সাদা রঙের পাঞ্জাবি – অনির্বাণ বসু
সাদা রঙের পাঞ্জাবি – অনির্বাণ বসু
প্রত্যেক বছরে ঠিক পুজোর এক মাস আগে, বিপিনবাবুর মন অফিস থেকে সরে গিয়ে দোকানে চলে যায়। তার কারণ বিপিনবাবুর রেডিমেড পাঞ্জাবির দোকান, ‘নিউ পাঞ্জাবি স্টোর্স’, বছর কয়েক হল জামশেদপুরের সাকচি বাজারে বেশ জমিয়ে ব্যাবসা করছে। সব রকমের পাঞ্জাবির স্টক আছে ওঁর দোকানে, আদি, খদ্দর, সুতি, গুরুকুর্তা, এমনকী টেরিলিন পর্যন্ত।
বিপিনবাবু রোজ সাতটা থেকে চারটে পর্যন্ত অফিস করেন, আর বিকেল পাঁচটা হলেই চলে আসেন নিজের দোকানে। বগলে করে আনেন সেদিনের খবরের কাগজটা। একলা মানুষ, কোনও ঝুটঝামেলা নেই। ঠিকে কাজের লোক আসে ওঁর অফিস বেরোবার আগে, সে-ই সব রান্নাবান্না সারে। বিকেলে সে যায় নিজের বাড়ি, বিপিনবাবু দোকানে। সাড়ে সাতটা নাগাদ হেলতে দুলতে আসেন পাশের বাড়ির অখিলবাবু। অখিলবাবুর গোলগাল ফরসা, কাঁচাপাকা চুল গোঁফের সঙ্গে বিপিনবাবুর রোদে পোড়া, মাঝারি হাইটের টাকমাথা চেহারার মিল অবশ্য নেই, তবে দু’জনের বন্ধুত্ব অনেকদিনের। সন্ধেবেলা আড্ডাটা ভালই জমে। অখিলবাবুর অবশ্য ঘর-সংসার আছে, বিপিনের মতো একলা মানুষ নন। এক ছেলে, এক মেয়ে— ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিচ্ছে এদিক- ওদিক, আর মেয়ে বিএ পড়ে। তবে পুজোর বাজারে অখিলবাবু আর বিশেষ আসেন-টাসেন না। সাড়ে সাতটার সময় নিউ পাঞ্জাবি স্টোর্সের সামনে দাঁড়ালে বিপিনবাবুর টাক মাঝেমধ্যে দেখা যায়। তা ছাড়া আর কিছুই না।
অন্যবারের তুলনায় এবার অবশ্য বিপিনবাবুর চনমনে ভাবটা বেশি। তার কারণ মন্মথবাবু অর্থাৎ মন্মথ ঘোষাল। বিপিনবাবুর দোকানে মাস তিনেক হল যাওয়া-আসা করছেন ভদ্রলোক। বোধ হয় জামশেদপুরে নতুন এসেছেন। আর বিষ্টুপুরের ওদিকে কোথাও থাকেন। বিপিনবাবুর মতে, ওটা সাহেবপাড়া। রংচঙে সব দোকান, হলদে ধাঁধানো আলো, আবার নতুন একটা সুপার মার্কেট হয়েছে কয়েক বছর হল। কামানি নাকি নাম, তার একতলাটা রাস্তার নীচে আর তাতে অষ্টপ্রহর গান হয়। বিপিনবাবুর শুনেই আর যেতে ইচ্ছে করেনি। তাই বলে মন্মথবাবুকে কোনওমতেই সাহেব বলা চলে না। কোঁচানো ধুতি আর আদ্দির গিলে-করা পাঞ্জাবি-পরা দিব্যি বাঙালি, লম্বা লোক, বেশ চাঁচাছোলা চেহারা। মুখে একটা বনেদি ঘরের ছাপ, গালে আবার একটা তিল। মন্মথবাবু বড়লোক, এতে কোনও সন্দেহ নেই, নইলে আজকালকার দিনে কেউ খামোখা হাজার তিনেক টাকার পাঞ্জাবি, তাও আবার অর্ডিনারি মিলের, কিনে বসবে কেন? কিন্তু ভদ্রলোক চাকুরে না ব্যাবসাদার, সেটা বিপিনবাবু এতদিনেও বুঝে উঠতে পারেননি। আসলে মন্নথবাবুর সঙ্গে এসব কথাবার্তা ঠিক চলে না। হাজার হোক বিপিনবাবু তো ওঁর কাছে দোকানদারই। তবে ভদ্রলোকের রুচি আছে, এতে কোনও সন্দেহ নেই। অনেক শাঁসালো খদ্দের দেখেছেন বিপিনবাবু, তবে মন্মথবাবুর মতো “এ পাঞ্জাবির কাজটা দেখছি আগেরটার চেয়ে একটু হালকা শেডের। আচ্ছা আপনি দুটোই দিন।”— এমনি আর কোথাও চোখে পড়েনি।
মন্মথবাবু আসেন সাড়ে পাঁচটায়। “সন্ধের ভিড়ের চোটে তো আপনাকে দেখাই যায় না মশাই, তবে কিনা আমার আবার একটু পছন্দের ব্যাপার তো, জানেনই। তাই সকাল সকাল সব সেরে নিলে…”
প্রতিদিনের মতো বিপিনবাবু আজকেও দোকান খুলে সামনের সিঁড়িটা ঝাঁট দিয়ে একটু জল ছেটাতে যাবেন, এমন সময় রাস্তার মোড়ের দোকান রতিলাল জুয়েলার্সের কাছ থেকে মন্মথবাবুর স্টিল গ্রে অ্যামবাসাডারের হর্ন শোনা গেল। আজকে অনেক তাড়াতাড়ি চলে এসেছেন ভদ্রলোক। বিপিনবাবু ব্যস্ত হয়ে প্রায় এক লাফেই সিঁড়ি তিনটে টপকে টকাটক নিজের বেস্ট পাঞ্জাবির স্টক বের করে রেডি হয়ে নিলেন। এত তাড়াতাড়ি যখন এসেছেন ভদ্রলোক, তখন নিশ্চয়ই কোনও কারণ আছে। “আমি কালই বেরিয়ে পড়ছি— তার আগে ফাইনাল কেনাকাটা করে যেতে চাই। ভাইপো ভাগনেদের ডিমান্ডও কিছু কম নয়, বুঝলেন না…”
বিপিনবাবু লক্ষ করলেন, ভদ্রলোকের গলায় একটা পাতলা সোনার হার ঝুলছে, যেটা আগে কখনও ছিল না। এরকম হার তিনি পরতে দেখেছেন তাঁর সামনের হার্ডওয়্যারের দোকানের সিন্ধি ভদ্রলোক, মি. রাতওয়ানিকে। “ভাল পাঞ্জাবি দেখান তো, সাদার ওপর কাজ করা, ওই ডানপাশে বোতামওয়ালাগুলো বেরিয়েছে না সেইগুলো—”
ভাইপো ভাগনেদের কেউ কি আজকাল পাঞ্জাবি কিনে দেয়? ভদ্রলোক যে বনেদি তা বোঝা যাচ্ছে। “বাঃ বেশ তো এটা—” মন্মথবাবুর চোখে পড়েছে একখানা সাদা পাঞ্জাবির ওপর হালকা ব্রাউনের কাজ। পাঞ্জাবিটা সত্যিই চোখে পড়ার মতো, কাপড়টাও অদ্ভুত ধরনের পাতলা। বিপিনবাবু মনে করতে পারলেন না কোথা থেকে আনিয়েছিলেন। বোধ হয় হাওড়া হাটের হবে, মাসে তো দু’বার যাতায়াত করতেই হয়।
মন্মথবাবু ঘাড়ের কাছে একটু হাত বুলিয়ে নিয়ে একটা হালকা হাসি হাসলেন। এটা মন্মথবাবুর দাম জিজ্ঞেস করার আগের মুহূর্ত। বিপিনবাবু নিজের অভ্যাস মতো পাঞ্জাবিটা পাট করে একপাশে রাখতে যাবেন, এমন সময় পাঞ্জাবির হাতের কাছে হাত লাগতেই বিপিনবাবুর হাতটা ঠান্ডা হয়ে এল, “দাম কত?”
কনুইয়ের জায়গাটা ছেঁড়া। বিপিনবাবুর দোকানে এই প্রথম। লটে জিনিসপত্র এসেছে, ধরতে পারেননি। সাধন ছেলেটা ছিল ভাল, কিন্তু শেষে এমন চুরি করতে শুরু করল…
“ফাইন জিনিস, গুড কোয়ালিটি মনে হচ্ছে—” মন্মথবাবুর চোখ এবার একটা খদ্দরের পাঞ্জাবির ওপর, হলদে গায়ে হালকা লালের ছিট।
বিপিনবাবুর হাত আপনা থেকেই ছেঁড়া পাঞ্জাবি ছেড়ে খদ্দরের ওপর চলে এল। মন্মথবাবু ব্যাপারটা ধরতে পারেননি ঠিকই, কিন্তু তাই বলে যে ভদ্রলোক রোজ প্রায়ই বেশ মোটা টাকার জিনিস কেনেন তাঁর হাতে জেনেশুনে একটা ছেঁড়া পাঞ্জাবি, তাও আবার উপহারের জন্য… “দাম কত এটার?” মন্মথবাবু আবার প্রশ্ন করছেন।
“এটার দুশো পঁচিশ, আর ইয়ে— ওটার মানে এই সাদা ব্রাউনটার—কী বলে গিয়ে—দুশো কুড়ি।”
“আপনার খদ্দরেরটা এত ভাল লেগে গেল যে, বাদ দিতে পারলাম না।”
“হেঁ হেঁ… আরও আছে… দেখবেন?”
‘পরে হবে, আগে পাশে বোতামওয়ালাগুলো দেখান তো৷”
গোটাআষ্টেক সাদা পাঞ্জাবি আর দুটো খদ্দরের পাঞ্জাবি যখন প্যাক করা হল তখন প্রায় সাড়ে ছ’টা বাজে।
এবার ভিড় আসতে আরম্ভ করবে। ক্যাশমেমোটা লিখতে লিখতে বিপিনবাবুর মনে হল কোথায় যেন পড়েছিলেন, বিশ্বাস জিনিসটা বড় দামি। কুড়িটা টাকা তাঁর কাছে কী, তা ছাড়া ভদ্রলোক তো গাদা গাদা জিনিস কেনেন। বনেদি বাড়ি মানেই বড় পরিবার। না হলে…
মন্মথবাবু ব্যাগ বের করেছেন। বিপিনবাবু আপনা থেকেই হিসেবে মন দিলেন।
“কত?”
“দু’ হাজার ছশো পঞ্চান্ন”, মুখ থেকে এবার ছিটকে বেরিয়ে এল। ছেঁড়া পাঞ্জাবির দাম নেওয়া হয়ে গেছে।
‘পুরো আড়াই হাজার করে দিন মশাই, আমার গিন্নির হিসেবেও সুবিধে হবে বুঝলেন না।”
এখনও যদি গাফিলতির দোহাই দিয়ে ছেঁড়াটা বের করা যায়…
মন্মথবাবুর গাড়ির ড্রাইভার এসে প্যাকেট বগলদাবা করে নিয়ে চলে গেল।
“আপনার দোকানে ঢুঁ মারব কিন্তু আবার, মাসখানেক পর— পুজোর গোলমালটা কাটুক— আচ্ছা।”
বিপিনবাবুর হাতে টাকা, মন্মথবাবুর হাতে ক্যাশমেমো, মুড়ে প্যাকেটে ভরতে ভরতে চলে গেলেন ভদ্রলোক। কখন যে বিপিনবাবুর হাতের মুঠি গোল হয়ে পাকিয়ে সদ্য প্রাপ্ত পাঁচটা পাঁচশো টাকার নোটকে খামচে ধরল, তা নিজেই জানেন না।
মন্মথবাবু গাড়িতে উঠবেন, গলাটা তুলে একটু ডাকলেই উনি শুনতে পাবেন আর বুঝিয়ে বললে নিশ্চয়ই…
ড্রাইভার গাড়িতে স্টার্ট দিল।
“এমন ঘাড় বেঁকিয়ে কী দেখছ হে?”
বিপিনবাবু চমকে উঠে প্রায় টাকাটা ফেলে দিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু সামলে নিলেন। অখিলবাবু এসেছেন, যদিও এই সময় আসাটা বেমানান, কিন্তু কখন কোনদিক দিয়ে এসেছেন, সেটা খেয়ালই করেননি বিপিনবাবু।
মন্মথবাবুর গাড়ি ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হর্ন দিতে দিতে চলে গেল।
“সুখবর দিতে এলুম হে, সুনীলের টিসকোতে হয়ে গেছে।” সুনীল, মানে অখিলবাবুর ছেলে।
“যাক, একটু নিশ্চিন্ত হওয়া গেল, কী বলো?”
ধপাস করে সামনের চেয়ারে বসে পড়ে বললেন অখিলবাবু, “ঘরের ছেলে ঘরে থাকলেই…”
“নিশ্চয়ই। কিন্তু খালি হাতে কেন?” বিপিনবাবু অনেকটা সামলে নিয়েছেন।
“আরে, তুমি হচ্ছ বাড়িরই লোক— পরে সময় করে নিশ্চয়ই হবে…” সুখদুঃখের কথা আর বেশি এগোল না, কারণ বিপিনবাবুর দোকানে খদ্দের ঢুকেছে। তাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন বিপিনবাবু। অখিলবাবুও নস্যিটা নিয়ে, হাতটা ভাল করে ঝেড়ে চলে গেলেন। রাত্রে দোকান বন্ধ করে তালাটা দু’বার টেনে দেখার সময় বিপিনবাবুর মনে হল, তিনি যে আজ একটা বেচাল চেলেছেন, তার কথা ভুলতে কিন্তু তাঁর বেশি সময় লাগেনি। এবং তিনি এটাও বুঝে গেছেন যে, এ নিয়ে আর চিন্তা করে লাভ নেই। রাত্রে ঘুম না হওয়ার ভয়ে ‘উৎকল বুক এজেন্সি’ থেকে একটা ক্রাইম সিরিজের বইও কিনে ফেললেন তিনি।
দেখতে দেখতে পুজো এসে গেল। এর মধ্যে মন্মথবাবু বা ওঁর কোনও লোক একবারও আসেনি দোকানে। বিপিনবাবুর দোকানে এবার সেল হয়েছে বেশ ভালই, আর সুখের বিষয়, কাউকে বেচাল চালতে হয়নি। তবুও মাঝে মাঝে মনটা খুঁতখুঁত করে ওঠে। ভদ্রলোক কি সত্যিই আসা ছেড়ে দিলেন? যাকগে, পুজোর পর দেখা যাবে।
পুজোর ক’টা দিন বেশ মেজাজেই কাটালেন বিপিনবাবু, মাঝেমধ্যে মনে পড়ছিল মন্মথবাবুর চেহারা, ছেঁড়া পাঞ্জাবি দেখলে তাঁর মুখ কীরকম বদলে যেতে পারে তা কিছুতেই ভাবতে পারলেন না বিপিনবাবু। তবে মন্মথবাবু ব্যাপারটা লক্ষ করলে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, এসব মানুষ সত্যিই ভদ্রলোক। হাজার হোক বনেদি লোক।
পুজোর পর মন্মথবাবু যখন বিপিনবাবুর দোকান থেকে আবার কিছু পাঞ্জাবি কিনলেন তখন বিপিনবাবু কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। কিন্তু ভদ্রলোক এত পাঞ্জাবি নিয়ে করেনটা কী? বনেদি বাড়ি, বড়লোক, সবই না হয় বোঝা গেল, কিন্তু খামোখা কাপড় কেনার ব্যাপারটাও যেন কীরকম লাগে, অবশ্য ওঁরই বা তাতে কী? উনি পাঞ্জাবি নেবেন আর খদ্দের ওটা নিয়ে কী করবে, সেটা নিয়ে তো আর মাথা ঘামানো যায় না। তবে হ্যাঁ, মন্মথবাবুকে বিক্রি করে একটা আনন্দ আছে। কেবল ওই ছেঁড়া… “আজকাল কী এত ভাবো হে?” ঘড়ি ধরে এসেছেন অখিলবাবু, হাতে একটা বড়সড় ব্রাউন রঙের চ্যাপটা প্যাকেট।
“তুমি বুড়ো হয়ে গেলে হে, এত ভাবাভাবি করে—” বসতে বসতে বললেন অখিলবাবু।
“তোমার হাতে ওটা কী?”
অখিলবাবু নস্যির ডিবেটা বের করেছিলেন শার্টের পকেট থেকে, আবার পুরে ফেললেন।
“এঃ হে,— এটা তো এখানে— ছ্যাঃ, ভুলেই গিসলাম।”
“কেন, কী হল?”
“আরে আর বোলো না, এসব সুনীলের পাগলামি। নতুন চাকরি পেয়েছে কিনা, সবাইকে তাই ধরে ধরে গিফট দিচ্ছে। আমায় দিল এই সুন্দর জুতোটা কলকাতা থেকে অর্ডার দিয়ে, নিজের মাকে দিল একগাদা বাসন, বোনকে বেনারসি, শেষে যখন কাজের লোককে একটা শার্ট আর প্যান্ট কিনে দিল, আমি বললাম যে কাকুকে কিছু দে—”
“ও, মানে তোমার কাজের লোককে না দিলে আমি বাদ পড়তাম তো?” বিপিনবাবুর মুখে মুচকি হাসি।
“অ্যা ছ্যা ছ্যা ছ্যা, আসলে আমি ওকে আগেই বলেছিলাম, তো বলে কিনা কাকুর জন্য স্পেশ্যাল জিনিস আনা দরকার— তো সেটাই বাবু মনস্থির করতে পারছিলেন না। এতদিনে মনের মতো জিনিস পেয়েছে কী তা জানি না বাপু, বলেছে কাকুর পক্ষে আইডিয়াল। প্যাকেট গছিয়ে দিয়েই আবার কোথায় উধাও হয়ে গেল। তোমাকে অবশ্য একটা সাইপ্রাইজ দেওয়ার ছিল, এখানে নয়, বাড়িতে। আমি আবার ভুলে—”
“কই দেখি কী আছে।” বিপিনবাবু সাগ্রহে প্যাকেট নিলেন। “কামানি ম্যানশনের কোনও দোকানের জিনিস হে।”
অখিলবাবু বললেন, “ছেলেছোকরাদের আজকাল আবার সাহেবপাড়ার জিনিস না হলে পছন্দই হয় না। মিনির বেনারসিটাও তো ওখান থেকে কিনল। নতুন দোকান হে। সুনীল বলছিল এদের নাকি বেনারসেও ব্যাবসা আছে। এখানে নতুন…”
অখিলবাবুর কথাগুলো বিপিনবাবুর কানে আর ঢুকল না, কারণ প্যাকেটটা ছিঁড়ে ফেলতেই বেরোল একটা সাদা রঙের পাঞ্জাবি, তার ডানপাশে বোতাম আর গলা, আর বোতামের লাইনিংয়ের পাশে হালকা ব্রাউন রঙের কাজ।
এই পাঞ্জাবি বিপিনবাবু দেখেছেন। এটা তাঁর খুবই চেনা। এটাই তিনি বিক্রি করেছিলেন মন্মথ ঘোষালকে।
“এই দ্যাখো, বেশ জিনিস, নিজে হাতে এত পাঞ্জাবি বেচলে হেঃ হেঃ, এবার একটা পড়ো হেঃ হেঃ হেঃ…”
বিপিনবাবুর হাত পাঞ্জাবির একটা চেনা জায়গায়, কনুইয়ের কাছটায়, তাঁর মুখে একটা আরামের হাসি, তাঁর চোখ ব্রাউন প্যাকেটটার ওপর, তার ওপর নীল দিয়ে লেখা: “এম ঘোষাল অ্যান্ড সন্স, কামানি ম্যানশন, জামশেদপুর। এখানে টি-শার্ট, জিনস, কুর্তা, ম্যাক্সি ও শাড়ি সুলভে পাওয়া যায়।
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০২
