Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জয় পরাজয় – পাঁচকড়ি দে

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প129 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জয় পরাজয় – ৫

    পঞ্চম পরিচ্ছেদ

    বলা বাহুল্য, তখনই নাচ-গাওনা আমোদ-প্রমোদ ভাঙিয়া গেল। ডাকাত যে সেই গৃহে উপস্থিত ছিল, তাহা রণেন্দ্রপ্রসাদের কথায় আর কাহারও অবিশ্বাস রহিল না। তখন সেই গৃহে অচেনা কোন লোক আছে কি না, আমরা সকলে তাহাই অনুসন্ধান করিতে লাগিলাম।

    কিন্তু গৃহমধ্যে কোন অচেনা লোককে দেখিতে পাইলাম না; তখন আমরা অনেকে আলো ধরিয়া বাড়ীর বাহির হইলাম; কিন্তু কোথাও কাহাকেও দেখিতে পাইলাম না। সন্দেহজনক কোন লোক চোখে পড়িল না। মনিয়া যাইতে যাইতে আমাকে বলিল, “পথে নাই ত—আমাদের ধরিবে না ত!” আমি বলিলাম, “কোন ভয় নাই, আপনাদের সঙ্গে অনেক লোক যাইতেছে—সে ডাকাত এত সাহস করিবে না।”

    সকলে চলিয়া গেলে আমার আত্মীয় আমাকে ডাকিলেন। তিনি জানিতেন, আমি ফতে আলি ডিটেক্‌টিভের সহিত মিলিয়া ডাকাতের সন্ধান করিতেছি।

    তিনি বলিলেন, “অমর, তুমি কি মনে কর এই ডাকাত ঘোড়ায় চড়িয়া আমাদের বাড়ীতে আসিয়াছিল।”

    “না, তাহা হইলে কেহ-না-কেহ ঘোড়ার পায়ের শব্দ শুনিতে পাইত।”

    “আশ্চর্য্য! কেমন করিয়া আসিল—কোথায় গেল? রণেন্দ্রের কখনই ভুল হয় নাই। সে চাকরদের মধ্যে লুকায় নাই ত?”

    “না, সে এতক্ষণ এখান থেকে নিশ্চয়ই পলাইয়াছে, তবে ফতে আলি ডিটেক্‌টিভ আসিয়াছেন, তিনি চাকরদের লইয়া নাড়াচাড়া করিতেছেন।”

    “এরূপ কাণ্ড হইতে আরম্ভ হইলে আর ত এ দেশে থাকা যায় না। শেষে সে সহরের মধ্যেও আসিতে লাগিল; ভদ্রলোকের বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করিতে লাগিল। এ-ডাকাত ধরা না পড়িলে এ- দেশে আর কাহারও ধন, মান, প্রাণ রক্ষা পাইবে না।”

    “নিশ্চয়ই একদিন-না-একদিন ধরা পড়িবে।”

    “তুমি ইহার কতদূর কি জানিলে?”

    “এখন পৰ্য্যন্ত কিছুই জানিতে পারি নাই।”

    “ডিটেক্‌টিভ?”

    “যতদূর বুঝিতেছি, তিনিও কিছুই জানিতে পারেন নাই।”

    “তবে উপায়? বাড়ীর ভিতরে কোনখানে লুকাইয়া নাই ত?”

    “বাড়ী খুব ভাল করিয়া দেখা হইয়াছে, সে অনেকক্ষণ পলাইয়াছে।”

    “অথচ আমরা কেহ কিছু জানিতে পারিলাম না।”

    “এই ডাকাত যে-ই হউক, এ যে খুব চালাক লোক, তাহাতে সন্দেহ নাই।”

    “আজ রাত্রে আর ঘুম হইবে না,” বলিয়া আমার আত্মীয় নীলরতন বাবু শয়ন করিতে গেলেন। তাঁহার সে রাত্রে ঘুম হইল কি না বলিতে পারি না; কিন্তু আমার হইল না। এই ডাকাত আমার মস্তিষ্কের ভিতর প্রবেশ করিয়া ঘোর বিপ্লব উপস্থিত করাইয়াছিল। সমস্ত রাত্রের মধ্যে আমি ঘুমাইতে পারিলাম না—এই ডাকাত সম্বন্ধে ভাবিতে লাগিলাম। কত কি ভাবিলাম, সব মনে নাই; তবে ইহা স্থির করিলাম যে, যেমন করিয়া হউক, এই ডাকাতকে ধরিবই ধরিব।

    আরও স্থির করিলাম যে, এ বাড়ীতে থাকিলে আমি তাহার কোন সন্ধানই করিতে পারিব না। মুর্শিদাবাদ সহরের প্রান্তভাগে একটা হোটেল ছিল, আমি সেই হোটেলে বাসা লওয়া স্থির করিলাম। হোটেলে অনেক বিদেশী লোক আসিয়া বাস করে; তাহাদের নিকটে এই ডাকাত সম্বন্ধে কোন সংবাদ পাইলেও পাইতে পারি।

    তাহার পর নীলরতন বাবুকে আমার ইচ্ছা জ্ঞাপন করিয়া আমি হোটেলে আসিয়া বাসা লইলাম। চাকরীর চেষ্টায় সহরে আসিয়াছি, হোটেলওয়ালাকে তাহাই বলিলাম; সে তাহাই বিশ্বাস করিল। আমি তথায় বাস করিতে লাগিলাম।

    হোটেলওয়ালা ব্রাহ্মণ ও তাহার দাসী ব্যতীত আর কেহ হোটেলে ছিল না; তবে চালে একখানা খাঁচা ঝুলিতেছিল; দেখিলাম তাহার ভিতরে একটা ময়না—ময়নাটা বেশ পড়ে। আমি যখন উপস্থিত হইলাম, তখন হোটেলে আর কেহই ছিল না। খরিদ্দারের মধ্যে আমিই একা। পরদিন সকালে দুই- একজন লোক আসিল; তাহারা আবার সন্ধ্যার সময়ে চলিয়া গেল; আমি আবার একা হইলাম।

    হোটেলওয়ালাকে আমি কোন কথাই জিজ্ঞাসা করিলাম না। ভাবিলাম, জিজ্ঞাসা করিলে হয় ত তাহার সন্দেহ হইবে; একবার সন্দেহ হইলে আর এখানে থাকা অসম্ভব হইয়া উঠিবে।

    পর দিবস সন্ধ্যার সময়ে আমি হোটেল হইতে বাহির হইয়া, মাঠের উপর দিয়া উত্তর দিকে চলিলাম। কিয়দ্দূর আসিয়া দেখিতে পাইলাম, এক দল বেদে মাঠের মধ্যে ডেরা ফেলিয়াছে। বেদেরা প্রায়ই চোর-ডাকাত হয়, এইজন্য ভাবিলাম, হয় ত ইহারাই এই ডাকাতির মূল। যদি কিছু জানিতে পারি, ভাবিয়া আমি বেদেদের আড্ডার দিকে চলিলাম।

    মাঠের মধ্যে একটী পুষ্করিণীর তীরে ইহারা কাপড় ও চটের ছোট ছোট তাম্বু ফেলিয়াছে; তাহার ভিতরে ছেলেমেয়ে লইয়া বাস করিতেছে। সঙ্গে গাধা, ভেড়া, কুকুর, ছোট-বড় ঘোড়াও দুই-একটা আছে। শিশুরা মাটীতে গড়াগড়ি দিয়া, ধূলা মাখিয়া খেলা করিতেছে। স্ত্রীলোকেরা রন্ধনাদি কাৰ্য্যে নিযুক্ত, পুরুষেরা ঝুড়ি প্রভৃতি বুনিতেছে। অনেকে সহরে নানাবিধ দ্রব্য বেচিতে ও ভিক্ষা করিতে গিয়াছে। সুবিধা পাইলে ইহারা চুরি করিতেও ছাড়ে না।

    ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

    আমি দেখিলাম, একজন বেদে সহর হইতে সেইদিকে আসিতেছে। আমি তাহার প্রতীক্ষায় দাঁড়াইলাম। সে নিকটে আসিয়া আমাকে সেলাম করিল। আমি তাহার ভাবভঙ্গী বেশভূষা দেখিয়াই স্পষ্টই বুঝিলাম যে, এই লোকটাই বেদেদের দলপতি। আমি আলাপ করিবার জন্য বলিলাম, “তোমাদের ডেরা দেখিতে যাইতেছি।”

    লোকটা মৃদু হাসিল। হাসিয়া বলিল, “আসুন, কি আর দেখিবেন, কেবল দুঃখ কষ্ট। দেশে দেশে ঘুরে—এক রকম দুঃখের ধান্দায় ঘুরে বেদেদের চ’লে যায়। তাদের কে দেখে?’

    আমি বলিলাম, “কেন, তোমরা ত খুব সুখে আছ। খোলা জায়গায় থাক—নানা দেশ দেখ— ভাল খাওয়া খাও।”

    সে আবার হাসিল। হাসিয়া বলিল, “বাবু আমরা বড় দুঃখী—আসুন দেখিবেন। ওষুধ চান, আমাদের অনেকে ভাল ভাল ওষুধ জানে।”

    “তোমরা এখানে কোথা হইতে আসিতেছ?”

    “আমাদের কিছুই ঠিকানা নাই—আজ এখানে, কাল সেখানে। বোধ হয়, দু-একদিনের মধ্যেই এখান থেকে চ’লে যাব।”

    “এবার কোথায় যাইবে?”

    “কিছুই ঠিক নাই, যেখানে ঐ উপরওয়ালা নিয়ে যায়।”

    আমি বুঝিলাম, লোকটা কোথা হইতে আসিয়াছে, কোথায় যাইবে, কিছুই স্বীকার করিতে চাহে না। সুতরাং সে কথা ছাড়িয়া দিয়া বলিলাম, “তোমাদের দলে কতজন লোক আছে?”

    “বেশি নয় বাবু, বিশ-পঁচিশ জন হবে।”

    “তোমাদের চলে কিসে?”

    “এই ঝুড়ি, কাঁচি, ছুরি, খেলনা বেচে—ওষুধ দিয়েও কিছু পাই।”

    এই সময়ে আমরা দুইজনে তাহার ডেরায় আসিয়া উপস্থিত হইলাম। আমাকে দেখিয়া অনেক স্ত্রীপুরুষ, বালকবালিকা আমাকে চারিদিক্ হইতে ঘেরিয়া ফেলিল। অনেকে অনেক জিনিষ বেচিতে চাহিল, কেহ কেহ ঔষধের কথাও বলিল। আমি বলিলাম, “আমি কেবল বেড়াইতে আসিয়াছি, এখন কিছু কিনিব না।“

    এই কথা শুনিয়া অনেকে হতাশ হইয়া চলিয়া গেল। যাহার সঙ্গে আসিয়াছিলাম, সে আমাকে একপার্শ্বে আনিয়া বসাইল। কলিকায় তামাক সাজিয়া আমাকে ধূমপান করিতে দিল, আমি তামাক খাইতে খাইতে জিজ্ঞাসা করিলাম, “তোমার নাম কি?”

    সে বলিল, “লোচন। লোচন বলিয়া সকলে আমায় ডাকে, বেদের নাম আবার কি—আমরা বড় দুঃখী।”

    “তুমিই বোধ হয়, এ দলের সর্দ্দার?”

    “বাবু, সর্দ্দার আর কি, তবে এরা আমাকে মানে, যা বলি তা করে।”

    এমন সময়ে তথায় একটা বালিকা আসিল। তাহাকে ঠিক বালিকা বলা যায় না, বোধ হয়, তাহার বয়স পনের বৎসরের কম নহে। তাহার আকার প্রকার চেহারাও ঠিক বেদের মত নহে। রং বেশ গৌর—বড় সুন্দরী সে। তাহার পরিধানে মলিন বস্ত্ৰ—তথাপি তাহাকে বড় সুন্দর দেখাইতেছে। তাহার বিশাল চক্ষু দুইটি যেন তারার মত জ্বলিতেছে—সেই চোখ দুটীর জন্যই তাহার মুখখানি এত সুন্দর। তাহাকে এই বেদের দলের মধ্যে দেখিয়া সদারকে বলিলাম, “এটা কে?”

    লোচন উত্তর দিবার পূর্ব্বেই বালিকা বলিল, “আমার নাম কুঞ্জ—আমি বেদিনী।”

    লোচন ভ্রুকুটি করিল—বিরক্ত হইল। বিরক্তভাবে তাহার দিকে চাহিল। তাহাতে কুঞ্জ যেন নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বে সে স্থান পরিত্যাগ করিয়া গেল। তখন লোচন আমার দিকে ফিরিয়া বলিল, “বুঝিয়াছি, বাবু একে দেখে আশ্চর্য্য হয়েছেন—হবারই যে কথা, ও ঠিক আমাদের মত নয়। ওর মাকে পশ্চিমের এক বড় লালা বিয়ে করেছিল; তার পর বাপ মা দুজনেই ম’রে গেলে আমরাই ওকে এনে মানুষ করছি।”

    আমি উঠিলাম। যাইতে যাইতে কথায় কথায় বলিলাম, “লোচন, তোমরা ত অনেক জায়গায় যাও, এই ডাকাতের বিষয় কিছু শুনিয়াছ?”

    সে বলিল, “না মশাই, আমরা কাহারও কোন কথায় থাকি না।”

    কুঞ্জ আমাদের পশ্চাতে আসিতেছিল, তাহা আমি বা লোচন, কেহই দেখি নাই, সে বলিয়া উঠিল, “আমি—কেন সেই কাঁইয়া—”

    লোচন বিরক্তভাবে তাহার দিকে চাহিয়া তাহাকে ধমক্ দিল। তাহার পর বলিল, আমরা দুঃখী মানুষ, আমরা কাঁইয়ার কি ধার ধারি? (কুঞ্জের প্রতি) তুই আমাদের সঙ্গে আছিস্ কেন?”

    কুঞ্জ ফিরিয়া গেল। আমি লোচনের সহিত নানা কথা কহিতে কহিতে সহরের দিকে চলিলাম। কিয়দ্দূর আসিয়া সে-ও ফিরিয়া গেল।

    আমি আসিতে আসিতে ভাবিলাম, “বোধ হইতেছে, এই বালিকা ডাকাতির সম্বন্ধে কিছু জানে, নতুবা আমি ডাকাতের কথা জিজ্ঞাসা করায় সে কাঁইয়ার কথা বলিল কেন? কাঁইয়া—এ কে? কি জাত? কোথায় আসিয়াছিল, কেন আসিয়াছিল? আমি যে হোটেলে আছি, সেখানে ছিল না ত?” মনে মনে এইরূপ আন্দোলন করিতে করিতে আমি হোটেলে ফিরিলাম।

    সপ্তম পরিচ্ছেদ –

    আমি সে রাত্রি কেবল ডাকাতের কথা ভাবিতে লাগিলাম। এই লোচন সম্ভবতঃ কিছু জানে— তাহার ভাবে ইহাই বোধ হয়। কারণ সে ডাকাতির কথা শুনিবামাত্রই কথাটা উড়াইয়া দিল কেন? কেন এ সম্বন্ধে আদৌ আলোচনা করিতে চাহে না? কুঞ্জের কাথায় যেন লোচন ভীত হইল—কেন? সে কেন কুঞ্জকে কথা কহিতে না দিয়া তাড়াতাড়ি তাড়াইয়া দিল? যাহা হউক, এতদিন পরে কতকটা সন্ধানের সুবিধা হইল। লোচন আর কাঁইয়া, ইহাদের নিকটে কিছু জানিতে পারিবার সম্ভাবনা আছে—এই কুঞ্জকে গোপনে জিজ্ঞাসা করিতে হইবে, সে নিশ্চয়ই কিছু জানে। তবে খুব সাবধানে সন্ধান করিতে হইবে। যদি কোনরূপে ইহারা সন্ধান পায়, তাহা হইলে সমস্ত কাজ পণ্ড হইবে। এই হোটেলওয়ালার নিকটে সন্ধান লইতে হইবে। যদি কাঁইয়া তাহার হোটেলে না আসিয়াও থাকে, তাহা হইলে সে নিশ্চয়ই বেদেদের ডেরায় যাইবার সময়ে তাহার হোটেলের সম্মুখ দিয়া গিয়াছে, অন্য পথ আর নাই। যাহাই হউক, আমি হোটেলওয়ালাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিব, মনে মনে স্থির করিলাম। বেলা দ্বিপ্রহরের পর হোটেলওয়ালা নিশ্চিন্ত হইয়া তামাক খাইত—সেই-ই উপযুক্ত সময়।

    ঠিক সময়ে আমি তাহার পার্শ্বে গিয়া বসিলাম। নানা কথা কহিতে লাগিলাম, পরে সময় বুঝিয়া কাঁইয়ার কথা জিজ্ঞাসা করিব স্থির করিলাম; কিন্তু তাহার কথা পাড়িব মনে করিতেছি, এমন সময়ে লোচন সেইখানে উপস্থিত হইল—যেন আমাকে দেখিয়াই সে দাঁড়াইল। তৎপরে বলিল, “বাবু আজ রাত্রে ঠাণ্ডায় ঠাণ্ডায় আমরা রওনা হইব।”

    আমি বলিলাম, “আজ-ই যাবে, আমি সেদিন তোমাদের ওখানে গিয়ে বড় খুসী হয়েছিলাম; আর একদিন যাব মনে করিতেছিলাম।”

    লোচন বলিল, “অনেকদিন এখানে আছি।”

    হোটেলওয়ালা বলিল, “তোমরা গেলেই বাঁচি। যেখানে বেদেরা যায়, সেইখানেই চুরি ডাকাতি — লোকজন আর সে দেশে ভয়ে আসে না; আমার খদ্দের-পত্র সব মাটী হ’য়ে গেছে। আগে কত লোক আস্ত।”

    আমি সুবিধা বুঝিয়া বলিলাম, “চক্রবর্ত্তী মহাশয়, আপনার হোটেলে কাঁইয়া নামে একজন আসিয়াছিল?”

    চক্রবর্ত্তী উত্তর দিবার পূর্ব্বে লোচন হাসিয়া বলিল, “আপনার মাথার ভিতর কুঞ্জির কথা গিয়াছে দেখিতেছি, একজন কাঁইয়া জিনিষ বেচতে আমার ডেরায় গিয়েছিল।”

    চক্রবর্ত্তী রুষ্ট ও বিরক্ত হইয়া বলিল, “জানি—জানি—বেটা আমার এইখানেই বাসা নিয়েছিল— বলে দেশে দেশে ফিরি ক’রে বেড়াই; খেতো নিজে রেঁধে—যাবার সময় দুগণ্ডা পয়সা ঘর ভাড়া দিতে চায়—আমি তাকে দূর ক’রে দিয়েছি।”

    “তাই সে আমাদের ডেরায় গিয়েছিল।”

    “সে রকম লোক বেদের বন্ধু হবে না ত হবে কে?

    “বন্ধু! আমাদের ঠকিয়ে জিনিষ বেচবার চেষ্টা পেয়েছিল, তাই দেখে আমিও তাকে দূর ক’রে দিয়েছিলাম।”

    আমি নীরবে ছিলাম, ভাবিলাম, ইহারা উভয়ে ঝগড়া করিয়া ডাকাতি সম্বন্ধে কোন কথা বলিয়া ফেলিবে; কিন্তু সে কথা উভয়ের কেহই বলিতেছে না দেখিয়া, আমি চক্রবর্ত্তীকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “চক্রবর্ত্তী মহাশয়, এই যে এমন সব ভয়ানক ডাকাতি হইতেছে, ইহার বিষয় আপনি কি মনে করেন?”

    চক্রবর্ত্তী ক্রুদ্ধভাবে বলিলেন, “এই বেদে বেটাদেরই কাজ—বেটাদের সঙ্গে কাঁইয়ার এত ভাব দেখিতেছেন—এতেও কিছু বুঝছেন না?”

    লোচন কেবলমাত্র বলিল, “দুঃখী মানুষের মা বাপ নাই—তাদের দু’কথা বললেই হ’ল,” বলিয়া ধীরে ধীরে সে স্থান হইতে লোচন চলিয়া গেল।

    আমি তখন বলিলাম, “চক্রবর্ত্তী মহাশয়, আপনি কি বলিতেছিলেন, বুঝিতে পারিলাম না।” চক্রবর্ত্তী বিরক্তভাবে বলিল, “আপনার মত লোকের বোঝার সাধ্য নাই।”

    “তবু বলুন না, শুনি।”

    “এ আর বুঝতে পারলেন না। এই বেদেরা চুরি-ডাকাতি করে—তার পর চোরাই মাল এই কাঁইয়া বেটাকে বেচে—সে সেই সব চোরাই মাল অন্য সহরে নিয়ে গিয়ে কাজ ফতে ক’রে আসে।”

    আমি হাসিয়া বলিলাম, “কাঁইয়া আপনাকে পয়সা দেয় নাই বলিয়াই বুঝি এত রাগ।” চক্রবর্ত্তী মুখখানা মহা বিকৃত করিয়া বলিল, “মহাশয়, বেদেরা আবার কবে সাধু হয়? ও বেটারা চিরকাল চোর-ডাকাত—দুনিয়াশুদ্ধ লোক জানে।”

    আমি বলিলাম, “চক্রবর্ত্তী মহাশয়, যেদিন কাঁইয়া এখানে আসে, সেদিন আর কেউ এখানে এসেছিল?”

    “হাঁ এসেছিল, তারই জন্যে, বেটা কিছু না দিলেও আমি তত রাগি নাই।”

    “কেন?”

    “একটি বড় ভদ্রলোক এসেছিলেন; তাঁর কি মিষ্ট কথা, কি চেহারা, তিনি একবেলা খেয়ে আমাকে একটা পুরো টাকা দিয়া গিয়াছিলেন।”

    “কাইয়া কি ইহার কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছিল?”

    “না, কাঁইয়া বেটা তাহাকে চিনিবে কেমন করিয়া। বেটা কি কম ভুগিয়েছিল—জল খাবার জন্যে একটা ঘটী চাহিলে, যে-টা দিই, সেইটাই বলে, বড় ময়লা, আর একটা নিয়ে এস। বেটাকে যে আমি তখন মারিনি, এই তার বড় ভাগ্যি।”

    আমি উঠিলাম—আমি কতক সন্ধান পাইয়াছি। ভাবিলাম যে, সেই ডাকাত এই ভদ্রলোক; কাঁইয়া তাহারই লোক; বোধ হয়, সেই ভদ্রলোক ঘটীতে কোন সঙ্কেত তাহার জন্য লিখিয়া যায়,নতুবা কাঁইয়া ঘটীর পর ঘটী চাহিবে কেন? যাহা হউক, ঘটীগুলি আমাকে ভাল করিয়া দেখিতে হইল।

    সুবিধামত সকলের অসাক্ষাতে আমি হোটেলের ঘটীগুলি দেখিতে লাগিলাম। একটা ঘটীর নীচে তীক্ষ্ণাগ্র শলাকা দিয়া কি লেখা রহিয়াছে দেখিতে পাইলাম। ভাল করিয়া পড়িয়া দেখি, লেখা আছে,-

    “শুক্‌ন গাছ—দশ ডাইনে—ছয় বাঁয়ত্রিশূল।”

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    ঘটীর নীচে এই রহস্যপূর্ণ কথা কয়েকটা লেখা দেখিয়া আমি নিতান্ত বিস্মিত হইলাম। ইহার ভিতরে যে গুরুতর রহস্য নিহিত আছে, তাহার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।

    ভদ্রলোক সহসা চক্রবর্ত্তীর হোটেলে আহার করিতে আসিবে কেন? আসিয়া একেবারে এক টাকা দিবে কেন? তাহার পরই কাঁইয়া আসিয়া উপস্থিত হইয়াছিল; সে ঘটীর পর ঘটী চাহিয়াছিল, সুতরাং তাহার নিশ্চয়ই কোন উদ্দেশ্য ছিল। কেহ তাহার উপরে কোন সন্দেহ না করে, এইজন্যই সে শেষে চক্রবর্ত্তীর সঙ্গে ঝগড়া করিয়া বেদেদের আড্ডায় গিয়াছিল।

    আমি এখন বেশ বুঝিতে পারিলাম যে, প্রথম ব্যক্তি ঘটীর নীচে লিখিয়া গিয়াছিল; দ্বিতীয় ব্যক্তি কাঁইয়া ঘটীর পর ঘটী চাহিয়া সে লেখার অনুসন্ধান করিতেছিল। উভয়ের মধ্যে এই কৌশলপূর্ণ সঙ্কেত চলিত—কেহ কাহারও সহিত দেখা করিত না। ইহাতে কেহই সন্দেহ করিত না যে, ইহারা উভয়ে একদলেরই লোক।

    তাহার পর কাঁইয়া নানা দ্রব্য ফিরি করিয়া বেড়াইত, কেহ তাহাকে সন্দেহ করিত না।

    আমি বুঝিলাম, নিশ্চয়ই এই ভদ্রলোক, কাঁইয়া ও লোচন, তিনজনেই একদলের লোক। তবে ইহাদের সহিত যে অশ্বারোহী ডাকাতের কোন সম্বন্ধ আছে, তাহা স্থির করিতে পারিলাম না। তবে এটা স্থির, ইহারাও ডাকাত, না হয় চোর। প্রথম ব্যক্তি চুরি করিয়া কোনখানে চোরাই মাল পুতিয়া রাখিয়া এইরূপে হোটেলে আসিয়া ঘটীর সঙ্কেতে কোথায় মাল লুকাইয়া রাখিয়াছে, তাহাই লিখিয়া রাখিয়া যায়। পরে কাঁইয়া আসিয়া ঘটীর নীচে লিখিত বিষয় পড়িয়া দেখে। তাহার পর সে সেখান থেকে চোরাই মাল বাহির করিয়া লইয়া চলিয়া যায়। কি সুন্দর সুবন্দোবস্ত! কি সুকৌশল! আমি ভাবিলাম, যাহাদের এমন বুদ্ধি, এমন মাথা, তাহারা ভাল দিকে মাথা খাটাইলে সংসারের যে অনেক উপকার করিতে পারে।

    .আমি ইহাও বুঝিলাম, শুক্‌ন গাছের ডান দিকে—দশ হাত দূরে আর বামদিকে ছয় হাত দূরে— মাটীর নীচে কিছু চোরাইমাল পোতা আছে, এবং যথাস্থানে ত্রিশূল চিহ্ন দেওয়া আছে। কিছু যে পোতা আছে, সে বিষয়ে আমার কোন সন্দেহ রহিল না। আমি মনে মনে স্থির করিলাম, এই শুক্‌ গাছের নীচেটা আমাকে একবার দেখিতে হইবে। আমি চক্রবর্ত্তীকে কোন কথা কহিলাম না। এই শুক্‌ন গাছটা কোথায়, আমি তাহাই ভাবিতে লাগিলাম। কখনও যে এরূপ গাছ এখানে কোনখানে আমার চোখে পড়িয়াছে বলিয়াও মনে হইল না।

    অবশেষে আমি চক্রবর্ত্তীকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “চক্রবর্ত্তী মহাশয়, আপনার কোন শুক্‌ন গাছের কথা মনে হয়? একটী আলাপী লোক আমাকে পত্র লিখেছেন যে শুক্‌ন গাছের নীচে তাঁহার সঙ্গে দেখা করিতে। কিন্তু কোন্ শুক্ন গাছের কথা তিনি লিখিয়াছেন, আমি ত তাহা বুঝিতে পারিতেছি না।”

    চক্রবর্ত্তী বলিল, “কেন, ঐ যে উত্তরদিকের মাঠের মধ্যে মস্ত একটা শুক্‌ন গাছ আছে—বোধ হয়, তিনি সেইটার কথা বলেছেন।”

    “তাহাই হইবে,” বলিয়া আমি সেই মাঠের দিকে চলিলাম। তখন সন্ধ্যা ইতে বিলম্ব নাই। আমি দূর হইতে দেখিলাম যে, বেদেরা এখনও আড্ডা তুলে নাই—আমাকে শুক্‌ন গাছের কাছে যাইতে যে পথ চক্রবর্ত্তী বলিয়া দিয়াছিল, এবং বেদেরা যে মাঠে ছিল, তাহা তাহার অপর দিকে, আমি সেইদিকেই চলিলাম।”

    সহসা আমার পশ্চাতে কে বলিল, “আপনি ভাল আছেন, অমর বাবু?”

    আমি চমকিত হইয়া ফিরিলাম, দেখি সেই বেদিনী কুঞ্জ। সে আমার নাম কেমন করিয়া জানিল, ভাবিয়া আমি বিস্মিত হইলাম। যাহাই হউক, আমি যেমন করিয়া হউক, একবার গোপনে তাহার সহিত দেখা করিব, মনে মনে স্থির করিয়াছিলাম। সে বিষয়ে আমাকে আর কোন কষ্ট পাইতে হইল না। এই নির্জ্জন প্রান্তরে সে আপনা-আপনিই আমার সম্মুখে দেখা দিল।

    আমি বলিলাম, “তুমি আমার নাম জানিলে কিরূপে?”

    সে বলিল, “আমি আপনাকে চিনি, লোচনও চিনে, আমরা সহরে জিনিষ বেচতে গিয়ে আপনাকে দেখেছিলাম।”

    “তাহা হইলে লোচন বেশ জানে, আমি কে?”

    “হাঁ, আরও জানে যে, আপনি ডাকাতির সন্ধান করছেন।”

    “তার সঙ্গে ইহার সম্বন্ধ কি? তবে কি এই ডাকাতের সঙ্গে লোচনের কোন সম্বন্ধ আছে?”

    “না, আমি তা জানি না।”

    “কাঁইয়ার বিষয় কি জান?”

    “সে আমাদের ডেরায় এসেছিল; তারপর লোচনের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়, তাই লোচন তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।”

    আমি কুঞ্জের কথা ঠিক বলিয়া বোধ করিলাম না; সুতরাং তাহাকে কোন কথা বলা যুক্তিসঙ্গত নহে। বোধ হয়, সে আমার মনের ভাব বুঝিল। বলিল, “আমি সত্যকথাই বলিয়াছি। আমি এখন আপনার কাছেই যাইতেছিলাম। আপনি এইদিকে যাইতেছেন দেখিয়া এইদিকে আসিলাম।”

    “কেন? কোন কথা আছে?”

    “আমি আপনার সঙ্গে দেখা করিবার জন্য অনেক কষ্টে ডেরা হইতে লুকাইয়া আসিয়াছি।”

    “কেন, কিছু কি হয়েছে?”

    “আপনি এখানে থাকিলে বিপদে পড়িবেন।”

    “বিপদ্—কেন?”

    কেন? আপনি এই ডাকাতির সন্ধানে লাগিয়াছেন বলিয়া আপনার উপর লোচনের ভারি রাগ—সে আপনার উপর নজর রেখেছে; আপনি এ সন্ধান ছেড়ে দিয়ে সহরে যান।”

    এ কথায় আমার পূর্ব্ব সন্দেহ আরও ঘনীভূত হইয়া উঠিল। বলিলাম, “কুঞ্জ, আমার বোধ হইতেছে, লোচন এই ডাকাতির মধ্যে আছে।”

    সে নতমুখে বলিল, “তা জানি না। আপনি নিজের বাড়ীতে ফিরিয়া যান—এখানে আর থাকিবেন না।”

    আমি বলিলাম, “লোচন ত আজই চলিয়া যাইবে?”

    “হাঁ, আমরা রাত্রে রওনা হইব।”

    “তাহা হইলে আমার ভয় কি?”

    সে আমার কানের কাছে মুখ আনিয়া বলিল, “সে আপনাকে খুন করিবে।”

    আমি চমকিত হইয়া তাহার মুখের দিকে চাহিলাম। সে অতি মৃদুস্বরে বলিল, “যান্—সহরে যান—এখানে আর থাকিবেন না।”

    এই বলিয়া সে সত্বরপদে সে স্থান পরিত্যাগ করিয়া গেল। আমি তখন আবার শুক্‌ন গাছের দিকে চলিলাম।

    সম্মুখেই সেই গাছ; দশ হাত দক্ষিণ দিকে গিয়া দেখিলাম, মাটীতে একটা ছোট ত্রিশূল পোতা আছে। আমি পকেটে করিয়া একখানি বড় ছুরি আনিয়াছিলাম। হাঁটু গাড়িয়া বসিয়া সেই ছুরি দিয়া মাটী খুঁড়িতে লাগিলাম। এক হাত নীচে একটা ছোট টীনের বাক্সে ছুরি লাগিয়া শব্দ হইল। আমি ব্যগ্র হইয়া মাটী সরাইয়া বাক্সটা তুলিলাম। বাক্স বন্ধ ছিল—ছুরি দিয়া মুহূৰ্ত্তমধ্যে খুলিয়া ফেলিলাম। দেখিলাম, ভিতরে কতকগুলি স্বর্ণালঙ্কার। কিন্তু উহা হইতে সমস্ত জহরতগুলি কে খুলিয়া লইয়া গিয়াছে।

    সহসা আমার মস্তকে গুরুতর আঘাত লাগিল। আমি চারিদিক্ অন্ধকার দেখিলাম—তাহার পর আর কিছু মনে নাই।

    নবম পরিচ্ছেদ

    যখন আমার জ্ঞান হইল, তখন আমি মস্তকে গুরুতর বেদনা অনুভব করিতে লাগিলাম। দেখিলাম, আকাশে চাঁদ উঠিয়াছে; তবে মেঘ থাকায় পরিষ্কার জ্যোৎস্না নাই। আরও দেখিলাম, একটী স্ত্রীলোক আমার শুশ্রুষা করিতেছে— সেই অস্পষ্ট আলোকে আমি তাহাকে চিনিলাম—সে সেই কুঞ্জ।

    আমি কষ্টে বলিলাম, “আমি কোথায়? আমার—“

    বাধা দিয়া সে অতি স্নেহপূর্ণ মৃদুস্বরে বলিল, “চুপ্ করুন, কথা কহিবেন না, কথা কহিলে, অসুখ বাড়িবে—এইটা খান্।”

    সে আমাকে কি একটা ঔষধ খাওয়াইয়া দিল। আমি ঔষধের গুণে শীঘ্রই অনেকটা প্রকৃতি স্থ হইলাম। তখন আমার মনে পড়িল যে, আমি গহনার বাক্স মাটীর নীচে পাইয়াছিলাম—তর পর কে আমার মাথায় লাঠী মারিয়াছিল।

    আমি বলিলাম, “কে আমার মাথায় লাঠী মারিয়াছিল?”

    কুঞ্জ মৃদুস্বরে বলিল, “লোচন, আমি আগেই আপনাকে বলিয়াছিলাম।”

    আমি ব্যগ্রভাবে বলিলাম, “গহনা—গহনা?”

    অতি কষ্টে গর্ভের দিকে ফিরিলাম। দেখিলাম, গহনার বাক্স নাই, যে আমাকে আঘাত করিয়াছিল, সেই গহনা লইয়া পলাইয়াছে। আমাকে ব্যাকুল ও ব্যস্ত হইতে দেখিয়া কুঞ্জ বলিল, “ব্যস্ত হইলে অসুখ বাড়বে। আমি মাথাটা বেঁধে দিই।”

    আমি কোন কথা কহিলাম না। কুঞ্জ অতি যত্নে আমার মাথা বাঁধিয়া দিল; সে কি ঔষধ দিয়া পূর্ব্ব হইতেই রক্ত বন্ধ করিয়াছিল। সে আবার আমায় কি একটা ঔষধ খাওয়াইয়া দিল।

    তখন সে অতি যত্নে আমাকে ধরিয়া গাছের গায়ে ঠেসান দিয়া বসাইয়া দিল, সে-ও নিজে আমার পাশে বসিল।

    সেই গভীর রাত্রে নির্জ্জন প্রান্তর মধ্যে সেই শুক্‌ন গাছের নীচে আমি এক অপরিচিতা সুন্দরী যুবতীর পার্শ্বে উপবিষ্ট। আমাদের চারিদিকে অর্দ্ধ ক্রোশের মধ্যে জনমানব নাই—বোধ হয়, কাহারও কখনও এরূপ অবস্থা হয় না! আমার তখন বয়স অল্প—যুবক মাত্র। কেমন আমার মন আপনা আপনি কুঞ্জের প্রতি আকৃষ্ট হইল।

    আমি কিঞ্চিৎ প্রকৃতিস্থ হইয়া কুঞ্জকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “তুমি এখানে কিরূপে আসিলে, কুঞ্জ?” সে বলিল, “লোচনকে ডেরায় না দেখিয়া আমার মনে সন্দেহ হইল; আমি ভাবিলাম, নিশ্চয়ই সে আপনার সন্ধানে গিয়েছে, তাই আমি অনেক কষ্টে আবার এইদিকে আসিলাম। আসিয়া দেখি, আপনি অজ্ঞান হইয়া পড়িয়া আছেন, বোধ হয়, আমি আসিয়া ঔষধ দিয়া রক্ত বন্ধ না করিলে আপনি বাঁচিতেন না।”

    আমি তাহার হাত ধরিয়া বলিলাম, “তুমি আমার প্রাণরক্ষা করিয়াছ।”

    সে কথায় কর্ণপাত না করিয়া কুঞ্জ বলিল, “বোধ হয়, সে আপনার পিছনে আসিয়াছিল। আমি জানি, সে আপনাকে খুন করিবার জন্য ঘুরছিল

    “গহনার বাক্স?”

    “গহনার বাক্স এখানে ছিল না।”

    “নিশ্চয়ই সে-ই নিয়ে গেছে।”

    “অনেক রাত হয়েছে, আমাকে না দেখতে পেলে সকলে খুঁজবে। চলুন, আপনাকে সঙ্গে ক’রে আমি হোটেলে রেখে আসি।

    আমিও ইহাই যুক্তিযুক্ত মনে করিলাম। ধীরে ধীরে উঠিয়া দাঁড়াইলাম, তাহার পর অতি কষ্টে কুঞ্জের স্কন্ধের উপরে ভর দিয়া হোটেলের দিকে চলিলাম। সে অতি যত্নে সাবধানে আমাকে লইয়া চলিল। কুঞ্জ সে সময়ে না থাকিলে আমার রক্ষা পাইবার কোন উপায় ছিল না।

    পথে আমি কুঞ্জকে বলিলাম, “কুঞ্জ, তুমি ত বেদের মেয়ে নও।”

    “হাঁ, আমার বাপ লালা, এখন আমি বেদে।”

    “তোমার কি এদের দলে থাকতে ভাল লাগে?”

    “তা কি কখনও ভাল লাগে? আমার বাপ আমাকে বড় যত্নে রেখেছিলেন, কি করি, আর কোথাও যাবার স্থান নাই।”

    “যদি কোন ভদ্রলোকের বাড়ীতে তোমাকে রাখি, তাহা হইলে কি তুমি থাকবে?”

    “কেন থাকব না, কে রাখবে?”

    “যদি কেউ রাখে।”

    কুঞ্জ একটু ভাবিয়া বলিল, “হয় ত আমার যাওয়া হবে না।”

    “কেন?”

    “জানি না।”

    “বল, তা হ’লে কুঞ্জ, তুমি এ চোরের দল ছেড়ে আসিবে?”

    “আমি চোর বলিতে পারি না। তাহারা এখনও আমাকে খাওয়াইতেছে, পরাইতেছে।”

    “তুমি ওদের দলে থেকো না, কুঞ্জ।”

    “এই আমরা হোটেলের দরজায় এসেছি—এখন আমি যাই।”

    এই বলিয়া কুঞ্জ আমার হাত হইতে হাত সরাইয়া লইল, আমিও তাহার গলা হইতে হাত তুলিয়া লইলাম; সে চলিয়া গেল। আমি হোটেলের দরজায় ঘা মারিলাম।

    তখন আবার আমার মাথা ঘুরিয়া গেল—আমি বসিয়া পড়িলাম; তাহার পর কি হইল, আমার আর সংজ্ঞা নাই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত্যু-রঙ্গিনী – পাঁচকড়ি দে
    Next Article রঘু ডাকাত – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }