Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমেরিকান গডস – নিল গেইম্যান

    নিল গেইম্যান এক পাতা গল্প680 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমেরিকান গডস – ১৬

    অধ্যায় ষোলো

    ‘আমি জানি পাতানো। কিন্তু এই শহরে যে আর কোনো জুয়া নেই!’

    –কানাডা বিল জোনস

    .

    গাছটা নেই, সাথে করে নিয়ে গেছে বিশ্বকেও, মাথার ওপরে এতক্ষণ ধরে ঝুলে থাকা ধূসর আকাশও নেই। এখন ওটার রং মাঝরাতের মতো। অনেক ওপরে একটা মাত্র শীতল তারকা আলো ছড়াচ্ছে। এক পা এগোল শ্যাডো, আরেকটু হলেই হোঁচট খাচ্ছিল।

    নিচের দিকে তাকালো শ্যাডো। পাথরে ধাপ খোদাই করা আছে, এত বড়ো বড়ো ধাপ যে দানো ছাড়া আর কারও পক্ষে কাজটা অসম্ভব। নিশ্চয়ই ওই ধাপগুলো ব্যবহার করে অনেক দিন আগে নিচে নেমেছিল তারা।

    কখনও লাফিয়ে…কখনও হাচড়ে-পাচড়ে নামতে শুরু করল ও। ব্যথায় আর্ত- চিৎকার করছে ওর দেহ, তবে এই ব্যথা অনেকদিন পর দেহকে ব্যবহার করার ব্যথা। গাছ থেকে ঝোলার ব্যথা নয়।

    অবাক না হয়েই বুঝতে পারল, এখন পুরোপুরি পোশাক পরিহিত সে! জিন্স আর সাদা টি-শার্ট আছে পরনে, অবশ্য পা খালি। দে জা ভ্যুর একটা অনুভূতি হলো ওর: যরিয়া পলুনোচনিয়ার সাথে কাটানো সেই রাতে এই পোশাকটাই পরে ছিল। মেয়েটা সে রাতে আকাশ থেকে ওর জন্য চাঁদকে তুলে এনেছিল।

    এরপর কী হবে, তা পরিষ্কার বুঝতে পারল শ্যাডো। যরিয়া পলুনোচনিয়া এসে উপস্থিত হবে।

    ধাপগুলোর নিচে ওর জন্যই অপেক্ষা করছিল মেয়েটা। আকাশে চাঁদ নেই আজ। কিন্তু তারপরও চাঁদের রুপালি আলো ঠিকরে পড়ছে ওর গায়ে। সাদা চুলগুলো চাঁদের মতোই মলিন দেখাচ্ছে। শিকাগোতে যেমন ঝালর দেওয়া সুতির নাইটগাউন পরে ছিল, আজও তাই আছে।

    শ্যাডোকে দেখে হাসল মেয়েটা। ‘হ্যালো।’

    ‘হাই,’ বলল শ্যাডো।

    ‘কেমন আছ?’

    ‘বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে যেন অদ্ভুত আরেকটা স্বপ্ন দেখছি। জেল থেকে বেরোবার পর, আমার সব স্বপ্নই কেন যেন অদ্ভুত হয়।’

    চাঁদের আলোয় রুপালি মনে হচ্ছে যরিয়ার চেহারা (যদিও আকাশে চাঁদের কোনো চিহ্নও নেই। যেখানে দাঁড়িয়ে আছে এখন, সেখান থেকে তারাও দেখা যাচ্ছে না), বড়ো দুর্বল আর ভঙ্গুর দেখাচ্ছে মেয়েটাকে। বলল, ‘চাইলে তোমার যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি। কিন্তু একবার সেগুলোর ব্যাপারে জ্ঞাত হলে, আর কখনও অজ্ঞাত হতে পারবে না।’

    যরিয়াকে পার হয়েও সামনে অনেকদূর এগিয়েছে রাস্তাটা, দু’ভাগে ভাগ হয়ে। যেকোনো একটা বেছে নিতে হবে এখন, বুঝতে পারল ও। কিন্তু তার আগে অন্তত একটা কাজ করতে হবে শ্যাডোকে। জিন্সের পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিল ও, লিবার্টি ডলারের পরিচিত ওজনটা টের পেতেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। আলতো করে সেটাকে বের করে আনল শ্যাডো, ‘এটা তোমার।’ বলল যুবক।

    ঠিক তখন ওর মনে পড়ল, নিজের কাপড়গুলো সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা আছে গাছের গোড়ায়। যে থলে থেকে দড়ি বের করেছিল তিন বোন, সেই থলেতেই আবার রেখে দিয়েছে ওর পোশাক। এমনকি যেন বাতাসে উড়ে না যায়, সেজন্য সবচেয়ে বড়ো বোন সেটাকে পাথরচাপাও দিয়ে রেখেছিল। তাই বুঝতে পারল, বাস্তবের পয়সাটা এখনও ওখানেই আছে…পাথরের নিচে। অথচ পয়সা আছে ওর হাতেও। পাতালপুরীর প্রবেশ পথের সামনে দাঁড়িয়ে ওটাকে আঁকড়ে ধরে আছে এখন!

    হাত বাড়িয়ে পয়সাটা নিলো যরিয়া। ‘ধন্যবাদ। দুবার তোমার জন্য লিবার্টি, মানে স্বাধীনতা বয়ে এনেছে এটা,’ বলল সে। ‘এখন অন্ধকারের আলো হবে।

    পয়সাটা আঁকড়ে ধরে রইল কিছুক্ষণ ও, তারপর যতটা সম্ভব উঁচু করে মাথার উপর তুলল হাত…খুলে ফেলল হাতের মুঠি। কী আশ্চর্য, পয়সাটা পড়ে গেল না নিচে! বরং শ্যাডোরও মাথার প্রায় এক ফুট ওপরে ভেসে রইল। অবশ্য এখন আর ওটা রুপালি পয়সা নেই, পরিণত হয়েছে গ্রীষ্মের আকাশে রাতে দেখা চাঁদে।

    সেই চাঁদের আলোয় সামনে দুই ভাগ হয়ে যাওয়া পথের দিকে তাকাল শ্যাডো। ‘কোনটা ধরে এগোব?’ প্রশ্ন করল ও। ‘কোনটা নিরাপদ?’

    ‘যেকোনোটা বেছে নিতে হবে,’ উত্তরে জানাল মেয়েটা। ‘কিন্তু সাবধান, দুই পথের কোনটাই নিরাপদ না। কোনটায় যেতে চাও-নিরেট সত্যের পথে? নাকি নরম মিথ্যার?’

    ‘সত্যের,’ উত্তর দিল শ্যাডো। ‘অনেক কষ্ট করে এসেছি, আর মিথ্যা চাই না।’

    মাথা নাড়ল মেয়েটা। ‘তাহলে দাম চুকাও।’

    ‘কী দিতে হবে?’

    ‘তোমার নাম…আসল নাম।’

    ‘কীভাবে দেব?’

    ‘এই যে এভাবে,’ বলে নিখুঁত হাতটা শ্যাডোর মাথার দিকে বাড়াল যরিয়া। শ্যাডো টের পেল নরম আঙুলগুলো ওর ত্বক স্পর্শ করছে। পরক্ষণে চামড়া ভেদ করে, খুলি ভেদ করে মাথার আরও গভীরে পৌঁছে গেল। শিরশির করে উঠল ওর খুলি, শিরদাঁড়া। বেশিক্ষণ হাত ভেতরে রাখেনি মেয়েটা, বের করে এনেছে। জ্বলন্ত ম্যাগনেসিয়াম যেমন আলো দেয়, ঠিক তেমন একটা শিখা দেখা গেল ওর তর্জনীর ওপরে…নাচছে।

    ‘ওটা আমার নাম?’ জানতে চাইল ও।

    হাত বন্ধ করে ফেলল যরিয়া, সাথে সাথে উধাও হয়ে গেল শিখা। ‘ছিল,’ বলল সে। এরপর হাত তুলে ডান দিকের পথটা দেখাল। ‘এবার এদিকে যাও।’

    নামহীন হয়ে, শ্যাডো চাঁদের আলোয় ধরল ডান দিকের পথ। একটু এগিয়ে যখন ধন্যবাদ জানাবার জন্য পিছু ফিরে তাকাল, তখন দেখতে পেল কেবল কালো অন্ধকার। এগিয়ে গেল ও। অচিরেই বাঁক পড়ল সামনে।

    যদি এ-ই হয় মৃত্যুর পরের জীবন, বাঁক ঘুরতে ঘুরতে ভাবল শ্যাডো। তাহলে তা অনেকটাই দ্য হাউজ অন দ্য রকের মতো।

    ওয়ার্ডেনের অফিসে জেলের পোশাক পরিহিত অবস্থায় নিজেকে দেখতে পেল ও। ভদ্রলোক ওকে লরার দুর্ঘটনার ব্যাপারে জানাচ্ছেন। নিজের অনুভূতিটাও দেখতে পেল, মনে হলো সে এমন এক লোক যাকে দুনিয়া পরিত্যাগ করেছে। নিজের চেহারায় ভয়ের ছাপ দেখে কষ্ট পেল শ্যাডো, তাই তাড়াতাড়ি পা বাড়াল। এরপর নিজেকে আবিষ্কার করল ইগল’স পয়েন্টের ঠিক বাইরে অবস্থিত একটা ভিসিআর রিপেয়ার স্টোরে। আজ থেকে তিন বছর আগের এক দৃশ্যে।

    ও জানে, দোকানের ভেতরের শ্যাডো পিটিয়ে ল্যারি পাওয়ার্স আর বিজে ওয়েস্টের হাড়-মাংস এক করছে। অচিরেই দোকানটা থেকে বেরিয়ে আসবে সে, হাতে থাকবে বিশ ডলারের নোটে ভরতি একটা বাদামি ব্যাগ। এই টাকাটা ওর ভাগের অংশ, ল্যারিরা কোনোদিন কারও কাছে অভিযোগ জানাতে পারবে না। অবশ্য হ্যাঁ, ভাগের চাইতে কিছুটা বেশিই নিয়ে এসেছে শ্যাডো। ওটুকু ওকে আর লরাকে ধোঁকা দেবার চেষ্টা করার জরিমানা। পুরো পরিকল্পনায় ওর ভূমিকা ছিল চালকের, নিজের কাজ যথাযথভাবেই সম্পন্ন করেছিল সে।

    বিচারের সময় ব্যাংক ডাকাতির কথা উচ্চারণও করেনি কেউ, যদিও সবাই তা মনে মনে চাচ্ছিল। সমস্যা হলো, ওদের মাঝে কেউ মুখ না খুললে সেটা প্রমাণ করার উপায় ছিল না কর্তৃপক্ষের হাতে। আর তিনজনের কেউই মুখ খোলার কথা কল্পনাও করেনি। বাধ্য হয়ে শারীরিক আক্রমণের অভিযোগটাই কেবল আনতে পেরেছিল উকিল। হাসপাতালে ভর্তি হবার সময় ল্যারি আর ওয়েস্টের অবস্থা কী হয়েছিল, তার ছবি দেখিয়েছিল লোকটা। ঝামেলা এড়াতে আত্মপক্ষ খুব একটা সমর্থন করেনি শ্যাডো। এদিকে ল্যারি বা ওয়েস্ট, দুজনের কেউ ঝগড়ার কারণ নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে সে-ই যে আক্রমণকারী একথা বলেছিল।

    টাকার প্রসঙ্গও ওঠেনি তাই।

    ওঠেনি লরার কথাও, শ্যাডো তাতেই খুশি ছিল।

    শ্যাডোর একবার মনে হলো, এরচাইতে মিথ্যার পথ ধরে এগোলেই বুঝি বেশি ভালো হতো। দ্রুত পায়ে এগিয়ে চলল ও। এবার এসে উপস্থিত হলো শিকাগোর এক সরকারি হাসপাতালের ঘরে। মনে হলো, পেটের ভেতর থেকে সব কিছু যেন উগড়ে আসবে। থমকে দাঁড়াল সে, সামনের কিছু দেখতে চায় না। চায় না আর একটা পদক্ষেপও ফেলতে।

    হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আবার মারা যাচ্ছেন ওর মা, যেমন মারা গেছিলেন শ্যাডোর ষোলো বছর বয়সের সময়। ওই যে বসে আছে শ্যাডো, মুখে ব্রণ নিয়ে মাথা নিচু করে এক মনে পেপারব্যাক বই পড়ছে। আসলে পড়ছে না বলে তাকিয়ে আছে বলাই ভালো। বইটার নাম কী, তা মনে করার প্রয়াস পেল বর্তমানের শ্যাডো। কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গেল অতীতের শ্যাডোর কাছে। গ্রাভিটি’স রেইনবো পড়ছে ছেলেটা, মায়ের মৃত্যুর হাত থেকে পালিয়ে আশ্রয় খুঁজছে লন্ডনের কাল্পনিক এক জগতে।

    মরফিন দেওয়া হয়েছে বলে আরামে ঘুমাচ্ছেন ওর মা। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, রোগটা তেমন বড়ো কিছু না। কিন্তু পরে আবিষ্কার হলো, আসলে তিনি লিম্ফোমা নামক ক্যান্সারে ভুগছেন! তা-ও একেবারে শেষ পর্যায়ে। ভদ্রমহিলার ত্বকে কেমন যেন হলদে-ধূসর একটা আভা চলে এসেছে। বয়স ত্রিশের শুরুর দিকে হলেও দেখতে আরও অনেক বেশি বয়স্ক মনে হয়।

    তরুণ শ্যাডোকে ঝাঁকাতে ইচ্ছা হলো বর্তমানের শ্যাডোর। ইচ্ছা হলো মার সাথে কথা বলা বলার আদেশ দেয়। কিন্তু না, নিজেকে স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারল না ও। চুপচাপ তাকিয়ে দেখল: কীভাবে মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চুপচাপ বসে মোটা একটা বই পড়ছিল সে।

    এরপর খুব একটা পড়া হয়নি ওর। কাল্পনিক গল্প পড়ে লাভ কী? ওগুলো জীবনের রূঢ় বাস্তবতাকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না।

    ঘরটা থেকে বেরিয়ে এলো শ্যাডো, ভূ-গর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধরে এগিয়ে যেতে লাগল। আবার সে দেখতে পেল মাকে। এমন কমবয়সি অবস্থায় দেখার কথা মনে নেই ওর, টেনেটুনে পঁচিশ হবে হয়তো। ওদের প্রাক্তন অ্যাপার্টমেন্টে দাঁড়িয়ে আছে এখন শ্যাডো। চারপাশে তাকাল একবার, যদি কবেকার ঘটনা দেখছে সে ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়! নিজেকে আবিষ্কার করল সে মায়ের সাথে তর্করত অবস্থায়। ছোটোখাটো, বড়ো বড়ো চোখ আর কালো চুলের একটা বাচ্চা গলা ফুলিয়ে চিৎকার করছে। শ্যাডো জানে, এই ঝগড়ার বিষয়বস্তু কী। কেননা মায়ের সাথে আর কিছু নিয়ে কখনও ঝগড়া হয়নি ওর।

    –কে আমার বাবা?

    –মারা গেছে। ওর ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন করো না।

    –বুঝলাম, কিন্তু তার পরিচয়টা অন্তত বলো।

    –ভুলে যাও লোকটাকে। যে মৃত, সে মৃত।

    –আমি বাবার একটা ছবি দেখতে চাই। -আমার কাছে নেই।

    সাধারণত এই কথাটা বলার সময় মার কণ্ঠ তীক্ষ্ণ অথচ নিচু হয়ে যেত। শ্যাডো জানে এই কণ্ঠের অর্থ হলো, আরও প্রশ্ন করলে মারও খেতে হতে পারে। শ্যাডো এ-ও জানে, ওই বয়সে তা বোঝার ক্ষমতা ওর ছিল না। তাই এগিয়ে গেল সুড়ঙ্গ ধরে।

    এঁকে-বেঁকে, ঘুরে-পেঁচিয়ে এগিয়ে গেছে পথটা; সাপের খোলস আর গাছের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে ওকে। বাঁ দিকে আচমকা একটা ডোবা দেখা গেল, সেই সাথে টপ টপ শব্দ। সম্ভবত সুড়ঙ্গের আরও সামনে কোথাও পানি ঝরছে উপর থেকে। হাঁটু ভাঁজ করে বসল ও, আঁজলায় তুলে পান করল পানি। তারপর আবার হাঁটতে শুরু করল শ্যাডো।

    থামল যখন ডিস্কো ফ্লোরের মতো রঙ-বেরঙের আলোতে চারপাশ ভরে উঠেছে, তখন। মনে হচ্ছে ওর-মহাবিশ্বের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ও, সবগুলো তারা আর গ্রহ ওকে কেন্দ্র করেই ঘুরছে। কিচ্ছু শুনতে পাচ্ছে না শ্যাডো। নাহ, গানের সুরের কারণে বা চেঁচামেচির কারণে না। চোখের সামনে এক মেয়েকে দেখতে পাচ্ছে সে, মনে হচ্ছে মেয়েটা ওর মা। কিন্তু এত অল্প বয়সে কখনও মাকে দেখেনি বলে বুঝতে পারছে না…

    …নাচছেন তিনি।

    কার সাথে নাচছেন, সেটা দেখার জন্য ঘুরল শ্যাডো। লোকটাকে দেখামাত্র চিনতে পারল ও, অবাক হলো না এক বিন্দুও। গত তেপান্ন বছরে তার একটুও পরিবর্তন হয়নি।

    মা যে মাতাল হয়ে আছেন, সেটা এক নজর দেখেই বুঝতে পারল শ্যাডো। বদ্ধ মাতাল নন; তবে মদ্যপানে অনভ্যস্ত কেউ একটু বেশি পান করলে তার যে অবস্থা হয়, তেমন অবস্থা তার। মার্গারিটা পান করছেন তিনি, তার ঠোঁটে লেগে আছে লবণ। লবণ লেগে আছে তার হাতের উলটো পিঠেও।

    ওয়েনসডের পরনে আজ অবশ্য স্যুট আর টাই নেই। কিন্তু গাছের আকৃতিতে বানানো পিনটা শার্টের পকেটে লাগানো। বয়সের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলেও, পাশাপাশি দুজনকে মানিয়েছে বেশ।

    আস্তে আস্তে নাচছেন তারা, থাবার মতো একটা হাত দিয়ে মাকে আরও কাছে টেনে নিচ্ছেন ওয়েনসডে। অন্য হাতটা তার চিবুকে, ধীরে ধীরে উঁচু করে ধরছেন। পরস্পরকে চুমু খেলেন দুজন।

    কিছুক্ষণ পরেই বিদায় নিলেন তারা। ওয়েনসডের পিছু পিছু গেলেন ওর মা। হাত দিয়ে চোখ ঢাকল শ্যাডো, ওদেরকে অনুসরণ করতে চায় না। কার ঔরসে আর কার গর্ভে জন্মেছে, সেটা জানতে পেরেই খুশি ও। গর্ভধারণ প্রক্রিয়াটা দেখার ইচ্ছে নেই।

    কপাল ভালো ওর, দেখতে হলোও না। উধাও হয়ে গেল ডিস্কো ফ্লোরের আলো, এখন আলোক-উৎস বলতে কেবল মাথার উপর ঝুলে থাকা ছোটো চাঁদটা।

    হাঁটতে থাকল শ্যাডো। একটা বাঁকের কাছে এসে শ্বাস নেবার জন্য থমকে দাঁড়াল।

    আচমকা পিঠে একটা নরম স্পর্শ টের পেল ও। ‘হ্যালো,’ পেছন থেকে কমনীয় একটা কণ্ঠ ভেসে এলো।

    ‘হ্যালো,’ ঘুরে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল শ্যাডো।

    মেয়েটার চুল বাদামি, ত্বক বাদামি; চোখজোড়া টানা-টানা, মধুর মতো ঘন বাদামি। ‘আমি কী তোমাকে চিনি?’ বিভ্রান্ত শ্যাডো জানতে চাইল।

    ‘ভালোভাবেই চেনো,’ মৃদু হাস্যের ফাঁকে বলল মেয়েটা। ‘তোমার বিছানায় ঘুমাতাম, তোমার ওপর নজর রেখেছে আমার লোকেরা।’ সামনের পথের দিকে ইঙ্গিত করল সে। ‘সামনে পথটা তিন ভাগে ভাগ হয়েছে। একটা তোমাকে জ্ঞানী বানাবে। একটা করবে সম্পূর্ণ, আর একটায় লেখা আছে তোমার মরণ।’

    ‘আমার তো মনে হয়, আমার মৃত্যু হয়ে গেছে!’ বলল শ্যাডো। ‘গাছে ঝোলা অবস্থায়।’

    ‘মৃত্যু যেমন আছে,’ ঠোঁট গোল করে বলল মেয়েটা। ‘তেমনি আছে মরণ, আবার আছে মহাপ্রয়াণ। পুরোটাই আপেক্ষিক।’ আবার হাসি দেখা গেল তার ঠোঁটে। ‘চাও তো এ নিয়ে তোমাকে একটা কৌতুক শোনাতে পারি।’

    ‘থাক,’ বলল ও। ‘লাগবে না।’

    ‘তাহলে,’ জানতে চাইল মেয়েটা। ‘কোন পথে যাবে?’

    ‘আমি জানি না।’ মেনে নিলো শ্যাডো।

    এক দিকে মাথা কাত করল মেয়েটা, একদম বিড়ালের মতো। সাথে সাথে সেই স্বর্গীয় রাতের কথা মনে পড়ে গেল ওর, লাল হয়ে গেল লজ্জায়। ‘আমাকে বিশ্বাস করো?’ জানতে চাইল বাস্ট। ‘করলে তোমার হয়ে বেছে দেব।’

    ‘করি।’ বিন্দুমাত্র ইতস্তত না করে বলল শ্যাডো।

    ‘বিনিময়ে কী দিতে হবে, জানতে চাইলে না?’

    ‘আমার নাম এরইমাঝে দিয়ে দিয়েছি।’

    ‘নাম আসে, নাম যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিনিময়ে যা পেয়েছ তা নিয়ে কী তুমি সন্তুষ্ট?’

    ‘হয়তো, সম্ভবত। যা আমার সামনে উন্মোচিত হয়েছে, তা অনেকটাই ব্যক্তিগত।’

    ‘সব ধরনের উন্মোচনই তাই। আর সেজন্যই উন্মোচন মানেই সন্দেহের বিষয়বস্তু।’

    ‘তোমার কথা বুঝতে পারলাম না।’

    ‘পারার কথাও না,’ বলল বাস্ট। ‘আমি তোমার হৃদয় নেব, পরে কাজে লাগবে।’ হাত বাড়িয়ে শ্যাডোর বুকের ভেতরে ঢোকাল মেয়েটা, লালচে কিছু একটা বের করে আনল ক্ষণিকের মাঝেই। কবুতরের রক্তের মতো রং ওটার, নির্মিত হয়েছে নিখাদ আলো দিয়ে। মেয়েটার হাতে ধরা অবস্থাতেও স্পন্দিত হচ্ছে।

    হাত মুষ্টি করল মেয়েটা, উধাও হয়ে গেল আলো।

    মাঝখানের রাস্তা ধরে এগোও।

    মাথা নেড়ে তাই করল শ্যাডো।

    পথটা এখন পিচ্ছিল হয়ে গেছে। পাথরের ওপরে জমেছে বরফ। মাথার ওপরের চাঁদটার আলো ঝিক ঝিক করছে থেকে থেকে। বরফের কারণে আলো প্রতিফলিত হয়ে চাঁদটাকে ঘিরে শুরু হয়েছে অপূর্ব এক গোলকের। কিন্তু এতে দেখতে কষ্ট কচ্ছে শ্যাডোর। হাঁটতেও বেগ পেতে হচ্ছে।

    তিন ভাগ যেখান থেকে শুরু হয়েছে, সেখানে এসে উপস্থিত হলো ও। প্রথম রাস্তাটা পরিচিত বলে মনে হলো, যেন এক বিশাল চেম্বারে যাওয়া যাবে ওটা ধরে। অনেকটা অন্ধকার একটা জাদুঘরের মতো। জায়গাটা কী বুঝতে অসুবিধা হলো না ওর, কানে আসছে ছোটো ছোটো অনেক আওয়াজের প্রতিধ্বনি।

    এই জায়গাটা স্বপ্নে দেখেছে শ্যাডো। মৃত্যুর পর যে রাতে লরা প্রথম ওর কাছে এসেছিল, সেই রাতে। ভুলে যাওয়া দেবতাদের আবাসস্থল এটা। এক পা পিছিয়ে এলো সে।

    এবার তৃতীয় পথের সামনে এসে দাঁড়াল ও। করিডরটাকে দেখে মনে হয় যেন ডিজনিল্যান্ড থেকে তুলে আনা। এখানেও একটা আওয়াজ কানে এলো ওর-ভারী, কম্পনের আওয়াজ। থমকে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকাল একবার। দুই পথের একটাকেও সুবিধার লাগছে না। তাই মাঝখানের যে পথটার কথা ওকে বিড়াল-মানবী বলেছে, সেটা ধরেই এগোবার সিদ্ধান্ত নিলো।

    ছোট্ট চাঁদটা আস্তে আস্তে আলো হারাতে শুরু করেছে, যেন গ্রহণ লেগেছে তাতে। পথটা ধরে একটু এগোতেই নজরে এলো বিশাল একটা দরজা।

    প্রায় অন্ধকারে ওটার দিকে এগিয়ে গেল শ্যাডো, বাতাসটা উষ্ণ। ভেজা ধুলোর গন্ধ লাগছে নাকে। বসন্তের প্রথম বৃষ্টির পর, বড়ো শহরের রাস্তায় এই গন্ধ মেলে।

    ভয় পাচ্ছে না ও।

    গাছে থাকা অবস্থায় মরে গেছে ওর ভেতরে ভয়টা, যেমন মরেছে সে নিজেও। এখন নেই কোনো ভয়, কোনো ঘৃণা…কিংবা ব্যথা। আছে কেবল নির্যাসটুকু।

    দূরে কোথাও বিশালাকার কিছু একটা ঝাঁপ দিল পানিতে, তার আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে চারপাশে। চোখ কুঁচকে তাকাল শ্যাডো, কিন্তু অন্ধকারে দেখতে পেল না কিছুই। আচমকা শব্দের উৎপত্তিস্থল থেকে ওর দিকে ধেয়ে এলো ভূতুড়ে আলো, নিজেকে সে উপস্থিত করল একটা গুহায়। সামনে পানি, তলটা আয়নার মতোই নিস্তরঙ্গ।

    পানির শব্দ আস্তে আস্তে কাছিয়ে আসছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে উজ্জ্বল হচ্ছে আলো। আসছে কিছু একটা, তীরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগল শ্যাডো। দ্রুতই দেখতে পেল একটা নিচু আর সমতল নৌকা এগিয়ে আসছে, ওটার মাস্তুলে দপদপ করে ঝুলছে একটা সাদা লন্ঠন। আরেকটা ঝুলছে তার একটু নিচে থেকেই। লম্বা একটা অবয়ব দাঁড় বাইছে। এতক্ষণ ধরে শুনতে পাওয়া আওয়াজটা আসলে দাঁড়ের ওঠা-নামার।

    ‘হ্যালো!’ ডাকল শ্যাডো। শব্দটা প্রতিধ্বনিত হতে লাগল ওর চারপাশ ঘিরে। শ্যাডোর মনে হলো যেন অসংখ্য মানুষ ওকেই আবার সম্ভাষণ জানাচ্ছে।

    কিন্তু দাঁড় বাইতে থাকা লোকটার মুখে রা নেই।

    লম্বা আর একদম কাঠির মতো শুকনো লোকটা। অবশ্য এতদূর থেকে ওটা আসলেই পুরুষ, নাকি মহিলা তা বোঝা যাচ্ছে না। সাদামাটা একটা সাদা রোব জড়িয়ে আছে দেহে, মাথাটা দেখে মনে হয় না ওটা মানুষের। বরঞ্চ মুখোশ হলেও শ্যাডো অবাক হবে না। ছোটো ঘাড় আর লম্বা ঠোঁটঅলা পাখির মতো বলে মনে হচ্ছে। আগেও এমন একটা অবয়ব দেখেছে যুবক, কোথায় তা একটু ভাবতেই মনে পড়ে গেল। হাউজ অন দ্য রকে যখন স্টলে পয়সা ঢুকিয়েছিল, তখন মাতালের পেছন দিকের একটা কবরের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছিল এই অবয়ব।

    দাঁড় থেকে পানি ঝরছে, আয়নার মতো জলধারার তলে সৃষ্টি হচ্ছে ছোটো ছোটো ঢেউ। নৌকাটা নলখাগড়ার তৈরি।

    তীরের কাছে আসতে বেশিক্ষণ সময় নিলো না ওটা, আস্তে আস্তে শ্যাডোর দিকে ঘুরে তাকাল মাঝি। ‘হ্যালো,’ পুরুষালী কণ্ঠে বলল লোকটা। শ্যাডোর এই সংক্ষিপ্ত ‘মৃত্যু-পরবর্তী’ জীবনের অন্য সব অস্তিত্বের মতো একেও পরিচিত লাগল ওর। ‘উঠে পড়ো, অবশ্য পা ভিজে যাবে বলে মনে হয়। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। নৌকাটার বয়স অনেক, কাছে এলে তলায় ফাটল ধরতে পারে।

    জুতো খুলে পানিতে পা রাখল শ্যাডো, হাঁটু আর গোড়ালির মাঝামাঝি পর্যন্ত গভীর এখানকার পানি। বেশ উষ্ণই বলা চলে। নৌকাটার কাছে পৌঁছালে, মাঝি এক হাত দিয়ে ওকে উঠতে সাহায্য করল।

    তীর থেকে দূরে সরে এলো নৌকা, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখছে শ্যাডো। ওর প্যান্ট থেকে ঝরছে পানি।

    ‘আমি চিনি তোমাকে।

    ‘তা চেন,’ মাঝি বলল। আচমকা লাফিয়ে উঠল লন্ঠনের আগুন। নির্গত ধোঁয়ার দমকে কেশে ফেলল শ্যাডো। তুমি আমার হয়ে কাজ করেছ। তবে তোমাকে ছাড়াই আমাদের লিলা গুডচাইল্ডকে কবর দিতে হয়েছে।’

    চোখ দিয়ে পানি ঝরছে শ্যাডোর, হাত দিয়ে মুছে ফেলল ফোঁটাগুলো। ধোঁয়া ভেদ করে এক পলকের জন্য দেখা গেল স্যুট পরিহিত, লম্বা এক লোককে। কিন্তু ধোঁয়া কেটে যেতেই উধাও হয়ে গেল সে।

    ‘মিস্টার আইবিস?’

    ‘আবার দেখা হয়ে ভালো লাগছে,’ বলল মাঝি, অবিকল মি. আইবিসের কণ্ঠে। ‘সাইকোপম্প কাকে বলে জানো।’

    শব্দটা শুনেছে বটে যুবক, কিন্তু অনেক আগে। তাই মাথা নেড়ে না করল। ‘সঙ্গীর আরেকটা গালভরা নাম।’ জানাল ওকে মি. আইবিস। ‘আমাদের প্রত্যেকেরই অগণিত দায়িত্ব, বেঁচে থাকার অগণিত উপায়। নিজেকে আমি লেখক ভাবি, যে কিনা নিজের ছোটো ছোটো গল্পের দ্বারা এমন এক অতীতকে তুলে ধরে যার হয়তো কোনোদিন অস্তিত্বও ছিল না। আবার দায়িত্বের কারণে আমি একজন সাইকোপম্প-জীবিতকে মৃতের দুনিয়ায় নিয়ে যাই।’

    ‘আমি তো ভেবেছিলাম, এটাই মৃতদের দুনিয়া।’ বলল শ্যাডো।

    ‘ঠিক তা না। বলতে পারো, ওই দুনিয়ায় যাবার আগের ধাপ এটা।’

    ডোবাটার উপর দিয়ে বিনা বাধায় এগিয়ে যাচ্ছে নৌকা। আচমকা মি. আইবিস তার ঠোঁট না নাড়িয়েই বললেন, ‘এমনভাবে তোমরা জীবিত আর মৃত নিয়ে কথা বলো, যেন দুটো পুরোপুরি আলাদা। যেন এমন কোনো নদী পাওয়া যাবে না, যেটা আবার রাস্তাও! এমন কোনো গান নেই যেটা রঙও!’

    ‘আছে নাকি?’

    ‘তোমার মনে রাখতে হবে,’ ধীরে ধীরে বললেন আইবিস। ‘জীবন আর মৃত্যু আসলে একই পয়সার এপিঠ-ওপিঠ।’

    ‘যদি আমার কাছে দুই নম্বর পয়সা থাকে, যার দুটো পিঠই এক?’

    ‘ওমন কিছু কারও কাছে নেই।’

    কালো পানির দিকে তাকিয়ে গা শিউরে উঠল শ্যাডোর, মনে হচ্ছে যেন এখনই ভেসে উঠবে শত শত বাচ্চার চেহারা। যারা একদৃষ্টিতে অনুযোগের চোখে তাকিয়ে থাকবে ওরই দিকে।

    ‘আমি তাহলে মৃত,’ ভাবনাটা খুব একটা পোড়াল না শ্যাডোকে। ‘নয়তো মরতে চলেছি।’

    ‘আমরা যাচ্ছি মৃতদের হলঘরে। অনুরোধ করেই তোমাকে নিতে এসেছি আমি।’

    ‘কেন?’

    ‘কঠোর পরিশ্রমী কর্মী ছিলে তুমি। কেন আসব না?’

    ‘কেননা…’ মনে মনে কথাগুলো গুছিয়ে নিলো শ্যাডো। ‘কেননা আমি কখনও তোমাদেরকে বিশ্বাস করিনি। মিশরিয় দেব-দেবীদের ব্যাপারে আমি কিছু জানিই না। কেননা, আমি এসব আশা করিনি। ভেবেছিলাম, সেইন্ট পিটারের সাথে দেখা হবে মৃত্যুর পর।’

    দুপাশে মাথা ঝাঁকাল পাখির মতো অবয়বটা। ‘আমাদের উপর বিশ্বাস রেখেছ কি না, তাতে কিছু যায় আসে না,’ গম্ভীর কণ্ঠে জানাল সে। ‘আমরা তোমার ওপর বিশ্বাস রাখি।’

    অন্য পাশে পৌঁছে গেছে নৌকা, পানিতে নেমে পড়ল মি. আইবিস। শ্যাডোকেও বলল নামতে। নিজে মাস্তুলের দড়ি ধরে শ্যাডোকে বলল লন্ঠনটা নিতে। হেঁটে তীরে পা রাখল ওরা, দড়িটা একটা ধাতব আঙটার সাথে বাঁধল মি. আইবিস। এরপর শ্যাডোর হাত থেকে লণ্ঠন নিয়ে মাথার ওপরে ধরে এগিয়ে গেল।

    ‘ভয় পাচ্ছ?’ জানতে চাইল সে।

    ‘খুব একটা না।’

    ‘নিজের আত্মার জন্য ভয় পাবার চেষ্টা করো, যে পরিস্থিতিতে আমরা আছি তা বেশ গুরুতর।’

    একদম ভয় লাগছে না শ্যাডোর, বরঞ্চ কৌতূহল হচ্ছে। অন্ধকারের ভয় নেই এখন ওর, মারা গেছে তো হয়েছে কি? এমনকী পথের যে কুকুরটা একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, তাকেও ভয় লাগছে না।

    ‘শ্যাডো,’ বলল কুকুরটা, কণ্ঠ শুনে শিহরণ জাগল ওর দেহে। ‘বিচারের সময় সমাগত।

    ‘মি. জ্যাকুয়েল?’ চিনতে পারল ও।

    আইবিসের বড়ো বড়ো হাতগুলো যেন পুতুলের মতো তুলে নিলো শ্যাডোর দেহ, নামিয়ে রাখল জ্যাকুয়েলের কাছে।

    উজ্জ্বল আর ঝকঝক করতে থাকা চোখ দিয়ে শ্যাডোকে পরখ করল ওটা, ঠিক যেমন টেবিলে শুয়ে থাকা মেয়েটার দেহ পরখ করেছিল মি. জ্যাকুয়েল। শ্যাডো বুঝতে পারছিল, ওর সব ভুল, সব অপরাধ, সব ব্যর্থতা বের করে মাপা হচ্ছে। মনে হচ্ছিল, ওকেও যেন খণ্ড-বিখণ্ড করছেন জ্যাকুয়েল।

    নিজের ব্যর্থতা বা নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পায়, এমন সব ঘটনা আর কৃত কার্য-কালাপ মনে রাখি না আমরা। হয় সেগুলোকে ঢেকে দিই মিথ্যার চাদরে, আর নয়তো মুছে ফেলি মন থেকে। শ্যাডো জীবনে এমন অনেক কিছু করেছে, যেগুলো নিয়ে ও নিজেই গর্বিত নয়। এমন অনেক ইচ্ছা ছিল ওর, যা পূরণ করতে পারেনি। সেসবই এখন দখল করে নিলো ওর মন। অপরাধবোধ, অনুতাপ আর লজ্জায় ছোটো হয়ে গেল যেন। লাশের টেবিলে শুয়ে থাকা দেহের মতোই নগ্ন মনে হচ্ছে নিজেকে। শিয়াল দেবতা আনুবিস এই মুহূর্তে ওর উকিল, ওর বিচারক…ওর জল্লাদ।

    ‘থামো,’ কাতর কণ্ঠে বলে উঠল সে। ‘দয়া করে থামো।’

    কিন্তু থামাল না পরীক্ষা। এক জীবনে যত মিথ্যা বলেছে, যত জনকে কষ্ট দিয়েছে, যা কিছু চুরি করেছে-সব ছোটো-বড়ো অপরাধকে বের করে নিয়ে এলো আনুবিস।

    কাঁদতে শুরু করল শ্যাডো। সেই ছোটোবেলায় ফিরে গেছে যেন, নিজেকে অসহায় আর শক্তিহীন বলে মনে হচ্ছে।

    তারপর আচমকা, কোন পূর্ব-নির্দেশনা ছাড়াই, শেষ হয়ে গেল আনুবিসের পরীক্ষা। একই সাথে হাঁপাচ্ছে আর ফোঁপাচ্ছে শ্যাডো। নাক দিয়ে ঝরতে শুরু করেছে পানি। এখনও অসহায় লাগছে নিজেকে।

    ‘ওর হৃদয় কই?’ গর্জে উঠল যেন আনুবিস।

    ‘আমার কাছে,’ গড়গড় করে উঠল একটা নারী কণ্ঠ। মুখ তুলে তাকাল শ্যাডো। চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে বাস্ট, হাতে শ্যাডোর হৃদয়।

    ‘আমাকে দাও,’ থোথ, আইবিস-মাথার দেবতা হাতে নিলো হৃদয়টাকে। সে এগিয়ে আসতেই একটা স্বর্ণের দাঁড়িপাল্লা এগিয়ে দিল আনুবিস।

    ‘এখন আমার ভাগ্য নির্ধারিত হবে?’ বাস্টকে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল শ্যাডো। ‘স্বর্গে না নরকে না প্রায়শ্চিত্তের স্থানে?’

    ‘যদি তোমার হৃদয় আর পালকের ওজন সমান হয়,’ ওকে জানাল মেয়েটা। তাহলে নিজের ইচ্ছামতো বেছে নিতে পারবে।’

    ‘আর যদি না হয়?’

    শ্রাগ করল বাস্ট, প্রসঙ্গটা ওকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। ‘তাহলে তোমার হৃদয় আর আত্মা খেয়ে নেবে আমেমেত…’

    ‘আশা করি একটা আনন্দময় সমাপ্তি পাব আমি।’

    ‘সমাপ্তি বলেই যেখানে কিছু নেই,’ উত্তরে জানাল মেয়েটা। ‘সেখানে আনন্দময় সমাপ্তি পাবে কোত্থেকে?’

    এক পাল্লায় তোলা হয়েছে শ্যাডোর হৃদয়, এবার অন্য পাল্লায় আলতো করে একটা পালক রেখে দিল আনুবিস। দাঁড়িপাল্লার নিচের অন্ধকারে হুটোপুটি করে ছুটে গেল কিছু একটা। ব্যাপারটা টের পেল বটে ও, কিন্তু সেটা কী তা দেখতে ইচ্ছা করল না।

    আসলেই পালকটা খুব ভারী, কিন্তু শ্যাডোর হৃদয়ও হালকা নয়। তাই একবার এই পাল্লা নিচে নামে তো অন্যবার ওই পাল্লা।

    শেষ পর্যন্ত সমান সমান হলো ওটা, অন্ধকারে থাকা প্রাণিটা আওয়াজ করে অসন্তুষ্টি জানান দিল।

    ‘তাহলে আর কি!’ বলল বাস্ট। ‘আমার আশা ছিল, জীবনে কিছু হলেও ভালো কাজ করেছ। যাক, কী আর করা।’

    নীরবতা নেমে এলো হলঘরে, নিস্তব্ধতা যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে অন্ধকার আর পানিতে।

    সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে শ্যাডো জানতে চাইল, ‘আমি কোথায় যেতে চাই, সেটা বাছতে হবে এখন?’

    ‘হ্যাঁ,’ জানাল থোথ। ‘অথবা তোমার হয়ে আমরাও বেছে দিতে পারি।’

    ‘না। অসুবিধা নেই, আমিই পারব।’

    ‘বলো তাহলে।’ গর্জে উঠল আনুবিস।

    ‘আমি বিশ্রাম চাই। জানাল শ্যাডো। ‘স্বর্গ চাই না, নরকও চাই না। চাই শুধু বিশ্রাম। চাই এসবের পরিসমাপ্তি ঘটুক।’

    ‘তুমি নিশ্চিত?’ থোথের প্রশ্ন।

    ‘হ্যাঁ।’ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে শ্যাডো।

    শ্যাডোর জন্য একটা দরজা খুলে ধরল মি. জ্যাকুয়েল। দরজার ওপাশে শূন্যতা। অন্ধকার না, বিস্মৃতি না…কেবলই শূন্যতা।

    আনন্দের সাথে আগে বাড়ল শ্যাডো, এক মুহূর্তের জন্যও ইতস্তত করল না। দরজা দিয়ে প্রবেশ করল দৃঢ় পায়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনানসি বয়েজ – নিল গেইম্যান
    Next Article নর্স মিথোলজি – নীল গেইম্যান

    Related Articles

    নিল গেইম্যান

    স্টোরিজ – নিল গেইম্যান

    September 5, 2025
    নিল গেইম্যান

    নর্স মিথোলজি – নীল গেইম্যান

    September 5, 2025
    নিল গেইম্যান

    আনানসি বয়েজ – নিল গেইম্যান

    September 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }