Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প478 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমাকে মোটা বোলো না

    রবিবারের সকালবেলা। রোজকার মতো তড়িঘড়ি উঠে স্নান করতে যাওয়ার তাড়া নেই, কোনোমতে অর্ধেক গিলে অর্ধেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে খেয়ে ছুটতে ছুটতে ট্রেন ধরতে যাওয়া নেই, এমনকি বালি থেকে বিচ্ছিরি ভিড় হওয়া বাসে করে লেডিজ সিটের সামনে চাতক পাখির মতো কে কখন কোন স্টপেজে নামতে পারে, সেই আন্দাজ করতে করতে ঝাঁকুনির গুঁতো খাওয়াও নেই।

    কিছু কিছু মানুষজন আবার আছে, যাদের আবার কোথায় নামবেন জিজ্ঞেস করলে এমন চোখ ঘুরিয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে তাকায়, মনে হয় যেন তার এটিএম এর পিন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। এই সব আত্মসর্বস্ব পাবলিকগুলোকে দেখলেই মাথা গরম হয়ে যায় সানাইয়ের। কালকেই তো, লেডিজ সিটের মেয়েগুলো অনেক দূরে নামবে দেখে পেছনের একটা ভোঁদা টাইপ ছেলেকে জানতে চেয়েছিল, ”কোথায় নামবেন?” ওমা, কোথায় এককথায় উত্তর দেবে তা নয়, ছেলেটা কান থেকে হেডফোন খুলে ওর দিকে কিছুক্ষণ স্থিরচোখে তাকিয়ে থাকল, তারপর ভ্রুটাকে প্রায় ইঞ্চিখানেক তুলে চোখ কুঁচকে ঘাড় বেঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ”কেন বলুন তো?”

    রাগে গা রি-রি করে উঠেছে সানাইয়ের। একে তো সভ্যতা ভদ্রতা কিছুই জানে না এখনকার ছেলেপুলেগুলো, মেয়ে দেখলে উঠে বসতে দেওয়ার ভদ্রতা লুপ্তপ্রায়, অবশ্য সানাই সেটা চায়ও না, জেন্ডার ইকুয়ালিটির যুগে মেয়েরাই বা অ্যাডভান্টেজ নেবে কেন! কিন্তু তবু, একবার অফারও তো করা যেতে পারে! তাও করে না কেউ। তার ওপর এইরকম বেয়াড়া রিপ্লাই। সানাইও ছাড়ার পাত্রী নয় মোটেই, ভ্রুদুটোকে দ্বিগুণ উপরে তুলে ও একটু তির্যকভাবে শুনিয়ে দিয়েছিল, ”কেন আবার? আপনি উঠলে বসব তাই! যদি বলেন কাছে নামবেন তাহলে এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব, আর দূরে হলে অন্য সিটগুলোয় ট্রাই মারব। এমনভাবে জিগ্যেস করছেন যেন মনে হচ্ছে আপনার সাথে আপনার বাড়ি চলে যাবো আমি। কোত্থেকে যে এসব পাবলিক আসে, সত্যি!” শেষ কথাগুলো বলেছিল বেশ ঝালঝাল করে শ্লেষ মাখিয়ে, গলা চড়িয়ে, যাতে আশপাশ থেকে আরো ক-জন দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা সমর্থন জানিয়েছিলেন ওকে।

    কি আশ্চর্য, ছেলেটা তাতেও থামেনি, উল্টে কিরকম বিচ্ছিরি একটা বিদ্রূপের গলায় চোখদুটোকে বড় বড় করে ঠোঁটটা বেঁকিয়ে বলেছিল, ”বলা যায় না, চলে যাওয়ার প্ল্যান করতেও পারেন আমার বাড়ি!”

    মনে পড়তেই ঠাস করে একটা চড় কষাতে ইচ্ছে হল সানাইয়ের। বলেও ছিল চেঁচিয়ে ও, ”ভদ্রভাবে কথা বলুন। এইসব অসভ্য ছেলেদের টেনে থাপ্পড় মারা উচিত!”

    নেহাত ছেলেটা নেমে গেল তাই, নাহলে হাতাহাতি করেই ছাড়তো ও। অভদ্র বাঁদরের দল সব!

    হাতদুটোকে পেছনে ঘুরিয়ে নিজেকে বিছানার উল্টোদিকের আয়নায় দেখতে দেখতে আড়মোড়া ভাঙল সানাই। গরমকাল এসে গেলেও পরপর দুদিন বৃষ্টি হওয়াতে বেশ একটা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব আছে। তবু মনটা ভালো লাগছে না ওর একটুও। যবে থেকে এই বিয়ের জন্য দেখাশোনা শুরু হয়েছে তবে থেকেই ওর মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে আছে। না হয় ও প্রেম করে কাউকে পছন্দ করে উঠতে পারেনি, তাই বলে কি এরকমভাবে জীবনসঙ্গী ঠিক করতে হবে নাকি। দু-দিনের আলাপে কতই বা চেনা যায়, বোঝা যায়? এখন আবার নতুন ফ্যাশন হয়েছে, হচ্ছে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ, এদিকে বিয়ের আগে বছরখানেক ঘুরে টুরে একে অন্যকে জেনে চিনে নাও। আরে, যাকে বিয়ে করতেই হবে, তার সাথে ঘুরে টুরে যদি মনেও হয়, পোষাচ্ছে না, ক্যানসেল করতে চাইলে তেমন কেউ শুনবে কি? তখন বাবামা-ই বলবে, এমা সবাই জেনে গেছে, একটু মানিয়ে গুছিয়ে নে। তবে আর কি পার্থক্য রইলো আগেকার দিনের সঙ্গে? তবু কাউকে বোঝাতে পারে না সানাই।

    মা তো বললেই বলবে, একেই তোর চেহারাটা একটু ভালোর দিকে, লোকে এখন রোগা মেয়ে বেশি পছন্দ করছে, এখন থেকে দেখাশোনা শুরু না করলে পরে বয়স বেড়ে গেলে দেখবি ভালো কাউকে পাচ্ছিস না, আফসোস করবি তখন।

    এসব শুনলেই আরো রাগ উঠে যায় সানাইয়ের। সোজা কথা সোজা করেই বলো না বাপু, এত ঘোরপ্যাঁচ কিসের? সানাইয়ের চেহারা মোটেই শুধু ভালো নয়, ও খুবই মোটা। আগের মাসেই ওজন করিয়েছে, পঁচানব্বই কিলো থেকে কমেনি এক কেজিও। মরুক গে! ও কমাতেও চায় না। হ্যাঁ, ওর যদি এই ওজন নিয়ে চলতে-ফিরতে কোনো সমস্যা হত, হাঁটুতে ব্যথা, কি থাইরয়েড এইসব উপসর্গ থাকত, ও ভেবে দেখত। রীতিমতো সুস্থ সবল ফিট ও, আচ্ছা আচ্ছা রোগা মেয়েকে ওভারটেক করে ছুটে গিয়ে বাস ধরতে পারে সানাই, অফিসের প্রতিটা স্পোর্টস ইভেন্টে সবাইকে কাঁচকলা দেখিয়ে প্রাইজ পায়, তবু ও এই ওজন নিয়ে বদারড হবে কেন?

    কিন্তু মুশকিল হল আমাদের সমাজ সব কিছুরই একটা করে মাপকাঠি বেঁধে দিয়েছে, বেশি রোগা চলবে না, বেশি মোটা চলবে না, বেশি ঘরকুনো ভিতু চলবে না, বেশি বারমুখোও চলবে না, প্রগলভতা বিচ্ছিরি, এদিকে কথা কম বলাও অসামাজিক। কাজেই এতরকম সোশ্যাল ট্যাবু দিয়ে বিচার করতে মানুষজন অভ্যস্ত, তারা লজিকের ধার ধারে না। নাহলে সানাইয়ের মতো মেয়ের কখনো চারমাস ধরে টাকা দিয়ে শাদি ডট কমে প্রোফাইল খুলে রেখেও বিয়ের ঠিক হয় না?

    হতে পারে সানাই মোটা, তবু কম সুন্দরী নাকি? হোক না গায়ের রঙ একটু ময়লা, সুন্দর মুখশ্রীর কোনো দাম নেই নাকি? যত মোটা হচ্ছে, ওর স্কিনের গ্ল্যামার যেন উপছে পড়ছে, বসলে যেন মাছিও পিছলে যাবে। তার ওপর এত সুন্দর লম্বা ঘন চুল, নলেন গুড়ের রসগোল্লার মতো গোল ভরাট মুখ, ঘুমচোখে নিজেকে আয়নায় দেখতে দেখতে নিজের সৌন্দর্যে নিজেই মোহিত হয়ে যায় সানাই। সাধে কি ফাইনাল ইয়ারে পড়তে নামকরা একটা ফ্যাশন ব্র্যান্ড থেকে প্লাস সাইজের জন্য মডেলিং করার অফার এসেছিল? করল না নেহাত ওর ওসব ভালো লাগে না তাই, কিন্তু পেয়েছিল তো? তার ওপর এত ভালো চাকরি করে সানাই, সঙ্গে আঁকার হাতও ওর দারুণ। এই তো গেল মাসেই ওর একটা আঁকা প্রাইজ পেয়েছে বিদেশের একটা কনটেস্টে। চাকরি সামলেও এসব চালিয়ে যাওয়া কি চাট্টিখানি কথা?

    কিন্তু এইসব কথা ছেলের মায়েদের চোখে পড়ে না। কালো আর মোটা দেখেই কেউকেউ এমন হাবভাব করে যেন এইডসের জীবাণু নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সানাই। আরে ছবি দেখেই তো এসেছিস বাপু, গাণ্ডেপিণ্ডে গিলেও যাচ্ছিস, তবে এসব ন্যাকামি কেন? আর দেখলিই যখন পরিষ্কার ‘না’ বলে দিয়ে যা, তা না করে বাবামা-কে হ্যাঁ না-এর মাঝখানে ঝুলিয়ে রাখাই বা কেন? অসহ্যকর সব জিনিসপত্র! রোববার এলেই এখন মেজাজ খিঁচড়ে যায় তাই ওর। তবে এবার ও ঠিক করে নিয়েছে কিছুতেই আর বাবামায়ের কথা শুনবে না, আজ একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বে।

    মা কখন ঘরে ঢুকেছে খেয়াল করেনি ও, মা ব্যস্ত পায়ে এসে ওর স্তূপ করা জামাকাপড়গুলোকে একটা বাস্কেটে পুরছিল, আজ ওয়াশিং মেশিনে দেবে, ওকে থম মেরে বসে থাকতে দেখে মা বলল, ”কিরে? ওঠ, আর দেরি করিস না। দই আর লেবুটা যদি চুলে মাখিস তো মেখে ফ্যাল, চুলটা বেশ ফোলে তাহলে, বেলা করে মাখলে আবার ঠাণ্ডা লেগে যাবে। ছেলেটা ভারি ভালো, তোর ছবি দেখেই নাকি বেশ পছন্দ হয়েছে তার। তার ওপর ফেসবুকে তোর আঁকাও দেখেছে নাকি। আমি একটা শাড়ি বেছে রেখেছি…।”

    মায়ের কথা শেষ হল না, সানাই খিঁচিয়ে উঠল, ”আচ্ছা মা, তোমরা কি শুরু করেছ বলো তো? সারাটা সপ্তা অফিসে এত প্রেশার, তারপর একটা দিন একটু শান্তিতে রিল্যাক্সও করতে পারব না? প্রতিটা রোববার এই নাটক চলবে এখন? আমি কিছুতেই আজ বাড়ি থাকব না তুমি দ্যাখো! আমি এই উঠছি, রেডি হব, বেরিয়ে যাব, ফিরব সেই রাতে ন-টার পর।”

    মা ওর হঠাৎ এমন বিদ্রোহে হকচকিয়ে গেল, ”ন-টার পর ফিরবি মানে? আর মিন্তিমাসির দেওরের শালারা যে আসবে আজ বিকেলে?”

    সানাই দুমদাম করে উঠে বাথরুমে যেতে যেতে বলল, ”কোন শালা কার দেওরকে নিয়ে কোথায় আসবে তা নিয়ে আমি আর ভাবতে পারছি না। আমি চুলে ডিম দই মাছ মাংস কিচ্ছু দেব না, আমি এই বেরিয়ে যাচ্ছি দ্যাখো! লাইফটা হেল হয়ে গেল আমার।”

    বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে ও দেখল মা পরিস্থিতি আয়ত্ত্বে আনতে বাবাকে ডেকে এনেছে বাইরের ঘর থেকে। বাবা বলল, ”কি হয়েছে রে বুবু?”

    সানাই মোটেই গলল না, এমনিতেই ওর গলার খুব জোর, একটু জোরে কথা বললেই আশপাশের একশো মিটারের মধ্যে সবাই শুনতে পায়, তবু ও যতটা সম্ভব গলা নামিয়ে স্থির চোখে তাকিয়ে বলল, ”দ্যাখো বাবা, আমি তোমাদের পরিষ্কার বলছি, এই প্রতিটা রবিবার সেজেগুজে বসা, তারপর বোকা বোকা প্রশ্নের ন্যাকা ন্যাকা উত্তর দেওয়া, আমি আর পারছি না। আমি আজকেই কোনো মেসে চলে যাব।”

    বাবা এবার আরো অবাক হয়ে বলল, ”কেন কি হয়েছেটা কি?”

    সানাই এবার আরো রেগে গেল, ”কি হয়েছে বা কি হয়ে চলেছে সেটা তোমরা বুঝতে পারছ না? আমার কোনো সেলফ রেসপেক্ট নেই? আমিও একটা ছেলের মতো চাকরি করি, নরম্যাল খাইদাই বাথরুম যাই, তবে শুধুমাত্র মেয়ের বাবা-মা হওয়ার জন্য তোমরা সবসময় ইনফিরিয়র পজিশানে থাকবে আর ওরা ছেলের বাবা-মা বলে সুপিরিয়র হয়ে থাকবে কেন? আগের রোববার ওই মুশকো বৌটা কি বলছিল?” তারপর আগের রবিবারে দেখতে আসা পাত্রের মায়ের অনুকরণ করে ও বলতে লাগলো, ”আমরা খুব মডার্ন। ছেলের বৌ জিন্স পড়লেও কোনো আপত্তি নেই।” কথাগুলো বলেই ও ফেটে পড়ল রাগে, ”আরে ভাই, কে তোকে জানতে চেয়েছে তোর আপত্তি আছে কিনা? আমার শরীর, আমার জিন্স, আমি পরব না ছিঁড়ে ফেলব সেটা আমি বুঝব। কই তোমরা কাউকে বলো যে ছেলে জিন্স পড়লে আমাদের আপত্তি নেই? সেটা বলার প্রশ্নই আসে না, তাই না? কেন না ওরা ছেলের বাড়ি, না? এদিকে ছেলেমেয়ে নাকি এখন সমান। তবু এই বাইফারকেশন কেন?”

    মা এবার রেগেমেগে কিছু বলতে যাচ্ছিল, বাবা থামিয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বলল, ”আচ্ছা বেশ, রাগারাগি করে তো কিছু লাভ নেই। তুই কি চাইছিস বল। তুই তো কাউকে নিজে থেকে পছন্দ করে রাখিসনি, তাই আমাদেরকে দ্যাখাশোনা করতেই হচ্ছিল। তা তুই কি বিয়ে করবি না?”

    ঝগড়া করার সময় দু-পক্ষই গলা উঁচিয়ে ধারালো সংলাপ বললে অম্লান বদনে ঝগড়া চালিয়ে যাওয়া যায়, কিন্তু একপক্ষ ক্রমাগত শান্তভাবে কথা বলে চললে উত্তেজিত অন্যপক্ষের থতমত খেয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাবা প্রতিবার এই স্ট্র্যাটেজিটাই অত্যন্ত নিপুণভাবে খেলে ওকে হারিয়ে দেয়।

    সানাই যথারীতি থমকে গেল, ”সেটা আমি একবারও বলিনি। কিন্তু আমার কিছু কন্ডিশন আছে।”

    বাবা এবার বলল, ”বেশ তো। কি কন্ডিশন তোর বল?”

    সানাই গলা ঝেড়ে বলল, ”আচ্ছা, ছেলের বাড়িতে গিয়ে তো আমাকে থাকতে হবে, তাই তো? ছেলেটা নিশ্চয়ই আমার বাড়ি এসে থাকবে না, রাইট?”

    বাবা এবার বলল, ”হ্যাঁ, সেটাই তো কনভেনশন। চলে আসছে যুগযুগ ধরে।”

    সানাই এবার বলল, ”দ্যাখো বাবা, যুগযুগের কথা বোলো না প্লিজ, যুগে যুগে মানুষ পালটায়, কাজেই নিয়মগুলোকেও পালটানো উচিত। আগে মেয়েরা কিছু করতো না, তাদের নিজস্ব কোনো আইডেন্টিটি ছিল না, কাজেই বাবার পরিচয়ে, স্বামীর পরিচয়ে তাদের বাঁচতে হত। কিন্তু এখন আর তা নেই। সে যাই হোক, তো আমাকেই যখন গিয়ে থাকতে হবে তখন তারা কেন আমাদের বাড়ি দেখতে আসবে, বরং আমি যাব তাদের বাড়ি দেখতে।”

    মা এইবার চেঁচিয়ে উঠল, ”মানে? মেয়ে যাবে ছেলের বাড়ি পাত্র দেখতে? এরকম হয় কখনো? আর গলা দ্যাখো যেন মাইক বাজাচ্ছে, সারা পাড়াকে জানাবেন উনি! এরকম হয়না বুঝলি?”

    সানাইও সঙ্গে সঙ্গে আরো চেঁচিয়ে মায়ের সাথে সঙ্গত করল, ”হওয়ালেই হয় মা। কোন রুলবুকে লেখা আছে যে মেয়েরা যেতে পারবে না দেখতে? আমাকেই যখন গিয়ে থাকতে হবে তখন তো আমারই যাওয়াটা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত! আমি গিয়ে দেখব যে ছেলের বাড়ির বাথরুমটা কেমন, বারান্দায় কতটা রোদ আসে, অফিস থেকে ফিরে ছাদে গিয়ে দাঁড়ালে হাওয়া খেতে পারবো কিনা, তারপর আমি ডিসাইড করব যে আমি ওখানে বিয়ে করব কিনা!”

    মা এবার বোধহয় ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, ওর দিকে হতবুদ্ধির মতো চেয়ে বলল, ”এরকম নিয়ম তো নয় বল!”

    সানাই এবার উত্তেজিত হয়ে বলল, ”নিয়ম নয় কারণ সব নিয়ম যুগযুগ ধরে ছেলেরাই তৈরি করেছে, আর তারা নিজেদের আপার হ্যান্ডে রেখে নিয়ম বানাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাকে পাল্টাতে তো হবে, নাকি?”

    মা কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, বাবা এবার ইতি টানার ভঙ্গিতে বলল, ”যাকগে ছাড়। ঠিক আছে। তোর যখন এটাই ইচ্ছে, তুই-ই তাহলে ফোন করে ওদের বল যে ওরা যেন আজ না আসেন, তুই দেখতে যাবি ওদের বাড়িতে ছেলেকে, কেমন?” বাবা কথা শেষ করে ফোনের বোতাম টিপতে উদ্যত হল।

    সানাই এবার একটু গুটিয়ে গেল, ”আ-আমি বলব কেন, তুমিই এটা বলো না!”

    মা ওকে প্রায় ভস্ম করে দেবে, এমনভাবে তাকিয়ে ধপ করে সোফায় বসে পড়ল, ”হে ভগবান! এটা বললে ওরা আর সম্বন্ধটাকে পাকা করবে ভেবেছিস?”

    সানাইয়ের এবার মাথায় রক্ত উঠে গেল, আর রাগের বশে মানুষ অসমসাহসী কাজও করে ফ্যালে কখনো কখনো, ছেলের মায়ের ফোনে রিং করে কানে লাগিয়ে ও মা-র দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করল, ”না করলে না করবে। আমি জলে পড়ে নেই বুঝলে? তবু এই মেসেজটা তো পৌঁছবে!”

    **********

    ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় ঠিক যখন সন্ধে সাড়ে ছ-টা, সানাই একটা কুর্তি-লেগিংস পড়ে মায়ের মিন্তিমাসির দেওরের শালার বাড়ি বসে বসে ঘামছিল। সকালের ঝগড়াঝাটির পর মা কিছুতেই নাকি যেচে অপমানিত হতে পারবে না বলে আসেনি, ও আর বাবাই এসেছে। ইয়েস! সানাই জিতেছে। জিতেছে একটা তথাকথিত গোঁড়া কনভেনশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু জিতে যে এইরকম গণ্ডগোলে পড়তে হবে, সানাই কল্পনাও করতে পারেনি। ইন ফ্যাক্ট সকালেও যখন ও ছেলের মা-কে ফোন করে যতদূর সম্ভব মিষ্টি করে বুঝিয়েছিল যে ও নিজে আসতে চায়, তখনো খুব একটা ঝড় ওঠেনি। এরা একটু অবাক হলেও বেশ ওয়েলকামই করেছিলেন।

    কিন্তু এখন সানাইয়ের মনে হচ্ছে কেন এরা ফোনে শুনেই ‘না’ করে দিলেন না!

    না, ওকে মোটা নিয়ে কোনো কথা শুনতে হয়নি, ছেলের বাবা-মা, জ্যেঠু সবাই বেশ ভালোভাবেই কথা শুরু করেছিলেন ওর আর বাবার সঙ্গে। কথা হচ্ছিলো ওর অফিস, অবসর সময়যাপন এসব নিয়ে। কিন্তু গোল বাঁধল ছেলেটা ঘরে ঢোকার পর। সানাই দিব্যি প্লেট থেকে একটা বিশাল সাইজের কমলাভোগ নিয়ে মুখে পুরেছিল, কিন্তু ছেলেটাকে দেখে মিষ্টিটা ওর মুখ থেকে পড়ে গেল দামি কুর্তিতে।

    সবুজ একটা সুতির পাঞ্জাবি পরে ছেলেটা ঘরে ঢুকে প্রথমে চেয়ারে বসল। তারপর সানাইয়ের দিকে তাকাতেই নিজের ভ্রুটাকে প্রায় ইঞ্চিখানেক তুলে চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, ”আপনিই কাল আমায় থাপ্পড় মারার কথা বলেছিলেন না?”

    বাবা হতভম্ব হয়ে সানাইয়ের দিকে তাকাল।

    ছেলেটার বাবামা-ও থতমত খেয়ে গেছেন। ছেলেটার জেঠু, যিনি কিনা ওই মিন্তিমাসির দেওরের শালা, তিনিও দিশেহারা হয়ে পিটপিট করে চাইলেন, ”মানে! এসব কি বলছিস তুই টুবাই?”

    টুবাই নামক অভদ্র বাঁদরটি সানাইয়ের দিকে চেয়ে মিটিমিটি হেসে বলল, ”ঠিকই বলছি জেঠু। এই মেয়েটা কাল বাসে আমার সাথে বেদম ঝগড়া করেছিলো। বলেছিল আমাকে চড় মারবে।”

    সানাই এবার আর শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারল না, পরিস্থিতি ভুলে চেঁচিয়ে উঠল, ”আমি প্রথমে মোটেই বলিনি, আপনিই বলেছিলেন আমি নাকি আপনার বাড়ি চলে যাব।”

    ছেলেটা কিরকম ছদ্ম অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে ওর দিকে তাকাল, তারপর সবার দিকে তাকাতে তাকাতে বলল, ”ভুল কিছু বলেছিলাম কি? আপনি তো মনে হয় আমার বাড়িতেই এসে বসে আছেন এখন!”

    সানাইয়ের কান্না পাচ্ছিল এবার। ও বেশ বুঝতে পারছিল পরিস্থিতি ওর আয়ত্ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে, তবু ও শেষ চেষ্টা করল, ”বাবা চলো। এখানে আর নয়।”

    বাঁদরটা এবার বলল, ”কেন? এখানে আর নয় কেন? আমাদের বাথরুমটা বেশ বড়, পরিষ্কার আর আমাদের ছাদটাতেও হাওয়া আসে দেদার! আপনার হাওয়া খেতে কোনো অসুবিধাই হবে না।”

    সানাইয়ের নাকের পাটাদুটো ফুলছিল ঘনঘন, ছেলেটার মা তার মানে সানাইয়ের ফোনে বলা কথাগুলো সব রিলে করেছে অপোগণ্ডটাকে!

    ও গোঁজ হয়ে বসে রইল।

    **********

    দিন দশেক পরে সাউথ সিটিতে মিট করে সানাই ঠিক করেই রেখেছিল বাবা-মায়ের জোরাজুরিতে দেখা করতে এলেও ও ঠিক কাটিয়ে দেবে। আশ্চর্যভাবে সেদিনের ওরকম ঝগড়ার পরেও ছেলের বাড়ি রাজিই আছেন বিয়েতে। কিন্তু সানাই রাজি নয় মোটেই। ওরকম ডেঞ্জারাস ছেলেকে ও বিয়ে করতে পারবে না কিছুতেই।

    আইসক্রিমে কামড় দিয়ে প্রথমেই সানাই বলল, ”দেখুন, স্পষ্টাস্পষ্টি একটা কথা বলি। আমি জানি আমি মোটা, আর আমার গায়ের রঙও ফর্সা নয়। আমি কিন্তু ডায়েটিং করে রোগা হতে পারব না।”

    ছেলেটা সেইরকম গা পিত্তি জ্বলে যাওয়া হাসি হেসে বলল, ”হবেন না। আমি তো ছবিতে আপনাকে দেখেই পছন্দ করেছিলাম। আমার বেশ গোল কমলাভোগ টাইপ মিষ্টি বৌই পছন্দ। আর এইসব রোগা মোটা বেঁটে লম্বা এগুলো কোনো ফ্যাক্টরই নয় আমার কাছে। আরে মানুষ তো জ্যান্ত অবজেক্ট, কখনো রোগা, কখনো মোটা হবে এটাই স্বাভাবিক। চেয়ার টেবিল তো নয় যে চিরকাল একরকম কন্সট্যান্ট থেকে যাবে! ওসব ছাড়ুন!”

    সানাই রেগে উঠতে গিয়েও ঠিক আর রাগতে পারছিল না। আড়চোখে ও ছেলেটার দিকে তাকাল, সেদিনও এইরকম সারাটা সময় ওকে লেগপুল করে গেছে বাঁদরটা। সারাটা জীবন কি এরকমই করে যাবে নাকি?

    ছেলেটা আবার বলল, ”হ্যাঁ, শুধু আঁকাটা ছাড়বেন না। পারলে আমার একটা পোর্ট্রেট এঁকে দেবেন তো! ওই ছাদে গিয়ে হাওয়া খেতে খেতেই না হয় আঁকবেন! আর হ্যাঁ, আপনার সানাইটা একটু পারলে আস্তে বাজাবেন, রাতবিরেতে বড্ড কানে লাগবে তো?”

    সানাই আর পারল না, দুম করে একটা কিল বসিয়ে দিল বাঁদরটার পিঠে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article লোকায়ত দর্শন : দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }