Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ৫০টি প্রেমের গল্প – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1125 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শাজাহানের জতুগৃহ

    অক্ষয়চন্দ্র মেমোরিয়াল হাসপাতালের চোদ্দো নম্বর বেডে আমার মা শুয়ে আছেন। মাথায় পুরু ব্যাণ্ডেজ। কপাল ঢেকে আছে। চোখ দুটো আধবোজা। বিছানার পাশে একটা লম্বা স্ট্যাণ্ডে বোতল ঝুলছে। বোতল থেকে একটা স্বচ্ছ নল ওপর হাতের শিরায় গিয়ে ঢুকেছে। এই আমার মা। আমার মা, আমার ছোট বোন শিখার মা।

    আমরা নয়নজুলির তিনতলা একটা ফ্ল্যাটবাড়ির ওপরের ফ্ল্যাটে থাকি। আমরা দুই ভাই-বোন, মা আর বাবা। বাবার কথা আমার লিখতে ইচ্ছে করে না। আমার বাবা অতি খারাপ লোক। খারাপ ছেলের কথা অনেক শুনেছি, খারাপ বাবা এই প্রথম দেখলুম। মা যে এমন একটা মানুষকে কেন বিয়ে করেছিলেন কে জানে! অবশ্য বাবা-মার বিয়ের ওপর ছেলেদের কোনও হাত থাকে না। বিয়ের পরই তারা বাবা-মা হন।

    আমার বয়েস সতেরো। আমার বোনের বয়েস তেরো।

    মা তাঁর বাঁ-হাতটা অল্প একটু তুললেন। বুঝলাম আমি যে এসেছি তিনি দেখতে পেয়েছেন। বিছানার পাশে একটা ছোটো টুল। আমি সেই টুলে বসলাম। আমি মায়ের জন্যে কিছু আনতে পারিনি। কারণ আমার কাছে হাসপাতালে আসা আর যাওয়ার পথ-খরচ ছাড়া আর কিছু ছিল না। বাজারে এখন আপেলের দাম আট টাকা কেজি। একটা মুসম্বি প্রায় এক টাকা দাম। পঞ্চাশ পয়সার কম দামের যে সন্দেশ তা ছুন্নিগুলির মতো এবং অখাদ্য।

    মা ফিস ফিস করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোরা কেমন আছিস?’

    বললুম, ‘ভালো।’ কিন্তু আমরা মোটেই ভালো নেই। এই পৃথিবীতে একা একা থাকতে কার ভালো লাগে। অনেক বইয়ে পড়েছি, জীবন একটা সংগ্রাম। সেই সংগ্রাম যে এই সংগ্রাম, কে জানত!

    মা আবার ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাবা ফিরেছে?’

    বাবার কথা শুনে কেমন একটা ঘৃণা হল। এমন মানুষের ফেরা আর না ফেরা!

    ‘না ফেরেন নি। তুমি কি মনে কর ফিরে আসবেন?’

    আমার প্রশ্নের কোনো জবাব নেই। মা চুপ করে গেলেন। বোতল থেকে কী একটা জল টিপ টিপ করে নলে পড়ছে। নল থেকে মায়ের শরীরে।

    ‘শিখা কী করছে রে?’

    ‘শিখাকে নীচের ফ্ল্যাটের মাসিমার কাছে রেখে এসেছি।’

    ‘আজ তোরা কী খেলি?’

    ‘চিনি আর পাঁউরুটি।’

    মা আবার আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন। চোখের কোণে দু-ফোঁটা জল নামল।

    দূর থেকে জুতোর শব্দ তুলে নার্স হেঁটে আসছেন। সাদা ধবধবে পোশাক। পৃথিবীটা এত ভাল তবু কত খারাপ!

    ‘তোমার মাকে আর বকিও না, এবার উঠে পড়ো। আবার কাল।’

    সিস্টার বোতলটা একবার ঝাঁকিয়ে দিলেন। মায়ের মাথার ব্যাণ্ডেজটার দিকে এক নজরে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। এমন রোগী, এমন বিপদ—এঁরা সারাদিনে কত দেখেছেন। মনে সব সয়ে গেছে।

    উঠতে যাচ্ছি, মা আবার বাঁ-হাতের ইশারায় কাছে ডাকলেন। নীচু হয়ে মুখটা মায়ের মুখের সামনে নামিয়ে আনলাম। মা ফিসফিস করে বললেন, ‘বিনু, তুই আমার কানের দুল দুটো খুলে নিয়ে যা। বেচে কিংবা বাঁধা দিয়ে যেমন করে পারিস কিছু টাকা যোগাড় কর। তা না হলে কী করে চলবে রে।’

    ‘না মা, ও আমি পারব না। বরং আমার হাতঘড়িটা—।’

    মায়ের মুখ বড়ো করুণ হয়ে উঠল। মাকে কি ভীষণ অসহায় দেখাচ্ছে। ঠোঁট দুটো নড়ে উঠল—‘ঘড়িতে হবে না রে বিনু। কত আর পাবি। অনেক খরচ। তুই খুলে নে বাবা! পরে আবার সব হবে।’

    মানুষের দিন কী ভালো হয়। আমার এই সতেরো বছরের জীবনে কোনো ভালোই তো দেখিনি। মাও বেশ ভালোই জানেন, জীবনে ভালো দিন আর আসবে না। টাকা সত্যিই চাই। আজকের দিন চলে গেলে কাল কী হবে তা কেউ জানে না।

    অনেক ভেবে নীচু হয়ে মায়ের কান থেকে একে একে দুল দুটো খুলে নিলুম। মায়ের নি:শ্বাস পড়ছে ধীরে ধীরে। উষ্ণ বাতাসের মতো গায়ে লাগছে। বেশ জ্বর হয়েছে। জীবন যেমন ক্ষয়ে যায়, সোনার অলঙ্কারও তেমনি শরীরের স্পর্শ লেগে লেগে কেমন বিবর্ণ, কেমন ক্ষয়াক্ষয়া হয়ে যায়। দুল দুটো হাতের তালুতে রাখতেই মনে হল, এ সুখের শরীর থেকে আসেনি, এসেছে দুঃখের ছোঁয়া লাগা, জর্জরিত কোনো শরীর থেকে বিষণ্ণ, ক্ষতবিক্ষত চেহারা নিয়ে। দুল দুটোর দিকে তাকাতেই আমি যেন আমার মায়ের জীবনের অতীত দেখতে পেয়ে গেলুম। যিনি হাসতে চেয়ে কেঁদে গেলেন, যিনি বাঁধতে গিয়ে বাঁধা পড়লেন, যিনি ভরাতে গিয়ে ক্ষয়ে গেলেন, যিনি ভালোবাসতে গিয়ে পুড়ে গেলেন। আমার মায়ের কিছু হল না। এ যেন সেই গাড়ি, যার চালক জানে না যে পথে ছুটে চলেছে সেই পথের শেষে বিশাল একটা খাদ।

    সন্ধ্যে নেমেছে শহরে। আজ বৃহস্পতিবার। রঙ্গমঞ্চে এতক্ষণ আমার বাবা রেশমের পোশাক পরে ফুটলাইটের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। মুখে মিহি মদের গন্ধ। তিনি আমার বাবা নন। শাজাহান। একান্নতম রজনীর সফল অভিনেতা। মঞ্চে এসে দাঁড়ালেই দর্শকের প্রশংসার হাততালি।

    ২

    বিরাজবাবু আমার বাবার বন্ধু। আমরা বলি বিরাজকাকু। একসময় দু-জনে একই সঙ্গে থিয়েটার করতেন। বাবাও তখন অ্যামেচার। বাবা অভিনয়কে পেশা করে নিলেন। বিরাজকাকু একটা চাকরি পেয়ে অভিনয়ের জগৎ থেকে ক্রমশ দূরে সরে গেলেন। বাবার সঙ্গে মায়ের প্রেম, বিয়ে সব কিছুর পেছনে বিরাজকাকুর হাত ছিল। বিয়ের পরেও বেশ কয়েক বছর বাবার সঙ্গে বিরাজকাকুর অন্তরঙ্গতা ছিল। তারপরই বাবা পেশাদারী অভিনয়ের জগতে যত খ্যাতি পেতে শুরু করলেন ততই তিনি সংসার থেকে, সমাজ থেকে, বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে লাগলেন।

    বিরাজকাকু বলেন, আমি লাইন দিয়ে বেবি ফুড কিনে এনে তোর দুধ খাবার ব্যবস্থা করেছি। ঘাড়ে করে চাইলড স্পেসালিস্টের কাছে নিয়ে গেছি। আমিই তোর রিয়েল ফাদার।

    মানুষটি বড়ো ভালো। মাঝে মাঝে মনে হয় মা কেন বিরাজকাকুকে বিয়ে করলেন না। মা তো দু-জনেরই বন্ধু ছিলেন। আমি জানি আমার এই ভাবনাটা খুব দোষের। তবু মনে হয়। বিরাজকাকুকে ভীষণ ভালো লাগে। আসলে আমার মা খুব বোকা। আমাদের নীচের ফ্ল্যাটের শ্যামলীর মতো। সে চঞ্চলকে ভালোবাসে। অথচ চঞ্চল ছেলেটা খুব বাজে ধরনের। চঞ্চলের একমাত্র গুণ ভালো গান গায়। চঞ্চল নেশা করে, চঞ্চল সংসার দেখে না, চঞ্চল কাপ্তেন, চঞ্চলের সব কিছুই বাজে। আমার মাও ঠিক শ্যামলীর মতো। কত শ্যামলী যে আছে এই সংসারে।

    রাতের দিকে বিরাজকাকু এলেন। আমরা না খেয়ে আছি ভেবে খাবার এনেছেন। শিখা ঘুমিয়ে পড়েছে। শিখার জন্যে আমার খুব দুঃখ হয়। আমি তো ছেলে। আমার আর কী। যেমন করেই হোক চালিয়ে নোব। শিখার কী হবে?

    বিরাজকাকু খুব পান খান জর্দা দিয়ে। সুন্দর একটা গন্ধ বেরোয়।

    ‘খাওয়া-দাওয়া কিছু করেছিস বিনু? করিস নি?’

    ‘এইবার করব কাকু।’

    ‘নে, ঠোঙায় খাবার আছে। কাল থেকে অন্তত একবেলা তোদের জন্যে ভাতের ব্যবস্থা করতে হবে। কোথায় করি। নিজেরই চালচুলোর ঠিক নেই। তবু করতে হবে। মেয়েটার ঘাড়টা বেঁকে আছে রে বিনু। সোজা করে দে।

    শিখা এঁকেবেঁকে শুয়ে আছে। পড়ার বই চারপাশে ছড়িয়ে আছে। মেয়েটার গা দিয়ে একটা ছেলেমানুষ ছেলেমানুষ গন্ধ বেরোচ্ছে। শিখাকে ঠিক করে শোয়াতে শোয়াতে মনে হল আমার বাবা কত নিষ্ঠুর।

    বিরাজকাকু চেয়ারে বসতে বসতে বললেন, ‘ব্যাপারটা কী হয়েছিল বল তো?’

    ‘খুব বাজে ব্যাপার কাকু।’

    ‘বাজে তো বটেই। হঠাৎ এত ক্ষেপে গেল কেন?’

    ‘আমি তো সবটা জানি না। অনেক রাতের ঘটনা। আমরা যখন জেগে উঠে ছুটে গেছি তখন আমার মা মাটিতে পড়ে আছেন। চারপাশ ভেসে যাচ্ছে রক্তে। সিঁড়ির কাছের অল্প আলোতে দু-হাতে মুখ ঢেকে বাবা দাঁড়িয়ে। মুখে তখনও মেকআপ। থিয়েটারের ডায়লগের মতো বলে চলেছেন, এ আমি কী করলুম, এ আমি কী করে ফেলেছি।। তারপর হঠাৎ জাহানারার ডায়লগ বলতে শুরু করলেন, ‘উঠুন, দলিত ভুজঙ্গের মতো ফণা বিস্তার করে উঠুন, হৃতশাবক ব্যাঘ্রীর মতো প্রমত্ত বিক্রমে গর্জে উঠুন; অত্যাচারে ক্ষিপ্ত জাতির মতো জেগে উঠুন।’ তারপর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কিছুক্ষণ কেঁদে টলতে টলতে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলেন।’

    বিরাজকাকু কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে থেকে বললেন, ‘তোর বাবা কাঁদতে চায়। দুঃখ দিয়ে দুঃখ পেতে চায়। তোর মায়ের মতো মেয়ে হয় না রে।’

    ‘তাই তো বাবা অত বাড়তে পেরেছে।’

    ‘ভুল বললি বিনু। লোকটা মনেপ্রাণে শাজাহান হয়ে গেছে। শাজাহানকে যে কাঁদতেই হবে।’

    ‘তা বলে মাকে মেরে?’

    ‘তোর মা ছাড়া পৃথিবীতে ওর আপনার লোক আর কে আছে বল?’

    ‘আপনার কথা আমি কিছুই বুঝি না। বাবা যদি শাজাহানই হবেন আমার মা তো তাহলে মমতাজ। এই কী বাবার তাজমহল!’

    ‘বিনু, তোর বাবার ওপর রাগ করিস না রে। লোকটার মনটা বড়ো ভালো রে। কত বড়ো অভিনেতা। ইতিহাসে নাম থাকবে।’

    ‘আমাদের মনের ইতিহাসে কী থাকবে কাকু? হাসপাতালে গিয়ে মাকে একবার দেখে এলেই বুঝবেন। মাকে কারা হাসপাতালে নিয়ে গেল? জানেন মায়ের হাতে আজ একটাও পয়সা নেই। এই দেখুন কানের দুল দুটো মা আজ বেচে দেবার জন্যে আমার হাতে খুলিয়ে দিয়েছেন।’

    ‘ও দুটো তোমাকে বেচতে হবে না বিনু, তুলে রেখে দাও। মা হাসপাতাল থেকে ফিরে এলে যে হাতে খুলেছ সেই হাতেই আবার পরিয়ে দিও। জেনে রাখ, শিল্পীদের হাতে কখনো পয়সা থাকে না। আসে আর উড়ে যায়। তাদের সংসার এই ভাবেই চলে। পাঁচজনে চালিয়ে দেয়। শিল্পের জন্মভূমি হল অভাব, অশান্তি, হতাশা, বিচ্ছেদ। ওসব বোঝার বয়েস তোর হয়নি। নে উঠে পড়।’

    ‘কোথায় উঠব কাকু?’

    ‘যেতে হবে না?’

    ‘কোথায়?’

    ‘কোথায় আবার! আমার আস্তানায়। মনে নেই তোকে আমি কী বলেছিলুম একদিন। আমিই তোর রিয়েল ফাদার। তুই ভাবিস কী ব্যাটা। আমি কি তোর বাপের চেয়ে কম বড়ো অভিনেতা ছিলুম! আমার ঔরংজীব দেখেছিস? দেখিন নি। তুই তখন এতটুকু। মায়ের কোলে ট্যাঁ ট্যাঁ। স্টেজ ছেড়ে চাকরি ধরেছি কেন জানিস, আমি এক নতুন ঔরংজীব। শাজাহানকে আগ্রা দুর্গ থেকে মুক্ত করে দিয়ে বলব, শাজাহান, ওই তোমার মসনদ, ওই তোমার মমতাজ, ওই তোমার জাহানারা। নে জাহানারাকে টেনে তোল, অনেক রাত হল। ভালো তালা আছে?’

    ‘হ্যাঁ আছে।’

    ‘নে, হৌজখাসে তালা মেরে আমার সঙ্গে চল। মা ভালো হয়ে ফিরে এলে তারপর আসবি।’

    বিরাজকাকুর সঙ্গে ট্যাক্সি করে আমরা দুই ভাই-বোন মাঝরাতের কলকাতার মধ্যে দিয়ে চলেছি। শিখা আমার কাঁধে মাথা রেখেছে। মাঝে মাঝে আলোর রেখা মুখে হাত বুলিয়ে দিয়ে সরে সরে যাচ্ছে। শিখা যেন কেমন হয়ে গেছে। মুখটা ঠিক আমার মায়ের মুখের মতোই। কিন্তু কী ভীষণ ক্লান্ত। ঘটনার রাত থেকে আজ পর্যন্ত শিখার মুখে এতটুকু হাসি নেই। চলে ফিরে বেড়িয়েছে যেন কলের পুতুল। সত্যিই জাহানারা। শাজাহানের সঙ্গে একই দুর্গে বন্দি। মায়ের জন্যে আমার যেমন দুঃখ হয় শিখার জন্যেও তেমনি দুঃখ হয়। শিখা যেন এই বয়সেই মায়ের মতো বুড়িয়ে গেছে।

    বিরাজকাকু একলা মানুষ। দেড় কামরার ফ্ল্যাট। পরিচ্ছন্ন করে সাজানো। ঘরের একদিকের দেওয়ালে বিশাল একটা সিন টাঙিয়ে রেখেছেন। সেই সখের থিয়েটারের স্মৃতি। থিয়েটার গেছে সিনটা আছে। রোজই ঝাড়ামোছা করেন। তা না হলে ঘরটা এমন থাকে কী করে। রং জ্বলজ্বল করছে। দৃশ্যটা বড়ো সুন্দর, বনে বসন্ত লেগেছে। গাছে গাছে আগুন। দেখলেই গান গেয়ে উঠতে চায় মন, ‘ওরে ভাই আগুন লেগেছে বনে বনে।’

    বিরাজকাকুকে দেখাশোনা করার জন্যে একজন রাঁধুনী আছেন। সেই ভরসাতেই আমাদের তুলে এনেছেন। বয়েস বেশি নয়। বিরাজকাকুর সঙ্গে সম্পর্কটা যেন আপনার লোকের মতো। তাল ঠুকে বললেন, ‘রাতকা খানা লে আও।’

    আমার বাবাকে আমি কখনো এমন হাসিখুসি দেখিনি। সকালে বিরক্ত বিষণ্ণ। রাতে মাতাল।

    ‘বুঝলি বিনু।’ বিরাজকাকুর হাতে সিগারেট, ‘তোর বাবাকে বুঝতে শেখ।’

    ‘তার মানে?’

    ‘শিল্পী মাত্রেই বড়ো একা।’

    ‘আমরা তাহলে কী জন্যে আছি কাকু?’

    ‘তোরা থেকেও নেই। তোরা অন্য জগতের মানুষ। জানিস কী?’

    ‘কী?’

    ‘আগামী রবিবার শাজাহানের শেষ অভিনয়। বই উঠে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক নাটক আর পাবলিক স্টেজে চলবে না। এখন এসেছে আধুনিক নাটক। জোতদার মারা রাজনৈতিক নাটক। প্যানপেনে সামাজিক নাটক। আর এসেছে ড্যান্স। অভিনেতাদের যুগ শেষ। স্টেজ, লাইট, নাচ, কায়দা। তোর বাবার হতাশাটা কোথায় বুঝেছিস? যে লোকটা রাতের পর রাত পাদপ্রদীপের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের চমকে দিয়েছে, চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়েছে, সেই লোকটি আর কয়েকদিন পরেই শূন্যতার জগতে ফিরে আসবে। রাত আসবে, চোখের সামনে দর্শক থাকবে না, হাততালি থাকবে না, এনকোর এনকোর চিৎকার থাকবে না। পরচুল, মেকআপ, গ্রীনরুম, আলো ঝলসানো আয়না, রং তুলি কিছুই থাকবে না। নিঝুমরাত, চারটে দেওয়াল, একটা খাট, কয়েকটা চেয়ার, একফালি রাস্তা, ঝাপসা আলো, ছায়া ছায়া মানুষ, রিকশার ঠুন ঠুন, শাজাহান তখন সত্যি সত্যিই আগ্রার দুর্গে বন্দী! কে তখন ঔরংজীব? এই সমাজ, তোদের এই আধুনিক রুচি। তাই তো লোকটা মাঝে মাঝেই খেপে উঠছে পাগলের মতো।’

    ‘বাবা তো আধুনিক নাটকেও অভিনয় করতে পারে কাকু?’

    ‘দূর পাগল, ক্ল্যাসিক্যাল গাইয়ের মেজাজে কি আধুনিক আসে রে পাগল!’

    ‘তা হলে কী হবে?’

    ‘তোর বাবা অতীতের স্মৃতি নিয়ে নাড়াচাড়া করবে আর তোরা মানুষ হয়ে উঠে সংসারের হাল ধরবি। তবে জানিস তো, শিল্পীর ছেলেরা মানুষ হয় না।’

    ‘কেন হয় না?’

    ‘সংসার জ্বলতে থাকে, চরিত্ররা পুড়তে থাকে। শিল্পীর সংসার এক জতুগৃহ। তবু চেষ্টা করতে হবে জয়ে, পরাজয়ে। জয়ে দুলতে দুলতে ফাঁক খুঁজতে হবে, পথ করে নিতে হবে। শাজাহান তো পড়েছিস! মনে পড়ে সেই অংশটা যেখানে মহামায়া যশোবন্তকে বলছে, চেয়ে দেখ ওই রৌদ্রদীপ্ত গিরিশ্রেণি, দূরে ওই ধূসর বালু-স্তূপ। চেয়ে দেখ ওই পর্বতস্রোতস্বতী যেন সৌন্দর্যে কাঁপছে। চেয়ে দেখ ওই নীল আকাশ যেন সে নীলিমা নিংড়ে বার কচ্ছে। তোকে চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে। দেখতে হবে ছায়ার দিকে নয়, রোদের দিকে। জীবন থেকে নিংড়ে বের করতে হবে আকাশের নীলিমা। নে ওঠ। খেয়ে আসি।’

    ৩

    রাত তখন ক-টা হবে, বলতে পারব না, মনে হয় মাঝরাত। আমি মাকে স্বপ্ন দেখছিলাম। বিশাল চওড়া, একেবারে ফাঁকা একটা রাস্তায়, আমি আর আমার মা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছি। ভীষণ হাওয়া দিচ্ছে। মায়ের বয়েস যেন অনেকটা কমে গেছে। যেমন ছিল মায়ের প্রথম বয়েসের ছবিতে। মাথায় অনেক চুল ছিল। হাওয়ায় চুল উড়ছে। নীল শাড়ির আঁচল উড়ছে। আমার হাতে একটা সুটকেস। সামনের আকাশে সারি সারি পাহাড়। পাহাড়ের কোলে ঘন সবুজ বন। কী সুন্দর যে জায়গাটা। পাশে মা। মায়ের মুখে সেই হারিয়ে যাওয়া হাসি।

    ঘুম ভেঙে গেল। স্বপ্ন হারিয়ে গেল। কে যেন ভারি গলায় ডাকছে, ‘বিরাজ, বিরাজ’। বিরাজকাকুর একটাই ঘর। খাটে শুয়ে আছি আমি আর শিখা। সোফা কাম বেডে কাকু শুয়ে আছেন চিৎ হয়ে। ঘুমের ঘোরেই শুনছি, কাকু দরজা খুলছেন। ঘরের আলো জ্বেলেছেন। চোখে আলো লাগছে। দরজা খুলতেই, গলাটা খুব চেনা মনে হল। ‘বিরাজ বিরাজ।’

    বাবা। বাবার গলা। এত রাতে বাবা এখানে? বাবার কী তাহলে কোথাও যাবার জায়গা নেই? সারারাত কলকাতার নির্জন পথে পথে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে, কুকুরের তাড়া খেয়ে, পুলিসের খোঁচা খেয়ে আশ্রয় খুঁজতে এখানে এসেছেন! নাকি শাজাহান এসেছেন ঔরংজীবকে মাঝরাতে খুন করতে! ভয়ে কাঠ হয়ে শুনছি, বিরাজকাকুর গলা,—‘আয়, আয় ভেতরে।’

    ভেতরে আসতে গিয়ে বাবার পা টলে গেল। দরজাটা ধরে সামলে নিলেন। ভীষণ একটা শব্দ হল। দরজার সঙ্গে দেওয়ালের ধাক্কা। শিখা ঘুমের ঘোরে চমকে উঠল। বাবা ঘরে ঢুকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে শাজাহান নাটকের পঞ্চম দৃশ্যের সেই সংলাপ বলে উঠলেন, ‘পৃথিবীর কি অন্তিম সময় ঘনিয়ে এসেছে জাহানারা?’

    জাহানারা ত এখন বাড়ি গিয়ে মেকআপ তুলে ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়েছে। জাহানারার সংলাপ কে বলবে? ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দু-হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বাবা সেই বিখ্যাত অভিনয়টা আর একবার দেখালেন, ‘সত্যই তো, আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি নাকি? না না না। জানি পাগল হব না। ঈশ্বর। এই শীর্ণ দুর্বল, জরাজীর্ণ নেহাৎই অসহায় শাজাহানকে দেখো ঈশ্বর! তোমার দয়া হচ্ছে না? দয়া হচ্ছে না? আমি এমন কী পাপ করেছিলাম খোদা!’

    মাথার দু-পাশ থেকে হাত দুটো নামিয়ে হাঁটুর সামনে নামাজের ভঙ্গিতে উপুড় করে বাবা ধীরে ধীরে পেছোতে পেছোতে সোফা কাম বেডে ধপাস করে শরীরটা ফেলে দিলেন। শরীরের ভারে স্প্রিং নেচে উঠল শব্দ করে।

    আমার বাবার নামটা ভারি অদ্ভুত—‘ঋভু’। বিরাজকাকু খুব ধীরে ধীরে বাবার নাম ধরে ডাকলেন, ‘ঋভু।’

    বাবা ফ্যালফ্যাল করে বিরাজকাকুর মুখের দিকে শিশুর মতো তাকিয়ে রইলেন। ষাট পাওয়ারের আলোতে বাবার মুখটা যতখানি দেখছে পাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে, একটি আপনভোলা শিশু যেন, মাঝরাতে খাটের ধারে বসে আছে। ঘুম ভেঙে দেখছে মা কী করছে। বাবার একবার অসুখ করেছিল। যেদিন জ্বর ছেড়ে গেল সেদিন মা বাবাকে খাটের ধারে বসিয়ে গেঞ্জির উপর তোয়ালে রেখে ঠান্ডা জলে মাথা ধুইয়ে দিলেন। উশকো-খুশকো চুলে বাবা বসে আছেন। কিছু দূরেই মা থালায় ঝোল আর রুটি সাজাচ্ছেন। বাবা কেমন খিদে খিদে মুখে তাকিয়ে আছেন। সেদিনের সেই মুখ আজকের এই মুখ। মনটা কেমন খারাপ হয়ে গেল।

    বাবা খুব ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কটা বাজল?’

    বিরাজকাকু বললেন, ‘প্রায় তিনটে।’

    ‘রাত শেষ হয়ে এল। এখুনি সকাল হবে, তাই না? সকাল হবে না?’ বাবা জানালার দিকে তাকালেন। যেন আলো খুঁজছেন। আকাশ এখনও অন্ধকার। শেষরাতের তারা সোনার টাকার মতো আকাশে ছড়িয়ে আছে। বাবা বললেন, ‘ঘরের আলো নিবিয়ে দাও। দিনের আলোর পথ করে দাও। কে সেই মুর্খ লণ্ঠন জ্বেলে সূর্য খুঁজছে!’

    বিরাজকাকু আলোটা তাড়াতাড়ি নিভিয়ে দিলেন।

    সেই অন্ধকার ঘরে বাবার সুন্দর গলায় গান শোনা গেল:

    আমি সারা সকালটি বসে বসে এই

    সাধের মালাটি গেঁথেছি।

    আমি, পরাব বলিয়ে তোমারি গলায়

    মালাটি আমার গেঁথেছি।

    আমি সারা সকালটি করি নাই কিছু,

    করি নাই কিছু বঁধূ আর

    শুধু বকুলের তলে বসিয়ে বিরলে

    মালাটি আমার গেঁথেছি।

    আগেও দেখেছি আজও দেখলাম শেষরাতে একটা পেঁচা ডাকবেই ডাকবে। ডেকে জানিয়ে দেবে দিন আসছে। রাত যেন টান টান সভা সাজিয়ে বসে থাকে। জলসাঘরে জাজিমের মতো। ক্রমশ জমতে জমতে একসময় হালকা থেকে হালকা হয়ে মিছিলের মতো সরে যেতে যেতে একেবারে মুছে যায়। পেঁচার ডাক শুনে বাবা চমকে উঠলেন। গান থেমে গেল। ঘরের চারপাশে তাকালেন। রাত ফিকে হতে চলেছে। বাবার নেশাও ফিকে হচ্ছে। আমাদের দেখতে পেয়েছেন।

    ‘বিরাজ তোমার ঘরে এরা কারা? তুমি কি বিয়ে করেছ?’

    বিরাজকাকু সামান্য হেসে বললেন, ‘এরা তোমারই ছেলে মেয়ে ঋভু। দীপাকে তো তুমি মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছ।’

    বাবার মুখটা কেমন যেন বেঁকে গেল। কী যেন মনে করার চেষ্টা করছেন। সেই রাত। সিঁড়ির ধাপে মা পড়ে আছেন। অসম্ভব রক্ত ঝরছে। চারদিক নিস্তব্ধ। শুধু ঘরের দেয়ালে একটা ঘড়ি টিকটিক করছে। দূরে কল থেকে বালতিতে জল পড়ছে টিপটিপ করে।

    বাবার মুখ দেখে মনে হল, সেই রাত তাঁর চোখের সামনে ফিরে আসছে। মুখটা ভাঙতে ভাঙতে কান্নায় ভেঙে পড়ল। দু-হাতে মুখ ঢেকে বাবা আকুল হয়ে কাঁদছেন। এভাবে আমি কখনো কাউকে কাঁদতে দেখিনি। কিছু ভেঙে ফেলে এ যেন শিশুর অসহায় কান্না।

    একটা কাক ডাকছে। দিনের প্রথম কাক। কী তীক্ষ্ণ, কর্কশ আওয়াজ।

    ৪

    বাবা অপরাধীর মতো মুখ করে বসে আছেন। বিরাজকাকুর আজ আর অফিস বেরোনো হল না। গোটা আষ্টেক খালি চায়ের কাপ সারা ঘরের এখানে ওখানে ছড়ানো। কোনোটায় চায়ের তলানির সঙ্গে সিগারেটের টুকরো আর ছাই। কোনোটায় পোড়া দেশলাই কাঠি। কোনোটায় অ্যাসপিরিনের ফেলে দেওয়া সাদা কাগজ। বাবা সকাল থেকে কাপের পর কাপ চা খাচ্ছেন। সিগারেটের পর সিগারেট। ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় ঘর ছেয়ে গেছে। আমার আর শিখার সঙ্গে একটাও কথা বলেননি।

    আমার বাবা হলেন রাতের মানুষ। দিনের আলোয় কেমন যেন অসহায়। রাতের প্রাণী দিনের আলোয় যেমন অস্বস্তি বোধ করে, বাবার চোখে মুখে ঠিক সেইরকম এক ধরনের অস্বস্তি। বিরাজকাকু একবার সেই রাতের প্রসঙ্গ তুলতে চেয়েছিলেন, বাবা চোখের সামনে হাত আড়াল করে বললেন, ‘আমাকে ভুলতে দাও, ভুলতে দাও।’

    বাবা যেন চোখের সামনে আমার রক্তাক্ত মাকে দেখে শিউরে উঠলেন।

    বেলা তিনটের সময় বাবা বললেন, ‘বিরাজ একটা ট্যাক্সি ডাকো।’

    ‘কোথায় যাবে?’

    ‘হাসপাতালে।’

    ‘খুব ভালো কথা।’

    বিরাজকাকু ট্যাক্সি ডাকতে গেলেন। আমরা তখন রাস্তার দিকের বারান্দায়। বাবাকে চিরকালই কেমন যেন অচেনা মনে হয়। সকাল থেকে আজ যেন আরও বেশি অচেনা মনে হচ্ছে। আমার মায়ের চেয়ে কত বেশি স্বাস্থ্যবান, বলিষ্ঠ! কত বেশি যুবক! চোখ মুখ যেন বড় বেশি কঠোর আর নিষ্ঠুর।

    বাবা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলেন। কেন দিলেন? বোধহয় একটু একা থাকতে চান নির্জনে। বাইরে থেকে আমি শুধু একবার গেলাসের আওয়াজ পেলুম ঠুন করে। কী জানি, কোনো ওষুধ খাচ্ছেন হয়তো!

    শিখা ফিসফিস করে বলল, ‘বাবা আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলছে না কেন রে দাদা?’

    আমি কী করে বলব! আমি বাবার মনের খবর কতটুকু জানি। সে জানেন আমার মা। বারান্দা থেকেই দেখলাম ট্যাক্সি আসছে।

    বিরাজকাকু ওপরে এসে দরজায় টোকা মারলেন। ভেতর থেকে গম্ভীর গলায় বাবা বললেন, ‘দাঁড়া খুলছি।’

    বেশ কিছুক্ষণ পরে বাবা বেরিয়ে এলেন। পরনে ধুতি, পাঞ্জাবি। চোখে সোনালী চমশা। চোখ দুটো গোলাপী লাল। পায়ে চকচকে জুতো। বাবাকে দেখে আমার ভীষণ হাসি পেল মনে মনে। বাবা যেন বিয়ে করতে যাচ্ছেন।

    বিরাজকাকু আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কি তোরা রেডি তো!’

    বাবা যেন কেমন কুঁকড়ে গেলেন, ‘ওরাও যাবে নাকি!’

    ‘যাবে না? মাকে দেখতে যাবে না?’

    বাবা হঠাৎ একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করলেন, ‘তোমরা কি পুলিসে ডায়েরি করিয়েছ?’

    বিরাজকাকু অবাক হয়ে বললেন, ‘সেকী! ডায়েরি করব কেন? তোদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার, এ তো হতেই পারে।’

    বাবা বললেন, ‘না, মারাও তো যেতে পারে।’

    ‘তুই একটা পাগল! মাথায় সামান্য লেগেছে। তাতে মারা যাবে কেন?’

    বাবা মুখ নীচু করে কী যেন ভাবলেন, তারপর বললেন, ‘আমি কী করেছিলুম, কেন করেছিলুম, কিছুই আর মনে নেই। আমাকে তোমরা ভুলতে দাও, আমাকে তোমরা শাস্তি দাও।’

    বিরাজকাকু এবার ধমকে উঠলেন, ‘তুই খুব বাড়াবাড়ি করে ফেলছিস ঋভু। এখন তুই আবার ওসব খেলি কেন?’

    বাবা চাবুক খাওয়া মানুষের মতো চমকে উঠলেন। মুখে রাগ। শক্ত রেখা।

    ‘কি বললি! খেয়েছি কেন? বিরাজ, হু ইজ মাই ফ্রেণ্ড? কে আছে আমার? রঙ্গমঞ্চ খালি হয়ে যাবার পর আমার পাশে কে থাকে? শেষ দর্শক চলে যাবার পর কে থাকে? আমার পাশে কে থাকে? আমি থাকি। আমি যখন নির্জন রাস্তায় পায়ে পায়ে বাড়ির দিকে ফিরতে থাকি তখন কারা আসে আমার পেছনে পেছনে? এক পাল নেড়িকুকুর। তখন মুগ্ধ দর্শকের হাততালি, তাদের বাহবা নয়, কুকুরের ঘেউ ঘেউ আমার পেছনে ফেরে! কেন ঘেউ ঘেউ? আমি যে অপরিচিত। মধ্যরাতের মাতাল। দীপা কি সেই কুকুরের একটি?’

    ‘একী, একী কথা তুমি বলছ ঋভু?’

    ‘ঠিকই বলছি। দীপা সেদিন আমাকে মাতাল বলেছিল। লম্পট বলেছিল। আমি নাকি থিয়েটারের এই মেয়েটার সঙ্গে, যে জাহানারা সাজে, তার সঙ্গে রাত কাটাই। ফুল, ফুল, মূর্খ! জাহানারা আমার মেয়ে। চরিত্রের সঙ্গে জীবন না মেলাতে পারলে অভিনয় হয় বিরাজ! হয় না। অভিনয় অভিনয় নয়? জীবন জীবন। কে বুঝবে, কাকে বোঝাব?’

    বাবার সারা শরীর ঠক-ঠক করে কাঁপছে। বিরাজকাকু বাবার কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘ঋভু, তোকে আমরা বুঝতে পারিনি রে। তুই যে কত বড়ো, কালই তার বিচার করবে। চল চল। গাড়িটা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে।’

    ৫

    হাসপাতালে গিয়ে বুঝলাম বাবা এখনও কী ভীষণ জনপ্রিয়। সমস্ত কর্মচারী, ডাক্তার, নার্স সবাই ছুটে এসেছেন। এমন কী রুগিরাও বিছানায় উঠে বসেছেন। স্টেজে বাবার একটা আলাদা নাম আছে। সারা শহরে মাঝে মাঝে যখন পোস্টার পড়ে তখন সেই নাম দেখা যায়। নামের আগে একটা উপাধি থাকে—নটনারায়ণ চন্দ্রকুমার।

    ডাকসাইটে অভিনেতার চালচলনই আলাদা! কখন মনকে গুটিয়ে রাখতে হয়, কখন ছড়িয়ে দিতে হয়, সবই যেন হাতের মুঠোয়। বাবা সোজা এগিয়ে চললেন দু-সার বেড়ার ফাঁক দিয়ে আমরা পেছনে পেছনে। এখন যেন আমার বেশ গর্ব লাগছে। যার বাবার এত সম্মান তার গর্ব একটু হবে না? হাসপাতালের কেউই জানে না মার কীভাবে লেগেছে। শুধু জানে সাধারণ ঘরের এক মহিলা হাসপাতালে এসেছে। পয়সার তেমন জোর নেই তার, ফ্রি বেডে রয়েছে। পেয়িং বেড বা কেবিনে থাকতে পারে নি। এইটুকুই যা লজ্জার। এত বড়ো একজন অভিনেতার স্ত্রী, তার তো কেবিনেই থাকা উচিত।

    আমি জানতাম না, বাবা শুধু স্টেজেরই বিখ্যাত অভিনেতা নন, জীবনেও কতবড়ো অভিনেতা! জীবন আর অভিনয় যেন এক করে ফেলেছেন। মায়ের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে চারপাশ একবার ভালো করে দেখে নিলেন। বাবার চারপাশে আমরা থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছি। মায়ের অবস্থা আগের চেয়ে ভাল। বিছানার পাশ থেকে সেই স্ট্যাণ্ড বোতল সব চলে গেছে। ও সবের এখন আর প্রয়োজন নেই। মায়ের মাথার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সেই ভীষণ খিটখিটে সিস্টার। নরম একটা হাত মায়ের কপালে। বাবাকে দেখে মায়ের কপালে আদর ঢেলে দিচ্ছেন। বাবার প্রতি অনুরাগ তাঁকে মিষ্টি করে তুলেছে। কিছু দূরেই হাসি হাসি মুখে ডাক্তারবাবু। গলায় স্টেথিসকোপ। এই প্রথম হাসপাতালের ডাক্তারবাবুকে হাসতে দেখলাম।

    বাবা বললেন, ‘এ কী? এ তুমি কী করেছ বিরাজ! একটা কেবিনের ব্যবস্থা করতে পার নি? এই ভাবে ফেলে রেখেছ এখানে? ডক্টর, কেবিন নেই?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ আছে। আপনি চাইলে না থাকলেও আছে।’

    ‘প্লিজ, আপনি এখুনি আমার স্ত্রীকে একটা কেবিনে সরিয়ে দিন। শী ইজ মাই ইনসপিরেশন। আমার যা কিছু সব ওরই জন্যে।’

    বাবা কথা ক-টা বলেই মায়ের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে সামান্য হেলে গিয়ে মায়ের একটা হাত নিজের হাতে তুলে নিলেন। দু হাতের মুঠোয় মায়ের হাত। বাবা ঘাড় ঘুরিয়ে মিষ্টি হেসে ধীরে ধীরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেমন আছ তুমি?’

    সত্যি বলছি, আমি এইসব দেখছিলাম একটু দূর থেকে, দেখে মনে হচ্ছিল, আমি কোনো নাটকের হাসপাতাল দৃশ্যে নায়ক-নায়িকার অভিনয় দেখছি। জানি না, কোনটা ঠিক, কোনটা বেঠিক! বিরাজকাকু বলেছিলেন, তোর বাবা জীবন আর অভিনয়কে এক করে ফেলেছে। তাই হয়তো হবে। ডাক্তার বললেন, ‘সিস্টার, তাহলে ইমিডিয়েটলি রুগিকে কেবিন নাম্বার সিকসে ট্র্যান্সফার করার ব্যবস্থা করুন। আমি স্যারকে বলে পারমিশান করিয়ে আনছি।’

    বাবা একহাতে মায়ের একটা হাত ধরেছেন, আর একটা হাত মায়ের গালে। বিছানার পাশে কোনোরকমে পেছন ঠেকিয়ে বসেছেন। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি সেখান থেকে দু-জনের মুখ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। দু-জনে দু-জনের দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি বেশ বুঝতে পারছি বাবার দুটো চোখ ছলছল করছে। ভেতরটা কাঁদছে। কী জানি, এও অভিনয় কি না। যে জীবনে জীবন আর অভিনয় এক হয়ে গেছে সে জীবন কেমন যেন বিশ্বাস করা শক্ত। আর অবাক হয়ে এও দেখলুম মায়ের চোখেমুখে কোনো ঘৃণা নেই, অভিযোগ নেই, রাগ নেই, অভিমান নেই। মায়ের ভাসা ভাসা বড়ো বড়ো চোখ বেয়ে জল নেমে এসেছে মুক্তোর দানার মতো। আমি ভালোবাসার মুখ চিনি। মা যখন ভালবেসে আমার মুখের ওপর ঝুঁকে পড়েন সে মুখ তো তখন আমি দেখেছি। মা বাবার দিকে ঠিক সেই মুখে চেয়ে আছেন। আমি পড়েছি কখনো কখনো নীরবতা ভাষার চেয়ে বড়ো। আজ তা চোখে দেখলাম।

    শিখা কখন সরতে সরতে মায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ভয়ে ভয়ে বাবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে। মা যে কতখানি কার সে জানে না। মা হয়তো জানেন। ডান হাত বাড়িয়ে শিখার হাত ধরেছেন। বড়ো সুন্দর দৃশ্য। কোথায় লাগে নাটক! একদিকে বাবা, একদিকে মা আর একদিকে শিখা। এর নাম পরিবার। সুখী পরিবার কিনা বলতে পারব না। বিরাজকাকু একদিন বলেছিলেন, সুখ মানুষের মনে রে বিনু, বাইরে তার সন্ধান পাওয়া যায় না।

    বাবা ডাক্তারবাবুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কবে ছাড়বেন?’

    ‘দু-এক দিনের মধ্যেই।’

    বাবার মুখটা খুশিখুশি হয়ে উঠল। এও কী অভিনয়! হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। সত্য আর মিথ্যার ব্যবধান কোনো কোনো জীবনে বড়ো সঙ্কীর্ণ। আমার কী করার আছে! আমি এক দর্শক।

    ।। ৬।।

    আজ আমার মা বাড়ি ফিরে আসবেন। বাবা বাইরে গেছেন কয়েক দিনের জন্য। কল শো আছে উত্তরবঙ্গের কোনও এক শহরে। বিরাজকাকুই দায়িত্ব নিয়েছেন হাসপাতালের সব দেনা-পাওনা শোধ করে মাকে নিয়ে আসার। অনেক টাকা লাগবে। জানি না কে সেই টাকা দিচ্ছেন! বাবা না বিরাজকাকু?

    হাসপাতাল থেকে ফিরে দু-জনে সেদিন অনেক আলোচনা হয়েছে। সে আলোচনা থেকে ভবিষ্যতের কোনো চেহারা দেখেছি বলে মনে হয় না। সবই অনিশ্চিত। বাবা নাকি স্টেজ ছেড়ে যাত্রায় যাবেন। যাত্রায় এখন টাকা উড়ছে। ঐতিহাসিক আর পৌরাণিক পালা কলকাতার বাইরে এখনও নাকি বেশ জমে ওঠে। তা হয়তো হবে। আমি ওসব জানি না। তবে আমার যা মনে হচ্ছে, তা হলে একটা বড়োসড়ো বুদবুদ তৈরি হচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে ফাটল বলে। আমার কেবলই মনে হচ্ছে, একটা খারাপ কিছু ঘটবে। সাংঘাতিক একটা ঘটনার মুখোমুখি হতে চলেছি। আমরা সেই জাহাজের যাত্রী যার ক্যাপ্টেন কম্পাস পড়তে জানেন না। আমার বাবা যখনই কিছু বলেন সবই মনে হয় এক একটি নাটকের সংলাপ। বাবার সমস্ত পরিকল্পনাই রঙিন ফানুসের মতো আকাশে উঠেই হারিয়ে যায়।

    আমি সেই কবিতায় পড়েছিলুম, সে কবিতা বোধ হয় আমার বাবাকে দেখেই লেখা:

    কুশের ফুৎকারজাত বুদ্বুদের স্ফটিকমন্ডল

    বিচ্ছুরিত বর্ণচ্ছটা অন্তর্হিত হলে মহাকাশে

    সনির্বন্ধ শিশু যথা ডুবে যায় অশ্রুর অতলে

    বিশ্বের বৈচিত্র খোঁজে আপনার ভাবালু বিলাসে।

    আমি এখন কবিতায়, উপন্যাসে, নাটকে আমার বাবা আর মাকে খুঁজি। খুঁজি এর শেষ কোথায়? শেষ দৃশ্যের শেষ সংলাপ এক এক লেখকের কলমে এক একরকম।

    মা এলেন তাঁর ফেলে যাওয়া সংসারে। মাথার চুল রুক্ষ। চোখ দুটো অসম্ভব উজ্জ্বল। বয়েস হয়েছে তবু আমার মা কত সুন্দর! আমার মায়ের পাশে থিয়েটারের সেই জাহানারা মাসি কি দাঁড়াতে পারবেন! তবে কেন ওসব কথা মাঝে মাঝেই এ সংসারে ভেসে আসে! কারা রটায়! কাদের স্বার্থ আছে এর পেছনে?

    বিরাজকাকু বললেন, ‘নিজের সংসার বুঝে নাও। আমি আদুরীকে এনে কয়েকদিন এখানে রাখছি। দিন কতক তুমি কোনো কাজ করবে না। যা করার আদুরী করবে।’

    ‘আমি পারব। আমি ঠিক হয়ে গেছি।’

    ‘তুমি বেঠিক কবে ছিলে? তুমি সব পারবে তাও জানি। তবে সেই পারাটা এখনও অন্তত সপ্তাহখানেক বন্ধ রাখতে হবে!’

    মা বারান্দায় একটা গোল চেয়ারে বসে পড়লেন। সামনেই বড়ো রাস্তা লোকজন, গাড়ি, ঘোড়া, দোকানপাট। মা সেই দিকে তাকিয়ে বসে রইলেন। আমার হঠাৎ মনে হল, আমরা সবাই এক একটা শাজাহান। এই জীবন হল এক একটি দুর্গ। ঔরংজীব সেই ভাগ্য! শাজাহানদের জীবনের দুর্গে বন্দি করে রেখে সরে পড়েছে। আমাদের ইচ্ছে হল জাহানারা—তাকে সঙ্গী করে সারাদিন যত বিলাপ আর কান্না।

    আদুরী এসে গেছে। বিরাজকাকু কয়েকদিন এ বাড়িতেই থাকবেন। মনে একটা সুখ সুখ ভাব আনতে চাইছি, আসছে কই! সব ব্যাপারটাই এত অনিশ্চিত, সমুদ্রের বালিতে বালি দিয়েই ঘর তৈরির মতো। এই আছে এই নেই। কার টাকায় কার সংসার কে চালাচ্ছে।

    রাতে বিছানায় শুয়ে মা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোর বাবা কবে ফিরবে রে?’

    মায়ের মন থেকে সে রাতের লজ্জা আর অপমানের ভাবটা এখনও কাটেনি। ছেলে মেয়ের সামনে মা মাথা উঁচু করে থাকতে চান। সেই মাথা বাবা এমন করে নীচু করে দিয়ে গেছেন! কারুরই গৌরব বাড়েনি। বাইরের চোখে বাবা কত বড়ো! আমাদের চোখে আজ কত ছোটো। মা আর আমরা কোথায় কীভাবে দাঁড়িয়ে আছি, তা আজ খুবই স্পষ্ট।

    ‘কাল সকালেই তো আসার কথা আছে মা! শাজাহানের শেষ অভিনয় সামনের রবিবারে। পোস্টার পড়েছে শহরের দেয়ালে। চ্যারিটি শো।’

    বিরাজকাকু বারান্দায় বসে আছেন। সিগারেটের আগুন দেখা যাচ্ছে।

    মা বললেন, ‘শুয়ে পড়ো এইবার। সারাদিন অনেক খেটেছ।’

    বিরাজকাকু হঠাৎ গান গেয়ে উঠলেন, ‘সব মিছা কথা ভাবিতে যে ব্যথা, বড়ো লাগে প্রভু পরাণে। কেন বঞ্চিত হব চরণে।’

    কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। স্বপ্ন দেখছি, বিশাল এক ফাঁকা মাঠ। কেউ কোথাও নেই। একটা জল-টলটলে দিঘি। চারপাশে লম্বা লম্বা ঘাস। দূর থেকে হেঁটে আসছি। একটা ঝাঁকড়া গাছ। গোটা কতক ডাল নুয়ে পড়েছে জলের দিকে। গাছের ডালে ডালে জরি বসানো রেশমের পোশাক ঝুলছে। রাজার পোশাক। ঝলমল করছে রোদের আলোয়। গাছের তলায় পড়ে আছে একটা মুকুট। দুপাটি জরির কাজ করা নাগরা জুতো। একটা কোমরবন্ধনী পড়ে আছে সাপের মত এঁকেবেঁকে। আমি ভাবছি এসব কার পোশাক? দিঘির নিথর জলে একটা ঢেউ গোল থেকে গোলাকার হতে হতে তীরের দিকে চলে আসছে। কেউ যেন এইমাত্র ডুব দিয়েছেন। আমি অনেকক্ষণ জলের দিকে তাকিয়ে রইলাম। একটা মানুষ কতক্ষণ ডুবে থাকতে পারে! ঢেউ মিলিয়ে এল। দু-একটা ফড়িং উড়ছে জলের ওপর নেচে নেচে। কেউই উঠছে না দেখে ছাড়া পোশাকের দিকে তাকাতেই দুটো পরিচিত জিনিস চোখে পড়ল। এতক্ষণ দেখতে পাইনি। একটা লাল সিগারেটের প্যাকেট, একটা সাদা লাইটার। দুটোই খুব চেনা। বাবা এই সিগারেট খান। লাইটারটা জাহানারা মাসি বাবাকে জন্মদিনে উপহার দিয়েছিলেন। আমি চিৎকার করে ডাকলাম—বাবা! আমার ডাক চাপা পড়ে গেল। দূরে মাঠের কিনারা দিয়ে একটা রেল চলেছে গুমগুম শব্দ করে বাঁশি বাজাতে বাজাতে। আর ঠিক তখনই কোথা থেকে একটা ঝোড়ো বাতাস উঠল। গাছের ডাল থেকে পোশাকগুলো একে একে উড়ে গিয়ে জলে পড়ে ভাসতে লাগল। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে আবার ডাকলাম—বাবা!

    ঘুমটা ছাঁত করে ভেঙে গেল। সকাল হয়ে গেছে। বেশ সকাল। এখনও কারোর ঘুম ভাঙেনি। মা শুয়ে, পাশে শিখা। মেঝেতে আদুরী। ওপাশের ঘরে বিরাজকাকু। আমি দরজা খুলে বারান্দায় এসে দাঁড়ালুম। আকাশে সামান্য ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ। শরৎ এসে গেছে। মনে হল নীচের রাস্তায় অনেক লোক। আমাকে দেখতে পেয়ে কে একজন বলে উঠলেন—‘এই যে, ওই যে!’

    আমি অবাক হয়ে রাস্তার দিকে তাকালাম। বেশ কিছু মানুষ। কারুর বগলে ভাঁজ করা বাজারের ব্যাগ। কারুর হাতে খালি দুধের বোতল। আমাকে তাকাতে দেখে একজন প্রশ্ন করলেন, ‘কোনও খবর পেলে?’

    ‘কী খবর?’

    ‘কখন আসছেন?’

    ‘কে আসছেন?’ আমি খুবই অবাক হয়ে গেছি।

    ‘কেন তোমরা শোনোনি! ভোরের খবরে রেডিয়োতে বলেছে তো!’

    ‘কী বলেছে?’

    জনতা স্তব্ধ হয়ে গেছে। বিরাজকাকু আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, রেলিঙে কনুইয়ের ভর রেখে। বিরাজকাকু জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী খবর? আমরা তো শুনি নি!’

    সকলেই তখন সমন্বয়ে বলে উঠলেন, ‘প্রখ্যাত নট চন্দ্রকুমার ও চন্দ্রকুমারী দার্জিলিঙের কাছে পথ দুর্ঘটনায় নিহত। আমরা গভীর বেদনার সঙ্গে জানাচ্ছি…।’

    আর কোনো কথাই আমার কানে এল না। খুব একটা দুঃখ নয়, কেমন একটা বিস্ময়ে মন ছেয়ে গেল। কী আশ্চর্য স্বপ্ন। কত স্পষ্ট! দিঘির জলে ঢেউ মিলিয়ে আসছে। রাজার পোশাক গাছের ডাল থেকে বাতাসে উড়ে উড়ে জলে পড়ছে। সাদা একটা সিগারেট লাইটার, লাল একটা সিগারেটের প্যাকেট। কানে ভেসে আসছে, মাঝরাতের স্তব্ধ প্রেক্ষাগৃহ থেকে বাবার কন্ঠস্বরে শাজাহানের সেই বিখ্যাত সংলাপ—

    চেয়ে দেখো এই সন্ধ্যাকালে ওই যমুনার দিকে, দেখো সে কী স্বচ্ছ! চেয়ে দেখো ওই আকাশের দিকে—দেখো সে কী গাঢ়! চেয়ে দেখো ওই কুঞ্জবনের দিকে—দেখো সে কী সুন্দর!

    আর চেয়ে দেখো ওই প্রস্তরীভূত প্রেমাশ্রু, ওই অনন্ত আক্ষেপের আপ্লুত বিয়োগের অমরকাহিনি।

    আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে। এখন দিন, তবু মনে হচ্ছে গভীর রাত। আমার কাঁদতে ইচ্ছে করছে না, বাবারই এক বন্ধু, এক গুণমুগ্ধের মতো বলতে ইচ্ছে করছে—

    হিরণ নদীর বিজন উপকূলে

    আচম্বিতে পথের অবসান,

    পরপারে নাম না-জানা গ্রাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃগয়া – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ফাঁস – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }