Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ট্রেকার্স – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প209 Mins Read0
    ⤷

    ট্রেকার্স – ১

    ১

    কাগজের প্রথম পাতার প্রথম খবরটা দেখে ধ্রুবজ্যোতি মজুমদার চমকালেন। ধৈর্য ধরে পড়লেন খবরটা। সাধারণত এতটা মন তিনি আজকাল কোনও খবরে দিচ্ছেন না। কথাটা ক’দিন ধরেই মনে হচ্ছিল, আবারও হল। নাটক হচ্ছে চারদিকে মঞ্চে-মঞ্চান্তরে এবং রাস্তায়-রাস্তায়, বাড়িতে-বাড়িতে, জীবনে-জীবনে। মঞ্চের নাটকগুলো আমরা ধরতে পারি, কেননা সেখানে স্থান কাল পাত্র সবই সংক্ষিপ্ত হয়ে এসেছে। নাট্যকার ইচ্ছে হলে তাকে প্রতীকী ব্যঞ্জনা দিচ্ছেন, জিনিসটা ভাবাচ্ছে। আয়োনেস্কো, ব্রেখ্ট, এদিকে হ্যারল্ড পিন্টার, দারিয়ো ফো, মাইকেল মধুসূদন, দীনবন্ধু মিত্র থেকে এখনকার বাদল সরকার, মোহিত চট্টোপাধ্যায়, মনোজ মিত্র…

    কথাটা হচ্ছে, প্রতিদিনকার জীবনে ছোট-ছোট যে-নকশাগুলো ঘটে, সংসারে যেসব প্রহসন এবং জীবনে সত্যিকার নাটক ঘটে, সেগুলোকে আমরা নাট্য বলে দেখি না। সবই কিন্তু মেলোড্রামা নয়। নিচুস্বরের ঘন গাঢ় নাটকগুলো একেবারেই ধরা পড়ে না বোধে। কিন্তু কখনও-কখনও এমন জিনিসও ঘটে, যেন মনে হয় পুরোটা কেউ স্ক্রিপ্ট লিখে তৈরি করেছে। কোথায় কেমন দৃশ্যপট হবে, কীভাবে আলো পড়বে, কে-কে থাকবে কেন্দ্রে, কারা আশপাশে, জীবনভর্তি এক্সট্রার দল, সমস্ত কেউ সাজিয়ে রেখেছিল। পাখিপড়া করে পড়িয়েছে প্রত্যেককে। মডুলেশন, ঢোঁক গেলা, কায়িক অভিনয়, হাতের ভঙ্গি, দাঁড়ানোর ভঙ্গি, আলোর দিকে অর্ধেক ফেরা, প্রবেশ-প্রস্থান একেবারে ইঞ্চি মেপে। মঞ্চের নাটকের সঙ্গে তফাত? এ তো কুড়ি-ফুটি স্টেজ নয়, এর হিসেব হবে মাইলেজে। কালকেও গুটিয়ে ছোট করে আনা যাবে না, আর মূল নাটকের মূল কুশীলবের চলাফেরার ধন্দে উৎক্ষিপ্ত মানুষজনকে না ধরলে, এ নাটকের চরিত্রলিপি সম্পূর্ণ হয় না। শুধু ক্রাউড বা ১ নং ভদ্রলোক, ২ নং ভদ্রলোক বলে শেষ করা যাবে না এ তালিকা। আলোকসম্পাতে তিনি দেখতে পাচ্ছেন মেঘ-রোদের খেলা, প্রবল বর্ষণ, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, প্যাচপেচে গরম, আদুরে রোদ। ঝমঝম, রিমিঝিমি বাজতে থাকবে আবহসংগীতে। আসল পাখিদের ডাকাডাকি চলবে নিরন্তর ক্কঃ ক্কঃ, কুবকুবকুব, আগুমবাগুম, রেডিয়োর টুকরো স্বর, কোনও জানলাপথে উপচে পড়া টিভির উচ্চারণ, ঘষঘষ গাড়ির আওয়াজ, ঢং ঢং ট্রামের, কুকুরের কেঁউকেঁউ, ঘেউঘেউ কী নেই! সব আছে এবং যথাযথ প্রয়োগে আছে। সংগীত পরিচালক যেখানে প্রকৃতি, সেখানে নৈঃশব্দ ও হট্টগোল, পক্ষবিধূননের সুদূর শব্দ, পিছলে পড়ার সড়াৎ, কোনও কিছুর জন্যই আলাদা ভাবাভাবির প্রয়োজন হয় না। আর আসল যে অভিনেতা-অভিনেত্রী? তারা আসল, তাই তাদের চলন-বলন স্বতঃস্ফূর্ত, উচ্চারণের দোষ থেকে, ভুলভাল কথা, আকস্মিক নীরবতা সবই সেখানে মানিয়ে যায়। কোনও ভিন্ন মানুষের খোলসে ঢুকতে হচ্ছে না তো! কোনও পরিচালকের নির্দেশও পালন করতে হচ্ছে না। যা কিছু মোটিভেশন সবই নিজস্ব বোধবুদ্ধি, উপলব্ধি, উদ্দেশ্য থেকে উঠে আসছে।

     

     

    কে পরিচালক এই নাট্যের? অ-দৃষ্ট, যাকে এখনও দেখতে পাচ্ছি না? কোনও ব্যক্তি সে নয়। এক অমোঘ কার্যকারণের শৃঙ্খল, গেঁথে যাচ্ছে আপন মনে পুঁতির মালা। আহা, যদি ইনটুইশনের ভাষাতেও স্ক্রিপ্টটা পড়া যেত!

    সংযুক্তা কফির ট্রে হাতে এসে গেলেন, “কী ব্যাপার? কাগজ হাতে এমন বোমভোলা হয়ে বসে আছ কেন?”

    উত্তরে ধ্রুব কাগজটা এগিয়ে দিলেন।

    সংযুক্তা একটু পড়েই বললেন, “ঠিক যেন নাটক না? ইশ্‌শ্।”

    ধ্রুব হাসলেন, “কখনও-কখনও নাটক দেখেও আমরা বলি ঠিক যেন জীবন, না?”

    অবসরে এখনও অভ্যস্ত হতে পারেনি মগজ। তাই-ই হয়তো দুপুরবেলা পাশের বাড়ির এফএম থেকে ভেসে আসা গান আর হাতের বই ‘গ্রে হাউন্ডস ইন ব্রাসেল্‌স’ নিয়ে যেটুকু ঢুল এসেছিল, তার মধ্যেই ধ্রুব দেখলেন পায়রার বুকের মতো ছেয়ে রঙের এতদিনের জীবনটাকে দলা পাকিয়ে পকেটে পুরে লম্বা জিন্‌স এক তরুণ লাফ দিল শেয়ালদা স্টেশনের দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মে। মাছি না গলা ভিড়টাকে কায়দা করতে তার তেমন কোনও অসুবিধে হল না। কেননা, সে ছ’ফুট দুই। ছাতি ৪২ ইঞ্চি। কাঁধ দুটো নৌকার পাটাতনের মতো। কাঁধে ব্যাকপ্যাক। হাতের সুটকেসটাকে খেলনার মতো অনায়াসে দুলিয়ে সে দুলকি চালে ঢুকে পড়ল। কাঁধ দিয়ে একটু চাপ দিতেই ভিড়ের চোখ ভয়ে, রাগে, ওপর দিকে চায়। সে গ্রাহ্যও করে না। “আহা দাদা, আপনারা এখনও অনেক পিছিয়ে। বয়সে এগিয়ে তো? স্যরি, আপনারা আফিস কাছারি যাবেন তো? তা আমারও একটা যাবার জায়গা আছে। একাধিক।” অস্ফুটে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “কে?”

     

     

    ছেলেটির ঠোঁটের কোণ হাসিতে বেঁকে গেল। বলল, “আমি যুবক, মানে ইয়ংম্যান।”

    “কী বললে, কী ম্যান?”

    “ওই দিকে দেখুন,” ছোকরাটি আঙুল দেখাল।

    একটি বেশ সম্পন্ন-দর্শন ঘরের ভেতর টেবিলে বই খোলা, গালে-হাত একটি উদাস মুখকে দেখতে পেলেন ধ্রুব। গদিআঁটা কাঠের চেয়ারে বসে আছে। আপাতদৃষ্টিতে পড়াশোনা করছে, কিন্তু দৃষ্টি যেন কোথায় ভেসে চলে গিয়েছে। পরনে একটা ঝ্যালঝেলে শর্টস আর ততোধিক ঝ্যালঝেলে টপ। তার সমস্ত শরীরটা এই ঝোল্লার ভিতরে অদৃশ্য। ফুটে আছে খালি পা দু’টি আর মুখ। বেশ পা। লম্বা, নির্লোম, তবে খুব একটা অ্যাথলেটিক নয়। মুখটি বেশ ফুটফুটে। অল্প বয়সিদের সবাইকেই ধ্রুব আজকাল ফুটফুটে দেখেন অবশ্য। সংযুক্তা এখনও চাকরিতে আছেন, কিন্তু তাঁরও ওই দশা। অল্প বয়সের মেয়ে দেখলেই বলেন, “বাঃ, কী চমৎকার!”

    কাজেই সত্যটা ঘষে যাচিয়ে নেওয়ার জন্য কোনও কষ্টিপাথর ধ্রুবর ধারে কাছে নেই। “তা এমন মেয়ে, এমন ঘরটি তোমার, চোখ দুটি অমন বিষাদ-কাজল কেন মা?”

     

     

    “সমস্ত সম্পন্ন-সুখের হৃদয়ে থাকে এক কাঙাল। যে অনেক কিছু পেলেও, একটা জরুরি কিছু, সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে চাওয়া কিছু একটা পায়নি।” মেয়েটি বলে উঠল আস্তে আস্তে, “একলা রাতের অন্ধকারে সে হাহাকার করে ঘোরে। আমি আজকাল তার কান্না শুনতে পাচ্ছি। আগে জানতুম না, সুখের গর্ভে কোথাও এমন তলতলে কান্না আছে। সেটা দুঃখের তরল রূপ। ‘সফ্ট কোর’ সেই চকোলেটগুলোর মতো। মামা সুইজারল্যান্ড থেকে এনে দিয়েছিল। গোল-গোল বল, ওপরটা শক্ত। ভাঙতেই মুখটা তরল মাদক স্বাদে ভরে যায়। মামা বলেছিল, ‘বেশি খাসনি, নেশা হয়ে যাবে।’ এই সুখের গর্ভে, দুঃখের কান্নারও বোধহয় একটা নেশা আছে, জানেন। জীবনটা যদি একটা নিরেট চকোলেটই হত আদ্যন্ত? প্রিয়ম বলে, দুর্দান্ত হত তা হলে। প্রিয়ম জানে না, মাঝখানের ওই তরলটুকু না থাকলে নেশা জানা হত না, ঘোর জানা হত না, হাহাকার জানা হত না এবং তা হলে কিছুই জানা হত না।”

    “কার লেখা থেকে পড়ছ বাবা?”

    অবাক চোখে তাকিয়ে মেয়েটি বলল, “কারও লেখা তো নয়। আমি মানে দিয়া, আমি তো ভাবছিলুম।”

    “ওইটুকু মেয়ে, তোমার এত কীসের দুঃখ? কিছু মনে কোরো না, প্রেম-ট্রেম?”

     

     

    মেয়েটি হাসল, “আপনি খুব খু-উব পুরনো, না? প্রেম হলে তো হয়েই গেল।”

     

     

    প্রেম হলে তো হয়েই গেল, মানে কী কথাটার? আর অমন হাসি? হাসির ভিতর দিয়ে যেন হাজার কথা বলে গেল। অথচ কিছুই বোঝা গেল না। তিনি কি সত্যিই খুব বুড়ো হয়ে গেলেন? মেয়েটি অবশ্য খুব ভদ্রতা করে বলল। পুরনো প্রেমের কথা বললে, পুরনো হতে হবে কেন রে বাবা? প্রেম তো চিরনতুন বলেই তার ধারণা।

    এই সমস্ত সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই তাঁর চটকাটা ভেঙে গেল। পাশের টেবিলে আজকের কাগজটা ভাঁজ করা। চোখে-মুখে জল দিয়ে তিনি আয়নার দিকে তাকালেন। বডি ফিট একেবারে। কেউ বলতে পারবে না তিনি কুঁড়েমিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। কিন্তু মুখে তো তাঁর অভিজ্ঞতার চিহ্ন থাকবেই। সংযুক্তা আজকাল মাথার চুলে লালচে রং দিচ্ছে। তিনি কিছু দেন না, তাঁর মাথা কাঁচা-পাকা। তেমন কোনও রেখা পড়েনি, কপালে দুই ভুরুর মাধখানে একটি লম্বা তিলকের মতো রেখা ছাড়া। কিন্তু তিনি যে পুরনো, সেটা বুঝতে অসুবিধে হয় না। ওই দিয়া, উজ্জ্বল, এরা আশ্চর্যভাবে মানুষের প্রাচীনতাকে শনাক্ত করতে পারে।

    হঠাৎ তাঁর খেয়াল হল এই দুটো নাম দিয়া, উজ্জ্বল তিনি কোথা থেকে পেলেন? কাগজ, খবরের কাগজের লিড নিউজেই নাম দুটো পেয়েছিলেন। আশ্চর্য তো! কাগজটা তিনি আবার খুললেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়লেন। রূপরাজ, আরিয়ান। বাব্বাঃ এসব হাই-ফাই নাম এরা কোত্থেকে পায়? শুকতারা, বাবাই। এই ছ’টা নামই তা হলে প্রধান কুশীলব।

    কোত্থেকে আসছিল ইয়ংম্যান উজ্জ্বল? শেয়ালদা স্টেশনে নামল। আচ্ছা, ও তো বগুলা থেকে এল। বাসস্ট্যান্ডে মাছি থিকথিকে ভিড়। হ্যান্ডেলটা ও দূর থেকেই ধরে ফেলেছে। ব্যাকপ্যাক, গুটিকতক মুড়ো ছেঁচড়ে আপনিই জায়গা করে নেয়, তাকেও জায়গা করে দেয়। সুটকেস হাতে নিয়ে সে এক হ্যাঁচকায় শূন্যে উঠে যায়। তলায় পিলপিল করছে মুখ। হঠাৎ একটা মুখ চেনা-চেনা লাগে। পেছনের লম্বা সিটটার ওপর সে বডি ফেলে দেয়। সুটকেসটা রেখে জায়গাটা রিজার্ভ করে, তারপর চেনা মুখের তল্লাশে যায়। অন্ধের মতো হাত চালিয়ে দেয় মুখের, কাঁধের, চাঙড়ে। হাতে এসে যায় একটা কাঁধ। তার পিছনে পিঠ, দুই কাঁধের তলায় শক্ত লোহার মতো হাতটা দিয়ে সে চাগিয়ে তোলে, “যা চট করে লেডিজ সিটে জায়গা নে।”

    “ভাগ্যিস তুই ছিলি!”

    “বলছিস?”

    “তা না তো কী! আমার সাধ্য ছিল এই ভিড় ভেদ করে বাসে ওঠা? তিনটে ছেড়েছি অলরেডি।”

    “কোথায় চললি?”

    “কোথায় আবার, কলেজে। তুই?”

    “দু’বার ছেঁচড়ে এবার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়েছে। যাচ্ছি শিবপুর।”

    “কংগ্রাচুলেশন্স।”

    সোমবারের রোদ একেবারে ঝক্‌কাস। যেন এরিনায় দাঁড়িয়ে বক্সার। চকচকে মাস্‌ল থেকে যেন তেল গড়িয়ে পড়ছে। হলুদ রঙের ট্রাঙ্কটা বাঘছালের মতো এঁটে আছে। হাতে লাল রঙের গ্লাভ্স। স্পিরিটটা ধাঁ করে ভেতরে ঢুকে যায়। তার জায়গা একেবারে পেছনের লম্বা সিটে, ব্যাকপ্যাকটা কোলে, সুটকেস নীচে, দু-পায়ের ফাঁকে। পিছলে যাচ্ছে পিলপিলে রাস্তা। বাসের পিছন-চাকার গজরানি ঠিক তার নীচে। পিছন ফুঁড়ে শালা শিরদাঁড়া বেয়ে সোজা ব্রহ্মতালুতে পৌঁছে যাবে। চাপের নাম বাবাজীবন। তোরা দিবি না, আমিও না নিয়ে ছাড়ব না। ঠিক মেরে দিয়েছি, “ম্যঁয় নওজওয়ান হুঁ। সমঝ লে তুরন্ত। যো চাহুঙ্গা ওহি কবজেমে লাউঙ্গা।”

    ঠিক সামনে এক ঘাড়-নড়নড়ে বুড়ো দাঁড়িয়ে। কেষ্টনগরের পুতুলের শোকেসে মানাত ভাল। মেলা-ফেলায় ঢেলে বিক্‌কিরি হয়। পাশের ছেলেটি উঠে দাঁড়াল, “বসুন সার।”

    “না, না, ঠিকাছি ঠিকাছি।”

    “আমি জিষ্ণু সার, জিষ্ণু মণ্ডল। চিনতে পারছেন না?”

    “ও ছাত্র! একেবারে আত্মনেপদী। তবে তো রাইট আছে।” নড়বড়ে বসে পড়ল।

    “জিষ্ণু মণ্ডল, কোন্ ইয়ার?”

    ছেলেটা ঝুঁকে পড়ে বলল, “মিলেনিয়াম ব্যাচ বলতেন তো আমাদের, ভুলে গেলেন?”

    “বর্ষে বর্ষে দলে দলে, বুঝলে না? দুঃখ পেয়ো না, মুখখানা প্লেস করতে পারছি। মাধ্যমিকের ছেলে, চার বছরে দাড়ি গোঁফ গজিয়ে এমন হয়ে যায় না। তা বাবা, আমি যদি তোমার মাস্টারমশাই না হতুম, কী করতে?”

     

     

    “তা হলেও উঠে দাঁড়াতুম সার! একথা আবার জিজ্ঞেস করছেন?”

     

     

    “না দেখো, বাসে লেডিজ সিট আছে ঠিক আছে। গুঁতোগুঁতির মধ্যে লেডিজদের না দাঁড়ানোই ভাল। প্রতিবন্ধীদের সিট আছে, বাচ্চাদের সিটও দেখি, আহা পিঠে এক একটা পাপের বোঝা নিয়ে টলছে বাচ্চাগুলো। একটু ব্যবস্থা না করলে হয়? কিন্তু এই অ্যামনেস্টির ডেমোক্র্যাসিতে বুড়োদের কথা কেউ ভাবেনি কেন বলো তো?”

    “ঠিক বলেছেন সার। কেন করে না, কে জানে?”

    “আমি জানি জিষ্ণু। এই জন্যে করে না যে, এ ব্যাটার খোল থেকে ওয়ার্কিং ইয়ার যতটা পাওয়ার, নিংড়ে পাওয়া হয়ে গিয়েছে। এখন এ ব্যাটা ভুষি মাল। হয়তো বা পেনশনও খাচ্ছে। দে ব্যাটার লাইফ ডিফিকাল্ট করে। বসতে দিসনি, খেতে দিসনি, ওষুধ-বিষুধ আক্ৰা করে রাখ, যত তাড়াতাড়ি ট্যাঁসে,” বলতে-বলতে হাসলেন ভদ্রলোক।

    “আপনি সেই এক রকমই রয়ে গেলেন সার,” জিষ্ণু বলল। “ইয়ংম্যানদের উপর আস্থা রাখছে সরকার। এটুকু তারাই করবে। গুড সেন্স।”

    “গুড সেন্স ইয়ংম্যানদের? তুমি হাসালে জিষ্ণু। আমরা বাসে উঠলে লাস্টে উঠি। ততক্ষণে সিট সব অকুপায়েড। সামনে গিয়ে দাঁড়ালে ইয়ংম্যানরা ভীষণ ব্যস্ত হয়ে কানে একটা গয়না পরে ফেলে, মোবাইল। এত টক-টাইম কোত্থেকে পায় বলো তো আজকের ব্রেকনেক কমপিটিশনের যুগে? আর এক টাইপ আছে, হঠাৎ বড় প্রকৃতি প্রেমিক হয়ে ওঠে। পাশ দিয়ে জীবন বয়ে চলেছে কিনা!”

    তাকেই টার্গেট করছে নাকি কেষ্টনগর? সে নড়েচড়ে বসে। টাইট হয়ে গিয়েছে জায়গাটা। কিন্তু উঠে দাঁড়ালেও তার ব্যাকপ্যাক আর সুটকেশ তো উঠে দাঁড়াবে না। তা ছাড়া, মাথাখানাও ছাদে ঠেকবে। স্পন্ডিলোসিস বাধাবার ইচ্ছে তার নেই। এই দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, তালতাল বাইসেপস, ট্রাইসেপস, অ্যাব্স, শক্তি, সাহস এসব এ যাত্রায় স্যাক্রিফাইসের জন্য নয় দাদু। আমি ‘গৌতম বুদ্ধু’ কিংবা ‘মোহনদাস বকরম চাঁদ’ কিংবা আপামর বাঙালির ‘বোকাজি’ নই। এগুলো যুদ্ধজয়ের জন্য, ক্লিন ভিকট্রি একটা। কোথায়? কখন? জানি না। যখনই হোক, যেখানেই হোক, ইন দ্য মিনটাইম ক্ষুদিরাম স্ট্যাচুতে থাকুন।

    সামনে গাদাগাদি ভিড়। বাবাইটা বসতে পেল কি না কে জানে! তখন তো ফাঁকা লেডিজ সিটের দিকেই ওকে ড্রপ করেছিল। সুযোগটা যদি না নিতে পেরে থাকে, তো নাচার। আরে, ওই তো বাবাই যাচ্ছে। নেমে গিয়েছে কলেজ স্ট্রিটের মোড়ে। এখন দোপাট্টা বাগিয়ে হাঁটছে দেখো, খুশি খুশি লাগে। স্যাক্রিফাইস নয়, কিন্তু টুক করে কাউকে হেল্‌প করে দিতে পারলে হেভি লাগে।

    কিছুদিন আগে পর্যন্তও সে ছিল অ্যাংরি ইয়ংম্যান। অ্যাংরি এবং হাংরি। শালা লিস্টটা প্রত্যেকবার তিন মানুষ উপরে উঠে থ্যাপাং গেড়ে বসে যায়, কেন রে বাবা? পিতৃদেব বলেছিলেন, যেমন বিএসসি-টা করে যাচ্ছিস করে যা। ঠিক একটা কিছু হয়ে যাবে। ‘হওয়াচ্ছি,’ সে বলেছিল মনে মনে। দিন-রাত হাতড়ে অবশেষে থ্যাঙ্কস টু অদ্রি, পাকড়াও হল হিতেন সার। অনেক-অনেক দূর, মাল্লু নেবেও বিস্তর, কিন্তু টুইশান দেবে এ ওয়ান। দশটার মধ্যে ছ’টা চোখ বুজে এসে যাবে। উপকার করতে হলে অদ্রির করব। কেননা, সে উপকার করেছে। করব বাবাইয়েরও, কেননা সে পাশের রানাঘাটের মেয়ে। আমারই মতো, তার উপর মেয়ে। এর মধ্যে ঘাড় নড়নড়ে বুড়োফুড়ো আসে না।

     

     

    চিৎপুরে নেমে গেল, বাঁচা গেল। পাশে যেন আস্ত একখানা শজারুর কাঁটা বসে ছিল। সেই জিষ্ণু না বিষ্ণু, বসে গেল তক্ষুনি। সে থাই দুটো চেপে বসে অগত্যা। সোমবারের রোদ্দুর জানলা গলিয়ে উঠে এসেছে হাতে কোলে কাঠবেড়ালির মতো। ভালবাসার চোখে সে চেয়ে থাকে হাত-ভর্তি রোদ্দুরের দিকে। মনে-মনে বলে, তুই উজ্জ্বল আমার মতো, নওজোয়ান আমার মতো। তফাতের মধ্যে, তুই আজকের মধ্যেই আস্তে আস্তে বুড়ো হয়ে, ফিকে হয়ে মরে যাবি। আমি কিন্তু বেঁচে থাকব। জোশ নিয়ে বিন্দাস বাঁচব। যেদিন মরবার, মরব ঠিকই। মানুষ নশ্বর জীব। কিন্তু অমন ঘাড় নড়নড়ে বুড়ো হওয়ার আগে শালা আমি টাটা সেন্টারের ছাদ থেকে গোটা পৃথিবীটাকে বগলদাবা করে ঝাঁপ দেব।

    ব্রিজে উঠছে বাসটা একটা ঝাঁকি দিয়ে। এপারে গঙ্গা, ওপারে গঙ্গা। মেজাজটা কাটা ঘুড়ির মতো সাঁ-সাঁ করে উড়ে গেল। আহ! পাশ থেকে জিষ্ণু বলল, “এই হাওয়াটার জন্যেই লম্বা জার্নি, গাদাগাদি ভিড় সব মাইনাস হয়ে যায়।”

    “কবি-টবি নাকি?”

    “কবি ছাড়া আর কারও গঙ্গার হাওয়া নিয়ে কথা বলার রাইট নেই বলছেন?”

    হাঃ হাঃ, সে এবার গলা ছেড়ে হাসে। বলে, “ও মস্তানরা তো সেই রকমই ক্লেম করে। হাওয়া, ফুল, পাখি, প্রেম, বিদ্রোহ সব ওদের একার।”

    “আমি জিষ্ণু। মেকানিক্যাল, সেকেন্ড ইয়ার।”

    “আরে একই দিকে যাচ্ছি, আমি উজ্জ্বল। সবে ঢুকছি। এখনও হস্টেলের দেওয়ালের রং জানি না,” হাত বাড়িয়ে দিল জিষ্ণু। ঝাঁকানি দিল সে আচ্ছাসে। অবাক হয়ে তাকাল ছেলেটা, “ব্যায়াম করো?”

    “তবে?”

    তার উজ্জ্বল দাঁতের সারিতে জুলাইয়ের রোদ পিছলে গেল। বাস এসে দাঁড়াল। ফল গিজগিজ, পেচ্ছাপের গন্ধ’অলা, মাথায় গামছা, কাঁধে গামছা টার্মিনাসে।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতিমির বিদার – বাণী বসু
    Next Article ঝড়ের খেয়া – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }