Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নরকের দ্বার খোলা ২ – বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী

    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী এক পাতা গল্প277 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিশীথিনী

    কবিতা লিখে হালে পানি না পেয়ে অগত্যা স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বসেছিলাম। এ যখনকার কথা, তখনও স্কুলের মাস্টারমশাই হওয়ার পরীক্ষায় কাউন্সেলিং নামক কর্মক্ষেত্র স্বনির্বাচনের পদ্ধতি চালু হয়নি। সুতরাং অনিচ্ছাসত্ত্বেও পরীক্ষায় বসার ফল হাতেনাতে পেয়ে গেলাম। শেষের দিকে র‍্যাঙ্ক করার সুবাদে কিনা জানি না, চাকরি হল জেলার বেশ শেষের দিকেই। অর্থাৎ একটা বেশ জঙ্গুলে জায়গা, উঁচু নিচু পাথুরে রাস্তা, খানাখন্দ এবং গোটা চল্লিশ বাড়ি ঘেরা একটি সদ্যনির্মিত স্কুল। জায়গাটার নাম ইচ্ছে করেই গোপন রাখছি। আমার পরেও তো ওই স্কুলে শিক্ষক লাগবে। শিশুগুলোর কি দোষ? ওদের কেন পড়াশুনা থেকে বঞ্চিত করি? তবে জায়গার বর্ণনা শুনে কেউ যদি স্কুলটিকে চিনে ফেলেন ও সেখানে চাকরি নিতে অসম্মত হন, তবে সে দোষ আমার নয়।

    বললাম বটে বাড়ি, কিন্তু ওগুলিকে কুঁড়েঘর বলাই যুক্তিযুক্ত, আর স্কুলে আমিই প্রথম ও একমাত্র শিক্ষক। বলাই বাহুল্য, গোটা গ্রাম প্রথমদিন আমাকে দেখতে এসেছিল। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারি বিধু মণ্ডল ও আরও কয়েকজন সদস্যের উৎসাহে ও চেষ্টায় স্কুল তৈরি হয়েছিল। কাজেই তাঁদের মধ্যে বেশ একটা মাতব্বর গোছের ভাব দেখতে পেলাম। এখানকার লোকেরা অধিকাংশই জঙ্গলের কাঠকুটো কুড়িয়ে বা দু-মাইল দূরের ইটভাটায় কাজ করে দিন চালায়। পড়াশুনো প্রায় কেউই জানে না। হংসমধ্যে বকযথা এইট ফেল বিধুবাবু এতকাল ছেলেমেয়েদের পড়াতেন। ইতিমধ্যে আমি এসে পড়ায় তিনি কতটা খুশি আর কতটা রুষ্ট হলেন, তা ভালো বোঝা গেল না। তবে এটুকু আমি বুঝে নিলাম যে, জলে থেকে কুমীরের সঙ্গে বিবাদ না করে বরং ভাব করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই প্রথম থেকেই বিধুবাবুর কাছে সারেন্ডার করলাম। কিছুই বুঝি না হাবভাব করে তাঁর কাছ থেকে স্কুলের কাজকর্ম বুঝে নিতে শুরু করলাম। তিনি কীভাবে কাজগুলি করতেন, তা শুনতে শুনতে মাঝে মাঝে মুখে অবাক বিস্ময়ের ভাব ফুটিয়ে তুললাম! কখনো বা ‘কীভাবে যে সব করব, আপনি দয়া করে পাশে থাকবেন’ জাতীয় কথা বলে তাঁর মন জয় করার চেষ্টা করলাম, এবং এরকম ঘণ্টাখানেক চলার পর মনে হল আমি কিছুটা সফল হয়েছি। বিধুবাবুর মুখে একটু আত্মপ্রসাদের হাসি ফুটে উঠল। তিনি মাঝে মাঝেই পিছনে দাঁড়ানো ভিড়ের দিকে দৃষ্টিনিক্ষেপ করে বোঝাতে চাইলেন, ‘দেখলে তো, কলকাতার পড়ালেখা জানা মাস্টারও আমার চেয়ে বেশি জানে না। তিনি যতই গর্বে ফুলতে লাগলেন, ততই আমার অভীষ্ট সিদ্ধ হতে শুরু করল।

    *****

    (দুই)

     

     

    সমস্যা হল অন্য জায়গায়। কর্মক্ষেত্র থেকে আমার বাড়ির দূরত্ব এতটাই যে, সেখানে যেতে এরোপ্লেন ছাড়া আর সবকিছুই চড়তে হত। দিনে আসা যাওয়ায় প্রায় সাত আট ঘণ্টা লেগে যেত। এভাবে মাসখানেক কাটানোর পরে আমার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করল। নিজেই বুঝতে পারছিলাম, এভাবে বেশিদিন চলবে না। বাধ্য হয়ে কথাটা পাড়লাম বিধুবাবুর কাছে। স্কুলের কাছাকাছি যদি কোন মোটামুটি থাকার মতো জায়গা পাই, তাহলে সেখানে মোটঘাট নিয়ে চলে আসতাম। আর নিজের কাজ চালাবার মতো রান্না আমি নিজেই করতে পারব। আমার প্রস্তাব শুনে বিধুবাবু কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে চেয়ে রইলেন, “বলেন কী, কলকাতার লোক আপনি, এই জঙ্গলে থাকবেন কী করে!”

    আমি মৃদু হেসে তাঁকে জানালাম যে, আমার কোনও উপায় নেই। চাকরিটা আমার নিতান্তই প্রয়োজন। আর নতুন পরিবেশে থাকতে আমার বেশ ভালোই লাগবে। আমার কথা শুনে বিধুবাবু তখনকার মতো কিছু না বলে চলে গেলেন। সেদিনই স্কুল ছুটির কিছুক্ষণ আগে আবার এলেন। বললেন,”অনেক ভাবলাম, বুঝলেন? এখানে আপনার থাকার মতো জায়গা বলতে আছে শুধু সরকারি গেস্টহাউস। সেই কবে ওষুধের বিরাট কারখানা হবে বলে সরকারি বাবুরা যাওয়া আসা শুরু করেছিলেন। তাঁদের থাকার জন্য তৈরি হয়েছিল গেস্টহাউসখানা। তাও প্রায় বছর পনেরো তো হবেই। তারপর কী সব সমস্যায় কারখানাও আর হল না, এমনি আর কে এই জায়গায় আসবে বলুন। তাই সেই থেকে পড়েই রয়েছে। ধুলোবালি, ইঁদুর ছুঁচোর উৎপাত। সাপও থাকতে পারে।”

     

     

    আমি বললাম, “সে কী, সরকারি গেস্টহাউস, দেখাশোনার লোক নেই?” “আছে একজন। মোতি। দিনরাত হাঁড়িয়া গিলে পড়ে থাকে। সরকারি মাইনেটুকু পায়। তাই দিয়ে সংসার চলে। ব্যাস, এই। দেখাশুনা মানে চাবিটা ওর কাছে আছে।”

    “আমাকে একটু নিয়ে যাবেন মোতির কাছে?”

    “আমি বলি কি, আমার বাড়িতে একটা ঘর একটু সাফসুতরো করে দিই, আপনি ওখানে থাকুন।”

    বিধুবাবু বললেন ঠিকই, কিন্তু চিরদিন স্বাধীনভাবে চলতে অভ্যস্ত আমার এ প্রস্তাব ঠিক গ্রহণযোগ্য লাগল না। প্রথম প্রথম কিছু না বললেও তারপরই আস্তে আস্তে শুরু হবে নানা ঝামেলা। রান্নার ঝাঁঝ কেন আসছে, বাথরুমে কেন জল বেশি খরচ হচ্ছে, সবচেয়ে বড়ো কথা আমি এখানে থাকলে তিতির মাঝেমধ্যে আসবেই। তাহলে তো খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। এটাও আমার আর একটা কারণ নিরিবিলিতে থাকতে চাওয়ার। সরকারি গেস্টহাউসটা আমি যেতে আসতে দেখেছি। ততটা খারাপ মনে হয়নি, যতটা বিধুবাবু বলছেন। তাই ওটা পাওয়ার জন্য আমি মনে মনে পাগল হয়ে উঠেছিলাম। গ্রামে ঢোকার মুখে নির্জন আগাছায় ঢাকা গেস্টহাউসটা যেন আমাকে ডাকছিল। মোতিকে মাস গেলে কিছু টাকা দিলেই মনে হয় ও অরাজি হবে না। আর এই পাণ্ডববর্জিত জায়গায় কোনও সরকারি আমলা বা মন্ত্রী থাকতে আসবেন বলে তো মনে হয় না। বিধুবাবুর প্রস্তাব এককথায় নাকচ করে দিয়ে দশ মিনিট আগেই স্কুলে ছুটি দিয়ে দিলাম। বেরিয়ে পড়লাম মোতির উদ্দেশ্যে বিধুবাবুর সঙ্গে।

     

     

    মোতিকে তার বাড়িতেই পাওয়া গেল। সরকারি কর্মচারী বলে কথা। বাড়িঘর বেশ ভালো মানের হলেও মোতির চেহারা দেখে ভক্তি এল না। ভর বিকেলবেলাতেও তার দু’চোখ রক্তজবার মতো লাল। সোজা হয়ে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে না-পেরে দাওয়ার ওপরে ধপ করে বসে বিধুবাবুর কাছে সব শুনল। শুনে টুনে আমার দিকে একবারও না তাকিয়ে বলল, “মাহিনেমে পাঁচশো রুপিয়া দেনা পড়েগা।”

    আমি যেন হাতে চাঁদ পেলাম। অত বড়ো গেস্টহাউসের ভাড়া মাসে মাত্র পাঁচশো। নেশার ঘোরে বলছে না তো? আবার নেশা কাটলে অন্য কথা বলতে পারে। যাই হোক, আর দেরি করলাম না। পকেট থেকে দুশো টাকা বের করে ওর হাতে গুঁজে দিলাম। বললাম, “এটা অ্যাডভান্স। মাস গেলে আরও পাঁচশো করে পাবে। কিন্তু বাড়িটা একটু পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখতে হবে।”

    অপ্রত্যাশিতভাবে দুশো টাকা পেয়ে মোতির নেশায় লাল চোখদুটো চকচক করে উঠল। বলল, “চিনতা মাত কর না মাস্টারবাবু, উও মেরা আউরত সব কর দেগি।”

     

     

    আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বিধুবাবুর দিকে তাকালাম। উনি বললেন, “মোতির বউ। খুব ভালো মেয়ে।” আমি আশ্বস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। পরের সপ্তাহেই পাকাপাকিভাবে ওখানে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে লাগলাম।

    *****

    (তিন)

    এবার একটু তিতিরের প্রসঙ্গে আসি। তিতির আমার প্রেমিকা, আমার বান্ধবী, আমার কবিতা লেখার অনুপ্রেরণা। ওর সঙ্গে আমার পরিচয় সেই প্রাইমারি স্কুলে। তারপর থেকে অদ্ভুতভাবে হাইস্কুলে, কলেজে সবজায়গায় আমরা একসঙ্গে পড়েছি। কলেজে আমার অনার্স ছিল বাংলায়, তিতিরের ছিল ইংরেজি। এছাড়া আর কোনও পার্থক্য ছিল না আমাদের মধ্যে। আমার কবিতার সবচেয়ে বড়ো শ্রোতা, সমঝদার ও সমালোচক তিতিরই। আজ অবধি আমার কোনও কবিতা ও ভালো বলেনি। খালি বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়ে আর বলে, ‘আরও ভালো করতে হবে।’ কিন্তু আমি জানি এটা ওর মনের কথা নয়। কারণ অন্য কেউ আমার কবিতার প্রশংসা করলে ওর মুখে চোখে যে দীপ্তি ফুটে ওঠে, তা একমাত্র মনের খুব কাছে না থাকলে সম্ভব হত না। ও যে আমাকে ভালোবাসে, এটাও আমি এভাবেই বুঝেছিলাম। এখন আমরা একটা ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকি। আমার স্কুলের কাছে থাকার সিদ্ধান্তটাও তিতিরেরই নেওয়া। ওই আমাকে একদিন বলল, “তুই তো ওখানে গিয়ে থাকতে পারিস।”

     

     

    এর আগে আমি এ কথা ভাবিনি তা নয়। কিন্তু তিতিরের কথা ভেবেই পিছিয়ে গেছি। ওকে ছাড়া থাকা আর নিঃশ্বাস না-নেওয়া যে একই কথা। তাই ওর মুখে এ কথা শুনে প্রথমে আমার খুব অভিমান হল। তারপর তিতির আমাকে বোঝাল, “দ্যাখ অনি, পরের বছর আমিও পরীক্ষায় বসব, কোথায় চাকরি পাব আমরা কেউ জানি না। তবে চাকরি যখন আমি করবই, তখন যেখানেই পাই, সেখানেই যাব। তখন তো আমাদের আলাদা থাকতে হতেও পারে। তাহলে এখনই নয় কেন? এতটা যেতে আসতে তোর শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এ আমি কিছুতেই দেখতে পারব না। তাছাড়া প্রতি মাসে তুই বাড়িতে আসবি, নয়ত আমি যাব তোর ওখানে ছেলেমানুষি করিস না। ওখানেই থাকার জায়গা দ্যাখ।”

    এই কথার পরে আর যুক্তি চলে না। তিতির এখন একটা স্কুলে পার্ট-টাইম পড়ায়। ও যেভাবে চাকরি পাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাতে হয়তো পরের বছর লেগেও যাবে। আর তিতির যা স্বাধীনচেতা মেয়ে, তাতে পৃথিবীর শেষ স্টেশনে হলেও ও চাকরি ছাড়বে না। ওর এই গোঁ-এর পরিচয় আমি আগেও পেয়েছি। বাবা মারা যাওয়ার পর যখন মা, দিদি সবাই আমার কবিতা লেখার বিরুদ্ধে চলে গেল, তখন একমাত্র তিতিরই আমার পাশে ছিল। চাকরির চেষ্টা না করে আমি কেন কবিতা লিখে সময় নষ্ট করছি, আমার মতো হাজার হাজার কবি ফ্যা ফ্যা করে ঘুরছে, অকালকুষ্মাণ্ড ছেলে ইত্যাদি নানা বাক্যবাণে প্রতিদিন বিদ্ধ হতাম আমি। যদিও ওপরের সবগুলিই আমার জানা কথা, তাও রোজ হয় মা, নয় দিদির মুখে এগুলি শুনে শুনে ক্লান্ত লাগত। দিদি রোজ শ্বশুরবাড়ি থেকে আসত শুধু আমাকে এই কথাগুলো বলার জন্য। কখনো কখনো জামাইবাবুও আসতেন সঙ্গে। আইটি সেক্টরের বড়ো চাকুরে জামাইবাবু পোকামাকড় দেখছেন, এমন দৃষ্টিতে তাকাতেন আমার দিকে। দিদি একদিন মাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেল ওর কাছে। মা চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলেন। যদিও জানতাম, দিদির ছেলের আয়া হিসেবে মায়ের অ্যাপয়েন্টমেন্ট হল, তাও মুখে কিছু বলতে পারিনি। তখনও তিতির আমাকে সান্ত্বনা দিত। বলত, “চেষ্টা করে যা অনি, দেখবি একদিন তোর কবিতার বই ছেপে বেরোবে। সবাই চিনবে তোকে। আর আমি গর্ব করে বলব, বিখ্যাত কবি অনির্বাণ সিংহের স্ত্রী আমি।” কিন্তু আর আমি অপেক্ষা করিনি। এরপরেই স্কুল সার্ভিসে বসা ও চাকরি। চাকরি পেয়েই উঠে এসেছিলাম তিতিরের ফ্ল্যাটে। তিতিরের বাবা-মা নেই। জন্মের সময় মা এবং ইলেভেনে পড়ার সময় বাবাকে হারায় তিতির। সেইজন্যই এত স্বাধীনচেতা ও আত্মনির্ভরশীল তিতির। ওর বাবা ওর জন্য প্রচুর টাকা রেখে গিয়েছিলেন। তাই অভাবে পড়তে না হলেও একটা সতের-আঠারো বছরের মেয়ের একা বাস করা খুব সহজ ছিল না। এই সময়গুলোতে ওর পাশে ছিলাম আমি। ওর কোনও আত্মীয় ওর খোঁজ করেনি। যে দু-চারজন করেছিল, কিছুদিনের মধ্যেই তাদের লক্ষ্য যে তিতিরের টাকা, তা বুঝে তিতির নিজেই তাদের কাটিয়ে দেয়। আমি তিতিরের ফ্ল্যাটে উঠে আসার পর চারপাশে অনেক কথা শুনেছি। প্রতিবেশিদের, আত্মীয়দের। দিদি তো একদিন উজিয়ে এসে যা নয় তাই শুনিয়ে গেল আমাকে আর তিতিরকে। আর যাওয়ার সময় আমাদের বাড়ির চাবিটা নিয়ে গেল। শুনেছি বাড়িতে দিদি ভাড়া বসিয়েছে। আমার তাতে কোনও আগ্রহ নেই। আমি আর তিতির বেশ আছি। বিয়ে হয়তো কখনো করব, কিন্তু কোনও প্রয়োজন এখনও বোধ করিনি। তিতির বলে, “কেন, বিয়ে করলে তুই কি আমাকে এখনকার চেয়ে বেশি ভালোবাসবি? এই বেশ ভালো, যখন ইচ্ছে করবে না, চলে যাবি আমাকে ছেড়ে। বিয়ের বন্ধন থাকলেই তিক্ততা নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। সে আমি সইতে পারব না। তার চেয়ে এই ভালো।” তাই আমরা বিয়ে করিনি।

     

     

    *****

    (চার)

    চার পাঁচ দিন হল আমি সরকারি গেস্টহাউসে উঠে এসেছি। মোতির বউ বেশ সাফসুতরো করে দিয়েছে ঘরদুটো। একটা ঘরের কোণেই আমার রান্নার ব্যবস্থা করেছি। কারণ রান্নাঘরটা গেস্টহাউসের পিছনদিকে। রান্নাঘরের পিছনে বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে ঝোপজঙ্গল ও তারপরে একটা বুজে আসা খাল। সাপখোপের উপদ্রব হতে পারে ভেবে রান্নাঘর আর ব্যবহার করি না। আর রান্নাই বা করি কী! দুবেলা দুটো ভাতে ভাত, বড়োজোর একটা ডিমসেদ্ধ, এর জন্য ঘরের কোণই যথেষ্ট। এখানে আমার আর একটা সুবিধা হয়েছে। আমার কবিতা লেখার অভ্যেসটার গোড়ায় বেশ জল ঢালা যাচ্ছে। দিনে সাত আট ঘণ্টা আসা-যাওয়া করে অভ্যেসটা প্রায় চলেই যাচ্ছিল। এখানে থাকতে শুরু করার পর থেকে শুধু সময় আর সময়। তবে অসুবিধা একটাই, তা হল ঘরদোর পরিষ্কার করা, গুছিয়ে রাখা আর বাসন মাজা। এই কাজগুলো আমি পারি না বলে ফ্ল্যাটে রান্না আমি করতাম আর তিতির এগুলো করত। কিন্তু এখানে এসে ভারী বিপদে পড়েছি। ভাবছি বিধুবাবুকে বলব একটি কাজের মহিলা জুটিয়ে দিতে। অবশ্য এই দরিদ্র জায়গায় তা জোটানো কোনও বড়ো ব্যাপার না। স্কুল থেকে দুপুরে গেস্টহাউসে এসে ভাত খেয়ে যাই। তাই ছুটির পর শুধু চায়ের পালা। সেদিন স্কুল থেকে ফিরে খুব ক্লান্ত লাগছিল। গরমটাও পড়েছে বেশ। এখানে কারখানার হাইপে ইলেকট্রিকের পোস্ট বসানো হয়েছিল। কিন্তু কারখানার মতো ইলেকট্রিকও সুদূরপরাহত থেকে গেছে। তাই সন্ধের পর হ্যারিকেন ও হাতপাখাই ভরসা। আমি অবশ্য সঙ্গে ছয় ব্যাটারির টর্চ রাখি। রাতবিরেতে বাথরুমে যেতে কাজে লাগে।

     

     

    ক্লান্তিতে কখন যেন চোখে ঘুম জড়িয়ে এসেছিল। প্রচণ্ড গরমে ঘামতে ঘামতেও হাতপাখা নাড়ার যেন ইচ্ছেটুকু হচ্ছিল না। হঠাৎ একটা খুটখাট শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। ঘরে হ্যারিকেন জ্বলছে। যদিও আলোটা কমানো তবু তাতেই বোঝা যাচ্ছে হ্যারিকেনের চিমনিটা ঝকঝক করছে। এই কাজটি যে আমি করিনি, তা বেশ ভালোই জানি। একদিন হ্যারিকেন জ্বালিয়ে তার চিমনিতে যে পরিমাণ ভুষোকালি জমেছিল, তা পরিষ্কার করা আমার কাজ নয়। আজই ভেবেছিলাম, এ কাজ করার চেয়ে সপ্তাহে একবার করে চিমনি পালটে নেওয়া অনেক সহজ। তাছাড়া আমি যখন এসে শুয়েছি, তখনও দিনের আলো রয়েছে। হ্যারিকেন জ্বালানোর দরকার হয়নি। তবে এটা কে করল? ঘুমচোখে এসব ভাবতে ভাবতেই চোখে পড়ল, ঘরের মধ্যে একটা মূর্তি ঘোরাফেরা করছে। বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। তারপর হঠাৎ মনে হল, বিধুবাবু কি কোনও কাজের মহিলাকে পাঠালেন? আজই সবে বলেছিলাম। হতে পারে উনিই পাঠিয়েছেন। না হলে আর কে হবে? বিছানায় উঠে বসলাম। গলা খাঁকারি দিয়ে বললাম, “কে? কে আপনি?”

    মূর্তিটা এক মুহূর্ত একটু থমকে গেল। তারপর একহাত ঘোমটার তলা থেকে নুপুরের মতো সুরেলা কণ্ঠ বলে উঠল, “জি কমলি! মোতি কি বিবি।”

     

     

    ওঃ, মোতির বউ! বিধুবাবু তাহলে ওকেই পাঠিয়েছেন। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। ঘুম ভাঙার পর থেকেই খেয়াল করছিলাম, কমলির উপস্থিতি সারা ঘরে একটা সুগন্ধ সঞ্চার করেছে।

    কমলি দেখলাম বেশ খাটিয়ে মেয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার ঘরবাড়ি ঝকঝকে করে এক বালতি জল ভরে রেখে দেখলাম স্টোভ জ্বালানোর বন্দোবস্ত করতে লাগল। আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম, “তুমি রান্নাও করবে?”

    একহাত ঘোমটার হ্যাঁ বাচক ওঠানামায় বুঝলাম আমি ঠিকই ভেবেছি। বিধুবাবুর সঙ্গে ওর টাকাপয়সার কথা বলে নিতে হবে। রাতের রান্না করে চলে গেল কমলি। আর রাতে খেতে বসে, রান্না ভালো করি বলে আমার যে গর্ব ছিল, তা কমলির রান্না মুখে দিতে দিতে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেল।

    *****

    (পাঁচ)

     

     

    শনিবার সকাল থেকেই তিতিরের জন্য মন কেমন করতে লাগল। স্কুল ছুটির পর কোনওক্রমে বাড়ি ফিরে দু-চারটে জামাকাপড় নিয়ে রওনা হয়ে গেলাম কলকাতা। যদিও জানি, প্রতি সপ্তাহে এভাবে যাওয়া হবে না। কারণ সদ্য তৈরি স্কুল বলে তার প্রচুর কাজ বাকি রয়েছে। নানা চিঠিপত্র লিখে অনুদান জোগাড় করা, পরের বছর যাতে আরও শিক্ষক পাওয়া যায় সেজন্য রিকুইজিশন পাঠানো, টয়লেট গ্রান্ট আদায় ইত্যাদি কাজ রবিবারেই করে রাখতে হয়। সারা সপ্তাহ তো বিচিত্র বিষয়ের ক্লাস নিয়েই কেটে যায়। ছাত্রসংখ্যা যদিও মোটে সাতষট্টি, তবু স্কুলটাকে কেমন যেন ভালো লেগে গিয়েছিল। স্কুলটা বড়ো করার জন্য একটা দায়িত্ব অনুভব করছিলাম।

    কলকাতায় এসে যেন ভুলেই গিয়েছিলাম মাত্র একদিন পরেই আবার ফিরে যেতে হবে। তিতিরকে আদর করে, ওর সুগন্ধি চুলের মধ্যে মুখ গুঁজেই যেন জীবন কেটে যাবে— এমনই মনে হচ্ছিল। সোমবার ভোরে যখন রওনা হলাম, তিতির ছলছল চোখে কথা দিল, ওর স্কুলের পরীক্ষা শেষ হলেই ও আমার কাছে যাবে।

    সোমবার গেস্টহাউসে না ঢুকে সরাসরি স্কুলে পৌঁছে গেলাম। বাড়িতে গিয়ে রান্না করে স্কুলে যাওয়ার মতো সময় ছিল না। দুপুরটা কিছু খেলাম না। কী খাব, সেই চিন্তা করতে-করতে ছুটির পর গেস্টহাউসে ফিরলাম। চাবি দিয়ে তালা খুলে ঘরে ঢুকতেই তাজ্জব! সেই সুগন্ধ! যেন কোথাও ফুল ফুটেছে! এক তীব্র আবেশ আমার মনকে বিবশ করে তুলল। তারপর দেখলাম, ঘরের এক কোণে ভাত, ডাল, সবজি রান্না করে চাপা দিয়ে রাখা। ধরে দেখলাম তখনও গরম। অর্থাৎ কিছুক্ষণ আগেই রান্না হয়েছে। অর্থাৎ কমলি এসে রান্না করে দিয়ে গেছে। কিন্তু চাবি তো আমার কাছে। তবে? অনেক ভেবে মনে হল, মোতির কাছে নিশ্চয়ই ডুপ্লিকেট চাবি আছে। তা হলেও, আমি যে আজ ফিরব, তা কমলি কীভাবে জানল? অবশ্য আমি তো সকালেই স্কুলে গেছি। তাই হয়তো জানতে পেরেছে। সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে আমি কিছুটা নিশ্চিন্ত মনেই হাত ধুয়ে খেতে বসলাম। সেদিন মাঝরাতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল। এখানে মশার বড়ো উৎপাত। তাই মশারি খাটিয়ে শুতে হয়। রাতের দিকে একটা ঠান্ডা হাওয়া দেয়। তাই ঘুমটুকু হয়। ঘুমের মধ্যে একটা রিনরিনে শব্দে চটকা ভেঙে গেল। কয়েকমুহূর্ত সময় লাগল এটা বুঝে নিতে যে, আমি কলকাতার ফ্ল্যাটে নেই, এবং এটা তিতিরের চুড়ির শব্দ নয়। যেই না এ কথা মনে আসা, হৃৎপিণ্ডটা যেন লাফিয়ে গলার কাছে চলে এল। ধড়মড় করে উঠে বসার চেষ্টা করলাম। আর সেটা করতে গিয়েই অন্ধকারে সয়ে-আসা চোখে বুঝতে পারলাম, মশারির ভেতরে আমি একা নই। কেউ বসে আছে আমার পাশে। তারই হাতের চুড়ির রিনরিনে শব্দে আমার ঘুম ভেঙেছে। আর পুরোপুরি জেগে উঠে টের পেলাম, শুধু চুড়ির শব্দ নয়, একটা অসহ অথচ মাতাল করা সুঘ্রাণ আমাকে বিবশ করে ফেলছে। জানি না এ কোনও ফুলের গন্ধ কিনা! ভালো করে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলাম, কে এই নারী? মাঝরাতে এভাবে পরপুরুষের বিছানায় কেন তার আগমন? সব কেমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। কোনও প্রশ্ন করার আগেই নারীমূর্তির মুখ নেমে এল আমার মুখের কাছে। আয়ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে আমার দিকে। জ্বালানি বাঁচানোর জন্য রাতে হ্যারিকেনটা কমিয়ে রাখি। এখন মনে হচ্ছে, বাড়ানো থাকলেই ভালো হত। আধবোজা আলোয় নারীমূর্তিকে যতটা রহস্যময়ী মনে হচ্ছে, ততটাই আকর্ষণীয়। এটুকু বুঝছি, একটা ফর্সা মুখ, বড়ো বড়ো কাজলটানা চোখ, আর… আর সেই মাদকতাময় সুগন্ধ। মন থেকে আশ্চর্যভাবে প্রাথমিক ভয়টা কেটে যেতে লাগল। তার বদলে জেগে উঠতে শুরু করল আমার ভিতরকার পুরুষ। মনের অবচেতনে কেউ যেন বলে দিল, এ আর কেউ নয়, কমলি, মোতির স্ত্রী। তার শরীরের গন্ধ তার পরিচয় দিচ্ছে। বাৎস্যায়নের পদ্মিনীর মতো পদ্মগন্ধী নারী কমলি। এ গন্ধ কোনও সুগন্ধি বা তেলের গন্ধ নয়। এ গন্ধ তার শরীরের। আমার কী হল জানি না, দু’হাত বাড়িয়ে কাছে টেনে নিলাম ওকে। মনে কোনও ভয়, কোনও অপরাধবোধ কাজ করল না। তিতিরের কথা মনে হল না। মনে হল না, আমি একজন শিক্ষক! সম্মান হারানোর ভয়ও আমাকে নিরত করতে পারল না। কীভাবে সেই রাত কেটেছিল, সকাল হয়েছিল, মনে পড়ে না। শুধু মনে আছে, যখন ঘুম ভাঙল, বিছানায় আমি একা ছিলাম। কেবল একটা মৃদু সুগন্ধ প্রমাণ দিচ্ছিল রাতের মাদকতার।

     

     

    *****

    (ছয়)

    সকালে উঠে রাতের কথা একে একে মনে পড়ল ঠিকই, তিতিরের জন্য খারাপও লাগছিল। কিন্তু নিজের পরিবর্তনে নিজেই আমি অবাক হয়ে গেলাম। সারাটা দিন আমার কেটে গেল রাতের প্রতীক্ষায়। একবারও মনে হল না, কে সেই নারী? সে কি কমলি? যদি তাই হয়, তবে রাতের আঁধারে সে আমার বিছানায় কেন? এর পরিণাম কী হতে পারে? স্কুলে পড়ানোয় মন দিতে পারলাম না। কাজকর্ম শিকেয় উঠল। ছুটির পর উৎকণ্ঠা নিয়ে ঘরে এলাম। সে আসবে তো? সন্ধেবেলায় কাজে এল না কমলি। যত সময় গড়াতে লাগল, আমার দেহ জ্বরতপ্ত মানুষের মতো কাঁপতে লাগল। রাতে খেলাম না কিছু, শুয়ে ঘুম এল না। এ প্রতীক্ষার কি কোনও শেষ নেই? এমন অনুভূতি জীবনে এই প্রথমবার। তিতিরকে তো আমি ভালোবেসেছি। বহুবার তিতিরের সঙ্গেও হয়েছে দেহবিনিময়। কিন্তু এ এক অন্য অনুভূতি। হয়তো বা প্রাপ্য বস্তু গ্রহণ ও অপ্রত্যাশিত অপ্রাপ্য বস্তু লাভ — দুইয়ের মধ্যেকার পার্থক্যই আমাকে এই অনাস্বাদিতপূর্ব অনুভূতি দিয়েছে। এপাশ ওপাশ করতে করতে ভাবছি, আর সে আসবে না। হয়তো ক্ষণিকের বিচলন তাকে আমার কাছে এনেছিল, ভুল বুঝতে পেরে সে ফিরে গেছে নিজের বাসায়। ভাবতে ভাবতেই দরজায় শব্দ! আজ আমার দরজা আমি শুধু ভেজিয়ে রেখেছি। পাছে ছিটকিনি তার আসার পথে বাধা সৃষ্টি করে। তবে আমার মন জানত, কোনও বাধাই তার কাছে বাধা নয়। গতরাতে ভিতর থেকে ছিটকিনি দেওয়া ছিল। তাও সে যখন এসেছিল, তখন সে আসবেই। আমার যুক্তিবুদ্ধিত্যাগী মন কোনও প্রশ্ন তুলল না। সে রাতেও সে এল। তীব্র মাদকতা ছড়িয়ে দিয়ে গেল আমার স্নায়ুতন্ত্রে!

     

     

    এই ধারাবাহিকতা চলতে লাগল। আমি যেন ডুবে গেলাম। তিতিরের খবর নিইনি দু-সপ্তাহ হতে চলল। এর মধ্যে তিতিরের দুটো চিঠি এসেছে। উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করিনি। মাইলখানেক দূরের পোস্ট অফিসে টেলিফোন আছে। তিনদিন পর পর সেখান থেকে ফোন করতাম তিতিরকে। গ্রামে টেলিফোন সংযোগ নেই। মোবাইলের ব্যবহার তখন তত ছিল না। থাকলেও কলকাতার বুকে। এসব গণ্ডগ্রামে মোবাইলের টাওয়ার পাওয়া ছিল অসম্ভব। কিন্তু তিনদিনের জায়গায় তেরোদিন কেটে গেছে তিতিরকে ফোন করিনি। চোদ্দদিনের মাথায় দুপুরে বাড়িতে খেতে এসে দেখি তিতির বারান্দায় বসে। আমি একটু বিরক্তই হলাম। মনে হতে লাগল, এটা তিতিরের অমার্জনীয় অপরাধ।

    ঘরে ঢুকে তিতির আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমার বুকে মাথা রেখে বারবার মুখ ঘষতে লাগল। আমার অবাধ্য হাতদুটো একবারের জন্যও ওকে স্পর্শ করল না। পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। তিতির যেন কিছু একটা অনুমান করল। চোখভরা বিস্ময় নিয়ে আমার দিকে মুখ তুলে চাইল, তারপর ছিটকে সরে গেল। ওর চোখে টলটলে জল, খানিকটা বুঝি নেমেও এল গাল বেয়ে। আমার কোনও হেলদোল হল না। কঠিন গলায় বললাম, “তুমি কেন এসেছ? আমি তো তোমাকে ডাকিনি।”

    এত কঠিন কথা আমি বলতে চাইনি তিতিরকে। আমার তিতির, যাকে আমি প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছি, তাকে এভাবে আঘাত করার শক্তি আমি কোথায় পেলাম, তা বলতে পারি না। কিন্তু আমি তখন মদের চেয়েও তীব্র এক নেশায় চুর। বাইরের পৃথিবী আমার কাছে মিথ্যে। এক হ্যালুসিনেশন ও ইল্যুশনের জগতে আমার বাস। আজ বুঝি। কিন্তু তখন এ চিন্তা আমার ধারে কাছেও আসেনি। তিতির খাটের ওপর রাখা ভ্যানিটি ব্যাগটা টেনে নিয়ে সটান বেরিয়ে গেল দরজা দিয়ে। তখন বেলা প্রায় তিনটে। ছটার আগে কোনও ট্রেন নেই ফেরার। সে ট্রেনও প্রায়শই লেট থাকে। কীভাবে তিতির কলকাতায় পৌঁছবে অত রাতে, তার নিরাপত্তার কথা কিছুই মাথায় এল না। শুধু নিশ্চিন্ত হলাম। একরাশ নিশ্চিন্ততা আর অপেক্ষা।

    *****

    (সাত)

    মাস দুয়েক চলেছিল আমার ঘরে কমলির অভিসার। হঠাৎ যেভাবে এসেছিল, সেভাবেই আসা বন্ধ করল সে। আমার দিনগুলো যেন রাতের মতো অন্ধকার হয়ে গেল। রাতগুলোয় শূন্যতার বিস্তার। একদিন, দুদিন, পাঁচদিন, এক সপ্তাহ-রোজ রাত জাগি তার অপেক্ষায়। দরজা খুলে রাখি হাট করে। ভেজানো দরজার পাল্লাও যেন তার সামনে ভুল করেও কোনও বাধা সৃষ্টি না করে! এর মধ্যে বিধুবাবু বেশ কয়েকবার জানতে চেয়েছেন, আমার শরীর ভালো আছে কিনা। আমি নাকি ক্রমশ রোগা হয়ে যাচ্ছি। একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চেহারা দেখে নিজেও চমকে উঠেছিলাম। চোখের নীচে একরাশ কালি, গাল ঢুকে গেছে। পরনের পাঞ্জাবিটা ঢলঢল করছে। যেন দু-সাইজ বড়ো। না, তাতে আমার বিন্দুমাত্র ভয় হয়নি। বরং রাগ হয়েছিল আয়নাটার ওপর। ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম উঠোনে। ব্যস, আমার ঘরে আর কোনও আয়না নেই। চুল আঁচড়ানো বা দাড়ি কাটার মতো কাজগুলো হাতের আন্দাজে করে নিই।

    বিধুবাবুকে কমলির মাইনের কথাও আর জিজ্ঞেস করা হয়নি। ও চাইলে আমি আমার পুরো মাইনেই ওর হাতে তুলে দিতে পারি। কিন্তু কোনওদিন সে টাকা চায়নি। অবশ্য আমাদের মধ্যে কথাই বা হত কোথায়! সেই প্রথমদিন সে নিজের পরিচয় দিয়েছিল। সেই শেষ। আর শুনিনি তার গলা। আর এখন তো তার দেখাই মিলছে না। মনে মনে অধৈর্য হয়ে উঠলাম। ঠিক করলাম, মোতির বাড়িতে যাব। কিন্তু মোতির বলিষ্ঠ চেহারা আর রক্তজবার মতো চোখ মনে পড়লেই যেন মনের জোর হারিয়ে ফেলি। তাই বিধুবাবুকে ডেকে পাঠালাম। বিধুবাবু হন্তদন্ত হয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “কী হয়েছে মাস্টারমশাই? শরীর খারাপ?”

    এই এক হয়েছে, যা বলি, তাতেই একই প্রশ্ন সবার মুখে—শরীর খারাপ? মনটা তেতো হয়ে গেল। মুখে যতদূর সম্ভব ভদ্রতা বজায় রেখে বললাম, “না। বলছিলাম যে, মোতির বউ কিছুদিন ধরে কাজে আসছে না।”

    বিধুবাবু ভুরু কুঁচকে বললেন, “মোতির বউ!”

    “হ্যাঁ, আপনিই তো ওকে পাঠিয়েছিলেন। ভালোই কাজকর্ম করছিল, হঠাৎ আসা বন্ধ। দু-মাস ধরে মাইনেও নেয়নি। কী ব্যাপার জানাতে পারেন?”

    “কিন্তু মাস্টারমশাই, আমি তো মোতির বউকে পাঠাইনি কাজ করতে! হ্যাঁ, আপনি একবার বলেছিলেন বটে লোকের কথা। কিন্তু তারপর আপনিও কিছু আর বললেন না, আমিও ভুলে গেছি। কী ব্যাপার মাস্টারমশাই?”

    ব্যাপার যে কী, তা কি ছাই আমিই বুঝছি? কেউ পাঠায়নি, কমলি নিজেই এসেছিল, নিজেই চলে গেল। কিন্তু কেন? বিধুবাবুকে আর কিছু বললাম না। মনে মনে স্থির করলাম সন্ধের পর মোতির বাড়িতে যাব। সেইসময় মোতির নেশাটা জমে ওঠে। কমলির সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যাবে।

    সেদিন স্কুল ছুটির পর সন্ধের অন্ধকার নেমে আসতেই ঘরে তালা দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। পাড়াগাঁ, সন্ধে নামার আগেই রাস্তাঘাট শুনশান হয়ে যায়। কাজেই আমাকে দেখারও কেউ নেই। দু-একটা কুঁড়েঘর থেকে কচি গলায় পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে। আমারই ছাত্রছাত্রী হবে। কোনওদিকে নজর না করে এগিয়ে গেলাম। অন্ধকারে মোতির বাড়িটা ভূতের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কাছাকাছি একটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করতে থাকলাম। বাইরের দাওয়ায় বোধহয় মোতি হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে। নেশা ধরেছে খুব। কোনও হুঁশ নেই মনে হচ্ছে। কী করব বুঝে উঠতে পারলাম না। আশেপাশের দু-চারটি বাড়ি থেকে টিমটিমে লম্ফের আলো বেরিয়ে এসে অন্ধকারকে যেন আরও জমাট করে তুলেছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক কান ফাটিয়ে দিচ্ছে। জঙ্গলের দিক থেকে মাঝে মাঝে শেয়ালের ডাকও ভেসে আসছে। কতক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম জানি না, পনেরো মিনিটও হতে পারে, আধঘণ্টাও হতে পারে। হঠাৎ মোতির বাড়ির দরজা খুলে গেল। ঘোমটা টানা এক নারীমূর্তি হাতে মাটির প্রদীপ নিয়ে বেরিয়ে এল। মোতি যেখানে শুয়ে, সেখানে কয়েকমুহূর্ত থামল। তারপর সিঁড়ি বেয়ে নেমে এল উঠোনের তুলসীমঞ্চের দিকে। প্রদীপটি সযত্নে তুলসীমঞ্চে বসিয়ে দিল। হাতজোড় করে কপালে ঠেকাল।

    আমার মাথায় রক্ত চড়ে গেল। আমার জীবন দুর্বিষহ করে তুলে এই নারী সতী সাবিত্রীর মতো তুলসিতলায় প্রদীপ দিচ্ছে! আমাকে দিয়ে শখ মিটে গেছে। এখন কি অন্য কোনও পুরুষের প্রতীক্ষা? চরিত্রহীনা নারী! হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটে বেরিয়ে এলাম গাছের পিছন থেকে। চেপে ধরলাম তার হাত। পাগলের মতো ঝাঁকাতে লাগলাম তাকে ধরে, “বল বল, কেন তুমি আমাকে ত্যাগ করেছ? কী অন্যায় করেছি আমি? বল বল কমলি।”

    আমার বজ্রমুঠি থেকে নিজেকে ছাড়াতে দু-বার ঝটকা মারল সে। তারপর ঘোমটা তুলে ধরল। চিৎকার করে ডাকতে লাগল, “আরে কোই হ্যায়? কোই তো বাচাও। ডাকু, ডাকু।”

    ততক্ষণে আমি ওর হাত ছেড়ে দিয়েছি। দিনের পর দিন যে শরীরকে আমি নিজের বুকে অনুভব করেছি, সেই তন্বী তো এ নয়। এই নারী বেশ মোটার দিকেই। গায়ের রংও শ্যামলা। সবচেয়ে বড়ো কথা তার শরীরের গন্ধ! কোথায় সে সুঘ্রাণ? এর গা থেকে ঘাম আর রান্নার গন্ধ মেলানো একটা উৎকট গন্ধ ভেসে আসছে। এ তো কমলি হতে পারে না! আমি সব ভুলে মোতির দরজার সামনে গিয়ে “কমলি, কমলি” বলে চিৎকার করতে শুরু করলাম।

    ইতিমধ্যে চেঁচামেচিতে আশেপাশের বাড়ি থেকে লোকজন বেরিয়ে এসেছে। তাদের কারো হাতে লাঠি, কারো বা বেলন, খুন্তি ইত্যাদি। কিন্তু বেরিয়ে এসে ডাকুর বদলে তাদের পরম শ্রদ্ধেয় মাস্টারবাবুকে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মোতিও নেশা চটকে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আমি দরজায় ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢুকে গেলাম। কমলির নাম ধরে বারবার চিৎকার করতে লাগলাম। কিন্তু কোথায় কমলি! শূন্য ঘরের নিস্তব্ধতা আমার মনের শূন্যতার প্রতীক হয়ে খাঁ খাঁ করতে লাগল। ইতিমধ্যে কারা যেন বিধুবাবুকে ডেকে এনেছে। আমি টলতে টলতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসামাত্র বিধুবাবু আমাকে ধরে ফেললেন। উনি ধরে না ফেললে আমি হয়তো পড়ে যেতাম। কারণ অতিরিক্ত উত্তেজনায় কিছুক্ষণের জন্য আমার সবকিছু ব্ল্যাকআউট হয়ে গিয়েছিল।

    জ্ঞান যখন এল, তখনও আমি মোতির বাড়ির দাওয়ায় শুয়ে আছি। অনেকগুলি লন্ঠন আর মশালের আলোয় চারিদিক আলোকিত। বেশ ক’টি মুখ আমার উপরে ঝুঁকে আছে। কিন্তু সেই মুখ কোথায়, যাকে আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি? উঠে বসার চেষ্টা করতেই কয়েকজন মিলে আমাকে বসতে সাহায্য করল। কিছু দূরে মোতি দাঁড়িয়ে পাগলা ষাঁড়ের মতো ফুঁসছে। হয়তো বা অন্যরা তাকে আমায় আঘাত করা থেকে বিরত করেছে। না হলে ওর হাতে আজ আমার সাক্ষাৎ মরণ ছিল। মোতির বউকে দেখছি না। আশেপাশের বাড়ির কোনও মহিলা হয়তো তাকে নিজের ঘরে নিয়ে গেছে। বিধুবাবু সস্নেহে বললেন, “কী হয়েছে মাস্টারমশাই? শরীর খারাপ?”

    এবার আর কথাটা তেমন খারাপ লাগল না। বরং একটা অবলম্বন পেলাম যেন। আস্তে আস্তে ওঁকে সব বললাম, রেখে ঢেকে যতটুকু বলা যায়। সব শুনে তিনি বললেন, “কী নাম বললেন মাস্টারমশাই? কমলি? কিন্তু মোতির বউ-এর নাম তো গুলাবি। আবার আপনিই বা এ নাম জানবেন কী করে! কমলি তো…”

    “চুপ করলেন কেন বিধুবাবু? কমলি তো কি?”

    “চলুন মাস্টারমশাই। আমার বাড়ি চলুন। আজ আর আপনার গেস্টহাউসে ফিরে কাজ নেই। আজ রাতটা আমার বাড়িতেই থাকবেন। কাল সকালে দেখব আপনার জন্য কোনও থাকার ব্যবস্থা করা যায় কিনা।”

    *****

    (আট)

    বিনাবাক্যব্যয়ে বিধুবাবুর সঙ্গে তাঁর বাড়িতে এলাম। চোখে মুখে ঠান্ডা জল দিয়ে বসলাম। বিধুবাবু হাতপাখার বাতাস করতে লাগলেন। এতক্ষণে যেন একটু ধাতস্থ লাগল নিজেকে। বিধুবাবুকে কিছু বলার দরকার হল না। ঘুমের মধ্যে যেন কথা বলছেন, এভাবে ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন, “মোতির প্রথমপক্ষের স্ত্রী ছিল কমলি। সাত বছর বিয়ে হওয়া সত্ত্বেও কোনও সন্তান হয়নি তার। গ্রামগঞ্জ তো, এজন্য প্রতিবেশীরা কম কথা বলেনি তাকে। মোতির তো কাজই ছিল রোজ রাতে বাড়ি ফিরে কমলিকে পেটানো। অমন সুন্দর মোমের পুতুলের মতো মেয়ে, ধীরে ধীরে পোড়া কাঠের মতো হয়ে যেতে লাগল। এখন তো মনে হয় দোষটা মোতিরই। না হলে দ্বিতীয় বউয়েরও ছেলেপুলে হবে না কেন!” একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে একটু সময় নিলেন বিধুবাবু। তারপর বললেন, “সে সময় গ্রামে কারখানা তৈরির কথা চলছে। ওষুধের কারখানা হবে, অনেক লোকের চাকরি হবে, এই আনন্দে সবাই মশগুল। মোতি ওই গেস্টহাউসের কেয়ারটেকারের চাকরি পেল। তখন একজন সরকারি বাবু এলেন গেস্টহাউসে। কমলি তাঁর রাঁধাবাড়ার কাজ করত। জল তুলত, বাসন মাজত। জানি না কীভাবে, কার উৎসাহে তাদের দু’জনের মধ্যে এক অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মোতি রোজ রাতে মদ খেয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেই কমলি বেরিয়ে পড়ত বাড়ি থেকে। চলে যেত গেস্টহাউসে, ওই বাবুর কাছে। কিছুদিন এরকম চলার পর বাবুর একদিন কাজ শেষ হল। কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে গেলেন এখান থেকে। এরমধ্যে মোতির কানে এ খবর গেছে। সে স্ত্রীকে একদিন বেধড়ক মারল। একদিকে সরকারিবাবুর বিশ্বাসঘাতকতা, মুখপুড়ি হয়তো ভেবেছিল উনি তাকে বিয়ে করে এই নরক থেকে নিয়ে যাবেন। অন্যদিকে স্বামীর প্রচণ্ড মার। সহ্য করতে পারেনি কমলি। সেদিন রাতে গেস্টহাউসে গলায় দড়ি দেয় সে। পরে পুলিশ এসে তার দেহ নিয়ে যায়। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা যায়, কয়েক সপ্তাহের গর্ভবতী ছিল কমলি। মা হওয়া ভাগ্যে ছিল না মেয়েটার।”

    পরদিন সকালে বিধুবাবুর সঙ্গে গেস্টহাউসে গিয়ে আমার জিনিসপত্র নিয়ে কলকাতা চলে আসি। আর ওখানে নয়। বিধুবাবু বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ওখানে থাকতে আর মন চাইছিল না। তিতিরের কথা খুব মনে পড়ছিল। কলকাতা থেকেই পোস্টে আমার রেজিগনেশন লেটার পাঠিয়ে দিই। টাকাপয়সা কিছু এখনও বাকি আছে। তবে না পেলেও ক্ষতি নেই। তিতিরকে সব বলেছি। ও কতটা বিশ্বাস করেছে জানি না, তবে ক্ষমা করেছে আমাকে। পরেরবার দু’জনে একসঙ্গে পরীক্ষায় রসব। কিন্তু বাড়ি থেকে যাতায়াত করা গেলে তবেই চাকরি নেব। নইলে আবার ফিরে যাব আমার কবিতার জগতে।

    *****

    (পরিশিষ্ট)

    এ গল্পের একটা পরিশিষ্ট আছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টির দিনে একা ব্যালকনিতে বসে যখন কবিতা লিখি, হঠাৎ হঠাৎ শুনতে পাই কাচের চুড়ির রিনরিন, কখনো বা দমকা হাওয়ার সঙ্গে এক অজানা ফুলের গন্ধ আমার নাকে এসে ঝাপটা মারে। তিতিরকে আদর করতে করতে কখনো কখনো গুলিয়ে যায় স্থান-কাল-পাত্র। এমনই এক বর্ষার দিনে কলকাতার রাস্তা দিয়ে নিজের মনে হেঁটে যেতে যেতে চমকে উঠেছিলাম রাস্তার উলটোদিকে একহাত ঘোমটা টানা এক দেহাতি মহিলাকে দেখে। কাচের চুড়ি পরা ফর্সা হাতদুটো শরীরের দু’দিকে অসহায় ঝুলে আছে। ফুটপাতে আমার দিকেই মুখ করে দাঁড়ানো সে। শরীরের স্ফীত মধ্যভাগ বলে দিচ্ছে, সে সন্তানসম্ভবা। আশপাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া লোকেদের দেখে মনে হল না, তারা আদৌ তাকে দেখতে পাচ্ছে। কয়েক মুহূর্ত। তারপর আর দেখতে পেলাম না তাকে। শুধু পদ্মিনী নারীর পদ্মগন্ধে ভরে গেল আমার ঘ্রাণ। জানি না আর কেউ এ গন্ধ পেয়েছে কিনা, আর কেউ তাকে দেখেছে কিনা! ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ফিরেছিলাম সেদিন। ও কি সত্যিই কমলি, না আমার চোখের ভুল? ওই সন্তান কার? তবে কি বেঁচে থাকতে যে ইচ্ছা তার পূর্ণ হয়নি, মৃত্যুর পর সেই মাতৃত্বের স্বাদ দেওয়ার জন্য আমাকে ধন্যবাদ দিতে এসেছিল সে? তাও সম্ভব?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅনির্বাণ অমিতাভ – বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article কাদম্বরী – বানভট্ট
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Our Picks

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }