Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুগারবেবি

    অ্যাক্রোপলিস মলটা পেরিয়েই যে চৌমাথা মোড়টা পড়ে, হাজার সিগন্যালের প্যাঁ-পোঁ শব্দে সেখানে কান পাতা দায়, তবু তারই মধ্যে একটা ছোট্ট অথচ দামি রেস্টুরান্টের সামনে কানে হেডফোন গুঁজে অসীম ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করছিল তিতলি। সেই কখন বুক করেছে উবের এর একটা ক্যাব, তা প্রায় মিনিট কুড়ি তো হলই। ফোনের ম্যাপে দ্যাখাচ্ছে ড্রাইভার রয়েছেন মাত্র ছ-মিনিট দূরে, জিপিএস-এ দ্যাখানো সত্ত্বেও তিতলি ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে এগজ্যাক্ট লোকেশন, কিন্তু ঘনঘন সিগন্যাল পড়ার চোটে তাঁরও আসতে প্রাণান্ত! তিতলির বিরক্ত লাগলেও একদিক থেকে খারাপ লাগছিল না। অন্তত গিয়ে যে অকওয়ার্ড পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তার থেকে তো একটু সময় পাওয়া যাচ্ছে!

    পেছনের রেস্টুরেন্টটায় বোধ হয় কোনো ছোটখাটো পার্টি চলছে, জন্মদিনের হবে কি? তিতলি যতটা সম্ভব চোখ সরু করে দেখতে চেষ্টা করল। একটু ঝুঁকে পড়ে দেখতে গিয়ে খেয়াল করেনি, হাই হিল জুতোয় এখনো অতটা সড়গড় হয়নি, ধাক্কা লেগে গেল রেস্টুরান্টে ঢুকতে যাওয়া একটা ছেলের সঙ্গে। তিতলি সবে ‘স্যরি’ বলতে যাবে, তার আগেই ছেলেটার গার্লফ্রেন্ডই হবে সম্ভবত, এগিয়ে এল ব্যস্তসমস্ত হয়ে পাশ থেকে, ছেলেটার হাত জড়িয়ে ধরল পাশ থেকে, ”ওহ বেবি, তোমার লাগেনি তো?”

    তিতলি নিজের মনেই হেসে সরে এসে দাঁড়াল। প্রথম প্রথম শিলিগুড়ির গণ্ডগ্রাম থেকে এসে এতবড় ছেলেমেয়ে নিজেদের মধ্যে বেবি সম্বোধন করছে দেখে ও খুব অবাক হত, পরে বুঝেছে ওটা আর কিছুই নয়, আদরের ডাক। আর কি আশ্চর্য, কাকতালীয়ভাবে তিতলির নামের সঙ্গেও এখন বেবি কথাটা জুড়ে গেছে, তবে সেটা আদর করে নয়, প্রফেশনালি।

    তিতলি একজন সুগারবেবি।

    নিজের গত তিনমাসের ট্রেনিংটা করার আগে তিতলি নিজেও জানত না এই সুগারবেবি ব্যাপারটা কি। পিঞ্জর ওখানে নিয়ে যাওয়ার আগে হাবেভাবে বোঝাতে চেষ্টা করলেও পুরো বেসিক থেকে কনসেপ্টটা ক্লিয়ার করেছিলেন ‘রিফ্রেশার’-এর মেঘমালাদি। বাকিটা ক্লিয়ার হয়েছিল গুগলে সার্চ করে।

    এখনো স্পষ্ট মনে আছে তিতলির তিন মাস আগের দিনটা। রোববার ছিল। কিন্তু অন্যান্য কর্পোরেট অফিসের মতো ‘রিফ্রেশার’ কিন্তু বন্ধ ছিল না। বরং ছুটির দিনগুলোতেই যে ব্যস্ততা থাকে বেশি! সল্টলেকের একটা আইল্যান্ডের পাশে অটো দাঁড় করিয়ে রেখে পিঞ্জর ওকে নিয়ে গিয়েছিল অফিসে। তিতলির ততদিনে বছরদেড়েক হয়েছে কলকাতায়, মফসসলের আড়ষ্টতাটা কাটিয়ে ফেললেও স্টাইল বা হালফ্যাশনের সাজগোজ কিছুই আয়ত্ত করতে পারেনি। ওর বেশ মনে আছে, আগেরবার পুজোয় কেনা একমাত্র কমলা-মেরুণ রঙের সালোয়ার কামিজটা পড়ে গিয়েছিল ও। অফিস থেকে ডাইরেক্ট আসতে হয়েছে বলে ঘামছিল কুলকুল করে, অবিন্যস্ত চুলের গোছা খুলে ছড়িয়ে পড়েছিল কপালের দু-পাশে ইতিউতি।

    রিফ্রেশারের অফিসে ঢুকে পায়ের নখ থেকে মাথার চুল অবধি নিপুণভাবে পারফেক্টলি মেনটেইনড মেঘমালাদিকে দেখে ওর আড়ষ্টভাবটা আরো বেড়ে গিয়েছিল।

    কিন্তু পিঞ্জর প্রাথমিক আলাপটা করিয়ে দেওয়ার পর মেঘমালাদি বেশ হাসি হাসি মুখ করে ওর দিকে তাকিয়েছিলেন, ”তিতলি। বাহ! বেশ সুন্দর নাম। তোমাকে পিঞ্জর রেফার করছে যখন, আমি তোমার ওপর কনফিডেন্স রাখতেই পারি। ইন ফ্যাক্ট, আমি পিঞ্জরের সামনেই বলছি, হি ইজ ওয়ান অফ দ্য বেস্ট সুগারবেবিজ রিফ্রেশার হ্যাজ রাইট নাও।”

    তিতলি মেকি একটা হাসির বিজ্ঞাপন দুলিয়ে তাকিয়েছিল মেঘমালাদির দিকে। পিঞ্জরের যে রিফ্রেশারের টোটাল বাইশ জন সুগারবেবির মধ্যে স্থান একদম প্রথমের দিকে, সেটা পিঞ্জর ওকে অলরেডি বলেছে ওদের কলসেন্টারে। হাজারো কল নেওয়ার ফাঁকে পাঁচ মিনিটের জন্য খেতে গিয়ে কফির কাপে চুমুক দিয়ে পিঞ্জর বেশ গর্বের সাথে বলেছিল, ”এই বিপিও-র খিস্তি খাওয়া চাকরির থেকে হাজার গুণ ভালো। শালা গালি খাও খালি ফোনে, তারপর কোনদিন ছাঁটাই করে দেবে তাঁর নেই ঠিক! আমি তো এই বছরের ইনসেনটিভটা নিয়েই রিজাইন মারব। তোর এখন রেগুলার বেসিসে টাকা সত্যিই দরকার বলে তোকে আমি এটা সাজেস্ট করছি। নাহলে, এসব তো আর লোককে বলে বেড়াবার মতো নয়। আমেরিকা লন্ডনে এসব আকছার, কিন্তু কলকাতায় তো লোকে সোজাভাবে নেবে না, না! আর হ্যাঁ, ভাবিস না, যে আমার ফিগারের জন্য রিফ্রেশার আমাকে এত টাকা দেয়, ভালো সুগারবেবি হতে গেলে শুধু চেহারা দিয়ে চলবে না বস, কালচারড হতে হবে রীতিমতো, স্মার্ট ওয়েতে কথা বলা আয়ত্ত করতে হবে, রবীন্দ্রনাথ থেকে রেঙ্গুন, ট্রাম্প থেকে টেনিস, সব ব্যাপারে নলেজ থাকতে হবে ইন ডেপথ! ডেইলি কোথায় কি ঘটছে, কেন ঘটছে সবকিছুর খবরও রাখতে হবে হাতের মুঠোয়। পারবি তো?”

    মেঘমালাদি অবশ্য এরকম মাঝখান থেকে কথা বলে তিতলিকে ভয় দেখানো, নিখুঁত আইলাইনার পড়া চোখ নাচিয়ে হেসে বলেছিলেন, ”আগে সুগারবেবি জিনিসটা কি তোমাকে বোঝাই। সুগারবেবি তাদেরকে বলা হয় যারা অর্থের বিনিময়ে কারুর সাথে সময় কাটানো।”

    তিতলির চোখ শুনতে শুনতে মেঘমালাদিকে পেরিয়ে চলে গিয়েছিল পেছন দিকে, সেখানে বন্ধ ক্লাসরুমের ওপারে চলছে কোনো ক্লাস, ধরন শুনে মনে হয় স্পোকেন ইংলিশ কি? মেঘমালাদির শেষ বাক্যে ফিরে তাকায় ও।

    তিতলির এই বিস্মিত অভিব্যক্তির জন্য মেঘমালাদি বোধ হয় প্রস্তুতই ছিলেন, বলেছিলেন, ”তুমি ভাবছ, এ আবার নতুন কথা কি হল, আদপে প্রস্টিটিউশান, তাই তো? টাকা দেওয়া আর শরীর নেওয়ার সেই চিরাচরিত আদি ব্যবসা। কিন্তু না, সুগারবেবিরা ঠিক তা নয়।” নিজের সুন্দর ম্যানিকিওর করা আঙুল শূন্যে নাড়িয়ে বোঝাচ্ছিলেন মেঘমালাদি, ”দ্যাখো, সুগারবেবির প্রধান কাজ হল তার ক্লায়েন্ট যিনি হবেন, পুরুষ হলে সুগারড্যাডি, আর মহিলা হলে সুগারমাম্মি, সেই সুগারড্যাডি বা সুগারমাম্মির সঙ্গে সময় কাটানো, তাঁকে ভালো লাগানো। সেটা মুভি দেখতে গিয়েই হোক, কোনো শপিং মলে বাজার করতে গিয়েই হোক, কিংবা দিনের পর দিন ক্লায়েন্টের পছন্দমাফিক আড্ডা বা গল্প করেই হোক। বাইরে সুগারবেবি প্রোফেশন খুবই কমন, ইন্ডিয়াতে একদমই নতুন বলতে পারো। আমাদের কোম্পানি রিফ্রেশার একদম কর্পোরেট মডেলে কাজ করে। এখানে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সুগারবেবিদের চুক্তি হয় লং টার্মে। নরম্যাল প্রস্টিটিউটদের মতো কয়েকঘণ্টার বেসিসে নয়, মিনিমাম একবছরের চুক্তি করি আমরা। আর শরীর থাকাও এখানে কম্পালসরি নয়। ক্লায়েন্ট ফর্ম ফিলাপের সময়ই চুজ করতে পারবেন তিনি উইথ ফিজিক্যাল রিলেশনশিপ সুগারবেবি চাইছেন না উইদাউট! যেটা পরে কোনোভাবেই চেঞ্জ করা যাবে না। এক বছর বাদে যখন কন্ট্রাক্ট রিনিউ করতে হবে, তখনই একমাত্র তিনি সেই অপশনটা পাল্টাতে পারেন, চাইলে সুগারবেবিকেও পালটে নতুন কাউকে নিতে পারেন। সুতরাং সুগারবেবির কাজ মানেই সেক্স, এমন ভেবো না মোটেই। বরং, তুমি পিঞ্জরকে জিগ্যেস করে দেখতে পারো, ফিজিক্যাল রিলেশনশিপ ছাড়া সুগারবেবি চাওয়া ক্লায়েন্টদের সংখ্যাই আমাদের এখন বেশি। কারণ মানুষ এখনকার লাইফস্টাইলে কোনোরকম বাঁধন বা দায়িত্ব ছাড়াই আনন্দ করতে চায়, এনজয় করতে চায়!”

    তারও পরে প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে বিভিন্ন খুঁটিনাটি বুঝিয়ে মেঘমালাদি বক্তব্য শেষ করেছিলেন। তিতলিকে একটা ফর্ম ফিলাপ করতে হয়েছিল, বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট করিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর তিনমাসের ট্রেনিং শুরু হয়েছিল ওর রিফ্রেশারে।

    পিঞ্জর অবশ্য ওকে পরে বলেছিল শুনে যতটা ভালো লাগছে ততটা কিন্তু মোটেই নয়। ক্লায়েন্ট যে অপশনটাই নিক না কেন, রিফ্রেশার যে সুগারবেবিকে সেই কাজে অ্যালট করবে, তাকে সেটা করতেই হবে। আর অনেকসময়েই প্রথমে ফিজিক্যাল রিলেশনশিপ চাইনা বলে এগ্রিমেন্ট করলেও পরে সেটা করতে বাধ্য করেন ক্লায়েন্ট। তারপর পিঞ্জর শুনিয়েছিল নিজেরই একটা অভিজ্ঞতা, কিভাবে একজন অত্যন্ত ক্ষমতাশালী মহিলা ওকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে তাজপুরে গিয়ে শারীরিক অত্যাচার চালিয়েছিল, বলেছিল, ”মনে রাখবি, এরকম খারাপ কিছু হলে কিন্তু তুই প্রোটেস্টও করতে পারবি না, তাতে তোরই প্রোফেশনের ক্ষতি হবে। আর আমাদের ক্লায়েন্টরা যে প্রত্যেকেই সুপাররিচ হয়, সেটা তো বিলের অ্যামাউন্ট দেখেই বুঝতে পারিস। আবার দেখবি ভালো এক্সপিরিয়েন্সও হবে, একজন ক্লায়েন্ট তো প্রায় দিন ভালো ভালো রান্না করে খাওয়াত আমায়। সবরকমের জন্যই প্রিপেয়ারর্ড থাকতে হবে। ট্যাক্টফুলি চলতে হবে তাই, বুঝলি?”

    না, বোঝেনি তিতলি। তিনমাসের ট্রেনিং এ ওদের সবরকমভাবে গ্রুম করানো হয়েছে যাতে সব ধরনের বিষয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিতে পারে, মানুষকে সঙ্গ দিতে পারে ওরা। তবে সঙ্গে এও বলে দেওয়া হয়েছে তিন বছরে অন্তত একটা উইথ ফিজিক্যাল রিলেশনশিপ কন্ট্রাক্ট নিতেই হবে। তিতলিদের ক্লাসের এগারোজনের মধ্যে মেয়ে ছিল সাতটা, সবার মুখের তখন পরিবর্তন ঘটলেও তিতলি কিছু ভাবেনি। ভেবে আর হবেটাই বা কি! ওর জীবনে যা ঘটার সবই বড্ড তাড়াতাড়ি ঘটে গেছে। কোন ছোটবেলায় বাপ মরে যাওয়া মেয়েকে মা যে কোনোমতে কলেজের গণ্ডিটা পার করাতে পেরেছে, এই ঢের। শরীরটাও ভালো নেই, তার ওপর মা-র বিয়েও হয়েছিল অনেক বয়সে। তিতলি যখন কলেজে পড়ত, তখনো মা চারটে বাড়ি রান্নার কাজ করে ধুঁকতে ধুঁকতে। কিন্তু কলেজ শেষ হবার পর তিতলিকে হন্যে হয়ে কাজ খুঁজতেই হল। তখনই কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে এই বিপিও-টার খোঁজে কলকাতা আসা। কিন্তু, ওই চাকরিটা দিনদিন সহ্যের সীমা ছাড়াচ্ছিল তিতলির কাছে। একে হাড়ভাঙা বারো ঘণ্টা ডিউটি শেষে মাস গেলে সর্বসাকুল্যে বারোহাজার টাকা, তাতে কলকাতা শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই জুটিয়ে, নিজের টুকু রেখে মা-কে টাকা পাঠাতে যেন নাভিশ্বাস উঠত তিতলির। তবু দাঁতে দাঁত চিপে চালিয়ে যাচ্ছিলো, কিন্তু এরপরেও যখন প্রতিমাসেই চাকরি হারানোর ভয় নিয়ে থাকতে হত, ওর চোখের সামনেই বিনাকারণে ওর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী কস্তুরীর সামান্য কারণে চাকরিটা গেল, আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করেই ফেলেছিল পিঞ্জরকে, অন্য কোনো কাজের সুযোগ ওর কাছে আছে কি?

    তন্ময় হয়ে এমন ভাবছিল ও, কখন উবের-এর ড্রাইভার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন, ও খেয়ালই করেনি। চমকে উঠে তাড়াতাড়ি ব্যাগটা বুকের কাছে সামলে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসল ও। লোকেশন দেওয়াই আছে, বালিগঞ্জের একটা অভিজাত আবাসন। প্রথমদিন, রিফ্রেশারের ট্রেনারের কথামতো বেশ বোল্ড সেজেছে ও। হাঁটু অবধি কালো ড্রেস পড়েছে একটা, সঙ্গে কালো জুতো। গলায় আর কানে শুধু একটু করে স্টোনের জুয়েলারি, ব্যস! বেশি জবরজং রিফ্রেশারের ক্লায়েন্টরা নাকি পছন্দ করে না।

    সারাদিনের কাজের শেষে ক্লান্ত কলকাতা, ট্র্যাফিক লাইটের ঝলমলে আলোয় যতই এগোয় গাড়ি, ততই যেন ওর বুকের ভেতরের শব্দটা জোরালো থেকে জোরালোতর হতে থাকে। কি আছে ওর কপালে আজ? কেমন হবে ওর প্রথম ক্লায়েন্ট? যাকে আগামী এক বছর যখন দরকার তখনই ফোনে বা সাক্ষাতে সঙ্গ দিতে হবে ওকে?

    ভাবতে ভাবতে গলাটা শুকিয়ে যায় তিতলির, হঠাৎ মনে পড়ে ওর চেয়ে কিছুদিনের সিনিয়র শুভশ্রীর বলা অভিজ্ঞতার কথা। শুভশ্রীর সুগারড্যাডি প্রথমদিন ওর সঙ্গে বেশ ডিসেন্ট ছিলেন, ডিনারের সঙ্গে গল্প করেছেন টুকটাক, খেলায় আগ্রহ জেনে শুভশ্রী সেই সম্পর্কে আরো হোমওয়ার্ক করতেও ভোলেনি। কিন্তু দিনপনেরোর মধ্যেই ওর ক্লায়েন্টের মুখোশ খসে পড়েছে, জানা গেছে বিকৃত যৌনাচারেই তিনি অভ্যস্ত। কিন্তু তখন আর কিছু করার নেই। মোটা অ্যাডভান্স পেয়ে গেছে শুভশ্রী, তখন আর বেরিয়ে আসা যায় না, রিফ্রেশারের নিয়ম অতি কড়া।

    ঢকঢক করে বোতল থেকে অনেকটা জল খায় ও, বহুদিন আগে ফেলে আসা শিলিগুড়ির সেই হাকিমপাড়া মনে পড়ে ওর, সেই ছোটবেলার হালা ভালোলাগা, নাইন টেনে ক্লাসমেট অনীশের লাজুক চাউনি। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কত কি পালটে যায়! তিতলির ভবিষ্যৎ এবার থেকে কোন খাতে বইবে ও নিজেই জানেনা। নিজের দশায় নিজেরই হাসি পায় ওর, যতই এরকম নতুন প্রফেশনের নাম দিক, সফিস্টিকেটেড প্রস্টিটিউট ছাড়া আর কি হতে চলেছে ও?

    হাল্কা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুখটা আলগোছে মুছে ও শেষবারের মতো রিফ্রেশার থেকে পাঠানো ক্লায়েন্টের ডেটায় চোখ বোলাতে লাগলো। নাম ধাম নিয়মমতোই লেখা নেই, শুধু লেখা বয়স একাশি, ইন্টারেস্ট সিনেমা।

    নিজের মনেই কেঁপে উঠল ও, একাশি! এই বয়সে সুগারবেবি চাইছে? এত বুড়ো, এদের বিকৃতি লেভেল আরো বেশি হয় ও শুনেছে। ঢোঁক গিলে ও ফোন করল পিঞ্জরকে, ”একাশি বছরের ক্লায়েন্ট আমার। কিভাবে ডিল করব রে? টেনশনে হাত পা কাঁপছে।”

    পিঞ্জর ওপাশ থেকে অভয় দেয়, ”অত চাপের কিছু নেই। বেশি বাড়াবাড়ি দেখলে প্রথম দিন ফিরেই কমপ্লেন করবি গ্রিভান্স সেলে, ক্লায়েন্টের সাথে মিটের তিনদিনের মধ্যে বললে রিফ্রেশার রিভিউ করবে তোর প্রবলেম, তবে অ্যাপ্রেইজালে রেটিং কিন্তু বাজে হয়ে যাবে তোর।”

    তিতলি অস্ফুটে বলল, ”তাহলে?”

    পিঞ্জর বলল, ”আরে দ্যাখ না, উইথ না উইদাউট ফিজিক্যাল?”

    তিতলি হাজারবার বোলানো ফরমের দিকে আবার তাকায়, ”উইথ!”

    পিঞ্জর একটা গালাগাল দিলো কাঁচা, তারপর বলল, ”শালা একাশি বছরে এদের রসও আছে মাইরি!”

    ইতিমধ্যে এসে পড়েছে তিতলির গন্তব্য, আলগোছে আকাশছোঁয়া কমপ্লেক্সটার দিকে তাকিয়ে তিতলি বলে, ”পৌঁছে গেছি। পরে করছি তোকে।”

    ফর্মে দেওয়া ঠিকানামাফিক বিশাল বহুতলের লিফটে চড়ে সতেরো তলায় পৌঁছে তিতলি ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী ডানদিকে ফেরে। একটাই ফ্ল্যাট রয়েছে সেদিকে। এইটাই হবে। নিয়মমতো, ক্লায়েন্টের নাম বা অন্যান্য ডিটেইলস কিছুই নেই ওর কাছে। সুগারবেবি হিসেবে ক্লায়েন্টের কোনো ডিটেইল ও কোনোভাবে জানতে পারলেও সেটা প্রকাশ করা সাংঘাতিক সিকিউরিটি ব্রিচ রিফ্রেশারের কাছে। এমনকি ফেসবুকের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কে থাকাতেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

    মনে মনে ট্রেনিং এর সব রুলগুলো আউড়ে নিল ও, তারপর মায়ের মুখটা মনে পড়ল হঠাৎ। এই কন্ট্রাক্টের অ্যাডভান্স পঞ্চাশ হাজার টাকার সিংহভাগই পাঠিয়ে দিয়েছে ও মা-কে। আরো পাঠাবে পরে। বুকের রোগটা ভালো করে সারাক ততদিনে মা, এমনিতে বয়সও হয়েছে প্রায় সত্তর, তার ওপর আঘাতে আঘাতে ভেঙে পড়েছে যেন আরো বেশি।

    মনটা শক্ত করে ও কলিং বেল বাজায়। একবার, দু-বার। কোনো শব্দ নেই, তারপর একটু জোরে তিনবার।

    ঠিক উনত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় দরজাটা খুলে গেলে তিতলি হতভম্ব হয়ে গেল।

    এতটাও ও আশা করেনি!

    ক্লায়েন্ট যে মহিলা হবে এটা ওর মাথাতেও আসেনি।

    আলোআঁধারি দামি আলোর ফ্ল্যাট, দেওয়ালে বহুমূল্য সব পেন্টিং, বিদেশি মার্বেলে মোড়া ডাইনিং-এর মাঝে দাঁড়িয়ে অশীতিপর একজন খুনখুনে বুড়ি, বয়সের ভারে ন্যুব্জ প্রায়। মুখের স্বাভাবিক আকৃতিটা অজস্র ভাঁজের মাঝে যেন হারিয়ে এতটুকু হয়ে গেছে। হাতদুটো কাঁপছে দ্রুতগতিতে। দন্তহীন ফোকলা গালদুটো যেন নিজের মনেই বকে চলেছে অবিরত।

    বিমূঢ় তিতলি বলল, ”ন-নমস্কার ম্যাডাম! রিফ্রেশার থেকে আসছি আমি, অ্যাঞ্জেল রুহি আমার নাম!”

    কথা শেষ হল না ওর। বুড়ির মুখটা উজ্জ্বল হয় উঠল, হাতটা টেনে ওকে ঘরের মধ্যে টানলে নিজের শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে, কাঁপাকাঁপা গলায় কলকল করে উঠল, ”নাম জেনে কি করব রে মা! আমার সাথে থাকবি তো? গল্প করতে আসবি তো একটু আমার সাথে? বুড়ো হয়ে গেছি তো, একটু বকবক করতে চাই শুধু। পুরনো দিনের ছবি দেখতে আমি বড্ড ভালোবাসি রে! উত্তমবাবু, সুপ্রিয়া, সাবিত্রী আর সুচিত্রা! দেখবি তো আমার সঙ্গে বসে?”

    তিতলি কি বলবে, সত্যিই বুঝতে পারছে না। ট্রেনিং-এ চটকদার কথা বলে কিভাবে ক্লায়েন্টকে ইম্প্রেস করানো যায়, সেটাই শেখানো হয়েছে বারবার, কেউ মনের গভীর থেকে কাতর হয়ে এভাবে ভালোবাসার ডাক দিলে কিরকম প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিৎ বলে দেয়নি তো রিফ্রেশারে!

    কি করবে এখন ও? হাত ছাড়িয়ে চলে যাবে? গিয়ে জানাবে যে ক্লায়েন্ট পছন্দ নয়?

    ও হতভম্ব হয়ে বলল, ”আপনি এতবড় ফ্ল্যাটে একা থাকেন? আপনার কেউ নেই?”

    বুড়ি ফোকলা দাঁতে হাসল, ”সব আছে রে লো, ছেলে মেয়ে, সব থাকে বাইরে। ছেলেকে বলি নাতনিটাকে নিয়ে আয়, আসে না। মেয়েটাও আসে না নাতিটাকে নিয়ে। সক্কলে বড্ড ব্যস্ত যে! আমারই কোনো কাজ নেই। সারাদিন রতনের মা থাকে, রাত আটটা বাজলেই সেও চলে যায়। ছেলেকে রোজ ফোনে কাঁদতুম আমার কাছে আয়, আমার কাছে এসে বস, দুদণ্ড কথা বলি, তোকে দেখি, তোর হাতপা গুলোয় একটু হাত বুলিয়ে দিই!” বলতে বলতে বুড়ির চোখে জল চলে এসে, গলা ভিজে যায়, তোবড়ানো গাল বেয়ে নামে জলের ফোঁটা, ”ছেলে রেগে যেত রে মা! কাল বলল তোমার সঙ্গে সারাদিন গল্প করার জন্য একজনকে পাঠাচ্ছি, আর বিরক্ত করবে না আমায় বারবার। তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিও, তাকে নিয়ে সিনেমা দেখো’খন।”

    বলতে বলতেই নিজের শিরা ফুলে ওঠা শীর্ণ হাত দিয়ে তিতলির হাতে বুড়ি হাত বোলাতে থাকে, ”আসবি তো রে মা রোজ আমার কাছে? এট্টু গল্প করব আর একসঙ্গে সিনেমা দেখবো, আর কিছু না! আসবি তো?”

    তিতলি যেন ততক্ষণে মনে মনে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস ধরে পৌঁছে গেছে বহু দূরে শিলিগুড়ির এক গ্রামে, কোন এক খুনখুনে বুড়ির কাছে। সে-ও কি এভাবেই মেয়ের জন্য চোখের জল ফ্যালে, মেয়ের গায়ে একটু হাত বুলিয়ে দেওয়ার জন্য তারও কি প্রাণ করে আঁকুপাঁকু?

    সত্যিই তো, মায়ের সাথে সন্তানের টানই সবচেয়ে বেশি ফিজিক্যাল, নাড়ির টান। সুগারবেবি কন্ট্রাক্ট ফর্মে ভুল নেই বিন্দুমাত্র!

    ছলছলে চোখে ওর ক্লায়েন্টের হাতদুটো জড়িয়ে ধরল তিতলি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }