Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    কালোমেয়ে – কাসেম বিন আবুবাকার

    কাসেম বিন আবুবাকার এক পাতা গল্প136 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কালোমেয়ে – ৮

    ৮.

    নানার শরীর খারাপ থাকায় আসিয়া ছুটি শেষ হওয়ার চার দিন পর ঢাকায় ফিরল। রুমমেট কুলসুম বলল, কলেজ খোলার পর একদিন ফরিদা তোর খোঁজে এসেছিল। আর সৈকত নামে একটা ছেলে তো প্রতিদিন আসে। আজও কিছুক্ষণ আগে এসেছিল। তা তোর ফিরতে দেরি হলো কেন?

    আসিয়া নানার অসুখের কথা বলে জিজ্ঞেস করল, সৈকত কিছু বলে যায়নি?

    : বললেন, আসিয়া না আসা পর্যন্ত আপনাকে বিরক্ত করব, কিছু মাইণ্ড করবেন না। কে রে ছেলেটা? দেখতে কিন্তু দারুণ।

    : সৈকত এ বছর ফোর্থ ইয়ারে পরীক্ষা দিয়েছে। এমনি একদিন পরিচয় হয়েছিল। তাই কোনো দরকারে হয়তো এসেছিল। সৈকত দেখতে অবশ্য খুবই সুন্দর। তা তুই লাইন দেবার চেষ্টা করতে পারতিস।

    : মনে যে হয়নি তা নয়; তবে ভাবলাম, তোর সঙ্গে হয়তো কোনো সম্পর্ক আছে। তাই চেষ্টা করিনি।

    : এই কালো পেত্নীর দিকে কে নজর দেবে বল। তুই চেষ্টা করে দেখতে পারিস।

    : কিন্তু তার হাবভাব দেখে মনে হলো, সে তোর বিরহে ছটফট করছে।

    : তাই নাকি? কী জানি হয়তো হবে। তবে আমার সঙ্গে তার সে রকম সম্পর্ক নেই। যাকগে, বাদ দে ওসব কথা।

    পরের দিন লাস্ট ক্লাস চলার সময় আসিয়া সৈকতকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভাবল, আমার ফিরতে দেরি হতে সৈকত খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে।

    ক্লাস শেষ হবার পর আসিয়া তার কাছে এসে সালাম দিয়ে বলল, কেমন আছ?

    সৈকত সালামের উত্তর দিয়ে বলল, ভালো। তারপর আবার বলল, এখানে আর কোনো কথা নয়, এস আমার সঙ্গে, এই কথা বলে গাড়ির দিকে এগোল।

    দু’জনে গাড়িতে উঠার পর সৈকত জিজ্ঞেস করল, ফিরতে দেরি করলে কেন?

    আসিয়া নানার অসুখের কথা বলল।

    : জান, মা তোমাকে বাড়িতে নিয়ে যাবার জন্য বলেছে, তাই এই কয়দিন হোস্টেলে প্রতিদিন খোঁজ নিতে গেছি।

    : তা হলে মায়ের কথাতেই গেছ, নিজের ইচ্ছায় যাওনি?

    : তুমি যা ভাবছ তা নয়। মুখ থেকে হঠাৎ মায়ের কথাটা বেরিয়ে গেল।

    : এখন কি তোমার মায়ের কাছে নিয়ে যাচ্ছ?

    : হ্যাঁ, কেন, তোমার কি আপত্তি আছে?

    : আপত্তি থাকবে কেন, চল।

    বাড়িতে পৌঁছে সৈকত আসিয়াকে ড্রইং রুমে বসিয়ে মায়ের কাছে গিয়ে বলল, তুমি যে মেয়েটাকে নিয়ে আসতে বলেছিলে, তাকে নিয়ে এসেছি।

    হেমা বললেন, ওমা তাই নাকি? কোথায় বসিয়েছিস তাকে?

    : ড্রইং রুমে।

    : ঠিক আছে তুই যা, আমি আসছি।

    : বাবা নেই?

    : না এখনও ফিরেনি।

    সৈকত আর কিছু না বলে ড্রইংরুমে এসে আসিয়াকে বলল, বাবা নেই, মা আসছে।

    কয়েক মিনিট পরে হেমা এসে ড্রইংরুমে ঢুকলেন।

    আসিয়া দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে কদমবুছি করার জন্য এগিয়ে গেল।

    আসিয়া রুমে ঢুকে মুখের কাপড় সরিয়ে দিয়েছিল। হেমা তার মুখের দিকে চেয়ে খুব অবাক হয়ে ভাবলেন, কালো মেয়ে অনেক দেখেছি; কিন্তু এত কালো। কখনো দেখিনি। হেমা শিক্ষিত মেয়ে, তাই মনের ভাব বাইরে প্রকাশ না করে ভালো মুখে সালামের উত্তর দিয়ে তার হাত ধরে বললেন, থাক মা থাক, সালাম করতে হবে না, বস।

    আসিয়া বসার পর সৈকত মাকে বলল, তুমি ওর সঙ্গে কথা বল, আমি একটু আসছি। এই কথা বলে সে ভিতরে চলে গেল।

    হেমা আসিয়াকে একটার পর একটা প্রশ্ন করে যখন জানতে পারলেন, এ তার ননদ রাবুর মেয়ে তখন চমকে উঠলেন। আতঙ্কিত হয়ে চিন্তা করলেন, সৈকত এই মেয়েকে কী করে পছন্দ করল? একে-তো মেয়েটা ভীষণ কালো, তার উপর রাবুর মেয়ে। সে কথা ওর বাবা শুনলে রেগে গিয়ে কোনো অঘটন না। ঘটিয়ে ফেলে? সৈকতকে সাবধান করে দিতে হবে।

    এমন সময় সৈকত এসে মাকে উদ্দেশ করে বলল, তোমাদের আলাপ শেষ। হয়েছে?

    হেমা গম্ভীর মুখে বললেন, হ্যাঁ, হয়েছে। আমি নাস্তা পাঠিয়ে দিচ্ছি, খেয়ে তারপর তোরা যাবি। কথা শেষ করে তিনি চলে গেলেন।

    মা চলে যাবার পর সৈকত আসিয়াকে বলল, মা তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছে?

    আসিয়া বলল, হ্যাঁ করেছেন। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, উনি আমাদের সবাইকে চেনেন। আচ্ছা, সেদিন তোমার বাবার নাম ফায়জুর রহমান বলেছিলে না।

    : হ্যাঁ।

    : আসিয়া চমকে উঠে বলল, তুমি তো তোমার বাবার দেশের বাড়ির সব খবর জান না, তোমার মায়ের কাছ থকে জেনে নিয়ে দু’একদিনের মধ্যে আমাকে। জানাবে।

    : কেন বল তো?

    : যখন জানাবে তখন বলব। প্লিজ এখন কোনো কথা জিজ্ঞেস কর না। বলতে পারব না, সে জন্য মাফ চাইছি। এবার চল উঠা যাক।

    সৈকত বুঝতে পারল, মা হয়তো এমন কিছু বলেছে যা শুনে আসিয়া দুঃখ পেয়েছে। কিন্তু বাবার নাম শুনে চমকে উঠল কেন? বাবার দেশের বাড়ির খবরই বা জানতে চাইল কেন?

    এমন সময় আয়া নাস্তা নিয়ে এলে সৈকত বলল, নাস্তা খেয়ে নিই, এস, যেতে যেতে কথা বলা যাবে। তারপর নাস্তা খেয়ে বলল, চল তোমাকে পৌঁছে দিই।

    গাড়ি চালাতে চালাতে সৈকত বলল, মা কি তোমাকে তেমন কিছু বলেছে?

    : না, তবে তিনি আমাকে দেখে খুশি হননি।

    : তোমাকে তো বলেছি, মা-বাবার কথা আমি চিন্তা করি না। তোমার জন্য কী করি না করি, সময় মতো জানতে পারবে।

    : একটা কথা মনে রেখ, আল্লাহ ও রসুল (দঃ)-এর পরে মা-বাবার স্থান, তাদের মনে কষ্ট দিতে আল্লাহ ও রসুল (দঃ) কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

    সন্তান হিসেবে যা কর্তব্য, ইনশাআল্লাহ তা পালন করতে ত্রুটি করব না। তবে তুমিও মনে রেখ, যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে আমি তোমাকে পেতে চাই। ওয়াদা কর, আমার জন্য অপেক্ষা করবে?

    আসিয়া তার প্রতি সৈকতের ভালোবাসার গভীরতা অনুভব করে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল, বেশ ওয়াদা করলাম, তোমার জন্য আমি আজীবন অপেক্ষা করব।

    ততক্ষণে তারা হোস্টেলের গেটে এসে পৌঁছে গেছে। আসিয়া গাড়ি থেকে নেমে বলল, তোমাকে যে কথাগুলো জানার জন্য বললাম, মনে থাকবে?

    সৈকত বলল, থাকবে। কালকের মধ্যেই জেনে নিয়ে জানাব।

    আসিয়া সালাম বিনিময় করে আল্লাহ হাফেজ বলে বিদায় নিয়ে চলে গেল।

    সৈকত মগবাজারে মনোয়ারা ক্লিনিকে এল। বন্ধু জহির কয়েক দিন কলেজে আসেনি। তাই আজ তাদের বাড়িতে ফোন করে জানতে পারে, সে অসুস্থ হয়ে মনোয়ারা ক্লিনিকে আছে। তার বেডের কাছে গিয়ে সালাম বিনিময় করে জিজ্ঞেস করল, কিরে তোর কী এমন হয়েছে যে, এখানে রয়েছিস?

    জহির বলল, তেমন কিছু হয়নি। বস বলছি। হঠাৎ একদিন নাক দিয়ে রক্ত পড়তে লাগল। আব্বা-আম্মা ভয় পেয়ে এখানে নিয়ে এল। এত করে বললাম, অনেক সময় পিত্ত থেকে কোনো কারণে এরকম বের হয়। তারা আমার কথা বিশ্বাসই করল না। যাক, তোর আসিয়ার কথা বল, কতদূর এগোলি?

    : আমরা শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছি। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। ভাবছি, ফাইনাল পরীক্ষার পর বিয়ের কাজটা সেরে ফেলব। তোকে একটা সুখবর দিচ্ছি, ফরিদার ভুল আমি ভাঙিয়ে দিয়েছি। আমরা ধারণা এবার সে নিজেই তোর দিকে এগোবে।

    : তোর ধারণাই ঠিক। এর মধ্যে সে একদিন এসে দেখে গেছে।

    সৈকত আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করে হর্ষোৎফুল্ল কণ্ঠে বলল, সত্যি। বলছিস?

    জহির বলল, হ্যাঁ সত্যি বলছি। আবার বলল, এই কয়েক মাসের মধ্যে তোর কিন্তু অনেক পরিবর্তন হয়েছে। দিন দিন ধর্মিক হয়ে উঠছিস।

    : জানিস তো কার সংস্পর্শে এসেছি। সত্যি দোস্ত, আসিয়া দেখতে কালো হলে কী হবে, সে পরশ পাথর। তার কাছে যে আসবে সেই মানিক হয়ে যাবে।

    : কই একদিনও তো পরিচয় করিয়ে দিলি না?

    : তার কাছে পৌঁছাতে আমারই এতদিন সময় লাগল। তুই সেরে উঠ, এবার পরিচয় করিয়ে দেব। এখন আসি তাহলে?

    : আবার আসিস। ও নিশ্চয় আসব, বলে সৈকত সালাম বিনিময় করে চলে এল।

    সৈকত আসিয়াকে নিয়ে বেরিয়ে যাবার কিছুক্ষণ পর ফায়জুর রহমান ফিরলেন।

    হেমা স্বামীকে চা-নাস্তা দিয়ে চিন্তা করতে লাগলেন, কীভাবে আসিয়ার কথাটা তুলবেন।

    ফায়জুর রহমান স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, কী ব্যাপার, কিছু বলছ কেন? মনে হচ্ছে, কিছু যেন চিন্তা করছ?

    : হ্যাঁ করছি।

    : আমাকে বলা যাবে না?

    : বলতে তো হবেই; কিন্তু শুনে যদি তুমি খুব রেগে যাও?

    ফায়জুর রহমান হেসে উঠে বললেন, অবশ্য আমার রাগ একটু বেশি। তবে তোমার উপর কোনোদিন রাগারাগি করেছি বলে তো মনে হয় না।

    : তা অবশ্য ঠিক। তবে এই ব্যাপারটা আমাকে নিয়ে নয়, সৈকতকে নিয়ে।

    : সৈকত কোনো অন্যায় কাজ করতে পারে না। সে সেরকম ছেলেই নয়।

    : তা আমি ও জানি। কিন্তু ব্যাপারটা আমাদের সবাইয়ের সঙ্গে জড়িত।

    : তাহলে চিন্তা না করে বলে ফেল।

    হেমা প্রথমে সৈকত ও আসিয়ার সম্পর্কের কথা বললেন, তারপর আসিয়া যে খুব কালো সে কথা বলে তার সম্পূর্ণ পরিচয় বললেন।

    ফায়জুর রহমান কথাটা বিশ্বাস করতে পারলেন না। ততক্ষণে নাস্তা খেয়ে চায়ে চুমুক দিয়েছিলেন। কাপটা নামিয়ে রেখে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, আসিয়ার পরিচয় জানলে কেমন করে?

    হেমা স্বামীর গম্ভীর স্বর শুনে বুঝতে পারলেন, ভীষণ রেগে গেছে। বললেন, তুমি এত রেগে যাচ্ছ কেন? রেগে না গিয়ে আমাদের সৈকতকে আসিয়ার কাছ থেকে ফিরিয়ে আনার কথা ভাবতে হবে। একদিন ফরিদার কথা তুলে সৈকতের মতামত জানতে চেয়েছিলাম। বলল, ফরিদাকে সে নিজের ছোট বোন মনে করে। সেইদিন সে বলেছিল, আসিয়া নামে একটা মেয়েকে তার পছন্দ। আমি তাকে একদিন আনতে বলেছিলাম। আজ সৈকত আসিয়াকে নিয়ে এসেছিল। আসিয়ার মুখেই তার পরিচয় জেনেছি।

    ফায়জুর রহমান বেশ কিছুক্ষণ গম্ভীর মুখে চুপ করে থেকে রাগ সামলালেন। তারপর বললেন, জান হেমা, যে বিষের জ্বালায় আমি নিজের জন্মভূমি গ্রামকে ছেড়ে এসেছি, আমার বাবাকে ছেড়েছি, সেই বিষ সৈকত পান করতে যাচ্ছে। না-না, তা কখনো আমি হতে দেব না। সৈকতকে আমি ঐ বিষ পান করতে কিছুতেই দেব না। তুমি আসিয়াকে কিছু বলেছ না কী?

    : না বলিনি। রেগে গেলেও নাস্তা খাইয়ে বিদায় করেছি।

    : খুব ভালো করেছ। আচ্ছা, আসিয়া কি আমাদের পরিচয় বুঝতে পেরেছ?

    : তা আমি কী করে বলব? তবে আমার মনে হয়, পারেনি।

    : সৈকত কোথায়? ও আসিয়াকে পৌঁছে দিতে গেছে।

    : ফিরে এলে তাকে ঐ পথ থেকে সরে আসতে বলবে। যদি রাজি না হয়, তাহলে আমাকে জানাবে। বলার আমি বলব।

    : ঠিক আছে, তুমি চিন্তা কর না। আমি তোমার কথা বলে বুঝিয়ে বললে, সৈকত নিশ্চয় নিজের ভুল বুঝতে পারবে।

    : কিন্তু ও তো আবার খুব নীতিবাগীশ। বলে দেখ, কী বলে। তাকে একটা কথা জানিয়ে দিও, আমি বেঁচে থাকতে আসিয়াকে গ্রহণ করব না।

    সৈকত ফেরার পর হেমা ছেলের রুমে এলেন।

    সৈকত বুঝতে পারল, মা নিশ্চয় আসিয়ার কথা বলতে এসেছে। তাই নিজেই আগে বেড়ে বলল, আমি তোমার কাছে একটা কথা জানার জন্য যাব ভাবছিলাম।

    : কী জানতে চাস?

    : বাবার সম্পূর্ণ পরিচয় জানতে চাই।

    : কেন?

    : কেন আবার, বাবার পরিচয় জানা কি ছেলের উচিত নয়?

    হেমা চিন্তা করলেন, বলাই উচিত। সবকিছু জানার পর আসিয়াকে ঘৃণা করে তার কাছ থেকে নিজেই সরে আসবে। আমাকে আর কিছু বলতে হবে না। হেমা স্বামীর পুরো হিস্ট্রি বলে ছেলের মনোভাব বোঝার জন্য তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

    সৈকত এতক্ষণ মায়ের মুখের দিকে চেয়ে শুনছিল। তার বলা শেষ হতে মাথা নিচু করে ভাবতে লাগল, আল্লাহ পাকের কী কুদরত, বাবা যাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, আল্লাহ পাক সেই সম্পর্ক আবার জুড়ে দেবার জন্য আমার ও আসিয়ার মধ্যে প্রেমের বীজ বুনে দিয়েছেন। তার মন আনন্দে ভরে উঠল। মনে মনে আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করল।

    হেমা ছেলের মুখে ঘৃণা বা রাগের চিহ্নের বদলে আনন্দের ছাপ দেখে রাগের সঙ্গে বললেন, এরপর আসিয়ার সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখবি না।

    সৈকত বেশ অবাক হয়ে বলল, কেন? আসিয়ার পরিচয় জেনে তো আমাদের সবাইয়ের খুশি হবার কথা? এতদিন পরে দাদা, দাদি ও ফুপিকে আমি পাব। আমার যে কী আনন্দ হচ্ছে মা, তা তোমাকে বোঝাতে পারছি না। তুমি খুশি হওনি?

    হেমা রাগের সঙ্গেই বললেন, না। আসিয়ার পরিচয় তোর বাবাকে বলেছি। শুনে খুব রেগে গেছে, সেও আসিয়ার সাথে সম্পর্ক রাখতে তোকে নিষেধ করেছে।

    : এ তুমি কী বলছ মা?

    : হ্যাঁ, যা বললাম, তা সত্য। আমিও তোর বাবার সঙ্গে একমত। তুই যদি আমাদের নিষেধ না শুনিস, তা হলে তোকে আমরা ক্ষমা করব না।

    : কিন্তু মা, এখানে আসিয়ার অপরাধ কোথায়? সে তো এইসব জেনে আমাকে ভালোবাসেনি। যে কালো বলে প্রথম দিকে আমার সঙ্গে মিশতে চায়নি। আমি তাকে ভালোবেসে কাছে টেনেছি। সব থকে বড় কথা, পূর্ব পুরুষদের জন্য সে কেন অপরাধী হবে?

    : দেখ, তুই বড় বেশি কথা বলছিস। আমি ও তোর বাবা চাই না, আসিয়া এ বাড়ির বউ হয়ে আসুক। ঐ কালো মেয়েকে নিয়ে আমরা সমাজে মুখ দেখাব কী করে? আর তুইও কী পারবি, বউকে নিয়ে সমাজে মিশতে? আমি তোর মা হয়ে বলছি, তুই আসিয়াকে ভুলে যা। ওর সাথে আর মেলামেশা করবি না। কথা শেষ করে তিনি সেখান থেকে চলে গেলেন।

    সে রাতে সৈকত অনেক রাত পর্যন্ত ঘুমাতে পারল না। তার কী করা উচিত চিন্তা করতে লাগল। শেষে ভেবে ঠিক করল, কাল আসিয়াকে বাবার পরিচয় দিয়ে দেখব, সে কী বলে। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

    পরের দিন কলেজ ছুটি হবার পর সৈকত আসিয়ার সঙ্গে দেখা করে বাবার পরিচয় বলে অপেক্ষা করতে লাগল কী বলে শোনার জন্য।

    আসিয়া শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, প্রথম যেদিন তুমি তোমার পরিচয় কিছুটা বলেছিল, তখন আমার এই রকম সন্দেহ হয়েছিল। কারণ, তোমার বাবার, মানে আমার মামার কথা মায়ের কাছে অনেক আগে কিছু কিছু শুনেছিলাম, এবারে গ্রামে যাবার পর নানা যখন বললেন, আমর পাত্র দেখেছেন এবং তারা আমাকে দেখার পর বিয়ের দিন ঠিক হবে তখন আমি নানাকে তোমার কথা বললাম। নানা তোমাকে নিয়ে যেতে বললেন। তারপর কেন কী জানি, নিজের থেকে মামার সব কথা বললেন। মামা যে ব্যবসা করে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি করেছেন তাও বললেন। সেই থেকে তোমার বাবার সম্পূর্ণ পরিচয় জানার জন্য আমার মন ব্যাকুল হয়ে উঠল। তাই সিওর হবার জন্য ঢাকায় ফিরে তোমাকে তোমার বাবার নাম জিজ্ঞেস করি এবং তোমার বাবার। সম্পূর্ণ পরিচয় আমাকে জানাতে বলি। তারপর হাসতে হাসতে বলল, এখন। নিশ্চয় বুঝতে পারছ, আমি তোমার ফুপাত বোন আর তুমি আমার মামাত ভাই?

    এইসব জেনে আমি কিন্তু খুব খুশি হয়েছি। তুমি হওনি?

    সৈকত কিছু না বলে চুপ করে তার মুখের দিকে চেয়ে মায়ের কথা চিন্তা করতে লাগল।

    আসিয়া তার চিন্তিত মুখের দিকে চেয়ে বলল, পরিচয় পাবার পর আমার প্রতি তোমার ঘৃণা হচ্ছে না কি?

    : এ কথা তুমি বলতে পারলে? আগেই তো বলেছি, কোনো কিছুর বিনিময়েও তোমাকে হারাতে পারব না। আমার পরিচয় পেয়ে তুমি কতটা খুশি হয়েছ জানি না, আমি কিন্তু তোমার থেকে অনেক বেশি খুশি হয়েছি।

    : তা হলে মুখ গোমড়া করে রয়েছ কেন?

    সৈকত ভেবে এসেছে, মা-বাবার কথা এখন আসিয়াকে জানাবে না। তার আগে যেমন করে হোক দাদা-দাদির উপর মা-বাবার রাগ ঠাণ্ডা করাবে। তারপর আসিয়াকে বিয়ে করে সবকিছু জানাবে। তাই আসিয়ার কথা শুনে হেসে উঠে বলল, কোথায় মুখ গোমড়া করে আছি? চল, আজ এই খুশির কারণে তোমাকে চাইনিজ খাওয়াব।

    আসিয়াও হেসে উঠে বলল, এখন চাইনিজ খাবার সময় বুঝি? তাছাড়া আমি চাইনিজ খেতে একদম পছন্দ করি না। তার চেয়ে চল, কোনো হোটেলে গিয়ে কাবাব পরোটা খাওয়া যাক।

    তাই চল, বলে সৈকত তাকে নিয়ে গাড়িতে উঠল। তোপখানা রোডে কাফে ঝিলের সামনে গাড়ি পার্ক করে বলল, এই হোটেলের কাবাব পরোটা খুব ভালো।

    খেতে খেতে আসিয়া জিজ্ঞেস করল, মামিমা তোমাকে কিছু বলেনি?

    মিথ্যা করে কিছু বলতে সৈকতের বিবেকে বাধল। তাই যা গোপন রাখতে চেয়েছিল, তা পারল না। মা যেসব কথা বলেছে, বলল। বাবার রেগে যাবার কথাও বলল।

    আসিয়া বলল, ওঁরা যে এরকম বলবেন, তা আমি জানতাম। এখন কী করবে বল।

    : কী আবার করব? আমার কথার কোনো নড়চড় হবে না।

    : একটা কথা বলব রাখবে?

    : আগে বল, না শুনে ওয়াদা করতে পারব না।

    : তুমি আমাকে ভুলে যাও।

    সৈকত তার দিকে কয়েক সেকেন্ড চেয়ে থেকে ভিজে গলায় বলল, এরকম কথা তোমার মুখ থেকে শুনব আশা করিনি। আমি যদি কথাটা তোমাকে বলি, পারবে?

    : আমি মেয়ে। মেয়েরা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে সব কিছু সহ্য করতে পারে।

    : মেয়েরা পারলেও আমি পারব না। আবার যদি ঐ কথা বল, তা হলে অতি সতুর আমার মৃত্যুর খবর পাবে।

    আসিয়া চমকে উঠে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলল, এ রকম কথা বলতে তোমার বিবেকে বাধল না? আমাকে কাঁদিয়ে খুব শান্তি পাও বুঝি? কথা শেষ করে চোখের পানি মুছতে লাগল।

    সৈকত বলল, তা হলে তুমি ভুলে যাবার কথা বললে কেন? ওয়াদা কর, আর কখনও বলবে না?

    : ঠিক আছে, আর বলব না। তুমিও ওয়াদা কর, ওরকম কথা আর বলবে?

    সৈকত আসিয়ার কথাটা রিপিট করল।

    ততক্ষণে তাদের নাস্তা খাওয়া শেষ হয়েছে। দু’জনে বেসিন থেকে হাত-মুখ ধুয়ে এসে সৈকত দু’কাপ কফির অর্ডার দিল।

    কফিতে চুমুক দিয়ে আসিয়া বলল, আমার কথা মন দিয়ে শোন। তারপর তোমার কিছু বলার থাকলে বলবে।

    : বেশ বল।

    : তোমার ফাইনাল পরীক্ষা পর্যন্ত এ ব্যাপার নিয়ে মামা-মামির সাথে আর কোনো কথা বল না। ওঁনারা কিছু বললে বলবে, “পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত আছ, ওসব চিন্তা বাদ দিয়ে দিয়েছ।” পাস করার পর এক বছর ইন্টারনিশিপ কোর্সটাও শেষ করবে। ততদিন আমার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবে। তারপর যা করার তুমি করবে।

    সৈকত হর্ষোফুল্ল কণ্ঠে বলল, দারুণ কথা বলেছ! কথাটা আমার মাথায় আসেনি। সত্যি তোমার বুদ্ধির তারিফ করতে হয়।

    : পাম্পটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না?

    সৈকত হাসতে হাসতে বলল, তুমি তো কোনো দিন আমাকে পাম্প দাওনি। তাই সেটাও তোমাকে দিয়ে দিলাম।

    আসিয়াও হাসতে হাসতে বলল, তাই?

    সৈকত বলল, হ্যাঁ তাই।

    এরপর থেকে তারা পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত রইল। আসিয়ার কথামত মাসে দু’দিন তারা দেখা-সাক্ষাৎ করে।

    এইভাবে চার-পাঁচ মাস পর আসিয়া নানাকে চিঠি দিয়ে সৈকতের ও তার বাবার সম্পূর্ণ পরিচয় জানাল। আরও জানাল, সামনের মাসে সাতদিনের ছুটিতে সৈকতকে নিয়ে আসছে।

    হাফিজুর রহমান চিঠি পেয়ে আনন্দে চোখে পানি ধরে রাখতে পারলেন না। ছেলের উপর রাগ ও অভিমান করে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও লোকের দ্বারা তার খোঁজ খবর রেখেছেন। ছেলে সুখে আছে জেনে হাফিজুর রহমান দুশ্চিন্তা না করলেও অশান্তির আগুনে জ্বলছিলেন। এতদিনের সেই অশান্তির আগুন চোখের পানিতে নিভাবার চেষ্টা করতে লাগলেন।

    রাবু সংসারের কাজ করতে করতে আব্বাকে চিঠি হাতে চোখের পানি ফেলতে দেখে তার বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। ভাবল, আসিয়ার কোনো খারাপ খবর আসেনি তো? তাড়াতাড়ি হাতের কাজ ফেলে তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, তুমি কাঁদছ কেন আব্বা? ওটা কার চিঠি?

    হাফিজুর রহমান চিঠিটা বাড়িয়ে ধরে বললেন, পড়ে দেখ।

    চিঠি পড়ে রাবুর চোখ দিয়েও পানি পড়তে লাগল। চোখ মুছে ভিজে গলায় আল্লাহপাকের শুকরিয়া আদায় করে বলল, এবার ভাইয়া আর রাগ করে থাকতে পারবে না, নিশ্চয় আসবে।

    হাফিজুর রহমানও ভিজে গলায় বললেন, দোয়া করি, আল্লাহপাক যেন তার আশা পূরণ করেন।

    এক সপ্তাহের ছুটিতে সৈকত মা-বাবাকে বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যাবার কথা বলে আসিয়ার সঙ্গে দীঘারপাড়া রওয়ানা দিল।

    বাসে করে আসবার সময় আসিয়া সৈকতকে বলল, আমাদের গ্রামের পাশের গ্রাম জহুরপুরে পল্লি বিদ্যুৎ গেলেও দীঘারপাড়াতে এখনও আসেনি। গরমে তুমি খুব কষ্ট পাবে।

    সৈকত বলল, মানুষ অভ্যাসের দাস। যা অভ্যাস করবে, তা সয়ে যাবে। তা ছাড়া তুমি সঙ্গে থাকলে সব কষ্ট সহ্য করতে পারব।

    বাড়িতে পৌঁছাবার পর হাফিজুর রহমান সৈকতকে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বললেন, আসিয়া চিঠিতে তোমার পরিচয় জানিয়েছে। চিঠি পাবার পর থেকে তোমাকে দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে ছিলাম। আল্লাহপাকের দরবারে লাখ লাখ শুকরিয়া, তিনি আমার সেই আশা পূরণ করলেন।

    সৈকত দাদাকে কদমবুছি করে দাদি, ফুপা ও ফুপিকে কদমবুছি করল। সবাই তাকে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে অনেক দোয়া করল। অনেকদিন পর এ বাড়িতে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু হলো।

    রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর হাফিজুর রহমান নাতিকে নিয়ে গল্প করতে বসলেন। একে একে অন্যরাও এসে বসলেন। হাফিজুর রহমান সৈকতকে তার বাবা-মার কথা, শিক্ষা জীবনের কথা জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন। সাজেদা বেগম ও রাবু মাঝে মাঝে এটা সেটা জিজ্ঞেস করলেন। সৈকত হাসিমুখে সকলের কথার উত্তর দিতে লাগল। কিন্তু মা-বাবার রাগের কথা বলল না।

    পরের দিন সকালে সৈকত দাদাকে সঙ্গে নিয়ে গ্রাম দেখতে বেরোবার সময় আসিয়াকেও সঙ্গে যেতে বলল।

    আসিয়া বলল, এটা ঢাকা শহর নয়, গ্রাম। যেখানকার সমাজ ব্যবস্থা যেমন, তা মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

    সৈকত বলল, সমাজের কুসংস্কার দূর করাও শিক্ষিত ছেলে-মেয়ের কাজ। তুমি পর্দার সঙ্গে যাবে, তাতে সমাজ বাধা দেবে কেন? তাছাড়া তুমি তো পর্দার সঙ্গে হাইস্কুলে গেছ। তখন সমাজ কিছু বলেনি?

    আসিয়া বলল, সবাই না বললেও অনেকে বলেছে। আমি সেসব গ্রাহ্য করিনি। প্রয়োজনে মেয়েদেরকে পর্দার সঙ্গে বাইরে যেতে ইসলামে নিষেধ নেই। আমি এই গ্রামের মেয়ে। আশপাশের সবকিছু আমার দেখা। আল্লাহপাক যদি সে দিন দেন, তা হলে তোমার সঙ্গে আবার গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে বেড়াব।

    হাফিজুর রহমান এতক্ষণ তাদের কথা শুনছিলেন। আসিয়া থেমে যেতে বললেন, তোমাদের দু’জনেরই কথা ঠিক। আসিয়ার এখন গিয়ে কাজ নেই। চল আমি তোমাকে গ্রাম দেখিয়ে আনি। এই কথা বলে তিনি সৈকতের কাঁধে একটা হাত রাখলেন।

    হাঁটতে হাঁটতে যার সঙ্গে দেখা হচ্ছে, হাফিজুর রহমান তাকেই নাতির পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলেন।

    এভাবে কেমন করে যে এক সপ্তাহ কেটে গেল, সৈকত টের পেল না। দাদা-দাদির আদর স্নেহ, ফুপা-ফুপির স্নেহ মমতা ও খাতির যত্ন দেখে তার স্বপ্নের মতো দিনগুলো চলে গেল।

    আজ সৈকত ও আসিয়া ঢাকায় ফিরবে। সকাল আটটায় বাস। তাও যশোহরে। দীঘারপাড়া থেকে প্রায় চার পাঁচ মাইল হেঁটে অথবা গরুর গাড়ি করে খাজুরা বাসস্ট্যাণ্ডে আসতে হবে। তারপর লোকাল বাসে করে যশোহরে এসে ঢাকার বাসে উঠতে হবে। তাই গতরাতে বাড়ির মেয়েরা কেউ ঘুমায়নি। তারা সারারাত জেগে কয়েক পদের পিঠা ও ক্ষীর তৈরি করেছে। ফজরের নামাযের পর সেই সব নাস্তা সৈকতকে খেতে হলো।

    হাফিজুর রহমান গতকাল একটা গরুর গাড়ি ভাড়া করে রেখেছিলেন। সেই গাড়িতে সৈকত ও আসিয়াকে তুলে দিয়ে তিনি চোখ মুছতে মুছতে জামাইকে তাদের সাথে যশোহর পর্যন্ত গিয়ে ঢাকার বাসে তুলে দিয়ে আসতে বললেন।

    সৈকত ও আসিয়া দু’জনেই আপত্তি করল। কিন্তু হাফিজুর রহমান শুনলেন না।

    বিদায় মুহূর্তে সবাইয়ের চোখে পানি দেখে সৈকত নিজেকে সামলাতে পারল না। বারবার রুমালে চোখ মুছতে লাগল। ঢাকার বাসে উঠে সৈকত আসিয়াকে বলল, গ্রামের আত্মীয়-স্বজনের কাছে যে এত স্নেহ, মায়া, মমতা পাব, তা কল্পনা করি নাই। আর গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক নিচে হলেও তারা কত সহজ সরল, সেকথা ভাবলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। এখন মনে হচ্ছে, গ্রামের জীবন কত সুখের, কত শান্তির।

    আসিয়া দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বলল, দুঃখের বিষয় কি জান? গ্রামের ছেলেরা শিক্ষিত হয়ে উপার্জনের জন্য শহরে গিয়ে গ্রামকে ভুলে যায়। বলে, গ্রামে কি মানুষ বাস করে? যাক ওসব কথা বলে কোনো লাভ নেই।

    ঢাকায় ফিরে মেলামেশা কমিয়ে দিয়ে দু’জনেই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত রইল। সৈকতই মাঝে মাঝে এসে আসিয়াকে নিয়ে কোনোদিন পার্কে, আবার কোনো দিন রেস্টুরেন্টে আলাপ করে। এভাবে সৈকত ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ইন্টারনিশিপ কোর্স শেষ করল।

    ততদিনে আসিয়াও ফাইনাল পরীক্ষায় স্কলারশিপ নিয়ে পাস করল।

    প্রিন্সিপাল আসিয়াকে ডেকে গাইনিতে উচ্চ শিক্ষা নেবার কথা বলে বললেন, তুমি ইন্টারনিশিপ কোর্স শেষ কর। আমি তোমাকে বিদেশে পাঠাবার ব্যবস্থা করে দেব।

    আসিয়া প্রিন্সিপালকে কদমবুছি করে বলল, এ তো আমার সৌভাগ্য স্যার। আমার গার্জেনদের অনুমতি নিয়ে আপনাকে জানাব।

    প্রিন্সিপাল বললেন, তুমি তোমার গার্জেনদের কাউকে আমার সঙ্গে দেখা করতে বল।

    জ্বি স্যার বলব বলে সালাম দিয়ে আসিয়া হোস্টেলে চলে এল। তারপর রেজাল্টের কথা ও প্রিন্সিপালের কথা লিখে নানাকে চিঠি দিল। তাতে আরও লিখল, সে এখন দেশে যেতে পারবে না। নানা যেন তাড়াতাড়ি ঢাকায় এসে প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করেন।

    নাতনির চিঠি পেয়ে হাফিজুর রহমানের বুক আনন্দে ভরে গেল। হাঁকডাক করে বাড়ির সবাইকে ডেকে চিঠি পড়ে শুনালেন। তারপর দশ কেজি মিষ্টি কিনে পাড়ার লোকজনদের নাতনির খবর জানিয়ে বিলি করলেন। একদিন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের ও গ্রামের গরিব-বড়লোক সবাইকে দাওয়াত দিয়ে খানা করে খাওয়ালেন। তারপর ঢাকায় যাবার প্রস্তুতি নিলেন।

    সাজেদা বেগম ও রাবু যুক্তি করে ঢাকায় যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। তারপর সাজেদা বেগম স্বামীকে বললেন, হায়াৎ-মউতের কথা তো বলা যায় না। ফায়জুরকে দেখার জন্য আমার মন খুব অস্থির হয়ে পড়েছে। আমাকেও সঙ্গে নিয়ে চলুন।

    হাফিজুর রহমান স্ত্রীর মনের ব্যথা জানেন। বললেন, ঠিক আছে, তাই যাবে।

    রাবু মাকে প্রথমে পাঠিয়ে আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিল। আব্বার কথা শুনে সামনে এসে বলল, আমিও যাব। ভাইয়াকে আজ কত বছর দেখিনি। তাকে দেখার জন্য মন খুব ছটফট করছে।

    হাফিজুর রহমান না করতে পারলেন না। তবু বললেন, সবাই চলে গেলে বাড়িতে থাকবে কে? তুই পরে যাস।

    রাবু বলল, আপনাদের জামাই থাকবে। কাজের দু’জন লোকও রয়েছে। আমি আপনাদের সাথেই যাব।

    হাফিজুর রহমান বললেন, ঠিক আছে, তুইও যাবি।

    তারপর একদিন জমাইকে সবকিছু বুঝিয়ে বলে হাফিজুর রহমান স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঢাকা রওয়ানা দিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএকদিন অপরাহ্নে – কাসেম বিন আবুবাকার
    Next Article কি পেলাম – কাসেম বিন আবুবাকার

    Related Articles

    কাসেম বিন আবুবাকার

    ক্রন্দসী প্রিয়া – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    জানি তুমি আসবে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কি পেলাম – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    একদিন অপরাহ্নে – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    কে ডাকে তোমায় – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    কাসেম বিন আবুবাকার

    ক্ষমা – কাসেম বিন আবুবাকার

    July 31, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }