Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    বৃষ্টি বিলাস – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প121 Mins Read0
    ⤷

    ০১. শামা

    রিকশা থেকে নেমেই শামা দেখল তাদের বাসার বারান্দার কাঠের চেয়ারে কে যেন বসে আছে। কাঠের চেয়ারের পেছনের একটা পা ভাঙা। চেয়ারটা দেয়ালে হেলান না দিয়ে বসা যায় না। কিন্তু যে বসেছে সে চেয়ারটা বারান্দার মাঝামাঝি এনেই বসেছে। একটু অসাবধান হলেই উল্টে পড়বে। শামার বুক ধুকধুক করতে লাগল। যে-কোন সময় একটা একসিডেন্ট ঘটবে এটা মাথায় থাকলেই টেনশন হয়। শামার সমস্যা হচ্ছে সামান্য টেনশনেই তার বুক ধুকধুক করে। গলা শুকিয়ে যায়। এক সময় মনে হয় হাত-পা শক্ত হয়ে আসছে। নিশ্চয়ই হার্টের কোনো অসুখ। যত দিন যাচ্ছে, তার অসুখটা তত বাড়ছে। আগে এত সামান্যতে বুক ধুকধুক করত না, এখন করে।

    গত সপ্তাহেই কলেজ থেকে ফেরার পথে সে দেখল কে যেন ঠিক রাস্তার মাঝখানে একটা ডাব ফেলে রেখেছে। তার বুক ধুকধুক করা শুরু হলো। এই বুঝি একসিডেন্ট হলো। ভাবের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে পড়ল রিকশা। রিকশার যাত্রী ছিটকে পড়ল সিট থেকে, আর সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে একটা ট্রাক এসে তার ওপর দিয়ে চলে গেল। দৃশ্যটা শামা চোখের সামনে স্পষ্ট দেখল, তার হাতপা হয়ে গেল শক্ত। নড়ার ক্ষমতা নেই। একসিডেন্ট না হওয়া পর্যন্ত সে যেন নড়তে পারবে না। তার উচিত রাস্তায় নেমে ডাটা সরিয়ে দেয়া। সেটাও সম্ভব না। কুড়ি বছর বয়েসী-রূপবতী একটা তরুণী রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করছে। এই দৃশ্য মজাদার। চারদিকে লোক জমে যাবে। সবাই তার দিকে ডাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকবে। তাদের দৃষ্টিতে পরিষ্কার লেখা থাকবে ‘ব্রেইন নষ্ট মেয়ে। ডাবটা সরিয়ে সে যখন বাসার দিকে রওনা হবে তখন তার পেছনে পেছনে কয়েকজন রওনা হবে। মজা দেখার জন্যে যাবে। ‘ব্রেইন নষ্ট মেয়ে’ নতুন আর কী করে সেটা দেখার কৌতূহলেই পেছনে পেছনে যাওয়া। পাগল মেয়ের পেছনে হাঁটা যায়। তাতে কেউ দোষ ধরে না।

    ভাঙা চেয়ারটায় বসে আছেন শামার বাবা আবদুর রহমান। তিনি মালিবাগ অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার। সন্ধ্যা সাতটার আগে কোনোদিনই বাসায় ফেরেন না। এখন বাজছে তিনটা দশ। অসময়ে বাসায় ফিরে বারান্দায় বসে আছেন বলে শামা দূর থেকে বাবাকে চিনতে পারে নি। তাছাড়া বাসায় তিনি যতক্ষণ থাকেন, খালি গায়ে থাকেন। আজ পরেছেন ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবি। শামার বাবার মুখ হাসি হাসি। তাকে দেখে মনে হচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যে আনন্দময় কিছু ঘটবে, তার প্রতীক্ষায় চেয়ারে বসে তিনি পা দোলাচ্ছেন।

    শামা বাবার দিকে তাকিয়ে আতঙ্কিত গলায় বলল, বাবা এই চেয়ারটার পেছনের পা ভাঙা। তুমি উল্টে পড়বে।

    আবদুর রহমান আনন্দিত গলায় বললেন, পায়া ঠিক করেছি। তিনটা পেরেক মেরে দিয়েছি। তোর কলেজ ছুটি ঘেমে টেমে কী হয়েছিল। যা ঘরে গিয়ে। গোসল কর। আর তোর মা’কে বল আমাকে একটা পান দিতে।

    শামা ঘরে ঢুকল। শামার মা সুলতানা মেয়েকে দেখেই বললেন, এত দেরি কেন রে?

    শামা বিরক্ত হয়ে বলল, দেরি কোথায় দেখলে? দু’টার সময় কলেজ ছুটি হয়েছে? এখন বাজছে দুটা পঁচিশ।

    যা গোসল করতে যা, বাথরুমে পানি, সাবান, তোয়ালে দেয়া আছে।

    ক্ষিধায় মারা যাচ্ছি, আগে ভাত দাও। আর বাবা পান চাচ্ছে। বাবা আজ এত সকাল সকাল অফিস থেকে ফিরল কেন?

    সুলতানা হাসিমুখে বললেন, তার অফিসের কয়েকজন কলিগ আসবে। বিকালে চা খাবে। তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেন? গোসলে যা।

    শামা শীতল গলায় বলল, ঘটনা কী বলতে মা? আমাকে গোসল করানোর জন্যে এত ব্যস্ত হয়ে গেছ কেন?

    সুলতানা হড়বড় করে বললেন, কোনো ঘটনা না। ঘটনা আবার কী? তোর বাবার কয়েকজন বন্ধু বিকালে চা খেতে আসবে। অফিসের বন্ধু-বান্ধবরা চা খেতে আসতে পারে না।

    শামা তীক্ষ্ণ গলায় বলল, চায়ের ট্রে নিয়ে তাদের সামনে সেজেগুজে আমাকে যেতে হবে তাইতো? ঘটনা এরকম কি-না সেটা বল।

    সুলতানা চুপ করে রইলেন। শামা বলল, ছেলে কী করে?

    তার বাবার অফিসে চাকরি করে। নতুন ঢুকেছে। জুনিয়ার অফিসার। বাহ্ ভালত। শ্বশুর-জামাই এক অফিসে চাকরি করবে। দুপুরে টিফিন ক্যারিয়ার খুলে খাবার ভাগাভাগি করে খাবে। শ্বশুর জামাইকে সেধে খাওয়াবে। জামাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে শ্বশুরের জন্যে চমন বাহার দেয়া পান নিয়ে আসবে।

    সুলতানা ফিক করে হেসে ফেললেন। শামা কঠিন গলায় বলল, হাসবে না। মা। তোমার হাসি অসহ্য লাগছে। আমি মরে গেলেও চা নিয়ে কারোর সামনে যাব না। এটা আমার শেষ কথা।

    আচ্ছা ঠিক আছে। না গেলে না যাবি। যা গোসল করতে যা। গোসল করে যে শাড়িটা পরবি সেটাও বাথরুমে আছে। তার বাবা কিনে এনেছে। তোর বাবা যে কিনতে পারে তাই জানতাম না।

    গোসল করতেও যাব না। গা ঘামা অবস্থায় থাকব। ক্ষিধে বেশি লেগেছে? আগে ভাত খেয়ে নিবি?

    ভাত খাব না। গেস্ট না আসা পর্যন্ত ছাদে দাঁড়িয়ে থাকব। গায়ে আরো রোদ লাগাব। রোদে গায়ের চামড়া জ্বালিয়ে ফেলব।

    তোর যা ইচ্ছা করিস। একটু ঠাণ্ডা হ। লেবুর সরবত খাবি? গরম থেকে এসেছিস লেবুর সরবত ভাল লাগবে।

    লেবুর সরবত খাব না। বাবা পান চাচ্ছে এখনো পান দিচ্ছ না কেন?

    শামা মা’র সামনে থেকে সরে গেল। ঢুকল বাথরুমে। বাথরুমে গোসলের। সরঞ্জাম সুন্দর করে সাজানো। বালতি ভর্তি পানি। নতুন একটা সাবান, এখনো মোড়ক খোলা হয় নি। সাবানের পাশে নতুন একটা টুথব্রাশ। বাথরুমের দড়িতে হালকা সবুজ রঙের তাঁতের শাড়ি ঝুলছে। এই শাড়িটা শামার বাৰা আজ কিনে এনেছেন। বাবার রুচি খুবই খারাপ। কটকটে রঙ ছাড়া কোননো রঙ তার চোখে ধরে না। কিন্তু এই শাড়ির রঙটা ভাল।

    মাথায় পানি ঢালতে ঢালতে শামার মনে হলো লাল কাচের চুড়ি থাকলে খুব ভাল হত। সবুজ শাড়ির সঙ্গে হাত ভর্তি লাল চুড়ি খুব মানায়। শাদা শাড়ির সঙ্গে মানায় নীল চুড়ি।

    এ বাড়িতে পানির খুব টানাটানি। সাপ্লাইয়ের পানি ঝিঝির করে তিন চার ঘণ্টা এসেই বন্ধ। জমা করে রাখা পানি খুব সাবধানে খরচ করতে হয়। কেউ পানি বেশি খরচ করলে তার দিকে সবাই এমনভাবে তাকায় যেন চোখের সামনে মূর্তিমান পানি-খেকো শয়তান। আজ শামার সেই ভয় নেই। পুরো বালতি শেষ করলেও কেউ কিছু বলবে না। শামা মনের আনন্দে মাথায় পানি ঢালতে লাগল। ঠাণ্ডা পানিতে এত আরাম লাগছে! শামার ধারণা গায়ে প্রচুর পানি ঢাললে শুধু যে। শরীরের নোংরা দূর হয় তা-না, মনের ময়লাও খানিকটা হলেও ধুয়ে চলে যায়। এই জন্যেই মন ভাল লাগে।

    যে ছেলেটা তাকে দেখতে আসবে তাদের বাড়িতে প্রচুর পানি আছেতো? সবচে’ ভাল হয় যদি বাড়িতে বাথটাব থাকে। গরমের সময় বাথটাব ভর্তি করে সে পানি রাখবে। বরফের দোকান থেকে চার পাঁচ কেজি বরফ এনে গুড়ো করে। বাথটাবে ছেড়ে দেবে। কয়েকটা টাটকা গোলাপ কিনে গোলাপের পাপড়ি পানিতে ছেড়ে দিয়ে সে ডুবে থাকবে। হাতের কাছে টি পটে চা থাকবে। মাঝে। মাঝে চায়ে চুমুক দেবে। ক্যাসেট প্লেয়ারে গান বাজতে পারে। নিশ্চয়ই বাথরুমে গান শুনতে ভাল লাগবে। অনেক মানুষই বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করেই গান ধরে। ভাল না লাগলে নিশ্চয়ই ধরত না।

    সুলতানা বাথরুমের দরজায় ধাক্কা দিলেন। অবাক হয়ে বললেন, শামা ভাত তরকারি সব ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। এতক্ষণ কী করছিস?

    শামা হালকা গলায় বলল, বালতির পানি সব শেষ হয়ে গেছে মা। আরো পানি লাগবে।

    আর পানি পাব কোথায়?

    বাড়িওয়ালা চাচার ঘর থেকে আনাও। সারা গায়ে সাবান মেখে বসে আছি। পানি শেষ। আরেকটা কথা মা, যে ছেলেটা আমাকে দেখতে আসছে তার নাম কী?

    ছেলের নাম আতাউর।

    কী সর্বনাশ আতাউর আবার মানুষের নাম হয়? নাম শুনলেই মনে হয়। খাতাউর সাহেব হাঁ করে আছেন— খেয়ে ফেলার জন্যে।

    খাতাউর না, আতাউর। শামা তুই ইচ্ছা করে ফাজলামি করছিল। এইসব ঠিক না।

    পানি আনার ব্যবস্থা কর মা। আসল কথা বলতে ভুলে গেছি। মা শোন, লাল চুড়ি আছে? তোমার ট্রাংকেতো অনেক জিনিস আছে। খুঁজে দেখতে লাল চুড়ি আছে নাকি। আমি লাল চুড়ি পরব।

    সুলতানা আনন্দের নিঃশ্বাস ফেললেন। মেয়ে সহজভাবে কথা বলছে। তিনি কাজের মেয়েকে বালতি দিয়ে পানি আনতে পাঠালেন। মেয়েটা শখ মিটিয়ে গোসল করুক। মেয়েদের অতি তুচ্ছ শখও সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করতে হয়। মেয়েরা মা-বাপের সংসারে থাকে না। অন্য সংসারে চলে যায়। যে সংসারে যায় সেখানে সে হয়ত মুখ ফুটে শখের কথাটা বলতেও পারে না।

     

    অতিথিরা পাঁচটার সময় উপস্থিত হলেন। তখন শামার চুল বাঁধা হচ্ছে। চুল বেঁধে দিচ্ছে শামার ছোট বোন এশা। এশা এ বছর ক্লাস টেনে উঠেছে। সে খুবই হাসি খুশি মেয়ে। গত ছ’দিন ধরে কী কারণে যেন সে মুখ ভোতা করে আছে। কারো সঙ্গেই কথাবার্তা বলছে না। এশার মুখ ভোঁতার রহস্য উদ্ধারের চেষ্টা কেউ করছে না। কারণ চেষ্টা করে লাভ নেই। এশা নিজ থেকে মুখ না খুললে কেউ তার মুখ খোলাতে পারবে না।

    লোকজন চলে এসেছে এই খবরটা দিল শামার ছোট ভাই মন্টু। সে গত বছর এস.এস.সি. পরীক্ষা দিয়েছিল। টাইফয়েড হয়ে যাবার কারণে পরীক্ষা শেষ করতে পারে নি। এবার আবারো দিচ্ছে। আগামী বুধবার থেকে তার পরীক্ষা শুরু। মন্টুর ধারণা এবারে পরীক্ষার মাঝখানে তার কোনো বড় অসুখ হবে, সে পরীক্ষা দিতে পারবে না। এরকম স্বপ্নও সে দেখে ফেলেছে। স্বপ্নে পরীক্ষার হল থেকে এম্বুলেন্সে করে তাকে সরাসরি হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে ডাক্তাররা ছোটাছুটি শুরু করেন। কারণ তাকে রক্ত না দিলে সে মারা যাবে। কারো রক্তের সঙ্গেই তার রক্ত মিলছে না। শেষে একজনের সঙ্গে রক্তের গ্রুপ মিলল। সেই একজন তাদের স্কুলের হেড স্যার। তিনি রক্ত দিতে এসে তাকে দেখে প্ৰচণ্ড ধমক দিয়ে বললেন, কীরে তুই এ বছরও পরীক্ষা দিচ্ছিস না? ফাজলামি করিস?

    মন্টু এসে প্রায় ফিসফিস করে বলল, আপা, এসে গেছে। চারজন এসেছে।

    শামা বিরক্ত গলায় বলল, চারজন এসেছে খুব ভাল কথা। তুই ফিসফিস করছিস কেন? এর মধ্যে ফিসফিসানির কী আছে।

    ট্যাক্সি করে এসেছে।

    শুনে খুশি হলাম। ট্যাক্সি করেইতো আসবে। ঠেলাগাড়িতে করে তো আসবে না। না-কি তুই ভেবেছিলি ঠেলাগাড়ি করে আসবে?

    অনেক মিষ্টি এনেছে। পাঁচ প্যাকেট।

    সামনে থেকে যা তো, কানের কাছে বিজবিজ করবি না। কয় প্যাকেট মিষ্টি এনেছে—দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গুণেছিল। শুনতেইতো লজ্জা লাগছে।

    মেহমানরা বসার ঘরে বসেছেন। তাদেরকে চা নাস্তা এখনো দেয়া হয় নি। আরো দু’জন নাকি আসবেন। তাদের জন্য অপেক্ষা। মজার গল্প হচ্ছে। হাসি শোনা যাচ্ছে।

    শামা সেজেগুজে অপেক্ষা করছে। চা নিয়ে যেতে বললেই সে ট্রেতে করে চী নিয়ে যাবে। এই উপলক্ষে বাড়িওয়ালার বাসা থেকে সুন্দর একটা ট্রে আনা হয়েছে। ছোট্ট একটা সমস্যা হয়েছে। এক ধরনের চায়ের কাপ আছে ছ’টা। চারজন গেস্ট আছেন। আরো দু’জন আসবেন। ছ’টা কাপ হয়ে গেল। আবদুর রহমান সাহেবকে চা দিতে হবে, তার জন্যে একটা কাপ লাগবে। তারা হয়ত শামাকেও চা খেতে বলবেন। আরো দু’টা ভাল কাপ দরকার।

    সুলতানা খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন। তিনি ঠিক করেছেন মেহমানদের কোনো বাইরের খাবার দেবেন না। সব খাবার ঘরে তৈরি হবে। তিনি কলিজার সিঙ্গাড়া বানানোর চেষ্টা করছেন। সিঙ্গাড়ার তিনটা কোণা ঠিক মতো উঠছে না। সিঙ্গাড়া তিনি আগেও বানিয়েছেন। তখন ঠিকই কোণা উঠেছে। এখন কেন উঠছে না? বিয়েতে কোন অলক্ষণ নেই তো? আজ সকালবেলা বেশ কয়েকবার তিনি এক শালিক দেখেছেন। এক শালিকের ব্যাপারটা অনেকেই বিশ্বাস করে না। তিনি খুব করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি লক্ষ করেছেন যতবার এক শালিক দেখেছেন ততবারই ঝামেলা হয়েছে।

    এশ এসে মাকে সাহায্য করার জন্যে বসল। এশার মুখ আগের চেয়েও গম্ভীর। চোখ ফোলা ফোলা। মনে হয় কেঁদেটেদে এসেছে। এশার কী হয়েছে কে জানে! এমন চাপা মেয়ে, ভয়ঙ্কর কিছু ঘটে গেলেও সে মুখ খুলবে না।

    সুলতানা বললেন, কী সমস্যা হয়েছে দেখ না। সিঙ্গাড়ার কোণা উঠছে না।

    এশা বলল, খেতে ভালই হল। কোণা ওঠার দরকার নেই। দোকানের সিঙ্গাড়ায় লোকজন কোণা খোজে। ঘরের সিঙ্গাড়ায় খোঁজে না।

    সুলতানা বললেন, একটা খেয়ে দেখ।

    খেতে ইচ্ছা করছে না।

    তোর কি কোনো কারণে মন টন খারাপ?

    না। এক কথা পাঁচ লক্ষবার জিজ্ঞেস করো না তো মা। আমার মন খারাপ কি-না এটা তুমি এই ক’দিনে পাঁচ লক্ষবারের বেশি জিজ্ঞেস করে ফেলে।

    সুলতানা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, শামা কী করছে?

    খাটে বসে আছে।

    সাজার পর তাকে কেমন দেখাচ্ছেরে?

    পরীদের রাণীর মতো লাগছে।

    সুলতানা তৃপ্তির হাসি হাসতে হাসতে বললেন, শামাকে যে-ই দেখবে সে-ই পছন্দ করবে। মাঝে মাঝে ওর দিকে তাকালে বুকে ধাক্কার মতো লাগে। ভেবেই পাই না এত সুন্দর মেয়ে আমার পেটে জন্মাল কীভাবে!

    এশ বলল, আপা বেশি সুন্দর। বেশি সুন্দরকে আবার মানুষ পছন্দ করে না।

    সুলতানা অবাক হয়ে বললেন, পছন্দ করবে না কেন?

    এশা উত্তর দিল না। সুলতানা বললেন, পছন্দ করবে না কেন বল? কারণ জানিস না?

    কারণ জানি কিন্তু বলতে ইচ্ছা করছে না। মা শোন, তুমি আর বাবা, তোমরা দু’জন কি আসলেই চাও যে ছেলেটা এসেছে তার সঙ্গে আপার বিয়ে হোক?

    তোর বাবা চায়, তার ধারণা ছেলেটা খুবই ভাল। অসম্ভব ভদ্র, বিনয়ী। ফ্যামিলিও ভাল। ছেলের অবশ্যি বাবা নেই। কিছুদিন হলো মারা গেছেন। শামা শ্বশুরের আদর পাবে না। তোরাতে জানিস না শ্বশুরের আদর বাপের আদরের চেয়েও বেশি হয়।

    আপা যেভাবে সাজগোজ করেছে এভাবে সাজগোজ করে থাকলে কিন্তু ওরা আপাকে পছন্দ করবে না। আপার উচিত খুব সাধারণ একটা শাড়ি পরে ওদের সামনে যাওয়া। চোখে কাজল, ঠোটে লিপস্টিক এইসব কিছু না।

    কী বলছিস তুই!

    কোনোরকম সাজগোজ ছাড়া আপা যখন ওদের সামনে দাঁড়াবে তারা বলবে, বাহু কী সহজ সরল সাধারণ একটা মেয়ে! বউ হিসেবে সবাই সাধারণ মেয়ে। খোজে। আপার ঠোটে লিপস্টিক, গালে পাউডার কোনো কিছুরই দরকার নেই। গোসল করে আপা যখন ভেজা চুলে বের হলো তখন তাকে যে কী সুন্দর লাগছিল। লক্ষ কর নি?

    সুলতানা অবাক হয়েই মেয়ের দিকে তাকালেন। তাঁর কাছে খুব অদ্ভুত লাগছে। মনে হচ্ছে এই যেন সেদিন মেয়েটা ছোট্ট ছিল। সারারাত ওঁয়া ওঁয়া করে কাদত। মুখে দুধ গুজে দিলেও কান্না থামত না। দুধ খাচ্ছে, ফাঁকে ফাঁকে কাঁদছে। কান্নাটা যেন তার বিশ্রাম। আর আজ এই মেয়ে গুটগুট করে কী সুন্দর কথা বলছে! কথাগুলি মনে হচ্ছে সত্যি।

    এশা বলল, মা আলাকে সাধারণ ঘরে পরার একটা শাড়ি পরতে বলব?

    বল। তার বাবা আবার রাগ না করে। শখ করে একটা শাড়ি কিনে এনেছে।

    বাবা কিছু বুঝতে পারবে না। বাবা খুব টেনশনে আছে তো। টেনশনের সময় মানুষ কিছু বুঝতে পারে না। বাবা ভালমতো আপার দিকে তাকাবেই না। মেয়েরা যখন বড় হয়ে যায় তখন বাবারা মেয়েদের দিকে কখনো ভালমতো তাকায় না। বাবাদের মনে হয় তাকাতে লজ্জা করে।

    সুলতানা ছোটমেয়ের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। এই মেয়েটার ভাল বুদ্ধি আছে। মেয়েটার বুদ্ধির খবর এই পরিবারে আর কেউ জানে না। শুধু তিনি জানেন। এই নিয়ে তার দুশ্চিন্তাও আছে। মেয়েদের বেশি বুদ্ধি ভাল না। বেশি বুদ্ধির মেয়ে কখনো সুখী হয় না। সংসারে যে মেয়ের বুদ্ধি যত কম সে তত সুখী।

     

    শামা খুব সহজ ভঙ্গিতেই চায়ের ট্রে নিয়ে ঢুকল। সে ধরেই নিয়েছিল ঘরে ঢোকা মাত্র সবাই এক সঙ্গে তার দিকে তাকাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে তার হাত পা শক্ত হয়ে যাবে। দেখা গেল সবাই তার দিকে তাকাল না। আতাউর নামের ছেলেটা মাথা নিচু করেই বসেছিল, সে মাথাটা আরো খানিকটা নিচু করে ফেলল। শামা তার দিকে এক ঝলক তাকাল। এক ঝলকে তার অনেকখানি দেখা হয়েছে।

    ছেলেটা ছায়ার কচুগাছের মতো ফর্সা। হাতের নীল নীল শিরা বের হয়ে আছে। অতিরিক্ত রোগা। ঘুমের সমস্যা মনে হয় আছে। চোখের নিচে কালি। বাম চোখের নিচে বেশি কালি। ডান চোখে কম। মাথায় অনেক চুল আছে। চেহারা ভাল। গোফ নেই— এটাও ভাল। পুরুষ মানুষের নাকের নিচে গোঁফ। দেখলেই শামার গা শিরশির করে। মনে হয় ঘাপটি মেরে মাকড়সা বসে আছে। তাড়া দিলেই নাকের ফুটো দিয়ে ঢুকে যাবে।

    কালো আচকান পরা মুখভর্তি দাড়ি এক ভদ্ৰলোক শামার দিকে তাকিয়ে বললেন, এই যে মা, আমাদের জন্যে চা নিয়ে চলে এসেছ। কেমন আছ গো মা?

    শামা বলল, জি, আমি ভাল আছি।

    বোস মা, তুমি আমার পাশে বোস। এমন সুন্দর কন্যা পাশে নিয়ে বসাও এক ভাগ্যের ব্যাপার।

    আচকান পরা ভদ্ৰলোক সরে গিয়ে শামার জন্যে জায়গা করলেন। শামা সহজ গলায় বলল, আমি খাবারটা হাতে হাতে দিয়ে নি। তারপর বসি।

    ঠিক আছে মা। ঠিক আছে। আগে কাজ তারপর বসা, তারপর আলাপ। আর এই জগতে খাওয়ার চেয়ে বড় কাজতো কিছু নেই। কী বলেন আপনারা?

    কেউ কিছু বলল না। শুধু আতাউর নামের ছেলেটা কাশতে লাগল। শামা মনে মনে বলল, এই যে খাতাউর ভাইয়া, আপনার এই কাশি ঠাণ্ডার কাশি, না যক্ষাটা আছে?

    প্লেটে খাবার বাড়তে বাড়তে শামা ভাবল খাবারের প্লেট সবার আগে যিনি মুরুঝি তার হাতে দেয়া দরকার। তা না করে সে যদি যক্ষারোগী খাতাউরের হাতে দেয় তাহলে কেমন হয়? যক্ষারোগী নিশ্চয়ই ভাবছে না তাকে প্রথম দেয়া হবে। তার কাশি আরো বেড়ে যাবে। আচকান পরা মওলানা বেশি ফটফট করছে। মওলানার ফটফটানি কিছুক্ষণের জন্য হলেও কমবে। মওলানা হয়ত মনে মনে বলবে নাউজুবিল্লাহ, মেয়েটাতো মহানিৰ্লজ্জ। বলুক যার যা ইচ্ছা।

    শামা খাবারের প্লেট আতাউরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে খুবই স্বাভাবিক গলায় বলল, আপনার কি ঠাণ্ডা লেগেছে? এত কাশছেন কেন?

    শামা যা ভেবেছিল তাই হলো। আচকান পরা মওলানা হকচকিয়ে গেলেন। তিনি শামার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকাচ্ছেন। যক্ষারোগীর কাশি কিছুক্ষণের জন্য হলেও থেমেছে। শামার বাবাও অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। মনে হচ্ছে ঘটনা কী ঘটছে তিনি বুঝতে পারছেন না।

    আচকান পরা মওলানা নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, মা শোন, পুরুষ মানুষের কাশিকে তুচ্ছ করতে নাই। পুরুষ মানুষ চেনা যায় কাশি দিয়ে। কথায় আছে–

    ঘোড়া চিনি কানে
    রাজা চিনি দানে
    কন্যা চিনি হাসে
    পুরুষ চিনি কাশে।

    আতাউরকে চিনতেছি তার কাশিতে আর তোমারে চিনতেছি তোমার হাসিতে। হ্যাঁ হা হা।

    শামা লক্ষ করল সবাই হাসতে শুরু করেছে। এমনকি তার বাবাও হাসছেন। যিনি কখনো হাসেন না। কারণ হাসিকে তিনি চারিত্রিক দুর্বলতা মনে করেন। সবাই হাসছে, শুধু যক্ষারোগীর মুখে কোনো হাসি নেই। সে মাথা আরো নিচু করে ফেলেছে।

     

    কালো আচকান পর মওলানা পাত্রের মেজো চাচা। সৈয়দ আওলাদ হোসেন। নেত্রকোনা কোর্টে ওকালতি করেন। তিনিই পাত্রের অভিভাবক। বিয়ের কথাবার্তার সময় পাত্রের অভিভাবকরা ক্ৰমাগত কথা বলেন। সৈয়দ সাহেব তার ব্যতিক্ৰম নন। তিনি দাড়ি কমা ছাড়াই কথা বলে গেলেন এবং বিদায়ের আগে আগে অত্যন্ত নাটকীয় ভঙ্গিতে বললেন, যাবার আগে একটা কথা বলে যাই। কন্যা আমাদের সবারই অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। শুধু কন্যা পছন্দ হয়েছে বললে ভুল বলা হবে- কন্যার পিতাকেও পছন্দ হয়েছে। বেয়ান সাহেবের সাথে দেখা হয় নাই, তার রান্না পছন্দ হয়েছে। সিঙ্গাড়া অনেক জায়গায় খেয়েছি। এরকম স্বাদের সিঙ্গাড়া খাই নাই। বেয়ান সাহেবকে দূর থেকে জানাই অন্তরের অন্তস্তল থেকে মোবারকবাদ। এখন বিবাহের তারিখ নিয়ে দুটা কথা। আমি সবচে’ খুশি হতাম আজকে রাতেই বিবাহ দিতে পারলে সেটা সম্ভব না। আমাদের নিজেদের কিছু আয়োজন আছে। আমরাতো শহরের লোক না, গ্রামের লোক। বিয়ে শাদি সবাইকে নিয়ে দিতে হয়। কাজেই বিবাহ হবে ইনশাল্লাহ আষাঢ় মাসে। আবদুর রহমান সাহেব আপনার কিছু বলার থাকলে বলেন। আবদুর রহমান সাহেব বিনীত ভঙ্গিতে বললেন, আপনারা যা ঠিক করবেন তাই হবে। এই মেয়ে এখন আপনাদের মেয়ে।

    আওলাদ হোসেন সবগুলি দাঁত বের করে দিয়ে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ–এই যে আপনি বললেন আপনাদের মেয়ে, এতে সব কথা বলা হয়ে গেল। মেয়েতো আমাদের অবশ্যই, আপনাদের বাড়িতে থাকতে দিয়েছি। হ্যাঁ হা হা।

    আওলাদ সাহেব আচকানের পকেট থেকে আংটি বের করে শামার আঙুলে পরিয়ে দিলেন। শুধু আংটি না, আংটির সঙ্গে খামে ভর্তি টাকাও আছে। এক হাজার এক টাকা।

    আওলাদ সাহেব বললেন, এই যে এক হাজার এক টাকা দিলাম এর একটা ইতিহাস আছে। ইতিহাস না বললে বুঝবেন না। হয়ত ভাববেন টাকা দিচ্ছে। কেন? ছোটলোক না-কি? এখন ইতিহাসটা বলি। আজ আমাদের খুবই গরিবি হালত। সব সময় এরকম ছিল না। আমার পূর্বপুরুষরা ছিল ঈশ্বরগঞ্জের ন’আনি জমিদার। তাদের নিয়ম ছিল কন্যাকে এক হাজার একটা আশরাফি দিয়ে মুখ দেখা। এই নিয়মতো এখন আর সম্ভব না। তারপরেও পুরনো স্মৃতি ধরে রাখা।

    শামা বাবার চোখের ইশারায় তার হবু চাচা শ্বশুরকে পা ছুঁয়ে সালাম করে বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার কাছে মনে হচ্ছে সে একটা নাটকে পাঠ করছে যে নাটকে তার চরিত্রটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কোনো সংলাপ নেই। পরিচালক তাকে বুঝিয়েও দেন নি স্টেজে উঠে কী করতে হবে। এক হাজার এক টাকা ভর্তি খামটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে খুবই অস্বস্তি লাগছে। এটা যদি কোনো হাসির নাটক হত তাহলে সে খাম খুলে টাকাগুলি বের করে গুণতে শুরু করত এবং একটা নোট বের করে বলত, এই নোটটা ময়লা, বদলে দিন। কিন্তু এটা কোনো হাসির নাটক না। খুবই সিরিয়াস নাটক। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের একজন। ঈশ্বরগঞ্জের ন’আনি জমিদারের উত্তরপুরুষ সৈয়দ ওয়ালিউর রহমান এখন আবেগে আপুত হয়ে কাঁদছেন এবং রুমালে চোখের পানি মুছছেন। নাটকের আরেক চরিত্র শামার বাবা আবদুর রহমান সাহেবের চোখেও পানি। অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্রেরাও উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। মন্টুকে দেখা যাচ্ছে। সে ব্যাপার দেখে পুরোপুরি হকচকিয়ে গিয়েছে। তার হাতে একটা পানির গ্লাস। শামার মনে হল যে কোনো মুহূর্তে সে হাত থেকে পানির গ্লাস ফেলে দেবে। বিয়ের পাকা কথার দিন হাত থেকে পড়ে গ্লাস ভাঙা শুভ না অশুভ কে জানে! শামার হঠাৎ করেই আয়নায় নিজেকে দেখতে ইচ্ছা করল। তার চেহারাটা কি আগের মতোই আছে না বদলাতে শুরু করেছে? ছেলেদের চেহারা সমগ্র জীবনে খুব একটা পাল্টায় না, কিন্তু মেয়েদের চেহারা পাল্টাতে থাকে। কুমারী অবস্থায় থাকে এক রকম চেহারা, বিয়ের কথাবার্তা ঠিকঠাক হবার সময় হয় অন্য এক রকম চেহারা, বিয়ের পর আরেক রকম চেহারা। মা হবার পর চেহারা আবার পাল্টায়। যখন শাশুড়ি হয় তখন আরেক দফা চেহারা বদল।

     

    আবদুর রহমান সাহেব ভেতরের বারান্দায় রাখা দু’টা বেতের চেয়ারের একটায়। বসে আছেন। অন্যটায় বসেছেন সুলতানা। আবদুর রহমান সাহেবের হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। তিনি সিগারেট খান না। আজ বিশেষ দিন উপলক্ষে মন্টুকে দিয়ে তিনটা সিগারেট আনানো হয়েছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সিগারেট টেনে তিনি খুবই মজা পাচ্ছেন। সুলতানা বললেন, চা খাবে? আবদুর রহমান তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, চা এক কাপ খাওয়া যায়। তোমার চা বানানোর দরকার নেই। বড় মেয়েকে বল চা বানিয়ে আনুক। বিয়ে হয়ে যাচ্ছে কাজ কর্ম শিখবে না?

    সুলতানা বললেন, মেয়েকে এখন আমি মরে গেলেও চুলার কাছে যেতে দেব না। বিয়ের পাকা কথা হবার পর মেয়েদের চুলার কাছে যেতে দেয়া হয় না।

    তাই না-কি?

    অনেক নিয়মকানুন আছে। চুল খোলা রেখে বাইরে বের হওয়া নিষেধ। রাতে বিছানায় একা থাকা নিষেধ।

    বল কী! জানতাম নাতো।

    সুলতানা চা বানানোর জন্যে উঠে দাঁড়ালেন। আবদুর রহমান স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললেন, চা কিন্তু দুই কাপ আনবে। চা খেতে খেতে বুড়োবুড়ি গল্প করি। মেয়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে এখনতো আমরা বুড়োবুড়িই তাই না? আর এশাকে একটু পাঠাও ওর সঙ্গে কথা আছে।

    ওর সঙ্গে কী কথা?

    আছে, কথা আছে। সব কথা তোমাকে বলা যাবে না-কি? বাপ-মেয়ের আলাদা কথা থাকবে না! শুধু মা-মেয়ে রাত জেগে গুটুর গুটুর, তা হবে না। হা। হ্যাঁ হা।

    স্বামীর আনন্দ দেখে সুলতানার মন কেমন কেমন করতে লাগল। অনেকদিন পর মানুষটাকে তিনি এত আনন্দিত দেখলেন। মেয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় কোনো বাবা কি এত আনন্দিত হয়। তিনি নিজে আনন্দ পাচ্ছেন না। ছেলেটাকে তার তেমন পছন্দ হয় নি। তার ধারণা শামার মতত রূপবতী মেয়ের জন্য অনেক ভাল পাত্র পাওয়া যেত। একটু শুধু খোঁজ খবর করা। মানুষটা আর কিছুই করল না। অফিসের কোনো একজনকে ধরে এনে বলল, এর সাথে বিয়ে।

     

    এশা বাবার সামনে এসে দাঁড়াল। আবদুর রহমান হাসিমুখে তার কন্যার দিকে তাকিয়ে বললেন, তোর আপার বিয়েতো ঠিক হয়ে গেল। নেক্সট টার্গেট তুই। তৈরি হয়ে যা।

    এশা গম্ভীর মুখে বাবার দিকে তাকিয়ে রইল। বাবার হালকা রূপ দেখে সে অভ্যস্ত না। তার অস্বস্তি লাগছে।

    ছেলেটাকে কেমন দেখলি?

    ভাল।

    শামা কি কিছু বলেছে ছেলে পছন্দ হয়েছে কি-না।

    না কিছু বলে নি।

    ও আছে কোথায়?

    দোতলায়। বাড়িওয়ালা চাচার বাসা থেকে কাকে যেন টেলিফোন করবে।

    আবদুর রহমান টেলিফোনের কথায় নড়েচড়ে বসলেন। খুবই আগ্রহের সঙ্গে গলা সামান্য নামিয়ে বললেন, এক কাজ করতে পাঞ্জাবির পকেটে আমার মানিব্যাগ আছে। মানিব্যাগ খুলে দেখ–হলুদ এক পিস কাগজ আছে। কাগজে টেলিফোন নাম্বার লেখা। কাগজটা শামাকে দিয়ে দিস।

    কার টেলিফোন নাম্বার? ঐ ছেলের?

    হ্যাঁ আতাউরের। সে তার বড়ববানের সঙ্গে এখন আছে। বড়বোনের টেলিফোন নাম্বার। শামা যদি ছেলের সঙ্গে কিছু বলতে চায় বলুক। বিয়ের কথাবার্তা পাকা হয়ে গেছে, এখন টেলিফোনে কথাবার্তা বলা দোষনীয় কিছু না। তবে দেখা সাক্ষাৎ না হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।

    আর কিছু বলবে বাবা?

    আবদুর রহমান সাহেবের মেয়ের সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ গল্প করার ইচ্ছা ছিল। মেয়েদের সঙ্গে দিনের পর দিন তার কোনো কথা হয় না। কথা বলার মতো সুযোগই তৈরি হয় না। আজ একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি সুযোগটা ব্যবহার করতে চাচ্ছিলেন। সেটা সম্ভব হলো না। এশা তার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ বোধ করছে না। তার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে সে বাবার সামনে থেকে চলে যেতে পারলে বাঁচে। যেন সে বাবার সঙ্গে কথা বলছে না, কথা বলছে তার স্কুলের রাগী এসিসটেন্ট হেডমাস্টারের সঙ্গে।

    আবদুর রহমান সাহেবের মন সামান্য খারাপ হলো, তবে তিনি মন খারাপ ভাবটাকে তেমন গুরুত্ব দিলেন না। মেয়েরা বড় হলে বাবার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে এটাই স্বাভাবিক। জগতের অনেক সাধারণ নিয়মের মধ্যে একটা নিয়ম হলো মেয়েরা বড় হলে মা’র দিকে ঝুঁকে পড়ে, ছেলেরা ঝুঁকে বাবার দিকে। তাঁর ক্ষেত্রে এটাও সত্যি হয় নি। মন্টু তার ধারে কাছে আসে না। মন্টু হয়ত টিভি দেখছে, বাবার পায়ের শব্দ শুনলে ফট করে টিভি বন্ধ করে দেবে। চোখ মুখ শক্ত করে বসে থাকবে। বাবা ঘরে ঢুকলে সে উঠে পাশের ঘরে চলে যাবে। এই অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। আবদুর রহমান ঠিক করলেন এখন থেকে সম্পৰ্ক সহজ করার চেষ্টা করবেন। মন্টকে সঙ্গে নিয়ে মাঝে মধ্যে টিভি প্রোগ্রাম দেখবেন। ডিশের লাইন না-কি নিয়েছে অনেক কিছু দেখা যায়। তাই বাপ বেটায় মিলে দেখবেন। তিনি এখনো কিছু দেখেন নি। টিভির সামনে বসলেই তার মাথা ধরে যায়। মনে হয় চোখের কোনো সমস্যা। ডাক্তার দেখাতে হবে। ছানি পড়ার বয়স হয়ে গেছে। চোখে ছানি পড়ে গেছে হয়ত।

    সুলতানা চা নিয়ে এলেন না। মন্টু এক কাপ চা হাতে নিয়ে ভয়ে ভয়ে বাবার সামনে দাঁড়াল। সে চায়ের কাপটা বাবার হাতে দেবে না মেঝেতে নামিয়ে রাখবে সেটা বুঝতে পারছে না। বাবার সামনে কোনো টেবিল নেই।

    আবদুর রহমান ছেলের হাত থেকে কাপ নিতে নিতে বললেন, তোর মা কোথায়?

    রান্না করছেন।

    আবদুর রহমান বিরক্ত বোধ করলেন। ছেলেকে দিয়ে চা পাঠানো ঠিক হয় নি। বাবাকে চা নাশতা দেয়া মেয়েদের কাজ। ছেলেকে দিয়ে এইসব কাজ করালে ছেলেদের মধ্যে মেয়েলি স্বভাব চলে আসে। আজকাল একটা কথা খুব পুনতে পাচ্ছেন ছেলেমেয়ে বলে আলাদা কিছু নেই, ছেলেও যা মেয়েও তা। খুবই হাস্যকর কথা বলে তার মনে হয়। ছেলেমেয়ে যদি একই হয় তাহলে ছেলেগুলি মেয়েদের মতো শাড়ি ব্লাউজ পরে না কেন?

    মন্টু চলে যাচ্ছিল, আবদুর রহমান বললেন, এই তোর পড়াশোনা কেমন হচ্ছে রে?

    মন্টু বাবার দিকে তাকাল না। চলে যেতে যেতে বলল, ভাল।

    তার একটাই ভয়, বাবা যদি ডেকে কিছু জিজ্ঞেস করে বসেন! আবদুর রহমান চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে দ্বিতীয় সিগারেটটা ধরালেন। এবারের চা ভাল হয় নি। তিতা তিতা লাগছে। সিগারেট টেনেও মজা পাচ্ছেন না। মনে হচ্ছে। ভ্যাম্প সিগারেট।

     

    শামাদের বাড়িওয়ালা মুত্তালিব সাহেবের বয়স পঁচপঞ্চাশ। তিনি চুলে কলপ দিয়ে রঙিন শার্টটার্ট পরে বয়সটাকে কমিয়ে রাখার নানান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তেমন কোনো লাভ হচ্ছে না। বয়স মোটেই কম দেখাচ্ছে না। বরং যা বয়স তার চেয়েও বেশি দেখাচ্ছে। এই বয়সে কারোই সব দাঁত পড়ে না। তার প্রায় সব দাতই পড়ে গেছে। সামনের পাটির দুটা দাঁত ছিল। বাঁধানো দাঁত ফুল সেট থাকলে অনেক সুবিধা এই রকম বুঝিয়ে দাঁতের ডাক্তার সেই দুটা দাতও ফেলে দিয়েছে। ঘুম থেকে উঠে তিনি বাঁধানো দাত পরেন। তার কাছে মনে হয় তিনি কলকজা মুখে নিয়ে বসে আছেন। তাঁর ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। ডাক্তাররা বলে দিয়েছে প্রতিদিন খুব কম করে হলেও এক থেকে দেড় ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করতে হবে। তিনি হাঁটাহাঁটি করতে পারছেন না কারণ মাস তিনেক হলো ডান পায়ের হাঁটু বাঁকাতে পারছেন না। হাঁটু বাঁকাতে মালিশ এবং চিকিৎসা চলছে, কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং ক্ষতি হচ্ছে, হাঁটু শক্ত হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসার আগে সামান্য বাঁকত, এখন তাও বাকছে না। একটা লোহার মতো শক্ত পা নিয়ে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে তিনি নিশ্চয়ই মর্নিং ওয়াক বা ইভিনিং ওয়াক করতে পারেন না?

    তিনি একটা হুইল চেয়ার কিনেছেন। বেশির ভাগ সময় হুইল চেয়ারে বসে বারান্দার এক মাথা থেকে আরেক মাথায় যান। আবার ফিরে আসেন। সময় কাটানোর জন্যে একটা বাইনোকুলার কিনেছেন। বাইনোকুলার চোখে দিয়ে রাস্তার লোক চলাচল দেখেন। বাইনোকুলার চোখে লাগালেই রাস্তার লোকজন চোখের সামনে চলে আসে। তখন তাদের সঙ্গে গম্ভীর গলায় কথাবার্তা বলেন এই যে চশমাওয়ালা, মাথাটা বাঁকা করে আছেন কেন? ঘাড়ে ব্যথা? রাতে বেকায়দায় ঘুমিয়েছিলেন?

    ভদ্রলোক বাড়িতে একা থাকেন। স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হয় নি বলে পনেরো বছর আগে ডিভোর্স হয়ে গেছে। তিনি নিজে ডিভোর্সের পক্ষপাতী ছিলেন না। তাদের সাত বছর বয়সের একটা মেয়ে আছে। ডির্ভোস হলে মেয়েটা যাবে কোথায়? কিন্তু মুত্তালিব সাহেবের স্ত্রী হেলেনা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিলেন। উঁকিল এনে ডিভোর্সের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত তিনি অন্ন স্পর্শ করবেন না। হেলেনা ডিভোর্সের দু’বছরের মাথায় আবারো বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে তাঁর জীবন সুখেই কাটছে বলে মনে হয়। এই ঘরে ছেলে মেয়ে হয়েছে। দুই ছেলে এক মেয়ে। বিস্ময়কর মনে হলেও সত্যি তিনি প্রায়ই তার প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

    মুত্তালিব সাহেবের একটাই মেয়ে মীনাক্ষি। হেলেনার দ্বিতীয় বিয়ের পর তিনি মীনাক্ষীকে জোর করে নিজের কাছে রেখে দেন। মীনাক্ষীর বয়স তখন আট। সে এমনই কান্নাকাটি শুরু করে যে তিনি নিজেই মেয়েকে তার মা’র কাছে রেখে আসেন এবং হুঙ্কার দিয়ে বলেন, তোকে যদি আমার বাড়ির ত্রিসীমানায় দেখি তাহলে কিন্তু কাচা খেয়ে ফেলব। আর খবরদার আমাকে বাবা ডাকবি না। গোঁফওয়ালা যে ছাগলটার সঙ্গে তার মা’র বিয়ে হয়েছে তাকে বাবা ডাকবি। আমাকে নাম ধরে ডাকবি। মিস্টার মুত্তালিব ডাকবি। ফাজিল মেয়ে।

    সেই মীনাক্ষী এখন থাকে স্বামীর সঙ্গে নিউ অর্লিন্সে। টেলিফোনে বাবার খোঁজ খবর প্রায়ই করে। মুত্তালিব সাহেব কখনো টেলিফোন করেন না। কারণ তিনি মেয়ের টেলিফোন নাম্বার বা ঠিকানা জানেন না। কখনো জানার আগ্রহ বোধ করেন নি। ভদ্রলোক যৌবনে নানান ধরনের ব্যবসা বাণিজ্য করেছেন। কোনোটিই তেমন জমে নি। জীবনে শেষ বেলায় তাঁর সঞ্চয় অতীশ দীপংকর রোডে দু’তলা একটি বাড়ি। তেরশ সিসির লাল রঙের একটা টয়োটা এবং ব্যাংকে কিছু ফিক্সড ডিপোজিট। এক সময় ভেবেছিলেন ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের টাকায় জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারবেন। এখন তা ভাবছেন না। প্রায়ই তাকে মূল সঞ্চয়ে হাত দিতে হচ্ছে।

    মুত্তালিব সাহেব শামা মেয়েটিকে অত্যন্ত পছন্দ করেন। কোনো এক বিচিত্র কারণে তিনি চান না তাঁর পছন্দের কথাটা শামা জানুক। শামার সঙ্গে দেখা হলেই তিনি তটস্থ হয়ে থাকেন। তাঁর একটাই চিন্তা অস্বাভাবিক মমতার ব্যাপারটা তিনি কীভাবে গোপন রাখবেন। তার ধারণা এই কাজটা তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবেই করছেন। বাস্তব সে রকম না। শামা ব্যাপারটা খুব ভাল মতো জানে।

    বিকেলে শামাকে দোতলায় উঠতে দেখে তিনি ধমকের গলায় বললেন, টেলিফোন করতে এসেছি? তোক একবার বলেছি এটা পাবলিক টেলিফোন না।

    শামা বলল, টেলিফোন করতে আসি নি। আপনার পায়ের অবস্থা জানতে এসেছি। পায়ের অবস্থা কী? হাঁটু কি বাঁকা হচ্ছে না আগের মতোই আছে?

    মুত্তালিব সাহেব জবাব দিলেন না।

    শামা বলল, এরকম রাগী রাগী মুখ করে বসে আছেন কেন?

    মুত্তালিব সাহেব বিরক্ত মুখে বললেন, মাথা ধরেছে। তুই কথা বলিস নাতো। তোর ক্যানক্যানে গলা শুনে মাথা ধরা আরো বেড়ে যাচ্ছে। তুই যে জন্যে এসেছিস সেটা শেষ করে বিদেয়।

    আমি কী জন্যে এসেছি?

    টেলিফোন করতে এসেছিল। তৃণা না কতগুলি মেয়ে বান্ধবী ভাল জুটিয়েছি। বেয়াদবের এক শেষ।

    আপনার সঙ্গে কী বেয়াদবি করল?

    রাত সাড়ে এগারোটার সময় টেলিফোন করে বলে, আপনাদের একতলায় যে থাকে, শামা নাম, তাকে একটু ডেকে দিনতো। কোনো স্লামালাইকুম নেই। কিছু নেই।

    আপনি কী করলেন? খট করে টেলিফোন রেখে দিলেন?

    আমি বললাম, রাত সাড়ে এগারোটা বাজে এটা আড়ার সময় না ঘুমাতে যাবার সময়। বিছানায় যাও–ঘুমাবার চেষ্টা কর।

    এটা বলেই খট করে টেলিফোন রেখে দিলেন।

    খট করে রাখলাম না, যেভাবে রাখতে হয় সেভাবেই রাখলাম। তুই দুনিয়ার মানুষকে আমার টেলিফোন নাম্বার দিচ্ছিস এটা ঠিক না।

    আর দেব না।

    যাদেরকে দিয়েছিস তাদের বলে দিবি কখনো যেন এই নাম্বারে তোকে খোঁজ না করে।

    আচ্ছা বলে দেব। আপনি দয়া করে রাগে দাঁত কিড়মিড় করবেন না। আপনার ফলস দাঁত খুলে পড়ে যাবে।

    শামা হাসছে। মুত্তালিব সাহেব ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ফেললেন, মেয়েটা খুবই সুন্দর করে আসছে। দেখলেই মায়া লাগে। মুত্তালিব সাহেবের এখন বলতে ইচ্ছে করছে— শামা শোন, তোর বন্ধুদের বলিস টেলিফোন করতে। আমি তাকে ডেকে বে।

    শামা বলল, চাচা, ডাক্তার যে আপনাকে বলেছে দেয়াল ধরে হাঁটতে, আপনি কি হাঁটছেন?

    না।

    আসুন আমার হাত ধরে ধরে হাঁটুন। প্রতিদিন আমি আধঘণ্টা করে আপনাকে হাঁটা প্র্যাকটিস করা।

    তার বদলে আমাকে কী করতে হবে?

    তার বদলে আপনি আমাকে আধঘণ্টা করে টেলিফোন করতে দেবেন। ঠিক আছে চাচা?

    না, ঠিক নেই। আজ বিকেলে তাদের এখানে কে এসেছিল? খাতাউর সাহেব এসেছিলেন। খাতাউরটা কে?

    এখনো কেউ না তবে ভবিষ্যতে আমার হাসবেন্ড হয়ে আসরে নামতে পারেন। সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

    মুত্তালিব সাহেব হুইল চেয়ারে সোজা হয়ে বসলেন। কনে দেখার মতো বড় একটা ব্যাপার ঘটেছে অথচ কেউ তাকে খবর দেয় নি! খবর পাঠালে তিনি কি উপস্থিত হতেন না? হাঁটুতে সমস্যা তাই বলে হাঁটাহাটিতো পুরোপুরি বন্ধ না।

    ছেলে কী করে?

    বাবার অফিসে চাকরি করে।

    দেশ কোথায়?

    দেশ হলো বাংলাদেশ।

    কোন জেলা, গ্রামের বাড়ি কোথায়?

    জানি না। ছেলের নাম কি সত্যি খাতাউর?

    জ্বি না। ভাল নাম আতাউর তবে সব মহলে খাতাউর নামে পরিচিত।

    শামা আবারো হাসছে। মুত্তালিব সাহেব শামার দিকে মন খারাপ করে তাকিয়ে আছেন। হাসি খুশি এই মেয়েটা বিয়ের পর নিশ্চয়ই তার কাছে আসবে না। সহজ ভঙ্গিতে গল্প করবে না।

    চাচা!

    হুঁ।

    আমি কি আজ শেষবারের মতো আপনার টেলিফোনটা ব্যবহার করতে পারি? আমার যে বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এই খবরটা বন্ধুদের দেব।

    মুত্তালিব সাহেব শার্টের পকেট থেকে টেলিফোনের চাৰি বের করে দিলেন। তিনি তাঁর টেলিফোন সব সময় তালাবন্ধ করে রাখেন।

    শামা সবসময় খুব আয়োজন করে টেলিফোন করে। টেলিফোন সেটের পাশেই ইজি চেয়ার। সে ইজি চেয়ারে গা এলিয়ে শুয়ে পড়ে। টেলিফোন সেটটা রাখে নিজের কোলে। কথা বলার সময় তার চোখ থাকে বন্ধ। চোখ বন্ধ থাকলে যার সঙ্গে কথা বলা হয় তার চেহারা চোখে ভাসে। তখন কথা বলতে ভাল লাগে।

    হ্যালো তৃণা?

    হুঁ। কী করছিলি? কিছু করছিলাম না। আচার খাচ্ছিলাম।

    কীসের আচার?

    তেঁতুলের আচার। খাবি?

    হুঁ খাব।

    শামা হাসছে। তৃণাও হাসছে। শামা তার বিয়ের খবরটা কীভাবে দেবে ঠিক গুছিয়ে উঠতে পারছে না। তৃণা বলল, ১৭ তারিখের কথা মনে আছে? মীরার বিয়ে।

    হুঁ মনে আছে।

    বাসা থেকে পারমিশন করিয়ে রাখবি। আমরা সারা রাত থাকব। খুব হুল্লোড় করব। জিনিয়া বলেছে সে তার বাবার কালেকশন থেকে এক বোতল শ্যাম্পেন নিয়ে আসবে। দরজা বন্ধ করে শ্যাম্পেন খাওয়া হবে।

    সারারাত থাকতে দেবে না।

    অবশ্যই দেবে। না দেবার কী আছে? তুই তো কচি খুকি না।

    আমাদের বাসা অন্যসব বাসার মতো না।

    কোনো কথা শুনতে চাচ্ছি না। যেভাবেই হোক পারমিশন আদায় করবি।

    আচ্ছা দেখি।

    তুই একটু ধরতো শামা, আমার হাতের তেঁতুল শেষ হয়ে গেছে। তেঁতুল নিয়ে আসি। এক মিনিট।

    শামা টেলিফোন ধরে বসে রইল, তৃণা ফিরে এল না। তৃণার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হলে এ ব্যাপারটা প্রায়ই ঘটে। তৃণা কথাবার্তার মাঝখানে হঠাৎ বলে, ‘এক মিনিট, ধর। আমি আসছি। আর আসে না। তৃণা কি এটা ইচ্ছা করে করে? যাদের সঙ্গে তার কথা বলতে ইচ্ছা করে না তাদের সঙ্গে এ ধরনের ট্রিকস করে।

     

    আবদুর রহমান সাহেব দশটা বাজতেই ঘুমুতে যান। আজ ঘুমুতে গেলেন সাড়ে এগারোটায়। হিসেবের বাইরের দেড় ঘণ্টা কাটালেন টিভি দেখে। কোনো একটা চ্যানেলে বাংলা ছবি হচ্ছিল। মাঝামাঝি থেকে দেখতে শুরু করেছেন। দেখতে তেমন ভাল লাগছে না, আবার খারাপ লাগছে না। তার ইচ্ছা করছিল স্ত্রী এবং ছেলেমেয়ে সঙ্গে নিয়ে ছবি দেখেন। সেটা সম্ভব হলো না। মন্টু বলল, তার পরীক্ষা সে টিভি দেখবে না। এশা বলল, সে বাংলা ছবি দেখে না। শামা বলল, তার মাথা ধরেছে। তিনি একা একাই টিভির সামনে বসে রইলেন। সিনেমার গল্পে মন দেবার চেষ্টা করলেন। বড়লোক নায়ক গাড়ি একসিডেন্ট করে অন্ধ হয়ে গেছে। তার সেবা শুশ্ৰুষা করার জন্যে অসম্ভব রূপবতী এক নার্স বাড়িতে এসেছে। নার্স ছেলেটির প্রেমে পড়ে গেছে। অথচ ছেলেটির অন্য এক প্রেমিকা আছে। গল্পে নানান ধরনের জটিলতা। এর মধ্যে নায়কের এক বন্ধু আছে, যার প্রধান দায়িত্ব হাস্যকর কাণ্ডকারখানা করে লোক হাসানো। যেমন সে ফ্রিজের ভেতর ঘাপটি মেরে বসে থাকে। কেউ ফ্রিজ থেকে পানির বোতল আনতে গেলে সে নিজেই হাত বের করে বোতল তুলে দেয়। আবদুর রহমান নায়কের বন্ধুর অভিনয়ে খুবই মজা পেলেন। যে ক’বার তাকে পর্দায় দেখা গেল সে কবারই তিনি প্রাণ খুলে হাসলেন।

    শামা মা’কে বলল, বাবার বোধহয় মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কী রকম বিশ্রী করে হাসছে! মা তুমি বাবার মাথায় পানি ঢেলে বিছানায় শুইয়ে দাও।

    সুলতানা হাসলেন। শামা বলল, হাসির কথা না মা। আমার সত্যি ভাল লাগছে না।

    সুলতানা বললেন, তোর বিয়ে ঠিক হওয়ায় বেচারা খুবই খুশি হয়েছে। খুশি চাপতে পারছে না বলে এ রকম করছে।

    আমারতো মা কোনো রাজপুত্রের সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে না। কেরানি টাইপ একজনের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে।

    তোর বাবার খুবই পছন্দের ছেলে। মাঝে মাঝে এরকম হয়—কারণ ছাড়াই কোনো একজনকে মনে ধরে যায়।

    কারণ ছাড়া কিছু হয় না মা। সব কিছুর পেছনে কারণ থাকে। মাঝে মাঝে কারণটা বোঝা যায়। মাঝে মাঝে বোঝা যায় না।

    তোর কি ছেলেটাকে পছন্দ হয়েছে?

    না।

    তোর বাবাতো এক্কেবারে বিয়ের তারিখ টারিখ করে ফেলল।

    করলেও কোনো লাভ হবে না। আচ্ছা মা শোন, ওরা যে এক হাজার এক টাকা দিয়ে গেছে এই টাকাটা আমি খরচ করে ফেলি? | সুলতানা মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। শামা বলল, আমার এক বান্ধবীর বিয়ে। তার বিয়েতে উপহার কিনতে হবে।

    সুলতানা শামার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে নিজের প্রশ্নটা আবার করলেন, ছেলে। কি তোর মোটেও পছন্দ হয় নি?

    না হয় নি।

    তাহলেতো তোর বাবাকে বলা দরকার। অপছন্দের একজনকে কেন বিয়ে করবি?

    বাবাকে কিছু বলার দরকার নেই। যেহেতু আমার পছন্দের কেউ নেই, আমি শেষটায় খাতাউরের গলা ধরে ঝুলে বসতেও পারি। মা শোন, আমি কি ঐ এক হাজার এক টাকাটা খরচ করতে পারি?

    তোর টাকা তুই খরচ করবি এবার জিজ্ঞেস করার কী আছে?

    আমার ঐ বান্ধবীর বিয়ে হবে উত্তরায়। আমরা সারারাত থেকে খুব হুল্লোড় করব। বাবার কাছে বলে আমার ভিসা করিয়ে রাখবে।

    আমি কিছু বলতে পারব না। তুই নিজে বলবি। তোর বাবা রাজি হবে বলে আমার মনে হয় না। আর শোন তুই তোর বাবার সঙ্গে কথা বলে তারপর ঘুমুতে যা।

    কেন?

    তুই বাড়িওয়ালার বাসায় ছিলি, তোর বাবা কয়েকবার তোকে খোঁজ করেছে। মনে হয় কিছু বলবে।

    বাবা খেজুরে আলাপ করবে। খেজুরে আলাপ আমার একদম পছন্দ না।

    এইভাবে কথা বলছিস কেন— ছিঃ!

    খালি হাতে বাবার সামনে যেতে পারব না। পান টান কিছু দাও নিয়ে যাই।

    সুলতানা বললেন, এক কাজ কর। তার বাবা যে শাড়িটা এনেছে এটা পরে যা। তোর বাবা খুব খুশি হবে।

    শামা হাই তুলতে তুলতে বলল, বাবা এমিতেই খুশি আছে। আরো খুশি করার দরকার নেই। বেলুনে বেশি বাতাস ভরলে বেলুন ব্রাস্ট করে। বাবা এখন। ব্রাস্ট করার পর্যায়ে চলে গেছেন।

    শামা খিলখিল করে হাসছে। সুলতানা মুগ্ধ হয়ে মেয়ের হাসি দেখছেন।

     

    আবদুর রহমান মশারির ভেতর ঢুকে পড়েছিলেন। বড় মেয়েকে দেখে মশারির ভেতর থেকে বের হলেন। শামা বলল, বাবা তোমার জন্যে পান এনেছি।

    আবদুর রহমান আনন্দিত গলায় বললেন, পানতো আমি একবেলা খাই। শুধু দুপুরে ভাত খাবার পর। যাই হোক, এনেছিস যখন খেয়ে ফেলি। সমস্যা একটাই আবার দাঁত মাজতে হবে। চলে যাচ্ছিল না-কি? বোস, পান খেতে খেতে গল্প করি।

    শামা বসল না। দাঁড়িয়ে রইল। বসলেই বাবা দীর্ঘ কথাবার্তা শুরু করতে পারেন। বাবাকে এই সুযোগ কিছুতেই দেয়া যাবে না। শামার মনে হলো বাবার মেজাজ আজ শুধু যে ভাল তা নী, অস্বাভাবিক ভাল। বান্ধবীর বিয়েতে সারা রাত কাটাবার অনুমতি নিতে হলে আজই নিতে হবে। এ রকম সুযোগ আর পাওয়া যাবে না।

    আবদুর রহমান পান মুখে দিয়ে বললেন, এশার কাছে একটা টেলিফোন। নাম্বার আছে। আতাউরের নাম্বার। যদিও বিয়ের আগে মেলামেশা মোটেও বাঞ্ছনীয় না, তারপরেও বিশেষ কিছু যদি জানতে চাস

    শামা বলল, কিছু জানতে চাই না।

    আবদুর রহমান বললেন, বিয়ে শাদি পুরোপুরি ভাগ্যের ব্যাপার। অনেক খোঁজ খবর করে বিয়ে দেবার পর দেখা যায় বিরাট ঝামেলা। স্বামী তেল আর স্ত্রী জল। অঁকাঝাঁকি করলে মিশে আবার কঁকাঝাঁকি বন্ধ করলেই তেল জল আলাদা হয়ে যায়।

    শামা বাবার দিকে তাকিয়ে আছে। আবদুর রহমান হড়বড় করে কথা বলেই যাচ্ছেন। তার মুখ থেকে পানের রস গড়িয়ে শাদা গেঞ্জিতে পড়ছে। থুতনিতে রস লেগে আছে। তিনি তেল জল বিষয়ক কথাবার্তা বলেই যাচ্ছেন। কী বলছেন নিজেও বোধহয় জানেন না। শামা ভেবে পাচ্ছে না তার বাবা এত খুশি কেন। রহস্যটা কী! সে বাবাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, বাবা তােমাকে একটা জরুরি কথা চট করে বলে নেই, পরে ভুলে যাব।

    আবদুর রহমান আগ্রহ নিয়ে বললেন, কী কথা?

    আমার এক বান্ধবীর বিয়ে । মীরা নাম। উত্তরায় ওদের বাড়ি। আমরা সব বন্ধুরা দল বেঁধে বিয়েতে যাচ্ছি। মীরা বলে দিয়েছে আমাদের সারা রাত থাকতে হবে।

    থাকবি। বন্ধুবান্ধবের বিয়েতে মজা না করলে কার বিয়েতে কবি ? তাের বিয়েতেও ওদের সবাইকে বলবি। গায়ে হলুদের পর থেকে সবাই যেন থাকে। একটা ঘর তোর বন্ধুদের জন্যে ছেড়ে দেব। মেঝেতে টানা বিছানা করে দেব। ঠিক আছে রে মা ?

    শামা বলল, ঠিক আছে বাবা। আজকের পত্রিকা পড়েছিল ? হ্যাঁ।

    ইদানীং সব পত্রিকায় নতুন একটা ব্যাপার হয়েছে কার্টুন ছাপা হচ্ছে। বেশির ভাগ সময়ই খুব ফালতু টাইপ। মাঝে মাঝে আবার খুবই ভাল ।

    আজকেরটা কি ভাল ?

    আজকেরটা খুবই ভাল। হাসতে হাসতে অবস্থা কাহিল। ঘটনাটা হলো এক লোকের পা ভাঙা । হাসপাতালে পড়ে আছে। তার বন্ধু গিয়েছে তাকে দেখতে। বন্ধু বলল, কীরে পা কীভাবে ভাঙলি ?

    সে বলল, সিগারেট খেতে গিয়ে পা ভাঙলাম। বন্ধু বলল, এটা আবার কেমন কথা? সিগারেট খেতে গিয়ে কেউ পা ভাঙে ? সে বলল, ঘটনাটা হলো সিগারেট খেতে খেতে উলটে পড়ে…

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবৃষ্টি ও মেঘমালা – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article মন্দ্রসপ্তক – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }