Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রবন্ধ সংগ্রহ – অম্লান দত্ত

    Ek Pata Golpo এক পাতা গল্প1207 Mins Read0
    ⤷

    ১.০১ গণতন্ত্রের আধ্যাত্মিক ভিত্তি

    যে-শাশ্বত ধর্মে পিতামহদের আস্থা ছিল সেই নিচ্ছিদ্র বিশ্বাস এ-যুগে দুর্লভ। এই বিশ্বাসভঙ্গের সামাজিক পটভূমিকার প্রতি সংক্ষেপে দৃষ্টি আকর্ষণ করা বর্তমান প্রবন্ধের মূল বক্তব্যের পক্ষে প্রয়োজন।

    মধ্যযুগীয় ধর্ম শুধু কয়েকটি আধ্যাত্মিক তত্ত্বে সীমায়িত ছিল না; সামাজিক আচার বিচার, অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠানের ভিতর দিয়ে তার অস্তিত্ব ঘোষিত হয়েছে। বিভিন্ন সমাজ ও গোষ্ঠীর রীতিনীতিতে পার্থক্য যদিও প্রাচীনকাল থেকেই সুস্পষ্ট এবং ব্যবসাবাণিজ্যের মাধ্যমে ও পর্যটকদের বিরণে এই পার্থক্যের প্রতি যদিও তৎকালীন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে, তবু কোনো বিশেষ সমাজের রীতিনীতিতে যতদিন পরিবর্তন প্রকট হয়ে ওঠেনি ততদিন সেই সমাজের মানুষের পক্ষে নিজস্ব আচার বিচারের শ্রেষ্ঠতায় বিশ্বাস স্থাপন করা কঠিন হয়নি। বরং বিশেষ ব্যক্তি বা বংশের আয়ুস্বল্পতার তুলনায় প্রাচীন বিধিনিষেধের স্মরণাতীত যুগে উৎপত্তি ও অব্যাহত প্রতিষ্ঠায় সেদিন এমনই একটা অবিনশ্বরতার অঙ্গীকার ছিল যে, শাস্ত্রীয় সত্যের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ আকাশের গায়ে থুতু দেবার মতই হাস্যকর প্রয়াস মনে হয়েছে।

    একই সমাজের বিভিন্ন স্তরে রীতিনীতির পার্থক্য প্রাচীন যুগেও চোখে পড়ে। কিন্তু বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভিতর সম্পর্ক সামাজিক অনুষ্ঠানপ্রতিষ্ঠানে যথাযথভাবে নির্ণীত ছিল; আর একই মানুষের পক্ষে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উত্তরণ সহজ ছিল না।

    অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তিবিশেষের স্থান অথবা অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ সামান্যই ছিল। আধুনিক যুগে সামাজিক পরিবেশে যে দ্রুত পরিবর্তন দেখা দিয়েছে তার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য এই যে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের ভিতর যে দুর্লঙ্ঘ্য ব্যবধান বিশেষত মধ্যযুগে গড়ে উঠেছিল আজ সে ব্যবধান ভেঙ্গে যাচ্ছে। একই লোকের পক্ষে সমাজের এক স্তরে জীবন শুরু করে বিভিন্ন স্তরে অতিক্রান্ত হওয়া আধুনিক সমাজে সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় একই লোক জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভিন্ন আচারে অভ্যস্ত ও বিভিন্ন বিচারে বিশ্বাসী হবার প্রয়োজনের সম্মুখীন। সামাজিক ভাঙ্গাগড়ার যুগে আচার বিচারের সনাতনত্বের চেয়ে তার আপেক্ষিকতাই যদি ব্যক্তির চেতনায় তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে তবে তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।

    আধুনিক বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর একটা বৈশিষ্ট্য এ-দিক থেকে লক্ষণীয়। পণ্ডিত মহলে শাস্ত্রের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত নানা তর্ক-বিতর্ক সত্ত্বেও একথা বলা চলে যে, মধ্যযুগীয় বুদ্ধিজীবীশ্রেণী ঐতিহ্যের বাহক ছিলেন। শাস্ত্রের শ্রদ্ধান্বিত ব্যাখ্যা, প্রচলিত সমাজনীতির স্বপক্ষে যুক্তিতর্কের অবতারণা, এবং পাণ্ডিত্যের সহায়তায় সাধারণ মানুষের মনে এই নীতিগুলি সম্বন্ধে একটা ভীতিমিশ্রিত ভক্তির ভাব সৃষ্টি করা মধ্যযুগীয় বুদ্ধিজীবীর প্রধান কর্তব্য ছিল। মধ্যযুগীয় বুদ্ধিজীবীরা প্রায় সকলেই সমাজের একই স্তরের বাসিন্দা ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ এদেশের ব্রাহ্মণ্য শ্রেণীর উল্লেখ করা যেতে পারে। এ-যুগের। বুদ্ধিজীবীরা সমাজের নানা স্তর থেকে এসেছেন। এদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সামাজিক পরিবেশ ও ঐতিহ্যগত পটভূমিকা এক নয়। এ বিষয়ে আধুনিক সমাজ-তাত্ত্বিকদের এবং বিশেষত সুপণ্ডিত মানহাইমের চিন্তাধারা অনুধাবনযোগ্য। বিভিন্ন মতবাদ ও দৃষ্টিকোণের দ্বন্দ্ব আধুনিক বুদ্ধিজীবী মহলের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। মধ্যযুগে জ্ঞানার্জনের রাজপথ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে, শ্রদ্ধা; আর আধুনিক যুগে, সন্দেহ।

    এ-যুগের সন্দেহপ্রবণতা শুধু আচার বিচারের বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নয়। সত্য, ন্যায় ইত্যাদি মৌল আদর্শ সম্বন্ধেও এ-যুগের মনে অবিশ্বাস প্রবল। অর্থাৎ, নৈর্ব্যক্তিক সত্য। এবং নিরপেক্ষ ন্যায়ের সম্ভাবনা সম্বন্ধেও অনেকে সন্দিহান। নিশ্চিত জ্ঞানের সম্ভাবনাকে সন্দেহ করেই আধুনিক দর্শনের একটি প্রধান ধারা শুরু হয়েছে। আরও লক্ষণীয় আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের বিশেষ ঝোঁক। এ-যুগের মনস্তাত্ত্বিক বোঝাতে চেয়েছেন যে, ব্যক্তির বিশ্বাস ও ব্যবহার অনিবার্যভাবে তার অবদমিত বাসনা দ্বারা নানা জটিলপথে নিয়ন্ত্রিত। ব্যক্তির চিন্তায় অবচেতন কামনার প্রভাব এমনই ওতপ্রোত যে তাতে কোনো নিরপেক্ষ সত্যের প্রতিফলন আশা করা বাতুলতা। নিরপেক্ষ ন্যায় সম্বন্ধেও একই কথা প্রযোজ্য। ফাশিবাদী বিশ্বাস করেন যে, মানুষের ইতিহাসে প্রধান ঘটনা জাতির সঙ্গে জাতির সংগ্রাম। এই সংগ্রাম যখন প্রত্যক্ষ নয়, আপাতদৃষ্টিতে যখন আন্তজাতিক শান্তি রক্ষিত, তখনও ভিতরে ভিতরে যুদ্ধেরই আয়োজন চলে। আর যুদ্ধই যদি ইতিহাসের মূল উপাদান হয় তো ন্যায়ের কোনো নিরপেক্ষ আদর্শের কথা বলা হাস্যকর। জাতীয় শক্তিবৃদ্ধির জন্য কোনো উপায়ই অন্যায় নয়। মার্ক্সবাদী দৃষ্টিতেও মানুষের ইতিহাস সংগ্রামেরই ইতিহাস, শ্রেণীসংগ্রামের। প্রতিটি শ্রেণী সেই নীতির দ্বারাই চালিত হয়ে থাকে যাতে তার স্বার্থ রক্ষিত হয়। শ্রেণীবিভক্ত সমাজে ন্যায়ের কোনো শাশ্বত আদর্শের কথা বলা ভাবালুতা। সত্য সম্বন্ধে মার্ক্সীয় দর্শনে একটা দ্বিধা লক্ষ করা যায়। কার্যক্ষেত্রে যে-মতটির প্রভাব বেশি তা এই যে, প্রতিটি শ্রেণী সত্য হিসাবে তাই গ্রহণ করে থাকে যাতে তার স্বার্থ সিদ্ধ হয়; এবং এই দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে কোনো নিঃশ্রেণীয় সত্যের কল্পনা, বিশেষত সমাজ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, ছলনা মাত্র।

    .

    ২

    এ-বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, সত্যের যে-রূপ ব্যক্তিবিশেষের কাছে প্রত্যক্ষ তা। সেই ব্যক্তির মানসিক গড়ন ও সামাজিক পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে থাকে। আর। যদিও একই শ্রেণীভুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির মানসিক ও আধ্যাত্মিক সমস্যা বিভিন্ন তবু একথা স্বীকার্য যে, ব্যক্তির বৈষয়িক স্বার্থ বহু পরিমাণে শ্ৰেণীস্বার্থের অন্তর্ভুক্ত এবং ব্যক্তির দৃষ্টিকোণে শ্ৰেণীয় দৃষ্টিকোণের প্রভাব প্রায়শ লক্ষণীয়।

    কিন্তু “শ্রেণীসত্য” বলে কোনো সত্য নেই। এ-বিষয়ে সিডনি হুকের মন্তব্য স্মরণীয়। শ্রেণীসত্য বলে কোনো বস্তু নেই; শ্রেণীগত স্বার্থে সত্যের বিকৃতি বা অপলাপ আছে মাত্র। যেমন সত্যের শ্রেণীগত বিকৃতি আছে, ন্যায়েরও তেমনই। কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের এই শ্রেণীগত বিকৃতি স্বীকার করতে হলেও শ্রেণীস্বার্থের ঊর্ধ্বে সত্য ও ন্যায়ের একটি আদর্শগত প্রতিষ্ঠা স্বীকার করা প্রয়োজন। ফাশিবাদ অথবা উগ্র জাতীয়তাবাদ সম্বন্ধেও একই কথা প্রযোজ্য। অর্থাৎ, যেমন শ্ৰেণীস্বার্থে তেমনই জাতীয় স্বার্থেও সত্য ও ন্যায়ের অপলাপ সম্ভব, কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের আদর্শগত প্রতিষ্ঠা জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে। হিটলারের অস্ট্রিয়া দখলে জাতীয় ন্যায়ের কোনো নূতন আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়নি ন্যায়ের আদর্শ জাতীয় স্বার্থ দ্বারা অপমানিত হয়েছে মাত্র। স্বেচ্ছাচারীর স্বেচ্ছাচারিতায় ন্যায়ের অপলাপ ঘটে মাত্র, ব্যক্তিগত ন্যায়ের কোনো নূতন উদাহরণ প্রতিষ্ঠিত হয় না। মানুষ হিসাবে প্রতি মানুষের আত্মোন্নতির সমানাধিকারের যে-নীতি যুগ-যুগ ধরে দুর্বলের দুর্বলতা ও ক্ষমতাবানের ক্ষমতা দ্বারা খণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও সর্বযুগের আদর্শবাদীদের চিন্তায় বার বার ফিরে এসেছে, সেই সর্বমানবিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যের পরিমাপেই কোনো বিশেষ স্থান-কাল নিবদ্ধ বা রাজশক্তি নির্ধারিত বিধির নৈতিক মূল্যায়ন সম্ভব।

    ব্যক্তি বা গোষ্ঠির সংস্কার অথবা স্বার্থ নিরপেক্ষভাবে সত্য ও ন্যায়ের একটা শাশ্বত প্রতিষ্ঠা আছে, এ-বিশ্বাস যে-সমাজে চূর্ণ হয়ে যায় সে-সমাজ ক্রমশ চূড়ান্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা অথবা রাষ্ট্রীয় স্বৈরাচারের দিকে এগিয়ে যায়। যদি ব্যক্তিনিরপেক্ষ কোনো সত্য না থাকে। প্রতিটি ব্যক্তিই তবে অভিজ্ঞতার এমন একটি দ্বীপ যার সঙ্গে অন্য কোনো দ্বীপের কোনো সেতুবন্ধন নেই। এমনই একটা ধারণার বশে আধুনিক শিল্পসাহিত্যের কোনো কোনো মহলে একটা অহংকেন্দ্রিক দুর্বোধ্যতার দিকে দুর্নির্বার ঝোঁক লক্ষণীয়। শিল্পের ক্ষেত্রে এই ঝোঁক যে-যে সমাজে বেশীদূর ব্যাপ্ত হয়েছে সাধারণত সেই সেই সমাজে আবার এক। ধরনের “বোহেমীয়” বিশৃঙ্খলার দিকেও ঝোঁক দেখা গেছে।

    সমস্যা অবশ্য এখানেও শেষ হয় না। মানুষের সঙ্গে মানুষের মনের সম্পর্ক স্থাপন শুধু ব্যবহারিক স্বার্থের খাতিরে নয়, মনের স্বাস্থ্য ও সমগ্রতার জন্যই একান্ত প্রয়োজন। সমাজে পারস্পরিক সাহিত্যের ভিত্তি যখন চূর্ণ হবার সম্ভাবনা দেখা দেয় তখন আদিম বন্য সংহতির ভিতর আশ্রয়হীন মানুষের মনকে আহ্বান করা সহজ হয়। এমনই একটা হিংস্র সংহতির অভিব্যক্তি হিসাবেই জার্মানীতে নাৎসীবাদের আবির্ভাব। আধুনিক একনায়কতন্ত্র শুধু শাসনব্যবস্থার একটা বিশেষ রূপ নয়। সত্য ও ন্যায়ের স্বরূপ সম্বন্ধে একটি বিশেষ ধারণার উপর আধুনিক সার্বিক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা।

    গান্ধীজী আইন অমান্য আন্দোলন করেছিলেন, কারণ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে ন্যায়ের প্রতি আনুগত্যকেই তিনি উচ্চতর কর্তব্য বলে বিশ্বাস করতেন। রাষ্ট্রের বিশেষ বিধিকে অতিক্রম করেও সত্য, ন্যায় ইত্যাদির একটা স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠা আছে বলেই অবস্থা বিশেষে রাষ্ট্রকে অমান্য করবার নৈতিক অধিকারও আমাদের আছে। আধুনিক সার্বিক রাষ্ট্রে সত্য ও ন্যায়ের এই আদ্য প্রতিষ্ঠা অস্বীকৃত। অবশ্য আইন অমান্য করবার অধিকার আত্মরক্ষার খাতিরে কি সার্বিক, কি গণতান্ত্রিক কোনো রাষ্ট্রই স্বীকার করে নিতে পারে না। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিবেকভিত্তিক আপত্তি বা অসহযোগ (“conscientious objection”) গ্রাহ্য করবার এবং রাজনৈতিক বন্দীদের সাধারণ অপরাধীদের তুলনায় একটা বিশেষ মর্যাদা দেবার দিকে যে ঝোঁক আছে, আধুনিক সার্বিক রাষ্ট্রে তার বিপরীত ঝোঁকই প্রকট। রাজনৈতিক বন্দীরাই সার্বিক রাষ্ট্রে ধিকৃততম অপরাধী। এবং বিরোধীদের সকল নৈতিক মর্যাদা কেড়ে নিয়ে তাঁদের চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করবার সযত্ন চক্রান্ত আধুনিক সার্বিক আন্দোলনের নীতিবিশেষ। বলা বাহুল্য যে, বহু তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রও আজ সার্বিক আন্দোলনের এই ঘৃণ্য নীতির প্রভাবে আক্রান্ত।

    এ-প্রসঙ্গে আরও লক্ষ করা যায় যে, সার্বিক রাষ্ট্রের অধিনেতারা নিজেদের স্বার্থ। অনুযায়ী “সত্য” উদ্ভাবন করতে দ্বিধা করেন না। নাৎসী জার্মানীর অন্যতম অধিনেতা হিমলারের একটি উক্তি এখানে উদ্ধৃত করা অসঙ্গত হবে না। হিমলার বলেছিলেন

    “We don’t care a hool whether this or something else was the real truth….science proceeds from hypotheses that change every year or two. So there is no earthly reason why the party should not lay down a particular hypothesis as the starting point, even if it runs counter to current scientific opinion. The one and the only thing that matters is to have ideas of history….that strengthen the people in their necessary national pride.”

    হিমলার এখানে সত্যের বাস্তবতা সম্বন্ধে আধুনিক অবিশ্বাসকেই সত্যের ইচ্ছাকৃত বিকৃতির স্বপক্ষে যুক্তি হিসাবে ব্যবহার করছেন। বৈজ্ঞানিকেরাও যখন সত্যজ্ঞানে পৌঁছতে পারেন না, তাঁদের পূর্বকল্পিত ধারণার যখন কিছুদিন পর পরই পরিবর্তন ঘটে, তখন বিজ্ঞানবিরোধী একটা তত্ত্বকে, অর্থাৎ মিথ্যা বলে প্রমাণিত একটা তত্ত্বকেও, জাতীয় স্বার্থে সত্য বলে স্বীকার করে নিতে ক্ষতি কি! কম্যুনিস্ট শাসিত সোভিয়েত দেশেও একই। দুর্লক্ষণ বার বার দেখা গেছে। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ইতিবৃত্তকে মিথ্যা ভাষণে পরিণত করতে কম্যুনিস্ট নেতারা ইতস্তত করেননি। উপরে উদ্ধৃত শেষ বাক্যটিতে national শব্দের স্থানে ‘ckass’ শব্দটি বসালে বহু কম্যুনিস্ট নেতারই ঐ বাক্যটিতে কার্যত গভীর আপত্তি থাকবে না।

    পোলানীর একটি স্মরণীয় উক্তি দিয়ে এই অধ্যায়টি শেষ করা যেতে পারে।

    “the totalitarian form of the State arises logically from the denial of reality of this realm of transcendent ideas. When the spiritual foundations of all freely dedicated human activities –of the cultivation of science and scholarship, of the vindication of justice, of the profession of religion, of the pursuit of free art and free political discussion–when the transcendent grounds of all these free activities are summarily denied, then the State becomes, of necessity, inheritor to all ultimate devotion of men. For if truth is not real and absolute, then it may secm proper that the public authorities should decide what should be called the truth.” (Michael Polanyi, The Logic of Liberty), অর্থাৎ যদি রাষ্ট্রের উর্ধ্বে এমন কোনো আদর্শ না থাকে যে-আদর্শের সেবায় জীবন উৎসর্গ করা যায়, তা হলে সর্বধর্ম পরিত্যাগ করে রাষ্ট্রের শরণার্থী হওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। আর সত্যের যদি কোনো তৎপ্রতিষ্ঠা না থাকে, তা হলে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী “সত্য নির্ধারিত করা অযৌক্তিক বিবেচিত নাও হতে পারে।

    .

    ৩

    সত্যের সাশ্রয়ী প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাস এক জিনিস; আর সেই সত্য কোনো শাস্ত্রবিশেষে সীমায়িত অথবা কোনো বিশেষ সমাজ-ব্যবস্থায় সিংহাসনারূঢ়, এ-সিদ্ধান্ত ভিন্ন জিনিস। এই দ্বিতীয় সিদ্ধান্তই মধ্যযুগীয় বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত। এই মধ্যযুগীয় বিশ্বাসে ফিরে যাওয়া। আজ না-প্রয়োজনীয়, না-বাঞ্ছনীয়।

    এ-কথা স্বীকার করে নিতে বাধা নেই, বরং স্বীকার করে নেওয়াই বাঞ্ছনীয় যে, সত্যের প্রকাশ বিচিত্র এবং তার আংশিক উপলব্ধিও মিথ্যার প্রলেপে আচ্ছন্ন হবার নিয়ত সম্ভাবনা। আধুনিক মনোবৈজ্ঞানিক ও সমাজবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এ-দিক থেকেই আমাদের আত্মজ্ঞান ও সত্যজ্ঞান বাড়াবার পথে সহায়ক। যে-কোনো ব্যক্তির সত্যোপলব্ধিতে সত্যানৃতের মিশ্রণ অবশ্যম্ভাবী বলেই স্বাধীন মতপ্রকাশ ও আলোচনার গণতান্ত্রিক অধিকার সত্যের পথে সহায়ক। অর্থাৎ, যেহেতু কোনো সাময়িক সিদ্ধান্তেই সমগ্র সত্য বিধৃত হতে পারে না, অতএব বিভিন্ন, এমনকি পরস্পরবিরোধী, নানা সিদ্ধান্তের সহসত্তা এবং ঘাতপ্রতিঘাতের ভিতর দিয়ে পূর্ণতর সত্যের দিকে অগ্রসর হবার চেষ্টাই সুস্থ সমাজে প্রত্যাশিত ও বাঞ্ছনীয়।

    ধনতান্ত্রিক সমাজেও যেমন সমাজতান্ত্রিক সমাজেও তেমনই মিথ্যাকে রোধ করবার নামে স্বাধীন আলোচনার পথ রুদ্ধ করলে তাতে সত্যকেই রোধ করা হবে। অনুন্নত উপজাতীয় (tribal) সমাজব্যবস্থায় একটা স্বতস্ফূর্ত সামাজিক ঐক্যবোধ লক্ষ করা যায়। এই উপজাতীয় একতাবোধের প্রতি মানুষের একটা স্বাভাবিক আকর্ষণ আছে। বিশ্বাস করতে ভালো লাগে যে, ব্যক্তিগত সম্পত্তির অবসানে আবারও আমরা দ্বন্দ্বমুক্ত সেই সহজ ঐক্যভাবে বা তার কোনো বিকল্পরূপে ফিরে যেতে পারব। কিন্তু সামাজিক ও মানসিক দীর্ঘ বিবর্তনের ফলে মানুষ আজ কর্মে ও চিন্তায়, সাধ্যে ও অনুশীলনে এতে বিভক্তীকৃত যে, উপজাতীয় ঐক্যের আদর্শে প্রত্যাবর্তন আজ অসম্ভব। আধুনিক সমাজে তাই শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি এবং জীবনচর্চার অন্যান্য সকল ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতার বিচিত্র ও বিভিন্নমুখী প্রকাশ স্বাভাবিক। বিভিন্ন বৃত্তি, পরিস্থিতি অথবা চৈতন্যের বিভিন্ন স্তরে যাঁদের অবস্থান তাঁদের ভিতর মত ও নীতির মোলিক দ্বন্দ্ব আজকের জটিল সমাজে অস্বাস্থ্যের। নয়, বরং স্বাভাবিক স্বাস্থ্যেরই লক্ষণ। ভয়ে, সাময়িক উত্তেজনায়, অথবা আত্মবিশ্বাসের একান্ত অভাবে যখন মানুষ চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলে, তখনই শুধু এই দ্বন্দ্বের সাময়িক নিবর্তন সম্ভব। যদি গণতান্ত্রিক অধিকার বাহ্যত স্বীকৃত থাকা সত্ত্বেও কোনো সমাজে আজ। নীতির ক্ষেত্রে মতৈক্য ও বিচারের ক্ষেত্রে মৌলিক দ্বন্দ্ব উচ্চারিত না হয়, তা হলে সে সমাজ অসুস্থ সমাজ আর যে-রাষ্ট্র মতের মৌলিক দ্বন্দ্ব উচ্চারণ করবার অধিকার কেড়ে নিয়েছে সে-রাষ্ট্র সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেই বিপন্ন করেছে।

    দ্বন্দ্বের অধিকার মৌলিক; কিন্তু গণতান্ত্রিক সমাজে বিশ্বাসেরও স্থান আছে। গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার আধ্যাত্মিক ভিত্তি হিসাবে ঐক্য বাঞ্ছনীয় এই একটি বিশ্বাসে যে, সমস্ত দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্নমুখী অন্বেষণের লক্ষ্য হিসাবে এমন একটি সত্য বস্তু আছে যা অনন্তরূপী হয়েও স্বপ্রতিষ্ঠিত। কারণ, এ বিশ্বাস যদি না থাকে তা হলে সমস্ত বাদ-প্রতিবাদই শুধু নিরর্থক কোলাহল; এবং এমন একটা নিরর্থক ব্যাপার যদি কোনো রাষ্ট্র সাময়িক স্বার্থের প্ররোচনায় অত্যন্ত উপেক্ষার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত করতে উদ্যত হয় তো তাকে দোষ দেওয়া যায় না।

    বস্তুত আধুনিক একদলীয় বা অধিনায়কত্মন্ত্রিক সমাজে সত্য ও ন্যায়ের আদর্শের প্রতি দু’টি বিপরীত ধারণার যুগ্ম প্রতিষ্ঠা দেখা যায়। সাধারণ কর্মীকে এই প্রাচীন উপজাতীয় বিশ্বাসে দীক্ষিত করা হয় যে, গোষ্ঠীর নেতা অথবা নেতৃস্থানীয় শাসকমণ্ডলী অভ্রান্ত, সত্যদ্রষ্টাস্বরূপ; আর নেতৃস্থানীয়েরা বিশ্বাস করেন যে সত্য বলে কোনো বস্তু নেই, রাষ্ট্রের স্বার্থ অনুযায়ী সত্য-মিথ্যার নির্ধারণই সঙ্গত রাজনীতি। গণতান্ত্রিকের কর্তব্য এই দুই ভ্রান্তির অবিরাম বিরোধিতা। সত্যের ভিত্তি সাময়িক স্বার্থে নয়; আবার সত্য, কোনো নেতৃবিশেষে মূর্তিমান বা শাস্ত্রবিশেষে সীমায়িতও নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষের

    স্বাজাত্যবোধের যে-প্রেরণা মানুষের প্রকৃতিগত, সেই এষণা আজ পরিতৃপ্ত হতে পারে শুধু এমন কোনো সাম্যবাদী সমাজে যেখানে মানুষের ঐক্যের প্রতিষ্ঠা-ভূমি কোনো প্রত্যক্ষ শাস্ত্রে অথবা সর্বস্বীকৃত নেতৃত্বে নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মানুষের সমান অধিকারের স্বীকৃতিতে এবং এই মৌল উপলব্ধিতে যে, যে সত্যকে বহু মানুষ বহুভাবে অন্বেষণ করছে। সেই সত্যই মানুষকে ব্যক্তি, গোষ্ঠী, শ্রেণী অথবা জাতি হিসাবে বিচ্ছিন্নতা থেকে উদ্ধার করে একটি বৃহৎ সামান্যে প্রতিষ্ঠিত করে।

    গণযুগ ও গণতন্ত্র (১৯৬৭)

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআরজ আলী মাতুব্বর রচনাসমগ্র ১
    Next Article এবার ভিন্ন কিছু হোক – আরিফ আজাদ

    Related Articles

    Ek Pata Golpo

    সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম

    October 28, 2025
    Ek Pata Golpo মহালয়া

    মহালয়া: মহিষাসুরমর্দিনী (Mahalaya: Mahishasuramardini)

    September 10, 2025
    Ek Pata Golpo

    গাছের পাতা নীল – আশাপূর্ণা দেবী

    July 7, 2025
    Ek Pata Golpo

    লিঙ্গপুরাণ – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    June 3, 2025
    Ek Pata Golpo

    ৪. পড়ন্ত বিকেল

    April 5, 2025
    Ek Pata Golpo ছোটগল্প মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    পূজারির বউ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }