Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প122 Mins Read0
    ⤷

    ০১. নতুন সূর্যের আলো

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    প্রথম সংস্করণ: নভেম্বর ১৯৭৬

    অম্লান দত্ত
    শ্ৰদ্ধাস্পদেষ্ণু

    ১

    গাছগুলোর মাথায় এসে পড়েছে নতুন সূর্যের আলো, কিন্তু নীচে এখনও অন্ধকার। রাতের ঘুম এখনও ভাঙেনি, এর মধ্যে ভোর এসেছে। বাগানে শিশিরভেজা কুসুমকলি সবেমাত্র ফুটি ফুটি, বাসা থেকে পাখিরা মুখ বার করে ভাবছে, ডাকবে কি ডাকবে না, এ কি পূর্ণচাঁদের জ্যোৎস্না না দিনমণির আলো? গোয়ালে গোরুগুলো শিং নেড়ে নেড়ে মশা তাড়াচ্ছে। এই সময় দূরে শোনা গেল ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দ।

    সেই শব্দে ঘুম ভেঙে গেল গোয়ালিনী যশোমতীর। তড়িঘড়ি উঠে পড়ল। তার স্বামী তখনও গভীর ঘুমে মগ্ন, বুকের কাছে জড়িয়ে আছে তাদের একমাত্র শিশুটিকে। শিশুটির ঠোঁটে হাসির লেখা। ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও সে হাসে।

    ছোট্ট মাটির ঘরটি হাঁড়ি-সরায় ঠাসাঠাসি। ঘরের চাল থেকেও ঝোলানো রয়েছে ঝিঁক। চোখ মুছতে মুছতে যশোমতী এসে দাঁড়াল গবাক্ষের কাছে। কান খাড়া করে রইল। হ্যাঁ, সন্দেহ নেই, ঘোড়র ক্ষুরের শব্দই এগিয়ে আসছে ক্রমশ। একটি নয়, অনেক।

    পক্ষিমাতার মতন ব্যাকুল হয়ে যশোমতী প্রায় ছোঁ দিয়ে ছেলেকে তুলে নিল বুকে। রাজার সৈন্য আসছে তার ছেলেকে কেড়ে নিতে। কী করে লুকোবে, কোথায় লুকোবে এই সাত রাজার ধন এক মানিক? শিশুটি এখনও জাগেনি। যদি হঠাৎ জেগে উঠে কাঁদতে শুরু করে? যদি সেই কান্নার শব্দ বাইরে পৌঁছোয়?

    মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে যশোমতী স্বামীর কপালে হাত রেখে বলল, ওগো, ওঠো! ওঠো!

    তার স্বামীর নিদ্রা সহজে ভাঙে না।

    তখন যশোমতী হাত জোড় করে প্রার্থনার সুরে বলল, ওগো ঘুমঠাকরুন, তোমার পায়ে ধরে মিনতি করি, আমার পতিকে এখন ছেড়ে যাও। আবার রাত আসুক, তখন আবার তুমি এসো। এখন আমি ওঁর চোখ খুলে দিলে অপরাধ নিয়ো না। নিয়ো না।

    চৌপাইয়ের তলায় মাটির সরায় জল রাখা ছিল। সেই জল আঁজলা ভরে নিয়ে যশোমতী ঝাপটা মারল তার স্বামীর চোখে। একবার, দু’বার, তিনবার। এদিকে ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দ বেশ জোর।

    নন্দ গোয়ালা বিরক্তিসূচক উঃ শব্দ করে চোখ মেলল। তারপর দেখল, পরমান্ন-ভরা সোনার থালায় পিঁপড়ে ধরার মতন তার স্ত্রীর শান্ত, সুন্দর মুখ-ভরা উদ্‌বেগ। ছেলে তার পাশে নেই, মায়ের কোলে। কনুই ভর দিয়ে অর্ধেক শরীর উঁচু করে সে জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে? বাছার গায়ের আবার তাপ বেড়েছে?

    ওগো না! কান পেতে শোনো! তারা আসছে!

    নন্দ শুনল। তড়াক করে এক লাফে উঠে পড়ে, দরজার কোণ থেকে সড়কিখানা হাতে নিয়ে বলল, আসুক। আমার ঘর থেকে কেউ আমার ছেলেকে নিয়ে যেতে পারবে না।

    যশোমতী আরও ভয় পেয়ে গেল। একা নন্দ সড়কি হাতে রাজার সৈন্যদলের সঙ্গে লড়বে নাকি? রাজা উগ্রসেনের নিজের হাতে গড়া এই সৈন্যবাহিনী দেখে স্বয়ং মহাবল জরাসন্ধ পর্যন্ত প্রশংসা করেছিলেন। একথা কে না জানে এই সৈন্যরা কত নৃশংস।

    শেষ পর্যন্ত যুক্তি মানল নন্দ। সত্যি, গোঁয়ারতুমিতে কোনও লাভ নেই। যদিও তারা স্বামী-স্ত্রী নিরপরাধ, তবু রাজার উৎকট খেয়াল থেকে শিশুপুত্রকে বাঁচাবার জন্য তাকে পালাতেই হবে।

    পুজোর জন্য স্থলপদ্ম আহরণ করতে গিয়ে মেয়েরা যেমন অতি সাবধানে ফুলগুলো কোঁচড়ে রাখে, তেমন সাবধানে শিশুটিকে কোলে নিয়ে নন্দ বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে।

    পেছনের উঠোন পার হয়ে, লিচু আর জামরুল বাগানের মধ্য দিয়ে সে দৌড়োতে লাগল। দৌড়োতে দৌড়োতে পার হয়ে গেল আরও কত বাগান, তারপর ঘোর বন, তবু সে থামল না।

    যতক্ষণ স্বামী-পুত্রকে দেখা যায়, ততক্ষণ যশোমতী দাঁড়িয়ে রইল দরজায়, তারপর ফিরে এল জানলার কাছে। বাইরে থেকে তাকে দেখে মনে হয়, ঠিক যেন কাঠের পুত্তলি, যদিও তার বুকের মধ্যে ঝড় বইছে।

    এখন অনেক ঘোড়ার শব্দ, মাঝে মাঝে চিঁহি চিঁহি ডাক, অস্ত্রের ঝঞ্ঝনা, সৈনিক পুরুষদের হাস্যকৌতুক সবই স্পষ্ট শোনা যায়। ক্রমে, রাজপথে ধুলো উড়িয়ে তারা দৃশ্যমান হল, তাদের সোনার জল করা ঝকমকে শিরস্ত্রাণ দেখলে মনে হয় ঠিক যেন নদীর জলের সকালের সূর্যকিরণ। তাদের কোমরবন্ধে তলোয়ার, পাশে গোঁজা বর্শা, তাদের দৃষ্টি বাজপাখির মতন। রাজা উগ্রসেনের আমলে এই সেনাবাহিনী দেখলে বুকে ভরসা জাগত, মনে হত বাইরের যে-কোনও শত্রুকেই এরা দমন কবতে পারবে। উগ্রসেনের ছেলের আমলে এদের দেখলেই তরাসে বুক কাঁপে, কখন কার সর্বনাশ করবে তার ঠিক নেই।

    একটু বাদেই ঘোষপল্লির বিভিন্ন বাড়িতে হাহাকার পড়ে গেল, সৈন্যরা নানান বাড়িতে ঢুকে, জিনিসপত্র তছনছ করে খুঁজে দেখছে কোনও অল্পবয়সি শিশু আছে কিনা। যারা পেরেছে, আগেই তারা নন্দর মতন কোলের ছেলেকে নিয়ে পালিয়েছে। যাদের ঘুম ভাঙেনি, তাদের কপাল পুড়ল। সৈনিকের নিষ্ঠুর হাত মা-বাবার কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল শিশুপুত্র। কী অদ্ভুত খেয়াল হয়েছে নতুন রাজার, শিশুরক্ত না দেখলে তৃপ্তি হয় না!

    যশোমতীর ঘরেও এল ওরা। যশোমতী একটাও কথা বলল না, দরজা ছেড়ে এক পাশে দাঁড়িয়ে রইল। ওরা এসে খাট-বিছানা উলটেপালটে, হাঁড়ি-সরা ভেঙে তন্ন তন্ন করে দেখল। একটা হাঁড়িতে ভরা ছিল ক্ষীরের লাড্ডু, সেগুলো নিয়ে লোফালুফি করতে করতে বেরিয়ে গেল তারা। তখন যশোদা বুকের কাছে হাত জোড় করে বিড়বিড় করতে লাগল, কত দূরে; কত দূরে গেছে ওরা? ওদের কেউ দেখেনি তো? হে ঠাকুর, তুমি ওদের দেখো।

    এদিকে কত দূরে যে ছুটে চলেছে নন্দ, তার খেয়াল নেই! অশ্বারোহী সৈনিকদের নাগালের বাইরে যেতে হবে। এক সময় হাঁপাতে হাঁপাতে হাত পা অবশ্য হয়ে এল। চারদিকে ঘোর জঙ্গল। এখানে কেউ দেখতে পাবে না। ছেলেকে কোলে রেখেই নন্দ একটা বড় গাছের গুঁড়ির কাছে বসল।

    ছেলে জেগে উঠেছে এর মধ্যে। পিট পিট করে চাইছে। রীতিমতন দিনের আলো ফুটে গেছে, এক্ষুনি ছেলে কিছু খেতে চাইবে। নন্দরও খুব খিদে পেয়েছে। খিদের জ্বালায় ছেলে যদি কাঁদতে শুরু করে এখানে কী খাওয়াবে ছেলেকে! এখানে কোনও গাছের ফল কি বিশ্বাস করে খাওয়ানো যায়? নন্দ গাছগুলোকে চেনবার চেষ্টা করল। কয়েকটা গাছ চেনা, কয়েকটা অচেনা। কদম ফুলে ভরা গাছটি চেনা যায়, একটু দূরে দেখা যায় কয়েকটা বেল আর নারকেল গাছ, সবচেয়ে উঁচু গাছটি পিয়াল। একটি গাছের গা থেকে ভারী সুন্দর গন্ধ আসছে, এটাই কি চন্দনগাছ? আর ওই যে গাছের গুঁড়ির রং একেবারে কালো, এটার নাম কী? লোকমুখে সেও তমাল গাছের নাম শুনেছে, এই কি সেই তমাল? হবেও বা।

    ছেলে আর কোলে থাকতে চাইছে না, ছটফট করছে। নন্দ তাকে নামিয়ে দিতে বাধ্য হল। দু’-আড়াই বছর বয়স। এর মধ্যেই গুট গুট করে দিব্যি দৌড়োদৌড়ি করতে পারে। নন্দ চোখে চোখে রাখল, ছেলে খেলতে লাগল এদিক-ওদিক। ঘন জঙ্গল হলেও, আসবার পথে দু’-একটা ভাঙাচুরো বাড়ি চোখে পড়েছে। হয়তো একসময়ে এখানে কোনও নগর ছিল, কোন রাজার খেয়ালে একদিন ধ্বংস হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে শোনা যাচ্ছে একটা মিষ্টি কুলকুল শব্দ। নিশ্চয়ই নদী আছে কাছাকাছি কোথাও!

    নন্দর মাথায় একটা চিন্তা এল। গোকুল ছেড়ে এখানে এসে বাড়ি বানিয়ে থাকলে কেমন হয়? রাজার সৈন্যরা কি আর এদিকে আসবে? এ-জায়গাটা ভারী সুন্দর, থাকার পক্ষে বেশ। কাছাকাছি নদী যখন আছে, তখন গোচারণের তৃণভূমিও থাকবে অবশ্যই। ফেরার সময় ভালো করে দেখে যেতে হবে তো!

    দুপুরের আগে ফেরা নিরাপদ নয়। এর মধ্যে কিছু খাওয়ার ব্যবস্থা করতেই হবে। ছেলেটা এখনও কান্না জুড়ে দেয়নি। রোজ সকালে উঠে দুধ-ননি খাওয়া তার অভ্যাস। নতুন জায়গায় এসে দিব্যি খেলায় মেতে উঠেছে। কোথা থেকে একটা ময়ূরের পালক কুড়িয়ে পেয়ে খলখল করে হাসছে। নন্দ সতর্ক চোখে তাকাল। ময়ূর অতি হিংস্র পাখি। বাচ্চা ছেলে দেখলে চোখ ঠুকরে দেয়।

    ছেলে একটা ঝোপের আড়ালে চলে যেতেই নন্দ উঠে দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরল। সেই সময় দূরে কর্কশ শব্দে একটা ময়ূর ডাকল। নন্দ আর আকাশের দিকে তাকাবারও সময় পেল না; হুড়মুড় করে বৃষ্টি নামল।

    সে কী অঝোর বৃষ্টি! কোথায় লুকিয়ে ছিল এত মেঘ, দিব্যি তো রোদ খটখট করছিল। আকাশ জুড়ে যেন লক্ষ ভাল্লুকের দঙ্গল হুড়োহুড়ি শুরু করে দিয়েছে। ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে একটা ঘন পাতাওয়ালা গাছের নীচে আশ্রয় নিল নন্দ। কিন্তু সে-বৃক্ষও বেশিক্ষণ আশ্রয় দিল না। এক সময় সেখানে দ্বিগুণ বেগে জল পড়ে। ভিজে-নেয়ে একশা হয়ে গেল বাপ আর ছেলে। নন্দ ছেলেকে মুড়ি দিয়ে রেখেছিল নিজের গায়ের উড়নি দিয়ে। সেই ভিজে ত্যানা বার বার সরিয়ে ছেলে বৃষ্টির জলে হাত ঘোরায়। এখনও এক বারও কাঁদেনি। তবু নন্দর বুকের মধ্যে খুব যাতনা হয়, ভেতরটা মুচড়ে মুচড়ে ওঠে বার বার। এইটুকু ছেলে, জলে ভিজে যদি সান্নিপাতিক হয়। স্নেহের যদি কোনও অলৌকিক ক্ষমতা থাকত, তা হলে নন্দ তার শিশুপুত্রের মাথার ওপর চন্দ্রাতপ খাটিয়ে দিত এখনই।

    .

    নন্দরা ইন্দ্রের পূজারী। একবার তার ইচ্ছে হল, হাত জোড় করে দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে বর্ষণ বন্ধ করে দেবার জন্য প্রার্থনা করে। কিন্তু হাত উঠল না। খরা-অজন্মার বৎসরের বিভীষিকার কথা তার মনে পড়ে। ইন্দ্রদেব সদয় হয়েই বৃষ্টি দিয়েছেন। মাঘ মাস শেষ হয়ে গেছে, এখন বৃষ্টি হলে রাজা এবং দেশের পুণ্য হয়। হায় রাজা! তার কোপন স্বভাবের জন্যই আজ নন্দকে চোরের মতন পালিয়ে এসে এই আশ্রয়হীন অরণ্যে ছেলেকে নিয়ে ভিজতে হচ্ছে।

    প্রায় এক দণ্ড পরে বৃষ্টির তেজ কমতে লাগল একটু একটু করে। গাছতলা ছেড়ে নন্দ ফাঁকা জায়গায় এসে দাঁড়াল, উড়ুনিটা নিংড়ে মাথা মুছে দিল ছেলের। বড় দীন গলায় জিজ্ঞেস করল, খুব খিদে পেয়েছে, না রে?

    ছেলে বলল, খুব আর একটু!

    নন্দ বলল, এই তো এখুনি বাড়ি যাব, তোর মা তোকে খেতে দেবে, দুধ, ননি, সর, মোয়া, নারকেলনাড়ু—আর কী খাবি?

    ছেলে বলল, আর জল খাব!

    নন্দ বলল, আহা রে, আহা রে, এত বৃষ্টিতে ভিজেও জলের তেষ্টা মিটল না! দেখি কপালটা? একটু যেন গরম গরম? নাকি মনের ভুল!

    ছেলের ডান হাতের আঙুল ধরে হাঁটি হাঁটি পা পা করিয়ে নন্দ সবেমাত্র বাড়ির দিকে ফিরতে শুরু করেছে, এই সময় একটু দূরে শুনতে পেল গান। রিনরিনে কচি গলা। একটি নয়, তিন-চার জনের। এখানে এ-বিজন বনে কে গান করে? এখানে কি অপ্সরারা গোপনে খেলা করতে আসে? অপ্সরাদের চোখের সামনে পড়ে গেলে যদি কোনও অপরাধ হয়!

    ক্রমে দেখা গেল চারটি মেয়ে হেলে দুলে নাচতে নাচতে আসছে বনের পথে। তাদের ন’-দশ বছরের বেশি বয়স নয়, পিঠের ওপর চুল খোলা, কাঁচা সোনার মতন বর্ণ, গন্ধরাজ ফুলের মতন মুখশ্রী। যেন সত্যিই চারটি অপ্সরা কিংবা বনবালা।

    মেয়ে চারটি হঠাৎ নন্দকে দেখে ভয় পেয়ে বলল, ওমা!

    নন্দ কণ্ঠস্বরে অনেকখানি কাকুতিমিনতি মিশিয়ে বলল, ভয় পেয়ো না, বাছারা, কিচ্ছু ভয় নেই।

    ওরা আড়ষ্ট ভাবে দাঁড়িয়ে রইল।

    নন্দ ওদের আরও একটু আশ্বস্ত করার জন্য বলল, আমি আমার ছেলেকে নিয়ে এই পথে যাচ্ছিলাম। আমার নাম নন্দ গোপ, আমার ছেলের নাম কানু। তোমরা এই বনের মধ্যে দিয়ে কোথায় যাচ্ছ? তোমরা কি মানবী, না দেবী?

    মেয়েরা এবার ফিক করে হাসল। এ-ওর গায়ে ঠেলা দিয়ে বলল, এই, তুই বল না, এই, তুই বল না!

    তারপর ওদের মধ্যে যে সবচেয়ে ফুটফুটে, যার মুখখানিকে পদ্ম বলে ভুল করে মৌমাছি এসে বসতে পারে, সে কোকিলজয়ী কণ্ঠে বলল, আমি বৃষভানু রাজার মেয়ে, আমার নাম রাধা। আর এরা আমার সখী। আমরা যমুনায় ব্রত পারণ করতে যাচ্ছি।

    নন্দ উৎফুল্ল হয়ে বলল, ওমা, তুমি বৃষভানুদাদার মেয়ে! এর মধ্যে কত ডাগরটি হয়েছ! তোমার বাবাকে আমার কথা বোলো, উনি চিনতে পারবেন।

    নন্দর আর একটা কথা মনে পড়ে গেল। সে আরও বলল, আমিই তো তোমার বাবা আর মায়ের বিয়ে দিয়েছি!

    কানু ততক্ষণে বাবার হাত ছাড়িয়ে মেয়েদের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মেয়ের কোঁচড়ে বাতাসা আর ফুটকড়াই ছিল, ঠিক তা নজর করে সেদিকে হাত বাড়িয়েছে। মাটিতে পড়ে গেল কয়েকটি বাতাসা।

    নন্দ তা দেখে বড় লজ্জা পেল। তবু লজ্জার মাথা খেয়ে বলল, আমার বাছার বড় খিদে পেয়েছে, ওকে দু’টি বাতাসা দেবে মা?

    এক সখী বলল, এ যে আমরা ব্রতের জন্য নিয়ে যাচ্ছি। ব্রত না হয়ে গেলে কী করে দেব?

    কানু তবু কেড়ে নেবার জন্য হাত বাড়াচ্ছে। তা দেখে রাধা বলল, আহা দুটো বাতাসা দে, বৃন্দে! ব্রতে কি আর সব লাগে!

    ঝপ করে সে কানুকে কোলে তুলে নিল।

    নন্দ ব্যস্ত হয়ে বলল, দেখো, দেখো, রাখতে পারবে না, বড় দুরন্ত ছেলে।

    রাধা বলল, আহা, এইটুকু ছেলেকে কোলে রাখতে পারব না।

    আদর করে সে কানুর গালে একটু হামি দিয়ে বলল, ইস, কী সুন্দর ছেলেটি, টানা টানা চোখ, তিলফুলের মতন নাক! দ্যাখ দ্যাখ বিশাখা, কী রকম খট খট করে হাসছে!

    অন্য সখীরাও আদর করল কানুকে। কানুর এক হাতে তখনও সেই ময়ূরপালকটি ধরা। রাধা সেই পালকটা গোল করে মুড়ে কানুর মাথায় পরিয়ে দিল। তারপর বলল, কী সুন্দর মানিয়েছে না? ঠিক যেন স্বর্গের রাজপুত্তুর!

    ছেলের প্রশংসায় সব সময়ই গর্ব হয় নন্দর। সে একটা তৃপ্তির শ্বাস নিয়ে বলল, তোমাকে দেখেও আমার আজ বড় আনন্দ হল, মা! অনেক দিন যাইনি তোমাদের পাড়ায়। তোমার বাবাকে আমার কথা বোলো। যদিও এখন এ-দেশের রাজা কংস, তবু তোমার বাবাকেও আমরা রাজা বলি। বড় মানুষ না হলে রাজা হওয়া যায় না, তোমার বাপ সত্যিকারের বড় মানুষ। তোমার মা কেমন আছেন?

    ভালো।

    যেমন লক্ষ্মী শ্রীময়ী তোমার মা, তেমনটিই তুমি হয়েছ। জানো, আমি একবার কান্যকুব্জে তীর্থ করতে গেছি, রাজপথে একটি কিশোরীকে দেখলাম, যেন স্বয়ং লক্ষ্মী। দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। লোকের কাছে খোঁজ করে জানলাম, ও হচ্ছে ভলন্দরের রাজকন্যা। অমন রূপবতী মেয়ে আমাদের এ-দেশঘাটে একটিও দেখিনি। মনে মনে ভাবলাম, আহা, এমন মেয়েকে যদি আমাদের ওদিকে বউ করে আনা যায়! বুক ঠুকে গেলাম ভলন্দর রাজার দরবারে। সরল ভাবে বললাম, হে রাজন, আপনার কন্যা কলাবতীকে আপনি আমাদের রাজ্যে সম্প্রদান করুন। ব্রজের রাজা সুরভানুর ছেলে বৃষভানু অতি সুযোগ্য পাত্র। রাজকুমার বৃষভানু রূপেগুণে অদ্বিতীয়। যেমন তার উদার হৃদয়, তেমনই পরাক্রম! তাই শুনে ভলন্দররাজ বললেন, আপনি যখন বলছেন, চলুন একবার চোখে দেখে আসি ছেলেটিকে। যদি ললাটলিখন থাকে সেখানেই আমার মেয়ের বিয়ে হবে! তারপর সত্যি সত্যি রাজপুত্রী কলাবতীর সঙ্গে যুবরাজ বৃষভানুর পরিণয় হয়ে গেল। তা হলে দেখলে মা, তোমার বাবা-মায়ের বিয়েতে আমিই ঘটকালি করে ছিলাম?

    একটু থেমে, রাধার মুখের দিকে চেয়ে মুচকি হেসে নন্দ বলল, ভাবছি আর একটা বিয়েতেও আমি ঘটকালি করব!

    বয়স্ক লোকেরা গল্প শুরু করলে সহজে থামে না। রাধার সখীরা চঞ্চলা হয়ে উঠেছে। একজন রাধাকে একটু ঠেলা দিয়ে বলল, ও লো রাই, জল সইতে যাবি নে? সূর্য যে মাথার ওপর উঠল!

    নন্দ ব্যস্ত হয়ে বলল, হ্যাঁ, মা, তোমরা ক’টি বালিকা যে এই বনপথ দিয়ে যাও, তোমাদের ভয় করে না? দুষ্টু লোকের তো অভাব নেই! তা ছাড়া আছে কংসের সৈন্যরা।

    রাধা বলল, আমরা তো এদিক দিয়ে প্রায়ই যাই। আমাদের তো কেউ কিছু বলে না।

    নন্দ বলল, তুমি মা রাজার ঝিয়ারি, তোমার নাম শুনলেই সবাই সমীহ করবে। আমি সামান্য গোয়ালা, তাই সব সময় আতঙ্কে থাকি! বড় উৎপাত শুরু করেছে কংসের সেনারা। তবে শুনেছি, ওরা শুধু পুরুষ-শিশুদেরই ধরে নিয়ে যায়, মেয়ে-শিশুদের কিছু বলে না! আমার কানুকে যে কত কষ্টে রক্ষা করি! এমন প্রতাপ রাজা কংসের যে ভূত-প্রেত-দৈত্য-দানোরাও তাকে ভয় পায়। কতবার কত প্রেতিনি, ডাকিনী, দানো পাঠিয়েছে আমার কানুকে মারবার জন্য! ভাবছি এবার গোকুল ছেড়ে চলে যাব! এই বনের মধ্যে এসে ঘর বানিয়ে থাকলে কেমন হয়।?

    রাধা বলল, আসুন না, তা হলে আমাদের বাড়িরও কাছাকাছি হবে।

    এখান থেকে ব্রজপুরী কতটা দূর?

    এক ক্রোশ খানেক!

    এ-জায়গাটার নাম কী?

    এ-বনকে তো সবাই বৃন্দাবন বলে।

    বাঃ সুন্দর নাম! আমি বললে আমার প্রতিবেশীরাও আমার সঙ্গে চলে আসতে রাজি হবে। এখানেই হবে আমাদের গয়লাপল্লি।

    বিশাখা উতলা হয়ে বলল, ও রাই, চল না! কত দেরি হল যে!

    নন্দ বলল, হ্যাঁ মা, আর তোমাদের আটকাব না। এই কানু, চল বাড়ি যাবি না? দিব্যি কোলে চড়ে বসে আছিস যে! নাব!

    আর একবার শিশু কৃষ্ণের মুখ চুম্বন করে কোল থেকে নামিয়ে দিল বালিকা রাধা।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article তালাশ – শাহীন আখতার

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }