Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নটরাজ

    আধভাঙা উঠোনের যেদিকটায় শ্যাওলা জমে কালো জমাট পাঁকের মতো হয়ে গেছে, সেইখানটায় পারতপক্ষে কেউ যায় না, রাতের বেলা তো নয়ই। কোথা থেকে কি বিছেটিছে কামড়ে দেবে, সাপখোপ থাকাও বিচিত্র নয়। রুমকি দু-বার গোটা উঠোনটা খুঁজে গেছে। রিন্টুকে দেখতে পায়নি। আর শুধু দিদি কেন, পৃথিবীর কেউ আর রিন্টুকে দেখতে পাবে না কোনোদিন, দাঁতে দাঁত চিপল রিন্টু।

    কালো জমাট পাঁকের মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গাটায় গুটিসুটি মেরে বসে ফুলে ফুলে কাঁদছিল ও। ফুলে ফুলে কাঁদার একটা সুবিধা আছে। খুব জোরে কান্নার দমক এলেও খুব কাছে না থাকলে কেউ বুঝতে পারবে না যে ও কাঁদছে। হাঁটুদুটোকে ভাঁজ করে বুকের কাছে নিয়ে বসে দুই হাঁটুর মাঝে মুখ ডুবিয়ে ফোঁপাচ্ছিল রিন্টু। উঠোনের ওপাশের পুকুর থেকে ব্যাঙের আর ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক ভেসে আসছে। রিন্টুর একেবারেই যে ভয় লাগছে না তা নয়, তবু ও উঠছিল না। কনুইয়ের আর পিঠের কেটে যাওয়া অংশটা যত ফুলে উঠছিল, জ্বালাটাও ততই বাড়ছিল, তবু ও উঠছিল না।

    দিদি দুবার খুঁজে যাওয়ার পর মা এল। আর মা এমনই একজন, ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যেও ঠিক খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে যায় রিন্টুকে, ”তুই এই নোংরার মধ্যে বসে আছিস? ইশ, রাজ্যের নোংরা, পোকামাকড় ঘুরছে! শিগগিরই উঠে আয়! খেতে দিয়েছি।”

    রিন্টুর ইচ্ছে হল একছুটে গিয়ে মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে, তবু ও দাঁতে দাঁত চেপে বসে রইল, ”আমার খিদে নেই। তুমি যাও।”

    রিন্টুর মা সুষমা ভালোই জানে তার ছেলের জেদের কথা। ও আর রাগ করল না। সাবধানে পিছল হয়ে থাকা মেঝের ওপর দিয়ে এগিয়ে গিয়ে ছেলের কাছে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল, ”রাগ করে না বাবা! বাবা তো ভালোর জন্যই বলে বল?”

    এতক্ষণের জেদ আর রাগ মায়ের স্নেহের স্পর্শে মুহূর্তে অভিমানের বৃষ্টি হয়ে দু-চোখের বড় বড় ফোঁটা হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করল, রিন্টু মা-কে জড়িয়ে ধরে বলল, ”ভালোর জন্য? কি ভালোর জন্য, মা? বাবা যে মাঠ থেকে এসে সেদিন রাতে তোমায় ধাক্কা দিল, তোমার পড়ে গিয়ে কপালটা কেটে গেল, সেটা ভালোর জন্য? নাকি আমাকে আজ মারল, আমি কি করেছি, তুমি বল?”

    সুষমা ঠোঁট কামড়ে ধরল। বাচ্চাদের সামনে যে আগলগুলো থাকা দরকার, সেগুলো অনেকদিনই এই বাড়ি থেকে ঘুচে গেছে, শুধু দারিদ্রের জন্য নয়, অশিক্ষিত অত্যাচারে, যবে থেকে রমেশ তাড়ির আড্ডায় যাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু সেটা ও পনেরো বছরের ছেলের সামনে প্রকাশ করল না। বাবা, সে যত খারাপই হোক, বাচ্চাদের সামনে তার নিন্দা করাটা ঠিক নয়, সেটা সুষমা তার এইট অবধি পড়া বিদ্যেতেও জানে। শৈশবের গণ্ডি পেরিয়ে সবেমাত্র কৈশোরে পা দেওয়া ছেলের মাথায় আলতো করে হাত বোলাতে বোলাতে বলল, ”বাবা সবার বড় রিন্টু। তুই যেটা করছিস, পরে সেটার জন্য তোকে আরো কষ্ট পেতে হবে, তাই জন্য বাবা তোকে এখন থেকেই…!”

    রিন্টু কথার মাঝেই ঝাঁঝিয়ে উঠল, ”সে তো এখনো পেতে হয়। দাসপাড়ার রতনদা, নন্টেদা কত প্যাঁক মারে আমায়, টিটকিরি দেয়, আমি কি পাত্তা দিই? কিন্তু পাপিয়া দিদিমনি? আমায় তো কত ভালোবাসে! বলে আমি ঠিকমতো প্র্যাকটিস করলে একদিন অনেক নাম করব। সেটা বুঝি কিছু না? কে কি বলল কি এসে গেল?”

    সুষমা ছেলের অবুঝপনায় অস্থির হয়ে ওঠে, ”রিন্টু, তোর পাপিয়া দিদিমনি শহরের মেয়ে। কলকাতায় ওরকম অনেক ছেলেই নাচে। কিন্তু গ্রামে কখনো কাউকে দেখেছিস? হিন্দি গানের সঙ্গে নাচ, ঠিক আছে। কিন্তু ধুতি পরে চোখ এঁকে ওইসব বেঁকিয়ে বেঁকিয়ে নাচ? দেখেছিস কখনো? রতনরা তোকে আরো জ্বালাবে এরকম করলে। তোর পেছনে লাগবে, মেয়েদের মতো বলে নোংরা কথা বলতে শুরু করবে। আমরা একঘরে হয়ে যাব। তার থেকে এখন থেকেই সরে আয়। তোর বাবা বলেছে তোর ওই দিদিমনিকে গিয়ে বলবে…!”

    রিন্টু এবার আহত বাঘের মতো ফুঁসে ওঠে, ”খবরদার মা! বাবা যদি দিদিমনিকে কিছু বলে তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হবে, তুমি দেখে নিও! আর আমি বেঁকিয়ে বেঁকিয়ে নাচ করি না মা, ওটা কত্থক। বহু পুরনো নাচ এটা। আর তুমি বলছ এটা মেয়েদের নাচ? জানো এটা আসলে কৃষ্ণের নাচ? আর আগেকার দিনে ছেলেরাই এটা বেশি নাচত। অজন্তা ইলোরা, সব প্রাচীন গুহায় তাঁদের ছবি আছে। আর আমার নাচতে ভালো লাগে, মা! তাই বলে আমি মেয়ে কেন হব? উদয়শঙ্কর কি মেয়ে ছিলেন? সারা পৃথিবী আজ ওঁকে এই নাচের জন্যই চেনে!”

    সুষমা মনে মনে নিজের অজ্ঞতায় একটু থমকে যায়। রিন্টু যেটা নাচে, সেটা কেষ্টঠাকুরের নাচ? আর যার নাম রিন্টু করল, তাকে সে চেনে না। নিশ্চয়ই বিখ্যাত কেউই হবে। ও নরম গলায় বলল, ”তোকে এসব গল্প কে করে? তোর ওই দিদিমনি?”

    রিন্টু এবার একটু খুশি হয়, বলে, ”হ্যাঁ, দিদিমনি বলে। আমি বইও পড়েছি। জানো মা, আমার নাচতে খুব ভালো লাগে। রামায়ণ মহাভারতের কতরকম গল্পের সঙ্গে কতরকম ভঙ্গি করতে হয় মা…!”

    সুষমা ছেলের অতি উৎসাহে বলা কথাগুলো অন্যমনস্ক হয়ে শুনে চলেছিল। মাথায় অন্যদিকে ঘুরছিল আসন্ন ঝড়ের ভয়। রমেশ আজ মেরেছে, এরপর কোনদিন রক্তারক্তি ঘটাবে, তার ঠিক নেই। এই অজপাড়াগাঁয়ের মানুষজন কোনো কিছু অন্যরকম দেখেই টিপ্পনী কাটতে ছাড়ে না। সুষমার হঠাৎ বুকটা মুচড়ে ওঠে। কতলোকের ছেলে কত বয়ে যাচ্ছে, দিনরাত বিড়ি ফুঁকছে, গালাগাল করছে, আর তার ভদ্র সভ্য ছেলেটা একটু নাচতে ভালোবাসে, নিজের খেয়ালে নাচে, তাতে লোকের এত চোখ টাটানো কেন? এই তো, পাশের বাড়ির শন্টের মা এসে সেদিন চোখমুখ টিপে হাত ধরে কিরকম ইশারা করে কথা শুনিয়ে গেল, ”না রে তুই তো জানিস না, ওদের বাবা সেদিন বলছিল এরকম কিছু কিছু ছেলের দোষ হয়। বয়স থাকতে থাকতে ডাক্তার দেখালে সেরেও যায়। তোরা ডাক্তার দ্যাখা, সুষমা! নাহলে দেখবি কোনদিন ওরা খবর পেয়ে এসে ধরে নিয়ে যাবে।”

    সুষমা কিছু বলতে পারেনি, চুপচাপ হজম করেছে গায়ে জ্বালা-ধরানো কথাগুলো। বলতে পারেনি যে তুমি নিজের চরকায় তেল দাও গে যাও দিদি! তোমার ছেলে দুলেদের মাঠে গিয়ে নেশা করে চুর হয়ে পরে থাকে। বলতে পারেনি কিছুই। লোকের আঁতে ঘা দিয়ে কথা ও কিছুতেই বলতে পারে না কোনোদিন। ক্লান্ত চোখে ও দূরের গোয়ালের গোরুটার দিকে তাকায়। কলকাতা থেকে রিন্টুদের ইস্কুলে পড়াতে আসা ওই দিদিমনি একদিন সুষমাকেও বুঝিয়েছিল, ”দিদি আপনি বুঝতে পারছেন না, রিন্টুর মধ্যে একটা জন্মগত প্রতিভা আছে ক্লাসিক্যাল নাচে। এটা নষ্ট করবেন না প্লিজ! ওকে উৎসাহ দিন। দেখবেন, ও অনেকদূর যাবে। ওর নাচই আপনাদের জীবনটা পালটে দেবে।”

    সুষমার হঠাৎ গোয়ালে আপন খেয়ালে জাবর কেটে যাওয়া মঙ্গলার মতোই নিজেকে অসহায় মনে হয়। মঙ্গলার মতো ও নিজেও রমেশের পোষা প্রাণী ছাড়া আর কি? গোরুটাও যেমন সারাদিন মাঠে লাঙল টেনে, দুধ দিয়ে খেতে পায়, ও-ও তেমনি সারাদিন উদয়াস্ত খেটে এই বাড়িতে থাকতে পড়তে পারছে। ওর কথার দাম কি এই বাড়িতে? এই যে রুমকির পড়ায় মাথা নেই, ও বলেছিল মেয়েটা সেলাই করতে ভালোবাসে, আঁকার হাতও আছে, ওকে বরং ওইসব শেখাও, আর কিছু না হোক, নিজেরটা নিজে চালাতে পারবে, যেটা বলেনি সেটা হল সুষমার মতো লাথি-ঝ্যাঁটা খেয়ে তো বাঁচতে হবে না। কই, রমেশ শুনল ওর কথা? ফুতকারে উড়িয়ে দিল। তেমনি আজও তো বলতে গিয়েছিল ওই দিদিমনির শেখানো মতো। আর সত্যিই তো, আপত্তির কোনো কথাও নয়। সপ্তাহে একদিন কলকাতায় রিন্টুকে নিয়ে যাবে ওই দিদিমণির যে দিদিমণি, তার কাছে ক্লাস করাতে, তার নাকি অনেক নাম। টাকাও দিতে হবে না। কিন্তু কি হল? মাঝখান থেকে ছেলেটা শুধুশুধু মার খেলো।

    আজ বোধ হয় তাড়ির নেশাটা একটু বেশিই চড়েছিল রমেশের। ছেলেটাকে বেধড়ক পেটাতে পেটাতে যে গালাগালগুলো দিচ্ছিল সেগুলো অতি বড় শত্রুকেও মানুষ দেয় না। মারতে মারতে চিৎকার করছিল, ”শালা হিজড়ে কোথাকার! কানে দুল পরে ঘাগরা পরে নাচার শখ হয়েছে তোর? শালা আমি লজ্জায় পাড়ায় মুখ দ্যাখাতে পারছি না, আর ইনি যাবেন কলকাতায় খ্যামটা নাচতে? প্যাঁদানিতে চোর চুরি করা ভুলে যায় আর তোর এই রোগ সারবে না?” সঙ্গে উপযুক্ত সঙ্গত দিচ্ছিল সুষমার ভাসুরের ছেলে অজয়। ভাইয়ের নাচে তার ঘোরতর আপত্তি। পড়াশুনোয় ভালো, তার দেমাকও খুব।

    সুষমার হঠাৎ হুঁশ হতে দ্যাখে, রিন্টু কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে, চোখের দু-পাশ থেকে জলের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ে মাঝপথেই শুকিয়ে গেছে। সুষমা তাকিয়ে তাকিয়ে ভাবে, মাঝপথে শুকিয়ে যাওয়া চোখের জলটা যেন বালির মধ্যে হারিয়ে যাওয়া একটা নদী। এমন কত নদী যে ওর মনের মধ্যে শুকিয়ে গেছে! সেই একই জিনিস ছেলেটার সাথেও হবে?

    পরের দিন সুষমা স্কুলে গিয়ে দেখা করল পাপিয়া দিদিমণির সঙ্গে।

    দিনচারেক বাদে রমেশ যখন মাঠ থেকে ফিরে শুনল, রিন্টু এবারেও ফেল করাতে ওদের ইস্কুলেরই একটা মাস্টার ওকে কলকাতা নিয়ে গেছে তার কোন আত্মীয়র বাড়িতে খাওয়া-পড়ার কাজে, যতটা গণ্ডগোল করবে ভেবেছিল, সেরকম কিছুই করল না। সুষমা মার খাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে ছিল, কিন্তু রমেশ কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে থেকে মুড়ি লংকা চিবোতে চিবোতে অজয়কে বলল, ”ভালোই হয়েছে! এখানে থাকলে ওই দিদিমণিটা ওর মাথা খেত। আমাকেও লোকজন ঢিল ছুড়ত। তার চেয়ে নিজে করেকম্মে খাক।”

    সুষমা শেষবেলায় গোরুটাকে একটু জল দিচ্ছিল। নিজের মনেই হাসি পেল ওর। দিনরাত বউ-ছেলে-মেয়েকে পেটালে লোকে এখানে ঢিল ছোড়ে না, এদিকে ওর ভালোমানুষ নরম ছেলেটা সুন্দর গানের সঙ্গে নাচে, তাতে নাকি লোকের ঢিল ছোড়ার জন্য হাত নিশপিশ করে!

    পাশে বসে থাকা অজয় টিপ্পনী কাটল, ”যাই বল কাকা, আমার ভাই হয়ে কিনা লোকের বাড়ি চাকরের কাজ করবে, বন্ধুদের কাছে মুখ দ্যাখাবো কি করে?”

    মাসদুই পরে রিন্টু প্রথম টাকা পাঠাল। সাতশো টাকা। সুষমা কাঁপা কাঁপা হাতে জলভরা চোখে পাপিয়া দিদিমণির ফোন থেকে ফোন করল, ”তুই কেমন আছিস বাবা? খাওয়াদাওয়া করছিস ঠিকমতো?”

    ওপাশ থেকে রিন্টুর উচ্ছ্বসিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল, ”আমি খুব ভালো আছি মা! এখানে আমি মাসিমনির কাছে নাচ শিখি, টুকটাক কাজও করি। তুমি বিশ্বাস করবে না মা, এখানে আমার মতো কত দাদারা আছে কি ভালো নাচে জানো?”

    সুষমা হাসল। এই ক-দিনেই ছেলের গলা ভেঙে পুরুষালি ভাব এসেছে। কে বলে তার ছেলে হিজড়ে? তার ছেলে হিজড়ে হলে কেষ্টঠাকুর নিজেও হিজড়ে বলতে হয়। ও অস্ফুটে বলল, ”ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করিস।”

    দিন যায়, মাস যায়, ঘোরে বছরও। মাঝে রিন্টু বারচারেক বাড়ি এসেছে। বাপের সাথে কথা বলেনি বিশেষ, মায়ের সাথেই দিনরাত গুজগুজ ফুসফুস। তাতে রমেশ খুব একটা রাগ করেনি, বেশ চেহারা হয়েছে ছেলের। পেটানো জোয়ান চেহারা। রক্তবের হওয়া কাশির সাথে বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে দাওয়ায় বসে রমেশ আড়চোখে ছেলেকে দ্যাখে আর ভাবে, নাহ এই একটা কাজ সুষমা সত্যিই ভালো করেছিল, ওই নাচনি মাস্টারনিটার কবল থেকে ছেলেটাকে বাঁচিয়ে! নিজের কড়া হাতে রাশ ধরার ওপরও গর্ব হয় রমেশের, ওরকম শক্ত হাতে ছেলেকে শাসন করেছিল বলেই না আজ তার জোয়ান ছেলে দু-হাতে টাকা রোজগার করছে! কোনো বড় কারখানায় নিশ্চয়ই কাজ করে, এত ভালো কামাই যখন!

    অজয় প্রথম প্রথম রিন্টুকে চাকর বলে ঠেস দিত, ইদানীং আর দেয় না। বারো ক্লাস পাশ করে আর এগোতে পারেনি অজয়, টুকটাক টিউশানি ছাড়া কিছু জোটাতেও পারেনি। সংসার ওই রিন্টুর টাকাতেই চলছে যে!

    এবার যাওয়ার আগে রিন্টু মা-কে আড়ালে নিয়ে যায়, ”এবার অনেক দিন আসতে পারব না মা! মুম্বাই যাচ্ছি একটা বড় কম্পিটিশনে। মাসিমনির আমার ওপর অনেক আশা। আমাকে বলেছে, রিন্তু, এই নাচের স্কুলের মাস্টার হয়ে থাকলে কিন্তু চলবে না। এই খুচখাচ প্রোগ্রাম আর মাস্টারিতে ক-টাকাই বা আয়। একটা কোনো বড় কোরিওগ্রাফারের নজরে পড়তে পারলে……! ঘুরে আসি, এসে তোমাকে কলকাতা নিয়ে যাবো। সাবধানে থেকো।”

    *

    রিন্টু চলে যাওয়ার প্রায় তিন মাস বাদে একদিন সুষমাকে পাপিয়া স্কুলে ডেকে পাঠাল। মুখে উজ্জ্বল হাসি, উত্তেজনায় চোখ জ্বলজ্বল করছে, ”রিন্টু সারা ভারতের মধ্যে প্রথম দশে পৌঁছে গেছে দিদি! এবার শুধু দরকার আমাদের সবার প্রার্থনা! জিততে পারলে পঁচিশ লাখ টাকা পাবে রিন্টু, তার সাথে ওর কেরিয়ার তৈরি। ভাবতে পারছেন?”

    সুষমা মাথামুন্ডু কিছুই বোঝেনা, ঘোমটার একটা খুঁট দাঁতে চেপে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। ওর বিস্মিত মুখ দেখে পাপিয়া অবাক হয়ে যায়, ”একি, আপনি কিছু জানেন না? না ওর বাবার ভয়ে কাউকে কিছু বলেননি!”

    আর একমাসের মধ্যে অবশ্য সারা গ্রাম তো দূর, গোটা বর্ধমান জেলাই জেনে গেল। এত প্রত্যন্ত গ্রামের একটা ছেলে, এতবড় নাচের কম্পিটিশনে নাচছে, শাহরুখ, সলমনের মতো হিরো, যাদের এখানকার মানুষজন অন্য গ্রহের মানুষ ভাবে, সেই অত বড় বড় স্টারেরা এখানকার ছেলেটার পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে, গোটা গ্রামে হইহই পড়ে গেছে। অজয় আজকাল পড়িয়ে এসেই টিভি খুলে ফ্যালে, আরো অনেক ছেলে এসে জোটে সেদিন তারা যাকে টিটকিরি মারত, তার নাচ দেখতে। তার প্রশংসায় সিটির হুল্লোড় পড়ে যায় উঠোনে। আগে টিভি ছিল না। কয়েক মাস আগে রিন্টু পাঠিয়েছিলো। পাড়ার ছেলেদের আড্ডা এখন ডকে, সারাক্ষণ রিন্টুকে নিয়ে তারা মশগুল। রতন, নন্টের মতো কিছু অত্যুৎসাহী ছেলে ছোট ছোট ফেস্টুন ছাপিয়ে সারা গ্রামে টাঙিয়ে দিয়েছে, ”আমাদের খড়মপুর গ্রামের গর্ব, আমাদের সবার আদরের ভাই রিন্টু আজ লড়ছে ভারতের সেরা ড্যান্সার হতে, আপনারা সবাই ভোট দিয়ে আমাদের রিন্টুকে জয়ী করুন…।” এরকম সব ফেস্টুন।

    ফাইনালের আগে একদিন কলকাতার দুজন রিপোর্টার এল বাড়িতে। রমেশ দাওয়ায় বসে বিড়ি টানছিল। মাঠে যাওয়া অনেক কাল ছেড়ে দিয়েছে, শরীরও দেয় না, আর দরকারও হয় না। কাশিটাও বেড়েছে।

    রিপোর্টার মেয়েটা মাইক হাতে জিজ্ঞেস করল, ”আচ্ছা সেমিফাইনালে আপনার ছেলের যে নটরাজ পারফরম্যান্সে সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে গেছে, আপনি বাবা হিসেবে কতটা গর্ববোধ করছেন? কেমন লাগছে আপনার?”

    রমেশ কাশি চেপে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। ইদানীং তার ছেলেকে নিয়ে এত নাচানাচি, এত হুল্লোড় সব ওই নাচের জন্য! তার বিশ্বাস হয় না। কিন্তু সে নিজের চোখে দেখেছে টিভিতে, কত বড় স্টেজে তার ছেলে নাচছে। পাশ থেকে অজয় মুখ বাড়ায়, সে ভালো করে চুল আঁচড়ে এসেছে, বলে, ”আমাদের খুবই ভালো লাগছে। কিন্তু এটা তো আমরা জানতামই। ছোট থেকেই রিন্টু, মানে আমার ভাই অসাধারণ নাচে। আমরা সবাই তাই ওকে ছোট্ট থেকে এই দিকে অনেক উৎসাহ…।”

    মেয়েটা বলে, ”আচ্ছা, ইতিমধ্যেই উনি অনেক কটা বড় বড় অফার পেয়ে গেছেন। ইদানীং কালের ওয়েস্টার্ন ড্যান্সের মাঝে যেভাবে উনি আমাদের ক্ল্যসিকাল ঘরানাকে সারা দেশের সামনে তুলে ধরেছেন, তাতে সবাই মুগ্ধ। এত প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ওই জায়গায় যাওয়ার জার্নিটা ওঁর কেমন ছিল, দাদা হিসেবে একটু যদি শেয়ার করেন।”

    সুষমা দূরে দাঁড়িয়ে গোরুকে জল দিতে দিতে নিজের মনে হাসে। অজয়ের সাথে চোখাচোখি করতে পারে না, পাছে ছেলেটা লজ্জা পায়। দূরে চোখ চলে যায় সেই শ্যাওলা পড়া স্যাঁতস্যাঁতে উঠোনটার দিকে, মনে পড়ে যায় বছরকয়েক আগের মা-ছেলের সেই রাতের কথা। মঙ্গলার গলায় আলতো আদর করতে করতে মুখে খড় ঠুসে দিতে দিতে সে ভাবে, হাজার লোকের কথা শুনতে শুনতে তারও মনে মাঝে মাঝে ভয় হত, সত্যিই তার ছেলে হিজড়ে নয় তো? কিন্তু আজ আর সে ভয় নেই। সত্যিকারের হিজড়েদের সুষমা এখন চেনে। ভাগ্যিস সে সেই রাতে বালির মধ্যে হারিয়ে যাওয়া নদীটাকে বাঁচাতে চেয়েছিল!

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সুষমা হাসিমুখে গলা চড়ায়, ”আপনারা এট্টু বসুন, অ্যাদ্দূর এসেছেন, জলমিষ্টি খেয়ে যাবেন!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }