Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞান – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প306 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তিতির বন্ধু – রতনতনু ঘাটী

    রোবট নিয়ে তিতির কোনো আগ্রহ নেই। এর আগে কলকাতায় রোবটের এক প্রদর্শনী হয়েছিল। তিতি বাবা-মার সঙ্গে দেখতে গিয়েছিল। একদম মন ভরেনি তিতির। বাড়ি ফেরার পথে তিতির বাবা গাড়িটা একটা ছোটো গর্ত থেকে বাঁচাতে ব্রেক কষে তিতির মাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘বলো মিলি, রোবট মেলাটা তোমার ভালো লাগেনি?’

    তিতির মায়ের ওটা ডাকনাম। ওই নামে বাবাকে ছাড়া আর কাউকে ডাকতে শোনেনি তিতি। এমনকী, দাদু বা দিদাকেও না। দাদু দিদা মাকে ডাকেন মুন্নি বলে। তিতির মা বললেন, ‘দারুণ, ভীষণ, ভীষণ ভালো!’

    তিতির বাবা তিতিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কী রে তিতি, তোর ভালো লাগেনি?’

    তিতি কোনো উত্তর দেয়নি। একদম ভালো লাগেনি তিতির। রোবটের আবার মেলা কী? যে মেলায় বেলুন নেই, ফুচকা, পাঁপড়ভাজা, আলুকাবলি নেই, নাগরদোলা নেই, সেটা আবার মেলা কীসের। এমনকী, কলকাতায় বই নিয়ে যে বড়ো মেলা হয়, তাও তিতির খুব ভালো লাগে।

    তিতিকে চুপ করে থাকতে দেখে বাবা-মা অন্য কথায় ডুবে গিয়েছিলেন। সে-কথার সবটা কানে নেয়নি তিতি। যেটুকু শুনছে, তার সার কথা এই, তিতির বাবা রোবটের ব্যাবসা শুরু করবেন। বিদেশ থেকে রোবট এনে কলকাতা, দিল্লি, মাদ্রাজ, মুম্বাইয়ে বিক্রি করবেন। মায়ের কথাটা খুবই মনে ধরেছে। তিতির কিন্তু ভালো লাগেনি। বাবা যখন বলেন, রোবট হল যন্ত্র মানব, সে-কথাও মনে ধরে না তিতির। যন্ত্র আবার মানুষ হয় নাকি? বড়োদের যে কী বুদ্ধি। একদম ভালো লাগে না এসব।

    কী ভালো লাগে তিতির? একজন জানে। সে তিতির স্কুলের বন্ধু পিয়ালি। ক্লাসে দু’জনে পাশাপাশি বসে। তিতি পিয়ালিকে জিজ্ঞেস করে, ‘তোর কোনো রং ভালো লাগে রে পিয়ালি?’

    পিয়ালি চটপট মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, ‘আকাশি।’

    ‘আমারও।’ তারপর তিতি জানতে চায় ‘তোর কোনো ফল খেতে ভালো লাগে?’

    পিয়ালি বলে, ‘লিচু।’

    ‘আমারও।’

    পিয়ালি জিজ্ঞেস করে, ‘তোর এক্কাদোক্কা খেলতে ভালো লাগে, না কম্পিউটার গেম?’

    তিতি ঘাড় বাঁকিয়ে উত্তর দেয়, ‘এক্কাদোক্কা।’

    তিতির ভালো লাগার তালিকা অনেক বড়ো। তবু পিয়ালি যেটুকু জানে, তিতি মালা গাঁথতে ভালোবাসে। পুতুল খেলতে, রান্নাবাটি খেলতে, নদী, বন আর পাহাড়ের ছবি আঁকতে ভালোবাসে। পরি, রাজা, রাক্ষসখোক্কসের গল্প শুনতে ভালো লাগে তিতির। ছড়া পড়তে ভীষণ ভালোবাসে তিতি, আকাশে রামধনু দেখতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে কচুপাতা মাথায় দিয়ে ভিজতে, পিঁপড়ের পায়ে একটা ফূুলের পাপড়ি বেঁধে দিতে, ঘাসফড়িংয়ের সঙ্গে সারা বিকেল লাফাতে-ঝাঁপাতে। আর ভালোবাসে পুতুলের মতো তুলতুলে একটা ছোট্ট ভাই পেতে।

    এর কোনোটাই পায় না তিতি। এসব একদম পছন্দ করেন না মা-বাবা, এসবের কোনোও কিছু দেখলেই মা বলেন, ‘মেয়েটা দিন-দিন ‘রাস্টিক’ হয়ে উঠছে। একটা ব্যবস্থা করো।’

    বাবাও সায় দেন সে-কথায়, চিন্তিত হয়ে পড়েন। এই নিয়ে তিতিকে বারণও করেন বাবা-মা। বলেন, ‘মাম, তোমাকে অনেক বড়ো হতে হবে। ইংরেজি শিখতে হবে। আধুনিক হতে হবে। ওসব তো গ্রামের ছেলেমেয়েরা চায়।’

    উলটে তিতি জবাব দেয়, ‘আমাকে তোমরা ‘মাম’ বলবে না, মামণি বলবে। আমার মাম শুনতে ভালো লাগে না। তাও যদি না পারো, তিতি বলেই ডেকো।’

    তিতি নামটাও যে বাবা-মার একদম পছন্দ নয়, তাও জানে তিতি। ওই নামটা দাদুর দেওয়া। বাবা-মা অনেকবার চেষ্টা করেছেন ওর তিতি নামটা বদলে দিতে। পারেননি। অন্য কোনো নামে তিতিকে ডাকলে তিতি সাড়াই দেবে না। অন্য নাম ভালো লাগে না তিতির।

    তিতির আরও কী-কী যে ভালো লাগে না, তা জানেন তিতির মা ও বাবা। ছেলেদের মতো ছোটো করে চুল কাটতে ভালো লাগে না, ছেলেদের মতো পোশাক পরতে ভালো লাগে না, হইহুল্লোড় ভালো লাগে না, গানের তালে-তালে নাচতে ভালো লাগে না। আরও অনেক কিছু ভালো লাগে না তিতির। যেমন, চারপাশে এত যন্ত্র ভালো লাগে না। মার ঘর পরিষ্কার করা, কাপড় কাচা, রান্না করা—সব কাজেরই যন্ত্র আছে। তবু, ওরা যখন শহরতলিতে থাকত, তখন ওদের বাড়িতে কাজ করার জন্য যে বকুলমাসি ছিল, তাকেই সবচেয়ে ভালো লাগত তিতির। কলতলায় বসে কেমন ঝকঝকে করে বাসন মাজত, বকবক করতে করতে ঘর মুছত কেমন, আব সেই ভেজা মেঝের ওপর তিতির ছোট্ট পায়ের ছাপ দেখলেই কেমন মুখ ভার করে বকত তিতিকে। কাচা জামা-প্যান্টের সঙ্গে কেমন একটা গন্ধ মিশিয়ে দিত যে বকুলমাসি, ভীষণ ভালো লাগত সেই গন্ধটা তিতির। কাপড়-কাচা যন্ত্র কোথাও থেকে এনে দিতে পারবে কি সেই গন্ধটা? বকুলমাসি টক বেলের যে আচারটা তৈরি করত কাঁচালঙ্কা দিয়ে, মায়ের রান্না-করা যন্ত্রটা কি পারবে সেই আচারটা তৈরি করে দিতে? তাই মানুষের মতো যন্ত্রও যেমন ভালো লাগে না তিতির, তেমনই ভালো লাগে না যন্ত্রের মতো মানুষও।

    তবু তিতি বুঝতে পারে, বাবা-মাকে আধুনিকতায় পেয়েছে। যা তার একদম অপছন্দের।

    ওরা এখন শহরতলি থেকে চলে এসেছে শহরের একেবারে মাঝখানে, অভিজাতদের পাড়ায়। বাবা এখানে মস্ত বড়ো একটা ফ্ল্যাট কিনেছেন। অনেক ঘর। তাই মাঝে-মাঝে একলা থাকতে ভয় করে তিতির। মাকে খুব সকাল-সকাল অফিসে যেতে হয়। মা কি একটা বড়ো কোম্পানির ম্যানেজার। অফিসে সকলেই মাকে ‘মেমসাব’ বলে ডাকে। মা এখন বেশির ভাগ সময় প্যান্ট-শার্ট পরেন। ঘরে যখন বাবা-মা পেছন ফিরে চেয়ারে বা সোফায় বসে থাকেন, তখন কে মা আর কে বাবা, গুলিয়ে ফেলে তিতি। কেমন একই রকম মনে হয় দুজনকেই।

    বাবার এখন রোবটের ব্যাবসা। সারা ভারত জুড়ে বাবার ব্যাবসা। তাই বেশিরভাগ সময় বাবাকে থাকতে হয় কলকাতার বাইরে। যখন বাড়িতে আসেন, মায়ের সঙ্গে ব্যাবসা নিয়ে আলোচনা, গুরুগম্ভীর কথাবার্তার ফাঁকে কথা বলারই সুযোগ পায় না বাবার সঙ্গে। সময় পেলে বাবা শুধু একবার জিজ্ঞেস করেন তিতিকে, ‘এখন পিয়ালির সঙ্গে আব মেশো না তো মাম?’

    তিতি এ-কথার কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যায় অন্য ঘরে। সেদিনও তিতি পাশের ঘর থেকে শুনল, মা বাবার কাছে তার সম্পর্কে অভিযোগ করছেন, ‘জানো তো, সেদিন অফিস থেকে ফিরে দেখি সারা ঘরময় চকখড়ি দিয়ে এক্কাদোক্কা খেলার ঘর কাটা মেঝেতে। ড্রইং রুমের সেন্টার টেবিলটায় রান্নাবাটি খেলার জঞ্জালে ভরতি। তুমি এর একটা ব্যবস্থা করো।’

    বাবা বলছেন, ‘আমি হাতে সময় পাই কই। তুমিই একটু ম্যানেজ করো।’

    মা বলছেন, ‘এই নিয়ে তিতিকে মেরেছি সেদিন।’

    ‘কড়া শাসনে রাখতে হবে। ওই স্কুলটা থেকেও ছাড়িয়ে আনতে হবে তিতিকে। আমার অবাক লাগে, আমাদের মেয়ে এমন হয় কী করে?’ বলে বাবা চুপ করে গেলেন।

    কিছুক্ষণ চুপচাপ। তারপর তিতি শুনল, মা বাবাকে বলছেন, ‘সারাক্ষণ একা থাকে তো, তাই তিতি কিছুতেই ওর ওই অভ্যোসগুলি কাটিয়ে উঠতে পারছে না। আমিও তো অফিসের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছি। কী করা যায় ভাবো।’

    বাবা কিছুটা ঝাঁঝের সুরে বলছেন, ‘কাজের লোক রাখা মানেই তো এগুলিকে আরও উসকে দেওয়া। দ্যাখো না, এখনও মাঝে-মাঝে সেই বকুলমাসির কথা বলে। ঠিক আছে, দেখি কী করা যায়।’

    কী যে করা যাবে, বুঝে উঠতে পারে না তিতি। কীই-বা করা যাবে? তিতি ভাবে, ‘আমার যে অন্য কিছু একদম ভালো লাগে না গো মা, একদম ভালো লাগে না!’

    বাড়িতে তিতির একা-একা থাকাটা এখন অভ্যেস হয়ে গেছে। একদম কষ্ট হয় না। অফিস-মিটিং করে মার বাড়ি ফিরতে-ফিরতে সেই সন্ধে সাতটা পেরিয়ে যায়। প্রায় এক মাস হল বাবা বিদেশে। অনেক রোবটের অর্ডার নিয়ে বাবা আমেরিকা গেছেন। ভারতে এখন বড়োলোকেরা দরোয়ান বা কাজের লোকের বদলে রোবট রাখছে বাড়িতে। মানুষের চেয়ে তারা নাকি কাজ করে ভালো। মানুষের চেয়ে যন্ত্র-মানুষ ভালো হয় কী করে, মাথায় ঢোকে না তিতির।

    সন্ধে হয়ে গেছে। বাড়িতে একা বসে-বসে একটা পুতুল তৈরি করছিল তিতি, বাতিল কাপড়ের টুকরো আর কাগজ দিয়ে। তখন হঠাৎ পিয়ালির কথা মনে পড়ে গেল তিতির। কাল পিয়ালি তার বাবার সঙ্গে গিয়েছিল সার্কাস দেখতে। তিতি ভাবে বাবার সঙ্গে সে কোনোদিন সার্কাস দেখতে যায়নি। বাবার অত সময়ই নেই।

    পিয়ালি বলেছিল, ‘জানিস তিতি, যখন বাঘের খেলাটা শুরু হল, আমি তখন বাবার হাতটা জড়িয়ে ধরে বসেছিলাম। অত বড়ো বাঘ, মা গো!’ বলেই পিয়ালি দু’হাতে মুখ ঢেকেছিল ভয়ে।

    এখন বাবার হাতের একটু স্পর্শ পেতে ভীষণ ইচ্ছে করছে তিতির। কতদিন তিতি বাবাকে ছোঁয়নি। খুব মনখারাপ হয়ে গেল। তিতি ভাবে, কেন এমন হয় না, আমি, মা, বাবা, আমরা সকলে দূরে কোনো নদীর ধারে বেড়াতে গেছি। ছোট্ট ভাইটা সবে হাঁটতে শিখেছে। বাংলোর লনে হাঁটতে-হাঁটতে পড়ে যাচ্ছে সে। আর আমি তার হাত ধরে তাকে বাগানে নিয়ে গিয়ে ঘাসফড়িং দেখাচ্ছি, প্রজাপতি চেনাচ্ছি। ফুলে হাত দিতে নেই বলে নিষেধও করছি মাঝে-মাঝে। মা-বাবা বাংলোর বারান্দায় চেয়ারে আমাদের দেখছেন, আর হাসছেন। দূরে নদীর জলে অনেক লাল রং ছড়িয়ে সূর্য ডূবে যাচ্ছে। কেন এমন হয় না, এমন হয় না কেন?

    মন খারাপ করে বসে রইল তিতি। সকলের তো সবকিছু হয় না। যেমন পিয়ালির বাড়িতে এত যন্ত্র নেই, কম্পিউটার গেম নেই, এত একলা থাকতে হয় না পিয়ালিকে। যেমন তার ভাই নেই, বাবা-মাকে কাছে পায় না, কোথাও বেড়াতে যাওয়া হয় না তাদের। সকলেরই জীবনে ‘নেই’ আছে।

    চুপচাপ বসে ছিল তিতি। এমন সময় দরজা খোলার শব্দ হল। মার কাছেও চাবি থাকে। তাই মা এলে তিতিকে উঠে গিয়ে দরজা খুলতে হয় না। মা নিজেই দরজা খুলে ঘরে ঢোকেন। তিতি ভাবল, মা এসেছেন।

    দরজা খুলে প্রথমে ঢুকলেন বাবা, তারপর মা। ড্রাইভারকাকু কী একটা বড়ো মোড়ক নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। বাবা তিতির পিঠে হাত রেখে বললেন, ‘একা-একা মন খারাপ করছিল তো মাম? এই দ্যাখো, তোমার জন্যে বন্ধু এনেছি।’

    তিতি ভাবল, এত বড়ো মোড়কে বন্ধু তা হলে রোবট-নাকি? সত্যিই তাই। প্যাকেট খোলা হল। তিতির সমান লম্বা একটা রোবট। বাবা বললেন, ‘এর নাম ‘রোবটিকা’। জানো মাম, আজ থেকে রোবটিকা আমাদের বাড়িতে থাকবে। তোমার সব কাজ করে দেবে। তোমার সঙ্গে ভিডিও গেম খেলবে, তোমার পড়া বলে দেবে। কেমন, খুব মজা হবে না মাম?’

    বাবার একটা হাত ধরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল তিতি। বাবার শরীরের উত্তাপ পেতে-পেতে মনে-মনে বলল, ‘বাবা, তুমি পিয়ালির বাবার মতো হতে পারো না? আমাকে মুনুমা বলে ডাকতে পারো না বাবা? আমাদের গোটা বাড়িটায় যে শুধুই যন্ত্রের গন্ধ একদম ভালো লাগে না বাবা।’

    মাও জামা-প্যান্ট ছেড়ে এসে দাঁড়িয়েছেন। বাবা রোবটটা চালিয়ে দিতেই হাঁটতে শুরু করল। মেঝের ওপর হাঁটতে লাগল থপথপ করে, অনেকটা সেই ই. টি. সিনেমার ভিন গ্রহের প্রাণীটার মতো। হেঁটে গিয়ে বইয়ের ডেস্কটা সুন্দর করে গুছিয়ে দিল তিতির। তারপর চুপচাপ এসে দাঁড়িয়ে রইল আদেশের অপেক্ষায়। মা বললেন, ‘দ্যাখো মাম, বেশ মজার, না? তোমার বাবা অর্ডার দিয়ে তৈরি করিয়ে এনেছেন এই রোবটিকাকে। নামটাও বেশ, রোবটিকা, বল?’

    তিতি বাবার হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। মনে-মনে ভাবল, এর চেয়ে একটা বেড়ালও ঢের ভালো ছিল। ছোট্ট পুষিটার সঙ্গে খেলে-খেলে সময়টা কেটে যেত তিতির।

    এর পর বাবা সবকিছু বুঝিয়ে দিলেন তিতিকে। রোবটিকা কেমন করে দরজা খুলে দেবে, পড়া বলে দেবে, ওর সঙ্গে ভিডিও গেম খেলবে, সব।

    তিতি আর কিছু দেখল না। ও দেখে, বুঝে লাভ কী? রোবটিকা দিয়ে তার কী হবে? তার চেয়ে এই যেটুকু সময় বাবাকে কাছে পাচ্ছে, বাবার শরীরের উত্তাপ পাচ্ছে, এই তো ঢের।

    সেদিন রাত্রে ছোট্ট খাটে শুয়ে তিতি স্বপ্ন দেখল। সে এক অদ্ভুত স্বপ্ন। সে এক আজব পৃথিবী। গাছ নেই, ফুল নেই, নদী নেই, বন নেই পাহাড় নেই। শুধু যন্ত্র আর যন্ত্র। এমনকী, একটাও মানুষ নেই। সেখানে বোতাম টিপলে বৃষ্টি হয়, সূর্য ওঠে। আর সেই অদ্ভুত পৃথিবীতে তিতি একা, কী করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। সবশেষে কেঁদেই ফেলল তিতি।

    ঘুমিয়ে-ঘুমিয়ে কাঁদতে দেখে পাশের খাট থেকে উঠে এলেন মা। তিতিও জেগে উঠেছে। একদম ঘেমে গেছে তিতি।

    পরের দিন থেকে বাবা আবার চলে গেলেন তাঁর কাজে। মা অফিস-মিটিংয়ে ব্যস্ত। তিতি স্কুল আর বাড়ি। বাড়িতে রোবটিকা থেকে গেল। রোবটিকা রোবটিকার মতোই থাকে। তিতি থাকে তিতির মতো। রোবটিকা নামটাও তিতির একদম পছন্দ নয়। আর ওই নামে না ডাকলে নাকি সাড়াও দেবে না রোবটিকা। তাই তিতি যেমন একলা ছিল তেমন একাই।

    স্কুল থেকে ফিরলে রোবটিকা দরজা খুলে দেয়। ব্যাস, ওইটুকুই। তিতি আগের মতোই নিজে খাবার নিয়ে খায়, ডেসকে বই গুছিয়ে রাখে, একা-একা পুতুল নিয়ে রান্নাবাটি খেলে, এক্কাদোক্কা খেলে। রোবাটিকার থাকা না-থাকা দুটোই সমান তিতির কাছে।

    মা অফিস থেকে ফিরে দু-একদিন বলেছেন, ‘মাম, তুমি রোবটিকার সঙ্গে মেশো না কেন? ও তো তোমার বন্ধু হওয়ার জন্যেই তৈরি হয়েছে?’

    তিতি মায়ের কথা বুঝতে পারে না। ওভাবে কি কেউ কারও বন্ধু হয়? পিয়ালির সঙ্গে তিতির বন্ধুত্ব হবে বলেই কী পিয়ালি এসেছে পৃথিবীতে? বন্ধু হয়ে কেউ পৃথিবীতে আসে না। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, বন্ধু হয়ে ওঠে।

    উত্তরে তিতি মাকে বলেছে, ‘আমার কোনো কষ্ট হয় না। বেশ ভালো আমার একা-একা খেলা।’

    একদিন দূর থেকে বাবা মাকে টেলিফোন করেছিলেন। তিতি পাশের ঘর থেকে শুনেছে। বাবা জানতে চেয়েছিলেন রোবটিকার সঙ্গে তিতির বন্ধুত্ব হয়েছে কি না। উত্তরে মা বলেছিলেন, ‘সেই নিয়েই তো ভাবনা। ওরা দুজনে আলাদা-আলাদা থাকে। মাম মনে হয় রোবটিকাকে মানিয়ে নিতে পারছে না।’

    তিতি একদিন একটা পুতুলকে সাজাতে বসেছে। আপনমনে পুতুলের সঙ্গে কথাও বলে চলেছে। হঠাৎ মনে হল, তার ইতি নামে কোনো বন্ধু থাকলে বেশ হত! তিতির বন্ধু ইতি। পিয়ালির নামটাই বদলে এবার থেকে ইতি রাখলে কেমন হয়?

    এমন সময় পুতুলের জামার দরকার পড়ল তিতির। জামাটা তো সেই বারান্দার কোণে কাগজের বাক্সের মধ্যে। পুতুলটাকে এমনভাবে সাজিয়েছে, হাত থেকে ছেড়ে দিলে আবার সব খুলে যাবে। আঠার টিউবটাও বারান্দায়। নিজের ওপর খুব বিরক্ত হল তিতি। এত ভুলোমন হলে এই হয়। সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে বসলেই তো হত।

    হঠাৎ রোবটিকার দিকে তাকিয়ে বলল তিতি, ‘এই ইতি, বারান্দা থেকে পুতুলের জামাটা এনে দে না।’

    বলেই অবাক হয়ে দেখল তিতি, রোবটটা সত্যিই হেঁটে গিয়ে বারান্দা থেকে পুতুলের জামাটা এনে দিল তিতিকে। খুব ভালো লাগল তিতির। আর রোবটিকা নয়, ওকে এবার থেকে ইতি বলেই ডাকবে। তবে যে বাবা বলেছিলেন, ‘রোবটিকা নামে না ডাকলে ও সাড়া দেবে না।’ সে যাকগে। ইতি, আজ থেকে ও ইতিই।

    একদিন রান্নাবাটি খেলার সময় জল এনে দিতে বলল ইতিকে। তিতি বলল, ‘দেখিস ইতি, মেঝেয় জল ফেলিস না যেন। মা তা হলে বকবে।’

    রোবটটা জল এনে দিল।

    দেখতে-দেখতে বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেল ইতির সঙ্গে। তিতি যখন পড়তে বসে, ইতি পেনসিল কেটে দেয়, দরকার পড়লে বই এনে দেয় ডেসক থেকে। রুটিন বলে দেয়। কোনোদিন কী পড়া আছে, তাও মনে করিয়ে দেয় ইতি। এসব দেখে মা ভীষণ খুশি। সে-কথা একদিন ফোনে বাবাকে বলেছেন মা, তিতি শুনেছে।

    তিতি সেদিন ইতিকে বলেছে, ‘দ্যাখ ইতি, আমরা রোজ বিকেলে দুজনে খেলব এক্কাদোক্কা, রান্নাবাটি। পুতুল সাজাব মাকে বলে দিস না যেন!’

    ইতির দাঁড়ানোর ভঙ্গি দেখে তিতি বুঝেছে, ইতি মাকে বলবে না।

    সেদিন বাথরুমে পড়ে গেল তিতি জল আনতে গিয়ে। ওর পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনে ইতি গিয়ে হাজির বাথরুমে। তিতির হাঁটুতে চোট লেগেছে দেখে ফ্রিজ থেকে বরফ এনে লাগিয়ে দিয়েছে ইতি। আসলে ইতিও ভালোবেসে ফেলেছে তিতিকে। তিতি ভাবে, ইতিটা আসলে রোবট না, বন্ধু আমার মিষ্টি বন্ধু! ঘরে এখন তিতি আগের মতো যন্ত্রের অত তীব্র গন্ধও পায় না। সেই বিশ্রী গন্ধটা আর নেই।

    কাল তিতি আর ইতি চকখড়ি দিয়ে মেঝেতে দাগ কেটে এক্কাদোক্কা খেলছিল। এরকম অনেক দিন খেলেছে। হঠাৎ বিকেলে মা অফিস থেকে ফিরে দরজা খুলে ঢুকেই দেখেন, ইতি আর তিতি খেলছে। তখন আবার ইতিরই খেলার পালা। এক পা তুলে লাফিয়ে-লাফিয়ে খেলছিল ইতি। মাকে দেখে ও থমকে গেল। মার দুচোখ জুড়ে বিস্ময়। এ কী করে সম্ভব?

    তিতি দেখল, মা কেমন দিশেহারা হয়ে গেলেন। ছুটে গিয়ে বাবাকে দিল্লিতে ফোন করলেন।

    মা ফোনে চেঁচিয়ে কথা বলছেন, ‘তুমি আজই চলে এসো। আমি বাড়ি ফিরে দেখলাম তিতির সঙ্গে রোবটিকা এক্কাদোক্কা খেলছে। এ কী করে সম্ভব? তুমি এক্ষুনি চলে এসো।’

    বাবা চলে এলেন রাত দশটার মধ্যে। তিতিকে কাছে ডেকে আদর করে জানতে চাইলেন, ‘রোবটিকা তোমার বন্ধু?’

    তিতি ঘাড় নেড়ে বলল, ‘হ্যাঁ। ওর নাম রোবটিকা নয়, ইতি। দ্যাখো বাবা, তুমি ওকে ইতি বলে ডাকো, ও কাছে আসবে।’

    বাবা ইতি বলে ডাকতেই, সত্যি-সত্যি কাছে এসে দাঁড়াল ইতি।

    বাবা উঠে গিয়ে আমেরিকায় ফোন করলেন ব্যস্ত হয়ে। বাবার ফোনে চাপা স্বরের কথা এ-ঘর থেকে শুনতে পেল না তিতি। শুধু এটুকু শুনল তিতি, বাবা কাল ইতিকে নিয়ে চলে যাবেন আমেরিকায়। ওর কোনো একটা যন্ত্র নাকি খারাপ হয়ে গেছে, সারানো দরকার।

    তারপর বাবা এ-ঘরে এসে ইতিকে ভরে ফেললেন প্যাকেটে। তিতি অনেক করে বলল, ‘বাবা, ওর তো কোনো দোষ নেই। আমিই তো ওকে এক্কাদোক্কা খেলতে ডেকেছিলাম। ইতি যে আমার বন্ধু হয়ে উঠেছে বাবা। আমাকে এখন আর একলা থাকতে হয় না বাড়িতে।’

    তিতির কোনো কথাই বাবার কানে ঢুকল না। খাওয়ার পর তিতিকে তার ছোটো খাটে শুইয়ে বাবা ঘুম পাড়াতে-পাড়াতে বললেন, ‘আমি আবার নিয়ে আসব ওকে মাম। একদিনেই সারানো হয়ে যাবে।’

    তিতি ঘুমিয়ে যেতে বাবা ঘুমোতে গেলেন। মাও কাজ সেরে চলে এলেন। তিতি কিন্তু সত্যি-সত্যি অনেকক্ষণ ঘুমোল না। খুব কাঁদল তিতি, একা-একা। কখন ঘুমিয়ে পড়ল, তিতি নিজেও জানে না।

    ভোরবেলা ঘুম ভেঙে যেতে বাবা তিতির খাটের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলেন। পাশের ঘর থেকে প্যাকেট খুলে বেরিয়ে এসে ইতি বসে আছে তিতির মাথার পাশে। একটা হাত তিতির কপালে।

    বাবা ধড়ফড় করে উঠে গিয়ে দেখলেন, জ্বরে তিতির গা পুড়ে যাচ্ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি নতুন ভূত – সম্পাদনা : শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article ভৌতিক গল্পসমগ্র – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }