Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ৫০টি প্রেমের গল্প – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1125 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সানাই

    ‘খাট এসেছে খাট এসেছে!’

    মামা একটা মাছের চপ টেস্ট করছিলেন। আধখানা মুখে, আধখানা প্লেটে ফিকে ধোঁয়া ছাড়ছে। তাড়াতাড়ি দোতলার জানালা দিয়ে মুখ বাড়ালেন। রাস্তায় দুটো বাজখাঁই কুলি। মাথায় ঝকঝকে খোলা খাটের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। একজনের হাতে একটা চিরকুট।

    ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ এই বাড়ি। সাতান্ন নম্বর।’

    চপের আধখানা মামার গলা দিয়ে ততক্ষণে নেমে গেছে। তিনি ফিনফিনে আর্টিস্টিক গলায় চিৎকার করে বললেন, ‘রাস্তায় মাত উতারো। থুতু হ্যায়, গয়ার হ্যায়। দিনো, দিনো, তোমার খাট এসেছে।’ বাবা ভেতরের দিকে ছিলেন। চা তৈরির ডিরেকসান দিচ্ছিলেন, ‘যত ভালোই চা হোক, তৈরির গুণেই টেস্ট আর ফ্লেভার। পাক্কা পাঁচ মিনিট পটে ভিজবে। নো তাড়াহুড়ো। তাড়াহুড়ো মিনস সব নষ্ট।’

    দিনু তখন সিল্ক সিল্ক একটা গেঞ্জি, নতুন একটা দিশি ধুতি পরে, নতুন বউয়ের ঘরে বসে ছিল। নিজের বউয়ের একটু তদারকি করছিল। আড়ষ্ট ভাবটা কাটানো দরকার। কত বড়ো একটা দায়িত্ব। পিসতুতো বোন দুটো বড়ো সন্দেশ আর এক গেলাস জল রেখে গেছে। লজ্জায় হাত ঠেকায়নি। সিঁথিতে এতখানি লাল মেটে সিঁদুর। কপালে চাপা টিপ, চাকাপানা মুখটাকে বেশ ডাঁসাপানা করেছে। ট্যাপোর টোপোর গালে যৌবন আর স্বাস্থ্যের লাল আভা। লাল শাড়ির জোরালো জেল্লা। দিনু মনে মনে তারিফ করছিল, বেশ র‌্যাডিয়েটিং মহিলা। আদরে আদুরে হবার জন্যে মুখিয়ে আছে।

    ‘সন্দেশ দুটো খেয়ে নাও।’

    ‘ওরে তোর খাট এসেছে।’ বাবার গলা।

    ‘হ্যাঁ যাই, খেয়ে নাও, খেয়ে নাও। শোনো লজ্জা কোরো না। আমার মা নেই। তোমাকেই সেই ভ্যাকুয়াম ফিল আপ করতে হবে।’

    দিনু খাট তুলতে চলে গেল। দক্ষিণের ঘরে কোরা সতরঞ্জির ওপর পা মুড়ে নতুন বউ। বসার ধরনটা বেশ জমাটি। সামনের দেয়ালে দিনুর মার প্রমাণ সাইজের যৌবনের ছবি। পরনে বেনারসি, পায়ে ডোরাকাটা পামশু, ব্লাউজের থ্রিকোয়ার্টার হাতা। বউ সেই ছবিটির দিকে এক নিমেষে তাকিয়ে রইল। একটা ধেড়ে মাছি সন্দেশের ওপর ভ্যান ভ্যান করছে। গেলাসের জলে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ধুলো ভাসছে। ছবিতে দিনুর মা, আর সতরঞ্জিতে দিনুর বউয়ের প্রায় একই বয়েস। শাশুড়ি যেন অনেক বেশি সুন্দরী ছিলেন। একটু পাতলা চেহারা কিন্তু বেশ ধারালো। অনেকটা মামাশ্বশুরের মতো। দিনুর বাবা সে তুলনায় অনেক বেশি পুরুষালী। ভীষণ শক্ত, সমর্থ। বাটারফ্লাই গোঁফ, ব্যায়াম করা শরীর। মুখের ভাব বেশ কঠোর আর গম্ভীর। এমন মানুষের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে চলতে হবে জানা নেই। বেশ নার্ভাস লাগছে।

    ঘরের বাইরে ভীষণ সোরগোল।

    ‘আহা আহা, বাঁয়া বাঁয়া। দেয়ালে ধাক্কা লাগেগা, পালিশ চট যায়েগা।’ মামার গলা।

    ‘সামলে, সামলে, ওরে দিনু মাথা সামলে, হঠাৎ অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেলে ঘুরে গেলেই কপালটা দাগরাজি হয়ে যাবে।’ বাবার সাবধান বাণী। মামা ব্যস্ত হয়ে বললেন, ‘আহা তুমি অত উতলা হচ্ছ কেন, আমরা তো রয়েছি। বাঁয়া বাঁয়া, হাঁ! হ্যাঁ, থোড়া বাঁয়া!

    ‘আজ্ঞে এসে গেছি।’ দরজার সামনে দিনু, ‘ইলেকট্রিসিয়ানও এসে গেছেন। কোথায় কী ক্যারাচে করকে।’

    খাট ঢুকছে দিনুর ঘরে। নতুন বউ মাঝারি মাপের ঘোমটা টেনে জুল জুল করে তাকিয়ে আছে। দুটো বিশাল মাপের মানুষ চকচকে খাটের কাঠামো মাথায় ছোটো দরজা গলে ঘরে ঢুকতে চাইছে। নতুন ডিসটেম্পার করা দেয়ালে সামান্য ধাক্কা লাগলেই চটা উঠে যাবে। পেছনে বিভিন্ন মাপের তিনজন মানুষ। ভয়ঙ্কর শ্বশুরমশাই, ঝকঝকে মামাশ্বশুর আর সদ্য বিয়ে করা বোকা বোকা স্বামী।

    ‘বউমা একটু উঠতে হবে যে।’ মামাশ্বশুরের মিষ্টি অনুরোধের গলা। শুনেছে বড়ো গাইয়ে। দিনুই বলেছে।

    ‘শুধু উঠলেই হবে না, বেরিয়ে আসতে হবে। টেম্পোরারিলি ঘরটা ছাড়তে হবে।’ শ্বশুর- মশাইয়ের নির্দেশ। গীতা আলতো ভঙ্গিতে সতরঞ্জি থেকে অনেকক্ষণ বসে থাকা অলস শরীরটা তুলতে গেল। এবং গায়ের ধাক্কা লেগে জলভরতি গেলাসটা উলটে পড়ল। ‘এই যা:!’

    দিনু দরজার এপাশ থেকে সারসের মতো গলাটাকে উঁচকে জিজ্ঞেস করল, ‘কী হল গো!’ গো শব্দটা খচ করে কানে লাগল। একদিনের পক্ষে বড়ো বেশি নৈকট্য। তাড়াতাড়ি সামলে নিয়ে প্রশ্নটাকে আর একবার রিপিট করল অন্যভাবে, ‘কী হল কী?’

    উত্তর দিল খাট মাথায় কুলি, ‘পানি গির গিয়া।’

    ‘পানি? পানি এল কোথা থেকে?’ দিনুর বাবা অবাক হলেন।

    দিনু বললে, ‘আজ্ঞে, খাবার জল, গেলাসে ছিল।’

    ‘আই সি, আই সি, তা একটু কাজ বেড়ে গেল। জলটা তাহলে মুছে নিতে হয়।’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ’ বলেই দিনু প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে কুলিদের থামের মতো পা গলে ঘরে ঢুকে গেল। বেশিরভাগ জলই সতরঞ্জি শুষে নিয়েছে। বউয়ের শাড়ির তলার দিকটা সামান্য ভিজেছে। শাড়ির ভিজে অংশটা টকটকে লাল। মেঝেতে সরু জলের ধারা লয়াবয়া সাপের মতো ঢালের দিকে একটু একটু করে গড়িয়ে চলেছে। কী দিয়ে মোছা যায়! হাতের কাছে কিছু দেখছে না। কোঁচা দিয়ে কাজটা সারা যায়। সদ্য ভাঙা ধবধবে ধুতি। একটু কিন্তু কিন্তু ভাব। দিনু উবু হয়ে বসে আছে বউয়ের প্রায় পায়ের কাছে। টকটকে আলতা পরা জীবন্ত পা। লক্ষ্মীর পটেই এমন পা এতকাল দেখে এসেছে। দিনুর স্বগতোক্তি, ‘কী দিয়ে মুছি।’

    দিনুর চেয়ে দিনুর বউয়ের উপস্থিত বুদ্ধি অনেক বেশি। আধভেজা সতরঞ্জিটার কোণা ধরে একটা ক্লিন সুইপ। জলের ধারা মুছে গেল, সেই সঙ্গে সন্দেশের ডিশটাও গেল উলটে। দুটো কড়াপাক রাতাবি সন্দেশ ক্যারামের স্ট্রাইকারের মতো ছিটকে গেল। দিনু নামাজ পড়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়েছিল। ‘যা: গেল।’

    বাবা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী গেল রে?’

    দিনুকে বলতে হল না, কুলিরাই বলে দিলে, ‘মেঠাই উলটলবা হো।’

    ‘মেঠাই আবার কোথা থেকে এল?’

    দিনু বলল, ‘ডিশে ছিল।’

    কুলিদের তাগাদা, ‘হট যাইয়ে বাবুজি।’ কথার সঙ্গেসঙ্গেই অ্যাকশান। ঘরে খাট ঢুকে পড়েছে ধুপধাপ শব্দে। ধুলো মাখা গোদা গোদা পায়ের ছাপ ভিজে মেঝেতে। দিনু দাঁড়িয়ে আছে বউয়ের গা ঘেঁষে। হাতে মেঝে থেকে তুলে নেওয়া সন্দেশ দুটো। বউ ধরে আছে সতরঞ্জির কান।

    মামা মিষ্টি গলায় বললেন, ‘তোমরা এবার সরে পড়ো। খাটটাকে আমরা ফিট করে ফেলি।’

    বাবা বললেন, ‘গেলাস আর ডিশটা!’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’ দিনুও হেঁট হল, দিনুর বউও হেঁট হল। দু-জনেরই টারগেট স্টিলের গেলাস। দিনুর নাকের সঙ্গে বউয়ের মাথার জোরালো কলিসান। চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এলেও বেশ রোমাঞ্চকর অনুভূতি। হাঁচি পাচ্ছে। কোনোরকমে চাপতে চাপতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। নাকের ডগায় লম্বা চুলের সুড়সুড়ি।

    ‘তোমার কী মনে হয় মোহর!’ দিনুর বাবা প্রশ্ন করলেন তাঁর শ্যালককে।

    ‘আজ্ঞে খুব উঁচু দরের খাট দিয়েছে বাঁড়ুজ্যেমশাই। কোনো সন্দেহ নেই!’

    ‘কে দিয়েছে?’

    ‘আজ্ঞে দিনুর শ্বশুরমশাই।’

    ‘আজ্ঞে নো স্যার। এ খাট দিনুর বাপের পয়সায়। তুমি কী ভাব আমার ছেলে অকশানের মাল! হায়েস্ট বিডারের কাছে ঝেড়ে দিয়েছি। নো স্যার। মেয়েটি ছাড়া কিছুই নিইনি। আমি তোমাকে খাটের কথা জিজ্ঞেস করিনি। খাট ইজ এ খাট। নাথিং নিউ। বউমাটিকে আমার কেমন যেন জড়ভট্টি মনে হল।’ বেশ জোরে জোরেই কথা হচ্ছে দু-জনে। খাট ফিটিংয়ের ঠকাঠক শব্দ হচ্ছে।

    শ্যালক বললেন, ‘ও জড়ভট্টি। না না তেমন কিছু নয়। নতুন তো তাই একটু পায়ে পায়ে জড়িয়ে যাচ্ছে। মেয়েটির অ্যাপিয়ারেন্স কিন্তু ভালো। বেশ মনোরম।’

    ‘অল দ্যট গ্লিটার্স ইজ নট গোল্ড, বুঝলে মোহর! প্রথম থেকেই যদি ঘরের কোণে গ্যাঁট হয়ে বসে থাকার হ্যাবিট গ্রো করে যায় তা হলেই মহামুশকিল। দেখা যাক কী হয়। সবই ভাগ্য বুঝলে মোহর! বিবাহ হল অ্যালয়, তিন ভাগ তামা আর এক ভাগ দস্তা মিলেমিশে ভরনের কাঁসা। তিন ভাগ স্বামী আর এক ভাগ স্ত্রী তবেই না সুখের সংসার, শান্তির সংসার। যে সংসারে স্ত্রীর দাপট বেশি সে সংসার জানবে ট্রয়ের যুদ্ধ!’

    ‘কিন্তু একদিনেই কোনো মারাত্মক সিদ্ধান্তে আসা কি ঠিক হবে?’

    ‘অফকোর্স নট, তবে মুখে চোখে কেমন যেন একটা অহঙ্কারীর ভাব। যাক ফিউচার লাইজ ইন দি উম্ব অব টাইম, মহাকালই জানেন কী হবে! খাটটার প্লেসিং ঠিক হল? মাথা কী উত্তরের দিকে হবে!’

    ‘আজ্ঞে না, উত্তরে মাথা করা ঠিক হবে না, ভারতের উত্তরে হিমালয়, মহাপ্রস্থানের দিক।’

    ‘দ্যাটস রাইট। তবে ঘোরাতে বলো। দক্ষিণে মাথা, উত্তরে পা।’

    মামা সঙ্গেসঙ্গে হুকুম জারি করলেন, ‘খিঁচো, উসকো খিঁচো।’

    খাট টানাটানির মাঝেই আবার বাইরে সোরগোল, ‘সানাই এসেছে, সানাই!’

    ‘মোহর, সানাই তোমার ডিপার্টমেন্ট। একটু পরেই আমি সব দপ্তর বন্টন করে দোব। তোমার হবে সানাই, অভ্যাগতদের অভ্যর্থনা, আর্টিস্টিক ব্যাপার সব তোমার। ওস্তাদের নামটা যেন কী!’

    ‘আজ্ঞে বানারসের ছোটে মিঞা, বহত নামজাদা ঘরানা।’

    ‘দেন ইউ গো। একেবারে আসরে বসিয়ে দাও। সকালটা তো চলেই গেল। তবিয়ত যদি ঠিক থাকে ওস্তাদজীকে বল বৃন্দাবনী সারঙে একটু ছাড়তে। অ্যাটমসফিয়ারটা একটু জমে যাক। ওয়ানস ইন এ লাইফটাইম এই সব সব অকেসান আসে।’

    ‘রামকেলি কিংবা মাড়োয়াও চলতে পারে।’

    ‘মাড়োয়াও পারে তবে রামকেলিটা চালাতে হলে গায়ের জোরে। তুমি ওদিক থেকে দিনুটাকে একটু খুঁচিয়ে এদিকে পাঠাতে পারবে? পয়েন্ট হবে…।’

    ‘পয়েন্ট! চতুর্দিকে পয়েন্ট হবে! তুমি ওপরের প্যাণ্ডেল থেকে স্টার্ট করো। আগে ফিউজটা দেখে নাও, একস্ট্রা লোড টানতে পারবে কিনা! ফিউজ বক্সটা দেখিয়ে দাও দিনু।’

    ‘দেখাতে হবে না, আমি জানি।’

    ‘ভেরি গুড। তাহলে লেগে পড়ো।’

    কুলিরা খাট ফিট করে ছতরিমতরি সব লাগিয়ে দিয়েছে। এইবার চালান সই, বকশিশ, ভাড়া দেবার পালা।

    ‘কুছ মিঠাই-উঠাই নেহি মিলেগা বাবু?’

    ‘জরুর মিলেগা। দিনু, তুমি এদের গণেশকাকাবাবুর জিম্মা করে দিয়ে এসো। যাবে আর আসবে। আটকে থেকো না। থাউজেণ্ড অ্যাণ্ড ওয়ান কাজ!’

    বাবার প্রাণের বন্ধু গণেশ চট্টোপাধ্যায়, ভিয়েনের সামনে চেয়ার পেতে বসে আছেন। মুখে সিগারেট। কোলের ওপর সেদিনের খবরের কাগজ। বিশাল কড়ায় ছ্যাঁচড়া চেপেছে। দু-জনে যোগাড়ের একজন হামানদিস্তেতে মশলা ঠুকছে ঠ্যাং ঠ্যাং করে। আর একজন উবু হয়ে বসে প্লাসটিক চাটনির পেঁপে কুটছে ফিনফিনে সরু করে। হালুইকরের নাম অনন্ত। নামজাদা রাঁধিয়ে। হাতিবাগানের কাছে ডেরা। জজ, ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়িতে বড়ো বড়ো কাজে রেঁধে রেঁধে হাত পাকিয়েছে। মুখের হাসিতে বিনয়ী গুমোর চুঁইয়ে পড়ছে। নৌকোর হাল চালাবার মতো করে কড়ায় খুন্তি চালাচ্ছে আর সমানে বকবক করে চলেছে। বুকের কাছে গেঞ্জির ওপর হলদে মতো পৈতের একটা অংশ ব্রাহ্মণত্বের বিজ্ঞাপন হয়ে লতরপতর করছে।

    দিনু কুলি দু-জনকে গণেশকাকার হেপাজতে রেখে চলে আসছিল! হঠাৎ তার চোখ পড়ল ছাদের আর এক অংশে। সেদিকটা ঘেরা হয়নি। সব ক-টা ফুলগাছের টব একসঙ্গে জলসায় বসেছে যেন। কিছু ফুটন্ত চন্দ্রমল্লিকা, গোটাকতক বাজখাঁই সাইজের ডালিয়া। তারই পাশে উদাসী দিনুর বউ। গণেশকাকা নিজের খেয়ালেই আছেন। ভিয়েনের ইনচার্জ। বালীগঞ্জে বাড়ি। একমাথা অতৈলাক্ত ফুরফুরে চুল। যে কাজের ভার পেয়েছেন সেই কাজেই মশগুল। দিনু যদি একবার বউয়ের কাছে চক্কর মেরে আসে খেয়াল করবেন বলে মনে হয় না। করলেও কিছু ভেবে বসবেন না। পিতৃবন্ধু হলেও বেশ মাইডিয়ার লিবারেল মানুষ।

    দিনু আস্তে আস্তে বউয়ের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। ঘাড়ের কাছে বিয়ের রাতের খোঁপাটাই নেতিয়ে আছে। একটু বাসী হয়ে যেন আরও সুস্বাদু হয়েছে। ভি-কাট ব্লাউজ থেকে পিঠের আর কাঁধের বেশ খানিকটা মসৃণ অংশ বেরিয়ে আছে। একটা কটা তিল। শাড়ি, কোমর, নিতম্ব একটা ছন্দের মতো, দ্বিপ্রহরের কবিতা। হাতের একটা আঙুল দিয়ে ঘাড়ের কাছে স্পর্শ করতেই প্যাঁ করে সানাই বেজে উঠল। দিনু চমকে উঠল। বউ চমকে ফিরে তাকিয়েছে। দু চোখে টলটলে জল। বড়ো বড়ো চোখের পাতা ভিজে। সানাই কথা বলার সুবিধে করে দিয়েছে। গণেশকাকা আড়ালে। একজন যোগাড়ের পিঠটা দেখা যাচ্ছে।

    ‘তুমি কাঁদছ?’

    আঁচলে চোখ মুছে বউ বলল, ‘কই না তো!’

    ‘কাঁদছ কেন? মন খারাপ?’

    ‘কই না তো।’

    ‘নীচে চলো। একলা একলা দাঁড়াতে হবে না, চলো নীচে চলো।’ দিনুর মনে হল হঠাৎ তার গলায় এক ধরনের আদেশের সুর এসে গেছে। এতদিন সে সকলের আদেশ শুনে এসেছে, আজ এক নতুন অভিজ্ঞতা। স্নেহমিশ্রিত আদেশ।

    বউ ম্লান হেসে বললে, ‘আপনি, না, তুমি, তুমি নেমে যাও আমি আসছি।’

    ‘ঠিক?’

    ‘ঠিক।’

    ‘তুমি ওদের সঙ্গে একটু মেশো না। পানটান সাজছে। কত কী কাজ রয়েছে।’

    ‘যাচ্ছি। তুমি যাও।’

    দিনু গুটি গুটি ছাদ থেকে নেমে এল। দক্ষিণের ঘরে তখন খাটপর্ব আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কাঠের ওপর নতুন একটা সতরঞ্জি পড়েছে। বাবা বললেন, ‘যাও ও-ঘর থেকে ধরাধরি করে তোশকটা নিয়ে এসো। একলা চেষ্টা কোরো না, ভেরি হেভি—ঘাড়ে ফিক ব্যথা লেগে যাবে।’

    দিনুর খুব লজ্জা করছিল। গুরুজন মানুষ। এইভাবে তাদের ফুলশয্যার খাট বিছানা ঠিক করবেন। কী? না রাতে ছেলে আর ছেলের বউ জড়াজড়ি করে শোবে। বিয়ে করে দিনু এমনিই মরমে মরে আছে। কেমন যেন পাপী পাপী লাগছে। ব্যভিচারের লাইসেন্স হাতে এসেছে। ছিল একা। বাবার নেওটা। এখন দোকা। মসৃণ একটি যুবতীর স্বত্বাধিকারী। এতকাল বাবার বিছানায় বাবার পাশে শুয়ে এসেছে। আজ শুতে হবে প্রায় অচেনা একটি মেয়ের পাশে। সানাই তখন মাঝরাতে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে দরবারী ছাড়বে। নিমন্ত্রিতদের শেষ ব্যাচ ততক্ষণে চ্যাকোর-চোকোর করে পান চিবোতে চিবোতে বাড়ি পৌঁছে যাবে। ভাবা যায় না, তবু ভাবতে হচ্ছে। দিনু একটু প্রতিবাদের গলায় বললে, ‘এবার আমরাই সব করে নিচ্ছি, বাবা।’

    ‘আমরা! হোয়াট ডু ইউ মিন বাই আমরা! তুমি আর আমি এই দু-জনে মিলেই তো আমরা। যাও ডোন্ট ওয়েস্ট টাইম। আহা বেড়ে বাজাচ্ছে!’

    উত্তরে বারান্দার ধারে কলের পাশে উবু হয়ে নিরঞ্জন সোডা দিয়ে দু-ডজন কাঁচের গেলাস ধুচ্ছিল। দিনু বললে, ‘হেলপ। দুটো হাতই ভেজা। ওপর হাত দিয়ে কপালের ধারে ঝুলেপড়া চুল ঠিক করতে করতে নিরঞ্জন বললে, ‘কী ধরনের হেলপ, ঝুল ঝাড়া?’

    ‘তার চেয়েও মারাত্মক, বিছানা বওয়া।’

    ‘এখন আবার কে শোবে?’

    ‘এখন নয়, রাতের জন্যে রেডি করা হচ্ছে।’

    ‘রাত এখনও অনেক দূরে, একটু পরে হবে।’

    ‘ছোটোবাবু ওয়েট করছেন। তুমি না পারলে অন্য কারোকে ধরতে হবে।’

    ‘ওরে বাবা কুরুক্ষেত্র হো যায়েগা!’

    স্টোররুমে বিছানাপত্তর সব লটঘট হয়ে পড়েছিল। নিরঞ্জন একাই একশো। গন্ধমাদন ঘাড়ে করে দক্ষিণের ঘরে লাফিয়ে পড়ল। দিনু দর্শক। দিনুর বাবা আর নিরঞ্জন, দু-জনে ধস্তাধস্তি। নিরঞ্জন মোটা তোশকটা খাটের মাঝখানে রোলকরা অবস্থায় পাতলা সতরঞ্জির ওপর ফেলে একটা পাশ খুলেছে। নিরঞ্জন খাটিয়ে, তবে সব কাজই একটা ধুমধাড়াক্কা গোছের। যে পাশটা খুলেছে সে পাশটার ভাঁজ ছোটো। খাটের সমান সমান হয়নি। হিড়হিড় করে টান। সতরঞ্জি-মতরঞ্জি গুটিয়ে পাকিয়ে একাক্কার। দিনুর বাবা চটে উঠলেন, ‘তোর এই ইডিয়টিক কাজকর্ম দেখলে আমার বাইলস ঠিক থাকে না নিরঞ্জন!’

    নিরঞ্জন বোকার মতো মুখ করে বললে, ‘আপনার তো পাইলস ছিল না ছোটোবাবু! এবার দেশে গেলে পাইলসের মাদুলি এনে দেব, সেরে যাবে।’

    ‘আ মূর্খ, কোথায় বাইলস আর কোথায় পাইলস! পনেরোটা অ্যালফাবেট টপকে জাম্প করে বি থেকে জি-তে চলে গেলি! ধড়ফড়ে স্বভাব যাবে কোথায়? বাইলস মানে পিত্তি। তোর কাজকর্ম দেখলে আমার পিত্তি চটে যায়।’

    ‘আজ্ঞে ধনেপলতা।’

    ‘নামা ইডিয়েট নামা। সব নামা। আবার বিগিন ফ্রম দি বিগিনিং।’

    সানাই পিলুতে ঠুমরি ধরেছে। দাদরয়া বলে মোরা সোর। সমের মাথায় দিনুর বাবা হাঁ করে একটা শব্দ করে বললেন, ‘আহা জমিয়ে দিয়েছে!’

    নিরঞ্জন সঙ্গেসঙ্গে বললেন, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ! তুই গানের কী বুঝিস রাসকেল?’

    ‘ছেলেবেলায় অনেক যাত্রা দেখেছি যে ছোটোবাবু।’

    ‘বেশ করেছিস। এখন বকবক করে সময় নষ্ট না করে সতরঞ্জিটা আবার সমান করে পাত।’

    ‘তা পাতছি তবে থাকবে না, আবার গুটিয়ে যাবে।’

    ‘আলবাত থাকবে। সব কিছুর একটা সায়েন্স আছে।’

    ‘সে আবার কী?’

    ‘সে বোঝার ক্ষমতা থাকলে তুই নিরঞ্জন হবি কেন আর আমি তোর ছোটোবাবু হব কেন?’

    ‘আজ্ঞে তা ঠিক।’

    দিনু আর নিরঞ্জন দু-দিক থেকে ধরে সতরঞ্জিটাকে টান টান করে পাতল।

    ‘পেতেছি ছোটোবাবু।’

    ‘বেশ করেছিস। এবার আয় তোশকটাকে দু-জনে দু-দিক থেকে ধরে স্ট্রেট নামিয়ে দি, নো টানাটানি। যাকে বলে প্যারাচুট ড্রপিং!’

    ‘সে আবার কী?’

    ‘ও হল যুদ্ধের ব্যাপার, তুই বুঝবি না, যা বলি তাই কর। তোশকটা খোল, চাদর পাতার মতো পাততে হবে।’

    ‘তোশক আর চাদর এক হল? তোশক কত ভারি! আপনার না সাইটিকা আছে, এখুনি কোমরে লেগে যাবে খচ করে।’

    ‘সাইটিকা যেমন আছে তুইও তো তেমনি আছিস, দুরমুশ করে দিবি।’

    ‘আজ কাজের বাড়ি, দুরমুশ হবে কী করে!’

    ‘আজ তো রাতে ঘুম নেই। যন্ত্রণা হলে জেগে বসে থাকতে হয়, আজ তো এমনিই বসে থাকতে হবে। তবে উড়ো খই গোবিন্দায় নমঃ!’

    ‘আজ্ঞে কোমর যদি বেঁকে যায় গোবিন্দর বাপের ক্ষমতা কী সোজা করে!’

    ‘তুই গোবিন্দর বাপ তুললি, এরপর তো দিনুর বাপকে তুলবি রাসকেল!’

    ‘ছি বাবু, ওটা হল কথার কথা।’

    ‘নে ধর।’

    ‘পারবেন না বাবু। বেজায় ভারি।’

    ‘ভীমচন্দ্রকে স্মরণ কর। বল ভীমায় নমঃ।’

    ‘একবার কেন এক-শোবার বলছি কিন্তু মহাভারতের যুগ কি আর ফিরে আসবে ছোটোবাবু!’

    ‘খুব আসবে, ইফ দুর্যোধন অ্যাণ্ড দুঃশাসনস ক্যান কাম ভীমসেন মাস্ট টার্ন আপ।’

    ‘মালা এসেছে, ফুল এসেছে, ছোটোমামা কোথায়, ছোটোমামা।’ দিনুর বড়ো পিসতুতো বোন ছোটোমামা, ছোটোমামা করতে করতে দরজার সামনে দর্শন দিল। চেহারাটি ভালো। এখনও কিন্তু পাত্র জোটেনি। চাঁদের আলোয় নির্জন ছাদে দাঁড়িয়ে একদিন দিনুকে চকাম করে চুমু খেয়ে বলেছিল, ‘তোর মুখটা ভারি মিষ্টি।’

    চরাচর ভেসে গেছে চন্দ্রালোকে। কোথাও একটা কোকিল ডাকছে। গালের ভিজে ভিজে জায়গাটায় দিনু হাত বুলোচ্ছে। সেই দৃশ্যটা দিনুর কেবলই মনে পড়ে। সেই নরম অনুভূতিটা ফিরে আসে বারে বারে।

    ‘ক-টা মালা এসেছে গুনেছিস?’ দিনুর বাবা প্রশ্ন করলেন।

    ‘না তো ছোটোমামা।’

    ‘এক ডজন গোড়ের মালা আছে কিনা দেখ।’

    ‘আপনি একবার চলুন না।’

    ‘বিছানা!’

    ‘আমরা আছি তো!’

    নিরঞ্জন যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচল, ‘হ্যাঁ বাবু আপনি যান আমরা আছি তো!’

    গোড়ের মালা এসেছে। নতুন বউকে সাজাবার ফুলের গহনা এসেছে। চূড়, বাজু, মালা। সরু তার দিয়ে পাকানো পাকানো। দিনুর বাবা দিনুর মামাকে বললেন, ‘মোহর, এ তো বড়ো বিপজ্জনক জিনিস হে। বউমাকে পরাবে বটে তবে রক্তারক্তি হয়ে ধনুষ্টঙ্কার না হয়ে যায়। একটা ইঞ্জেকসান দিয়ে দিতে পারলে ভালো হত।’

    ‘মেয়েরা একটা দিন এসব পরেই থাকে, ভয়ের কিছু নেই।’

    ‘কিন্তু এই শীতকালে সারা গায়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ফুল জড়িয়ে ঠায় ঘণ্টা চারেক বসে থাকাও একটা পানিশমেন্ট হে। বিবাহ মাথায় থাক।’

    ‘আজ্ঞে বিবাহ জিনিসটাই তো এক ধরনের শাস্তি। তবু আনন্দের।’

    ‘যাক মেয়েদের ব্যাপার মেয়েরাই বুঝবে, আমার বারোটা মালা আমি তুলে নিয়ে সরে পড়ি। ও হো, একটা ভুল হয়ে গেল হে!’

    ‘কী ভুল?’

    ‘তোমার ওই ওস্তাদদের একটা করে মালা দেওয়া উচিত, তবেই না বাজাবার মেজাজ আসবে।’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ তা ঠিক, তবে ভুল যখন হয়েই গেছে তখন তো আর উপায় নেই। মালা ছাড়াই সানাই বাজবে। মালাটা তো আর এসেনসিয়াল নয়।’

    ‘কিচ্ছু ভেবো না মোহর, সব ভুলেরই সংশোধন আছে। নিরঞ্জন! নি-রঞ্জ-ন!’

    ছোটোবাবুর তীক্ষ্ণ ডাক নিরঞ্জনের কানে গেছে। তোশক পাততে গিয়ে শতরঞ্জিটা কুঁচকেছে কিনা দেখার জন্যে সে খাটের তলায় চিত হয়ে শুয়েছিল অনেকটা গাড়ি মেরামতের কায়দায়— ‘আজ্ঞে যাই ছোটোবাবু!’ তেলা মেঝে। হড়কে বেরিয়ে এল সটান!

    ‘নিরঞ্জন! আর ইউ ডেড?’

    নিরঞ্জন একলাফে ছোটোবাবুর সামনে এসে বললে, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ বাবু!’

    ‘হ্যাঁ বাবু? ডেড মানে কী?’

    ‘জানি না তো।’

    ‘না জেনে সব কথায় হ্যাঁ বলিস কেন? সোজা বাজার। তিনটে মালা। বেস্ট মালা কিনবি।’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

    ‘আবার হ্যাঁ!’

    ‘আজ্ঞে না।’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ। বেস্ট মানে কী?’

    ‘মুখ্যু বাবু, ইংরেজির মানে সব কি জানি?’ নিরঞ্জন সকলের মুখের দিকে তাকাল।

    ‘বেস্ট মানে সেরা।’

    ‘আজ্ঞে সেটা যেন আন্দাজ করেছি।’

    ‘গুড। পৃথিবীর সব কিছুই কমনসেন্স দিয়ে বোঝা যায়, পন্ডিত হবার প্রয়োজন হয় না। যাবি আর আসবি। হাঁ করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাক দেখো না।’

    ‘হাঁটুর ওপর তোলা ধুতিটাকে নামিয়ে দিয়ে শরীরের ধুলোটুলো ঝেড়ে ওরই মধ্যে একটু ফিটফাট হয়ে নিরঞ্জন ঘোঁত ঘোঁত করে সদরের দিকে দৌড়োলো।

    দিনুর বাবা শ্যালকের দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখে বললেন, ‘সংসারের অ্যাসেট, মাথায় করে রেখেছে। এসব মানুষ দুর্লভ।’ হাতে বারোটা রজনীগন্ধার গোড়ের মালা, শরীরের চারপাশ বেয়ে ঝুলছে, সারা মুখে একটা তৃপ্তির হাসি। বাবাকে খুশি দেখে দিনুর বেশ লাগছিল। ভেতরের নরম মানুষটি কদাচিৎ এইভাবে বেরিয়ে আসে। সারা সংসারটা তখন হেসে ওঠে। দিনুকে পাশে পেয়ে দিনুর বাবা যেন হালে পানি পেলেন। সংসারে তো দু-টিমাত্র মানুষ। দিনু আর তিনি নিজে। নিরঞ্জনকে ধরলে, ধরলে কেন ধরতেই হবে, সে বেচারা সব ছেড়ে এখানেই জড়িয়ে পড়েছে, সংখ্যা দাঁড়ায় তিন। বউমা আসায় চার। আত্মীয়স্বজন আজ যাঁরা এসে বাড়ি গমগমে করে তুলেছেন তাঁরা তো সব ক্ষণিকের অতিথি। সুখটি নিয়েই সরে পড়বেন। দুঃখে-সুখে এই ক-জন মানুষই সাতান্ন নম্বর বাড়ির প্রধান চরিত্র।

    ‘এই নাও মালা। আজ শুভদিন, নিজে হাতে পরাবে।’

    কাকে পরাবে? বউকে? ভেবেই চোখে একটা লাজুক দৃষ্টি নেমে এল। হাত বাড়িয়ে মালাগুলো নিল।

    ‘একটা তোমার মার ছবিতে, একটা জ্যাঠাইমার ছবিতে, একটা জ্যাঠামশাইয়ের ছবিতে, পরলোকগত যাঁদের ছবি আছে সব ছবিতে একটা করে। ঠাকুর্দার ছবি অনেক উঁচুতে। টেবিলের ওপর চেয়ার রেখে উঠতে হবে। চেষ্টা কোরো না। রেখে দাও। এটা আমার কাজ। চান করে এসে ঠাকুর আর ঠাকুর্দার গলায় আমি পরাব। বিছানা-পর্ব কত দূর?’

    ‘আজ্ঞে হয়ে গেছে।’

    ‘তাহলে মোহর, উই হ্যাভ আর্নড এ কাপ অফ টি। একটু চায়ের ব্যবস্থা দেখো।’

    ‘ঠিক বলেছেন, ভেতরটা সত্যিই চা চা করছে।’

    ‘করতেই হবে, শালা ভগ্নীপতির এক বাত। তা ছাড়া জানবে, উৎসবে ব্যসনে একমাত্র উৎসাহদাতা চা। কিন্তু কে করবে?’

    ‘করার জন্যে ভাবছেন! ও তো লাগাতার হয়েই চলেছে। শুধু হুকুমের মামলা। চা দপ্তরে শুধু বললেই হল।’

    ‘তা হলে বলে ফেলো।’

    দিনুর বড়ো পিসতুতো বোন রেখা চায়ের চার্জে। মামা হেঁকে বললেন, ‘রেখা, রেখা, দু কাপ কড়া জিনিস এদিকে ছেড়ো।’

    উত্তর দিক থেকে উত্তর এল, ‘আচ্ছা মামা।’

    উত্তর দিকটা আপাতত মেয়েমহল। কেচরমেচর কথার খই ফুটছে। মাঝেমধ্যে হাসির শব্দ। অন্য সময় হলে নারীদের উচ্চকন্ঠ দিনুর বাবা এক দাবড়ানিতে শেষ করে দিতেন। আজ শুধু বললেন, ‘আইডিয়েল হিন্দু বিবাহের অ্যাটমসফিয়ারটা ঠিক জমেছে।’

    সানাই পোঁ ধরেছে, এইবার কোনো রাগ বেজে উঠবে। ওস্তাদজি দম নিচ্ছেন। মেয়ে মহলে হঠাৎ খিলখিল হাসি উঠল, অনেকটা হাওয়ায় দুলে ওঠা ঝাড়-লণ্ঠনের শব্দের মতো। দিনুর বাবা অবাক হয়ে উত্তরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘মেয়েছেলে জাতটাই অদ্ভুত হে মোহর, যেমন কাঁদতে পারে তেমনি হাসতে পারে, যেমন রাগতে পারে তেমনি রাগাতে পারে।’

    দিনুর বউ চা নিয়ে আসছে গুটি গুটি পায়ে। দেখলেই হাসি পায়। যেন দম দেওয়া পুতুল! মাথায় সামান্য ঘোমটা। খুলে যাবার ভয়ে একটা পাশ ঠোঁটের ক্লিপে আটকানো। লালের ঘেরাটোপে ধবধবে ফর্সা মুখ।

    ‘বাবা চা।’ হাতটা দিনুর বাবার দিকে উঠল। একটু যেন কাঁপছে। বাবার নজর এড়াল না। বউ বাবা বলেছে, দিনুর কী আনন্দ! এতদিনে বাবাকে বাবা বলার দু-জন লোক হল সংসারে।

    দিনুর বাবা চায়ের কাপটা নিতে নিতে বললেন, ‘হোয়াই সো শেকি! আমাকে অত ভয়ের কী আছে মা! বাঘ না ভাল্লুক! মিশে দেখো মানুষটা তত খারাপ নয়। তবে হ্যাঁ, লোকে বলে ধাতটা একটু কড়া। সব সময় গম্ভীর। কিন্তু মা, তুমি যদি জানতে, একের পর এক কত ধাক্কা, মৃত্যুর মিছিল চলে গেছে জীবনের ওপর দিয়ে। হাসব কী করে! এক সময় সব ছিল, জমজমাট সংসার। এখন আমরা মাত্র দু-টি প্রাণী টিমটিম করছি। এইবার তুমি এলে। মোহর!’

    ‘আজ্ঞে!’

    ‘সেই গানটা, শূন্য এ বুকে পাখি মোর ফিরে আয় ফিরে আয়।’

    ‘জ্ঞান গোঁসাই।’

    ‘দ্যাটস রাইট। রাত্তিরে তোমার গলায় গানটা শুনতে চাই।’

    দিনুর বউ ধীরে ধীরে পেছু হটে হটে সরে পড়ার তালে ছিল। মেয়ে মহলের অনেক তালিমের পর ভয়ে ভয়ে চা দিতে এসেছিল। একটু আগের হাসির কারণ ছিল সেটাই। দিনুর পিসতুতো বোন শেখাচ্ছিল, বলবে, ‘বাবা এই নিন চা।’ বউ বলছিল, ‘শুধু দিয়ে এলেই তো হল, আবার বাবা বলতে হবে?’

    ‘তা হবে না! বাবাকে বাবাই তো বলতে হবে, না শ্বশুরমশাই বলবে?’

    ‘কিছুই বলব না, দিয়েই পালিয়ে আসব।’

    ‘তা কী হয় বাছা! বলতে হবে, বাবা চা কিংবা চা বাবা।’

    দিনুর বউ আবৃত্তি করতে লাগল, ‘চা বাবা, বাবা চা, চা বাবা…’

    দিনুর বাবা চায়ের চমুক দিয়ে বললেন, ‘আহা ফাসক্লাস। তুমি পালাচ্ছ কেন মা! আরে বোকা সংসারটা তো তোমার। যত তাড়াতাড়ি সহজ হতে পার ততই তো ভালো। আচ্ছা আচ্ছা, ধীরে ধীরে হবে। পেছু হটে নয়, সামনে তাকিয়ে বুক ফুলিয়ে, মাথা উঁচু করে যাও।’

    দিনু মায়ের ছবিতে ফুলের মালাটা পরিয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। ছেঁড়াছেঁড়া অস্পষ্ট স্মৃতি। মনে পড়ে কী পড়ে না। ‘তুমি খুব স্বার্থপর মা। কেমন ফেলে পালালে! সব ফাঁকা করে, ধীরে ধীরে আবার জমজমাট। এ যেন নীলকন্ঠের গানের সেই লাইনটা, এক কূল নদী ভাঙে নিরবধি আবার অন্য কূলে আকুলে সাজায়। কেন নেই! আজ কেন তুমি নেই? আমার শৈশবটাকে মরুভূমি করে দিয়ে কেমন সট করে কেটে গেলে! মা আমার একটা বউ এসেছে, একটা বউ। দু-জনে মা মা করে ডাকতুম, কেমন মজা হত…’। দিনুর চোখ ছাপিয়ে জল এসে গেল। ভাবটা চটকে দিলে দিনুর পিসতুতো বোন।

    ‘তোর কাছে অ্যানাসিন কী সারিডন আছে রে?’

    দিনু চোখ মুছে ধরাধরা গলায় বললে, ‘কেন কে খাবে?’

    ‘তুই একা একা মামিমার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিস? উৎসবের দিনে চোখে জল!’ আঁচল খুলে চোখের জল মোছাতে মোছাতে বললে, ‘তোর বউয়ের মাথা ধরেছে।’

    ‘না না, অ্যানাসিন-ফ্যানাসিন দিও না। পেটের পক্ষে, হার্টের পক্ষে খুব মারাত্মক।’

    ‘দেখিস! একটা অ্যানাসিনে মেয়েরা মরে না। কইমাছের প্রাণ! থাকে তো দে।’

    ‘নেই গো।’

    ‘নেই গো।’ দিনুর কথাটাই ঠোঁট উলটে উচ্চারণ করে দিনুর গালটা টিপে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। গালে লেগে রইল আদার গন্ধ। বোধ হয় আদা বাটছিল। অদ্ভুত মেয়ে। মনে পড়ল, সেই চাঁদের আলো, ভিজে ভিজে চুমু, সামান্য শিহরন।

    দিনু এবার চেয়ারে উঠল দ্বিতীয় মালাটা জ্যাঠাইমার ছবিতে ঝোলাবার জন্যে। মালাটা আর একটু বড়ো হলে ভালো হত। হাসি হাসি মুখে জ্যাঠাইমা তাকিয়ে আছেন দিনুর দিকে। সময় পেছোতে শুরু করেছে। সন্ধ্যে। ঠাকুরঘর। মিটিমিটি প্রদীপের আলো। চারদিকের দেওয়ালে কাঁপা কাঁপা ছায়া। জ্যাঠাইমা হাত জোড় করে বসে আছেন। পাশে ছোট্ট দিনু। সুরেলা গলা, ভবসাগর তারণ কারণ হে। স্বপ্নময় শৈশব জীবনকে পাশ কাটিয়ে কতদূরে চলে গেছে সময়ের স্রোতে ভাসতে ভাসতে। আহা! আজ যদি সবাই বেঁচে থাকতেন, বাড়িটা আরও কত জমজমাট হত।

    ডেকরেটারের লোক এসে দরজায় দরজায় রেশমী কাপড়ের ঝালর বাঁধছে। ইলেকট্রিসিয়ান সানাইয়ের টংঘরে, প্রবেশ পথের দু-পাশে ছোটো ছোটো টুনি ঝোলাচ্ছে। মিউনিসিপ্যালিটির খাবার জলের ট্রেলার এসেছে। সূর্য হন হন করে পশ্চিমের দিকে চলেছে। আকাশের টং-এ চিল ঘুরপাক খাচ্ছে।

    সন্ধ্যে যথাসময়ে সেজেগুজে এল। সানাইয়ে ইমন কল্যাণ চড়েছে। দিনুর সাজগোজ শেষ। দিশি ধুতি। সোনার বোতাম লাগানো সাদা সার্জের পাঞ্জাবি। মামা নিজের হাতে কোঁচায় চুনট করে দিয়েছেন। কানের পাশে আতর ঘষে দিয়েছেন। তাঁর নিজের সাজেও শিল্পীর মেজাজ। হাতে হাড়ের নস্যির ডিবে, সিল্কের রুমাল জড়ানো। ফর্সা চেহারায় সরষে রঙের গরম পাঞ্জাবি। হাড়ের বোতাম তাকিয়ে আছে। পায়ে কোলাপুরী। মাঝে মাঝে গায়কোচিত গলাখাঁকারি। দিনুর ঘরে খাটের ওপর ঔরঙ্গাবাদের সোনালী বেডকভার। ভেলভেটের সিংহাসন চেয়ারে ফুলসাজে দিনুর বউ। দিনুর পিসতুতো বোনের এক বান্ধবী খাতা আর পেনসিল নিয়ে রেডি। উপহারের হিসেব রাখবে।

    একটা দুটো গাড়ি আসছে। ‘আসুন, আসুন’ চলছে। একটি শিশু ফোলডিং চেয়ার উলটে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তার কান্না, সানাইয়ের তীক্ষ্ণ সুর, ‘ওরে, পশ্চিমের আলোটা দপ দপ করছে,’ ‘মাধুরী একটা মালা দে ভাই, খোঁপায় জড়াই’, দিনুর বউকে একটি ফচকে মেয়ে কী বলেছে, সবাই হাসছে, সিল্ক, যৌবনে, সেন্টে, রান্নার গন্ধে অ্যাটমসফিয়ার জমজমাট। নিরঞ্জন চায়ের ট্রে নিয়ে ঘুরছে। পাতলা কাগজে ছাপা রুমাল-কবিতা হাতে হাতে ঘুরছে, ‘চেয়েছিলে গীতা, পেয়ে গেছে গীতা, কর এবে তুমি সেই আরাধনা, আর কি থাকবে মনে।…রয়েসয়ে ভাই, চোখ কান খুলে, জ্ঞানের সঙ্গে ভক্তি মিশায়ে কর্মের ভিয়েনে ছেঁকে, গীতাকে তোমার সঙ্গী করে, পাল তুলে চলো দুলে দুলে।’ ইতি তোমার অমুক তমুক। একটা স্টেশান ওয়াগনে করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এসেছে গোনাগুণতি। বউয়ের ঘরে ঢোকে কার বাবার সাধ্যি! কুঁচোকাঁচা, উঠতি পড়তি মেয়েতে ঠেসে গেছে।

    মাঘের শেষ ফাল্গুনের শুরু, খুব দখিনা বাতাস ছেড়েছে। রজনীগন্ধা তাজা হয়ে উঠেছে। হাওয়ায় তেরপল কাঁপছে। ক্যালেণ্ডারের পাতা উড়ছে। নতুন তোয়ালে কোমরে জড়িয়ে পরিবেশকরা পেতলের বালতি আর হাতা নিয়ে চরকিপাক খাচ্ছে। দিনুর বাবা তসরের শাল গায়ে হাত জোড় করে জনে জনে জিজ্ঞেস করছেন, ‘ঠিক হচ্ছে তো!’

    ‘ও খুব হচ্ছে।’

    ‘কেমন রেঁধেছে?’

    ‘জবাব নেই!’

    ‘ওহে পোলাওটা আর একবার ঘুরিয়ে দাও।’

    ‘এ পাতে মাছ।’

    একজন পরিবেশক আর একজনকে ফিস ফিস করে বলছে, ‘ছিটে বেড়া! তেত্রিশটা কমলাভোগ সেঁটে এখনও দাও দাও করছে।’ দূরে সুন্দরী একজন মহিলাকে একজন পরিবেশক খুব তোয়াজ করছে, ‘বউদি, দইয়ের মাথা, আর একটু আর এক চামচে।’

    সানাই বেহাগ ধরেছে। দিনুর বউ ভেলভেটের সিংহাসন ছেড়ে উঠে পড়েছে। নিমন্ত্রিতদের শেষ ব্যাচ পান চিবোতে চিবোতে বহু দূর চলে গেছেন। নির্জন রাতে বাতিরমালা পাগল করা দখিনা বাতাসে দুলছে। এবার বাড়ির সবাই খেতে বসবেন। দিনুর পিসিমা এসে বলছেন, ‘ছোড়দা, মোহর, তোমরা সব চলো। পাতা করা হয়েছে।’

    ‘বউমা! বউমা বসবে না? দিনু বসবে না?’

    ‘তোমাদের হয়ে যাক।’

    ‘ও নো নো। রাত প্রায় বারোটা হল। সব একসঙ্গে। কতক্ষণ আর টাঙিয়ে থাকবি!’ কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। ছাদের এ মাথায় পুরুষ। ও মাথায় মেয়েরা। দিনুর বউয়ের চিবুকটা পাতায় প্রায় ঠেকে গেছে। মুখের ফাঁদ যতটা সম্ভব কম খুলে টুকটুক খাচ্ছে। পরিবেশনকারীরা মিলিটারি মেজাজে পরিবেশন করে চলেছে। সারা সন্ধ্যে খেটে সকলেই প্রায় ক্লান্ত। কেউই খাবেন না। দিনুর বাবা বলেছেন, পরে একদিন সকলকে পরিতোষ করে খাওয়াবেন।

    মাঝের বড়ো হলঘরে পড়েছে। মাঝখানে চকচক করছে স্কেলচেঞ্জ হারমোনিয়াম। চিত হয়ে শুয়ে আছে তুঁত কাঠের এসরাজ। সানাই স্তব্ধ। বাতাস ঠাণ্ডা। দিনুর মামার গা থেকে আতরের গন্ধ বেরোচ্ছে। দিনু বসে আছে পা মুড়ে।

    এসরাজটা কাঁধে তুলে নিতে নিতে দিনুর বাবা বললেন, ‘নাও ধরো মোহর। একটা বসন্ত ছাড়ো তো!’

    গণেশকাকা পান চিবোতে চিবোতে বললেন, ‘একটু পরোজ মিক্স করে দিবেন।’

    একে একে সব বাতিই নিবিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনেরগুলোই জ্বলছে। মেয়েরা সব দিনুর ঘরে নতুন বউকে নিয়ে পড়েছে। স্ত্রী-আচার চলছে। ফুলশয্যার প্রস্তুতি।

    হারমোনিয়াম থেকে সুর ঠিকরে বেরোলো। এসরাজে ছড় পড়ল। দিনুর মামা অপূর্ব সুরেলা গলায় গাইতে লাগলেন, ‘হোরি খেলত নন্দকুমার।’ দিনুর হঠাৎ মনে হল, সে দিনু নয় সাজাহান। খুব জমেছে। ঠুংরির পর ঠুংরি। কাফি সিন্ধু, পিলুবারোয়া, ধানি, দেশ। ঢং ঢং করে দুটো বাজল।

    গণেশবাবু দিনুর বাবাকে বললেন, ‘দিনুকে এবার ছেড়ে দাওয়া হোক। বেচারা ইমপেশেন্ট হয়ে পড়েছে। আজ ওর নাইট অফ অল নাইটস।’

    ‘হোয়াট ইমপেশেন্ট, নেভার! তুমি কী ভাব আমার ছেলের সেই ব্রীড।’

    দিনুর সুরের লতাবিতান ছিঁড়ে ধপাস করে মৃত্তিকায় এসে পড়ল। ইঙ্গিতটার মধ্যে দেহের গন্ধ। দিনুর ব্রহ্মচর্য আজ শেষ হবে। সে হবে গৃহী। স্ট্যাটাসটাই পালটে গেল। ব্যাচেলার থেকে ম্যারেড। গণেশবাবু বললেন, ‘আই ডোন্ট মিন দ্যাট। তবে রাতটাই তো ফুলশয্যার। সবাই অপেক্ষা করে আছে।’

    ‘অপেক্ষাই তো মধুর গণেশ। সবই তো থাকবে, থাকবে না এই রাতটা। হাওয়েভার, দিনু, ইউ মে গো।’

    দিনুর মাইমা দিনুকে ধরে ধরে ঘরে নিয়ে গেলেন। মহিলারা ভীষণ অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। দিনুর পিসতুতো বোন বললে, ‘ছোট মামার যেমন কান্ড! রাত ভোর হয়ে গেল! কখন আর ঘুমোবে?’

    ‘আরে রাখ তোর ঘুম! কত রাত এখন জেগে কাটবে!’

    ‘তা যা বলেছিস ভাই।’

    ‘প্রথমে কত্তা বলবেন গিন্নী শুনবেন, তারপর বলবেন গিন্নী শুনবেন কত্তা, তারপর দু-জনে বলাবলি করবেন পাড়া-প্রতিবেশী শুনবেন।’

    নিজেদের রসিকতায় নিজেরাই হেসে উঠলেন। দিনুকে একটা গরদের ধুতি পরতে হয়েছে। তার হাতে একটা ডিশ। তাতে একটা সন্দেশ। আধখানা কামড়ে খেয়ে বাকি আধখানা বউকে খাওয়াতে হবে। ডিবেতে দু-খিলি পান দু-জনের। এক গেলাস জল। দিনুর ঘরটা নিয়ে মহিলাদের ভীষণ অভিযোগ। সব কটা জানালাই রাস্তার দিকে। এমন একটা ফাঁকফোকর নেই যে আড়িপাতা যাবে!

    ‘তুমি তা হলে দরজাটা দিয়ে দাও।’

    রাত, প্রায় তিনটে। বাইরের বাতাসে শীত আর বসন্ত একসঙ্গে উড়ে চলেছে। মামার গান ভেসে আসছে—‘শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয় ফিরে আয়, তোরে না হেরিয়া ওরে উন্মাদ, পান্ডুর হল আকাশের চাঁদ।’

    ‘সত্যিই তাই। পশ্চিম আকাশে চীনে লণ্ঠনের মতো ফ্যাকাসে চাঁদ হাওয়ায় দুলছে। রজনীগন্ধার ঝাড় থেকে দু-একটি আলগা ফুল শব্দ করে টেবিলের ওপর ঝরে পড়ল। উপহার মোড়া একটা সেলোফোন কাগজ বাতাসে খড়খড় করছে। অনেক দূরে কে যেন বলছে, ‘উনুনে এখনও আঁচ আছে, নিরঞ্জন চায়ের জল বসা।’

    দিনু বউকে ডাকল, ‘গীতা!’

    স্বচ্ছ মশারির ভেতর থেকে উত্তর এল, ‘বলো।’

    ‘ঘুমোলে?’

    ‘না তো!’

    ‘তবে?’

    ‘জেগেই আছি।’

    দু-জনে পাশাপাশি বেশ কিছুক্ষণ শুয়ে রইল। দিনু চিৎ, বউ কাত। রেশমী লেপ দু-জনকেই ঢেকে রেখেছে। সারা ঘরে ফুলের গন্ধ মেখে গোলাপী অন্ধকারে রেণু রেণু হয়ে ভেসে যাচ্ছে। কামসূত্র কী শিখিয়েছে এখন আর মনে পড়ছে না। গলা শুকিয়ে কাঠ। এক গেলাস জল খেতে পারলে ভালো হত। অনেক রকম ভাবনা আসছে মনে। বহু ধরনের শব্দ আসছে কানে। দিনুর মনে হচ্ছে, সারা দেওয়ালে অজস্র জোড়া জোড়া চোখ তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বউয়ের দিকে একটা কাঁপা কাঁপা হাত বাড়াতে গিয়ে টেনে নিল। মনে হল, হাত ঠেকালেই সারা ঘরে হিস করে একটা সম্মিলিত শব্দ ছড়িয়ে পড়বে।

    দিনু কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলে, ‘গীতা ঘুমোলে?’

    কোনও সাড়া পেল না। বালিশে কনুইয়ের ভর রেখে দিনু নিজেকে তুলে ধরল, ঝুঁকে পড়ল বউয়ের দিকে। মুখটা ওপাশে ফেরানো। পুঁটলি হয়ে শুয়ে আছে। যেন পরের বিছানায় বিদেশি বালিকা। এখনও অধিকার বোধ জন্মায়নি। গাছ কী অত সহজে জমিতে শিকড় নামায়! ছোট্ট কপাল। ফোঁটা ফোঁটা চন্দনের টিপ। চুলের কুঁচি। মুখময় সারা দিনের ক্লান্তি। সত্যিই ঘুমিয়ে পড়েছে। ভয়ে মটকা মেরে পড়ে নেই। না, তুমি তা হলে ঘুমোও। দিনু লেপটা বউয়ের গায়ে টেনে দিল ভালো করে। মেয়েলি ঘুমের আলাদা একটা সৌন্দর্য আছে। বড়ো মোলায়েম। পাখির বাসার মত পলকা কিন্তু নির্ভরতায় ভরা। বড়ো স্নেহ আসছে। দিনু একটা পুতুল পেয়েছে।

    লেপের আর একটা পাশ তুলে, মশারি খুলে দিনু রাজবেশে খাট থেকে নেমে পড়ল। ভারমুক্ত হল খাটটা ক্যাঁচ করে একটা শব্দ ছাড়ল। যাক বাবা, বাঁচা গেল। ফুলশয্যা অতি সহজে শেষ হল। ফাঁড়া কেটে গেল। ওদিকে উনি আবার আর একটু সরতে গিয়ে খাট থেকে পড়ে যাবেন না তো! পাশবালিশটা দিতে পারলে ভালো হত। যাক গে? যা হয় হবে।

    একটা পাখি ডেকে উঠল। রাত প্রায় শেষ হয়ে এল। চাঁদ আরও ফ্যাকাশে। তারার রং সাদা। ঘরের বাইরে যাওয়া যাক। দিনু দরজার ছিটকিনি খুলতেই একটা দেহ চিত হয়ে চৌকাঠে তার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ল। দিনুর বিস্ময় কাটার আগেই পায়ের কাছে উলটেপড়া মূর্তি আড়মোড়া ভেঙে বসতে বসতে বললে, ‘আড়িপাততে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম রে। সারাদিন কত খেটেছি বল?’

    ‘বিছানায় শুলেই পারতে। যাও আমার বিছানায় গিয়ে একটু শুয়ে পড়ো। এখনও অন্ধকার আছে।’

    দু-হাত মাথার ওপর তুলে খোঁপা ঠিক করতে করতে দিনুর পিসতুতো বোন মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসে থেকেই বললে, ‘এখন আর শোব না রে, ঘুমোলে আর সহজে উঠতে পারব না। তোরা কী কথা বললি রে! শুধু তো একবার শুনলাম, গীতা ঘুমোলে? তারপর নিজেই ঘুমিয়ে পড়লুম।’

    ‘ওই একই কথা আর একবার বলেছিলুম। তুমি শুধু শুধু এত কষ্ট করলে কেন!’

    ‘করতে হয় রে। অনেক কালের নিয়ম আড়িপাতা।’

    দিনু ঘর থেকে বেরিয়ে এল। বাইরেটায় বেশ ঠাণ্ডা। শীত শীত করছে। চোখ জ্বালা করছে। লম্বা হলঘরে শূন্য ফরাস। একপাশে হারমোনিয়ম, অন্য পাশে এসরাজ টানটান শুয়ে। একটা খালি প্লেটে গোটা কতক লবঙ্গ। চারদিকে থই থই আলোআঁধারি। বিয়ের বাসী বাড়ি। সময় এক রাতেই সব উৎসব মুছে জীবনে যেমন ছিল তেমনি করে দেবে। স্মৃতি ম্লান হয়ে আসবে। এক কাপ চায়ের সন্ধানে দিনু বেরিয়ে পড়ল।

    বছর থেকে বছর ঘুরে গেল। জীবনের সুরে সময়ের নদীর ওপর দিয়ে একটু একটু করে বড়ো হতে হতে সাতটা বছরের পিলার পেরিয়ে এল। সেই বাড়ি। জীবনটা শুধু ঝরতে ঝরতে, ক্ষইতে ক্ষইতে সরু হয়ে এসেছে।

    ২

    মাঘের শেষ ফাল্গুনের প্রথম খুব দখিনা বাতাস ছেড়েছে। দিনু দাঁড়িয়ে আছে দোতলার ঘরে কাছা গলায়। নীচে সোরগোল, ‘খাট এসেছে, খাট এসেছে।’ দিনু চমকে উঠল। অনেক দিন আগের অস্পষ্ট স্মৃতি। সেদিনও খাট এসেছিল, সেদিনও উৎসব ছিল, সেদিন সানাই ছিল। সে উৎসব ছিল আনন্দের, আগমনের। আজকের উৎসব বিদায়ের, বেদনার। বাবা চলে গেছেন। অগ্রদানীকে দেবার খাট এসেছে। লেপ, তোশক, বালিশ, চাদর আগেই এসে গেছে। গতকাল ঘাট হয়ে গেছে, আজ শ্রাদ্ধ, ব্রাহ্মণ ভোজন প্রভৃতি অনুষ্ঠান। বাবার ঘরেই বাবার ছবি ঝুলছে। প্রমাণ মাপের ছবিটি সবে হয়ে এসেছে। বীরেনবাবুর হাতের কাজ। ফোটোর ওপর নিপুণ হাতে রং লাগিয়েছেন। ফ্রেমটা ঝকঝক করছে। দিনু ছবিটা নামাতে এসেছে। নীচের শ্রাদ্ধবাসরে ছবিটি বসবে। চোখে চোখে থাকবেন।

    ঘরের কোণে একটা টুল। তার ওপর ভাঁজ করে করে খবরের কাগজ রাখা। শেষ কাগজ পড়েছেন গত পনেরো তারিখে। চশমার খাপটা টেবিলের ওপর সেই যাবার দিনের মতো করে রাখা। বিছানায় টানটান চাদরপাতা। চটি দু-পাটি খাটের তলায়, দেওয়াল আলনায় জামা, ধুতি, চাদর, সাদা সোয়েটার। এই যেন বাথরুমে গেছেন। এখুনি এসে পড়বেন গামছায় হাত মুছতে মুছতে। মৃত্যু যেন অদৃশ্য আততায়ীর মতো ওঁত পেতে থাকে। কখন যে হঠাৎ লাফিয়ে এসে খপ করে টুঁটি টিপে ধরে!

    সেদিন সকালে অফিস বেরোবার সময় সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। দিনুর ছ-বছরের ছেলে ফ্ল্যানেলের জামা, পাজামা, সোয়েটার পরে, হাতে একটা লাল বল নিয়ে দাদুর কোলে বসে পা নাচাচ্ছিল। দিনু প্রণাম করে হাসি হাসি মুখে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। সামনেই তার বউ গীতা। হাতে দু-গেলাস দুধ। কথায় কথায় বলে, আমার এখন দুটো ছেলে, ছোটো খোকা আর বড়ো খোকা। দুটোকেই দুধ খাওয়াতে জীবন বেরিয়ে যায়। বেলা দুটোর সময় সব শেষ। হয়তো কিছু বলার ছিল, শোনা হল না।

    দিনু এসে দেখল টেবিলের ওপর একরাশ গ্রামার আর ট্রানস্লেশনের বই। হাওয়ায় পাতা উড়ছে। চশমাটা উপুড় হয়ে আছে। বাবার চোখের দৃষ্টি মহাশূন্যে স্থির। মুখে ক্ষীণ হাসি। বালব আছে, আলো নেই। একটা সূক্ষ্ম তার কোথাও ছিঁড়ে ঝুলে পড়েছে।

    ইদানীং খুব গ্রামার আর ট্রানস্লেশনের বই পড়ছিলেন। দিনু একদিন অবাক হয়ে ব্যাপারটা জানতে চেয়েছিল। বলেছিলেন, উত্তর পাবে জাতকের ভূমিকায়। দিনু জাতক খুলে দেখেছিল: শুদ্ধ একজন্মের কর্মফলে কেহই গৌতম প্রভৃতির ন্যায় অপার বিভূতিসম্পন্ন সম্যকসমৃদ্ধ হইতে পারে না; তিনি বোধিসত্ত্ব অর্থাৎ বুদ্ধাঙ্কুর বেশে কোটি কল্পকাল নানা যোনিতে জন্মজন্মান্তর পরিগ্রহপূর্বক দানশীলাদি পারমিতার অনুষ্ঠার দ্বারা উত্তরোত্তর চরিত্রের উৎকর্ষসাধন করেন এবং পরিশেষে পূর্ণপ্রজ্ঞা লাভ করিয়া অভিসম্বুদ্ধ হন।

    আবার তাহলে আসতে হবে! কোথায়? কীভাবে?

    গীতা এসেছে। একমাথা রুক্ষ চুল। সাদা কোরা শাড়ি। করুণ মুখে ছলছলে দৃষ্টি, ‘তুমি একা একা এ ঘরে কী করছ? চলো কাজে বসবে চলো। ভটচাজ্যিমশাইরা এসে গেছেন।’

    বুকের কাছে ছবিটা দু-হাতে আঁকড়ে ধরে দিনু সিঁড়ি ভেঙে নামছে। আজ আর সানাই নেই। নিরঞ্জন নেই, দিনুর মামা নেই, গণেশকাকা নেই। সেদিনের সেই হালুইকর অনন্ত নেই। সেদিনের নিমন্ত্রিতদের মধ্যেও অনেকে নেই। আম আর অশ্বত্থ গাছে সবুজ সোনা পাতার লুটোপুটি। গীতার গলায় ভাঁজ পড়েছে। দিনু সব দেখতে পাচ্ছে। সময় চলেছে নদীর মতো ভাঙতে ভাঙতে, গড়তে গড়তে।

    কীর্তনিয়ারা এসে আসর জাঁকিয়ে বসেছেন। খোল বেজে উঠেছে কুপ কুপ করে। বড়ো একা লাগছে আজ। জনসঙ্গেও নিজেকে আজ বড়ো নি:সঙ্গ মনে হচ্ছে। কীর্তনিয়ারা হঠাৎ গেয়ে উঠলেন:

    আমি একা রৈলাম ঘাটে

    ভানু সে বোসিলো পাটে…

    দিনুর বাবা বেঁচে থাকলে দিনুর মামাকে বলতেন, ‘আহা অ্যাটমোসফিয়ারটা বেশ জমেছে মোহর!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃগয়া – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ফাঁস – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }