Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ‘ওলা’ ড্রাইভারের শাশুড়ি

    মানুষ যখন জীবনে চলার কোনো বাঁকে সাফল্য অর্জন করে, বহুদিনের স্বপ্ন যখন তার পূরণ হয়, তখন তার সবাইকে ডেকে সেটা জানাতে ইচ্ছে করে, সবার সাথে নিজের আনন্দের অনুভূতিটাকে ভাগ করে নিতে ইচ্ছে হয়, বিশেষত কাছের মানুষগুলোর সাথে। সেইজন্যই প্রতিটা সমাজতাত্ত্বিক বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা থাকে মানুষ একটি সামাজিক জীব। কিন্তু সেই সৌভাগ্য মনোরমার হল না। একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের মনেই মাথা নাড়েন মনোরমা। আজকের এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ দিনে যখন ভেতরের ভালোলাগাটাকে মনোরমা কিছুতেই কন্ট্রোল করতে পারছেন না, তখন পাশে আপনার বলতে সেরকম কেউ নেই।

    পিন্টু বলে ট্রেনার ছেলেটা অনেকক্ষণ ধরেই লক্ষ করছিল মনোরমার ভাবগতিক, এবার বলেই ফেলল, ”কাকিমা, কাকুকে একটা ফোন বরং করেই ফেলুন! এত ভালো একটা খবর! কলকাতায় আপনিই মনে হয় প্রথম!”

    মনোরমা অল্প হেসে কিছু বললেন না। থাক বাইরের লোকের কাছে আর নিজের দুঃখের কথা বলে লাভ কি! বলতে তো প্রথমদিনই গিয়েছিলেন মনোরমা, উৎসাহ ফেটে পড়ছিল তখন, আশুতোষকে না বললে আর কাকেই বা বলবেন! আশুতোষ শুনে কিছুক্ষণ হাঁ করে তাকিয়েছিলেন, তারপর জিজ্ঞেস করেছিলেন মনোরমা মশকরা করছেন কিনা। পরে যখন বুঝতে পারলেন ব্যাপারটা সত্যি, রসিকতা নয় মোটেই, তখন কিছুক্ষণ হাঁ করে চেয়ে থেকে তারপর ফেটে পড়েছিলেন, ”তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? লোকে শুনলে তো তোমার গায়ে ঢিল ছুড়বেই, আমাদের বাড়ির সামনেও শান্তিধাম কথাটা মুছে দিয়ে পাগলাগারদ লিখে দিয়ে যাবে!” আরো কিছুক্ষণ তিরস্কার করেও ক্ষান্ত হননি, পাশের ঘর থেকে ডেকে এনেছিলেন ছেলেমেয়েকে। জয় এসে তো প্রথমে হেসেই খুন, সে হাসি থামতেই চায় না, তারপর বলল, ”প্লিজ মা! আমার একটা প্রেস্টিজ আছে পাড়ায়। এভাবে আমাকে সবার কাছে হাসির খোরাক কোরো না!”

    মেয়ে রিম্পি তার মোটা ডাক্তারি বই হাতে নিয়ে পাতা ওলটাতে ওলটাতে বলেছিল, ”মা, এটাকে কি বলে জানো? মিডলাইফ অবসেসিভ ডিজঅর্ডার। মানুষের মাঝবয়সে এসে সব উদ্ভট খেয়াল চড়ে মাথায়। তুমি চিন্তা কোরো না, আমি একটা ওষুধ দেবো, রাতে শোওয়ার আগে ক-দিন খাও। ঘুমটা ভালো হবে, দেখবে শরীরটাও ঝরঝরে লাগবে। আর আমি কালই প্রোফেসর সামন্তর সাথে এই নিয়ে একবার কথা বলব।”

    মনোরমা আমতা আমতা করে নিজেকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করেছিলেন, ”মাঝবয়স কেন! তুই বিশ্বাস কর, এটা আমার ছোটোবেলা থেকেই শখ। এতদিন সংসারের চাপে হয়ে ওঠেনি। এখন যখন একটা সুযোগ পেয়েছি………… তোদের কত আজগুবি খেয়ালে আমি সবসময় সঙ্গত দিয়েছি, আর তোরা সামান্য একটা ব্যাপারে এরকম……”

    জয়ের বোধ হয় মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল, অধৈর্য হয়ে একটু জোর গলাতেই মা-কে মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছিল, ”ওফ, এনাফ মা। শোনো তুমি আমাদের মা ওকে! কিম কারদাশিয়ান মা নও, আটপৌরে বাঙালি মা! আর মা-কে আমরা শাড়ি পড়ে ভালো ভালো রান্না করে খাওয়ানো, ঘরদোর গোছানো এসবের মধ্যেই দেখতে চাই।” তারপর একটা অদ্ভুত বিদ্রূপের গলায় বলেছিল, ”স্কুটি চালাবে বললে তবু মানা যায়! বাইক চালাবে, তাও এই বয়সে!” আশুতোষও যোগ দিয়েছিলেন সেই বিদ্রূপে। বাবা, ছেলে, মেয়ের হাহাহিহিতে ভরে গিয়েছিল ঘর।

    মনোরমা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এদের জন্যেই কি সারাটা জীবন তিনি স্যাক্রিফাইস করলেন? জয় আর রিম্পি তখন একদম ছোট্ট, ওদের ঠিকঠাক দেখভালের জন্য নিজের ভালো চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিলেন মনোরমা। চাকরিটা শুধু তাঁর পেশা ছিল না, নেশাও ছিল। একটা নামী পাবলিকেশন হাউজে গ্রাফিক্স ডিজাইনারের কাজ ছিল। গ্রাফিক্স মানে তখন ছবি আঁকাকেই বোঝানো হত, কম্পিউটার তখন আর কোথায়! সরকারি আর্ট কলেজ থেকে পাশ করে সেখানেই যোগ দিয়েছিলেন মনোরমা। শাশুড়ি অনেক বারণ করেছিলেন ভালো চাকরিটা ছাড়তে, তবু নিজের কেরিয়ার জলাঞ্জলি দেওয়ার আক্ষেপ কোনোদিনও করেননি মনোরমা, ছেলেমেয়ে দুটোকে মানুষ করার স্বপ্নেই বুঁদ হয়ে থেকেছেন। মেয়ে ডাক্তারি পড়ছে, ছেলে ভালো চাকরি করছে, ভেবেছিলেন ছেলেমেয়ে মানুষ করা সার্থক, কিন্তু এ কেমন তৈরি হয়েছে জয় আর রিম্পি? মায়ের একটা সামান্য ইচ্ছে নিয়ে এত বিদ্রুপ করছে এরা?

    মনোরমার গোটা ঘটনাটা মনে পড়তেই মনটা আবার ভারিক্কি হয়ে উঠল। হ্যাঁ। তিনি মানছেন তাঁর ইচ্ছেটা একটু অদ্ভুত বটে কিন্তু এই একটিমাত্র ইচ্ছেই তো সারাজীবন ধরে বুকে লালন করে এসেছেন তিনি। ছোট্ট থেকেই বাইকের প্রতি তাঁর ভীষণ আকর্ষণ। তখন রাস্তাঘাটে এরকম মুড়ি মুড়কির মতো বাইক দেখা যেত না। যখনই ওদের রেল কোয়ার্টার কলোনিতে কেউ বাইকে চড়ে আসতেন, পরম স্নেহে সেই বাইকে হাত বোলাতেন মনোরমা। সেই যখন কলেজে পড়তেন, ‘শোলে’ রিলিজ করেছিল, বন্ধুরা সবাই মিলে হলে দেখতে গিয়েছিলেন। অমিতাভ আর ধর্মেন্দ্রর সেই বাইকে চড়ে বিখ্যাত গান ‘ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে’ দেখতে দেখতে কোথায় ডুবে গিয়েছিলেন তিনি! তখন থেকেই ঠিক করে ফেলেছিলেন একদিন না একদিন বাইক চালিয়ে নিজের মনে ঘুরে বেড়াবেন তিনি। সেই সময় তাঁর বন্ধু বলতে ছিলেন পিসতুতো ভাই তপন। তারই বাইকে চুপিচুপি শিখেও ফেলেন মনোরমা চালানো। ভোর ভোর টিউশনি করতে যাবার পথে রেলের পরিত্যক্ত মাঠে গিয়ে শিখতেন তিনি। কিন্তু নিজে কিনে লোকসমক্ষে চালিয়ে বেড়ানোর সাহস হয়নি। তারপর তো বিয়ে, বিয়ের পর এতদিন ধরে সংসারের জোয়াল টানতে টানতেই নিজের সব শখ-আহ্লাদ ফুরিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ একদিন খবরের কাগজে যখন দেখলেন ট্যাক্সি অ্যাপ ওলা ওদের চার চাকা গাড়ির পাশাপাশি কলকাতার বুকে এবার বাইকও লঞ্চ করছে, ভেবেছিলেন একবার ঝালিয়ে নিয়ে নতুন করে চেষ্টা করবেন। কিন্তু কোথায় কি!

    মনের দুঃখে ইচ্ছেটাকে পাকাপাকিভাবে সমাধিই দিয়ে দিচ্ছিলেন মনোরমা, বাধা দিলেন মৃণালিনী। এই একটা মানুষ যিনি বিয়ের পর থেকে মনোরমাকে সমস্ত ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। মৃণালিনী মনোরমার শাশুড়ি মা। বয়স আশির ওপরে, কিন্তু এখনো ভালোই খটখটে আছেন। মৃণালিনীকে দেখে মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যান মনোরমা! এত পুরনো দিনের লোক এত আধুনিক মনস্কা আর তারই ছেলে আশুতোষ এরকম!

    মৃণালিনী পুরো ঘটনাটা শুনে নিজের মনে গজগজ করেছিলেন, ”ব্যাটাছেলেগুলোর আবার কাজ কি! ওরা তো সবসময় মেয়েদের ইচ্ছে-অনিচ্ছেগুলোকে দাবিয়ে রাখতেই ভালোবাসে। ওদেরকে অত গুরুত্ব দিসনি তো! সবসময় স্বামীজীর কথা মনে করবি, শরীরের অর্ধেকটা অংশ যতদিন পাঁকে ডুবে থাকবে, পুরো সমাজটাও এরকম পচা গলাই থাকবে। পুরুষরা তো তাদের একচ্ছত্র অধিকারে ভাগ বসাতে গেলে রাগ করবেই, কিন্তু তাই বলে কি আমরাও হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকব নাকি! আমাদের অধিকার কেড়ে নিতে হবে।” একটু থেমে যোগ করেছিলেন, ”তুই তো চিরকালের বোকা, ভালো চাকরিটা দুম করে ছেড়ে দিয়ে ছেলেমেয়ের পেছনে পড়লি, এখন তারাই উল্টে মা-কে এরকম করছে! আমার বাপু খুব ভালো লাগে মেয়েরা বাইক চালাক, প্লেন চালাক, জাহাজ চালাক। তুই এক কাজ কর, দুপুরবেলা করে বেরিয়ে পড়ে প্র্যাকটিস কর আগে কিছুদিন। ওরা তো কেউ থাকে না। কেউ ফোন করলে আমি সামলে নেব।”

    মনোরমা মিনমিন করে আপত্তি তোলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মৃণালিনীর উৎসাহে সেই আপত্তি ধোপে টেকেনি।

    দুপুরবেলা খেয়ে উঠেই সারাদিনের নুন-হলুদ শাড়ি ছেড়ে নিজের একমাত্র সালোয়ার কামিজ, যেটা শুধু বাইরে গেলেই পরা হয় আশুতোষ পছন্দ করেন না বলে, সেইটা পরে বেরিয়ে পড়তেন মনোরমা। গন্তব্য মোটর ট্রেনিং স্কুল। একমাস শিখে টু হুইলার-ফোর হুইলার দুটোরই কমার্শিয়াল লাইসেন্স বের করা মুখের কথা নয়। বাইক অল্প চালাতে জানলেও চারচাকা একদমই জানতেন না মনোরমা, কিন্তু ওলায় ড্রাইভের হয়ে গাড়ি চালাতে গেলে দুটোই জানতে হবে, শুধু বাইকে ওলা নাকি পারমিট দেবে না।

    দিনের পর দিন অক্লান্তভাবে প্র্যাকটিস করতেন মনোরমা। প্রথম প্রথম অবাক হলেও পরে ট্রেনিং স্কুল ওঁর উৎসাহ দেখে পিন্টুকে আলাদা ট্রেনার হিসেবে নিযুক্ত করেছিল। প্রথমদিকে অন্যান্য ছাত্রছাত্রীরা হাঁ করে তাকিয়ে থাকত মায়ের বয়সি একজন সাধাসিধে গোলগাল মহিলা বাইক শিখছেন দেখে, পরে তারাও তাদের এই কাকিমাকে খুব উৎসাহ দিত। মোটর ভেহিকল ডিপার্টমেন্টের লাইসেন্স টেস্টে দুটোতেই পাশ করে অবশেষে আজ লাইসেন্সটা হাতে পেয়েছেন মনোরমা। ভাইভা আগেই হয়ে গিয়েছিল, তাতে প্রশ্ন করা হয়েছিল ”এই বয়সে! তাও কমার্শিয়াল লাইসেন্স! কেন!”

    মনোরমা সোজাসাপটা উত্তর দিয়েছিলেন, ”আমার বাইক চালাতে ভীষণ ভালো লাগে। গাড়ি চালাতেও। ওলা বাইক লঞ্চ করছে শীগগিরই। আমি ওলার হয়ে বাইক আর গাড়ি দুটোই চালাতে চাই।”

    ইন্টারভিউয়ার আরো অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ”ওলা! এই বয়সের একজন মহিলা হয়ে আপনি ভাড়া গাড়ি চালাবেন, সঙ্গে বাইক! হয় নাকি!”

    মৃণালিনীর শেখানো মতো মনোরমা স্মিত হেসেছিলেন, ”হওয়ালেই হয় স্যার!”

    নিজের জমানো টাকা ব্যাংক থেকে আগেই তুলে নিয়েছিলেন, অন্য যা টাকা সবই আশুতোষের সাথে জয়েন্টে, তুললে ওঁর ফোনে অ্যালার্ট চলে যাবে। তাই বাকিটা দিলেন মৃণালিনী। সেই দিয়ে সেকেন্ড হ্যান্ড একটা বাজাজ বাইক আর ছোট একটা পুরনো টাটা ইন্ডিকা কিনে ফেললেন মনোরমা। কিন্তু সেগুলো রাখবেন কোথায়? বাড়িতে তো নিয়ে আসা যাবে না। অগত্যা ট্রেনিং স্কুলের সাথে কথা বলে ওদেরই গ্যারেজে রেখে দিলেন সেদুটো।

    হঠাৎ পিন্টু ডাকল, ”কাকিমা, যাবেন না?”

    তাই তো! লাইসেন্স পেয়ে মনোরমা আনন্দে ভুলেই গিয়েছিলেন, আজই তো ওলা কোম্পানির সাথে দেখা করতে যাওয়ার কথা সল্টলেকে। পিন্টু ছেলেটা বড় ভালো, যাবে সঙ্গে।

    গিয়ে যতটা অপ্রস্তুতে পড়তে হবে ভেবেছিলেন, ততটা হল না। ওলা অথরিটি ব্যাপারটাকে খুবই ইতিবাচকভাবে নিলেন। এমনকি প্রথম মহিলা ওলা ড্রাইভার হিসেবে অ্যাডভারটাইজও করতে চাইছিলেন তাঁরা, কিন্তু মনোরমা বারণ করলেন।

    মনোরমার বাইক চালানো আর গাড়ি চালানো টেস্ট করে নিয়ে কাগজপত্র সব জমা নিয়ে নিলেন তাঁরা। গাড়ি আর বাইকে ওলার লোগো বসানো হয়ে গেল দুদিনের মধ্যেই।

    শুরু হয়ে গেল মনোরমার ইচ্ছেপূরণ। শুধু দুপুরবেলাটা কাস্টমার নেন তিনি, একদিন বাইক আরেকদিন চার চাকায়, এইভাবে অল্টারনেট করে, তাও শুধু উইকডেজ। ফোনে পিঁ পিঁ আওয়াজ করে কাস্টমাররা রাইড বুক করলেই মৃণালিনী চেঁচিয়ে ওঠেন, ”ওরে, আরেকটা খদ্দের এল রে তোর! যা যা শীগগিরই বেরো রেডি হয়ে!”

    মনোরমা রেডি হয়েই থাকেন, জলদি বাড়ি থেকে বেরিয়ে অটো করে চলে যান ট্রেনিং স্কুলে। গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করেই ছুট লাগান। যদিও টাকার জন্য এসব করেন না মনোরমা। বাইক নিয়ে যখন কাস্টমারকে খুঁজতে যান, আনন্দে মনটা ভরে ওঠে। কাস্টমার খুব অবাক হয়ে যায়, তবে এখনো অবধি বেশ পজেটিভভাবেই গ্রহণ করেছে সবাই তাঁকে। একদিন তো একটা কাস্টমার ছবিই তুলে নিলেন মনোরমার।

    যেদিন কাস্টমার থাকে না, সেদিন বাইকটা নিয়ে চলে যান দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে অনেক দূর। ফাঁকা রাস্তায় চালাতে চালাতে নিজেকে মুক্ত পাখি মনে হয় মনোরমার। ঠাণ্ডা হাওয়ায় চুল উড়তে থাকে, সঙ্গে মনও। কিন্তু বেশিক্ষণ চালানো যায় না। পাঁচটা বাজতে না বাজতেই ফিরে আসেন বাড়ি। শাড়ি পরে জলখাবার বানিয়ে অপেক্ষা করেন ছেলেমেয়ের জন্য।

    এভাবেই চলছিল। চলতও যদি না সেদিন ঘটনাটা ঘটত। সেদিন একটা কল পেয়ে বারোটার সময়েই নাকে মুখে গুঁজে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন মনোরমা। তাড়াহুড়োয় নিজের ফোনটা নিতেও ভুলে গিয়েছিলেন। ওলার দেওয়া ফোনে একটার পর একটা কল পাচ্ছিলেন সেদিন। শেষ কাস্টমারকে বেলুড়ে নামিয়ে দিয়ে মনোরমা ভাবলেন আর নয়। সাড়ে চারটে বেজে গেছে, এবার ফেরার রাস্তা ধরতে হবে।

    মনোরমার বাড়ি বরানগরে। বেলুড় থেকে বালি ব্রিজ পেরিয়ে দক্ষিণেশ্বরের দিকে আসছিলেন মনোরমা, স্কুলের গ্যারেজ আরেকটু এগিয়ে। হঠাৎ ওলার ফোনে একটা পিঁ পিঁ। একবার ভাবলেন দেখবেনই না, পরক্ষণে গাড়িটা সাইড করে বুকিংটা দেখলেন ফোনে। একটা বুকিং আসছে বরানগর চত্বর থেকে, ওলা থেকে রেড সিগন্যাল দেওয়া, তার মানে মেডিকেল এমারজেন্সি। কিন্তু এটা নেওয়া তো তার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা তো তাঁর নিজের বাড়ির কাছাকাছি। ওখানে গেলে লোকজনের সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। ইতস্তত করে বুকিংটা রিজেক্ট করলেন তিনি। আবার গাড়ি স্টার্ট করলেন। একটু খারাপ লাগছে, আজ বরানগর এলাকায় ট্যাক্সি ধর্মঘট আছে, তার ওপর ওই চত্বরে ওলার আর তেমন কোনো গাড়ি নেই মনোরমা জানেন। কিন্তু তাঁরও তো হাত পা বাঁধা।

    বুকিংটা আরো দুবার এল, দুবারই রিজেক্ট করলেন মনোরমা।

    এবার ওলা কোম্পানি থেকে একটা ফোন এল, ”ম্যাডাম আপনার লোকেশনের একদম কাছাকাছি একজন পেশেন্ট আছেন, আপনার রিজেকশন দেখে আমাদের বারবার ফোন করছেন। প্লিজ ওনাকে একটু হসপিটালে পৌঁছে দিন না, যদি সম্ভব হয়!”

    মনোরমা আর ফেরাতে পারলেন না। অসুস্থ মানুষ, বিবেকে বাধল। কেউ দেখতে পেলে যা হবার হবে, মনোরমা আর বিশেষ চিন্তা করলেন না, তিন নম্বর বুকিংটা নিয়েই নিলেন। অ্যাকসেপ্ট করার সঙ্গে সঙ্গে ফোন এল কাস্টমারের থেকে, ”একটু তাড়াতাড়ি আসুন প্লিজ! আমার মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, ইমিডিয়েটলি হসপিটাল নিয়ে যেতে হবে, এখানে একটাও গাড়ি পাচ্ছি না।” ঠিকানাটা বলেই ফোনটা কেটে গেল।

    মনোরমা স্থবির হয়ে গেলেন। আশুতোষের গলা! ঠিকানাটাও তাঁরই বাড়ির। তার মানে মৃণালিনী অসুস্থ! কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তো ঠিকই ছিলেন! আশুতোষই বা অফিস থেকে কখন ফিরে এল? মনোরমা আর আগুপিছু না ভেবে ঝড়ের বেগে গাড়ি চালাতে লাগলেন। তাঁকে ড্রাইভারের আসনে দেখে, এই গাড়ি দেখে ছেলেমেয়ে-স্বামীর প্রশ্নবাণ, বিদ্রূপের সামনে পড়ার থেকেও তাঁর সামনে তখন বড় হয়ে উঠেছে মৃণালিনী। এই মানুষটাই তাঁর আশ্রয়, তাঁর ভরসা, তাঁর কিছু হয়ে গেলে মনোরমা কার কোলে মাথা রাখবেন?

    ঠিক পাঁচদিন বাদে অ্যাপোলো গ্লেন ঈগলস হসপিটালের সাততলার কেবিনে মৃণালিনী যখন চোখ খুললেন, তখন উদবেগে তাঁর সামনে ঝুঁকে বসেছিলেন মনোরমা। আশুতোষ, জয়, রিম্পি এরা দিনে দুবার করে এলেও মনোরমা হসপিটাল থেকে একমুহূর্তের জন্যও একদিনে বেরোননি।

    মৃণালিনীর সেদিন ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়। বাড়ির কাজের মেয়ে কমলা মনোরমাকে ফোনে না পেয়ে আশুতোষকে ফোন করে অফিস থেকে ডাকে। মনোরমাকে দেখে সবাই হাঁ হয়ে গেলেও অবস্থার জেরে কেউ কিছু বলেনি। যদিও জয় গাড়িতে যেতে যেতে শুরু করেছিল, ”মা তুমি……মাই গড! আমার কোনো বন্ধু এতদিনে ওলাতে তোমায় যদি……!”

    আশুতোষ হাত নেড়ে জয়কে চুপ করিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর হসপিটালে ডাক্তার যখন বললেন আর কিছুক্ষণ দেরি হলে পেশেন্টকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়ত, তখন আশুতোষ আলতো চাপ দিয়েছিলেন মনোরমার হাতে। সে হাতে রাগ ছিল না, ছিল অনুতাপে মোড়া ভালোবাসা।

    মৃণালিনী চোখ মেলে হাসলেন, ”কিরে! মুখটা এমন শুকিয়ে গেছে কেন! ক-দিন কিছু মুখে দিসনি নাকি?”

    মনোরমার চোখে জল, মৃদু স্বরে বললেন, ”মা! আমি সেদিন ছিলাম না, তোমার কত কি হয়ে যেতে পারত! আমি …… আমি আর কোনোদিনও বেরবো না তোমায় ছেড়ে!”

    মৃণালিনী হেসে চোখ বুজলেন। তারপর মনোরমার কানে মুখ নিয়ে এসে চুপিচুপি বললেন, ”ধুর মুখপুড়ি! বেরবি না কেন! এবার থেকে তো ভাবছি আমিই তোর বাইকটা ওই ওলা না কি বলে ওখান থেকে বুক করব। আমায় ওই ফোনে টেপাটেপি শিখিয়ে দিবি। তারপর তুই আর আমি মিলে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গাইতে গাইতে চলে যাব অনেক দূর। তুই উত্তমবাবু আমি সুচিত্রা। কিরে! আমায় নিয়ে যাবি না?”

    মনোরমা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন মৃণালিনীকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }