Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶

    বাবা

    গাড়িটা ওদের ছোট গলি দিয়ে বেরিয়ে বড় রাস্তায় পড়তেই দীপার হঠাৎ গা-টা গুলিয়ে উঠল, ইঙ্গিতে ও সন্দীপনকে বলল গাড়িটা থামাতে। বমি পাচ্ছে হঠাৎ, কয়েকদিনের অনিয়ম, কাল সারাদিনের উপোসের পর খাওয়া, সেগুলো ঠেলে বেরোতে চাইছে বোধ হয়। নাকি তারাও আর দীপার সাথে এবাড়ি ছেড়ে যেতে রাজি নয়?

    সন্দীপন একটু কিন্তু কিন্তু করে বলল, ”ইয়ে, থামাতেই হবে? কিন্তু এই গাড়ি থামানো যায় না বলে তো! তুমি একটু জল খাবে? দাদা, এসি-টা একটু বাড়িয়ে দিন না!” শেষ কথাটা ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে বলে সন্দীপন জলের বোতলটা দীপার মুখের সামনে তুলে ধরল। দীপা ট্র্যাফিকের প্যাঁ-পোঁর মধ্যে কাঁপা কাঁপা হাতে বোতল থেকে কয়েক ঢোক জল নিজের গলায় ঢালল। কাল রাতের মেকআপ গলে গলে পড়ছে, চন্দন ধেবড়ে গিয়ে সিঁদুরের সাথে একাকার, কেঁদে কেঁদে ফুলে লাল হয়ে যাওয়া চোখদুটোয়, কপালে, গালে আলগোছে জলের ঝাপটা দিলো দীপা, চলন্ত গাড়িতে পরিষ্কার তো হলই না, উল্টে আরো কান্না বেরিয়ে এল। গাড়ি ততক্ষণে বাইপাস ধরে হু হু করে ছুটছে। দীপাদের কসবার সবুজে ঢাকা অলিগলি নয়, এহল নতুন কলকাতার ঝাঁ-চকচকে রাস্তা, দুপাশে বিশ্ববাংলা-হাট, ইকোপার্কের চোখ জুড়নো মনোরম শোভা। সন্দীপন দীপার একটা হাত আলতো করে ধরে জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।

    দীপা মনে মনে ভাবল, আগেরবারও তো গাড়ি কিছুতেই দাঁড় করাতে দেননি দীপ্তর মামা! সেবার বমি নয়, দীপার খুব খিদে পেয়ে গিয়েছিল, গাড়ি দাঁড় করিয়ে কেক-বিস্কুট কিনবে ভেবেছিল, কিন্তু মামা কিছুতেই রাজি হননি। তাতে কি এমন ভালো হয়েছিল! বিয়ের ঠিক পাঁচ মাসের মাথায় মর্গে গিয়ে যখন দীপ্তর বাইক অ্যাকসিডেন্টে তালগোল পাকানো নিথর শরীরটা দেখেছিল দীপা, তখন এই কথাটাই প্রথম মাথায় এসেছিল ওর। আচ্ছা বাবামা-ও কি নৈনিতাল যাওয়ার সময় গাড়ি থামিয়েছিল?

    নিজেকে একটু সামলে নিতে না নিতেই ফোন বাজল। বাবা। দীপা নিজেকে কোনোরকমে সামলে কানে ফোনটা দিল, ”হ্যালো!”

    -”কদ্দূর ছোট-মা? গাড়ি ঠিকঠাক যাচ্ছে তো?”

    দীপার বুকের ভেতর থেকে আবার একদলা কান্না উঠে এল। সেই আদরমাখানো গলা। এরপর থেকে আর কেউ ওকে পরম স্নেহে ছোট-মা বলে ডাকবে না! উৎগত অশ্রুকে কোনোমতে সামলে বলল, ”হ্যাঁ বাবা! আর কিছুক্ষণের মধ্যেই এয়ারপোর্ট ঢুকবে। তুমি কি করছ?”

    —”আমি কি করব মা! তুই চলে গেলি, বাড়ি ফাঁকা হয়ে গেল, একা বুড়ো যখের মতো বসে আছি। আমার কথা বাদ দে! তুই ওখানে গিয়ে সাবধানে থাকবি কিন্তু! আর নতুন জায়গা, গিয়েই বেশি জল ঘাঁটবি না, তোর তো একটুতেই ঠান্ডা লেগে যায় মা!”

    দীপা এবার কেঁদে ফেলল, বলল, ”তোমায় ছেড়ে কি করে থাকব বাবা?”

    —”ওসব অভ্যেস হয়ে যাবে! সন্দীপন বড় ভালো ছেলে। তোর খেয়াল রাখবে। তুই আমার কথা ভাবিস না। থিসিসটা ভালোভাবে লিখবি। পৌঁছে ফোন করবি কিন্তু!”

    ফোনটা রেখে দীপার অঝোরে কান্না দেখে সন্দীপন দীপার হাতটাকে শক্ত করে ধরল, ”এত কাঁদছ কেন দীপা? আর একঘণ্টা বাদেই ফ্লাইট আমাদের। সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা খুব ভালো থাকব দেখো!”

    হুম আমরা তো খুব ভালো থাকবই, মনে মনে ভাবল দীপা। আর যে মানুষটা এতগুলো বছর ধরে নিজের শখ-আহ্লাদ সব বিসর্জন দিয়ে দীপাকে আগলে রাখল, সে কেমন থাকবে তা নিয়ে দীপার আর কোনো দায় নেই। কি স্বার্থপর দীপা!

    প্লেনে উঠে উইন্ডো সিটে বসে বাইরে মেঘগুলোর আস্তে আস্তে নীচে নেমে যাওয়া দেখছিল দীপা। কান্নাকাটি আর করছে না, কিন্তু মনটা খুব ভারি হয়ে আছে। দিল্লি যাচ্ছে ও, ওর নতুন শ্বশুরবাড়িতে। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন যারা বিয়েতে এসেছিলেন, তাঁরা সবাই আজ বিকেলের রাজধানী এক্সপ্রেসে রওনা দেবেন। বিয়ে আর রিসেপশন দুটোই কলকাতায় একসাথেই মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে। সন্দীপনের ছাত্রজীবন যদিও কলকাতায়, কিন্তু ওরা চার প্রজন্ম ধরে দিল্লির বাসিন্দা। ফোনে কথাবার্তার পর বাবা দিল্লিতে ওদের বাড়ি দেখতে এসেছিলেন, ঘুরে গিয়ে বলেছিলেন, ”আমি যেমন চাইছিলাম, ঠিক তেমন ফ্যামিলি রে ছোট-মা। সন্দীপনকে তো অনেকদিন ধরে দেখছি, যেমন ভালো ছাত্র, তেমনই ভালো ছেলে। বাড়িও খুব ভালো। ছোট পরিবার, কিন্তু আত্মীয়স্বজনদের সাথে যোগাযোগ ভীষণ, ছেলের মা-ও খুব ভালো, খুব সোৎসাহে বলছিলেন যে তোর জেএনইউ তে পিএইচডি-র জন্য নাম উঠলে খুব ভালো হবে। তুই খুব ভালো থাকবি রে ছোট-মা!”

    নিখিলেশবাবুর কথা শুনে দীপা তখন বইয়ের পাতা থেকে মুখ তুলে ঈষৎ অভিমানের গলায় বলেছিল, ”আমি জানি তুমি ইচ্ছে করে আমাকে দূরে পাঠিয়ে দিতে চাও বাবা! আমি কতবার বলেছি না, আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না?”

    নিখিলেশ এগিয়ে এসে দীপার মাথায় হাত রেখেছিলেন, ”না রে মা! আমি চাই তুই খুব ভালো থাক। সেটা যেখানে পাবো সেখানেই তো যেতে হবে। আর আমার জীবন তো শেষ হয়েই এল, তুই কি নিয়ে থাকবি? ছেলেকে তো আগেই হারিয়েছি, এবার মেয়েও যদি কষ্টে থাকে, আমি কি নিয়ে বাঁচব বল তো?”

    আমাদের সমাজ প্রতিটা সম্পর্কের একটা করে ওয়েল-ডিফাইন্ড নাম দিয়ে দেয়, জানলায় বসে ভাবছিল দীপা। ননদ-জা, দেওর-ভাজ, বেয়াই-বেয়ান কতরকম নাম সেসব সম্পর্কর! সেই দিক দিয়ে দেখতে গেলে নিখিলেশ দীপার শ্বশুরমশাই। সাড়ে সাত বছর আগে যখন দীপা সবে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছিল, তখন ওর মামা বিয়ে দেন দীপ্তর সঙ্গে। ছোটবেলাতেই দীপার বাবা-মা ঘুরতে গিয়ে নৈনিতালে গাড়ি-অ্যাকসিডেন্টে মারা যান, সাড়ে তিন বছরের দীপা কোনোরকমে বেঁচে যায়। সেই থেকে ও মামার কাছেই মানুষ। মামা-মামি ওকে বড় করলেও ওর বিয়ে দেওয়ার জন্য বড় উতলা হয়ে পড়েছিল, আর বোধ হয় পারছিল না দায়ের বোঝা বইতে। তাই উচ্চমাধ্যমিকে দীপা খুব ভাল রেজাল্ট করলেও ওর বিয়ে দিয়ে দেয়।

    দীপ্তর মা ছিল না, শুধু দীপ্ত আর শ্বশুরমশাই নিখিলেশ। বিয়ের পরেরদিন মামির শিখিয়ে দেওয়া মত দীপা অপটু হাতে রান্নাঘরে ঢুকতে যেতেই নিখিলেশ গম্ভীরভাবে বলেছিলেন, ”শোন, আমাদের রান্নার লোক আছে, তোমাকে রান্নাঘরে সময় নষ্ট করতে হবে না। সামনেই প্রেসিডেন্সির অ্যাডমিশন টেস্ট, ভালো করে প্রিপারেশন নাও, নাহলে এত ভালো রেজাল্ট করা বেকার হবে। আর এ’বাড়ির সব ছেলেমেয়ে পড়াশুনোয় ভালো, তোমাকেও সেই মান রাখতে হবে। পড়াশুনোয় ফাঁকি আমি কিন্তু সহ্য করব না।”

    জলদগম্ভীর কণ্ঠস্বরে দীপা ভয় পেয়ে ঢোঁক গিলেছিল। এ কি শ্বশুরমশাই না মাস্টারমশাই! মামার কাছ থেকে দীপা আগেই শুনেছিল, নিখিলেশ তখন সবে রিটায়ার করেছেন কলেজ থেকে। ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির ইকনমিক্সের নামজাদা প্রোফেসর, দু-বেলা ছাত্রছাত্রীরা আসে তাঁদের প্রিয় স্যারের কাছে, কখনো পড়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে, কখনো আশীর্বাদ নিতে। দীপা পড়াশুনোয় ভালো হলেও মামার বাড়িতে পড়ার খুব একটা পরিবেশ ছিল না। যেটুকু পড়ার ও নিজের তাগিদেই পড়ত। এবাড়িতে সারাক্ষণ পড়াশুনোর আলোচনা, বইয়ের বাতাবরণের মধ্যে থাকতে থাকতে ও যেন নতুন করে নিঃশ্বাস নিচ্ছিল।

    এয়ারহোস্টেস ডাকল, ”ভেজ অর ননভেজ ম্যাম?”

    দীপা অস্ফুটে ‘ননভেজ’ বলে আবার জানলার দিকে মুখ ঘোরাতে গিয়ে দেখল সন্দীপন একটা বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছে হেলান দিয়ে। প্রথম প্লেনে উঠেছিল ও বছরচারেক আগে, প্রেসিডেন্সি থেকে ইকনমিক্সে বি এসসি পাশ করে দিল্লি স্কুল অফ ইকনমিক্সে মাস্টার্স করার পরীক্ষা দিতে যাবার সময়। বাবা হাতে ধরে শিখিয়েছিলেন বোর্ডিং পাস কাকে বলে, কি করে লাইফ বেল্ট বাঁধতে হয়। দিল্লি গিয়ে লোটাস টেম্পল ঘোরার সময় বলেছিলেন বাহাই ধর্মের কথা, গল্পচ্ছলে বলেছিলেন কুতুব মিনারের ইতিহাস, ইলতুৎমিস।

    সেবার ওর নাম ওঠেনি। যাদবপুরে ভর্তি হয় ও। বাবার কাছেই পড়ত। মাইক্রো-ইকনমিক্সের দুরূহ সব থিয়োরি জলের মতো করে বোঝাতেন নিখিলেশ।

    দীপ্ত যখন চলে যায়, তখন ও সবে প্রেসিডেন্সিতে ভর্তি হয়েছে। বাবা যত শোকে পাথর হয়ে উঠছিলেন, তত জড়িয়ে ধরছিলেন দীপাকে। ‘তুমি’ নেমে এসেছিল ‘তুই’-তে, বলেছিলেন, ”নিজের মা তো কবেই আমাকে ফেলে চলে গেছে, বউ-ছেলে সবাই চলে গেল। তুই-ই এখন থেকে আমার মা, আমার ছোট-মা। মেয়ের গলায় বাবা ডাক তো আগে কখনো শুনিনি, প্রাণটা জুড়িয়ে যায়!”

    দীপার চোখদুটো আবার জ্বালা করে উঠল, কে বাবাকে ওষুধ দেবে মনে করে, কে ভোরবেলা উঠে বাবাকে নিয়ে মর্নিং ওয়াকে বেরোবে? দীপার পিএইচডির সাবজেক্ট মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ইকনমিক গ্রোথ আর ইনক্ল্যুসিভ ডেভেলপমেন্টের মধ্যেকার প্যারিটি, কে-ই বা সেটা বুঝিয়ে দেবে জলের মতো?

    ভাবতে ভাবতে দীপা কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল ও নিজেই জানে না। ঘুম ভাঙল এয়ারহোস্টেসের ঘোষণায়, প্লেন একটু বাদেই ল্যান্ড করবে, বেল্ট পরে নিতে হবে। সন্দীপন ওর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছিল। বলল, ”কি, মনখারাপ কমেছে?”

    দীপা কিছু বলল না। সন্দীপন কি বুঝবে এই কষ্ট! প্রথম বিয়ের সময় দীপা কাঁদেই নি তেমন, কষ্টও হয়নি খুব একটা। তবে এবারে বিয়ের আগে প্রায় চারমাস কথা বলেছে ও আর সন্দীপন, বাবার তাড়নায় ঘুরতেও বেরিয়েছে দু-বার। সন্দীপনকে যথেষ্ট সংবেদনশীলই মনে হয়েছে। প্রথম দিন ওর কথাতেই সবথেকে ভালো লেগেছিল দীপার। প্রথমেই সন্দীপন বলেছিল, ”স্যারকে এতদিন শিক্ষক হিসেবে অসীম শ্রদ্ধা করতাম, এখন থেকে মানুষ হিসেবেও শ্রদ্ধাটা অনেক বেড়ে গেছে দীপান্বিতা! তুমি খুব লাকি এমন একজন বাবা পেয়েছ। আমিও সত্যিই লাকি, আমারও বাবা নেই আর স্যারের মতো মানুষকে বাবা হিসেবে পাচ্ছি!”

    তবু, সাময়িক ভালোলাগা আর একছাদের তলায় কাটানোর মধ্যে আকাশপাতাল পার্থক্য!

    দিল্লিতে পৌঁছে প্রথম ক-টা দিন কাটল চূড়ান্ত ব্যস্ততায়। জেএনইউ-তে পিএইচডির সব ফরম্যালিটিজ মেটানো, গাইড ঠিক করা, শাশুড়ি-মায়ের সাথে টুকটাক কেনাকাটা, এসবেই কেটে গেল প্রথম মাসটা। মাঝে ও আর সন্দীপন দিনচারেকের জন্য সিমলা-মানালির দিকটা ঘুরে এল। দুজনের মনের মিল হলেও এখনো আড়ষ্টতাটা পুরোপুরি কাটেনি দীপার। সন্দীপন ভালোবাসার কথা বলতে শুরু করলে ওর ভালো লাগে, কিন্তু উত্তরে কিছু বলতে পারে না, গুটিয়ে যায়।

    বাবার সঙ্গে দিনে তিনবার কথা হয় দীপার। তবু মনটা খারাপ হয়ে থাকে মাঝে মাঝেই। করবীমাসি ঠিকমতো তেলঝালমশলা ছাড়া রান্না করছে কি না, ওষুধ দিচ্ছে কি না, দিনের মধ্যে দশবার ফোন করে করবীমাসিকে জিজ্ঞেস করে ও। মাঝেমাঝে ভাবে ওর শাশুড়ি-মা কিছু মনে করছেন না তো এতবার করে ও ফোন করে বলে? ওর কাছে নিখিলেশ বাবা-ই, কিন্তু ওঁদের কাছে তো আগের পক্ষের শ্বশুর ছাড়া কিছুই নন! ও কিছুতেই বুঝতে পারে না সন্দীপনের মায়ের অভিব্যক্তি। ও বাবাকে ফোন করলেই উনি উঠে ভেতরে চলে যান।

    *

    সেদিন সকালে বিছানায় শুয়ে চোখ খুলেই ওর মনে পড়ল আরে, আজ তো উনিশে জুন, ফাদার্স ডে! খারাপ হয়ে থাকা মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল। বাবাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল কয়েকদিন ধরেই। আগের বছর অবধিও এই দিনে ও আর বাবা কোথাও না কোথাও ঘুরতে যেত, টুকটাক সিনেমা দেখে, খেয়েদেয়ে বাড়ি ফিরত। তাই কয়েকদিন আগে সন্দীপনকে ও বলেছিল, ”চল না, সামনের সপ্তাহে একবার কলকাতা থেকে ঘুরে আসি, যাবে?”

    সন্দীপন অবাক হয়ে বলেছিল, ”হঠাৎ কলকাতা! কেন?”

    দীপা একটু থমকে গিয়ে বলেছিল, ”সামনের রবিবার বাবার জন্মদিন, ওইদিনটা আমি আর বাবা খুব আনন্দ করতাম!”

    সন্দীপন কোনো উত্তর দেয়নি, ভ্রূ কুঁচকে চুপ করে গিয়েছিল। কিন্তু দীপা যেন স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিল, সন্দীপনের মুখে ব্যঙ্গের আভাস, যেন বলছে, ”হু! তাও যদি নিজের বাবা হত! আগের শ্বশুরকে নিয়ে আদিখ্যেতার শেষ নেই!” সন্দীপনের উত্তর না দেওয়া অগ্রাহ্য করা ব্যবহারে গুম হয়ে গিয়েছিল ও। তারপর থেকেই লক্ষ করছে, সন্দীপন অফিস থেকে এসে মায়ের সাথে কিসব আলোচনা করছে, ওকে দেখলেই চুপ করে যাচ্ছে।

    দীপার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। তবে কি মামিমা-ই ঠিক বলতেন? ও কি সত্যিই অপয়া? সুখ ওর কপালে সয়না, নাকি সুখকে ও যত্ন করে রাখতে পারে না! বাবামা-কে হারাল, বিয়ে হতে না হতেই স্বামীকে হারাল, এখন বাবার এত কষ্ট করে দেওয়া বিয়েটাকেও কি ভেঙে ফেলল ও!

    সন্দীপন কাল অফিসের ট্যুরে মুম্বাই গেছে, ফিরবে কাল। সেদিনের পর দুজনের মধ্যে হু-হাঁ ছাড়া খুব একটা কথা হয়নি। শাশুড়িমা-ও বেশি কথা বলছেন না ওর সাথে, খেয়াল করে দেখেছে। অন্যদিন দীপা কাজের মধ্যে থাকে, বেরিয়ে যায়, আজ রোববার, সে উপায়ও নেই।

    একজন বৃদ্ধ মানুষ, যিনি ওকে এতটা বড় করলেন, সমাজে প্রতিষ্ঠা দিলেন, বাঁচতে শেখালেন, তাঁর খেয়াল রেখে, খবর নিয়ে এতোটাই দোষ করে ফেলল ও?

    বাবা ওর গলা শুনেই বুঝতে পেরে যাবেন কিছু একটা হয়েছে, তাই তিন-চারদিন ধরে বাবা কে আর ফোনও করেনি দীপা। কি করছেন, ঠিকমতো খাচ্ছেন কিনা, কে জানে! ধুর, সন্দীপন ওকে আর না চাইলে কলকাতায় ফিরে যাবে ও, বাবার সাথেই কাটিয়ে দেবে বাকি জীবনটা, স্থির করে ফেলে দীপা! নিজের বাবামায়ের আদর তো জ্ঞানত কোনোদিনও পেল না, নিখিলেশের আদর থেকে বঞ্চিত হতে চায় না ও।

    ঘর থেকে বেরিয়ে কাউকে দেখতে পেল না দীপা। দিল্লির সি আর পার্কে দোতলা সুন্দর ছিমছাম একটেরে বাড়ি, সামনে পিছনে একফালি করে বাগান। সামনের রাস্তাটা ফাঁকা ট্র্যাফিক ফ্রি, তাই খুব শান্ত। অন্যমনস্কভাবে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় ও, শাশুড়িমা তৃপ্তি মনে হয় বাথরুমে। এই ক-দিনে একটা অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছে সন্দীপন আর ওনার সাথে, কেউ কিছু না বললেও কোথাও যেন তাল কেটে গেছে। দীপা কি চা করে ডাকবে ওনাকে, কথা বলবে স্বাভাবিকভাবে? কি করবে বুঝতে পারছিল না ও!

    সদর দরজায় কাজের লোকের কলিং বেল শুনে অন্যমনস্কভাবেই ও খুলতে গেল, যাবার সময় শাশুড়িমায়ের ঘরে একবার উঁকি দিল, ঘর ফাঁকা। কোথায় গেলেন মা? তেতো মুখে দরজা খুলতেই ও অবাক হয়ে গেল। নিখিলেশ দাঁড়িয়ে রয়েছেন, পাশে দুটো বড় বড় ট্রলি।

    খুশিতে কয়েক মাইক্রোসেকেন্ডের জন্য মনটা নেচে উঠলেও পরক্ষণেই আড়ষ্ট হয়ে গেল দীপা। রবীন্দ্রনাথের দেনাপাওনা-র নিরুপমার মতোই অসহায় মনে হল নিজেকে। বিবাহিত কন্যাদের বড় জ্বালা, বাবাদেরকেও পর করে দিতে হয় সময়বিশেষে!

    এইসময়ই বাবা কেন এলেন? যদি ওঁরা কোনো অপমান করেন, দীপা কিছুতেই সহ্য করতে পারবে না!

    আড়ষ্টতা কাটিয়ে ও এগিয়ে গিয়ে নিখিলেশকে প্রণাম করতে যাবে, হঠাৎ দেখল সামনে অটো থেকে আরেকটা ট্রলি নামাচ্ছে সন্দীপন! চোখাচোখি হতে হেসে বলল, ”কলকাতায় বাবা একা একা রয়েছেন, এখানে আমার মা একা। কি দরকার! তাই বাবাকে নিয়ে চলে এলাম! এবার থেকে আমরা সবাই একসাথে থাকব।”

    পেছন থেকে শাশুড়ির গলা শুনে চমকে তাকাল ও, শাড়ির আঁচলে হাত মুছতে মুছতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন তৃপ্তি, ”আসুন দাদা, ট্রেন অনেক লেট করল, তাই না!”

    দীপা কিছুই বুঝতে পারছিল না। এসব কি হচ্ছে! বিহবলভাবে ও বাবাকে প্রণাম করলে। বাবা ওকে জড়িয়ে ধরলেন, ”কেমন আছিস ছোট’মা?”

    ঘরে গিয়ে ট্রলিগুলো সব গুছিয়ে রাখছিল দীপা, পেছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরল সন্দীপন, ”বাবার জন্মদিনে কেমন সারপ্রাইজ দিলাম বল! উফ, কত কাণ্ড করলাম, এক মাস ধরে বাবাকে বলে বলে আমি আর মা রাজি করালাম, ইন্টারনেটে অ্যাড দিয়ে কলকাতার বাড়িতে একটা ভালো ভাড়া ঠিক করলাম, তড়িঘড়ি অফিসে ছুটি নিয়ে কলকাতা গেলাম, তবু আমার সুন্দরী বউয়ের মন পেলাম না! যেমন জাঁদরেল শ্বশুরমশাই তেমন জাঁদরেল আমার বউ! এইজন্যই বলে, স্ত্রীয়াশ্চরিত্রম দেবা ন জানন্তি কুতো মনুষ্যা’!”

    দীপার চোখ থেকে প্রথম দিনের মতো জল ঝরছিল অঝোরে, কিছু না বলে ও সন্দীপনের বুকে মাথা হেলিয়ে দিল।

    সন্দীপন আবার চুপিচুপি বলল, ”কি ভালো হল বল তো! তোমাকে আর বাবার শরীর নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, মন খারাপ করতে হবে না। তোমার পিএইচডি-র থিসিসে বাবা দারুণভাবে হেল্প করবেন। আর আমরা সবাই মিলে এক ছাদের তলায় থাকব। কি ভালো হল না, বল!”

    দীপা চোখ বুজে নীরবে ভাবছিল, জীবনের সেরা গিফটটা আজ ও পেয়ে গেল! ওসব আড়ষ্টতা ঝেড়ে ফেলে বলল, ”আই লাভ ইউ সন্দীপন!”

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }