Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাগিণীর রাগ

    দাদা হাসিমুখে বললেন, ”নমস্কার, ফিরে এলাম ব্রেকের পর, আপনারা দেখছেন ফ্লিপকার্ট প্রেজেন্টস দাদাগিরি সিজন সেভেন, এবার শুরু হবে আমাদের গুগলি রাউন্ড। প্রথমেই থাকছে হাওড়ার গুগলি।” সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত লাইট গিয়ে পড়ল হাওড়ার কন্টেন্সট্যান্টের দিকে।

    জিনিয়া টিভির মধ্যে প্রায় ঢুকে পড়ে পারলে! সারাটাদিন কলেজ, তারপর সংসারে অক্লান্ত খাটুনির মাঝে ও হা-পিত্যেশ করে বসে থাকে কখন রাতে এই দাদাগিরি দেখবে, বিশেষত গুগলি রাউন্ড। বস্তাপচা সিরিয়াল ওর কোনোদিনই ভাল লাগে না, স্কুলে পড়ার সময় খুব ভালো ক্যুইজ করত ও, সেই পুরনো নেশাটা ওকে আবার পেয়ে বসেছে। তার ওপর ছোটবেলা থেকেই ও দাদার অন্ধ ভক্ত। মুগ্ধ হয়ে ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাবলীল অথচ আভিজাত্যে ভরা সঞ্চালনা দেখে। ও দাদাগিরির অডিশনেও যায় না, ফোনে উত্তর মেসেজও করে না কোনোদিন, তবু নিজেকে অদৃশ্যভাবে দাদাগিরির কোনো একটা সিটে বসিয়ে ফ্যালে, প্রতিযোগীদের আগেই উত্তর দিয়ে দিতে পারলে অদ্ভুত একটা আনন্দ হয় ওর। আর কি! জীবনের একঘেয়েমির মাঝে এটুকুই যা টাটকা বাতাস!

    জিনিয়া রিমোটের ভল্যুমটা অনেকটা বাড়িয়ে দিল, একবার মনে হল ঘরে অরিন্দম ঘুমোচ্ছে, ওর ঘুম ভেঙে যেতে পারে, তাই চট করে গিয়ে দরজাটা ভালো করে টেনে দিয়ে এসে নড়েচড়ে বসল মাটিতে। কিন্তু হাওড়ার গুগলি ওর আর শোনা হল না। দুম করে লোডশেডিং হয়ে গেল।

    অন্ধকারের মধ্যে প্রথমেই জিনিয়ার মনে হল হাতড়ে হাতড়ে সামনে থেকে রিমোটটা নিয়ে টিভির পর্দায় ছুড়ে মারে! ধ্বংস করে ফেলতে ইচ্ছে হল সবকিছু। ছোট থেকেই রেগে গেলে ওর জ্ঞান থাকে না। তারপর হঠাৎ কেঁদে ফেলল ও। এখানে দিনের মধ্যে অন্তত চার ঘণ্টা কারেন্ট থাকে না। তার মধ্যেই জিনিয়া সব কাজ করে, কিন্তু কয়েকদিন ধরেই ঠিক এই সময়টায় যেন জিনিয়াকে শায়েস্তা করার জন্যই কারেন্ট চলে যাচ্ছে। ওর আর সহ্য হল না। দুম দুম করে গিয়ে পাশের ঘরে ঘুমন্ত অরিন্দমের পিঠে জোরে জোরে দুটো কিল বসিয়ে দিল।

    অরিন্দম অঘোরে ঘুমচ্ছিল, হঠাৎ এরকম অযাচিত আক্রমণে ও ”কে কে!” করে উঠে বসল আর অন্ধকারে একদম হতবুদ্ধি হয়ে গেল।

    জিনিয়া চোখের জল মুছে চিৎকার করে বলল, ”খুব মজায় ঘুমোচ্ছ, না? তোমার কোনো মনুষ্যত্ব আছে? উফ বিয়ের আগে চিনতে আমি কি ভুল-ই না করেছিলাম! বেশ তো আমাকে বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে এসে এই গাড্ডায় ফেললে, আমার প্রতি কি তোমার কোনো কর্তব্যই নেই? তুমি কি মানুষ?”

    এহেন উপর্যুপরি দোষারোপে কাঁচা ঘুম ভেঙে অরিন্দম ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। বাইরে থেকে জানলা দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে, তাতে ও লক্ষ করল কি জিনিয়ার কান্নাভেজা মুখ? মনে তো হয়, না! জিনিয়া ফোঁপাতে ফোঁপাতে আবার চেঁচাল, ”হাঁ করে তাকিয়ে আছ কেন? মুখ দেখে মনে হচ্ছে কিছুই যেন বুঝছ না! আমাকে তো বাড়ির বিনা পয়সার কাজের লোক বানিয়েই দিয়েছ, এখন কি মেরে ফেলে আমার বাবার থেকে টাকা আদায়ের ধান্দা তোমার? খুব শখ ছিল, না? বামন হয়ে চাঁদ ধরে ফেললে! তোমার মনে হয় না, আমি বিয়ের আগে কিভাবে মানুষ হয়েছি আর এখন কিভাবে কাটাচ্ছি? আমাদের বাড়িতে ঠিকে ঝি ছাড়াও দুটো কাজের লোক ছিল, কোনোদিন এক গ্লাস জল পর্যন্ত নিজে নিয়ে খাইনি আমি! গাড়ি ছাড়া এক পা চলতাম না। কি ছিল না আমার, রূপ, গুণ সব ছিল। আমার থেকে কত খারাপ দেখতে পড়াশুনোতেও লবডঙ্কা মনীষা কত ভালো বিয়ে করে বরের সাথে লন্ডন চলে গেল। আর আমি? বাবামা-কে দুঃখ দিয়ে তোমার সাথে পালিয়ে এসে ঘর মোছা, কাপড় কাচা থেকে শুরু করে তোমার এঁটো বাসন পর্যন্ত মাজছি, আর তার সাথে কলেজও করছি! তাই দেখে তোমার খুব আনন্দ, না?”

    অরিন্দমের এতক্ষণে ঘুমের ঘোর পুরোটাই কেটে গেছে, ও বলল, ”তুমি তো সব জেনেই আমাকে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেছিলে জিনি! আমি তো তোমার কাছে কিছু লুকোইনি! আমি তো বলেছিলাম তুমি পারবে না, আমি সবে এই ছোট চাকরিটা পেয়েছি, গুছিয়ে নিতে সময় লাগবে। কিন্তু তুমিই তো বলেছিলে তুমি মানিয়ে নিতে পারবে। আমাকে আর একটু সময় দাও আমি একটু গুছিয়ে নিই……।”

    জিনিয়া কেঁদে ফেলল, ”কত? আর কত সময় দেব তোমায়? সাতমাস তো হয়ে গেল। এই সাতমাসে আমার চেহারাটা কি হয়েছে তাকিয়ে দেখেছ একবারও? ভোর হতে না হতেই বেরিয়ে যাও, ফেরো রাত্তির সাড়ে নটায়, খাবার মুখের সামনে ধরে দিই, খেয়ে ঘুমিয়ে পরো, আমার দিকে তাকাবার সময় হয় তোমার?”

    অরিন্দম বুঝে উঠতে পারছিল না কিসের জন্য জিনিয়ার হঠাৎ এমন রাগ, তবু অপরাধীর গলায় বলল, ”সারাদিন ফ্যাক্টরিতে আগুনের সামনে ঘুরে ঘুরে লেবারগুলোকে কাজ করাতে হয় জিনি, একমুহূর্ত বসি না, এসে খুব ঘুম পেয়ে যায়! কিন্তু তোমারও সত্যি খাটনি হচ্ছে জিনি, সারাদিন কলেজ, তারপর আবার এসে এত পরিশ্রম! আচ্ছা আমি এবার থেকে এসে ভাত ডাল ফুটিয়ে নেব, তুমি বিশ্রাম নেবে।”

    জিনিয়া আরো রেগে গেল, ”কেন? বিশাল মহানুভবতা দেখাচ্ছ বুঝি? তুমি রোজগার করবে, রান্না করবে আর আমি বসে বসে খাব? সেরকম বান্দা আমাকে পাওনি বুঝলে! জিনিয়া সেনগুপ্ত কারুর দয়ার পাত্রী হয়ে বেঁচে থাকে না! তোমার ধারণা আছে যে সারাদিনের ক্লান্তির পরে টিভিতে কোনো একটা প্রিয় প্রোগ্রাম দেখতে বসে লোডশেডিং হয়ে গেলে কেমন লাগে? ভেবে দেখেছ কোনোদিন? মনে হয়েছে কোনোদিনও ইনভার্টারটা লাগাই, কতবার বলেছি তোমায় গরমে আমার খুব কষ্ট হয়, দম আটকে আসে? পাত্তাই দাওনি, তুমি শুধু নিজেরটা নিয়েই ব্যস্ত!”

    অরিন্দম এতক্ষণে ঝগড়ার উৎস বুঝতে পেরে চুপ করে গেল। জিনিয়া এর আগেও অনেকবার বলেছে ইনভার্টার কিনতে, কিন্তু এখন কেনা অসম্ভব ওর পক্ষে। মাইনে পায় সাড়ে বারো হাজার টাকা, সেখান থেকে বাড়িতে পাঠাতে হয় চার হাজার টাকা, মেদিনীপুরের বাড়িতে মা আর ছোটভাইটা না হলে না খেয়েই মরে যাবে! বাকি টাকার মধ্যে তিন হাজার টাকা যায় বাড়ি ভাড়া, তাছাড়া গ্যাস, ইলেক্ট্রিসিটি, জিনিয়ার পড়াশুনোর খরচা তো আছেই, বাকিটায় টেনেটুনে মাস চালাতে হয়। ইনভার্টার কেনা মানে প্রায় কুড়ি হাজার টাকার ধাক্কা, কোত্থেকে পাবে ও! এখনো দুটো বন্ধু দশ হাজার টাকা পায় ওর কাছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ও বলল, ”জিনি তোমার এখন নিশ্চয়ই আফসোস হচ্ছে ঝোঁকের মাথায় আমাকে বিয়ে করে?”

    জিনিয়া রাগে ফেটে পড়ল, জোরে জোরে মাটিতে পা ঠুকতে ঠুকতে বলল,”হ্যাঁ হচ্ছে! সারাক্ষণ হচ্ছে! তুমি আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছ!” বলে ও দুমদাম করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    জিনিয়া প্রথমে ঘর থেকে বেরিয়ে কি করবে বুঝতে পারল না। এই ছোট্ট ঘুপচি ফ্ল্যাটটায় একটা মাত্র ঘর, এক চিলতে বারান্দা, তাতেও পা ফেলার জো নেই, বাড়িওয়ালার সব অকাজের জিনিসপত্রে ভর্তি! রাগ দেখিয়ে যাবেই বা কোথায়? রাতের খাওয়া আগেই মিটে গেছে, ও অন্ধকারে বারান্দায় গিয়ে ওই জঞ্জালের মধ্যেই বসে পড়ল। এখান থেকে আকাশ দেখা যায় না, চারপাশে শুধু ইমারৎ। জিনিয়া মশার কামড় খেতে খেতে দূরের বাড়িগুলো দেখতে লাগল। এতক্ষণ একনাগাড়ে অনেক কিছু বলে ফেলেছে ও মাথা গরম করে, এবার ওর অনুতাপ হতে লাগল। এইজন্যই অরিন্দম ওকে রাগিণী বলে ডাকে! কেন যে রাগটাকে কন্ট্রোল করতে পারে না ও! বেচারা অরিন্দমই বা কি করবে, জিনিয়াকে সুখী রাখার জন্য ও কত কষ্টই না করছে! জিনিয়া আজ অনেক কিছু আজেবাজে বলে ফেলল, অরিন্দম নাকি ওকে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করেছে। কথাটা মনে হতেই জিনিয়ার মনটা মরমে মরে গেল। ছি ছি। ছোট থেকে এই মাথা গরম হলে আজেবাজে বলার রোগটা ওর আর গেল না। অরিন্দম কষ্টেসৃষ্টে টিউশনি করে কেমিস্ট্রিতে এম এসসি পড়ছিল, আর সাথে সাথে এদিক-ওদিক টুকটাক ফাংশনে সিন্থেসাইজার বাজাচ্ছিল। ছোট থেকে ও প্রথাগতভাবে কোথাও বাজানো শেখেনি, পাশের বাড়ির এক দাদা শিখত, সেই থেকে নাকি দেখে দেখে শেখা। কিন্তু ওর বাজানো দেখে কেউ তা বলবে না। ওর বাজনার অসাধারণ মূর্ছনাতেই প্রেমে পড়েছিল জিনিয়া, কলেজের ফেস্টে। সঙ্গীতের প্রতি ওর জন্মগত আকর্ষণ।

    জিনিয়া পরে জানতে পেরেছিল সিন্থেসাইজারটা ওর নিজেরও নয়, সেই দাদারটা ভাড়া করা। ছোটখাটো কিছু ব্যান্ড ওকে বাজাতে ডাকত, প্রোগ্রাম পিছু টাকা দিত। তা থেকেও বেশ খুচখাচ রোজগার হত। জিনিয়ার বাড়ি থেকে হঠাৎ করে বিয়ে ঠিক করে ফেলায় জিনিয়াই বলেছিল যে করে হোক বিয়ে করতে! অরিন্দম বরং নিরস্ত করার চেষ্টা করেছিল, ”জিনি, আমাকে আর দেড় বছর সময় দাও, এম এসসি-টা হয়ে গেলে কোথাও না কোথাও কেমিস্টের কাজ ঠিক জুটিয়ে নিতে পারব। এখন বিয়ে করলে আমরা অকুল পাথারে পড়ব, আমার বাড়ির কথাও তো ভাবতে হবে। ছোটোভাইটার পড়াশুনো আছে, মায়ের ওষুধ! তাছাড়া আমার খুব ইচ্ছা বাজানোটা ভালো করে শিখি।”

    কিন্তু জিনিয়ার পক্ষে তখন দেড় বছর তো দূর, দেড় মাসও অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। একেই ওদের বাড়ির সোনার ব্যবসা, পড়াশুনোয় কারুরই তেমন আগ্রহ নেই। বাবার বন্ধু অতীশকাকুর ছেলের সাথে ছোট থেকেই ওর বিয়ে ঠিক হয়ে ছিল। সেই ছেলে বিদেশ চলে যাবার আগে বিয়ে করে নিয়ে যেতে চাইছিল। জিনিয়া আকুল হয়ে বলেছিল, ”অরি, এখন বিয়ে না করলে আমরা আর কোনদিনও এক হতে পারব না!” অরিন্দম তখন শুধু জিনিয়ার জন্য মাঝ পথে এম এসসি-র পড়া ছেড়ে দিয়ে একটা পেস্টিসাইড কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে ঢোকে। মন্দিরে গিয়ে বিয়ে, রেজিস্ট্রির পর এখানে এসে ঘর বাঁধা। ওর মেসের ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট টিভি, আলমারি আর একটা খাট ছাড়া কিছুই ছিল না। কিন্তু জিনিয়াকে কলেজ ছাড়তে ও দেয়নি। বলেছিল, ”তুমি কিন্তু পড়বে জিনি। যত কষ্টই হোক আমাদের, তোমাকে বি এসসি-টা কমপ্লিট করতেই হবে।”

    জিনিয়ার মনে হল একছুট্টে গিয়ে অরিন্দমকে জড়িয়ে ধরে মাথায় একটা চুমু খায়। জিনিয়ার জন্য ও পড়া ছেড়েছে, সবচেয়ে যেটা ভালোবাসত, সেই সিন্থেসাইজার বাজানো ছেড়েছে, তবু জিনিয়াকে পড়া ছাড়তে দেয়নি। পরক্ষণেই চিরাচরিত ইগো এসে বাধা দিল ওকে। ও কেন নিজে যাবে? ইস, ও কোনোদিন কারুর কাছে নত হয়নি। অরিন্দম নিশ্চয়ই প্রত্যেকবারের মতো এবারেও একটু বাদে এসে ওকে ঠিক ডেকে নিয়ে যাবে, গিয়ে জড়িয়ে ধরে ওকে আদর করবে। জিনিয়া ভাঙবে তবু মচকাবে না, মশার কামড় খেতে খেতে গ্যাঁট হয়ে বসে রইল ও।

    পরেরদিন সকালে জিনিয়ার যখন ঘুম ভাঙল, তখন রোদ বেশ চড়া করে উঠেছে। পাশের মিউনিসিপ্যালিটির কলে জল নিতে আসা মেয়েদের কোলাহলে ওর ঘুমটা ভাঙতেই ধড়মড় করে উঠে বসল। বিছানায় শুয়ে রয়েছে ও। তার মানে রাতে অরিন্দম ঠিক ওকে নিয়ে এসেছে ভেতরে! ইয়েস! ও জিতেছে! চটজলদি উঠে বাইরে এসেই দেখল আটটা বাজে। অরিন্দম নেই। অরিন্দম তো সাড়ে ছ-টার ট্রেনে বেরোয়, জিনিয়ার উঠতে এত লেট হয়ে গেল? কি খেয়ে গেল, টিফিন কি নিজেই করে নিয়ে গেল? ও ব্যস্তসমস্ত হয়ে রান্নাঘরে গিয়ে দেখল, টিফিন ক্যারিয়ারটা যেমন ঠিক তেমনই রয়েছে। কালরাতের পর এই রান্নাঘরে আর কোনো হাত পড়েনি বোঝা যাচ্ছে। ওর মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল। আনমনে কলেজের জন্য রেডি হতে লাগল। ইশ, কাল ওরকম কেন বলল ও? অরিন্দম খুব রেগে গেছে তার মানে। ও মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, আর কোনোদিনও ও দাদাগিরিই দেখবে না!

    স্নান করে এসে জামা বার করতে গিয়ে আলমারিটা খুলতেই টুক করে ওর পায়ের সামনে কি একটা পড়ে গেল। নীচু হয়ে তুলতেই দেখল অরিন্দমের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সব কাগজপত্রের ফাইলটা। এটা তো অনেকটা ভেতরে ছিল, এত সামনে কি করে এল? খুঁতখুঁতে মনে জিনিয়া রেডি হতে লাগল। অরিন্দমের অ্যাকাউন্টের সব খুঁটিনাটিই ওর জানা, অরিন্দম ওর কাছে কিচ্ছু লুকোয়না। ব্যাঙ্কে মাত্র হাজার তিনেক টাকা পড়ে আছে, যেটা থেকে ও অল্প অল্প করে ও বন্ধুদের ধার মেটায়, আর একটা ছোট রেকারিং, সেটাও তো পাঁচ বছরের আগে ম্যাচিওরড হবে না। তাহলে কি এমন দরকার পড়ল হঠাৎ?

    জিনিয়া কিছু খেতে পারল না। বেচারা কোন সকালে কিচ্ছু না খেয়ে চলে গেছে, আর ও খাবে, তাই হয় নাকি? ফোন করলো দু-বার, অরিন্দম তুলল না। ইহ, খুব রাগ বাবুর! আজ আসুক না বাড়ি, না খেয়ে বেরনোর মজা জিনিয়া দ্যাখাবে! রাগে গসগস করতে করতে ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে নীচে নামল ও। ওদের ফ্ল্যাটের নীচেই বাজার, সেখানে জমজম করছে দোকানপাট। স্টেশনারি থেকে শুরু করে ইলেক্ট্রনিকস সব কিছুরই দোকান রয়েছে।

    কিন্তু কলেজে গিয়ে ও আর থাকতে পারল না, পেট দাউদাউ করে জ্বলছে, খিদে সহ্য করতে ও কোনোকালেই পারে না। ক্যান্টিনে গিয়ে তিন-চার পিস ব্রেড অমলেট খেয়ে একটু শান্ত হল ও। ফোন অরিন্দম এখনো তুলছে না। সারাটা দিন কাউকে কিছু না বললেও মনটা ওর উচাটন হয়ে রইল। বিকেলের দিকে একটা ক্লাস বাকি থাকতেই ও বেরিয়ে পড়ল। মনটা একদম ভালো লাগছে না। বাড়ি গিয়ে যে করেই হোক অরিন্দমের ফ্যাক্টরিতে ফোন করে আচ্ছাসে ঝার দিতে হবে ওকে। তবেই মনটা শান্ত হবে।

    স্টেশন থেকে নেমে ওদের ফ্ল্যাট মিনিটদশেকের হাঁটা পথ। এমনিই অন্যমনস্ক ছিল, তার ওপর ফ্ল্যাটে ঠিক ঢোকার আগেই যে বাম্পারটা সেটায় হোঁচট খেয়ে একদম চিৎপটাং হয়ে পড়ে গেল জিনিয়া। কোমরে জোর লেগেছে, মুখ বিকৃত করে উঠতে যেতেই ততক্ষণে আশপাশের দোকানের লোকেরা ছুটে এসেছে। মাত্র সাত মাস এখানে এলেও সবার সাথে ভালো মতো পরিচিতি হয়ে গেছে ওদের। মাসকাবারি থেকে টুকিটাকি সব এই বাজার থেকেই কেনে ওরা। মুদির দোকানের বটব্যাল জ্যেঠু ওকে তুলতে তুলতে বললেন, ”এই শীগগির কেউ জল নিয়ে এসো, পড়ে গেলে কি করে মা? কোথাও লাগেনি তো?”

    মিনিটদশেক বাদে ওকে সবাই যখন ধরাধরি করে ওর ফ্ল্যাটে দিয়ে এল তখন ব্যথাটা একটু কমেছে। পাশেই অজয়দার মিষ্টির দোকান, তার ফ্রিজের বরফ দিয়ে দিয়ে আরাম হচ্ছে এখন অনেক। অজয়দার বউ বীথিদি বললেন, ”তাও কি ভাগ্যি! দিনের বেলা পড়েছে! এখন তো এমনিই রাত হলেই লোডশেডিং হচ্ছে, রাতে পড়ে গেলে কি কেলেংকারিই না হত!”

    ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানের মালিক শঙ্করকাকু বললেন, ”সে তো ঠিকই। তবে আমাদের জামাই বড় ভালো। এই ক-মাস ধরে দেখছি তো, এত ভালো ছেলেটা! এই তো আজ সকালে আমার দোকানে এসে ইনভার্টারের জন্য অ্যাডভান্স করে গেল, বারবার বলছিল জিনিয়ার বড্ড কষ্ট হয় কাকু, বাচ্চা মেয়ে তো, অত গরম সহ্য করতে পারে না!”

    জিনিয়া চমকে উঠল, বলল, ”মানে? টাকা কোথায় পেল?”

    শঙ্করকাকু বললেন, ”কেন, আমাকে বলেই তড়িঘড়ি ব্যাঙ্কের দিকে চলে গেল তো, বলল কি রেকারিং আছে ওটা প্রি-ম্যাচিওর করে অর্ধেকটা এখন দেবে, বাকিটা মাসে মাসে দেবে। বলল আজ একটু দেরি করে কাজে যাবে। বড় ভালো কিন্তু ছেলেটা।”

    জিনিয়া স্তম্ভিত হয়ে গেল। দশ বছরের ওই রেকারিং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরেই করেছিল অরিন্দম, ওর টিউশনির টাকা থেকে অনেক কষ্টে বাঁচিয়ে, না খেয়ে, না ঘুরে প্রতিমাসে পাঁচশো টাকা করে ফেলত ওতে, এই সেদিনও বলছিল, উফ অর্ধেক তো হয়েই গেছে, আর পাঁচ বছর টেনে দিতে পারলেই আমার স্বপ্নের সিন্থেসাইজারটা কিনতে পারব জিনি, রোল্যান্ড কোম্পানির! সেটা ও ভাঙিয়ে ফেলল?

    সবাই চলে যাওয়ার পরেও জিনিয়া ওর কান্না থামাতে পারছিল না। কাল রাতে কত কটু কথা বলেছে ও, আর অরিন্দম নিজের সবচেয়ে সাধের জিনিষ, যেটার জন্য ও দিন রাত না ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে, একটা মাত্র ছুটির দিনে ওই দাদার থেকে চেয়েচিন্তে এনে প্র্যাক্টিস করে, সেটা কেনাটাতেই জলাঞ্জলি দিল? এবার জিনিয়া কি করবে? ও তো জীবনে কোনোদিন কারুর কাছে স্যরি চায়নি!

    অরিন্দম বাড়ি ফিরল অন্যদিনের তুলনায় আরো দেরি করে, দেরি করে যাওয়াটা ওভারটাইম করে পুষিয়ে দিতে হয়েছে ফ্যাক্টরিতে। জিনিয়া গম্ভীর মুখে দরজা খুলে দিল। আজ ওর মাথা কালকের থেকেও গরম। বাথরুমে হাত-মুখ ধুয়ে যখন ফ্রেশ হয়ে বসেছে অরিন্দম, তখন রান্নাঘর থেকে খুন্তিটা নিয়ে এসে অরিন্দমকে জোরে জোরে পেটাতে পেটাতে বলল, ”কি ভেবেছ কি তুমি? এত বড় সাহস তোমার, আমাকে না জানিয়ে রেকারিংটা ভাঙিয়ে ইনভার্টার কিনতে গেছ? তোমাকে আজ আমি পিটিয়েই মেরে ফেলব দাঁড়াও!”

    অরিন্দম মার সামলাতে সামলাতে বলল, ”আরে, আরে আমি কি করব, তোমার গরমে কষ্ট হয়, দাদাগিরি দেখতে পারো না………।”

    জিনিয়া ওর চুলের মুঠিটা ধরে চিৎকার করল, ”তাই বলে তোমাকে আমি বলেছি সিন্থেসাইজারের টাকাটা দিয়ে ইনভার্টার কিনতে?”

    অরিন্দম কাতর স্বরে বলল, ”জিনি, তোমাকে বিয়ে করেছি তো ভালোবেসে। আর ভালোবাসা মানে তো তোমাকে ভালোবাসা, নিজেকে তো নয়! তুমি কষ্টে থাকলে আমি তো আরও কষ্টে থাকব জিনি!”

    জিনিয়া আর পারল না। খুন্তিটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে অরিন্দমের মাথাটা বুকে চেপে ধরে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ”কাল সকালেই শঙ্করকাকুকে বারণ করে দিয়ে আসবে তুমি! আর যে টাকাটা তুলেছ সেটাকে আবার ব্যাঙ্কে রেখে আসবে।” তারপর অস্ফুটে বলল, ”আমার ইনভার্টার চাই না, আমার দাদাগিরিও চাই না, আমার সৌরভ গাঙ্গুলি চাই না, আমার কিচ্ছু চাই না! আমার এই তিল তিল করে গড়া সংসার আর ক্যাবলা অরিন্দমই ভালো!” পরক্ষণেই গলা চড়িয়ে বলল, ”আর কোনোদিনও যদি আমাকে না জিজ্ঞেস করে টাকা তোল, এই খুন্তি আমি তোমার পিঠে ভাঙব, মনে থাকে যেন!”

    অরিন্দম এত পিটুনি খেয়েও বোকার মতো হাসছিল, বলল, ”যত রাগই সিন্থেসাইজারে বাজাই না কেন, আমার রাগিণীবউয়ের রাগে সব ভুলে যাই! খুব লেগেছে কিন্তু!” তারপর জড়িয়ে ধরল ওর রাগী বৌকে।

    **********

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }