Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিউটাউনের টোটোওয়ালা

    প্রদীপ্ত দিব্যি টেকনোপলিস থেকে হোম টাউন পেরিয়ে আরেকটু নারকেলবাগানের দিকে এগিয়ে ডান দিকে টার্ন নিতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় আলো-আঁধারিতে আজকেও মেয়েটাকে চোখে পড়ে গেল। সেই সেদিনের মতোই। কি একটা ঝ্যালঝেলে ধরণের কালো জামা পড়ে অল্প ঝুঁকে ওড়নাটাকে গলায় পেঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কাঁধে সস্তা ব্যাগ, গলায় ঝুটো পাথরের মালাটা চকচক করছে। চোখের নীচের কাজল ধেবড়ে গিয়ে কালো বলে ভ্রম হয় এই ষ্ট্রিটলাইটের ঝকমকে আলোতেও।

    প্রদীপ্ত দূর থেকেই চোখ সরু করে সেদিনের মত কোনো গাড়ি আছে কিনা দেখতে চেষ্টা করলেন। নাহ, কেউ কোথাও নেই। এমনিতেই এই নিউটাউনের গলিগুলো সন্ধে নামতে না নামতেই শুনশান হয়ে যায়, তারপর এখন তো শীতের রাতের সাড়ে ন-টা। মাইলখানেক দূরের আইটি কোম্পানির ছেলেমেয়েগুলো শুধু বড় রাস্তার মোড়গুলোতে শাটল বা বাস ধরার অপেক্ষায় এদিক ওদিক দাঁড়িয়ে থাকে ক্লান্ত শরীরে ঢাউস ব্যাগ পিঠে। কতদিন একজন দুজনকে একটু এগিয়ে দিয়ে শাটল ধরতে হেল্প করেছেন প্রদীপ্ত। দু-একটা ছেলেমেয়ের কাছে এখন বেশ মুখচেনাও হয়ে গেছেন।

    অবশ্য কলকাতার উপকণ্ঠের র‌্যাপিড গতিতে বেড়ে ওঠা এই নিউটাউনে প্রদীপ্ত এখন খুব ছোটখাটো লেভেলের সেলিব্রিটিই বলা চলে! বিশেষ করে এই পনেরোই আগস্ট নিউটাউন থানা সংবর্ধনা দেওয়ার পর। আরতিও বেশ গর্ব করেন তাঁর স্বামী রত্নটিকে নিয়ে ইদানীং, খেয়াল করেছেন প্রদীপ্ত। অথচ এই আরতিই না সেদিন কি বাধা দিয়েছিলেন, মনে পড়লেই নিজের মনেই হাসেন প্রদীপ্ত।

    অবশ্য তার জন্য আরতিকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না। স্টেট ব্যাঙ্কের পুরো ইস্টার্ন রিজিওনের জেনারেল ম্যানেজার হয়ে বছর দুয়েক হল রিটায়ার করেছেন প্রদীপ্ত। ছাত্রজীবনে ঝকঝকে স্টুডেন্ট ছিলেন, বাইশ বছরের সদ্য কলেজ পাশ করা তরুণ হয়ে যোগ দিয়েছিলেন স্টেট ব্যাংকে, তাও আবার ডাইরেক্ট অফিসার হয়ে। তখনকার দিনে বাঙালি ছেলে ডিরেক্ট অফিসার হয়ে ব্যাংকে ঢুকছে শোনাই যেত না, অধিকাংশই ঢুকতো কেরানি হয়ে। নিজের মেধা আর কর্মদক্ষতার জোরে প্রায় উল্কার গতিতে উঠেছেন অফিসের সিঁড়ি বেয়ে, ঘুরেছেন কত দেশ-বিদেশ, সরকারের বহু হাই লেভেল কমিটিতে মেম্বার হয়ে নিয়েছেন বহু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, সেই দুঁদে কর্মকর্তা হয়ে প্রদীপ্ত এখন যদি রিটায়ারের পর এক লাখ সাড়ে উনিশ হাজার টাকা দিয়ে একটা টোটো গাড়ি কিনে নিউটাউনের পথে পথে চালিয়ে বেড়ান, তাতে আরতি কেন, অনেক স্ত্রীই তুমুল আপত্তি করবে।

    কিন্তু প্রদীপ্তর নিজের ওই সমস্ত তথাকথিত উঁচু কাজ নীচু কাজের সোশ্যাল ট্যাবু একেবারেই নেই। ব্যাংকের মার্কিন অপারেশানস সামলাতে বেশ কয়েক বছর ছিলেন আমেরিকায়, ওখানকার কালচার বেশ পছন্দ প্রদীপ্তর, খেয়াল করে দেখেছেন ওখানে কোনো কাজই ছোট মনে করা হয় না। হার্ভার্ড-এর মতো বিশ্বসেরা ইউনিভার্সিটির টপার ফ্রি টাইমে কোনো হেসিটেশান ছাড়াই পিজ্জা ডেলিভারি বয়ের কাজ করে কিংবা পিএইচডি করা মেয়েটা কোনো আইসক্রিম পার্লারে। মেয়ের কাছে কানাডা গিয়েও একই জিনিস দেখেছেন, বা জার্মান জামাইয়ের জার্মানির বাড়িতে গিয়েও এর কোনো ব্যতিক্রম দেখেননি তিনি। এসব দেখেটেখে তাঁর মনে হয়েছে, প্রথম বিশ্বের দেশগুলোতে এসব নিয়ে মানুষের কোনো ছুঁৎমার্গ নেই, যত সংস্কার এই উন্নয়নশীল দেশে।

    আর তাছাড়া প্রদীপ্ত তো আর রোজগার করার জন্য টোটোটা কেনেননি! চেতলায় পৈত্রিক বাড়ি ছিল, সে বাড়ি মেরামতির অভাবে আর হাজার শরিকের খেয়োখেয়িতে এখন ভগ্নপ্রায়, আর কাজের সুবাদে সারাটা জীবন ঘুরে বেড়ানোয় কোথাও আর থিতু হওয়া হয়নি। তাই রিটায়ারমেন্টের বছরখানেক আগে যখন একটা স্থায়ী বাসস্থান খোঁজার দরকার পড়ল, নিউটাউনে নামি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কমপ্লেক্স তৈরির বিজ্ঞাপন দেখে সাত-পাঁচ না ভেবে তখন বুক করে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, কলকাতার পলিউশান আর ব্যস্ততা থেকে একটু দূরেও থাকা যাবে, আবার নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলোও পাওয়া যাবে বেশ। প্রথম প্রথম আসার পর ভালোই লেগেছিল, একটু গাড়ি নিয়ে এগোলেই শপিং মলও আছে, আবার ইকো ট্যুরিজম পার্কের মতো ঘোরার জায়গাও আছে, তার সাথে রবীন্দ্র তীর্থ, নজরুল তীর্থের মতো সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ। এছাড়া বেশ ফাঁকাফাঁকা অঞ্চল, দূরের বড় রাস্তা দিয়ে বাস ছুটে চলে।

    কিন্তু মাস কয়েক কাটার পর আরতি একদিন বলেই ফেললেন, ”কি ভূতুড়ে জায়গায় যে বেছে বেছে ফ্ল্যাট কিনলে তুমি! বাজারটা নাহয় তুমি গাড়ি করে এনে দাও, বাকি সারাটা দিন কোনো লোক নেই! একটা মাছ ওলা নয়, একটা সেলসম্যান নয়, ধুর! ভালো লাগে নাকি! হাঁটাপথে কিছুই নেই। টুকটাক কিছু দরকার হলেও তোমাকে যদি গাড়ি বের করতে হয়, তাহলে তো মুশকিল! এত বড় এরিয়া, আর দুটো মোটে রিকশা চলে। না অটো, না কিছু। বুড়োবুড়িতে থাকি, কেউ এসে গলা কেটে রেখে গেলেও আশপাশের কেউ টের পাবে না!”

    প্রদীপ্তও মনে মনে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছিলেন, তবু নিজের ভেতরের উষ্মা প্রকাশ না করে আরতিকে বুঝিয়েছিলেন, ”আরে, নতুন এরিয়া! একটু ডেভেলপ হতে সময় লাগবে না? বাষট্টি সালে তোমার বাবা যখন তোমাদের ওই সল্টলেকের বাড়ির জমিটা কিনেছিলেন, তখন তো ওইসব জায়গা পুরো জলা ছিল! রাতবিরেতে শিয়াল ডাকতো রীতিমতো! আর এখন? তোমার ভাইকে জিগ্যেস করো ও-বাড়ির দাম দশ কোটির ওপরে! আর কি নেই ওখানে! একটু টাইম তো লাগবেই!”

    আরতি একটুও কনভিন্সড না হয়ে প্রদীপ্তকে দাবড়ে চুপ করিয়ে দিয়েছিলেন, ”তুমি থামো তো! আমার বাবা না হয় জানত যে ভাই সুবিধাটা একসময় ভোগ করবে। আমাদের কে করবে শুনি? তোমার মেয়ে কি কানাডার সিটিজেনশিপ এমনি এমনি নিল? না তোমার জার্মান জামাই এই নিউটাউনে এসে থাকবে! তোমার ওই চেতলার বাড়ির মতো আমাদের এই ফ্ল্যাটও একদিন খসে খসে পড়বে। তার চেয়ে নিজেরা ভালো জায়গায় থাকলেই হত! কতবার তখন বলেছিলাম দমদমের দিকে দ্যাখো, দেখলে না। অবশ্য আমার মতামতের মূল্য আর কোনোদিন দিয়েছ তুমি!”

    মেয়েটার কাছাকাছি আসতেই প্রদীপ্তর সঙ্গে মেয়েটার চোখাচোখি হল, মেয়েটা ফ্যাকাসে হেসে একটু ইতস্তত করে বলল, ”অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, রিকশাগুলো যে কোথায় গেল!”

    অন্য কেউ হলে প্রদীপ্ত এত কথা বলতে দিতেন না। দশ-পনেরো সেকেন্ডের মধ্যে আলাপ সেরে নিয়েই উঠিয়ে নিতেন টোটোয়, তারপর গল্প করতে করতে ছেড়ে দিয়ে আসতেন বাড়িতে। এই তো সর্বসাকুল্যে ছ-সাতটা গলি। ঝোঁকের মাথায় বছরখানেক আগে টোটোটা কিনে এনেছিলেন চিনার পার্কের একটা দোকান থেকে, ভেবেছিলেন টুকটাক বাজার দোকান তো করবেনই, রাস্তায় যে যখন লিফট চাইবে, পৌঁছে দেবেন আনন্দের সাথে। এই চত্বরে নয় নয় করেও একশো-র কাছাকাছি অ্যাপার্টমেন্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তাদের কতরকমের মানুষ। সকালের বাজার সেরে আসার পর বেশ কিছুটা দূরের একটা ক্লাবে তাস, দাবা এইসব খেলতে যান প্রদীপ্ত। ফেরার পথে যাকে পান তাকেই পৌঁছে দেন গন্তব্যে। পাঁচ-দশ মিনিটের যাত্রাপথে স্বল্প আলাপ, তাতেই বড় আনন্দ পান প্রদীপ্ত। সারাজীবন রোজগার তো দু-হাতে করলেন, এই বয়সে এসে টোটো চালিয়ে বড় তৃপ্তি হয়। প্রথমে কেউ কেউ ভুল করে, টোটো থেকে নেমেই বাড়িয়ে দেয় দশ টাকার নোট, প্রদীপ্ত সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেন এটা তাঁর শখ মাত্র। প্রথম প্রথম আরতি খুব রাগ করতেন, আশপাশের সবাই হাসাহাসি করে, তাছাড়া কি রাত অবধি এই পলকা গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, বুড়ো বয়সে কি ভীমরতি ধরল নাকি!

    তবে মাস তিনেক আগে হঠাৎ একটা অ্যাকসিডেন্টে রাস্তার পাশে কাতরানো একটা ছেলেকে যখন নিয়ে গিয়েছিলেন হসপিট্যালে, তখন থেকে এই ছোট্ট জায়গায় বেশ বিখ্যাত হয়ে গেছেন প্রদীপ্ত। ধবধবে সাদা ধোপদুরস্ত পাজামা পাঞ্জাবি পরে দামি রিমলেস চশমার অভিজাত চেহারার প্রদীপ্তকে টোটো নিয়ে আসতে দেখলেই সামনের ডিপিএস স্কুলের খুদেগুলো চেঁচিয়ে ওঠে, ”ওই তো টোটোদাদু! দাদু, আজ কিন্তু আমি তোমার পাশে বসব, কাল মা বসতে দেয়নি সামনে, মা-কে আজ একটু বকে দাও না দাদু!” বাচ্চাদের মায়েরা কপট রাগ করে বলে, ”না জেঠু ওর বায়না শুনবেন না তো, কালও বাড়ি গিয়ে কেশেছে।” প্রদীপ্ত গল্প করতে করতে পৌঁছে দেন তাদের বাসস্ট্যান্ডে।

    শুধু যে নামি স্কুলের বাচ্চা নয়, যেকোনো মানুষ, সে রাস্তার হতদরিদ্র মানুষও হাঁটছে দেখে কোথায় যাবেন জিগ্যেস করে বহুদিন টোটোয় তুলে নিয়েছেন প্রদীপ্ত। কাজেই, এই মেয়েটির এত ইঙ্গিত দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই ছিল না।

    কিন্তু তবু প্রদীপ্ত ভ্রূক্ষেপ করলেন না। মেয়েটার করুণ দৃষ্টির পাশ দিয়ে একটুও গতি না কমিয়ে টোটোটা নিয়ে সজোরে এগিয়ে গেলেন সামনের রাস্তায়। কড়া কথা শোনাবার মনস্থির করেও শেষ মুহূর্তে নিজেকে সামলালেন, তবু নিজের অজান্তেই মনটা ঘৃণায় ভরে উঠল। যত নতুন শহরতলিই হোক, এরই মধ্যে এখানে পৃথিবীর আদিমতম ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে এরা। এক ঝলকের জন্য মেয়েটার মুখটা মনে পড়তেই মাথাটা আরো গরম হয়ে উঠল প্রদীপ্তর। শুধু বাজে মেয়ে তাই নয়, মিথ্যেবাদীও। বলেছিল করুণাময়ীর দিকে কোন সেলাই সেন্টারে কাজ করে। সরল বিশ্বাসে কোনো সন্দেহও করেননি প্রদীপ্ত। সেদিনের ঘটনাটা না ঘটলে জানতেও পারতেন না ওর আসল পরিচয়।

    কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকে টোটোটাকে গ্যারাজে ঢোকাতে ঢোকাতে প্রদীপ্ত ভাবলেন, অন্তত চল্লিশ বার তো মেয়েটাকে টোটোয় করে নিয়ে এসেছেনই। তখন অনেক গল্প হত আসতে আসতে। প্রদীপ্তরও একটা অলিখিত ডিউটি হয়ে গিয়েছিল পৌনে দশটা নাগাদ একবার ওই স্ট্যান্ডটা চক্কর মেরে আসা। মনে হতো আহা, বাচ্চা মেয়ে! এই রাতে এতটা রাস্তা একা একা ফিরবে? কতই বা বয়স, বড়জোর সাতাশ আঠাশ, প্রদীপ্তর নিজের মেয়ে চাঁদনীর থেকে ছোটই হবে। এই বয়সে কি অক্লান্ত পরিশ্রম করে।

    মেয়েটাও আসতে আসতে অনেক গল্প করত, ওর বাড়িতে ছোট ছেলে আছে, স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করত, কিন্তু রঙ করতে গিয়ে মাচা থেকে পড়ে গিয়ে চার মাস হল বিছানায়। এখন ঘরে থেকে থেকে মেজাজ খিটখিটে আর সন্দেহ দিনরাত। কোন ভোরে উঠে রান্না করে বাড়ির বাকি সব কাজ সেরে আসতে হয়, ছোট ছেলেটা মা না আসা অবধি জেগে বসে থাকে, এইসব টুকটাক দুঃখের কথা। অনুযোগের সুরে পেছন থেকে বলত মেয়েটা, ”এত দুরন্ত না আমার ছেলেটা কাকু, ওর বাবা তো শুয়ে থাকে, আমি আসতে দেরি করলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়, আর এখানে ফাঁকা রোডে যা জোরে জোরে গাড়ি যায়, আমার যে কি ভয় আগে সারাদিন!” বকতে বকতে প্রদীপ্তদের মতো ঝাঁ চকচকে কমপ্লেক্সের আশপাশে উলু খাগড়ার মতো গজিয়ে ওঠা ছোট ছোট বস্তিগুলো এলেই একটা ঘুপচি ঘরের সামনে নিঃসাড়ে নেমে যেত মেয়েটা।

    গত পরশু প্রদীপ্ত শরীরটা ভাল না থাকতেও টোটো নিয়ে গিয়েছিলেন, নেহাত কর্তব্যবোধের তাগিদে। আরতি বারণ করেছিল, ”আহা, আজ যখন চলেই এসেছ, আবার এই ঠান্ডায় বেরচ্ছ কেন?” প্রদীপ্ত শোনেননি। অন্যদিন পৌঁছোবার আগে থেকেই মেয়েটা দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু সেদিন গিয়ে দেখতে পাননি।

    মিনিট পনেরো দাঁড়িয়ে থেকে চলে আসবেন বলে সবে টোটোটা সবে ঘুরিয়েছেন, হঠাৎ একটা গাড়ির কর্কশ ব্রেক কষার আওয়াজে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে পেয়েছিলেন, সেই মেয়েটা গাড়ি থেকে নামছে। নামছে বলা ভুল, কয়েকজন মিলে তাকে জোর করে নামিয়ে রাস্তায় একরকম ঠেলে ফেলেই দিচ্ছে। মেয়েটা চিৎকার করে কি বলছে শোনার আগেই হিতাহিতজ্ঞান ভুলে প্রদীপ্ত ছুটে গিয়েছিলেন গাড়িটার দিকে, ঘটে যাওয়া কোনো সাংঘাতিক বিপদের কথা আঁচ করে।

    গাড়ির সামনের কাচে গিয়ে দুমদুম করে ধাক্কা মেরে চিৎকার করেছিলেন, ”এত সাহস তোদের! শিগগির গাড়ি থামা!” আলোর চেয়েও বেশি স্পীডে পরবর্তী প্ল্যান মনে মনে ছকেও ফেলেছিলেন, গাড়ির নম্বরটা একঝলক দেখে নিয়ে মনের মধ্যে মুখস্থ করছিলেন আপ্রাণ। এমনিতেই ছোটবেলার বন্ধু সন্দীপন এখন লালবাজারের বড় কর্তা, তার ওপর নিউটাউন থানার ওসিও এখন প্রদীপ্তকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করেন।

    কিন্তু প্রদীপ্তর সব প্ল্যান ভেস্তে দিয়ে গাড়ির সামনের কাচ নেমে এসেছিল, আর ভেসে এসেছিল কদর্য হাসির সাথে কিছু অশ্রাব্য মাতাল গালিগালাজ, ”এ বুড়োটা আবার কে বে? দালাল নাকি? দেখে তো মনে হয় না, পার্ট টাইম দালালি করে নাকি? ওই তো হাজার টাকার মাল, তারও আবার দালাল আছে বাওয়া?”

    প্রদীপ্ত রাগে উন্মত্ত হয়ে কি বলতে যাচ্ছিলেন, মেয়েটা পেছন থেকে ছুটে এসে চিৎকার করছিল, ”পনেরশো টাকায় কথা হয়েছিল, আর পাঁচশো টাকা দিন আমায়, প্লিজ আর পাঁচশো টাকা দিয়ে যান!” চিৎকার করতে করতে মেয়েটার গলা ভেঙে যাচ্ছিল, গালের দু-পাশ দিয়ে গড়িয়ে নামছিল চোখের জল, তবু গাড়ির সামনের কাচ ছাড়ছিল না সে। কিছুটা ঘষটে ঘষটে সঙ্গে যাওয়ার পর গাড়ির ভেতর থেকে নোংরা গালাগালির সঙ্গে ছুড়ে এসেছিল এক দলা থুতু, তারপর স্পিড বাড়িয়ে গাড়িটা হাওয়া হয়ে গিয়েছিল মুহূর্তের মধ্যে।

    গোটা ঘটনাটা মনে পড়লেই প্রদীপ্তর রাগে আর ঘৃণায় গা গুলিয়ে ওঠে। এতদিনের আলাপে ঘুণাক্ষরেও টের পাননি মেয়েটার আসল পেশা। আর কতটা নির্লজ্জ দ্যাখো, তার পরেও আজকে আবার কথা বলছে দাঁত বার করে। ছি!

    হাতমুখ ধুয়ে লিভিং রুমে এসে বসতে আরতি টিভির সুইচটা বন্ধ করলেন, ”হল তোমার নাইট ডিউটি? খেতে দেব?”

    মেয়েটার কথা আগে আরতিকে গল্প এত করতেন প্রদীপ্ত যে, সেদিনের কথাটা আর লজ্জায় বলতে পারেননি। গম্ভীর মুখে দায়সারাভাবে মাথা নেড়ে প্রদীপ্ত জিগ্যেস করলেন, ”আগে এক কাপ চা দাও তো! একটু পরে খাবো। চাঁদনী ফোন করেছিলো?”

    আরতি ফ্লাস্ক থেকে চা ঢেলে নিয়ে এসে টেবিলে রাখলেন, ”হ্যাঁ, আজ এক কাণ্ড করেছে তোমার নাতি, জানো!”

    প্রদীপ্ত বললেন, ”আবার কি করলো? রোজই তো কিছু না কিছু করছে সে!”

    আরতি বললেন, ”হ্যাঁ। আজ চাঁদনীর অফিস থেকে ফিরতে একটু দেরি হয়েছে, ম্যাক্স তো এমনিই ফেরে অনেক রাত করে, বাবুই যে গুজরাটি বৌটার কাছে থাকে, সে নাকি টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছিল, আর বাবুই একা একা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়েছে।”

    প্রদীপ্ত শুনতে শুনতে সোজা হয়ে বসলেন, ”সেকি, ওদের বাড়ির বাইরেই তো বড় রাস্তা! তারপর?”

    আরতি চায়ের কাপটা এগিয়ে ধরলেন, ”তারপর সে কি কাণ্ড, ওদের পাশেই যে ইজরায়েলের ফ্যামিলিটা থাকে না, তারা দেখতে পেয়ে বাবুইকে ওদের বাড়ি নিয়ে গিয়ে চাঁদনীকে ফোন করেছে। ওরা তো বলছিল পুলিশে খবর দেবে, বৌটা খেয়াল রাখবে না? কিন্তু চাঁদনী আর ওসব করেনি। গুজরাটি বৌটার দোষ নেই, চাঁদনী তো বলে, এত জেদি হয়েছে ছেলেটা, চাঁদনী না থাকলে কিছুতেই নাকি খাবে না, বৌটা তাও অনেক চেষ্টা করে, তার ওপর ভাষা তো একদমই বোঝে না বৌটা। … আমি তাই ভয়ে মরছি, কি অঘটনই না হতে পারত আজ! মেয়েটার গলাটা কি কাঁপছে ফোনে! বলছে মা, তুমি কলকাতার কাউকে পাঠাও আর নয়তো নিজে এসো। তুমি একবার চা-টা খেয়ে নিয়ে ফোন করো তো!”

    প্রদীপ্ত চায়ের কাপে চুমুক দিয়েও আস্তে আস্তে টেবিলে নামিয়ে রাখলেন। ওঁর মাথার ভেতরটা কেমন ঘুরে উঠল। আরতির চায়ের হাত খুব ভালো, তা সত্ত্বেও চা-টা কেমন বিস্বাদ ঠেকল হঠাৎ। আচ্ছা, ওই মেয়েটার ছেলেটাও তো নিশ্চয়ই মা না এলে এরকমভাবেই না খেয়ে বসে থাকে, এরকমভাবেই ওই অন্ধকার ঘুপচি ঘর থেকে বেরিয়ে খুঁজতে যায় তার মা-কে, তাই না? বিদ্যুৎ চমকের মতো প্রদীপ্তর হঠাৎ মনে হল, নামি কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া কানাডায় বিশাল চাকরি করা চাঁদনীও যেমন মা, স্বামী আর ছেলেটার মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়ার জন্য নিজের শরীর বিক্রি করে পয়সা রোজগার করা এই মেয়েটাও তেমনই একজন মা। আজ চাঁদনী তাঁর ঘরে জন্মেছিল বলে ওখানে, ভাগ্যের ফেরে যদি আজ উল্টোটা হত? চাঁদনীকে যদি আজ এভাবে রোজগার করতে হত সংসার আর ছোট্ট ছেলেটার জন্য? আসল দোষ তো এই পচা গলা মৃতদেহ হয়ে যাওয়া সমাজের, যারা এদের পেটে ভাত জোগানোর দায়িত্ব হেলায় উপেক্ষা করে ঠেলে দেয় এই পাঁকের জগতে।

    প্রদীপ্ত আর ভাবতে পারলেন না, মেয়েটা এখন নিশ্চয়ই ফাঁকা নিউটাউনের গলি ধরে অবসন্ন দেহে টলোমলো পায়ে ফিরছে বাড়ি? আর তার সেই ছোট্ট ছেলেটা? সে কি বাড়িতে আছে? না বেরিয়ে পড়েছে মা-কে খুঁজতে?

    প্রদীপ্ত আর দেরি করলেন না। মাফলারটা গলায় বেঁধে বেরোতে বেরোতে বললেন, ”আসছি এক্ষুনি।”

    আরতি অবাক হয়ে বললেন, ”এই তো এলে! আবার কোথায় যাচ্ছ?”

    প্রদীপ্ত সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বললেন, ”ওই যে মেয়েটার কথা বলেছিলাম না, চাঁদনীরই বয়সি, ওকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ফিরছি এক্ষুনি। তুমি খাবার রেডি করো। আর হ্যাঁ, চাঁদনীকে জিগ্যেস করো তো, একটা মেয়ে আছে ভালো, তারও ছোট ছেলে, ওকে পাঠালে চাঁদনীর বাচ্চাটাকে দেখভাল করতে সুবিধে হবে কিনা?”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }