Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নলিনী বাবু B.Sc. – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প92 Mins Read0
    ⤷

    ০১. নীলগঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের বিএসসি শিক্ষক

    নলিনী বাবু B.Sc. (২০১০)

    কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ
    কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ।
    সংসারোহয় মতিব বিচিত্রঃ।
    কস্য ত্বং বা কুত আয়াতঃ।
    তত্ত্বৎ চিন্তায় তদিদং ভ্রাতঃ ॥

    কে তোমার স্ত্রী এবং কে তোমার পুত্র?
    এই সংসারের ব্যাপার অতিশয় বিচিত্র।
    তুমি কাহার এবং কোথা হইতেই বা আসিয়াছ,
    হে ভ্রাতঃ! এই নিগূঢ় তত্ত্ব চিন্তা কর।

    ভূমিকা

    বিচিত্র বিষয় নিয়ে লিখতে আমার ভালো লাগে। সম্পর্কের গল্পের পাশাপাশি, সম্পর্কের বাইরের গল্প, ভূত-প্রেত, অশরীরী, ভিনগ্রহের মানুষ এইসব। আমাকে হাবিজাবি লেখক অবশ্যই বলা যেতে পারে।

    নলিনী বাবু B.Sc.তে আমাদের অতি পরিচিত কাঠামোর মোড়কে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অদেখা ভুবনের গল্প বলতে চেয়েছি। সালভাদর দালি নিশি স্বপ্নকে ছবিতে নিয়ে এসেছেন, আমি চেষ্টা করেছি নিশি স্বপ্ন গদ্যে নিয়ে আসার। তবে এই রচনা অবশ্যই সুররিয়েলিস্টিক রচনা না। সুররিয়েলিস্টিক জগতের ছায়ায় রিয়েলিস্টিক রচনা।

    আমি কি বলতে চেয়েছি তা কি বুঝাতে পেরেছি? মনে হয় না। যাই হোক, কি আর করা। চেষ্টা তো করেছি।

    নলিনী বাবু B.Sc.র জগতে সবাইকে নিমন্ত্রণ।

    হুমায়ূন আহমেদ
    নুহাশ পল্লী, গাজীপুর
    ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

    ০১.

    ‘আমি নীলগঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের বিএসসি শিক্ষক’ বলেই ভদ্রলোক আমার পা ছোঁয়ার জন্য হাত বাড়ালেন। আমি খপ করে তার হাত ধরলাম। বয়স্ক একজন মানুষ, মাথার সব চুল ধবধবে সাদা। তিনি আমার পা স্পর্শ করবেন কেন? পা ছোঁয়াছুঁয়ির ব্যাপারটা এমনিতেই আমার অপছন্দ।

    আমার নাম নলিনী ভট্টাচার্য।

    আপনি বসুন। বিশেষ কোনো কাজে কি এসেছেন?

    আজ্ঞে না। আমি লেখক দেখতে এসেছি।

    আমি হাসতে হাসতে বললাম, ভালো করে লেখক দেখুন। আমিও আপনাকে দেখি।

    ভদ্রলোকের বয়স ষাটের কাছাকাছি। বেঁটেখাটো মানুষ। বড় বড় চোখ। চোখের মণিতে বিস্ময়বোধ। ব্রাহ্মণরা বেশিরভাগ সময় গৌরবর্ণের হন। ইনার গায়ের রঙ কালো। ভদ্রলোকের বিশেষত্ব হচ্ছে, তিনি পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি পরেছেন। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় ধুতি ছেড়ে দিয়েছে। দুর্গাপূজার সময় কিছু ধুতি পরা মানুষ দেখা যায়। ধুতি নিয়ে তাদের খানিকটা সংকোচিত এবং বিব্রতও মনে হয়।

    নলিনী ভট্টাচার্যের পোশাকের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে, তিনি ধুতির সঙ্গে জুতা-মোজা পরেছেন। জুতা জোড়া বেশ ভারী এবং ধুতির সঙ্গে যাচ্ছে না।

    আপনি কি সবসময় জুতা পরেন?

    পরি।

    অস্বস্তি লাগে না? নলিনী বাবু বিস্মিত হয়ে বললেন, অস্বস্তি লাগবে কেন?

    আমি বললাম, আপনি ব্রাহ্মণ মানুষ। গরুর প্রতি ভক্তি আপনাদের মজ্জাগত। গরুকে দেবতার মতো দেখা হয়। দেবতার চামড়ায় বানানো জুতা পরতে অস্বস্তি লাগার কথা।

    নলিনী বাবু বিব্রত গলায় বললেন, আপনি এই কথা প্রথম বললেন। আমি এর আগে ব্যাপারটা নিয়ে ভাবিনি। বাকি জীবন আমি আর জুতা পরব না। আপনাকে, কথা দিচ্ছি।

    ভাই আমি কথার কথা বলেছি। আপনি সত্য ভাষণ করেছেন।

    ভদ্রলোকের বিব্রত ভাব দেখে নিজেই লজ্জা পেলাম। মানুষকে বিব্রত করা আমার স্বভাবের মধ্যে নেই। তারপরও এ ধরনের কাজ আমি প্রায়ই করি। অপরিচিত মানুষ, যারা প্রথমবার আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে, তাদের সঙ্গেই বেশি করি মাসখানেক আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র এসেছিল। সে কিছু কবিতা লিখেছে, আমাকে দেখাতে এসেছে। আমি বললাম, আমি গদ্য লেখক, কবিতা বুঝি না।

    সে বিনয়ী গলায় বলল, না বুঝলেও পড়ে দেখুন।

    আমি বললাম, তোমার নাম কী?

    সে বলল, যূপকাষ্ঠ।

    ছদ্মনাম?

    জি স্যার।

    ছদ্মনাম কেন?

    কবি হিসেবে আসল নামটা যায় না।

    আসল নাম কী?

    আহম্মদ মিখাইল। ফেরেশতা মখাইল (আঃ) এর নামে নাম।

    আমি বললাম, যুপকাষ্ঠের চেয়ে আহম্মদ মিখাইল নাম অনেক সুন্দর। তারপরও ফেরেশতার নামের সঙ্গে মিলিয়ে মানুষের নাম হওয়া ঠিক না।

    কেন স্যার?

    মানব সম্প্রদায়ের অবস্থান ফেরেশতাদের অনেক উপরে। ফেরেশতাদের যে প্রধান তাকে বলা হয়েছিল মানুষকে কুর্নিশ করতে। জানো না?

    জানি স্যার।

    শোনো যূপকাষ্ঠ বাবু, তুমি বিদায় হও।

    ছেলেটা লজ্জা পেয়ে চলে যাওয়ার পর মনটা খুবই খারাপ হলো। এই ব্যবহারটা না করলেও হতো। কেন এ রকম করি?

    লেখক হিসেবে আমার মধ্যে কি অহঙ্কার দানা বাঁধতে শুরু করেছে? না-কি পুঁটি মাছ হয়ে যাচ্ছি?

    প্রকাণ্ড রুই মাছ গভীর পানিতে বাস করে। চলনে ধীরস্থির। পুঁটি মাছ গণ্ডুষ পানিতেও ফরফর করে। সংস্কৃত বলে ফরফরায়তে–

    গণ্ডুষ জল মাত্রেন
    সফরি ফরফরায়তে।

    যা-ই হোক, নলিনী বাবুর কাছে ফিরে যাই। তিনি পকেট থেকে পানের ছোট্ট বাহারি কৌটা বের করে পান মুখে দিয়েছেন। জর্দার গন্ধ আসছে। আঙ্গুলের ডগায় চুন নিয়ে বসে আছেন। মনে হচ্ছে ভদ্রলোক পানবিলাসী। আমি বললাম, আপনার লেখক দেখা শেষ হয়েছে?

    তিনি জবাব দিলেন না। সুন্দর করে হাসলেন। আমি বললাম, আপনি আমার কয়টা বই পড়েছেন?

    তিনি বললেন, একটা। আমি কোনো লেখকের একটার বেশি বই পড়ি। আপনার পড়েছি মিসির আলি। শরৎবাবুর চরিত্রহীন, যাযাবরের দৃষ্টিপাত। রবিবাবুর নৌকাডুবি পড়া শুরু করেছিলাম, একত্রিশ পৃষ্ঠা পড়ার পর বইটা চুরি হয়ে গেল। বাকিটা পড়া হয় নাই।

    আমি বললাম, সব লেখকের একটা করে বই পড়েন কেন?

    তিনি বললেন, হাঁড়ির ভাত সিদ্ধ হয়েছে কি না জানার জন্য সব ভাত টিপতে হয় না। একটা ভাত টিপলেই হয়।

    আমার ভাত কি সিদ্ধ হয়েছে?

    নলিনী বাবু জবাব দিলেন না। তবে তার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হলো আমার ভাত সিদ্ধ হয়নি। চক্ষুলজ্জায় বলতে পারছেন না। আমি বললাম, ভাই আমার একটু কাজ আছে। আপনি আরেক দিন আসুন, তখন কথা হবে।

    নলিনী বাবু বললেন, আপনি ভদ্রভাবে আমাকে বিদায় করতে চাচ্ছেন সেটা বুঝতে পারছি। একটা ছোট্ট রসিকতা করে চলে যাব। আগে না শুনে থাকলে মজা পাবেন। অঙ্কের ক্লাসে ছাত্রদের বিনোদন দেওয়ার জন্য মাঝে মাঝে রসিকতা করি। তারা হো হো করে হাসে। খুবই মজা লাগে। একটা বলব?

    বলুন।

    এক লোক জীবনে প্রথম ফুটবল খেলা দেখতে গিয়েছে। সে পাশের জনকে জিজ্ঞেস করল, বলটা নিয়ে ওরা কী করছে? পাশের জন বলল, গোল করার চেষ্টা করছে। সে বিস্মিত হয়ে বলল, বলটা তো গোলই আছে। আর কিভাবে গোল করবে?

    নলিনী বাবুগল্প শেষ করে বললেন, জোকটা বেশ হাসির, যে শুনে সেই হাসে কিন্তু আপনি হাসেননি। আগে শুনেছেন।

    আমি বললাম, আগে শুনিনি। বিরক্ত মানুষ হাসে না। মনে হয় আমি বিরক্ত।

    আমার উপর বিরক্ত?

    আপনি ছাড়া তো আর কেউ নেই যে তার উপর বিরক্ত হব।

    মানুষ অনেক সময় নিজের উপরে বিরক্ত হয়।

    আমি নিজের উপর না, আপনার উপর বিরক্ত। এই সময় আমি লেখালেখি করি। আপনার কথায় ভাত হাঁড়িতে সিদ্ধ করি। ভাত সিদ্ধ করার কাজে বাধা পড়লে বিরক্ত হই।

    নলিনী বাবু বললেন, আপনার জন্য কিছু মাছ এনেছিলাম। ঘরে ঢুকাইনি। বারান্দায় রেখেছি। গৃহিনীকে মাছগুলো দিয়ে চলে যেতাম।

    আমি বললাম, স্ত্রীর সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আমি এখন একা বাস করছি।

    ছাড়াছাড়ি হবার কারণটা কি জানতে পারি?

    আমি বিরক্ত গলায় বললাম, না।

    এতবড় বাড়িতে একা থাকেন?

    হ্যাঁ।

    নিজের বাড়ি, নাকি ভাড়া?

    ভাড়া (তখন উত্তরায় এক বাড়ি ভাড়া করে থাকি)।

    ভাড়া কত দেন?

    কুড়ি হাজার টাকা।

    ইলেকট্রিসিটি, পানির বিল সব কি এর মধ্যে?

    না, ইউটিলিটি আলাদা।

    আপনার পাচক ছেলেটিকে ভাকুন তাকে মাছগুলো বুঝিয়ে দেই। পদ্মার দুটি ইলিশ আছে, মিঠাপানির গলদা চিংঙি আছে। টেংরা আছে। সবই আমি নিজে দেখেশুনে কিনেছি। কোনটা কিভাবে রাঁধতে হবে পাচককে বুঝিয়ে বলে দেই।

    আমি হতাশ গলায় বললাম, আমি এই বাড়িতে নতুন উঠেছি। আমার কোনো পাচক বা কাজের ছেলে এখনও জোগার হয়নি।

    আপনি খাওয়া-দাওয়া করেন কোথায়?

    একটা হোটেলের সঙ্গে ব্যবস্থা করা আছে, ওরা দুবেলা খাবার দিয়ে যায়।

    নলিনী বাবু বললেন, মাছগুলো ফ্রিজে রেখে যাই। তবে টাটকা খাওয়া আর ফ্রিজের বাসি খাওয়া আকাশ-পাতাল ফারাক হবে।

    আমি বললাম, ফ্রিজ এ বাড়িতে নেই। ভাই কিছু মনে করবেন না। আপনার পেছনে আমি অনেক সময় নষ্ট করেছি। আর করব না। মাছগুলো নিয়ে আপনি চলে যান।

    নলিনী বাবু উঠে দাঁড়ালেন এবং আবার বসে পড়তে পড়তে বললেন, আপনার জন্য মাছ কিনেছি। আমি কীভাবে নিয়ে যাব? আপনার যে বইটা পড়েছি সেখানে লেখা ধোপখোলার বাজারের পদ্মার ইলিশ, মিঠাপানির গলদা চিংড়ি আর টেংরা মাছের কথা। আমি ধোপখোলার বাজার থেকেই মাছগুলো কিনেছি। আমি বিত্তবান কেউ না। সামান্য শিক্ষক। মাছ কিনতে আমার অর্থ ব্যয় হয়েছে। আপনি লেখক মানুষ। আপনার বোঝার কথা।

    আমি কী বলব বুঝতে পারলাম না। ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা করাটাই বোকামি হয়েছে। গেটে দারোয়ানকে দিয়ে বলে পাঠালেই হতো, আমি অসুস্থ, কারও সঙ্গে দেখা করছি না।

    নলিনী বাবু বললেন, আমি আপনাকে একটা ভালো প্রস্তাব দিচ্ছি। ঠাণ্ডা মাথায় বিবেচনা করুন। মাছ আমি বেঁধে দিয়ে যাই। আমি একজন ভালো পাচক। বিবাহ করিনি। নিজের রান্না নিজেকেই করতে হয়। গাইতে গাইতে যেমন গায়েন, বাঁধতে রাঁধতে রাঁধুনি।

    আমি বললাম, রান্না কিভাবে করবেন? মসলাপাতি কিছুই নেই। হাঁড়িপাতিলও নেই।

    নলিনী বাবু বললেন, যা যা প্রয়োজন আমি সবই সংগ্রহ করব। আপনি শুধু অনুমতি দিন বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের সামান্য আবদার।

    আমি যতটুক বিরক্ত হওয়া সম্ভব ততটুকু বিরক্ত হয়েই লেখার টেবিলে বসলাম। রূপার পালংক নামে একটা উপন্যাসের শেষ কয়েকটি পাতা আজই শেষ করার কথা। প্রকাশককে সন্ধ্যাবেলায় আসতে বলেছি। এখন মনে হচ্ছে শেষ করতে পারব না। তারপরও লেখার টেবিলে কাগজ-কলম নিয়ে বসলাম। তখন নলিনী বাবু উঁকি দিলেন।

    কোন চাল আপনার পছন্দ? নাজিরশাল আনব, নাকি মিনিকেট?

    আমি বললাম, যা ইচ্ছা আনুন, তবে টাকা দিচ্ছি নিয়ে যান। নিজের পকেট থেকে একটা পয়সাও খরচ করবেন না। গ্যারাজে গাড়ি আছে। গাড়ি নিয়ে যান। ড্রাইভারের নাম আলি হোসেন।

    আপনার গাড়ি আছে?

    হ্যাঁ আছে।

    বলেন কী?

    এত বিস্মিত হচ্ছেন কেন? ঢাকা শহরের চল্লিশ ভাগ মানুষের গাড়ি আছে।

    গাড়ি কত দিয়ে খরিদ করেছেন?

    মনে নাই। ভাই এখন যান তো, আর বিরক্ত করবেন না।

    ঘড়ি দেখলাম। একটা বাজে। কখন বাজার আসবে, কখন রান্না হবে কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি বাইপাসের রোগী। দুপুরে যথাসময়ে খাওয়া-দাওয়া করে আমাকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ঘর অন্ধকার করে শুয়ে থাকতে হয়। ব্যাধির কারণে জীবনে খানিকটা যান্ত্রিকতা চলে এসেছে। আজ মনে হয় সমস্ত রুটিন এলোমেলো হবে।

    আমি দেড়টা পর্যন্ত লেখালেখি করলাম। ঠিক দেড়টায় টিফিন ক্যারিয়ারে করে হোটেল থেকে খাবার চলে এলো। খেয়ে শোবার ঘরে দরজা-জানালা বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম। সদর দরজা খোলা থাকল যাতে নলিনী বাবু ঘরে ঢুকতে পারেন।

    দুপুরের ঘুম আমার কখনোই ভালো হয় না। আজ কিছুক্ষণের মধ্যেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম। এই জাতীয় ঘুমের একটা নাম আছে–মরণ ঘুম। অতলে তলিয়ে যাওয়া। ঘুম ভাঙল সন্ধ্যা পার করে, ঝুম বৃষ্টির শব্দে। এবারের আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। আজ ঢাকা শহর ভাসিয়ে বৃষ্টি নেমেছে। অনেক দিন পর বর্ষাযাপন করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্ষাযাপন একা করা যায় না। অতিপ্রিয় কাউকে পাশে লাগে। এই মুহূর্তে আমার অতিপ্রিয় কেউ নেই। অতি বিরক্তিকর মানুষ অবশ্যি এই মুহূর্তে একজন আছেন, নলিনী বাবু। রান্নাঘর থেকে তার খুটখাট শব্দ শুনতে পাচ্ছি। মনে হয় রান্না শুরু হয়েছে। মশলা বাটার আওয়াজ আসছে। কি আশ্চর্য, ভদ্রলোক মশলা বাটছেন নাকি?

    ঝুম বৃষ্টির সময় আমি অবধারিতভাবে রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান শুনি। আজ তা সম্ভব হচ্ছে না। ঘরে গান শোনার যন্ত্রপাতি নেই। অভ্য পারিবারিক জীবন থেকে ছিটকে পড়েছি। এখনো গুছিয়ে উঠতে পারিনি। গুছাতে পারব বলেও মনে হচ্ছে না।

    ইলেকট্রিসিটি চলে গেছে। নলিনী বাবু একটা জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে ঢুকলেন। ঘরে মোমবাতি থাকার কথা না। মনে হয় তিনিই কিনে এনেছেন।

    নলিনী বাবু বললেন, বাজার করতে দেরি হয়েছে। পছন্দের জিনিস কিছুই পাইনি। ভালো শিলপাটা কেনার জন্য যেতে হয়েছে পুরান ঢাকায়। হার্ডওয়্যারের দোকানে যা পাওয়া যায় সবই বেলেপাথরের। তবে খুঁজে পেতে যেটা পেয়েছি, সেটা অসাধারণ। একশ বছর টেকার জিনিস।

    আমি বললাম, আমরা কেউ থাকব না। শিলপাটা একশ বছর টিকে থাকবে, তাতে লাভ কি?

    আপনার পরের বংশধররা ব্যবহার করবে। প্যাকেটের মসলার সঙ্গে বাটা মসলার তফাৎটা শুধু তাদের ধরিয়ে দিতে হবে।

    মসলা কি আপনি বাটবেন?

    হুঁ।

    আপনার ফ্রেশ মাছ নষ্ট হয়ে যায়নি?

    আজ্ঞে না। মাছগুলো আপনার নিচতলার ফ্ল্যাটের ভদ্রমহিলার ফ্রিজে রেখে গিয়েছিলাম। বিনিময়ে তাকে একটি ইলিশ মাছ আর তিনটি গলদা চিংড়ি দিয়েছি।

    তিনি রেখেছেন?

    হ্যাঁ, রেখেছেন। খুশি হয়েই রেখেছেন। ফ্রেশ মাছের মর্যাদা গৃহিণীদের মতো কেউ বোঝে না। স্যার কি চা খাবেন? এক কাপ চা করে দেব?

    দিন।

    রাত নয়টার মধ্যে খাওয়া তৈরি হয়ে যাবে। নটা পর্যন্ত কষ্ট করে ক্ষুধা সহ্য করতে হবে।

    ঠিক আছে। সহ্য করব।

    আপনি বদ্ধঘরে বসে না থেকে বারান্দার চেয়ারে বসে বৃষ্টি দেখুন। আপনারা লেখক মানুষ, বৃষ্টি, ঝড় এসবই তো আপনাদের পছন্দ। শরবাবু আরাম কেদারায় শুয়ে বৃষ্টি দেখতেন। আপনার এই বাসায় কোনো আরাম কেদারা দেখলাম না। আমাদের নীলগঞ্জে হাকিম নামে খুব ভালো একজন কাঠমিস্ত্রি আছে। তাকে দিয়ে আমি আপনার জন্য একটা আরাম কেদারা বানিয়ে দেব। চা কি দুধ চা হবে, না লেবু চা? দুধ, লেবু সবই নিয়ে এসেছি। একটা জিনিস শুধু পাইনি, পোস্তদানা। পোস্তদানা দিয়ে গলদা চিংড়ি রান্নার শখ ছিল। দেখি পরের বার।

    আমি দীর্ঘ নিশ্বাস চাপার চেষ্টা করলাম। এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে। নলিনী বাবু আবারও আসবেন।

    রাতে খেতে বসলাম। নলিনী বাবু আমার সামনে আসনপিড়ি হয়ে বসে পান চিবুতে লাগলেন। তিনি একাহারি। সকাল এগারোটার দিকে একবার খান। সারাদিন পান ছাড়া কিছু খান না। রাতে এক কাপ দুধ খেয়ে ঘুমুতে যান।

    দিনের পর দিন হোটেল-রেস্টুরেন্টে খাচ্ছি। খাওয়া ব্যাপারটার ওপরই অভক্তি উঠে গিয়েছিল। অনেক দিন পর যা মুখে দিচ্ছি অমৃতের মতো লাগছে। নলিনী বাবু বললেন, পৃথিবীতে তিন ধরনের খাবার আছে—

    রাজসিক

    তামসিক

    সাত্ত্বিক

    রাজা-মহারাজারা যেসব খাবার খান সেটা রাজসিক। ভোগী মানুষের খাবার হলো তামসিক। মাংসপ্রধান খাবার, সঙ্গে অনুপান হিসেবে মদ্য। আপনি যে খাবার খাচ্ছেন তা হলো সাত্ত্বিক। শুদ্ধ খাবার। সাধু পুরুষরা খান।

    আমি যতদূর জানি সাত্ত্বিক খাবার হয় নিরামিষ। মাছ সেখানে থাকার কথা না।

    নলিনী বাবু জিভে কামড় দিয়ে বললেন, আপনার কথা ঠিক। আপনি লেখক মানুষ। আপনি তো জানবেনই! অপরাধ ক্ষমা করবেন।

    আমি বললাম, আপনি সব লেখকদের একটা করে বই পড়েছেন, বিভূতিভূষণের কোনো বই পড়েছেন?

    দৃষ্টি প্রদীপ পড়েছি।

    উনার একটা উপন্যাসের নাম আদর্শ হিন্দু হোটেল। সেই হোটেলে তিনি একজন রন্ধনশিল্পীর গল্প বলেছেন। আপনার উচিত স্কুলের মেয়েদের অঙ্ক না শিখিয়ে একটা হোটেল দেয়া।

    নলিনী বাবু বললেন, আমি এক-দুইজনের জন্য রাঁধতে পারি। বেশি মানুষের জন্য পারি না।

    খাওয়া শেষ করে একটা পান মুখে দিলাম। সিগারেট ধরালাম। বৃষ্টি তখনও পড়ছে। ভালোভাবেই পড়ছে। আমি বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসে বৃষ্টি দেখছি। নলিনী বাবু আমার পাশের চেয়ারে বেশ আরাম করে পা তুলে বসেছেন। আমি বললাম, ভাই আপনার অসাধারণ খাবার খেয়ে তৃপ্তি পেয়েছি। মানুষ বাঁচার জন্য খায়। এখন মনে হচ্ছে শুধুমাত্র খাওয়ার জন্য বেঁচে থাকাটাও খারাপ না।

    নলিনী বাবু হাসলেন। তার হাসি সুন্দর। বেশিরভাগ মানুষ শুধু ঠোঁট দিয়ে হাসে। কেউ কেউ ঠোঁটের সঙ্গে চোখ ব্যবহার করে। এদের হাসি দেখাতে ভালো লাগে। নলিনী বাবু দ্বিতীয় দলের।

    আমি বললাম, আপনি নিশ্চয়ই কোনো বিশেষ কারণে আমার কাছে। এসেছেন। কারণটা বলুন।

    তেমন কোনো কারণ নেই, একজন জ্ঞানী মানুষের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটানো।

    আমি জ্ঞানী মানুষ আপনাকে কে বলল?

    আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বিজ্ঞানের কঠিন বিষয় পড়ান। আপনি জ্ঞানী তো বটেই। এ ছাড়াও অন্য কারণ আছে। মিসির আলির যে বইটা আমি পড়েছি তার সঙ্গে আমার জীবনের খুব মিল আছে। মিলের ব্যাপারটা বলার শখ ছিল।

    বইটার নাম কী?

    নিষাদ। কাহিনী কি আপনার মন আছে, না ভুলে গেছেন?

    মনে আছে। আপনার কাহিনী কী?

    বলা শুরু করব?

    হ্যাঁ, শুরু করুন।

    বিরক্ত হবেন না তো?

    বিরক্ত তো হবই। লেখকরা নিজেরা গল্প তৈরি করেন। অন্যদের গল্প শুনে আনন্দ পান না।

    বৃষ্টির ছাট আসছে। আপনি এখানেই বসবেন নাকি ভেতরে যাবেন?

    এখানেই বসব।

    নলিনী বাবু গল্প শুরু করলেন।

    গম্ভীর গলায় বললেন, আমি এই জগতের অতি দুঃখী মানুষদের একজন। আবার অতি সুখী মানুষদেরও একজন।

    আমি বললাম, আপনার গল্পের শুরুটা ভালো। আপনি একনাগাড়ে বলে যান। আমি আপনাকে মাঝখানে থামাব না। হুঁ দেব না। তারপর কী হলো বলব না, আপনি কথা বলে যাবেন নিজের মতো।

    ধন্যবাদ।

    গল্প শুরু করার আগে সামান্য বেয়াদবি করব। নিষাদ বইটি নামকরণের কোনো সার্থকতা আমি খুঁজে পাইনি।

    সব কিছুর সার্থকতা খোঁজার প্রয়োজন কি আছে?

    আছে। নিষাদ নাম শ্লোকে প্রথম ব্যবহার করেন বাল্মীকি।

    মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং তমগমঃ শাশ্বতীঃ খমাঃ।
    যৎ ক্রৌনৎঞ্চমিথুনাদেকমবধীঃ কামমোহিতম্ ॥

    এর অর্থ নিষাদ, তুই চিরকাল প্রতিষ্ঠা লাভ করবি না, কারণ তুই ক্রৌঞ্চ মিথুনের একটিকে কামমোহিত অবস্থায় বধ করেছিস।

    রামায়ণের গল্প থাকুক। নিজের গল্প শুরু করুন।

    নলিনী বাবু গল্প শুরু করলেন।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনবনী – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article নির্বাসন – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }