Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤷

    তিতলির বাবা-মা

    তিতলি অধৈর্য হয়ে বারবার ওর সাধের রোলেক্স ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছিল। তিনটে বেজে দশ মিনিট, এখনো কোনো অ্যানাউন্সমেন্ট শো করছে না ডিজিটাল বোর্ডে, এদিকে আধ ঘণ্টা হয়ে গেছে শিডিউলড টাইম পেরিয়ে যাওয়ার পরেও। এয়ারপোর্ট লবিতে বেশ ভিড়, অথচ গ্রাউন্ড ক্রু-রাও কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারছেন না।

    হলটা কি?

    এইরকম তো হয় না!

    এদিকে বাইরে না বেরলেও ও বেশ বুঝতে পারছে, তাপমাত্রা ধীরে ধীরে শূন্যের নীচে চলে যাচ্ছে। ইশ, ভেবেছিল বিকেল বিকেল বাবাকে নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়বে, এমনিতেই ঠাণ্ডার ধাত বাবার, কিন্তু সেই সন্ধে হয়ে যাবে পৌঁছতে পৌঁছতে। তার মধ্যে বরফ পড়তে শুরু করলে তো সোনায় সোহাগা!

    আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ও আর পারল না, ফোন লাগালো প্রতিমকে, ”কিগো, দেখা পেলে?”

    ওপাশ থেকে প্রতিমের বিরক্তি মাখানো গলা শোনা গেল, ”আরে, লন্ডনে নাকি ব্লাস্ট হয়েছে, সব ফ্লাইট তাই ডিলে হয়েছে। তোমার কি খবর?”

    তিতলি বেজার মুখে উত্তর দিল, ”এখানেও তাই। কিছুই বলছে না।”

    অথচ সকালে ব্রেকফাস্ট সেরেই ওরা দুজন যখন দু’দেশের দিকে রওনা দিয়েছিল, তখন মনে কত উত্তেজনা ছিল। প্ল্যানের পর প্ল্যান সাজিয়ে বেরিয়েছিল ওরা।

    পাক্কা সাড়ে তিন বছর পর বাবাকে দেখবে তিতলি, আর মা-কে? চারবছর পর! মা-কে শেষ দেখা সেই বিয়ের পর প্রণাম করতে গিয়ে। মায়ের কাছে ছিল তখন ওরা দু-জন কয়েকদিন। মনটা কেমন খুশিতে ভরে ছিল সেই ক-টা দিন। তারপর তো ওরা দুজনেই চলে এল এই ছোট্ট দেশটায়। ফোন ছাড়া এখন আর কোনো যোগাযোগই নেই।

    ইউরোপের অস্ট্রিয়া আর সুইজারল্যান্ড, এই বড় বড় দুটো দেশের মাঝে আল্পস পাহাড়ের কোলে ছোট্ট একফালি চিজ স্যান্ডউইচের মতো এই বরফের দেশ লিকটেনস্টাইন। গোটা দেশটা মেরেকেটে ষাট বর্গমাইল মতো হবে, তার মধ্যে অর্ধেকই বরফে ঢাকা থাকে বারোমাস। সব মিলিয়ে পঁয়ত্রিশ হাজারও লোক নেই এই দেশে। এই দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই, রূপকথার মতো রাজা-রাণী রয়েছে, নাম কা ওয়াস্তে রাজা নয়, তারাই সর্বেসর্বা দেশের।

    বিয়ের পর প্রথম যখন তিতলি এসেছিল এখানে, দমবন্ধ হয়ে আসত, ভয়ও লাগত। হাওড়ার শিবপুরের জমজমাট এলাকার মেয়ে ও, সারাক্ষণ বাস-লরির কানফাটানো আওয়াজ শুনতে শুনতেই বড় হয়েছে। সেখানে, হঠাৎ করে এইরকম কাকপক্ষীহীন প্রান্তরে এসে পড়লে কিরকম একটা লাগে না? প্রথম প্রথম ও ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে রাস্তার দিকে চেয়ে হা-পিত্যেশ করে তাকিয়ে থাকত, পনেরো মিনিট অন্তর একজন পথচারীর দেখা মিলত বড়জোর। তাও হয়ত বরফ সরাতে বেরিয়েছে। পাহাড়ের উপরের দিকে তাকালে সেখানে দুর্গের মতো রাজপ্রাসাদ চোখে পড়ত, মনে হত ছোটবেলায় পড়া গ্রীম ব্রাদার্সের রূপকথার বাড়ি যেন বইয়ের মলাট ছেড়ে উঠে এসেছে সেখানে। ছুঁচলো চুড়োওয়ালা রাজবাড়িটাকে নিয়ে ও কল্পনায় কত কিই না ভাবত!

    প্রতিম ওর হাঁ করে তাকিয়ে থাকা দেখে হাসত, বলত, ”একটু গুছিয়ে নি। তোমায় একদিন নিয়ে যাব তিতু, ওই রাজবাড়িতে। রাজামশাই আমায় খুব ভালোবাসেন।”

    তা তো বাসবেনই, না হলে অমন দামি নেকলেস পাঠায় কেউ তিতলির জন্য? সঙ্গে আবার রোলেক্সের ঘড়ি!

    প্রতিম এখানে রয়েছে প্রায় আটবছর। তার আগে অস্ট্রিয়াতে হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়তে এসেছিল ও। ওখানকার হোটেল ম্যানেজমেন্টের কোর্সের বেশ দাম, পাশ করেই স্টুডেন্টরা সারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সব বড় বড় হোটেল চেনগুলোয় প্লেসমেন্ট পেয়ে যায়। প্রতিমও পেয়েছিল, কিন্তু চাকরি করার ইচ্ছে ওর ছিল না কোনোকালেই, বরং কিছুদিন এদিক-ওদিক টুকটাক কাজ করে সটান চলে এসেছিল এই ছোট্ট দেশের রাজধানী ভাদুজে, সবাইকে অবাক করে একটা ভারতীয় রেস্তোরাঁ খুলেছিল এখানে। ভারতীয় ট্র্যাডিশনাল ঘরানার মুঘলাই রান্নাই ছিল এই কন্টিনেন্টাল খাবারের দেশে ওর নাম ছড়ানোর ইউ এস পি।

    প্রতিমের স্ট্র্যাটেজিতে কোনো ভুল ছিল না। প্রথম প্রথম মাছি তাড়ালেও ওর প্রেজেন্টেশন, পেশাদারিত্ব, আর রান্নার গুণে এখন তার রেস্তোরাঁর নাম শুধু লিকটেনস্টাইনেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে পাশের দেশগুলোতেও। এখন সব মিলিয়ে ওর রেস্তোরাঁর সাতটা শাখা তিনটে দেশে, প্রতিম ছোটখাটো একজন উদ্যোগপতি এখানকার। এতকিছুর মাঝেও সে তার ছোট্টবেলার প্রেমকে ভুলে যায়নি মোটেই, তিতলিকে বিয়ে করে নিয়ে এসে সংসার পেতেছে এখানে। হাওড়ার কয়েকটা ছেলেকেও নিয়ে এসে রেস্তোরাঁর কাজে ঢুকিয়েছে সে।

    ওর প্রধান পৃষ্ঠপোষক এখানকার রাজপরিবার। ছোটখাটো অকেশন হোক, বা কোনো বড় অনুষ্ঠান, রাজপ্রাসাদের ব্যাঙ্কোয়েট হলের একদিকে প্রতিমের ইন্ডিয়ান খাবার থাকবেই। রানির স্বয়ং তো ওই মশলাদার তন্দুরি চিকেন ভীষণ প্রিয়।

    তিতলিও এখন ওদের রেস্তোরাঁ চেনের কো-পার্টনার। স্বামী-স্ত্রী মিলে সারাদিন ব্যস্ত থাকে নিজেদের হোটেলে, সময় কোথা থেকে কেটে যায়, টেরই পায় না। ওদের এই দেশের ভারি মজা, প্রায় সবাই সবাইকে চেনে, পুরো দেশটাই যেন একটা পরিবার।

    তিতলি আরো একবার এনকোয়ারির কাছে গেল। ধুর, একে টেনশনে মরছে সে, তার ওপর এত দেরি কারুর ভালো লাগে? আচ্ছা, তার নিজেরই এইরকম হচ্ছে, তাহলে যারা গিনিপিগ হতে চলেছে তাদের ইনস্ট্যান্ট রিয়্যাকশন কি হবে?

    তিতলির বাবা-মায়ের যখন ছাড়াছাড়ি হয়েছিল, তখন তিতলি ক্লাস এইটে পড়ে। সারাদিন তুচ্ছ কারণে দুজনের খিটিমিটি লেগেই থাকতো। মা ছিল ভয়ানক গোছানো, আর বাবা তার ঠিক উলটো। স্নান করে এসে বাবা প্রত্যেকদিনের মতো ভিজে গামছাটা বিছানায় রেখে যুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে দিত, আর সঙ্গে সঙ্গে সাইরেন বাজিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করত মা। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, দুজনেই ওদের হাওড়া লাইব্রেরিতে চাকরি করত, একই পোস্টে, একদম পাশাপাশি টেবিলে বসে। যখন ভালো সম্পর্ক থাকত, দিব্যি দুজনে একটা রিকশা করে পান চিবুতে চিবুতে রওনা দিত অফিস, আবার যখন ঝগড়া, তখন মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত নেই, আলাদা আলাদাভাবে গম্ভীর মুখে বেরিয়ে যেতো দুজনে, তারপর অচেনা কলিগের মতো পাশাপাশি টেবিলে বসে কাজ করে সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরত দুই মক্কেলে।

    তারপর কিছুদিন চলত ভাববাচ্যে কথোপকথন ও পারস্পরিক বক্রোক্তি।

    সবাই ভাবত এভাবেই চলবে বুঝি বাকি জীবনটা ওদের, ঝগড়া, ভাব, আবার ঝগড়া, আবার ভাব। তিতলিরও আর কিছু মনে হত না। কিন্তু একদিন কি যে হল, দুম করে ঝোঁকের মাথায় সেই যে মা বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে, আর ফিরে এল না। আগে কিছু হলে থামাত ঠাকুমা, কিন্তু ততদিনে ঠাকুমাও আর বেঁচে নেই।

    তিতলি স্কুল থেকে ফেরার পথে লাইব্রেরি যেত, দেখত একইভাবে পাশাপাশি টেবিলে ভাবলেশহীন মুখে কাজ করে চলেছে দুজন।

    ও ক্যান্টিনে নিয়ে গিয়ে মা-কে বলত, ”ও মা, প্লিজ বাড়ি চলো, অনেক তো হল! বাবার খুব কষ্ট হচ্ছে!”

    ”থাম তুই! কষ্ট হচ্ছে! কষ্ট হলে এতদিনে একবার ভুলটা স্বীকারও তো করতে পারত! সারাক্ষণ তো দেখছি, মজাতেই আছে! দিব্যি গল্পগুজব করছে, কাজ তো কিছুই নেই, তাস পেটাচ্ছে। সেদিন আমার টেবিল থেকে পেনটা পড়ে গেল, জানে আমার কোমরে ব্যথা, নিচু হতে কষ্ট হয়, তুলে দিতে পারত তো! দিল? দিল না। ওর মতো স্বার্থপর দুনিয়ায় নেই বুঝলি। আর তুই বলছিস কষ্ট হচ্ছে? ওইসব মানুষের জন্মে অনুতাপবোধ আসবে না!” ঝাঁঝিয়ে উঠত মা।

    বাবা-মায়ের কোনো ডিভোর্সও হল না, আবার ঠিকঠাকও হল না কিছু। মা আর এল না ফিরে। পাশের পাড়াতেই মায়ের বাবার বাড়ি, সেখানেই থেকে গেল। বাবাকে বলতে গেলেই বাবা বলত, ”তোর মুখ চেয়ে আমি ছোট হয়েছিলাম তিতলি! অফিসে কিছু বলতে গেলে সিন ক্রিয়েট করতে পারে, তাই বাসে একদিন কথা বলতে গেছিলাম। এমন কটমট করে তাকাল যে আশপাশের লোকজনগুলো সন্দেহের চোখে তাকাতে শুরু করল, আমি বুঝি ওকে বিরক্ত করছি! চিন্তা কর মাথা গরম হয় কিনা। ওর নিজের অহংকার নিয়ে ও থাক। ও ভেবেছে আমি বুঝি নিজে একা কিছু পারি না, তাই ওর উপর নির্ভরশীল থাকতে হবে আমায়। সেই নিয়ে উঠতে বসতে শোনাত আমায়! কই, করছি না আমি সব নিজে? তোর টিফিন করে দেওয়া, রান্নাবান্না, সবই তো সামলাচ্ছি একা হাতে, তোর কোনো অসুবিধে হচ্ছে কি?”

    তিতলি আস্তে আস্তে হাল ছেড়ে দিয়েছে। দিন গেছে, মাস গেছে, বছর ঘুরেছে। তিতলি স্কুল পেরিয়ে কলেজ, কলেজ পেরিয়ে ইউনিভার্সিটিতে পা রেখেছে। মা আর আসেনি।

    এমনকি তিতলির বিয়ের সময়ও কেউ একচুলও নিজের ইগো ছেড়ে নড়ল না। বিয়ের আগে বাবাকে বললেই বলত, ”তুই জানিস না, এতদিন কিছু বলিনি, এখন মানাতে গেলেই বলবে, ওই তো বিয়ের জোগাড়, সব কাজকর্ম তো একা করতে পারবে না, ওমনি চলে এসেছে। তুই দ্যাখ না, আমি একাই একশো। তোর বাপ যদ্দিন আছে তোর কোনো চিন্তা নেই।”

    তিতলি কিছুতেই বোঝাতে পারেনি, চিন্তাটা তার বিয়ের কাজকর্ম নিয়ে নয়, বাবা-মা দুজনকে পাশে পেয়ে নতুন জীবনে প্রবেশ করার একটা আলাদা আনন্দ!

    আইডিয়াটা প্রতিমই দিয়েছিল মাসচারেক আগে। তিতলি প্রায়ই মনখারাপ করতো, ”আমি এতদূরে পড়ে আছি, বাবামা-ও রিটায়ার করে গেল, বাবা একলা, মা একলা, আমার কিচ্ছু ভাল লাগে না। এই বুড়ো বয়সেও এত কিসের অভিমান ওদের?” ফুঁসে উঠেছিল ও।

    প্রতিম তখন চরম ব্যস্ত। রাজার একমাত্র মেয়েজামাই আসবে সন্ধেবেলা ওদের রেস্তোরাঁয় ডিনার খেতে, মেনু ঠিক করা, ছেলেগুলোকে ম্যানার শেখানো, লাস্ট মিনিট সব দেখে নেওয়া, এর মাঝেই ও বলেছিল, ”খুব ইজি একটা প্রসেস আছে। দুজনকেই ডেকে নাও এখানে, আলাদা আলাদা ভাবে, এসে দুজন দুজনকে দেখে এখান থেকে তো আর পালাতে পারবে না, এ তো আর পাশের পাড়া নয়! থাকতেই হবে। আমরা দুজন চলে আসব কাজে, দুটো প্রোডাক্ট পাশাপাশি থাকতে থাকতে ঠিক হয়ে যাব, ইগো পালাবে পেছন দিয়ে।”

    তিতলি কড়া চোখে তাকিয়েছিল প্রতিমের দিকে, ”এ আবার কি কথা? আমার বাবা-মা প্রোডাক্ট?”

    ”আরে!” প্রতিম তড়িঘড়ি সামলেছিল বউকে, ”আমরা সবাই একটা না একটা প্রোডাক্ট। তাই না? শুধু দেখো একসাথে থাকতে গিয়ে বাইপ্রোডাক্ট না হয়ে যায়! এতদিন পর, তখন আবার তার সিটিজেনশিপ নিয়ে ঝামেলায় পড়ব!”

    তিতলি চোখ দিয়ে প্রায় ভস্ম করে দিয়েছিল প্রতিমকে, কিন্তু আইডিয়াটা তার মন্দ লাগেনি। সত্যিই তো দুজনকে নিয়ে চলে এলে তো আর কিছু করতে পারবে না। থাকতেই হবে।

    সেইমত প্ল্যান করেছে দুজন এই কয়েকমাস ধরে। লিকটেনস্টাইনে কোনো এয়ারপোর্ট নেই, নয় অস্ট্রিয়া অথবা সুইজারল্যান্ড থেকে আসতে হয় এখানে। দুজনকে দু-ভাবে রাজি করিয়ে টিকিট কেটে পাঠিয়ে দিয়ে আজ প্রতিম চলে গেছে অস্ট্রিয়া এয়ারপোর্টে মা-কে রিসিভ করতে, আর তিতলি এসেছে সুইজারল্যান্ড এয়ারপোর্টে বাবার জন্য।

    হাসিও পাচ্ছে, আবার এক্সাইটমেন্টও লাগছে বেশ। দুই বুড়োবুড়ি রিটায়ারের পর একা একা থাকে, গল্পের বই, টিভি এইসব নিয়ে সময় কাটায়। বন্ধুমহলে কত বলা হয়েছে সব মিটমাট করে নিতে, কিন্তু একজন যেমন বাঘা তেঁতুল, অন্যজন ঠিক সেইরকমই যেন বুনো ওল।

    দূর থেকে বাবাকে দেখতে পেয়ে ও ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরল, ”কেমন আছো বাবা?”

    বাবাকে বেশ বুড়ো বুড়ো লাগছে, ট্রলিটা ঠেলতে ঠেলতে বলল, ”উহ! মেয়ের দৌলতে আমার বিদেশ দেখা হয়ে গেল, কি ভাগ্যি রে! অবশ্য কোনোদিনও তো কারুর কোনো ক্ষতি করিনি, ভালো হবে নাই বা কেন আমার! তোর মায়ের মতো নাকি যে ছোট বাচ্চাকে ফেলে চলে যাব? ঠিক হয়েছে, সবার মুখে যেই শুনবে আমি তোর এখানে এসেছি, আফসোসে হাত কামড়াবে।”

    তিতলি ঢোঁক গিলল, বাবারে, বাবা এসেই মায়ের এগেনস্টে তোপ দাগা শুরু করে দিয়েছে, তাহলে সামনাসামনি দেখলে কি করবে?

    উফ, এদের এখনো এতো রাগ? ভয়ে ভয়ে ও একবার ফোনের দিকে তাকালো, প্রতিমের ছোট্ট মেসেজ, ”আমার সুন্দরী শাশুড়ি অ্যারাইভড। ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে পৌঁছচ্ছি বাড়ি।”

    বাবার মালপত্র সব গাড়িতে তুলে দিয়ে ও গাড়িতে স্টার্ট দিল। তাই দেখে বাবা একেবারে অভিভূত হয়ে পড়ল, ”তুই কি স্মার্ট হয়ে গেছিস তিতলি! গাড়িও চালাতে শিখে গেছিস?”

    তিতলি হাসল, কিছু বলল না। এখানে এসে সত্যিই ও অনেক মডার্ন হয়ে উঠেছে। নিজের কাজ নিজেই করে নিতে পারে, তাছাড়া এখানে কোনো অলটারনেটিভও তো নেই! করতেই হবে।

    ও বলল, ”আচ্ছা বাবা, এতদিন তো হল, তোমরা কেন ঠিক করে নিচ্ছ না বলো তো? আমার তো একটু স্বস্তি হয় তাহলে!”

    বাবা পরমুহূর্তেই গম্ভীর, ”যেটা জানিস না, তা নিয়ে কথা বলিস না। আমি তো রিটায়ার করেছি তোর মায়ের ছ-মাস আগে। ওর ফেয়ারওয়েলের দিন গেছিলাম, শম্ভু জোর করে নিয়ে গেল। তোর মায়ের বোধ হয় শরীরটা খারাপ হয়েছিল, অনুষ্ঠান শেষের দিকে মাথাটা ঘুরে গেছিল হঠাৎ, আমি সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার ডাকলাম, সুস্থ হতে যেই গাড়ি ডেকে বলেছি বাড়ি চলো, ওমনি বলল, ‘আমার গাড়ি লাগবে না, রিকশাই যথেষ্ট’ বলেই একটা রিকশা নিয়ে গটগটিয়ে চলে গেল। এটা আমার অপমান নয়? এত গুমোর কিসের? এখন বুঝুক ঠ্যালা, আমি তো সঞ্জয়কে বলে এসেছি, কাগজ দিতে গিয়ে যেন বেশি বেশি করে বলে আসে আমি ইউরোপ এসেছি। শুনবে আর জ্বলবে, লুচির মতো ফুলবে!” বাবা বেশ তৃপ্তির সঙ্গে বক্তব্য শেষ করল।

    তিতলি আর কথা বাড়াল না। এখন মনে হচ্ছে এত কাণ্ড না করে দুজনকে আলাদা নিয়ে এলেই ভালো হত। এদের ঠিক কোনোদিনও হবার নয়, মাঝখান থেকে আরো কিছুটা তিক্ততা হবে।

    তবে যতটা ভয় তিতলি পেয়েছিল, সেইরকম কিছু হল না। প্রতিম মা-কে নিয়ে ওর আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। তিতলি দরজায় বেল টিপতেই মা হাসি হাসি মুখে দরজা খুলেই তিতলির পাশের মানুষটিকে দেখে থ হয়ে গেল।

    বাবাও বেজায় চমকেছে। একটু তুতলে তিতলির দিকে তাকিয়ে চেঁচাল, ”একি! ও এখানে কেন? ওকে কে নিয়ে এল?”

    পরিকল্পনামাফিক প্রতিম গম্ভীরভাবে বাবার পাশ থেকে লাগেজগুলো তুলে ভেতরে নিয়ে যেতে যেতে বলল, ”এখানকার নিয়মকানুন ভীষণ কড়া বাবা, একটু চিৎকার করে কথা বললেই পাঁচ ইউরো করে ফাইন। তাই চেঁচামেচি একদম করবেন না বাবা। ভেতরে আসুন।”

    তিতলি আড়চোখে দেখল, মা বাবার দিকে একঝলক টেরিয়ে দেখে চোখ দিয়ে যেন আগুন ঝরিয়ে চলে গেল বাথরুমে।

    বাবা কিছুক্ষণ থম মেরে বসে রইল ডাইনিং-এ, তারপর বলল, ”এইরকম চক্রান্তের শিকার হতে চলেছি জানলে আমি কক্ষনো আসতাম না। তিতলি, তুই আমাকে রিটার্ন টিকিট কেটে দে।”

    তিতলি হাঁ হাঁ করে কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু প্রতিম সেইরকমই নির্বিকার কণ্ঠে বলল, ”রিটার্ন তো কাটাই আছে বাবা, ওটা আর আলাদা নয়, একসঙ্গে সুইজারল্যান্ড থেকে। পনেরো দিন বাদে।”

    বাবা এবার গর্জে উঠল, ”পনেরো দিন? আমি কালকেই চলে যাব, তুমি টিকিট কেটে দাও আমাকে।”

    তিতলি কাতরভাবে প্রতিমের দিকে তাকালো, কিন্তু এবারেও প্রতিমের বিশেষ হেলদোল নেই, ফোনের কি একটা অ্যাপ খুলে ফেলে বলল, ”আঠেরোশো ইউরো ছাড়ুন তাহলে!”

    ”মা-মানে!” বাবা একটু গুটিয়ে গেল, ”কত টাকা সেটা?”

    প্রতিম নিজের মনে হিসেব করে বলল, ”খুব বেশি না, ওই এক লাখ তিরিশ হাজার মতো। এত জলদি টিকিট তো, তাই দাম একটু বেশি। আপনাদের রিটার্ন টিকিটটা তো অনেকদিন আগে অফারে কেটেছিলাম, তাই অত কম লেগেছিল। টাকাটা ট্রান্সফার করে দিন বাবা আমার অ্যাকাউন্টে, আমি এক্ষুনি কেটে দিচ্ছি, চাপের কিচ্ছু নেই। এখান থেকে আবুধাবি, সেখান থেকে কলকাতা। পরশুর মধ্যে বাড়ি ঢুকে যাবেন।”

    বাবা এবার মুষড়ে পড়ল বেশ।

    কখন বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে মা এসে পড়েছে কেউ খেয়াল করেনি, টের পেল মায়ের তির্যক মন্তব্যে, ”এক লাখ তিরিশ! হাসালে বাবা প্রতিম! যে কোনোদিনও হাজার টাকা খরচের ভয়ে দিঘা নিয়ে গেল না, সে নাকি …! হেসে আর বাঁচি না!”

    বাবা সঙ্গে সঙ্গে কি একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু প্রতিম আর কথা বাড়তে দিল না, ”চলুন মা, এখানে আজ খুব ঠাণ্ডা পড়বে, ফোরকাস্ট সেরকমই। স্নো ফল হবে। তাড়াতাড়ি ডিনার সেরে নিয়ে শুয়ে পড়ুন। আপনারা দুজনেই টায়ার্ড আছেন।”

    ওরা নিজেরাও টায়ার্ড ছিল, তবু উত্তেজনায় ভালো ঘুম হল না তিতলির। পরের দিন সকালে উঠেই ও উঁকি দিল পাশের দুটো ঘরে, কিন্তু কাউকেই দেখতে পেল না। অবাক হয়ে বাইরে এসে ও দেখল মা রান্নাঘরে কি সব খুটুরখুটুর করছে, আর বাবা বাইরের ঘরে বসে পা পর্যন্ত গামবুট পরছে।

    ও কনফিউজড হয়ে গিয়ে বলল, ”কোথায় যাচ্ছ বাবা?”

    বাবা গায়ে তিনটে জ্যাকেট চাপিয়েছে, মাথায় পড়েছে টুপি, জুতোর ফিতে বাঁধতে বাঁধতে বলল, ”তোদের রেস্টুরেন্টে চলে যাব। ওখানেই বসে থাকব সারাদিন। আবার তোদের সাথে ফিরে আসব। বাড়িতে একা একা বসে কি করব! চিনিনা জানিনা, ঘুরতেও পারব না বিদেশবিভূঁইয়ে!”

    প্রতিম কখন উঠে এসেছে তিতলি খেয়াল করেনি, ”একা একা কোথায় বাবা? মা-ও তো আছেন। দিব্যি খেয়ে দেয়ে বেরিয়ে পড়ুন, এখানে একটা খুব সুন্দর ট্রাম সার্ভিস চলে, সারা শহর, রাজবাড়ি, আরো অনেক স্থাপত্য ঘুরিয়ে দেখায় তিন ঘণ্টায়, সঙ্গে সুন্দর করে ব্যাকগ্রাউন্ডটাও বুঝিয়ে দেয়। টিকিট কেটে এনেছি, দেখবেন দারুণ লাগবে। তারপর ছুটির দিন তো আমরা ঘুরিয়ে দেখাবোই।”

    মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল, ”তিতলি, লুচি আর ছোলার ডাল করছি। খেয়ে নিয়ে বেরোবি। আর বাবা প্রতিম, তুমি আমাকে একটু বুঝিয়ে দিও তো কিভাবে ওই ট্রাম ডিপোয় যাব। আমার কোনো অসুবিধে নেই। বুড়ো হয়ে গেছি নাকি যে বাড়ি বসে থাকব? ফোনে জিপিএস অন করব আর চলে যাব। ম্যাট্রিক্সের সিমও নিয়ে নিয়েছি এয়ারপোর্ট থেকে ওইজন্য। এডুকেটেড মানুষ, চিন্তার আবার কি আছে!” কথাকটা বলেই মা ঢুকে গেল রান্নাঘরে।

    বাবা গজগজ করল, ”এহ! খুব শিক্ষার দেমাক! এদিকে লাইব্রেরি সায়েন্সের ফাইনাল ইয়ারেও আমার চেয়ে সাত নম্বর কম পেয়েছিল।” তারপরই জুলজুল করে তাকালো বাবা, ”ইয়ে, জিপিএস-টা কি রে? আমাকে একটু অন করে দে তো!” নিজের নোকিয়ার ঢাউস ফোনটা পকেট থেকে বের করে বাবা।

    ”ওটায় তো জিপিএস হবে না বাবা।” আমতা আমতা করল তিতলি, ”তুমি বরং মা-কে ফলো করে করে চলে যেয়ো। মা স্মার্ট আছে, ঠিক পৌঁছতে পারবে।”

    বাবা গোমড়া মুখে বিড়বিড় করল, ”হু! ও যা হিংসুটে! ওকে ফলো করে যেতে গিয়ে দেখব পুলিশকে দেখে রিপোর্টই হয়তো করে দিয়েছে, এদেশের নিয়মকানুন এমনিই বলছিস কড়া।”

    গোটা এক সপ্তাহ এইভাবে কেটে গেল। এই কয়েকটা দিন রোজই প্রতিম কিছু না কিছুর টিকিট কেটে এনে দিয়েছে, সেটা নিয়ে মা জিপিএস দেখে দেখে পৌঁছে গেছে, আর বাবামা-কে ফলো করে করে। তিতলি আর কিছু বলচ্ছিল না। বরং ওর বেশ ভালোই লাগছিল। মা আসার পর বেশ আরাম পাচ্ছে ও। এতদিন ঘরবার সামলাতে সামলাতে ও হাঁপিয়ে উঠত। এখন চোখের পলকও ফেলতে হয় না, টেবিলে দারুণ সব খাবার হাজির হয়ে যায়, জামাকাপড় ভাঁজ হয়ে সুন্দরভাবে ঢুকে যায় ওয়ার্ডরোবে, কোনোকিছু নিয়েই কোনো চিন্তা নেই!

    লেপের তলায় গুটিসুটি হয়ে মা-কে জড়িয়ে ধরে ও বলে, ”প্লিজ মা! তোমরা এখানেই থেকে যাও।”

    মা পরক্ষণেই গম্ভীর, ”আমি থাকতে পারি, কিন্তু তোর বাবাকে আগে বিদায় কর। এত নোংরা কি বলব তোকে, ভেবেছিলাম এতগুলো বছর একা থেকে বোধ হয় পাল্টেছে। হা হতোস্মি! দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না, সেই মোজা পরেই রোজ বেরিয়ে পড়ছে, জানিস! আর কাল দেখি” রাগে মায়ের চোখ গোলগোল, ”আমার একটা তোয়ালে কেচে মেলেছিলাম ব্যালকনিতে, নোংরাটা ভেবেছে বুঝি আমি ঘুমিয়ে পরেছি, ওমা, সটান গেল, এদিক-ওদিক চেয়েই টুক করে সর্দি মুছে দিল আমার গামছাটায়! চিন্তা কর তুই। শুধু তাই নয়, বাথরুমে গিয়ে আমার দামি কেয়া শেঠের শ্যাম্পুটা মাথায় মেখেছে, যত না মেখেছে, তার চেয়ে ফেলেছে বেশি। রাগে আমার মনে হচ্ছিল ওই টাকে যেক-টা চুল আছে, সেগুলোও উড়িয়ে দিই!”

    তিতলি আর কথা বাড়াল না, রণে ভঙ্গ দিয়ে দিল, ”ছাড়ো মা! তোমাদের একসাথে আনাই আমাদের ভুল হয়েছে। আসলে তোমরা নিজেরাই ঠিক করতে চাও না।”

    ”শোন, প্রতিমের মতো বর পেয়েছিস তো, তাই বুঝতে পারছিস না। এরকম বর জুটলে বুঝতে পারতিস জীবনটা কেমনভাবে ভাজাভাজা হয়। আবার তেজ আছে, কাল তোরা বেরিয়ে যাওয়ার পর ওর জামাগুলো ওয়াশিং মেশিনে দেবো বলে ভিজিয়ে রেখেছিলাম, ও বাবা, বাবু এসে নিয়ে চলে গেল। কাজের বেলা নেই, তেজে আছে। হু!”

    পনেরো দিন এভাবেই কাটল। মাঝে দুদিন ওরা চারজন বেরিয়েছিল, সুইজারল্যান্ডের মাউন্ট টিটলিস ঘুরিয়ে দিল বাবা-মাকে। এছাড়া একদিন চলে গেল লুসার্ন শহরে, সেখানে পাঁচতলা উঁচু একেকটা মলে খালি রাশি রাশি চকোলেট, বিশ্ববিখ্যাত সব চকোলেট বিক্রি হচ্ছে থরে থরে।

    মা খুব খুশি, বেশ কিছু কেনাকাটা করল, ”পাড়ার বাচ্চাগুলোকে বলে এসেছি স্যুইস চকোলেট নিয়ে আসব জানিস!”

    বাবা একটু মিইয়ে গিয়েছিল। তিতলি একবার বলল, ”বাবা তুমি কি চকোলেট কিনবে বলো? আমি কিনে দিচ্ছি।”

    বাবা কিছু বলার আগেই মা ব্যঙ্গের স্বরে স্বগতোক্তি করল, ”চকোলেট খেতে গেলে মনে হয় দাঁতের প্রয়োজন হয়, আর বাঁধানো দাঁতে মনে হয় না এই চকোলেট খেয়ে কোনো তৃপ্তি পাওয়া যাবে!”

    বাড়ি ফিরে চুপিচুপি তিতলির হাতে দুটো চকোলেট মিল্ক শেকের ক্যান ধরিয়ে দিল মা, ”এইটা গিয়ে দে, বলবি তুই কিনেছিস। আর বলবি যেন রাতে শোয়ার আগে দাঁতের পাটিদুটোকে খুলে ভালো করে মাজে, বুঝলি?”

    যেদিন বাবা মা-কে ওরা এয়ারপোর্টে সি-অফ করতে গেল, সেদিন তিতলির চোখে জল এসে গেল, বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ”আমার খুব চিন্তা হয় বাবা! তোমরা প্লিজ একসাথে থাকো।”

    বাবা কোনো উত্তর দিল না।

    মা-কেও ওই একই প্রশ্ন করতে মা মুখ টিপে বলল, ”তোদের ওই মানদা যে কি রান্না করে কে জানে! কি চেহারা হয়েছিল দেখেছিস? এই ক-দিনে তবু একটু ছিরি ফিরেছে! তুইও থাকিস না, কি ছাইপাঁশ খেয়ে বেড়ায় কে জানে!”

    বাবা-মা চলে যাওয়ার প্রায় দিনসাতেক পর তিতলি ফোন করল বাবাকে, এমনিতে রোজই কথা হয়, কিন্তু কাজের চাপে কয়েক মিনিট। এই ছুটির দিনে বেশ জুত করে বসে কথা বলে ও। বাবাকে ফোন করার পরেই মা-কে করবে।

    এবার আর শুধু ও নয়, প্রতিমও হাল ছেড়ে দিয়েছে, ”ধুর, এতকিছু করেও যখন ঠিক হল না, ও আর হওয়ার নয়, বুঝলে!”

    বাবার ফোন প্রথমবার বেজে কেটে গেল। তারপর রিং হতেই একটা মহিলাকণ্ঠ পাওয়া গেল, তিতলি একটু ইতস্তত করে বলল, ”কে? মানদামাসি? বাবা কোথায় গো?”

    মায়ের গম্ভীর গলা ভেসে এল, ”মায়ের গলাও আজকাল চিনতে পারছিস না বুঝি!”

    তিতলি হকচকিয়ে গেল, অবাক হয়ে বলল, ”মা, তুমি বাবার ওখানে?”

    মা একটু আমতা আমতা করল, ”ফ্লাইটে আসার সময় যা অবস্থা দেখলাম, একটু হেঁটেই হাঁপিয়ে যায়, প্রেশারের ওষুধগুলোও তো খায় না। একবার তো অক্সিজেন দিতে হল। তার ওপর যা খাচ্ছে, বদহজম। তাই, ভাবলাম মানদাকে ছাড়িয়ে দেওয়াই ভালো, বেকার টাকার শ্রাদ্ধ করে তো …!”

    তিতলি আনন্দে চেঁচাচ্ছিল, ”আমি ভাবতেই পারছি না। অবশেষে তোমরা আবার এক হলে মা! আই লাভ ইউ মা, তোমরা দ্য বেস্ট! আমরা ক্রিসমাসেই যাচ্ছি। গিয়ে সব্বাই আনন্দ করব খুব।”

    ওপাশ থেকে মায়ের খনখনে গলা ভেসে এল, ”থাম! এক হতে যাবো কোন দুঃখে? তাও আবার ওই নোংরার ডিপোর সঙ্গে? আলাদাই তো রয়েছি, ও পুবের ঘরে, আমি পশ্চিমের ঘরটায়!”

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }