Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মরুতীর্থ হিংলাজ – অবধূত

    লেখক এক পাতা গল্প351 Mins Read0
    ⤷

    মরুতীর্থ হিংলাজ – ১

    [মরুতীর্থ হিংলাজ বাংলা ভাষায় রচিত একটি আত্মজৈবনিক কাহিনি। এটির রচয়িতা অবধূত তথা দুলালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। পাকিস্তানে বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত মরু এলাকা হিংলাজ’ হিন্দুদের একটি তীর্থস্থান; ৫১ শক্তিপীঠের এক পীঠ।

    মন্দিরের নামেই গ্রামটির নাম হিংলাজ। বাংলা, হিন্দি, অসমীয়া ও সিন্ধি ভাষায় দেবীর নাম হিংলাজ হলেও মূল সংস্কৃত শব্দটি হলো “হিঙগুলা”।

    হিংলাজের তীর্থযাত্রীরা সেকালে যেতেন উটের পিঠে চড়ে। যাত্রা শুরু হত করাচি শহরের কাছে হাব নদীর ধারে। সঙ্গে থাকত এক মাসের রসদ, যেমন শুকনো খাবার, মরুদস্যুদের প্রতিরোধ করার জন্য অস্ত্র, পানীয় জল ইত্যাদি। এছাড়া সঙ্গে থাকত হিংলাজ মাতার প্রসাদের জন্য শুকনো নারকেল, মিছরি, বাতাসা ইত্যাদি। এক মাসের অত্যন্ত কঠোর যাত্রার পর শ্রান্ত তীর্থযাত্রীরা পৌঁছতেন হিংলাজে। অঘোর নদীতে স্নান সেরে তাঁরা দর্শন করতে যেতেন হিংলাজ মাতাকে। এই মন্দির স্থানীয় বালুচ মুসলমানদের কাছেও পরম আদরণীয়। তাদের কাছে এটি “নানী কী হজ” নামে পরিচিত।

    হিংলাজের মন্দিরটি একটি গুহার মধ্যে অবস্থিত। এটি আসলে একটি অগ্নিকুণ্ড। অগ্নিজ্যোতিকেই হিংলাজদেবীর রূপ বলে মানা হয়।

    বাঙালী ঔপন্যাসিক কালিকানন্দ অবধূত-রচিত ‘মরুতীর্থ হিংলাজ এবং ‘হিংলাজের পরে’ উপন্যাস-দুটিতে হিংলাজ ও কোটেশ্বর তীর্থদ্বয়ের বিস্তৃত ও অনুপুঙ্খ বিবরণ রয়েছে।

    বইটি কেবল হিংলাজে গমনাগমনের কাহিনী নয়, এতে আছে একজন সংসারবিরাগী মানুষের জীবনদর্শন। চমৎকার গদ্যের জন্য এর সাহিত্যমূল্যও উঁচু। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুলালচন্দ্র সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেন এবং উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দিরে গিয়ে অবধূত হন। তাঁর নতুন নাম হয় কালিকানন্দ অবধূত। অবধূত বলতে একরূপ সাধক বোঝায়। হিংলাজ যাত্রা শুরু হয় বাংলা ১৩৫৩ সনের আষাঢ় মাসে। এই উপন্যাসটি অবলম্বনে ১৯৫৯ সালে একটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়, যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন বিকাশ রায় ও উত্তমকুমার।]

    মরুতীর্থ হিংলাজ – অবধূত

    ১৩৫৩, আষাঢ় মাস। ছিটে-ফোঁটা বৃষ্টিরও দেখা নেই। ধূলার সমুদ্রের মাঝে সর্বপ্রকার আভিজাত্যের ছোঁয়া এড়িয়ে করাচী শহরের শেষ প্রান্তে একটি বস্তি, সেইখানে নাগনাথের আখড়ায় অতি প্রাচীন দালানটার এক কোণে আশ্রয় নিয়েছি হিংলাজ-যাত্রী আমরা কয়জন।

    এই স্থানটি করাচী শহরের অনেকগুলি ফালতু মানব মানবীর রাত্রের আস্তানা। পথে কাটে যাদের দিন, তাদের অনেকে রাতটা এখানেই কাটায়। সারাদিনের দেওয়া-নেওয়ার হিসাব নিকাশের জের রাতের আঁধারে এখানেই টানা হয়। পাশাপাশি শয়ন করলে জনা-শতেক লোক এখানে ধরে। কিন্তু গরজ যখন অনেকের তখন একটু আপদ-বালাই যে ঘটবেই তাতে সন্দেহ কি-তার ওপর অনেকের আবার তিন দিক খোলা দালানটায় ওরই মধ্যে একটু আড়াল সম্ভব হওয়া চাই। বিড়ি ধরাবার প্রয়োজনে রাত্রে দিয়াশলাই জ্বালানোও নিষিদ্ধ। শালীনতায় আঘাত লাগতে পারে।

    এই নাগনাথের আখড়া একদা নাথ-সম্প্রদায়ের সাধুরা স্থাপন করেন। সেই একদা যে কবে তার ইতিহাস জানা অসাধ্য। কালে তাঁরা যথাস্থানে প্রস্থান করেছেন। বর্তমানে আখড়া যারা দখল করেন তাঁরাই এর চারিদিকে সসংসার বসবাস করছেন।

    এঁদের পেশার অন্ত নেই। জুতা সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ পর্যন্ত। তার মধ্যে বড় পেশা-বছরে দু-একদল যাত্রী নিয়ে হিংলাজ যাত্রা। একদা সাধুরা এই আখড়া স্থাপন করেন হিংলাজ দর্শনাভিলাষী সাধুসন্তের আশ্রয়স্থানের অভার পূরণের জন্যেই।

    কিন্তু আজ যাঁরা পেশা হিসাবে হিংলাজ-যাত্রী নিয়ে তীর্থদর্শন করাতে যান তাঁদের পোড়া পেটের দাবি মেটাবার মতো উদ্বৃত্ত এ পেশায় সম্ভব নয়। সারা ভারত থেকে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে রসকষহীন এই তীর্থে যাত্রীই বা জোটে কয়জন? যদিও বা কেউ আসেন তিনি হয় লোটা-কম্বল-চিমটা-সম্বল মাকে-খানেওয়ালা অথবা বড়জোর একদল কাথওয়াড়ী চাষি। সম্বল যাদের আটা লবণ মরিচ ও কম্বল।

    সুতরাং হিংলাজের ছড়িদারদের সংসার ও সংসার-লক্ষীদের চেহারায় আর যে কোনো পরিচয়ই থাকুক, শ্রী ও শান্তির চিহ্নমাত্র নেই, থাকতেও পারে না।

    দু-জন চার-জন করে জমতে জমতে শেষ পর্যন্ত যাত্রীদল ত্রিশ পর্যন্ত পৌঁছল গোটা এক মাস অপেক্ষা করে। আর অপেক্ষা করাও সম্ভব নয়। পথের নদীগুলো শুকনো থাকতেই ফিরে আসা চাই। অনেকবার নাকি এমনও ঘটেছে যে নদীর জল বৃদ্ধির ফলে দিনের পর দিন আটকে পড়ায় যাত্রীদলের আহার্য গেছে ফুরিয়ে, তারা আর কখনো ফিরে আসেনি। পরের বছর যারা গেছেন তারা এখানে-ওখানে বালুর ওপর রাশি রাশি শুকনো শুভ্র হাড় দেখতে পেয়েছেন।

    ছড়িদারদের তরফ থেকেও এবার যাত্রার তাগিদ দেখা দিল। এখন উটওয়ালা এলেই হয়।

    গোটা একটা মাস পার হয়ে গেল সেই নাগনাথের আখড়ার দালানটায়। নিশীথ রাত্রে চারিদিকের রহস্যময় ঘুমন্ত মানুষগুলির মধ্যে শুয়ে কত কি যে ভাবতাম-জন্ম মৃত্যু, পাপ-পুণ্য, ইহকাল-পরকাল। কোনো কিছুরই কূল-কিনারা নেই। সারা জীবনটা চোখের সামনে গড়গড় করে বয়ে চলে যেত। আমি নামক লোকটি যেন এই জীবন-নাটকটার নাম ভূমিকার অভিনেতা। কিন্তু নাটকটা যাঁর লেখা-তাঁর ইচ্ছা ও মর্জির বাইরে এক পা ফেলবার ক্ষমতা আমার নেই। সবচেয়ে বড় মজা, এখনও যে অঙ্কগুলি বাকি আছে-তাতে যে আমাকে কি অভিনয় করতে হবে, তাও জানবার উপায় নেই।

    ঐ যে দূরে আকাশের পশ্চিম দিকে আস্তে আস্তে সন্ধ্যাতারাটি চলে যাচ্ছে, ঐ দিকেই কোথাও হিংলাজ। আজও জানি না ঐখানে পৌঁছানো আমার কপালে ঘটে উঠবে কিনা! আর এই সুদীর্ঘ ধৈর্য পরীক্ষার শেষ ফল যখন মিলবে তখন কৌতূহল নিবৃত্তির আফশোস ছাড়া আর কি আমার ঘরে পড়বে তাই বা কে জানে!

    দীর্ঘনিঃশ্বাস আপন হতেই বুক থেকে বেরিয়ে আসে। ছুটে চলেছি যেখানে সতীর ব্রহ্মরন্ধ্র পড়েছিল, সেই মহাপীঠ হিংলাজে। ভগবান রামচন্দ্র রাবণ-বধ করে ব্রহ্মহত্যার পাপ-ভাগী হয়েছিলেন, তাঁর সেই পাপস্খলন হয় এই মহাতীর্থ-দর্শনে। অত বড় পাপ অবশ্য আমার হিসাবের ঘরে জমা থাকা সম্ভব নয়। এ যুগে ব্রাহ্মণ কোথায় যে ব্রহ্মহত্যার পাপ ঘটবে আমার! তবে অন্তত এইটুকু আমার কপালে নিশ্চয়ই জুটবে যাতে আমার এই জীবন-নাটকের অনাগত অজানা অঙ্কগুলিতে ছুটোছুটির পালা আর থাকবে না, আকুলি-বিকুলির যবনিকাপাত হবে। এই আশাটুকুই মনের কোণে চেপে আগামী কালের অপেক্ষায় পাশ ফিরে শুই।

    দিনের বেলা ব্যস্ত থাকি-পাথেয় জোগাড়ে। শেঠ ভগবান দাস সব থেকে বড় সোনার ব্যবসায়ী করাচী শহরে। তিনি কলকাতার কালি আর গৌহাটির কামাখ্যা মাকে দর্শন করেছেন। তিনি ব্যবস্থা করলেন আমাদের হিংলাজ দর্শনের। কামাখ্যার তান্ত্রিক ভৈরব-ভৈরবীর প্রতি তার অটল আস্থা-যদিও তিনি নিজে গোড়া জৈন। পোকা খাবার ভয়ে অর্থাৎ পাছে জীবহত্যা হয় এ কারণে সন্ধ্যার পর তিনি জলও পান করেন না।

    কিন্তু মুশকিল বাধল বাংলা দেশের আওরাতকে নিয়ে। হিংলাজ-পথের কষ্ট সহ্য করা কোনোক্রমেই তার পক্ষে সম্ভব নয়।

    শেষ পর্যন্ত প্রচুর অর্থ ব্যয় করে একটা আস্ত উট ব্যবস্থা করলেন তিনি ভৈরবীর জন্যে। সেই উটের পিঠে উঠল মুখঢাকা টিনে টিনে বোঝাই চীনাবাদাম আখরোট

    কিশমিশ খেজুর মিছরি আর বস্তা বস্তা চাল আটা লবণ মরিচ আলু পেঁয়াজ। বড় বড় বোম্বাই পেঁয়াজ কেন হিংলাজে চলছে? শেঠজি আমাদের বোঝালেন, বালুর মধ্যে এই পেঁয়াজ চিবিয়ে খেলে ‘লু লাগবে না আর পিপাসাও কম পাবে।

    ব্যবস্থা এতই দরাজ হাতে হল যে দলসুদ্ধ সবাই মায় ছড়িদাররা আমাকে মোহান্ত মহারাজ বলে ডাকতে শুরু করলে।

    তারপর বিপুল পরিমাণ লটবহরকে দুই ভাগে ভাগ করে উটের দু-ধারে ঝুলিয়ে দেওয়া হল, তাতে তার পিঠের উপর খানিকটা সমতল স্থান তৈরি হল। তার উপর একটা খাঁটিয়া চিত করে পেতে উটের সঙ্গে আচ্ছা করে বেঁধে দেওয়া হল। শেষে খাঁটিয়ার পায়া চারটে ঘিরে দড়ি বাঁধা হল। সেই চিত করা খাঁটিয়ার মধ্যে দড়ি ধরে বসে চললেন ভৈরবী। তাজ্জব ব্যাপার হচ্ছে এই যে, যাওয়া আসার ষোল দুগুণে বত্রিশ দিন দৈনিক আধঘণ্টা হিসাবে সমানে তিনি ঝাঁকি খেলেন। আর সে কি ঝাঁকানি! উট এক কদম চরণ ফেললে ঈশান অগ্নি নৈঋত বায়ু চারকোণে চারবার টাল সামলাতে হয় তাঁকে যিনি উপরে চড়ে বসে থাকেন। কিন্তু কোনো অভিযোগের কোনো তোয়াক্কা নেই ভৈরবীর। খুশি মনে সামনের চীনাবাদাম ও খেজুর চিবনোই হচ্ছে তার কাজ। একেবারে রাজসিক ব্যাপার। লটবহর নিয়ে যাত্রা আরম্ভ হল একদিন বিকেল তিনটের সময়। তার পূর্বে প্রত্যহ সকাল-সন্ধ্যা অষ্টপ্রহরে কমসে কম অষ্টআশী বার ‘উটওয়ালা কবে আসবে এই কথা জিজ্ঞেস করতে করতে আমাদের নাভিশ্বাস উঠবার উপক্রম হল। এদিকে আমাদের শ্রদ্ধেয় ছড়িদারগণ নির্বিকার ভাবে উত্তর দিতেন, “কে জানে কবে আসবে, সংবাদ তো দেওয়া হয়েছ; স্বাধীন মুল্লুকের লোক তারা, সবই তাদের মেজাজের উপর নির্ভর করে।”

    স্বাধীন দেশের লোক উটওয়ালারা। আমরা যেখানে তীর্থ করতে যাব–সেইদেশ লাসবেলা স্টেট। করাচী সীমানা পার হয়ে সেই দেশের আরম্ভ এবং শেষ বালুচিস্থানের সীমানায়। সেখান থেকে আসবে সেই দেশের উট আর উটওয়ালা। লোক গুনে সরকাররে খাতায় লিখিয়ে দিয়ে আমাদের ভার নেবে সে। ফিরিয়ে দিয়ে যাওয়াও তার দায়িত্ব। রাস্তা সে-ই জানে, কিন্তু কার্যক্ষেত্র প্রমাণ হল, না তা নয়, জানে তার উট।

    অবশেষে একদিন এসে পৌঁছল তারা চারজন। উটের মা ও মেয়ে দুজন, আর বাপ ছেলে উটওয়ালারা দুজন।

    শেখ গুলমহম্মদ অর্থাৎ বাপ-মহাশয় বকতে বকতে উপস্থিত হলেন। তাঁর ভয়ানক ক্ষুধা এবং ক্ষুধার তাড়নাতেই এত বয়সে তাঁকে ঘর ছেড়ে এই শক্ত কাজ করতে হচ্ছে। সবই নসীব! তবে হ, ধর্মপিপাসু ‘নানী কি হজ’ যাত্রিগণের তিনি নোকর, সুতরাং পরপারে তাঁর বেহেস্ত বাস ঠেকায় কে।

    আমাদের সকলকে নত হয়ে বার বার সেলাম করে উটদের তিনি বলতে লাগলেন যে, তাদেরও জন্ম সার্থক, কারণ এ হেন পুণ্যাত্মা যাত্রিগণ ইতিপূর্বে আর কখনো আসেনি এবং এটা একেবারে সুনিশ্চিত যে, এবারের যাত্রায় খয়রাৎ যা জুটবে তাতে নিশ্চিন্তে এক বছর ঘরে বসে আরাম করা যাবে। আরও কত কি তিনি বলে যেতে লাগলেন কে তার হিসাব রাখে।

    রৌদ্রদগ্ধ সাড়ে ছয়ফুট লম্বা গুলমহম্মদ এককালে রূপবান ছিলেন। পুত্র দিলমহম্মদও লম্বায় সাড়ে ছ’ফুট, স্বাস্থ্যও বেশ সুন্দর। রূপ, রং ও মুখ টিপে হাসি সমস্ত মিলিয়ে যেন রূপকথার রাজপুত্র। একমাত্র বিপদ হচ্ছে ওদের পরিধেয়গুলির দুর্গন্ধ। কলকাতায় কাবুলিওয়ালা দেখা যায় অনেক। সুতরাং এদের আকৃতি সম্বন্ধে সকলেরই মোটামুটি একটা ধারণা থাকতে পারে। কিন্তু সাজ-পোশাকের কদর্য নোংরা অবস্থাটা কল্পনা করাটা অসাধ্য। আর তাদের প্রকৃতির মাধুর্যের তুলনা দিতেও আমি সম্পূর্ণ অক্ষম।

    বত্রিশ দিন এদের হাতে জীবন-মরণ, মান-ইজ্জত সব কিছু সমর্পণ করে জনমানবহীন আকাশ তলে ঘুরেছি আর প্রতি পদে পদে মর্মে মর্মে এই সত্যটুকু অনুভব করেছি যে, দরিদ্রতা আর নীচতা এক বস্তু নয়। সেবা করার প্রবৃত্তি উপদেশ শুনে বা বই পড়ে কারও মধ্যে গজায় না। সততা ব্যাপারটা পেনাল কোডও পুলিশের চোখ রাঙানিতে বেঁচে আছে এও সত্য নয়। ভাল-মন্দ, ন্যায় অন্যায়-এই সমস্ত প্রশ্নের বাইরে আলাদা আর একটা জগৎ আছে যেখানে নিদারুণ অভাবেও প্রকৃতির নিরাভরণ নিঃস্ব সন্তানেরা দরদওয়ালা বুকের ছাতি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সেই বুকগুলির মধ্যে একমাত্র প্রেম ও ভালোবাসারই রাজত্ব। সেই রাজত্বের রাজা ও রাজপুত্র নির্বিকারচিত্তে আমাদের সকল দায়িত্ব তুলে নিলে।

    আমাদের যাত্রা হল শুরু। উটের মায়ের পিঠে উঠল জনা-প্রতি বত্রিশ সের হিসাবে আটা লবণ মরিচ গুড়। মেয়ের পিঠে উঠলেন সভোজ্য ও সবস্ত্র ভৈরবী। দল বেঁধে বস্তির মেয়েরা ভৈরবীকে বিদায় দিতে ঘিরে দাঁড়াল। মেটে সিঁদুরে তাঁর কপাল লালে লাল, লাল সুতোর গুচ্ছ কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত সকলে বেঁধে দিল। সকলের চক্ষু সজল।

    সূর্য তখন অস্তগামী। অস্তগামী সূর্যকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে চললাম। ফিরে আসার পর-গুলমহম্মদ ও দিলমহম্মদকে পুরো দু-থান পাগড়ির কাপড়ের অঙ্গীকার করলেন শেঠজি। ভৈরবীর পিঠে কমসে কম দশ সের ওজনের পাঞ্জাখানা রেখে গুলমহম্মদ তার জীবনভর না-মাজা সত্তর বছরের পুরনো হলুদ রঙে-এর বত্রিশখানা মজবুত দাঁত বার করে শপথ করলে-জান কবুল করে তার মায়ের মান-ইজ্জত সে রাখবেই। উপযুক্ত পুত্র তার সহায়, আর খোদা উপরে আছেন।

    প্রথমে মিনিট-কুড়ি করাচীর পিচঢালা রাস্তা, তারপর খানকতক চষাজমি। সর্বসমেত দেড়ঘন্টা চলার পর আমরা হাব নদীর ধারে রাত্রের জন্য থামলুম। বাঁয়ে করাচী এরোড্রামের লাল আলোগুলি মাথা উঁচু করে পাহারা দিচ্ছে। আমরা নদীর কিনারায় পুলের দক্ষিণে খোলা মাঠে আসন পাতলুম, এইখানে অতি প্রত্যূষে আমাদের যাত্রার সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। তারপর নদী পার হয়ে আমাদের সত্যকার যাত্রা শুরু হবে।

    আমাদের ছড়িদার যে কারা তখনও তা আমরা জানতে পারিনি। ছড়ি, অর্থাৎ হিংলাজ থেকে আনা একটা গাছের ডাল, দেখতে অনেকটা ত্রিশূলের মতো। জিনিসটাকে সিঁদুর মাখিয়ে এক অপূর্ব বিস্ময়কর বস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। মুশকিল-আসানদের মতো তাতে বিচিত্র বর্ণের কাপড়ের ফালি ঝোলানো। এটি একটি ভয়ানক পবিত্র বস্তু। যেখানে পৌঁছে প্রতিদিনের যাত্রার বিরতি হবে সেখানে এটিকে বালির উপর পুঁতে সর্বপ্রথম এর ভোগ লাগানো হবে। ভোগ লাগানো মানে হচ্ছে এক ছিলিম গাঁজা সেজে এঁকে সসম্ভ্রমে নিবেদন করে নিজেরা কষে দম একটি ভয়ানক পবিত্র বস্তু। যেখানে পৌঁছে প্রতিদিনের যাত্রার বিরতি হবে সেখানে। এটিকে বালির উপর পুঁতে সর্বপ্রথম এর ভোগ লাগানো হবে। ভোগ লাগানো মানে হচ্ছে এক ছিলিম গাঁজা সেজে এঁকে সসম্ভ্রমে নিবেদন করে-নিজেরা কষে দম লাগানো। এই ছড়ির প্রসাদাৎ-অর্থাৎ একে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করলে-আমাদের যাত্রা হবে নির্বিঘ্ন।

    শেষ রাত্রে হাব নদীর কিনারায় আমরা দলসুদ্ধ লোক সন্ন্যাসী সাজলাম। প্রত্যেকের জন্য এক একখানা রুমালের মাপে নূতন কাপড় গেরুয়া রঙে ছুপিয়ে নিয়ে এলেন এক প্রৌঢ় পান্ডা। তিনি গুরুগম্ভীর গলায় তার নিজস্ব ভাষায় আমাদের শপথ করালেন। যে, মাতা হিংলাজ দর্শন করে এখানে ফিরে আসা পর্যন্ত আমরা আমাদের সন্ন্যাস-ব্রত পালন করব এবং কেউ কাউকে হিংসা করব না। আমরা সকলে সকলকে সাধ্যমতো সাহায্য করব কিন্তু কোনোক্রমেই নিজ নিজ কুঁজোর জল অপরকে দান করব না। এমন কি স্বামী, স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, মা ছেলেকে বা ছেলে মাকেও নিজের কুঁজোর জল দিতে পারবে না। তার কারণ, তাতে শেষ পর্যন্ত দুটো জীবনই নষ্ট হতে পারে। প্রত্যেকের মাথায় সেই গেরুয়া বস্ত্রখণ্ড বেঁধে দিয়ে দলের মধ্যে একজনকে মোহন্ত, একজনকে ভাণ্ডারী ইত্যাদির কার্যভার দিয়ে তিনি ব্রাহ্মমুহূর্তে আমাদের নদী পার করে । দিয়ে বিদায় দিলেন। হিংলাজ মাতার জয়ধ্বনির সঙ্গে ছড়ি উঠল। সবিস্ময়ে দেখলাম আমাদের ছড়িদার বা সঙ্গী দুজনের বয়স এক সঙ্গে যোগ দিলে ত্রিশ পার হবে না। অর্থাৎ বড়োটি সতেরো বা আঠারো এবং ছোটটি বারো বা তেরোর সীমানা পার হয়নি। ভরসা কোথায়?

    এদের দু-জন সারা দিনরাত্রে ছিলিম তিরিশেক গাঁজা খেতে পারে, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতে পারে এবং সদাসর্বদা হিন্দি ফিল্মের গান গাইতে পারে।

    আমরা যাত্রীরা হলাম এঁদের যজমান। আমরা এঁদের ভক্তি করব, এঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব, এঁদের সেবাও করব। নচেৎ তীর্থদর্শনের কষ্টটুকুই লভ্য হবে, পুণ্যটা উবে যাবে।

    এঁরা চললেন ছড়ি ঘাড়ে করে প্রথমে; কণ্ঠে হিন্দি ফিল্মের গান। আমরা চললাম পিছনে; কণ্ঠ রুদ্ধ, মাথায় দুশ্চিন্তা।

    ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে। পাখিরা জাগছে, পিছনে ফেলে আসা এরাড্রোমের লাল আলোকগুলো তখনও বোধহয় আমাদের ফিরে যেতেই ইশারা করছে। পায়ের তলায় কাঁটা ফুটছে, কাঁটাগাছের ঝোঁপগুলির মধ্যে দিয়েই পথ।

    পিছনে পূর্ব আকাশে আলো ফুটে উঠল। মনে পড়ল, এতক্ষণ পুরীতে সূর্যোদয় হয়েছে। আলোয় ভেসে যাচ্ছে সমুদ্র-সৈকত। বহুবার দেখা জগন্নাথদেবের মন্দিরের চূড়াটি ভেসে উঠল চোখের সামনে। নূতন সূর্যের আলোয় সর্বপ্রথম চূড়াটিই ঝলমল করে উঠে।

    কি বিচিত্র এই সৃষ্টি! এখানে এখনো আঁধার। বই-পড়ে-জানা প্রকৃতির এই বিচিত্র রূপ মূর্তিমান বিস্ময়ের মত চোখের উপর ধরা পড়ল। এই সৃষ্টির যিনি হেতুস্বরূপ, সেই জগন্নাথদেবকে মনে মনে বার বার প্রণাম করে এগিয়ে চললাম।

    আমরা চলেছি…

    ⤷
    1 2 3 4 5
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআর্ট ও বাংলার রেনেসাঁস – অন্নদাশঙ্কর রায়
    Next Article বুড়ো আংলা – অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }