Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জয় পরাজয় – পাঁচকড়ি দে

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প129 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জয় পরাজয় – ২৫

    পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ

    এই সময়ে চারিদিক্ হইতে লোক আসিয়া ভিক্রাজের ঘাড়ে পড়িল। দারোগা ফতে আলি উঠিয়া ভিকরাজকে লাথীর উপর লাথী মারিয়া মনের সাধ ও রাগ মিটাইলেন। অন্য সকলেই তাঁহার অনুকরণ করিল। আমি সেখানে উপস্থিত না থাকিলে বোধ হয়, ভিক্রাজের অদৃষ্টে আরও অনেক লাঞ্ছনা ভোগ হইত। বাহিরের লোক উপস্থিত থাকিলে পুলিসের একটু ‘চক্ষুলজ্জা’ হয়।

    তখন তাহারা ভিকরাজকে পিছমোড়া করিয়া বাঁধিয়া থানায় লইয়া চলিল—সে কিন্তু একটা কথাও কহিল না।

    আন্দুলের জমিদার মহাশয়ের শেষ ডাকাতিতে লুণ্ঠিত সমস্ত গহনাই পাওয়া গেল। কাপড় ঢাকিয়া, গাছতলায় বসিয়া ভিকরাজ বৃদ্ধারূপে গর্ত খুঁড়িয়া একে একে গহনা বাহির করিয়া জহরত তফাৎ করিয়া লাঠীর মধ্যে পুরিতেছিল, দারোগা মহাশয়ের ব্যস্ততায় সমস্ত কাজ শেষ করিতে পারে নাই—সব ফেলিয়াই দৌড়িয়াছিল।

    প্রহারে ভিকরাজ অর্দ্ধমৃত হইয়াছিল। কনেষ্টবলগণ তাহাকে থানায় টানিয়া আনিয়া ফেলিল, সে জল খাইতে চাহিল। তখন যথার্থই তাহার উপরে আমার দয়া হইল। দারোগা বলিলেন, “দে বেটাকে একটু জল দে।”

    ভিকরাজ জলপান করিয়া একটু প্রকৃতস্থ হইলে ফতে আলি বলিলেন, “ভায়া ভিকরাজ, এখন বাপু সব খুলে বল দেখি। আর বেশি কি হবে, ডাকাতিগুলির জন্য যাবজ্জীবন যাবে, খুলে বল, বাধন।”

    ভিকরাজ বলিল, “কি বলিব—আমি কি জানি?”

    ফতে আলি ক্রোধে গৰ্জ্জিয়া বলিলেন, “বদমাইস, এখনও আমায় চেন নি।”

    ভিকরাজ বলিল, “কি বলিব?”

    ফতে। কোন মহাপ্রভু এ মতলব বের করেছিল?

    ভিক। মতলব আমার—স্বীকার করিতেছি।

    ফতে। ডাকাতি করে কে?

    ভিকরাজ কথা কহিল না। ফতে আলি চীৎকার করিয়া বলিলেন, “বেটা চোর, বল্, এই ডাকাত কে?”

    তবুও ভিকরাজ কথা কহিল না।

    আমি দেখিলাম, দারোগাসাহেব রাগে উন্মত্ত প্রায় হইয়াছেন। তখনকার পুলিস, এখনকার পুলিস অপেক্ষা কি ভয়ানক ছিল, তাহা বলা যায় না। আমি ভিকরাজকে রক্ষা করিবার জন্য বলিলাম, “ভিকরাজ, আমরা সব জানিয়াছি, লোচন যে তাহার সাদা ঘোড়ায় রং করিয়া দিত, তাহাও আমরা জানি। এখন গোলমাল না ক’রে সেই রং করা ঘোড়ায় চড়ে কে ডাকাতি করিত, তাহাই বল; কেন মার খাইয়া মরিবে?”

    ফতে আলি গৰ্জ্জিয়া বলিলেন, “কেবল মার! হাড় এক জায়াগায়, মাস এক জায়গায় করিয়া ছাড়িব। শালাকে মালখানায় নিয়ে যা ত।”

    মালখানায় সে সময়ে আসামীর উপরে কি ভয়াবহ উৎপীড়ন হইত, তাহা বর্ণনার প্রয়োজন নাই; অনেক সময় আসামীর অদৃষ্টে মালখানা ত্যাগ করিয়া বাহির হওয়া ঘটিয়া উঠিত না। ভিকরাজ মালখানা কি বেশ জানিত; সে বলিয়া উঠিল, “যখন ধরা পড়িয়াছি, তখন আর উপায় কি? লোচন ডাকাতি করিত। সে ডাকাতি ক’রে ঘোড়ায় চ’ড়ে পলাইত, এক জায়গায় গহনাগুলো পুতে রেখে যেত।

    সে-ই ঘটীর নীচে লিখিয়া যাইত, আমি সেই লেখা দেখিয়া গহনা লইয়া আসিতাম।”

    ফতে আলির নির্বুদ্ধিতার জন্য ভিকরাজ পুলিসের অত্যাচার হইতে বাঁচিয়া গেল। নতুবা যতক্ষণ সে ডাকাতের নাম না বলিত, ততক্ষণ তাহার উপর অমানুষিক অত্যাচার চলিত—তাহার সৌভাগ্যবশতঃ ফতে আলি তাহার কথায় বিশ্বাস করিলেন; বলিলেন, “সেই বেটা! ডাকাতি করে, তা আমি অনেককাল থেকে জানি।”

    আমি কিন্তু বুঝিলাম যে, ভিকরাজ মিথ্যাকথা বলিল। অত্যাচারের হাত হইতে এড়াইবার জন্য লোচনের নাম করিল। কুঞ্জ বলিয়াছিল, ঘোড়া কাকে দিয়া লোচন তখনই ফিরিয়া আসিয়াছিল। সে সমস্ত রাত্রি জঙ্গলে লুকাইয়াছিল, কুঞ্জ সমস্ত রাত্রি তাকে পাহারা দিয়াছিল। এ অবস্থায় সে হাবড়ার মাঠের এ ডাকাতি করে নাই, নিশ্চয়ই আর কেহ করিয়াছিল।

    কিন্তু এ বিষয়ের প্রমাণ দিতে কুঞ্জ ভিন্ন আর কেহই ছিল না, কুঞ্জকে কোন মতে এ বিষয়ে জড়াইবার আমার ইচ্ছা ছিল না; সেইজন্য আমি আর কোন কথা কহিলাম না। ফতে আলি যাহা বিশ্বাস করিলেন, তাঁহাকে তাহাই বিশ্বাস করিতে দিলাম।

    ফতে আলি আর হাবড়ায় বিলম্ব না করিয়া মহা আড়ম্বরে ডাকাত লইয়া স্ফীতবক্ষে কলিকাতার দিকে রওনা হইলেন। তিনি আসামী লইয়া সদলে থানায় প্রস্থান করিলে আমি ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হইয়া অমূল্যের বাড়ীতে আসিয়া পড়িলাম।

    ষড়বিংশ পরিচ্ছেদ

    ফতে আলির দৃঢ় বিশ্বাস, লোচনই ডাকাতি করিত, আমার সে বিশ্বাস নহে, আমি ফতে আলিকে এ বিষয় লইয়া বিরক্ত করিলাম না—পাছে কুঞ্জকে সাক্ষ্য দিতে হয়, এই ভয়েই আমি তাহাকে কিছু বলিলাম না। মনে জানি, লোচন নিজে ডাকাতি করত না, সে ঘোড়া দিত—ডাকাতি করিত, আর একজন কেহ–সে কে আমি তাহাকে কোনদিন কোনখানে বাহির করিব-ই করিব, আমার এ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছাড়িলাম না।

    ফতে আলি লোচনকে ডাকাত ভাবিয়া তাহার অনুসন্ধান করিতে লাগিলেন; কিন্তু তাহার কোন সন্ধানই পাইলেন না। বেদেরা এখন চন্দননগরের মাঠেই আছে, কিন্তু তাহারা কেহই লোচনের সন্ধান দিতে পারিল না; সে অনেকদিন হইতে নিরুদ্দেশ হইয়া গিয়াছে। তাহার স্থলে বেদেরা সকলে কুঞ্জকেই দলপতি করিয়াছে। তাহার কারণও অনেক, কুঞ্জ বুদ্ধিমতী, কুঞ্জ একদিকে দয়ামায়া ভালবাসার পূর্ণমূর্ত্তি, আবার অন্যদিকে সিংহী, তাহাকে সকলে অত্যন্ত ভয় করিত। তাহার উপর কুঞ্জ সুন্দরী, সে উত্তম বাঙ্গালা লেখা-পড়া জানিত, সুতরাং কুঞ্জ যে সহজেই দলের সর্বেসর্বা হইবে, তাহাতে আর আশ্চর্য্য কি?

    ফতে আলি বেদের কথা বিশ্বাস করিলেন না; তিনি বেদেদিগের উপরে বিশেষ পাহারা রাখিলেন, কিন্তু লোচনের কোন সন্ধানই হইল না। সে নিশ্চয়ই দেশ ছাড়িয়া অন্য কোন দেশে পলাইয়াছে। তাহাকে ধরিতে না পারিয়া ক্রমে ফতে আলি দারোগা হতাশ হইয়া পড়িতে লাগিলেন।

    আমি একদিন অমূল্যকে সকল কথা খুলিয়া বলিলাম। আমি যে কারণে লোচনকে ডাকাত মনে করি না, তাহাও তাহাকে বলিলাম। অমূল্য শুনিয়া বলিল, “তাহা হইলে আকাট্ ফতে আলি কেবল ধাঁধায় ঘুরিতেছে।”

    “মহা ধাঁধায়। কুঞ্জ সমস্ত রাত্রি লোচনকে পাহারা দিয়াছিল। আধ ঘন্টা মাত্র সে তাহার চোখের আড়াল হইয়াছিল, লোচন ঘোড়া লইয়া কাহাকে দিয়া আসিয়াছিল। আধ ঘন্টায় সে চন্দননগর হইতে আসিয়া হাবড়ার মাঠে চুরি করিয়া আবার চন্দননগরে পৌঁছিতে পারে না।”

    “তাহা ত নিশ্চয়ই নয়।”

    “তাহা হইলে হাবড়ার ডাকাতি লোচন করে নাই।”

    “তাহার পক্ষে অসম্ভব।”

    “এইজন্য আমি বলি, সে কেবল ডাকাতকে ঘোড়া দিয়া আসিত, ডাকাতি অন্য লোক করিত— সে কিছুতেই লোচন নহে।”

    “তাহা হইলে তুমি কি করিবে, মনে করিতেছ?”

    “এই ডাকাতকে ধরিতে হইবে।”

    “কেমন করে?”

    “লোচন নাই, কিন্তু লোচনের ঘোড়া বেদেদের দলে আছে, সেই দলে লোচনের বিশ্বাসী সেই বজ্জাত মাগীটাও আছে, এখন সে অনায়াসে ঘোড়া ডাকাতকে পৌঁছাইয়া দিতে পারে।”

    “তা অবশ্য পারে।”

    “তা হ’লে ডাকাত আগেকার মত ঘোড়া পাইতে পারে, সুতরাং সে ডাকাতি ছাড়িবে না, আবার ডাকাতি করিবে। এ সব কাজ একবার ধরিলে সহজে ছাড়া যায় না।”

    “তাহা হইলে তোমার বিশ্বাস যে, এই লোক আবার ডাকাতি করিবে?”

    “নিশ্চয়ই করিবে।”

    “এখন মাড়োয়ারী নাই, কে গহনা লইয়া বেচিবে?”

    “মাড়োয়ারীর ভাবনা কি? একজন গিয়াছে আর একজনকে সে ইতিমধ্যে জুটাইয়া লইয়াছে।”

    “তুমি যাহা বলিতেছ, সম্ভব বটে।”

    “আমি তোমায় বলিতেছি, চন্দননগরের কাছেই আবার শীঘ্র ডাকাতি হইবে।”

    “কেন?”

    “বেদেরা এখনও সেখানে আছে, সুতরাং ঘোড়া সেখানে। চন্দননগরের পাঁচ-সাত ক্রোশের মধ্যে সে আবার ডাকাতি করিবে।”

    “তুমি কি করিতে চাও?”

    “আমি এই ডাকাত ধরিবার জন্য একটা ফাঁদ পাতিতে চাই।”

    “খুলে সব বল।”

    “আমরা দুজন কোন বড় জমিদার সেজে অনেক রাত্রে পাল্কী ক’রে—এক পাল্কীতেই দুজনে যাইব। আর আগে হইতেই খুব রটাইয়া দিব যে, অমুক দেশের জমিদার হুগলীতে সাহেবদের সঙ্গে দেখা করিতে আসিতেছেন, সঙ্গে অনেক জহরত আনিতেছেন। নিশ্চয়ই এ কথা ডাকাতদের কানে পৌঁছিবে, তখন সে আমাদের আক্রমণ করিবে, তখন দেখিয়া লওয়া যাইবে।”

    “তাহা হইলে তুমি মনে করিতেছ, তাহাকে ধরিতে পারিবে?”

    “আমার ত এই বিশ্বাস, আমি যাহা যাহা বলিলাম, তাহা যদি ঠিক হয়, তাহা হইলে আমি নিশ্চয়ই তাহাকে ধরিতে পারিব।”

    “তাহা হইলে কবে এ কাজে লাগিবে? আমি তোমার সঙ্গে যাইতে প্রস্তুত আছি।”

    “তোমায় বলিব, প্রথমে আমি একবার চন্দননগরে গিয়া বেদেদের ডেরাটা দেখিব।”

    অমূল্য হাসিয়া বলিল, “বেদেদের ডেরা না—কুঞ্জ?”

    আমি গম্ভীরভাবে বলিলাম, “তুমি আমার বিশেষ বন্ধু—তোমায় গোপন করিব না—যথার্থই কেমন আমি ইহাকে ভাল বাসিয়াছি—তবে—তবে—বেদে —“

    অমূল্য বলিল, “কুঞ্জ বেদে নয়। আমি শুনিয়াছি, বেদেরা অনেক সময়ে মেয়ে চুরি করিয়া থাকে—এ সেই রকম চুরি করা মেয়ে। ইহাকে দেখিয়াই আমার একটা কথা মনে হইয়াছিল—”

    আমি ব্যগ্র হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “কি কি?”

    “না, আমার ভুল—তা নয়।”

    “কি আমায় বল।”

    “আমার একটি আত্মীয়ের মেয়ে অনেকদিন হইল হারাইয়া যায়, তখন তাহার বয়স দু বছর কি আড়াই বছর—ইহাকে প্রথম দিন দেখিয়াই মনে হইয়াছিল, যেন এটি সেই মেয়ে।”

    “কি জন্য তোমার এরূপ মনে হইল?”

    “তার স্ত্রীর সঙ্গে কুঞ্জের সৌসাদৃশ্য আছে।”

    “তিনি কে?”

    “অত ব্যস্ত হইয়ো না। কুঞ্জ যদি যথার্থ তাহার মেয়ে হয়, তবে তুমি অনায়াসে কুঞ্জকে বিবাহ করিতে পার।”

    আমি কিয়ৎক্ষণ নীরবে থাকিয়া বলিলাম, “তোমার আত্মীয়টির নাম কি?”

    “তাহার নাম আনন্দকুমার বসু।”

    আমার নাম, অমরনাথ দে, সুতরাং তাহা যদি হয়, তবে আমি কুঞ্জকে বিবাহ করিতে পারি। ভালবাসা যে কি, তাহা যিনি কখনও ভালবাসেন নাই, তিনি কখনও বুঝিবেন না। আমি আর কোন কথা না কহিয়া অন্যত্রে চলিয়া গেলাম।

    আমি সেইদিন চন্দননগরে রওনা হইলাম। উদ্দেশ্য ডাকাতির তদন্ত করা, ঘোড়াটা বেদেদের ডেরায় এখনও আছে কিনা—সেই মাগীটা কি করিতেছে, সে লোচন বা ডাকাতের সহিত কোন কথাবার্তা চালাইতেছে কি না, লোচন বা ডাকাতের আর কোন সন্ধান পাইয়াছে কি না। এই উদ্দেশ্যেই আমি চন্দননগরে রওনা হইলাম।

    সপ্তবিংশ পরিচ্ছেদ

    ডাকাতের সন্ধান ছাড়া এখন আমার আরও একটা উদ্দেশ্য ছিল। কুঞ্জ যে বেদিয়া নহে, তাহা তাহার চেহারা দেখিলেই স্পষ্ট বুঝিতে পারা যায়—এ কথা কুঞ্জও জানে—তবে কুঞ্জ কাহার কন্যা, কি জাতি এ বিষয়ে বিশেষ অনুসন্ধান করিতে হইবে। ইহাতে আমার স্বার্থ কি? সে যে-ই হউক না কেন, তাহাতে আমার কি? এ কথা সহস্রবার মনকে জিজ্ঞাসা করিলাম, কিন্তু কোন সদুত্তর পাইলাম না। মনে মনে ভাবিলাম, একটা বেদিয়ার মেয়ের জন্য পাগল হইতে বসিয়াছি যে! না, সেজন্য নহে, সে দুইবার আমার প্রাণরক্ষা করিয়াছে, তাহার মঙ্গলকামনা না করিলে এ জগতে আমার ন্যায় অকৃতজ্ঞ ও পাষণ্ড আর কেহই নাই। যাহাই হউক, আমি চন্দননগরে কুঞ্জের সহিত দেখা করিতে চলিলাম।

    চন্দননগরের প্রান্তবর্ত্তী বিস্তৃত প্রান্তরে বেদেরা ডেরা ফেলিয়া আছে। দেখিলাম, এবার ইহারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নাই। জনকতক বরকন্দাজ ইহাদের পাহারায় আছে। ইহারা আর স্বাধীনভাবে যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাইতে পারে না।

    মাঠে প্রবেশ করিয়াই আমি সম্মুখে সেই বালককে দেখিতে পাইলাম। সে কতকগুলা ভেড়া ও ছাগল চরাইতেছিল, আমাকে দেখিয়া নিকটে আসিয়া বলিল, “কুঞ্জ টাকা দিয়াছিল—সে না হ’লে লোচন তোমার কাজ শেষ করিত।”

    আমি হাসিয়া বলিলাম, “লোচনের মত দশটাকে আমি মারিতে পারি।”

    “সে তোমার ভয়েই কোথায় পালিয়ে গেছে।”

    “কোথায় জানিস্?”

    “না, সে একেবারে কোন্ দেশে পালিয়ে গেছে।”

    “দল ছেড়ে কি একেবারে পালাতে পারে, বোধ হয়, কোন্‌খানে লুকিয়ে আছে।”

    “তা জানি না, সে আর এখানে আসে না।”

    “সেই মাগী কি বলে?”

    “তুমি তাকে বেঁধে রেখে এসেছিলে, সে তোমায় পেলে বলেছে কাড়াবে।”

    আমি হাসিয়া বলিলাম, “সে তা অনায়াসে পারে—আমি তারই সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি।”

    “যেও না, সে ভারি রাগী—সে ডাইনী।”

    “ডাইনীর মন্ত্র আমার কাছে আছে—কুঞ্জ কোথায়?”

    “ডেরায় আছে।”

    আমি বালকের সহিত আর কোন কথা না কহিয়া বেদিয়াদের ডেরার দিকে অগ্রসর হইলাম। দুই-এক পাদ গিয়া ফিরিয়া দেখি, সেই বালক আমার পিছনে বিশ্রী অঙ্গভঙ্গি ও মুখবিকৃতি করিতেছে। আমি হঠাৎ তাহার দিকে ফিরিলে সে আবার ভাল মানুষটির মত দাঁড়াইল। আমি বলিলাম, “বজ্জাত, আমায় চেন না—বেত মেরে হাড় গুঁড়া ক’রে দিব।”

    সে আমাকে তাহার বাম হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ প্রদর্শন করিয়া ঊর্দ্ধশ্বাসে ছুটিয়া পলাইল; আমি আবার বেদিয়াদের ডেরার দিকে চলিলাম।

    এই দুষ্ট বালকের ভাবভঙ্গী দেখিয়া বুঝিলাম, বেদেরা আমার উপরে সন্তুষ্ট নহে। আমারই ভয়ে লোচন পলাইয়াছে; বেদেরা ভাবিয়াছে, আমারই জন্য তাহারা পুলিসের নজরবন্দী হইয়াছে; তাহাদের বিশ্বাস হইয়াছে যে, আমার উদ্দেশ্য তাহাদের সকলকেই জেলে দেওয়া। সেই দুৰ্দ্দান্ত মাগীটার আমার উপরে জাতক্রোধ হইবার আরও একটা কারণ ছিল। আমি যেভাবে তাহাকে নৌকামধ্যে আক্রমণ করিয়া বাঁধিয়া রাখিয়া আসিয়াছিলাম, তাহাতে সে কেন, অনেকে রাগ করিত।

    সে-ই আমার বিরুদ্ধে নানাকথা কহিয়া আমার উপরে বেদিয়াদের রাগ জন্মাইয়া দিয়াছে; কুঞ্জ না থাকিলে আমার বিপদের আশঙ্কা ছিল। কুঞ্জকে সকলে ভয় করিত, এইজন্য কেহ প্রকাশ্যভাবে আমার সম্বন্ধে কোন কথা আলোচনা করিতে সাহস করিত না।

    আমি তাহাদের ডেরায় পৌঁছিলে সকলেই আমাকে দেখিয়া সরিয়া যাইতে লাগিল। দুই-একজনকে কুঞ্জের কথা জিজ্ঞাসা করায় ছুটিয়া পলাইয়া গেল। আমি বেশ বুঝিতে পারিলাম, আমার উপস্থিতিতে সমস্ত ডেরায় একটা নীরব-গোলযোগ উপস্থিত হইয়াছে।

    আমি কিংকত্তব্যবিমূঢ় হইয়া দাঁড়াইলাম। এই সময়ে একটি ছোট কাপড়ের তাঁবুর মধ্য হইতে কি সেলাই করিতে করিতে কুঞ্জ বাহির হইল। পরক্ষণে তাহার দৃষ্টি আমার উপরে পড়িল, সে মৃদুমধুর হাসিয়া আমার নিকটে আসিল।

    আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “ভাল আছ ত কুঞ্জ?”

    কুঞ্জ সেইরূপ হাসিয়া ঘাড় নাড়িয়া বলিল, “হ্যাঁ।”

    আমি বলিলাম, “আমি তোমার সঙ্গে দেখা করিতে আসিলাম।”

    সে অবনতমস্তকে মৃদুস্বরে বলিল, “কোন প্রয়োজন আছে কি?”

    আমার মন যেন বলিয়া উঠিল, “প্রয়োজন তোমায় দেখা।” আমি প্রকাশ্যে বলিলাম, “হাঁ, একটা বিশেষ দরকার আছে।”

    “আসুন,” বলিয়া কুঞ্জ ফিরিল। আমি তাহার সঙ্গে সঙ্গে চলিলাম।

    সে ডেরা হইতে একটু দূরে একটি গাছের ছায়ায় আসিয়া দাঁড়াইল; বলিল, “আপনি একটু দাঁড়ান, আমি বসিবার কিছু আনি।”

    আমি বলিবার পূর্ব্বেই সে সত্বরপদে ডেরার দিকে ছুটিয়া গেল। আমি একাকী তথায় দাঁড়াইয়া রহিলাম।

    দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই সে একখানা কম্বল লইয়া ফিরিয়া আসিল। কম্বলখানা পাতিয়া আমাকে বলিল, “বসুন।”

    অষ্টাবিংশ পরিচ্ছেদ

    আমি বসিলাম। কুঞ্জ অবনতমস্তকে দাঁড়াইয়া গাছের একটা পাতা লইয়া শতখণ্ডে ছিন্ন করিতে লাগিল। আমি কিয়ৎক্ষণ ইতস্ততঃ করিয়া বলিলাম, “বসো।”

    কুঞ্জ বসিল—সেইরূপ অবনতমস্তকে বসিয়া রহিল, কোন কথা কহিল না। আমি তাহার এ ভাব দেখিয়া ইহার অর্থ কিছুই বুঝিতে পারিলাম না; কি বলিব, সহসা কিছুই স্থির করিতে পারিলাম না। অবশেষে বলিলাম, “একটা বিশেষ কাজে তোমার কাছে আসিয়াছি।”

    সে কেবলমাত্র বলিল, “বলুন।”

    আমি বলিলাম “ভিকরাজকে সেদিন ধরিয়াছি, বোধ হয়, শুনিয়াছ?”

    “হাঁ শুনিয়াছি।”

    “তুমি খবর না দিলে ধরিতে পারিতাম না।”

    “ইহারা সে কথা জানে না, তবে ইহারা ভিকরাজকেও চেনে না, লোচনকেও সকলে বড় ভালবাসিত না।”

    “এখন ইহারা তোমাকেই মানিতেছে?”

    “ইহারা আমাকে ভালবাসে।”

    “সেই বজ্জাত মাগীটা কি বলে?”

    “বোধ হয়, ভয়ে কিছুই বলে না, তবে আমাদের উপরে যে খুব রাগিয়াছে, তাহা নিশ্চয়।

    “ইহার সঙ্গে বোধ হয়, লোচনের এখনও খবরাখবর চলিতেছে?”

    “না, আমি তাহার উপরে নজর রাখিয়াছি; কই, কিছু জানিতে পারি নাই।”

    “সে ঘোড়াটা আছে?”

    “হাঁ, আছে।”

    “এখন কে সেটাকে দেখে-শুনে?”

    “সেই মাগীটাই দেখে।”

    “তাহা হইলে লোচনের কোন সন্ধান নাই?“

    “না, সে বোধ হয়, আর এ দেশে নাই।“

    “যাক্ সে কথা, আমি তোমার সম্বন্ধে দুই-একটা কথা জিজ্ঞাসা করিতে আসিয়াছি।”

    কুঞ্জ বিস্মিতভাবে আমার মুখের দিকে চাহিল; তাহার বিশাল চোখ দুটি আমার চোখের উপরে ঝুকিল, আমার হৃদয় যেন আলোড়িত হইয়া উঠিল; পরমুহূর্তেই সে আবার মস্তক অবনত করিল; অতি মৃদুস্বরে বলিল, “আমার কথা! আমার কি কথা জানিতে চাহেন?”

    এবার আমি সাহস করিয়া বলিলাম, “কুঞ্জ, তুমি ত ইদানীং আমার সঙ্গে এরূপভাবে কথা কহিতে না?”

    তাহার মুখ লাল হইয়া উঠিল। সে একটু পরে উত্তর দিল, “আমি ত সেই রকমই কথা কহিতেছি।”

    আমি আবেগপূর্ণ স্বরে বলিলাম, “না, সে রকম কথা কহিতেছ না, তুমি ত আমাকে ‘আসুন ‘ ‘বসুন’ এ সব বলিতে না।”

    তাহার মুখ আরও আরক্ত হইয়া উঠিল; সে অতি কষ্টে বলিল, “যেমন বলিবেন—সেই রকম—“

    আমি তাহাকে প্রতিবন্ধক দিয়া বলিলাম, “আবার—সেই—

    এবার সে হাসিল; বলিল, “কি বলিব—বলুন—বল!”

    আমি অতি কষ্টে আত্মসংযম করিলাম; নতুবা হয় ত আমি তাহার গণ্ডে চুম্বন করিতাম। আমি উৎসাহিতভাবে বলিলাম, “হাঁ, এই রকম—আগে যে রকম কথা কহিতে, তাহাই কর।”

    সে অবনতমস্তকে বলিল, “তাহাই করিব।”

    আমি তখন একেবারে কাজের কথা পাড়িলাম। বলিলাম, “কুঞ্জ, আমি তোমার নিজের সম্বন্ধে দুই-একটা কথা জিজ্ঞাসা করিতে চাই।”

    “আমি নিজের বিষয় নিজে কিছুই জানি না।”

    “আমি যেদিন মুর্শিদাবাদে তোমাদের ডেরায় আসি, লোচন সেইদিন বলিয়াছিল যে, তোমার মা বেদে ছিলেন বটে, কিন্তু তোমার বাবা লালা ছিলেন, এ কি সত্য?”

    “ছেলেবেলার কথা আমার কিছুই মনে নাই, আমার মাতাপিতাকে আমি কখনও দেখি নাই, তবে এক লালার কাছে ছিলাম; তিনি আমাকে বড় ভালবাসিতেন; তিনিই মাষ্টার রাখিয়া আমাকে বাঙ্গালা লেখাপড়া শিখাইয়া-ছিলেন। তাঁহার মৃত্যু হইলে লোচন আমাকে লইয়া আসে, সেই পৰ্য্যন্ত আমি ইহাদের সঙ্গেই আছি।”

    “তিনি হিন্দুস্থানী, তোমাকে বাঙ্গালা শিখাইলেন কেন?”

    “জানি না।”

    “তোমাকে কি তিনি বাঙ্গালী বলিয়া জানিতেন?”

    “তাহাও জানি না।”

    “তিনি যে তোমার পিতা নহেন, তাহা কেমন করিয়া জানিলে?”

    “তিনি একদিন আমায় বলিয়াছিলেন যে, আমি তাঁহার মেয়ে নই। তাঁহার স্ত্রী একদিন আমার উপর রাগ করিয়া গালি দিতে দিতে বলেন যে, আমি তাঁহাদের মেয়ে নই; আমি জানিতাম আমি তাঁহার মেয়ে, আমার মা নাই, সেইজন্য গালি খাইয়াও তাঁহার কোলে ছুটিয়া গিয়া পড়িয়া তাঁহাকে এ কথা জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলিলেন, হাঁ, যথার্থই আমি তাঁর মেয়ে নই, আমি বেদের মেয়ে, আমি লোচনের মেয়ে, লোচন মানুষ করিবার জন্য আমাকে তাঁহার কাছে রাখিয়া গিয়াছে।”

    ‘লোচনের সঙ্গে তাঁহার কি সম্বন্ধ ছিল?”

    “তা জানি না।”

    “এই ভিকরাজকে আর কখনও আগে দেখিয়াছিলে বলিয়া মনে হয়?”

    “ছেলেবেলায় যেন উহাকে কোথায় দেখিয়াছি বলিয়া মনে হয়। ইহাকে প্রথম দিন যখন দেখিয়াছিলাম, সেইদিনই এ কথা মনে হইয়াছিল।”

    “কোথায় দেখিয়াছিলে, মনে করিয়া দেখ দেখি—সেই লালার বাড়ীতে নয়?”

    “অনেকদিন মনে করিবার চেষ্টা করিয়াছি, কিন্তু কিছুতেই মনে হয় নাই। তবে এইটুকু যেন মনে হয় যে, আমি ইহার বাড়ী গিয়াছিলাম, একটি মেয়ের সঙ্গে খেলা করিয়াছিলাম।”

    “কোথায় ব’লে মনে হয়, মনে করিবার জন্য বিশেষ চেষ্টা কর দেখি?”

    “কিছুই মনে করিতে পারি না।”

    “সেই সময়ের কেহ-না-কেহ তোমাদের দলে এখন থাকিতে পারে?”

    “যে আছে, সে কিছুই বলিবে না।”

    “কে সে?”

    “লোচনের সেই বিশ্বাসী মাগীটা“

    “কোনদিন তাহাকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলে?”

    “না, জিজ্ঞাসা করিবার দরকার কি?”

    “তোমার বাপ মা কে, তোমার জানিবার কখনও ইচ্ছা হয় নাই?”

    “আগে হয় নাই, এখন—”

    তাহার মুখ আবার আরক্তিম হইল, সে নীরব হইল।

    আমি সোৎসাহে বলিলাম, “এখন—এখন কি তা জানিবার ইচ্ছা হইয়াছে?”

    ঊনত্রিংশ পরিচ্ছেদ

    কুঞ্জ, কোন কথা কহিল না, আমি স্পষ্টই তাহার মনের ভাব বুঝিতে পারিয়াছিলাম। সে যে আমাকে ভালবাসে, তাহা আমি বেশ বুঝিতে পারিয়াছিলাম, যেটুকু সন্দেহ ছিল, তাহা আজ দূর হইল। আমি পুনঃ পুনঃ প্রেমপূর্ণস্বরে তাহাকে জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলাম, “কেন কুঞ্জ, এখন তোমার বাপ-মার বিষয় জানিতে ইচ্ছা হইয়াছে? এতদিন হয় নাই—এখন হইয়াছে কেন? কেন? আমায় বল।”

    সে দুই-একবার কথা কহিতে গিয়া বলিতে পারিল না; আমি তখন সাদরে তাহার হাত ধরিলাম, সে হাত সরাইল না; বোধ হয়, সরাইবার ক্ষমতা তাহার ছিল না; আমি দেখিলাম, বাত্যাবিতাড়িত বংশপত্রের ন্যায় তাহার হাত কাঁপিতেছে। আমি আবার তাহাকে এই কথা জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলাম, তখন সে অস্ফুষ্টস্বরে বলিল, “তা ত জানি না।”

    আমরা যে গাছতলায় বসিয়াছিলাম, সেখান হইতে কাহাকেও দেখা যায় না। আমরা গোপনে কথা কহিব বলিয়াই কুঞ্জ সেই স্থানে আমাকে আনিয়াছিল; আমি একবার চারিদিকে চাহিয়া দেখিলাম, কেহ কোথাও নাই, আমি আত্মসংযমে অসমর্থ হইলাম; মুহূৰ্ত্তমধ্যে কুঞ্জকে বুকে টানিয়া লইয়া তাহার গণ্ডে, ওষ্ঠে শত শত চুম্বন করিলাম। গোধূলির রক্তরাগের ন্যায় তাহার মুখখানি আরক্ত হইয়া অপূৰ্ব্বসৌন্দৰ্য্য সৃষ্টি করিল।

    তাহার নিঃশ্বাস সবলে পতিত হইতেছিল, আমি বুঝিলাম, সে অতি কষ্টে আত্মসংযম করিয়া ধীরে ধীরে বলিল, “আমি বেদে——আমি—আপনার—আমায় মাপ করুন।”

    এই বলিয়া কুঞ্জ উঠিতেছিল—আমি সবেগে বলিলাম, “কুঞ্জ, আমি তোমাকে বিবাহ করিব, তুমি আমায় বিবাহ করিবে কি না, বল?”

    সে অস্ফুষ্টস্বরে বলিল, “আমি বেদের মেয়ে—আমি—“

    আমি ব্যগ্রভাবে উন্মত্তের মত বলিলাম, “তুমি বেদের মেয়ে নও, তুমি কায়স্থ—তুমি অমূল্যের আত্মীয় আনন্দকুমার বসু মহাশয়ের কন্যা।”

    এতক্ষণে সে প্রকৃত বিস্মিত হইয়া আমার মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। তখন আমি বলিলাম, “এ কথার প্রমাণ আমি তোমাকে দিতে পারিব না, তবে নিশ্চয়ই জানিয়ো, এ কথা ঠিক, আর আমার নাম যদি অমরনাথ হয়, তবে আমি ইহার প্রমাণও বাহির করিব।”

    হায় রে যৌবন-সুলভ উদ্দীপনা, আবেগ, উৎসাহ, আশা তেজ! এ বৃদ্ধ বয়সে যখন সেই সময়ের সে সব কথা মনে হয়, তখন যেন তাহারই ভিতরে ডুবিয়া যাই। কুঞ্জ কোন কথা কহিল না, নীরবে বসিয়া রহিল। প্রথম প্রেমের প্রথম সংযোগে প্রেমিক প্রেমিকার মনের ভাব বর্ণন এ পৰ্য্যন্ত কোন কবি করিতে পারেন নাই।

    আমি তাহার হাত ধরিয়া আবার বলিলাম, “বল, বিবাহ করিবে?

    সে পুনঃপুনঃ চেষ্টা করিয়াও কোন উত্তর দিতে পারিল না; আমি নিতান্ত পীড়াপীড়ি করায় সে অবশেষে অতি মৃদুস্বরে বলিল, “আমি কি বলিব?”

    আমি স্নেহভরে দুই হস্তে তাহার মুখখানি তুলিয়া আবার চুম্বন করিলাম। সে চক্ষু নিমীলিত করিল, তৎপরে অবসন্ন হইয়া আমার স্কন্ধে মস্তক রাখিয়া ঢলিয়া পড়িল। আমি তাহাকে সানুরাগে বুকে টানিয়া লইয়া ধীরহস্তে তাহার আনয়নবিলম্বী অলকদাম সরাইয়া দিতে লাগিলাম।

    আমার বয়স তখন পঁচিশ বৎসরের অধিক নহে, তাহার বয়সও পঞ্চদশের বেশি নহে, দুইটি প্রাণ স্বাভাবিক নিয়মে দুইটি ক্ষুদ্র স্রোতস্বতীর ন্যায় একত্রে মিলিত হইয়াছিল, এ বেগের প্রতিরোধ করিবার ক্ষমতা কাহার?

    তাহার পর আমরা কতক্ষণ কি ভাবে কাটাইলাম জানি না—হয় ত কুঞ্জ সংজ্ঞাহীন হইয়াছিল, অথবা সে নিবিষ্টমনে কি ভাবিতেছিল। আমার স্কন্ধে তাহার মস্তক বিলুণ্ঠিত হইতেছিল, তাহার দেহলতা অবসন্নভাবে আমার বক্ষোলগ্ন ছিল।

    তাহাকে তিলমাত্র বিরক্ত করিতে আমার সাহস হয় নাই, আমি এক অনির্বচনীয় স্বর্গীয়-আনন্দে বিভোর হইয়া বসিয়া ছিলাম। কতক্ষণ এইরূপ বসিয়া ছিলাম, জানি না—সহসা সে মুখখানি ম্লান করিয়া চকিতভাবে নিজেকে মুক্ত করিয়া আমার নিকট হইতে সরিয়া বসিল—নীরবে বসিয়া রহিল। তখন তাহার সর্ব্বাঙ্গে স্বেদশ্রুতি হইতেছিল, ঘন ঘন নিঃশ্বাস বহিতেছিল, এবং তাহার ম্লান মুখখানি বড় গম্ভীর দেখাইতেছিল। আমি ভীত হইয়া বলিলাম, “কুঞ্জ, তুমি রাগ করিলে?”

    কুঞ্জ কথা কহিল না, বসিয়া বসিয়া ঘামিতে লাগিল। তখন আমি আবার উঠিয়া গিয়া কুঞ্জকে বুকে টানিয়া লইয়া বলিলাম, “কুঞ্জ, যদি তুমি রাগ করিয়া থাক, তুমি আমায় ক্ষমা কর।”

    কুঞ্জ কি বলিতে যাইতেছিল, বলা হইল না। বৃক্ষান্তরাল হইতে কে খল খল্ করিয়া কঠোর হাস্য করিয়া উঠিল।

    আমি তখনই কুঞ্জকে ছাড়িয়া দিলাম।

    কুঞ্জ চমকিত হইয়া মাথা তুলিল; ব্যাকুলভাবে চারিদিকে চাহিল, পরক্ষণে কি ভাবিয়া ক্ষিপ্ৰবেগে উঠিয়া দাঁড়াইল। সে আর একবার চারিদিকে চাহিল, চাহিয়া আমার মুখের দিকে চাহিল— কোন কথা না কহিয়া চঞ্চলচরণে ডেরার দিকে ছুটিল। তখনই আমি ছুটিয়া গিয়া তাহাকে ধরিলাম। সে অত্যন্ত উদ্বিগ্নমুখে বলিল, “আমাকে ছাড়িয়া দিন, আমাকে ক্ষমা করুন—আমি ছেলেমানুষ, যাহা করিয়াছি, অন্যায় করিয়াছি—কাল আপনিই আমাকে ঘৃণা করিবেন।”

    আমি সোৎসাহে বলিলাম, “কুঞ্জ, আমি তোমাকে ঘৃণা করিব? কেন—তুমি কি করিয়াছ, যাহাতে তোমাকে ঘৃণা করিব? নানা এ কথা মুখে আনিয়ো না।”

    তাহার দুই চক্ষু জলে পূর্ণ হইয়া আসিল, সে সজলনয়নে কাতর কন্ঠে বলিল, আমাকে ক্ষমা করুন—আজ ক্ষমা করুন—আমার মাথার ভিতরে কিরূপ করিতেছে, এরূপ আনন্দ আমি আর কখনও পাই নাই, আমার মাথার ঠিক নাই—আমি গরীব—বেদের মেয়ে—কিছুই জানি না, বুঝিতে পারি না; দয়া করিয়া আপনি আজ যান্, না হইলে হয় ত আমি পাগল হইয়া যাইব—” আর বলিতে পারিল না।

    আমি কি করিব, কি বলিব, বুঝিতে পারিলাম না; কুঞ্জের হাত ছাড়িয়া দিলাম। সে সত্বর সে স্থান পরিত্যাগ করিয়া গেল। আমি সেইখানে স্তম্ভিত হইয়া দাঁড়াইয়া রহিলাম।

    কতক্ষণ এইরূপভাবে দাঁড়াইয়া ছিলাম, জানি না; আবার সেই কঠোর হাস্য আমার কর্ণে ধ্বনিত হওয়ায় জ্ঞান হইল; আমি চমকিত হইয়া ফিরিলাম, কিন্তু কাহাকেও দেখিতে পাইলাম না।

    দেখিলাম সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছে, বোধ হয়, রাত্রি আটটা বাজিয়া গিয়াছে, এত শীঘ্র এত সময় কাটিয়া গিয়াছে, আমার জ্ঞান ছিল না। আমি নৌকা ঘাটে রাখিয়া পদব্রজে আসিয়াছিলাম। তাহারা আমার এত বিলম্ব দেখিয়া না জানি কি মনে করিতেছে।

    আমি সত্বরপদে ঘাটের দিকে চলিলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত্যু-রঙ্গিনী – পাঁচকড়ি দে
    Next Article রঘু ডাকাত – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }