Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    একশ বছরের সেরা গল্প – সমরেশ মজুমদার (সম্পাদিত)

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প988 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইহলোক : একশ বছরের সেরা গল্প

    ইহলোক
    অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

    সম্প্রতি মা’র কিছু চিঠি আমাকে ভারি অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। চিঠিতে আর আগের মতো অনিয়মিত টাকা পাঠানোর অভিযোগ থাকে না। মাসের এক দু তারিখে ডাকযোগে টাকা না পাঠালে ক্ষোভে দুঃখে চিঠি—আমি মরি না কেন, মরলে তোমরা বেঁচে যাও, মা’র এমনতর আক্ষেপ থাকে চিঠিতো কিন্তু সম্প্রতি সব চিঠিতে কেবল বাবার নামে অভিযোগ তোমার বাবা রোজ শিয়রে এসে বসে থাকেন। আমাকে সঙ্গে যেতে বলেন। যাই কি করে! ঝুমির বিয়ে না দিয়ে কোথাও আমি নড়ছি না। বলে দিয়েছি, সেখানে সে যত স্বর্গসুখই থাকুক। পরের চিঠিতে আবার লিখেছে, বেহায়ার মতো বসে থাকে—কি যে করি! তারপরের চিঠিতে লিখেছে—তোমরা তো। জান, তোমাদের বাবা এ-রকমেরই। একবার গোঁ ধরলেই হল। কার নিস্তার আছে তাঁর হাত থেকে রক্ষা পায়! শেষে লিখছে, এবারে বাৎসরিকে ভেবেছি দ্বাদশব্রাহ্মণ ভোজন করাবা তোমার পঞ্চতীর্থ কাকার বিধান। তুমি আসবে।

    আমি না গেলেও বাৎসরিক আটকাবে না। যা করার পিলুই করে। খরচের বহরটা শুধু বহন করা আমার দায়। শেষ চিঠিটা আজই অফিস থেকে ফিরে এসে পেয়েছি। আর্থিক সচ্ছলতা যতই থাক, অকারণে আবার এতটা খরচ—ভাবতে গিয়ে বসে পড়লাম। নন্দিনী চিঠিটা এগিয়ে দিয়ে বলেছিল, নাও সামলাও।

    সামলানোটা যে কি একমাত্র আমি বুঝি কারণ যে যার সংসার টানে সেই জানে কত দায় মানুষের। আর যে বোঝা বয়, সে বোধ হয় বোঝা বইতেই ভালবাসে। কাঁধ শক্ত হয়ে গেছে, ঘাড়ে ঘা হয়ে গেছে, মাছি ভনভন করে উড়ছে—সে সেটাও টের পায় না।

    আর আজীবন যদি মানুষটা এভাবে বোঝা বইতে বইতে মুখ থুবড়ে পড়ে যায়—তবে কে। সামলাবে সব! কাজেই আমি যতটা না তিক্ত, নন্দিনী তার চেয়ে বেশি দু’জনেরই চিঠি পেয়ে মুখ গোমড়া। নন্দিনী বেশী কথা বলে না একটা দুটো কথা। ঐ দুই একটাই এমন খোঁচা যা আরও বেশি রক্তপাত ঘটায়সারাজীবন শুধু করেই গেলে, তোমার যদি কিছু হয়, কেউ আমার পাশে এসে দাঁড়াবে! ছেলেপুলে নিয়ে শেষে আমি দাঁড়াব কোথায়! এত যে কর, কই আমার বিপদে আপদে কেউ তো আসে না! তুমি কেমন আছ জানতে চায় না!

    চিঠি পেয়ে আমি এমনিতেই বিরক্ত, তার উপর নন্দিনীর তিক্ত কথাবার্তা মেজাজটাকে সহসা ভারি রুক্ষ করে তুলল। আমার মা ভাই বোন সম্পর্কে নিন্দা করলে এটা আমার হয়। আর নন্দিনীও মিছে কথা বলেনি। বিশেষ কোনো সঞ্চয় নেই, ছেলেপুলে সব মানুষ হতে বাকি, এদিকে ঠিক বাবার সংসারে টাকা যুগিয়ে যাওয়া—মাসে মাসে কামাই নেই। দু বোনের বিয়ে বাবার কাজ সবই করে যাচ্ছি। উটকো দায় বাবা আরও রেখে গেছেন, সে বুঝি যতই নন্দিনীকে বুঝিয়েছি—আর মাথা পাতছি না, তত নন্দিনীর এক কথা, যা একখানা মানুষ, তুমি আবার মাথা পাতবে না। নন্দিনী বোঝে, জানে, আমি গোপনেও টাকা পয়সা দিয়ে থাকি। ভাইঝির বিয়ে আমার টাকা ছাড়া হবে সে বিশ্বাসই করতে পারে না। ফলে যা হয় এক কথা দু কথা, নন্দিনীর অভিযোগ, তোমার অন্য ভাইরা তো বেশ বিয়েথা করে আলাদা হয়ে গেল, বাড়িতে মেজজনের এত দুধ হয়, এক ফোঁটা দুধ পর্যন্ত দেয় না। তুমি আবার আলাদা মা’র জন্যে দুধের টাকা পাঠাচ্ছ। ওরা মা’র ছেলে নয়!

    অকাট্য যুক্তি জবাব দিতে পারি না। তবু কেন যে নন্দিনীর উপর আমার রাগ হয়। রাগ বাড়ে। শত হলেও তারা ছোট ভাই, পারে না। স্ত্রী অশান্তি করে দুধ দিলে। সংসারে স্ত্রী যদি স্বামীর সঙ্গে অশান্তি করে, তবে সে কত অসহায়, নিজের জীবন দিয়েও সেটা বুঝেছি। কাজেই নন্দিনীকে না বলে পারিনি, বাদ দাও। ও-সব ভেবে লাভ নেই। পারলে দেব, না পারলে দেব না। দ্বাদশব্রাহ্মণ ভোজনে আমার কাজ নেই।

    নন্দিনী রান্নাঘর থেকে বলল, তুমি না দিয়ে থাকার লোক! তোমাকে আমি চিনি না! এবং ক্ষোভে দুঃখে মনে হল নন্দিনী খুবই ক্ষেপে গেছে। কাঁচের প্লেট ভেঙে খানখান হল। একটা তীক্ষ্ণ আওয়াজ এবং আমার ভেতরে কেমন এক অসহায় করুণ ছবি—যেন সব দুলে উঠছে। ছোট ছেলে দৌড়ে আসছে দেখলাম, স্ত্রী রান্নাঘর থেকে উঠে আসছে—তারপর আর কী হয়েছে আমার জানা নেই।

    গভীর রাতে দেখলাম, নন্দিনী আমার শিয়রে বসে রাত জাগছে। ঘরে জিরো পাওয়ারের আলো জ্বালা নন্দিনীর চোখে জলের দাগ—এখনও ভাল করে শুকায়নি।

    চারপাশ কেমন নিস্তব্ধ। নিঝুমা আমার কি হয়েছিল মনে করতে পারছি না। তবু কেন যে কানে বাজছে, তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই। সেই গভীর অতলে ডুবে যেতে যেতে শুনেছিলাম, নন্দিনীর বালিকার মতো হাউহাউ কান্না। বললাম, ভাল আছি। শুয়ে পড়।

    নন্দিনী শুধু বলল, তুমি ঘুমোও। কথা বোলো না।

    সকালে কোনো ক্লান্তি বোধ করলাম না। আর দশটা দিনের মতোই সব কিছু স্বাভাবিক লাগছে। ডাক্তার এলেন বললেন, খুব যে লো ব্লাড প্রেসার বাধিয়ে বসে আছেন ভাল খাওয়া দাওয়া করুন। ই সি জি-টা করা দরকার। এরপর যা হবার হয়ে যাবে। শরীরের যাবতীয় পরীক্ষা—লো ব্লাড প্রেসার ছাড়া সব কিছুই স্বাভাবিক। কেন যে এমন হল ভাবতে বিস্ময় লাগছে। আরো বিস্ময়, তিন চারদিন যেতে না যেতে দেশ থেকে দেখি ভাই-বোনেরা এবং মা সবাই হাজির। নন্দিনীর কাজা নন্দিনী একা ভরসা পাচ্ছে না বুঝতে পারলাম সে খুবই ঘাবড়ে গেছে। সে তার বাপের বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদেরও হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেছি খবরটা ঠিক পৌঁছে দিয়েছে।

    ফলে বাড়িতে লোকসমাগম একটু বেশি মা এসেই আমার হাত দুটো ধরে বলল, বাবা, তুই আমার আগে চলে যাস না কথা দে।

    হেসে বললাম, তোমরা এত ঘাবড়ে গেলে কেন বুঝি না।

    মা’র আবার অনুরোধ, মাথার কাজটাজ আর তোর বেশি করতে হবে না। সংসার যেভাবে চলছে চলবে।

    একতলা দোতলা মিলে বাড়িতে অনেকগুলি ঘর। আমরা বাড়িতে চারটি প্রাণী—আমি নন্দিনী, ছবি, বকুল আর কাজের লোক মহানন্দা ঘরগুলো ফাঁকাই পড়ে থাকে। সবাই আসায় সহসা বাড়িটা যেন আবার জেগে উঠেছে, ভাল বাজার, রকমারি রান্না এবং সবাই একসঙ্গে মেঝেতে খেতে বসা। কত রকমের কথা তখন ভাইবোনদের। কতদিন পর আমরা আবার এক-বাড়িতে একসঙ্গে। কতদিন পর আসন পেতে বসা, খাওয়া—গল্প জীবনটা তো এভাবেই আমাদের আরম্ভ হয়েছিল। সবাই আমরা আছি—কেবল বাবা নেই।

    সবাই আমরা ছড়িয়ে পড়েছি।–কেবল বাবা নেই।

    মহানন্দ আমাদের পরিবেশন করছে। আমরা ভাইরা একপাশে-ওপাশেদু বোনা আমার দুই ছেলে কাকাদের সঙ্গে খেতে বসেছে। মা একটু আলগা হয়ে আছে। সাদা পাথরের থালায় তাঁর ভাতা নিরামিষ রান্না নিজে করেছে। স্বপাকে ছাড়া খায় না। বয়স তাঁকে কাবু করতে পারেনি। সাদা কদমছাঁট চুল। সাদা থানা সত্তর বছরটা তাঁর কাছে কোন বয়স নয়—মা’র কথাবার্তা শুনলে এমনই মনে হয়।

    আমি কথাটা তুললাম। বললাম, বাবা কি তোমার শিয়রে রোজই এসে বসে থাকে!

    মা ঢকঢক করে ঘটিতে আলগা করে জল খাচ্ছিলা বলল, রোজ না। মাঝে মাঝে আসে।

    তুমি বাবাকে ভয় পাও দেখছি। আগে তো পেতে না। বাবা তো সব কথায় বলত, তোর মা কি বলে দ্যাখা তুমি বললেই আমাদের সব হয়ে যেত।

    মা কেমন বিশ্বাসের গলায় বলল ভয় এখনও পায়। তোমাদের বাবা যা একখানা মানুষ ছিল। দেশ থেকে এসে তো তৃণটুকু নেড়ে দেখল না। আমার জন্য কিছু রেখে গেলে বৌদের এত মুখনাড়া খাই!

    নন্দিনীর মুখটা কেমন গম্ভীর হয়ে গেল। নন্দিনী বলল, মা, আমরা তো সাধ্যমতো করি।

    মা বলল, তোমাকে বলিনি বৌমা তোমরা করছ বলেই তো বেঁচে-বর্তে আছি।

    মা’র এ-সব কথা আমার ভাল লাগছিল না। কারণ মাকে আমি জানি। বড় জেদি আমার মা এবং সরল। ছোট ভাইরা পাশে বসে খাচ্ছে—মা’র অভিযোগে ওরা রুষ্ট হতে পারে এমন সুন্দর জীবন তো মানুষের বড় একটা আসে না। কথা ফেরাবার জন্য বললাম, ভয় পায় বলেই বোধ হয় রোজ আর আসতে সাহস পায় না।

    পিলু বলল, জানিস দাদা, বাবাকে আমিও মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখি। কেবল বলে, এই পিলু, দরজা খোলা আমি তোর বাবা। দরজা খুললে দেখি বাবার মাথায় একটা বড় বোঁচকা। ওটা কেবল তাঁর মাথা থেকে নামাতে বলেন।

    তা বাবা বোঁচকাটা নামাতে বলতেই পারেনা দেশ ছেড়ে আসার পর আমাদের ঘরবাড়ি ছিল না। এখানে সেখানে যাযাবরের মতো দিন কেটে গেছে। কখনও বাবা সবাইকে নিয়ে আত্মীয় বাড়িতে উঠে বলতেন, চলে এলাম। তোর ধনবৌদিকে বললাম, মানু যখন আছে একটা হিল্লে হয়ে যাবে কিন্তু মা দু’একদিন পরই আর থাকতে চাইত না। বুঝতে পারতাম বাবার নির্বুদ্ধিতার শিকার হতে মা রাজি না তারপর ফের কোনো মন্দিরের পুরোহিত কিংবা কোনো স্টেশনে ফেলে আমাদের বাবা উধাও। এখন বুঝতে পারি, বাবা ভয়ে উধাও হয়ে যেতেন। সামনে থেকে সন্তান সন্ততির অন্নক্লিষ্ট মুখ দেখবার কষ্ট সহ্য করতে পারতেন না। তখন পিলুর কাজ ছিল বাবাকে খুঁজে বেড়ানো। পাঁচ-সাতদিন পর বাবা ফিরতেন। কোথাও শ্রাদ্ধ অথবা শান্তি স্বল্ক্যয়ন করে বড় বোঁচকায় আতপ চাল, ডাল, তামার পয়সা, প্রণামীর কাপড় নিয়ে ফিরলে পিলুই সবার আগে ছুটে যেত। বাবা আসছে। আমাদের বাবা আসছে। দৌড়ে পিলু বাবার বোঝাটা নিজেই মাথায় নেবার জন্য পীড়াপীড়ি করত—দাও না বাবা। আমি ঠিক পারব। কাজেই পিলু এমন একটা স্বপ্ন দেখতেই পারে।

    মহানন্দকে বললাম, পিলুকে আরও দু’টুকরো মাছ দাও।

    পিলু বলল, না না। আর পারব না। আমাকে দিও না।

    মায়া বলল, জানিস দাদা, বাবা মাঝে মাঝে আমাকেও স্বপ্নে দেখা দেয়।

    আমি মুখ তুলে তাকালাম।

    মায়া একটু বেশি ঝাল খেয়ে হুসহাস করছিল। হাত চাটতে চাটতে বলল, কেবল বলে সাজিটা ধরা

    ঠিক বুঝতে না পেরে বললাম, কিসের সাজি?

    আরে ফুলের সাজি। বাবা সকাল হলেই স্নান টান সেরে এসে পূজার ফুল তুলতেন না!

    তখন আমাদের ঘরবাড়ি হয়ে গেছে। মাত্র একটা পঞ্জিকা সম্বল করে বাবা ঘরবাড়ি গড়ে তুলেছিলেন প্রথম দিকে বছরকার পঞ্জিকা বাবার যজমান নিবারণ দাসই দিত। একটা পঞ্জিকা জীবনে কত বড় সম্বল বাবাকে না দেখলে তখন বোঝা যেত না। মানুষের শুভ দিনক্ষণ বলে দেবার মধ্যে জীবনের কত বড় মাহাত্ম থাকে তা একমাত্র বাবাকে দেখলে আমরা টের পেতাম।

    সেই বাবাও আমার মাঝে মাঝে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন। স্কুলে পড়ছি বই নেই, বেতন বাকি, স্কুলে পরে যাবার জামা নেই, একজন পুরোহিত বামুনের সব দিক বজায় রাখাও কঠিন—শুধু অনাহার থেকে আত্মরক্ষাই তো মানুষের বেঁচে থাকার ধর্ম নয়—কাজেই মা’র খোঁটা দেবার স্বভাব যেমনকার তেমন। এতে পেট ভরে! এ-ভাবে মানুষ বাঁচে! মায়াটা ছেড়া ফ্রক গায়ে দিয়ে। থাকে, তোমার আক্কেল আছে!

    বাবার তখন একটিই বাক্য—চণ্ডীপাঠ শুরু হয়েছে। আমি চললাম।

    আমরা ভাই-বোনেরা মিলে বাবাকে তখন ঠাণ্ডা করতাম। আমাকে দেখলেই বাবা ভরসা পেতেন। আর কটা দিন সবুর করতে তোমার কি মাথা কাটা যাচ্ছে! বিলুটা পাস করলেই দেখবে সব বাসনা পূর্ণ হবে।

    আমার প্রতি বাবার এই বিশ্বাসই আমাকে এতদূর টেনে নিয়ে এসেছে। সবার হয়ে ছায়া দেবার জন্য চারপাশে ডালপালা মেলে দিতে ইচ্ছে হয়েছে। এ-সব যখন ভাবছি তখনই আমার ছোট ছেলে বলল, বাবা, তুমি ঠাকুরদাকে স্বপ্নে দেখ না!

    আমি ঠিক কিছু মনে করতে পারছি না। চুপ করে আছি।

    পিলু বলল, বাবা তোর কাছে আসে না!

    মা’র খাওয়া হয়ে গেছে। আজকাল কানে একটু কম শোনে বলে কি নিয়ে কথা হচ্ছে বুঝতে পারছে না। তাই নিবিষ্ট চোখে পিলুর দিকে তাকিয়ে আছে। এবং বিষয়টা বোধগম্য হতেই মা বলল, এসে আর দরকার নেই।

    মায়া বলল, তুমি থাম তো মা। কি রে দাদা, সত্যি তুই বাবাকে কোনদিন স্বপ্নে দেখিসনি! এত করলি বাবার সংসারের জন্য!

    মা কিছুটা রুষ্ট হল মায়ার কথায়। বলল, এসে তিনি কি উদ্ধার করবেন! বেঁচে থাকতেই কিছু। করল না। তারপর কেমন আশঙ্কা চোখে মুখে ফুটে উঠল মা’রা বলল, হ্যাঁরে, শিয়রে এসে তোর বাবা বসে থাকে না তো! শিয়রে এসে বসে থাকলে সকালে উঠেই পুকুরপাড়ে চলে যাবি। জলের কাছে স্বপ্নের কথা বললে ফলে না। তোর বাবাই আমাকে বলে গেছেন। যেদিনই তিনি আসেন। আমি সকালবেলায় নদীর পাড়ে চলে যাই। সব বলে দি।

    আমি কি বলব ঠিক বুঝতে পারছি না। নন্দিনীও বাবাকে মাঝে মাঝে স্বপ্নে দেখে থাকে। বাবার নাকি তখন একটাই প্রশ্ন। শিবের মাথায় ফুল বেলপাতা দাও তো বৌমা? ওটা দেবে। দিলে ঘরে তোমার কোনো অশুভ প্রভাব ঢুকতে সাহস পাবে না। সবাই বাবাকে দেখো কেবল আমিই মৃত্যুর পর কোনদিন স্বপ্নে আর একবার খুব কাছাকাছি তাঁকে দেখতে পেলাম না। কেমন অভিমানের গলায় বললাম, না, আমি বাবাকে স্বপ্নে কোনোদিন দেখতে পাইনি আমার চোখে কথাটা বলতে গিয়ে কেন জানি জল এসে গেল। আমি আমার মাথা নিচু করে ফেললাম যেন বাবার জন্য আমার এই চোখের জল কেউ দেখতে না পায়।

    তারপর একে একে বাড়িটা খালি হয়ে গেল। নন্দিনীর পীড়াপীড়িতেও কেউ দু’একটা দিন। বেশি থেকে যেতে রাজি হল না। নন্দিনী মাকে বলল, মা, তুমি ক’টা দিন কাছে থাকা তোমার কাছে থাকলে ও ভাল থাকে। মা’র এক কথা, না বৌমা, আমাকে যেতেই হবে। ঝুমিকে কথা দিয়ে এসেছি। ও একা গরু বাছুর সব সামলাবে কি করে! আকালের বৌকে শুতে বলেছি। আর একবার এসে থাকব।

    সবাই চলে গেলে নন্দিনী বলল, তোমার চেয়ে ঝুমি এখন তাঁর কাছে বেশি!

    আমি বললাম, ছোট থেকে বড় করলে মায়া বাড়ে ঝুমির জন্যই মা আমার এখনও বেঁচে আছে। আমরা মা’র বড় দুরে সরে গেছি।

    আর সেদিনই রাতে বাবাকে স্বপ্ন দেখলাম। সেই গাছপালা নিয়ে আশ্রমের মতো বাড়ি। আমরা বাবার পাশে ভাইবোনেরা গোল হয়ে খেতে বসেছি। বাবা একটু দূরে আলগা হয়ে বসে আছেন কলাপাতায় মাংস ভাতা দেখছি—বাবার হাতে পায়ে মুখে বড় বড় ফোসকা শরীরে জায়গায় জায়গায় সাদা দাগা আগুন থেকে উঠে এসে যেন খেতে বসেছেন। আগুনে সারা শরীর ঝলসানোে। হাতে আঙুলে পর্যন্ত পোড়া ঘা। বললাম, বাবা মেখে খেতে আপনার হাত জ্বলছে। আমরা বরং কেউ খাইয়ে দিই আপনাকে।

    বাবার সেই রহস্যময় হাসিটুকু মুখে আমার দিকে শুধু চোখ তুলে তাকালেন। তারপর মাথা নিচু করে বললেন, না জ্বলছে না। দাহ হচ্ছিল—তা সেখান থেকেই উঠে এলাম। তোমরা সবাই মিলে ভাল মন্দ খাচ্ছ আমি বাদ থাকি কেন! সঙ্গে সঙ্গে গা-টা আমার ভয়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। আমি মরে গেলে নন্দিনীও আমাকে ভয় পাবো আর ঘুম এল না। কেন যে এমন বিশ্রী একটা স্বপ্ন দেখলাম! ঘামছিলাম ঘরের জানালা সব খোলা, পাখা ঘুরছে। তবু কেন যে মনে হল রুদ্ধ এক কক্ষে আমি নিজের বধ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে আছি। দরজা খুলে ব্যালকনিতে ঢুকে ইজিচেয়ারে গা এলিয়ে দিলাম। কাউকে ডাকলাম না, নিঃশব্দে দু-হাত উপরে তুলে শুধু বললাম, বাবা আপনি যদি এলেনই—এ-ভাবে কেন আমার কাছে এলেন! তারপর ডাকলাম, নন্দিনী, ছবি, বকুল! ওরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। কোনো সাড়া নেই। অনেক দূরে একটা রেল-ইঞ্জিনের শুধু টংলিং টংলিং শব্দ শুনতে পেলাম। সামনে শুধু আকাশ আর তার অজস্র নক্ষত্রমালা—নিচে মানুষের ঘরবাড়ি, মাঠ, শস্যক্ষেত্র আমি না থাকলে সত্যি ওদের আর কেউ নেই কেন জানি এমন মনে হল। আমার কেন জানি নিজের জন্য, ঘরবাড়ির জন্য, নন্দিনী ছবি বকুলের জন্য আরও মায়া বেড়ে গেল। তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে নন্দিনীর পাশে মুখ গুঁজে শুয়ে পড়লাম। আমি মরে গেলে নন্দিনী আমাকে ভয় পাবে মনে থাকল না। এরা আছে বলেই বেঁচে আছি, বেঁচে থাকব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅগ্নিরথ – সমরেশ মজুমদার
    Next Article কার্ভালোর বাক্স – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Our Picks

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }