Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝরাপাতার রূপকথা

    ।। এক।।

    ভেতরের করিডরের বড় ঘড়িটায় ঢং ঢং করে ছ-টা বাজল, তবু বিশ্বরূপ বেঞ্চ থেকে উঠলেন না। অ্যাটেন্ডেন্ট সুদীপ বলে ছেলেটা দু-বার তাগাদা দিয়ে গেছে, ”দাদু, সন্ধে নেমে গেল, এরপর কিন্তু মশা কামড়াবে, আপনার এমনিই কিছু একটু হলেই স্কিনে রাশ বেরিয়ে যায়, ভেতরে চলুন।” বিশ্বরূপ পাত্তা দেননি। এই অ্যাটেন্ডেন্টগুলো বিরক্ত হলেও বেশি কিছু বলতে পারে না, মোটা টাকা প্রতিমাসে জমা পড়ে এই সংস্থার অ্যাকাউন্টে, খারাপ ব্যবহার করলে এদেরই চাকরি যাবার সম্ভাবনা।

    গঙ্গার পাড়ে এই সুন্দর সাদা বিলাসবহুল ওল্ড এজ হোম, মাত্র বছর পাঁচেকের পুরনো হলেও ভিক্টোরিয়ান গথিক স্টাইলে বানানো, অনেকটা রাজভবনের স্টাইলে, নাম ‘ঝরা পাতা’। মূলত উচ্চবিত্ত পরিবারের বৃদ্ধ বৃদ্ধা, যাদের সুশিক্ষিত ছেলে বা মেয়ে বাইরে ওয়েল সেটলড, তারাই এখানকার বাসিন্দা। বিশ্বরূপও তাঁদের মধ্যেই একজন। সারাটা জীবন নেভিতে ভালো চাকরি করেছেন, একমাত্র ছেলে রূপক ছোট থেকেই মেধাবী, বহুবছর ধরেই সে আমেরিকায়, আগে তবু বছরে একবার আসত, বছর পাঁচেক আগে ওর মা চলে যাওয়ার পর আর আসে না, মাসে এক-দুবার ফোন করেই বুড়ো বাবার প্রতি কর্তব্য সারে। বিশ্বরূপের তার জন্য কোনো অসন্তোষ নেই, সারাটা জীবন তিনি কারুর গলগ্রহ হয়ে কাটাননি, এখনো তা চান না। মোটা টাকা পেনশন পান, বইয়ের পোকা তিনি, অবসর কাটাবার অভাব হয় না। শুধু সল্টলেকের বিশাল বাড়িটার শূন্যতা তাঁকে যেন গিলে খেটে আসছিল স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে। তাই একরকম নিজের ইচ্ছাতেই এই বৃদ্ধাবাস খোলার বিজ্ঞাপন দেখে চলে এসেছিলেন এখানে। তবু কিছু লোকের সাহচর্য তো পাওয়া যাবে। তাই ‘ঝরা পাতা’র তিনি একদম প্রথম থেকেই বাসিন্দা, আর তিনিই বোধ হয় একমাত্র যার এইখানে থাকা নিয়ে কারুর প্রতি কোনো ক্ষোভ বা অভিমান নেই।

    বিশ্বরূপ গঙ্গার থেকে চোখ তুলে আকাশের দিকে তাকালেন। দূরে অস্ত যাওয়া সূর্যটাকে আর দেখা যাচ্ছে না, শুধু তার ফেলে যাওয়া লাল রেশটা সারা পশ্চিম আকাশটায় কেমন বিষণ্ণতার সৃষ্টি করেছে, ঠিক বিশ্বরূপের বর্তমান মানসিক অবস্থার মতো, ভাবলেন বিশ্বরূপ। গতকাল অবধিও প্রতিটা বিকেলবেলা কত সুন্দর কাটত, সন্ধে হতে না হতেই মালবিকা এসে বসত তার ঠিক পাশটাতে, কত গল্প, কত কথা বলতেন দুজনে। এই পঁয়তাল্লিশ বছরের জমে থাকা কত অভিমান, হাসি, কান্না মুক্তোর মতো ঝরে পড়ত। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগের প্রথম প্রেমের বিন্দু বিন্দু কথা দিয়ে কেটে যেত এই অনন্ত অবসর। কিন্তু আজকের পর থেকে তা আর হবে না। মালবিকা আর কোনোদিনও এসে বসবে না পাশে। ভাবলেই কেমন অস্থির লাগছে।

    হঠাৎ একটা মৃদু গলাখাঁকারিতে বিশ্বরূপ চমকে পাশে তাকাতেই দেখলেন মালবিকা এসে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু বেঞ্চে বসেনি, আলগোছে বলল, ”কাল অনেক ভোরে গাড়ি আসবে, তুমি তখন হয়তো ঘুম থেকে উঠবে না, তাই দেখা করতে এলাম।”

    বিশ্বরূপ মৃদু হাসলেন, বললেন, ”বেশ তো, বোসো না একটু।” তারপর কি মনে পড়তে বললেন, ”অর্পণ কাল বুঝি খুব ভোরে আসবে?”

    মালবিকা পাশে বসে পড়ে বলল, ”হ্যাঁ। অফিস যাওয়ার আগে নিয়ে যাবে আমায়।”

    প্রায় দশমিনিট কেউ কোনো কথা বলল না। সুদীপ বলে ছেলেটা আরো একবার ডেকে গিয়েছে, এরা বেশ মজা পায় বিশ্বরূপ আর মালবিকার ব্যাপারে, নিজেদের মধ্যে এই নিয়ে ইয়ার্কিও মারে, বিশ্বরূপ জানেন। ভাবে বুড়ো বুড়ির রস কত, এখানে এসে এই বয়সেও প্রেম! বিশ্বরূপ পাত্তা দেন না, ওরা তো আর জানে না, পুরনো হারিয়ে যাওয়া প্রেমকে ওরা এখানে এসে খুঁজে পেয়েছেন!

    বিশ্বরূপ হঠাৎ নরমসুরে বললেন, ”সেই পঁয়তাল্লিশ বছর আগে জাহাজের চাকরি নিয়ে আমি তোমায় ছেড়ে চলে গেছিলাম, সেই শোধ তুমি এখন তুলছ মালি? ক্লিন্তু আমি তো ফিরে এসেছিলাম তোমার কাছে, তখন তুমি অন্যের বউ। কিন্তু তুমি তো আর ফিরে আসবে না!”

    মালবিকা ঠেঁট কামড়ালেন। পঁয়তাল্লিশ বছর আগে তিনি ছিলেন স্কুল ছেড়ে সদ্য কলেজে পা রাখা এক যুবতী, বিশ্বরূপ চাকরি নিয়ে চলে যাওয়ার তিন বছর অবধিও যে নানা অজুহাতে নানা বাহানায় অজস্র বিয়ের সম্বন্ধ ক্যানসেল করেছিল, শুধু কবে বিশ্বরূপ ফিরে আসবেন সেই আশায়। শেষটা যখন বাবাও চলে গেলেন, মায়ের মুখ চেয়ে আর অরুণের সাথে বিয়েটা ভাঙতে পারেননি। সময়ের সাথে সাথে, সংসারের জাঁতাকলে, সন্তান, কর্তব্যের মাঝে বিশ্বরূপের মুখটা কখন যেন ফিকে হয়ে গিয়েছিল, পুরনো হলদে হয়ে যাওয়া অ্যালবামের মতোই হারিয়ে গিয়েছিল তাঁর বিশ্ব, শেষে এতবছর বাদে এই ‘ঝরা পাতা’য় এসে যে দেখা হবে ভাবতেও পারেননি মালবিকা। মাত্র ছ-মাস হল এখানে এসেছিলেন মালবিকা, কিন্তু এই ক-টা দিন যেন রূপকথার মতো কেটেছে তাঁর। না, বিশ্বরূপের মধ্যে তিনি হারানো প্রেমকে আর খুঁজতে চাননি, বরং পেয়েছিলেন এক বন্ধু, পরম নির্ভরতার। যে তাঁকে সঙ্গ দেবে, কথা বলবে। এখানে মালবিকা এসেছিলেন বাড়ি ছেড়ে, সংসার ছেড়ে আসার মন খারাপ নিয়ে, আর যাচ্ছেন ‘ঝরা পাতা’কে ছেড়ে যাওয়ার মনখারাপ নিয়ে। মালবিকা হঠাৎ বললেন, ”আচ্ছা, আমরা বাবা-মায়েরা সবসময় চাই ছেলেমেয়ে দারুণ পড়াশুনোয় হোক, বিশাল চাকরি করুক, কেন বল তো! বুড়ো বয়সে বাবা-মাকে ছেড়ে তারা নিজেদের কেরিয়ারের জন্য দূরে গিয়ে থাকবে বলে? তার থেকে তো সাধারণ হওয়াই ভাল, আমার বান্ধবী মনিকার ছেলেটার সাধারণ দোকান, কিতু মনিকা কি সুন্দর ছেলে, বউ, নাতনির সাথে রয়েছে, মনির শরীর খারাপ হলে ছেলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছে, মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, পাশে বসে দু-দণ্ড কথা বলছে! আমরা কি পাচ্ছি বল তো?”

    অন্য কেউ এই কথাগুলো বললে এতক্ষণে বিশ্বরূপ প্রতিবাদ করতেন, বলতেন, ”আপনি মশাই ভারি সেলফিস, ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে, তাদের নিজেদের মতো লাইফটা কাটাতে দিন না! সারাক্ষণ আপনার সাথে লেপ্টে থাকলে জগৎটাকে জানবে কি করে সে? এই জন্যই বাঙালি জাতটার কিছু হল না!” কিন্তু এখন বিশ্বরূপ কিছু বললেন না। মালির মনটা আজ বড় খারাপ। ওর ছেলে এতদিন চেয়েছিল তাদের প্রাইভেসি রক্ষার্থে মা বৃদ্ধাশ্রমেই থাকুক, কিন্তু সম্প্রতি বিদেশ চলে যাওয়ার অফার আসায় আর ইদানীং কিছু চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সে ব্যাটার মনে হয়েছে বালিগঞ্জ লেকের একদম পাশে অমন দোতলা বাড়ি ফাঁকা পড়ে থাকলে বড়ই চিন্তার, যেকোনো সময় বেহাত হয়ে যেতে পারে। তাই মোটা মাইনের লোক রাখার থেকে বিনাপয়সার মা-কেই বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে বেশি উপযুক্ত মনে হয়েছে তার। তাই মালবিকাকে নিয়ে যাচ্ছে সে কাল সকালে। এই সপ্তার মধ্যেই সে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে পাড়ি দেবে বিদেশে।

    বিশ্বরূপ ভাবলেন, তিনি নিজে সন্তান হলেও কি নিজের স্বার্থটাই এমন নির্মমভাবে দেখতেন? মায়ের ইচ্ছে অনিচ্ছের কোনো মুল্যই দিতেন না? কিন্তু ছেলে যদি মা-কে নিয়ে যেতে চায়, তিনি কিভাবে আটকাবেন? অসহায় হয়ে মালির শীর্ণ হাতটা ধরতে ইচ্ছে করল তাঁর।

    মালবিকা আবার বললেন, ”অবশ্য আমাদের ভালো লাগা মন্দলাগার কি-ই বা দাম আছে! সত্যিই তো আমরা ঝরে যাওয়া পাতা!”

    বিশ্বরূপ সোজা হয়ে বসলেন। এখন এই দুঃখবিলাস তাঁর ভালো লাগছে না, ঝরে যাওয়া পাতা হতে যাবেন কেন তিনি! মানুষের বয়স হলেই তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হয় কেন? তিনি নিজে এখনো যথেষ্ট কর্মঠ, নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন, বাঁচার ইচ্ছে তাঁর এখনো পুরো মাত্রায় রয়েছে। মনটা তেতো হয়ে গেল। সারাজীবন নিজের চারপাশে একটা কঠিন বর্ম তৈরি করে রেখেছিলেন, কষ্ট হলে মন খুলে কাঁদতে পারেননি, আনন্দ হলে প্রাণ খুলে হাসতে! ডিফেন্সে চাকরি করতে করতে কখন যেন একটা কঠিন পাথরে পরিণত হয়েছেন! কিন্তু কাল সারারাত সত্যিই ঘুম আসেনি একফোঁটাও। আচ্ছা মালি এল কেন? এর থেকে আর দেখা না হলেই ভালো ছিল, বেশ ছিলেন বিশ্বরূপ সারাদিন বই নিয়ে। সাময়িক মনখারাপটা ঝেড়ে ফেলে আজ সারাদিন ধরে ভেবে চলা কথাগুলো মনে পড়তেই বললেন, ”চল মালি আমরা কিছু একটা করি।”

    মালবিকা অবাক হয়ে তাকালেন, ”কি করব!”

    বিশ্বরূপ সোজা হয়ে বসলেন, ”এত বছর তো খালি নিজেদের জন্যই বাঁচলাম, নিজের পড়াশুনো, নিজের কেরিয়ার, নিজের ছেলেমেয়ে, খালি আমার আমার আর আমার! ওপরে গিয়ে কি জবাবদিহি করবে মালি, যদি জিজ্ঞেস করে এত বছর ধরে পৃথিবীর সম্পদ ধ্বংস করলে, কি দাগ কেটে এলে? কি বলবে মালি?”

    মালবিকা বললেন, ”দাগ আমি কি কাটব রূপ! আমি সাধারণ মানুষ। ছেলেকে বড় করেছি এতেই আম্মার………।”

    বিশ্বরূপ অস্থির হয়ে বললেন, ”ওসব ছেঁদো কথা ছাড়ো। ওগুলো আমাদের ভেতরের স্বার্থপর ‘আমি’-টার অজুহাত বুঝলে! অন্যের জন্য বাঁচতে গেলে অসাধারণ হতে হয় না মালি, শুধু মনটাকে বড় করতে হয়।”

    মালবিকা বললেন, ”এই বয়সে কি করার কথা ভাবছ তুমি?”

    বিশ্বরূপ একমুহূর্ত থমকালেন, বললেন, ”মালি, তোমার ছেলে আমার ছেলে মেধা নিয়েই জন্মেছে, এদের কৃতিত্বে আমাদের বিশেষ কোনো ক্রেডিট আছে কি? এই যে নরেন্দ্রপুর, রহড়া থেকে শুরু করে সব ভালো ভালো জেলা স্কুল বা নামজাদা স্কুলগুলোয় এত টাফ অ্যাডমিশন নিয়ে ছেলেমেয়েদের ভর্তি কড়া হয়, তারা তো এমনিই ভালো মালি, তারা যেখানেই পড়ুক, ভালো করবে, তাহলে স্কুলের কি ক্রেডিট হল? ক্রেডিট তো সেটা যদি পচতে শুরু করা গাছগুলোতে আবার সবুজ পাতা আনানো যায় তাই না মালি? চল না আমরা দুটি ঝরা পাতা মিলে কয়েকটা সবুজ পাতা তৈরি করি!”

    সেদিনের সন্ধ্যেয় বিশ্বরূপ আর মালবিকার কথোপকথনের পর প্রায় একবছর কেটে গেছে। কিন্তু এই একবছরে দুজনের জীবনই আমূল বদলে গেছে। আজ সকাল থেকে মালবিকা ভীষণ ব্যস্ত। তাঁর ছেলে অর্পণ বিদেশে চলে গেছে প্রায় বছরখানেক হল, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তার ফেরার সম্ভাবনা নেই। তা নিয়ে আর তেমন মনখারাপও হয় না মালবিকার! ওরা সুখে থাকলেই স্বস্তি। মালবিকা ‘ঝরা পাতা’ ছেড়ে তাঁর বালিগঞ্জের বিশাল বাড়ির দোতলায় থাকেন আর সঙ্গে দুটো কাজের মেয়ে। কিন্তু তাঁর একা লাগেনা মোটেই। কারণ নীচতলাটা সবসময়েই গমগম করে আর তিনি নিজেও ভীষণ ব্যস্ত থাকেন। বিশ্বরূপও এখন ভীষণ ব্যস্ত, সকাল হলেই চলে আসেন এই বাড়িতে, দুপুর অবধি সব দেখাশোনা করে চলে যান তাঁর নিজের সল্টলেকের বাড়িতে, সেখানেও একই চিত্র। এত ব্যস্ততায় বিশ্বরূপের বয়স যেন আরো কমে গেছে, সুঠাম ঋজু গড়নের ফর্সা রিমলেস চশমার অভিজাত যুবকটিকে দেখলে কে বলবে বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন তিনি! সপ্তায় দুদিন তাঁকে ছুটতে হয় লালবাজারে, এছাড়া কোর্টের ঝামেলা তো লেগেই আছে।

    মালবিকা রান্নাঘরে গিয়ে তদারক করছিলেন। রান্নাঘরের বাইরের কলতলাতেও শামিয়ানা খাটানো হয়েছে, সেখানে রাখা রয়েছে বিশাল বিশাল সব গ্যাসওভেন। মালবিকা এটা ওটা নির্দেশ দিচ্ছিলেন। অদ্ভুতভাবে তাঁর কোমরের ব্যথাটাও বহুদিন হল নেই, বিশ্বরূপ ঠিকই বলেন, কাজই মুক্তি! আজ প্রায় সত্তর আশি জন খাবে এবাড়িতে। বাইরে থেকে রাঁধুনি আনানোর প্রস্তাব হয়েছিল, কিন্তু রতন জোর করে বারণ করেছে, বারবার বলেছে, ”না মেসোমশাই, তোমরা লোক রাখবে না কিন্তু! আরে আমি একাই দুশো জনের রান্না করতাম, আর সেখানে তো এই ক-টা লোক!”

    মালবিকা রতনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন সে ভীষণ ব্যস্ত। দুই হাতে একই সাথে অদ্ভুত মুন্সিয়ানায় দুটো কড়াইয়ে রান্না করছে, ওদিকে কুটনো কুটছে আরো তিনজন। তিনি নরমসুরে ডাকলেন, ”রতন, সকাল থেকে মুখে কিছু দিয়েছিস?”

    রতন মুখ না ঘুরিয়েই বলল, ”ওসব পরে মাসিমা! রান্না একটা পুজো জানো! সেটা মন দিয়ে না করলে ঠাকুর রেগে গিয়ে খাবারের বারোটা বাজিয়ে দেয়!”

    মালবিকা মৃদু হাসলেন, রতন ছেলেটা একটু বেশি বকে, কিন্তু মনটা বড় ভালো। কে বলবে এই ছেলে তিনবছর জেল খেটে বেরিয়েছে? প্রথম যখন বিশ্বরূপ বলেছিলেন যে অল্পবয়সে জেলে ঢোকা ছেলেদের নিয়ে কিছু করতে চান, মালবিকা শুনে আঁতকে উঠেছিলেন, ”কি বলছ তুমি! জেলফেরত ক্রিমিন্যালদের বাড়িতে থাকতে দেব! তুমি কি পাগল হয়ে গেছ?”

    কিন্তু বিশ্বরূপ ছটফটিয়ে উঠে বলেছিলেন, ”উফ মালি, তুমি না টিচার ছিলে? আমাদের দেশে নাবালক অপরাধীর সংখ্যা সাংঘাতিক হারে বেড়ে চলেছে, পনেরো ষোল বছরের ছেলেরা এমন সব জঘন্য অপরাধ করছে যা কল্পনাও করা যাচ্ছে না! কিন্তু ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী এদের জুভেনাইল কোর্টে বিচার হচ্ছে, আর আঠারো বছর বয়স হতেই এরা জেলে কুসঙ্গে মিশে আরো বড় আসামী হয়ে বেরোচ্ছে! আমরা তো কন্সটিটিউশনের নিন্দা করেই খালাস, কিন্তু একবার ভেবে দ্যাখো তো, আমরা নিজেরাই কি এইজন্য দায়ী নই?”

    মালবিকা রাগে কাঁপছিলেন, ”আমরা? আমরা কেন দায়ী হতে যাব রূপ? নির্ভয়ার কথা ভুলে গেছ? সবথেকে নৃশংস অত্যাচার করেছিল নাবালক ছেলেটা, মেয়েটার শরীর থেকে অন্ত্র পর্যন্ত টেনে বের করে এনেছিল, এরা শুধু জন্মায় লোকের সর্বনাশ করতে!”

    বিশ্বরূপ অস্থির হয়ে বলেছিলেন, ”মালি, একটা বাচ্চা যখন জন্মায় তখন তাঁর মন, মানসিকতা, সব কিছু থাকে একটা সাদা কাগজের মতো, আশপাশের বড়রা যা করে, বাচ্চারা সেটাই তার মনের কাগজে লেখে, আশপাশের সংস্কৃতি বা অপসংস্কৃতিই তাকে চালিত করে। জেলের আরেকনাম সংশোধনাগার হলেও দাগী আসামীদের সাথে মিশে এরা পাল্টাবার বদলে আরো খারাপ হয়ে যাচ্ছে! আমরা এতদিন তো খালি নিজের আর নিজেদের লোকেদের কথাই ভেবে সব কিছু করলাম মালি, চল না এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে ভালো কিছু করে যাই? একটাই তো জীবন! ভালোরা তো ভালো হবেই, খারাপদের ভালো করতে পারাটাই তো চ্যালেঞ্জ মালি!”

    মালবিকা তবু রাজি হতে পারেননি। গোঁজ হয়ে বসেছিলেন।

    বিশ্বরূপ হাল ছাড়েননি, বলেছিলেন, ”তোমার সাথে আমার প্রথম দেখা হওয়ার দিনটার কথা মনে পড়ে তোমার? স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথিতে কলেজে তোমার সেই তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, তোমার সেই বলা লাইন আমার আজও মনে আছে, স্বামীজী বলেছেন এসেছিস যখন একটা আঁচড় কেটে যা। সারাজীবন তো খালি নিজেদের খুশি করলাম আর কর্তব্য করলাম আমরা, আঁচড় কাটার তো এটাই সবচেয়ে ভালো সময় মালি!”

    এই একবছরে সত্যিই দেখিয়ে দিয়েছেন বিশ্বরূপ। জুভেনাইল কোর্টে সাজা পেয়ে নাবালক কোনো অপরাধী আঠেরো বছর হবার পর জেল থেকে বেরোলেই তাকে নিয়ে আসেন মালবিকার বাড়ি। প্রথমদিকে লিগ্যাল কিছু ঝামেলায় পড়তে হলেও লালবাজারে বিশ্বরূপ এখন শুধু পরিচিতই নন, খুব সন্মানিয় ব্যক্তি। এমন মানুষ ক-জন হয় যে দেশি বিদেশি কোনো গ্র্যান্টের তোয়াক্কা না করে, নিজের কোনো স্বার্থের কথা না ভেবে পাঁকে পদ্মফুল ফোটাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন?

    মালবিকার বাড়ির একতলায় প্রায় কুড়িটা এরকম ছেলে থাকে। তাদের অতীত ভুলে যে যা ভালোবাসে সেইদিকে তাদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করেন বিশ্বরূপ আর মালবিকা। কেউ ভালোবাসে ছবি আঁকতে, কেউ চায় নতুন করে পড়াশুনো শুরু করতে, কেউ আবার বুঁদ হয়ে থাকে বাগানের কাজে। ছ-মাস আগে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় বিশ্বরূপের নিজের সল্টলেকের বাড়িতেও এখন ত্রিশটা মতো ছেলে থাকে।

    পেছন থেকে তোতন ডাকল, ”দিম্মা, দাদু কখন আসবে?”

    মালবিকা সস্নেহে তোতনের দিকে তাকালেন। অথচ এই তোতনই যখন প্রথম আসে, ঘেন্নায় রাগে কিছুদিন ওর মুখের দিকে তাকাতে পারেননি মালবিকা। মাত্র তেরো বছর বয়সে পাঁচ বছরের একটা মেয়েকে রেপ করে খুন করেছিল তোতন। কিন্তু বিশ্বরূপ বুঝিয়েছিলেন, মালি, রোগকে ঘৃণা করো, রুগিকে নয়। ঘেন্না করে দায় এড়িয়ে যাওয়া সোজা, সবাই পারে, পারলে পাল্টিয়ে দেখাও।

    তারপর ধীরে ধীরে মালবিকা জানতে পেরেছেন, তোতন ছোট থেকেই মায়ের ওপর বাবার ওপর অত্যাচার, ওর সামনেই গায়ে হাত তোলা, অশ্রাব্য গালিগালাজ দেখতে দেখতে বড় হয়েছে। ওকে তো ভালো মানুষ হবার জন্য পরিবেশই দেওয়া হয়নি! এখান এসে তোতন ক-দিন গুম হয়েছিল, অন্য ছেলেদের সাথে মারামারি করত, তারপর ভালোদের মাঝে থেকে, আর মালবিকার স্নেহে আস্তে আস্তে ও-ও ভালো হয়ে উঠেছে। এখন সারাদিন ছবি আঁকে, বিশ্বরূপ মাটি এনে দেন, তাই দিয়ে আপন মনে ও মূর্তি গড়ে। বাকি ছেলেরাও যে যা ভালোবাসে, তাই করতে দেওয়া হয়। এই সবক-টা ছেলের সব খরচ দেন বিশ্বরূপ, মালবিকা নিজে কিছু দিতে চাইলেই বলেন, ”সারাজীবন অনেক কামিয়েছি মালি, এখন না হয় তার কিছুটা ভালো কাজে লাগালাম, তাতে তুমি ভাগ বসিয়ো না!”

    মালবিকা মাঝেমাঝে ভাবেন। বিশ্বরূপ যদি সত্যিই তাঁর স্বামী হতেন, জীবনটাকে ওর চোখ দিয়ে অন্যরকমভাবে দেখতে পারতেন! এরকম থোড় বড়ি খাড়ার মতো কাটত না পুরো জীবনটা! তিনি হেসে বললেন, ”আসবে, তোর সব সাজানো হয়ে গেছে?”

    তোতন লম্বা করে ঘাড় নাড়ল। বিশ্বরূপের এই উদ্যোগে উদবুদ্ধ হয়ে কলকাতা পুলিশের ডিজি নিজে আসবেন আজ। এরকম অভাবনীয় উদ্যোগে উনিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান। কয়েকদিন আগে কাগজে একটা লেখা বেরিয়েছিল এই নিয়ে, তারপর থেকেই টুকটাক সাংবাদিক আসছে বাড়িতে দুই বুড়োবুড়ির এই কীর্তিকলাপ সম্পর্কে জানতে। যদিও বিশ্বরূপ আর মালবিকা কেউই বেশি প্রচার চান না, তাতে আসল উদ্দেশ্যটাই একদিন হারিয়ে যেতে পারে, তবু ডিজি সায়েবের উৎসাহে আজ দু বাড়ি মিলে একটা খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একটু বাদেই বিশ্বরূপ তাঁর বাড়ির ছেলেগুলোকে নিয়ে চলে আসবেন। মালবিকা ব্যস্তসমস্ত হয়ে ওপরে উঠতে গেলেন, কাজের মেয়েদুটোকে শেষ মুহূর্তের কিছু জিনিস মনে করিয়ে দিতে। সিঁড়ি বেয়ে ওঠার আগেই বাড়ির মেন দরজায় কলিং বেল।

    মালবিকা ব্যস্তসমস্ত হয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন, ”ওই, ওঁরা বোধ হয় এসে পড়লেন! চাঁপা, শীগগিরই আয়!” চাঁপার অপেক্ষা না করে হুড়মুড়িয়ে তিনিই গেলেন দরজা খুলতে।

    দরজা খুলতেই ছ-সাতটা ছেলে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ল, এরা সব বিশ্বরূপের সল্টলেকের বাড়িতে থাকে। মালবিকা উঁকি মেরে দেখলেন গেটের সামনে একটা ছোট ম্যাটাডোর এসে দাঁড়িয়েছে, সেটা থেকে একগাদা চেয়ার, টেবিল, ফুলের তোড়া নামিয়ে ছেলেগুলো ভেতরে ঢোকাতে লাগল। মালবিকা অবাক হয়ে বললেন, ”এত চেয়ার কি হবে রে! বাইরের লোক তো বেশি আসবেন না!”

    দ্রুত গতিতে চেয়ারগুলোকে পেছনের বাগানে নিয়ে যেতে যেতে মিন্টু বলে ছেলেটা জবাব দিল, ”দাদু আনতে বলেছে দিম্মা। তুমি একটু সাইড হয়ে দাঁড়াও, না হলে লেগে যেতে পারে!”

    মালবিকা ভ্রূ কুঁচকে সরে দাঁড়ালেন। বিশ্বর ছেলেমানুষিপনা এখনো গেল না। সবেতেই বাড়াবাড়ি! একসাথে একটা গেট টুগেদার, তাতে পুলিশের এক বড়কর্তা আসবেন আর আসবেন ‘ঝরা পাতা’র কয়েকজন বন্ধু, তার জন্য এমন এলাহি ব্যবস্থা করার কোনো দরকার আছে? আর এই ছেলেগুলোও তেমনি, ধরে আনতে বললে বেঁধে আনে। হয়তো বিশ্বরূপ বলেছেন একটা ফুলের বোকে আনতে, এরা একরাশ ফুলের তোড়া, মায় মালা নিয়ে এসে হাজির!

    মালবিকা নিজের মনেই হেসে সিঁড়ির মুখে দাঁড়িয়ে আবার ডাকলেন, ”চাঁপা-আ-আ!” কোনো সাড়াশব্দ নেই! কোথায় যে থাকে মেয়েদুটো কে জানে! বিরক্ত হয়ে ওপরে উঠতে গেলেন, কিন্তু হঠাৎ খোলা দরজায় হাঁক ডাক শুনে নেমে এসে দেখলেন, বিশ্বরূপ।

    ব্যস্তসমস্ত বিশ্বরূপ ঢুকছেন, সাথে একটা বুড়ো মতো লোক। উঁকিঝুঁকি মেরেও কোনো পুলিশের মতো লোক চোখে পড়ল না মালবিকার। কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, এমন সময় বুড়ো লোকটা মালবিকার দিকে ইশারা করে মুচকি হেসে বিশ্বরূপকে বললেন, ”স্যার, ইনি-ই?”

    বিশ্বরূপ মৃদু হেসে সংক্ষেপে মাথা হেলালেন, কিন্তু সেটা মালবিকার দৃষ্টি এড়াল না। কি হচ্ছে ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করার আগেই বিশ্বরূপ মালবিকার কাছে এসে কেজো গলায় বললেন, ”মালি, ডিজি সায়েবের সেক্রেটারিকে ফোন করেছিলাম, মিনিট দশেকের মধ্যেই এসে পড়বেন, তুমি এখনো তৈরি হওনি!”

    মালবিকা অপ্রস্তুতে পড়ে গেলেন, বুড়ো মতো লোকটা কেমন জুলজুল করে চেয়ে রয়েছে, অস্ফুটে বললেন, ”আমি আবার কি তৈরি হবো! ডিজি তো আসছেন ওদেরকে দেখতে!”

    বিশ্বরূপ মাথা নাড়লেন, ”আহা! ওদের দেখতে আসছে বলে কি তুমি ওয়েল ড্রেসড হবে না নাকি! সবসময় অকেশন অনুযায়ী প্রপার অ্যাটায়ার মেনটেইন করবে বুঝলে!”

    মালবিকা আর কিছ না বলে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলেন। বিশ্বরূপ নেভি থেকে রিটায়ার করে গেলেও ডিফেন্সসুলভ মানসিকতাটা আর গেল না! সব কিছু একদম নিয়মমাফিক চাই। উপরে এসে কাউকে দেখতে পেলেন না, সব গেল কোথায়! চাঁপাটা নাহয় কানে একটু খাটো কিন্তু সবিতাই বা কোথায় গেল!

    *

    একঘণ্টা বাদে যখন সাদর অভ্যর্থনা করে ডিজি সায়েবকে বাড়ির মধ্যে নিয়ে এলেন বিশ্বরূপ, মালবিকা হাঁ হয়ে গেলেন। একী, এ যে তার কলেজের বন্ধু দেবপ্রিয়! দেবপ্রিয় পুলিশের উঁচু পদে আছে সেটা মালবিকা জানতেন, বছর কয়েক আগে টিভিতেও দেখেছিলেন দু-একবার, কিন্তু এখন যে দেবপ্রিয় ডিজি হয়েছে সেটা তো মালবিকা জানতেনই না! টিভি দেখা তো এখন আর হয়েই ওঠে না।

    একেই চাঁপা আর সবিতা মিলে একটা ঢাকাই জামদানি পরিয়েছে জোর করে, মালবিকা বারণ করলেও কিছুতেই শোনেনি, শুধু তাই নয়, চুলটাকে চুড়ো করে সুন্দরভাবে বেঁধে মুখে ফেস-পাউডার দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে, তার ওপর এতদিনের পুরনো বন্ধুকে হঠাৎ দেখতে পেয়ে মালবিকা হকচকিয়ে গেলেন। বিশ্বরূপ তো তাহলে জানতেনই দেবপ্রিয় ডিজি, কলেজে ওঁদের থেকে দু-ক্লাস সিনিয়র ছিলেন বিশ্বরূপ, তবু মালবিকাকে বলেননি কেন!

    বাড়ির পেছনের ছোট্ট বাগানটায় এর মধ্যেই ছেলেগুলো সুন্দর একটা স্টেজ করে ফেলেছিল, তাতে তিনটে চেয়ার পাতা, সামনে দর্শকের আসন প্রায় পঞ্চাশটা, সবই প্রায় ভর্তি, হোক ঘরোয়া অনুষ্ঠান, তবু ছেলেগুলো খুব যত্নে সাজিয়েছে। দেবপ্রিয় মালবিকার দিকে তাকিয়ে হাসল, ”চিনতে পেরেছিস মনে হচ্ছে? কেমন আছিস?”

    মালবিকা মনের খুশিটা চাপতে পারলেন না, ”তুই এখন পুলিশের বড়সায়েব হয়েছিস! কই বিশ্বরূপ আমাকে বলেনি তো!”

    দেবপ্রিয় স্টেজের মাঝের চেয়ারটায় বসে পড়ে মুচকি হাসল, ”বিশ্বদা তো তোকে আরো অনেক কিছুই তো বলেনি মালবিকা! সেই কলেজের দিনগুলোতেও দুঃখ করত তোকে কিভাবে ভালোবাসার কথা জানাবে, আর এখনো দুঃখ করে!”

    মালবিকা এতগুলো ছেলের সামনে লজ্জায় লাল হয়ে গেলেন, এসব কি বলছে দেবপ্রিয়!

    দেবপ্রিয় আবার হাসলেন, গলা চড়িয়ে ডাকলেন, ”কই গো বিশ্বদা, এসো, আর কতক্ষণ ঝুলিয়ে রাখবে? আমার সময় বেশি নেই। এমন দুর্দান্ত ঘটনার সাক্ষী হয়ে পাত পেড়ে খেয়ে যাই!”

    মালবিকা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলেন, স্টেজের সামনেটা ততক্ষণে একটা টেবিল এনে রেখেছে রতন আর মিন্টু। তার ওপর একটা প্লেটে দুটো রজনিগন্ধার মালা, টেবিলের একপাশে সেই খিটকেল দেখতে বুড়োটা একটা জাবদা খাতা বের করেছে। ‘ঝরা পাতা’ থেকে আমন্ত্রিত সুবলবাবু আর ত্রিদিববাবু হাসি হাসি মুখে টাবিলের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন আর সেখানকার অ্যাটেন্ডেন্ট সুদীপ হাতে একটা ক্যামেরা নিয়ে লেন্স ঠিকঠাক করছে।

    মালবিকা কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, তাঁকে সেই সুযোগ না দিয়ে স্টেজের ডানদিক দিয়ে নাটকীয়ভাবে উঠে এলেন বিশ্বরূপ। লম্বা ঋজু সৌম্যকান্তি চেহারা থেকে ব্যক্তিত্ব ফুটে বেরোচ্ছে, তসরের পাঞ্জাবি থেকে ঠিকরে বেরোচ্ছে আভিজাত্য, ধীর লয়ে কাছে এসে মালবিকার একটা হাত তুলে নিলেন বিশ্বরূপ, আবেগমথিত কণ্ঠে বললেন, ”মালি, ছেচল্লিশ বছর আগে আমি নিজের অজান্তেই যে দেরিটা করে ফেলেছিলাম, সেটা আর করতে চাই না। এই দেড়বছরে আমরা শুধু আমাদের পুরনো ভালোবাসাই ফিরে পাইনি, এতগুলো ছোট ছোট ফুলগুলোকে বাঁচিয়ে তোলার এই যজ্ঞে আমরা সার্থক মানসসঙ্গী হয়েছি। ঠিক যেমনটি আমি চেয়েছিলাম। জীবনের সায়াহ্নে এসে শেষ ক-টা দিন তোমাকে স্ত্রী হিসেবে পেয়ে ধন্য হতে চাই মালি!”

    মালবিকা এতক্ষণে বুঝতে পারলেন রজনিগন্ধার মালা, ওই লোকটার ম্যারেজ রেজিস্টার খাতার গূঢ়ার্থ! তার মানে ‘ঝরা পাতা’ থেকে ওঁরা ছেলেদের দেখতে আসেননি, এসেছেন বিশ্বরূপ মালবিকার বিয়ে দেখতে? দেবপ্রিয়ও তাই! চাঁপা, সবিতা, ওরা সব জানে, তাই এমনভাবে সাজাল! সবাই তার মানে আজকের এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য জানে শুধু মালবিকা ছাড়া! সব কিছু অতিক্রম করে বিশ্বরূপের এই পুরো ব্যাপারটা গোপন করে যাওয়াতে মালবিকার মন অভিমানে ভরে গেল, বললেন, ”এসবের মানে কি! স্ত্রী মানে! কি বলছ তুমি বিশ্বরূপ! অর্পণ জানলে কি বলবে! তোমার ছেলেই বা শুনলে কি ভাববে!”

    বিশ্বরূপ মালবিকার থেকে এরকম প্রত্যাখ্যান আশা করেননি, আহত হয়ে বললেন, ”সারাজীবন তো ওদের কথাই ভাবলাম মালি, ওদের জন্যই তো সারাটা জীবন পরিশ্রম করলাম, এখন শেষ ক-টা দিন যদি আমাদের পুরনো ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিতে চাই, সেটার মধ্যে অন্যায় কোথায়!”

    মালবিকা দৃঢ়ভাবে মাথা নাড়লেন, ”এ হয় না!”

    মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের অনুষ্ঠানে একটা থমথমে ভাব বিরাজ করতে লাগলো। প্রথম কথা বলল দেবপ্রিয়, ”মালবিকা, বিশ্বদা তোকে তো সেই কলেজ লাইফ থেকেই ভালোবাসে, তুইও তো বাসতিস! এখন তোরা ঘটনাচক্রে একইসাথে এত ভালো একটা কাজ করছিস, জীবনটা আরেকবার নতুন করে শুরু কর না!”

    মালবিকা কোনো উত্তর দিলেন না।

    ত্রিদিবেশবাবু বললেন, ”মালবিকাদি, আপনারা দুজনে ঝরা পাতা থেকে বেরিয়ে এসে যে কাজটা করে চলেছেন, তাতে আমরা সবাই গর্বিত। এতগুলো নষ্ট হতে যাওয়া জীবনকে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন আপনারা! আপনারাই দেখিয়ে দিয়েছেন আমরা সত্যিই সমাজের শুধুমাত্র ঝরে যাওয়া পাতা নই। আর সেখানে নিজেদের পুরনো ভালোবাসাটাকে মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখে অতৃপ্তি নিয়ে না-ই বা শেষ করলেন জীবনটা! দেখুন আমরা সবাই এসেছি আপনাদের এক করে দেওয়ার জন্য!”

    ‘ঝরা পাতা’র অ্যাটেন্ডেন্ট সুদীপ চিরকালই একটু ছটফটে, চুপি চুপি পাশে দাঁড়ানো সুবলবাবুকে বলল, ”যাহ, ছবি তোলা হবে না? এত কষ্ট করে চেয়েচিন্তে আনলাম ক্যামেরাটা!”

    দেবপ্রিয় উঠে দাঁড়িয়ে আবার বলল, ”একটাই তো জীবন, আফসোস রাখিস না মালবিকা! পরের জন্মে বিড়াল হবি না ছাগল হবি কিছুই তো জানিস না, এই মানুষজন্মটায় কোনো অতৃপ্তি রাখিস না।”

    মালবিকা উত্তর না দিয়ে সামনের দিকে চাইলেন, দেখলেন তাঁদের দুজনেরই হাতে তৈরি করা ছোট ছোট সবুজ পাতাগুলো প্রত্যাশাভরে তাঁর দিকে চেয়ে আছে। মালবিকা চোখ ফিরিয়ে ঠোঁট কামড়ে ভাবলেন, ছেলে যাওয়ার পর থেকে এই একবছরে ঠিক তিনবার ফোন করেছে, সেই কথোপকথনের মধ্যেও মায়ের প্রতি ছেলের কুশলসংবাদ জিজ্ঞাসার থেকে অনেক বড় হয়ে উঠেছে মালবিকা বাড়ির ঠিকমতো খেয়াল রাখছেন কিনা সেই খবর জানাটা! যে ছেলেকে দশ মাস গর্ভে ধারণ করেছিলেন, পরম যত্নে দিনের পর দিন বড় করে তুলেছিলেন, সে আজ কত দূরে চলে গেছে! ছেলের কাছ থেকে পাওয়া একের পর এক আঘাতও আজ বিশ্বরূপের সাথে এই কাজে ব্যস্ত হবার পর কত ফিকে হয়ে গেছে! আসলে সময়ই হল আসল, সময়ের সাথে সাথে আনন্দ, দুঃখ, শোক সবই ফিকে হয়ে যায়! সত্যিই তো, সেই সময় অনেক নষ্ট করেছেন মালবিকা, গত ছেচল্লিশ বছর ধরে, আর দেরি করা যায় না। ছোট্ট একটা নিশ্বাস ফেলে মালবিকা বিশ্বরূপের বাড়িয়ে দেওয়া হাতের ওপর হাত রাখলেন। তাঁদের দুজনের যে এখন অনেক কাজ, চলে যাওয়ার আগে গাছে আরও অনেক সবুজ পাতা ধরাতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }