Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ৫০টি প্রেমের গল্প – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1125 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দ্বিতীয় পক্ষ

    আমার প্রথম পক্ষের বউটি ছিল বড়ো সাদাসিধে। টাটকা পাঁউরুটির মতো নরম তুলতুলে। ফোলা ফোলা গাল। কাঁচের মতো চোখ। বড়ো বড়ো চোখের পাতা। ফর্সা ধবধবে রং। খুব নীচু গলায় কথা বলত। ধীর চলন। ধীর বলন। সবাই বলত, আহা, মা লক্ষ্মী যেন পট ছেড়ে নেমে এসেছে। শোভনের কি ভাগ্য! এ যেন বানরের গলায় মুক্তোর মালা। আমি ঠিক বানর নই, তবে গো-হাড়গিলের সঙ্গে কিছুটা মিল আছে। আয়নার সামনে দাঁড়ালে মনটা কেমন কেমন করে ওঠে। এই যদি মানবের চেহারা হয় দানব কাকে বলে। এতখানি একটা বুকের ছাতি। এক ইঞ্চিও খালি নেই, সর্বত্র কুঁচি কুঁচি লোম। মুখটা কেমন চোয়াড়ে মার্কা। এমন একটা অকাব্যিক চেহারা খুব কম দেখা যায়। হাসলে মূলোর মত দাঁত বেরিয়ে পড়ে। চোখের দৃষ্টি যেন, আবার খাব সন্দেশ। সব সময়েই ঘোলাটে লাল। নেশা ভাঙ না করেই এই অবস্থা, করলে কী হত!

    আমার দোষ নেই। আমার যখন যৌবন আসছে, বয়সা লেগে গলা ভারি, ঠোঁটের ওপর কচি গোঁফের রেখা, সেই সময়ে এক ব্যায়াম-বীরের পাল্লায় পড়ে মিস্টার ইণ্ডিয়া হবার ইচ্ছে হয়েছিল। সেই সময় আমি ডেলি এক-শো ডন, দু-শো বৈঠক মারতুম। ডাম্বেল, বারবেল, প্যারালালবার, রোমান রিং নিয়েও কস্তাকস্তি চলত। শরীরের যেখানে যত মাংসপেশী ঘুমিয়ে ছিল সব ঠেলেঠুলে উঠে পড়ল। নিজেই অবাক, মানুষের এত সব থাকে! বেশ মজা লাগত। নেশাও ধরে গিয়েছিল। রোমান রিং করতে গিয়ে চোয়াল ভেঙে যাচ্ছিল, সে খেয়াল ছিল না। দেখতে দেখতে একটা হেঁড়ে মতো লোক হয়ে গেলুম। হাতুড়ি পেটানো চেহারা।

    শরীর যখন সেট করে গেল তখন আমার ব্যায়াম-গুরু বললেন, হলো বটে, তবে কী জান গরিবের যা হয়, ঘি, দুধ, মাখন, ডিম, ছানা তো তেমন পড়ল না; তার ফলে শরীরটা একটু পাকতেড়ে হয়ে গেল। খুব ইচ্ছে সিনেমার হিরো হব, হল না। আমার দোষ নয়। দোষ বাংলা ছবির চলনের। মেয়ে-মেয়ে চেহারা না হলে হিরো হওয়া যায় না। গাছের ডাল ধরে বাঁকা শ্যাম হয়ে দাঁড়াতে হবে আর পেঁয়াজ খোসা শাড়ি পরে নায়িকা বেসুরো গান গাইবে—তুমি আমার আমি তোমার, হে রে রে রে করে একবার এ গাছের ডাল ধরে কেতরাতে কেতরাতে ও-গাছ, সে-গাছের ডাল ছুঁয়ে ছুঁয়ে আদিখ্যেতা করবে। বেশি ছোটাছোটি করতে পারবে না, কারণ কোমরে বাত। হেঁপো নায়ক বেতো নায়িকা। শুকনো গাছের ডাল। ফুচকে ডিরেক্টার। এক ডিরেক্টার বললে, এ দেশে যখন র‌্যাম্বো হবে তখন তোমার মতো ঘোড়ার দরকার হবে। এখন ডন বৈঠক চালিয়ে যাও। এখনকার স্ক্রিনে ওই চেহারা গান গাইছে দেখলে অডিয়েন্স মূর্ছা যাবে। উত্তমকুমারের যুগ ভাই, এখানে খাপ খুলতে এস না।

    মনের দুঃখে ঘুরে বেড়াই। না হল সিনেমা, না হল প্রেম। ডিরেক্টারদের কত বোঝালুম, মশাই, যে কোনো ওজনের নায়িকাকে আমি ঝাড়া তিন ঘণ্টা পায়ের তলায় আর মাথার তলায় হাতদিয়ে তুলে পাঁজাকোলা করে রাখতে পারি। ট্রায়াল দিয়ে দেখুন। এ হল বারবেল ভাঁজা হাত। অন্য যে কোনো নায়ক পারবেই না। হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে। আমি ওয়েট-লিফটার। ডিরেকটার বললেন, তোমার অ্যাপ্রোচে ভুল হচ্ছে। নায়িকারা বারবেল নয়। সিনেমা ব্যায়ামাগার নয়। আমাদের সিনেমায় দুটোই সাবজেক্ট, প্রেম আর ব্যর্থ প্রেম। এর বাইরে কেরামতি করতে গেলেই ফ্লপ। ছোটোখাটো দু একটা প্রেম করতে গেলুম। বাবা, সেখানে যা কম্পিটিশান! চাকরির বাজারকেও হার মানায়। একটা পোস্ট, এক হাজার অ্যাপ্লিক্যান্ট। শেষে একটা কারখানা করে ফেললুম। আমার ওই লোহালক্কড় আর নাট বল্টুই ভালো। প্রাণ খুলে ঘষা যায়। টাইট দেওয়া যায়। গ্রূপ কাটা যায়। আর আমার ব্যায়াম-গুরুর রয়্যাল এনফিল্ড মোটর বাইকটা কিনে নিলুম। ব্যাপারটা বেশ জমে গেল। বাংলা ছবিতে নায়িকা তুলে আমার ক-পয়সা হত! যা হত তাও আবার ট্যাক্সে যেত। মালে উড়ত। এ তবু লোহা তুলে দুটো পয়সার মুখ দেখলুম। বাড়ি হল। ভুরভুরে একটা সেকেণ্ড হ্যাণ্ড গাড়ি হল। গাড়িটা মোটর সাইকেলের মতো শব্দ করলেও চলে। ধমকাতে ধমকাতে চলে। মাঝে মাঝে গা-ঝাড়া দেয়। একবার এক সায়েব আমার গাড়ি চেপে বলেছিলেন, ভেরি ইন্টারেস্টিং। এর একটা নিজস্ব ক্যারেকটার আছে।

    চেহারার গরমের সঙ্গে টাকার গরম। ডবল গরমে ব্যাপারটা কেমন যেন হয়ে গেল। আমাদের ফ্যামিলিটা চিরকালই একটু গোঁয়ারগোবিন্দ টাইপ। আমার বাবার এমন গোঁ ছিল যে সবাই বলত রাইনোসেরাস অফ নর্থ ক্যালকাটা। আমার মা আবার ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের জেলার মেয়ে। যেমন রাগী তেমনি গম্ভীর। ফলে আমার মেজাজও সেইরকম হয়েছে। আমি আমার মা দু-জনে মিলে আমার সেই প্রথম পক্ষের তুলতুলে বউটাকে ধামসে ধামসে শেষ করে দিলুম। বেড়ালের যা স্বভাব, নরম মাটি দেখলেই আঁচড়াবে।

    বাবা চলে যাবার পর মা একটু আয়েসী হয়ে পড়েছিল। তা ছাড়া যারা একটু ধর্মকর্ম নিয়ে থাকে তারা নিষ্ঠুর হয়। হতেই হবে। সারা দিন মালা জপ করতে করতে মন ইষ্টমুখী। ইষ্ট ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসা অন্যায়। ধার্মিকরা মানুষকে সেবাপরায়ণ হতে বলেন। আমার প্রথম পক্ষের বউ সেবা করে করে, সেবা করে করে কাহিল হয়ে পড়ল। আর আদর্শ স্বামী হল ওভারসিয়ারের মতো। তার কাজ হল বউ সংসারে কাজ করছে কি না দেখা। পান থেকে চুন খসলেই হম্বিতম্বি করা। ছড়ি ঘোরানো। আমার মতো একটা স্বামী তো আর স্ত্রৈণ হতে পারে না। মাঝেমধ্যে হাতটাতও চালিয়ে দিতুম। ফোঁসফোঁস করে কাঁদত। বড়ো বড়ো চোখের পাতা জলে ভিজে বেশ দেখাত। সে আর এক বিউটি। সকলে আমার প্রশংসাই করত। সবাই বলত, এ দেখি রাম-ভক্ত হনুমান নয়, মা-ভক্ত ভোম্বল। আমার ডাকনাম ভোম্বল।

    আমরা তাকে সেবাপরায়ণা, সহনশীলা, সতীসাধ্বী করতে চেয়েছিলাম। একথা তো ঠিক, সংসারের কড়ায় বেশ করে ভাজা ভাজা করতে না পারলে মেয়েরা খোলতাই হয় না। মানুষও তো চামড়া। কাঁচা চামড়াকে কষা হরীতকীর জলে অষ্টপ্রহর ভিজিয়ে রেখে পাকা করতে হয়। তা করব কী? সে মরেই গেল। আমার খুব দুঃখ হল। মা বললে, ছেলেদের অত নরম হলে চলে না। সবাই কি আর সব কিছু নিতে পারে? পারে না। পরীক্ষায় ফেল করেছে। হেরে গেছে। আত্মহত্যা করেছে। দেখিস নি অনেক নতুন কাপড় এক ধোপেই ছিঁড়ে যায়! আমরা তখন বলি, ধোপে টিকল না!

    সত্যি আমার মা সিদ্ধিলাভ করেছে। তা না হলে এমন সুন্দর সুন্দর কথা বেরোয়! ঠাকুর রামকৃষ্ণের মতো। মায়ের কথায় ভেতরটা ঠাণ্ডা হয়ে গেল। আরে আমার বন্ধু বিভাসের কী হল? ইণ্ডিয়ান নেভিতে চাকরি পেয়ে চলে গেল। এক মাসের মধ্যে ন্যাড়া মাথা হয়ে ফিরে এল। আমরা বললুম, এ কী রে! বিভাস বললে, ভাই, প্রথমেই তো চুল কদমছাঁট করে দিলে। তারপর সে কী ট্রেনিং রে ভাই! মাস্তুল বেয়ে ওঠো মাস্তুল বেয়ে নামো। দড়ি ধরে ঝুলতে ঝুলতে এ জাহাজ থেকে ও জাহাজে যাও। একটা জাহাজের গোটা ডেক জল আর বুরুশ দিয়ে ঘষে ঘষে ধোও। সে যে কী কান্ড রে ভাই! পালিয়ে এসেছি। তা পালাব বললেই কী পালানো যায়। বিভাসকে আবার পাকড়াও করে নিয়ে গেল। তারপর কী হল জানি না! বিভাস পালিয়ে এসেছিল আই. এন. এস বিক্রম থেকে। আমার বউ পালালো আমাদের বিক্রম থেকে।

    আজকাল বাড়ি যেমন খালি পড়ে থাকে না, থাকার উপায় নেই, রোজগেরে ছেলেও তেমন পড়ে থাকে না। প্রথম প্রথম দিনকতক লোকে রাস্তায় ঘাটে আঙুল তুলে দেখাত, ওই দেখো, ওই লোকটার বউ আত্মহত্যা করেছে। মায়ের নামেও নানা কথা বলত। ‘মুখে হরি বলি, কাজে অন্য করি।’ শুনিয়ে শুনিয়ে গান গাইত। আমার পাশের বাড়িতে একটা ডেঁপো মেয়ে আছে। সেই মেয়েটাই বেশি গাইত। কী করব, এসবের তো প্রতিবাদ চলে না। মা বলতেন, সহ্য কর। ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলে গেছেন, শ, ষ, স। সহ্য কর, সহ্য কর সহ্য কর। কেউ কেউ আবার গল্প শোনাতো, ‘আহা কত্তার কী দয়ার শরীর!’ গল্পটা আমার জানা। তিন ছেলে চোরকে ধরে পেটাচ্ছে। চোরের আর্তচিৎকার শুনে কত্তা দোতলা বারান্দায় বেরিয়ে এলেন। নীচের উঠোনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ওরে তোরা করছিস কী! তোদের কী এতটুকু দয়ামায়া নেই! কৃষ্ণের জীব। ধরে পেটাচ্ছিস! ওটাকে বস্তায় ভরে, মুখে দড়ি বেঁধে গঙ্গার জলে ফেলে দিয়ে আয়।’ চোর হাতজোড় করে ওপরের বারান্দার দিকে মুখ তুলে বললে, ‘আহা কত্তার আমার কী দয়ার শরীর!’

    দিনকয়েক মা খুব ভয়ে ভয়ে ছিলেন। যতই জপধ্যান করুন, যুগধর্ম বলে একটা জিনিস তো আছে! প্রায় জিজ্ঞেস করতেন, ‘হ্যাঁ রে, পুলিশে আবার ধরে টানাটানি করবে না তো?’

    ভয় পাবারই কথা। কাগজ-টাগজ পড়েন। দেখেন তো, শাশুড়িরা আজকাল কী হারে নিগৃহীতা হচ্ছেন। ধরে সেন্ট্রাল জেলে চালান করে দিলেই হল। বউদের ইউনিয়ন হয়েছে। শাশুড়িদের কোনো ইউনিয়ন নেই। আমি মাকে সাহস দিতুম, ‘তুমি ভেব না মা। যেখানে যা পুজো দেবার নিয়ম, সব দিয়ে দেবতাদের সন্তুষ্ট করে ফেলেছি। ভগবান আমাদের সহায়। হিন্দু ম্যারেজের সুবিধেটা কী জান, কোথাও কোনো রেকর্ড থাকে না।’ সাহস দিলে কী হবে। আবার এও ভাবতুম মানুষ বড়ো সাংঘাতিক জীব। যীশুকেই ক্রুশে ঝুলিয়ে দিলে। এখন মায়ের মতো ধার্মিক আর আমার মতো মাতৃভক্তকে ধরে পুরে দিলেই হল। যুগধর্মের কাছে জপের মালার ধর্ম কি দাঁড়াতে পারবে!

    যাক, টাকার ধর্মে সবই হয়। আমার প্রথম পক্ষটা এতই বোকা ছিল, এত অজ্ঞ, যে তার এইটুকু জ্ঞান ছিল না আত্মহত্যা করার আগে একটা চিরকুটে লিখতে হয়, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ী নয়।’ এটা লিখে মরতে না হয় আর পাঁচটা মিনিট দেরি হত। আমি যার জন্যে এত ভাবলুম সে আমার জন্যে এইটুকু ভাবতে পারল না। দুনিয়ায় স্বার্থ ছাড়া কিছুই নেই। মনটা এত খিঁচড়ে গেল যে প্রথম পক্ষকে ভুলেই গেলুম।

    আজকাল কাগজে পাত্র-পাত্রীর কলাম হয়েছে। দ্বোজপক্ষে আপত্তি নেই দেখে গোটা কতক চিঠি ছাড়লুম। একটা লেগে গেল। আসলে বিয়ে একটা নেশা। সিগারেট খাওয়ার মতো। একটা ধরালে আর একটা। আর একটা ধরালে আর একটা। মনটা ফস ফস করে। মেয়েটাকে দেখে এলুম। বয়েস হয়েছে। বেশ শক্তসমর্থ। খুব ফ্রি। জড়তা নেই। আঙুলে শাড়ির আঁচল পেঁচাবার লজ্জা নেই। সত্যি কথা বলতে কী, এই প্রথম আমি প্রেমে পড়লুম। মন্ত্রমুগ্ধ ফণীর মতো অবস্থা হল। কথায় কথায় জানলুম, ইনি অ্যামেচার অভিনেত্রী। এক সময় স্পোর্টসে অল্পস্বল্প নাম হয়েছিল। এক-শো মিটার দৌড়ে চ্যাম্পিয়ান হতো। আমি বললুম, ‘পছন্দ। আমি একটা পয়সাও নোবো না।’

    কে একজন বলেছেন, ‘দিচ্ছে কে?’

    মুখের ওপর এইরকম বলায় খুব রাগ হল। অপমানিত বোধ করলুম। পরে জেনেছিলুম, কথাটা বলেছিল মেয়েটির ভাই। একটা ডেঁপো ছেলে। যাক, আমি তাকে তখনকার মতো ক্ষমা করে দিলুম। সেই প্রথম বুঝেছিলুম, ভালোবাসা মানুষকে কত উদার করে দেয়। ওই জন্যেই শ্রীচৈতন্য বারে বারে বলেছিলেন, ওরে পাগলা, প্রেম কর, প্রেম কর। ভালোবেসে যা। মেরেছো কলসীর কানা, তা বলে কী প্রেম দোবো না। আমার আগের বিয়েটা শুধুই বিয়ে ছিল। এ বিয়েটা হল প্রেম।

    বসে পড়লুম পিঁড়েতে। প্রথম ধাক্কাটা খেলুম শুভদৃষ্টির সময়। চাদরের তলায় আমার দ্বিতীয় পক্ষ, বলতে লজ্জা করছে চোখ মেরে দিলে। ঠাস করে। কেমন যেন ভড়কে গেলুম। চাদরের তলা থেকে বেরিয়ে এসে পুরোহিত মশাইয়ের অনুমতি নিয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে ফেললুম। তিনি একটু ব্যঙ্গ করেই বললেন, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, খান খান, আজকালকার বিয়ে আবার বিয়ে! দামড়া-দামড়ির হাত-ধরাধরি।’ বৃদ্ধ মানুষ। কাঠ খোঁচা চেহারা। শুনে আমার খুব খারাপ লাগল। বাকি সবাই হ্যা হ্যা করে হাসল। আমার মনে তখন উড়ো ঝাপটা একটা গানের কলি ভাসছে, ‘বুকে শেল মেরেছে, হৃদয়ে শেল মেরেছে।’

    তিন টানে অত বড়ো একটা সিগারেট শেষ করে বসে গেলুম, যদিদং হৃদয়ং মম, তদিদং হৃদয়ং করতে। মেয়েকে কে যে আমার হাতে সম্প্রদান করছেন বুঝতে পারলুম না। মেয়ের হাত আর আমার হাত এক হওয়ামাত্রই, হাতের তালুতে কুড়ু কুড়ু করে দিলে। কোথা থেকে চার-পাঁচটা সাঙ্ঘাতিক ফচকে মেয়ে এসে, আমার কান দুটো ধরে আচ্ছা করে মলে দিল। আর চেনা নেই শোনা নেই পাঞ্জাবি পাজামা পরা মহা একটা চ্যাংড়া ছেলে এসে বাসরঘরে সারারাত আমার বউয়ের সঙ্গে হ্যা হ্যা করে কাটিয়ে দিলে। মনে হচ্ছিল, আমি বিয়ে করেছি না ওই পল্লবকুমার করেছে! মিনিট পনেরো-র জন্যে বউকে খালি পেয়ে একটু রাগ রাগ গলায় জিজ্ঞেস করলাম, ‘ছোঁড়াটা কে?’

    বউ বললে, ‘তুমি কী এইরকম গেঁয়ো ভাষায় কথা বলো নাকি?’

    বিয়ের ঘণ্টা চারেকের মধ্যে আমাকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করাটা আমার কাছে ধৃষ্টতা বলেই মনে হল। আমি তো জানি ফুলশয্যার রাতের শেষের দিকটায় অনেক সাধ্য-সাধনা করে বউকে দিয়ে ‘তুমি’ বলাতে হয়। সেই ‘তুমি’-তে আলাদা একটা রস থাকে। আমার আবার সেই ‘হিট’ গানের লাইনটা মনে পড়ছে—‘বলি কি বলি না, বলা তো হল না, হায়!’

    যাক, বসে আছি বউয়ের এলাকায়, এখানে কান ধরে টানার, চুল ধরে টানার মতো অনেকে আছে। তাই রাগ সামলে বললুম, ‘ছোঁড়া, ছুঁড়ি, শব্দটা এমন কিছু খারাপ নয়।’

    ‘ভাষা দিয়ে কালচার বোঝা যায়। দেখি তোমার হাত আর পা দেখি।’

    তার মানে? বেশ ঘাবড়ে গেলুম। এক হোমিয়োপ্যাথিক ডাক্তার আছেন শুনেছি, তিনি পা দেখে ওষুধ দেন। পা দেখে রোগ ঠিক করেন।

    ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলুম, ‘হাত পা দেখবে কেন?’

    ‘কালচার মাপব।’

    সে আবার কী রে বাবা। ফুলপাড় কোঁচার তলা থেকে পা বের করে সামনে রাখলুম।

    ‘হুঁ, এ তো দেখছি দামড়া পা। তোয়ালে, সাবানটাবান ওই এরিয়ায় যায়? যায় না! এই ময়লা গোদা-পা, তুমি বিছানায় তুলবে? এই পায়ের পাতা দিয়ে তুমি আমার পায়ের পাতা স্পর্শ করবে? ম্যা গে:।’

    তার সারা শরীর শিউরে উঠল। মনে মনে আমিও ছোটো হয়ে গেলুম। পা হল শরীরের স্ট্যাণ্ড। টেবিলের টপটা নিয়েই লোকে মাথা ঘামায়। পায়া নিয়ে কার মাথাব্যথা!

    ‘পরশু পা ঠিক করে বিছানায় উঠবে। তা না হলে অ্যালাউ করব না। সারা রাত মালা পরে মেঝেতে বসে থাকতে হবে। আমার সাফ কথা। হাইজিনের ব্যাপারে আমি স্ট্রিক্ট। হাত দেখি, ডান হাতের চেটো!’

    ভয়ে বয়ে বললুম, ‘সিগারেট আমি বেশি খাই না। তুমি যা ভাবছ তা নেই।’

    ‘কি ভাবছি!’

    ‘আঙুলের পাশে নিকোটিনের দাগ। আমার স্বাস্থ্য সম্পর্কে তোমার ভাবনা হচ্ছে আর কী!’

    ‘রামো! তোমার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমার ভাবনা হবে কেন। আজকালকার মেয়েরা বিধবা হয় না। এটা তো আমার সেকেণ্ড ম্যারেজ। থার্ডও বলতে পারো। টমকে আমি সেই ষোলো বছর বয়সেই রেজেস্ট্রি করে বিয়ে করেছিলুম। ছ-বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর অলোকের সঙ্গে আলাপ হয়ে গেল পুরী হোটেলে। টমের হিংসে। ছেলেরা তো একটু জেলাস হয়। তা ছাড়া বেশির ভাগ ছেলেই বোকা। টম সুইসাইড করলে। পুওর চ্যাপ। অলোককে ভালো লাগল না। বছর তিনেক খেলিয়ে ছেড়ে দিলুম। বিকাশ এল। বিকাশ ছেলেটা ভালো ছিল। ভালো ইনকাম করত। মিথ্যে বলব না, আমার পেছনে লাখ তিনেক খরচ করেছিল। মোস্ট ট্রাবলসাম ছিল ওর মা-টা। বুড়িটা আমার লাইফ হেল করে দিয়েছিল। বললুম, হয় তুমি মাকে কাশীটাশী কোথাও নড়া ধরে ফেলে দিয়ে এসো, আর না হয় আমার আশা ছাড়ো। রোজ রাতে বুড়ি পাশের ঘরে অ্যাজমার কাশি কাশবে, এ একেবারে অসহ্য। আমার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়ে যাচ্ছে। ফরাসী দেশ হলে আমি তোমার বিরুদ্ধে বিশ লাখ টাকার একটা ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করে দিতে পারতুম। এই ব্যাকওয়ার্ড দেশে সেটা সম্ভব নয়। তা সেই মাতৃভক্ত পাঁঠাটা আমাকে ছেড়ে দিলে।’

    আমি ভয়ে ভয়ে একটা সিগারেট ধরালুম। হাত কাঁপছে। আমার দ্বিতীয় পক্ষ বললে, ‘কী ব্র্যাণ্ড?’

    মুখ দিয়ে কথা সরল না। প্যাকেটটা তুলে দেখালুম।

    ‘খুব চিপ ব্র্যাণ্ডের সিগারেট খাও তো! ভালো সিগারেট থাকলে একটা টান টানতুম। মুখটা কেমন যেন ফ্যাক ফ্যাক করছে।’

    ‘তুমি সিগারেট খাও?’

    ‘কেন খাব না! সেই কলেজ লাইফ থেকেই তো ধরেছি। মাঝে হাফ টোব্যাকো ফেলে দিয়ে গাঁজা ভরে খেতুম। এখন সেটা ছেড়েছি। তবে খুব যখন ফ্র্যাসট্রেশান হয় তখন আবার খাই। বেশ লাগে। আমাদের এই অভিনয় লাইনে মন মেজাজ কখন কীরকম থাকবে বলা শক্ত।’

    ‘তুমি অভিনয় করো নাকি? কই তোমার নাম তো শুনিনি, কোথাও কোনো ছবিও দেখিনি।’

    ‘তোমার তো কালচার নেই। আর্ট থিয়েটার কাকে বলে জান? ওয়ান ওয়াল কাকে বলে জান? কোনোও দিন দেখেছ? আমার নাম শুনবে কী করে? তোমার দৌড় তো যাত্রা, হাতিবাগানের থিয়েটার, হিন্দি ছবি। কোনো দিন অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস কী রবীন্দ্রসদনে গেছ?’

    নার্ভাস হয়ে বলে ফেললুম, ‘না ভাই।’

    আমার দ্বিতীয় পক্ষ ভেঙচি কেটে বললেন, ‘কেন ভাই?’

    শেষে মরিয়া হয়ে বলে ফেললুম, ‘আমারও কিন্তু মা আছেন।’

    ‘নো প্রবলেম, আমি ঢুকলেই বুড়ি বেরিয়ে যাবে। সে আমি দাওয়াই দিয়ে দেবো। ও তুমি আমার হাতে ছেড়ে দাও।’

    আমার মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল। বলে কী! শেষে আমি মিন মিন করে বললুম, ‘ধরো আমি তোমাকে বিয়ে করি নি।’

    ‘অত সহজ নয়। ধরতে হলে সঙ্গে অন্য জিনিসও ধরাতে হবে। ব্যাপারটা তো কোর্টে চলে যাবে। শুনেছি তোমার বাড়ি আছে। বাড়িটা লিখে দাও, আর পঞ্চাশ হাজার টাকা ক্যাশ ডাউন করো। তাহলে তোমার ওই ধরাটা ধরা যাবে।’

    আমি গোটাকতক ঢোঁক গিললুম। এ তো দেখি আচ্ছা ফ্যাস্তা কলে পড়ে গেলুম। বললুম, ‘ঠিক এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিয়ে করা উচিত নয়। সংসার লন্ডভন্ড হয়ে যাবে।’

    ‘কেন? রথের যদি উলটো রথ হয়, সংসার পুরাণের উলটো পুরাণ হবে না কেন! ঘুঘু দেখেছো, ফাঁদ দেখোনি। আমি তো রাত বারোটার সময় মাল খেয়ে টলতে টলতে ফিরব। রাস্তায় দাঁড়িয়ে তোমার নাম ধরে চেঁচাব ভোমলা, ভোমলা। তারপর ঢুকেই তোমাকে পেটাবো। জাস্ট উলটে নোবো গুরু। ভোরবেলা জড়ানো গলায় বলব, অ্যায় লেবু চা লে আও। কী, ভয় পেয়ে গেলে মাইরি! বুমেরাং শুনেছো, বুমেরাং।’ আমার দ্বিতীয় পক্ষ রাজিয়া সুলতানার মতো হাসতে লাগল। হঠাৎ হুলু লুলু, হুলু লুলু করে উলুর শব্দে চমকে উঠলুম। ‘কী হচ্ছে? কীসের আওয়াজ?’ আতঙ্ক। দ্বিতীয় পক্ষ বললে, শেয়াল কাঁদছে ভাই। যেখানে যত শেয়াল ছিল সব একসঙ্গে কেঁদে উঠল ভাই। তোমার মা এখন কার গালে ঠোনা মারবেন ভাই। তুমি এখন কাকে ময়দা ঠাসা করবে ভাই।

    ভয় পেলে মানুষের সাহস বাড়ে। আমি আদি অকৃত্রিম স্বামীর ভাষায় ন্যাকা ন্যাকা গলায় বললুম—‘হ্যাঁ গা, এ কী তোমার অভিনয়!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃগয়া – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ফাঁস – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }