Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নরকের দ্বার খোলা ২ – বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী

    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী এক পাতা গল্প277 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উপসংহার

    একটা গোল টেবিলের চারদিকে মুখোমুখি বসে চারটে ছেলে। চোখ বোজা। হাতে হাতে ধরা। অন্ধকার ঘরের কোথাও কোনও দরজা জানলা খোলা নেই, তবু টেবিলের উপরে পেতলের মোমদানিতে জ্বলতে-থাকা মোমটার শিখা মাঝে মাঝেই এদিক ওদিক নড়েচড়ে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। হয়তো বা তাকে ঘিরে বসে থাকা মানুষগুলোর নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের দমকেই হবে। ঘরের মধ্যে জমাট বাঁধা নীরবতা। ছেলেগুলোর বয়স খুব বেশি হলে চোদ্দ পনেরো।

    জুন মাসের গুমোটে সবার কপালেই বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। দু-এক ফোঁটা কপাল বেয়ে নেমে জুলপির কাছে জমে আছে। কিন্তু ঘাম মোছার তাগিদেও হাতের বন্ধন ছাড়ার উপায় নেই তাদের। মোমের আলো ঘরের দেওয়ালে লম্বা লম্বা অপার্থিব ছায়া তৈরি করেছে। আচমকাই ওদের মধ্যে একজনের মাথা ঝুলে পড়ল বুকের উপর। একটা অস্পষ্ট গোঁ গোঁ শব্দ বেরিয়ে এল তার গলা থেকে। প্রায় একই সঙ্গে চোখ খুলে গেল বাকি তিনজনের। মুহূর্তের জন্য একে অন্যের দিকে চাইল তারা। তাদের মধ্যে সবচেয়ে শীর্ণকায় ছেলেটি মৃদু হাঁফাচ্ছে। তার কপাল বেয়ে দর দর করে নেমে আসছে ঘামের স্রোত। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে প্রচণ্ড ভয়ে অন্তরাত্মা শুকিয়ে যাচ্ছে তার। ঠিক উলটোদিকে বসা বড় চেহারার ফর্সা ছেলেটি কপাল কুঁচকে ইশারা করে বার বার তাকে শান্ত হতে বলছে। নিজেকে সামলানোর প্রবল চেষ্টায় দাঁতে দাঁত চেপে রয়েছে শীর্ণকায় ছেলেটি। চোয়ালের হাড় শক্ত হয়ে উঠেছে তার। ইতিমধ্যে তৃতীয় ছেলেটি মিডিয়ামকে লক্ষ্য করে কিছু প্রশ্ন করছে। কিন্তু স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না তাদের কথোপকথন। হঠাৎ মিডিয়ামের ঝুলে পড়া মাথা সোজা হয়ে গেল। বড় বড় বিস্ফারিত চোখ মেলে তাকাল সে সরাসরি শীর্ণকায় ছেলেটির দিকে। সে চোখে দৃষ্টি নেই। সম্পূর্ণ সাদা। মুখ খুলে হাসছে সে। কালো কালো ক্ষয়-পড়া দাঁতের ফাঁক দিয়ে সরীসৃপের মতো জিভটা লকলক করে বেরিয়ে আসছে বারবার। একটা তীব্র চিৎকার, অলৌকিক হাসির শব্দ আর তার মধ্যেই আর একটা অসহায় কণ্ঠ, “সার্কেল ভাঙবি না, যাই হয়ে যাক সার্কেল ভাঙবি না।”

    তীব্র স্বরে টেলিফোন বেজে উঠতেই ঘুমটা ভেঙে গেল ডঃ অজয় ঘোষের ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের আরামদায়ক শীতলতা সত্ত্বেও ঘামে শরীর ভিজে গেছে তাঁর। হাত বাড়িয়ে বেডসাইড টেবিল থেকে টেলিফোনের রিসিভারটা তুলতে গিয়ে দেহটা সামান্য বাঁকাতে হল। আর ঠিক তখনই ঘাড়ের ব্যথাটা চাগাড় দিয়ে উঠল। বাধ্য হয়ে উঠে বসলেন তিনি। এসবের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেল ফোনের রিং। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানা ছেড়ে উঠলেন ডঃ ঘোষ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মৃদু শব্দ যেন ঘুমপাড়ানি গান। পাশে অঘোরে ঘুমোচ্ছে অনিন্দিতা। আজকাল ঘুমের ওষুধ ছাড়া ঘুম আসে না ওর। তাই টেলিফোনের শব্দও ওকে জাগাতে পারেনি। জলের বোতলটা হাতে নিয়ে জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন ডঃ ঘোষ। পনেরো তলা ফ্ল্যাটের জানলা দিয়ে বাইরের পৃথিবীটা বড় মায়াময় লাগে। বিশেষ করে রাতে। অনেক নীচে রাতের কলকাতার রাস্তা দিয়ে তিরবেগে চলে যাচ্ছে এক একটা গাড়ি। তাদের হেডলাইটের আলোটুকুই কেবল দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। ঢক ঢক করে বেশ খানিকটা জল গলায় ঢেলে আবার বিছানায় এসে উঠলেন ডঃ ঘোষ। পায়ের কাছ থেকে চাদরটা টেনে গায়ে দিয়ে শুতে যাবেন, এমন সময় আবার সশব্দে বেজে উঠল ফোনটা। রাতের ফোন অবাক করে না ডাক্তারদের। এবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রিসিভার তুললেন তিনি।

     

     

    “হ্যালো, ডঃ অজয় ঘোষ স্পিকিং।” ওপাশে একটা পরিচিত গলার স্বর। ডঃ ঘোষের অ্যাসিস্ট্যান্ট পলাশ।

    “স্যার, একবার আসতে হবে।” ফোনটা কেটে আর একটা নম্বর ডায়াল করলেন ডাক্তারবাবু। ড্রাইভার রাজেশ ডাক্তারবাবুর ফ্ল্যাটের একতলায় সারভেন্ট কোয়ার্টারে থাকে। রাজেশকে দশ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে চলে আসতে বলে নিজেও উঠে পড়লেন তিনি। খুব প্রয়োজন না হলে পলাশ কখনও রাতের দিকে ফোন করবে না। হসপিটালের রুগীদের সাধারণ অভাব অভিযোগ ডঃ ঘোষের জুনিয়ররাই সামলে নিতে পারে। তার জন্য তাঁকে সবসময় দরকার পড়ে না। কখনও রাতবিরেতে ফোন আসা মানেই কোনও নতুন ক্রিটিক্যাল পেশেন্ট এসে হাজির হয়েছে, নয়ত ভর্তি থাকা পেশেন্টদের মধ্যেই কেউ প্রবল অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আজ অবশ্য দ্বিতীয়টার সম্ভাবনা কম। কারণ তেমন গুরুতর অসুস্থ হওয়ার মতো রুগী এখন হসপিটালে নেই। একজন দু-জন ছাড়া সবাই প্রায় অনেকদিন ধরে আছে। মেডিকেশনে আছে। এক যদি না কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকে। যদিও প্রত্যেক রুগীকে ডঃ ঘোষের হসপিটালে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়। প্রতি ঘরে, বারান্দায় সিসিটিভির প্রহরা। ওয়ার্ড বয়রাও খুব সতর্ক। তা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে এরকম ঘটনা দু-একটা ঘটে যায় না, তা নয়।

     

     

    হসপিটালের সামনে ওয়ার্ড বয়দের একটা ছোটখাটো জটলা। ডঃ ঘোষের গাড়িটা থামতেই প্রায় সবাই একসঙ্গে ঘুরে তাকাল। গাড়ি থেকে নামতে নামতে অবাক হলেন ডাক্তারবাবু। এরা সবাই খুব কর্মনিষ্ঠ। রাতের দিকে রুগীরা ঘুমিয়ে পড়ার পর একটু আধটু আড্ডা যে মারে না তা নয়, কিন্তু ডঃ ঘোষকে আসতে দেখেও আড্ডা ভেঙে যে যার ওয়ার্ডের দিকে দৌড়বে না, এমন কলজের জোর এদের কারো নেই। কিন্তু আজ ব্যাপারটা অন্যরকম। ওদের পাশ কাটিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে তিনি লক্ষ্য করলেন প্রত্যেকের মুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। কিছু বলতে গিয়েও যেন সাহস সঞ্চয় করতে পারছে না তারা। ডাক্তারবাবু ওদের মুখ থেকে কিছু শোনার জন্য সময় নষ্ট করলেন না। সোজা গিয়ে ঢুকলেন নিজের কেবিনে। কাচের দরজা ঠেলতেই ভেতরে চেয়ারে বসা পলাশ উঠে দাঁড়াল। ডঃ ঘোষ হাতের ব্যাগটা টেবিলের উপর রেখে পাশে দেওয়ালের সঙ্গে লাগানো ছোট্ট বেসিনে হাত ধুতে ধুতে বললেন, “কী ব্যাপার পলাশ! ইমারজেন্সি কিছু মনে হচ্ছে।”

    পলাশের মুখের দিকে তাকালেন ডাক্তারবাবু। হাত মুছে গ্লাভস পড়তে গিয়েও থমকে গেলেন। পলাশের বিবর্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে গেল তাঁর। ঠোঁট কাঁপছে পলাশের। দুটো হাতের পাতা মুঠো করে সামনের কাচের টেবিলের উপর রাখা। তবে স্থির নয়। থরথর করে কাঁপছে। এগিয়ে এলেন ডাক্তার।

     

     

    “পলাশ, তুমি বোসো। জল খাও। তারপর শান্ত হয়ে বল কী হয়েছে।” নিজের চেয়ারে বসতে বসতে পলাশের দিকে জলের গ্লাস এগিয়ে দিলেন। এক ঢোঁকে পুরো জল শেষ করে দু’হাত দিয়ে কিছুক্ষণ নিজের মাথাটা টিপে ধরে থাকল সে। তারপরে টেবিলের উপরে ঝুঁকে পড়ে বলল, “১০৪, ১০৪ নম্বরের পেশেন্ট স্যার।”

    ভুরু কুঁচকে গেল ডাক্তারের, “পরিষ্কার করে বলো কী হয়েছে!” স্যারের এই গম্ভীর গলার সঙ্গে পারিচিত পলাশ। সে নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বলল, “আপনি নিজে একবার গিয়ে দেখুন স্যার।”

    ১০১ থেকে ১০৫ নম্বর কনফাইনমেন্ট সেল। এই হসপিটালে এই পাঁচটিই এমন সেল আছে। অত্যন্ত ভায়োলেন্ট পেশেন্টদের রাখা হয় এগুলোতে। আপাতত ১০৪ ছাড়া বাকিগুলো খালি। তাই তিনতলার এই করিডরটা বেশ নিঃশব্দ। টিমটিমে আলোতে করিডরে একটা ভৌতিক পরিবেশ। এমনিতে এখানে জনা দুয়েক ওয়ার্ড বয় আর একজন সিকিউরিটি গার্ডের ডিউটি থাকে সবসময়। কিন্তু আজ একজন ওয়ার্ড বয়েরও দেখা নেই। তারা যে সবাই ভিড় জমিয়েছে হসপিটালের গেটের কাছে, তা একটু আগেই দেখে এসেছেন ডঃ ঘোষ। শুধু সিকিউরিটি গার্ডটি বোধকরি চাকরি বাঁচানোর তাগিদেই গলদঘর্ম হয়েও সিঁড়ির মুখে দাঁড়ানো। করিডরের শেষে তার নির্ধারিত বসার চেয়ারটি তাই ফাঁকা। ডঃ ঘোষের পদশব্দ কানে আসতেই সোজা হয়ে দাঁড়াল গার্ড ছেলেটি। পলাশ দু-জন ওয়ার্ড বয়কে ডেকে এনেছে। সবার আগে ডঃ ঘোষ, তার অন্তত তিন হাত পিছনে পলাশ, আর তার পেছনে ভয়কাতর মুখে দুই ওয়ার্ড বয়। ভায়োলেন্ট পেশেন্টদের সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের অনেকদিনের। তবু তাদের মুখ দেখে মনে হচ্ছে, সামনে না আসতে হলেই বেঁচে যায়। পলাশ চাপা গলায় একবার ধমক দিল তাদের। তাতে একটু জোর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল ঠিকই, কিন্তু ইচ্ছে যে বিন্দুমাত্র নেই, তা বলে দিতে হয় না। ডঃ ঘোষ এ সবকিছুই দেখেও দেখলেন না। হনহন করে এগিয়ে গেলেন ১০৪ রুমের দিকে। পিছন থেকে পলাশের কণ্ঠস্বর শোনা গেল, “স্যার, আগে ওদের যেতে দিন।” দু-জন ওয়ার্ড বয় এগিয়ে যাচ্ছিল। হাতের ইশারায় তাদের থামতে বললেন ডাক্তার!

     

     

    “কাউকে যেতে হবে না। বাইরে থাকো। আমি ডাকলে ভেতরে আসবে।” পিছনের মানুষগুলো হয়তো নিঃশব্দে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাঁচল।

    ১০৪-এর বাইরে অন্য কনফাইনমেন্ট সেলগুলোর মতোই লোহার তারজালির গেট লাগানো। তাতে ইয়াব্বড় তালা ঝুলছে। সেখানে দাঁড়িয়ে ডঃ ঘোষ পলাশের দিকে তাকালেন। পলাশ তড়িঘড়ি এগিয়ে এসে পকেট থেকে একটা চাবি বের করে এগিয়ে দিল ডাক্তারের দিকে। ডাক্তার সেটা হাতে নিতেই আবার ফিরে গেল নিজের আগের অবস্থানে। সেলের ভেতরটা অন্ধকার। কোনও জানলা নেই বলে বিন্দুমাত্র আলো কোনও উৎস থেকে এসে প্রবেশ করছে না। বিরক্তমুখে ডাক্তার তাকালেন পলাশের দিকে।

    “আলো জ্বলছে না কেন?”

    “জ্বলছিল স্যার। আমরা শেষবার যখন দেখে গেছি, তখনও জ্বলছিল। জানি না এখন…” পলাশের কণ্ঠস্বর আবছা হতে হতে মিলিয়ে গেল। ডঃ ঘোষ লোহার গেটের তালা খুলে ভেতরের দরজাটা খুলতেই একটা বোঁটকা গন্ধ এসে ধাক্কা মারল নাকে। হসপিটালের প্রত্যেক ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অত্যন্ত পার্টিকুলার ডঃ ঘোষ। যথেষ্ট বিত্তবান পরিবারের রুগীরাই ভর্তি হয় এই হসপিটালে। কাজেই এটুকু নজর রাখতেই হয়। সেলের ভেতরে পা দিয়ে বাঁদিকের দেওয়াল হাতড়ে সুইচ খুঁজছিলেন ডাক্তার। হাতে আসার পর বুঝলেন সবকটি সুইচ জ্বালানোই আছে। অর্থাৎ বাল্ব কেটে গেছে নিশ্চয়ই। পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে তার টর্চ জ্বালালেন ডঃ ঘোষ। ঘরে ঢুকতে যাবেন, পেছন থেকে পলাশের ফিসফিসে গলার স্বর ভেসে এল, “খুব সাবধান স্যার।”

     

     

    মাথাটা গরম হয়ে গেল ডাক্তারের। মুখে কিছুই বললেন না। মোবাইলের টর্চ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘরের এদিক ওদিক দেখতে থাকলেন। ঘরে আসবাব বলতে একটা সিঙ্গল বেড, আর তার পাশে একটা ছোট টেবিল। ওপাশে ছোট্ট ঘেরা জায়গায় একটা কমোড। আপাতত খাটটা ফাঁকা। ঘরের চারিপাশে টর্চ ঘুরিয়েও কাউকে দেখা গেল না। ডঃ ঘোষ একটু অধৈর্য হয়ে উঠলেন। কিছুটা চিন্তিতও। চোখে প্রশ্ন নিয়ে ঘুরে তাকালেন পিছনের দিকে। নাহ, কেউ নেই। কোথায় গেল পেশেন্ট? এ ঘর থেকে বেরোনোর একটাই দরজা। আর সেটা তিনি নিজের হাতে এইমাত্র তালা খুলে ঢুকেছেন। দরজার বাইরে থেকে তিন জোড়া বিস্ফারিত চোখ উৎকণ্ঠিত দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। চোখ সরিয়ে নিলেন ডাক্তার। একটা স্তিমিত থপ থপ শব্দ যেন কার্নে আসছে! কান খাড়া করে শব্দের উৎস বোঝার চেষ্টা করলেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড লাগল বুঝতে যে, তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর ঠিক উলটোদিকের দেওয়ালের মাঝামাঝি অংশ থেকে শব্দটার উৎপত্তি। মোবাইলের টর্চটা স্তিমিত হয়ে নিভে যেতেই ভ্রূ কুঁচকে উঠল তাঁর। এই তো দিব্যি জ্বলছিল, কী হল আবার! মোবাইলের সুইচ টিপে আবার চেষ্টা করলেন অন্তত স্ক্রিনের আলো জ্বালাতে। নাঃ, কোনও লাভ নেই। সম্ভবত চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইল। চূড়ান্ত বিরক্ত হয়ে পেছনে ফিরে পলাশের দিকে তাকিয়ে কর্কশ গলায় ধমকে উঠলেন, “দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী দেখছ! যাও একটা টর্চ নিয়ে এসো।”

     

     

    “চলে আসুন স্যার। সব আলো এমনি এমনি নিভে যায়নি। এ অলৌকিক। এ কোনও ভূতপ্রেতের ব্যাপার।”

    “বাজে কথা না-বলে যা বলছি সেটা করো।” ডাক্তারের ধমক খেয়ে পলাশ আর দাঁড়াল না। ছুট দিল হুকুম তামিল করতে। ডাক্তার অবাক হয়ে দেখলেন পলাশের পিছন পিছন দু-জন ওয়ার্ড বয়ও দৌড়ে উধাও হয়ে গেল। একা অন্ধকার ঘরে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে একটু কী স্নায়ু শিথিল হতে শুরু করল ডঃ ঘোষের? ঘটনাটা খুবই অদ্ভুত তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু ভূতপ্রেত অলৌকিকে বিশ্বাস করবেন তা বলে?

    দিন দুয়েক আগে ১০৪-এর পেশেন্টকে ভর্তি করা হয় এখানে। শুরুতে জেনারেল বেডে রাখা হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বোঝা যায় লোকটি যে কোনো সময় অন্য রোগীদের ক্ষতি করতে পারে। তাই ১০৪-এ নিয়ে আসা হয় তাকে। স্কিজোঅ্যাফেক্টিভ বাইপোলার ডিসঅর্ডার বলেই মনে হয়েছিল ডঃ ঘোষের। সঠিকভাবে ডায়াগনোস করার জন্য কিছু টেস্টের প্রয়োজন ছিল। গতকাল সেই টেস্টগুলো করার জন্য একজন জুনিয়র ডাক্তার এসেছিলেনও। কিন্তু লোকটি আচমকাই চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে যায়। ডঃ ঘোষ যখন রাতে বাড়ি যান, তখনও সে ঘোরের মধ্যে ছিল। কিন্তু শারীরিক কন্ডিশন নরম্যাল দেখে ডাক্তার নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন। কিন্তু রাতেই আবার পলাশের ফোন। এখন রাত প্রায় সাড়ে তিনটে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভোরের আলো ফুটবে। ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকালেন ডাক্তার। ওয়ার্থলেস সব! টর্চ আনতে এত সময় লাগে?

     

     

    …থপ…থপ…থপ…

    চমকে সামনের দেওয়ালের দিকে তাকালেন ডাক্তার। শব্দটা থেমে গিয়েছিল। আবার শুরু হয়েছে। ঠিক যেন কেউ ভারী পা ফেলে নেমে আসছে দেওয়াল বেয়ে। কী? দেওয়াল বেয়ে? বহুবছর আগের একটা দৃশ্য আচমকা স্পষ্ট হয়ে উঠল চোখের সামনে। তিন জোড়া অবিশ্বাসী চোখের সামনে দেওয়ালে হামাগুড়ি দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে একটা ছেলে। ছেলে? হ্যাঁ, বলতে গেলে তাই বলতে হবে। কিন্তু কালচে পিচ্ছিল শ্যাওলার মতো গায়ের রং, ক্ষয়-পড়া কালো দাঁতের ফাঁক দিয়ে সরীসৃপের মতো লিকলিকে জিভ সত্যিই কোনও মানুষের হয়?

    মাথাটা প্রবলবেগে একবার ঝাঁকিয়ে নিলেন ডঃ ঘোষ। নাঃ এসব ভাবার সময় নয় এখন। সে কবেকার ঘটনা! আজও বিশ্বাস করতে মন চায় না। তিনি ডাক্তার। বিজ্ঞানের সাধক। এসব ভুলভাল চিন্তা তাঁকে দুর্বল করতে পারবে না আজ আর। শব্দটা লক্ষ্য করে দু-পা এগোলেন ডাক্তার। হঠাৎ ঘরের সিলিঙ থেকে লম্বা তারের মাধ্যমে ঝুলিয়ে রাখা এতক্ষণ না-জ্বলা বাল্বটা দপ দপ করে উঠল। সঙ্গে চির চির করে শব্দ। বাল্বটা অবিচ্ছিন্ন কানেকশন পাচ্ছে না সম্ভবত। তাই ক্রমাগত জ্বলছে নিবছে। সেই আলোতেই দেওয়ালের দিকে তাকালেন ডঃ ঘোষ।

     

     

    *****

    একদৃষ্টিতে ডঃ ঘোষের অ্যাসিস্ট্যান্টের দিকে তাকিয়ে ছিলেন সাব ইন্সপেক্টর সৌম্য রায়। লোকটা তখন থেকে একটা চেয়ারে বসে থরথর করে কাঁপছে। চোখের দৃষ্টি উদভ্রান্তের মতো। অনেকক্ষণ ওঁকে সামলে নেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। আর নয়। এবার কিছু জিজ্ঞাসাবাদ না-করলেই নয়। গলা খাঁকারি দিলেন সৌম্য। সেই শব্দে এক সেকেন্ডের জন্য চোখ তুলে তাকাল পলাশ।

    “একবার এদিকে আসুন মিঃ পলাশ গুহ। আমার কিছু জানার আছে।” পলাশ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তারপর এগিয়ে এল সৌম্যর দিকে।

    “আপনি চেয়ারটা এখানে নিয়ে আসুন। দাঁড়িয়ে থাকবেন নাকি?” পলাশ বাধ্য ছাত্রের মতো নিজের চেয়ার টেনে এনে বসল সাব ইন্সপেক্টরের মুখোমুখি।

    “দেখুন মিঃ গুহ, আমি জানি আপনি খুবই আঘাত পেয়েছেন। ডঃ ঘোষের এমন দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু সত্যিই অকল্পনীয়। কিন্তু আমার হাত-পা বাঁধা। কিছু প্রশ্ন যে আমাকে করতেই হবে।” পলাশ আস্তে আস্তে মুখ তুলল। কাঁপা গলায় বলল, “বুঝতে পারছি স্যার। বলুন কী জানতে চান।”

     

     

    “ডঃ ঘোষ যখন বারান্দা থেকে পড়ে যান, তখন আপনি কোথায় ছিলেন?” “১০৪ নম্বর সেলের লাইটটা জ্বলছিল না। তাই উনি আমাকে টর্চ আনতে পাঠিয়েছিলেন। আমি সেটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তাতে একটু সময় লেগে গিয়েছিল। তারপর যখন খুঁজে পেলাম, ওটা নিয়ে ছুটে আসছিলাম। করিডরের মুখে এসে পৌঁছতেই যে দৃশ্য দেখি, তাতে আমার সারা শরীর অবশ হয়ে যায়।”

    “বলে যান, শুনছি।”

    “করিডরের মুখে আসতেই একটা গোঙানির শব্দ কানে এল। অন্ধকারে কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। তাই হাতের টর্চটা জ্বেলে শব্দ লক্ষ্য করে আলো ফেলতেই দেখলাম, ডঃ ঘোষ বারান্দায় দাঁড়িয়ে। তাঁর মুখ এদিকে, কিন্তু দেহের সমস্ত ভর রেলিঙের উপর। বড় বড় চোখদুটো ঠেলে বেরিয়ে আসছে। দৃষ্টি তাঁর সিলিঙের দিকে। মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে গোঙানির শব্দ। আমি সিলিঙের দিকে টর্চের আলো ফেললাম। আর তখনই…”

    “তখনই?…”

     

     

    “বারান্দার রেলিং টপকে নীচে পড়ে গেলেন স্যার।”

    “আর আপনি তখন ছুটে গিয়ে নিশ্চয়ই রেলিং দিয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখার চেষ্টা করলেন? কী দেখলেন? ডঃ ঘোষ কী তখনও বেঁচে ছিলেন, ছটফট করছিলেন? নাকি পড়েই স্থির হয়ে গিয়েছিলেন?”

    “না মানে, আমি দেখিনি।”

    “মানে? আপনি চোখের সামনে ওঁকে পড়ে যেতে দেখেও ছুটে গেলেন না? এ আবার হয় নাকি? এটা তো এরকম দৃশ্য দেখার পর যে কোনও মানুষের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। আপনি দাঁড়িয়ে রইলেন?”

    “আপনি আমার কথা বিশ্বাস করবেন না স্যার। মানে, আমি সিলিঙে যা দেখেছিলাম… তারপর আর সাহস করে উঠতে পারিনি…”

    “কী এমন দেখেছিলেন মিঃ গুহ? বিশ্বাস-অবিশ্বাস আপনি আমার উপর ছেড়ে দিন। আপনি বলুন।”

     

     

    “আমি আপনাকে আর একটু আগে থেকে সব কথা বলতে চাই। শুনবেন?“

    “শুনব বলেই এখানে বসে আছি মিঃ গুহ। ভণিতা না করে সরাসরি বিষয়ে এলে খুশি হব।”

    পলাশ একটু ভেবে নিয়ে বলতে শুরু করে-

    “১০৪ নম্বরের পেশেন্ট ভর্তি হয় দু’দিন আগে। যখন আনা হয়, তখন পেশেন্টের জ্ঞান ছিল না। কিন্তু জ্ঞান আসার পর বোঝা যায় তাঁকে অন্যদের সঙ্গে রাখা যাবে না। সময়ে সময়ে প্রচণ্ড হিংস্র হয়ে উঠছিল। তাই তাঁকে ১০৪ নম্বরে রাখা হয়। বেশিরভাগ সময়েই পেশেন্টকে সিডেটিভ দিয়ে রাখা হচ্ছিল। কাল রাতেও স্যার যখন বাড়ি গেলেন তখন পেশেন্ট অচেতন। কিন্তু তাঁর দু-এক ঘণ্টা পর থেকেই শুরু হয় এক অদ্ভুত কাণ্ড। ওয়ার্ড বয় পেশেন্টকে খাওয়াতে এসে দেখে পেশেন্ট সেলে নেই। সিকিউরিটিকে ডেকে জিজ্ঞেস করে। সে করিডরের মুখেই বসা ছিল। কাউকে বেরোতে হলে সেখান দিয়েই বেরোতে হবে। তখন ওরা আমাকে ডাকে। আমি এসে দেখি পেশেন্ট বেডে শোয়া। শুধু শুধু আমাকে ডেকে আনার জন্য ধমকাচ্ছিলাম ওদের। কিন্তু ঠিক তখনই লোকটা সটান উঠে দাঁড়াল বেডের উপর। আপনি না দেখলে বিশ্বাস করবেন না, কোনও মানুষের পক্ষে এভাবে না বসে শোয়া অবস্থায় দাঁড়ানো সম্ভব বলে! আরও দেখলাম, ওর চোখ খোলা থাকলেও সম্পূর্ণ সাদা, কালচে দাঁত বের করে উৎকট হাসছে, আর মাঝে মাঝে দাঁতের ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়ছে কালো সরু জিভ। বহুদিন ধরে মানসিক রোগীদের নিয়ে কাজ করছি। আমি হলফ করে বলতে পারি এ কোনও মানসিক সমস্যার লক্ষণ না। আমাদের তিনজনের চোখের সামনে লোকটা দেওয়াল বেয়ে উঠতে শুরু করল। আমরা আর ওখানে দাঁড়ানোর সাহস জোগাড় করতে পারিনি। কোনওরকমে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে নীচে এসে খবর দিই ডঃ ঘোষকে। স্যার না আসা পর্যন্ত আর এদিকে আসিনি।”

    “আপনার কি মনে হয়, এসব আষাঢ়ে গল্প পুলিশ বিশ্বাস করবে?”

    “আমি তো আগেই বলেছিলাম স্যার। আপনি কেন, কেউ বিশ্বাস করবে না। আমি নিজের চোখে না দেখলে আমিও বিশ্বাস করতাম না। আপনি চাইলে ওই ওয়ার্ড বয় আর সিকিউরিটিকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।”

    “সেটা তো আমি করবই। কিন্তু যদি তর্কের খাতিরেও ধরে নিই আপনার কথা সত্যি, তাহলে ওই পেশেন্টের মৃত্যুর কারণও বলতে চান অলৌকিক কিছু?”

    “আমার তাই মনে হয়। স্যার যখন ব্যালকনি থেকে পড়ে যাচ্ছেন, তার আগে আমি টর্চের আলো ফেলতেই দেখেছিলাম সিলিঙে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো বসে আছে একটা মূর্তি। তাঁর চার হাত পা আটকে আছে উপরে আর মাথা উলটো হয়ে ঝুলছে নীচের দিকে। চোখে সেই শূন্যতা, মুখে হাসি। স্যার হুড়মুড় করে পড়ে যেতেই ঐ মূর্তিটাও সিলিঙ থেকে সোজা ঝাঁপ দিল বাইরে। আর আমার কিছু দেখার সাহস হয়নি স্যার। আমি নীচে ছুটে যাই। ততক্ষণে বাইরে ওয়ার্ড বয় সিকিউরিটি গার্ডদের ভিড় জমে গেছে। দু-দুটো জোরালো আওয়াজ পেয়ে তারা হসপিটালের বাইরে জড়ো হয়েছে। আমি গিয়ে দেখি দুটো লাশ। একটা ডঃ ঘোষের, আর অন্যটা সেই ১০৪ নম্বরের পেশেন্টের।”

    *****

    বডি দুটো পোস্ট মর্টেমে পাঠিয়ে দিয়ে বাইরে এসে একটা সিগারেট ধরালেন সৌম্য। তাঁর ভ্রূতে গভীর ভাঁজ। কয়েক মাস হল এই থানায় এসেছেন তিনি। এর মধ্যেই এমন একটা কেস তাঁর দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া আরও একটা বিষয় তাঁর কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে। ডঃ অজয় ঘোষ। নামটা শুনেই চেনা মনে হয়েছিল বটে, কিন্তু খুবই কমন নাম বলে বেশি ভাবেননি তা নিয়ে। কিন্তু মৃতদেহের মুখ দেখে তাঁর বহুবছরের ভুলে যাওয়া কোনও সুর যেন স্মৃতির তন্ত্রীতে আঘাত করে ঝঙ্কার দিয়ে উঠল। অজয়। তখন নামের আগে গালভরা ডক্টর উপাধি বসেনি। তখন কত আর বয়স তাঁদের! পনেরো বড়জোর। পড়াশোনা, ফুটবল, আড্ডা এই ছিল তাঁদের জীবন।

    অজয়, সৌম্য, রঞ্জন আর বিপ্লব। চারজন হরিহর আত্মা। একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল সৌম্যর। এতদিন পরে যদি বা অজয়ের সঙ্গে দেখা হল, তা এমন পরিস্থিতিতে। জোর করে বাস্তবে ফিরে এলেন সৌম্য। সাময়িক আবেগটা কেটে যেতে উপলব্ধি করলেন, একদিকে বোধহয় ভালোই হয়েছে। এতদিন পর অজয়ের মুখোমুখি হলে কালের অতলে চাপা পড়ে-যাওয়া তিক্ত স্মৃতি আবার মাটি খুঁড়ে উঠে আসতই। কি জানি তাঁরা দু’জনেই সেই চরম সত্যিটা মেনে নিতে পারতেন কিনা! বিশেষত অজয় এখন নামকরা ডাক্তার। সে হয়তো পরিচয় স্বীকার করতেই চাইত না সৌম্যর সঙ্গে।

    যাই হোক, পলাশের কাছ থেকে ১০৪ নম্বরের রোগীর বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। পলাশ একটা চিরকুটে লিখে দিয়ে দিয়েছে সৌম্যকে। তবে হসপিটাল থেকে বার বার ফোন করেও কানেকশন পাওয়া যায়নি। বার বার বলছে ফোন সুইচড অফ। কাজেই তাঁর বাড়িতে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।

    আঠাশ নম্বর রামনাথ বৈদ্য লেন। নাম যেমনই হোক না কেন, আসলে এঁদো গলি। তারই মুখে বড় রাস্তার পাশে ড্রাইভারকে গাড়ি দাঁড় করাতে বলে নামলেন সৌম্য। গলির একপাশে ড্রেন থেকে তুলে স্তূপ করে রাখা কাদা ময়লা বাঁচিয়ে সাবধানে এগোচ্ছিলেন তিনি। একটা আঁশটে গন্ধে ভরে আছে পুরো রাস্তাটা। একদম শেষের দুটো বাড়ি আগেই সৌম্যর উদ্দিষ্ট ঠিকানা। গলির ভেতরে আলো নেই। বড় রাস্তার মুখে যেখানে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, সেখানেই একটা ল্যাম্পপোস্টে আলো জ্বলছে। তারই ছিটেফোঁটা এসে যেটুকু উদ্ভাসিত করছে গলির ভেতরটা তাতেই দেখতে পেলেন একটা একতলা বাড়ি। খুবই সামান্য জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে বাড়িটা। রাস্তার ড্রেনের উপর একটা কালভার্ট বসিয়ে তার উপরেই বাড়িতে প্রবেশ করার ছোট লোহার গেট। আশেপাশের বাড়ি থেকে বাংলা সিরিয়ালের শব্দ, দু চারটে গলার আওয়াজ, গৃহস্থালির বাসনকোসনের টুকরো টাকরা ঢং ঢং ঝন্ ঝন্ কানে আসছে। অথচ এই বাড়িটা নিশ্চুপ। যদিও সৌম্য বুঝতে পারছেন বিষয়টা। সদ্য অপঘাত-মৃত্যু হয়েছে যে বাড়ির মানুষের, সেই শোকের বাড়িতে এটাই স্বাভাবিক পরিবেশ। কিন্তু আলো জ্বলছে না কেন? জানলা দরজার ফাঁক ফোঁকর দিয়েও সামান্যতম আলো ছিটকে বেরোচ্ছে না বাইরে। লোহার গেটের দুপাশে নিচু পাঁচিল। পাঁচিলের ওপাশ থেকে কিছু ঝোপঝাড় হুমড়ি খেয়ে রাস্তার দিকে এসে পড়েছে আর সেখান থেকে ভেসে আসছে ঝিঁঝিঁ পোকার জোরালো আওয়াজ। সৌম্য একবার থমকে দাঁড়িয়ে ঘাড় উঁচু করে বাড়ির আশপাশটা দেখে নিলেন। তারপর লোহার ছোট গেটের কুলুপ খুলে ভেতরে পা দিলেন। ভেতরে পা ফেলতেই দুটো সিঁড়ি। জায়গা এতই কম যে গেট খুলে পা ফেললেই ঘরে ঢোকার দরজার নীচের সিঁড়ির উপরেই পা পড়ে। সেখানে দাঁড়িয়েই কাঠের দরজার গায়ে লাগানো কড়া নাড়লেন সৌম্য। কড়া নাড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দরজা খুলে গেল বিনা ভূমিকায়। একজন মহিলা। ঘরে খুব মৃদু আলোর আভাস। সেই আলো পিছনে থাকায় ভদ্রমহিলার মুখ দেখা যাচ্ছে না বটে, তবে অনুমান করা যায় তিনি বয়স্ক। ভদ্রমহিলা অপেক্ষা করছেন সৌম্যর কিছু বলার।

    “নমস্কার। আমি শ্যামপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর সৌম্য রায়। আপনার বাড়িতে একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে জানি। সেই সূত্রেই আমার এখানে আসা। খুব বেশি সময় নেব না।”

    “আসুন।” সৌম্যর কথা শেষ হওয়ার আগেই দরজা ছেড়ে দাঁড়ালেন মহিলা। ভেতরের ঘরটাকে অনায়াসে বসার ঘর বলাই যায়, যদিও আয়তন খুবই কম। দুটো বেতের চেয়ার পাশাপাশি রাখা আর তাদের মাঝখানে একটা ছোট্ট গোল টেবিল। ঠিক উলটোদিকের দেওয়ালে একটা বুক শেলফ রাখা। তার উপরে পাশাপাশি তিনটে ফ্রেমে বাঁধানো ছবি। তিনটি ছবিতেই ফুলের মালা পরানো। সম্ভবত ভদ্রমহিলা এক জীবনে বেশ কয়েকটি শোকের সম্মুখীন হয়েছেন। ছবির ফ্রেমগুলি বেশ ছোট হওয়ায় মালায় প্রায় ঢাকা পড়ে গেছে। ওখানেই দু’পাশে দুটি মোমবাতি জ্বলছে, তার আলোতেই যেটুকু আলোকিত ঘর। এই কারণেই বাইরে থেকে আলোর কোনও আভা দেখা যাচ্ছিল না। সৌম্য বেতের চেয়ারে বসে পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাম মুছলেন। তারপর একটা নোটবুক আর পেন বের করলেন। মহিলা পাথরের মূর্তির মতো একটু দূরে দাঁড়িয়ে।

    “আপনি মৃত ব্যক্তির কে হন?”

    “মা।”

    “ওঃ আমি খুব দুঃখিত। আসলে বুঝতেই পারছেন কিছু অফিসিয়াল বিষয় কিছুতেই এড়ানো যায় না। তাই এই শোকের মুহূর্তে আপনাকে বিরক্ত করছি।” “বলুন।”, ভদ্রমহিলার গলার স্বর বেশ অস্বস্তিকর। শীতল, অবিচলিত, যেন পৃথিবীর কোনও কিছুতেই তাঁর কিছু এসে যায় না।

    “আপনার ছেলের মানসিক রোগ কতদিনের পুরোনো? প্রথম থেকেই কি ডঃ ঘোষকে দেখান, নাকি এর আগেও অন্য কোনও ডাক্তারকে দেখিয়েছেন?”

    ভদ্রমহিলা কোনও উত্তর দিলেন না। বরং ঘরের ভেতরে যাওয়ার দরজার পাশে রাখা একটা ছোট টুল থেকে তুলে নিলেন আর একটা ফ্রেমে বাঁধানো ছবি। খুব মন দিয়ে একটা কাপড়ের টুকরো দিয়ে মুছতে লাগলেন ছবিটা। একটু অপেক্ষা করে সৌম্য গলা খাঁকারি দিলেন। তাঁর প্রশ্ন দ্বিতীয়বার পুনরাবৃত্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন তিনি, এমন সময় ভেসে এল ভদ্রমহিলার গলার স্বর, “আমার ছেলের কোনও মানসিক রোগ ছিল না।”

    সৌম্য একটু ভড়কে গেলেন। মানসিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বৃদ্ধার ছেলে। তবু বলছেন মানসিক রোগ ছিল না? শোকে তাপে ওঁর মাথাতেও কি গণ্ডগোল দেখা দিল নাকি? যাক গে, আত্মহত্যার কেস। রুটিন জিজ্ঞাসাবাদ, যেভাবে হোক সাজিয়ে দিলেই হবে। ঘড়ি দেখলেন সৌম্য। ঘরের আধো আলোতে ঘড়ি দেখতেও সমস্যা হচ্ছে। চোখের কাছে এনে দেখছিলেন। মাথা তুলেই সামান্য চমকে উঠলেন। বৃদ্ধা কখন যেন তাঁর একদম কাছে এসে দাঁড়িয়েছেন। একটা পাঁক পাঁক গন্ধ উঠে আসছে তাঁর দেহ থেকে। গা গুলিয়ে উঠল সৌম্যর। উঠে দাঁড়ালেন তিনি। নোটবুকটা পকেটে রাখতে রাখতে প্রশ্ন করলেন, “আপনার ছেলের বয়স কত হয়েছিল?”

    “পনেরো বছর তিন মাস বাইশ দিন।”

    এবার মজা লাগল সৌম্যর। পোস্ট মর্টেমে পাঠানোর সময় এক ঝলক দেখা মুখটা মনে পড়ল। যদিও থেঁতলে যাওয়া শরীরটাতে হাড়গোড় কিছু আস্ত ছিল না বলেই মনে হয়, তবু মুখটুকু যা বোঝা গেছে তাতে গোঁফওলা আধবুড়ো একটা লোকের বয়স পনেরো? মহিলার মাথা পুরোই গেছে।

    হাসি চেপে সৌম্য আবার জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার ছেলের নাম?”

    “রঞ্জন। রঞ্জন মজুমদার।”

    এত চমকে উঠলেন সৌম্য যে হাত থেকে পেন পড়ে গেল। প্রথমে অজয়, এবার রঞ্জন? কিন্তু রঞ্জন কীভাবে হতে পারে? রঞ্জন তো… আচমকা বিদ্যুৎ চমকের মতো একটা কথা তাঁর মাথায় এল। পনেরো বছর তিন মাস বাইশ দিন। হ্যাঁ তাই তো। রঞ্জন মারা যাওয়ার সময় তার বয়স তো সেরকমই হওয়ার কথা। তার ঠিক মাস চারেক আগেই ধুমধাম করে জন্মদিন পালন করা হয়েছিল রঞ্জনের। তার কয়েকদিন পরেই নদীর ধারে আড্ডা মারতে মারতে কথাটা বলেছিল রঞ্জন।

    *****

    “জানিস, আমার দাদুর পোষা জ্বিন ছিল।”

    “এই আবার আষাঢ়ে গল্প শুরু করলি তো!”

    “দাঁড়া না, শুনতে দে।” অজয়কে থামিয়ে দিল সৌম্য।

    “বল তো রঞ্জন, জ্বিন মানে? সত্যি জ্বিন?”

    “সত্যি না তো কি, মিথ্যা? আমার দাদু গৃহত্যাগী হয়েছিলেন তন্ত্রসাধনা করার জন্য। শেষ বয়সে আবার ঘরে ফেরেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন সেই জ্বিনকে।”

    অজয় আর বিপ্লব গা টেপাটেপি করে হাসছিল। হাসি থামিয়ে বিপ্লব বলল, “তা সেই জ্বিনবাবু এখন কোথায়? তোদের বাড়িতে তোদের সঙ্গেই থাকে নাকি? “ একটু মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে চুপ করে গেল রঞ্জন। সৌম্য বাকি দু’জনের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপল।

    “আঃ তোরা একটু থামবি? হ্যাঁ রে রঞ্জন, কী বলছিলি একটু খুলে বল তো!”

    “দাদু মারা যাওয়ার আগে সেই জ্বিনকে মন্ত্র পড়ে একটা পেতলের ঘটিতে পুরে মুখ বন্ধ করে মাটির নীচে পুঁতে দিয়েছিলেন। দাদু ছাড়া আর কেউ জানত না কোথায় পোঁতা আছে সেই ঘটি। কয়েকদিন আগে…”

    “কয়েকদিন আগে? কী হয়েছে?” বিপ্লব বলে উঠল অধৈর্য স্বরে। যতই হাসাহাসি করুক না কেন, এসব গল্পের আকর্ষণ ত্যাগ করা বড় কঠিন। রঞ্জন গম্ভীর মুখে একবার তাকাল বিপ্লবের দিকে। তারপর চোখ সরিয়ে বলল, “বাগানের তুলসি মঞ্চ আমার বাবার ঠাকুমার আমলের। সিমেন্টের বেদিটা বেশ অনেকদিন ধরেই ভেঙেচুরে গিয়েছিল। কয়েকদিন আগে মা মিস্ত্রি লাগিয়েছিল সেই পুরনো তুলসি মঞ্চ ভেঙে আবার নতুন করে তৈরি করার জন্য। আর তা করতে গিয়েই তুলসি মঞ্চের ভেতর থেকে পাওয়া গেছে লাল শালু দিয়ে মুখ বাঁধা একটা পেতলের ঘটি। মা সেটা নিয়ে কী করবে বুঝতে না-পেরে রেখে দিয়েছে ঠাকুরের আসনে। আমাদের কুলপুরোহিত গেছেন বৃন্দাবন তীর্থ করতে। সামনের সপ্তাহে ফিরলেই মা তাঁকে ডেকে এনে যা করার করবে।”

    রঞ্জনের কথা শেষ। বাকিদের মুখেও কথা নেই। কিন্তু অজয় অন্য কিছু ভাবছিল, “আমাদের দেখাবি রঞ্জন জিনিসটা? একটিবার দেখব। তারপর ফেরত দিয়ে দেব। প্লিজ একবার আন।“

    রঞ্জন রাজি হয়নি প্রথমটা। কিন্তু কৈশোরের প্রবণতায় বন্ধুদের সামনে হিরো সাজার লোভ সংবরণ করা বড় কঠিন। তাছাড়া বিষয়টার সত্যতা নিয়ে হয়তো সন্দিহান ছিল সে-ও। ঠিক হল পরদিন সন্ধ্যাবেলায় অজয়ের বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে ওদের বাড়িতেই ঘটিটা নিয়ে রঞ্জন আসবে। বাকিরাও সেইসময় সেখানেই থাকবে। মাত্র পনেরো মিনিটের জন্যই আসবে রঞ্জন। তার মা সেই সময় সিরিয়াল দেখতে তার জ্যেঠির ঘরে যায়। মা ফেরার আগেই ঘটি আবার স্বস্থানে ফিরিয়ে দিতে হবে। তাতেই রাজি হল বন্ধুরা।

    কথামতো পরদিন ঠিক সন্ধে ছ’টায় সব বন্ধুরা এসে হাজির হল অজয়ের বাড়িতে। অজয়ের বাবা-মা দু’জনেই ডাক্তার। কাজেই তাঁদের বাড়ি ফিরতে রাত হয়। এর থেকে নিরাপদ স্থান আর হয় না। রঞ্জন ঘরে ঢুকেই কাঁধের ঝোলা ব্যাগ থেকে বের করল ঘটিটা। একটা খুব সাধারণ দেখতে পেতলের ঘটি। মুখে লাল শালু জড়ানো। ঘটির রং এখন আর পেতলের মতো নেই, বরং খানিকটা লোহার উপরে শ্যাওলা পড়লে যেমন হয় তেমনি দেখতে লাগছে। লাল শালুটা কিন্তু দেখে বেশ নতুন বলেই মনে হচ্ছে। রঞ্জন জানাল, “পুরোনো শালুটা ছিঁড়ে গিয়েছিল বলে ঘটির ঢাকনার উপর দিয়ে মা একটা নতুন শালু জড়িয়ে দিয়েছে।”

    “তা না হয় হল। কিন্তু এর মধ্যে যে জ্বিন আছে, তা প্রমাণ হবে কী করে?” ঘটিটা দেখামাত্রই হাসাহাসি শুরু করল অজয় আর বিপ্লব।

    “হ্যাঁ রে রঞ্জন, জ্বিনটা ছেলে না মেয়ে? মেয়ে হলে তুই বিয়ে করে ফেল। ব্যাস ঝামেলা খতম।”

    সৌম্যরও ঠিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছিল না রঞ্জনের গল্পটা। কেমন মনে হচ্ছিল রঞ্জন তাদের বোকা বানাচ্ছে। তাই প্রস্তাবটা সেই দিল, “এক কাজ করা যাক। ঘটিটা খুলে দেখা যাক ওতে কী আছে।”

    কথাটা শুনেই রঞ্জনের মুখ শুকিয়ে গেল, “না না এ কি বলছিস! তুই জানিস, জ্বিন বশ করার মন্ত্র না জেনে জ্বিনকে মুক্তি দিলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। আমি খুব ভুল করেছি তোদের এটার কথা বলে। আমি যাই এখন।”

    “কিন্তু যাই বললেই যেতে দিচ্ছে কে?” বাকি তিনজন তখন দরজা আড়াল করে দাঁড়িয়েছে।

    “আমাদের বোকা বানিয়ে পালাবি ভাবছিস? তোর এসব গালগল্পে আমরা বিশ্বাস করি না। দে বলছি ওটা।” রঞ্জন দু-হাতে আঁকড়ে ধরল ঘটিটা। কিন্তু যতই হোক, তিনজনের সঙ্গে ও একা পারবে কেন? টানাটানিতে হাত থেকে ছিটকে পড়ল ঘটিটা। লাল শালু সমেত ঘটির ঢাকনা খুলে ঠিকরে গেল একদিকে, মুখখোলা ঘটিটা মেঝের উপর কয়েক রাউন্ড চক্কর খেয়ে স্থির হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে স্থির হয়ে গেল দরজার কাছে দাঁড়ানো চার বন্ধু। ঘটির মুখ থেকে সাদা সাদা ছাইয়ের মতো সামান্য গুঁড়ো বেরিয়ে মেঝেতে পড়েছে। কিছু সময় চুপ করে থাকার পর নীরবতা ভঙ্গ করে হেসে উঠল অজয়।

    “সে কি রে রঞ্জন, তোর জ্বিন যে পাউডার ফর্মে বেরোবে সে কথা তো বলিসনি।”

    রঞ্জন হাসল না। তার হাত-পা কাঁপছে।

    “এখন… এখন কী হবে? আমি কী করব?”

    “কিস্যু হবে না। যদি তোর দাদুর আমলে এসব সত্যি হয়েও থাকে, এতদিন পর আর…” কথা শেষ হল না সৌম্যর। চিৎকার করে উঠল রঞ্জন

    “চুপ কর। একদম চুপ। এবার টের পাবো আমরা সবাই। সব শেষ হয়ে যাবে। একে একে সবাই মরব আমরা। দেখে নিস।” অবস্থা সুবিধের নয় বুঝে সৌম্য চুপ করে গেলেও বিপ্লব আর অজয় থামার ছেলে নয়। রোগা সোগা শীর্ণ চেহারা হলেও অজয়ের জেদ প্রচণ্ড। সে বলল, “এসব দু’নম্বরী কথায় চিঁড়ে ভিজবে না চাঁদ, কোথায় তোর জ্বিন? যদি তোর কথা সত্যি হয়ে থাকে তবে এক্ষুনি প্ৰমাণ দে।”

    রঞ্জন চোখ তুলে তাকাল অজয়ের দিকে। ওর চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে, মুখ লাল।

    “প্রমাণ চাই তোর? বেশ। জ্বিন সদ্য মুক্তি পেয়েছে। এই ঘরেই আছে। আয় আমরা প্ল্যানচেট করি। জ্বিন থাকলে অবশ্যই আসবে। করবি? আছে সাহস?” রঞ্জন যে এভাবে চ্যালেঞ্জ করবে তা আশা করেনি অজয়। কিন্তু সে ভাঙবে তবু মচকাবে না।

    “বেশ। এখনই হোক প্ল্যানচেট। শুনেছি এতে চারজন লাগে। আমরাও চারজন আছি।”

    এরপর প্ল্যানচেট সম্পর্কে যে যার গল্পের বই পড়া, লোকের কাছে শোনা জ্ঞান প্রয়োগ করে তেপায়া টেবিল, মোমবাতি ইত্যাদি সারা বাড়ি থেকে জোগাড় করে আনল। সৌম্য শুনেছিল, যাই হয়ে যাক না কেন, সার্কেল ভাঙলে বিপদ। সার্কেল অর্থাৎ চারজনের হাতে হাতে ধরা বন্ধন। পরবর্তী দশ মিনিট চার বন্ধুর জীবন ওলট পালট করে দিয়েছিল। প্ল্যানচেট শুরু করার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই রঞ্জনের মাথা ঝুলে পড়ল বুকের উপর। প্রথমে অন্য তিনজন ভেবেছিল রঞ্জন ইচ্ছে করে এমন করছে। কারণ প্ল্যানচেটের সাফল্য সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহ ছিল তাদের মনে। তারপরই সেই ভয়ংকর দৃশ্য। এতদিন পরেও চোখ বুজলেই মনে করতে পারেন সৌম্য। গিরগিটির মতো দেওয়ালে হেঁটে বেড়াচ্ছে রঞ্জন। ভয়ে কাঁপছে অজয়। ঘাম গড়াচ্ছে ওদের সবার কপাল বেয়ে। সৌম্য চিৎকার করছে, সার্কেল ভাঙবি না, সার্কেল ভাঙবি না। আর তার মধ্যেই হঠাৎ বিপ্লব চিৎকার করে হাত ছেড়ে দৌড়াল দরজার দিকে। আর সার্কেল ভাঙা মাত্র প্রায় সিলিঙের কাছ থেকে মাটিতে আছড়ে পড়ল রঞ্জন। পড়েই স্থির হয়ে গেল। মুখের সব বিকৃতি তখন উধাও। তারপর তিনজন বছর পনেরো ষোলোর কিশোরের বোধকরি জীবনের সবচেয়ে নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। রঞ্জনের দেহটা একটা বিছানার চাদরে মুড়ে অজয়দের বাড়ির পিছনের ঝোপে লুকিয়ে ফেলল তারা। তারপর মেল ট্রেনের গতিতে ছুটতে থাকা হৃদপিণ্ডের আন্দোলন মুখে ফুটতে না দিয়ে যে যার বাড়িতে ফিরে গেল। আবার তিনজনে মিলিত হল রাত একটার সময় অজয়ের বাড়ির পিছনে। নদীর জলে রঞ্জনের লাশটা বিসর্জন দিয়ে ফেরার পথে ঘটিটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল নদীর জলে। তারা ঠিক করেছিল এ ঘটনা সারাজীবন তাঁদের মধ্যেই গোপন থাকবে।

    রঞ্জনের খোঁজ শুরু হয়েছিল রাত আটটা থেকে। তার মা ভেবেছিলেন হয়তো কোনও বন্ধুর বাড়িতে গেছে। অজয়ের বাড়িতে উনি যখন এসেছিলেন, তিন বন্ধু ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে লাইট নিভিয়ে বসেছিল। খানিকক্ষণ ডাকাডাকি করে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। অজয়ের বাবা-মা সেদিন ফিরেছিলেন রাত ন-টার পর। রঞ্জনের হয়ে খোঁজ করার বিশেষ কেউ ছিল না। তার বাবা এবং জ্যেঠা কেউই বেঁচে ছিলেন না। বয়স্কা জ্যেঠি আর মায়ের পক্ষে যতটা সম্ভব খোঁজাখুঁজি করেছিলেন। তারপর পুলিশের উপর ভরসা করে বসেছিলেন। পুলিশ নড়েচড়ে বসায় বিপ্লব, সৌম্য আর অজয়কে ঘটনাটা জানাতে হয়েছিল নিজেদের বাবা মায়েদের। কপালে তিরস্কার জুটলেও পুলিশের হাত থেকে ছেলেদের রক্ষা করতে বাবা-মায়েরা তাদের অকাট্য অ্যালিবাই হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বিপ্লব আর সৌম্যর বাবা-মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন তারা যে যার বাড়িতে পড়াশোনা করছিল আর অজয় ছিল সৌম্যর বাড়িতে। সন্দেহ ঘোরতর হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ মেলেনি। এর কিছুদিনের মধ্যেই তিন পরিবারই পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গিয়েছিল সেখান থেকে। তার পর থেকে এতদিনের মধ্যে তিন বন্ধুর আর কখনো দেখা হয়নি। কে কোথায় ছিল সেই খবরটুকুও রাখেনি তারা। আর আজ এতদিন পর সৌম্যর চোখের সামনে তাজা হয়ে উঠছে সেই স্মৃতি!

    *****

    “আমার ছেলেকে নদীতে ফেলে দিয়েছিলি তোরা। আমি সব জানতাম। অজয়ের বাড়িতে শুধু না, তোর আর বিপ্লবের বাড়িতেও রঞ্জনকে খুঁজতে গিয়েছিলাম আমি। তখন তোদের মায়েরা বলেছিল তোরা বাড়িতে নেই। অথচ পুলিশের কাছে বেমালুম মিথ্যে বলল তোদের মা-বাবা। আমিও প্রমাণ করতে পারলাম না। কীভাবে পারব? আমার কথায় কে বিশ্বাস করবে? কিন্তু কয়েকদিন পর রঞ্জুর ফুলে ফেঁপে ওঠা পচাগলা দেহটা নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার পর থেকে প্রায়ই গিয়ে বসে থাকতাম নদীর ধারে। অনেক প্রশ্ন জাগত মনে। কিন্তু উত্তর ছিল না। এর মধ্যে একদিন নদীর ধারে জমে থাকা পলিতে গেঁথে থাকা ঘটিটা দেখতে পেলাম। সেটা বাড়িতে নিয়ে এলাম। তারপর থেকেই প্রায়ই একটা বীভৎস মূর্তি দেখতে পেতাম আমার আশেপাশে। প্রথম প্রথম খুব ভয় পেতাম। শ্বশুর মশাইয়ের মুখে শুনেছিলাম জ্বিনকে সবসময় কাজে লাগাতে হয়। নইলে সে তার মালিককেই হত্যা করে। কিন্তু আমি মন্ত্র তন্ত্র জানি না। শরণাপন্ন হলাম আমাদের কুলপুরোহিত বিপিনবাবুর। উনি সবই জানতেন। আমার শ্বশুরমশাইয়ের আমল থেকে উনি আমাদের কুলপুরোহিত। প্রথমটা অরাজি হলেও সন্তানহারা মায়ের অশ্রু তাঁর মন গলিয়েছিল। উনিই আমাকে নিয়ে যান একজন পিশাচসিদ্ধ তান্ত্রিকের কাছে। সেই থেকে এই এতদিন… আমার এতগুলো বছর কেটে গেছে জ্বিন বশীভূত করার বিদ্যা শিখতে। একমাত্র সন্তানের মৃত্যু মাকে দিয়ে কী কী করিয়ে নিতে পারে, আমি তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ। শুধু প্রার্থনা করতাম, আমার প্রতিশোধ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত যেন বেঁচে থাকতে পারি।

    প্রথমে খোঁজ পেলাম বিপ্লবের। এই বাড়িতে একা থাকত। কাজকর্ম তেমন কিছু করত না। একটু পাগলাটে ছিল। একদিন এসে আলাপ করলাম ওর সঙ্গে। আমার পরিচয় পেয়ে কেঁদে ফেলল। ক্ষমা চাইছিল বারবার। খারাপ লাগছিল, কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। আমার ছেলের অকালমৃত্যু শুধু নয়, শেষ দেখাটাও আমাকে দেখতে না দেওয়ার মতো নিষ্ঠুরতা যারা করেছে, আমাকে তো তাদের শাস্তি দিতেই হত। বিপ্লবই খোঁজ দিল অজয়ের। নিজের মানসিক সমস্যার জন্য ডাক্তারের খোঁজ করতে গিয়ে অজয়ের সন্ধান পেয়েছিল বিপ্লব। কিন্তু যায়নি ওর কাছে। এক রাতে বিপ্লবের নামে সংকল্প করে জ্বিন ছাড়লাম। এর পরদিন বিপ্লবের মা সেজে ওকে ভর্তি করালাম অজয়ের হসপিটালে। জ্বিন তার নিজের কাজ সেরে ফিরে এসেছে। বাকি ছিলি তুই। ভাবছিলাম তোকে কোথায় পাব! অথচ দেখ, একেই বোধহয় বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। নিজে থেকে এসে উঠলি আমার দোরে।”

    মুখে একটা বিচিত্র হাসি ফুটে ওঠে রঞ্জনের মায়ের। হাতে ধরা ফ্রেমে বাঁধানো ছবিটা মোছা শেষ হয়েছে। শেলফের উপরে রাখা বাকি তিনটে ফ্রেমকে ঠেলে ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছেন সম্ভবত চতুর্থ ছবিটির জায়গা করার জন্য।

    সৌম্য ঘামছিলেন। ভদ্রমহিলা যে রঞ্জনের মা, সে ব্যাপারে তাঁর কোনও সন্দেহ নেই। একসময়ে প্রায় রোজ দেখা মুখটা এতক্ষণে তাঁর স্মৃতিতে স্পষ্ট। কিন্তু তাঁর বলা কথাগুলো কি বিশ্বাসযোগ্য, নাকি কেবলই শোকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা এক মায়ের প্রলাপ, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। হ্যাঁ, অল্পবয়সের নির্বুদ্ধিতায় তাঁরা অন্যায় করেছিলেন, কিন্তু রঞ্জন যে প্ল্যানচেট করতে গিয়ে প্রেতের কবলে পড়ে নিহত হয়েছে, এ কথা কি কেউ বিশ্বাস করত? তিনটে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনা অপরাধে শেষ হয়ে যেত না? আরে, ওগুলো কাদের ছবি? ফ্রেমগুলোকে সরাতে গিয়ে খসে পড়েছে ফুলের মালা। আর তাতেই মোমের আলোয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ছবিগুলো। একটাই ছবি ছিল, চারজনের। রঞ্জনের শেষ জন্মদিনে ওদের বাড়িতেই তোলা। ছবির চারটি চরিত্রকে আলাদা করে চারটি আলাদা ছবি বাঁধানো হয়েছে। পরপর দেখা যাচ্ছে হাসি মুখে রঞ্জন, বিপ্লব আর অজয়কে। আর শেষতম ছবি, যেটা এইমাত্র রঞ্জনের মা রাখলেন বইয়ের শেলফের উপর, সেটা সৌম্যর। খসে পড়া ফুলের মালাগুলো আবার পরিয়ে দিচ্ছেন তিনি ছবিগুলোতে। তিনটে ছবিতে মালা পরিয়ে সামনে রাখা চতুর্থ মালা যেটাকে এতক্ষণ ফুলের স্তূপ বলে মনে করেছিলেন সৌম্য, সেটা তুলে চতুর্থ ছবির সামনে রাখলেন রঞ্জনের মা। মৃদু হাসি নিয়ে তাকালেন সৌম্যর দিকে।

    “আ, আমি এখন উঠব। আপনি কি বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।”

    ঠোঁটে আঙুল দিয়ে সৌম্যকে চুপ করতে ইশারা করলেন ভদ্রমহিলা।

    “চুপ। একদম চুপ। শোন, শুনতে পাচ্ছিস? ও এখানেই আছে। ওই যে, আসছে। ওর শেষ কাজ। এরপর ওকে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেব ঘটির মধ্যে। আর পুঁতে দেব মাটির নীচে। ওর কাজও শেষ, আমার কাজও শেষ। এবার নিশ্চিন্তে মরতে পারব আমি। ওই শুনতে পাচ্ছিস?”

    মোমের আলোয় রঞ্জনের মায়ের বিস্ফারিত চোখদুটো ভয়ংকর দেখাচ্ছে। না, এখানে আর এক মুহূর্তও না। এক্ষুনি বেরোতে হবে এখান থেকে। দরজার দিকে এগোনোর জন্য পা বাড়াতেই সৌম্যর কানে এল ভারী পায়ের শব্দ। থপ থপ থপ… কেউ বা কিছু নেমে আসছে দেওয়াল বেয়ে। অজয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট পলাশের বর্ণনার কথা মনে পড়ে গেল সৌম্যর। হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। আচমকা দপ করে নিভে গেল একসঙ্গে দুটো মোমবাতিই। একটা উৎকট গন্ধ ঘিরে ধরেছে সৌম্যকে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে শুধু কানে আসছে একজোড়া ভারী পদক্ষেপ এগিয়ে আসছে… দরজাটা কোনদিকে? দরজাটা?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅনির্বাণ অমিতাভ – বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article কাদম্বরী – বানভট্ট
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026
    Our Picks

    স্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার

    August 11, 2026

    একটি পেরেকের কাহিনী – সাগরময় ঘোষ

    August 11, 2026

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }