Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খুনে মার্শাল – কাজী মাহবুব হোসেন

    কাজী মাহবুব হোসেন এক পাতা গল্প139 Mins Read0
    ⤷

    খুনে মার্শাল – ১

    এক

    সাহায্যের জন্যে অস্পষ্ট চিৎকারটা টাউন মার্শাল টেড মার্শের কানে যেতেই লাফিয়ে চেয়ার ছেড়ে দরজার দিকে ছুটল সে। এতক্ষণ নিজের অফিসে বসে ওয়ানটেড আউটলদের পোস্টারগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। ওর ছয়ফুট লম্বা দেহটা ধনুকের ছিলার মত টানটান হয়ে উঠেছে এখন। বিকেল হয়ে এসেছে। রাস্তাটা জনশূন্য। মেক্সিকোর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শহরটা এখন সিয়েস্টায় আচ্ছন্ন। গরম এড়াচ্ছে। ঘুমিয়ে।

    রাস্তায় বেরিয়ে চারপাশ খুঁটিয়ে লক্ষ করল টেড। আবার আওয়াজটা শুনতে পেল।

    ‘বাঁচাও! ডাকাত!’

    ঘুরে তাকাল মার্শ। শব্দটা পঞ্চাশ গজ দূরে ‘মার্কেন্টাইল’ স্টোর থেকে এসেছে। দরজায় দোকানের মালিক রয় রজার্সকে দেখা যাচ্ছে। ছুটে এগোল টেড। শেষের তিন কদম লাফিয়ে আগে বেড়ে রয়কে ধরে ফেলল। লোকটা পড়ে যাচ্ছিল।

    হার্ডওয়্যার স্টোরের মালিক কি ঘটেছে দেখার জন্যে তার দোকান থেকে উঁকি দিয়েছিল। পরিস্থিতি আঁচ করে দৌড়ে ছুটে এল।

    ‘ডাকাত!’ থেঁতলানো ফোলা ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বলল রয়। ‘দুজন! সব টাকা নিয়ে গেছে।’

    পিস্তলটা খাপে ভরল টেড। অভ্যাস বশেই ওটা ওর হাতে উঠে এসেছিল। পরীক্ষা করে দেখল পিস্তলের বাড়িতে বেশ জখম হয়েছে রয়।

    হার্ডওয়্যার দোকানিকে ডাক্তার আনতে পাঠিয়ে রাস্তা ধরে ছুটল মার্শাল। আস্তাবলের দিকে যাচ্ছে। ডাকাত দুজন শহর ছেড়ে পালাবার আগেই ধরতে চায়। এখনও ওরা শিপরকেই কোথাও আছে।

    আরও দুজন এসে যোগ দিল মার্শালের সাথে। ওদের একজনকে আহত রজার্সের পাশে থাকার জন্যে পাঠিয়ে দিল সে। জন শেপার্ড রইল টেডের সাথে

    হ্যাঙ্কের বাড়ির পিছনে ঝোপের ভিতর দুটো ঘোড়া বাঁধা রয়েছে দেখে টেড।

    ‘ওরা এখনও পালাতে পারেনি,’ বলল শেপার্ড।

    ‘জানি,’ ঠাণ্ডা স্বরে জবাব দিল টেড। শেপার্ডের সাথে ওর সম্পর্ক খারাপ। পুরো টাউন কাউন্সিলের সাথেই টেডের বিরোধ। মেয়র উইল শাটার, শেপার্ড, এবং আরও তিনজন কাউন্সিল সদস্য মার্শালের কাজে অনেক ত্রুটি ধরতে শুরু করেছে। ওরা এখনই ভুলে গেছে কিভাবে বেন আর টেড জীবন বিপন্ন করে শহরটাকে বাঁচিয়েছিল। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ওরা একদল বেপরোয়া ডাকাতকে ঠেকিয়েছিল। চতুর একটা ডাকাতের দল। ওদের লীডার ইউ এস মার্শাল আর লোকজন ইউ এস ক্যাভেলরিমেন (ঘোড়ার পিঠে সৈনিক) সেজে এসেছিল। টেডই সেদিন ওদের প্ল্যান বুঝে বেন জুনিয়ারকে সাবধান করেছিল।

    সংঘর্ষে বেন জুনিয়রের পেটে গুলি লাগল। কিন্তু তার পরেও সে কয়েকজন ডাকাতকে ঘোড়া থেকে ফেলে দিল। টেড আর উত্তরের র‍্যাঞ্চার ফ্রেড বাকি সবাইকে শেষ করল।

    ডাক্তার প্রথমে বলেছিল বেন জুনিয়র বাঁচবে। তাই টেড মার্শ তার ডেপুটি মার্শালের পদ ছেড়ে ফ্রেডের র‍্যাঞ্চে ফোরম্যান হিসেবে কাজ নিল। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই হঠাৎ করে বেন জুনিয়রের অবস্থা খারাপের দিকে গেল। মারা গেল সে। ছেলেকে খুব ভালবাসত ওর বাবা। কয়েকদিন পর স্ট্রোকে সেও মারা গেল।

    টেড মার্শ তার দুজন সত্যিকার বন্ধুকে কবর দিয়ে আসার পর টাউন কাউন্সিলের একান্ত অনুরোধে শিপরকের মার্শাল হলো। বেন জুনিয়রের সুন্দরী স্ত্রী সেসিলার সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পেল। ওকে সে শ্রদ্ধা করে। ওকে নিয়ে ভাবে-সুখ-সুবিধা দেখে।

    দেখা করতে গেলে প্রতিবারই মেয়েটা টেডকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। সান্ত্বনা খোঁজে। এবং টেড মার্শের শক্ত আলিঙ্গন ওকে নিরাপত্তা দেয়। মাথায় আর পিঠে হাত বুলায় টেড। শান্ত হলে মার্শালকে সাপার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায় সেসিলা। টেড কখনও প্রত্যাখ্যান করে না, কারণ জানে, ওর চেয়ে ভাল রাঁধুনী শিপ্রকে নেই।

    কতবার যে সেসিলাকে ও দেখতে গেছে তার হিসেব নেই। সম্পর্কটা বন্ধুর স্ত্রী থেকে ধীরে ধীরে কখন অন্যদিকে মোড় নিয়েছে, তা বুঝতেও পারেনি টেড।

    কিন্তু ও এটা বোঝে যে ওর সাথে অন্যের জীবন ধারায় অনেক তফাত। জানে সেসিলার প্রতি নিজের অনুভূতি সে কোনদিনই প্রকাশ করতে পারবে না। ভয় পায়, যদি মেয়েটা তাকে প্রত্যাখ্যান করে তবে কোনদিনই সে আর ওর সামনে মুখ তুলে দাঁড়াতে পারবে না।

    তাই ও অনেক দেরিতে দেখা করা শুরু করল। ভাবল, হয়তো সময়ে সে বেন জুনিয়রকে ভুলে ওর প্রতি আকৃষ্ট হবে। নিজের কাজেই ডুবে থাকল টেড। তার অনুভূতি হয়তো মেয়েটা একদিন বুঝবে।

    শহরের ভাল চায় টেড মার্শ। কিন্তু ওর কাজের পদ্ধতি টাউন কাউন্সিলের পছন্দ নয়। কাউন্সিলের মতে, কেবল বিচারের পরই অপরাধীর শাস্তি পাওয়া উচিত—তার আগে নয়। অথচ টেড যেসব আউটলকে ধরে আনতে গেছে, তাদের বেশিরভাগই ধরা না দিয়ে গোলাগুলি করে পালাতে চেয়েছে। আত্মরক্ষার জন্যে বাধ্য হয়ে টেডকেও গুলি ছুঁড়তে হয়েছে-ফলে বিচারের আগেই ওদের মৃত্যু ঘটেছে। এইখানেই কাউন্সিলের আপত্তি, এবং এইখানেই টেডের সাথে টাউন কাউন্সিলের বিরোধ। ওদের দৃঢ় বিশ্বাস ইচ্ছে করলেই আউটলদের জীবিত অবস্থায় ধরে আনতে পারত টেড। আউটলরা জানে একটা খুন করলে তাদের শাস্তি ফাঁসি, এবং পাঁচটা খুন করলেও তাদের ফাঁসি একবারই হবে-পাঁচবার নয়। এই সহজ যুক্তিতেই ধরা না দিয়ে ওরা পিস্তল বের করে লড়ে। কিন্তু কাউন্সিল কিছুতেই এটা মানতে চায় না। অথচ টেড জানে তাকে মারার জন্যে পিস্তল বের করে মরার জন্যে আউটলরা নিজেরাই দায়ী।

    তাই ওদের প্রতি দয়া দেখানোর কোন প্রয়োজন বোধ করে না মার্শ। যেসব অপরাধীকে নিয়ে সে ফেরত এসেছে, তাদের কিছু এসেছে বাঁধা অবস্থায়-বাকি জিনের ওপর উপুড় হয়ে-মৃত। মার্শাল হিসেবে এটাই তার কর্তব্য।

    শিপরক শহরটা নিউ মেক্সিকো এলাকার বড় বড় ক্যাটল ট্রেইল থেকে বেশি দূরে নয়। পয়সাওয়ালা ক্যাটল ব্যবসায়ীদের সাথে কিছু আজেবাজে মানুষও আসে শিপরকে। ছলে, বলে, বা কৌশলে গরু বেচা টাকা হাত করাই ওদের উদ্দেশ্য।

    শিপরকে অপরাধের হার ক্রমে বেড়েই চলেছিল। পিস্তলে লম্যানের অব্যর্থ হাত থাকলে সবাই তাকে ভয় আর শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ব্যাঙ্ক ডাকাতদের বিরুদ্ধে গোলাগুলিতে মার্শের বেশ নাম হয়েছে। তবে উপকারের কথা ভুলতে শহরবাসী বেশি সময় নিল না। গুজব উঠল মার্শাল মার্শের পিস্তলের হাত খুব বেশি চালু, সে আগে গুলি চালিয়ে পরে প্রশ্ন করে। ওখান থেকেই বিরোধের শুরু। বর্তমানে মেয়র থেকে শুরু করে শহরের গণ্যমান্য সবাই ওর প্রতি অসন্তুষ্ট, এবং তারা ওকে বাইরের লোক হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

    এটা নতুন কিছু নয়, চালু পিস্তলবাজ লম্যানদের নিয়ে এই ধরনের গুজব নিউ মেক্সিকো, অ্যারিজোনা আর টেক্সাসে বেশ শোনা যায়।

    নগর পরিষদের কেউ এ নিয়ে মার্শের সাথে আলাপ করেনি। কিন্তু মোটাসোটা মেয়র মাঝেমাঝে ওকে আভাস দিয়েছে যে কবর দেয়ার জন্যে আউটলদের না এনে জীবিত অবস্থায় বিচারের জন্যে আনাটাই ভাল।

    ‘ওরা এখনও শহরেই কোথাও আছে,’ মন্তব্য করল জন শেপার্ড। ‘পালাতে হলে ওদের ঘোড়াদুটোর কাছে পৌঁছতে হবে।’

    মাথা ঝাঁকাল মার্শ। ওর তীক্ষ্ণ চোখদুটো বাড়ির খাঁজ, দরজা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য লুকানোর জায়গাগুলোর ওপর ঘুরছে।

    ‘আমি সাহায্যের জন্যে-’ শুরু করেছিল শেপার্ড।

    মাথা নাড়ল মার্শাল। ‘তার সময় নেই, জন,’ বাধা দিয়ে ওকে থামিয়ে বলল টেড। ‘আমি সব সামলাচ্ছি। ঘোড়ার কাছে পৌঁছবার সুযোগ ওদের দেব না।’

    ‘জীবিত ধরবে?’

    ‘ওরা ধরা দেয়ার সুযোগ পাবে। ধরা না দিলে…!’ কথাটা শেষ করল না মার্শ।

    শেপার্ড পিছিয়ে রজার্সের দোকানের দিকে চলে গেল। তৈরি হয়ে রাস্তার ঠিক মাঝখান দিয়ে এগোচ্ছে মার্শাল। এখন সে সহজ টার্গেট। কিন্তু এতে রাস্তার দুপাশেই নজর রাখতে পারছে।

    নীল শার্টের বাম পকেটে আঁটা ব্যাজটা বিকেলের রোদে ঝিলিক দিচ্ছে। চোখের ওপর টেনে দেয়া হ্যাটটা রোদ আড়াল করছে।

    জীনসের প্যান্টটা বুটের ভিতর ঢোকানো। ডান ঊরুতে বাঁধা কোল্ট ৪৫ পিস্তলটা ব্যবহারে মসৃণ। কপালে বিন্দুবিন্দু ঘাম জমেছে। সতর্ক চোখে ডাকাত খুঁজছে ও।

    ‘মার্শাল মার্শ!’ দুটো বাড়ির ফাঁকে আগাছা ভরা প্যাসেজ থেকে ডাকল কেউ। ঘুরে তাকাল টেড। বুড়ো রে সিম্পসন ওখানে দাঁড়িয়ে আছে।

    ‘বলো?’

    ‘ওদের আমি দেখেছি,’ ফিসফিস করে বলল বুড়ো। ‘ওরা তোমাকে দেখে ওই খালি বাড়িটায় লুকিয়েছে।’ আঙুল তুলে পরিত্যক্ত বাড়িটা দেখাল রে।

    ‘ধন্যবাদ,’ সামান্য একটু নড় কোরে বলল মার্শাল। এখন ওর পুরো মনোযোগ খালি দালানটার ওপর।

    রোদে পোড়ানো ইটের দালান। ওটা এককালে ক্যাফে ছিল। পিছনে থাকার ঘর। ব্যবসায় টিকতে না পেরে মালিক চলে গেছে। বাড়িটা কাঠের তক্তা মেরে চারদিক থেকে বন্ধ কোরে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে ভবঘুরে লোকজন শীতের রাত কাটাবার জন্যে সদর দরজার তক্তা খুলে ফেলেছে। ব্যাপারটা মার্শাল জানে, কিন্তু এতে কারও কোন ক্ষতি হচ্ছে না দেখে সে বাধা দেয়নি।

    রাস্তার পশ্চিমদিক ঘেঁষে এগোল টেড। বাড়িটার সামনে এসে থামল। দালানের পাশে আগাছার ভিতর ব্যাঙ আর ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। আর কোন শব্দ নেই। ডাকাত দুজন এখনও ভিতরেই আছে। পিস্তলটা বের করে দরজার পাশে এসে দাঁড়াল লম্যান। চাপা উত্তেজনা আর গরমে ঘেমে উঠেছে সে। কান পেতে শোনার চেষ্টা করল।

    ভিতরে কেউ একজন নড়ল। কাঠের সাথে খসখসে কাপড়ের ঘষা খাওয়ার শব্দ সে পরিষ্কার শুনতে পেয়েছে।

    সামনের বড় কামরা থেকে আসেনি আওয়াজ-এসেছে আরও ভিতরে পিছনের কামরা থেকে। ডাকাত দুজন সম্ভবত শোয়ার ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। একটু আশ্বস্ত হলো মার্শাল। ওদের পালাবার উপায় নেই। বেরোতে হলে ওদের সামনের দরজা দিয়েই বেরোতে হবে, কারণ পিছনের দরজা-জানালাগুলো এখনও শক্তভাবে তক্তা দিয়ে আটকানো আছে।

    দরজা দিয়ে ঢুকে একপাশে সরে বড় কামরার ভিতর উঁকি দিল মার্শাল। কামরাটা ফাঁকা। বুঝল ডাকাত দুজন পছনের কামরাতেই লুকিয়ে আছে।

    বড় কামরা থেকে ভিতরে ঢোকার দরজাটার পাশে এসে দাঁড়াল টেড। ‘তোমরা বেরিয়ে এসো! আমি তোমাদের কাভার করে আছি!’ চেঁচাল মার্শাল। ‘পালাবার কোন পথ নেই!’ জবাবের জন্যে একটু অপেক্ষা করে কেউ সাড়া দিল না দেখে সে আবার বলল, ‘পিস্তল ফেলে মাথার ওপর হাত তুলে বেরিয়ে এসো।’

    ওদিক থেকে কোন সাড়া এল না। বাইরে ব্যাঙ আর পোকা ডাকছে। দরজার পাশে সুবিধা মত একটা জায়গা বেছে নিয়ে দাঁড়াল মার্শাল। ডাকাত দুজন গুলি ছুঁড়ে বেরোবার চেষ্টা করলে চট করে ওকে দেখতে পাবে না।

    ‘এই! তোমরা শুনতে পাচ্ছ?’ চেঁচাল টেড। ‘এক্ষুণি বেরিয়ে এসো, নইলে ‘ হঠাৎ পিস্তল হাতে দুজন লোক লাফিয়ে বড় কামরায় ঢুকে মার্শালের দিকে পিস্তল তাক করল। মার্শের হাত সচল হলো। গর্জে উঠল ওর ৪৫ কোল্ট। একই সাথে ডাকাত দুজনও গুলি ছুঁড়েছে।

    মার্শের গুলির আঘাতে দুজন আউটলই টলে উঠে পড়ে গেল। অপেক্ষাকৃত লম্বা আউটল শেষ চেষ্টায় আবার পিস্তল তুলল। পরপর আরও দুটো গুলি করল টেড। মাথা উঠিয়েছিল লোকটা, গুলি খেয়ে মেঝেতে মাথা ঠুকে স্থির হলো ওর দেহ। অন্যজন আগেই শেষ হয়েছে।

    দুই

    বারুদের ঝাঁঝাল ধোঁয়ার ভিতর ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াল টেড মার্শ। বিষণ্ণ মুখে সে খালি কার্তুজগুলো ফেলে কোল্টে তাজা কার্তুজ ভরল।

    বাইরের রাস্তায় শহরবাসীদের দ্রুত ছুটে আসার শব্দ শোনা যাচ্ছে। গোলাগুলির আওয়াজ ওরা শুনতে পেয়েছে। গুলির শব্দ থেমে যাওয়ায় এগোনো নিরাপদ মনে করে কৌতূহল মেটাতে আসছে। দরজার কাছে এসে দাঁড়াল কয়েকজন। ক্যাফে ঘরটা আরও অন্ধকার হলো। জন শেপার্ডই প্রথম ঘরে ঢুকল- ওর পিছনে মেয়র, জেব মায়ার্স। ওকে অনুসরণ করল উকিল টোনি রস আর লিভারি আস্তাবলের মালিক জেরি ট্যানার। বাকি সবাই সাধারণ নাগরিক—ওরা দরজার কাছেই জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

    মোটাসোটা মেয়রের গোল লালচে মুখটা ঘামে ভিজে চকচক করছে। মার্শাল মার্শের দিকে আড়চোখে একটা ক্রুদ্ধদৃষ্টি নিক্ষেপ করল সে। দেয়ালে হেলান দিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে টেড। আউটল দুজন উপুড় হয়ে মেঝের ওপর পড়ে আছে। একটা টুল টেনে নিয়ে ওদের কাছাকাছি বসল মেয়র। ছোট মানুষটার কাঁধ ধরে দেহটাকে চিত করল সে। ঢিলে হ্যাটটা খসে একরাশ ঝাঁকড়া লালচে চুল বেরিয়ে পড়ল।

    ‘ওহ!’ ফুঁপিয়ে উঠল শেপার্ড।—লানা বেইটস!’

    ‘লানা স্কট-ও বিবাহিতা,’ সংশোধন করল জেব মায়ার্স। দ্বিতীয় আউটলকে চিত করল সে। নিখুঁতভাবে দাড়ি কামানো একটা তরুণের মুখ দেখা গেল। ‘এবং এটা ওর স্বামী,’ দীর্ঘ একটা শ্বাস ছেড়ে বলল মেয়র।

    জন শেপার্ড কঠিন দৃষ্টিতে মার্শের দিকে তাকাল। বাইরের ছোট কামরায় দাঁড়ানো লোকগুলো এখন আউটল দুজনের পরিচয় আর পরিণতির কথা জেনে গেছে।

    ‘আমার নিষেধ না শুনে আবার তুমি খুন করেছ!’ ফুঁসে উঠল মেয়র।

    বিষণ্ণ দৃষ্টিতে লানার দিকে চেয়ে আছে টেড। অনুশোচনা ওকে ভীষণভাবে পোড়াচ্ছে। এর আগে কখনও সে কোন মহিলাকে হত্যা করেনি। লানাকে বা ওদের বেইটস পরিবারকে সে ভাল করে চেনেও না। কেবল জানে এক বিধবা মহিলা তার তিন ছেলে আর লানাকে নিয়ে শিপরক শহরের দশ মাইল দক্ষিণে একটা ছোট র‍্যাঞ্চে বাস করত। বেইটসরা মিশুক নয়, আলাদা থাকতেই পছন্দ করে। শিপরকে ওদের আনাগোনা খুব কম। উত্তরের এস্পানিওলা শহর থেকেই ওরা সাপ্লাই সংগ্রহ করে। লানার স্বামী বাড স্কটকে সে চেনে না।

    ‘এসবের মানে কি, মার্শ?’ কঠোর সুরে জানতে চাইল মেয়র।

    ‘উপায় ছিল না। ওরাই প্রথম গুলি করে মারা পড়েছে।’

    ‘তাই নাকি?’ ব্যঙ্গের সুরে বলল শেপার্ড। ‘সবসময়ে ওই একই অজুহাত!’

    কাঁধ উঁচাল মার্শ, তারপর পিস্তলটা খাপে ভরল।

    ‘পিস্তল হাতে ছুটে এসেছিল ওরা,’ বলল মার্শাল। ‘বলতে চাও আত্মরক্ষা না করে ওদের গুলিতে মরাই আমার উচিত ছিল? আমার জায়গায় তুমি কি করতে?’

    ‘হাহ্!’ ঠাণ্ডা সুরে পরিহাস করল মেয়র। ‘ওই যুক্তি তুমি আগেও দিয়েছ।’ লানার লাশের দিকে চাইল সে। ‘এবার আমাদের কৈফিয়ত দেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে-একটা মেয়েকে খুন করেছ তুমি। বুঝি না নিজেকে তুমি সংযত রাখতে-’

    ‘শোনো, মেয়র!’ খেপে উঠল মার্শ। ‘আমি কিভাবে জানব ডাকাতদের একজন মেয়ে? তুমি নিজেই দেখতে পাচ্ছ ও পুরুষের পোশাক পরে আছে— দেখতেও পুরুষের মতই।’ ভিড়ের মধ্যে মাথায় ব্যাণ্ডেজ বাঁধা একজনকে দেখে সে বলে উঠল, ‘রয়, তুমি তো ওকে দোকানে দেখেছ, ওকে তোমার পুরুষ বলে মনে হয়নি?’

    মাথা নাড়ল রয়। ‘আমি ভাল করে দেখতে পাইনি। সবই এত দ্রুত ঘটে গেল…’

    ‘কথা পালটিও না! তুমি ওদের দুজনকে ভালভাবেই দেখার সুযোগ পেয়েছ।’

    সঙের মত কাঁধ উঁচাল রয়। ‘না, চেহারা দেখার সুযোগ আমি পাইনি। ওরা বারবার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল।’

    ‘কিন্তু তুমি ওকে পুরুষ বলেই ঠাউরেছিলে। তাই না?’

    দোকানি আবার কাঁধ উঁচাল। ‘মনে হয় তাই।’

    ‘এখন ওসব কথা তুলে লাভ নেই,’ বলে উঠল মেয়র। ‘একটা মেয়ের লাশ পড়ে আছে এখানে-আমাদেরই মার্শাল তাকে গুলি করে মেরেছে। কেউ এটা সহজভাবে নেবে না। তোমার জন্যে এটা খুব খারাপ হলো, মার্শ। সবাই জানে তোমার হাত খুব বেশি চলে।’ ভিড় ঠেলে ডাক্তারকে ব্যাগ হাতে ঢুকতে দেখে সে আবার বলল, ‘তোমার এখানে সময় নষ্ট করে লাভ নেই, ডক্ সেলবি। ওরা দুজনই মারা গেছে।’

    ওর কথা অগ্রাহ্য করে লাশের পাশে হাঁটু গেড়ে বসল হিউবার্ট সেলবি। ‘আমিই করোনার, এটাও আমার কর্তব্য,’ বিড় বিড় করল ডাক্তার। তারপর মুখ কুঁচকে লাশ দুটোর দিকে তাকিয়ে আবার বলল, ‘এটা তো হ্যারি বেইটসের মেয়ে, পুরুষটা কে?’

    ‘ওর স্বামী। বাড স্কট।’

    ‘এরাই রয় রজার্সকে পিস্তলের বাড়িতে জখম করেছে?’

    ‘হ্যাঁ, আমাকে প্রায় শেষই করেছিল,’ রয় নিজেই জবাব দিল।

    দরজার ভিড়ের দিকে মুখ তুলে তাকাল সেলবি। ‘তোমরা কেউ প্যাট্রিক জেসনকে ডেকে আনতে পারো? এখন আণ্ডারটেকারই লাশের ভাল যত্ন নিতে পারবে।’

    যাওয়ার জন্যে উঠে দাঁড়াল ডাক্তার। কাঁধ চেপে ধরে ওকে ঠেকাল মেয়র। ‘আমাদের একটা জরুরী কাউন্সিল মীটিঙ ডাকা দরকার, হিউবার্ট। রয় রজার্সকেও আমার দরকার হবে, ভোট দিতে পারবে। তোমাকেও থাকতে হবে ডক।

    ডাক্তার ভুরু কুঁচকাল। ‘মীটিঙ? ভোট? এসব কি বলছ, জেব?’

    ‘মার্শালের ব্যাপারে আমরা কি করব, মীটিঙে সেটারই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একজন মহিলার এই করুণ পরিণতির পর মার্শালের আইন রক্ষার পদ্ধতি আর সমর্থন করা চলে না।’

    চিবুক ঘষতে ঘষতে আড়চোখে মার্শের দিকে তাকাল হিউবার্ট। যুবক লম্যানের জন্যে ওর দুঃখই হচ্ছে। কিন্তু এবার সে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ডাক্তার মন্তব্য করল, ‘মনে হচ্ছে তোমার কথাই ঠিক, জেব। সত্যিই একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক আছে, তুমি মীটিঙ ডাকো, কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আমি আসতে পারব না-আমার চেম্বারে কিছু রোগী রয়েছে।

    ‘ঠিক আছে, ডক। একঘণ্টা পর, আমার অফিসে।’

    বেরিয়ে যাওয়ার জন্যে তৈরি হয়ে দরজার সামনে গিয়ে থামল ডাক্তার। ঘুরে আঙুল তুলে মার্শালের দিকে নির্দেশ করল। ‘মীটিঙে নিজের দিকটা বোঝাবার জন্যে ও উপস্থিত থাকবে?’

    ‘তার দরকার হবে না, ডক। ওর বক্তব্য আমরা শুনেছি। বলেছে ডাকাত দুজন ওর দিকে গুলি ছুঁড়েছে, আর মেয়েটাকে সে পুরুষ মনে করেছিল।’

    ‘মেয়ে বলে ওকে এত উঁচুতে ওঠানো তোমার ঠিক হচ্ছে না, জেব। মেয়ে ডাকাতও হাতে অস্ত্র থাকলে পুরুষের মতই মারাত্মক হতে পারে।’

    মেয়রের নিঃশ্বাসের সাথে একটা গালি বেরোল, কিন্তু শুনতে পেল না কেউ। ‘আসল কথা সেটা নয়, ডক! সন্দেহ নেই মার্শাল যা বলেছে তাই ঘটেছে। আগের সব খুনের জবাবও সে এইভাবেই দিয়েছে। কিন্তু আজকের শুটিঙে একটা মেয়ে মরেছে!’

    এক মুহূর্ত চিন্তা করল হিউবার্ট। ‘হ্যাঁ, মেয়র, মনে হচ্ছে তোমার কথাই ঠিক।’ টেডের দিকে তাকাল সে। মার্শাল চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। ওদের কথার পুরো মানেই সে পরিষ্কার বুঝতে পারছে। ‘তুমি কিছু বলছ না, মার্শাল?’

    হাসল টেড। ‘কোন লাভ আছে? তোমরা সবাই আগে থেকেই আমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছ।’

    তোমাকে স্বীকার করতেই হবে মার্শাল হিসেবে তোমার রেকর্ড খুব ভাল নয়,’ ঘোষণা করল মেয়র। ‘গত এক বছরেই তুমি আউটলর বদলে চারটা লাশ নিয়ে ফিরেছ। যাদের মেরেছ তাদের দুজন ছিল কাউহ্যাণ্ড। ওদের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ ছিল। এবং

    ‘কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ফাঁসিতে ঝোলার চেয়ে আমাকে খুন করে পালিয়ে যাওয়াই ওরা ভাল মনে করেছিল।’

    ‘আর ওই স্টেজকোচ? ওটা মাত্র দুমাস আগের ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী বলেছে তুমি বিনা কারণে হত্যা করেছ।’

    ‘যেভাবে বলা হয়েছে, ঘটনা ঠিক সেভাবে ঘটেনি, মেয়র,’ রাগ চেপে বলল টেড। ‘লোকটা পকেটে হাত ঢোকাল। ভাবলাম ও গান বের করছে। তাই গুলি করেছিলাম।’

    ‘এবং সে মরল।’

    ‘হ্যাঁ, তাই,’ দৃঢ় স্বরে বলল টেড।

    ‘কিন্তু সে কি গান বের করার জন্যে পকেটে হাত দিয়েছিল?’

    ‘না। পরে দেখা গেল ওর কাছে লুকানো অস্ত্র ছিল না।’

    ‘কিন্তু তবু সে তোমার হাতে মরল।’

    ‘হ্যাঁ, কারণ-’

    ‘কারণ, তুমি নিজস্ব পদ্ধতিতেই এর বিচার করলে, তাই না?’ শেপার্ড টিপ্পনী কাটল।

    হার্ডওয়্যার মালিকের দিকে কঠিন চোখে তাকাল মার্শ। কিন্তু ওর কথার জবাব দিল না।

    ‘অর্থাৎ, তুমি কোন ব্যাপারেই নিশ্চিত হওয়ার জন্যে অপেক্ষা করো না- আগেই গুলি করো!’ জেব মায়ারের স্বরে বিজয় উল্লাস।

    ‘মেয়র,’ শহরের উকিল টোনি মুখ খুলল। ‘আমার মনে হচ্ছে মার্শালের পক্ষে ওই সময়ে আর কোন উপায় ছিল না। লোকটার পকেটে সত্যিই পিস্তল আছে কি নেই, তা কেউ জানত না। তাই ওকে নিজের বিচার-বুদ্ধি ব্যবহার করতে হয়েছে। গুলি না করলে হয়তো ওকে গুলি খেয়ে মরতে হত!’

    ‘হ্যাঁ,’ বলল ডক সেলবি, ‘ওর জন্যে অপেক্ষা করা বোকামি হত।’ দরজার দিকে এগোল সে। যাকগে, একঘণ্টা পর দেখা হবে, মেয়র।’

    ডক্টর সেলবি আর টোনি রসকে ভিড় ঠেলে রাস্তায় নামতে দেখল মেয়র। এবার টেডের দিকে নজর দিল জেব।

    ‘একটা জিনিস আমি আগে থেকেই পরিষ্কার করে নিতে চাই, মার্শ, তোমার সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন বিরোধ নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে, শহরের ভাল দেখাই আমার কাজ। আর তুমি গত এক বছরে যা কাজ দেখিয়েছ সেটা শহরের জন্যে ক্ষতিকর।’

    মৃদু হাসল টেড। ‘আমার কারণেই বর্তমানে তোমার শহর আজ শান্ত। ক্যাটল ট্রেইলের কাছে আর কোন শহর এত শান্তিতে নেই।’

    ‘তা হয়তো নেই, মার্শাল। কিন্তু বর্তমানে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমরা দেউলে হতে বসেছি। তুমি এমন ভয়ানক গানম্যান হিসেবে পরিচিত না হলে আরও লোক এই শহরে আসত।

    ‘অনেক কাউহ্যাণ্ড, টীমস্টার, বসতি গড়ার মত লোক এখন এই এলাকায় আর আসে না, কেবল তোমার ভয়ে। গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে সামান্য এদিক ওদিক হলেই-যেমন, কেউ একটু বেশি মদ খেলে, কিংবা আনন্দে বেশি উল্লসিত হলে, বুট হিলে বা তোমার জেলে ঢুকতে হবে। লোকে বলে, এখন আর তুমি মানুষ নও, তুমি কেবল একজন ওস্তাদ পিস্তলবাজ। তোমার ব্যাজ আছে, কিন্তু সেই ব্যাজের আড়ালে তুমি একজন খুনে মার্শাল!’

    রাগে মার্শালের ঠোঁটের ওপর ঠোঁট চেপে বসল।

    ‘মেয়র মায়ার্স,’ বলল সে, ‘লোকে কি বলে তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। কেউ বেপরোয়া অপরাধ করলে আইনের লোক হিসেবে তাকে আমি ছাড়ি না।’

    ‘হ্যাঁ, তাই বটে!’ বিদ্রূপ করল মায়ার্স। ‘নাচের পার্টিতে বিনা কারণে টেরিকে তুমি গুলি করোনি?’

    ‘বিনা কারণে!’ রাগে ফেটে পড়ল টেড। ‘একটা লোকের পায়ের সামনে বারবার গুলি ছুঁড়ে তাকে সে ভয়ে লাফাতে বাধ্য করছিল! লোকটার দোষ, টেরির গার্লফ্রেণ্ডের সাথে হেসে কথা বলেছিল।’

    ‘কিন্তু তাই বলে টেরিকে তুমি গুলি করবে? বেচারা ওর ডান হাতটাই চিরকালের জন্যে হারাল।’

    ‘আমি ওকে পিস্তল ফেলে দিতে বলেছিলাম। কথা না শুনে সে আমার দিকে পিস্তল ফেরাল। আমার দিকে কেউ পিস্তল ধরলে আমি তা সহ্য করি না। ওকে যে মেরে ফেলিনি এটা ওর সৌভাগ্য।’

    ‘আমি জানি তোমাকে গুলি করার জন্যে সে পিস্তল তাক করেনি, গার্লফ্রেণ্ডের সামনে একটু শো-অফ্ করছিল মাত্র।’

    ‘হয়তো,’ দরজার দিকে এগোতে এগোতে বলল মার্শ। ‘কিন্তু ওর মনের কথা তুমি কিভাবে জানলে? যাক, তোমাদের মীটিঙের কি সিদ্ধান্ত জানার জন্যে আমি অফিসেই অপেক্ষা করব।’

    ‘তুমি নিশ্চয় এখনই আঁচ পাচ্ছ আমাদের সিদ্ধান্ত কী হতে পারে,’ বলল মায়ার্স।

    এই সময়ে প্যাট্রিক জেসন আর তার ছেলে দুটো স্ট্রেচার নিয়ে ভিতরে ঢুকল। লাশ দুটোকে ঢেকে নেয়ার জন্যে কম্বলও এনেছে ওরা।

    দরজার মুখে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে মায়ার্সের দিকে একবার তাকাল মার্শ। তারপর ঘুরে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল।

    তিন

    রাস্তায় আর ফুটপাথে মানুষের ছোটছোট জটলা। মার্শালকে এগোতে দেখে ওরা এস্তে পথ ছেড়ে সরে দাঁড়াল। কেউ কথা বলল না। বাঁকা হাসি ফুটে উঠল মার্শের ঠোঁটে। এই লোকগুলোই একদিন তাকে বন্ধু বলে মনে করত, অথচ এরাই আজ তার শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ধীর পায়ে জেলঘরের দিকে এগোল টেড। ওখানেই তার অফিস। পিছনদিকে ওর থাকার ব্যবস্থাও আছে।

    প্রায় দেড় বছর সে শিপরকের লম্যান হিসেবে কাজ করেছে। ওর সাধ্যে যা কুলায় সবই করেছে। জন শেপার্ডের হার্ডওয়্যার স্টোরের দিকে ওর নজর গেল। গতবছর এক শীতের রাতে ওই দোকানটাকে সে ডাকাতির হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এবং ডাকাতকে বন্দী করেছিল। কিন্তু ওই ঘটনার কথা বিচারে বসে মেয়র বা কাউন্সিল মেম্বার কারও মনে থাকবে কিনা সন্দেহ।

    আর ওই এম্পোরিয়াম-ওখানে অনেক ফাইটই সে থামিয়েছে। গ্রেট প্লেইন্স হোটেলটার মালিক মেয়র নিজে। ওখানে গোলাগুলি হয়েছিল। রসওয়েলের এক ব্যবসায়ী হোটেলে ফিরে স্ত্রীকে আর একজনের সাথে বিছানায় দেখে দুজনকেই হত্যা করেছিল। হোটেল ক্লার্কের পাঠানো খবর পেয়েই ছুটে গেছিল টেড। ব্যবসায়ী লোকটার তখন উন্মাদ অবস্থা। দুটো খুনের পর আরও খুন করতে তার কোন দ্বিধা নেই-হোক সে টাউন মার্শাল, বুনো হয়ে উঠেছে লোকটা-একেবারে বেপরোয়া। মার্শের দিকে পিস্তল তাক করে সে জীবনের শেষ ভুলটা করল। নিমেষে টেডের পিস্তলটা খাপ থেকে বেরিয়ে কোমরের পাশ থেকে গর্জে উঠল। লোকটার হার্ট ফুটো হয়ে গেল। মেঝে ছোঁয়ার আগেই মারা পড়ল সে। একজন ব্যবসায়ীকে হত্যা করতে হলো বলে টেডের খুব খারাপ লেগেছিল-কিন্তু উপায় ছিল না ওর। কোর্টে সে নির্দোষ প্রমাণিত হলো। কিন্তু মেয়র মায়ার্স আর তার কাউন্সিল সদস্যরা ওকে কথা শোনাতে ছাড়ল না।

    এখন মেয়র, শেপার্ড, রজার্স, টোনি রস, ব্যাঙ্কার রবার্ট বিলিভ, জেরি ট্যানার, এমনকি ডক সেলবিরও হয়তো ওর ভাল কাজগুলোর কথা মনে নেই। অনেক খেটে, মাঝেমাঝে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার কাজ সে করেছে। কিন্তু আজ শহরবাসীর কাছে তার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। ওর আইন রক্ষার ধারা এখন আর লোকজনের পছন্দ হচ্ছে না। দুঃখজনক। আউটলদের প্রতি এতটা সহানুভূতি দেখানো টেড পছন্দ করে না।

    গোড়ালির ওপর সিকি-পাক ঘুরে নিজের অফিসে ঢুকল টেড। দেয়ালের গায়ে গাঁথা পেরেকের সাথে টুপিটা ঝুলিয়ে কামরার অন্যপাশে নিজের ডেস্কে গিয়ে বসল।

    লানা স্কটের কথা মনে পড়তেই ওর পেটটা গুলিয়ে উঠল। ইশ্, সে যদি ঘুণাক্ষরেও জানত আউটলদের একজন মহিলা! কিন্তু যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, এখন আর ওসব ভেবে লাভ নেই। মৃত মানুষকে জীবন দেয়া যাবে না। কিন্তু সে ভেবে অবাক হচ্ছে, ডেভ স্কটের মত একটা তরুণ যুবক কেমন কোরে প্রাণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও নিজের স্ত্রীকে এর সাথে জড়াল? মাথা নাড়ল টেড। যদিও সে আত্মরক্ষার জন্যেই গুলি চালিয়েছে, তবু একজন মহিলাকে হত্যা করে ও কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছে না।

    বন্ধু বেন জুনিয়র, তার বাবা বেন সিনিয়র, আর বন্ধুর স্ত্রী সেসিলার কথা মার্শের মনে জাগছে। বেন জুনিয়রের মৃত্যুর পর ওর কাছে কাউন্সিলমেন ধরনা দিয়েছে, বলেছে সে মার্শাল না হলে শহর চলবে না। চাকরিটা সে নিতে চায়নি। না নিলে হয়তো এতদিনে ও ক্যালিফোর্নিয়া, বা উত্তরে ওয়াইওমিঙ বা মন্টানার দিকে পাড়ি জমাত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজটা সে নিল। এতে টাউন কাউন্সিলমেন উল্লসিত হলো। সেসিলাও খুশি হয়েছিল।

    সেসিলাকে নিজের অনুভূতির কথা জানায়নি টেড়। ভেবেছিল ও নিজেই একদিন বুঝবে। কিন্তু কথাটা বলার আগেই সেসিলা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিল সে তার বাপ-মায়ের সাথে সিলভার সিটিতে থাকতে যাবে। একদিন সন্ধ্যায় সাপারের পর কথাটা তাকে জানাল মেয়েটা। হতবুদ্ধি হয়ে গেল টেড। বুঝতে পারছে না কি বলবে। ওর অবস্থা বুঝেই হয়তো মেয়েটা এগিয়ে এসে ওকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, ‘টেড, আমি তোমাকে সবথেকে আপন বন্ধু হিসেবেই জানি।’ একটু চুপ কোরে থেকে সে আবার বলল, ‘বেনের মৃত্যুর পর তুমি আমার জন্যে যা করেছ, তার জন্যে আমি তোমার কাছে চিরঋণী।’

    টেডের হাত দুটোও ওকে জড়িয়ে ধরেছিল বটে, কিন্তু আজ ওর রেশমি চুলে বা পিঠে হাত বুলিয়ে কোন সান্ত্বনা পেল না। অনেক কথাই বলার ছিল তার, কিন্তু কিছুই বলা হলো না। নিজের ভালবাসার কথা সে জানাতে চেয়েছিল ওকে। কিন্তু এটা ওসব কথার সময় নয়। সেসিলাকে জড়িয়ে ধরে নীরবেই দাঁড়িয়ে রইল সে। আশা করছে, হয়তো বুকের স্পন্দনে তার অনুভূতি টের পাবে মেয়েটা।

    নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে একটু পিছনে সরে গেল সেসিলা। তারপর সরাসরি ওর দিকে চেয়ে বলল, ‘আমাকে একটা সত্যি কথা বলবে?’

    ‘নিশ্চয়,’ কোনমতে জবাব দিল সে।

    ‘তুমি আমাকে নিয়ে অনেক ভাব, তাই না?’

    টেড যে কি ভাবে তার পুরো বর্ণনা দিতে রাত কেটে যাবে। সে কেবল এইটুকুই বলতে পারল, ‘আমি…আ…আমার তাই বিশ্বাস।’

    ‘আমিও তোমার জন্যে অনেক চিন্তা করি, টেড।’

    ‘সত্যি? সত্যিই তাই?’

    ‘হ্যাঁ, আমি চাই তুমি আমাকে একটা চুমো খাও।’

    লজ্জায় লাল হলো মার্শাল। একটা ঢোক গিলে সে প্রশ্ন করল, ‘এখনই?’

    ‘হ্যাঁ!’

    আশ মিটিয়ে চুমো খেল টেড। উত্তরও পেল।

    মুহূর্তের জন্য শ্বাস নিতে ওদের ঠোঁট আলাদা হলো। টেডের কোমর শক্ত করে জড়িয়ে থেকেই সেসিলা বলল, ‘এখন তুমি বুঝতে পারছ কেন আমাকে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। ওখানে তোমার সম্পর্কে, এবং আর যা যা ঘটেছে সব বিষয়ে চিন্তা করার সুযোগ হবে। নিরপেক্ষভাবে আমি বিচার করার সময় পাব।’

    ‘তোমাকে আমি যেভাবে চুমো খেয়েছি, এতে তুমি আমাকে ভুল বোঝোনি তো?’

    ‘না, আমি জানি।’

    ‘তাহলে আমি নিজেই তোমাকে এসকর্ট করে বাড়ি পৌঁছে দেব। আমি—’

    ‘না, টেড। আমি ও কথা কানেও তুলব না। আমাকে বাড়ি ফিরে একা থেকে অনেক বিষয়ে বুঝতে হবে। তুমি যখন আবার আসবে তখন তোমাকে আমি একটা জবাব দিতে পারব।’

    ওকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়নি টেড। কিন্তু তবু মেয়েটা ওর গোপন ইচ্ছার কথা জেনে ফেলেছে। বুদ্ধিমতী মেয়েটা ওর জন্যে ব্যাপারটা অনেক সহজ করে দিয়েছে।

    ‘বেন বেঁচে থাকলে আমাকে খুন করত।’

    ‘কিন্তু বেন বেঁচে নেই, ওর বাবাও নেই। সবথেকে বড় কথা আমরা পরস্পরকে পেয়েছি।’

    ‘হ্যাঁ, তুমি ঠিক কথাই বলেছ।’ অসহায় বোধ করছে টেড।

    মেয়েটা হাসল। ‘আমি আগামীকাল সকালের স্টেজেই চলে যাচ্ছি,’ বলল সে। ‘তাই শেষ একটা চুমো খেয়ে বিদায় জানাও।’

    গভীর আবেগের সাথে মেয়েটার ইচ্ছা পূর্ণ করল টেড।

    ‘আমি কাঁদতে শুরু করার আগেই তুমি চলে যাও,’ কোনভাবে বলল সেসিলা.

    বুঝল সে। হেসে মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি জানাল। ‘চিঠি লিখতে ভুলো না যেন,’ বলল টেড। ‘লেখায় আমার ভাল হাত নেই, তবু যা পারি তাই লিখব।’

    ‘কথা দিচ্ছি আমি লিখব,’ বলে দরজা বন্ধ করে দিল সেসিলা। ওর চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে।

    .

    এই মুহূর্তে এখান থেকে চলে গেলে সেসিলার চিঠি ছাড়া আর কিছুই মিস করবে না টেড। চাকরি পাওয়া ওর জন্যে কঠিন হবে না। এমন অনেক শহরই আছে যেখানে ভাল লম্যান প্রয়োজন। সে যে শহরের শান্তি রক্ষা করতে পারে, এর প্রমাণ ও দিয়েছে। যদি শার্টে স্টার আঁটতে আর না চায় তবে কোন র‍্যাঞ্চে ফোরম্যান হিসেবেও কাজ নিতে পারবে। ওদিকেও তার দক্ষতা আছে।

    হয়তো পরবর্তী শহরের লোকজন তার আইন রক্ষার পদ্ধতি পছন্দই করবে। এখানকার লোকগুলোর মত তার সমালোচনা করবে না।

    সেসিলার চিঠি ছাড়া শিপরকে মার্শের আর কোন আকর্ষণ নেই। ওকে জানিয়ে দিতে হবে যেন এখানে আর চিঠি না লেখে। পরে যেখানে চাকরি নেবে সেখানকার ঠিকানা ওকে জানিয়ে দিলেই চলবে। নিজের মনেই হাসল সে। সিলভার সিটিতে হাজির হয়েও সেসিলাকে চমকে দেয়া যায়। হয়তো ওই শহরে একজন টাউন মার্শালের দরকার আছে-কিংবা শহরের কাছে কোন র‍্যাঞ্চে কাজও নেয়া যায়। এতে সেসিলার কাছাকাছি থাকা যাবে, আর সেসিলাও তার বাপ-মায়ের সাথে থাকতে পারবে।

    দক্ষ পিস্তলবাজ হিসেবে তার নাম কতটা ছড়িয়েছে সে জানে না। এত দক্ষিণে সিলভার সিটিতে কি কেউ তাকে চিনবে? সেসিলা সিলভার সিটিতে ওর উপস্থিতি পছন্দই করবে। কিন্তু মেয়েটা হ্যাঁ বা না কিছুই এখনও জানায়নি ওখানেই ওর সংশয়।

    হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছল টেড। অফিসের ভিতরটা ভীষণ গরম। ঘুরে তাকিয়ে দেখল জানালাটা খোলা আছে কিনা। খোলাই আছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার সোজা হলো ও।

    চুপচাপ বসে না থেকে নিজের জিনিসপত্রগুলো এই ফাঁকে গুছিয়ে নিলে মন্দ হয় না, ভাবল সে। কাউন্সিল মীটিঙে ওরা যে কি সিদ্ধান্ত নেবে তা তার জানাই আছে।

    ওয়ানটেড পোস্টারগুলো একটা একটা কোরে দেখতে শুরু করল সে। মিলিয়ে দেখতে চায় ভাল জামাকাপড় পরা যে লোকটা শহরের হোটেলে এসে উঠেছে তার চেহারার সাথে পোস্টারের কারও চেহারার মিল আছে কিনা। কেন যেন ওর মনে সন্দেহ জেগেছে। হোটেল রেজিস্টার থেকে টেড ওর নাম জানার চেষ্টা করেনি। কারণ লোকটা আউটল হলে নিজের নাম ব্যবহার করবে না।

    সবগুলোই দেখল, কিন্তু ওই লোকের চেহারার সাথে কোনটারই মিল খুঁজে পেল না। তবে এতে প্রমাণ হচ্ছে না যে লোকটা দুষ্কৃতিকারী নয়। অনেক ছবিই ওর কাছে নেই।

    এটা ঠিক যে লোকটার বাহ্য রূপ আউটলর মত নয়, বরং ধনী র‍্যাঞ্চার বা ব্যবসায়ীর মতই। কিন্তু আজকাল চেহারা দেখে আউটল চেনার উপায় নেই। আউটলরা অনেকেই এখন আর নোঙরা থাকে না। টেডের মনে আছে, জীবনে সবথেকে নীচ আর নির্দয় যে খুনীর মুখোমুখি সে হয়েছিল, সেই লোকটা ছিল লম্বা আর সুদর্শন। সিল্কের হ্যাট, ফিটফাট জামাকাপড়। ওর দুই কব্জিতে বাঁধা থাকত দুটো লুকানো গান। মাঝের আঙুলটা নাড়লেই গুপ্ত গান্ থেকে গুলি ছুটত। ওই লোকের গুলিতে মার্শের ডান ঊরু জখম হয়েছিল। সেরে ওঠার পর খোঁজ নিয়ে লোকটার পরিচয় জেনেছে। লোকটা ছিল জন ওয়েসলি হার্ডিন-পশ্চিমের সব থেকে নিষ্ঠুর আর জঘন্য আউটল।

    ওই ফাইটে মার্শ হেরেছিল বটে, কিন্তু একটা ভাল শিক্ষা ওর হয়েছে। অসাবধান হয়ে হার্ডিনকে যেমন সুযোগ দিয়েছিল, কোন আউটলকে আর সে তেমন সুযোগ দেয়নি।

    পোস্টারের স্তূপটা সরিয়ে রেখে নিজের জিনিসগুলো একসাথে জড়ো করল সে।

    মার্শাল হিসেবে সব কাজেই যে সে পিস্তল ব্যবহার করেছে তা নয়। গুছানো শেষ করে নিজের চেয়ারে বসে ভাবছে টেড। একবার মিক ট্যানারের গরু একটা গর্তে কাদায় আটকে গেছিল। সাহায্যের আশায় শহরে এসেছিল লোকটা। ওর কথা শুনে সবাই কেবল হাসল, সাহায্য করতে কেউ এগোল না। শেষে মার্শই আগে বাড়ল। তার মতে আইন রক্ষার সাথে বিপদে মানুষকে সাহায্য করাটাও মার্শালের কর্তব্য। দশ মাইল দূরে ট্যানারের ছোট্ট র‍্যাঞ্চের উদ্দেশে রওনা হলো ওরা। কাছাকাছি এসে একটা ছোট ট্রেইল ধরে নদীর দিকে এগোল।

    একটা গর্তে গরুটা আঠাল মাটিতে আটকা পড়েছে। ওখানে পানি নেই বললেই চলে-পুরোটাই কেবল থকথকে কাদা। গরুটা নিজেকে মুক্ত করার নিষ্ফল চেষ্টায় কাদা আরও ঘন করে তুলেছে। এখন সে আর চেষ্টা করছে না। বিস্ফারিত চোখ দুটোয় বাঁচার আকুতি।

    ট্যানার তার ল্যাসো বের করল। ‘আমি ওর শিঙে দড়ির ফাঁস আটকে টানলে তুমি ওকে লেজ ধরে তুলতে পারবে, মার্শাল?’

    মাথা ঝাঁকাল টেড। কাদার ভিতর নেমে গরুর লেজ মুচড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। নোঙরা কাজ। কাদা মেখে একাকার হতে হবে। কিন্তু কাজটা করবে সে-ওদিকে ট্যানারও দড়ির ফাঁস হাতে তৈরি।

    কাদাটা নরম আর আঠাল। নামতেই ঊরু পর্যন্ত কাদায় ডুবে গেল। এই কাজের জন্যে বুদ্ধি করে পুরানো বুট পরে আসায় ভালই হয়েছে। ভাল বুটজোড়া পরে এলে ওগুলো কাদায় নষ্ট হত।

    টেডকে পিছন থেকে এগোতে দেখে গরুটা কাদা থেকে ওঠায় আবার সচেষ্ট হলো। ট্যানার দক্ষ হাতে ওর শিঙের ওপর দড়ির ফাঁস এঁটে বসিয়েছে।

    ‘এইবার,’ চিৎকার করল ট্যানার।

    ওর ঘোড়াটা পিছিয়ে যাচ্ছে, দড়িটা টানটান হলো। ঘোড়ার জিনের সাথে পমেলে রয়েছে দড়ি। ঘোড়াটা ফুঁসছে আর সামনের পা দুটো ভালভাবে মাটিতে গেঁথে আরও পিছাবার চেষ্টা করছে। টেড ভেবেছিল গরুটা আর উঠতে পারবে না। কিন্তু দেখল, ধীরেধীরে ওটা শুকনো মাটির দিকে এগোচ্ছে। এবং সেইসাথে ভয়ে ডাক ছাড়ছে। গরুর ঘাড়টা প্রবল টানে কিছুটা লম্বা হয়েছে। ঘাড়ের ওপর এতটা টান ও যেভাবে সহ্য করল সেটা সত্যিই আশ্চর্যের বিষয়।

    গরুর পিছন পিছন কাদা থেকে উঠে এল মার্শ। মিক ওর দিকে তাকিয়ে হাসল। জবাবে টেডও হাসল। ওরা সফল হয়েছে।

    ‘মার্শাল, তুমি দেখছি ভালই কাদা মেখেছ।’

    ‘চিনতে পারছ তো?’ হেসে বলল মার্শ। ‘তোমার র‍্যাঞ্চে যদি বাড়তি কোন প্যান্ট থাকে তবে আপাতত আমি কাজ চালিয়ে নিতে পারব।’

    ‘নিশ্চয়, মার্শাল। আমার কাছে বাড়তি ফুলপ্যান্ট আছে। তোমার মাপেরই। ফেরত দেয়ার দরকার নেই। মনে কোর আমাকে সাহায্য করার জন্যে ওটা আমার তরফ থেকে উপহার। বলতে গেলে ওই গরুটাই আমার সব। ওকে হারালে আমার চলা খুব মুশকিল হত।’

    হাসল টেড। মিক কি বোঝাতে চাইছে তা সে জানে। ধন্যবাদ জানানোর চেষ্টা করছে লোকটা।

    কিন্তু ওইসব সময়ের কথা শহরবাসী ভুলে গেছে। ভাবল সে। দেরাজ খুলে নিজের খুঁটিনাটি জিনিস আলাদা করল।

    সবই এত দ্রুত ঘটে গেল যে সে কোথায় যাবে, বা কি করবে ভেবে উঠতে পারেনি।

    আগামীকাল সকাল পর্যন্ত হয়তো এই শহরেই থাকবে। তারপর অল্প কিছু বন্ধুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়বে। হয়তো সিলভার সিটির দিকেই যাবে। দু’শো মাইল ওর জন্যে কিছুই না। বিয়ে করে সংসারী হতে চায় সে।

    হঠাৎ আরও একটা চিন্তা এল ওর মাথায়। এখানে মার্শালের কাজ থেকে বরখাস্ত হলে মেয়েটা তাকে আগের মতই দেখবে তো? দক্ষিণে ওকে দেখতে যাওয়ার ব্যাপারে মার্শালের মনে সংশয় দেখা দিল। বেকার ভবঘুরে। বিয়ের জন্যে মোটেও যোগ্য কোয়ালিফিকেশন নয়। না, হয়তো পশ্চিমেই যাবে, অ্যারিজোনা বা আর কোথাও একটা ভাল চাকরি নেবে। অনেক টাকা রোজগার করে সেসিলার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে। যেরকম জীবনে মেয়েটা অভ্যস্ত, সেই রকম নিশ্চয়তাই তাকে দিতে চায় মার্শ।

    নিজের প্রতি বিরক্তি জাগছে। এত দ্রুত কেন ঘটল এই ঘটনা? একটা ভাল চাকরি পাওয়ার পর ঘটলে কি ক্ষতি হত?

    নিজের যা আছে সবই গুছিয়ে নিয়েছে মার্শ। বাইরে ফুটপাথে বুটের একটা ভোঁতা শব্দ ওর কানে এল। সামনের দরজাটা একটু আঁধার করে একজন স্ট্রেঞ্জার ভিতরে ঢুকল।

    ‘মার্শাল মার্শ,’ গুরু গম্ভীর স্বরে বলল লোকটা, ‘আমি তোমার সাথে আলাপ করতে চাই। আমার নাম বেভিন মিলার।’

    চার

    ঠাণ্ডা চোখে ওকে যাচাই করে দেখছে মার্শ। লোকটার বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। ওর বাদামী চুলে জুলপির কাছে পাক ধরেছে। গোঁফেও তাই। চোখ দুটো ধূসর। লোকটার টাইপিন হার্ডিনের মত হীরা বসানো না হলেও সতর্ক হলো টেড।

    ‘আমি আর বেশিক্ষণ এই শহরের মার্শাল থাকব না। তোমার যদি কোন নালিশ থাকে, আমার বিশ্বাস মেয়র মায়ার্সের কাছে সেটা জানালেই কাজ হবে।

    মাথা নাড়ল মিলার। ‘আজকে কি ঘটেছে সবই আমি জানি। আমার মনে হয় তোমার ধারণাই ঠিক-স্টার হারাবে তুমি।’

    ‘তাই মনে হচ্ছে।’

    মিলার হাসল। ‘তাহলে অন্তত আমার জন্যে সেটা ভালই হবে।’

    কপালের ঘাম মুছে বুকের ওপর হাত ভাঁজ করে বসল টেড। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বেভিনকে দেখছে।

    ‘একটু পরিষ্কার করে বলো-তোমার কথার মানে আমি বুঝতে পারলাম না।

    ‘বুঝবে, মার্শাল মার্শ। অবশ্যই বুঝবে। কেবল তোমার সাথে কথা বলার উদ্দেশ্যেই অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি। তোমাকে একটা কাজের প্রস্তাব দেব আমি। কিন্তু তার আগে আমার নিজের সম্পর্কে তোমাকে কিছুটা জানানো ভাল।’

    ‘বেশ, বলো,’ সতর্ক হয়ে জবাব দিল টেড।

    হাতের লম্বা আর সরু সুদর্শন আঙুলগুলো প্যান্টের উঁচু পকেট দুটোয় ভরে সে শুরু করল। ‘আমার নাম বেভিন মিলার, তা আমি আগেই বলেছি। টেক্সাসে আমার একটা র‍্যাঞ্চ আছে, ‘এম বার্’, ওটাই ওই এলাকার সবথেকে বড় রাঞ্চ।

    এবং সম্ভবত সবথেকে সফল আর ধনী, ভাবল মার্শ। ওর গলায় ঝোলানো সোনার পিওটার দাম অন্তত পাঁচশো ডলার হবে।

    ‘বুঝলাম,’ বলল টেড। ‘কিন্তু এর সাথে আমার কি সম্পর্ক?’

    ‘আমি বোঝাতে চাচ্ছি কারও সাথে কোন ডীল করলে আমি পিছপা হই না। কথা রাখি আমি।’

    চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল টেড। লোকটার উদ্দেশ্য সে কিছুই আঁচ করতে পারছে না। পকেট থেকে একটা সাদা রুমাল বের করে বেভিন তার মুখ আর ঘাড় মুছল। লোকটার প্রতিটা কার্যকলাপ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ করছে টেড।

    ‘আমি কিন্তু তোমার কথার কোন অর্থ বুঝতে পারছি না।’

    চেয়ারটা ডেস্কের আরও কাছে টেনে আনল মিলার। ‘ভূমিকা শেষ হয়েছে, এবার আমি কাজের কথায় আসছি।’

    কাঁধ উঁচাল টেড। গত একঘণ্টায় ওর মূডের কোন উন্নতি হয়নি। সামনে বসা লোকটা তার সমস্যা নিয়ে মেয়র মায়ার্সের কাছে গেলেই সে খুশি হত। শিপরক আর এখানকার ঘটনাবলী শিগগিরই ওর কাছে অতীতের ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে। যাক, এই র‍্যাঞ্চার বলেছে কি একটা প্রস্তাব আছে ওর।

    ‘আমি আগেও তোমাকে বলেছি, মার্শাল, অনেক দূর থেকে আমি তোমার সাথে কথা বলতে এসেছি। লম্যান হিসেবে তোমার সুনাম অনেকদূর ছড়িয়েছে।’

    মুখ কুঁচকে তেতো হাসি হাসল টেড। সে বুঝতে পারছে তার পিস্তলবাজির কথা কতদূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে। একেবারে টেক্সাস পর্যন্ত অথচ ওই কারণেই সে চাকরিটা হারাতে বসেছে।

    ‘হয়তো,’ বলল টেড, ‘কিন্তু এখন বুঝতে পারছি এর কোন মূল্য নেই।’

    ‘ওখানেই তুমি ভুল করছ, মার্শাল। দারুণ ভুল। মূল্য আছে বৈকি, আমার কাছে এর অনেক দাম। সেজন্যেই এতটা পথ পাড়ি দিয়ে তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি। ভেবেছিলাম তোমাকে মার্শালের কাজ থেকে সরিয়ে নিতে আমাকে কিছু বেগ পেতে হবে। কিন্তু তুমি যখন নিজেই কাজটা ছেড়ে দিচ্ছ, তখন আমার আর চিন্তা নেই।’

    ব্যঙ্গ করে একটু হাসল টেড। ‘ভুল বললে, মিলার, চাকরিটা আমি ছাড়ছি না, আমাকে ছাড়ানো হচ্ছে।’

    ‘কেন, তুমি পিস্তল ব্যবহার করেছ বলে?’

    ‘হ্যাঁ, তাই। আমাদের সম্মানীয় মেয়র, এবং শহরের অন্যান্য সবার ধারণা আমার হাত একটু বেশি চলে।’

    মিলার হাসল। ‘ওরা যে কেন এমন ভাবছে আমি তা মোটেও বুঝতে পারছি না মার্শাল মার্শ। টেক্সাসে লম্যান কোন আউটলকে মারলে লোকজন খুশিই

    ‘একসময়ে এখানেও তাই ছিল,’ বলল টেড, কিন্তু বিশদ ব্যাখ্যায় গেল না। ‘এই কারণেই তোমার থেকে স্টার কেড়ে নেয়া হচ্ছে? দুজন আউটলর আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচাবার জন্যে?’

    ‘হ্যাঁ, তাই ঘটতে যাচ্ছে।’

    ‘কিন্তু কেবল এই একটা ঘটনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ওদের ঠিক হবে না।’

    ‘না, কিন্তু এর মধ্যে আরও কথা আছে। ওদের দুজনকে মারা এর একটা অংশ মাত্র। অনেকদিন আগে থেকেই এর তোড়জোড় চলছিল, আজকের ঘটনা

    ‘বোঝার ওপর শাকের আঁটি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ‘আমি শুনলাম আজ তুমি যাদের মেরেছ, তাদের একজন মহিলা। কথাটা কি ঠিক?’

    ‘হ্যাঁ, তুমি ঠিকই শুনেছ। কিন্তু আমি জানতাম না সে মেয়ে। ওর পরনে পুরুষের পোশাক ছিল। আমি ওকে পুরুষ বলেই মনে করেছিলাম। কিন্তু ওসব কথা থাক, তুমি টেক্সাস থেকে এত দূরে কিজন্যে এসেছ?’

    মিলার হাসল। ‘আমার হয়ে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। একটা বিশেষ কাজ; এর জন্যে একমাত্র তুমিই উপযুক্ত।’

    কাজ। কথাটা এক মিনিট নিজের মনেই বিচার করে দেখল টেড। একটা লোক টেক্সাস থেকে নিউ মেক্সিকোর শিপরকে এসে হাজির হয়েছে, তাকে একটা কাজ দেয়ার জন্যে। দু’য়ে দু’য়ে চার করলে কেবল একটা সিদ্ধান্তেই আসা যায়। লোকটা কাউকে খুন করার জন্যে তাকে নিযুক্ত করতে চাইছে।

    ‘শিপরক ছেড়ে গিয়ে তুমি কি করবে ভেবেছ?’

    ‘না। সত্যি কথা বলতে কি আমি এখনও কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারিনি। লম্যান হিসেবে অনেক হয়েছে। এবার হয়তো আমি পিস্তল ছেড়ে অ্যারিজোনায় র‍্যাঞ্চিঙ করব। শুরু করার জন্যে মোটামুটি যা লাগে তা আমি জমিয়েছি।’

    ‘বুঝলাম। অ্যারিজোনায় তোমার কোন আত্মীয়-স্বজন আছে?’

    ‘না, কিন্তু টাকা দিলেই ওখানে ভাল জমি পাওয়া যাবে। তবে আমি ক্যালিফোর্নিয়ার দিকেও যেতে পারি। সমুদ্র আমি কখনও দেখিনি। ওটা দেখার আমার খুব শখ।

    ‘কিন্তু তুমি যেভাবে ঘুরেফিরে বেড়াবার প্ল্যান করেছ তাতে অনেক টাকার প্রয়োজন।’

    ‘আমি আগেই বলেছি, কিছু টাকা আমি জমিয়েছি।’

    ‘মার্শাল মার্শ, আমি জানি না টাকা-পয়সার দিক থেকে তুমি কতটা সচ্ছল। আমি তোমাকে যে কাজ দিতে চাই, তা করলে তুমি প্রচুর টাকা পাবে। তখন যা খুশি করতে পারবে।’

    ‘বলে যাও, আমি শুনছি, মিলার।’

    ‘আমি তোমার সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনেছি, মার্শাল। আমি জানি, কাজটা তুমি খুব সহজেই পারবে।’

    টেড একটা ব্যঙ্গাত্মক হাসি দিয়ে বলল, ‘আমি তোমার জন্যে ব্যাপারটা সহজ করে দিচ্ছি। বলো কাকে আমার খুন করতে হবে?’

    ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনিঃসঙ্গ অশ্বারোহী – কাজী মাহবুব হোসেন
    Next Article শেষ অশুভ সংকেত – কাজী মাহবুব হোসেন

    Related Articles

    কাজী মাহবুব হোসেন

    অশুভ সংকেত – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    অশুভ সংকেতের পর – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    শেষ অশুভ সংকেত – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    নিঃসঙ্গ অশ্বারোহী – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    কাজী মাহবুব হোসেন

    ক্ষ্যাপা তিনজন – কাজী মাহবুব হোসেন

    July 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }