Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অশ্বচরিত – অমর মিত্র

    লেখক এক পাতা গল্প469 Mins Read0
    ⤷

    অশ্বচরিত – ১

    এক

    ভানুচরণ মানুষটি বড় অদ্ভুত। আসতে আসতে কী মনে হলো ভেড়িবাঁধ থেকে নেমে ঝাউবনের দিকে চলে গেল, যেন ঝাউবনে তার কন্থক রয়েছে। ছিল পক্ষিরাজ, হয়ে গেল কন্থক। ছিল ভানুচরণ, ভানু দাস হয়ে গেল ছন্দক। ঘোড়া হারিয়ে সে আরও উদাস হয়ে গেছে। না হলে ঘোড়াটাকে খুঁজতে বেরিয়ে আপন মনে অন্য দিকে চলে যায়! বলে কিনা, ওই দিকে যাই, আপনি বাবু দেখে আসুন লায়কানখাস। সেই থেকে শ্রীপতি একা। একেবারে একা।

    ভেড়িবাঁধের বাঁদিকে ঝাউবন। ঝাউবনের ওপারে সিংহসমুদ্র। হাজার সিংহ এক সঙ্গে গজরাচ্ছে। সিংহর কথা বলেছিল কে? ফরাসি সায়েব ফ্রেদরিক। লায়ন লায়ন! শ্রীপতিরও তাই মনে হয়। সিংহই বটে। তবে গর্জন যখন থাকে না, শুধু ঢেউ ভাঙে অন্ধকারে, পারের কাছে সফেন সমুদ্র বারবার মাথা কোটে, তখন মনে হয় সিংহ নয়, ও তার কেশর ফোলানো সাদা পক্ষিরাজ। পালাতে গিয়ে সাগরে গিয়ে পড়েছে। বারবার মাথা তুলছে নোনা জলের বিপুলতা থেকে। ঘোড়াটা কাঁদছে।

    হ্যাঁ, এই স্বপ্ন দেখেছে শ্রীপতি কদিন আগে। ইদানীং কত রকম স্বপ্ন যে দেখে হারানো ঘোড়া নিয়ে! ভারতীকে নিয়ে। তার বউ মধুমিতা আর ভারতীকে নিয়ে। আবার ওই পক্ষিরাজকে নিয়ে। সব দুঃস্বপ্ন। দেখতে দেখতে গলা শুকিয়ে আসে। মনে হয় নোনাজলে ডুবে যাচ্ছে সে। নোনাজলের নীলে শুধু তার পক্ষিরাজের কেশর দেখা যাচ্ছে। সমুদ্র কাঁদছে সারারাত।

    শ্রীপতি ঘাড় ঘুরোয়। রাতভর যে সমুদ্রের কান্না শোনা যায়, সেই সমুদ্র আর এই নীল জলধি এক নয়। মাটিতে আছড়ে মাটি যেন খেয়ে ফেলতে চাইছে বঙ্গোপসাগর। ভেড়িবাঁধের দক্ষিণ দিকে অনেক নিচুতে ধানী জমি, মাঠ। মাঠ আর মাঠ, তারপর এগিয়ে গাছ-গাছালির ছায়া। নুনমারাদের গ্রাম নুনের খালারিগুলোকে পিছনে ফেলে এসেছে শ্রীপতি। এখন বিকেল, রোদ পড়ে গেছে। আর একটা দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। শ্ৰীপতি দেখছে তাকে ঘিরে ছায়া নামার আয়োজন।

    ভানু কোথায় গেল কে জানে? ঘোড়া খুঁজেই বেড়াচ্ছে। খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না। তবু যাচ্ছে। ঘোড়াটা যেন ভানুর। ভানুই ওই ঘোড়ার মালিক, এমনই তার উদ্বেগ। মনে পড়ে শ্রীপতির, লোকটা যেদিন কাজ নিল তার হোটেলে, মানে তার পোষ্য হলো, তার আশ্রিত হলো, ঘোড়া দেখে বলল, ঘোড়ার কাজ কত কাল ধরে করে, ঘোড়া চেনে সে নিজেকে চেনার মতো করে, শুনুন বাবু, আমি যদি হই ছন্দক, ও হলো কান্হা, কন্থক।

    তারা কারা? শ্রীপতি অবাক হয়েছিল।

    মনে নেই বাবু, কে রাজপুত্রকে পৌঁছে দিল তপোবন ধারে? রাজপুত্ৰ সাধু হয়ে গেল রাজপুত্র হলো ভগবান বুদ্ধ, তার ঘোড়া আর সারথি মাথা হেঁট করে ফিরল, সেই ঘোড়া হলো আপনার ঘোড়া।

    হলে ক্ষতি কী শ্রীপতির? তবে কিনা পক্ষিরাজটি বোঝা যায়, কন্থক নাম শুনে সবাই হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। এ কেমন নাম? আর ভানু দাস সে কখন কী বলে, সংস্কৃত ভাষা বলে, ভুগোল বলে, ইতিহাস বলে, বলে কপিলাবস্তুর রাজপুত্রের কথা! তার কতটা সত্যি, কতটা মিথ্যে, কতটা বানানো তা কে ধরবে?

    গায়ের ঘাম শুকোনোর মুখে। দক্ষিণের নোনা বাতাস হুড়মুড় করে আছড়ে পড়ছে শ্রীপতির গায়ে। আজ জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা। জ্যৈষ্ঠ মাসটিও শেষ হতে গেল প্রায়। আকাশে মেঘ আসছে আর যাচ্ছে। রোদের তাত কমছে না। জ্যোৎস্নাও যেন গরম হয়ে উঠেছে, প্রকৃতি এমনই। এখন মেঘের ভিতরে চাঁদ এবং সমুদ্র একসঙ্গে জেগে উঠেছে উন্মাদের মতো। হাওয়ায় হাওয়ায় যেন টাল খাচ্ছে চাঁদও। ঠিক একটি মাস ভানুচরণের কন্তুক—শ্রীপতির ঘোড়া পক্ষিরাজ নিরুদ্দেশ। এ বড় আশ্চর্য ঘটনা। তার হোটেল থেকে বোশেখী পূর্ণিমার রাতেই পালিয়ে গেছে ঘোড়াটা। সেই ঘোড়া খুঁজতে সে দুপুর দুপুর বেরিয়েছিল লায়কানখাসের দিকে। সেখানে নাকি একটা ঘোড়াকে চরতে দেখা গেছে গত পরশু। দেখেছিল অনন্ত সার। সে ওই লায়কানখাসে নুনের খালারি করেছে। সেখানে তার বউ মেয়ে সারাদিন খাটে। অনন্ত লবণ নিয়ে আসে দীঘায়। এখানে পাইকার থাকে, কিনে নেয়। দরকারে সেও কাগজ পেতে বসে পড়ে। মোটা দানা লালচে নুন বেড়াতে আসা ট্যুরিস্টদের জন্য নয়। আশপাশের গাঁয়ের গরিব লোক এসে কিনে নিয়ে যায়।

    অনন্ত সার দেখেছিল লায়কানখাসে একটি ঘোড়া চরছে। দেখেইছিল শুধু, এর বেশি কিছু নয়। ঘোড়ায় তার কোনো কৌতূহল নেই। ঘোড়া থাকে তাদের যারা ঘোড়ায় চাপতে পারে। বড় মানুষের বাহন ওটি। কিন্তু তাকে তখন জিজ্ঞেস করছিল ঘোড়ার রক্ষক ভানু, সে অবাক। ঘোড়া তো দেখেছে লায়কানখাসে।

    দেখেছ, সত্যি দেখেছ, বাবুর অশ্ব, আমার কান্হা? ভানু প্রায় উদ্বাহু হয়ে ছুটে এসেছিল শ্রীপতির কাছে, পাওয়া গেল, ঘোড়া আছে।

    গেল পাওয়া? শ্রীপতি তখন হোটেলের ঠাকুরের কাছে খোঁজ নিচ্ছিল তার বউ মধুমিতা এসে কোনো খোঁজ নিয়ে গেছে কি না ঠাকুরের কাছে। নার্স ভারতী চৌধুরী নিয়ে কতটা, কীরকম খোঁজখবর করেছে, আর কী জবাব দিয়েছে ঠাকুর। ভানুর কথা শুনে সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেছিল তাকে, উত্তেজনায় দপদপ করছে ভানুর সর্ব অঙ্গ।

    আঁজ্ঞে লায়কানখাসে নাকি একটা ঘোড়া…। ভানু কথা শেষ করেনি।

    কোন ঘোড়া, আমার পক্ষিরাজ?

    আঁজ্ঞে ঘোড়া একটা, কন্থক হতে পারে, নাও হতে পারে।

    ফের কন্থক, ওটি আমার পক্ষিরাজ।

    আপনার নাম আপনার থাকুক, আসলে তো অন্য ব্যাপার, শুনুন বাবু, খবরটা দিল নুনমারা অনন্ত, একটা ঘোড়া চরতে দেখেছে সে লায়কানখাসে।

    ডাক অনন্তকে।

    আঁজ্ঞে, সে আর কোথায়, বলে চলে গেছে, ঘোড়াটা নিয়ে আসুন আপনি।

    তুমি যাবে না ছন্দকমশায়?

    আমি! আমি তো অন্য দিকে যাব, সব দিকে তো খোঁজ করতে হবে।

    যদি লায়কানখাসে মেলে তো অন্য দিকে যাবে কেন?

    তা ঠিক। ভানু মাথা চুলকেছে, যদি না হয় বাবু, সে তো কতদিন রয়েছে আমার সঙ্গে, পালিয়ে এত কাছে কি থাকবে?

    তাহলে আমি যাব না?

    তা কেন, খবর যখন মিলেছে, যেতে আপনাকে হবেই।

    খবর দিয়ে ভানু চলে গিয়েছিল। ঠাকুর আটকেছিল শ্রীপতিকে, বিশ্রাম নিয়ে যান বাবু, ঘোড়া যদি থাকে, ঠিক পাবেন, ভালো ঘাস পেলে ওরা নড়ে না, কিন্তু লায়কানখাসে কি ভালো ঘাস হয়, ও তো বালি জমি, ওখানে ঘোড়া যাবে কেন?

    তাহলে যাব না? শ্রীপতি দ্বিধায় পড়েছিল।

    না আঁজ্ঞে, যেতে তো হবেই। খবর যখন এয়েচে, ঘোড়া বলে কথা, ঘোড়া হারালে মানুষের যে কী হয়, তা যার হয় সে জানে।

    একটু বাদে বেরিয়েছিল শ্রীপতি। বেরিয়ে পুরনো কাফেটোরিয়ার কাছে ভানুর সঙ্গে দেখা। ছুটে এসেছিল সে, বাবু আমি কি যাব, যাই কিছুটা, আপনাকে এগিয়ে দিই, হ্যাঁ, অনন্ত সার বলল একখান অশ্ব দেখেছিল লায়কানখাসের বালির ওধারে যে চরজমি ঘাসের, সেখানে, ঘাস খাচ্ছে, আমার অবশ্য কেমন লাগল শুনে।

    কী রং সে ঘোড়ার?

    ভানু থমকায়, তারপর বলেছে, আঁজ্ঞে ওই কথাই তো আমি জিজ্ঞেস করলাম অনন্ত সারকে, ঠিক আপনি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এক্কেবারে এক কথা।

    তা বলল কী সে?

    কী বলল? ভানু মাথা চুলকোচ্ছিল, সাদা না কালো, কালো না বাদামি! কোনটা? আঁজ্ঞে বাবু, সে তো ঘোড়া দেখেছে রং দ্যাখেনি—সে আমাদের কন্থক কি হবে?

    রং দেখেনি অনন্ত সার। তখন তার লবণ ঝেঁটিয়ে তোলার সময়। সারাদিন যে জল শুকিয়েছিল রোদ্দুরের তাপে, তা থেকে যে মোটা মোটা স্ফটিক দানা বেরিয়ে আসে, তা ঝেঁটিয়ে বস্তায় ভরছিল সে। বিকেল হয়ে গিয়েছিল। সূর্য ওই সময় কোনাকুনি পশ্চিমে তালসারির দিকে, ওড়িশার উপকূলে নেমে যায়। দূরে সমুদ্রের ধার ঘেঁষে ঘেঁষে যে ঝাউবন চলে গেছে পশ্চিমে তার ভেতর টুপ করে পড়ে গেছে রক্তবলয়। ছায়ায় ছায়ায় অনন্ত, তার বউ আর মেয়ে দেখল একটি ঘোড়া যেন ঘাসের চরে দাঁড়িয়ে দুলছে। বেলা পড়ে এলে অতবড় মরুভূমির মতো বালুচর কেমন ঝাপসা ঝাপসা হয়ে আসে। চোখে ধন্ধ লাগায়। আর তাই-ই বোধহয় লেগেছিল। তারপর তারা লায়কানখাস ছেড়ে অলঙ্কারপুরের দিকে যখন এগোচ্ছে, তখনও আর একবার দেখা গেল ঘোড়াটাকে, অনন্তর কচি মেয়েটা আপনমনে বলে উঠেছিল, হা, দিখ অশ্ব।

    হ্যাঁ, তারা সকলে দেখেছে ঘাসের জমি ছেড়ে ঘোড়াটা বালির ওপর এসে দাঁড়িয়েছিল। হাঁ করে চেয়েছিল সমুদ্রের দিকে। এতটা পর্যন্ত ঠিক বলে গেল অনন্ত একটু আগে লায়কানখাসে দাঁড়িয়ে। তারপর সব শূন্য। সব দেখেছে তবু রং দেখেনি। দেখার হলে বলত ঠিক। রংটাই বাদ গেছে বোধহয়। যদি জানত এতে শ্রীপতিবাবুর উপকার হবে তাহলে রংটা মনে রাখত ঠিক। একেবারে সামনে গিয়ে পরখ করে রাখত রংখানি। কী ভুলই যে করেছে। শ্রীপতিবাবু যে ইনামও ঘোষণা করে রেখেছে তাও কি জানত তারা? আজই অনন্ত সারকে বলেছে ভানু।

    আশ্চর্য ব্যাপার! জগতে কত বিস্ময়ই না আছে! দুপুরে কিছু সময়ের জন্য কী রোদ্দুর না ছিল! এই সব মেঘ তখন সমুদ্রে গা ডুবিয়ে ছিল বোধহয়। রোদে লায়কানখাস—বালির চর একেবারে মরুভূমি। মরুভূমির ওপারে যে ঝাউজঙ্গল, তার গায়েই ঘাসের জমি। কিন্তু সেই অঞ্চলে নুনমারারা ছাড়া আর কেউ ছিল না। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার, শ্রীপতি গিয়ে লায়কানখাসে দাঁড়াতেই সমুদ্রে ডোবা মেঘ আবার আকাশে। ছায়া ঘনাইল বনে বনে।

    শ্রীপতি বলল, কী রোদ!

    নুনমারা অনন্ত সার বলল, রোদ কোথায় বাবু, সকাল থেকে মেঘলা, নুন শুকোচ্ছে না।

    আর সব খালারির লোক কোথায়?

    এই মেঘে কাজ হয় বাবু! সব এখন অন্য কাজে লেগে গেছে। এই দেখুন না, একটুও জল শুকোয়নি। বলতে বলতে পলিথিনের সিট, কলসি, বস্তা, কোদাল গুছিয়ে নিচ্ছিল অনন্ত সার, বিড়বিড় করছিল, বছরের মতো নুনের কাজ শেষ।

    ঘোড়ার খোঁজ পেল না শ্রীপতি। অনন্ত সারের মেয়েটা বলল সেও দেখেছে। এই তো পরশু দিন। সেদিন খুব চড়া রোদ্দুর হয়েছিল, নুনও বেরিয়েছিল অনেকটা। হ্যাঁ অশ্বই বটে! কিন্তু রং! তা তো দেখেনি।

    শ্রীপতি বলল, ঘোড়াটা দেখলি আর রং দেখিসনি! এ কীরকম হলো! তাহলে কী দেখলি?

    তার কথা শুনে হাঁ করে চেয়ে থাকে মেয়েটা। বয়স কত হবে! বছর পনেরো। সারাদিন রোদ্দুরে নুন মেরেও চোখমুখে ক্লান্তির ছাপ নেই। কেমন ফুটফুটে ভাব। মুখে সর্বক্ষণ হাসি। বরং অনন্ত আর তার বউটা যেন নুয়ে পড়েছে। তাদের চোখমুখে রাজ্যের ক্লান্তি আর বিরক্তি। তারা বারবার আকাশের মেঘ দেখছিল।

    অনন্তর মেয়ে বলল, কেনে অশ্বই তো দিখলাম।

    রং ছাড়া কি বস্তু হয়! রং না থাকলে দেখবি কী?

    আসলে শ্রীপতি বুঝতে পেরেছে ব্যাপারটা। ওরা দেখেছে সন্ধেয়। তাও অন্যমনস্ক ছিল। খেয়াল করেনি কী রঙের। এখন এদের কাছ থেকে আর কিছু জানা যাবে না।

    অনন্ত সারের মেয়েটা অল্প বয়সী। গায়ের রংও ফরসা। চোখমুখে শ্রী আছে। আর সময়টা তো জোয়ারের। ভরা কোটাল। ফুলে ফেঁপে উঠেছে মেয়েটা। একেই বলে যৌবনের দীপ্তি। সেই দীপ্তি নিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠেছে মেয়েটা। দাঁতে আঁচলের খুট চেপে ধরে বলে, কী জানি বাবা ত্যাখন মনে হয়নি তাই রং দেখিনি, কী ধলা কী কালা!

    এখন নুনমারাদের দিন শেষ। গত ছটা মাস শুকিয়ে শুকিয়ে জলবিন্দু লালচে শাদা স্ফটিকের দানা হয়ে গেছে। এই ছটা মাসে ঐ লবণের গলে জল হয়ে যাওয়ার সময়। অনন্ত সার বিরক্ত। আসলে দিনের পরিশ্রমটা মাঠে মারা গেছে। তাই এখন কিছু ভালো লাগে না।

    শ্রীপতি আশা নিয়ে গিয়েছিল বোধহয় খোঁজ পাবে অশ্বের। কিন্তু পরশু বিকেলের পর তাকে আর কেউ দেখেনি। ফেরার সময় এখন তাই মেজাজটা ভালো নেই। অনন্ত সারের ফুটফুটে মেয়ে কুন্তির হাসি বেজে উঠছে চারপাশে। মন খারাপের ভিতর মেয়েটার কথাই ভালো। সমুদ্রের লোনা হাওয়া, তার ভিতরে সেই কথা, অশ্বর বন্ন দেখার কী আছে, অশ্ব অশ্বই, হাঁ বন্ন ছিলনি।

    বর্ণ ছিল না মানে, বর্ণ ছাড়া কিছু বোঝা যায়?

    শ্রীপতির কথায় মেয়েটা থমকেছে, তারপর জবাব দিয়েছে, কেনে ই বাতাস। ইর বন্ন কী, অথচ বুঝছোনি বাতাস আছে।

    তাহলে ঘোড়াটা কি তখন বাতাসের দেহ নিয়ে ঘুরছিল লায়কানি চরে? বাতাসের দেহ পেলে জীবের জোর বাড়ে। হুড়মুড়িয়ে তছনছ করে দিতে পারে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। সেই বাতাসের দেহ নিয়ে বর্ণহীন হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল তার পক্ষিরাজ। ভাবতেই শ্রীপতির মুখে যেন আবছা-হাসি ফোটে।

    অনেকটা চলে এসেছে। বামে ঠিক নিচেই বড় খালটার একটা মুখ। সেখানে অকেজো লঞ্চ বাঁধা রয়েছে। মস্ত উঁচু ভেড়িবাঁধে হাঁটতে হাঁটতে শ্রীপতি দেখল সাঁই সাঁই করে বেলা মরে গিয়ে অন্ধকার নামছে। তার আবার মনে হলো, বর্ণহীন ঘোড়া…।

    বর্ণহীন ঘোড়া কেমন দেখতে? কী তার রং! গায়ের রং, মাথার রং, কপালের রং, পুচ্ছের রং! লেজটা কি সাদায় বাদামিতে মেশানো? পুরো দেহটা কি সাদা ধবধবে দুধের রঙে ভরা? নাকি পেটের দুপাশের পাঁজরের হাড় বেরিয়ে যাওয়ার কারণে সাদা রংটা কালচে মেরে গেছে। পোড়া পোড়া লোমে যেন পুরো দেহটা আচ্ছাদিত। কপালের ওপর সাদা আর বাদামিতে মেশানো রং। তিনটে টিপ। চোখটা নীল আর কালোয় ভাসা। মানে ঠিক সমুদ্দুর থেকে তুলে আনা খাবলা রং। জিভটার রং ফ্যাকাশে রক্তহীন লাল। ঘোড়াটা সন্ধেবেলায় যখন বেলাভূমি থেকে উঠে আসে, তখন শক্ত বাঁধানো পাড়ে, পিচ আঁটা রাস্তায় গম্ভীর শব্দ ওঠে ঠকঠক- ঠকঠক। ডুপ ডুপ ডুপ ডুপ…।

    বিকেলে বেলাভূমিতে যখন ঘোড়াটা দাঁড়িয়ে থাকে, তখন ওর সাদা গায়ে পশ্চিম দেশের রোদ পড়লে সেই সাদা রঙের একটু পরিবর্তন হয় নিশ্চয়ই। ঘোড়ার পিঠে যে ঝালর, তার রং লাল। লাল সাটিনের কিনারায় কিনারায় থাকবে জরির কাজ। ঘোড়ার পিঠে যে উঠে বসবে সে নিশ্চয়ই খুব ফুটফুটে একটা বাচ্চা। নীল সমুদ্র, সাজানো পক্ষিরাজ! কেমন দেখায়? সমুদ্র হলো পক্ষিরাজের চালচিত্র।

    পরশু সমুদ্রের বদলে ছিল লায়কানখাস। মানে ধু ধু বালির তরঙ্গে ঢাকা পৃথিবীর মাটি। আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে যায় বালির দিকে তাকালে। আর রাতেও সেই বালি সাদা দেখায়। দূরে সমুদ্রের গর্জন থাকে, চেহারা দেখা যায় না। ঝাউ আর ইউক্যালিপটাস জঙ্গলের আড়ালে কেশর ফুলিয়ে গর্জন করছে লায়কান দেবীর শিকল ছাড়া সিংহের দল। ঘোড়া শুধু ঢেউ ভাঙার শব্দ শুনছে। সমুদ্রের বদলে আবছা সাদা মরুভূমির ভিতর দাঁড়িয়ে।

    অনন্ত সারের মেয়েটা বলেছে ঘোড়ার রং ছিল না। তাহলে! সমুদ্র বেলাভূমি, অন্ধকার ঝাউবন, ঘুমে ভরা পৃথিবী-এর কত রং! তার ভিতরে দাঁড়িয়ে রয়েছে পক্ষিরাজ। রঙে আরও প্রলেপ পড়ল। বর্ণহীন অশ্বের এত বর্ণ! শ্ৰীপতি সেই ভেড়িবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে হো হো করে হেসে ওঠে।

    টুপ করে অন্ধকার নামে। দেখা যাচ্ছে দীঘার আলো। কাছেই অত মানুষের মেলা। অথচ এখানে! পৃথিবীই নেই এমন মনে হয়। সাদা ঘোড়াটার রং সমুদ্র থেকে লায়কানখাসে গিয়ে আস্তে আস্তে উবে গেছে ঠিক। বাতাসে সাদা বাদামি সব রং উবে গিয়ে যেমন হয়েছে ঠিক তেমন দেখেছে কুন্তি। শ্রীপতির বুকটা হঠাৎ কেঁপে ওঠে। ভয় ভয় করে। হাওয়া শুধু হাওয়া। শ্রীপতি বিড়বিড় করতে থাকে, না, না।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআমি লিলি – লিলি চক্রবর্তী
    Next Article বাতাসবাড়ি জ্যোৎস্নাবাড়ি – অমর মিত্র

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }