Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বালির বাড়ি

    বাচ্চাগুলো জীবনে প্রথমবার সমুদ্র দেখে প্রথমে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। কিছুটা ভয়ে, কিছুটা কৌতূহলে, আর অনেকটা অবিশ্বাসে!

    এত বড় পুকুর এতদিন ওরা শুধু টিভিতেই দেখেছে।

    এও হয় নাকি! ওদিকটা দেখাই যাচ্ছে না যে!

    বর্ষার মেঘলা আকাশ, নুলিয়ারা বিশাল বড় বড় জাল ফেলেছে, কালো মেঘের মাঝে দূরে একটা মাছ ধরার নৌকো ঘুরছে ইতিউতি। পাশের দোকানগুলো থেকে টাটকা মাছ ভাজার গন্ধ এসে লাগছে নাকে। ডাবওলা ডাব নিয়ে বসে রয়েছে দূরে।

    সকাল থেকে প্রায় ঘণ্টাচারেক বাসজার্নি করে আসা হয়েছে, লজে ব্যাগগুলো কোনোরকমে রেখেই ক্লান্তি দূরে সরিয়ে ওরা ছুটে এসেছে সমুদ্র নামক এই অদ্ভুত জিনিসটাকে দেখবার জন্য।

    সবসুদ্ধ বারোটা বাচ্চা। মনোজের পাহারাদার চোখ আরো একবার গুনে নিয়ে নিশ্চিন্ত হল।

    প্রথমে বাচ্চাগুলো একটু ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেল জলের দিকে, ভীতু চোখে পরখ করে নিল কিছুক্ষণ পুরো ব্যাপারটা।

    তারপরই দীনেশ বলে বাচ্চাটা আত্মহারা হয়ে জলের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে লাফালাফি করতে শুরু করল। চিরকালই একটু বেশিই বিচ্ছু ওটা, আসার পর থেকেই। ওদিকে ইরফান একটা ডিগবাজি খেয়ে উল্টে পড়ল সমুদ্রের ছোটবড় ঢেউয়ের মাঝে।

    পিয়ালি বলে মেয়েটা আবার বরাবরই শান্ত, অন্য দু-একজন ট্যুরিস্টদের দেখাদেখি সে নিবিষ্ট মনে বসে গেল বালির দুর্গ তৈরি করতে।

    মুহূর্তে তাজপুরের এই অপেক্ষাকৃত নির্জন সমুদ্রসৈকতটা একরাশ কচি গলার কলকাকলিতে ভরে উঠল।

    মনোজ সতর্ক চোখে সবক-টার দিকে কড়া নজর রাখছিল, এই দু-দিনের ট্যুরটা ঠিকমতো হ্যান্ডল করার উপর ওর প্রমোশানটা ভীষণভাবে ডিপেন্ড করছে।

    ওদের এই এনজিও-টা অনাথ শিশুদের নিয়ে কাজ করে। এর মালিক অবশ্য কলকাতার প্রথম সারির শিল্পপতিদের একজন, সেফটি পিন থেকে শপিং মল সবকিছুরই ব্যবসা তাঁর আণ্ডারে। তার উপর কিছু রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ওঠাবসায় এখন রাজ্যের একজন সেরা উদ্যোগপতিও বটে। তা সেই গ্ল্যামার বজায় রাখতে গেলে সবাইকেই চ্যারিটি করতে হয়, ওদের স্যারও তাই এটা খুলেছেন। সম্ভ্রান্তমহলে নাম কুড়োনো তো হলই, ট্যাক্সও বাঁচল।

    একে বলে এক ঢিলে দুই পাখি।

    ও আসার আগে স্যার পইপই করে বলে দিয়েছেন, ”মনোজ, আমিই প্রথম এরকম এক্সকারশন করাচ্ছি। অন্যরা তো ভাবতেই পারে না, খাওয়া পরা ছাড়া এদের ঘুরতেও নিয়ে যাওয়া যায়। হা হা !” পরক্ষণেই ঝুঁকে পড়ে সাবধান করে দিয়েছিলেন ওকে, ”শোনো, বিদেশের ওই গ্রান্টটাও কিন্তু এই নিউজটা প্রোমোট করেই আনতে হবে। ছবি তুলবে ঠিকঠাক করে! আর খুব কেয়ারফুল থাকবে, এতগুলোকে নিয়ে যাচ্ছ তো! বর্ষাকাল, একদম ভরা থাকবে সমুদ্র, নজরে রাখবে সবক-টাকে। বেশি লাই দেবে না, এরা আবার খেতে পেলে শুতে চায় তো! কোনো মিসহ্যাপ ঘটে গেলে কিন্তু মিডিয়া আমার পেছনে পড়ে যাবে।”

    মনোজ মাথা নেড়ে একটু কিন্তু কিন্তু করেছিল, ”স্যার, বর্ষাকালটা বাদ দিয়ে গেলে হত না? এই ধরুন পুজোর আগে আগে?”

    স্যার ওকে এবার যেতে বলার ইশারা করে গম্ভীর মুখে কম্পিউটারের দিকে মুখ ঘুরিয়েছিলেন, ”পুজোর আগে হোটেল রেট কোথায় যায় জানো? বর্ষাকাল বলেই এত সস্তায় লজটা পেয়েছি। কমন সেন্সটা অ্যাপ্লাই করো একটু!”

    কথাগুলো মনে পড়তেই মনোজ মোবাইলে ক্যামেরাটা অন করল, ”অ্যাই সব, এদিকে আয় একবার, শিগগিরই, ছবি তুলব তোদের!”

    অফিস থেকে এই ক-টা বাচ্চার থাকা খাওয়াবাবদ যা টাকা ওকে দেওয়া হয়েছে, বুদ্ধি করে চললে সবকিছু মিটে গেলে হাজার তিনেক টাকা ওর বাঁচবে। ও ঠিক করেই রেখেছে জলখাবারের পাট রাখবে না একদম, সকাল হতেই নিয়ে চলে আসবে সমুদ্রে, লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে সবক-টার ভালো করে খিদে পেলে একবারে লাঞ্চ করিয়ে দেবে, তাতেই ওরা খুশি হয়ে যাবে। আর এদের কাউকে ফুটপাথের ধারে ফেলে যাওয়া হয়েছিল, কেউ আবার আস্তাকুঁড়ে পড়ে ছিল, ওদের পক্ষে এই ঘোরাটাই কল্পনার অতীত!

    মনোজ ফোনটাকে একহাতে কায়দা করে ধরে অন্য হাতে একটা সিগারেট ধরাল। ওর ন-মাসের মেয়েটার গরমে ভারি কষ্ট হয়, সুমনা বলেই দিয়েছে এই গরমে এসি-টা লাগাতেই হবে। প্রমোশানটা হলেই মনোজ লাগিয়ে নেবে। সুমনা মাঝেমাঝেই গজগজ করে, কেন মনোজ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসছে না, বা অন্য কোনো চাকরির চেষ্টা করছে না। বোকা মেয়েটাকে কি করে বোঝায় এখন এই এনজিও-র চাকরিতে ভালো মাইনে, তার সাথে বসকে খুশি রাখতে পারলে মোটা ইনসেনটিভ তো আছেই! এছাড়া ফরেন গ্রান্টে ট্যুরও জোটে ভালই। এখন একটু আটঘাট বুঝে নিচ্ছে, তারপর বছর দশেক বাদে নিজেই একটা এনজিও খুলে ফেলবে, এমনিই যা সব রেফারেন্স ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে ওর, ভালো স্পনসর পেয়ে যাবে।

    আর একটু পার্টি ধরতে পারলে তো কথাই নেই।

    সোশ্যাল ওয়ার্ক এখন লাভজনক ব্যবসাগুলোর মধ্যে একটা।

    হৃষ্টচিত্তে মনোজ মাথাগুলো গুনতে শুরু করল, এক দুই তিন … দশ, এগারো, একি! বারোজন ছিল তো! আরেকটা গেল কোথায়?

    ছুটে পাড়ের দিকে এগিয়ে এল ও, ঢেউয়ের জলোচ্ছ্বাস ছাপিয়ে গলা চড়াল, ”অ্যাই, তোরা এদিকে আয় সবাই শিগগিরই!”

    কাউকে তো টেনে তোলাই যাচ্ছে না জল থেকে, বাবামায়ের স্নেহবর্জিত শিশুগুলো নোনা জলের উষ্ণ আদরে যেন ডুবে যেতে চাইছে! হোমে তো সেই একঘেয়ে জীবন ছোট ছোট মানুষগুলোর, সকালে উঠে গুড়ে ভিজিয়ে রুটি, তারপর কিছুক্ষণ পড়াশুনো, তারপর কাজ। অবশ্য ওগুলো তো কাজ নয়, জল তোলা, বাগানে জল দেওয়া, নিজেদের তো বটেই, হোমের কর্মীদেরও জামাকাপড় কাচা, ওদের শেখানো হয়েছে এগুলোও ওদের বেড়ে ওঠার একেকটা অঙ্গ। শুধু যে কাজ আর পড়াশুনোই শেখানো হয় তাও নয়, ম্যানারিজমেও বিন্দুমাত্র ত্রুটি রাখে না হোমের কেউ।

    স্যার আবার একটু রক্ষণশীল মানুষ, তাই কেউ এলেই তার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা, জল দেওয়া এসবও শেখানো হয় নিয়মিত বেসিসে। স্যারের রেফারেন্স অনেক লম্বা, কখন বাইরের কে চলে আসবে তার ঠিক আছে?

    সবাইকে অনেক ধমকধামক দিয়ে টেনে এনে দেখা গেল কুসুম বলে নতুন আসা মেয়েটা নেই।

    মনোজের বুকের ভেতরটা ধড়াস করে উঠল, এই তো সমুদ্রে এল, এর মধ্যেই এ কি অঘটন রে বাবা! কোথায় গেল মেয়েটা!

    মাত্র মাসদুয়েক আগেই কুসুমকে আনা হয়েছিল, ওদের একটা এজেন্টই নিয়ে এসেছিল কোথা থেকে যেন, জড়সড় ভাবটা এখনো কাটেনি আট-ন’বছরের মেয়েটার, কথা বলেই না প্রায়, কলকাতার হোমেও সারাদিন চুপ করে বসে কিভাবে, পড়াতেও মন নেই। বেশি কিছু বললেই কেঁদে ফেলে, সে কি বিড়ম্বনা! মনে পড়ে গেল মনোজের। মেয়েটা আসার পরে পরেই একজন মিনিস্টার এসেছিলেন হোমটা ঘুরে দেখতে, স্যারেরই বন্ধুস্থানীয়। জিজ্ঞেস করবি তো কর, আর কাউকে নয়, কুসুমকেই প্রথমে নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি।

    কুসুম ঠিক একইরকম আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছিল, আর একটু খোঁচাতেই সটান গিয়ে মন্ত্রীমশাইয়ের পা চেপে ধরেছিল, ”মুকে ক্ষমা করে দ্যান গো মাস্টারমশাই! মুই আর করবুনি!”

    মন্ত্রীমশাই অবাক হয়ে তাকিয়েছিলেন, ”এদের কি খুব শাসনে রাখা হয় নাকি!”

    কি অস্বস্তি তখন! মনোজের দিকে স্যার কটমট করে তাকিয়েছিলেন। কোনোরকমে ব্যাপারটা সামাল দিয়ে সব চুকিয়েই মনোজ ফোন লাগিয়েছিল সেই এজেন্টটাকে, ”কোত্থেকে এই সব ভুলভাল বাচ্চা আনো জগদীশ? প্রেস্টিজে পুরো পাংচার করে দিল!”

    জগদীশ বলেছিল, ”একদম অজপাড়াগাঁয়ের মেয়ে তো স্যার, কাণ্ডজ্ঞান নেই তেমন, তার ওপর বাপমা-টা মরে গেল এই সেদিন, তারপর কতরকম কষ্ট পেতে হয়েছে তো, নিজের কাকাই মারধর …!”

    ”ওসব আমি কিছু শুনতে চাইনা। এইরকম করলে কিন্তু তোমার কমিশন বন্ধ করে দেব জগদীশ, এই শেষবারের মতো বলে দিলাম তোমায়! আমাদের একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে, বড় বড় লোকেরা আসে এখানে, সেটা ভুলে যেয়ো না।” রাগে গসগস করতে করতে দু-চারকথা শুনিয়ে তারপর ফোন ছেড়েছিল মনোজ।

    তারপর দেখা গিয়েছিল কুসুম সেই একইরকমভাবে বসে থাকে, কেউ একটু জোরাজুরি করতে গেলেই সটান তার পায়ে পড়ে জড়িয়ে ধরে, ”ক্ষমা করে দ্যান। আর করবুনি!”

    ওর মনে বোধ হয় কেউ ঢুকিয়ে দিয়েছে যে পা ধরলেই একমাত্র ক্ষমা করা যায় কাউকে!

    ঝামেলা এড়াতে মনোজরা কেউ ওকে আর তারপর থেকে বেশি ঘাঁটায় না।

    মনোজ এখন উদ্ভ্রান্তভাবে বলল, ”কুসুমকে কেউ দেখেছিস তোরা? ভ্যানে করে আসার সময়েও তো ছিল, কোথায় গেল?”

    কেউ কিছু বলতে পারল না। সবাই সমুদ্র দেখে এতই উৎফুল্ল, কুসুমকে কেউ খেয়াল করেনি।

    মনোজ ছুটে গেল জলের দিকে, নুলিয়াগুলোকে চেঁচিয়ে বলল, ”ও ভাই, একটা বাচ্চা মেয়েকে দেখেছ? দুদিকে বিনুনি, লাল জামা? এদিকেই ছিল এক্ষুনি!”

    নুলিয়াগুলো এদিক-ওদিক চেয়ে মাথা নাড়ল দু-পাশে।

    মনোজ পাগলের মতো খুঁজতে লাগলো, একবার বালির চর পেরিয়ে ঝোপের দিকে যায়, একবার দোকানের ভেতরগুলো খুঁজে দ্যাখে, মেয়েটা কি কর্পূরের মতো উবে গেল নাকি!

    আচ্ছা একটু দূরের ওই ঝাউবনটায় চলে যায়নি তো আবার! ছুটে গিয়ে ওদিকটাও দেখে মনোজ, কেউ কোত্থাও নেই।

    এর মধ্যেই সুমনার ফোন এল একবার, আজকাল ওর ফোন মানেই যেন অভিযোগ, ”নিজে তো ভালোই ঘুরে বেড়াচ্ছ, আমরা গরমে মরে যাচ্ছি। পাশের ফ্ল্যাটের রঞ্জনারাও দেখলাম এসি কিনে ফেলল! ভাল্লাগে না আর! কবে কিনবে বলো তো?” মনোজ সংক্ষেপে ঘটনাটা বলে রেখে দিল। সুমনা আরো কিছু জানতে চাইছিল, কি করে মেয়েটা হারাল, এবার মনোজ কি করবে, কিন্তু ও আর কথা বাড়াল না।

    অফিসের কাজে এতগুলো ল্যাঙবোটকে নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে আসাকে যে ঘুরতে আসা বলে, তাকে আর মনোজ কি বলতে পারে?

    মিনিটকুড়ি বাদে যখন মাথার চুল ছেঁড়ার মতো অবস্থা, ক্লান্ত শরীরে পিয়ালির পাশে বসে পড়ল মনোজ, ”পা-দুটো টিপে দে তো একটু!”

    পিয়ালির দুর্গ এখন বেশ বড় হয়ে গেছে, তাতে চারটে জানলা আর একটা ছোট দরজাও দেখা যাচ্ছে পরিষ্কার, সমুদ্রের বালুকণার নিয়ম মেনে সেখান দিয়ে ফিনকি দিয়ে বেরোতে শুরু করেছে জল।

    উল্লসিত পিয়ালি মুখে কিছু বলছিল না, কিন্তু খুশি যেন ওর দু-চোখ দিয়ে ঝরছিল।

    ওর বালির বাড়ি তৈরি হয়ে গেছে।

    মনোজ হুকুম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসে ও অভ্যেসমতো মনোজের পা টিপতে লাগলো, ”চিন্তা করবেন না স্যার! কুসুমের তো সব চেনা এদিকটা, ও হারাবে না!”

    মনোজ পা-দুটো সামনে ছড়িয়ে বসে জিরোচ্ছিল, কুসুমের কথা চমকে উঠল, ”মানে? কুসুমের কি এইখানে বাড়ি নাকি?”

    ”হ্যাঁ স্যার!” পিয়ালি পা-দুটো টিপছিল, সঙ্গে সতর্ক নজর রাখছিল ওর বালির বাড়িটার দিকে, দুটো জানলা করা এখনো বাকি, জানলা বেশি না থাকলে ওর আবার দম আটকে আসে! ”এখানে আসার কথা শুনেই তো কুসুম আমায় বলেছিল, একটু দূরেই ওর গ্রাম তো!”

    ”মানে!” মনোজের চোখ বিস্ময়ে গোলগোল, এজেন্টদের বলাই আছে, সবদিক দেখে যেন বাচ্চা আনে, কোন ডিসপিউট কেসে নেই ওরা, সেখানে এই মেয়েটা বয়সে বেশ বড়, তার ওপর নিজের বাড়ি চেনে, জগদীশ পাচার- টাচার করে নিয়ে চলে আসেনি তো? সেইরকম কিছু হলে, প্রোমোশানটা তো গেলই, চাকরিটাও থাকবে কিনা সন্দেহ।

    পিয়ালি একইরকম ভাবলেশহীনভাবে জানলা তৈরি করছিল, আলগোছে হাতটা তুলে বাঁ দিকে দ্যাখালো ও, ”ওই যে, ওই দিকে ওর বাড়ি ছিল, এসে বলছিল। এখন আর নেই।” ছোট ছোট আঙুল নাড়াল ও।

    ”আর নেই কেন?” মনোজ সন্দিগ্ধ স্বরে জিজ্ঞেস করল।

    পিয়ালি বলল, ”ঝড়ে ভেঙে গেছে, বালির বাড়ি তো! সমুদ্র এসে বন্যায় সব নিয়ে গেছে। তাই তো ও সবসময় কাঁদে!”

    কি সব আবোলতাবোল বকছে মেয়েটা! বালির বাড়ি আবার কি! মনোজ আর সময় নষ্ট করল না, এসি-টা ওকে এবারেই লাগাতে হবে, মেয়েটা রাতে ঘুমোতে পারে না, মাঝে মাঝেই গরমে ধড়ফড় করে ওঠে। ও বলল, ”কোনদিকে ওর ওই বালির বাড়ি ছিল কিছু বলেছে তোকে?”

    পিয়ালি এখন সামনের পাঁচিলে মনোযোগ দিয়েছে, কুসুম ওকে আসার আগে পইপই করে বলেছে ঠিকমতো বাঁধ না দিলেই সমুদ্র ওর বাড়িটাকে নিয়ে চলে যাবে, সঙ্গে মানুষগুলোকেও।

    পরে শুধু বালিগুলো ফিরিয়ে দিয়ে যাবে। সমুদ্র কিচ্ছু নেয় না যে! তাই পিয়ালি ভাল করে পাঁচিল তুলছিল ওর বাড়ির চারপাশে।

    মনোজ দিশেহারা হয়ে ছুটছিল পিয়ালির দেখিয়ে দেওয়া দিকে, বাচ্চাগুলোকে একটা ফ্যামিলির কাছে একটু খেয়াল রাখতে বলে কোনোরকমে এসেছে, এরকম গেরোয় ও কোনোদিনও পড়েনি।

    মেয়েটাকে যদি সত্যিই না পাওয়া যায়!

    বেশ কিছুক্ষণ চর বেয়ে ছোটার পর যেন সত্যিই একটা গ্রাম চোখে পড়ল, ঠিক গ্রাম কিনা বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু কিছু বসতি চোখে পড়ছে, আর মাঝে মাঝে কিছু গাছ।

    মনোজ হাঁপাচ্ছিল, তবু ছোটার গতি বাড়িয়ে দিল। কায়িক পরিশ্রম না করে করে শরীরটা দিনদিন ভ্যাদভ্যাদে টাইপ হয়ে যাচ্ছে, আগে যখন স্যারের অন্য বিজনেসে ছিল তখন বরং অনেক পরিশ্রম হত।

    আরো কিছুক্ষণ ছুটে জায়গাটা চোখে পড়ল ওর, জায়গা না বলে অবশ্য একটা পরিত্যক্ত গ্রাম বলাই ভালো। কেউ কোথাও নেই, অথচ বালির উপর যেন অনন্তকাল থেকে ভাঙা বাঁশ, টিন, ঘরের চালা পড়ে আছে, সেগুলোর বেশিরভাগই বালির মধ্যে ডুবেও গেছে। কোথাও জাহাজের মাস্তুলের মতো উঁচিয়ে রয়েছে সমুদ্রের নোনা জলে বছরের পর বছর ভিজে কালো হয়ে যাওয়া কারুর খাটের ছত্রী, কোথাও আবার কারুর ভেসে যাওয়া রান্নাঘরের ভাঙা শিশি পড়ে আছে, ঠিক যেন বালিঘড়ি!

    বোঝাই যাচ্ছে উপসাগরের কোনো ভয়াবহ ঝড়ে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এই গ্রামটা। মনোজের হঠাৎ মনে হল কাগজে পড়েছিল পাঁচ-ছমাস আগে কি একটা ঝড় এসেছিল যেন, সেইটাতেই কি এই অবস্থা?

    হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পায়ের চপ্পলের ফাঁক দিয়ে কিছু একটা ফুটলো, মনোজ দাঁড়িয়ে বের করতে গেল আর তখনই দূরের সমুদ্রের একদম জলে দাঁড়িয়ে থাকা কুসুমের লাল রঙের অল্প ছেঁড়া ফ্রকটা চোখে পড়ে গেল ওর।

    এমনিতেই বর্ষাকালের মেঘলা আকাশ, দূরের কালো মেঘ সমুদ্রের উপর ছায়া ফেলে কেমন সবুজ নীল একটা অন্ধকার রঙের সৃষ্টি করেছে, ঠাণ্ডা হাওয়ায় মনোজ পায়ে পায়ে এগিয়ে গেল ওর দিকে।

    যাক বাবা! এই মাসেই এসি কেনাটা কনফার্মড!

    একদম কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল ও, কুসুম সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে নিশ্চলভাবে। এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে যে ঠিক ওর পায়ের পাতাদুটো নরম ঢেউ এসে বারবার ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে।

    এত ফাঁকা গোটা জায়গাটা, মনে হচ্ছে অন্য কোনো জগতে চলে এসেছে ওরা।

    এই পোড়ো গণ্ডগ্রামে কি করছে কুসুম?

    এটাই কি ওর গ্রাম নাকি? কিন্তু লোকজন সব কোথায়?

    কুসুম খেয়ালই করল না কেউ পেছনে এসেছে। মেয়েটা চুপচাপ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল আর কি একটা বিড়বিড় করছিল। এত জোরে হাওয়া দিচ্ছে মনোজ বুঝতেই পারল না, ও কি বলছে।

    কুসুমের কাছে ঝুঁকে এল মনোজ।

    মেয়েটার চোখদুটো ফুলে গেছে, ঠোঁটটাও কাঁপছে তিরতির করে, ”যতই মুর পা ধরে ক্ষমা চা, মুই তোকে ক্ষমা করবুনি” কান্নার দমকে রোগা শরীরটা এমনভাবে কাঁপছিল যেন উড়ে যাবে এখুনি, ”মুর বাপমা-কে কেড়ে নিলা, মুর ঘরটাকে কেড়ে নিলা, এখন পা ধরে ক্ষমা চাইতে আসিস কুন মুখে?” মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে চেঁচিয়ে উঠল, ”ছোটভাইটাকে অবধি ভাসিয়ে নিলা তুই! আর এখন ক্ষমা চাইছিস? মুর পা ধরে ধরে মরে যা তুই, তবু তোকে কোনোদিনও ক্ষমা করবুনি!”

    মনোজ বিস্ময়ে স্থবির হয়ে গেল।

    ওর চোখের সামনে হঠাৎ যেন সিনেমার মতো পুরো দৃশ্যপট পালটে গেল, পরিত্যক্ত গ্রামটা সাগরপাড়ের সবুজ গাছগাছালিতে মোড়া ব্যস্ত হয়ে জেগে উঠল হঠাৎ! ও যেন পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল, কুসুমের বাবা সমুদ্রে মাছ ধরতে গেছে, আর কুসুমের মা তার একরত্তি উঠোনে উনুন জ্বেলে রান্না করছে। ওর ছোট ভাইটা নিজের মনেই উঠোনে খেলছে চু কিতকিত। কুসুমের বাবা ফিরতেই তাঁর মাছের আঁশটে গন্ধওলা ঘেমো গায়ে হাসতে হাসতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে কুসুম আর ওর ভাই!

    তারপর একদিন এল বিষম ঝড়, তাতে তোলপাড় হয়ে গেল অনেকগুলো সংসার, অভাবী মানুষগুলোর অর্ধেকই মরে গেল বন্যার তোড়ে, আর যারা কোনোরকমে বেঁচে গেল, তাদের এঁটো পাতের জঞ্জালের মতো চালান করা হল বিভিন্ন জায়গায়, কেউ শহরে গিয়ে ভিক্ষা করতে লাগল, কেউ দুবেলা দু-মুঠো খাওয়ার জন্য প্রাণপাত করতে শুরু করল, আর কুসুমের মতো বাচ্চাগুলোর কারুর ঠাই হল অনাথ আশ্রমে, কারুর অবস্থা আরো খারাপ, হারিয়ে গেল অন্ধকারের কোনো অপরাধের গলিতে।

    মনোজের গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।

    হঠাৎ ঘোর কাটিয়ে দিয়ে ফোনটা বেজে উঠল। সুমনা, ”কিগো? সব ঠিকঠাক আছে তো? পেলে মেয়েটাকে?”

    মনোজ উত্তর না দিয়ে ফোনটা কেটে দিল।

    ওর চোখদুটো বাষ্পে ভরে উঠেছে হঠাৎ, এই নোনা হাওয়ার জন্য কি? শার্টের আস্তিনে নিঃসাড়ে চোখ মুছল ও।

    সুমনা এসি চায়, মনোজ প্রোমোশান চায়, ওদের স্যার সব পেয়ে গিয়ে এখন নামযশ চায়, আরো কত মানুষ গাড়ি, বাড়ি, স্টেটাস, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স কত কি চায়!

    কিন্তু কিছু মানুষ এখনো আছে, যারা একটু খেতে চায়, তাদের ছোট্ট ঘরটাকে শুধু ফিরে পেতে চায়, তাদের চিরকালের জন্য হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষগুলোকে একবার কাছে পেতে চায়।

    বালির বাড়ির মতোই অনিশ্চিত তাদের জীবন!

    তাদের চাওয়ার কাছে ওদের এই চাওয়াগুলো কি ঠুনকো, না?

    মনোজ গলা দিয়ে বেরিয়ে আসা উদগত কান্নার দলাটাকে প্রাণপণ চেষ্টা করে গিলে ফেলল।

    তারপর নিঃশব্দে গিয়ে জড়িয়ে ধরল কুসুমকে।

    **********

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }