Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৪ (চতুর্থ খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প757 Mins Read0
    ⤷

    ১.০১. দু-হাজার মোহর পুরস্কার

    আপরোর ইন ইণ্ডিয়া
    কানপুরের দানব

    ১.০১. দু-হাজার মোহর পুরস্কার

    জানা গিয়াছে যে সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান নেতা নবাব ধুন্ধুপ বর্তমানে বম্বাই রাজ্যের কোনো স্থানে লুক্কায়িত রহিয়াছেন। যে বা যাহারা তাঁহাকে জীবিত বা মৃত ধরিয়া দিতে পারিবে, তাহাকে বা তাহাদের দুই হাজার মোহর পুরস্কার দেওয়া হইবে… ১৮৬৭ সালের মার্চ মাসের ছয় তারিখে ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দারা এই বিজ্ঞপ্তিটি পড়লে। গোদাবরী নদীর তীরে নিরিবিলি একটা জীর্ণ বাংলো বাড়ির দেয়ালেও এই বিজ্ঞপ্তিটা টাঙানো ছিলো : হঠাৎ দেখা গেলো কোত্থেকে এক ফকির এসে বিজ্ঞপ্তিটির সামনে দাঁড়ালে; বড়ো-বড়ো হরফে ধুন্ধুপন্থের আগুনজ্বালা নাম ছাপা ছিলো, বম্বাইয়ের রাজ্যপালের নাম ছিলো ঘোষণাপত্রের তলায় : সেটাও ছিন্ন হলো মুহূর্তে।

    কী চায় এই ফকির? সে কি ভেবেছে ওই রক্তরাঙা নামটা ছিঁড়ে ফেললেই ঈস্ট ইণ্ডিয়া কম্পানি ওই অগ্নিগর্ভ মানুষটাকে ভুলে যাবে? একটা ছেড়া কাগজের মতো সময়ের ঘূর্ণিহাওয়া তাকে এতদূরে উড়িয়ে নিয়ে যাবে যে কোনোকালে কেউ আর তার সন্ধান পাবে না? না কি বিজ্ঞপ্তিটা নষ্ট করে ফেললেই ১৮৫৭ সালের এই অভ্যুত্থানের কথা মানুষ ভুলে যাবে?

    এ-সব ভাবতে যাওয়াটাও পাগলামি ছাড়া আর-কিছু নয়। ক-টা সে ছিড়বে? দেয়ালে-দেয়ালে, গাছের গায়ে, স্তম্ভে-মিনারে—সর্বত্র রাশি-রাশি ঘোষণাপত্র ছড়িয়েছেন বম্বাইয়ের রাজ্যপাল। প্রাসাদ, মন্দির, সরাই—কিছুই বাদ যায়নি। তা ছাড়া উঁাড়া পিটিয়ে সারাক্ষণ চেঁচিয়েছে নকিব নগর-গ্রামের পথে-পথে, যাতে দীনতম দরিদ্রটিও পুরস্কারের এই অঙ্ক জেনে লোভে পড়ে ধুন্ধুপকে ধরিয়ে দেয়।

    সত্যি যদি ধন্ধুপন্থ বম্বাইয়ের আশপাশে কোথাও আশ্রয় নিয়ে থাকেন, তাহলে এই বিপুল উদ্যোগে হয়তো তাকে ধরা পড়ে যেতেই হবে। তাহলে হাজার-হাজার ঘোষণাপত্রের মধ্যে মাত্র একটাকে ছিঁড়ে ফেলে ফকিরটি কোন পরমার্থ সাধন করলে? শুধু রোষ আর ঘৃণার তৃপ্তিসাধন, তা ছাড়া আর কী? বিরক্তিভরে ভুরু কুঁচকে ঠোঁট বাঁকিয়ে সে এবার ঢুকে পড়লো শহরে, তারপর ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলো।

    গঙ্গার তলদেশে সমগ্র ভারতবর্ষের দক্ষিণভাগের নাম দাক্ষিণাত্য বা দক্ষিণাপথ : বম্বাই ও মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির কতগুলি প্রদেশ নিয়ে দাক্ষিণাত্য গঠিত। আর সেই প্রদেশগুলির মধ্যে প্রধান-একটি হলো ঔরঙ্গাবাদ, একদা যা সমগ্র দক্ষিণাপথেরই রাজধানী ছিলো। সপ্তদশ শতকে মুঘল সম্রাট ঔরঙজীব যখন এখানে তার দরবার বসিয়েছিলেন তখন এখানে লোকসংখ্যা ছিলো এক লক্ষ! এখন হায়দরাবাদের নিজামের হয়ে ইংরেজরা এই প্রদেশ শাসন করে : লোকসংখ্যা এখন মাত্র হাজার পঞ্চাশ। এখানকার জল-হাওয়া আর স্বাস্থ্য ভালো, তা ছাড়া অতীত গরিমার প্রচুর জমকালো স্মৃতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে এখানে। গোদাবরীর তীরে রয়েছে ঔরঙজীবের মস্ত প্রাসাদ, শাহজাহানের বেগম মমতাজের স্মৃতিসৌধ, আর বিখ্যাত চার মিনার-মুঘল স্থাপত্যকর্মের উজ্জ্বল নিদর্শন।

    ঔরঙ্গাবাদের মিশ্র জনসাধারণের মধ্যে এই ফকির সহজেই আত্মগোপন করতে পারলে। ভারতে পীর-ফকির বা সাধু-সন্ন্যাসীর সংখ্যা অসংখ্য, সয়ীদ কি মুসাফির কি মুশকিল-আসান কত যে ঘুরে বেড়ায় তার সীমাসংখ্যা নেই; ভিক্ষে তারা চায় না, তারা দাবি করে; হিন্দু মুসলমান সকলেই সমভাবে তাদের শ্রদ্ধা করে। আমাদের এই ফকিরটি পাঁচ ফিট ন-ইঞ্চি লম্বা, বয়েস চল্লিশের বেশি নয়, সুন্দর কোনো মরাঠা হবে হয়তো–মুখ দেখে অন্তত তা-ই মনে হয় : সারা মুখে বসন্তের দাগ; স্বাস্থ্য উপচে পড়ছে সর্বাঙ্গে। ক্ষিপ্র ও নমনীয়; ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে তার বাঁ হাতে একটা আঙুল নেই। চুল লাল, মাথায় পাগড়ি, গায়ে নামেমাত্র ডোরাকাটা পশমের জামা, কোমরে বস্ত্রখণ্ড বাঁধা, পায়ে জুতো নেই। বুকে দুটি উল্কি-কাটা, হিন্দু পুরাণের রসের দেবতার স্মারক উল্কি দুটি : নৃসিংহাবতার, আর ভয়ংকর শংকরের ত্রিনয়ন জ্বলজ্বল করছে। বুকে।

    সেদিন সন্ধেবেলায় মস্ত সাড়া পড়েছে ঔরঙ্গাবাদে, বিশেষ করে তার বস্তি এলাকায়। আবালবৃদ্ধবনিতা–ইয়োরোপীয় ও ভারতীয়, গোরা সেপাই, ভিখিরি, চাষী

    সবাই হাত-পা নেড়ে পাঁচ মুখে কথা কইছে : কার ভাগ্যে শিকে ছিড়বে, কে পাবে এই বিশাল ইনাম, এই বিপুল পুরস্কার—এটা এখন তাদের চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার হেতু।

    এদের মধ্যে এই ফকিরই বোধহয় কেবল ওই বিপুল পুরস্কারের প্রত্যাশা ও লোভ করছিলো না। নিঃশব্দে হাঁটছে সে ঔরঙ্গাবাদের সরু ঘিঞ্জি রাস্তায়, মাঝে-মাঝে উৎকর্ণ হয়ে শুনছে লোকজনের কথাবার্তা, চোখের তারা দুটি কখনও জ্বলে উঠছে ধ্বক ধ্বক করে।

    দু-হাজার মোহর ইনাম মিলবে ধুন্ধুপন্থকে দেখতে পেলে, বললে ভিড়ের মধ্যে উত্তেজিত একজনে।

    দেখতে পেলে বোলো না, আরেকজন বললে, বলো যে ধরতে পারলে। দেখা আর ধরা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জিনিশ।

    তা ঠিক, রক্তপাত না-করে ধরা দেবার পাত্তর সে নয়।

    কিন্তু এই-যে শুনলাম নেপালের জঙ্গলে সে মারা গেছে।

    মিথ্যে জনরব মাত্র। ওর মতো ধূর্তলোক আর হয় না, মৃত্যুর খবর রটনা করে দিলে নিরাপদ হবে ভেবেই ওই গুজবটি ছড়িয়েছে।

    বাঃ, শুনলুম যে অন্ত্যেষ্টি পর্যন্ত হয়েছে—

    ওটাও একটা ধাপ্পা, লোকের চোখে ধূলো দেবার ফন্দি।

    এ-কথা শুনেও ফকিরের মুখের একটি পেশীও কুঞ্চিত হলো না। কিন্তু লোকটা যখন আরো বিশদ করে সব বললে, তখন শুনতে-শুনতে তার ভুরু কুঁচকে গেলো, আর চোখ দুটো ধ্বক-ধ্বক করে জ্বলতে লাগলো।

    ১৮৫৯ সালে যে ধুন্ধুপন্থ তার ভাই বালাজি রাও আর গোণ্ডার রাজা দেবী বক্স সিংকে নিয়ে নেপালে একটা দুর্গম জায়গায় ছাউনি ফেলেছিলো, এ-খবর ঠিক। সেখানে সে যখন দেখলে যে চারপাশ থেকে ইংরেজ সেপাইরা তাদের ঘিরে ধরেছে, তখন তারা ভারত-চিন সীমান্তের দিকে চলে যেতে চেষ্টা করে। যাবার আগে রটিয়ে দিয়ে যায় যে তারা সবাই মারা গিয়েছে! রটনাটা লোকে যাতে সত্যি বলে মেনে নেয়, সেইজন্যে এমনকী একটা মিথ্যে অন্ত্যেষ্টির অবতারণাও তারা করেছিলো। আসলে কিন্তু বাঁ-হাতের একটা আঙুল কেটে কবর দেয়—

    এত-সব তুমি জানলে কী করে?

    আমি যে সেখানে ছিলাম। ধুন্ধুপস্থের অনুচরেরা আমাকে বন্দী করেছিলো। দুমাস পর আমি ওদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে আসি।

    লোকটা যখন এতসব বলছিলো ফকির তখন একবারও তার উপর থেকে চোখ ফেরায়নি। বিদ্যুতের মতো ঝলসে উঠছিলো তার চোখ। বাঁ-হাতটা সে চট করে তার পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে ফেললে। নাকের বাঁশি দুটো ফুলে উঠলো একটু, ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে দেখা গেলো ঝকঝকে দাঁতের সারি।

    তাহলে ধুন্ধুপন্থকে তুমি চোখে দেখেছো? সে তোমার চেনা লোক? শ্রোতাদের মধ্যে থেকে একজন জিগেস করলে।

    হ্যাঁ, দেখেছি–ধুন্ধুপন্থের প্রাক্তন বন্দী জবাব দিলে।

    মুখোমুখি দেখতে পেলে তাকে তাহলে চিনতে পারবে তুমি?

    নিশ্চয়ই পারবো–

    তাহলে, প্রশ্নকর্তার কণ্ঠস্বরে ঈষৎ ঈর্ষা ফুটে উঠলো, দু-হাজার মোহর ইনামের সম্ভাবনা দেখছি তোমারই সবচেয়ে বেশি।

    হয়তো তা-ই, লোকটি বললে, অবশ্য যদি ধুন্ধুপ শেষকালে এই বম্বাইতেই এসে হাজির হয়ে থাকে—তবে সে এখানে এসেছে বলে আমার মনে হয় না।

    এখানে সে খামকা আসবে কেন? আর এত দুঃসাহসই তার হবে কেন?

    হয়তো আবার আরেকটি বিদ্রোহের আগুন জ্বালাতে চায়—হয়তো সেপাইদের মধ্যেই আবার আগের মতোই বিক্ষোভ ছড়াবে সে; কিংবা হয়তো মধ্যভারতের জনসাধারণকে খেপিয়ে তুলবে আবার।

    তা সরকারি ফতোয়া যখন বেরিয়েছে যে সে এখানে এসেই হাজির হয়েছে, তখন তা-ই বোধকরি সত্যি।

    তা-ই যেন হয়; ধুন্ধুপন্থ আমার মুখোমুখি এসে পড়ুক, ভগবান ব্রহ্মা যেন তা-ই করেন, প্রাক্তন বন্দীটি দাঁতে দাঁত চেপে বললে।

    ফকির কয়েক পা পেছিয়ে গেলো, কিন্তু তাই বলে ধুন্ধুপন্থের প্রাক্তন বন্দীকে সে কখনও চোখের আড়াল করলে না। তখন কালো রাত নেমে এসেছে ঔরঙ্গাবাদে, তাই বলে পথের ভিড় কিন্তু একটুও কমেনি। ধুন্ধুপন্থ সম্বন্ধে অজস্র জনরব শোনা যেতে লাগলো। পরস্পরবিরোধী কয়েকটা খবর কেমন করে যেন উড়াল দিয়ে আসতে থাকে। ধুন্ধুপন্থকে নাকি শহরের মধ্যেই কোথায় দেখা গেছে। তিনি নাকি এখনও এদিকে এসে পোঁছোননি। আর্যাবর্ত থেকে নাকি বার্তা এসেছে যে তিনি মধ্যপথেই গ্রেফতার হয়ে গেছেন। রাত নটায় জানা গেলো তিনি শহরেরই জেলখানাতে কতগুলো ঠগির সঙ্গে কয়েদ হয়ে আছেন, পরদিন সকালে সূর্যোদয়ের আগেই নাকি তাকে তান্তিয়া টোপির মতো বিনাবিচারে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। দশটার সময় খবর এলো তিনি নাকি আবার পালিয়েছেন জেলখানা থেকে। লোকের মনে আবার ইনামের আশা জেগে উঠলো।

    আসলে কিন্তু সবই গুজব : সত্যের লেশমাত্র নেই। ধুন্ধুপন্থের সন্ধান এখনও কেউ পায়নি। এখনও ওই ইনাম পেতে হলে বুকের রক্ত জল করে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

    যে-লোকটা বলেছিলো ধুন্ধুপন্থকে সে স্বচক্ষে দেখেছে, তারই পুরস্কারটা পাবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। অন্তত বম্বাই প্রেসিডেন্সিতে তেমন লোকের সংখ্যা খুবই কম, যারা স্বচক্ষে এই বিপুল অভ্যুত্থানের জননায়ককে দেখেছে। বরং সিন্ধিয়া, বুন্দেলখণ্ড, অযোধ্যা, আগ্রা, দিল্লি, কানপুর, লক্ষ্ণৌ এ-সব জায়গার কোনোটা হলে একটা কথা ছিলো। দশ বছর পরে, এখনও ধুন্ধুপন্থের অগ্নিগর্ভ নাম শুনলে সেখানকার লোক চমকে ওঠে। যদি নতুন করে বিক্ষোভের আগুন জ্বালবার জন্যেই তিনি চিনদেশে আশ্রয় নেবার প্রলোভন ত্যাগ করে ভারতে ফিরে আসেন, তাহলে দাক্ষিণাত্যই তার গুপ্তসংগ্রামের নিরাপদ ঘাঁটি হতে পারে-কারণ এখানে অনেকটা স্বাধীনভাবে সকলের অলক্ষে তিনি চলাফেরা করতে পারবেন। বম্বাই প্রেসিডেন্সির রাজ্যপাল কী করে যেন এই মৎলব টের পেয়ে তক্ষুনি তার মাথার একটা দাম ধরে দিয়েছেন।

    কিন্তু ধুন্ধুপন্থ সম্বন্ধে কতবারই যে কত জনরব উখিত হলো! কতবার তার গ্রেপ্তারের সংবাদ পাওয়া গেলো। কতবার যে তিনি ইংরেজ গোয়েন্দা-বিভাগের চোখে ধুলো দিলেন! শেষকালে জনসাধারণের মনে একটা বদ্ধমূল ধারণা জন্মালে তিনি সত্যিই প্রলয়ের দেবতা রুদ্র-শংকরের প্রসাদ পেয়েছেন।

    কিন্তু তবু ঔরঙ্গাবাদ কেমন করে যেন বিশ্বাস করে ফেললো যে তিনি আশপাশেই কোথাও আছেন। আর যারা এই সরকারি ফতোয়ায় বিশ্বাস করলে, তাদের ভিতর একজন হলো সেই হতভাগ্য বন্দী, ছ-মাস যাকে ধুন্ধুপন্থের নির্যাতন শিবিরে কয়েদ করে রাখা হয়েছিলো।

    বেচারা এই পুরস্কারের ঘোষণা শুনে তক্ষুনি মনে-মনে ঠিক করে ফেললো যে তাঁকে ধরতে সে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। পুরস্কারটাই একমাত্র কারণ ছিলো না তার কাছে–প্রতিশোধস্পৃহায় তার বুকের ভিতরটা যেন জ্বলে যাচ্ছিলো। পরদিন সকালেই কোতোয়ালিতে গিয়ে সে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে ধুন্ধুপস্থের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়বে–মনে-মনে এ-কথা ঠিক করে সে রাত এগারোটার সময় গোদাবরীর তীরে তার ডেরার দিকে চললো। তার ডেরা আপাতত হলো একটা ডিঙি নৌকো-গোদাবরীর তীরে সেটা নোঙর-ফেলা। আধবোজা তার চোখ, ভুরু কুঁচকেননা, শহর ছাড়িয়ে সে চলে এলো নদীর দিকে। একমনে ভাবছিলো বলেই সে কখনোই লক্ষ করলে না যে আলখাল্লা ঢাকা এক ফকির তাকে ডালকুত্তোর মতো নিঃশব্দে ও সন্তর্পণে অনুসরণ করে আসছে। ছায়ার মতো ধাবমান সেই ফকির, একবারও তাকে চোখের আড়াল করছে না।

    দূরে লোকজনের সাড়া মিলিয়ে গেলো। শহরতলির নিরিবিলি রাস্তায় এসে পড়লো চিন্তামগ্ন মানুষটি। ফকিরও তার পিছন ছাড়লো না : ভাঙা দেয়ালের আড়াল দিয়ে, গাছপালার ছায়ায় লুকিয়ে, ফকির তাকে অনুসরণ করে এলো। রাস্তা নিরিবিলি হলেও এত সাবধান হওয়া ফকিরের পক্ষে জরুরি ছিলো। কারণ একটু পরেই চঁাদ উঠলো, আর হালকা জ্যোৎস্নায় যখন আঁধার ছিড়ে-ছিড়ে গেলো ফকিরকে হয়তো তখন দেখে ফেলতে পারতো লোকটা। এমনিতে খালি পায়ে হাঁটছিলো বলে তার পায়ের আওয়াজ অবশ্য শোনা যাচ্ছিলো না।

    লোকটা কলের মতো নদীর পাড় ধরে তার নৌকোর দিকে এগুলো; এমন-সময় হঠাৎ খ্যাপা বাঘের মতো পিছন থেকে কে যেন ঝাঁপিয়ে পড়লো তার উপর। কেবল বিদ্যুতের একটা ঝলসানি দেখতে পেলে সে, একটা মালয়ী ছোরার উপর চাঁদের আলো ঝকঝক করে উঠলো! হৃৎপিণ্ডে বিদ্ধ হলো ছোরাটা, ধপ করে পড়ে গেলো সে : নির্ভুল লক্ষ্য ফকিরের! অস্ফুট স্বরে কী যেন বলবার চেষ্টা করে লোকটা, কিন্তু কষ বেয়ে কেবল এক ঝলক তাজা রক্ত গড়িয়ে পড়লো। ফকির দু-হাতে সজোরে তুলে ধরলে মুমূর্মুর মুখ, আর নিজের মুখটা ফিরিয়ে নিলে জ্যোৎস্নায়।চেনো তুমি আমাকে, চিনতে পারো? ক্ষিপ্ত ও ক্ষুধিত বাঘের মতো ফকির গর্জে উঠলো।

    সে! পুরো নামটা বলার ক্ষমতা তার ছিলো না—মাথাটা তার একপাশে হেলে পড়ে গেলো।

    পরক্ষণেই গোদাবরীর জলে হারিয়ে গেলো মৃতদেহটা। কেমন করে মৃতদেহটা ড়ুবে যায়, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলো ফকির, তারপর দ্রুত পায়ে ফিরে এলো শহরের নিশুতি রাস্তায়।

    নগরতোরণের সামনে এসে দ্যাখে সমরবাহিনীর লোক কড়া পাহারা বসিয়েছে। শহর থেকে বেরুনো নিষেধ, শহরে ঢোকাও তাই। ফকির মনে-মনে কেবল বললে, ঔরঙ্গাবাদ থেকে আজ রাত্রেই আমাকে চলে যেতে হবে—যে করেই হোক।

    ফিরে এলো সে। নগর-প্রাচীর ধরে এগিয়ে গেলো কিছুটা। তারপর উৎরাই

     

    বেয়ে উঠলো প্রাচীরের কাছে। কিন্তু দেয়ালের গা একেবারে মসৃণ-না-আছে কোনো খাঁজ-কাটা, না-বা কোনো চোখা বা ঠেলে-বার-হওয়া পাথরের পিণ্ড; কোনো দড়ি বেয়ে হয়তো ওঠা যায়, কিন্তু তার কোমরবন্ধের কাপড়টি মাত্র কয়েক ফুট-পঞ্চাশ ফুট ওঠার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ফকির আশপাশে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো কী করা যায়।

    দেয়ালের আশপাশেই ক্ষীণ চন্দ্রালোকে ঝুরি-নামা মস্ত-সব গাছপালা ভূতের মতো দাঁড়িয়ে আছে! ঘন পাতায় ঢাকা ডালপালাগুলো হাজার বাহু ছড়িয়ে দিয়েছে অন্ধকারে। লাফিয়ে একটা ডাল ধরে ঝুলে পড়তে পারলেই গাছ বেয়ে উঠে-যাওয়া অত্যন্ত সহজ হয়ে উঠবে।

    ফকির আর এক মুহূর্তও ইতস্তত না-করে লাফিয়ে একটা ডাল ধরে ঝুলতেবুলতে গাছে উঠে পড়লো, তারপর একটা ডাল টেনে নামিয়ে ঠিক দেয়ালের উপর রাখলো—অতঃপর তার ভারে বেঁকে-যাওয়া ডালটা ধরে দড়ির সাঁকোর মতো ঝুলতেঝুলতে সে দেয়ালের দিকে এগিয়ে গেলো। শূন্যে ঝুলছে সে ডাল ধরে, প্রায় তিরিশ ফুট নিচে মাটি, পা দুটি যেন কোনো ভর খুঁজছে-দেয়ালের শক্ত মসৃণ গা আর কত দূরে!

    এমন সময় গুড়ুম করে বন্দুকের আওয়াজ হলো একটা-আলোর একটা ঝলসানি চলে গেলো তার গা ঘেঁসে! তারপর আবো-কতগুলি বন্দুক গর্জে উঠলো একসঙ্গে। নিশ্চয়ই পল্টনের লোকেরা তাকে দেখতে পেয়েছে!

    তার গায়ে কোনো গুলি লাগলো না, কিন্তু যে-ডালটা ধরে সে ঝুলে পড়েছিলো গুলির ঘায়ে সেটা ভেঙে পড়লো। ফকির টাল সামলাতে না-পেরে ডিগবাজি খেলো শুন্যে। অন্যকোনো মানুষ হলে এত উঁচু থেকে পড়ে কিছুতেই বাঁচতো না; কিন্তু ফকির মাটিতে পড়েই লাফিয়ে উঠলো, যেন ছিটকে গেলো সে তীরের মতো; ওই গুলিবৃষ্টির মধ্যে অক্ষত দেহে সে মিলিয়ে গেলো অন্ধকারে। ঔরঙ্গাবাদের বাইরে দুমাইল দূরে গোরা সেপাইরা ছাউনি ফেলেছিলো; সেই ছাউনি পেরিয়ে এলো সে অন্ধকারে গা ঢেকে, সন্তর্পণে। তারপর আরো-কিছুদূর এগিয়ে সে হঠাৎ ফিরে দাঁড়ালে, তার আঙুল-কাটা বাঁ-হাত বাড়িয়ে ধরলে সে শহরের দিকে, চাপা ক্রোধে গর্জন করে উঠলো : এবার যারা ধুন্ধুপস্থের কবলে পড়বে, তাদের এবার কোন শয়তান এসে বাঁচায় দেখবো! ইংরেজরা যেন জেনে রেখে দেয়, নানাসাহেবের শেষ তারা এখনও দ্যাখেনি!

    নানাসাহেব! আগুনঝরা নামটা যেন রাতের অন্ধকারে সম্মিলিত ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে একটা প্রকাণ্ড চ্যালেঞ্জের মতো ফেটে পড়লো! কেউ যেন হাতের দস্তানাটা খুলে গোটা ইংরেজ বাহিনীকে উদ্দেশ করেই তাচ্ছিল্যভরে ছুঁড়ে দিয়েছে।

    চলন্ত বাড়ির রহস্য
    মঁসিয় মোক্লের-এর দিনপঞ্জি থেকে

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ২ (অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৫ (পঞ্চম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }