মন্দির রহস্য – বিপুল মজুমদার
মন্দির রহস্য – বিপুল মজুমদার
পাকদণ্ডী বেয়ে মিনিট পনেরো হাঁটতেই মন্দিরটার কাছে পৌঁছে গেলেন পরেশ। পাহাড়ের গায়ে গাছপালায় ঘেরা নির্জন মন্দির। বয়সের ভারে জীর্ণ হলেও দেখে সমীহ জাগে। দেওয়াল গাত্রে অজস্র টেরাকোটার কাজ। ভেতরে বিগ্রহ হিসাবে অধিষ্ঠিত মহাকালী। চারিদিকে চোখ বোলাতে বোলাতে একটা সময় পরেশ নিজের মনেই বলে উঠলেন, ‘বাহ, অপূর্ব! না এলে মিস করতাম।’
কথাটা বাতাসে ভেসে হাত চারেক দূরেও যায়নি, হঠাৎ মন্দির চত্বরের দেবদারু গাছটার আড়াল থেকে একজন লোক বেরিয়ে এল। মোটা গোঁফ, দশাসই চেহারা, মাথায় পাগড়ি, হাতে লাঠি। সামনে এসে ভারি গলায় বলে উঠল, “বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে?
ভেতরে যান, গিয়ে মাকে দর্শন করুন।”
লোকটির ভারী কন্ঠস্বরে পরেশের মনে সামান্য ভয় ঘনাল যেন। পাহাড়ে ওঠবার সময় স্থানীয় একজন মানুষ রে-রে করে ছুটে এসেছিল। বড় বড় চোখ করে ভয়মিশ্রিত গলায় বলেছিল, ‘ও মন্দিরের বদনাম আছে প্রচুর! যদ্দুর জানি পুরোহিত মশাই এখন মন্দিরে নেই। তাই ভূত চতুর্দশীর এই ভর দুপুরে একা একা না-ই বা গেলেন ওদিকে!’ বারণ করলে মানুষের মনে কৌতূহল আরও প্রবল হয়ে ওঠে। তাই লোকটির অযাচিত উপদেশকে অগ্রাহ্য করেই এগিয়ে পড়েছিলেন পরেশ। কিন্তু এখন যেন তার একটু ভয় ভয়ই লাগছে। কে এই লাঠিধারী? সংশয়ভরা দৃষ্টি নিয়ে লোকটির দিকে তাকালেন পরেশ, “আপনি কি পুরোহিত মশাই?”
লোকটি মাথা ঝাঁকাল, “নাহ্, এই মন্দিরের রক্ষক আমি। গোদা বাংলায় যাকে বলে পাহারাদার।”
লোকটির কথায় ভয় কেটে গিয়ে স্বস্তি জাগে পরেশের মনে, “তাহলে তো আপনি সবই জানেন। পাহাড়ে ওঠার মুখে একজন বলল, এই মন্দিরের নাকি বদনাম আছে। সেইজন্য বারণ করল আসতে। তা কী বদনাম বলুন তো?”
পরেশের কথায় কপালে ভাঁজ পড়ল পাহারাদারের, “একদম ফালতু কথা, ওসব বিশ্বাস করবেন না দাদা। আসলে রাগ করেই এসব কথা বলা। পাবলিকের যত রাগ সব আমার উপরে!”
“কেন কেন, যত রাগ সব আপনার উপরে কেন?”
“মন্দির চত্বরে কোনওরকম কুকর্ম আমি বরদাস্ত করি না কিনা তাই। তবে হ্যাঁ, গত একশো বছরে কম করে আটজন মানুষ যে এখনে ভ্যানিস হয়েছে তা সত্যি! শরীরের পোশাক-আশাক ছাড়া কিছুই আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি! পুলিশ শত চেষ্টা করেও আজ পর্যন্ত কিনারা করতে পারেনি এই রহস্যের। শেষ ঘটনাটা ঘটেছে বছর বারো আগে তা আপনিই বলুন না, কবে কোন বারো বছর আগে একটা অঘটন ঘটেছে, তাই বলে কি কেউ মন্দির দেখতে আসবে না? আরে বাবা ওটা তো একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মানুষ না বুঝে খালি বদনাম করেই যাচ্ছে!”
শুনে খানিকটা যেন আশ্বস্ত হলেন পরেশ। সত্যিই তো বারো বছর আগে ঘটা একটা ঘটনা নিয়ে কীসের এত মাতামাতি! তিনি বললেন, “দু’দিন আগে আপনাদের এই শহরে এসেছি অডিটের কাজে। থাকব আরও দিন তিনেক। আজ কাজ না থাকায় বেড়িয়ে পড়েছি শহর ঘুরতে। কিন্তু পাহাড়ে ওঠার মুখে ভদ্রলোক এমন ভয় ধরিয়ে দিলেন যে…।”
“রাখুন তো লোকের কথা। লোকে কী না বলে আর ছাগলে কী না খায়!” মুখে হাসি টানল পাহারাদার, “বারণ না শুনে আপনি কিন্তু ভালোই করেছেন দাদা। প্রায় একশো বছরের প্রাচীন এই মন্দির। না দেখলে পরে আফশোস করতেন। মনের আনন্দে ঘুরে ফিরে দেখুন না যত খুশি। কে বারণ করছে!”
“না ভাই, হাতে বেশি সময় নেই। সহকর্মীদের বলে এসেছি সন্ধ্যার আগেই হোটেলে ফিরব। এখান থেকে হোটেলের দূরত্ব তো কম নয়, হাঁটা পথে পাক্কা চল্লিশ মিনিটের রাস্তা!”
“সন্ধ্যার এখন অনেক দেরি আছে দাদা। মন্দির আর বিগ্রহ দর্শনে বড় জোর তিরিশ মিনিট, তারপর আপনার হাতে তো অঢেল সময়।” পাহারাদারের কথায় হাতঘড়ির দিকে একনজর তাকিয়ে মৃদু হাসলেন পরেশ, “তা পুরোহিত মশাই গেছেন কোথায় বলুন তো? নীচে বাজারে?”
“নাহ, কী এক দরকারে যেন পাশের শহর আনন্দনগরে গেছেন ওনার মেয়ের বাড়িতে। কাল কালীপূজা, তাই ফিরবেন আজ সন্ধ্যার আগেই।”
“পুরোহিত মশাই থাকলে বেশ হত। গল্প করে খানিকটা সময় কাটানো যেত।”
পরেশের কথায় চোখদুটো যেন চকচক করে উঠল পাহারাদারের। গলা খাঁকারি দিয়ে সে বলে উঠল, “আপনাকে একটা কথা বলব দাদা?”
“হ্যাঁ হ্যাঁ, বলুন না।”
“লুডো খেলতে পারেন?”
হাসি পাওয়ার মতো কথাই বটে। শুনে হেসে ফেললেন পরেশ, “লুডো খেলতে পারে না এমন মানুষ ভূ-ভারতে কেউ আছে নাকি! একজন বাচ্চাও জানে ও খেলা।”
“তাহলে দাদা আপনার আপত্তি যদি না থাকে আমার সঙ্গে এক দান লুডো খেলতে পারেন কিন্তু। সময় দিব্যি কেটে যাবে।”
“লুডো… আপনার সঙ্গে!” বিস্ময়ভরা দৃষ্টি নিয়ে পাহারাদারের দিকে তাকালেন পরেশ, “ঘুরতে এসে লুডো খেলা! দেখলে লোকে হাসবে যে।”
“লোকের কাজই হল হাসা! এই যে আপনি ভর দুপুরে এতদূর ঠেঙিয়ে এই মন্দির দেখতে এলেন, এতেও তো লোকে হাসতে পারে। হেসে বলতে পারে, কী আছে এই পোড়ো মন্দিরে যে দেখতে এসেছে! পাগল, লোকটা পাগল!”
“তা অবশ্য বলতে পারে। তবে বললে আমারও পালটা কিছু যুক্তি আছে ভাই। বলব পুরনো মন্দির দেখাটা আমার একটা নেশা। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি, মোবাইলে ছবি তুলি, পরে তাই নিয়ে লেখালেখিও করি।”
“তাহলে সেইরকমই বলবেন সময় কাটাতে লুডো খেলছেন।”
হেসে ফেললেন পরেশ, “মন্দির দেখতে এসে লুডো খেলাটা হাস্যকর ব্যাপার। তাছাড়া আপনাকে তো বলেইছি সন্ধ্যার আগেই আমাকে হোটেলে ফিরতে হবে।”
পাহারাদারের গলায় এবার প্রবল আকুতি, “লুডো খেলতে আমি ভালোবাসি দাদা। বিশেষ করে সাপলুডো আমার প্রাণের খেলা। খুব বেশি সময় লাগবে না, মেরে কেটে একঘণ্টা। তারমধ্যেই ফয়সলা ঠিক হয়ে যাবে। প্লিজ দাদা!”
ঘুরতে এসে এ কী জ্বালা! দ্বিধায় পড়লেন পরেশ। ছেলেমানুষের আবদার যাকে বলে এ যেন তাই। আধবুড়ো একটা মানুষ বলে কিনা সাপলুডো খেলবে! এককালে লুডো খেলায় তারও খুব ঝোঁক ছিল। স্কুল কলেজে পড়বার কালে পড়াশুনায় ফাঁকি দিয়ে কত যে খেলেছেন লুডো। পরবর্তীকালে চাকরি আর সংসারের যাঁতাকলে পড়ে কোথায় যেসব ভেসে গেল! একটু পরেই আনমনা ভাব কাটিয়ে স্বমহিমায় ফিরে এলেন পরেশ। মুখে হাসি টেনে বললেন, “ঠিক আছে হয়ে যাক তবে একদান। তবে সবার আগে মন্দির দর্শন তারপর অন্যকিছু।”
শুনে খুশিতে ডগমগ পাহারাদার, “নিশ্চয় নিশ্চয়। তাহলে মন্দির আর বিগ্রহ দর্শন হয়ে গেলে মন্দিরের পেছনে আমার ঘরে একবার পায়ের ধুলো দেবেন দাদা। খেলাটা আমরা খাটে বসেই খেলব।”
“ঠিক আছে আপনি যান। দর্শন আর প্রণাম মিটিয়ে একটু পরেই আমি আসছি।”
|| ২ ||
আধঘণ্টা বাদে মন্দিরের পেছনে ছোট্ট কুঠুরিটায় ঢুকে পরেশ দেখলেন লুডোর বোর্ডে ঘুঁটি সাজিয়ে বসে আছে পাহারাদার। পরেশকে দেখে আনন্দে আপ্লুত লোকটা, “আমি লাল ঘুঁটি নিয়ে খেললে আপনার আপত্তি নেই তো?” লোকটার ছেলেমানুষীতে হেসে ফেললেন পরেশ, “না না, আপত্তি কীসের। খেলুন না।”
দু’জনে মুখোমুখি বসতেই বাইরের ঝাউ গাছটায় সহসা কর্কশ স্বরে একটা দাঁড়কাক ডেকে উঠল। সেই সঙ্গে কাছেপিঠের কোনও একটা জায়গা থেকে ভেসে এল কুকুরের তীব্র মরাকান্না! সে’সবে কান না দিয়ে প্রবল উৎসাহে প্রথম দান চাললেন পরেশ। সাপলুডো খেলতে পছন্দ করে পাহারাদার। তাই খেলা চলছে সাপলুডোরই। দানে দানে এগিয়ে চলেছেন পরেশ। দু’বার সিঁড়ি বেয়ে লাফ দিয়ে উপরেও উঠেছেন। সেই তুলনায় পাহারাদার অনেক পেছনে। একবার তো সাপের মুখে পড়ে সড়াৎ করে নেমেও গেছে অনেকটা নীচে।
জেতার জন্য আর মাত্র কয়েকটা দানের প্রয়োজন। জয়ের গন্ধ পেয়ে কৌটোতে ছক্কা ঝাঁকানোর সময়টায় এবার অনেক সতর্ক পরেশ। সহসা লক্ষ করলেন পাহারাদারের চোখ দুটো কেমন যেন লালচে হয়ে উঠেছে! নাক দিয়ে ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস বের হচ্ছে সাপের মতো! তাই দেখে দান চালবার আগে সামান্য ঘাবড়ে গেলেন পরেশ। মনে মনে ভাবলেন, হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় বোধহয় এমনটা করছে মানুষটা।
এরপর যে দানটা পরেশ চালবেন তাতে সাপের মুখে পড়বার সমূহ সম্ভবনা। সামনের লম্বা সাপটাই শেষ বাধা। ওটার মুখ এড়িয়ে এগিয়ে যেতে পারলে জয় একেবারে নিশ্চিত। কিন্তু দান চালার আগে পাহারাদারের হিসহিসে গলা শুনে থমকে গেলেন পরেশ। পাহারাদার বলছে, “আপনার এই চালের উপর আমার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দাদা। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি আপনি যাতে সাপের মুখে পড়েন!”
ছেলেমানুষের মতো এ কী কথা বলল পাহারাদার। খেলার মধ্যে এতখানি ডুবে গেছে মানুষটা! জেতার স্বপ্নে বিভোর পরেশ। তাই খারাপ লাগলেও কথাটাকে তেমন আমল দিলেন না। উলটে ছেলেবেলায় যেমন উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে উঠতেন তেমনি চিৎকার করে বলে উঠলেন, “দুই পড়লে সাপের মুখে আর পাঁচ পড়লে জিত। আমার পাঁচই পড়বে। অবধারিত পাঁচ!”
কিন্তু দান চালার পর দেখা গেল দুই-ই পড়েছে। একেবারে সাপের মুখে! হঠাৎ কী যে হল, হলুদ ঘুঁটিতে আঙুল ঠেকানোর মূহূর্তে পরেশ অনুভব করলেন লুডোর সাপটা তার আঙুলগুলোকে ভেতর দিকে টানছে! এরপর আঙুলের সঙ্গে সঙ্গে গোটা হাতখানাকেই… আতঙ্কে হাত টেনে নিতে চাইলেও পারলেন না পরেশ। ভয়ে বিস্ময়ে কথা বন্ধ হয়ে গেল তার। আস্তে আস্তে গোটা হাতখানাকেই গিলে নিল সাপটা! তারপর একে একে বুক, মাথা, পেট…! হঠাৎ পরেশ উপলব্ধি করলেন লুডোর সাপটা আসলে পাহারাদার নিজেই! ক্রূর হিংস্র একটা ভাব নিয়ে পাহারাদার নিজেই সাপের মতো তাকে গিলে খাচ্ছে একটু একটু করে! পাহারাদারের হাসির শব্দ মিলিয়ে গিয়ে সরিসৃপের হাড়হিম করা হিসহিস শব্দে ভরে উঠেছে ঘরখানা!
বিস্ময়ের শেষ বিন্দুতে পৌঁছে চৈতন্য বিলোপ হল পরেশের। ধীরে ধীরে তিনি তলিয়ে গেলেন এক অন্ধকার গহ্বরে। উষ্ণ স্যাঁতসেঁতে এক অজানা জগতে! তার শরীরের পোশাক-আশাক আর মোবাইলটা শুধু পড়ে রইল খাটের উপরে!
|| ৩ ||
ঘটনা ঘটার ঘণ্টাখানেক বাদে স্থানীয় কয়েকজন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন পুরোহিত মশাই। সবাই মিলে খানিক খোঁজাখুঁজি করতেই মন্দিরের পেছনে তার ঘরের মধ্যে খুঁজে পেলেন একসেট জামাপ্যান্ট আর একখানা মোবাইল! পোশাক-আশাক আর মোবাইল দেখে হতাশায় ধপ করে মেঝের উপর বসে পড়লেন পুরোহিত মশাই। কাঁদো কাঁদো হয়ে বললেন, “এই ভয়টাই আমি পেয়েছিলাম গোপাল। মোবাইলে তোমার মুখ থেকে খবরটা শুনেই একমূহূর্ত আর দেরি করিনি। জামাই বাবাজির বাইকে চেপে রওনা দিয়েছি সঙ্গে সঙ্গে। ভেবেছিলাম ঠিক সময়ে হাজির হয়ে দর্শনার্থী লোকটাকে বাঁচাতে পারব। কিন্তু মাঝরাস্তায় বাইকের টায়ার পাংচার হয়ে যাওয়ায় সব চৌপাট হয়ে গেল! সময় পেয়ে কাজ হাসিল করে নিল বজ্জাত পিশাচটা!”
পুরোহিতের জামাই পাশেই দাঁড়িয়ে। শ্বশুরের কথার কোনও দিশা না পেয়ে উদ্ ভ্রান্তের মতো সে বলে উঠল, “বজ্জাত পিশাচ… কী বলছেন বাবা! আমি তো কিছুই…!”
“সে এক বিচিত্র কাহিনি বাবাজীবন। তোমাকে আগে আমি বলিনি। এই মন্দির যিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি ছিলেন একজন তন্ত্রসাধক। মন্দিরের সুরক্ষার জন্য তিনি চেয়েছিলেন এক পিশাচ তৈরি করতে। সেইমতো মন্দিরের নীচের এক গোপন কুঠুরিতে জ্যান্ত কবর দিয়েছিলেন এক সাপুড়েকে। নিজের মৃত্যুর আগে পিশাচের মুক্তির জন্য এক অভিনব ব্যবস্থাও করে গিয়েছিলেন তান্ত্রিক। প্রথম পিশাচ যদি সাপলুডো খেলায় কাউকে রাজি করাতে পারে, তাহলে খেলার শেষে রাজি হওয়া লোকটি অবধারিতভাবে সাপের মুখে পড়বেই এবং তার পরিণামে লোকটির মৃত্যু হবে! এরপরই সে হবে নতুন পিশাচ। সেই থেকেই এই পৈশাচিক খেলাটা চলছে। পিশাচেরা সুযোগ পেলেই নেমে পড়ে তাদের মুক্তির চেষ্টায়। এই খেলাতে গত একশো বছরে আটজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আজ ভূত চতুদর্শীর দিনে মৃত্যু হল নবম লোকটির। এক পিশাচ গেল তো চলে এল আরেক পিশাচ!”
কথা বলা শেষ করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন পুরোহিত মশাই। বিষণ্ণ গলায় স্থানীয় ছেলে গোপালকে বললেন, “যাও গোপাল থানায় গিয়ে খবরটা দিয়ে এসো। পুলিশ এসে পোশাক-আশাক আর মোবাইলটা নিয়ে যাক মানুষটার। বারো বছর আগের কেসটার কোনও ফয়সলা করতে পারেনি পুলিশ। এবারেও যে পারবে না তা আমি হলফ করে বলতে পারি!”
.
বিপুল মজুমদার
জন্ম ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হালিশহরে। অধুনা বারাসাত নিবাসী। রাজ্য সরকারের পূর্ত (সড়ক) দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি বাস্তুকার। নয়ের দশক থেকে লেখালেখির শুরু। প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় রবিবারের ‘বর্তমান’ পত্রিকায়। পরবর্তীকালে “আনন্দবাজার”, “শুকতারা”, “কিশোর ভারতী”, “সাপ্তাহিক বর্তমান”, “সানন্দা”, “নবকল্লোল”, “সুখী গৃহকোণ” সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছোট এবং বড়দের জন্য নানাধরনের গল্প-উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থ – ‘গা ছমছম’, ‘বিচিত্রমামার বিচিত্রকাণ্ড’, ‘কৃষ্ণপক্ষ শুক্লপক্ষ’, ‘ভো-কাট্টা’, ‘অশরীরী ২১’, ‘রক্ত-দাগের রহস্য’ ইত্যাদি।
