Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ৫০টি প্রেমের গল্প – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1125 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আঁচড়াক

    ‘বা:, বিউটিফুল। ঘরের শোভা কীরকম খুলেছে দেখেছ? মনে হচ্ছে বাকিংহাম প্যালেস।’ নবভারত ফারনিশার্স এইমাত্র ডেলিভারি দিকে গেল অলিভ গ্রিন রঙের পুরু ফোম মোড়া সোফাসেট। তলায় গোল গোল গড়গড়ে চাকা ফিট করা। বেশ গায়েগতরে জিনিস। চাকা ছাড়া সহজে নড়বে না। হর্ষবাবু নতুন সোফায় চেক চেক লুঙ্গি আর স্যাণ্ডো গেঞ্জি পরে, ফোলা ফোলা মুখে বসে আছেন। ভুঁড়িটি বসে আছে কোলে, সযত্নে লালিত সম্পত্তির মতো। বুকে বুক চিতিয়ে পড়ে আছে সোনার চেনে ঝোলানো গুরু-দত্ত রক্ষাকবচ। পায়ে কোলাপুরি চটি। সময়, সকাল। বাইরে থিন অ্যারারুট বিস্কুট রঙের দিন। একেবারে টাটকা, তরতাজা, মুচমুচে। কাক ডাকছে। সাইকেল রিকশা প্যাঁক প্যাঁক করছে।

    হর্ষবাবুর স্ত্রী সোমা দেবী সবে স্নান সেরে, ভিজে চুল এলো করে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন আদুরে ভঙ্গিতে। দ্বিতীয় পক্ষ। বয়েসের বেশ ফারাক আছে। প্রথম পক্ষটি ছিলেন গ্রামের মেয়ে। সংসারের উপযোগী, তার বেশি কিছু নয়। কালচারে কিছু কমতি ছিল। তিনি ছিলেন বাঁশের ছাতার মতো। রোদবৃষ্টির উপযুক্ত। ইনি হলেন জাপানি ফোলডিং। দু-খেপে খোলেন। তিন খেপে বন্ধ হন। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি সামলাতে পারেন। তেড়ে এলে অচল। প্রথম পক্ষটিকে গ্রামের বাড়িতে গোয়াল সামলাবার জন্যে রেখে এসেছেন। গোয়ালে আছেন বৃদ্ধা মা। আর আছে ভোঁদকা একটি ছেলে। পোলিও আক্রান্ত একটি মেয়ে। আর আছেন নি:সন্তান বৃদ্ধ জ্যাঠামশাই। যাঁর কাজ হল সারাদিন দাবা খেলা। সদ্য স্ত্রী-বিয়োগ হয়েছে তাই সন্ধ্যের দিকে বাংলা ধরেছেন। মাঝরাতে বিদেহি স্ত্রীকে সীতাহরণ পালা শোনান। তারপর জয় রাম, জয় রাম করতে করতে খাটে দেহ ফেলতে গিয়ে ভুঁয়ে উলটে পড়েন। সেই অবস্থায় ককিয়ে ককিয়ে বলতে থাকেন, সুধা তুমি আমায় এইভাবে ল্যাং মারলে বাওয়া!

    প্রথম পক্ষ বর্তমানে দ্বিতীয় পক্ষ নেওয়া যায় না। আজকাল গ্রামেও আধুনিক পলিটিকস ঢুকেছে। রোজই এ-দলের ও-দলের লাশ পড়ে যাচ্ছে। প্রথম পক্ষের হয়ে বড়ো একটি দলের পান্ডারা লড়তে চেয়েছিলেন। ব্যাপারটা আর একটু হলেই ‘পলিটিক্যাল ইসু’ হয়ে দাঁড়াত। হর্ষবাবু খেলোয়াড় মানুষ। কায়দা করে ম্যানেজ করে নিয়েছেন। টাকা পয়সার অভাব নেই। বেশ গেছে, আরও যাবে। ধরেই নিয়েছেন, ওরা হল দ্বিতীয় পক্ষটির ভ্রাতৃকুল, সম্পর্কে শ্যালক। বহু জামাইবাবুকেই শ্যালক পুষতে হয়।

    স্নানের পর স্টেনলেস স্টিলের গেলাসে সোমা আধ গেলাস পরিমাণ লেবু চা খান। হাতে সেই গেলাস। প্রশ্ন করলেন, ‘কত খসল?’

    ‘বারো হাজার। টুয়েলভ থাউজেণ্ড।’

    ‘বারো হাজার দিয়ে তুমি সোফা কিনলে? পয়সা কামড়াচ্ছিল? বারো হাজারে আমার একটা মুক্তোর মালা হয়ে যেত। একটা হিরের আংটি হত।’

    হর্ষ সোমাকে খুব তোয়াজে রাখেন। সুন্দরী। শিক্ষিতা। বয়েস কম। হঠাৎ হাত-ছাড়া হয়ে যেতে পারে।

    হর্ষ বললে, ‘মুক্তোর মালা, হিরের আংটি? সব হবে। সব হবে। যদ্দিন আমার টিউটোরিয়াল হোম আছে, দেশের এই শিক্ষাব্যবস্থা আছে, মধ্যবিত্ত বাঙালি আছে, কমপিটিটিভ পরীক্ষা আছে, তদ্দিন তোমার ভয় নেই সুমু। নোটস আর সাজেশান বেচব আর তোমাকে সোনা দিয়ে মুড়ব। এসো, বোসো। বসে দেখো বারো হাজারের কী আরাম? কি স্প্রিং দেখছ।’

    হর্ষ নেচে উঠলেন একবার। সোফার স্প্রিং-এ ঢেউ উঠল। হর্ষ দুলছেন ঢেউয়ের তালে তালে যেন বয়া নাচছে। প্রেমালাপ আর এগোবার অবকাশ পেল না। হর্ষবাবুর যোগশিক্ষক সনৎকুমার এসে গেলেন। তিনি যোগী আবার মালিশ বিশেষজ্ঞ। এখুনি হর্ষবাবুকে কম্বলের ওপর ফেলবেন, শরীরটাকে দোমড়াবেন, মোচড়াবেন, ত্রিভঙ্গমুরারী করে রাখবেন, তারপর ঘণ্টাখানেক ভিটামিন তেল দিয়ে দলাইমালাই করে ছেড়ে দেবেন। ভুঁড়ি কমাতেই হবে। যৌবনকে আমলকীর মতো হাতে ধরে রাখতে হবে—করতল-আমলক-বৎ।

    হর্ষবাবু সপ্তাহে তিন দিন যোগাসন করেন। তিন দিন ব্যায়াম। একদিন রোয়িং। লেক ক্লাবে গিয়ে দাঁড় টানেন। ভাবছেন টেনিসও খেলবেন। দশ বছর আগের হর্ষ সরকার আর নেই। পাঁচ আঙুলে পাঁচখানা আংটি। পাঁচটা বড়ো গ্রহ, শনি, রাহু, বৃহস্পতি, শুক্র, মঙ্গল এখান ট্যাঁকে। সত্যিই ট্যাঁকে। জ্যোতিষ একেবারে সেন্টপারসেন্ট সায়েন্স। শুক্র সোমাকে ছেঁকে তুলেছে। ভাবা যায়, সোমা সুড়সুড় করে চলে আসবে জীবনে। অমন একটা মেয়ে। যে জানলার ধারে দাঁড়ালে লোক গাড়ি চাপা পড়ে রাস্তায়। চরিত্রে সামান্য যা খাবলাখুবলি ছিল সব ভরাট হয়ে গেছে। দেহ আর চরিত্র এক জিনিস। মাংস খুবলে গেলে অটোমেটিক গজায়। শুক্র একেবারে ভোগের চূড়ান্ত করে ছেড়েছে। গোবিন্দভোগ চালের ভাত, কোলের দিকে গাওয়ার স্নেহ। বাটিতে মাছের মুড়ো। রাতে চিকেনের চিকন ঠ্যাং। সকালে কাজু, কিসমিস, কড়াপাক, ফলের রস। বিকেলে মুড়ি, নরমপাক, চিনেবাদাম। সন্ধ্যেবেলা এক সিপ বিলিতি। সপ্তাহে একবার গাড়ি যায় সার্ভিসিং-এ। মাসে একবার দেহ যায় চেকআপে। ওরে, ‘মরিতে চাহি না আমি এ সুন্দর ভুবনে।’ মঙ্গল কচাকচ শত্রু নিধন করছে। যে পেছনে লাগতে আসছে সে-ই কাত হয়ে যাচ্ছে। পারিজাত পন্ডা প্রথম পক্ষের পক্ষ নিয়ে জল ঘোলা করার তালে ছিল। ধোলাইয়ের ভয় দেখিয়েছিল। পাঁচ হাজারে আগুনে জল পড়ল। আবার ব্যাটা ধোঁয়াচ্ছিল। গত মাসে খবর এল পন্ডার লাশ পড়ে গেছে। পড়তেই হবে। বৃহস্পতি সহায় হয়েছেন। হর্ষবাবু এখন শিক্ষাগুরু। নোটস আর সাজেশাসন কিনছে তিন মাস পড়ছে, ডিগ্রি আর ডিপ্লোমা বগলে হাসি মুখে ফাঁসি বরণ করছে। ফাঁসিই তো। শিক্ষার ফাঁস গলায় সেরেস্তায় কোনোরকমে বসছে, বছর না ঘুরতেই প্রেমিকার সঙ্গে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ। নাও এবার দুধের টিন বাজাও। শ্রীমতীর পদসেবা করো। বাঙালির এই তো ফিউচার। ক-জন আর তাঁর মতো কর্মযোগী আর জ্ঞানযোগী হতে পারে। ছেলেবেলা থেকেই স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর আদর্শ পুরুষ। সংসারে থেকেও হর্ষ প্রেমিক। প্রেমিকই তো। তা না হলে সোমার সঙ্গে পাঁচটা বছর সমানে লড়ে শেষ পর্যন্ত ছিপে গেঁথে ফেললেন। স্বামীজি বলেছিলেন জীবে প্রেম। তিনি ব-টাকে শুধু এক অক্ষর ঠেলে ভ-এ নিয়ে গেছেন। জীবে হয়ে গেছে জিভে। কত বড়ো বৈদান্তিক তিনি। বৃদ্ধা মায়ের কথা, দুঃখী প্রথম স্ত্রীর কথা, ছেলে কী বিকলাঙ্গ মেয়ের কথা, কারুর কথাই আর তেমন মনে পড়ে না। সব মায়া।

    তেল দলাইমালাই করে যোগী চলে গেলেন, এইবার হর্ষবাবু আস্ত একটি গাজর খাবেন চিবিয়ে চিবিয়ে। গাজর হল এনার্জি। গাজর হল দৃষ্টিশক্তি। পৃথিবীতে বাঁচতে হলে তিনটি জিনিসের ভীষণ প্রয়োজন—চোখ, নাক আর কান। চোখ দিয়ে দেখতে হবে প্রতিপক্ষের চাল। অন্যের ব্যাপারে নাক গলাতে হবে যার নাম পলিটিকস। কান খাড়া রাখতে হবে। শুনতে হবে কে কী বলছে। শোনার ওপর নির্ভর করছে সাবধান হওয়া, ব্যবস্থাদি নেওয়া। ছোটো ভাই বেগোড়বাঁই করতে পারে, আগেভাগে শুনেছিল বলেই না সময়মতো বিশবাঁও জলে ফেলতে পেরেছে। নে ব্যাটা এবার হাবুডুবু খেয়ে মর।

    গাজর খাওয়া শেষ করে হর্ষ উঠে দাঁড়ালেন। এইবার বিদেশি সাবান মেখে স্নান। পুজোর আগেই বাথরুমের হাল পালটাতে হবে। পোরসিলেন টাইলস, বাথটাব, জেট শাওয়ার। স্নান সেরে পুজোয় বসলেন। হর্ষ সাকারবাদী নন। নিরাকারের ধ্যান করেন। ঈশ্বর মানে এনার্জি। যা কিছু এনার্জি দেখ তাই ঈশ্বর। সেই থিওরিতে চা ঈশ্বর। ভিটামিন ক্যাপসুল ঈশ্বর। চিকেন সুপ ঈশ্বর। আসনে বসে মিনিট পাঁচেক প্রাণায়াম করলেন। প্রাণায়াম মানে রক্তে অক্সিজেন মেশানো। অক্সিজেন এনার্জি দেয়। অক্সিজেন ঈশ্বর।

    আসন থেকে উঠে খুব মিহি ধুতি পরলেন। আদ্দির গিলে করা পাঞ্জাবি। প্রায় সিকি শিশি সেন্ট স্প্রে করে ফেললেন শরীরে। বাড়ির সামনে কালো গাড়ি অপেক্ষা করছে। খরচ করে গাড়ির ভেতর বাড়তি কিছু ব্যবস্থা করেছেন। গানের ব্যবস্থা। ম্যাগাজিন রাখার ঝোলা। সামনের আসনের সঙ্গে লাগানো ছোটো ফোলডিং টেবিল। দুটো হোমিয়োপ্যাথিক পাখা। মোটা, নরম, তুলতুলে গদি। এগারোটার মধ্যেই টিউটোরিয়াল হোমে গিয়ে বসে পড়েন। দূর-দূরান্ত থেকে নোট আর সাজেসানস নেবার জন্যে খদ্দেররা আসতে থাকে। অধ্যাপকরাও আসেন। খুব একটা সোজা রাস্তার ব্যবসা নয়। বাইরেটা সহজ, সরল, ভেতরটা গোলমেলে। পরীক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, সন্তুষ্ট রাখা, তোয়াজ করা। সাজেসানস না মিললে ব্যবসা তো লাটে উঠবেই, গণ ধোলাইয়েরও সম্ভাবনা আছে। দিনকাল ভালো নয়। হর্ষ সব সময় সঙ্গে একটা রিভলবার রাখেন। তেমন বিপদে পড়লে চালিয়ে দেবেন।

    হর্ষবাবু মাসখানেক হল বড়ো বড়ো লোমঅলা বিলিতি একটা কুকুর পুষেছেন। বেশ ন্যাওটা হয়েছে। পায়ে পায়ে ফুরফুর করে ঘোরে। কুকুরটাকে আদর করে গাড়িতে উঠতে যাবেন, হঠাৎ চোখে পড়ল এক বৃদ্ধা এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে, সামান্য সামনে ঝুঁকে গুটগুট করে এদিকেই আসছে। চেনা চেনা লাগছে। মা নাকি? হ্যাঁ মা-ই তো। মা কোথা থেকে এল? বুড়ি চোখে ভালো দেখে না, কানে কম শোনে, কোমর ভেঙে গেছে। নাও বোঝো ঠ্যালা। এইবার জ্বালিয়ে মারবে।

    বৃদ্ধা রাস্তার একটি লোককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হ্যাঁ বাবা, হর্ষ সরকারের বাড়ি কোনটা?’

    লোকটি না থেমে বললে, ‘ওই তো মাল দাঁড়িয়ে আছে।’

    হর্ষ মনে মনে বললেন—হারামজাদা! গত বছর এই ব্যাটাই পুজোর চাঁদা নিতে এসে খুব গরম গরম বোলচাল ছেড়েছিল। হর্ষকে থানায় ডায়েরি করতে হয়েছিল। তারপর থেকে সুযোগ পেলেই খোঁচায়। যাওয়া-আসার পথে দেখা হয়ে গেলে নানারকম আওয়াজ দেয়, সিটি মারে। বলে কার্তিকবাবু। অসহায় হর্ষ। প্রতিবাদের সাহস নেই। ক্ষুরটুর চালিয়ে দেবে। থানায় রিপোর্ট করেও লাভ নেই। প্রতিকার তো হবেই না, উলটে হামলা হবে। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে হবে। বুলগ্যানিনকে প্রায় হাত করে ফেলেছেন। এইবার একদিন স্রেফ হাওয়া করে দেবে। বুলগার এখন অসীম ক্ষমতা। ওপর মহল, পুলিশ মহল সর্বত্র বুলগার হাত। এ হাত কালো নয়। ঠিক রঙেই রাঙানো।

    হর্ষ দু-পা এগিয়ে গিয়ে মাকে বললেন, ‘কী গো, তুমি আবার কোথা থেকে এলে হঠাৎ। বলা নেই, কওয়া নেই।’

    চোখের কাছে হাত এনে রোদ আড়াল করতে করতে বৃদ্ধা বললেন, ‘ও মা, খোকা। কতদিন তোকে দেখিনি বাবা। আর থাকতে পারলুম না। তাই অশোক যেই গেল, বললুম আমাকে একবার নিয়ে চল। তা ওই মোড়ের মাথায় নামিয়ে দিয়ে চলে গেল। তা হ্যাঁরে, এই তোর গাড়ি। বা: কী সুন্দর। ভগবান তোকে খুব দিয়েছে বাবা, মায়ের দয়ার মতো, একেবারে ঢেলে দিয়েছেন। নতুন বউ কোথায় রে। শুনেছি খুব সুন্দরী।’

    বিরক্ত মুখে হর্ষ বুড়ির বকবকানি শুনছিল। থামতেই বললেন, ‘অশোক ওখানে কীসের ধান্দায় গিয়েছিল? অশোক হল হর্ষর সেই ছোটো ভাই, যাকে বেশ মোক্ষম টাইট দিয়েছেন।

    বৃদ্ধা বললেন, ‘ও মা, সে কী কথা রে! ছেলে মায়ের কাছে যাবে না? মা ছেলের কাছে আসবে না?’

    হর্ষ প্রসঙ্গ পালটে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি থাকবে বলে এসেছ?’

    ‘ও মা, ই কী কথা। থাকব বলেই তো এসেছি। ছেলে আমার মানুষ হয়েছে, বড়োলোক হয়েছে, কয়েকদিন আদর-যত্নে থেকে যাই।’

    ‘তোমার কিন্তু অসুবিধে হবে মা। এ বাড়ির তেমন বাছবিচার নেই। মুরগি, মাটন সবই চলে।’ দরজার কাছে সোমা এসে দাঁড়িয়েছিল। কেউই লক্ষ করেননি। সোমা বললে, ‘কোনো অসুবিধে হবে না। আপনি ভেতরে আসুন মা।’

    সোমার কথায় হর্ষর অস্বস্তি পঞ্চাশ ভাগ কেটে গেল। এমন একটা মাকে সোমার সামনে কীভাবে হাজির করবেন লজ্জায় মাথা কাটা যাবে, এই সব ভাবছিলেন। সোমা এই প্রথম হর্ষর মাকে দেখছে। বৃদ্ধা চারপাশে তাকাতে তাকাতে ভেতরে ঢুকলেন। ছেলের এই বাড়িতে এই প্রথম আসছে বুড়ি। দেখে শুনে অবাক। বড়ো বড়ো সাজানো গোছানো ঘর। দেয়ালে দরজায় জানলায় সুন্দর রং। চার দেয়ালে চার রকম রং।

    হর্ষবাবুর লোমওলা কুকুরটি নতুন কেনা সোফার তলায় ঘাপটি মেরে শুয়েছিল। গুড়গুড় করে বেরিয়ে এসে বৃদ্ধাকে শুঁকতে লাগল। বৃদ্ধা ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়ে বললেন, ‘ও মা এটা আবার কী জন্তু মা?’

    সোমা হেসে ফেলেছেন, ‘কোনো ভয় নেই আপনার। এ হল কুকুর। এর নাম জার্মান স্পিৎস। কামড়ায় না। শুধু আদর করে আর আদর খায়।’

    বৃদ্ধা তবু ভয়ে সিঁটিয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে রইলেন। বুড়ির রকমসকম দেখে হর্ষ বললেন, ‘তোমার তো কোনো কালে কুকুরে এত ভয় ছিল না। একে দেখে ভয় পাচ্ছ!’

    ‘অ্যাঁ, সে তো নেড়ি কুকুর। নেড়িকে আমি ভয় পাই না। এসব বিলিতি তো। কখন কোন মেজাজে থাকে।’

    সোমা বললে, ‘নেড়িকেই তো ভয় বেশি। কামড়ালেই জলাতঙ্ক। এসব কুকুরে সে ভয় নেই। ইনজেকশান দেওয়া আছে।’

    বৃদ্ধা তবু ভয় পাচ্ছেন দেখে সোমা কুকুরকে আদেশ করলেন, ‘পমপম, যাও শুয়ে পড়ো ওর তলায়।’

    ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধা তাকিয়ে তাকিয়ে সব দেখছেন। বই। বইয়ের পর বই। ফ্রেমে বাঁধানো ভালো ভালো ছবি। ‘ওদেশের মেয়েরা একটু বেহায়া হয় বাপু। সে তোমরা যে যাই বল। তা না হলে অমন করে গতর দেখাতে পারে।’ বৃদ্ধা ভাবলেন। আরও ভাবলেন, বিয়ের পরই হর্ষর বাপ রাতে বিছানায় শুয়ে আদর করতে করতে বলতেন, ‘তুমি আমায় পাগল করে দেবে। ভগবান কি তোমাকে ক্ষীর দিয়ে ছেনেছেন।’ নিজের শীর্ণ চামড়া কোঁচকানো, দীর্ঘকালের পুরোনো হাতের দিকে তাকালেন। অত ভাবতে পারেন না। তবু মনে হয় সবাই বলে মৃত্যু না কী হঠাৎ আসে। সে যারা দুম করে অকালে মরে তারা বলতে পারে। যারা অনেকদিন বাঁচে, তারা চোখের সামনে দেখতে পায়। কুঁচকে, কুঁচকে, বাঁধাকপি পাতার পোকার মতো, গুটিয়ে পাকিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে। ফুটো ফুটো করে দেয়।

    ‘আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।’ বলে হর্ষ বেরিয়ে এলেন।

    হর্ষর একজন দু-জন চামচা আছে। চামচার প্রয়োজন হয়। প্রচার করে বেড়ায়, হর্ষ হল ছেলে সরস্বতী। গবেট নিরেট যে যেখানে আছ ছুটে গিয়ে ধরে পড়ো। এম. এ., বি.এ. এল. এল. বি. এম. বি. বি. এস, যার যা ইচ্ছা সব হয়ে যাবে। তিনটে মাস শুধু পড়তে হবে। উজ্জ্বল সেইরকম একজন চামচা। টুকটুকে দেখতে। থাকে বোকা বোকা। ভালো মানুষটির মতো, এলিয়ে এলিয়ে হেলিয়ে হেলিয়ে কথা বলে, আসলে এক নম্বরের ধড়িবাজ, ধান্দাবাজ। শাঁসে জলে মানুষ দেখলেই কায়দা করে ভিড়ে যায়। কাজের মধ্যে ঢোল বাজানো। লাভের মধ্যে, গাড়ি চেপে ঘুরে বেড়ানো, ছুটির দিনে লটবহর নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া আর সারা দিন ধরে ভালোমন্দ খাওয়া। চিকেন সুপ, কাজু বরফি, বাদামের সরবত। মুরগির রোস্ট। দু-একটা ছাত্র ধরে আনতে পারলে কমিশন।

    উজ্জ্বল এলিয়ে এলিয়ে, নিখুঁত নিভাঁজ ভালো মানুষের গলায় নিবু নিবু প্রদীপের চোখে বললে, ‘হর্ষদা, আজ এখনও বেরোন নি?’

    ‘দেখতেই তো পাচ্ছ, বেরোইনি।’

    রূঢ় গলায় বলেই হর্ষর মনে হল উজ্জ্বলকে খাতির করাই উচিত। উজ্জ্বলের চেষ্টাতেই সে সোমাকে পেয়েছে। সোমার জমি উজ্জ্বলই কুপিয়েছে, জল দিয়েছে, সার দিয়েছে, তারপর টুপ করে হর্ষ বীজটিকে ফেলেছে। মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়, সোমা তাকেই বিয়ে করেছে তো, না উজ্জ্বলকে? ভয় হয়। একেবারে ফুটন্ত যৌবন, অমন রূপ, উজ্জ্বলের পাশে সে তো ভূত। আরও সব ব্যাপার আছে। স্ত্রী-পুরুষের সম্পর্কে শরীর অবশ্যই একটা ফ্যাক্টর।

    হর্ষ হাসি হাসি মুখে বললে ‘কী গো, এত দেরি করলে!’

    ‘হয়ে গেল দাদা।’

    ‘চলো চলো।’

    উজ্জ্বল আর হর্ষ গাড়িতে উঠলেন। গাড়ি ছুটছে কলেজ পাড়ার দিকে।

    উজ্জ্বলের মুখে লেগে আছে বোকার হাসি।

    ‘হর্ষদা, হর্ষদা, যাক এতদিনে তাহলে পেলেন!’

    ‘কি পেলুম গো!’

    ‘কাজের লোক। উঃ আজকাল কাজের লোক পাওয়া আর ঈশ্বর পাওয়া একই। বয়েস একটু বেশি। তা হোক। তা হোক। বউদির খুব কষ্ট হচ্ছিল। কততে ঠিক হল?’

    হর্ষ কাশলেন। বিষম খেয়েছেন যেন। ধবধবে রুমালে আলতো করে ঠোঁট মুছে বললেন, ‘হে হে, ওই আর কী। যা হয় হবে আর কী।’

    বেশ অস্বস্তি হচ্ছে হর্ষর, লোকে কী বলবে। এ যেন কাছায় লুকিয়ে থাকা অপকর্ম, হঠাৎ বেরিয়ে পড়েছে অসাবধানে। ছেলে মটোর চাপছে, মা ট্যানা পরে ঘুরছে। বউ পার্ক স্ট্রিটের সেলুনে চুল বাঁধতে যায়। রাগ নিজের ওপরেই হওয়া উচিত, হল মায়ের ওপর। বুড়ি হাওড়া জেলার হাবিবপুর থেকে ছুটে এল, ছেলে আর ছেলের বউ দেখতে। মরে শান্তি দে মা।

    রাতে হালকা একটু নেশা নিয়ে হর্ষ বাড়ি ফিরলেন। মোটামুটি মেজাজেই আছেন। মায়ের কথা প্রায় ভুলেই ছিলেন। বাইরের ঘরের সেই বারো হাজারি সোফায় বুড়ি পা তুলে বসে আছে। বসে বসে ঢুলছে। মাথায় ধক করে রক্ত উঠে গেল।

    ‘এ কী, তুমি পা তুলে এর ওপরে বসে আছ!’

    বৃদ্ধার চটকা ভেঙে গেল। চমকে উঠে বললেন, ‘কে খোকা এলি! কী বলছিস বাবা? অবউমা! বউমা!’

    ‘নেমে বোসো, নেমে বোসো। এখনও কভার লাগানো হয়নি। নষ্ট হয়ে যাবে। দাম জানো? বারো হাজার।’ হর্ষ হঠাৎ নিচু হলেন। পুরু ফোমে আঁচড়ের দাগ। কে যেন চিরে দিয়েছে।

    মাকে ধমকে উঠলেন, ‘হাতের পায়ের নখগুলো তো কাটতে পার বসে বসে। দেখো তো, এত দামের জিনিসটা দাগরাজি হয়ে গেল!’

    বৃদ্ধা মেঝেতে দেয়াল ঘেঁষে বসেছেন। বলে উঠলেন, ‘ও খোকা, বিশ্বাস কর, আমি আঁচড়াইনি বাবা, আঁচড়েছে তোমার কুকুর।’

    বারো হাজারি সোফার তলায় নিশ্চিন্ত আরামে শুয়ে ছিল হর্ষর আদরের কুকুর। হর্ষ ডাকলেন, ‘পমপম’! কুকুর বেরিয়ে এসে, কার্পেটের ওপর একটা ডন মেরে ঘুমের জড়তা কাটিয়ে নেচে কুঁদে আহ্লাদ প্রকাশ করতে লাগল। মেঝেতে সুবিধে হল না, লাফিয়ে সোফায় উঠল।

    বৃদ্ধা বললেন, ‘ও খোকা আবার আঁচড়াবে।’

    হর্ষ গম্ভীর গলায় বললেন, ‘আঁচড়াক।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃগয়া – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ফাঁস – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }