Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আমেরিকান গডস – নিল গেইম্যান

    নিল গেইম্যান এক পাতা গল্প680 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমেরিকান গডস – ৩

    অধ্যায় তিন

    প্রতিটা ঘণ্টাই যেন উপহার দেয় প্রাণঘাতী ক্ষত, তবে একেবারে শেষেরটাই কেড়ে নেয় জীবন।

    –প্রবচন

    .

    মোটেল আমেরিকার পেছনে বসে আছে শুকনো এক যুবতী। শ্যাডো নিজের পরিচয় দেওয়া মাত্র জানাল: ওর জন্য আগে থেকেই ঘর ভাড়া করা আছে। হালকা সোনালি চুল আর ইঁদুরমুখো চেহারায় সন্দেহ যেন পাকাপাকি ভাবে গেঁড়ে বসেছে মেয়েটার। কিন্তু হালকা হাসিতেই সেই কুঞ্চন দূর হয়ে গেল অনেকটা। ওয়েনসডের রুম নম্বরটা কিছুতেই তার মুখ থেকে বের করতে পারল না শ্যাডো, তবে প্লাস্টিক কার্ডটা ওকে ধরিয়ে দিল যুবতী। জানাল, মোটেলের নম্বরে ফোন করলে মি. ওয়েনসডেকে জানিয়ে দেওয়া হবে যে তার কাছে অতিথি এসেছে। সরাসরি রুম নম্বর জানাবার নিয়ম নেই।

    তাই করল শ্যাডো। হলের শেষ মাথার একটা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ওর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন প্রৌঢ়।

    ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কী খবর?’ জানতে চাইলেন তিনি।

    ‘শেষ হলো।’

    ‘ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে চাও?’

    ‘না,’ সাফ মানা করে দিল শ্যাডো।

    ‘খুব ভালো,’ দাঁত বের করে হাসলেন ওয়েনসডে। ‘আজকাল সবাই শুধু কথাই বলে। কথা…কথা… কথা। অথচ নাগরিকরা মুখ বুজে থাকতে জানলে এই দেশটা আজ অনেক ভালো একটা অবস্থানে থাকত!’

    নিজের ঘরের দিকে ওকে নিয়ে গেলেন তিনি, শ্যাডোর ঘরটা ওপাশেই। ঘরে শুধু মানচিত্র আর মানচিত্র, কিছু বিছানার উপর খোলা পড়ে আছে। আবার কিছু দেয়ালে লাগানো। উজ্জ্বল কমলা রঙের কলম দিয়ে সবগুলোকে ইচ্ছামতো দাগিয়েছেন ভদ্রলোক। সেই সাথে গোলাপি আর সবুজ রঙও আছে।

    ‘আমাকে একটা মোটা ছেলে অপহরণ করেছিল।’ বলল শ্যাডো। ‘বলল যে আপনারা নাকি ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে বাস করছেন এখন! ওখানেই থাকতে হবে আপনাদের। আর ওই হোঁতকার মতো যারা আছে, তারা এগিয়ে যাবে আগামীর দিকে।’

    ‘ইঁচড়ে-পাকা কোথাকার।’ বললেন ওয়েনসডে।

    ‘আপনি চেনেন ছেলেটাকে?’

    শ্রাগ করলেন প্রৌঢ়। ‘চিনি বলব না, তবে জানি।’ ঘরের একমাত্র চেয়ারটায় বসে পড়লেন তিনি। ‘আমার ব্যাপারে ওদের আসলে কোনো ধারণাই নেই। যাক, আর কতোদিন শহরে থাকতে হবে তোমাকে?’

    ‘জানি না। হয়তো আরেক সপ্তাহ। লরার কাজ আর জিনিসপত্রের একটা গতি করতে যতদিন লাগে আরকী। অ্যাপার্টমেন্টটার একটা ব্যবস্থাও করতে হবে।’

    বড়োসড়ো মাথাটা নাড়লেন ওয়েনসডে। ‘যত তাড়াতাড়ি তোমার কাজ শেষ হবে, তত তাড়াতাড়ি ইগল’স পয়েন্ট থেকে বেরোতে পারব। শুভ রাত্রি।

    হলঘর পার হলো শ্যাডো। তার কামরাটা অবিকল ওয়েনসডের কামরার মতো। এমনকি বিছানার উপর অস্তগামী সূর্যের ছবিটাও এক! পিজ্জার অর্ডার দিয়ে গোসলে ঢুকল ও। দেহের আকারের জন্য বাথটাবে শোয়াটা সম্ভব হবে না। তাই কাঁচুমাচু হয়ে বসেই পড়ল। ঠিক করেছিল, জেল থেকে বেরিয়ে যথাসম্ভব সময় নিয়ে গোসল সারবে। তাই করছে এখন।

    গোসল থেকে বেরোবার কিছুক্ষণের মাঝেই এসে গেল পিজ্জা, আরাম করে খেল শ্যাডো। অন্য হাতে নিলো একটা রুট বিয়ার।

    বিছানায় শুয়ে পড়ল ও। মুক্ত মানুষ হিসাবে এই প্রথম কোন বিছানায় পিঠ ঠেকাচ্ছি, ভাবতেই দারুণ এক পুলক অনুভব করল মনে। পর্দা সরানোই আছে। রাস্তা দিয়ে ভেসে আসছে চলন্ত গাড়ির আলো। স্বস্তি বোধ করছে ও, চাইলে এখনই ওই রাস্তায় গিয়ে পা রাখতে পারে। বাধা দেবার জন্য না রয়েছে কোনো রক্ষী, আর না রয়েছে কোনো গরাদ।

    অবশ্য ওর আর লরার অ্যাপার্টমেন্টটাতে চাইলেই রাতটা কাটিয়ে আসতে পারত শ্যাডো। কিন্তু স্ত্রীকে ছাড়া ওই ঘরে…ওই বিছানায় রাত কাটাবার কথা ভাবতেই পারছে না সে! লরার জামাকাপড়, ওর দেহের গন্ধ…এসবের কথা মনে পড়া মাত্র খচ করে উঠছে বুকের ভেতরটা।

    ওভাবে ভেবো না, নিজেকেই বকল শ্যাডো। জোর করে মনটাকে পয়সার খেলার দিকে ফিরিয়ে আনল। সে জানে, জাদুকর হবার মতো ব্যক্তিত্ব নেই ওর, ওসব বাচ্চাদের খেলা দেখাবার বা মিথ্যা বলে দর্শকের মন ভরাবার ইচ্ছাও নেই। তবে এই পয়সার ব্যাপারটা আলাদা। এটা ম্যাজিক ট্রিক না, ওর কাছে এটাই শিল্প। আচমকা শ্যাডোর মনে পড়ল, লরার কবরে একটা সোনার পয়সা রেখে এসেছে সে! তারপর মনে পড়ে গেল অড্রির বলা কথাটা, তোমার স্ত্রী…অভিমানের একটা দলা যেন খোঁচাতে শুরু করল ওকে।

    প্রতিটা ঘণ্টাই যেন উপহার দেয় প্রাণঘাতী ক্ষত, তবে একেবারে শেষেরটাই কেড়ে নেয় জীবন-কোথায় যেন শুনেছে প্রবচনটা।

    ওয়েনসডের কথা মনে পড়তেই আপনমনে হাসল শ্যাডো। অনেকের মুখেই শুনেছে, মনের কথা চেপে না রাখাই ভালো। এতে বুক হালকা হয়। ও কিন্তু মনের কথা চেপে রাখার পক্ষে। দীর্ঘ দিন ধরে কাজটা করলে একসময় অনুভূতিগুলো সব হারিয়ে যেতে শুরু করে।

    নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ল শ্যাডো।

    এবারের স্বপ্নে ও হাঁটছে…

    .

    এমন একটা ঘর ধরে ও হাঁটছে, যেটা আকারে শহরের চাইতে বড়ো। যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই শুধু মূর্তি আর দেয়াল ভরতি খোদাই করা চিত্র। মহিলার মতো দেখতে এক মূর্তির পাশে দাঁড়িয়ে আছে ও। বেলুনের মতো বড়ো বড়ো স্তনজোড়া ঝুলছে মহিলার, কোমরের কাছে অনেকগুলো কাটা হাত—একটা শিকল তৈরি করেছে যেন। দুহাতেই একটা করে তীক্ষ্ণধার ছুরি ধরে আছে মেয়েটা। ঘাড়ের দুপাশ থেকে ফণা উঁচু করে আছে দুটো সাপ, যেন ছোবল বসাবে। পুরো মূর্তিটার মাঝে কেমন যেন অশ্লীল আর অশুভ একটা ব্যাপার আছে। চমকে উঠে পিছিয়ে এলো শ্যাডো।

    এরপর হল ধরে এগিয়ে যেতে শুরু করল ও। মূর্তিগুলোর চোখ যেন জীবন্ত, ওর প্রতিটা পদক্ষেপ খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।

    স্বপ্নের মাঝেই শ্যাডো টের পেল: প্রতিটা মূর্তির সামনের মেঝেতে তাদের নাম খোদাই করা। সাদা চুল, দাঁতের নেকলেস গলায় নিয়ে ড্রাম হাতে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার নাম লিউসেটিয়াস[৪]। চওড়া কোমরের মহিলার নাম হোবোর[৫], তার দুপায়ের ফাঁক থেকে ঝরে পড়ছে দৈত্যরা!

    [৪. রোমান দেবতা, পরবর্তীতে যুদ্ধ-দেব মার্স-এর সঙ্গে একীভূত হয়।
    ৫. সুমেরিয় দেবী, তিয়ামাতের সঙ্গে অনেকে একীভূত করেন।]

    তীক্ষ্ণ, তবে নিশ্চিত একটা কণ্ঠ কথা বলে উঠল, অথচ কাউকে দেখতে পেল না শ্যাডো।

    ‘এই দেব-দেবীদের সবাই ভুলে গেছে, তাই এক অর্থে তাদের মৃতই বলা চলে। কেবল ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছেন এরা। সবাই চলে গেছেন, তবে তাদের নাম আর প্রতিকৃতি আমাদের সাথে রয়ে গেছে।’

    আরেকটা মোড় ঘুরল শ্যাডো, বুঝতে পারল যে ভিন্ন একটা ঘরে এসে উপস্থিত হয়েছে। এটা আকারে প্রথমটার চাইতেও বড়ো, শেষ দেখা যাচ্ছে না। ওর একদম কাছেই একটা ম্যামথের খুলি, বাঁ দিকে আলখাল্লা পরিহিত এক মহিলা। তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে তিন-রমণী, প্রত্যেককে একই গ্রানাইটের চাঁই থেকে খোদাই করা হয়েছে। কোমরের কাছে জোড়া লেগে আছে তিনজনের, চেহারা অসমাপ্ত। তবে তাদের স্তন আর স্ত্রী-জননাঙ্গ খুব যত্নের সাথে খোদাই করা হয়েছে। আরেকটা পাখিও দেখতে পেল ও, উড়ছে না। তবে চিনতে পারল না আকারে নিজের চাইতে দ্বিগুণ বড়ো পাখিটাকে। তার মুখটা শকুনের মতো, কিন্তু হাত মানুষের। এরকম আরও অগণিত মূৰ্তি পড়ল পথে।

    আরেকবার কথা বলে উঠল কণ্ঠটা, যেন কোন ক্লাস রুমে পড়াচ্ছে। ‘এই দেবতারা কারো স্মৃতিতেও ঠাঁই করে নিতে পারেননি, এমনকী তাদের নামও আজ আমাদের জানা নেই। যারা এই দেবতাদের পূজা করত, তারাও বিলীন হয়ে গেছে ইতিহাসের পাতা থেকে। তাদের শেষ পূজারিরাও অন্য কাউকে গোপন কথাগুলো শিখিয়ে যেতে পারেননি।

    দেবতারাও মৃত্যু বরণ করেন। তবে প্রকৃত মৃত্যু তো আসে তখন, যখন সবাই ভুলে যায়। মানুষ খুন করার চাইতে আদর্শকে খুন করা কঠিন, তবে একদিন না একদিন মারা যেতে হয় তাকেও!’

    আচমকা গা-শিহরানো ফিসফিসানি আওয়াজে ভরে গেল হলঘর। ভয় এসে বাসা বাঁধল শ্যাডোর মনে। চারিদিকে কেবল বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া দেবতারা…কারও চেহারা অক্টোপাসের মতো, কারও কেবল হাতটা মমি করা…

    .

    ঝটকা দিয়ে ঘুম থেকে উঠল শ্যাডো, হৃৎপিণ্ড যেন পাগলা ঘোড়ার বেগে ছুটছে। কপাল ঠান্ডা হয়ে এসেছে, ঘুমের আর লেশ মাত্র নেই। বিছানার পাশের ঘড়িটা লাল রঙা সময় দেখাচ্ছে-একটা তিন বাজে এখন। মোটেল আমেরিকা লেখা সাইনটার আলো জানালা দিয়ে হালকা ঢুকছে ওর ঘরে। কিছুটা অসংলগ্নভাবেই উঠে দাঁড়িয়ে ছোট্ট বাথরুমে গেল শ্যাডো। আলো না জ্বেলেই প্রস্রাব করল বেশ কিছুক্ষণ ধরে, এরপর আবার ফিরে এলো বিছানায়। স্বপ্নটা বড়ো জীবন্ত, কিন্তু ওটাকে যে কেন দুঃস্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে, তা ধরতে পারছে না।

    বাইরে থেকে আলো হালকা, তবে আঁধার সয়ে এসেছে শ্যাডোর চোখে। তাই বিছানার পাশে বসে থাকা মেয়েটাকে পরিষ্কার দেখতে পেল।

    একে চেনে ও। হাজারো জনের…নাহ, লাখো মানুষের ভিড়েও পারবে। যে নীল স্যুটটা পরিয়ে কবর দেওয়া হয়েছিল মেয়েটাকে, এখনও সেটাই পরে আছে। ফিসফিস করে কথা বলল মেয়েটা, তবে পরিচিত কণ্ঠ। ‘নিশ্চয়ই ভাবছ,’ বলল লরা। ‘আমি এখানে কী করছি?’

    শ্যাডো বলল না কিছুই।

    চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে রইল ঘরটার একমাত্র চেয়ারে। প্রশ্ন করল, ‘আসলেই কি তুমি এসেছ?’

    ‘হ্যাঁ,’ উত্তর দিল মেয়েটা। ‘আমার ঠান্ডা লাগছে, পাপি।’

    ‘তুমি মারা গেছ, সোনামণি।’

    ‘হ্যাঁ।’ বলে নিজের পাশে চাপড় দিল লরা। ‘এসো, আমার পাশে বসো।’

    ‘নাহ।’ অস্বীকৃতি জানাল শ্যাডো। ‘আমি যেখানে আছি, সেখানেই থাকি বরং। তোমার সাথে আমার কিছু বোঝা-পড়া আছে।’

    ‘যেমন? মারা গেলাম কেন?’

    ‘তারচেয়ে বড়ো প্রশ্ন, মারা যাবার সময় কী করছিলে তুমি? তোমার আর রবির কথা বলছি।

    ‘ওহ, ওই ব্যাপার!’

    নাকে গন্ধ আসছে শ্যাডোর, অবশ্য সেটা ওর কল্পনাও হতে পারে। শিকড়, ফুল আর রাসায়নিক তরলের গন্ধ পাচ্ছে সে নাকে। তার স্ত্রী…মানে প্রাক্তন স্ত্রী…নাহ, তা-ও হলো না। ওর মরহুমা স্ত্রী বসে আছে বিছানায়! এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওরই দিকে!

    ‘পাপি,’ বলল লরা। ‘আমাকে একটা…একটা সিগারেট এনে দিতে পারবে?’

    ‘আমি তো জানতাম তুমি ছেড়ে দিয়েছ।’

    ‘তা দিয়েছিলাম।’ বলল মেয়েটা। ‘তবে এখন আর স্বাস্থ্য নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা করছি না। সিগারেট পেলে স্নায়ু শান্ত হবে বলেই মনে হচ্ছে। লবিতে একটা ভেন্ডিং মেশিন দেখেছি।’

    জিন্স-টি শার্ট পরে খালি পায়েই লবিতে চলে এলো শ্যাডো। রাতের বেলা রিসেপশন সামলাচ্ছে এক মাঝবয়সি লোক। জন গ্রিশামের একটা বই একমনে পড়ে চলছে সে। মেশিন থেকে এক প্যাকেট ভার্জিনিয়া স্লিমস কিনল শ্যাডো। রাতের লোকটার কাছে গিয়ে চাইল এক বাক্স ম্যাচ।

    ‘আপনি যে ঘরে উঠেছেন, সেটায় ধূমপান করা নিষিদ্ধ।’ বলল লোকটা। ‘তাই খেলে, জানালা খুলে খাবেন।’ বলে ম্যাচের বাক্স আর মোটেল আমেরিকার লোগো আঁকা একটা প্লাস্টিকের অ্যাশট্রে দিল সে।

    ‘বুঝতে পেরেছি।’ বলল শ্যাডো।

    ঘরে ফিরে এসে দেখে, লরা বিছানার উপর গা এলিয়ে দিয়েছে। জানালা খুলে সিগারেটের প্যাকেটটা ওর হাতে দিল শ্যাডো, সেই সাথে ম্যাচটাও। স্ত্রীর…মৃতা স্ত্রীর আঙুলগুলোকে ঠান্ডা মনে হলো খুব। সিগারেট ধরিয়ে ম্যাচের আলোয় নিজের নখ দেখল মেয়েটা। সাধারণত নিখুঁত থাকে ওগুলো। কিন্তু এখন ভেঙে গেছে, নিচে স্থান করে নিয়েছে মাটি।

    লম্বা একটা টান দিয়ে ম্যাচ নিভিয়ে ফেলল মেয়েটা। এরপর আরেকটা টান দিল। ‘বিন্দুমাত্র স্বাদ পাচ্ছি না।’ বলল সে। ‘কাজ হচ্ছে বলে মনে হয় না।’

    ‘আমি দুঃখিত।’ বলল শ্যাডো।

    ‘আমিও।’

    সিগারেটে টান দেবার সাথে সাথে আরও বেশি করে জ্বলে উঠছে আগুন, তার আলোয় স্ত্রীর চেহারা দেখতে পাচ্ছে শ্যাডো।

    ‘তোমাকে তাহলে আগেই ছেড়ে দিয়েছে।’ বলল মেয়েটা।

    ‘হ্যাঁ।’

    সিগারেটের আগুনটাকে কেন যেন কমলা দেখাচ্ছে। ‘আমি এখনও তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ। আসলে তোমাকে ওই ব্যাপারটার সাথে জড়ানো একদম ঠিক হয়নি।

    ‘দোষ আমারও আছে। চাইলে মানা করতে পারতাম।’ বলতে বলতেই শ্যাডো ভাবল, মেয়েটাকে দেখে কেন পিলে চমকে যাচ্ছে না ওর? স্বপ্নে দেখা একটা জাদুঘর ওকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে, অথচ চলতে-ফিরতে থাকা একটা জিন্দা লাশ দেখে বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছে না!

    ‘তা পারতে,’ ধোঁয়ায় ঢেকে আছে লরার চেহারা। আধো আলোয় খুব সুন্দর দেখাচ্ছে মেয়েটাকে। ‘আমার আর রবির ব্যাপারটা জানতে চাও?’

    ‘মন্দ হয় না।’

    লরা অ্যাশট্রেতে ঠেসে ধরল সিগারেট। ‘তুমি জেলে ছিলে,’ বলল সে। ‘আমার কথা বলার মতো একজন দরকার ছিল, বিপদে-আপদে যে সান্ত্বনা দেবে। তুমি আমার কাছে ছিলে না। আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম।’

    ‘আমি দুঃখিত,’ শ্যাডো টের পেল, মেয়েটার কণ্ঠে একটু পরিবর্তন আছে। কিন্তু কী সেই পরিবর্তন, তা ধরতে পারল না ও।

    ‘জানি আমি। যাই হোক, তাই মাঝে-সাঝে রবির সাথে কফি খেতে যেতাম। তুমি জেল থেকে বের হলে কী কী করব, তা নিয়ে গল্প করতাম। রবি কিন্তু তোমাকে খুব পছন্দ করত, তোমাকে আবার কাজে নেওয়ার জন্য ওর তর সইছিল না।’

    ‘জানি।’

    ‘একদিন হঠাৎ বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেল অড্রি। তোমার জেলে যাবার প্রায় তেরো মাস পরের কথা।’ অনুভূতি-শূন্য কণ্ঠে বলছে লরা। ‘রবি দেখা করতে এলো, মদ খেয়ে মাতাল হলাম দুজন। তারপর মেঝেতেই সঙ্গম করলাম। খুব ভালো লেগেছিল, সত্যি বলছি।’

    ‘এই অংশটুকু আমার না শুনলেও চলবে!’

    ‘তাই নাকি? মারা যাবার পর আসলে এসব অনুভূতি ঠিক কাজ করে না। মনে হয় যেন কোনো ছবি দেখছি। বাদ দাও এসব অর্থহীন ব্যাপার।

    ‘ব্যাপারটা কিন্তু আমার কাছে অর্থহীন না।’

    আরেকটা সিগারেট ধরাল লরা। মেয়েটার চলনভঙ্গিতে কোন জড়তা নেই, ঠিক যেন আগের লরা সে। শ্যাডোর তো সন্দেহই হলো, সত্যি সত্যি মেয়েটা মারা গেছে তো? নাকি রসিকতা করা হচ্ছে ওর সাথে। ‘হুম,’ বুঝতে পারছি। ‘পরকীয়া চলতে লাগল আমাদের। অবশ্য এই ব্যাপারটাকে আমরা পরকীয়া বলতাম না, আসলে বলতাম না কিছুই। প্রায় দুই বছর ছিল সম্পর্কটার আয়ুষ্কাল।’

    ‘আমাকে ছেড়ে দিতে?’

    ‘পাগল হয়েছ? আমি তা করতে যাব কেন? তুমি আমার খেলার পুতুল, আমার পাপি। তুমি যা করেছ, তা আমার জন্যই করেছ। আমি তোমাকে ভালোবাসি।’

    আরেকটু হলেই কথাটা মুখ দিয়ে বেরিয়ে যেত শ্যাডোরও, কোনোক্রমে নিজেকে সামলাল। নাহ, এই তিনটা শব্দ ও কিছুতেই উচ্চারণ করবে না। আর কখনই না। ‘তারপর কী হলো?

    ‘মারা গেলাম কীভাবে, তা জানতে চাও?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘তোমার ফেরা উপলক্ষে আমি আর রবি সারপ্রাইজ পার্টি দেওয়া নিয়ে কথা বলছিলাম। দারুণ মজা হতো কিন্তু! সেই সাথে এটাও বললাম, আমাদের সম্পর্কের এখানেই শেষ। তুমি ফিরে আসছ, তাই আর এসব চলতে পারে না।’

    ‘উম, ধন্যবাদ, সোনা।’

    ‘ওয়েলকাম, প্রিয়।’ ভূতুড়ে একটা হাসি খেলে গেল মেয়েটার চেহারায়। ‘মদের বোতল খোলা হলো, আমি মাতাল হয়ে গেছিলাম। অবশ্য রবি এক ফোঁটা মদ ছোঁয়নি, গাড়ি তো ওকেই চালাতে হতো। বাড়ি ফিরছিলাম, এমন সময় পুরনো সম্পর্কের খাতিরে আমি ঠিক করলাম, শেষ একবার সুখ দেব ওকে-মুখমেহন করব। রবির প্যান্টের জিপার খুলে তাই করতে লেগে গেলাম।’

    ‘গাড়ি চালানো অবস্থায়! অনেক বড়ো ভুল করেছ।’

    তা তো এখন বুঝতে পারছি। আমার কাঁধে ধাক্কা লেগে গিয়ারের কী যেন হলো। রবি আমাকে সরিয়ে দিতে চাইছিল, এমন সময় কান ফাটানো আওয়াজ হলো একটা। দুনিয়া যখন ঘুরতে শুরু করল, তখন নিজেকেই বললাম, ‘আমি মরতে চলেছি।’ তেমন কোনো অনুভূতি হয়নি তখন আমার, খুব একটা ভয়ও পাচ্ছিলাম না। এরপর আর কিছু মনে নেই।

    আচমকা প্লাস্টিক পোড়ার গন্ধ এলো শ্যাডোর নাকে। সিগারেটটা পুড়তে পুড়তে ফিল্টার পর্যন্ত চলে এসেছে, বুঝতে পারল ও। কিন্তু লরার ভ্রুক্ষেপ নেই।

    ‘এখানে কেন এসেছ তুমি?’

    ‘স্ত্রী কি তার স্বামীকে দেখার জন্য আসতে পারে না?’

    তুমি মৃত। আজ বিকালটা আমার কেটেছে তোমার লাশের সামনে দাঁড়িয়ে!’

    ‘জানি,’ বলেই চুপ হয়ে গেল লরা, শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। শ্যাডো উঠে, হেঁটে গেল মেয়েটার কাছে। সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরাটা হাতে নিয়ে ফেলে দিল জানালা দিয়ে।

    ‘কেন এসেছ?’

    স্বামীর চোখে চোখ রাখার প্রয়াস পেল মেয়েটা। ‘বেঁচে থাকতে যা জানতাম, এখনও তার চাইতে বেশি কিছু জানি না। আর যা যা জানি, সেগুলোকে ভাষায় প্রকাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

    ‘সাধারণ মানুষ মারা গেলে নিজের কবরেই থাকে, ওখান থেকে উঠে আসে না।’ বলল শ্যাডো।

    ‘তাই নাকি? সত্যি বলছ, পাপি? আমিও জানতাম যে তারা কবরেই থাকে। কিন্তু এখন আর নিশ্চিত হতে পারছি না।’ বিছানা ছেড়ে জানালার কাছে গেল সে। ওর চেহারায় এসে ঠিকরে পড়ছে মোটেল-সাইনের আলো। অপার্থিব এক সৌন্দর্য যেন ভর করেছে মেয়েটার চেহারায়…এর জন্যই জেলে যেতে হয়েছে শ্যাডোকে। আচমকা যুবকের মনে হলো, কেউ বুঝি ওর হৃৎপিণ্ডটাকে হাতে নিয়ে জোরে পিষছে! ‘লরা…?’

    ফিরেও তাকাল না মেয়েটা। ‘তুমি বাজে কিছু ঝামেলার সাথে জড়িয়ে পড়েছ, শ্যাডো। কেউ তোমার উপর নজর না রাখলে, বিপদে পড়বে। চিন্তা করো না, আমি তোমাকে দেখে রাখব। আর হ্যাঁ, উপহারের জন্য ধন্যবাদ।’

    ‘উপহার মানে?’

    ব্লাউজের পকেটে হাত ঢুকিয়ে সোনার পয়সাটা বের করে আনল লরা, এখনও ওটাতে মাটি লেগে আছে। ‘নেকলেস বানিয়ে গলায় ঝুলাতে পারি, অনেক অনেক ধন্যবাদ।’

    ‘স্বাগতম।’

    এমন দৃষ্টিতে স্বামীর দিকে তাকাল লরা, যেন দেখেও আবার দেখছে না। ‘আমাদের সম্পর্ক বেশ কিছু দিক নিয়ে কাজ করতে হবে।’

    ‘সোনামণি,’ বলল শ্যাডো। ‘তুমি মারা গেছ।’

    ‘এটা সেই দিকগুলো মাঝে অন্যতম,’ বলেই একটু থামল মেয়েটা। ‘ঠিক আছে, আপাতত আমি যাচ্ছি।’ যেন কিছুই হয়নি, এমন ভঙ্গিতে শ্যাডোকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেল ও। স্বামী লম্বা বলে আগেও পায়ের উপর ভর দিয়েই চুমু খেতে হতো, আজও তাই হলো।

    বিব্রত ভঙ্গিতে নিচু হয়ে লরার গালে চুমু খেতে গেল যুবক। কিন্তু একেবারে শেষ ক্ষণটাতে মুখ ঘুরিয়ে চুমুটাকে ঠোঁটে নিলো লরা। জিহ্বা দিয়ে কিছুক্ষণ ঘুরে বেরাল স্বামীর মুখের ভেতরে। ঠান্ডা আর শুকনো মনে হলো জিহ্বাকে। মুখে সিগারেট আর পিত্তের স্বাদ পেল শ্যাডো। স্ত্রী মারা গেছে কি না, সে ব্যাপারে আর বিন্দুমাত্র সন্দেহ রইল না ওর।

    পিছিয়ে এলো ও।

    ‘আমি ভালোবাসি তোমাকে,’ শান্ত ভঙ্গিতে জানাল মেয়েটা। ‘তোমার প্রতি খেয়াল রাখব।’ মোটেলের দরজা পর্যন্ত হেঁটে গেল ও। ‘ঘুমাও, পাপি। ইচ্ছা করে ঝামেলা তৈরি করো না যেন।’

    দরজা খুলল সে, হলওয়ের উজ্জ্বল আলোয় দেখা গেল মেয়েটার আসল রূপ লরাকে দেখতে জীবনস্মৃত বলে মনে হচ্ছে, অবশ্য এই আলোতে সবাইকে তা-ই মনে হয়।

    ‘চাইলে রাতটা কাটিয়ে যেতে বলতে পারো।’ বলল মেয়েটা।

    ‘তা পারব বলে মনে হচ্ছে না।’ উত্তর দিল শ্যাডো।

    ‘পারবে, সোনামণি। এসব কিছু শেষ হবার আগেই পারতে শিখবে।’ বলে করিডরে পা রাখল লরা।

    দরজা দিয়ে বাইরে তাকাল শ্যাডো, রাতের লোকটা এখনও তার জন গ্রিশামে বুঁদ হয়ে আছে। লরার দিকে ফিরেও তাকাল না। মেয়েটার পায়ের সাথে মাটি লেগে আছে, সেটার দাগ পড়ছে মাটিতে। অথচ সেদিকেও যেন লোকটার ভ্রুক্ষেপ নেই! অল্পক্ষণের মাঝেই দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল লরা।

    দীর্ঘশ্বাস ফেলল শ্যাডো, আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে ওর হৃৎপিণ্ডের দৌড়। হলঘরের অপর পাশে গিয়ে নক করল ওয়েনসডের দরজায়। কেন জানি ওর মনে হলো, বিশাল এক দাঁড় কাক তার রক্তলাল চোখ দিয়ে ওকে দেখছে!

    দরজা খুললেন ওয়েনসডে, কোমরের কাছে একটা সাদা তোয়ালে জড়িয়ে রেখেছেন। এছাড়া দেহে আর একটা সুতাও নেই। ‘কী চাই?’

    ‘আপনাকে একটা ব্যাপার জানাতে এসেছি।’ বলল শ্যাডো। ‘হয়তো স্বপ্ন ছিল…নাহ, স্বপ্ন নয়। হয়তো ওই মোটা ছোকরার ছাড়া ধোঁয়ার ফল…আবার আমি পাগলও হয়ে যেতে পারি…’

    ‘বুঝলাম তো। এবার ঝেড়ে কাশো।’ বললেন ওয়েনসডে। ‘আমি একটা কাজের মাঝখানে আছি।’

    ঘরের ভেতরে গেল শ্যাডোর নজর। বিছানায় শুয়ে আছে কেউ একজন, ওকে দেখছে। ছোটো ছোটো স্তন দুটো চাদর দিয়ে ঢেকে রেখেছে, সোনালি চুল, চেহারাটা ইঁদুরের কথা মনে করিয়ে দেয়। গলা নামিয়ে আনল যুবক। ‘আমার স্ত্রীকে দেখলাম কেবল…আমারই ঘরে!’

    ভূত দেখেছ বলতে চাচ্ছ?’

    ‘নাহ। ভূত না। রক্ত-মাংসের মানুষ। মৃত, তবে ভূত না। ওকে স্পর্শ করেছি, চুমু খেয়েছি।’

    ‘বুঝলাম,’ ওয়েনসডে ঘরের ভেতরে উঁকি দিয়ে বললেন। ‘একটু আসছি।’ একটু পরেই দেখা গেল, শ্যাডোর ঘরে বসে আছেন তারা দুজন। বাতি জ্বালিয়ে দিলেন ওয়েনসডে। অ্যাশট্রেতে পড়ে থাকা সিগারেটের টুকরা দেখে বুক চুলকালেন। লোকটার স্তনবৃন্ত বুড়ো মানুষের মতো, দেহের পাশে একটা সাদা ক্ষতের দাগ। নাক টানলেন তিনি, এরপর শ্রাগ করলেন।

    ‘হুম,’ বললেন তিনি। ‘তো এখন? ভয় পেয়েছ?’

    ‘একটু।’

    ‘ভয় পাওয়া উচিত। মৃতদের দেখলে আমিও ভয় পাই। আর কিছু?’

    ‘আমি ইগল’স পয়েন্টে আর থাকতে চাই না। লরার সবকিছু ওর মা-ই দেখে- শুনে রাখতে পারবেন। আপনি যখন চান, আমি যেতে প্রস্তুত।’

    হাসলেন ওয়েনসডে। ‘সুখবর, বাছা। আমরা সকালেই রওনা দেব। এখন একটু ঘুমিয়ে নাও। আমার ঘরে স্কচ আছে, লাগলে খেতে পারো।’

    ‘নাহ, লাগবে না।’

    ‘তাহলে আর বিরক্ত করো না আমাকে, লম্বা একটা রাত পড়ে আছে সামনে।’

    ‘শুভ রাত্রি।’

    ‘আমার জন্য শুভ বইকি!’ বলে দরজা বন্ধ করে দিয়ে বেরিয়ে গেলেন ওয়েনসডে।

    বিছানায় বসে পড়ল শ্যাডো। এখনও ঘর থেকে গন্ধ যায়নি। লরার জন্য কাঁদতে ইচ্ছা হচ্ছে তার। এটাই হওয়া উচিত, নিজেকে বোঝাল ও। অন্তত মরা মানুষ ফিরে এসে ভয় দেখাবার চাইতে বিলাপ করা ভালো। দুঃখ প্রকাশের সময় এখন, বিলাপের সময়। বাতি বন্ধ করে বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল ও, লরার কথা ভাবছে মনে মনে। বিয়ের সময় কী সুখী, হাসোজ্জ্বল আর আনন্দিত লাগছিল মেয়েটাকে! একে-অন্যের শরীর ছাড়া একটা সেকেন্ড ও কল্পনা করতে পারত না। শেষ কবে কেঁদেছে না মনে নেই শ্যাডোর। আসলে কাঁদতে যেন ভুলেই গেছে ও। এমনকী মার মৃত্যু সংবাদ শুনেও চোখ দিয়ে পানি পরেনি।

    তবে এখন কাঁদতে শুরু করল। তীব্র কষ্টে যেন ভেঙে যাচ্ছে ওর বুক। সেই ছোট্ট বেলার পর, এই প্রথম কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ল বেচারা।

    .

    আমেরিকায় আগমন
    ৮১৩ খ্রিষ্টাব্দ
     

    তীর আর আকাশের তারা দেখে সবুজ সাগর পাড়ি দিচ্ছে ওরা, এখন আছে মাঝ-সমুদ্রে। মাটি দেখতে কেমন, সেটা যখন ভুলতে শুরু করেছে, তখন সর্ব- পিতা ওদেরকে নিরাপদে আবার স্থলভূমিতে নিয়ে এলেন। ভাগ্যিস এনেছিলেন, কেননা কেবলমাত্র বিশ্বাসের উপর ভর দিয়ে আর কত ঝড়-ঝঞ্ঝা পার হওয়া যায়?

    ভ্রমণটা ঠিক সুবিধের হয়নি। হাতের আঙুলগুলো যেন অসার হয়ে পড়েছে, হাজারো মদে ডুবেও হাড় থেকে তাড়ানো যাচ্ছে না শীত। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাবিকরা দেখতে পায়, বরফ জমে গেছে দাড়িতে! সূর্য সেটাকে গলিয়ে দেবার আগ পর্যন্ত ওদেরকে দেখায় অল্প বয়সে চুল-দাড়ি পেকে যাওয়া মানুষদের মতো।

    পশ্চিমের সবুজ অঞ্চলে পা রাখে যখন, তখন ওদের দাঁতগুলো নড়বড় করছে। চোখ দুটো বসে গেছে গর্তে। সবাই বলাবলি করতে লাগল, — দেশ আর ঘরের আরামদায়ক আগুন থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি আমরা। পেছনে ফেলে এসেছি পরিচিত সমুদ্র আর ভালোবাসার পরিবারকে। এখানে, পৃথিবীর এই প্রান্তে, এমনকী দেবতারাও আমাদেরকে ভুলে যাবেন!’

    ওদের নেতা একটা বিশাল পাথরের ওপরে উঠে দাঁড়াল। দলের লোকদের বিশ্বাসের দুর্বলতাকে ব্যঙ্গ করে বলল, ‘এই পৃথিবীকে সর্ব-পিতা বানাননি? নিজ হাতে য়ীমিরের হাড় আর মাংস ব্যবহার করে এসব সৃজন করেছেন তিনি। য়ীমিরের মস্তিষ্ককে মেঘ রূপে স্থাপন করেছেন আসমানে। তার লবণাক্ত রক্তকে দিয়েছেন উন্মত্ত সাগরের রূপ। যদি তিনি পৃথিবী বানান, তাহলে কেন বুঝতে পারছ না যে এই ভূ-খণ্ডও তিনিই বানিয়েছেন? আমরা যদি এখানে পুরুষের মতো মারা যাই, তাহলে অবশ্যই তার ছায়ায় আশ্রয় পাব!’

    আনন্দে চিৎকার করে উঠল তার লোকেরা। তাই গাছকে দেয়াল এবং ছাদ, আর মাটিকে মেঝে হিসেবে ব্যবহার করে একটা হল বানাবার কাজে মন দিল। এই নতুন এলাকায়, ওদের ধারণা, আর কোনো মানুষ নেই।

    হল বানানো শেষ হলো যেদিন, সেদিন ধেয়ে আসল এক প্রলয়ঙ্করী ঝড়। মধ্য-দুপুরেই আকাশ হয়ে গেল রাতের মতো কালো; আসমানে যেন দুই দানোর লড়াই বেঁধেছে, থেকে থেকে সাদা আলো আর কান ফাটানো আওয়াজ আসছে ভেসে। শুভ লক্ষণ হিসেবে যে বিড়ালটাকে সাথে এনেছিল নাবিকরা, সেটা যেন কোথায় মুখ লুকিয়েছে! ঝড়টা এমন প্রমত্ত ছিল যে আনন্দে একে- অন্যের পিঠে চাপড় বসাল তারা। ‘বজ্র-দেব এই অদ্ভুত জায়গাতেও আমাদের সাথে আছেন।’ আকণ্ঠ মদ পান করতে শুরু করল সব ভুলে।

    হলের ধোঁয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকারে ওদেরকে পুরনো সব গান গেয়ে শোনাল চারণ-কবি। সর্ব-পিতা ওডিনের গান শোনাল তাদের, যিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন নিজেরই উদ্দেশ্যে। সে গাইল সেই সময়ের গান, যখন সর্ব-পিতা ঝুলছিলেন জীবন-বৃক্ষ থেকে। নিজেকে নিজেই করেছিলেন বর্শা বিদ্ধ, সেই ক্ষত থেকে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছিল রক্ত। সর্ব-পিতার নয়টা নাম গেয়ে শোনাল সে, শোনাল নয় রুন আর ঊনত্রিশটা জাদু-বস্তুর নাম।

    পরেরদিন, যেদিনটা আসলে সর্ব-পিতারই দিন, নতুন এক আগন্তুককে খুঁজে পেল তারা। একেবারে ছোটোখাটো একটা মানুষ সে, লম্বা চুলগুলো এত কালো যে দেখলে দাঁড়কাক লজ্জা পাবে। ত্বক লাল কাদার চাইতেও লালচে। এমন ভাষায় কথা বলল লোকটা, যা নাবিকরা কোনদিন শোনেনি! পরনে তার পালক আর পশুর চামড়া, লম্বা চুলগুলোতে বেণি করে বাঁধা ছোটো ছোটো হাড়।

    হলে নিয়ে এলো নাবিকরা তাকে, খেতে দিল ঝলসানো মাংস। মদ খাইয়ে তৃপ্ত করল লোকটাকে। মাতাল হয়ে সে যখন গান গাইতে আরম্ভ করল, তখন হাসিতে যেন ফেটে পড়ল তারা। আরও পান করতে দিল তারা আগন্তুককে, কিছুক্ষণের মাঝেই মাতাল বেচারা অচেতন হয়ে গেল!

    আগন্তুককে তুলে নিলো তারা। দুজন ধরল দুটো কাঁধ, দুজন দুটো পা। চারজন নাবিক আর লোকটা মিলে গঠিত হলো যেন আট-পাঅলা একটা ঘোড়া। মিছিলের মতো করে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো একটা অ্যাশ গাছের কাছে। গাছটা একটা পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত, ওখান থেকে পরিষ্কার দেখা যায় সমুদ্র। এখানেই, গাছের ডালের সাথে, ফাঁসি দেওয়া হলো লোকটাকে। আসলে ফাঁসি না বলে সর্ব-পিতার প্রতি তাদের বলি বলাটাই বেশি যুক্তি- যুক্ত। অপরিচিতের দেহটা দুলতে থাকল বাতাসে, জিহ্বা বেরিয়ে এসেছে, চেহারা কালো হয়ে গেছে; চোখ দুটো যেন আরেকটু হলেই বেরিয়ে আসবে, উত্থিত যৌনাঙ্গে একটা চামড়ার হেলমেট ঝুলিয়ে দিলেও সেটা মাটিতে পড়বে না।

    নাবিকরা আনন্দিত, হাসছে তারা-বলি দিতে পেরে খুশি।

    .

    পরের দিন দুটো বিশাল দাঁড়কাক এসে বসল লাশটায়, দুটো দুই কাঁধে। বসেই শুরু হলো গাল আর চোখে ঠোকরানো। নাবিকরা বুঝতে পারল, তাদের উৎসর্গ কবুল করা হয়েছে

    লম্বা সময় ধরে চলছে শীতকাল, ক্ষুধায় কাতর হয়ে আছে তারা। তবে বসন্তের চিন্তায় সেই কাতরতা খুব একটা বেগ দিতে পারছে না তাদের। বসন্ত এলেই নৌকা পাঠানো হবে দেশে, সেখান থেকে নতুন নতুন মানুষ আসবে…আসবে মেয়েরাও। তবে আবহাওয়া আরও ঠান্ডা হতে শুরু করলে, অপরিচিত লোকটার গ্রামের খোঁজে নামল কেউ কেউ। খাবার দরকার, সেই সাথে মেয়েমানুষ পেলে তো সোনায় সোহাগা। তবে হায়, কিচ্ছু পেল না তারা। দুই-একটা পরিত্যক্ত অগ্নিকুণ্ড নজরে পড়ল কেবল!

    শীতের এক মধ্য-দুপুরে, যখন সূর্য এতটা দূরে যে দেখে রুপালি পয়সা বলে মনে হচ্ছে, অভিযাত্রীরা দেখল-বলির দেহের অবশিষ্টাংশ অ্যাশ গাছ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে! সেদিন বিকালে তুষারপাত হতে শুরু করল।

    উত্তর দিক থেকে আসা লোকগুলো তাদের কাঠের দেয়ালে নিজেদেরকে আবদ্ধ করে ফেলল!

    সেদিন রাতেই শুরু হলো আক্রমণ, ত্রিশ জন অভিযাত্রীর উপর আছড়ে পড়ল যেন পাঁচশ মানুষ। পরবর্তী সাত দিন ধরে চলল হত্যাকাণ্ড। ত্রিশ সদস্যের কেউ রেহাই পেল না। মারা গেল সবাই, ত্রিশটা আলাদা আলাদা উপায়ে। ভুলে গেল সবাই এই নাবিকদের, ইতিহাসও মনে রাখেনি।

    হলঘরটা আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে জাহাজে করে এসেছিল নাবিকরা, সেটাও বাদ গেল না। আক্রমণকারীদের আশা-এই অভিযাত্রীরা একাই এসেছিল! আর কখনও কোনো সাদা-মুখো এদিকে হবে না।

    সৌভাগ্যবান লিফ, এরিক দ্য রেডের পুত্র, জায়গাটা পুনঃআবিষ্কার করারও একশ বছর আগের গল্প এটা। জায়গার নাম সে দিয়েছিল ভিনল্যান্ড। লোকটার জানা ছিল না, এখানে সে পা রাখার অনেক আগে থেকে দেবতারা ওরই প্রতীক্ষায় ছিলেন। এক-হাতি টির, ধূসর ওডিন আর বজ্ৰ-দেব থর, সবাই আরও অনেক আগে চলে এসেছেন এখানে…

    …দিন গুনছিলেন ওর আগমনের!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনানসি বয়েজ – নিল গেইম্যান
    Next Article নর্স মিথোলজি – নীল গেইম্যান

    Related Articles

    নিল গেইম্যান

    স্টোরিজ – নিল গেইম্যান

    September 5, 2025
    নিল গেইম্যান

    নর্স মিথোলজি – নীল গেইম্যান

    September 5, 2025
    নিল গেইম্যান

    আনানসি বয়েজ – নিল গেইম্যান

    September 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }