Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ৫০টি প্রেমের গল্প – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1125 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সন্ধানে কোনো ভাল ছেলে আছে?

    বিধু চায়ে চুমুক দিয়ে মুখটা বিকৃত করলেন। উলটো দিকের চেয়ারে বসেছিলেন তারক। বন্ধু তারক মুখোপাধ্যায়। বিধু তারকের বাল্যবন্ধু। কিছুদিন হল দু-জনেই চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। বিধুর মুখের দিকে তাকিয়ে বন্ধু তারক বললেন—কি হল হে!

    —নো চিনি। আর একটু দুধ হলেও মন্দ হত না। তেতো তেতো লাগছে।

    —দুধ একটু নিতে পার তবে নো মোর চিনি। এ বয়সে চিনি কম না খেলে চিনি হয়ে মরবে।

    —কিচ্ছু হবে না, তুমি হেঁকে একটু চিনি দিতে বলো। আমি চিনি একটু বেশি খাই।

    ঘরের ভেতরে যাবার দরজার দিকে তাকিয়ে তারক চিৎকার ছাড়লেন—একটু চিনি দিয়ে যাও। একটু চিনি।

    বিধুর সামনে খবরের কাগজ। তারক কাগজটাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে ঘাড় হেঁট করে দেখতে লাগলেন। চোখে চশমা নেই। কম দেখেন। নাকটা প্রায় কাগজে গিয়ে ঠেকেছে। খাড়া নাক। অসম্ভব খাড়া। ভ্রূর মাঝখান থেকে সোজা নেমে গেছে ঠোঁটের দিকে টিকোলো হয়ে। যৌবনে তারকের স্ত্রী মাঝেমধ্যে নাক নেড়ে আদর করে দিতেন। অন্ধকারে বলতেন—তুমি করবে কী, নাক নিয়েই তো নাকাল! তোমার নাকের খোঁচা খেতে খেতে জীবন গেল।

    সে বয়েস আর নেই। তবে নাকটা আছে। তারকের স্ত্রী এক চামচে চিনি হাতে মাথা দিয়ে পরদা ঠেলে ঘরে এলেন। পাকা পেয়ারার মতো গায়ের রং। পরনে সাদা তাঁতের শাড়ি। সামনের দিকে গোটাকতক চুল রুপোর সুতোর মতো চিকচিক করছে। শরীরটা একটু ভারী হয়েছে। তারক মাঝে মাঝে মুগ্ধ হয়ে বলেন—আহা মাতৃমূর্তি, সাক্ষাৎ জগজ্জননী। সুধা স্বামীর মুখে হাত চেপে ধরে ছি ছি করে ওঠেন—বলতে নেই, বলতে নেই, স্ত্রীকে মা বলতে নেই।

    তারক হাতচাপা মুখ দিয়েই শব্দ বের করেন—কিছুই জান না, স্ত্রী একাধারে সখী, বোন, মা। তোমার মধ্যে মাতৃভাব জ্বলজ্বল করছে। রোজ সকালে চন্ডীপাঠের ফলে নারীজাতিকে আমি মাতৃভাবে দেখতে শিখেছি।

    ডান হাতে চামচে, বাঁ হাতটা তলায় ধরা। চিনি পড়লে হাতে পড়বে। সুধা জিজ্ঞেস করলেন—চিনি কার?

    তারক কাগজ থেকে মুখ না তুলেই বললেন—বিধু। বিধু? একই সময়ে তারকের সঙ্গে বলে উঠলেন—আমার চায়ে, আমার চায়ে, আমার চায়ে। ওর তো ভেতরে সুগার, আমাকে বাইরে থেকে নিতে হয় ঠাকরান, চিনি হল এনার্জি।

    সুধা বিধুর কাপে চিনি গুলতে গুলতে বললেন—আজ কি যাওয়া হচ্ছে ঠাকুরপো?

    —অফকোর্স! কথা দেওয়া হয়েছে, না গেলে খারাপ হবে না?

    তারক খবরের কাগজের ওপর চোখ রেখে বললেন—না, কমার লক্ষণ দেখছি না।

    —কী কমার? বাজারদর? সুধা স্বামীকে প্রশ্ন করলেন।

    —ধরেছো ঠিক, তবে তোমার আলু কপি মাছ নয়। সোনা, সোনার দর।

    —সোনার দর নিয়ে তুমি মাথা ঘামাচ্চো কেন? সে তো ভাববে মেয়ের বাপ!

    —একেই বলে মেয়েদের বুদ্ধি! যত দাম বাড়তে ততই তো তোমার পাওনা কমবে গো!

    —তুমি কোনোদিনই লোভী শ্বশুর হতে পারবে না। তোমার উদার স্বভাব। তবে শ্বশুরই হতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে।

    তারক ভুরু কুঁচকে স্ত্রীর দিকে তাকালেন—তার মানে? তোমার এরকম সন্দেহের কারণ? হ্যাঁ ছেলে যদি বিয়ে করতে না চায়, অন্য কথা। আজকালকার ছেলে, মেয়ে ধরে জোর করে তো আর বিয়ে দেওয়া যাবে না!

    —না, তা নয়, তবে কোনো মেয়েই কি তোমার শেষ পর্যন্ত পছন্দ হবে?

    সুধা চলে যাচ্ছে, তারক হাঁ করে স্ত্রীর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন—শুনলে বিধু?

    —শুনলুম ভাই।

    —এরা কী ভাবে বলো তো? একমাত্র ছেলে। বারবার নয় একবারই পুত্রবধূ আনব। একটু দেখেশুনে আনতে হবে তো?

    —তা হবে, কিন্তু তুমি যেভাবে দেখছ, মাইক্রোসকোপ দিয়ে নতুন কোনো ব্যাকটিরিয়া দেখার মতো করে। ওভাবে দেখলে কোনো মেয়েই তোমার পছন্দ হবে না।

    —তোমাদের কী জান বিধু, তাড়াহুড়ো করে যা হোক একটা লাগিয়ে দিতে পারলেই হল। খুব খানিকটা হইহই, রইরই হল। খেয়ে ফেলে পেট ফুলে দিনকতক পড়ে রইল, এইবার ম্যাও সামলাক যার বিয়ে সে আর তার ফ্যামিলি।

    —এই নিয়ে গোটা সতেরো মেয়ে দেখলে। আজকেরটা হলে এইটিন কমপ্লিট হবে।

    —এইটিন কেন হান্ড্রেডও হতে পারে। তোমাদের বলেইছি—আমার একটা স্পেসিফিকেশান আছে। ভেরি সিম্পল স্পেসিফিকেশান আছে—শার্প নোজ, ধারালো নাক চাই, এরিয়্যান নোজ, অনার্য নাক চলবে না, গাত্রবর্ণ গৌর হওয়া চাই, মুখটি হবে প্রতিমার মতো, দেখলেই যেন ‘মা’ বলে ডেকে উঠতে ইচ্ছে করে, চোখ দুটো হবে টানা টানা সরল ইনোসেন্ট, অথচ গোরুর মতো নির্বোধ নয়, বুদ্ধিদীপ্ত, মাইসোর আইজ।

    —সেটা আবার কী? মাইসোরের চন্দন আর ধূপ শুনেছি। মাইসোরের চোখটা কী জিনিস!

    —মহীশূরের মেয়েদের চোখ দেখেছ, একেবারে খাঁটি পটলচেরা, এগজ্যাকট মা দুগগার মত। মুখটাই তো শরীরের সব, ফেসই হল মনের মিরার, মুখ দেখলেই মানুষের মন, স্বভাব চেনা যায়। সেই মুখটা একটু পছন্দ করে নিতে হবে না? একি ভাই তোমাদের বারোয়ারী পুজো! গোলেতালে যাহোক, মাহোক একটা প্রতিমা এনে প্যাণ্ডেলে বসিয়ে দিলেই হল! এ হল গিয়ে সারাজীবনের পার্টনারশিপ, শুধু তাই নয় ফিউচার জেনারেশন তৈরি হবে এদের দিয়ে। বাপ মা সুন্দর হলে ছেলে-মেয়েরা সুন্দর হবে। তারা সুন্দর হলে তাদের ছেলে-মেয়েরা সুন্দর হবে। বাঙালিদের ক্যাডাভ্যারাস চেহারাটা পালটানোর দায়িত্ব কাদের বিধু? নির্বিচারে যার তার সঙ্গে যার তার বিয়ে দিলে ফুটফুটে ছেলে-মেয়ে হবে? হবে না। তুমি কি ম্যাচ শব্দটা শোননি? আমাদের ম্যাচ মেকার্স হতে হবে।

    —তাই হও ভাই, তবে তুমি যা আরম্ভ করেচো, শেষ পর্যন্ত তোমার ছেলের বরাতে মেয়ে জুটলে হয়।

    —কিছু ভেব না, ধৈর্য থাকলে সবই হয়। পেডিগ্রি মিলিয়ে বিয়ে দিতে হবে। অ্যালসেশিয়ানের সঙ্গে তো আর লেড়ি মেলানো যায় না!

    —ঠিক হ্যায়, অ্যালসেশিয়ানের সঙ্গে অ্যালসেশিয়ানই মেলাও। আমি এখন উঠে পড়লুম। বেলা তিনটের সময় রেডি হয়ে থেকো।

    বিধু চলে গেলেন। ঠোঁটের কোণে একটু মুচকি হাসি। তারকের মা সুন্দরী ছিলেন। তারকের বউটিও সুন্দরী। দেখা যাক তারকের পুত্রবধূ কেমন হয়। সবই ভবিতব্য। কার বরাতে কী জুটবে, বরাতই জানে। মানুষ নিমিত্তমাত্র!

    তারক খেতে বসে স্ত্রীকে বললেন, বুঝলে বিধুটা হল ন্যাজকাটা শেয়াল!

    —তার মানে?

    —মানে ভেরি সিম্পল। ওর ছেলেটা তো ছটকে বেরিয়ে গিয়ে এক বিশালকায়া, হিড়িম্বাসদৃশা রমণীকে বিয়ে করে এনেছে, বিধু চাইছে আমার ঘাড়েও ওইরকম একটি চাপাতে।

    —তোমার যত তেড়াবেঁকা চিন্তা। বিধু ঠাকুরপো কখনোই তা ভাবছে না। তুমি মানুষকে বড়ো ছোটো কর। বিধু ঠাকুরপোর ছেলের বউ কী এমন খারাপ হয়েছে! মেয়েটি ডক্টরেট করেছে। ভালো গান গায়। গড়ন-পেটনও ভালো। রংটাই যা একটু চাপা।

    —মুখটা?

    —এমন কিছু খারাপ নয়। চলনসই। তেমনি ব্যবহারটি ভারি সুন্দর।

    —ওজন?

    —ওজন মানে? ও তুমি বলছ মোটা? ওকে মোটা বলে না। দোহারা চেহারা।

    —বিয়ের জল পড়ে গায়ে আর একটু সারবে, তখন পিপে। পিপাকৃতি। যাই বল আমার একটুও পছন্দ হয়নি।

    —যার বউ তার যখন পছন্দ হয়েছে তুমিই বা কে আর তোমার বিধু ঠাকুরপোই বা কে? যারা সংসার করবে তাদের মিলটাই বড়ো কথা।

    —আরে ধূর, প্রেম করা বিয়ে নাইনটিপারসেন্ট মেলে না। কয়েকটা বছর যেতে দাও, প্রেমের ফানুস ফ্যাট করে ফেটে যাবে।

    —তুমি অত অমঙ্গল চিন্তা কর কেন? মানুষের ভালোটা ভাবতে পার না?

    —এক্সপিরিয়েন্স! অভিজ্ঞতা! এসব দেখে শেখা। ভালো ভাবব কী করে বলতে পার?

    —কি হল, ভাত ফেলে রাখলে?

    —আর পারছি না। আজ আবার রেস্ট হবে না, একটু পরেই বেরোতে হবে। দেশের কী অবস্থা! একটা ভালো সর্বাঙ্গসুন্দর মেয়ে পাওয়া যায় না!

    —পাকপাড়ার মেয়েটিকে তুমি নিতে পারতে!

    —পাগল হয়েছ! তার চুলের অবস্থা দেখেচো? শ্যাম্পু করে করে ঝুলঝাড়ুর মতো হয়ে গেছে। টাক পড়ল বলে!

    —তোমাদের বংশে বড় রূপের বিচার। তোমার মাকে দেখেছি তো। মানুষের চেহারা তুলে বড্ড খোঁটা দিতেন। তুমি ত তাঁরই ছেলে। রূপ রূপ করেই গেলে।

    —ও কথা বোলো না। বিচার ছিল বলেই তোমাকে পেয়েছিলুম। আগেকার দিনে জমিদাররা কীরকম ছিলেন জান, দেখে দেখে সেরা সুন্দরীদের বউ করে আনতেন। জমিদারগিন্নী মন্দিরে গেছেন, কী গঙ্গায় স্নানে গেছেন, ফুটফুটে একটি মেয়ে চোখে পড়ল, অমনি মেয়ের মা কী দিদিমাকে কথাটা পেড়ে ফেলেলেন—মেয়েটিকে আমার চাই, মা।

    —তাহলে আমিও এইবার গঙ্গার চান ধরি। তারপর মেয়ে ধরতে না পারি কোনো পড়তি জমিদারের চোখে পড়ে যাই। শেষে তাঁর ভাঙা নাচ-ঘরে। জমিদারদের তো পরস্ত্রীর ওপর লোভ ছিল শুনেছি।

    তারক গন্ডূষ শেষ করে বউয়ের মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন—সে ভয়ের বয়েসটা তোমার আমার কাছেই কেটে গেছে। তোমার যৌবনে আমার কম দুশ্চিন্তা ছিল! সবচেয়ে ভয় পেতুম বিধুটাকে। ব্যাটার ডন বৈঠক মারা শরীর ছিল। কেবলই ভাবতুম বুকের ছাতি দেখিয়ে তোমাকে দুর্বল না করে ফেলে! এখন কারুরই আর তেমন ফায়ার নেই। আগুন নিবে ছাই পড়ে গেছে।

    আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তারক চুল ঠিক করছেন। এখনি বিধু আসবেন। সকালে সেই- রকমই কথা হয়েছে। সামনের দিকের চুলের গোড়ায় মৃদু মৃদু পাকা বেরিয়ে পড়েছে। প্রায় একমাস হয়ে গেল। এইবার একবার কলপ চালাতে হবে। আজকে হলেই ভালো হত, সময় পাওয়া গেল না। পাকা চুলে আত্মবিশ্বাস বড়ো খাটো হয়ে যায়। না:, বয়েসটাকে এখনও বেশ দাবিয়ে রাখা গেছে!

    সুধা জলের গেলাস হাতে ঘরে ঢুকে আয়নার সামনে স্বামীকে তন্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাড়া লাগালেন—মেয়েছেলেকেও হার মানালে। নাও নাও, খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে বিয়ে তোমার ছেলের নয়, নিজের।

    তারক আয়না দিয়ে সুধার দিকে তাকিয়ে বলেন—পহেলে দর্শনধারী পিছে গুণবিচারী। সারা জীবন সেলস-এ চাকরি করে সার বুঝেছি, চেহারা দিয়ে আগেই কিস্তি মাত, তারপর অন্য কথা!

    —তুমি কী মাল বেচতে যাচ্ছ! তুমি তো যাচ্ছ মেয়ে দেখতে।

    —যেখানেই যাই আমার তো একটা ইমেজ আছে গো।

    —নিশ্চয়ই আছে, তুমি যে আমাদের তারকচন্দ্র। দরজাগোড়ায় দাঁড়িয়ে বিধু উত্তর দিলেন।

    —ও এসে গেছো! এ কী হল?

    —কী আবার হল?

    —তোমার কাপড়ের সঙ্গে যে পাঞ্জাবির রং মিলল না!

    —কার মেলে ভাই? তুমি একটা লোক দেখাও যার পাঞ্জাবি আর কাপড় একইরকম সাদা!

    —আমাকেই দেখো। তারক কোঁচা ঝাড়তে ঝাড়তে বন্ধুর সামনে এসে দাঁড়ালেন।

    —নাও খুব হয়েছে, এখন চলো দুগগা বলে বেরিয়ে পড়ি।

    মেয়ে স্কুলের ছুটি হয়েছে। দুই বন্ধু সেজেগুজে রাস্তার এক পাশ দিয়ে গুটি গুটি বাসস্টপের দিকে এগিয়ে চলেছেন। রাশি রাশি মেয়ে নীল শাড়ি, সাদা ব্লাউজ পরে পিলপিল করে দু-পাশ দিয়ে এগিয়ে চলেছে। হাসি, গল্প, গায়ে ঢলে ঢলে পড়া। কিচির মিচির, পাল পাল মেয়ে। পেছন দিক থেকে আসা স্রোতে দুই বন্ধু প্রায় ভেসে চলেছে। রাস্তা কিছুটা হালকা হতে তারক বিধুকে আক্ষেপ করে বললেন—দেখেছ বিধু, বাঙালি মেয়েদের কী অবস্থা? একটারও ভালো নাক নেই। মুখের ওপর থ্যাবড়ানো বড়ির মতো অ্যাতোখানি জায়গা জুড়ে ভোঁতা মেরে পড়ে আছে। কোনটার গন্ডারের মতো, কোনোটার হিপোপোটেমাসের মতো, কোনোটার শূকরের মতো। একটাও পিচবোর্ডের মতো পাতলা খাড়া নাক চোখে পড়ল না।

    বিধু এতক্ষণ নিজেকে সামলাতেই ব্যস্ত ছিলেন। বন্ধুর মতো অত খুঁটিয়ে দেখার ইচ্ছে বা চেষ্টা কোনোটাই ছিল না। বিধু বললেন—তাই নাকি? তা হবে। তবে আমি যখন দেখি মুখটাই দেখি। শুধু নাকটাকে আলাদা করে দেখার অভ্যাস আমার কোনোকালেই ছিল না, আজও নেই। তবে তুমি দেখবে এদের সকলেরই বিয়ে হয়ে যাবে। দেখলে না সাইকেলধারী কত তরুণ এখনই কেমন বঁড়শি ঝুলিয়ে এই মৎস্যরাশির মধ্যে খেলে খেলে চলে গেল।

    —তা গেল। বাংলা প্রবাদও আছে, সব হাঁড়িরই সরা জোটে। আরে সেটা কী একটা কথা হল। মানুষের ফিচার বলে একটা জিনিস আছে। নাকেতেই মানুষের ইনটেলিজেন্স বোঝা যায়। ধারালো নাক জ্বলজ্বলে চোখ। লম্বা লম্বা হাতের আঙুল। তেলা গা। এসব হল লক্ষণ। বুদ্ধিমানের লক্ষণ, সুরুচির লক্ষণ, শিল্পীমনের লক্ষণ। ফ্রেনোলজি একটা সাবজেক্ট। এখন তো তোমার অঢেল সময়, একটু স্টাডি করো না।

    বিধু আর বকবক করতে রাজি নন। তারকের সঙ্গে চেহারার তর্ক আজ মাসখানেক ধরে লাগাতার চলেছে। আজ আবার কোথা থেকে এক সাবজেক্ট ধরে এনেছে ফ্রেনোলজি। এরপর নিয়ে আসবে অর্কেয়োলজি। তারপর আনবে ফিলোলজি, পলিয়েন্টোলজি, ইণ্ডোলজি। ছেলের বিয়ে দিতে গিয়ে সব লজিই আসবে। আসবে তো বাবা সেই একটাই লজি—সেকসোলজি। বিধু চুপ করে আছে দেখে তারক তাঁর জ্ঞানের ভান্ডার আরও একটু খুলতে চাইলেন। বাসস্টপ এখন মিনিটখানেকের পথ।

    —বুঝলে বিধু, মহিলাদের মধ্যেও অনেক রকম আছে। শুধু লম্বা চুল, সরু গলা আর ম্যামারি গ্ল্যাণ্ড দিয়েই মহিলা চেনা যায় না। ওর বাইরেও নানা লক্ষণ আছে। তান্ত্রিকরা এসব জানতেন, কে পদ্মিনী, কে শঙ্খিনী, কে হস্তিনী, কে ডাকিনী, কে যোগিনী। মেয়েছেলে নিয়ে কারবার অত সহজ নাকি! জীবনসঙ্গী নির্বাচন করতে হবে অনেক দেখেশুনে। সর্বসুলক্ষণা, লক্ষ্মীমন্ত। তবেই না ধূলামুঠি সোনামুঠি হবে।

    বিধু ঠেলেঠুলে তারককে একটা মিনিবাসে তুললেন। পেছনের আসনে দু-জনে পাশাপাশি। বাস হু-হু করে ছুটছে। বিধু পাঞ্জাবির পকেট থেকে নস্যির ডিবে বের করে বেশ জুতসই এক টান নিলেন। তারক বললেন—বিশ্রী!

    —বিশ্রী মানে! তোমার গায়ে পড়ল নাকি!

    —আরে না না, নস্যি না। ও তো তোমার ছাত্রজীবন থেকেই চলছে। অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তোমার নস্যি, ইদানীং আমার বউয়ের জর্দা। বিশ্রী হল ওইটা।

    তারক কোলের ওপর ফেলে রাখা হাতের আঙুলটা ছোট্ট করে তুলে সামনের আসনে বসে থাকা এক মহিলাকে দেখালেন। শরীরের ডান পাশটা পেছন দিক থেকে সামান্য চোখে পড়ছে।

    বিধু তাকিয়ে দেখেও বিশেষ কিছুই ধরতে পারলেন না! ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করলেন, কী বিশ্রী?

    —আরে কোমরটা দেখেছো? ওই কী একটা কোমরের ছিরি! তিন থাক চর্বি। কোনো কোনো টিকটিকির ন্যাজ ওইরকম হয়। কোমর নয় ত, ডেকরেটেড টিকটিকির ন্যাজ! বুঝলে বিধু, বেশিরভাগ বাঙালি মেয়ের এই অবস্থা! ল্যাক অফ একসারসাইজ, ওভার ইটিং, নূন স্লিপিং।

    ল্যাক অফ একসারসাইজ কথাটা বিধুর ভীষণ পছন্দ হল। এটা তার সাবজেক্ট। বিধু বললেন, প্রতিটি বাঙালি মেয়ের যোগাসন করা উচিত। ভুজঙ্গাসন, মৎস্যাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন, চন্দ্রাসন। দোবো না কী একটা ফ্রি প্রেসক্রিপশান ঝেড়ে। এক মাসে ওই ক্যাডাভ্যারাস কোমর হাতের মুঠোয় ডাঁটার মতো ধরা যাবে।

    —আসন? আমাদের পাড়ায় তুমি একটা কারখানা খোলো না।

    —কারখানা?

    —হ্যাঁ হ্যাঁ কারখানা। মেদ ছাঁটাই। কোল-কুঁজোদের সোজা করা। আজকালকার মেয়েদের লক্ষ করে দেখেছো? ধনুকের মতো সামনে বাঁকা। না:, তাকানো যায় না।

    —কী তাকানো যায় না?

    —ওই ভদ্রমহিলার দিকে।

    —নাই বা তাকালে। বাইরের দিকে চাও না।

    —আরে দূর, চোখ চলে যাচ্ছে যে ওই দিকে।

    —কিছু না। বুঝলে তারক, একমাস ভুজঙ্গাসনের সঙ্গে অর্ধচন্দ্রাসন পাঞ্চ করে করলে ওই কোমর আবার মেরামত হয়ে ধাতে এসে যাবে।

    —কে করাবে ভাই! ওর কত্তাটি তো ওই জিনিসেই রেলিশ করেন।

    —তারক ফোঁস করে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বাইরে তাকাবার চেষ্টা করলেন। শহর ছুটছে হু-হু করে পেছন দিকে।

    সালকের সমরেশবাবুর বাড়িটি বেশ প্রাচীন। ছাদের কার্নিসে বেশ নধর একটি বটগাছ! তারক বললেন—‘বেশ বনেদী বাড়ি হে। মনে হয় কালচারাল ফ্যামিলি।’

    ‘কী করে বুঝলে?’

    ‘দেখছো না দরজার সামনে কোনো মহিলা দাঁড়িয়ে পাড়ার উঠতি মস্তানদের সঙ্গে হ্যাঁ হ্যাঁ করে গুলতানি করছে না। জানালার গবাটে ঠ্যাং তুলে কেউ বসে নেই। বারান্দায় ক্যাটকেটে লাল কোনো অন্তর্বাস ঝুলছে না। বাড়িটা কেমন শান্ত। আমার মন বলছে সব ঘোরাঘুরি বোধহয় আজই শেষ হল।’

    ‘ঈশ্বর করুন যেন তাই হয়।’ বিধু দরজার কড়া নাড়লেন।

    তারক বললেন, ‘আহা, অত জোরে নয়, অত জোরে নয়, সংস্কৃতিবান লোকের মতো বেশ মিঠে করে তালে তালে ছাড়ো। আমরা তো গোয়ালা নই, পেয়াদাও নই।’

    ‘তা নই, তবে ছেলের বাপ তো। ভঙ্গিটা পুরুষালী হলে ক্ষতি কী?’

    দরজার সামনে একটি শিশু উদিত হল। সামনের একটা দাঁত ফোকলা। সেই ফাঁক দিয়ে জিভের ডগা উঁকি মারছে।

    ‘খোকা, সমরেশবাবু আছেন?’

    ‘নেই। বাবা মিত্তি কিনতে গেছেন।’

    তারক বন্ধুকে বললেন, ‘যুক্তাক্ষর উচ্চারণ করতে পারে না। বেশি বয়েসের সন্তান! ভদ্রলোক অবশ্যই কিঞ্চিৎ অংসযমী।’

    ‘তাতে তোমার কী?’

    ‘আমার কী? অসংযমী পুরুষের সন্তানও তো অসংযমী হবে! সংযমই তো মানুষের চরিত্রের বাঁধন। না:, সুবিধে হবে না। চলো সরে পড়ি।’

    ‘সেকী, এই তো বললে তোমার মন বলছে!’

    ‘আমার মন ভুল বলেছে। লেট আস গো ব্যাক।’

    ‘কী যে বল, ফিরে যাওয়াটা মোস্ট অভদ্রতা হবে। কাপুরুষের মতো কাজ হবে। বাড়িতে আর কেউ নেই খোকা?’

    ‘হ্যাঁ, শুভা আছে।’

    ‘শুভা কে?’

    ‘আমার দিদি।’

    বিধু বললেন, ‘মা কোথায়?’

    ছেলেটি হাত উলটে বললে, ‘মাম্মি নেই।’

    তারক বিধুর হাত ধরে এক টান মারলেন, ‘পালিয়ে চলো। ভালো চাও তো পালিয়ে এসো। সাংঘাতিক বাড়ি। দিদিকে নাম ধরে ডাকছে তার ওপর আবার মাম্মি। গোদের ওপর বিষফোঁড়া। আপস্টার্টের বাড়ি। কালচারে মিলবে না।’

    বিধু হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বললেন, ‘বড়ো বাড়াবাড়ি করে ফেলছ, তারক। অভদ্রতার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।’

    ‘মেয়ে দেখতে হয় তুমি দেখগে যাও আমি ওর মধ্যে নেই’, তারক চলে যাবার জন্যে ঘুরে দাঁড়াতেই মেয়ের বাবার মুখোমুখি। হৃষ্টপুষ্ট ভদ্রলোক। পরনে পাজামা পাঞ্জাবি। দু-হাতে বুকের কাছে ধরা গোটা কতক বড়ো ছোটো খাবারের বাক্স। ভদ্রলোক উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, ‘এসে গেছেন। চলুন চলুন ভেতরে চলুন।’

    বসার ঘরটি বেশ সাজানো। তারক বিধুর কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন, ‘ভীষণ লাউড। উগ্রপন্থী মনে হচ্ছে।’

    ‘এখন আর কোনো মন্তব্য নয়। ভেতরে গেছেন, এখুনি এসে পড়বেন। তুমি একটু শান্ত হয়ে বোসো।’

    অন্দরমহলে খুব একটা উত্তেজনা চলেছে। মেয়ের বাবার উচ্চ কন্ঠই পর্দাফুঁড়ে ঘরে আসছে। ‘আহা আহা, ওসব কাপ ডিশ হাটা হাটা। ওই সাদা সেটটা বের কর। উঁহু উঁহু, ও শাড়িটা নয় মা, বড্ড ক্যাটকেটে রং। ফিকে নীলটা পর। ও নীল রং সন্ধ্যেবেলা তেমন জমবে না। তাহলে ওই হালকা গোলাপীটা, হ্যাঁ হ্যাঁ।’

    তারক বন্ধুকে ফিসফিস করে বললেন, ‘না হে গলাটা একটু তেরির মতো হলেও রুচিসম্পন্ন ব্যক্তি। মানুষের বাইরেটা দেখে সব সময় বোঝা যায় না।’

    বিধু এক টিপ নস্যি নিয়ে মৃদু হেসে বললেন, ‘যাক দেরিতে হলেও জীবনের একটা সত্য তুমি আজ বুঝলে।’

    তারক কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, বলা হল না। গৃহস্বামী সশব্দে, সবেগে পরদা উড়িয়ে ঘরে ঢুকলেন, ‘অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখেছি, কিছু মনে করবেন না। একলা মানুষ। বড়ো বিপদে পড়ে গেছি। মেয়েটা কী শাড়ি পরবে তাও আমাকে বলে দিতে হবে।’

    বিধু জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেন আপনার স্ত্রী বুঝি এসব ব্যাপারে উদাসীন।’

    ‘স্ত্রী!’ ভদ্রলোকের মুখে করুণ হাসি। ‘বছর ছয়েক হল আমার স্ত্রী মারা গেছেন। আমাকে মহা ফাঁপরে ফেলে তিনি ফুস করে চলে গেলেন।’

    তারক উদ্বিগ্ন মুখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছিল?’

    ‘বিশেষ কিছু না, লিভারটা অকেজো হয়ে গিয়েছিল!’

    ‘হেরিডিটারি নাকি?’

    ‘না না, চানাচুর, চানাচুর আর চা এই খেয়ে খেয়ে লিভারটাকে শুকিয়ে ফেলেছে।’

    ‘আপনার মেয়ের লিভার কেমন?’

    ‘ওঃ, ভেরি সাউণ্ড। চেহারা দেখলেই বুঝতে পারবেন।’ ভদ্রলোক তড়াক করে লাফিয়ে উঠে দরজার পরদাটা দু-হাতে ধরে একপাশ করলেন। ট্রে হাতে একটি মেয়ে ঢুকল। ঝলমলে ম্যাকসি পায়ে পায়ে জড়িয়ে যাচ্ছে। তারক শশব্যস্ত হয়ে বললেন, ‘সামলে মা সামলে, এখুনি হুমড়ি খেয়ে পড়বে।’

    মেয়েটি চোখ বড়ো বড়ো করে বললে, ‘ও মা, পড়ে যাব কেন?’

    ভদ্রলোক পরদা ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘না না, আজকালকার মেয়েদের ওসব অভ্যাস আছে।’

    তারক গম্ভীর মুখে বললেন, ‘তা আছে।’

    বিধু তারকের হাতে আস্তে একটা চিমটি কেটে সঙ্কেত করলেন, ‘ব্যস ওই পর্যন্ত আর কোনো মন্তব্য নয়।’

    তারক বললেন, ‘মেয়েলি অভ্যাস।’

    ভদ্রলোক হেসে বললেন, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, মেয়েদের অভ্যাস। মেয়েরা হল জলের মতো, যে পাত্রে রাখবেন সেই পাত্রের আকৃতি নেবে।’

    তারক বললেন, ‘বাঁদরের মতো। অনুকরণ-প্রিয়।’

    ভদ্রলোক ঢোঁক গিললেন। পাত্রপক্ষ আর অফিসের বড়কর্তার কথায় প্রতিবাদ করলেই আখেরে পস্তাতে হয়। তারকের মন্তব্যে সায় দিলেন, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, এপিস হ্যাবিট।’

    হাতে হাতে চায়ের কাপ। প্লেটে নোনতা ডাঁই। তারক খালি কাপটা নামাতে নামাতে বললেন, ‘আর দেরি করে লাভ কী? আসল কাজটা এবার সেরে ফেলা যাক।’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ। চা খাওয়া হয়েছে, এইবার নিয়ে আসি।’ ভদ্রলোক ভেতরে চলে গেলেন। তারক খুঁতখুঁত গলায় বিধুকে বললেন, ‘মা-মরা মেয়েরা বড়ো অভিমানী হয়। আগে দেখি তারপর ভেবে দেখা যাবে।’

    বিধু উত্তরে শব্দ করে একটিপ নস্যি নিয়ে দেওয়াল ক্যালেণ্ডারের সিনারির দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন। ঘরের একপাশে চাদরঢাকা ডিভান। সেখানে একটা ভেলভেটের আসন পাতা। মেয়েটি প্রায় নি:শব্দে সেই নির্দিষ্ট স্থানে এসে বসল। লজ্জা নেই, জড়তা নেই, চাপা একটা নম্রতার ভাব। হাত তুলে নমস্কার করে দুই দর্শনার্থীর দিকে বেশ একটা ঘরোয়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মেয়ের বাবা হইহই করে উঠলেন, ‘হল না মা, হল না। প্রথমেই তোমার নম্বর কাটা গেল।’

    ‘কেন বাবা?’

    ‘সকাল থেকে বারবার বলে দিলুম পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করবে।’

    ‘ইস, ভুল হয়ে গেছে।’ মেয়েটি তাড়াতাড়ি উঠে এল হেঁট হয়ে একেবারে তারকের পায়ের কাছে। তারক খপ করে একটা হাত চেপে ধরলেন। গোল, নরম শীতল একটি হাত। আর তখনই তাঁর মনে হল, এ হাত পুত্রবধূর হাত। মনে মনে বললেন, ‘সিলেকটেড’। মুখে বললেন, ‘থাক থাক, মা। তোমাকে অত দীন হতে হবে না। তুমি পারবে।’

    মেয়েটি উঠে দাঁড়িয়েছে। দুই বন্ধুর সামানাসামনি। তারকের মন বলছে, হ্যাঁ, ঠিক এই রকমটিই চেয়েছিলুম। এমনি চুল এমনি মুখ চোখ এমনি স্বভাব, এমনি লাবণ্য। তারক হাত ছেড়ে দিয়েছেন, ‘যাও মা তোমার জায়গায় গিয়ে বোসো।’ মেয়েটি পেছন ফিরে এগিয়ে চলেছে। তারক মনে মনে বললেন, ‘আহা ঠিক এমনি চলন, এমনি গড়ন।’

    কিছুক্ষণের নিস্তব্ধতা। কারুর মুখেই কোনো কথা নেই। বিধু তারককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তেমার কিছু প্রশ্ন আছে?’

    ‘যৎসামান্য।’

    ‘তা হলে করে ফেল।’

    তারক একটু ইতস্তত করে বললেন, ‘সিনেমা দেখার নেশা আছে?’

    মেয়েটি মৃদু গলায় বললে, ‘নেশা নেই তবে মাঝেমধ্যে যাই।’

    ‘হিন্দি ভালো লাগে, না বাংলা ভালো লাগে, না ইংরেজি?’

    ‘হিন্দি আমি সহ্য করতে পারি না, ইংরেজির ডায়ালগ বুঝি না, মাঝেমধ্যে বাংলাতেই যাই।’

    ‘রেডিয়োর নেশা কেমন, বিবিধ ভারতী?’

    হাসি হাসি মুখ করে মেয়েটি বললে, ‘অল্পস্বল্প। সারা দিন বাড়িতে একা একা থাকি তো।’

    ‘তা বেশ! কিন্তু ধর কারুর যদি ক্ল্যাসিক্যাল গানের টেস্ট থাকে তাহলে কী এইরকম হবে, খেয়াল হচ্ছে তুমি অমনি ঝপ করে ঘুরিয়ে বিবিধতে নিয়ে এলে, সে অমনি তড়াক করে লাফিয়ে উঠে খেয়ালে নিয়ে এল, তুমি আবার বিবিধতে নিয়ে গেলে, সে আবার খেয়ালে নিয়ে এল। কোর্টে লাখখানেক ডিভোর্স কেস ঝুলছে, তার মধ্যে হাজারখানেক হল এই ক্লাসিক্যাল আর পপ টেস্টের ক্ল্যাশ।’

    ‘না, তা হবে না, ভালো ক্ল্যাসিক্যাল গান আমিও শুনতে ভালোবাসি তবে ওই ক্ল্যাসিকেলের নামে হ্যা হ্যা হলে কানে তুলো দিতে ইচ্ছে করে।’

    বিধু বললেন, ‘রাইট ইউ আর। অধিকাংশ খেয়ালই আজকাল অশ্রাব্য।’

    মেয়ের বাবা বললেন, ‘ও এক সময় নিজেই উচ্চাঙ্গ সংগীতের চর্চা করত। গলাটাও নেহাত খারাপ ছিল না। এখন সব ছেড়েছুড়ে দিয়েছে।’

    তারক বললেন, ‘ছাড়লে কেন?’

    ‘গান শিখতে গেলে চরিত্র ঠিক রাখার অসুবিধে হয়।’

    ‘অ্যাঁ, সে আবার কী কথা?’ তারক চমকে উঠলেন।

    মেয়ের বাবা হাসতে হাসতে বললেন, ‘লাইনটার মধ্যে একটু ইয়ে আছে, ওই সিনেমার হিরোয়িন হবার মতো ব্যাপার।’

    ‘আই সি, আই সি, লাইনটার মধ্যে লাইসেনসাস লোক ঢুকে পড়েছে আর কী!’

    বিধু বললেন, ‘ঠাকুর বলতেন না? বাড়িতে দু-ভাবে ঢোকা যায়, সদর দরজা দিয়ে, আবার পায়খানার দরজা দিয়েও ঢোকা যায়।’

    তারক বললেন, ‘তোমার রান্নাবান্না আসে মা? রেওয়াজ আছে?’

    ‘ওটা আমার ভালোই আসে। মা খুব ভালো রাঁধতেন। আমার ঠাকুমাও ভালো রাঁধতেন। আমি বিশ্বাস করি রান্না একটা আর্ট।’

    ‘ভেরি গুড। আহা মণিকাঞ্চন যোগ।’ তারক লাফিয়ে উঠলেন, ‘তার মানে তোমার মধ্যে রাঁধিয়ে জিনিস আছে। তোমার নামটি কী মা?’

    ‘শুভা।’

    তারক পকেট থেকে একখন্ড কাগজ বের করে, বড়ো অক্ষরে নামটা ইংরেজিতে লিখলেন। ঝটঝট করে কতকগুলো সংখ্যা তলায় তলায় বসালেন, এসের তলায় ১, ইউ-এর তলায় ৩, বি-র তলায় ২, এইচের তলায় ৮, এ-র তলায় ১। ইজ ইকোয়াল টু ১৫। পাঁচ আর একে ছয়। কাগজ খন্ড থেকে মুখ তুলে বললেন, ‘হবে। সুন্দর হবে। ফাসক্লাস হবে।’

    মেয়ের বাবা কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন ‘কী হিসেব করলেন?’

    ‘নিউমারোলজি। আমি যেমন নিউমারোলজি করি, আমার বন্ধুটি করে ফ্রেনোলজি। ও চেহারা দেখে ভাগ্য, স্বভাব, চরিত্র সব বলতে পারে।’

    ‘আপনি গণনা করে কী পেলেন?’

    ‘ভালো, খুব ভালো। আমার আর একটি প্রশ্ন মা, তুমি রোজ সকালে স্নান কর তো?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ, রোজ ভোরে।’

    ‘সর্দিকাশি কিরকম হয়?’

    ‘খুব একটা হয় না।’

    ‘টনসিল আছে?’

    ‘ছিল যখন গান করতুম, এখন আর নেই।’

    বিধু বললেন, ‘ওই মজাক, গান করলেই টনসিল পেছনে লাগে, ছাড়লেই টনসিলও গলার পথ ছেড়ে দেয়।’

    তারক বললেন, ‘আমার আর কোনো প্রশ্ন নেই। তুমি ভেতরে যেতে পার মা।’

    মেয়েটি চলে যেতেই তারকের খেয়াল হল হাতের লেখাটা তো দেখা হল না। মেয়ের বাবাকে বললেন, ‘আর একটু কষ্ট দোবো, দুচার লাইন বাংলা, দুচার লাইন ইংরেজি হাতের লেখা আমাকে এনে দিন। হ্যাঁ আর একটা প্রশ্নের উত্তর চাই, ধর্ম বিশ্বাস করে কি না?’

    বেরোতে বেরোতে বেশ রাত হয়ে গেল। ভরপেট খাওয়া হয়েছে। গাড়ি হাওড়া ব্রিজের ওপর উঠে পড়ছে। শীতটাও বেশ চেপে এসেছে। বিধু বললেন, ‘তা হলে শীত থাকতে থাকতেই লাগিয়ে দাও।’

    ‘হ্যাঁ তাই দোবো। শুভস্য শীঘ্রং। ভদ্রলোক তো ছেলে দেখতেই চাইলেন না। শুনলে তো, বললেন বিশ্বাস করে ঠকা ভালো, অবিশ্বাস করে জেতার চেয়ে।’

    ‘স্ত্রী নেই, বিশেষ কোনো আত্মীয়স্বজন আছে বলেও মনে হয় না। মেয়ে আর বাপ এই তো সংসার। ছেলে দেখাটা আবার মেয়েদের সাবজেক্ট, বুঝলে তো?’

    ‘ও সব চলবে না। ছেলে আমি দেখাবোই। দু পক্ষই বাজিয়ে নিক। পরে যেন কোন কথা না ওঠে।’

    ‘যাক ভাই, তোমার শেষ পর্যন্ত মেয়ে যে পছন্দ হয়েছে, ওঃ গুরুর কৃপা।’

    ‘ঠাকুর বলে গেছেন যার যেখানে কুটো বাঁধা! আমি সব লক্ষণটক্ষণ মিলিয়ে নিয়েছি, কম স্টাডি করতে হয়েছে!

    শ্যামাঙ্গী সুকেশী তনু লোমরাজি কান্তা।

    সুভুরু-সুশীলা কিংবা সুগতি সুদন্তা।।

    মধ্যক্ষীণা যদি হয় পঙ্কজ-নয়নী।

    কুলহীনা হইলেও বরেষ্ট-দায়িনী।।

    আবার খনাই বলছেন:

    কুদন্তা অথবা হয় অধিক ব্যাপিকা।

    পিঙ্গল-লোচনা অঙ্গষষ্ঠী সলোমিকা।।

    মধ্যপুষ্ট যদি হয় রাজার বালিকা!

    কুলে শ্রেষ্ঠা হইলেও অরিষ্ট-দায়িকা।।

    কেবল একটা জিনিস জানতে পারলুম না, অবশ্য পুরুষদের জানার কথাও নয়, মা বেঁচে থাকলে বলতে পারতেন, সেটা হল আদ্য ঋতুর বার।’

    ‘সেটা আবার কী?’

    ‘সেটা আবার কী!’ তারক বিরক্ত হলেন, ‘ঋতু হে ঋতু। ফার্টিলিটি। রবিতে বিধবা হয়, সোমে পতিব্রতা। মঙ্গলেতে বেশ্যা, বুধে সৌভাগ্যসংযুতা।।’

    বন্ধুকে আর বেশি ঘাঁটাতে সাহস হল না, বিধু কলকাতার আকাশে তারা দেখতে লাগলেন। হাওড়া পড়ে রইল ব্রিজের ওপারে।

    দূর থেকে নিজের বাড়িটা দেখে তারক বড়ো খুশি হলেন। আলো, পরদা, গ্রিল, লতানে গাছ। মিহি সেতারের শব্দ। এক হাতে বড়োবাজারের রাবড়ির হাঁড়ি। তারক বাড়ি ঢুকছেন যুদ্ধ জয় করে। বছরখানেক হল মেয়েই দেখছেন। দেখতে দেখতে আর বাতিল করতে করতে একসময় প্রায় হতাশই হয়ে পড়েছিলেন, বাংলায় ছেলের বউ পাবেন না বলেই মনে হয়েছিল।

    ‘নাও তোমার পুত্রবধূর অনারে মিষ্টিমুখ। সিলেকটেড। ফুল মার্কস। এক আধ নম্বর গ্রেস দেবারও দরকার হল না।’ তারক রাবড়ির হাঁড়িটা হাসি হাসি মুখে স্ত্রীর দিকে এগিয়ে দিলেন, ঢোকার মুখে লতানে গাছের পাতায়, গ্রিলে, আলোয় আলো-আঁধারি হয়ে আছে। সুধা মনে হয় হাঁড়ির মুখের বাঁধনটা তেমন লক্ষ করতে পারেন নি। তারকও ছেড়ে দিয়েছেন। পায়ের কাছে পড়ে হাঁড়িটা সশব্দে চুরমার হয়ে গেল।

    ‘একি করলে?’ তারক যেন প্রচন্ড ধাক্কা খেয়েছেন। ‘তুমি ধরনি?’

    সুধা বিব্রত, ‘ধরেছিলুম, কীভাবে যেন ফসকে গেল।’

    তারক বললেন, ‘টাকার কথা ভাবছি না। চল্লিশটা টাকা বড়ো কথা নয়। মনটা কেমন হয়ে গেল। কেমন যেন চমকে উঠলুম। একটা শুভ সংবাদ দিতে গেলুম, কেমন যেন সব খাপছাড়া হয়ে গেল।’

    ‘তুমি আর খুঁত খুঁত কোরো না। ভেতরে চলে এসো। আজ আবার হাওয়া ছেড়েছে।’

    পোষা বেড়ালটা ছুকচুক করে রাবড়ি চাটছে। তারক বললেন, ‘সামলাও। কেজিখানেক মালাই খেয়ে কলেরা হয়ে না মরে।’

    সুধা বেড়ালটাকে কোলে তুলে নিলেন। কোলের গরমে, ক্ষীরের লোভে বেড়ালটা ফুলে ফুটবল হয়ে রইল।

    তারকের মনে হল যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সে-বাড়ি আর নেই। আবহাওয়াটা কেমন যেন পালটে গেছে। সুধা আলমারির সামনে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। মুখটা যেন কেমন বদলে গেছে। ছেলের ঘরে সেতার বাজছে। তাও যেন কেমন মিইয়ে মিইয়ে। রাতের দিকে আলোগুলো কাঁপতেই থাকে, রোজই কাঁপে। আজ যেন পক্ষাঘাতের রোগীর মতো বড় বেশি কাঁপছে।

    ইজিচেয়ারে বসতে বসতে তারক সুধাকে বললেন—‘অ্যাসট্রেটা এনে আমার সামনে বসো।’

    ‘মেয়েটি বড়ো ভালো। দেখে ভীষণ মায়া হল। মেয়ের বাবা হাতে ধরে বললেন, মা-মরা মেয়ে, একটু ভালো পরিবারে দিতে চাই। মেয়েটিকে আপনি নিন। রূপ আছে, গুণ আছে, গান জানে, রাঁধতে জানে, স্মার্ট কিন্তু অসভ্য নয়। আমি বাপু নিয়ে ফেলেছি। তুমি হয়তো বলবে, আমরা দেখলাম না, তুমি আগেই কথা দিয়ে এলে। আমার টেস্ট তোমরা জান তাই সাহস করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। পরশু দিন তোমরা গিয়ে দেখে আসবে, আমি বলে এসেছি। আশীর্বাদ আর বিয়ের দিন আমি কালই পাঁজি দেখে পাকা করে আসব, এক মিনিটের ব্যাপার, পুরোহিতমশায়ের বাড়িতে সকালে চা খেয়ে আমি আর বিধু যাব।’

    সুধা আঁচল পাকাতে পাকাতে শুনছিলেন। তারক লক্ষ করছিলেন সুধা অন্যমনস্ক। ‘তোমার কী হয়েছে বলো তো? তোমাকে কেমন যেন অন্যমনা উদাস উদাস দেখছি।’

    ‘তোমাকে একটা কথা বলি, হয়তো খুবই আঘাত পাবে, তবুও বলতে হচ্ছে, তুমি আর অমিতের বিয়ের চেষ্টা কোরো না। ওর বিয়ে হয়ে গেছে।’

    ‘মানে?’ তারক সোজা হয়ে বসলেন, ‘তুমি বলছ কী, বিয়ে হয়ে গেছে মানে?’

    ‘হ্যাঁ, রেজিস্ট্রি ম্যারেজ।’

    ‘সে কী!’ তারক উত্তেজিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। ‘সে কী, কবে হল! কে বললে?’

    ‘আজই হয়েছে। অমিত আজই আমাকে বলেছে। তোমাকে সে আগেই বলতে চেয়েছিল, সাহস পায়নি। তার মতে নিজের বিয়ে নিজের মতে করাই ভালো। সেইটাই নাকি যুগের নিয়ম। তোমার অনুমতি পেলে বউ নিয়ে আসবে ঘরে।’

    তারক পায়চারি থামিয়ে বিস্ময় মেশানো গলায় বললেন, ‘এত দূর। বল কি? আমাদের সেই নিরীহ অমিত! হোল ফ্যামিলিকে সে পথে বসিয়ে দিলে। আমাদের প্রেসটিজ ধুলোয়! মেয়েটি কে? হু ইজ সি। কে সে? আমাদের চেয়ে অমিতের ওপর তার হোল্ড বেশি! সহপাঠী? একই অফিসে চাকরি করে? জান কিছু?’

    ‘তুমি উত্তেজিত হয়ো না। সে হল আমাদের বিধু ঠাকুরপোর মেয়ে।’

    তারক চিৎকার করে উঠলেন, ‘হোয়াট শয়তান। হি ইজ এ সেটান। কেমন মুখ বুজে আমার পিছু পিছু গেল। একবারও বললে না, তারক আমিই তোমার বেয়াই। রাসকেল।’

    সুধা বিব্রত। স্বামীকে সামলাবার জন্যে বললেন, ‘অমন করে চেঁচাচ্ছ কেন? চেঁচিয়ে কী হবে?’

    ‘চেঁচাবো না। বল কী? আমার কাছা খুলে দিলে। আমার গর্ব চুরমার করে দিলে। সিঁধ কেটে আমার ঘরে ঢুকে এল আমি বাপ হয়ে চুপ করে থাকব? আলবাত চেঁচাব। ডাকো অমিতকে। ডাকো সেই অকৃতজ্ঞ বিশ্বাসঘাতককে।’

    ‘কেন চিৎকার করছ! বিধু ঠাকুরপোও জানত না।’

    ‘বিশ্বাস করি না। ষড়যন্ত্র। ট্রেচারি।’

    তারক ঘর থেকে ছিটকে বেরিয়ে গেলেন। ‘অমিত, অমিত, যা শুনছি ঠিক?’

    সেতার নামিয়ে অমিত বাবার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। শান্ত গলায় বললে, ‘হ্যাঁ ঠিক।’

    ‘তুই আমাদের একবারও বললি না কেন? কেন এই বিলিতি বিয়ে?’

    ‘এখন হিন্দুমতে হতে আপত্তি হবে না।’

    ‘আই সি! আই সি! এর পেছনে পাকা মাথা আছে। আটঘাট বেঁধে কাজ! নাইস। ভেরি নাইস।’

    ‘এর পেছনে কেউ নেই, শুধু আমরাই আছি। আপনি যাঁকে সন্দেহ করছেন তাঁর কোনো ভূমিকাই নেই। তিনিও ব্যাপারটা আজই জানবেন।’

    তারক দরজার সামনে গুম হয়ে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। এই সেই অমিত। সুবোধ, বাধ্য ভালো ছাত্র, বিনয়ী। সেই অমিতের কাছে বাপমার চেয়ে বড়ো হয়ে দাঁড়াল সামান্য একটা মেয়ে! এইরকমই হয় নাকি? কই তাঁর জীবনে তো এমন ঘটনা ঘটেনি। এত সাহস তো তাঁর ছিল না। অভিভাবকদের তৈরি করে দেওয়া ভাগ্যকেই তো নিজের বলে মেনে নিয়েছেন! তাতে খারাপ তো কিছু হয়নি।

    নি:শব্দে তারক সরে এলেন। কোনো বক্তব্য নেই, কোনো মন্তব্য নেই। সংসারের কতৃত্ব হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে গেল। পরাজিত। সম্পূর্ণ পরাজিত।

    ঘুম আসছে না। ছটফট করছেন বিছানায়। শীত, তবু ঘামছেন। সুধা বললেন, ‘যুগ পালটাচ্ছে। অনেক কিছুই তোমাকে মেনে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ ভাবতে গেলে চলবে না। অনিশ্চিতের দিকে এগোতেই হবে। ভালও হতে পারে, খারাপও হতে পারে। ঘুমোবার চেষ্টা করো।’

    মেয়েরা সব জিনিসকেই যেভাবে সহজ করে নিতে পারেন ঠিক সেইভাবেই সুধা নিলেন। খুব একটা ক্ষোভ আছে বলে মনে হল না।

    অন্ধকারে চিত হয়ে শুয়ে কপালে একটা হাত রেখে তারক ভাবতেই লাগলেন যে ভাবনার কোনো কূল-কিনারা নেই। শেষে সিদ্ধান্তে এলেন, গুটোতে হবে, নিজেকে গুটোতে হবে। প্রায় পাকা কথা দিয়ে এসেছেন, মা-মরা সরল মেয়েটিকে তিনি নেবেন। এখন কেমন করে দু- লাইনের একটি চিঠিতে একটি পরিবারের হাসি নিশ্চিন্ততা তিনি এক ফুঁয়ে নিবিয়ে দেবেন। সম্ভব? তাহলে তো তিনি মেয়ে-দেখে-বেড়ানো জোচ্চোরে পরিণত হবেন! কী আর করা যায়! ঘুম আর জাগরণের মাঝামাঝি একটা জায়গা দিয়ে রাতটা কাটিয়ে দিলেন।

    সকাল। সেই ষাট বছরের পুরোনো পৃথিবী। যেমন ছিল তেমনি আছে। রাস্তার উল্টোদিকের কৃষ্ণচূড়া গাছটা কেবল মরে এসেছে। একটা ডালই সজীব। গুটি গুটি পাতা ছাড়ছে। পাখি সেই একই গান গাইছে। আকাশ সেই একইরকম নীল। সেই একইরকম পরিবেশের ঘুম ভাঙার শব্দ। সব একইরকম গতানুগতিক। কেবল তারক অন্যরকম। অনেক চেষ্টা করেও সেই হাসিখুশি মনটা আর খুঁজে পেলেন না। মনে হল অভ্যাসেই বেঁচে আছেন।

    সুধা লক্ষ করলেন চেয়ারে বসে থাকা যে মানুষটিকে তিনি চা দিয়ে এলেন সে এক অন্য মানুষ। তারক দেখলেন এতদিনে তিনি যেন স্বপ্নে ছিলেন ঘুমভাঙা চোখে সব কিছুরই যেন বড়ো চড়া রং, বড়ো ক্যাটক্যাটে। বাজারের পথে হঠাৎ বিধুর সঙ্গেই প্রথম দেখা। বিধু মুখ নীচু করে পালাতে চাইছিলেন বলেই তারকের ধারণা। তারক গলা চড়িয়ে ডাকলেন, ‘এই যে বেয়াইমশাই।’

    বিধু বিব্রত। তারক কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘বন্ধু থেকে বেয়াই। কেমন নতুন নতুন লাগছে, তাই না!’

    বিধু বললেন, ‘বিশ্বাস করো, আমি কিছুই জানতুম না ভাই। সত্যি জানতুম না। তুমি ভাববে আমিই আমার মেয়েকে লেলিয়ে দিয়েছি, তা কিন্তু নয়।’

    ‘জানি জানি। লেলিয়ে দিতে হয় না। ওরা নিজেরাই লেলে যায়। কা তব কান্তা কস্তে পুত্র, সংসারোহুয়মতীব বিচিত্র।’

    বিধু তারকের ভাবালু উদাস মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সব কিছুই হল, নিজের মেয়ে, নিজের মুখে বলা ঠিক নয়—গুণ আছে, মুখরা নয়, লেখাপড়া জানে কেবল নাকটাই যা ভোঁতা মতো, তেমন শার্প নয়, মুখ দেখলে মনে হবে বোকা বোকা কিন্তু বোকা নয়।’

    তারক শান্ত গলায় বললেন, ‘ভেবো না, ভেবো না, সব যখন ছাড়তে পেরেছি, নাকটাও ছাড়তে পারব। বুঝলে বেয়াই, সেদিন বাসে জানালার ধারে বসে বসে দেখলুম, স্ট্যাণ্ডে এক মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন তের চোদ্দো বছরের একটি মেয়ের হাত ধরে। মহিলার নাকটা কপালের কাছ থেকে কে যেন কর্নিক দিয়ে চেঁচে নামিয়ে দিয়েছে। তার ফল কী হয়েছে জান, ওর মেয়ের নাকটা হয়েছে নিখুঁত সুন্দর। আমার বিশ্বাস বাপের নাক যদি খাঁড়ার মতো হয় আর মার নাক যদি হয় চিনেম্যানের মতো কম্বিনেশানের রেজাল্ট একটি বাঁশি।’

    তারক হাসতে থাকলেন। বিধুর মনে হল সে-হাসি নয় একটু অস্বাভাবিক। তারক হাসি থামিয়ে নীচু গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা, তোমার সন্ধানে কোনো ভাল ছেলে আছে?’

    ‘ছেলে!’

    ‘হ্যাঁ গো ছেলে। আমার একটি মা-মরা মেয়ে আছে। যদি থাকে আমাকে দু-চার দিনের মধ্যে জানিও। আমি বড়ো দুশ্চিন্তায় আছি।’

    বিধুর বিস্মিত দৃষ্টির সামনে দিয়ে তারক হনহন করে মিলিয়ে গেলেন।

    ‘আপনার সন্ধানে কোনো ভালো ছেলে আছে? না না মেয়ে নয়, একটি ভালো ছেলে, আমার একটি মেয়ে আছে—মাতৃহীনা, বিষণ্ণ, করুণ! সন্ধানে কোনো ভালো ছেলে আছে?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃগয়া – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ফাঁস – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }