Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৪ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    লেখক এক পাতা গল্প1895 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. নয়, দশ, রামপাখি বশ

    ইনকোয়েস্ট শেয। দুই বন্ধু বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। জ্যাপের মনে আনন্দের উচ্ছ্বাস। জোরে হেসে উঠে তিনি বললেন–ফাটিয়ে দিয়েছেন মশাই। শিহরণ জাগছে শরীরে।

    মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন পোয়ারো।

    জ্যাপ অবার বলতে লাগলেন প্রথম থেকেই আপনি সঠিক পথে এগোচ্ছিলেন। তবে আমারও সন্দেহ ছিল না তা নয়। এমন নৃশংস হত্যালীলা কেউ যে করতে পারে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। কারণ ছাড়া মৃতদেহের মুখ বিকৃত করা যায় না। সনাক্তকরণে বিঘ্ন ঘটানোই এর প্রকৃত কারণ। মৃতদেহটা মিস সীলের না হয়ে অন্য মহিলার হতে পারে এটা বোঝা উচিত ছিল আমার। বিচক্ষণতার অভাব ঘটেছে।

    পোয়ারো স্মিত হেসে বললেন–ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। মিস সেইনসবারি সীল অতি সাধারণ, সাজ পোশাকে শৌখিনতার আধিক্য নেই। সাদামাটা প্রসাধন। সেই তুলনায় মিসেস চ্যাপম্যান সুন্দরী, ধনী, করিৎকর্মা মহিলা। তবে তাদের দুজনের বিশেষত্ব হল, দু’জনেই চল্লিশ বছর পার করেছেন। উচ্চতা প্রায় এক, শুভ্র কেশ দু’জনেরই।

    জ্যাপ বললেন–হ্যাঁ, তা সত্যি। ম্যাকেল আমাদের বোকা বানিয়েছে। আমি নিশ্চিত তিনিই নাটের গুরু।

    নিশ্চয়ই। তার অতীত জীবন আমাদের অজানা নয়।

    তবে খুন করতেও তার হাত কাঁপে না সেটা আজ প্রত্যক্ষ করলাম। এখন মনে হচ্ছে ম্যাকেলই সিলভিয়াকে খুন করেছে। নাকি সিলভিয়ার খুনি ম্যাকেল।

    এরকুল পোয়ারো তীব্র স্বরে প্রতিবাদ করে বললেন–আমি আপনার কথা মানতে পারছি না। আমি কিছুতেই মিসেস সীলকে খুনির আসনে বসাতে পারছি না।

    জ্যাপ উত্তেজিত হয়ে বললেন–আমি এই মামলার শেষ দেখে ছাড়ব, বন্ধু আমি ওই মহিলাকে হার মানতে বাধ্য করবই।

    পরদিন ফোন পেলেন পোয়ারো। জ্যাপ করেছেন। তার গলার স্বর ভারী। তিনি বললেন একটা খবর দিই আপনাকে, বন্ধু। আমাদের সব পরিশ্রম বৃথা গেল।

    –ঠিক বুঝলাম না। উৎকণ্ঠা ঝরে পড়ছে পোয়ারোর গলার স্বরে।

    –আমাদের দায়িত্ব শেষ। কাজকর্ম বন্ধ। এখন আমরা ছুটি কাটাব ইচ্ছেমতো।

    পোয়ারো চমকে উঠে বললেন–পাগলের মতো কি সব বলছেন?

    তিক্ত স্বরে জ্যাপ বললেন–তদন্তের কাজ সব নষ্ট হয়ে গেল। এত প্রচার, হৈ চৈ, জেরা, জবাবদিহি সব কৌশলে চাপা দেওয়া হল।

    কিছুই আমার বোধগম্য হচ্ছে না। তাহলে শুনুন। এতদিন ধরে আমরা যে তল্লাশি চালিয়েছি তা মনে আছে তো? কোন মাছ ধরতে সারা দেশে জাল ফেলেছি সেটাও মনে আছে?

    –হ্যাঁ, হ্যাঁ। তারপর?

    –সেটা গুটিয়ে ফেলতে হবে। বলতে পারেন চাপা দেওয়া হল ব্যাপারটাকে।

    –কিন্তু কার নির্দেশে? বিদেশ দপ্তরের নির্দেশে। এটা অকল্পনীয় নয় কি? হতে পার তবে এরকম ঘটনা বিরল নয়। ওই মাছ নিয়ে তাদের এত আগ্রহ কেন?

    –তাকে নিয়ে তারা অত মাথা ঘামায় না। প্রচারে তাদের আপত্তি। অভিযুক্তকে আদালতে তুলতে হবে। জেরাতে মিসেস চ্যাপম্যানের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠবে। সুতরাং এখানেই ইতি টানো। জ্যাপ চিন্তিত স্বরে বললেন কিন্তু মি. চ্যাপম্যানের অবস্থা কি হবে?

    — হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন।

    –তিনি বিদেশে কোনো বিপজ্জনক জায়গায় থাকলে এই ঘাঁটাঘাঁটিতে ব্যাপারটা কোথায় এসে দাঁড়াবে বুঝতে পারছেন?

    -ওঃ বুঝলাম। ভীষণ বিরক্তিকর ব্যাপার।

    জ্যাপ কর্কশ সুরে বললেন–ওই মহিলাকে হাতে পেয়েও ছেড়ে দিতে হবে। এটা মনে পড়লেই সারা শরীর রাগে জ্বলে যাচ্ছে, বন্ধু।

    পোয়ারো ধীরে ধীরে বললেন কিছু ভাববেন না, দোস্ত, সে হাতছাড়া হবে না।

    দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে জ্যাপ বললেন কিন্তু কিভাবে, আমরা ওপরতলার কড়া নিয়মে বাঁধা পড়েছি।

    –আরে মশাই, আমি তো রয়েছি। আমি আপনাদের মতো নিয়মের বেড়াজালে আটকে নেই।

    জ্যাপ দারুন খুশি। বললেন–বাঃ চমৎকার। আপনি এগিয়ে যান। আমার শুভেচ্ছা রইল।

    –অবশ্যই আমৃত্যু লড়ে যাব।

    –তা ভাল। তবে দেখবেন, প্রথম থেকেই ঘটনার যা ঘনঘটা দেখলাম, আপনাকে না কেউ শেষ করে ফেলে।

    পোয়ারো ফোন ছেড়ে দিলেন। মনে মনে বললেন–এরকম অতিরঞ্জিত কথা না বলাই ভালো ছিল। ভারি অদ্ভুত একটা মন্তব্য করলাম–আমৃত্যু।

    সন্ধ্যার ডাকে এরকুল পোয়ারোর নামে একটি চিঠি। টাইপ করা চিঠির বয়ান আর সইটা হাতে লেখা।

    পোয়ারো চিঠিটা খুললেন। তাতে লেখা আছেঃ

    আমি আপনার সাক্ষাৎ প্রার্থী। আমার বাড়ি বেলসিতে যদি একবার আসেন তাহলে আমি খুব খুশি হব। আগামীকাল সাড়ে বারোটায়। আপনাকে একটা কাজ দেব। যদি আসতে না পারেন তাহলে দয়া করে আমার সেক্রেটারিকে টেলিফোনে জানিয়ে দেবেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্য কোনো সময় ঠিক করতেও পারেন। তবে মনে রাখবেন আগামীকালই এলে উপকৃত হব। কম সময় দেওয়ার জন্যে ক্ষমা চাইছি।
    —আপনার বিশ্বস্ত,
    অ্যালিস্টেয়ার ব্লাস্ট।

    চিঠিখানা মন দিয়ে পড়লেন। বার বার পড়লেন। চিঠির বক্তব্যেই গুরুত্ব বোঝার চেষ্টা করলেন। ঠিক সেই সময় তাঁর টেলিফোন বেজে উঠল।

    এরকুল পোয়ারো নিজের সম্পর্কে আস্থাবান যে টেলিফোনের শব্দ শুনে ধরতে পারেন কি ধরনের খবর পেতে চলেছেন।

    এ ক্ষেত্রে তিনি বুঝলেন, বার্তাটা জরুরি। এটা রঙ নাম্বার অথবা কোনো বন্ধুর ফোন হতে পারে না।

    তিনি রিসিভার কানে ধরলেন। তিনি স্বভাবসুলভ স্বরে বললেন–হ্যালো?

    নেতিবাচক এক মহিলার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন–এটা কত নম্বর?

    –এটা হোয়াইট হল ৭২৭২।

    একটু থেমে ওই মহিলার কণ্ঠস্বর পোয়ারোর কানে এল–মঁসিয়ে পোয়ারো বলছেন?

    –হ্যাঁ, বলছি।

    –মঁসিয়ে এরকুল পোয়ারো?

    –হ্যাঁ।

    –মঁসিয়ে পোয়ারো, ইতিমধ্যে আপনি একটা চিঠি পেয়েছেন অথবা পাবেন।

    –কে বলছেন? আমি কি জানতে পারি?

    –আপনার জানার প্রয়োজন নেই।

    –বেশ। জানতে চাই না। তবে, একটা কথা জানাই মাদাম, এর মধ্যে আমি আটটি চিঠি ও তিনটে বিল পেয়েছি।

    কোন চিঠির কথা বলছি তা আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। যে কাজের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হবে তা গ্রহণ না করলেই মঙ্গল হবে, মঁসিয়ে পোয়ারো।

    –এটা আমার ওপর ছেড়ে দিন, মাদাম।

    হিমশীতল স্বরে জবাব এল–মঁসিয়ে পোয়ারো, আপনাকে সাবধান করছি। আপনি এর মধ্যে মাথা গলাবেন না। আপনার এই ঔদ্ধত্য আমরা বরদাস্ত করব না।

    যদি আপনাদের সাবধানবাণী না শুনি?

    –তাহলে আপনি বিপদে পড়বেন, মঁসিয়ে পোয়ারো। আমরা সেই ব্যবস্থাই করব।

    –এটা হুমকি দেওয়া হচ্ছে, মাদাম।

    –আমরা আপনাকে সচেতন করতে চাইছি। এতে আপনার মঙ্গল হবে।

    –আপনার মহত্ত্বের পরিচয় পেয়ে কৃতার্থ হলাম, মাদাম।

    –যা বলছি সেটা মেনে চলুন। যে বিষয়ে আপনি নিজেকে জড়িয়ে ফেলছেন সেটা থেকে সরে আসুন।

    ওহ, হ্যাঁ। তবে মি. মর্লের মৃত্যু নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। ওটা নিছক দুর্ঘটনা একটা মাত্র। সে আমাদের কাজে বাধার সৃষ্টি করছিল।

    –তিনি মানবিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাই অকালে মরতে হল।

    –সে অবিবেচকের মতো কাজ করেছিল। তাই সে যোগ্য শাস্তি পেয়েছে।

    –আমিও বিবেচক হতে রাজি নই।

    –তাহলে আপনি বোকামি করবেন।

    বলেই অন্যদিক থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

    পোয়ারো বারকয়েক হ্যালো বললেন, কিন্তু ও প্রান্ত থেকে কোনো শব্দ শুনতে পেলেন না। রিসিভার নামিয়ে রেখে ভাবলেন, ফোনটা কোথা থেকে করা হয়েছে ইচ্ছে করলে জানা যাবে। কিন্তু লাভ হবে না কারণ ফোনটা এসেছে কোনো পাবলিক বুথ থেকে।

    ধীরে ধীরে তিনি মনে করতে লাগলেন ওই মহিলার কণ্ঠস্বর তার ভীষণ চেনা লাগছে। আগে কোথাও শুনেছিলেন। ম্যাকেল সেইনসবারি সীলের কণ্ঠস্বর নয়তো? তবে মিস সীল একটু চড়া সুরে কথা বলে থাকেন। এটাও আশ্চর্যের নয় যে তিনি অন্যের গলা অনুকরণ করে ফোন করতে পারেন না। কারণ তিনি একজন অভিনেত্রী এটা ভুললে হবে না।

    কিন্তু এই যুক্তি তাঁর মনঃপূত হল না। তিনি অন্য একজনের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মিল খুঁজতে চাইছেন।

    সকালে সংবাদপত্রে এক দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ সংবাদ প্রকাশিত হল। প্রধানমন্ত্রীকে কে বা কারা গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছে। তিনি সেই সময় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছিলেন। সঙ্গে এক বন্ধু ছিলেন। তবে ভাগ্য ভাল, গুলিটা তাঁর শরীরে লাগেনি। কিছুটা দূর থেকে চলে গেছে। এজন্য একজন ভারতীয়কে স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ডের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। খবরটা পোয়ারো মন দিয়ে পড়লেন। তারপর সোজা গিয়ে হাজির হলেন স্কটল্যাণ্ড ইয়ার্ডে জ্যাপের অফিস ঘরে। জ্যাপ তাকে সাদরে অভ্যর্থনা করলেন।

    বাঃ আপনারও চোখে পড়েছে খবরটা। আর পড়বেই না কেন এমন মুখরোচক খবর। তা বন্ধুটি কে তা লিখেছে খবরের কাগজে?

    না, তিনি কে আপনি জানেন?

    –অ্যালিস্টেয়ার ব্লাস্ট।

    –-সত্যি? পোয়ারো অবাক হয়ে বললেন?

    -হ্যাঁ, বন্ধু। আমি নিশ্চিত মি. ব্লাস্টকে গুলিটা ছোঁড়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তাদের লক্ষ্য নয়। লোকটার লক্ষ্যভেদ ভুল হওয়ায় মি. ব্লাস্ট বেঁচে গেলেন।

    –লোকটা কে জানতে পেরেছেন?

    –এক হিন্দু ছাত্র। ওর সাথে মি. ব্লাস্ট-এর কোনো শত্রুতা নেই এটা জানা গেছে। ওকে টাকার বিনিময়ে কাজে লাগানো হয়েছে। কিন্তু সে কার হুকুমে একাজ করেছে, তা এখনও স্বীকার করেনি। ছাত্রটিকে গ্রেপ্তার করার কৃতিত্ব কিন্তু আমাদের নয়। এতে সাহায্য করেছেন এক আমেরিকান ভদ্রলোক। তিনি সে সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি গুলি ছোঁড়া দেখেছেন। আর সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটিকে ধরে ফেলেন। সে পালাবার চেষ্টা করলে লোকটি চিৎকার করে পুলিশ ডাকেন। এরপর আমাদের লোক গিয়ে ছেলেটিকে গ্রেপ্তার করে।

    পোয়ারো বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলেন–আমেরিকান? দেখেছেন আপনি? দাড়ি আছে?

    –এক তরুণ, নাম তার হাওয়ার্ড রেইকস। পোয়ারোর মুখের দিকে দৃষ্টি পড়তে থমকে গেলেন জ্যাপ। তারপর কোনরকমে বললেন–কি হল, বন্ধু? আপনি চেনেন?

    পোয়ারো বিষণ্ণ সুরে বললেন–হাওয়ার্ড রেইকস। থাকেন হাবোর্ন প্যালেস হোটেলে।

    –হ্যাঁ। ওহ মনে পড়েছে। তাই ভাবছিলাম নামটা কেন চেনা লাগছে। আরে সেই ভদ্রলোক যে নাকি মর্লের মৃত্যুর দিন তার কাছে এসেছিল। অথচ ডাক্তার না দেখিয়ে চলে গিয়েছিল। কি আশ্চর্য। তাই না। একই জিনিস বার বার আমাদের সামনে আসছে। এখনও আপনার মাথাতে সেই পুরোনো পোকাটা রয়েছে?

    পোয়ারো তীব্রস্বরে বললেন–হ্যাঁ, এটা আমার প্রত্যাশা পূরণ না হলে বেরোবে না।

    ঠিক সাড়ে বারোটায় পোয়ারো গথিক হাউসে এলেন। তাকে অভ্যর্থনা করলেন একজন সেক্রেটারি। মার্জিত; শিক্ষিত তরুণ যুবা।

    তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করে বললেন–মঁসিয়ে পোয়ারো, আমি দুঃখিত মি. ব্লাস্টও দুঃখপ্রকাশ করেছেন আপনাকে এখানে ডেকে আমার জন্যে, তিনি এখন নেই। তাঁর ডাক এসেছে ১০ ডাউনিং স্টিট থেকে। কারণ, গতকালের সেই অযাচিত ঘটনাটা। আমি আপনার ফ্ল্যাটে যোগাযোগ করেছিলাম। আপনার পরিচারক বলল, আপনি বেরিয়ে পড়েছেন। থেকে কোনো মন্তব্য না পেয়ে তরুণটি আবার বলতে লাগলেন–কেন্টের এমহ্যাসে মি. ব্লাস্টের একটি বাগানবাড়ি আছে। যদি সম্ভব হয় আপনাকে সেখানে যেতে বলেছেন। সপ্তাহের শেষের দিনটি আপনার সঙ্গে কাটানোর ইচ্ছে তার। আপনি যদি রাজি থাকেন বলুন। আমি তাকে জানিয়ে দেব। ফলে তিনি গাড়ি নিয়ে চলে যাবেন সেখানে।

    পোয়ারো ভাবছিলেন কি জবাব দেবেন।

    যুবকটি আবার বলতে শুরু করলেন মি. ব্লাস্ট আপনার সাথে দেখা করার জন্য খুবই ব্যাকুল হয়েছেন, মঁসিয়ে পোয়ারো।

    পোয়ারো এবার মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন বেশ, আমি আমন্ত্রণ গ্রহণ করছি।

    ধন্যবাদ, আপনি যেতে রাজি হয়েছে শুনলে মি. ব্লাস্ট খুশি হবেন। একটা কথা, তিনি যদি ছটা নাগাদ যান তাহলে তার চোখ পড়ল মিসেস অলিভেরা জেনের দিকে। ইনি মিস অলিভেরার মা। তিনি সেই মুহূর্তে ঘরে প্রবেশ করেছেন। তিনি সুন্দর সাজে সজ্জিত। মাথায় দামি টুপি। সেই টুপিটি চোখের ভু পর্যন্ত নামানো ছিল।

    তিনি তীব্রস্বরে বললেন–ওহঃ! মি. সেলবি, মি. ব্লাস্ট কি বাগানের চেয়ারের বিষয়ে আপনাকে কিছু বলেছেন? আমি গত সপ্তাহে তাকে বলেছিলাম। শুনেছি উনি সপ্তাহের শেষে বাইরে বেড়াতে যাবেন তাহলে তো কথা শেষ না করেই থেমে গেলেন পোয়ারোকে দেখে।

    সেক্রেটারি ছেলেটি জানতে চাইলেন মিসেস অলিভেরার সঙ্গে আপনার এর আগে আলাপ হয়েছিল, মঁসিয়ে পোয়ারো?

    পোয়ারো মাথা নেড়ে সায় দিলেন।

    মিসেস অলিভেরা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে বললেন,

    –ওহ! মি. পোয়ারো? ভালো আছেন? হ্যাঁ, মি. সেলবি, যা বলছিলাম, মি. ব্লাস্ট খুবই ব্যস্ত মানুষ জানি তাই এইসব ছোটোখাটো বিষয়ে তিনি মাথা ঘামান না–

    মি. সেলবি সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন ঠিক আছে, মিসেস অলিভেরা। এই প্রসঙ্গে স্যারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি মেসার্স ভিডার্সকে ডেকে পাঠিয়েছি। তিনি আজ আসবেন।

    মিসেস অলিভেরা বললেন–ধন্যবাদ, আমি নিশ্চিন্ত হলাম মি. সেলবি, আর একটা কথা, সপ্তাহের শেষে আমরাই কি কেবল ক্রমহ্যামে যাব নাকি আর…..।

    মি. সেলবি শান্ত স্বরে বললেন–হা, মিসেস অলিভেরা, আপনার অনুমানই ঠিক। আমাদের সঙ্গে মি. পোয়ারোও যাচ্ছেন।

    -সত্যি?

    পোয়ারো হাসি মুখে বললেন মি. ব্লাস্টের মতো মানুষের আমন্ত্রণ আমি উপেক্ষা করতে পারি না। তাই তাঁর আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করলাম।

    মিসেস অলিভেরা ক্ষুব্ধ স্বরে বললেন–মানে, আলিস্টেয়ার আমাকে বলেছিলেন সপ্তাহটা আমাদের সঙ্গেই কাটাবেন। অন্য কোনো অতিথি সেখানে থাকবে না।

    মি. সেলবি গলায় দৃঢ়তা এনে বললেন–মাপ করবেন, মিসেস অলিভেরা, মি. পোয়ারোর সঙ্গে মি. ব্লাস্টের জরুরি আলোচনা আছে। তাই তিনি তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    –তাহলে উনি আমাকে কথাটা জানাননি কেন?

    এমন সময় সেখানে হাজির হল মিস জেন অলিভেরা। সে তার মাকে বলল–গলার স্বরে বিরক্তির প্রকাশ।, তুমি এখনও রেডি হওনি। মধ্যাহ্নভোজের সময় হয়ে গেছে।

    আর একটু অপেক্ষা করো জেন, আসছি। হঠাৎ দেখতে পাওয়ার ভান করে পোয়ারোকে বলল–ওহ মঁসিয়ে পোয়ারো, আপনি কখন এলেন?

    মিসেস অলিভেরা তিক্ত স্বরে বললেন–মসিয়ো পোয়ারো, সপ্তাহের শেষ কাটাতে যাচ্ছেন আমাদের সঙ্গে ক্রমহ্যামে।–

    ওহ, বেশ মজা হবে। মিসেস অলিভেরা চলে গেলেন। এবার জেন পোয়ারোর সামনে একটু এগিয়ে এল। খুব নিচু গলায় বলল, কেউ যাতে শুনতে না পায়–মঁসিয়ে পোয়ারো, সত্যি আপনি ক্রমহ্যামে আসছেন? কিন্তু কেন? ‘

    কাঁধ ঝাঁকিয়ে পোয়ারো বললেন–এটা আপনার কাকার সিদ্ধান্ত, মিস অলিভেরা।

    জেন অসহিষ্ণু হয়ে বলল–তিনি কখন বলেছেন আপনাকে? কাকা তো কিছুই জানেন না–সম্ভবত না জানার কথা। আপনার সেখানে কি প্রয়োজন?

    জেনের মা হলঘর থেকে চিৎকার করে ডাকলেন–জেন, একটা বাজে, দেরি হয়ে যাবে চলে এসো।

    জেন চলে যেতে যেতে হিস হিস করে বলে গেল প্লীজ, আপনি আসবেন না।

    জেন চলে যেতে পোয়ারো মিসেস অলিভেরার চীৎকার শুনতে পেলেন। তিনি উচ্চস্বরে বলছেন, জেন, তুমি ভীষণ অবাধ্য হয়েছ। আমাকে একটা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আমার কথার বিরুদ্ধাচরণ না করো।

    তরুণ সেক্রেটারি মি. সেলবি বলে উঠলেন–তাহলে মঁসিয়ে পোয়ারো, আগামীকাল ঠিক পৌনে ছ’টার সময়। ভুলবেন না যেন।

    পোয়ারো পাথরের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। কোনোরকমে জবাব দিলেন অবশ্যই।

    মুহূর্ত কয়েক আগে তাঁর কানে যে কথাগুলো এল সেই কণ্ঠস্বরের সঙ্গে গতরাত্রে টেলিফোনে শোনা কণ্ঠস্বরের মিল খুঁজতে চাইছিলেন তিনি। তাই গতকাল গলাটা তার চেনা বলে মনে হয়েছিল।

    তিনি গথিক হাউস থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন।

    পথ চলতে চলতে ভাবছেন, তাহলে মিসেস অলিভেরা টেলিফোনে ভয় দেখাচ্ছেন? কি করে সম্ভব? স্বার্থপর, বুদ্ধিহীনা, যুক্তির ধার ধারেন না, আত্মগরিমায় বিভোর, মুরগির মতো নাদুসনুদুস মহিলার পক্ষে এমনটা করা অসম্ভব। তিনি মনে মনে হাসলেন, ভাবলেন তার কানই তাঁর সঙ্গে বিট্রে করেছে।

    সকাল পৌনে ছ’টায় একটা রোলস গাড়ি এসে দাঁড়ালো এরকুল পোয়ারোর বাড়ির সামনে। গাড়িতে দুজন আরোহী। একজন গাড়ির মালিক অ্যালিস্টোর ব্লাস্ট, অন্যজন তার সেক্রেটারি মি. সেলবি।

    পোয়ারো গাড়িতে উঠে বসলেন। গাড়ি চলতে শুরু করল। ব্লাস্ট তাঁর বাগান ও পুষ্প প্রদর্শনী নিয়ে কিছু কথা বললেন।

    পোয়ারো বললেন–অভিনন্দন মি. ব্লাস্ট। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে পেরেছেন বলে সত্যিই আনন্দিত হয়েছি।

    মি. ব্লাস্ট পোয়ারোর কথা শুনতে পেলেন না। তিনি বলে চললেন–সেদিন ছেলেটি আমাকে মারার চেষ্টা করেনি। ও চেয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে গুলি করতে। একাজে ছেলেটির কোনো অভিজ্ঞতা নেই। পেশাদার খুনি নয় সে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোঁড়ে সে। বেচারা টিপ কিভাবে করতে হয় তাই জানে না। ভেবেছিল প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে দিলেই অর্থনীতির পালাবদল ঘটবে। মূর্খ সব।

    এরকুল পোয়ারো বিমর্ষ সুরে বললেন আপনার জীবনের ওপর দিয়েও এরকম কতবার বিপদ গেছে, তাই না?

    মি. ব্লাস্ট হেসে বললেন–এতে ওরা আমায় দমিয়ে দিতে পারেনি। অনেকদিন আগে  একবার কে বা কারা ডাকে বোমা পাঠিয়েছিল। আমাকে মারার জন্য। কিন্তু সেই বোমা ছিল নিষ্ক্রিয়। তাই আমার কোনো ক্ষতি ওরা করতে পারেনি। যারা বিশ্বের কর্তৃত্ব হাতের মুঠোয় নিতে চাইছে তারা কিভাবে একটি বোমাকে কার্যকরী করতে হয় সেটাই জানে না। এতটাই মূর্খ তারা, ভাবুন একবার?

    পোয়ারো মাথা ঝাঁকালেন।

    মি. ব্লাস্ট আবার বলতে শুরু করলেন, আমি উচ্চ পদাধিকারী হলেও চালাক চতুর নই। চিরকালই সরল সাধারণ বুদ্ধিতে চলি। তবে অঙ্ক ও ইংরাজিতে আমার অসাধারণ জ্ঞান আছে। ইংরাজি কোনো লেখা যদি আমি পড়ি তার অর্থ সহজেই বুঝতে পারি। একটু হেসে বললেন, ছাড়ন ওসব কথা, তবে আমি বড় বড় কথা বলতে পছন্দ করি না। নিজের প্রশংসা নিজেই করা খুব খারাপ অভ্যেস। কাজের সব ব্যাপার আমি অফিসেই রেখে আসি। বেড়াতে বেরিয়ে ওসব কথা আলোচনা করে বেড়ানোর মজাটা নষ্ট করার পক্ষপাতী আমি নই। অনেক দিন ধরে আপনার রোমাঞ্চকর কাহিনি শোনার জন্যে আমি অপেক্ষা করে আছি। আমি অনেক রহস্য কাহিনি ও থ্রিলার পড়েছি। মঁসিয়ে পোয়ারো, আপনি কি বিশ্বাস করেন বাস্তব জীবনেও এরকম ঘটনা ঘটতে পারে?

    এরপরের যাত্রাপথে পোয়ারো নিজের কিছু চমকপ্রদ সাফল্যের কাহিনি শোনালেন। মি. ব্লাস্টও বাচ্চা ছেলের মতো মন দিয়ে শুনছিলেন। কখনো হো হো করে হেসে উঠছিলেন, আবার কখনো ভয়ে শিউরে উঠছিলেন।

    শেষপর্যন্ত তাঁরা তাঁদের গন্তব্যে এসে পৌঁছলেন। ক্রমহ্যামের বাগান বাড়ি। সেখানে আগেই এসে উপস্থিত হয়েছিলেন জেন অলিভেরা ও তার মা মিসেস অলিভেরা।

    মিসেস অলিভেরা পোয়ারোকে দেখে নিজের রাগ আর চেপে রাখতে পারলেন না। তাঁর আচরণে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটল। তিনি পোয়ারোকে গ্রাহ্যই করলেন না। মি. ব্লাস্ট ও মি. সেলবিকে সমাদরে বাড়ির ভেতর ডেকে নিয়ে গেলেন। কয়েক মুহূর্ত আগের আনন্দমুখর পরিবেশটা নিমেষে বিষাদে পরিণত হল।

    জেন এগিয়ে এসে এরকুল পোয়ারোকে নিয়ে গেলেন বাড়ির ভেতরে। দেখিয়ে দিলেন নির্দিষ্ট ঘরটিকে।

    চমৎকার বাড়ি। তবে ছোট্ট। ঘরগুলো খুব সুন্দর করে সাজানো। গৃহকর্তা শৌখিন মানুষ। তাই রুচিবোধও উচ্চমানের। লণ্ডনের বাড়ি যেভাবে সাজানো ঠিক সেই ভাবেই এই ঘরগুলি সুসজ্জিত। প্রতিটি জিনিসই মহামূল্যবান। এখানকার মানুষগুলোর কাজকর্ম পরিপাটি ও পরিষ্কার। ইংরাজসুলভ খাবার এবং ইউরোপীয় বয়। উৎকৃষ্ট স্যুপ, মটরশুটি সিদ্ধ, স্ট্রবেরি ও ক্রিম দিয়ে নৈশভোজ সারলেন পোয়ারো। নৈশভোজে প্রদত্ত সুরা পোয়ারোকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছিল। তিনি আহারে এতই মগ্ন ও তৃপ্ত ছিলেন যে মিসেস অলিভেরার বিসদৃশ আচরণ ও জেনের রুক্ষ ব্যবহার মনেই রাখলেন না। আহারের শেষে এরকুল পোয়ারো ভাবলেন যে কোনো কারণেই হোক জেন তার প্রতি ক্ষুব্ধ। তাই সে বিরূপ আচরণ করছে তাঁর সাথে কিন্তু কি সেই কারণ?

    মি. ব্লাস্ট মিসেস অলিভেরার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন–হেলেন আমাদের সঙ্গে খেতে বসল না কেন?

    জুলিয়া অলিভেরা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বলল–ওঁর বড্ড পরিশ্রম হয়েছে আজ। তাই ওকে ভীষণ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। আমি ওকে বলেছি পোশাক পাল্টে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তে।

    ব্লাস্ট হতাশ হয়ে বললেন–ভেবেছিলাম সপ্তাহের শেষ দিনটি সবাই মিলে মজা করে কাটাব।

    মিসেস অলিভেরা নিজের দোষ চাপা দেওয়ার জন্যে বললেন–হেলেন খুব ভালো মেয়ে। তাছাড়া ওর বেশি রাত পর্যন্ত জাগার অভ্যেস নেই।

    এরকুল পোয়ারো খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে পড়লেন, তিনি ড্রয়িং রুমে এলেন, অ্যালিস্টেয়ার ও তার সেক্রেটারি সেখানে বসে রইলেন।

    পোয়ারো ড্রয়িং রুমে ঢুকতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন। তার কানে গেল জেনের রুক্ষ গলা। সে তার মাকে বলছে, মা, হেলেন মসেরকে তুমি অ্যালিস্টেয়ার কাকার চোখের আড়াল করলে কেন? তিনি খুব অসন্তুষ্ট হয়েছেন এতে।

    মিসেস অলিভেরা কর্তৃত্বের সুরে বললেন–বেশ করেছি। অ্যালিস্টেয়ার অতি সজ্জন মানুষ। সে খুব উদার প্রকৃতিরও বটে। তাই কোনো গরিব আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের কষ্ট সহ্য করতে পারে না। নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। তেমনি হেলেনও একজন। তাকে বিনা ভাড়ায় এখানে থাকতে দিয়েছেন। সেটাই কি যথেষ্ট নয়। তা নয়, প্রতিবার আমরা সপ্তাহের শেষে এখানে আনন্দ করতে আসব, আর ওকেও তখন ডাকতে হবে, এর কোনো যুক্তি আছে। হতে পারে সে বোন বুও নিজের তো নয়। আলিস্টেয়ার ওর সব দায় দায়িত্ব নেবে তা আমি একেবারে বরদাস্ত করব না।

    জেন বলল–বাগান পরিচর্যার কাজ ও খুব দক্ষ হাতে করে। তাই ও ভীষণ অহংকারী।

    মিসেস অলিভেরা বললেন সেটাই তো স্বাভাবিক। স্কচরা কারও দাসত্ব গ্রহণ করে না, তাই তাদের সবাই সম্মান করে।

    এমন সময় ব্লাস্ট সেখানে এলেন। তিনি পোয়ারোকে সহাস্যে বললেন–মঁসিয়ে পোয়ারো আমার ঘরে চলুন।

    পোয়ারো তাকে অনুসরণ করে ঘরে এলেন। খুবই আরামদায়ক ঘরটি। তবে একটু নীচু। বাগানমুখী দুটি জানালা। বেশ কিছু সোফা ও চেয়ারে ঘরটি সাজানো।

    মি. ব্লাস্ট পোয়ারোর দিকে সিগারেট এগিয়ে দিলেন। নিজে একটি পাইপ ধরিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দিলেন।

    কিছুক্ষণ নীরবে কেটে গেল। এরপর মি. ব্লাস্ট বললেন এবার কাজের কথায় আসা যাক, মঁসিয়ে পোয়ারো। আমি মিস সেইনসবারি সীলের কথা আপনার কাছ থেকে জানতে চাইছি। পুলিশ প্রশাসন তার সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতে আর রাজি নয়। এর পিছনে কি কারণ আছে আমার জানা নেই। তাছাড়া অ্যালবার্ট চ্যাপম্যান কে, তার অভিসন্ধি কি সে বিষয়েও আমি ওয়াকিবহাল নই। ভিতরের ব্যাপার আমার জানা নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এটা খুশি মনে নিচ্ছেন না। তিনি প্রচার বন্ধ করতে বলেছেন। যাতে জনসাধারণের মনে এই ঘটনাটা রেখাপাত করতে না পারে, সেইজন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। এসবই হল সরকারি নিয়মকানুন। সেই মেনে পুলিশও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। মি. ব্লাস্ট পোয়ারোর সামনে এগিয়ে এসে বললেন, সে যাইহোক, আমি প্রকৃত সত্য জানতে চাই। তাই এই কাজটার দায়িত্ব আপনার হাতেই সঁপে দিলাম, মঁসিয়ে পোয়ারো। সরকারি নিয়মকানুনে আপনার হাত বাঁধা পড়েনি। তাই আপনি স্বাধীনভাবে এই কাজটি করতে পারবেন।আমি কি করতে পারি মি.-ব্লাস্ট? আপনি মিস সেইসনবারি সীলের খোঁজ করুন। মৃত অথবা জীবিত যে অবস্থায় পান তাকে জনসমক্ষে নিয়ে আসুন। দু-এক মিনিট নীরব রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন। আমি নিশ্চিত মিস সীল মারা গেছেন। মি. ব্লাস্ট গম্ভীর গলায় বললেন–আপনি কি করে জানলেন মিস সীল মারা গেছেন। এর কোনো প্রমাণ রয়েছে আপনার হাতে। পোয়ারো হেসে বললেন–আপনাকে এখন বোঝাতে পারবনা। তবে বলি মিসেস চ্যাপম্যানের ঘর থেকে একজোড়া নতুন মোজা পাওয়া গেছে। এটাই আসল কারণ, মি. ব্লাস্ট।

    অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন মি. ব্লাস্ট। পরে বললেন–আপনি ভারি মজার মানুষ, মঁসিয়ে পোয়ারো।

    মৃদু হেসে পোয়ারো বললেন–সত্যি কথা হল, আমার একটা আদর্শ আছে, নিয়ম নীতি মেনে চলতে হয় যা কিছু সব যুক্তি দিয়ে বিচার করি। এছাড়া কোনো কিছুর ওপর নিজের মত চাপিয়ে দেওয়াও আমি পছন্দ করি না।

    ব্লাস্ট বললেন–ঘটনার গতি প্রকৃতি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। সব কেমন অদ্ভুত লাগছে। প্রথমে ওই দন্তচিকিৎসকের আত্মহত্যা, তারপর ওই মিসেস চ্যাপম্যানের দেহ সিন্দুক থেকে উদ্ধার, মুখ বিকৃত হওয়া। সব কেমন যেন গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। আমার ধারণা এই কুৎসিত জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পিছনে নিশ্চয় কোনো কারণ আছে।

    পোয়ারো মুখে কিছু না বলে মাথা নাড়লেন।

    ব্লাস্ট বললেন আমার যতদূর মনে পড়ছে ওই স্ত্রীলোকটিকে কখনোই আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখিনি। কোনোদিনই তার সঙ্গে আমার স্ত্রীর আলাপ পরিচয় হয়নি। আমার সঙ্গে দেখা করার একটা ছল মাত্র। কিন্তু কেন? এতে তার কি লাভ? অতিরিক্ত টাকার লোভ? বাড়ির সামনে ওইভাবে দেখা করাটা আমার সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। বুদ্ধি খাঁটিয়ে পরিকল্পনা করে ওই সময়টা উনি বেছে নিয়েছেন। তাই বার বার আমার মনে আশঙ্কা জাগছে, এর কারণ কি হতে পারে?

    পোয়ারো বললেন–দুঃখিত মি. ব্লাস্ট আমিও এই মুহূর্তে আপনার প্রশ্নের জবাব দিতে পারছি না।

    –এই ব্যাপারে আপনার ধারণা কি? মঁসিয়ে পোয়ারো–আমার ধারণাকে হাস্যকর বলে মনে হতে পারে যাকে এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে, সে চাইছিল আপনার ওপর অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। যেহেতু আপনি দেশের একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। ব্লাস্ট অধৈর্য হয়ে বললেন–এতে তাদের কি আসে যায়?–অবশ্যই তাদের আসে যায়। যেদিন মি. মর্লে আত্মহত্যা করেন সেদিনের কথা ভাবুন। সেদিন মর্লের ব্যবহার আপনাকে কোনোভাবে ক্ষুণ্ণ করেছিল? এমন কিছু অসংলগ্ন কথা যার থেকে কোনো সূত্র পাওয়া যায়? ব্লাস্ট মনে করার চেষ্টা করলেন। বললেন–না মঁসিয়ে পোয়ারো, কিছুই মনে করতে পারছি না। তার মুখ থেকে মিস সেইনসবারি সীলের নামও শোনেন কি? অথবা মিসেস চ্যাপম্যানের নাম? তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন–না, না, মঁসিয়ে পোয়ারো, উনি কারো নাম বলেননি। আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল খেলাধুলা, বাগান, বৃষ্টি–এইসব।আপনারা যখন কথা বলছিলেন তখন অন্য কেউ ছিলেন? আলিস্টেয়ার ব্লাস্ট ভাবার জন্য সময় নিলেন। মিনিট কয়েক পর বললেন–না, তেমন কিছু মনে পড়ছে না। গতবার একজন সুন্দরী মহিলাকে দেখেছিলাম। এবার সে আসেনি–কিন্তু মর্লের সেই অংশীদার মি. রেইলি একবার এসেছিলেন, যিনি আইরিশদের মতো কথা বলেন। তার সঙ্গে মলে কি কথা বলেছিলেন? হা, মি. রেইলি মাত্র মিনিট দুয়েক ছিলেন। সামান্য কিছু কথা বলেছিলেন তারা দু’জনে। তারপর মি. রেইলি চলে গিয়েছিলেন। এরপরও তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন।

    পোয়ারো চিন্তিতভাবে বললেন–আমিও তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখেছিলাম। ঘরে পিন পতন নীরবতা। অনেকক্ষণ পরে নীরবতা ভঙ্গ করে এরকুল পোয়ারো প্রশ্ন করলেন–ভুলে যদি না যান তবে বলুন তো মি. ব্লাস্ট, সেদিন সকালে ওয়েটিং রুমে একজন তরুণকে অপেক্ষায় থাকতে দেখেছিলেন?

    ভ্রু কুঁচকে ভেবে নিয়ে মি. ব্লাস্ট বললেন–না, না, ভুলিনি–একজন তরুণকে দেখেছিলাম। সে অস্থির হয়ে পায়চারি করছিল। তবে তার প্রতি বিশেষ কোনো মনোযোগ ছিল না আমার। কিন্তু কেন বলুন তো?

    –তাকে আবার দেখলে চিনতে ভুল করবেন না তো?

    মাথা নেড়ে না বললেন তিনি।

    –সেকি আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্য উদগ্রীব ছিল? ব্লাস্ট উৎসাহিত হয়ে বললেন, ব্যাপার কি? আমি কি ওই তরুণকে চিনি? ওর নাম কি?

    পোয়ারো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ব্লাস্টের প্রতিক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করলেন কিন্তু পারলেন না। শেষে তিনি বললেন–আপনি তাকে চেনেন কিনা আমি বলতে পারব না। তবে আপনার ভাইঝি জেন তাকে ভালোভাবেই চেনে। তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক। নাম হাওয়ার্ড রেইকস।

    –ওহ, জেনের বন্ধু। আমি তো শুনেছি ওর মা ওদের সম্পর্ক মেনে নেননি। মি. ব্লাস্ট আনমনা হয়ে বললেন–তাতে জেনের কোনো ক্ষতি হবে না।

    তিনি এতটাই রুষ্ট হয়েছেন যে আমেরিকা থেকে মেয়েকে এখানে নিয়ে এসেছেন। তাঁর ধারণা এতে মেয়েকে ওই তরুণটির কবল থেকে মুক্ত করা যাবে।

    অ্যালিস্টেয়ার ব্লাস্টের মুখে চিন্তার কালো মেঘ। তিনি বললেন–এবার তাকে চিনতে পারছি। শুনেছি ছেলেটা খুব খারাপ। তার নামে নানা কুৎসা রটেছে। সে সন্ত্রাসমূলক কাজে লিপ্ত।

    মিস অলিভেরা আমাকে বলেছে সে সেদিন সকালে মর্লের চেম্বারে গিয়েছিল। ছেলেটির উদ্দেশ্য ছিল আপনার মুখোমুখি হওয়া।

    লাভ? তাকে কি আমার কাজে যোগ দিতে বলব?না, না, তা নয়, যাতে আপনাদের দুজনের মধ্যে একটা মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

    ঘৃণায় ব্লাস্টের মুখ বিকৃত হল। তিনি বললেন–একটা অপদার্থ।

    পোয়ারো হাসি চেপে বললেন আপনার কিছু কিছু মতবাদ ওর অপছন্দের।

    অ্যালিস্টেয়ার ব্লাস্ট নাক কুঁচকে বললেন–ওর মতো নোংরা চরিত্রের ছেলেকে আমি কখনো মেনে নেব না। অশিক্ষিত, অপদার্থ, আদর্শবাদের ধ্বজাধারী। দুষ্কর্ম ছাড়া ভদ্রজনোচিত কাজ তার দ্বারা সম্ভব নয়।

    পোয়ারো কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে বসে রইলেন। দুই জনেই চুপচাপ। তারপর এক সময় পোয়ারো মাথা তুলে জানতে চাইলেন–আপনাকে যদি কোনো ব্যক্তিগত প্রশ্ন করি তাহলে অনধিকার চর্চা বলে এড়িয়ে যাবেন না তো?

    না, করুন। মি. ব্লাস্ট সংক্ষেপে উত্তর দিলেন।

    –আপনার মৃত্যুর পর আপনার সম্পত্তি কে কে পাবে?

    মি. ব্লাস্ট উষ্মার সুরে বললেন–এরকম প্রশ্ন করার মানে কি?

    –মানে–এই ঘটনার সঙ্গে এই উত্তরটা ও তপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে।

    বাজে কথা। কেউ আমাকে খুনের চেষ্টা করতে পারে না।

    ধরুন, আপনার জন্মদিনে ফুলের মধ্যে টাইম বোমা ভরে উপহার দিল কেউ হয়তো। কোনো সভায় আপনি গিয়েছেন সেখানে আপনাকে লক্ষ্য করে কেউ গুলি ছোঁড়ে তাহলে?

    –ওহ এই ব্যাপার। পৃথিবীতে যে ব্যক্তি অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে তার জীবনে এমন ঘটনা তো ঘটতেই পারে।

    না, এমন হালকা ভাবে নেবেন না মি. ব্লাস্ট। এতে আপনার প্রাণহানির আশঙ্কা আছে। ব্লাস্ট বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে রইলেন। বিহ্বল ভাব কাটিয়ে তিনি বললেন আমি বুঝতে পারলাম না। আমি জানতে চাইছি, আপনার অবর্তমানে কে বেশি লাভবান হবে?

    ব্লাস্ট হেসে বললেন আমার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বেশিটাই দান করেছি ক্যানসার হাসপাতালে, অন্ধদের রয়্যাল ইনস্টিটিউটকে এবং এডওয়ার্ডস হাসপাতালকে। বাকি অর্থ দিয়েছি আমার বিবাহ সূত্রের ভগ্নী। মিসেস জুলিয়া অলিভেরা, তার কন্যা জেন অলিভেরাকে সম পরিমান অর্থ বেশ কিছু অর্থ দিয়েছি আমার এক দূর সম্পর্কের বোন হেলেন মন্ট্রেসরকে। সে আমার একমাত্র জীবিত আত্মীয়। তাকে দেখার মতো কেউ নেই। এবং আর্থিক দিক দিয়েও সে দুর্বল। তাই তাকে আমার এই কটেজে থাকতে দিয়েছি।

    একটু থেমে আবার বলতে শুরু করলেন ব্লাস্ট, আপনাকে বিশ্বাস করে এসব কথা বললাম দেখবেন আবার প্রচার না হয়।

    –আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আমি বিশ্বাসহানি করব না।

    ব্লাস্ট মজা করে বললেন–মঁসিয়ে পোয়ারো, এবার হয়তো বলবেন, যে জুলিয়া বা জেন কিংবা হেলেন মসের আমাকে খুন করার ষড়যন্ত্র করছে।

    –আমি এখন কিছুই বলব না, মি. ব্লাস্ট।

    –তাহলে নার কাজটা আপনি করছেন?

    মিস সেইনসবারি সীলকে খুঁজে বের করা? হ্যাঁ, আমি করব।

    মি. ব্লাস্ট তৃপ্তির হাসি হেসে বললেন–ধন্যবাদ, মঁসিয়ে পোয়ারো। সত্যিই আপনি খাঁটি ইংরেজ এবং কাজের মানুষ।

    পোয়ারো ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলেন, দরজায় দাঁড়ানো ছিল দীর্ঘাঙ্গী জেন অলিভেরা। প্রায় তার গায়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে আর কি। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন তিনি ক্ষমা করবেন, মাদামোয়াজেল।

    মিস অলিভেরা একটু সরে দাঁড়িয়ে বলল–আপনার সম্পর্কে আমার কি ধারণা জানেন, মঁসিয়ে পোয়ারো?

    –কি, মাদামোয়াজেল?

    –আমার ধারণা আপনি গুপ্তচর বৃত্তিতে পাকা, নীচ, আপনার ওই নোংরা বিশ্রী নাকটা সব ব্যাপারে গলিয়ে গণ্ডগোল সৃষ্টি করায় ওস্তাদ।

    –আপনি শান্ত থাকুন, মাদামোয়াজেল।

    জেন অলিভেরা প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বলল–আমি জানি আপনি কি করতে পারেন আর না পারেন। আপনি কাকাকে মিথ্যে স্তোকবাক্য শুনিয়েছেন। আপনার কিছু করার ক্ষমতা নেই। আপনি কিছুই খুঁজে পাবেন না। কিছুতেই না! আমার প্রিয় কাকার ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন। আপনাকে দেখলে আমার শরীর জ্বলে যায়। আপনি একজন সখের গোয়েন্দা ছাড়া আর কিছুই না। যাকে বলে বুর্জোয়া গোয়েন্দা।

    পোয়ারো হতবাক, চোখ দুটি বিস্ফারিত, ভ্রুযুগল কুঞ্চিত। একবার তিনি গোঁফে হাত বুলিয়ে নিলেন।

    বুর্জোয়া শব্দটি তাঁর খারাপ লাগেনি। জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী বুর্জোয়া সুলভই বটে, তাই এই কথাতে তিনি অপমানিত বোধ করেননি। কিন্তু জেন অলিভেরার অন্যান্য কটুক্তি তাঁকে আঘাত করেছে। সেসব ভাবতে ভাবতে তিনি ড্রয়িংরূমে এলেন।

    সেখানে মিসেস অলিভেরা পেসেন্স খেলছিলেন।

    পোয়ারোর পায়ের শব্দে মহিলা মুখ তুলে তাকালেন। সেই দৃষ্টিতে ছিল তাচ্ছিল্য আর অবজ্ঞা। ওই নিষ্ঠুর চাহনি দেখে পোয়ারো চমকে উঠলেন। তিনি কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। তিনি ভাবলেন এখানে তিনি অবাঞ্ছিত।

    তিনি বাগানে এলেন। বাতাসে সন্ধ্যামালতীর মিষ্টি সুবাস। খুশি মনে কেয়ারী করা পথ ধরে এগিয়ে চললেন তিনি।

    বাগানের কোণে যেতেই তিনি দুটি ছায়া মূর্তি দেখতে পেলেন। তারা তাকে দেখে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। মনে হয় একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকা প্রেম নিবেদনে ব্যস্ত। তিদি দ্রুত পায়ে সেখান থেকে এগিয়ে গেলেন। তিনি মি. ব্লাস্টের খোলা জানলার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। দেখলেন মি. ব্লাস্ট ও তার সেক্রেটারি কিছু নিয়ে আলোচনা করছেন।

    শেষ পর্যন্ত এরকুল পোয়ারো নিজের জন্য বরাদ্দ ঘরটিতে প্রবেশ করলেন। এই ঘরটিতেই তাঁর রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিছানায় বসে তিনি চিন্তা করতে লাগলেন। সমস্ত ঘটনার অদ্ভুত পরম্পরার কথা তার মনে পড়ল।

    সত্যিই কি টেলিফোনে মিসেস অলিভেরার কণ্ঠস্বর শুনেছিলেন? না কি অন্য কারোর?

    তাঁর মনের পর্দায় ভেসে উঠল সেই রহস্যময় মি. কিউ. এক্স ৯১২ ওরফে চ্যাপম্যানের কথা। মনে পড়ল সেই পরিচারিকা জ্যাগরোসের উদ্বিগ্ন দুটি চোখের চাহনি। মি. বার্নেসের সেই বৈচিত্র্যময় খোলাখুলি বলা কথাগুলি ভাবলেন।

    সব ক্ষেত্রে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সকলেই ইচ্ছে করে কিছু না কিছু গোপন করেছে। সেই সঙ্গে আর একটি সমস্যা হচ্ছে মিস সীলের অন্তর্ধান সূত্র পাওয়ার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে তাকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)
    Next Article আগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ৩ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }