Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত গল্প ১ – অর্পিতা সরকার

    লেখক এক পাতা গল্প446 Mins Read0
    ⤷

    তুমিই আমার লাকি চার্ম

    আমি ওসব শুনতে চাই না ঠাম্মি, আমার পরীক্ষার সময় তুমি কেন কাকাই-এর বাড়ি যাবে? আরেক সপ্তাহ অ্যাটলিস্ট থেকে যাও৷ আমার উচচমাধ্যমিকটা শেষ হওয়া পর্যন্ত তো থাকো৷ প্লিজ ঠাম্মি৷ একমাত্র নাতনির বায়নায় চোখে জল এসে গিয়েছিল কমলা দেবীর৷ কি করে বোঝাবেন নাতনিকে যে তিনি নেহাতই নিরুপায়৷ ঐন্দ্রিলা নামটা কমলা দেবীরই দেওয়া৷ বড়ো বউমা অবশ্য তখন বলেছিল, কোনো ফিল্ম আর্টিস্টের নামে মেয়ের নাম রাখবে৷ তবে তার সে আশা পূরণ হয়নি৷ বার্থ সার্টিফিকেটে নাম লেখার সময় কমলা দেবীর বড়ো ছেলে ইন্দ্রনাথ মেয়ের আর কোনো নাম মনে করতে না পেরে বাধ্য হয়েই সেই মুহূর্তে ঐন্দ্রিলা নামটাই বলে বসেছিলো৷ তাই কমলাদেবীর নাতনির নাম ঐন্দ্রিলা বসু৷ নিজের দেওয়া নাম বলেই কিনা জানেন না কমলা দেবী জন্মের পর থেকেই ঐন্দ্রিলাকে বাড়ির নাম …রিনি বলে কমই ডেকেছেন৷ বেশির ভাগ সময়েই ঐন্দ্রিলা বলেই ডাকেন উনি৷ সেই ছোট্ট থেকেই ঠাম্মির প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণ আছে ওর৷

    সব বন্ধুদের ঠাম্মার মতো ওর ঠাম্মি একেবারেই সেকেলে নয়, বরং দারুণ আধুনিক৷ কমলা দেবী আই পি এল দেখেন,বই পড়েন৷ দাদু বিশ্বনাথ বসুর ছিল বদলির চাকরি, তাই বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে ঠাম্মি অন্য প্রদেশের রান্নাও শিখেছেন৷ ঐন্দ্রিলার সবচেয়ে ভালো লাগে ঠাম্মির হাতের ধোকলা৷

    কমলা দেবী এই সত্তর বছর বয়সেও মেরুদন্ড সোজা করে হাঁটেন, লুটিয়ে শাড়ি পরেন, এক কোমর সাদা পাকা চুল, স্নানের পরে মুখে সুগন্ধী ক্রিম মাখেন৷ ঐন্দ্রিলার বন্ধুরা বাড়িতে এসেই ঠাম্মির সাথে গল্প জুড়ে দেয়৷ ঠাম্মির অভিজ্ঞতার ঝুলিও একটুখানি হালকা হয়৷ স্কুলের বান্ধবীরা ঐন্দ্রিলাকে ঘিরে ধরে বলেছিল,তুই কি লাকি রে, তোর ঠাম্মিটা বড্ড সুন্দর৷ স্কুল বেরোনোর আগে ঠাম্মির ফর্সা গালে চুমু খেয়ে তবেই ঐন্দ্রিলা বেরোয়৷ প্রতিদিন ঠাম্মি একই কথা বলেন, জীবনে সতর্ক থেকো, দেখো কেউ যেন ঠকিয়ে দিতে না পারে! সাধারণত বড়োরা আশীর্বাদ করেন, ভালো করে পড়াশোনা করো, বড়ো মানুষ হও এসব বলে৷ সেখানে ঠাম্মির আশীর্বাদটাও যেন ব্যতিক্রমী৷

    এই স্বতন্ত্রা মহিলার চোখেও জল দেখেছিলো ঐন্দ্রিলা৷

    ঠাম্মি তুমি কাঁদছো কেন? দাদুর জন্য?

    ঐন্দ্রিলা যখন ক্লাস সিক্স তখন দাদু মারা গিয়েছিলেন৷ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ছিল,সময় পায়নি বাড়ির লোক৷ ঠাম্মি বলতেন, তোর দাদু বড়ো ভাগ্যবান,তাই সম্মান থাকতে থাকতে স্বর্গে পাড়ি জমালেন৷ আবার কখনো বলতেন, তোর দাদু বড়ো স্বার্থপর, সারাজীবন আমি তার পাশে ছিলাম, অথচ তিনি থাকলেন না আমার শেষ জীবনটায়৷

    ঐন্দ্রিলা এখন বড়ো হয়েছে, বেশ কিছু জটিল শব্দের মানেও বুঝতে শিখেছে৷ তবে ঠাম্মির চোখের জলটা নীরবে কেন বেরোচ্ছে সেটাই বুঝতে পারে না ও৷ দাদুর জন্য? নাকি বাবা মায়ের এমন নির্লিপ্ত ব্যবহারের জন্য!

    যদিও ঠাম্মি বলেছেন, দিদিভাই, তুই এখনো ছোটো, তাই সংসারের জটিল বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে বুদ্ধি নষ্ট করিস না৷ ঠাম্মির কথাগুলো বড্ড আপন মনে হয়, আর ঠাম্মির গায়ের ওই মিষ্টি ঠাম্মি ঠাম্মি গন্ধটা যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে শেখায়৷

    বলো না ঠাম্মি, তুমি থাকবে আমার পরীক্ষার টাইমে?

    ধুর পাগলি, আমার তোদের বাড়ি থাকার মেয়াদ যে শেষ রে! দু মাস শেষ৷ এবার তো তোর কাকাই এর বাড়ি জ্বালাতে যাবো৷ ঠাম্মির গলার অভিমানটা স্পষ্ট হল৷ ঐন্দ্রিলা বললো,বেশ আমি বরং মাকে বলবো,তোমাকে যেন আমার পরীক্ষা পর্যন্ত এখানেই রাখা হয়৷

    কমলা দেবী জানালার বাইরে উদাস দৃষ্টি মেলে বললেন, দিদিভাই তুই কি চাস তোর ঠাম্মির সম্মানহানি হোক! সে কারোর কাছে ছোটো হয়ে যাক! ঐন্দ্রিলা মন খারাপ করে রুবিকে কল করলো, জানিস রুবি ঠাম্মি কালই কাকাই-এর বাড়ি চলে যাবে৷ আমার পরীক্ষার সময় ঠাম্মি থাকবে না৷ মাধ্যমিকের পুরো সময়টা ঠাম্মির মুখ দেখে আমি এক্সাম দিতে গিয়েছিলাম, তাই হয়তো অত ভালো রেজাল্ট হয়েছিল! এবার তো কেমিস্ট্রি নিয়ে এমনিতেই ঘেঁটে আছি, তারপর যদি ঠাম্মির মুখ না দেখে পরীক্ষা দিতে যাই তো জানিনা কি হবে!

    রুবি একটু থেমে বললো, তুই বড়ো সেকেলে ঐন্দ্রিলা৷ আজকাল আর এসব পয়া অপয়া কেউ মানে রে? তুই ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট, এমনিতেই দুর্দান্ত রেজাল্ট আর জয়েন্টে চান্স পাবিই পাবি৷ এর জন্য কারোর মুখ দেখে যাবার দরকার নেই৷ ধুর! এদের কি করে বেস্ট ফ্রেন্ড বলবে ঐন্দ্রিলা! এরা কেউ ওর মনের অবস্থাটাই বুঝছে না৷ অপরাজিতা তো শুনে হেসেই খুন৷ শেষে বলল, এক কাজ কর, একটা টেস্ট হয়ে যাক৷ আমাদের ফেলুরাম অরিনটাকে গোটা পরীক্ষাটা তোর ঠাম্মির সামনে বসিয়ে দিয়ে দেখ, ব্যাটার ম্যাথে ফেল করা কেউ আটকাতে পারে কি না!

    পড়ার মাঝেও বারবার উত্তরের ঘরের দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল ঐন্দ্রিলার৷ আজও ওই ঘরে লাইট জ্বলছে৷ ঠাম্মি বসে বসে ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ পড়ছেন৷ কাল থেকে ওই ঘরে আর লাইট জ্বলবে না৷ কাল সকালেই ঠাম্মি চলে যাবে কাকাই-এর বাড়ি৷ ইস! রকির এ কদিন খুব আনন্দ হবে৷ রকি ক্লাস ফাইভে পড়ে৷ ঐন্দ্রিলার খুড়তুতো ভাই৷ ঠাম্মা গেলে তার একটাই বায়না,যত রাজ্যের রূপকথার গল্প শোনা৷ ঠাম্মির ফেরার জন্য এখনও চারমাস অপেক্ষা করতে হবে ঐন্দ্রিলাকে৷ ওদের বাড়ি থেকে যাবে কাকাই-এর বাড়ি, সেখান থেকে আবার পিসিমনির বাড়িতে দু-মাস থেকে তারপর ফিরবে ঠাম্মি৷

    মনটা ভীষণ খারাপ ঐন্দ্রিলার, তার মধ্যে সামনেই জীবনের একটা বড়ো পরীক্ষা৷

    আজ বই পড়ায় মন নেই কমলাদেবীর৷ মনটাকে শত চেষ্টা করেও বাগে আনতে পারছেন না৷ পুরোনো সব স্মৃতিরা ভিড় করে আসছে দৃষ্টিপথে৷ মনে পড়ে যাচ্ছিল নিজের মা হবার কথা৷ চোখ বন্ধ করলে মনে হয় এই তো সেদিনের ঘটনা৷ যখন ওষুধের ঘোরের মধ্যে হসপিটালের নার্স এসে বললেন,কমলা তোমার একটা ফর্সা ফর্সা ছেলে হয়েছে৷ প্রথমে খুব কান্না পেয়েছিল কমলার৷ ছেলে! ছেলে কেন! মেয়ে হোক এই কামনা করে দু-বেলা ষষ্ঠী ঠাকুরকে প্রণাম করেছিল সে৷

    একটা ফুটফুটে মেয়ে, যে বুঝবে মেয়ে জন্মের কষ্টের কথা৷ তবে সন্তানকে কোলে নিয়ে সব ভুলেছিল কমলা৷ তখন ওই কাপড়ের পুটলির হাত-পা নাড়া দেখে খুব আনন্দ হয়েছিল কমলার৷ অবাক হয়ে ভেবেছিল,এই নড়াচড়া করা পুতুলটা এতদিন তার পেটের মধ্যে ছিল? এই দুমদাম লাথি মারতো পেটের মধ্যে? নিজের মনেই হেসে উঠেছিল কমলা৷ কমলার স্বামী বিশ্বনাথ বাবু বলেছিলেন, ছেলের নাম দেব ইন্দ্রনাথ৷ আমার ছেলের আমার নামে মিলিয়ে নাম রাখবো৷ সকলের কাছেই শুনছিলো কমলা, বিশ্বনাথের ছেলে ইন্দ্রনাথ! কমলার গর্ভজাত খুব তাড়াতাড়ি পর হয়ে গিয়েছিলো৷ একেবারে শিশুবেলাটাই শুধু কাছে পেয়েছিলো ছেলেকে৷ তারপরেই ইন্দ্রনাথকে ভালো হোস্টেলে ভরতি করে দিয়েছিলো ওর বাবা৷ বদলির চাকরিতে ছেলের পড়াশোনার ক্ষতি হবে বলেই৷ না ক্ষতি কিছু কমলার হয়নি৷ একবছর অথবা দু-বছরের জন্য সংসার পেতেছিল কমলা নতুন নতুন ভাড়া বাড়ি অথবা কোয়াটারে৷ সেখানের আকাশ-বাতাস যখনই কমলাকে আপন করতে চেয়েছিলো তখনই কমলা তাদের ছেড়ে চলে এসেছে অন্য জায়গায়৷

    ভাড়া বাড়ির উঠোনে বসানো পাতি লেবু গাছে যখনই সবে ফুল ধরেছে তখনই হয়তো বিশ্বনাথ এসে খবর দিয়েছে ব্যাগ গোছাও কমলা, এবার এদের ছাড়তে হবে৷ যাযাবরের জীবনে কোনো কিছুর প্রতিই মায়া বাড়ায়নি কমলা৷ নিজের হাতে বোনা উলের আসন বা বালিশের ঝারণগুলো গোছাতে গেলেও ইন্দ্রর বাবা বলেছেন, কি ছেলেমানুষি হচ্ছে কমলা! অকারণ লাগেজ ভারী করছো কেন?

    নুন, চিনির বাহারি কৌটোগুলোও কখনো কখনো ফেলে আসতে হয়েছে পুরোনো ঠিকানায়৷ এর মধ্যেই কমলার গর্ভে দ্বিতীয় ভ্রূণের সঞ্চার হয়েছে৷ মনে মনে কল্পনা করেছে কমলা,একটা পুচকি মেয়ের টলমল পায়ের হাঁটার শব্দ৷ ইন্দ্র ছুটি ছাটায় বাড়ি এসেছে৷

    বাবার সাথেই তার বেশি ভাব৷ হোস্টেলের টাকা পয়সা বাবাই দেয়,মা তো শুধু নাড়ু, মোয়ায় ব্যাগ ভরায়৷ তাছাড়া মায়ের বড্ড খারাপ স্বভাব,স্কুলের বন্ধু, যাদের সাথে ইন্দ্র মেলামেশা করে তাদের স্বভাব সম্পর্কে খুঁটিয়ে জানতে চায় মা৷ এতটা কৌতূহল বিরক্ত লাগে ইন্দ্রর৷ বাবা সে তুলনায় অনেক স্মার্ট৷ বাবার একটাই কথা, যে ভাবেই হোক নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে ইন্দ্রকে৷ তার জন্য যে সব সময় সৎ পথ অবলম্বন করতে হবে এমন নয়৷ মায়ের বোকা বোকা সেন্টিমেন্ট …কাউকে কখনো ঠকাবি না ইন্দ্র, সেটা দ্বিগুন হয়ে তোর কাছেই ফিরে আসবে৷ এসব শুনলে মাথাটা গরম হয়ে যায় ওর৷ সিক্সের ছেলের যে সব কিছুই পার্সোনাল সেটা একটু একটু করে বুঝতে শিখেছিল কমলা৷ তাই তো একটা মেয়ে চেয়েছিল৷ যে বুঝবে কমলাকে৷ পুতুল খেলার সংসার ভেঙে গেলেও যে মনখারাপ হয়, এটা একমাত্র মেয়েরাই বোঝে৷

    না, ইন্দ্রর বোন নয় ভাইই হলো৷ তাকেও বুকের দুধ খাইয়ে মানুষ করেছিল কমলা৷ ইন্দ্রর বাবা তারও নাম দিলেন অমরনাথ৷ কারণ দ্বিতীয় সন্তানের নামের শেষেও নাথ রাখতেই হবে৷ কমলার যাযাবর জীবনের সমাপ্তি তখনও ঘটলো না৷ ইন্দ্রর বাবা বলেছিলেন, বিদেশ বিভুঁয়ে কে তাকে রেঁধে খাওয়াবে! তাই কমলাকেও ঘুরতে হবে তার সাথে৷ ছেলেরা ছোট্ট থেকে থাকবে হোস্টেলে৷ কষ্ট হত কমলার৷ ছেলেদের আধো আধো গলার মা ডাক শুনতে না পেরে বুকটা মোচড় দিয়ে উঠত কমলার৷ সেদিনও এমনি নিরুপায় ছিল কমলা৷

    মা তোমার গোছগাছ কমপ্লিট? কাল সকালেই অমর গাড়ি পাঠাবে, রেডি থেকো৷ তোমাকে গাড়িতে তুলে দিয়েই আমি আর সোনালী একটু বেরোব৷ সোনালীর দাদার ছেলের সামনেই জন্মদিন৷ সোনার দোকানে যেতে হবে একবার৷

    আজও ইন্দ্র মা বলেই ডাকে,কিন্তু এই ডাকে কেন যে কোনো প্রাণের টান খুঁজে পান না কমলা দেবী, কে জানে?

    ইন্দ্র! সামনেই তো ঐন্দ্রিলার উচচ মাধ্যমিক, একটু দেখিস… মেয়েটা যেন মন খারাপ করে বসে না থাকে৷ পরীক্ষাটা যেন ভালো দেয়৷ ওদের কথার মাঝেই ইন্দ্রর বউ সোনালী বলে উঠলো,আমি ওর মা ,তাই ওর ভালো-খারাপটা আমি ভালোই বুঝি মামনি৷ প্লিজ,তুমি সব ব্যাপারে নাক গলিও না৷ তাছাড়া রিনি যথেষ্ট বড়ো হয়েছে৷ সেও জানে ঠাম্মা কারোর চিরকাল থাকে না৷ কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে গেলেন কমলা দেবী৷ হ্যাঁ, মৃত্যু উনিও চান৷ সকলের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকার থেকে অসহ্য কষ্ট আর কিছুতেই নেই৷ তিনি বহুবার ছেলেমেয়েদের কাছে বলেছেন,তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিতে৷ কিন্তু তার সন্তানরা রাজি হয়নি৷ সমাজে ওদের একটা সম্মান আছে,একটা পজিশন আছে৷ লোকে যদি জানে যে তারা বয়স্ক মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছে, তাহলে সমাজের চোখে ছোটো হয়ে যাবে৷ সেটা তাদের চাকরির জন্য ক্ষতিকারক হবে৷ অগত্যা ভাগের মা৷ তিন সন্তান দু-মাস করে এই ঝামেলা টেনেই চলেছে৷

    সোনালী বুঝিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেছে.. যে তার মেয়ের ঠাম্মাকে খুব বেশি প্রয়োজন নেই৷ ইন্দ্র বলল, খেয়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ো৷ সকালবেলা গাড়ি এসে যাবে৷

    সব সংসারেই কমলা দু-মাসের অতিথি৷ গৃহিণী হতে পারল না আজও৷ ইন্দ্রনাথ আর অমরনাথকে ভালো হোস্টেলে পড়াতে বেশ খরচ হচ্ছিল ওদের বাবার৷ তারপরেও দেবযানী এসেছিল কমলার কোল জুড়ে৷ মুখটা যেন কমলা বসানো, এমনকী গায়ের রংও কমলার মতোই দুধে আলতা৷ নামের শেষে নাথ রাখার দায় নেই বলেই মেয়ের নাম রাখার অধিকার পেয়েছিল কমলা৷ দেবযানী ছোট্ট থেকেই ভীষণ অভিমানী৷ দুই দাদার খুব আদরের৷ দুই দাদা যখন ছুটিতে বাড়ি ফিরতো তখন বোনকে নিয়ে তাদের আহ্লাদের শেষ ছিল না৷ দেখতে দেখতে দেবযানী বড়ো হয়ে উঠলো, কমলার ঝুলপিতে রূপালী রং ধরল৷ বিশ্বনাথ দেশে ফিরে একটা বাড়ি করবে স্থির করল৷

    কমলাকে নির্দেশ দেওয়া হল, যতদিন না পর্যন্ত বিশ্বনাথের ট্রান্সফার হয় ততদিন পর্যন্ত নতুন বাড়ি তৈরির দেখাশোনা কমলাকেই করতে হবে৷

    প্রথমে ঘরকুনো কমলার ভয়ে বুক কেঁপে উঠছিল৷ বাড়ি তৈরি দেখা তো পুরুষদের কাজ৷ ও কি পারবে? তারপরেই মনের মধ্যে তোলপাড় করে উঠেছিল, ভাড়া বাড়ি বা কোয়ার্টার নয়, নিজস্ব বাড়ি হবে ওদের৷ নিজের সংসার হবে৷ বাগানের এক চিলতে সবুজরা মালকিন বলে চিনবে কমলাকে৷ ছোট্ট দেবযানীকে কোলে নিয়ে একাই ভাড়া থাকছিল কমলা বিশ্বনাথের পছন্দের জায়গা রানাঘাটে৷ রানাঘাটেই তিনকাটা জায়গা সস্তায় পেয়ে কিনে রেখেছিল বিশ্বনাথ৷ সেই জায়গাতেই বাড়ি তুলবে মনস্থ করেছিল৷ কমলার পছন্দ মতো রান্না ঘর, শোবার ঘর ….বাড়ির রংও কমলার পছন্দ মতো৷ এই প্রথম কমলার ইচ্ছে অনুযায়ী এত কিছু হয়েছিল৷ তবে কি সংসারে কমলার মূল্য বাড়ল?

    শুধু বাড়ি রেজিস্ট্রির দিন কমলা জানতে পারল, বাড়ি তৈরি হল বিশ্বনাথ বসুর নামে৷ আর নোমিনি রইলো বিশ্বনাথ বাবুর তিন ছেলে মেয়ে! কমলার রাগ বা দুঃখ কিছুই হয়নি৷ বারবার মনে হয়েছে এরা তো তারই শরীরের অংশ৷ তারই রক্ত মাংসে গড়া৷

    এদের বাড়ি মানেই নিজের বাড়ি৷ কমলার আজও মনে আছে ইন্দ্রর বাবা যেদিন প্রথম এ বাড়িতে এসেছিল সেদিন চমকে গিয়েছিল৷ কমলা যে দোতলা বাড়ি এমন সুন্দর ভাবে দাঁড় করাতে পেরেছে সেটা দেখেই অবাক হয়েছিল মানুষটা৷ চিরটা কাল তার নির্দেশে চলা নেহাতই ছাপোষা কমলাও তাহলে কিছু পারে!

    ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে করতেই,তাদের স্বাদ আহ্লাদ পূরণ করতে করতেই কেটে গেছে কমলার জীবন৷ এতকাল বিশ্বনাথ বসুর স্ত্রীর পরিচয়ে বেঁচেছিলো, এখন বাঁচে ইন্দ্রনাথ, অমরনাথ-এর মা হয়ে৷ তবে সব থেকে বড়ো ধাক্কাটা কমলা পেয়েছিল আদরের মেয়ে দেবযানীর কাছ থেকে৷

    দেবযানী ক্লাস টেনে পড়ার সময় একটা মোটর গ্যারেজের বিবাহিত কর্মচারীর প্রেমে পড়ে যায়৷ কমলা যতবার মেয়েকে শাসন করতে গেছে ততবারই দেবযানী বাবাকে বলেছে, মা নাকি তার ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে৷ ইন্দ্রর বাবাও একমাত্র মেয়ের আব্দারে অন্ধ হয়ে গিয়ে কমলাকেই ভুল বুঝেছিলো বারংবার৷

    দেবযানী কোনোদিন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মায়ের সম্মুখীন হত না৷ মায়ের মুখ দেখে বাড়ি থেকে বেরোলে নাকি তার সব কাজে বাধা পরে৷ গোপনে চোখের জলকে সঙ্গী করে জীবন কাটাচ্ছিলো কমলা৷ ভবিতব্য বলে মেনে নিয়েছিল সব কিছু৷ হঠাৎই ইন্দ্রর বাবার খেয়াল হলো মেয়ের ভাবগতি ভালো নয়৷ রিটায়ারের বছর দুয়েক আগেই মেয়ের উচচমাধ্যমিকের রেজাল্ট দেখে আশা ছেড়ে দিয়ে বিয়ের পাত্র খুঁজতে লাগলো৷

    দেবযানীর বিয়ে হয়ে গেল৷ ছেলেটি বড়ো ভালো৷ দেবযানীর পাশে মানিয়েছিলো ভালো৷ কমলার কনকাঞ্জলি নেওয়া ছাড়া কাজ বিশেষ ছিল না বললেই চলে৷

    মেয়েকে মানুষ করার আশায় জলাঞ্জলি দিয়েছিল অনেক দিনই৷ চাকরি থেকে রিটায়ার করে আসার পরে বিশ্বনাথ বাবু উঠে পড়ে লাগলেন ছেলেদের চাকরির জন্য৷ দুই ছেলেই পড়াশোনায় ভালো ছিলো, চাকরি পেতে খুব একটা অসুবিধা হলো না৷

    ছেলেদের বিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের সংসার গোছানো সবেতেই কমলা ছিল … ছিল আবার ছিল না৷ আসলে ওর ভূমিকাটা অনেকটা অণুঘটকের মতো৷ হয়তো থাকলে ঘটনাটা একটু ত্বরান্বিত হয়, আবার না থাকলেও চলে যায়৷

    কমলার জীবনে সবচেয়ে আনন্দের ঘটনা ছিল ইন্দ্রর মেয়ে হওয়া৷ নাতনির মুখ দেখে খুশি হয়ে কমলা বলেছিল, ইন্দ্র আমার একটা কথা রাখবি, মেয়েটার নাম ঐন্দ্রিলা দিবি?

    মায়ের কথার গুরুত্ব কোনো দিনই সংসারে ছিল না৷ তবুও কি মনে করে যেন ইন্দ্রনাথ মেয়ের নাম রেখেছিল ঐন্দ্রিলা৷ মেয়েটা ছোট্ট থেকেই ঠাম্মিকে বড্ড ভালোবাসে৷ মা বাবা দুজনেই চাকরিক্ষেত্রে বেরিয়ে গেলে ঠাম্মাই ছিল ওর একমাত্র সঙ্গী৷ তারপরেই কমলার জীবনে নেমে এসেছিল আরেক কালবৈশাখী৷ মাথার ওপর থেকে নামমাত্র ছাদটাও ভেঙে গিয়েছিল৷ বিশ্বনাথ বসু মারা গিয়েছিলেন কার্ডিও অ্যারেস্টে৷ কমলা হয়েছিল ভাগের মা৷ বাবার টাকা যেহেতু তিন ভাই বোনে ভাগ করে নিয়েছিল, তাই কমলা দেবীকেও বছরের চারমাস জামাই বাড়িতে কাটাতে হয়৷ নিজের মেয়ের মুখে শুনতে হয়,কপাল করেছি বটে… বিয়ের পরেও শান্তি নেই৷ মাকে এনে রাখতে হয়৷ কমলা দেবী শুধু শোনেন৷ ধৈর্যের পরীক্ষায় উনি বহুদিন আগেই ফুলমার্কস পেয়েছেন৷ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তৈরি করা বাড়ি ছেলে মেয়েরা মিলে বিক্রি করে দিয়েছে, উনি দেখেছেন৷ ওনার নিজের হাতে তৈরি বাগান ঝোপ ঝাড় হয়ে গেছে, সেটাও উনি তাকিয়ে দেখেছেন৷

    খুব ইচ্ছে ছিল নাতনির পরীক্ষাটা কাটিয়ে তবে ছোটো ছেলের বাড়ি যাবেন৷ মেয়েটা মুখটা করুণ করে বলছিলো, ঠাম্মি আমার এক্সামটা প্লিজ থাকো৷ কিন্তু গত পরশুই বড়ো বউমা আর বড়ো ছেলের আলোচনাটা কানে এসেছিল৷ ইন্দ্র আর সোনালী বলছিলো, আর তো মাত্র দুটো দিন! তারপরেই …

    ওদের মুক্তির নিঃশ্বাসটা সজোরে কানে এসে ধাক্কা দিয়েছিলো কমলাদেবীর৷

    বুকের ভিতরটা মোচড় দিচ্ছিল ঐন্দ্রিলার করুণ আর্তি শুনে৷ ঠাম্মি প্লিজ থাকো! নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয় মাঝে মাঝে৷

    চুপি চুপি নাতনির ঘরে ঢুকলেন কমলা দেবী৷ ঐন্দ্রিলা খাতায় লিখছিল৷ ঠাম্মিকে দেখেই কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল৷ মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বললেন কমলা দেবী৷ তারপর ঐন্দ্রিলার দুই গালে চুমু খেয়ে বললেন, তোর পিসিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম,পূরণ হয়নি৷ তোকে নিয়ে আবার স্বপ্ন দেখছি৷ আমার রক্তের একটা মেয়ে অন্তত স্বাধীন ভাবে ডানা মেলুক নীলাকাশে৷

    কালো পেড়ে সাদা শাড়ির মহিলাটি ধীর পায়ে বেরিয়ে গেলেন৷ ঐন্দ্রিলার দু-চোখ ছাপিয়ে জল এলো সেদিকে তাকিয়ে৷

    সকাল হতেই হাসি মুখে সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ছোটো ছেলের পাঠানো গাড়িতে উঠে বসলেন কমলা দেবী৷ ঐন্দ্রিলাই শুধু ঠাম্মির যাওয়ার আগে ঘরে খিল দিয়ে বসে রইলো৷ বড়ো বউমা বললো, তুমি এসো মামনি, ওর পরীক্ষা তাই সময় নষ্ট করতে চাইছে না৷

    কমলার এবাড়িতে নির্ধারিত সময় শেষ, তাই একদিনও বাড়াতে চায় না সোনালী৷

    ঠিক ভাবে পৌঁছে ফোন করে দিও একটা৷ ইন্দ্র দায়িত্ব শেষ করলো৷

    রবিবার অমরের ছুটি৷ কমলা দেবী ঢুকলেন ছেলের ঘরে৷ একমনে ল্যাপটপে কাজ করছিলো অমর৷ চোখ তুলে তাকিয়ে আলতো করে বললো, ভালো আছো তো?

    কমলা দেবী সামলে নিলেন৷ বললেন, না, একবার মা বলে ডাক অমর, বহুদিন তোর মুখে মা ডাক শুনিনি৷

    আস্তে করে ঘাড় নেড়ে বললেন ,ভালো আছি রে৷ তোর মুখটা শুকনো লাগছে কেন?

    অমর একটু ক্লান্ত হেসে বললো, কাজের চাপ৷ কথা শেষ মা ছেলের মধ্যে৷ এই অমরই ছুটির দিনে মায়ের পায়ে পায়ে ঘুরতো৷ মা তারপর পেত্নিটা কি বট গাছেই থেকে গেল! বলো না মা! বলে বলে অস্থির করে দিত ছুটির সকালগুলো৷

    বেশ কিছুক্ষণ বোকার মতো ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বলার মতো কথা খুঁজে না পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন কমলা দেবী৷

    মন মরা হয়েই পরীক্ষা দিতে বেরোলো ঐন্দ্রিলা৷ সোনালী বিরক্ত মুখে বললো, মনে রেখো এই রেজাল্টের ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করে আছে৷ নিজের ফিউচারের কথাটা ভেবো৷ একজন সত্তর বছরের বৃদ্ধার জন্য নিজের ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো নিশ্চয় জলাঞ্জলি দেবে না ?

    ঐন্দ্রিলা রাগী মুখে বললো, ঠাম্মি আর এক সপ্তাহ এখানে থাকলে কি তোমাদের খুব বড়ো ক্ষতি হয়ে যেত?

    ইন্দ্র মেয়ের দিকে একনজর তাকিয়ে বললো, তোমার পিসিমনি আজও বিশ্বাস করে তোমার ঠাম্মা তার জন্য অপয়া৷ তোমার মাও কিন্তু পিসিমনির কথার সত্যতা যাচাই করে দেখেছে৷ দেবযানী খুব একটা মিথ্যে বলে না৷

    ঐন্দ্রিলার কষ্ট হচ্ছে…কি করে বোঝাবে এদেরকে যে ঠাম্মি ওর লাকি চার্ম৷ গতবার আবৃত্তিতে ডিস্ট্রিক্টে ফার্স্ট হওয়ার পিছনে কারণ ছিল শুধু ঠাম্মিকে দেখে বাড়ি থেকে বেরোনো৷ এর আগে প্রতিবার জেলায় সেকেন্ড হয়ে রাজ্যস্তরে যেতে পারেনি ঐন্দ্রিলা৷ ট্যালেন্ট হান্ট কম্পিটিশনের দিনও বেরোনোর আগে ঠাম্মি জানালায় দাঁড়িয়ে ছিলো, সেই জন্যই ঐন্দ্রিলা গোল্ড মেডেল জিততে পেরেছিল৷ মা কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না৷ আজও বারবার মনে হচ্ছে প্রথম পরীক্ষাটাই খারাপ হবে ওর৷

    বাবা মা দুজনেই অফিস চলে গেল হলের সামনে থেকেই৷ মা যাওয়ার সময় বলে গেল,কুসংস্কারে বিশ্বাস করো না৷ ঐন্দ্রিলা খাতায় চোখ বোলাচ্ছিলো৷ মনে পড়ে যাচ্ছিল ঠাম্মির কথাগুলো৷ পারবি না তুই? পারবি না আমার স্বপ্ন পূরণ করতে?

    সন্ধ্যেবেলা মা জিজ্ঞেস করল, পরীক্ষা কেমন হলো রিনি?

    রিনি এক মুখ হেসে বললো, দুর্দান্ত মা৷

    বলেছিলাম না,নিজের মনের জোরটাই আসল৷ ওই সত্তর বছরের মহিলা তোমার ট্যালেন্ট বাড়াতে বা কমাতে পারবেন না৷ এটা মাথায় রেখো৷

    বাবা সিমলা যাওয়ার টিকিট কেটে রেখেছে৷ রিনির পরীক্ষাটা শেষ হবার অপেক্ষা৷ আগামী কালই রিনির লাস্ট পরীক্ষা৷ এটা হয়ে গেলেই আপাতত ছুটি৷

    রিনি শেষ পরীক্ষা দিয়ে বেরোনোর পরেই খবরটা পেলো ইন্দ্র৷ মাকে নাকি কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না শব্দটাই মাথায় ঢুকতে বেশ খানিকক্ষণ সময় লাগলো ইন্দ্রর৷ সত্তর-বাহাত্তরের মহিলা তো আর বাড়ি থেকে পালাতে পারে না! তাহলে গেল কোথায়?

    অমরদের বাড়ির কাজের লোকটা নাকি বলেছে,বাড়ির সবাই বেরিয়ে গেলেই ঠাকুমা ভালো শাড়ি পরে কোথায় চলে যেত৷ ঘন্টা দুয়েক পরে আবার ফিরে আসত৷ মেয়েটা জিজ্ঞেস করতে গেলে ঠাকুমা নাকি বলেছে,বলবে না কোথায় গিয়েছিল৷ আর যদি কাউকে বলে, তাহলে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেবে৷ তাই মেয়েটাও কাউকে কিছু বলেনি৷

    আবার ফোনটা বাজছে ইন্দ্রনাথের৷ আননোন নাম্বার৷

    রিসিভ করতেই একজন মহিলা বললেন,আমি অঙ্কুর নার্সিংহোম থেকে বলছি৷

    কমলা বসু আমাদের নার্সিংহোমে রয়েছেন৷

    কোনো দিকে না তাকিয়ে ইন্দ্র আর অমর গিয়ে পৌঁছালো অঙ্কুর নার্সিংহোমে৷ খবর পেয়ে দেবযানী, সোনালী,ঐন্দ্রিলাও এসে গেছে৷ বুকের কাছের শাড়িতে রক্তের ছোপ৷ মাথায় ব্যান্ডেজ৷ কমলা দেবী নির্লিপ্ত মুখে শুয়ে আছেন বেডে৷

    অমর ঢুকেই হম্বিতম্বি শুরু করলো৷ হঠাৎ এসব কি শুরু করেছো? আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না তুমি?

    একা একা কোথায় গিয়েছিলে তুমি? প্রশ্নের ঝাঁক ছুটে এলো কমলা দেবীর দিকে৷ উনি নির্বাক৷ জীবনে অনেক সহ্য করেছেন, আজও নাহয় দুটো কটু কথা শুনলেন!

    হঠাৎই কোথাও কিছু নেই ঐন্দ্রিলা কেঁদে উঠলো৷ কাঁদো কাঁদো মুখেই বললো, ঠাম্মিকে বোকো না কেউ৷ ঠাম্মি আমার বায়নার জন্যই আমার কাছে এসেছিলো৷ ওখান থেকে ফেরার সময়েই হয়তো…

    ঠাম্মি গেটের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকতো, তোমরা চলে যাবার পরেই ঠাম্মি আসতো আমার সাথে দেখা করার জন্য৷ কারণ আমিই বলেছিলাম,ঠাম্মির মুখটা না দেখলে আমার এক্সাম ভালো হবে না৷ তাই…

    সকলের উৎসুক চোখ কমলা দেবীর ওপর স্থির৷

    কমলা দেবী ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করলেন৷ তারপর বললেন,দেবযানীর কাছে আমার মুখটা ছিল অপয়া৷ ওর কোনো কাজই নাকি ভালো হতো না আমাকে দেখে বাইরে বেরোলো৷ অথচ ঐন্দ্রিলা বলে, আমি নাকি ওর লাকি চার্ম! ওর নাকি এক্সাম খারাপ হবে আমায় না দেখলে৷ জীবনের শেষ খেয়া পাড়ি দেবার আগে বুঝে নিতে চাইছিলাম সত্যিই আমি লাকি কিনা! ঐন্দ্রিলা বললো, ঠাম্মি তুমি সত্যিই ভীষণ পয়া, কেন জানো? কারণ অন্তর থেকে যদি কেউ কারোর জন্য মঙ্গল কামনা করে সে কখনো অপয়া হতে পারে না৷

    কমলা দেবী বললেন, তোমরা চিন্তা করো না, আমার বিশেষ কিছু লাগেনি৷ ট্যাক্সি থেকে নামতেই একটা রিকশা এসে ধাক্কা মারল, তাই পড়ে গিয়ে…

    আসলে শেষ বয়সে এসে নিজের নামের পাশ থেকে অপয়া শব্দটা সরিয়ে দিদিভাই-এর লাকি চার্ম শব্দের প্রতি তীব্র লোভ জন্মেছিল৷ তাই দিদিভাই-এর এক্সাম হলের সামনে যেতাম ওকে দেখা দেব বলে৷

    দেবযানীর মাথা নীচু৷ ইন্দ্রর মুখে অস্বস্তি৷ অমর মায়ের চোখে চোখ রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে৷ কি করে বলবে অমর, যে গত দু-বছর ধরে আটকে থাকা প্রোমোশনের খবরটা ও পেয়েছে গত কালের মেইলে৷ ঠিক মা বাড়িতে ঢোকার আধঘণ্টা পরেই৷

    সোনালী মুখটা নীচু করেই ভাবছিলো, গতকাল মা চলে আসার পরই ওদের রান্নাঘরে একটা বিপদ ঘটতে যাচ্ছিল৷ ওর ওড়নাটায় আগুন লেগে গিয়েছিলো৷ কোনো মতে বেঁচে গেছে বিপদ থেকে৷ তবে কি রিনির কথাই ঠিক!

    দেবযানীর প্রেম পর্বে যতবার মায়ের মুখটা দেখে বেরিয়েছিলো ততবারই ঝগড়া হয়েছিলো অভয়ের সাথে৷ ঝগড়া হতে হতে ওদের সম্পর্কটা ভেঙে গিয়েছিলো একসময়৷ দেবযানী দায়ী করেছিলো মায়ের অপয়া মুখটাকে৷ এক মাস আগেই দেবযানী খবর পেয়েছিলো, কালীমাতা গ্যারেজের কর্মচারী অভয় বেরা চোরাচালান কাজের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছে৷ সেদিনই দেবযানীর মনে হয়েছিলো ভাগ্যিস অভয়ের সাথে ওর সম্পর্কটা ভেঙে গিয়েছিলো!

    ভাগ্যিস ও মায়ের মুখটা দেখে বেরিয়েছিলো! ঐন্দ্রিলা ঠাম্মির গালে গাল ঘষে বললো, তুমি দেখো ঠাম্মি তোমার স্বপ্ন পূরণ হবেই৷ আমি ভালো রেজাল্ট করবোই৷ কমলা দেবীর চোখে আগেও বহু নোনতা জলের ধারা নেমেছে, তবে আজকে তার দু-চোখ বেয়ে আনন্দাশ্রু৷ ঐন্দ্রিলা ঠাম্মির গালে চুমু খেয়ে বললো, তুমিই আমার লাকি চার্ম৷

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইতি নির্ভয়পুর – অর্পিতা সরকার
    Next Article চেনা অচেনার ভিড়ে – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }