Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প628 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পিলকিন’স ইলেভেন – বিমল কর

    পিলকিন’স ইলেভেন – বিমল কর

    পিলকিনসাহেবকে আমরা বলতুম পিলপিলসাহেব। কেন বলতুম জানি না। বোধহয় সাহেবের চেহারার জন্যে। মাথায় বেশ লম্বা, চেহারায় রোগী। ঢ্যাঙা চেহারার মানুষকে এমনিতেই দেখতে রোগা রোগা লাগে; তার ওপর যদি সে সত্যিই রোগাটে হয়— তাকে কেমন লাগবে দেখতে? তালগাছ, না, সুপুরিগাছ? তা যেমনই লাগুক পিলকিনসাহেবের পিলপিল নামটাই চালু হয়ে গিয়েছিল।

    আমাদের কোলিয়ারিটা ছিল বড়। সাহেব কোম্পানির কোলিয়ারি। সাহেবসুবোদের ম্যানেজার করে পাঠানোই রেওয়াজ হয়ে গিয়েছিল মালিকদের। পিলকিনসাহেব যখন এলেন তখন তাঁর বয়েস চল্লিশ হয়ে গিয়েছে। মানুষটি কাজের ছিলেন, ভাল ছিলেন। মজার ছিলেন। তাঁর যথেষ্ট নামডাক হয়েছিল কোলিয়ারি মহলে।

    পিলপিলসাহেবের শখ বলতে ছিল তিনটে জিনিস। গাড়ি, বাগান আর ফুটবল। সাহেবের একটা টু-সিটার হিলম্যান গাড়ি ছিল। রং ছিল টকটকে লাল। সেই গাড়িতে একটা আঁচড় পড়লে সাহেবের সর্দি ধরে যেত মনের দুঃখে। আর ম্যানেজার পিলকিনের বিশাল বাংলো বাড়িতে গাছের অভাব ছিল না। মস্ত বাগানে দু’-দুটো মালি সারাদিন কাজ করত। নানা জাতের নানা বাহারের ফুল ফুটত বাগানে। বাঙালিবাবুরা বলতেন, পিলপিলের নন্দনকানন।

    গাড়ি আর বাগান নিয়ে পিলপিলসাহেবের যতই মায়া-মমতা থাক— তাঁর প্রাণ বলতে ছিল ‘পিলকিন’স ইলেভেন’। পিলকিন’স ইলেভেন মানে সাহেবের কোলিয়ারির ফুটবল টিম।

    ছোট সাহেবদের মধ্যে পিলকিন’স ইলেভেন নিয়ে হাসিঠাট্টা হত। কেউ বলতেন, পিলকিনের এগারোটি বাঁদর; কেউ বলতেন, এগারোটা ধেড়ে বজ্জাত; কেউ বা বলতেন, সাহেবের পোষ্যপুত্র সব।

    ইঞ্জিনিয়ার সেনগুপ্তকাকা বলতেন, “মেমসাহেব মারা গিয়েছেন, মেয়ে দেরাদুনে থেকে পড়াশোনা করে, সাহেব কী নিয়ে আর থাকবেন! তাই ওই পিলকিন’স ইলেভেন। খ্যাপা মানুষ। তা ছাড়া পিলকিন নিজে একসময় খেলাধুলো করতেন তো। তাই এত সব।”

    আমাদের কোলিয়ারিতে ফুটবল খেলার রেওয়াজ তেমন ছিল না। বাচ্চাকাচ্চারা খেলতুম। বড়রা আর খেলবে কখন? সারাদিন কোলিয়ারির কাজকর্ম সেরে সময় কোথায় খেলার! তবু গরমে আর বর্ষায় হাটের পাশে ন্যাড়া মাঠে গদাইদা, রাখহরিদা, রামভরত, সাহানাবাবু—মাঝে মাঝে ফুটবল নিয়ে নেমে পড়ত। সে ছিল মজার খেলা। হাট-বাজার করতে এসে খানিকটা বল পেটাপেটি।

    পিলকিনসাহেব কোলিয়ারিতে আসার পর নিজে উদ্যোগী হয়ে একটা দল করলেন। হাটের মাঠে ফুটবল নিয়ে দাপাদাপি করালেন জনা-বিশেক জোয়ান ছেলেকে—তার মধ্যে গদাইদারা থাকল। শেষমেশ আনাড়িদের বাদ দিয়ে সাহেবের দল গড়া হল। নাম হল, পিলকিন’স ইলেভেন।

    পিলকিন’স ইলেভেনের সবাই কোলিয়ারিতে কাজ করত। কেউ ইলেকট্রিশিয়ান, কেউ ফিটার, কেউ ওয়ার্কশপের মিস্ত্রি, কেউ অফিসের কেরানি, কেউ বা হাসপাতালের কম্পাউন্ডার। দত্তসাহেব বলতেন, ‘দামড়া ইলেভেন’।

    পিলকিন’স ইলেভেন প্রথম খেলা খেলতে গেল বার্নপুরের মাঠে। ফ্রেন্ডলি ম্যাচ, সাত গোল খেয়ে ফিরে এল। সে-খেলা আমরা দেখিনি, শুনেছি বার্নপুর কারখানার দল শুয়ে বসে হেসে হেসে খেলে মাত্র সাত গোল দিয়ে ভদ্রতা করে ছেড়ে দিয়েছিল পিলকিন’স ইলেভেনকে।

    পিলপিলসাহেব বড়ই দুঃখ পেয়েছিলেন সেদিন। সাত দিন আর জলস্পর্শ করেননি। তবে দমে যাননি মোটেই, টিমের ছেলেদের বলেছেন, ‘নেভার মাইন্ড, আচ্ছাসে খেলো।’

    সেবারের মরশুমে পিলকিন’স ইলেভেন যাদের সঙ্গেই খেলেছে, সে যেমন খেলাই হোক পাঁচ-সাত-দশ গোলে হেরেছে।

    পরের বছর পিলকিন’স সাহেব নিজের কোলিয়ারিতে চাকরি দিয়ে দু’-একজন নতুন খেলোয়াড় আনালেন। তার মধ্যে ফণিদা আর গণপতি ভাল খেলোয়াড়। দেখা গেল, উন্নতি হয়েছে। ধানবাদের রেল-মাঠে ভাওড়া কোলিয়ারির সঙ্গে খেলায় পিলকিন’স ইলেভেন পাঁচ গোলে হারল। তা খারাপ কী? ভাওড়া কোলিয়ারি নামকরা দল। শিল্ড চ্যাম্পিয়ন।

    তার পরের বছর পিলপিলসাহেব নিজের কোলিয়ারিতেই এক টুর্নামেন্ট লাগিয়ে দিলেন। কোলিয়ারির সেটা পঁচিশ বছর। সিলভার জুবিলি। টুর্নামেন্টের নাম দেওয়া হল, জুবিলি কাপ। শুধু কোলিয়ারি দলরাই সেই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবে।

    সাহেবের প্রতিপত্তি কম ছিল না। নিজেই এখানে-ওখানে চিঠি লিখলেন, গাড়ি হাঁকিয়ে দেখা করতে গেলেন, অন্য কোলিয়ারির ম্যানেজারদের সঙ্গে। বারো-চোদ্দোটা দল রাজি হয়ে গেল খেলতে।

    এরপর হইহই করে মাঠ পরিষ্কারের কাজ হতে লাগল। পিলপিলসাহেব নিজে তদারক করতে লাগলেন। মাঠ পরিষ্কার হল, গোলপোস্ট পোঁতা হল, মাঠের পাশে একধারে টিনের শেড তৈরি হল ছোট করে, গণ্যমান্যরা বসবেন। খেলোয়াড়দের প্যান্টজামা বদলাবার জন্যে তাঁবু বসানো হল।

    আমাদের কোলিয়ারিতে হইচই করার মতন কাণ্ডকারখানা দু’-চারটে হত। কালীপুজো, যাত্রা, বেবি শো— এইসব আর কী! কিন্তু ফুটবল খেলার হইচই ছিল না। আমরা, বাচ্চাকাচ্চার দল তো মহা খুশি। রোজ বিকেল বেলায় দল বেঁধে গিয়ে মাঠ পরিষ্কার, তাঁবু খাটানো দেখতাম।

    শেষ পর্যন্ত একদিন ধুমধাম করে জুবিলি কাপের খেলা শুরু হল। আসানসোল থেকে ইব্রাহিমের ব্যান্ড-পার্টি এল বাজনা বাজাতে, কলকাতা থেকে বাজি এল দু’-চার ঝুড়ি, দমাদ্দম বাজি ফাটল, তুবড়ি পুড়ল, হাওয়াই ছুটল।

    আমাদেরই হল মজা। জুবিলি কাপের খেলা থাকত রোজই প্রায়। আমরাও বিকেল হল কী, মাঠের দিকে ছুটতাম। রোজই ভিড় হত মাঠে।

    পিলকিন’স ইলেভেনকে সাহেব ততদিনে পাকা করে ফেলেছেন। টপাটপ বেড়া ডিঙিয়ে সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত চলে গেল তাঁর দল। লোদনা কোলিয়ারি, শ্রীপুর, ভিক্টোরিয়া— তিন তিনটে কোলিয়ারিকে হারিয়ে একেবারে সেমি-ফাইনাল। আমরা বগল বাজাতে লাগলাম। মন্দ লোকে অবশ্য বলত, রেফারিগুলো চোট্টামি করছে। সে-কথায় কে কান দেয়। আমরাও দিতাম না।

    সেমি-ফাইনালে খেলা পড়ল সেই ভাওড়া কোলিয়ারির সঙ্গে। বড় শক্ত টিম। পাকা টিম। তা ছাড়া ওদের দলে জন বলে একজন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান প্লেয়ার আছে। বুট পরে খেলে। জবরদস্ত খেলোয়াড়। তার সঙ্গে আছে বানোয়ারিলাল, সে একেবারে পেছল শোলমাছ, সুড়ুত করে পিছলে একেবারে গোলের কাছে চলে যায় একটু ফাঁকফোকর পেলেই। তার সবই ভাল, শুধু একটা দোষ আছে। কোনও প্লেয়ার যদি তার গায়ে গায়ে এসে পড়ে ব্যস হয়ে গেল। বানোয়ারির কাতুকুতু লেগে যায়। বল ছেড়ে দিয়ে সে হাসতে শুরু করে।

    খেলার দিন, সকাল থেকেই বৃষ্টি নেমেছিল। ভাদ্র মাস। ঘণ্টা-দুয়েক জোর বৃষ্টির পর মেঘ কাটল। আমাদের মনের মেঘ কিন্তু কাটল না। আজ পিলকিন’স ইলেভেনের হয়ে গেল। অবধারিত হার। কমপক্ষে তিনটে গোল হজম করতে হবে। কোলিয়ারিতে একটাও জাগ্রত ঠাকুর-দেবতা নেই যে আমরা মানত করে আসব। সন্তু দামড়া গাঁয়ের ধর্মরাজ ঠাকুরকেই মানত করে এল।

    বিকেলে মাঠে গিয়ে দেখি পিলপিলসাহেব তখনও তাঁর দলবল নিয়ে আসেননি। কোলিয়ারির অর্ধেক লোক এসে মাঠের তিন পাশ দখল করে বসে পড়েছে। আমরা তাঁবুর দিকটায় জায়গা করে দাঁড়িয়ে পড়লাম। বেশ একটা যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব লাগছিল।

    মাঠের অবস্থা মন্দ নয়। জলে কাদায় ভরতি হয়নি মাঠ; তবে জায়গায় জায়গায় জল জমে আছে, কোথাও কোথাও সামান্য কাদা।

    খেলা শুরুর খানিকটা আগে পিলপিলসাহেব তাঁর দল নিয়ে মাঠে এলেন। কোলিয়ারির ট্রাকে করে এসেছেন। প্লেয়াররা একেবারে তৈরি। আমরা হইহই করে উঠলাম।

    ভাওড়া কোলিয়ারি দল আগেই মাঠে নামল। হলুদ রঙের গেঞ্জি তাদের জার্সি। আমাদের হল নীল শার্ট।

    ভাওড়ার দল মাঠে নামতেই আমাদের কোলিয়ারির লোকরা নানারকম শব্দ করতে লাগল মুখে। কেউ কুকুর ডাক ডাকল, কেউ ছাগল ডাক ডাকল। শেয়ালের ডাকও ডাকতে লাগল। ভাওড়ার দল গ্রাহ্য করল না। তারা এমন ভাব করতে লাগল যেন ওরা সব হুলো বেড়াল; এগারোটা নেংটি ইঁদুর তাদের কাছে কিছুই নয়।

    পিলকিন’স ইলেভেন মাঠে নামার আগে পিলপিলসাহেব তাঁর দলকে কী যেন মন্তর দিয়ে দিলেন কানে কানে। আমরা দেখলুম সাহেব আমাদের হাফ ব্যাক বদুদাকে আলাদাভাবে একপাশে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে কিছু বলছেন।

    বদুদা— মানে বদ্যিনাথ চট্টরাজকে লোকে জ্যান্ত মহিষাসুর বলত। বিশাল চেহারা, কুচকুচ করছে গায়ের রং, মাথার চুলগুলো ঝাঁকড়া। বদুদা নাকি একটা পুরো খাসির মাংস সাবাড় করতে পারে। কোলিয়ারির যাত্রা-পার্টিতে বদুদাকে কখনও যমরাজ, কখনও কুম্ভকর্ণ, কখনও অসুর জলন্ধরের সেনাপতির পার্ট দেওয়া হয়। কথাবার্তায় পুরো মানভূমি টান। সেই টানেই পার্ট বলে যায়।

    যাই হোক, খেলা শুরু হল। শুরুতেই সেই বানোয়ারিলাল আমাদের চমকে দিয়েছিল। একটা গোল হতে হতে হল না। কেমনভাবে যেন বলটা বাইরে বেরিয়ে গেল। নয়তো হয়ে যেত।

    প্রথমটায় আমাদের পিলকিন’স ইলেভেন শুধুই নাচতে লাগল। আমাদের তখন বুক ধসে যাচ্ছে! তবু সারা মাঠ চেঁচাচ্ছে আর চেঁচাচ্ছে। ধরে ফেল, মেরে দে, পেনো ছোট, বাঁ দিকে পাস দে মির্জা…নানান ধরনের চিৎকার।

    বেশ খানিকক্ষণ পিলকিন’স ইলেভেন নেংটি নাচা নেচে শেষে নিজেদের সামলে নিল। তারপর শুরু হল বদুদার খেলা। এমন খেলা কেউ দেখেছে কি না জানি না। ভাওড়ার কোনও প্লেয়ার বল নিয়ে এগুতে গেলেই বদুদা তেড়ে যাচ্ছে চেঁচাতে চেঁচাতে, কী বলছে শোনা যাচ্ছে না, কখনও যাত্রার পার্ট মুখস্থ বলছে, কখনও হুংকার ছাড়ছে, কখনও খেপিয়ে দিচ্ছে। এরপর শুরু করল বদুদার মার। সিংগল কাঁচি, জোড়া কাঁচি, ছররা, ল্যাঙ, কনুইবাজি, হাঁটু-চোট, গরদানা— কত রকম কী মার আছে বদুদার, চোরা মার, সোজা মার, সবই মারতে লাগল। ধন্য রেফারি। অত মার, তবু চক্ষু দুটি বুজে রইল।

    কতক্ষণ আর সহ্য করে মানুষ। শেষে ভাওড়া কোলিয়ারির জন বদুদাকে এমন এক গুপ্তি মারল যে মহিষাসুর বদুদা ছিলে-কাটা ধনুকের মতন ছিটকে গিয়ে সাইড লাইনে পড়ল। পড়ে আর উঠতে পারল না। কাঁধের কাছে হাড় সরে গেছে। বদুদা ছটফট করতে লাগল। রেফারি জনকে মাঠ থেকে তাড়িয়ে দিল।

    হাফ-টাইমের পর আবার যখন খেলা শুরু হল তখন পিলকিন’স ইলেভেন মরিবাঁচি করে লেগে পড়ল। ভাওড়াও কম যায় না। তারাও বারবার আছড়ে পড়তে লাগল পিলকিন’স ইলেভেনের গোলের ওপর।

    চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে আমাদের গলা বসে গেল, বিশ-পঁচিশটা ভাঙা ছাতা হাটের দিকে উড়তে লাগল, আকাশে আবার কালো করে মেঘ জমে উঠল। তবু কিছু হল না। দু’-পক্ষই লড়ে যেতে লাগল। ম্যাচ ড্র হল।

    পরের দিন আবার খেলতে হবে। তাই নিয়ম ছিল।

    পরের দিন যে আমরা হেরে যাব এ যেন সবাই বুঝে নিয়েছিল। শোনা গেল, ভাওড়া কোলিয়ারি বলে দিয়েছে, আসানসোলের বার্জ ছাড়া অন্য কোনও রেফারি মাঠে নামলে তারা খেলবে না, দল নিয়ে চলে যাবে।

    পিলকিনসাহেব বললেন, “ঠিক আছে। বার্জকেই আনাব। তবে সে ফাইনালের খেলা খেলাবার জন্যে তৈরি ছিল। ঠিক আছে।”

    পরের দিন অদ্ভুত এক কাণ্ড করলেন পিলকিনসাহেব। মাঠে টিম নামাবার সময় গোলকিপার হিসেবে নামিয়ে দিলেন অখিল সাহানাকে। অখিলদাকে দেখতে কোলাব্যাঙের মতে। বেঁটে, মোটা, গোল। মাথায় চুল নেই। মাসখানেক আগে তার বাবার শ্রাদ্ধ গিয়েছে।

    অখিলদাকে নিয়ে কোলিয়ারসুদ্ধু সবাই মজা করত। নিজেও ভীষণ মজার মানুষ। হরদম মজা করে। ওই ব্যাঙের মতো চেহারা নিয়ে ডিগবাজি খায়, কখনও কখনও জোড়া ডিগবাজি। অদ্ভুত এক মুখভঙ্গি করে ভেঙচায়, থপ থপ করে জোড়া পায়ে লাফায়। আর অনবরত খিলখিল খকখক করে হাসতে পারে। তার হাসির কোনও মাথামুন্ডু নেই।

    অখিলদাকে জোকার বলা যায়, কিন্তু সে তো ফুটবল প্লেয়ার নয়। মাঠে এসে মজা করে এই যা। সেই অখিলদাকে গোলকিপার হিসেবে খেলতে নামালেন কেন পিলকিনসাহেব? মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে নাকি! নাকি সাহেব ধরেই নিয়েছেন, হারতে যখন হবেই তখন বৃথা লড়ালড়ি না করে মাঠে একটু তামাশাই করা যাক! কী জানি কী মনে ছিল ওঁর।

    খেলা শুরুর আগে দেখি, কোলিয়ারির জন্য-পাঁচেক যণ্ডা গোছের লোক ঢাক, ভেঁপু, কাঁসর-ঘণ্টা নিয়ে মাঠে এসে হাজির। সঙ্গে আরও চার-পাঁচজন অতি বজ্জাত দামড়া গাঁয়ের লোক। ওদেরই শাকরেদ।

    এবার পিলকিন’স ইলেভেনই মাঠে নামল প্রথমে। অখিলদার গায়ে লাল গেঞ্জি, মাথায় এক বাঁদুরে টুপি। নামল ডিগবাজি খেতে খেতে, জোকারদের মতন হাত-পা ছুড়ল, গড়াগড়ি দিল মাটিতে, আবার ডিগবাজি খেল। একে ওই ব্যাঙের মতো চেহারা, তার ওপর অমন বেশভূষা, আমরা তো হেসেই মরি। মাঠসুদ্ধু লোকের মজা লেগে গেল। হাসির ধুম।

    তারপর দেখি, পিলকিন’স ইলেভেন যে দিকের গোল আগলাতে গেল, সেদিকে মাঠের ঠিক বাইরে গোল লাইন ঘেঁষে সেই ষণ্ডা গোছের লোকগুলো তাদের শাকরেদদের নিয়ে সার বেঁধে দাড়িয়ে পড়ল। তাদের হাতে ভেঁপু, কাঁধে ঝোলানো ঢাক, হাতে কাসর-ঘণ্টা। অখিলদা বার-দুই ডিগবাজি খেল, সঙ্গে সঙ্গে ঢাক আর ভেঁপু বেজে উঠল। যেন নাচ প্র্যাকটিস হল বাজনার সঙ্গে।

    ব্যাপারটা তখনও ভাল বুঝলাম না। মনে হল, একটা কিছু মতলব নিয়ে লোকগুলো এসেছে। কিন্তু কী যে মতলব বুঝতে পারলাম না।

    খেলা শুরু হল।

    ভাওড়া কোলিয়ারি যেন ঠিক করে নিয়েছিল আজ তারা প্রথম দিকে একটু গা আলগা করে খেলবে, খেলে পিলকিন’স ইলেভেনকে ধোঁকা দেবে, তারপর আচমকা লাফ মেরে টুঁটি চেপে ধরবে পিলকিনদের।

    সেই ভাবেই খেলা শুরু হল। আমাদের কোলিয়ারি সাপের ফণা তোলার মতন করে ছুটে গেল ওদের পেনাল্টি এরিয়া পর্যন্ত। কিন্তু ছোবল বসাতে পারল না। হেলেসাপের মতো নেতিয়ে গেল।

    কিছুক্ষণ এইভাবে কাটল। হঠাৎ দেখি সেই বানোয়ারিলাল বল নিয়ে পনপন করে ছুটে আসছে। কে তাকে আটকায়। দেখতে দেখতে আমাদের গোলের কাছে। এই বুঝি একটা দিল ঢুকিয়ে।

    কিন্তু ও কী! আমাদের গোলকিপার অখিলদার কাণ্ড দেখেছ? বল নিয়ে বানোয়ারি ঝড়ের বেগে তেড়ে আসছে আর অখিলদা গোল লাইনের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে সার্কাসের ক্লাউনদের মতো ডিগবাজি খাচ্ছে। থপ্‌ থপ্‌ করে নাচছে। মুখের নানা রকম ভঙ্গি করছে। এ আবার কী!

    বানোয়ারি গোলের কাছে শট নিতে যাচ্ছে। আর সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত শব্দ করে ভেঁপু বেজে উঠল।

    কেমন থমকে গেল বানোয়ারি, পায়ের বল পায়ের কাছেই পড়ে থাকল। সে চোখ তুলে অখিলদার ডিগবাজি খাওয়া আর নাচ দেখল। দেখে হেসে ফেলল। প্রথমে দমকা হাসি, তারপর হো-হো হাসি, শেষে পেট চেপে অট্টহাসি। আর একেবারে শেষে হাসতে হাসতে মাঠে গড়াগড়ি দিতে লাগল।

    যণ্ডার দল যেন তাক খুঁজছিল। তারা ভেঁপু, ঢাক, কাসর-ঘণ্টা বাজাতে লাগল প্রাণপণে। সেই সঙ্গে নাচতে লাগল।

    মাঠসুদ্ধু লোক খেলা দেখবে কী, তামাশা দেখে যেন হেসেই মরতে লাগল। হইহই কাণ্ড লেগে গেল মাঠে।

    রেফারি বার্জ খেলা বন্ধ করে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “এসব কী? এটা খেলা না সার্কাস?”

    পিলকিন বললেন, “আমার টিমের গোলকিপার যদি ডিগবাজি খায় তাতে হয়েছে কী? কোন আইনে আছে গোলি মাঠের মধ্যে ডিগবাজি খেতে পারবে না?’’

    বার্জ বললেন, “তোমার কোলিয়ারির লোকরা ওই সব বাজনা বাজাচ্ছে কেন? অন্য টিমের প্লেয়াররা গোলে শট নিতে পারছে না, ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাচ্ছে!”

    পিলকিন বললেন, “মাঠের বাইরের লোক আমার টিম নয়। তারা পাবলিক। তারা বাজনা বাজাতে পারবে না, এমন কোনও আইন আছে?”

    রেফারি বার্জের কাছে কোনও আইনের বই ছিল না। তা ছাড়া সেকালে কোলিয়ারির ম্যাচ খেলাতে কে আর আইনের বই দেখে রেফারি হয়েছে।

    বার্জ বললেন, “হয় তোমাদের বাঁদরামি বন্ধ করো, না-হয় আমি খেলা বন্ধ রেখে চলে যাচ্ছি।”

    পিলকিন খানিকটা ভেবে বললেন, “ঠিক আছে। আমার টিম ফেয়ার গেম খেলবে। খেলা শুরু করো।”

    আবার খেলা শুরু হল।

    তোমরা হয়তো বিশ্বাস করবে না, পিলকিন’স ইলেভেন হঠাৎ কেমন ভদ্রলোক হয়ে গেল। আর গোনা-গুনতি বারোটা গোল খেয়ে মাঠের মধ্যেই শুয়ে পড়ল। লেমনেড পর্যন্ত খেল না।

    ২৬ জুন ১৯৮৫

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)
    Next Article আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }