Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাণুর দ্বিতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প232 Mins Read0
    ⤷

    দাঁতের আলো

    আমার ভাইঝি ‘মৈয়া’র সম্প্রতি তিনটি দাঁত উঠিয়াছে, তাহাতেই তাহার নাকি মাটিতে পা পড়ে না! অবশ্য ঝিয়ের কোলে কোলেই কাটে, পা পড়িবার বয়স হয় নাই; তবে যাহারা বোঝে, তাহারা বলে, যদি বয়স হইতই, মাটিতে পা পড়িত না—এমনই দেমাক।

    আমার সঙ্গে মা-ছেলের সম্বন্ধ; ডাকি ‘মৈয়া’। কথাটা মা’র মত কোমলও নয়, সরসও নয়। এ প্রান্তে ছোট ছোট পশ্চিমা শিশুরা ‘মৈয়া গে’ বলিয়া আবদার ধরে। ও হইয়া অবধি কি জাদুবলে আমার বয়সের গোটা ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বৎসর ছাঁটিয়া দিয়া আমায় এই সব শিশুদের সামিল করিয়া দিয়াছে। আপিসে ইয়া-ইয়া জোয়ানদের উপর হুকুম চালাইয়া আপিস কাঁপাইয়া সন্ত্রস্ত করিয়া বাড়ির চৌকাঠ না ডিঙাইতে ডিঙাইতে আমি বদলাইয়া যাই। হাঁকি, “মৈয়া, ভুখ লেগেছে বড্ড–”

    আমার বিশ্বাস, মৈয়া যে একজন মা, তাহা ওর বেশ স্পষ্টভাবে জানা আছে। ঝিয়ের কালোকৃষ্টি কোলের মধ্যে ব্যস্ত হইয়া উঠে, রাখা দায়; ফুটফুটে হাত-পা, টুকটুকে মুখখানি চঞ্চল হইয়া উঠে—পঙ্কিল জলে বায়ু-চালিত পদ্মফুলটির মত। মৈয়ার ছেলে আসিয়াছে, তাহার ভুখ লাগিয়াছে, স্তন্য দিতে হইবে, আর কি সে থাকিতে পারে?

    বলি, “কোলে নাও মৈয়া।”

    সঙ্গে সঙ্গে কোলে লয়, বুকে ঝাঁপাইয়া পড়িয়া গলা জড়াইয়া ধরে। সঙ্গে সঙ্গে প্রবালের মত রাঙা ঠোঁটের মাঝখানে সেই তিনটি দাঁতের বিকাশ

    প্রশ্ন হইতে পারে, তিনটি দাঁত এমন কি ব্যাপার যাহার জন্য এত?

    বিজ্ঞমাত্রেই ওই কথাই বলিবে। উদাহরণস্বরূপ ওর বড় বোন রাণুর কথাই বলি। বলে, “হ্যাঁ, বুঝতাম হাতি হয়েছে, ঘোড়া হয়েছে, মোটর-কার হয়েছে, দেমাকও হয়েছে। তিনটি দাঁত এমন কি সম্পত্তি, মেজকা, যে মৈয়ার তোমার ঠ্যাকার রাখতে জায়গা নেই? আমি তো বুঝি না বাপু।”

    বলি, “একেবারে ঠ্যাকার হয়ে গেল রাণু?”

    “হ্যাঁ, ঠ্যাকার বইকি! তোমার মৈয়াকে নিয়ে কিছু বললেই তোমার লাগে; কিন্তু দাঁত হয়ে পর্যন্ত যা সব কাণ্ড, তা দেখে ঠ্যাকার বলব না তো বলব কি? উনি আজকাল দুধ খাবেন না। দুধ খেতে যাব কেন? ওতে কি দাঁতের দরকার হয়? আমি খাব কয়লা, চায়ের কাপ, খোলামকুচি, দাদুর খড়ম, কুটকুট করে শব্দ হবে, লোকে বলবে হ্যাঁ, ছবুরাণীর দাঁত হয়েছে। অথচ পুঁজি তো সবে তিনটি। আর গজর গজর করে বকেই বা কেন এত? বড় যে মৈয়াকে তোমরা চেনো, অত বকবার মতলবটা কি বল দিকিন?”

    রাণুকে এই তালে শিশুতত্ত্ব শিখাইবার লোভটা সংবরণ করিতে পারি না, বলি, “ওটা আপনা-আপনিই হয় রাণু, বকবার জন্য ওকে বড় একটা চেষ্টা করতে হয় না। ইংরিজিতে একে অটোমেটিক অ্যাকশন বলে, আর একটু বড় হলে তোমায় এসব বুঝিয়ে দোবখন। ওর দ্বারা ওদের জিবের একসারসাইজ হয়, তারপর ক্রমে—”

    রাণু হাসিয়া বলে, “তুমি কিছুই ধরতে পার নি মেজকা। তোমরা মায়ে পোয়ে ঠিক এক রকম, কি যে কতকগুলো আউড়ে গেলে! ছবিরাণীর কথায় আবার ইংরিজি এল কোত্থেকে বুঝতে পারি না। না জান তো আমার কাছে শোন। বকে, কি না দাঁত তিনটি ঝিকমিক করবে; না হলে কথার মাথা নেই মুণ্ডু নেই, অত আবোল-তাবোল বকতে যাবে কেন বল তো?”

    আমি অজ্ঞতার নীরব হাসি হাসিয়া কথাটা মানিয়া লই।

    প্রকৃত তত্ত্বটা বুঝিতে পারিতেছি দেখিয়া রাণু আবার প্রশ্ন করে, “দাঁতে দাঁত দিয়ে এক-একবার ঘষে কেন বলতে পার, কুর-র কুর-র করে শব্দ করে?”

    বলি, “তিনটি দাঁত ঝিকমিক করবে বলে।”

    রাণু ধমক দিয়া উঠে, “বাস্, এইবার ঐ এক কথাই চলবে, ঝিকমিক করবে বলে; দাঁতের ওর যেন আর অন্য কাজ নেই। দাঁত ঘষবার আর কোন হেতু নেই, শুধু কখন কুট করে কামড় দিতে হবে, তার জন্যে ঘষেমেজে তোয়ের ক’রে রাখা; ওকে তুমি কম মানুষটি মনে কর নাকি? একবার যদি বাগিয়ে ধরতে পারলে তো তিনটি ছাপ না দিয়ে ছাড়বে না। আমি বাঘের মুখে হাত দিতে রাজী আছি, কিন্তু ও-মেয়ের কাছ থেকে একেবারে সাত হাত তফাতে থাকব, এই বলে দিলাম তোমায়।”

    সাত হাতের প্রতিজ্ঞা সাত মিনিটও টিকে না। হাসিতে মুক্তাবৃষ্টি করিতে করিতে মৈয়া আসিয়া উপস্থিত হয়। সেই ঝিয়ের কোল, সেই রাঙা ঠোঁটে বাঁধানো তিনটি দাঁত, কিন্তু এত পরিচয়েও এটুকু পুরানো নয়।

    রাণু গিয়া ঝাঁপাইয়া পড়ে, ঝিয়ের কোল হইতে যেন ডাকাতি করিয়া কাড়িয়া লয়। হাসিতে গৌরবে একশা হইয়া গেল, “দেখ মেজকা, দেখ, কি চমৎকার মানায় হাসলে!”

    মৈয়ার দাঁতে আঙুল টিপিয়া বলে, “আর কতটুকু দাঁত মেজকা, কুরকুর করে হাতে ঠেকে এমন চমৎকার!”

    ভীত হইয়া তাড়াতাড়ি বলি, “হাত দিও না, দেবে এক্ষুনি কামড়ে রক্তপাত করে!”

    “হ্যাঃ, তোমার যেমন কথা, ছবুরাণী আবার নাকি কামড়ায়! ক্ষীরে ঠেকলে দাঁতগুলো ভেঙে যাবে, এত নরম। তোমরা সবাই আমার ছবুরাণীর একটা বদনাম তুলে দিয়েছ, এতে যে তোমরা কি সুখ পাও! কি ছেলে তোমার ছবিরাণী, শুধু মায়ের নিন্দে, কি ছেলে তোমার?”

    রাণু শেষের কথাগুলো মাথার একটা ঝাঁকানির সঙ্গে কপট গাম্ভীর্য ও হাসিতে মিলাইয়া এমনভাবে বলে যে, মৈয়া হঠাৎ হাসিতে একেবারে কুটিকুটি হইয়া পড়ে। তিনটি দাঁতে আলো ঠিকরাইয়া পড়িতে থাকে, কচি শরীরের কূল ছাপাইয়া লহর উঠে। থামিবার অবসর পায় না, থামিলেই রাণু সঙ্গে সঙ্গে আরম্ভ করিয়া দেয়, হাসির স্রোত দ্বিগুণ উচ্ছ্বাসে ঝাঁপাইয়া যেন চারিদিকে ছিটকাইয়া পড়ে।

    .

    বাড়ির নবীনতম সংবাদ-কাল বাবুলবাবুর শুভাগমন হইয়াছে, জন্মস্থান পূর্ণিয়া, বয়স ছয় মাস।

    মানুষটি গম্ভীর প্রকৃতির। কপালটি প্রশস্ত হওয়ায় এবং মাথায় চুলের ভাগ অল্প হওয়ায় ভাবটি যেন একটু মুরুব্বীগোছের। আসনপিঁড়ি হইয়া বসিয়া, পাতলা ঠোট দুইটি চাপিয়া শান্তভাবে সংসারের গতিবিধি নিরীক্ষণ করিতে থাকেন, এবং রহিয়া রহিয়া অনেকক্ষণ পরে পরে, সমস্ত শরীরটি দোলাইয়া এক-একবার উল্লাসে হাততালি দিয়া উঠেন; দেখিলে মনে হয়, হঠাৎ যেন জগৎ বিধানের কোনো গভীর তত্ত্ব আবিষ্কার করিয়া ফেলিয়াছেন।

    সিমলায় বাণিজ্য-বৈঠকে জাপানী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কি রফা হইল দেখিতেছিলাম, রাণু আসিয়া একটি গুরুতর সমস্যা হাজির করিল, বলিল, “আচ্ছা মেজকা, আমরা বড়রা ভাবি, কচি ছেলেমেয়েরা সুন্দর হয় ভাল চুল হলে, ভাল চোখ হলে, মোটা-সোঁটা নাদুস- নুদুস হলে, এই তো? কিন্তু ওরা নিজেরা কি ভাবে বল তো?”

    এই রকম কোন প্রশ্ন উপস্থিত করিলে আমি রাণুর কাছে একটু ভয়ে ভয়েই উত্তর দিই; কারণ, ও যেমন এক দিকে শিশুদেরও শিশু বলিয়া জানে, অপর দিকে আমাকেও একটি শিশু বিশেষ বলিয়া ধরিয়া লয়। তবুও বলিলাম, “ওদের সুন্দর কুৎসিত সম্বন্ধে কি কোনো ধারণা আছে রাণু? ও-ধারণাটা জন্মাতে অনেক দেরি লাগে, বিশেষ করে নিজের সৌন্দর্য সম্বন্ধে। সর্বপ্রথমে ওদের জ্ঞান হয় খাওয়া নিয়ে—তোমায় একদিন বুঝিয়ে দোব যে, সেটা আত্মরক্ষা অর্থাৎ নিজেকে বাঁচাবার যে ইচ্ছে ইংরেজিতে যাকে বলে—”

    রাণু হো-হো করিয়া হাসিয়া বলিল, “তুমি যখন ওই রকম করে কি সব বলে যাও, আমার এত মিষ্টি লাগে মেজকা; ফুরসৎ থাকলে বসে বসে শুনতে ইচ্ছে করে। ছেলেরা নিজেদের কিচ্ছু জানে না, যত জান তুমি। কোন দিন বলে বসবে, ওই চিলটা যে উড়ে যাচ্ছে, তা ও নিজে না। ওমা! শঙ্খচিল! প্রণাম কর মেজকা, মাথায় বুদ্ধি দেন। ওমা! শঙ্খচিলকে বুঝি ওই রকম করে প্রণাম করে? হাত দুটো একত্তর করে এই রকম শাঁখের মত কর। হয় নি ও। হ্যাঁ, এইবার হয়েছে। অথচ বলবেন, ওঁর মতন কেউ কিচ্ছু জানে না। হ্যাঁ, কি যে বলছিলাম, আমরা ভাবি, চোখে চুলে রঙে ছেলেরা সুন্দর হয়। ওরা কিন্তু ভাবে, দাঁত যদি না রইল তো কিছুই নয়। হ্যাঁ মেজকা, ঠিক। আমি ভেবে সারা, বাবুল সর্বদা অমন ঠোঁট বুজে থাকে কেন, একটু ফিক করে হাসলে কখনও যদি, অমনই টপ করে ঠোট বুজে ফেললে। কোনো হদিস পাই না। তারপরে বুঝতে পারলাম, আহা, বেচারীর একটি মাঝের দাঁত বলে এত লজ্জা গো, আহা! তার ওপর দাদু যখন একদন্ত, হেরম্ব, লম্বোদর, গজানন বলে ঠাট্টা করেন, ও বেচারীর যেন মনে হয়, মা পৃথিবী, দ্বিধে হও, আর কত সইতে হবে! আহা, না বিশ্বাস হয়, এই দেখ।”

    ছুটিয়া গিয়া বাবুলকে লইয়া আসে—আদর করিতে করিতে এবং আদরের অধিক আশ্বাস দিতে দিতে বলে, “না জাদু, তোমায় কেউ ঠাট্টা করতে পারবে না, চল তুমি, আমার সোনার মত একটি দাঁত কার আছে গো?”

    কাছে আসিয়া বলে, “দেখি কেমন দাঁত, হাঁ কর তো জাদু আমার, বড় লক্ষ্মী ছেলে গো, বাবুলের মত লক্ষ্মী ছেলে—কর তো হাঁ।”

    বাবুল অল্প একটু হাসির সহিত মুখটা গোঁজ করিয়া ঠোঁট দুইটি চাপিয়া ধরে, কোনোমতেই ঠোঁট খুলিবে না। একটা খেলা চলিতে থাকে, রাণু গাল দুইটি টিপিয়া ধরে, আঙুলের মধ্যে ঠোঁট দুইটি জড়ো করিয়া ধরে, চুমা খায়, শেষে কৃত্রিম রোষে ধমক দেয় পর্যন্ত; অবশেষে বিজয়িনীর ভঙ্গীতে আমার দিকে চাহিয়া বলে, “দেখলে তো? একটা গোটা রাজ্যি দিলেও হাঁ করবে না। আর তাও বলি মেজকা, দোষই বা দোব কি করে? কেউ কি নিজের খুঁত নিজে দেখাতে চায় মেজকা, তুমিই বল?”

    বাবুলকে বুকে চাপিয়া দোল দেয় খানিকটা, তারপর বলে, “ওদিকে তোমার মৈয়ার গুমর তিনটি দাঁত বলে, আর এদিকে বাবুলবাবুর লজ্জা একটি দাঁত নিয়ে; তাহলে আর কি সন্দেহ রইল মেজকা যে, কচ্ছেলেরা নিশ্চয় ভাবে, দাঁত নিয়েই তাদের যা কিছু বাহার?”

    হাতে আপাতত একটা দরকারী কাজ ছিল, অব্যাহতি পাইবার জন্য হাসিয়া বলিলাম, “না, আর মোটেই সন্দেহ রইল না।”

    অভিমতটা যে রহস্যমাত্র, রাণুর মত মেয়ে তাহা না বুঝিয়াই পারে না; মুখটা একটু ভার করিয়া কহিল, “বেশ, কর না বিশ্বাস; নিজেই সব জান যখন—”

    বাবুলকে লইয়া চলিয়া গেল। জানি, ও হারিবার পাত্রী নয়। এর পরে আরও গুরুতর প্রমাণ লইয়া হাজির হইবে, তখন ধীরে-সুস্থে ওকে বিশ্বাস করাইয়া ওর থিওরিটা মানিয়া লইয়া সন্তুষ্ট করা যাইবে। কাজের তাগিদে সে-সময়টা অন্যমনস্ক করিয়া দিতেছিল।

    .

    দিন দশেক হইল কর্মস্থানে আসিয়াছি। যতক্ষণ কাজের ভিড়ে থাকি, এক রকম কাটিয়া যায়। তাহার পর নিষ্কর্মতার সুপ্রচুর অবসরের মধ্যে মনটা যেন হাঁপাইয়া উঠে, দূরত্বের সমস্ত ব্যবধান ডিঙাইয়া বাড়িতে গিয়া উপস্থিত হয়। সেখানে স্মৃতি-বিস্মৃতির আলো- ছায়ায় ব্যাকুল অনুসন্ধান চলিতে থাকে। উঠানের মাঝখানে যেন কোথা হইতে অনেকক্ষণ পরে আসিয়া দাঁড়াইয়াছি, ডাকিলাম, “মৈয়া কোথায় গা?”

    ঘরের ছায়ার মধ্যে যেন খানিকটা আলো ফুটিয়া উঠে, মৈয়াকে কোলে লইয়া মুখে মুখ চাপিয়া রাণু বাহির হইল, “ও ছবু, তোমার ছেলে ডেকে ডেকে খুন হল আর তুমি কিনা দিব্যি—এ কেমনতর মা বাপু!”

    বিদ্যুৎ-রেখার মত মৈয়া কোলে বাঁকিয়া পড়ে, ও আর থাকিবে না, কতক্ষণ পরে ছেলে আসিয়াছে।…দৃশ্যটা মিলাইয়া যায়। স্মৃতিমঞ্চে বাবুলের আবির্ভাব। গম্ভীর, নতদৃষ্টি; নিজের পায়ের বুড়া আঙুলটা ভক্ষণ করিতে হইলে মাথাটা নামাইয়া আনা দরকার, কি পা- টা তুলিয়া ধরা দরকার, সে সমস্যা মিটাইয়া উঠিতে পারিতেছে না, উভয় রকম পরীক্ষাই চলিতেছে।…মৈয়া আমার কোল হইতে ঝিয়ের কোলে যাইবে না, এক একবার ঘাড় বাঁকাইয়া দেখে আর প্রবল আপত্তিতে আমার গলা জড়াইয়া ধরে।…হঠাৎ সব মিলাইয়া যায়, যতই বেশি চেষ্টা করি, ততই সমস্তকে আড়াল করিয়া আমার বাসার সামনে তালগাছ দুইটার নির্মম রুক্ষতা স্পষ্ট হইয়া উঠে, কোন্ পথে যে মনটা বাড়ি গিয়া উঠিয়াছিল, কোনোমতেই ঠাহর করিয়া উঠিতে পারি না।

    বাড়ি হইতে চিঠি আসিয়াছে, প্রয়োজনীয় খবর এক-একটি করিয়া দেওয়া আছে; কিন্তু নবপ্রবাসীর মন যে সব অপ্রয়োজনীয় খবরের জন্য বেশি কাতর, তাহার বিন্দুবিসর্গেরও উল্লেখ নাই।

    কয়েকদিন এইভাবেই কাটিল। মনটা নিজের নির্জীবতায় ক্রমেই ভারি হইয়া কর্মের স্রোতে তলাইয়া যাইতে লাগিল।

    এমন সময়, একদিন ডাকপিওন আপিসের চিঠি আর তিনখানা আমার নিজের চিঠি দিয়া একটা আকণ্ঠ ঢাকা সবুজ লেফাফা বাহির করিল। বলিল, “দেখুন তো বাবু, এটা কি আপনার চিঠি? একেবারে আন্ডারপেড, না আছে পুরো ঠিকানা, না আছে কিছু, শুধু বাংলা অক্ষর দেখে নিয়ে এলাম। ভাবলাম এখানে বাঙালি তো এক আপনিই আছেন, দেখি জিজ্ঞেস করে।”

    প্রথমটা লইতে চাহিলাম না। ডাক-বিভাগের দয়ায় এক আনার কনসেশন টিকিট হওয়া পর্যন্ত রোজই গড়ে তিন-চারটা করিয়া পয়সা দণ্ড দিতে হইতেছে। একটা খাম ছিঁড়িতে ছিঁড়িতে অন্যমনস্ক ভাবেই বলিলাম, “না ফেরত দেগে।”

    পিওন একটু দূরে গেলে কেমন একটা কৌতূহল হইল। ঠিকানা নাই, কিছু নাই, এ আবার কেমনধারা চিঠি! একবার দেখিতে হয় তো! ডাক দিয়া ফিরাইলাম।

    ঠিকানাটা পড়িয়া হাসিয়া বলিলাম, “হ্যাঁ, আমার চিঠিই বটে।” পকেট হইতে আড়াই আনা পয়সা বাহির করিয়া দিয়া তাহাকে বিদায় করিলাম। রাণুর চিঠি। ঠিকানার মধ্যে শুধু ছোট বড় অক্ষরে ‘মেজকাকা’; আর রাণুর নিজের ব্যাকরণের পদ্ধতিতে গ্রামের নামটা। শহরের পোস্ট-আপিসের কোনো বাঙালি কেরানী সেটাকে লাল কালিতে ইংরেজিতে লিখিয়া দিয়াছে। গ্রাম আর পোস্ট-আপিস একই হওয়ায় চিঠিটা আসিয়া নির্বিঘ্নে পৌঁছিয়াছে।

    অন্য পত্র ছাড়িয়া আগ্রহের সহিত রাণুর পত্রই আগে খুলিয়া ফেলিলাম। হাতের লেখার খাতা থেকে ছেঁড়া, বড় বড় রুলটানা চারখানা পাতায় ঠাসা লেখা একখানি বৃহৎ লিপি। যথাযথ তুলিয়া দিলে সকলের বোধগম্য হইবে না বলিয়া বানান প্রভৃতি একটু-আধটু পরিবর্তিত করিয়া দিলাম—”

    মেজকা, তোমার আর সব ভাল, কিন্তু টপ করে আমার কথা বিশ্বাস করতে চাও না—ওই এক কেমন রোগ। কচি ছেলেরা যদি দাঁত সব্বার চেয়ে ভাল না ভাববে তো ছবুরাণী অমন করে কথায় কথায় হাসতে যাবে কেন, আর বাবুলই বা মুখটি বুজে থাকবে কেন? বেশ, আমার কথাটা না হয় মিথ্যে, কিন্তু সেদিন যে কাণ্ডটা হল, তা কিসের জন্যে বল তো? দাদু বাইরে যান নি, সমস্ত দিন বেচারীকে ক্ষেপিয়েছেন, ‘একদন্ত গজানন’ ‘একদন্ত গজানন’ বলে। সমস্ত দিন মুখটি চুন, কিছু খাবে না, শুধু বায়না আর বায়না। সন্ধ্যের পরে কাকীমা বললেন, বড্ড গরমে ছেলেগুলো সেদ্ধ হচ্ছে রাণু, চল, ছাতে নিয়ে যাই। কাকীমা, আমি, ছবি, ছোট-কাকা আর বাবুল। জোছনা ফুটফুট করছে, আর তেমনই হাওয়া। আমি বললুম, মিথ্যে বল নি কাকীমা। তোমার মৈয়া তক্ষুনি ঘুমিয়ে পড়ল। উনি একটু আবার আয়েসী কিনা।

    মাদুরে শুইয়ে দিলাম। কি যে সুন্দর দেখাচ্ছিল, তা যদি দেখতে মেজকা! মুখটি একটু ফাঁক হয়ে গেছে। চাঁদের চেয়েও সাদা তিনটি দাঁত। বলে, চাঁদ ফেলে আমায় দেখ। ছোট- কাকা বললে চল বউদি, আলসের ওপর বসি, খুব হাওয়া লাগবে, অত চেপে-মারা পর্দা মানি না। বাবুলকে ছবুরাণীর কাছে ঝুমঝুমিটা দিয়ে বসিয়ে ওদিকে আলসের ওপর উঠে বসলাম। বসবে কি লোকে ছাই, তার কি জো আছে? ছেলে হঠাৎ ডুকরে কেঁদে উঠল। ছুটে গিয়ে সবাই দেখি, চোরের তিনটি আঙুল জাঁতি-কলে আটকে রয়েছে। দাঁত যে উপড়ে ফেলা যায় না, সে আর ও ছেলেমানুষ কি করে জানবে বল? ভাবলে দাঁতের গেরস্ত ঘুমুচ্ছে, এই ফাঁক-তালে একটা চুরি করে নিই। আমার তা হলে দুটি হবে দিব্যিটি। শয়তানিটা বোঝ একবার। এদিকে গেরস্ত ছবিরাণী যে কি হুঁশিয়ার মেয়ে, তা তো আর জানে না বাবু। না বিশ্বাস হয়, দাদুকে জিজ্ঞেস করে পাঠিও। তিনিই তো বললেন, এ ডাহা চুরির চেষ্টা।

    আহা মেজকাকা, লজ্জানিবারণ হরি সত্যি সব দেখতে পান। বললেন, হ্যাঁ, তোর দাঁতের জন্য এত হেনস্তা? রস। তার পরদিন বাবুলের জ্বর, পেটের অসুখ, ছেলে যেন নেতিয়ে পড়ল। বললে পেত্যয় যাবে না, তার পরের পরদিন নীচে একটি দাঁত! আমিই প্রথমে দেখে সবাইকে বললাম। বাবুল আর সে বাবুল নেই মেজকাকা। কথায় কথায় হাসি, কথায় কথায় হাসি, আর কি দুরন্ত! ছবুরাণীর মত আর একটি দাঁত হলে ও ছেলে যে কি করবে ভেবে পাই না।

    পাঁচটি কচি দাঁতের হাসিতে বাড়ি একেবারে আলো করে রেখেছে মেজকাকা। কি যে চমৎকার, না দেখলে পেত্যয় যাবে না। তুমি শিগগির একবার ছুটি নিয়ে এস। নায়েবকে সব কথা খুলে বললেই ছুটি দিয়ে দেবে। তাদেরও কচি ছেলে আছে তো; আর তাদেরও তো এই রকম একটি দুটি করে দাঁত ওঠে!

    আজ উনিশ দিন ধরিয়া এই চিঠিরই প্রতীক্ষা করিয়াছি। এর অযথা কাকলি আমায় এক মুহূর্তেই আবার বাড়িতে আমার নিজের জায়গাটিতে লইয়া গিয়া দাঁড় করাইল, যেখানে গম্ভীর সাংসারিকতার বাহিরে মৈয়া, বাবুল, রাণু আর ওদের দলের যত সব অকেজোরা দিবারাত তাহাদের অর্থহীন খেয়াল-খুশির স্রোত বহাইয়া চলিয়াছে।

    মন চঞ্চল হইয়া উঠিল। ডাক পড়িয়া রহিল। সেগুলো সহকারীর ওখানে পাঠাইয়া দিতে হইবে, আপাতত সাহেবের নিকট দুইটা দিনের ছুটি লইতে হয়। শেফালি-স্তবকের মত রাঙায় সাদায় আলো-করা দুইটি কচি মুখের হাসি আমায় প্রবল আকর্ষণে টানিতেছে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Next Article রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    শ্রেষ্ঠ গল্প – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর প্রথম ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর তৃতীয় ভাগ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    রাণুর কথামালা – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    October 29, 2025
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়

    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় রচনাবলী ২ (দ্বিতীয় খণ্ড)

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }