Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প628 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সংকটমোচন কমিটি – প্রচেত গুপ্ত

    সংকটমোচন কমিটি – প্রচেত গুপ্ত

    ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ জরুরি মিটিং ডেকেছে। ভূতলোকে আগে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ বলে কিছু ছিল না। ইদানীং হয়েছে। বাংলায় তারা এর নাম দিয়েছে ‘সংকটমোচন কমিটি’। কমিটি তৈরি না করে কোনও উপায় ছিল না। শুধু হেসে-খেলে, ভয় দেখিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরেফিরে বেড়ানোর দিন আর নেই। আজকাল প্রায়ই তাদের কোনও না-কোনও সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তার মধ্যে কোনও কোনও সমস্যা তো খুবই জটিল। এইসব সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই কমিটিকে মাঝেমধ্যে আলোচনায় বসতে হয়। তবে বেশিরভাগ সময়েই ঝগড়া লেগে যায় এবং মাঝপথে মিটিং ভেস্তে যায়। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, সমস্যা শুধু জটিল নয়, মারাত্মক রকম জটিল। শ্রীনিবাস, কালিপদ আর ঝন্টু মিটিংয়ে সেই সমস্যার কথা সকলকে জানাবে।

    সমস্যাটা কী?

    একটা সময় ছিল যখন ভূতেরা হুটহাট মিটিং ডাকত না। তিথি, পঞ্জিকা ঘেঁটে, অমাবস্যা দেখে তবে দিনক্ষণ স্থির হত। তারপর বাছা হত জায়গা, মিটিংয়ের ভেনু যাকে বলে। জায়গার অবশ্য কোনও অভাব ছিল না। কলকাতা শহর আর তার আশপাশে পোড়ো বাড়ি, বনবাদাড় ছিল প্রচুর। বেহালা, টালিগঞ্জ বা লেকটাউন অঞ্চলে একটু খোঁজ নিলেই চমৎকার চমৎকার সব বাঁশবন পাওয়া যেত। সেখানে দিনের বেলাতেও ঝুমমারা অন্ধকার। ভবানীপুর, হাতিবাগানের দিকে সহজে পোড়ো বাড়িও মিলত। দরজা-জানলা ভাঙা, দেওয়ালে বটগাছ, ঘরের মধ্যে মাকড়সার জাল আর চামচিকের বাসা। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য একেবারে আদর্শ পরিবেশ। ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঝিঁঝি ডাকছে, হাওয়া বইছে শিরশির করে, দূর থেকে ভেসে আসছে শিয়ালের ডাক। সব মিলিয়ে গা ছমছমে একটা ভাব। গা ছমছমে ভাব থাকলে ভূতেদের বুদ্ধি খোলে।

    আজকাল এসব পাট উঠে গিয়েছে। বাঁশবনই বা কোথায়? পোড়ো বাড়িই বা কে দেবে? চারপাশে উঁচু উঁচু ফ্ল্যাটবাড়ি, চওড়া চওড়া রাস্তা, লম্বা লম্বা ফ্লাইওভার। সর্বনাশের কথা হল, শহরে পূর্ণিমা-অমাবস্যা বলে আর কিছু নেই। সন্ধে হলেই ঝলমল করছে আলো। রাস্তায় আলো, শপিংমলে আলো, বাড়িতে আলো। এমনকী, বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংগুলো পর্যন্ত আকাশে আলো জ্বেলে বসে আছে সারারাত। পূর্ণিমার চাঁদ থেকেও নেই। অমাবস্যার অন্ধকার তো একেবারে ভ্যানিশ। শহুরে ভূতের দল ঠান্ডা মাথায় খানিকক্ষণ বসে যে নিজেদের মধ্যে দুটো কথা সেরে নেবে, সে উপায় নেই। কিন্তু তা বলে তো আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা যায় না। মিটিং তো করতেই হবে। বিশেষ করে সমস্যা যখন মারাত্মক, তখন সংকটমোচন কমিটিকে বসতেই হবে।

    তাই ঝপ করে লোডশেডিং হতেই এমার্জেন্সি মিটিং ডাকা হয়েছে। অমাবস্যার বদলে লোডশেডিংই এখন ভরসা। গতবার সংকটমোচন কমিটির মিটিং ডাকা হয়েছিল মেট্রোরেলের টানেলে। কালীঘাট থেকে এসপ্ল্যানেডের মাঝখানের সুড়ঙ্গের ভিতরে খানিকটা জায়গায় আলো নেই। বেশ একটা স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার। গভীর রাতে মিটিং শুরু হল। সেবারও আলোচনার বিষয় ছিল খুবই জরুরি। জরুরি এবং উদ্বেগজনক। কলকাতায় ভূতেদের থাকবার জায়গা হু হু করে কমে যাচ্ছে। বনবাদাড়, পানাপুকুর, ডোবা, পোড়ো বাড়ি নেই। এদিক-সেদিক দু’-চারটে ঝোপঝাড় যা পড়ে আছে, সেখানে আস্তানা গাড়তে গেলে ভাড়া গুনতে হচ্ছে ডবল। পুরনো বাড়ি খুঁজে ফ্যামিলি নিয়ে ঢুকতে গেলে মোটা সেলামি লাগছে। ফ্ল্যাটবাড়ির ছাদের কোনায় যে গা ঢাকা দিয়ে থাকবে, সে-পথ বন্ধ। সারারাত বড় বড় আলো জ্বলছে। লোকের বাড়ির খাটের তলায়, আলমারির পিছনে যে ঘাপটি মেরে দিনটুকু কাটবে, তাও সম্ভব নয়। আজকাল আলমারিগুলো সব দেওয়ালের সঙ্গে সাঁটা। পিছনে লুকিয়ে থাকবার জায়গা কোথায়? বেডরুমের খাটগুলো এতই নিচু যে, মেঝের সঙ্গে যেন লেগেই থাকে। ঘণ্টাখানেক নীচে গুড়ি মেরে থাকলে ঘাড়ে-পিঠে এমন ব্যথা হয় যে, গরম তেল মালিশেও সে ব্যথা যায় না। শপিংমল, মাল্টিপ্লেক্সের মতো ঝাঁ চকচকে যেসব জায়গা হয়েছে, সেখানেও বাসা বাঁধার চেষ্টা হয়েছে, লাভ হয়নি। ওসব জায়গায় সিকিউরিটির বড্ড কড়াকড়ি। টুপি পরা পাহারাদার হাতে লাঠি নিয়ে সর্বক্ষণ ঘোরাফেরা করে। তার উপর আজকাল আর-এক নতুন ফ্যাচাং হয়েছে। মাঝেমধ্যেই বোমা, গুলি লুকনো আছে কি না খুঁজে দেখতে বাঘের মতো বড়-বড় কুকুর নিয়ে পুলিশ ঘুরে বেড়ায়। তারা ফোঁস ফোঁস করে। অন্ধকার আনাচে কানাচে যখন তখন নাক ঢুকিয়ে দেয়।

    এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই গতবার মিটিং হয়েছিল। মিটিং চলছিলও গড়গড়িয়ে। নানা ধরনের প্রস্তাব উঠছিল। কেউ বলছিল, ভূতেদের জন্য আলাদা হাউজিং কমপ্লেক্স চাই। সেখানে দোকান-বাজার থাকবে, অডিটোরিয়াম থাকবে, সুইমিংপুল থাকবে। ছেলেপুলেরা সাঁতার শিখবে। কারও বক্তব্য হল, আগে বাড়িওলা-ভূতেদের অত্যাচারের হাত থেকে ভাড়াটে-ভূতেদের রক্ষা করতে হবে। সামান্য কয়েকটা পুরনো বাড়ির দখল নিয়ে তারা যে জোরজুলুম শুরু করেছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। কারও মতে, এবার একটা জম্পেশ ধরনের বন্‌ধ না ডাকলেই নয়। প্রতিবাদ দেখানোর সময় এসেছে।

    কমিটির আলোচনা সিরিয়াস দিকেই এগোচ্ছিল। কিন্তু যথারীতি মাঝখানে গোলমাল বেধে গেল। গোলমালের বিষয় মিটিংয়ের ভেনু। বৃদ্ধ ক্ষিতীশ পাকড়াশি হঠাৎ বিরাট হম্বিতম্বি শুরু করলেন, “এই যে কমিটির মাথারা, তোমরা ভেবেছটা কী? অ্যাঁ, কী ভেবেছ? জানোও না রাতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে এসকালেটর বন্ধ থাকে? নাকি জেনেও রসিকতা করছ? এখন কী হবে? ফেরবার সময় অত সিঁড়ি ভেঙে আমি উঠব কী করে? আমার কোমরে ব্যথা, হাঁটুতে বাত। তোমাদের কি বুদ্ধিশুদ্ধি সব লোপ পেল হে? আমাকে কি বেঘোরে মারতে চাও?”

    সেদিন মিটিংয়ের সভাপতি ছিলেন শশিভূষণ চাকলাদার। শশিভূষণবাবু অল্পেই মাথা গরম করে ফেলেন। অভিযোগ শুনে তিনি হাত-পা ছুড়ে বললেন, “ভূত আবার বেঘোরে মরবে কী? ভূত কখনও মরে? এতদিন তো জানতাম মরেই ভূত হয়। তা ছাড়া বাতের ব্যথায় আপনার হাঁটার দরকার কী ক্ষিতীশবাবু? হাওয়ায় ভেসে চলে যাবেন। ভূত যখন হয়েছেন, ভাসতে তো অসুবিধে কিছু নেই। মানুষ হলে একটা কথা ছিল।”

    ক্ষিতীশ পাকড়াশি হাতের লাঠি বাগিয়ে, চোখ পাকিয়ে বললেন, “খবরদার শশী, মানুষ বলে গালাগালি দেবে না বলে দিলাম। কমিটির সভাপতি হয়েছ বলে মাথা কিনে নাওনি। আমি হেঁটে যাব না হামাগুড়ি দিয়ে যাব, তোমাকে শেখাতে হবে না।”

    খুবই ছেলেমানুষি ধরনের ঝগড়া। কিন্তু দ্রুত ঝগড়া এমন জায়গায় গড়িয়েছিল যে, আলোচনা শিকেয় উঠেছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতাহাতি শুরু হতেই মিটিং ভন্ডুল হয়ে গিয়েছিল। এবার তাই ভেবেচিন্তে মিটিংয়ের জায়গা ঠিক হয়েছে গড়িয়ার ফ্লাইওভারে। এই ফ্লাইওভার এখনও তৈরি হয়নি। কাজ চলছে। সেখানে মানুষের হট্টগোল নেই, গাড়ির চোখধাঁধানো হেডলাইটও জ্বলে না। কমিটির কেউ বসেছে রেলিংয়ের উপর অন্ধকারে মিশে, কেউ বসেছে পিলারের আড়ালে ছায়া হয়ে, কেউ আছে ইটের পাঁজার ফাঁকফোকরে ঢুকে। মাথাটুকু শুধু বের করে রেখেছে। অল্পবয়সিরা অনেকেই ফ্লাইওভারের নীচে রড ধারে হাওয়ায় দোল খাচ্ছে।

    সংকটমোচন কমিটি আজ জ্ঞানদাশঙ্কর ভট্টাচার্য মহাশয়কে মিটিং চালানোর দায়িত্ব দিয়েছে। প্রবীণ জ্ঞানদাশঙ্কর একসময় ছিলেন ঠান্ডা মাথার বুদ্ধিমান মানুষ। ভূতজীবনে প্রবেশের পরও একই রকম আছেন। কমিটির আশা, উনি ঝগড়া ছাড়াই মিটিং পরিচালনা করতে পারবেন এবং সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনও না-কোনও পথ বলে দিতে পারবেন। দায়িত্ব পেয়ে আজ জ্ঞানদাশঙ্করবাবু খুশি। তিনি পাটভাঙা ধুতি-পাঞ্জাবি পরে এসেছেন। মিটিং শুরুর আগে সংকটমোচন কমিটির পক্ষ থেকে গলায় গাঁদাফুলের মালা পরিয়ে তাঁকে বরণ করা হল। জ্ঞানদাশঙ্করবাবু লজ্জিত মুখে বসলেন খানিকটা উঁচুতে, একটা ক্রেনের মাথায়। তারপর দু’বার গলাখাঁকারি দিয়ে বললেন, “ভাইসব, আপনারা শান্ত হোন। হাতে বেশি সময় নেই। যে-কোনও সময় ইলেকট্রিসিটি চলে আসবে। সুতরাং আমাদের আলোচনা দ্রুত শেষ করতে হবে। মনে রাখবেন, ভূতসমাজ এই মুহূর্তে যে-বিপদের মুখোমুখি হয়েছে, তা অতি মারাত্মক। এই সংকট থেকে যদি আমরা নিজেদের রক্ষা না করতে পারি, তা হলে আমাদের অস্তিত্ব নিয়েই টানাটানি পড়ে যাবে। মানুষের অত্যাচার আমাদের কম সহ্য করতে হয় না। কিন্তু এবারের ঘটনা সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছে।”

    শ্রোতারা ঝটপট হাততালি দিল। জ্ঞানদাশঙ্করবাবু উৎসাহ পেলেন। বললেন, “ভাইসব, আপনারা আগে আমাদের তিন সঙ্গী শ্রীনিবাস, কালিপদ আর ঝন্টুর মুখ থেকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনুন। তারপর আমরা ঠিক করব, কীভাবে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।”

    এবার হুড়োহুড়ি পড়ে গেল। সকলেই কাছে এসে কথা শুনতে চায়। এ ওকে ঠেলা দিল, সে লম্বা হাত বাড়িয়ে চেপে ধরল তার গলা। দু’-একজন গুড়ি মেরে এগিয়ে অন্যদের পা ধরে হেঁচকা টান দিল। বেচারি হুড়মুড়িয়ে পড়ল রেলিং থেকে। জ্ঞানদাশঙ্করবাবু তাড়াতাড়ি হাওয়ায় ডিগবাজি খেয়ে ক্রেনের আংটা ধরে ঝুলে পড়লেন। তাঁর সাধের পাটভাঙা ধুতির কোঁচা ছিঁড়ল, মালা থেকে গাঁদাফুল খসে পড়ল। তিনি হাত তুলে বললেন, “শান্ত হোন ভাইসব, শান্ত হোন। আজ নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করলে বিপদ আরও বাড়বে।”

    বিপদের কথায় সবাই চুপ করল। আর ঝন্টু, কালিপদ, শ্রীনিবাসের কথা শুনে চমকে চমকে উঠতে লাগল। যা ঘটেছে তাতে চমকে ওঠারই কথা। যে মানুষ একসময় ভূতের ভয়ে ঠকঠক করে কাঁপত, দাঁতকপাটি লেগে যেত, চোখ কপালে তুলে মূৰ্ছা যেত, সেই মানুষ এখন আর ভূতে ভয় পাচ্ছে না পাত্তাই দিচ্ছে না মোটে। ভূতের দিকে মন দেওয়ার সময়ই নেই তাদের। ভয় দেখানোর যাবতীয় কসরত ফেল করছে। শ্রীনিবাস নিজে এই ঘটনার সাক্ষী। গত সপ্তাহে বালিগঞ্জের এক ফ্ল্যাটবাড়ির এগারোতলা পর্যন্ত উঠেছিল সে। হাসি দিয়ে মানুষ ঘাবড়ানোয় শ্রীনিবাস একসময় ছিল বিরাট ওস্তাদ। ভূতসমাজে তাকে ‘হাসিভূত’ বলে ডাকা হত। সেই শ্রীনিবাস এগারোতলার জানলার পাশে ফ্যাঁসাফ্যাঁস করে বেশ খানিকটা হাসি দিল। রাতবিরেতে এই হাসিতে বুক হিম হয়ে যাওয়ার কথা। অনেকেরই গিয়েছে। অথচ সেদিন ঘটল অন্যরকম। খানিকক্ষণের মধ্যেই জানলা খুলে গোলগাল চেহারার এক মহিলা বাজখাঁই গলায় ধমক দিল, “অ্যাই কে রে? মাঝরাতে ফাজলামি করে!’’

    ভূতের হাসি শুনে ধমক! কেউ কখনও শুনেছে? শুধু হাসি নয়, ভৌতিক আওয়াজগুলো পর্যন্ত সব অকেজো হয়ে যাচ্ছে। দরজার ক্যাঁচকোঁচ, বাথরুমের কল থেকে মিথ্যে জল পড়ার টুপটাপ, ছাদে পায়ের ধুপধাপ, খাটের তলায় খচমচ, বারান্দার ফিসফাসে কেউ আর গা করছে না। গত কয়েক মাসে কালিপদ সবক’টায় ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ এইসব ভৌতিক আওয়াজে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে মনের আনন্দে টিভি চালিয়ে দিয়েছে, নয় মিউজিক সিস্টেমে গান বাজিয়েছে গাঁকগাঁক করে। অপমানের একশেষ যাকে বলে! ভয় দেখানোর ভারী সহজ উপায় ছিল আলো-আঁধারি সিঁড়ি বেয়ে সরসর করে উঠে যাওয়া। বাঁকের মুখে শার্টের একটা কোণ, শাড়ির একটুখানি আঁচল দেখা যাবে মাত্র। বাকি সবটাই মিশে থাকবে বাতাসে। এই টেকনিকের নাম হল, ‘আছে কিন্তু নেই’ টেকনিক। এই টেকনিকে একসময় বহু মানুষ মূৰ্ছা যেত। সেদিন ঝন্টু এই টেকনিক ব্যবহার করতে গিয়ে ভারী অপমানিত হয়েছে। সিঁড়িতে পিছন পিছন আসা মানুষটা সমানে কানে মোবাইল ফোন চেপে ধরে বকর বকর চালিয়ে গিয়েছে। এতই ব্যস্ত যে ভূতের শার্ট, পেতনির শাড়ির আঁচল তো কোন ছার, সামনে দিয়ে আস্ত ভূত সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলেও তার ঘুরে তাকানোর সময় নেই। কে জানে হয়তো মাথা নাড়িয়ে বলে বসবে ‘গুড ইভনিং’। ঝন্টুর এক সময় ইচ্ছে করল, মোবাইল ফোনটা কেড়ে নিয়ে মানুষটার গালে চড় কষায়। ‘আছে কিন্তু নেই’ টেকনিকে চড় মারার কোনও নিয়ম নেই। মনের দুঃখে সে ফিরে এল।

    তিনজনের কথা শেষ হওয়ার পরও সবাই চুপ করে রইল। বিপদ সত্যি মারাত্মক। ভয় দেখাতে না পারলে ভূতের আর রইল কী? বাড়িঘর দিয়েই বা কী হবে? ভালমন্দ খাবারদাবার দিয়েই বা কী হবে? ভূতের আসল পরিচয় তো আর বাড়িঘরে নয়, পরিচয় ভয়ে। জ্ঞানদাশঙ্করবাবু বেশ খানিকক্ষণ মাথা চুলকে ভাবলেন। তারপর বললেন, “দেখুন ভাইসব, এত সহজে হাল ছেড়ে দিলে হবে না। এমন তো হতে পারে, আমরা যাদের ভয় দেখাতে গিয়েছিলাম তারা সব সাহসী মানুষ। আমরা তাই ব্যর্থ হয়েছি। হতে পারে না?”

    শ্রোতারা আশার কথা শুনে খুশি হল। সমস্বরে হইহই করে বলল, “হতে পারে, খুব হতে পারে। শ্রীনিবাস, কালিপদ আর ঝন্টুটা খুব বোকা!”

    তিনজনেই উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে গেল। লাভ হল না কোনও। বাকিরা চড়থাপ্পড় আর কানমলা দিয়ে তাদের বসিয়ে দিল। জ্ঞানদাশঙ্করবাবু বললেন, “আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। এবার ক’দিন আমরা বড়দের বাদ দিয়ে ছোট ছেলেমেয়েদের উপর পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখি? ভূতের ভয়ের ব্যাপারে প্রাচীনকাল থেকে তাদের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে। তাদেরও আমাদের প্রতি অগাধ বিশ্বাস। বড়দের মতো তারা আমাদের সহজে ফেলতে পারবে না। আপনারা কী বলেন?”

    কেউ কিছু বলার আগেই ভেউ ভেউ করে কান্নার আওয়াজ ভেসে এল। ভূতেদের মধ্যে কান্নাকাটি একটা বিরাট লজ্জার ব্যাপার। তার উপর একেবারে প্রকাশ্য সভায়। ছি ছি, কে কাঁদে? সবাই মুখ ফেরাল।

    কাঁদছে জগদীশ সাঁতরা। এতক্ষণ সিমেন্টবালির বস্তার মধ্যে চ্যাপটা হয়ে গা ঢাকা দিয়ে বসে ছিল। এবার বেরিয়ে এসে কান্না জুড়ে দিয়েছে। জ্ঞানদাশঙ্করবাবু অবাক হয়ে বললেন, “এ কী! তোমার আবার কী হল জগদীশ?”

    জগদীশ উঠে দাঁড়িয়ে দু’হাত জোড় করে বলল, “আমাকে ছেড়ে দিন স্যার। ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে আমাকে ডাকবেন না। আমি মরে যাব স্যার।”

    “মরে যাবে। কেন?”

    চোখের জল মুছতে মুছতে জগদীশ বলল, “বড়দের মধ্যে এখনও এক-আধজন ভিতু পাওয়া গেলেও যেতে পারে স্যার। ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে কোনও চান্স নেই, আমি হলফ করে বলতে পারি। স্কুলে-পড়া ছেলেমেয়েগুলো আজকাল এক-একটা বিচ্ছু। আস্ত পাজি। দিনরাত কম্পিউটার ঘেঁটে, গল্পের বই গিলে আর হরর সিনেমা দেখে সাপের পাঁচ-পা দেখেছে স্যার। আগে একটু আওয়াজ পেল কী পেল না, বিছানায় উঠে চাদর মুড়ি দিত। আমাদের কোনও খাটাখাটনিই ছিল না। এখন মোবাইল ফোনের আলো জ্বেলে খোঁজ লাগায়। ভয়ের কোনও ধার ধারে না।’

    জ্ঞানদাশঙ্করবাবু ভুরু কুঁচকে বললেন, “টেবিলের তলায় বসে দেখেছ? ওতে তো ভয় পাওয়ার কথা!”

    জগদীশ ফুঁপিয়ে উঠে বলল, “দেখিনি স্যার, খুব দেখেছি। সেই ঘটনা মনে পড়তেই তো চোখে জল চলে এল। গত শনিবার কী যে প্যাঁচে ফেলেছিল। ক্লাস টেন-এ পড়া একটা পাকা ছেলের টেবিলের তলায় ঘাপটি মেরে আছি। রাত তখন একটা তো হবেই। বেশিও হতে পারে। বাড়িসুদ্ধ সবাই ঘুমিয়ে কাদা। চারপাশ নিস্তব্ধ। ভয় দেখানোর জন্য আইডিয়াল সময় যাকে বলে। আমি তো স্যার তক্কেতক্কে আছি। ছেলেটি নীচের দিকে তাকালেই বড় ধরনের একটা দাঁতখিঁচুনি দেব।”

    জগদীশ চুপ করল। শ্রোতাদের মধ্যে থেকে চিৎকার উঠল, “তারপর, তারপর কী হল?” জগদীশ বলল, “তারপর আর কী, ছেলে তো কিছুতেই টেবিলের নীচে তাকায় না। একমনে খাতায় খসখস করে কী যেন করে। এদিকে বসে থাকতে থাকতে আমার পায়ে ধরেছে ঝিঁঝি। যেই একটু নড়াচড়া করেছি অমনি সেই ছেলে বলে কি না…।”

    জ্ঞানদাশঙ্করবাবু বললেন, “কী বলে? তাড়াতাড়ি বলো?”

    জগদীশ বলল, “সেই ছেলে গম্ভীর গলায় বলে উঠল, ‘টেবিলের তলায় কেউ নেই জানি, তবু যদি থাকো, উঠে এসে দেখি বাছাধন। উঠে এসে এই জিয়োমেট্রিগুলো সলভ করে দাও।’ একবার ভাবুন স্যার, কত বড় পাজি ছেলে! ভূতকে কিনা জিয়োমেট্রি করতে বলছে। ভয় দেখাব কী, আমি তো নিজেই ভয়ে কাঁটা হয়ে গিয়েছি। লেখাপড়া কবে ছেড়েছুড়ে দিয়েছি। তার উপর জ্যামিতিতে আমি চিরকালই কাঁচা ছিলাম। এতই ভয় পেয়েছি যে, স্যার, হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ার কায়দাটা পর্যন্ত মনে পড়ল না। পালাতেই পারলাম না। লজ্জার কথা কী বলব স্যার, সেই ছেলে আমাকে টেবিলের তলা থেকে বের করে সত্যি সত্যি খাতা-বই ধরিয়ে দিল। দাঁত বের করে বলল, “অঙ্কগুলো না কষলে তোমার ছাড় নেই। সে তুমি যতই ভূত হও আর প্রেতই হও। আমি এখন কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনব। আর তোমায় পাহারা দেব। সেদিন গুনে গুনে বিয়াল্লিশটা জ্যামিতি করেছি স্যার। সম্পাদ্য, উপপাদ্য, একস্ট্রা, কী নয়? এখনও হাত টনটন করছে। আমাকে ছেড়ে দিন। আমি আর ওদের কাছে যাচ্ছি না।”

    এরপরই আলো ফিরে এল। মিটিং ভেস্তে দিয়ে সকলেই দ্রুত এদিক-ওদিক গা ঢাকা দিল। জগদীশের ঘটনা শোনার পর থেকে সকলেই যেন পালানোর জন্য অপেক্ষা করছিল। ভূত হয়েও অঙ্ক কষতে হবে? বাপ রে! জ্ঞানদাশঙ্করবাবুও গলার মালা খুলে ভুস করে মিলিয়ে গেলেন।

    পরদিন মিস্তিরি-শ্রমিকরা কাজে এসে অবাক হল। ফ্লাইওভারের উপর শুকনো ফুলের মালা ফেলল কে?

    ২০ ডিসেম্বর ২০০৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআগাথা ক্রিস্টি রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : নচিকেতা ঘোষ)
    Next Article আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }