দরজা ডিঙিয়ে একেবারে ঘরের মধ্যে গিয়ে পড়ল। বাঘ তার দিকে ফিরে তীব্র হুংকার ছাড়ল—হুম-আঁ। উদ্যত বাঘটির সঙ্গে প্রতীকের ব্যবধান মাত্র পাঁচ হাত। যেকোনো মুহূর্তে বাঘটি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। এতক্ষণে তার শরীর কাঁপতে শুরু করল। সে উঠে দাঁড়াতে গেল। কিন্তু পারল না। বাঘটি আবার গর্জন করে উঠতেই প্রতীক জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।

    একটু বাদে যখন চেতনা ফিরল, প্রতীক দেখল, সে একটি বিছানায় শুয়ে আছে। তাকে ঘিরে অনেকগুলি মুখ তার উপর ঝুঁকে আছে। সে ধড়মড় করে উঠে বসে চিৎকার করে উঠল, ‘বাঘ!’

    তার কথা শুনে একটা লোক বলে উঠল, ‘বাঘটা সেই কখন তার বাচ্চাকে নিয়ে চলে গেছে। বাব্বা! তোমার যা সাহস!’

    একজন মহিলা ভিড় ঠেলে তার দিকে এগিয়ে এল। তার চুল ও শাড়ি অবিন্যস্ত। চোখের নীচে জলের ধারা। কোলে একটি শিশু। শিশুটিকে ঠিক চিনতে পারল প্রতীক। এই বাচ্চাটাকেই বাঘটা ঘরের মধ্যে বন্দি করে রেখেছিল। তাহলে বাচ্চাটার কোনো ক্ষতি হয়নি! স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল প্রতীক। মহিলাটি বলছে, ‘বাবা, আজ তুমি যে আমার কী উপকার করলে! আমার সোনাটাকে ফিরিয়ে এনে দিয়ে কী যে উপকার…’ —কথা শেষ করতে না-পেরেই মহিলাটি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল আবারও।

    প্রতীক দেখল, সেই মাছধরা লোকটিও তার কাছেপিঠেই দাঁড়িয়ে আছে। লোকটি এবার এগিয়ে এসে তার মাথায় হাত রাখল। প্রতীক তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কোথায় চলে গিয়েছিলে?’

    লোকটি বলল, ‘তুমি হইল্যা আল্লার দোয়া। তুমারে রাইখ্যা আমি আর যামু কই। আইচ্ছা, একটা কথা কও দেখি, ওই বাঘের বাচ্চাটারে তুমি পাইলা কই?’

    প্রতীক বলল, ‘আমি তো সকালে আসার সময়ই দেখেছিলাম, ও দুটো বিড়ালের বাচ্চার সঙ্গে খেলছে মন্দিরের বাগানে।’

    লোকটি বলল, ‘বাঘটা যখন তুমার উপর প্রায় লাফ দিয়াই ফালছে, আমি চোখ বুইজ্যা, দুই হাত তুইল্যা আল্লারে কইলাম, আল্লা, পোলাডারে বাঁচাও। তারপর চায়া দেখি, তুমার জামার তল থেইক্যা কুঁ-কুঁ করতে-করতে একটা বাঘের বাচ্চা বার হইয়্যা বাঘটার দিকে দৌড়াইয়া গেল। সঙ্গে-সঙ্গেই বাঘটার রাগ পইড়্যা গেল। অমা, বাচ্চাটারে জিভ দিয়া চাইট্যা-চাইট্যা বাঘটা কী আদর করল! মাইনসের বাচ্চাও বুধহয় অত আদর পায় না। তারপর বাচ্চাডার ঘাড়ে কামড় দিয়া তুইল্যা লইয়া বাঘটা সুড়সুড় কইর‌্যা দরজ্যা দিয়া বারইয়া পিছনের জঙ্গলের দিকে পালাইয়া গেল। কিন্তু তুমি কী ভাইব্যা বাচ্চাডারে লইয়্যা ঘরে ঢুইক্যা পড়লা খোকা, কও অহন দেহি?’

    প্রতীক বলল, ‘আমি বাঘটার মুখের অবস্থা দেখে বুঝতে পেরেছিলাম, ওর বাচ্চাটাকে ফিরে পেলেই সে এখান থেকে চলে যাবে।’

    এমন সময় ভিড় ঠেলে প্রতীকের সামনে হুড়মুড় করে এসে পড়ল তারা বাবা-মা। মা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কাঁদতে-কাঁদতে বলতে লাগল, ‘রেজাল্ট খারাপ হয়েছে বলে বাবা না-হয় একটু বেশিই বকাবকি করে ফেলেছেন। তাই বলে রাগ করে ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে একেবারে বাঘের কাছে চলে এলে? এটা তুমি কী করলে বাবাই?’

    বাবা প্রতীকের পিঠে হাত রেখে বলল, ‘আমাকে তুই ক্ষমা করে দে বাবাই। আমি ভুল ভাবছিলাম। আমি তোকে অকর্মণ্য বলেছিলাম। কিন্তু আজ তুই যে কাজটা করলি, নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে একটা বাচ্চাকে বাঁচালি, তাতে তোর বাবা হিসেবে আমি গর্বিত। তুই পরীক্ষায় ফেল করেও আজ আমাদের সবার মধ্যে ফার্স্ট। চল বাবাই, এবার বাড়ি চল।’

    প্রতীক একে-একে তার মা ও বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে কী যেন দেখল। তারপর সেই মাছধরা লোকটির দিকে ফিরে, বিছানা থেকে ব্যস্তসমস্ত হয়ে নামতে-নামতে বলল, ‘আমাকে প্লিজ ওই পুকুরে নিয়ে চলো। মাছগুলো তখন বাঘের ডাকে ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। নিশ্চয়ই আমার জন্য অপেক্ষা করছে ওরা। ওদের সঙ্গে আমার অনেক-অনেক কথা বলবার আছে!’

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্নিবীণা – কাজী নজরুল ইসলাম
    Next Article মাধুকরী – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }