Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অদেখা ভুবন – ডিউক জন

    ডিউক জন এক পাতা গল্প221 Mins Read0
    ⤶

    অদেখা ভুবন – ২.১৫

    পনেরো

    তুলোর বলটা অ্যালকোহলে ভেজাল জনি। তানিয়ার নগ্ন কাধে ঘষতে লাগল ভেজা তুলো।

    ‘দরকার ছিল না এসবের…’ আপত্তি তুলল মেয়েটা।

    ’অবশ্যই দরকার আছে। বাইরের একটা বিড়াল আঁচড়ে দিলে কী করা উচিত, প্রথম দিনই শেখানো হয় এটা মেডিকেল স্কুলে…’ টিটেনাসের টিকা তুলে নিল যুবক।

    ‘বিড়াল ছিল না ওটা…’ জোর নেই তানিয়ার গলায়।

    ‘কী তা হলে?’

    জবাব দিতে পারল না মেয়েটা। দৃষ্টি দিল ও স্ট্রলারে ঘুমিয়ে থাকা কন্যার দিকে। কাঁধের উপর পিঁপড়ার কামড় অনুভব করতেই কুঁচকে উঠল ভুরু।

    জনির কপালেও ভ্রুকুটি। বিতৃষ্ণা জাগছে জিজ্ঞেস করতে, তার পরও করল ও প্রশ্নটা।

    ‘তোমার কি ধারণা, কোনও কারণে উত্ত্যক্ত করছে ওটা? পুরানো কোনও ঘটনার জের?’

    ঘাড় ঘোরাল তানিয়া। ‘জানি, পাগলের মতো শোনাচ্ছে। কিন্তু আর কী হতে পারে এ ছাড়া? অন্য কিছু তো আসছে না আমার মাথায়…’

    ‘তানি…’

    ‘এ-ও জানি, এসব নিয়ে কথা বলতে চাও না তুমি। এর চেয়ে বরং সব কিছু ঠিকভাবেই চলছে—এই ভান করাই পছন্দ তোমার…’

    ‘না, তানিয়া, ইউ আর রং। ভান নয়; আমি চাই, সব কিছুই ঠিকভাবে চলুক। চলবে না, যদি না আমরা জলাঞ্জলি দিই অভিশপ্ত অতীতটাকে…’

    ‘এখনও কি বুঝতে পারছ না তুমি?’ কেমন এক সুরে বলল তানিয়া। ‘অতীতকে ভুলতে পারছি না; কারণ, অতীতই আসলে পিছু ছাড়ছে না আমাদের!’

    .

    বৈঠকখানায় তানিয়ার মুখোমুখি বসেছেন ডিটেক্টিভ ওয়েস্টমোর।

    ‘ধন্যবাদ আসার জন্য,’ শুকনো স্বরে বলল তানিয়া।

    ‘না, ঠিক আছে। এখান থেকে বেশি দূরে নয় আমার অফিস। পরিবার নিয়ে থাকার জন্য চমৎকার জায়গা বেছেছেন আপনারা।’

    স্মিত হাসল এবার মেয়েটা।

    ‘আ… ডেইমানদের কেসটার ব্যাপারে যা যা পাওয়া গেছে, নিয়ে এলাম সাথে করে…’ সঙ্গে আনা ফাইলটা খুললেন ওয়েস্টমোর। ভিতর থেকে একটা ফোটোগ্রাফ তুলে নিয়ে বাড়িয়ে দিলেন তানিয়ার দিকে।

    ডেইমানদের মেয়ের ছবি ওটা। বছর কয়েক আগে তোলা। গড়পড়তা ক্যালিফোরনিকান মেয়ের মতোই দেখাচ্ছে ওকে। কোনও রকম অস্বাভাবিকতা নেই।

    ‘চিনতে পারছেন তো?’ ভুরু নাচালেন ওয়েস্টমোর। ‘অ্যানাবেল নাম ওর, অ্যানাবেল ডেইমান। শেষ যে বার দেখেছিলেন ওকে, অনেকটাই অন্য রকম লাগছে তার চেয়ে, তা-ই না? বিশেষ ওই কান্টের খপ্পরে পড়ার আগে তোলা হয়েছে ছবিটা।’

    ভালো করে দেখল তানিয়া ছবিটা। রেখে দিল ওটা এক পাশে।

    ‘বিশেষ ওই কাল্টটার ব্যাপারে আর কোনও গবেষণা করেছেন?’ জিজ্ঞেস করল ও।

    ‘গবেষণা?’

    ‘হ্যাঁ… বিশেষ কোনও উদ্দেশ্য ছিল ওদের ওই আক্রমণের পিছনে?’

    ‘পাগল মানুষের কাজকারবার…’

    ‘কথা সত্যি। জানি আমি সেটা। কিন্তু ওরা তো আর পাগল ভাবে না নিজেদের। ওরা যেটা করে, উদ্দেশ্য নিয়েই করে……

    ‘ওয়েল… এদিক-ওদিক তদন্ত করে যেটা বুঝতে পারলাম… ভক্তিমূলক কোনও সঙ্ঘ ছিল না ওটা…’

    ‘তা হলে?’

    ‘কিছু একটাকে জাগিয়ে তুলতে চাইছিল ওরা…’

    ‘জাগিয়ে তুলতে চাইছিল?’ বুক ঢিপঢিপ শুরু হয়ে গেছে তানিয়ার। ‘কী সেটা?’

    ‘শয়তান… দানব… অপদেবতা… সঠিক করে বলতে পারব না।’

    ‘কোনও নাম আছে সঙ্ঘটার?’

    ‘আছে।’ ফাইলটা খুলে রিপোর্টে চোখ বোলালেন ওয়েস্টমোর। ‘নিজেদেরকে ওরা বলে: অর্ডার অভ দ্য রাম। আর-এ-এম… রাম। রিগর… অ্যাডোরেশন… মার্সি। কাঠিন্য… ভক্তি… ক্ষমা। ওপাস ডেই-এর (Opus DeI) হিপ্পি ভার্শন অনেকটা… ‘

    ষোলো

    সেকেণ্ডহ্যাণ্ড বইয়ের দোকানটায় স্ট্রলার ঠেলে ঢুকে পড়ল তানিয়া। এদিক-ওদিক তাকিয়ে হাঁটতে লাগল একটা আইল ধরে। শেলফে রাখা বইগুলোর শিরদাঁড়া দেখতে দেখতে এগোচ্ছে। সবগুলো বই-ই একই সাবজেক্টের উপরে: অকাল্ট

    ক’টা বই টেনে বের করল ও তাক থেকে। দু-এক পাতা উল্টে দেখল বইয়ের। সূচিপত্রের উপর থেকে নিচে নামিয়ে আনল তর্জনি …

    দানব

    অতৃপ্ত আত্মা

    ভয়

    প্রেতসাধনা

    ইত্যাদি… ইত্যাদি…

    চোখ বোলাল ক’টা ছবিতেও …

    শয়তান

    পেন্টাগ্রাম

    নরকের আগুনে পতিত দেবদূত

    কালো বিড়াল

    ইত্যাদি…

    ‘কেমন জানি দিশাহারা লাগছে তোমাকে…..’ শোনা গেল একটা গলা।

    .

    দোকানের পিছনদিককার একটা টেবিলে বসেছে তানিয়া। বেশ ক’টা বইপত্র ওর আর রায়ান অ্যাডামসের মাঝখানে। ভদ্রলোকের বয়স ষাট-পঁয়ষট্টি। তিনিই চালাচ্ছেন দোকানটা।

    পুরানো একটা বইয়ের পাতা ওল্টাচ্ছেন মিস্টার অ্যাডামস। খুঁজছেন কী যেন। পেয়েও গেলেন সেটা।

    ‘দি অর্ডার অভ দ্য রাম হচ্ছে… যে কাহিনীটা শোনালে তুমি, গড়ে উঠেছে সেটার উপর ভিত্তি করে। এক ধরনের ধর্মীয় উন্মাদনা এটা। … বিশেষ এক প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যেতে হয় এই সঙ্ঘের সভ্যদের। সেটা হচ্ছে—নিজের রক্ত আর নিরীহ-নিষ্পাপ কারও আত্মা শয়তানের কাছে উৎসর্গ করা। সোজা কথায়, কতল করা। এজন্যই নিজের বাপ-মাকে খুন করেছিল মেয়েটা। কারণ, ওদের রক্ত মানে তো ওরই রক্ত। এর পর গেছে তোমাকে হত্যা করতে… এর কারণ, তুমি তখন অন্তঃসত্ত্বা। আর একজন অনাগত সন্তানের চাইতে নিষ্পাপ আর কী হতে পারে?’

    ব্যাপারটা চিন্তা করেই গা গুলিয়ে উঠল মেয়েটার।

    ‘…কিন্তু যেহেতু তুমি বসে আছ আমার সামনে, এর মানে দাঁড়াচ্ছে—কাজটা শেষ করতে পারেনি ওরা…’

    ‘সেজন্য উৎপাত করে চলেছে এখনও…’ বোঝা হয়ে গেছে তানিয়ার।

    ওয়েল… আমরা যদি ভূতে বিশ্বাস করি… ভাবি যে, মরা মানুষ পিছু নিয়েছে আমাদের… সেক্ষেত্রে কিন্তু নির্দিষ্ট একটা গণ্ডির বাইরে যেতে পারে না ওরা। ওদের সমস্ত কর্মকাণ্ড নিজেদের সেই এলাকার মধ্যে। তোমার সমস্যাটা হলো, ওখান থেকে চলে আসার পরও বিচিত্র সব ঘটনা ঘটে চলেছে তোমাকে ঘিরে…’

    ‘কেমন জানি লাগছে শুনতে… উদ্ভট… অবাস্তব…’

    ‘লোহিত সাগরের দু’ভাগ হয়ে যাওয়া কিংবা কথা-বলা জ্বলন্ত ঝোপ অথবা যা-ই বলো না কেন—এগুলোর চাইতে উদ্ভট তো আর নয়। অবিশ্বাসীদের কাছে সব কিছুই অবাস্তব মনে হতে পারে। কিন্তু ওদেরকে পাত্তা দেয় কে?’

    মাথা ঝাঁকাল তানিয়া।

    ‘তো, এই কাল্ট আর তাদের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে যা যা বললে আমাকে, তাতে মনে হচ্ছে, অমানুষিক কোনও আত্মা রেখে গেছে ওরা মানুষের মাঝে….

    ‘অমানুষিক আত্মা?’

    ‘এমন কিছু, রক্তমাংসে যেটার কোনও অস্তিত্ব ছিল না কখনও…’

    …অপদেবতা?’

    নড করলেন রায়ান। ‘…আর এক মাত্র অপদেবতারাই নির্দিষ্ট কোনও সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়। ওরা সংযুক্ত নির্দিষ্ট কোনও বস্তুর সঙ্গে। ওসবের উপর ভর করে শেষ পর্যন্ত হাসিল করে নেয় নিজেদের উদ্দেশ্য…

    ‘নিষ্পাপ আত্মা…’ আপন মনে বিড়বিড় করল তানিয়া। তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে।

    ‘তোমার জায়গায় আমি হলে,’ উপসংহারে পৌঁছেছেন রায়ান। ‘যে-জিনিস ব্যবহার করে আতঙ্কে রাখছে আমাকে অপদেবতা—যা-ই হোক না কেন সেটা—দূর করতাম ওটাকে আমার জীবন থেকে…’

    .

    নিজেদের অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিঙের নিচে পৌঁছে গেছে তানিয়া, হাত ফসকে সাইডওয়াকে পড়ে গেল চাবির গোছাটা।

    বিল্ডিঙে ঢোকার সিঁড়ির গোড়ায় স্ট্রলারটা ঠেকিয়ে রেখে উবু হলো তানিয়া জিনিসটা তুলে নেয়ার জন্য। দেখতে পেল না, গড়াতে শুরু করেছে ছোট্ট গাড়িটার চাকা; সরে যাচ্ছে ওটা রাস্তার দিকে!

    ভয়ঙ্কর গতিতে রাস্তা ধরে ছুটে আসছে একটা সিটি বাস।

    যে মুহূর্তে সাইডওয়াক থেকে কার্বে পড়ল আকিরাকে বহনকারী গাড়িটা, ঠিক সেই মুহূর্তে ঘাড় ঘোরাল তানিয়া কাঁধের উপর দিয়ে।

    রাস্তার মাঝখানে গড়িয়ে চলে যাচ্ছে স্ট্রলারটা… ধেয়ে আসা বাসটার সামনেই পড়তে চলেছে ওটা!

    ‘সামনে দেখোহ!!!’ বলে গগনবিদারী এক চিৎকার তানিয়া।

    দেরি হয়ে গেছে অনেক!. আক্ষরিক অর্থেই খুদে গাড়িটাকে উড়িয়ে দিল দানব বাসটা! দোকান থেকে কেনা বইগুলো ছিটকে গেল যত্রতত্র!

    ভাগ্যিস, বাচ্চাটা ছিল না ওর গাড়িতে!

    জড়বৎ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তানিয়া আকিরাকে কোলে জড়িয়ে! বড় বাঁচা বেঁচে গেছে ও! বাচ্চাটা যদি থাকত ওখানে!

    টায়ারের কর্কশ শব্দ তুলে থেমে দাঁড়াল বাসটা।

    একই সঙ্গে ছিটকে বেরিয়ে এল জ্যাকসন স্কাই হাই থেকে। পুরো ঘটনাটাই দেখতে পেয়েছে ও।

    ‘হায়, যিশু! ঠিক আছেন তো আপনি?’ চিৎকার করে জানতে চাইল লোকটা।

    কোনও রকমে মাথা ঝাঁকাল তানিয়া। আতঙ্কিত দৃষ্টি মেলে দেখল, বাম্পারের সঙ্গে দুমড়ে মুচড়ে আটকে থাকা খেলনা গাড়িটাকে টেনে ছোটানোর চেষ্টা করছে ড্রাইভার। মোটেই দর্শনযোগ্য নেই আর জিনিসটা।

    রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া বইগুলো কুড়িয়ে তুলে দিল জ্যাকসন।

    ‘থ্-থ্যাঙ্ক ইউ!’ বলল তানিয়া কোনও রকমে। কথা বলার মতো অবস্থা নেই ওর।

    বইয়ের নামগুলো লক্ষ করেছে বাড়িঅলা। বিচিত্র অভিব্যক্তি লোকটার চেহারায়।

    ‘বেডটাইম স্টোরি,’ কাষ্ঠ হেসে ব্যাখ্যা দিল তানিয়া।

    সতেরো

    দরজা খুলে বাসায় ঢুকল তানিয়া। ফ্লোরে বিছানো ব্ল্যাঙ্কেটের উপর বসিয়ে দিল মেয়েটাকে। বুকশেলফে বইগুলো গুঁজে দিয়েই ছুট লাগাল নার্সারির দিকে।

    .

    সারাটা কামরা তছনছ করে ফেলল তানিয়া। দোলনা সরিয়ে দেখল ওটার তলায়… খুঁজল রকিং চেয়ারটার পিছনে… ক্লজিটটা দেখল আতিপাতি করে…

    চিহ্নও নেই অ্যানাবেলের!

    কীভাবে জানি উধাও হয়ে গেছে পুতুলটা!

    ‘কোথায়?’ শাসানির সুরে চিৎকার করল তানিয়া। ‘কই, ‘রে, তুই, পোড়ামুখী?’

    .

    বুকশেলফের সামনে বসিয়ে দেয়া হয়েছে আকিরাকে। বাচ্চাটার ঠিক উপরের একটা বই হড়কে বেরিয়ে এল সারি থেকে, খসে পড়ল সেটা তাকের কিনারা থেকে।

    থ্যাপ!

    ইঞ্চির জন্য পড়ল না বইটা শিশুটির মাথার উপর!

    বেরিয়ে এল আরেকটি বই।

    থ্যাপ!

    আরেকটু কাছে পড়েছে এবারেরটা!

    এর পর বোধ হয় আর মিস হচ্ছে না। একসাথে অনেকগুলো পিছলে সরে এসেছে এবার কিনারের কাছে! বই নয়, গোটা শেলফটাই পড়তে যাচ্ছে আসলে মেয়েটার উপরে! কাত হয়ে যাচ্ছে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা বইয়ের আলমারিটা!

    ‘আকিরাহ!’ অবিশ্বাসে ঠিকরে বেরোতে চাইছে মহিলার চোখ দুটো। ছুটে গিয়ে সোজা করে দিল আবার বুকশেলফটা। ছোঁ মেরে আত্মজাকে মেঝে থেকে তুলে নিয়েই সরে গেল নিরাপদ দূরত্বে। সাইক্লোন বয়ে যাচ্ছে ওর মাথার মধ্যে।

    .

    অ্যানাবেল নেই। বাকি পুতুলগুলো তাক থেকে ছুঁড়ে ছুঁড়ে মেঝেতে ফেলতে লাগল তানিয়া। একটু পরে সব ক’টার গন্তব্য হলো আবর্জনার ব্যাগ।

    বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে এসে, ট্র্যাশব্যাগগুলো ছুঁড়ে ফেলল ও গারবেজে।

    একটা ঝামেলা বিদায় করে অ্যাপার্টমেন্টে এসে ঢুকল তানিয়া। ক্ষোভ ঝাড়তে ধড়াম করে লাগিয়ে দিল দরজাটা।

    শান্তি!

    না… তা বোধ হয় কপালে নেই ওর!

    মড়মড় আওয়াজ উঠছে ফ্লোরবোর্ডে!

    এগোল তানিয়া নার্সারির দিকে। মনে দ্বিধা নেই কোনও। এসপার ওসপার একটা করেই ছাড়বে!

    এগিয়ে যাচ্ছে… সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হচ্ছে আওয়াজটা… সতর্ক তানিয়া হাত বাড়াল দরজার নবের দিকে। কিন্তু ঘোরানোর আগেই নিজে থেকে খুলে গেল দরজাটা!

    পিছিয়ে গিয়েছিল তানিয়া, স্বস্তির শ্বাস ফেলল স্বামীকে দেখে। খালি তাকগুলোর দিকে চাইল জনি পিছন ফিরে।

    ‘কী হচ্ছে এসব?’

    ঠক… ঠক ঠক ঠক!

    .

    দরজা খুলতেই উষ্ণ হাসলেন ফাদার রোডরিগেজ।

    ‘যার-পর-নাই সম্মানিত বোধ করছি আপনাকে দেখে,’ বলল জনি আন্তরিক হেসে। ‘আসুন, ফাদার… ভিতরে আসুন।’

    ঢুকলেন ভদ্রলোক। ওঁর কোটটা নিয়ে সোফার পিছনে ঝুলিয়ে দিল জনি।

    কে এসেছে, দেখার জন্য ড্রইং রুমে এল তানিয়া। রোডরিগেজকে দেখে খুশিও হলো, লজ্জিতও হলো মেয়েটা।

    ‘দুঃখিত, ফাদার!’ বলল ও কাঁচুমাচু কণ্ঠে। ‘ডিনার তৈরি হতে দেরি হবে একটু। সত্যি বলতে কি, মেয়েটা হওয়ার পর থেকে সেভাবে আর সুযোগই পাচ্ছি না রান্নাবান্নার… অনভ্যাসে জংও ধরে গেছে হাতে… ‘

    ‘খুদে দেবদূতদের খাতিরে সাত খুন মাফ…’ বললেন ফাদার মজা করে। র‍্যাপিং পেপার মোড়ানো একটা প্যাকেজ তুলে দিলেন, তিনি তানিয়ার হাতে। ‘সামান্য উপহার তোমাদের জন্য।’

    ফ্রেমবন্দি একটা ফোটোগ্রাফ বেরোল প্যাকেটটা থেকে। চার্চের আঙিনায় তোলা মা-মেয়ের ছবিটা।

    ‘ইট’স বিউটিফুল!’ অভিভূত তানিয়া। ‘থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ, ফাদার!’ দরজার পাশের টেবিলে দাঁড় করিয়ে দিল ও ফ্রেমটা।

    .

    বলল বটে, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই প্রচুর আয়োজন করে ফেলল তানিয়া। জনিও অবশ্য সাহায্য করল ওকে।

    খুব একটা কথা হলো না খাওয়ার টেবিলে।

    খানিকটা অস্বস্তিতে ভুগছেন ফাদার রোডরিগেজ। পরিষ্কার বুঝতে পারছেন, কোনও একটা ঘটনার মাঝখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। ওদের ব্যক্তিগত কোনও ব্যাপার কি?

    কাউন্টারে জড়ো করে রাখা অকাল্টের বইগুলোর উপর চোখ পড়ল তাঁর। ব্যাপারটা লক্ষ করল তানিয়া।

    ‘আপনিই উপদেশ দিয়েছিলেন,’ মুখ খুলল তরুণী। ‘ভয়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে। যতই জানব, ততই ভয়ডর বিদায় নেবে জীবন থেকে…

    ‘মিথ্যে বোলো না, তানিয়া!’ তিরস্কারের সুরে বলল জনি। ‘আফটার অল, উনি একজন যাজক।’ ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সরি, ফাদার।

    শ্রাগ করলেন রোডরিগেজ।

    ‘মিথ্যে বলছি না আমি,’ প্রতিবাদ করল তানিয়া।

    ‘বইগুলো কেনার অন্য কারণটাও বলো তা হলে…’

    ‘এটা কোনও কনফেশন নয়, জনি গ্রেভ…’ শান্ত গলায় বললেও রেগে উঠেছে জনির স্ত্রী।

    ‘ঠিকই বলেছে ও,’ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার প্রয়াস পেলেন ফাদার। ‘বলতে না চাইলে, সে-অধিকার নিশ্চয়ই রয়েছে মিস গ্রেভের।

    নীরবে খাবার চিবোনো চলল কিছুক্ষণ।

    ‘আমার ধারণা, আমাদের উপরে হামলা করেছিল যারা, কোনও এক অপদেবতাকে জাগিয়ে তুলেছে ওরা, যেটা পিছে লেগেছে আকিরার… ওর আত্মা চায় ওটা!’ সরাসরি বলল তানিয়া। ‘বইগুলো জোগাড় করেছি শয়তানটাকে থামানোর কোনও উপায় রয়েছে কি না, জানার জন্য।’

    স্যালিসবারি স্টেক চিবোচ্ছিলেন রোডরিগেজ, প্রায় বিষম খাওয়ার জোগাড় হলো ওঁর মেয়েটির বক্তব্য শুনে। আর যা-ই হোক, এগুলো শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না তিনি ওর আরও ধারণা,’ যোগ করল জনি। ‘সংগ্রহের কোনও পুতুলের উপর ভর করেছে এই অপদেবতা। যেহেতু জানা নেই, কোন্ পুতুলটা, সবগুলো পুতুলই ফেলে দিয়েছে ও…’

    ‘ভর করেছে, বলিনি!’ আপত্তি করল তানিয়া। ‘বলেছি, পুতুলটাকে ব্যবহার করছে ওটা। ভরা করা তো অন্য জিনিস। শুধু ওই সব জিনিসের উপরই ভর করা যায়, যেগুলোর আত্মা আছে। ঠিক না, ফাদার?

    ইতস্তত করছেন রোডরিগেজ। ‘আ… তাত্ত্বিকভাবে… ইয়েস।’

    ‘বুঝলেন, ফাদার,’ বলল তানিয়া ভর্ৎসনার সুরে। ‘বিজ্ঞানের মানুষ তো, বিজ্ঞানের বাইরে তাই কিছুই মানতে চায় না জনি।’

    ‘এটা কিন্তু ফেয়ার হচ্ছে না,’ অনুযোগ করল যুবক। ‘ঈশ্বরে বিশ্বাস রয়েছে আমার… বিশ্বাস করি বাইবেলের ঐশী বাণীতে…’

    আর সেই বাইবেলেই রয়েছে: নিয়ন্ত্রণ করো নিজের মনটাকে। খোলা রাখো চোখকান। তোমার চিরশত্রু শয়তান বিক্ষুব্ধ সিংহের মতো ঘুরঘুর করছে আশপাশে….

    ‘তক্কে তক্কে রয়েছে তোমাকে গোগ্রাসে গেলার, ‘ বাক্যটা সম্পূর্ণ করে দিলেন প্রৌঢ় ভদ্রলোক।

    পূর্ণ মনোযোগে ফাদারের দিকে তাকাল জনি আর তানিয়া।

    ‘অপদেবতা সম্বন্ধে কী জানেন আপনি, ফাদার?’ প্রশ্ন করল মেয়েটা।

    ‘সত্যিই বেশি কিছু জানি না আমি এ ব্যাপারে। তবে এটা জানি যে, এসব অপদেবতা সরাসরি নিতে পারে না আত্মা। আত্মাকে মুক্তি দেয়ার জন্য মৃত্যুবরণ করতে হবে আগে আত্মাধারী ব্যক্তিটিকে।’

    ‘সেক্ষেত্রে…’ একটুও প্রভাবিত হয়নি জনি। ‘খুব শিগগিরই মরার ইচ্ছা নেই আমার। তোমার আছে, তানি?’

    চোখ গরম করে ওর দিকে তাকাল তানিয়া।

    ‘শুনেছি,’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টায় বললেন ফাদার। ‘কিছু চার্চ রয়েছে কাছেপিঠে… এসব নিয়ে নাড়াচাড়া করে, এমন সব লোকের সাথে যোগাযোগ রাখে। কোনও এক ডায়েস দম্পতির বেশ নামডাক রয়েছে এ ব্যাপারে। তোমরা চাইলে ওদের খোঁজ লাগাতে পারি আমি…’

    ‘থ্যাঙ্ক ইউ, ফাদার।’ হাসি ফুটল তানিয়ার মুখে। ‘খুব ভালো হয় তা হলে।’

    .

    ফাদার রোডরিগেজকে বিদায় দিতে দরজায় এল জনি আর তানিয়া।

    ‘অশেষ ধন্যবাদ আমাদেরকে সঙ্গ দেয়ার জন্য,’ গভীর কৃতজ্ঞতা ফুটল মেয়েটির কন্ঠে।

    ওর একটা হাত তুলে নিলেন ফাদার, চুম্বন করলেন হাতের পিঠে।

    ‘মাই প্লেজার, মিস গ্রেভ। প্রায়ই ব্যাখ্যাতীত রহস্যের ব্যাখ্যা খোঁজে লোকে ধর্মের মধ্যে। কিন্তু ধর্মের বাইরেও আরও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা পাওয়া যায় কখনও কখনও। নিজ বাড়িতে ভয়াবহ যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছ তুমি…. পার করেছ প্রসবের আগে কঠিন একটা সময়… এদিকে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছে তোমার স্বামী… এরই মধ্যে প্রথম বাবা-মা হলে তোমরা… যে-কারও জন্যই চাপটা সত্যিই অনেক বেশি হয়ে যায়।’

    অদ্ভুত দৃষ্টিতে একবার স্বামীর দিকে, একবার ফাদার রোডরিগেজের দিকে চাইল তানিয়া। ‘বলতে চাইছেন, এগুলো সবই আমার কল্পনা?’

    নার্সারিতে কেঁদে উঠল আকিরা।

    ‘এজন্যই ওঁকে আসতে বলেছ তুমি?’ স্বামীর চোখে চেয়ে কৈফিয়ত দাবি করল মেয়েটা। ‘এটাই প্রমাণ করার জন্য যে, আমি একটা পাগল?’

    ‘তানিয়া… শোনো…’ বিপন্ন অনুভব করছে জনি।

    ‘আকিরাকে দেখতে যাচ্ছি আমি,’ বলল তানিয়া কাঠ- কাঠ স্বরে। ‘গুড নাইট, ফাদার।’

    দু’জনের বোবা দৃষ্টির সামনে ভিতরে অদৃশ্য হয়ে গেল মেয়েটা।

    ভদ্রলোকের সঙ্গে আট তলার হলওয়েতে বেরিয়ে এল জনি। অপেক্ষা করছে এলিভেটরের জন্য।

    ‘খুবই দুঃখিত আমি, আমি,’ অপ্রস্তুত

    অপ্রস্তুত কণ্ঠে বললেন রোডরিগেজ। ‘এর বেশি আর সাহায্য করতে পারছি না তোমাদের। কিছু মনে করছ না, আশা করি…

    ‘কোনও সমাধানই কি নেই এর?’ জানতে চাইল জনি কাতর কণ্ঠে।

    একটু চিন্তা করলেন ফাদার। ‘ওই যে বললাম… ডায়েসদের কথা…’

    ডিং!

    খুলে গেল এলিভেটরের দরজা।

    .

    ওটা নিচে নামতে শুরু করতেই মাথায় হ্যাট চাপালেন ফাদার। কোটের বোতাম লাগানোর জন্য-

    এইয্‌যাহ! ফেলে এসেছেন ওটা গ্রেভদের অ্যাপার্টমেন্টে।

    হাত বাড়িয়ে রাটন টিপলেন এলিভেটরের।

    সেভেনথ ফ্লোরের উদ্দেশে উপরে উঠছেন, ল্যাচটা খুলে গিয়ে ফাঁক হলো গ্রেভদের দরজাটা—মাত্র এক কি দু’ইঞ্চি।

    ডিং!

    ঝাঁঝরিটা সরিয়ে বেরিয়ে এলেন ফাদার এলিভেটর থেকে। এগিয়ে চললেন গ্রেভদের দরজার দিকে।

    পৌঁছে দেখতে পেলেন, খোলাই রয়েছে দরজাটা। মৃদু টোকা দিলেন তিনি আঙুলের গাঁট দিয়ে।

    জবাব নেই কোনও।

    কান পাতলেন ভদ্রলোক। আওয়াজ আসছে ভিতর থেকে। বোধ হয় বচসা চলছে জনি আর তানিয়ার মধ্যে। শোবার ঘরের দরজাটা লাগানো বলে বোঝা যাচ্ছে না ভালো। তবে আন্দাজ করাই যায়, কী নিয়ে ঝগড়া করছে ওরা।

    কবাটটা ঠেলে ঢুকে পড়লেন তিনি ভিতরে। আওয়াজ যাতে না হয়, সে-ব্যাপারে সতর্ক।

    ওই তো জ্যাকেটটা! দলামোচড়া হয়ে পড়ে রয়েছে সোফাটার উপরে।

    হাত বাড়িয়ে জ্যাকেটটা তুলে নিতেই ওটার তলা থেকে বেরিয়ে পড়ল পুতুলটা।

    অ্যানাবেল।

    অ্যানাবেল?! কিন্তু আমরা তো জানি…

    পুতুলটাও হাতে নিলেন ফাদার। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিরীখ করলেন জিনিসটা। তার পর আবার রেখে দিলেন ওটা কাউচের এক পাশে।

    দাম্পত্য কলহের আওয়াজ এখন জোরাল। বেডরুমের দিকে চেয়ে বুকে ক্রস আঁকলেন ভদ্রলোক। বেরিয়ে গেলেন অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে।

    .

    একটু পরে, রাতের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা দালানটার প্রবেশমুখ দিয়ে বেরিয়ে এলেন প্রৌঢ় যাজক। বেরিয়েই গায়ের উপর টেনেটুনে নিলেন জ্যাকেটটা। ভালোই পড়েছে ঠাণ্ডাটা।

    থেমে দাঁড়ালেন ফ্রন্ট-স্টেয়ার দিয়ে নামতে নামতে। কেমন এক বিজাতীয় অনুভূতির চক্কর মনের মধ্যে। পিছন ফিরে চাইলেন তিনি দালানটার উঁচুতে।

    আরও ভালো করে দেখার জন্য কার্ব ছেড়ে রাস্তার দিকে পিছিয়ে এলেন ফাদার কয়েক কদম। ঘাড় উঁচু করে চোখ রাখলেন আট তলার জানালায়।

    নজরে এল না অস্বাভাবিক কিছু।

    .

    নিজেই গাড়ি চালাচ্ছেন ফাদার। একাকী তিনি গাড়ির মধ্যে। ডজার গেমের ধারাভাষ্য শুনছেন রেডিয়ো চালিয়ে।

    হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই, প্রচণ্ড জোরে খড়খড় করে উঠল রেডিয়ো। কানের পরদা ফাটিয়ে ফেলবে যেন।

    আওয়াজ থেকে বাঁচতে অফ করে দিলেন তিনি বেতারযন্ত্রটা। নির্ভেজাল বিরক্তি ঝরে পড়ছে চোখমুখ থেকে। অনুভূতির এ প্রকাশ বিরলই বলা চলে ওঁর মতন ভদ্রলোকের জন্য।

    নীরবে গাড়ি চালালেন কিছুক্ষণ। এর পর আরেকটা আওয়াজ কানে ঢুকল ওঁর …..

    কির্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌ক!

    ব্যাকসিট থেকে আসছে না শব্দটা?

    চলার উপরেই ঘাড় ঘোরালেন ফাদার।

    শূন্য সিটটা উপহাস করল যেন তাঁকে।

    সামনের দিকে মুখ ফেরাতেই মুখোমুখি এক জোড়া হেডলাইটের চোখ ধাঁধানো তীব্র আলো দিন করে দিল যেন রাতটাকে। তারস্বরে বাতাস চিরল সামনের গাড়ির ভেঁপু। প্রলম্বিত, তীক্ষ্ণ আওয়াজ হলো ব্রেক চাপার।

    তা-ও শেষ রক্ষা হলো না।

    মুখোমুখি সংঘর্ষে গুঁড়িয়ে গেল বাতিগুলো। আক্ষরিক আর ভাবার্থ—দুই অর্থেই অন্ধকার নেমে এল ফাদার রোডরিগেজের পৃথিবীতে।

    .

    রকিং চেয়ারে দোল খেতে খেতে মেয়েকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছে ওর মা। জনি রয়েছে ওদের বেডরুমে। কার সঙ্গে জানি জরুরি আলাপ সারছে ফোনে।

    ‘…ঠিক জানা নেই আমার, কদ্দিন বাচ্চাটার দায়িত্ব নিতে হবে আপনাদের… কিন্তু এ মুহূর্তে সাহায্য দরকার তানিয়ার, আর সেটারই ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি আমি। দুটো দিনও রাখতে হতে পারে… আবার লাগতে পারে হপ্তা খানেকও… বোঝা যাবে ওদের সাথে আলাপ করার পর। ….হ্যাঁ, আজই যাচ্ছে ও ওখানে। আমার মতে, এটাই ওর আর আকিরার জন্য ভালো হবে সবচেয়ে…

    কিন্তু ফোনটা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই দোটানায় ভুগতে শুরু করল জনি। যা করতে যাচ্ছে, ঠিক করছে তো?

    .

    কাউচে বসে গভীর অভিনিবেশের সঙ্গে বইয়ের পাতা ওল্টাচ্ছে তানিয়া। প্রতিটি শব্দ গিলছে ও, প্রতিটি প্যারাগ্রাফ।

    উদয় হলো জনি স্ত্রীর পিছনে। সামনে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘আর ইউ শিয়োর, আকিরাকে নিয়ে থাকতে পারবে তুমি?’

    মুখ তুলল মেয়েটা বই থেকে। ‘কেন, ভয় পাচ্ছ নাকি?’

    ‘স্রেফ জানতে চাইছি আমি…’

    তানিয়ার দৃষ্টি ফিরে গেল বইয়ে। ‘চিন্তা কোরো না। ভালোই থাকব আমরা।’

    দীর্ঘশ্বাস গোপন করল না জনি। বেরিয়ে গেল ও চাবিটা নিয়ে। যাওয়ার আগে বলে গেল: ‘তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরব আজ।’

    .

    দরজা খুলল জ্যাকসন।

    আট তলার বাসিন্দা দাঁড়িয়ে আছে ওর সামনে।

    ‘সব ঠিক আছে তো?’ জিজ্ঞেস করল বাড়িঅলা।

    মাথা নাড়ল জনি। ‘আমি আসলে… আপনাকে এসব জিজ্ঞেস করছি বলে ক্লাউন বলে মনে হচ্ছে নিজেকে… কিন্তু… এখন পর্যন্ত আপনি ছাড়া তেমন কাউকেই চিনি না এখানে… আর…’

    ‘ইজি, ম্যান। আপনার প্রয়োজনটা বলুন!’

    ‘লম্বা সময় ধরে কাজ করতে হয় আমাকে … অনেক দীর্ঘ একটা সময়। এ সময়টায় বাড়িতে একা থাকে আমার বউটা… জানেন হয়তো আপনি। আসলে… শরীরটা ইদানীং ভালো যাচ্ছে না ওর… যেরকম ওয়েদার চলছে…

    ‘কী চাইছেন আপনি… মাঝে মধ্যে খোঁজখবর নিই ওনার?’

    ‘ধারেকাছে যদি থাকেন আরকী…’

    ‘নিশ্চয়ই। কোনও চিন্তা করবেন না আপনি।’

    ‘অসংখ্য… অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।’

    .

    পড়ছে তানিয়া। মাঝে মাঝে মন্তব্য লিখছে মার্জিনে। ভীষণ সিরিয়াস দেখাচ্ছে ওকে। ফোনটা বেজে ওঠায় থামাতে হলো পড়া।

    উঠে ফোন ধরল মেয়েটা।

    ‘হ্যালো? হ্যাঁ, গত রাতে এসেছিলেন ফাদার রোডরিগেজ। কেন, কী হয়েছে? সব কিছু…’

    তার পর দুঃসংবাদটা শুনল তানিয়া। হাত থেকে খসে পড়ে গেল রিসিভার। ঠোঁটের উপর চলে এসেছে হাতটা।

    অসুস্থ বোধ করছে মেয়েটা। যে-কোনও মুহূর্তে জ্ঞান হারাবে যেন। কোনও রকমে বলতে পারল শুধু: ‘ওহ, মাই গড! ওহ, মাই গড!!’

    .

    আবার ফোন তুলে নিয়েছে তানিয়া।

    ‘…হ্যাঁ, গ্রেভ! প্লিজ, বলবেন ওকে, ফোন করেছিল ওর স্ত্রী! সঙ্গে সঙ্গে যেন কলব্যাক করে! থ্যাঙ্ক ইউ।’

    .

    প্রথমেই দরজা লক করল তানিয়া। জানালাগুলোও একটা একটা করে বন্ধ করে লক করে দিল। এর পর চেক করে দেখল স্টোভের নবগুলো। প্লাগ খুলে দিল টিভি আর রেকর্ড প্লেয়ারের। সব শেষে জ্বেলে দিল অ্যাপার্টমেন্টের সবগুলো বাতি।

    .

    মেয়েকে নিয়ে কুঁকড়ে-মুকড়ে বিছানায় শুয়ে আছে তানিয়া, এ সময় থপ করে একটা শব্দ হলো অন্ধকারে।

    ঘুমিয়েই পড়েছিল, ধড়মড় করে জেগে গেল মহিলা।

    থপ! থপ!

    নেমে দাঁড়াল মেয়েটা বিছানা থেকে।

    থপ! থপ! থপ!

    লিভিং রুম থেকে আসছে শব্দটা।

    শোবার ঘরের দরজা খুলল তানিয়া। চকিত পায়ে ও-ঘরে গিয়ে দেখল, বাকি বইগুলোও খসে পড়ছে বুকশেলফ থেকে!

    যতটা হওয়ার কথা, তার চাইতেও বেশি জোরাল শোনাচ্ছে থপ-থপ আওয়াজটা।

    …তার পর নীরবতা।

    কী করে যেন আচমকা চালু হয়ে গেল রেকর্ড প্লেয়ারটা। একটা বিস্ফোরণ ঘটল যেন আওয়াজের। বাজছে ফুল ভলিউমে।

    দে লং টু বি…

    ক্লোজ টু ইউ…

    এবার খুট করে চালু হয়ে গেল টেলিভিশনটা। একের পর এক চ্যানেল বদলে যাচ্ছে আপনা-আপনি।

    পিছাতে শুরু করেছিল তানিয়া, কেঁদে উঠল একাকী আকিরা।

    ঘুরেই ছুটল মহিলা বেডরুমের দিকে। সাগরের ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ল বিছানায় মেয়েকে তুলে নেয়ার জন্য। চাদরটা সরিয়েই কেঁপে গেল বুকটা।

    নেই মেয়েটা বিছানায়! বদলে অ্যানাবেল শুয়ে আছে ওখানে!

    ‘আকিরাআহ!’ গলা ফাটাল মহিলা। ‘কোথায় তুমি, মামণি? আকিরাহ! এই যে… আম্মু এখানে!’

    সারাটা ঘর খুঁজল তানিয়া।

    চিহ্নও নেই মেয়ের!

    হলওয়ে ধরে উড়ে গিয়ে পড়ল ও নার্সারিতে …

    হোলি শিট!

    ফিরে এসেছে সবগুলো পুতুল! সবগুলোই বসে গেছে জায়গামতো, আগে যেটা যেখানে ছিল!

    কিন্তু এবারের পুতুলগুলো একটু অন্য রকম। …..একটু নয়, অনেকটাই। কিছু-না-কিছু পরিবর্তন হয়েছে সব ক’টাতেই…

    কোনোটার চোখ উধাও!

    কোনোটার হাত-পা ছেঁড়া!

    কোনোটার চুল ওপড়ানো!

    কোনোটার আবার জামাকাপড় ছিন্নভিন্ন!

    ‘না! না… না… না… না… না…’ হিসটিরিয়ায় আক্রান্ত মানুষের মতো চেঁচিয়ে চলেছে তানিয়া।

    অকস্মাৎ… থেমে গেল শিশুটির কান্না। গলা টিপে ধরে থামিয়ে দেয়া হলো যেন!

    ‘আকিরাআ!’ ছুটে বেরোল তানিয়া নার্সারি থেকে।

    .

    পাগলের মতো, মরিয়ার মতো সারা বাড়ি খুঁজে চলেছে তানিয়া তন্ন তন্ন করে। ছুটে যাচ্ছে এক কামরা থেকে আরেক কামরায়।

    এদিকে টিমটিম করতে করতে নিভে যাচ্ছে বাতিগুলো… এক-একবারে একটা করে। প্রথমে গেল লিভিং রুমেরগুলো… এর পর রান্নাঘরে… তার পর গেল হলওয়েতে…

    প্রতি বারই অ্যানাবেলকে দেখতে পেল তানিয়া আলো নেভার আগে!

    …কাউচে!

    …চেয়ারের উপর!

    ….ঘরের কোনায়!

    ‘কী চাও তুমি?!’ খেপে উঠল মেয়েটা। ‘বল, কী চাস তুই!’

    বলতে বলতে ফিরে এল ও মেয়ের ঘরে।

    জবাব দিয়েছে শয়তানটা!

    নার্সারির চারদেয়াল জুড়ে একটাই শব্দ লেখা বার বার লাল ক্রেয়নে:

    আত্মা আত্মা আত্মা আত্মা আত্মা…

    বড় হাতের অক্ষরে… ছোট হাতের অক্ষরে …

    কামরার ঠিক মাঝখানে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখল তানিয়া অ্যানাবেলকে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে পাকড়াও করল ওটাকে। ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলতে লাগল, ‘ফিরিয়ে দে! ফিরিয়ে দে আমার মেয়েকে! রাগের চোটে দোলনার পাশে আছড়াল ও পুতুলটাকে। এক বাড়িতেই চলটা উঠে গেল অ্যানাবেলের চিবুক থেকে।

    ছুটে গেল মহিলা জানালার দিকে। উন্মত্ত হাতে খুলতে চেষ্টা করল জানালাটা। আট তলার উপর থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার ইচ্ছা হতচ্ছাড়া পুতুলটাকে…

    কিন্তু না… একটুও নড়াতে পারল না জানালা!

    ‘কোথায়?!’ কাঁদছে তানিয়া হেঁচকি তুলে। ‘কোথায় আমার বাচ্চাটা!?’

    উদ্ভ্রান্তের মতো কামরা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল তানিয়া; কিন্তু যেই না পৌঁছেছে দরজার কাছে, অমনি — দড়াম! আটকা পড়ল মেয়েটা।

    লাভ নেই, জানে; তা-ও বার কয়েক টানাটানি করল নব ধরে। পাথরের মতো অনড় হয়ে আছে দরজাটা।

    আবার ফিরে গেল ও জানালার কাছে। কাচের গায়ে নাক ঠেকিয়ে দেখতে পেল নিচের রাস্তায় পথচারীদের আনাগোনা।

    দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টায় সজোরে বাড়ি মারতে লাগল ও জানালার কাচে।

    নিচের লোকগুলোর তো ধারণাই নেই যে, কোন্ নরক নেমে এসেছে উপরে—দুর্ভাগা একটি পরিবারে। তানিয়ারও জানা নেই, পরিচিত একটা মুখ রয়েছে ওদের মধ্যে—যাকে ঠিক পছন্দ করে না ও।

    জোশুয়া জ্যাকসন।

    কে জানে, কেন, দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো লোকটার আট তলার জানালায়। কিছুই শুনতে পাচ্ছে না ও অত নিচ থেকে, কিন্তু দেখতে ঠিকই পেয়েছে মিসেস তানিয়া গ্রেভকে।

    .

    দেখতে পেয়েছে তানিয়াও।

    ‘মিস্টার জ্যাকসন!’ তড়পে উঠল মেয়েটা। ‘প্লিজ, হেএল্প!!’

    ছুটে বিল্ডিঙের ভিতর ঢুকতে দেখল ও লোকটাকে।

    .

    অসহ্য অস্থিরতায় এলিভেটরের কল বাটনে হিট করছে জ্যাকসন ঘন ঘন।

    ধুর! আসছে না ওটা।

    আর তো দেরি করা যায় না! পা বাড়াতে গেল জ্যাকসন সিঁড়িপথের দিকে…

    ডিং!

    চলে এসেছে এলিভেটর!

    তাজ্জব কাণ্ড! কিন্তু এখন ওসব চিন্তা করার ফুরসতই নেই জ্যাকসনের। ঝাঁপিয়ে পড়ল ও খোলা দরজা দিয়ে।

    .

    অনর্গল দরজা পেটাচ্ছে মেয়েটা। রকিং চেয়ারটা কোনও রকমে তুলে ধরে ভাঙল ওটাকে বন্ধ কবাটের গায়ে আছড়ে। ভাঙল বটে, তবে কাজের কাজও হলো একটা। দরজার গা থেকে ছুটে এল নব, খুলে গেল কবাট।

    বুকের ধনের নাম ধরে চিৎকার করতে করতে ছুটল তানিয়া বসার ঘরে। নাহ… নাম-নিশানাই নেই কোনও ছোট্ট মেয়েটার।

    উপায়ান্তর না দেখে ফ্রন্ট-ডোরে চলে গেল ও। গিয়ে দেখল, এ-দরজাটাও বন্ধ হয়ে আছে অশুভ শক্তির ইঙ্গিতে।

    পিপ-হোলে চোখ রাখল তানিয়া। দেখতে পাচ্ছে এলিভেটরের ফ্রেমের উপরে ফ্লোর-নাম্বারের ক্রমাগত পরিবর্তন। উঠছে ওটা… পাঁচ… ছয়… সাত…

    ডিং!

    ঝাঁঝরির ওপাশ থেকে গ্রেভদের অ্যাপার্টমেন্টের দরজা দেখতে পাচ্ছে জ্যাকসন। মহিলার চিৎকারও শুনতে পাচ্ছে আবছাভাবে।

    ‘তাড়াতাড়ি আসুন, প্লিজ! ওটা নিয়ে গেছে আমার সোনামানিককে!’

    ঝাঁঝরি টানল জ্যাকসন। এ কী! এক চুলও নড়ানো যাচ্ছে না ওটা!

    বার বার টানাটানি করেও ফল হলো না কোনও! শরীরের পুরো শক্তি খাটাল, তা-ও নয়! নড়বে না বলে পণ করেছে যেন তারের জালটা।

    ‘পারছি না…’ বলার ভঙ্গিতে প্রকট

    বলার ভঙ্গিতে প্রকট হয়ে উঠল জ্যাকসনের অসহায়ত্ব। ‘খুলছে না ঝাঁঝরিটা…’

    বলা মাত্রই দেরি নয়, ঝাঁকুনি দিয়ে সচল হয়ে উঠল এলিভেটর! রওনা দিচ্ছে উপরে!

    ‘নাআহ!’ হাহাকার করে উঠল মেয়েটা। দেখতে পাচ্ছে, আবারও ফ্লোর-নাম্বার বদলে যাচ্ছে ফ্রেমের উপরে।

    ভিতরে খটখটখটখট করে ডাউন বাটন টিপে চলেছে বাড়িঅলা।

    ‘শিট… কী হচ্ছে এসব!’ কাজ করছে না একটা বাটনও! একেবারে টপ ফ্লোরে পৌঁছে তবেই থামল ওটা প্রচণ্ড এক ঝাঁকুনি দিয়ে। আটকে রইল ওখানেই।

    কির্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌র্‌ক!

    ঘুরল জ্যাকসন—কীসের আওয়াজ, পরীক্ষা করে দেখার জন্য। তাকাল নিচে, কোনার দিকে।

    ‘যিজাস!’ বেরিয়ে এল গলা দিয়ে।

    অ্যানাবেলের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে জ্যাকসন, একই সঙ্গে লম্বা হচ্ছে ওর তর্জনিটা, এগিয়ে যাচ্ছে ডাউন বাটনের দিকে।

    ‘কাম অন… প্লিজ….

    লোকটার আঙুল খুঁজে নিল বাটনটা… চাপ দিল জোরের সঙ্গে…

    কিছুই ঘটল না এক মুহূর্ত। সেটাই বরং ভালো ছিল। কারণ, পরমুহূর্তে তার ছিঁড়ে খসে পড়ল লোহার বাক্সটা! দশ তলার উপর থেকে সোজা রওনা দিয়েছে নিচের দিকে!

    অসহায়, বন্দি জ্যাকসন গলা ফাটাতে লাগল অবর্ণনীয় আতঙ্কে।

    .

    ঝাপসা একটা পতন প্রত্যক্ষ করল তানিয়া.. এলিভেটরের শ্যাফটে। কেয়ামত নাজিল হলো যেন মুহূর্ত পরে। প্রলয়ঙ্কর একটা আওয়াজ কাঁপিয়ে দিল দালানের ভিত পর্যন্ত।

    .

    জোশুয়া জ্যাকসন আর এ জগতে নেই। একখানা রিইনফোর্সিং বার এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে লোকটাকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এলিভেটরের ভিতরে। যেন মহাপতনটা যথেষ্ট ছিল না ওর মৃত্যুর জন্য!

    .

    দাঁড়ানো অবস্থা থেকে ধসে পড়ল তানিয়াও। সব আশা- ভরসা শেষ হয়ে গেছে ওর।

    .

    কাজ থেকে বাসায় ফিরছে জনি গ্রেভ। রাস্তার শেষ বাঁকটা ঘুরল ও নিজেদের অ্যাপার্টমেন্ট দালানের উদ্দেশে। থমকে দাঁড়াল সামনে জটলা দেখে।

    বিল্ডিঙের বাসিন্দারা সবাই মনে হয় বেরিয়ে এসেছে রাস্তায়। স্থানীয় পুলিসের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে কয়েক জনকে।

    ‘তানি…’ অস্ফুটে বেরিয়ে এল জনির মুখ দিয়ে। আফ্রিকান ড্রাম বাজছে বুকের মধ্যে।

    .

    ফোঁপাচ্ছে তানিয়া।

    ‘…যে-কোনও শর্তেই রাজি আছি আমি… দয়া করো… খালি ফিরিয়ে দাও আমার বুকের মানিককে…’

    গভীর একটা গুরুগুরু আওয়াজ হলো।

    ঝুলন্ত ছবিগুলো কাঁপতে কাঁপতে খসে পড়তে লাগল দেয়াল থেকে। ফার্নিচারগুলো পিছলে সরে যাচ্ছে কামরার এদিক-সেদিক। ভূমিকম্প হচ্ছে যেন।

    দু’হাতে কান ঢাকল তানিয়া। তক্ষুনি কী যেন ভাঙল পড়ে ওর পায়ের কাছে।

    আতঙ্কিত, বোবা দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল তানিয়া। ফাদার রোডরিগেজের দেয়া ফোটোগ্রাফ ওটা।

    ত্রস্ত হাতে মেঝে থেকে তুলে নিল ওটা আকিরার আম্মু। বুঝে ফেলেছে, পিশাচ-দেবতা কী বার্তা দিতে চাইছে ওকে।

    ‘নিষ্পাপ কারও আত্মা চাও তো তুমি?’ সঙ্কল্প ফুটল তানিয়ার গলায়। ‘সৃষ্টিজগতের যে-কোনও প্রাণীর চাইতে স্রষ্টার সবচাইতে কাছের, সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে মায়েরা…’

    .

    জটলাটার কাছে পৌছে গেছে জনি। সকলেই ফুটছে উত্তেজনায়।

    ‘কেউ কি বলবেন একটু, কী হয়েছে?’ জিজ্ঞেস করল ও একজনকে। ‘কেউ কি দেখেছেন আমার মিসেসকে?’

    ‘ভয়ঙ্কর একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে, ভাই!’ বলল লোকটা চোখ কপালে তুলে। ‘এলিভেটরটা—’

    আর শোনার জন্য দাঁড়াল না জনি। ফ্রন্ট-স্টেপের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে পায়ে যেন পাখা গজাল ওর।

    লবিতে উঠেই দেখতে পেল অফিসার আর প্যারামেডিকদের। ঠেলাঠেলি করছে ভগ্নস্তূপে পরিণত হওয়া এলিভেটরটার সামনে। কে যে কাকে কী বলছে, বোঝা বড় দায়। তা-ও ওভারহিয়ার করল এক অফিসারের বক্তব্য:

    ‘…মালিকের নাতি নাকি লোকটা… এই মাত্র শনাক্ত করা হয়েছে ডেডবডিটা…’

    .

    দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তানিয়া। ওকে ঘিরে ঘটে চলা বিশৃঙ্খলার প্রচণ্ড ঘূর্ণিপাক ছাপিয়ে চিৎকার করে উঠল:

    ‘…আমার আত্মা নাও তুমি আকিরার বদলে!’

    এই একটা কথায় কাজ হলো যেন ম্যাজিকের মতো। নিমেষেই বন্ধ হয়ে গেল নরক গুলজার। সমস্ত কোলাহল এক লহমায় থেমে গিয়ে নেমে এসেছে পিন-পতন নৈঃশব্দ।

    তার পর…

    শোনা গেল একটা আওয়াজ… মিহি সুরে শিস দিচ্ছে হাওয়া… আহ্বান করছে যেন নার্সারি থেকে!

    পায়ে পায়ে এগিয়ে চলল তানিয়া।

    .

    এক এক বারে দুটো করে সিঁড়ি ভাঙছে জনি। ক্ষণে ক্ষণে ডাকছে স্ত্রীর নাম ধরে।

    .

    কীভাবে যেন খুলে গেছে নার্সারির জানালাটা! জানালার তাকের উপর বসে রয়েছে অ্যানাবেল!

    পরিষ্কার বুঝতে পারল তানিয়া, ঠিক কী চাইছে অপশক্তিটা।

    খোলা জানালার দিকে দু’কদম এগোতেই দোলনায় দেখতে পেল ও মেয়েকে! ফিরে এসেছে আকিরা! ফেরত দিয়েছে ওকে অন্ধকারের দেবতা!

    বাচ্চাটার কাছে এসে দাঁড়াল জননী। ঝুঁকে চুমু খেল কপালে। অশ্রুর ঢল নেমেছে তানিয়ার দুচোখ থেকে। ফিসফিস করে উচ্চারণ করল, ‘সব কিছুর চাইতে ভালোবাসি আমি তোমাকে… তা-ও যেতে হচ্ছে, মা! তোমার জন্য… তোমারই জন্য করছি আমি কাজটা…’

    ঋজু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে গেল মহিলা। অটল রয়েছে সিদ্ধান্তে। পা বাড়াল আবার খোলা জানালাটার দিকে। কাছে পৌঁছে তাক থেকে তুলে নিল পুতুলটাকে।

    .

    ঘন ঘন, রোষায়িত শ্বাস ফেলতে ফেলতে পৌছাল জনি আট তলার হলওয়েতে।

    বন্ধ ওদের দরজাটা।

    ‘দরজা খোলো! দরজা খোলো, তানি!’ এক হাতে দরজায় থাবা দিতে দিতে অন্য হাতে পাগলের মতো পকেট হাতড়াতে লাগল যুবক। গেল কোথায় চাবিটা?

    .

    জানালার তাকে উঠে পড়েছে তানিয়া। শেষ বারের মতো চাইল ও শিশুর মতো কোলে নেয়া অ্যানাবেলের দিকে। হাসছে স্নেহের হাসি। যেন বলতে চাইছে: চল, বাবু, উড়াল দিই বাতাসে!

    .

    পাওয়া গেছে চাবিটা। খোলা গেছে দরজা।

    ‘তানি! …কোথায় তুমি?!’ ভিতরে পা রেখেই বাড়ি মাথায় তুলল জনি।

    ওর কথা শুনতে পাচ্ছে না তানিয়া। ঝোড়ো বাতাস দু’কান ভরে রেখেছে ওর। বাতাসে উড়ছে নিজের ও ঘরের কাপড়চোপড়গুলো।

    নিচের দিকে চাইল মেয়েটা, রাস্তাটার দিকে

    জটলার লোকেরা দেখতে পেয়েছে ওকে।

    ‘নাআআআ! লাফ দেবেন না!’ আকুল আবেদনের ভঙ্গিতে চিৎকার ছাড়ল কৃষ্ণাঙ্গ একটা ছেলে।

    ‘…কিন্তু আমাকে যে করতেই হবে কাজটা!’ নিজেকে বলল তানিয়া। ‘নিজের জন্য নয়, আমার আকিরা মামণিটার জন্য!’

    .

    নার্সারির দরজাটার সঙ্গে কুস্তি করছে জনি।

    ‘তানিহ! ভিতরে আছ তুমি?’

    কাঁধের এক ধাক্কায় দড়াম করে খুলে গেল দরজাটা।

    .

    এক পা আগে বাড়ল তানিয়া বাইরের দিকে। শেষ বারের মতো ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল ও দোলনাটার দিকে। বুকটা ভেঙে যাচ্ছে এভাবে মেয়েটাকে ছেড়ে যেতে… কিন্তু…

    ‘আসি, মা, কেমন?’

    শূন্যে পা রাখল তানিয়া — ঠিক যখন দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকল জনি।

    চোখের সামনে স্ত্রীকে জানালা থেকে পড়ে যেতে দেখল যুবক। কিচ্ছু করতে পারল না ও… কিচ্ছু না!

    ‘তানিয়াআআআআআহ!’

    ঝোড়ো বাতাস উড়িয়ে নিয়ে গেল বুক চেরা সে- হাহাকার।

    পরিশিষ্ট

    সস্তা জিনিস বিক্রি হয় দোকানটায়। টুকিটাকি অনেক কিছুই সাজানো রয়েছে তাকগুলোয়। দরকারি প্রায় সব কিছুই পাবেন আপনি এখানে। কম দামে অবশ্যই।

    সকালবেলা।

    ঝুনঝুন করে বেজে উঠল দরজার উপরের ঘণ্টিটা। চল্লিশোর্ধ এক মহিলা দরজা ঠেলে প্রবেশ করল দোকানে, টগবগ করছে আগ্রহে।

    রেজিস্টারে বসা ক্লার্ক জিজ্ঞেস করল তাকে, ‘বলুন, ম্যাডাম, কী সাহায্য করতে পারি আপনাকে!

    হাসল মহিলা। চোখ বোলাচ্ছে তাকগুলোতে।

    ‘ওহ… থ্যাঙ্কস। মেয়েকে দেয়ার জন্য ভালো একটা উপহার খুঁজছি আসলে…’

    ‘কী করে আপনার মেয়ে?’

    ‘ওহ… নার্স ও… মানুষের সেবায় নিয়োজিত যাকে বলে।’ উপরের একটা তাকে চোখ আটকে গেল মহিলার। ধীরে ধীরে চওড়া হলো হাসিটা। এরকম একটা জিনিসই তো চাইছিল ও এক্কেবারে ছেলেমানুষ ওর মেয়েটার জন্য। কপাল ভালো, পেয়ে গেল একবারেই।

    ‘দেখি তো ওই পুতুলটা!’ দেখাল মহিলা আঙুল দিয়ে।

    বড় হয়ে গেলেও এখনও পুতুল নিয়ে খেলতে ভালোবাসে মেয়েটা।

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআর্সেন লুপাঁ ভার্সেস হার্লক শোমস
    Next Article ভ্যাঙ্কুভারের ভ্যাম্পায়ার – ডিউক জন

    Related Articles

    ডিউক জন

    ভ্যাঙ্কুভারের ভ্যাম্পায়ার – ডিউক জন

    August 19, 2025
    ডিউক জন

    আর্সেন লুপাঁ ভার্সেস হার্লক শোমস

    August 19, 2025
    ডিউক জন

    সুবৰ্ণ সমাধি – ডিউক জন

    August 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026
    Our Picks

    প্রবাদ মালা – রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার

    May 9, 2026

    প্লেটোর রিপাবলিক – সরদার ফজলুল করিম

    May 9, 2026

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }