Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দেবীপক্ষ

    ভেবেছিল এই কাকভোরে ট্রেনে উঠছে, রীতিমতো হাত-পা ছড়িয়ে আরাম করে যেতে পারবে, কিন্তু নিজের এমন ভুল ধারণায় নিজেই অবাক হয়ে গেল সুমিতা। এই ভোর সাড়ে পাঁচটার ট্রেনেও বনগাঁ লোকালের লেডিজে আজ বেশ ভিড়, প্রতিটা সিটেই চারজন ঠেসাঠেসি করে বসে। তার ওপর আজ মহালয়া,কয়েকজনের মোবাইলে বেশ উচ্চৈঃস্বরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের উদাত্ত গলায় মহালয়া বাজছে, কিছু বয়স্ক মহিলা মাথা দুলিয়ে পুরনোর জয়গান করছেন। সুমিতা মাথা ঘুরিয়ে জানলা দিয়ে বাইরে তাকাল, কাশ ফুলের ঝোপ মাথা নাড়ছে, নীল সাদা শরতের প্রকৃতি ভেদ করে ট্রেন ছুটে চলেছে। নিজের করমচা-র মতো ফুলে থাকা চোখ দুটো কচলে নিয়ে নিজের মনেই ও আফসোস করল, এহ, আজ যে মহালয়া, নানাকাজের ডামাডোলে ওর একেবারে মনে ছিল না। কেউ মনেও করিয়ে দেয়নি। বিদ্যুৎচমকের মতো বাইশ বছর আগের মহালয়ার দিনটা ওর মনে পড়ে গেল।

    ঠিক বাইশ বছর আগে মহালয়ার দিন ফোঁটা জন্মেছিল। এত ছোট্ট হয়েছিল, মাত্র পৌনে দু-কেজি ওজন, তাই ফোঁটা। নামটা শঙ্করের দেওয়া। বড় বড় বাদামি চোখ, মাথায় থোকা থোকা কোঁকড়া চুল। সুমিতা নিজের ইতিহাস প্রেম বজায় রাখতে, কলহনের সেই বিখ্যাত পুঁথির নামে নাম মিলিয়ে প্রথমে একরত্তি মেয়ের নাম রেখেছিল রাজতরঙ্গিনী। কিন্তু শঙ্কর নাকচ করে দিয়েছিল, বলেছিল মহালয়ার দিন জন্মেছে, ও তো মা দুর্গারই অংশ, ওর নাম হবে বিশ্বরূপা। ফোঁটা জন্মানোর পর সুমিতার সামান্য কিছু কমপ্লিকেশন হয়েছিল, ডাক্তার আরো কয়েকদিন অবজারভেশনে রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শঙ্করের কিছুতেই আর তর সইছিল না, বাড়িতে একা একা হাঁপিয়ে উঠেছিল, রীতিমতো তর্কাতর্কি করে বউ মেয়েকে বাড়ি নিয়ে গিয়েছিল।

    তারপর থেকে তারিখ ধরে ফোঁটার জন্মদিন সুমিতা পালন করত না, বলত এমন শুভ দিনে জন্মেছে মেয়েটা, মহালয়ার দিনই ওর জন্মতিথি। তাই তারপর থেকে প্রতি বছর মহালয়ার দিন ফোঁটার জন্মদিন পালন হত। চার বছর আগে অবধিও হয়েছে, ফোঁটার বন্ধুরা আসত, আর আসত কিছু বন্ধুবান্ধব। শঙ্কর আর সুমিতা অতদিন আগে বাড়ির অমতে বিয়ে করেছিল, কোনো পক্ষই ওদের মেনে নেয়নি, তাই মেয়েটা ছোট থেকে দাদু-ঠাকুমার আদর পায়নি বলে একটু বেশিই যত্নে রাখত ওরা। কোনোদিনও মেয়েকে কিছুর অভাব বোধ করতে দেয়নি। তবে ফোঁটাও ছোট থেকেই পড়াশুনোয় দারুণ শার্প ছিল, সঙ্গে তুখোড় বুদ্ধি, শঙ্করের তো মেয়েকে নিয়ে গর্বের শেষ ছিল না। জয়েন্টে যখন সারা রাজ্যে চল্লিশ র‌্যাঙ্ক করল, সারা পাড়ায় মিষ্টি খাইয়েছিল দেদার। শাড়ির নেতিয়ে পড়া আঁচল দিয়ে মুখটা মুছে সুমিতা নিজের মনেই নিজেকে প্রশ্ন করলো, ফোঁটা ওদের বাপ-মা হিসেবে তো কম গর্বিত করেনি, ছোট্ট থেকে স্কুলের প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন অনুষ্ঠানে বুক ফুলিয়ে যেত ওরা দুজন। কিন্তু আজ আর সেই আনন্দগুলো কিছু মনে পড়ে না কেন, মনে হয় যেন গতজন্মের কথা? আর বিনিময়ে ওরা কি দিতে পেরেছে মেয়েকে?

    পাশের বউটা কখন ঢুলতে ঢুলতে একদম ওর ঘাড়ে ঘুমিয়ে পড়েছে সুমিতা খেয়াল করেনি। ভারটা অসহ্য বোধ হতে সাবধানে বউটার মাথাটা আবার তুলে দিয়ে নড়েচড়ে বসল। এর মধ্যে শঙ্কর বারদুয়েক ফোন করেছে, ওরা সকাল সাড়ে ন-টায় নামবে। শিয়ালদা স্টেশনে নেমে চটজলদি একটা ট্যাক্সি করতে হবে সুমিতাকে, নাহলে ঠিক সময় পৌঁছতে পারবে না আর শঙ্কর ব্যতিব্যস্ত করে তুলবে। ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় চলা এখন শঙ্করের একটা বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে, অনেকে আড়ালে টিপ্পনীও কাটে। কিন্তু শঙ্কর পাত্তা দেয় না। আগে ওর লেটলতিফ বলে দুর্নাম ছিল। অফিস থেকে শুরু করে কোন নিমন্ত্রণবাড়ি, সব জায়গাতেই অন্তত আধ ঘণ্টা লেট হওয়াটাই ছিল ওর ট্রেডমার্ক। সুমিতা একটা চাপা নিশ্বাস ফেলল। সেদিনটা যদি শঙ্কর দশ মিনিটও আগে পৌঁছত ফোঁটাকে আনতে, ওদের তিনজনের জীবনটাই হয়তো এভাবে আমূল বদলে যেত না।

    সুমিতা সঙ্গের ঝোলা থেকে একটা শুকনো পাউরুটি বের করে চিবোতে লাগল। আগে ও কত শৌখিন ছিল, এরকম অবিন্যস্ত শাড়ি, আলুথালু চুল, ট্রেনে বসে শুকনো রুটি চিবোনোর কথা ভাবতেই পারত না। ফিটফাট হয়ে স্কুল যেত সবসময়। পরিস্থিতি মানুষকে কতটা বদলে দেয়! যে ফোঁটা যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চান্স পেয়ে একটু একটু সাজগোজ শিখছিল, কলেজ যাওয়ার আগে বড় বড় চোখদুটোয় আলগা কাজল দিত, সে-ই এখন চোখের গর্তের ওপর সেলাই করা চামড়ার ওপর সারাদিন হাত বুলোয়, জড়িয়ে যাওয়া বিকৃত গলা দিয়ে কান্না বেরিয়ে আসে, মনে করতে চায় নিজের এজীবনের মতো হারিয়ে যাওয়া সুন্দর দৃষ্টিটাকে!

    পাশের বউটা আবার ঢুলে পড়েছে। সুমিতা আর সরাল না, হয়তো ওর থেকেও বউটার খারাপ অবস্থা। নিজের ঘাড়টাকে ভালো করে পেতে দিয়ে বউটার ঘুমের সুবিধা করে দিল ও। আগে কোথাও যখন ট্রেনে করে যেত, ফোঁটা ঠিক এইভাবে ওর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমত, আর ওর কোঁকড়া চুলে বিলি কেটে দিত সুমিতা। নিজের অজান্তেই বহুদিন বাদে চোখের কোণে দু-ফোঁটা জল চিকচিক করে উঠল ওর, এমনিতে চোখে জলটল আর আসে না, অনেক হয়ে গেল। হাসপাতালে কাটানো অনেক বিনিদ্র রাত, অনেক নিষ্ঠুর পুলিশি জেরা, অনেক কান্না, অনেক সান্ত্বনা হয়েছে, সময় এখন সবকিছুকেই অভ্যেস বানিয়ে দিয়েছে। মা হওয়ার যত আনন্দ ও পেয়েছে, এই সাড়ে তিন বছরে ভগবান যেন সব কিছু কড়ায়গন্ডায় পুষিয়ে দিয়েছেন।

    ব্যাগে ফোন বেজে উঠতে নিজেকে সামলে নিয়ে বউটার ঘুম যাতে না ভেঙে যায় সেইরকম সাবধান ভাবে ফোনটা ধরল সুমিতা। শঙ্করের বাবা, সুমিতার শ্বশুরমশাই। সুমিতার ট্রেন কখন ঢুকবে জিজ্ঞেস করলেন। ফোনটা ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখতে রাখতে সুমিতার মনে হল, ওদের অমতে বিয়ে, ফোঁটার জন্ম যে রাগকে গলাতে পারেনি, সাড়ে তিন বছর আগের সেই ঘটনায় সকলের সব রাগ অভিমান মুছে গিয়ে মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে গেছে।

    মাঝে মাঝে যখন ও একা থাকে, পুরো ঘটনাটার ঘুঁটি নতুন করে সাজায়, এদিক-ওদিক পালটে দ্যাখে। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে, ফোঁটার এই পরিণতির পেছনে কি ওরও হাত নেই? ফোঁটা ছোট থেকে ওদের কত গর্বিত করেছে, আর বিনিময়ে ওর এই পরিণতিতে কি করেছে সুমিতা মা হিসেবে? সুমিতা বরাবরই ডাকাবুকো, বরং শঙ্কর অনেক শান্ত, গোবেচারা। ছোট থেকে সুমিতা নিজেই শিখিয়েছিল মেয়েকে প্রতিবাদী হতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। তা না হলে কোথাকার কোন মেয়ের সাথে রাস্তায় কারা অসভ্যতা করছে, সে তো কত লোকই দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যায়, ওর মেয়েটা পারল না কেন? একা রুখে দাঁড়িয়ে মেয়েটাকে বাঁচাতে গিয়েছিল ফোঁটা। সেদিন বাড়ি ফিরে ফোঁটার বলা কথাগুলো আজও কানে বাজে সুমিতার। ওর আহত গলা থেকে কষ্ট যেন চুইয়ে পড়ছিল, ”কেউ এগিয়ে এল না মা, জানো! সবাই আড়চোখে দেখে চলে যাচ্ছিল। আমি যখন দলের পাণ্ডাটাকে চড় মারলাম, তখনও কেউ এলো না! এরকম কেন হয়ে যাচ্ছে মানুষ, মা?”

    সেদিনের মতো ছেলেগুলো চলে গিয়েছিল। কিন্তু এলাকার বড়োলোকের ছেলে, ভরদুপুরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য একটা বাচ্চা মেয়ের কাছ থেকে থাপ্পড় তারা হজম করতে পারেনি। ঠিক এক সপ্তাহ বাদে সেই থাপ্পড়ের প্রতিশোধ ওরা নিয়েছিল, এক বোতল অ্যাসিডের বিনিময়ে!

    এই তিন বছরে অন্তত একশবার সুমিতা নিজের গায়ে অ্যাসিড ফেলে দেখতে চেয়েছে মুহূর্তে চামড়া গুটিয়ে যাওয়ার কতটা দুঃসহ যন্ত্রণা তার ফুলের মতো মেয়েটাকে পেতে হয়েছে, মুহূর্তের মধ্যে চোখের নালি দিয়ে অসংখ্য শিরায় উপশিরায় পৌঁছে যাওয়া তীব্র দহনের স্বাদ পেতে চেয়েছে, পারেনি। আর অন্যরা? সেদিনের ফোঁটার সেই পাশবিক চিৎকার, কান্নায় রাস্তার যে লোকগুলো একবারের জন্যও এগিয়ে আসেনি, পরে পুলিশি সাক্ষীর জন্যও তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। একদিকে শঙ্কর মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে পড়ে থেকেছে আর অন্যদিকে বাবাকে নিয়ে সুমিতা হত্যে দিয়েছে এক উকিল থেকে আরেক উকিলের চেম্বারে, যদি সেই ছেলেগুলোর, বিশেষত যে অ্যাসিড ছুড়েছিল, তার যাতে চরম শাস্তি হয়। চরম শাস্তি তো দূর, এই সাড়ে তিন বছরে জলের মতো টাকা খরচ ছাড়া কিছুই হয়নি। সে এলাকার এক বড় প্রোমোটারের ছেলে, উঠতি মস্তান, দিনে দুবেলা অবলীলায় বনগাঁ স্টেশনের পাশে বসে আড্ডা মারে, এদিকে পুলিশ নাকি ওকে খুঁজে পাচ্ছে না। আর ওর মেয়েটা দুমড়েমমুচড়ে হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকে। কষ্টে রাগে গলার কাছটা আবার দলা পাকিয়ে যায় সুমিতার।

    সুমিতা চুপচাপ জ্বরের রুগির মতো নিজের অজান্তেই কাঁপছিল। যখনই ও মানসচক্ষে পুরো ঘটনাটা দেখতে চেষ্টা করে, এটাই হয়। আশপাশ থেকে লোকজনের হৈ-হট্টগোলে ওর হুঁশ ফিরল। ট্রেন শিয়ালদা ঢুকে গেছে। ক্লান্ত শরীরটাকে টেনেহিঁচড়ে ও ট্রেন থেকে নামাল। স্টেশন থেকে বেরিয়ে একটা ট্যাক্সি ধরে আবার নিজের শরীরটাকে ট্যাক্সির ছেঁড়া সিটে এলিয়ে দিল ও। এই জীবনযুদ্ধ থামবার নয়!

    বাবা-মা হওয়ার যে কতটা কষ্ট, সেটা একমাত্র বাবা-মা হয়েই টের পাওয়া যায়, ও ভাবল। আর সাফল্য, আনন্দের থেকেও যন্ত্রণাই রেশ ফ্যালে বেশি। মাসের পর মাস যখন ফোঁটা হসপিট্যালে ভর্তি, ডাক্তাররা যখন ওর আঠেরো বছরের শরীরটাকে নিত্যদিনের কাটাছেঁড়ার গিনিপিগ বানিয়ে ফেলেছেন, শুধু চোখেরই অপারেশন হয়েছে উনিশটা, অন্যদিকে পুলিশের জেরায় শঙ্কর আর সুমিতা জেরবার, রোজ থানায় যেতে হচ্ছে, তখন ফোঁটার জয়েন্টের চল্লিশ র‌্যাঙ্কটা একদম ফিকে হয়ে গিয়েছিল। যেদিন ফোঁটার চোখের ব্যান্ডেজ খোলা হল, দুটো সুন্দর চোখের জায়গায় দুটো চামড়ার কোটর দেখে আতঙ্কে কষ্টে শঙ্কর আর সুমিতা চিৎকার করে উঠেছিল, তবু প্রাণপণে সংযত করেছিল নিজেদের, যাতে ফোঁটা কিছু বুঝতে না পারে।

    এয়ারপোর্টে ঢোকার আগে একটা পুজোর মণ্ডপের সামনে বিশাল জ্যাম, মাইকে গান বাজছে উদ্দাম। পুজোর জন্য আর আলাদা করে কোনো অনুভূতি হয় না ওদের আর! বরং এই জ্যাম, ট্রেনে বাসে ভিড়ের জন্য মনে হয় এই দিনগুলো গেলেই বাঁচা যায়!

    ট্যাক্সি থেকে নেমে প্রথমে ও ভাবল শঙ্করকে একটা ফোন করবে, তারপর সামনে একটা জটলা দেখে এগিয়ে গেল। হুম, ও যা ভেবেছে তাই। শঙ্কর আর পাশে হুইল চেয়ারে ফোঁটা। এখনো কোনোরকমে হাঁটতে পারলেও বাইরে কোথাও গেলে হুইল চেয়ারেই যায় ওর সেদিনের সেই খলবলে মেয়েটা। আশপাশে দশ-বারো জন মানুষের ভিড়। দূর থেকে তাকিয়ে দেখতে দেখতে সুমিতার চোখ জলে ভরে উঠল। ফোঁটা আবারও ওদের গর্বিত করল। ওর এইটুকু জীবনে এমন ঘটনা ঘটার পরেও মেয়েটা আবার উঠে দাঁড়িয়েছে, প্রাণপণে আশপাশের খড়কুটোগুলো আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছে আপ্রাণ। ওর বন্ধুরাও সাহায্য করেছে নিরলস। জুগিয়েছে মনোবল। সেই মনের জোরেই বছরখানেক আগে হসপিটাল থেকে ছাড়া পেয়ে বন্ধুদের নিয়ে ফোঁটা একটা মোবাইল অ্যাপ বানিয়েছিল, যেটা শুধু বিপদে পড়লে জিপিএস লোকেশনই অটোমেটিক্যালি ফরোয়ার্ড করে দেবে না, সেই লোকেশনের সবচেয়ে কাছের পুলিশ স্টেশনে নিজের লোকেশন জানিয়ে মেসেজও যাবে আর ভিডিও রেকর্ডারটাও অন হয়ে যাবে ফোনের। সেইজন্যই দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার নিতে গিয়েছিল বাবা মেয়ে মিলে। ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং মিনিস্ট্রির তরফ থেকে মন্ত্রী নাকি কাল ঘোষণা করেছেন, ২০১৮ সালের মধ্যে সমস্ত ফোনে এই অ্যাপটাকে বিল্ট ইন করে দেওয়া হবে যাতে আর কোন ফোঁটার সাথে এরকম না হয়। কাগজে কাগজে হইচই হচ্ছে ফোঁটাকে নিয়ে, সবাই সাধুবাদ জানাচ্ছে, কুর্নিশ করছে সুমিতার সেদিনের সেই ছোট্ট দুর্গার এমন মনের জোরকে।

    ওই তো, দূর থেকে ও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে কালো চশমার আড়ালে চিরকালের জন্য হারিয়ে যাওয়া চামড়ার আড়ালে ঢেকে যাওয়া ফোঁটার সেই উজ্জ্বল চোখদুটো, যা দিয়ে ও একদিন অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখত। ওর সেলাই করে ঠোঁটের আকৃতি দেওয়া কৃত্রিম মুখগহ্বরটাও চোখে পড়ে সুমিতার, যা দিয়ে অসংখ্য ডিবেট, ক্যুইজে প্রতিপক্ষকে অবলীলায় যুক্তিতে হারিয়ে দিত ফোঁটা।

    সুমিতা অল্প এগোয়। সাংবাদিকরা একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছে ওদের। বেশিরভাগই শঙ্কর উত্তর দিচ্ছে, কয়েকটা জড়ানো ভোকাল কর্ড নিয়ে ফোঁটা বলছে। সুমিতা হঠাৎ খুব আত্মপ্রসাদ অনুভব করে। নাহ, ফোঁটা সন্তান হয়ে ওদের যত গর্বিত করেছে, আজ অন্তত কিছুটা হলেও তার ঋণ শোধ করতে পেরেছে সুমিতা। আর এই যে মেয়েটার অসীম মনের জোর, তার পেছনেও কি ওর আর শঙ্করের একটুও হাত নেই?

    সাংবাদিকরা এখনো কেউ মনে হয় খবর পায়নি। কাল রাতে যে ছুরিটা দিয়ে ওই ছেলেটার গলার নলিটা কেটে এসেছিল সুমিতা, সেই রক্তমাখা ছুরিটা ব্যাগের মধ্যেই ও খামচে ধরে। অনেক … অনেক দিন সহ্য করেছে ও, অনেক আইনের পথে হেঁটেছে, অনেক মন্ত্রী উজির, পুলিশ উকিল ধরেছে, কিছু হওয়ার নয় ও বুঝে গিয়েছিল। তাই শঙ্কর মেয়েকে নিয়ে দিল্লি যাওয়ার পরেই ও তক্কে তক্কে ছিল। ছেলেটা প্রায়ই মদ খেয়ে মাঝরাতে পাড়ার মোড়ে পড়ে থাকে সেটা ও জানতো।

    সুমিতা পায়ে পায়ে এগিয়ে যায়। হয়তো এরপর সারাজীবন ও জেলের ঘানি টানবে, তাতে ওর বিন্দুমাত্র ক্ষোভ নেই, ওর মেয়েটার ওপর অত্যাচারের তো শাস্তি দিতে পেরেছে ও। সুমিতা মনে মনে ভাবে, এটাই ওর তরফ থেকে বিশ্বরূপার জন্মদিনের উপহার।

    দূরের পুজোমণ্ডপ থেকে ও আবছা শুনতে পায় মহালয়ার আগমনী। ও স্বপ্ন দ্যাখে, একদিন ফোঁটা অনেক অ-নে-ক বড় হবে, সেটাই ওর পাওনা। বাহ্যিক রূপ, এই দৈহিক কাঠামোটাকে নষ্ট করে দিলেও ওর কিচ্ছু যায় আসে না, তা ও দেখিয়ে দেবে সবাইকে। চোখের জল মুছে দূরের অদেখা দুর্গামূর্তির দিকে তাকিয়ে অস্ফুটে ও উচ্চারণ করে, ”এবার দেবীপক্ষ শুরু!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }