Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একশ বছরের সেরা গল্প – সমরেশ মজুমদার (সম্পাদিত)

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প988 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাজার জন্মদিন : একশ বছরের সেরা গল্প

    রাজার জন্মদিন
    রমেশচন্দ্র সেন

    (মধ্যযুগের কাহিনী)

    প্রথমে ছিল বার জন রাজ-বন্দী, প্রত্যেকেই যুবক, সকলেই সম্ভ্রান্ত বংশীয়।

    প্রতি বৎসর রাজার জন্মদিনে এক একজন করিয়া খালাস পাইয়া তখন ছিল মাত্র তিন জন।

    রক্ষীদের সঙ্গে কথা বলিবার হুকুম নাই। প্রকাণ্ড এই দুর্গে তাদের সঙ্গী ছিল তারা নিজেরা আর ছিল গাছের পাখী, আকাশের তারা, চন্দ্র-সূর্যের আলো।

    পূর্বে রাজ-বন্দীদের রাখা হইত পৃথক পৃথক কুঠরিতে কিন্তু সংখ্যা কমিয়া যাওয়ায় এবং এতদিন কারাগারের নিয়ম-কানুন ভালভাবে প্রতিপালন করায় কর্তৃপক্ষ খুশী হইয়া তাদের একসঙ্গে থাকিবার হুকুম দেন।

    গল্প-গুজব করিয়া, তাস ও পাশা খেলিয়া, দৌড়-ঝাঁপ করিয়া সময় তারা একরূপ কাটাইয়া দেয়। কখনও প্রেমের গল্প করে, কখনও আলোচনা করে রাজনীতি ও সাহিত্যের।

    রাজশেখর মাঝে মাঝে গান গায়, কোন সময় স্তোত্র আবৃত্তি করে, কখনও বা বন্ধুদের শুনায় তার স্বরচিত চম্পুকাব্য একটি বৎসর এইভাবে কাটিয়া গেল। একদিন সন্ধ্যার সময় কারাধ্যক্ষ আসিয়া খবর দিলেন, রাত্রি প্রভাতে রাজশেখর মুক্তি পাইবে।

    জয়ন্ত ও জীমূতবাহন সমস্বরে বলিয়া উঠিল, জয় রাজশেখরের!

    তাদের আনন্দের আর সীমা নাই, জয়ধ্বনি করিয়া, চেঁচাইয়া, গান গাহিয়া তারা ঘরখানাকে সরগরম করিয়া তুলিল।

    জয়ন্ত বলিল, মুক্তিত পাচ্ছ, কিন্তু মনে থাকে যেন চম্পার খবর আমাকে দিতে হবে।

    রাজশেখর কহিল, নিশ্চয়।

    জয়ন্ত একটু হাসিল। মুক্তিপ্রাপ্ত আরও দুই একজন বন্ধুকে এইরূপ অনুরোধ করায় তারাও কথা দিয়াছিল চম্পার খবর পাঠাইবে। কিন্তু খবর সে পায় নাই।

    রাজশেখর জীমূতবাহনকে জিজ্ঞাসা করিল, তার কোনও সংবাদ দিবার আছে কিনা?

    জীমূতবাহন বলিল, না।

    প্রভাত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ষী দরজা খুলিয়া দিলে তিন জনেই উঠানে আসিয়া সারি বাঁধিয়া দাঁড়াইল। প্রথমে জয়ন্ত, মধ্যে রাজশেখর, শেষে জীমূতবাহন রাজশেখরের গলায় একটা ফুলের মালা।

    চলিতে চলিতে সে গান ধরিল, নমস্তে সতে তে জগৎকারণায়।

    বন্ধুরা মধ্যে মধ্যে বলিতে লাগিল, নমস্তে—

    দুর্গের ফটকে আসিয়া রাজশেখর দুই বন্ধুকে আলিঙ্গন করিল তিন জনেই নির্বাক। তিন জনেরই চোখ আর্দ্র।

    বাষ্পকুল-কণ্ঠে রাজশেখর কহিল, আসি ভাই।

    বিদায়ের পালা বোধ হয় আর একটু দীর্ঘ হইত, কিন্তু প্রহরী বলিয়া উঠিল, সময় সংক্ষেপ।

    প্রহরীরা রাজশেখর ও তার বন্ধুদের মধ্যে লৌহকপাটের যবনিকা টানিয়া দিলে জীমূতবাহন ও জয়ন্ত পরস্পরের দিকে চাইল। সে দৃষ্টিতে ছিল গভীর হতাশা এবং একের প্রতি অপরের একান্ত নির্ভরতা।

    সেদিন আর তাদের বিশেষ কোন কথাবার্তা হইল না।

    এতদিন তবু ছিল তিনজন। জীবন আজ আরও সঙ্কীর্ণ হইয়া গেল।

    দুইটি প্রাণী থাকে পরস্পরের ছায়ার মত গোপন তাদের কিছুই নাই, চিন্তায়, কর্মে সকল বিষয়েই একটা খোলাখুলি ভাবা।

    সকালে ঘুম ভাঙ্গিলে মাঠে দৌড়ায়, দুপুরে সাঁতার কাটে, খাওয়ার পর তাস খেলে, কখনও বা নিদ্রা যায়।

    জীমূতবাহন চাপা ধরনের লোক, এতদিন নিজের প্রেমের ইতিহাস সে গোপন করিয়াই আসিয়াছে। এবার একদিন জয়ন্তের কাছে সে ধরা দিল, বন্ধুকে বলিল—তার প্রেমের গল্প, জীবনের প্রথম ও শেষ প্রেমা ঘটনাটি এইরূপ—

    জীমূতবাহনের প্রেমাস্পদ ছিল তারই কোন এক বন্ধুর আত্মীয়া। পাছে বন্ধুর প্রাণে আঘাত লাগে, পাছে তার উপর বিশ্বাসঘাতকতা করা হয় সেই জন্য প্রেমের প্রতিদান পাইয়াও সে পিছাইয়া আসিল।

    সেই হইতে নারী সম্বন্ধে কোন ঔৎসুক্য কি কৌতূহল তার নাই।

    ব্যথা সে পাইল খুবই কিন্তু উপায় ছিল না, একদিকে বন্ধুত্বের মর্যাদা, আর এক দিকে প্রেম।

    জীমূতবাহনের উপর জয়ন্তের অনুরাগ সেই হইতেই যেন আরও বাড়িয়া গেল। সেও যে প্রেমিক, সেও যে তার সহধর্মী!

    আগে মনে করিত, লোকটা বেরসিক তাই চম্পার কথা ততটা প্রাণ খুলিয়া বলিত না। কিন্তু এখন আর দ্বিধা নাই, সঙ্কোচ নাই।

    কিছুদিন পরে জীমূতবাহনের অসুখ করিল—জ্বর, বমি, মাথায় যন্ত্রণা!

    প্রথমে মনে হইল, অল্পেই সারিয়া যাইবে। কিন্তু উপসর্গ উত্তরোত্তর বাড়িতে লাগিল।

    রাজধানী হইতে বিচক্ষণ বৈদ্য আসিলেন। নাড়ী পরীক্ষা করিয়া তিনি ঔষধের ব্যবস্থা করিলেন বটে কিন্তু বলিলেন, ব্যাধি গুরুতর, জীবনের আশা কম।

    জয়ন্ত জননীর মত সেবা করিতে লাগিল। বিশ্রাম নাই, ক্লান্তি নাই, নিজ-হাতে সে মল-মূত্র পরিষ্কার করে, রোগীর শয্যা ছাড়িয়া বড় একটা ওঠে না।

    রাত্রে ঘুম নাই, অনেক সময় খাইতেও ভুলিয়া যায়।

    তার অনলস এই সেবা দেখিয়া কারারক্ষীরাও মুগ্ধ হয়, পরস্পর বলাবলি করে, এই দৃশ্য অপূর্ব

    বৈদ্য তার এইরূপ সেবার জন্য ভীত হইয়া পড়িলেনা বলিলেন, এরূপ ভাবে চললে তোমারও অসুখ করবে।

    কিন্তু জয়ন্ত ভ্রুক্ষেপ করে না, সেবার নেশা তখন তাকে পাইয়া বসিয়াছে। তার শুধু চেষ্টা কিসে জীমূতবাহন একটু আরাম পায়।

    বন্ধুর শুশ্র+ষা-গুণে দু’মাস ভুগিয়া জীমূতবাহন নীরোগ হইয়া উঠিল, পথ্য পাইল। জয়ন্তের আনন্দ আর ধরে না। সে যেন একটা অকূল-পাথারে পড়িয়াছিল, এবার তার কূল মিলিয়াছে।

    জীমূতবাহন কহিল, আর জন্মে তুমি আমার ভাই ছিলো।

    জয়ন্ত হাসিয়া উত্তর করিল, এ জন্মেই বা কম কিসে?

    এইরূপ সৌহার্দের আনন্দে তাদের দিন কাটিয়া যায়। তারা ভুলিয়া থাকে অনেক দুঃখ-কষ্ট।

    জীমূতবাহন বলে, এই বন্ধুত্ব আমাদের কারা-ক্লেশের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

    মাঝে মাঝে হয় মুক্তির কথা সেই প্রসঙ্গ উঠিলে একজন অপরের মুক্তি কামনা করে।

    জীমূতবাহন বলে, একজন নারী তোমার জন্য অপেক্ষা করছে অতএব মুক্তি পাওয়া উচিত তোমার।

    এতদিন যখন করেছে আরও এক বছর না হয় করুক। তোমার মুক্তির বিনিময়ে আমি খালাস হতে চাই না।

    জীমূতবাহন বলে, প্রেমিকের জীবনে এক বছরের মূল্য তো বড় কম নয়।

    সময় কাটাইবার আর পাঁচটা উপাদানের মধ্যে একটা উপায় তারা অবলম্বন করিল! নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষা। রাজার জন্মদিনে মুক্তি মিলিবে কার?

    পরীক্ষা করে তা কি রৌপ্য মুদ্রা ঘুরাইয়া, পাশার খুঁটি চালিয়া এবং আরও অনেক কিছুর সাহায্যে।

    ভাগ্য-লক্ষ্মী কখনও প্রসন্ন হন এক জনের উপর, কখনও অপরের প্রতি। যার নাম ওঠে সে অপরকে বলে, না ভাই আমি চাই, এ বছর তুমি খালাস হও।

    মুক্তির দিন ঘনাইয়া আসে, মাত্র মাস দেড়েক বাকি।

    একদিন জয়ন্ত শৌচাগার হইতে ফিরিতেছিল, তার কানে গেল দুইটি প্রহরীর কথোপকথন।

    একজন বলিল, এবার বন্দী ত খালাস পাবে এক জন, আর এক জন থাকবে কি করে?

    কেন?

    একা থাকা যে ভারী কষ্টের। এখানেই বছর পনের আগে একটি বন্দী নিঃসঙ্গ কারাবাসের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিল, ঐ ওদেরই ঘরে।

    জয়ন্ত চলিয়া আসিল।

    কিন্তু এই কথা কয়টা তার হৃদয়ে পাথরের দাগের মতন গাঁথিয়া রহিল।

    সে অনেক চেষ্টা করিল এই দুর্ভাবনাটাকে ঝাড়িয়া ফেলিবার। কিন্তু যখনই একা থাকে তখনই মনে পড়ে প্রহরীদের সেই কথাবার্তা

    ব্যাপারটাকে সে এভাবে কখনও ভাবিয়া দেখে নাই। অবশ্যম্ভাবী নিঃসঙ্গ কারা-জীবনের বিভীষিকার কথা মনে হয় নাই দু’জনের কাহারও।

    জয়ন্তের মনে পড়িল, তাদের গ্রামের এক ভূস্বামীর কথা নির্জন কারাবাসের ফলে ছয় মাসের মধ্যে তার মাথা এতদূর খারাপ হইয়া যায় যে নিজের পুত্র-কন্যাকেও সে চিনিতে পারে নাই।

    জয়ন্ত মানুষটাকে দেখিয়াছিল—আজন্ম মস্তিষ্ক-হীনের চেয়েও কৃপার পাত্র। অথচ এই মানুষই বিদ্যায়, বুদ্ধিমত্তায়, ধন-দৌলতে, প্রভাব-প্রতিপত্তিতে একদিন সমাজের শিরোমণি ছিল।

    জয়ন্তের ভয় হয়, তারও ত এইরূপ হইতে পারে। মাঝে মাঝে একলা বসিয়া কি যেন ভাবে।

    জীমূতবাহন ব্যাপারটা লক্ষ্য করিল। সে বলিল, কি হয়েছে তোমার?

    জয়ন্ত সব কথা খুলিয়া বলিল।

    জীমূতবাহন উত্তর করিল—আচ্ছা, দু’জনের কারও যদি মুক্তি না মেলে?

    জয়ন্ত উৎসাহের সঙ্গে বলিল—সে খুব ভাল কথা, তবুও এক সঙ্গে থাকতে পারব।

    কিন্তু ভীতি তার কাটে না। সে ভাবে জিনিসটা কি সম্ভব? উভয়েরই মুক্তি অথবা উভয়েরই আর এক বৎসর একত্র কারাবাস যেন কল্পনারও অতীত।

    তার এই হতাশ ভাব জীমূতবাহনের মনেও ধীরে ধীরে সংক্রামিত হয়। সেও মনে করে, সত্যই ত, এদিকটা একেবারে উপেক্ষার নয়।

    একদিন প্রাতে সূর্যকরোজ্জ্বল আকাশে একটা বাজ উড়িয়া যাইতেছিল।

    জয়ন্ত বলিল, ওটা যদি দক্ষিণ দিকে যায় আমি মুক্তি পাব, বাঁয়ে গেলে তুমি।

    উড়িয়া উড়িয়া পাখীটা প্রান্তরের শেষ সীমায় পৌঁছিয়া বাঁ দিকে চলিয়া গেল।

    সঙ্গে সঙ্গে জয়ন্তের মুখখানা ম্লান হইল। ঐ যে পাখীটা—অনন্ত নীল আকাশে একটা শিশিরকণার মতো, সেও মুক্ত, সেও বিচরণ করে স্বাধীনভাবে

    ঐ পাখীর সঙ্গে তুলনায় তার নিজের জীবন?

    কিন্তু এইখানেই ত ইহার শেষ নয়। গভীরতর দুঃখ লইয়া ভবিষ্যৎ তাকে গ্রাস করিবার জন্য প্রস্তুত হইয়া আছে।

    ঠিক এই সময় জীমূতবাহন গলা ছাড়িয়া আবৃত্তি আরম্ভ করিল—

    ‘প্রলয় পয়োধি জলে ধৃতবানসিবেদং
    বিহিত বহিত্র চরিত্ৰখেদং’—

    সেও ভাবিতেছিল মুক্তির কথা ভগবানকে স্মরণ করিয়া মেঘের মত নিজের মনের গ্লানিটুকুকে উড়াইয়া দিবার জন্যই স্তোত্র আবৃত্তি করিল।

    কিন্তু কারও মন হইতে সেই কালো মেঘটুকু উড়িল না। বরঞ্চ ক্রমেই উভয়ের মধ্যে একটা ব্যবধানের সৃষ্টি হইল।

    সেই হইতে আর তারা ভাগ্য পরীক্ষা করিতে সাহস করে নাই, মুক্তির কথা পর্যন্ত মুখে আনে

    সেই অকপট বন্ধুত্ব, প্রাণ খুলিয়া মেলামেশা একে একে সবই নষ্ট হইয়া গেল, রহিল ভদ্রতার একটা বহিরাবরণ মাত্রা

    সেদিন দুপুরে তারা দাবা খেলিতেছিল।

    খেলাটা বেশ জমিয়াছে, দু’ঘণ্টা চলিয়াছে একটা বাজি, শেষ আর হয় না।

    জয়ন্ত একটা বোড়ের চাল ফেরত চাহিলে জীমূতবাহন বলিয়া ফেলিল, শুধু এ ব্যাপারে নয়, তোমার প্রকৃতির পরিচয় পাই প্রতি মুহূর্তে

    কি রকম?

    তুমি মনে কর, আমি তোমার মুক্তির প্রধান অন্তরায়।

    জয়ন্ত কাষ্ঠ-হাসি হাসিয়া বলিল—যাক, নিজের পরিচয় তুমি ভাল করেই দিলে।

    খেলা আর শেষ হইল না। এই ঘটনা অবলম্বন করিয়া তাদের বাক্যালাপ পর্যন্ত বন্ধ হইল।

    কথা বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে সকল বিষয়েই পূর্ব নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটিল। তারা স্নান করে পৃথক। সময়ে, আহার করে পৃথক স্থানে, যথাসম্ভব একে অপরকে এড়াইয়া চলে।

    রাত্রে একা ঘরে না থাকিলেই নয়, তাই থাকে, কিন্তু পৃথক থাকিতে পারে না বলিয়াও পরস্পরের প্রতি রাগিয়া যায়।

    মন তাদের বিষাইয়া ওঠে প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি অবলম্বন করিয়া।

    বিস্ময়ের বিষয় এই যে, কেহই ভাবে না যে সে নিজেও মুক্তি পাইতে পারে। একে ভাবে মুক্তি মিলিবে অপরের।

    কাল রাজার জন্মদিন আজ সন্ধ্যার পর মুক্তির সংবাদ আসিবো দু’জনেই সাগ্রহে সূর্যাস্তের প্রতীক্ষা করিতেছে। মুক্তি এক জনের হইবেই, যার হয় হউক কিন্তু এ সংশয় আর ভাল লাগে না।

    সন্ধ্যার কিছু পরেই কারাধ্যক্ষ আসিয়া ঘোষণা করিলেন, ‘অশেষ গুণালঙ্কৃত শ্ৰীমন্মহারাজের পবিত্র জন্মতিথি উপলক্ষ্যে জীমূতবাহন মুক্তি পাইবেন। প্রভাতে কারা-গৃহ হইতে বাহিরে যাইবার জন্য তিনি যেন প্রস্তুত থাকেন।’

    রাজাদেশ শুনাইয়া কারাধ্যক্ষ চলিয়া গেলেন।

    জীমূতবাহন কেমন যেন বিহুল হইয়া পড়িল। সে বুঝিতে পারিল না, মুক্তির এই বাণী আনন্দের না বিষাদের।

    আর জয়ন্ত?

    প্রথমে সে যেন ঘোষণা-বাণীর অর্থই উপলব্ধি করিতে পারে নাই। ধীরে ধীরে কথাগুলি দুই দুইবার আওড়াইয়া সে হাসিয়া ফেলিল, নিজের অন্তহীন দুঃখের প্রতি একটা তীব্র বিদ্রুপের সুরে।

    বাহিরে চাঁদের আলোর উপর শীতের কুয়াসা একটা পর্দা টনিয়া দিয়াছে। প্রকৃতির রূপ সদ্য শোকাতুরা শ্বেত-বসনা বিধবার মত

    জয়ন্ত এবং জীমূতবাহনের মনের উপরও কুয়াশার পর্দারই মতন একটা আবরণ দু’জনে দু’টা জানালায় দাঁড়াইয়া। একজন পূবের, একজন দক্ষিণের

    জয়ন্তের কাছে সবই অর্থহীন, সবই অস্পষ্ট, রাত্রি প্রভাতে মাতাল যেমন জড়তা বোধ করে তার মন ও শরীরের অবস্থাও ঠিক সেইরূপ।

    আর জীমূতবাহন?

    পরদিন প্রাতঃকাল হইতেই সে স্বাধীন ইহা ভাবিয়াও তার শান্তি নাই। জয়ন্তের নিকট সে যেন কত অপরাধী। ইচ্ছা হয়, একবার তার হাত ধরিয়া ক্ষমা ভিক্ষা করে, কিন্তু ভাষা যোগায় না।

    দু’জনেই নির্বাক। একজন হতাশায়, অপরে সৌভাগ্যের সঙ্কোচে।

    জয়ন্তের চোখের সামনে তখন ভাসিয়া উঠিল নিঃসঙ্গ কারাবাসের ছবি।

    তার মনে পড়িল, নিজের পরিচিত সেই হতভাগ্য ভূস্বামীকে, মনে পড়িল, এই কক্ষে যে বন্দী গলায় দড়ি দিয়া আত্মহত্যা করিয়াছিল, তাহাকে।

    ভাবিতে ভাবিতে জয়ন্তের চোখ দু’টো লাল হইয়া উঠিল।

    তার দিকে চাহিয়া জীমূতবাহনের আশঙ্কা হইল—মানুষটা বুঝিবা পাগল হইয়া গেল।

    ঘণ্টার পরে ঘণ্টা কাটিয়া গেল, কতক্ষণ তার হিসাব নাই।

    একটা পাখীর ডাক শুনিয়া দু’জনেরই চমক ভাঙ্গিল। এই পাখী ডাকে প্রতি প্রহরে।

    এটা কোন প্রহরের ডাক, প্রথম না দ্বিতীয় প্রহরের?

    অন্যবার এইদিন কত উৎসব, কত আনন্দ হয়। বন্দীরা আনন্দ করে, মুক্তিপ্রাপ্তের জয়ধ্বনি করে।

    জীমূতবাহন একটা তোরঙ্গের উপর বসিয়া ভাবিতেছিল, বাহিরে যাইয়া জয়ন্তর মুক্তির জন্য কি কি পন্থা অবলম্বন করিবে, কাহাকে ধরিবে, কোন প্রতিপত্তিশালী অভিজাতের মারফত রাজার নিকট আবেদন করিবো ভাবিতে ভাবিতে রাত্রি তৃতীয় প্রহরের পাখীর ডাকের পর সে ঘুমাইয়া পড়িল।

    জয়ন্ত তখনও ঘরের মধ্যে পদচারণা করিতেছিল।

    মাথা একটু নাড়িতে নাড়িতে আপন মনে কি বকে, একবার ঘরের এদিক হইতে ওদিক যায়, আবার ফেরে।

    কখনও হাত তার মুষ্টিবদ্ধ হইয়া আসে, কখনও বা ওষ্ঠপ্রান্তে ফুটিয়া ওঠে একটু হাসি।

    হাঁটিতে হাঁটিতে জয়ন্ত একবার জীমূতবাহনের দিকে চায়, কি যেন ভাবিয়া দেওয়ালের ওপর ঘুষি মারে, হাত ক্ষত-বিক্ষত হয়।

    রাজার জন্মদিন—

    জয়ন্ত দরজার কাছে একটা চারপাইর উপর বসিয়া আছে। পরনে জীমূতবাহনের পোষাক। মাথায় তারই উষ্ণীয়।

    দরজা খোলা মাত্রই সে বাহির হইয়া যাইবা যদি কেহ বাধা দেয়, তবে রক্তগঙ্গা বহাইবে।

    কিন্তু এ কী!

    অন্যবার ভোরের সঙ্গে সঙ্গে প্রহরীরা দরজা খুলিয়া দেয়। এবার এত বিলম্ব কেন?

    ঘর যে আলোয় ভরিয়া গেল, এ আলো ত তার সহ্য হয় না।

    একদৃষ্টে সে চাহিয়া রহিল দরজার দিকে।

    দূরে পদ-শব্দ শোনা গেল, একজন, দু’জনবহু লোকের পদশব্দ।

    শব্দ ক্রমে স্পষ্টতর হইল, একেবারে দরজার বাহিরে।

    লৌহকপাট ঝন ঝন শব্দে খুলিয়া গেল।

    প্রথমে রাজার জন্মোৎসবের উপযুক্ত উজ্জ্বল পরিচ্ছদে ভূষিত কারাধ্যক্ষ, পিছনে প্রহরীর দল।

    চৌকাঠের উপর পা দিয়াই কারাধ্যক্ষ বলিলেন, শ্ৰীমন্মহারাজ তাঁর আদেশ পরিবর্তন করিয়াছেন। আপনারা দু’জনই মুক্ত।

    জয়ন্ত ফ্যাল ফ্যাল করিয়া তার দিকে তাকাইয়া জিজ্ঞাসা করিল—দু’জনেই? কারাধ্যক্ষ তার ভাব দেখিয়া বিস্মিত হইলেন। একটু আগাইয়া আসিয়া দেখিলেন, মেজের উপর জীমূতবাহনের দেহ পড়িয়া আছে তার মুখে, বুকের উপর এবং চোখের কোণে জমাট বাঁধা রক্ত। একটা কষ বাহিয়া রক্ত গড়াইয়া কালো শিরার মত দাগ পড়িয়াছে। জয়ন্ত তখন ধীরে ধীরে আপন মনে বলিতেছিল—আমরা দু’জনেই মুক্ত!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্নিরথ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }