Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প516 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অপত্য

    কালিদাসের অভিজ্ঞান-শকুন্তল নাটকে একেপ্রায় শেষ দৃশ্য। দুর্বাসার শাপে লুপ্তস্মৃতি দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে হারিয়ে ফেলেছেন বটে কিন্তু মৎস্য-গর্ভ থেকে তাঁর স্বনামাঙ্কিত, অঙ্গুরীয়টি উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই তিনি ‘হা শকুন্তলা! কোথা শকুন্তলা!’ করে বিরহাতুর দিন কাটাচ্ছিলেন। রাজসভায় প্রত্যাখাত শকুন্তলা মহর্ষি মারীচের আশ্রমে সুখপ্রসবা হয়েছেন। জন্ম দিয়েছেন এমন এক পুত্রের, যাঁর নামে এই উপমহাদেশ ভারত নামে বিখ্যাত হবে এবং সেই ভারতে বসবাসকারী মানুষেরা ভারতীয় বলে চিহ্নিত হবে বলে বিষ্ণুপুরাণ জানিয়েছে—বর্ষং তদ ভারতং নাম ভারতী যত্র সন্ততিঃ। এই বিখ্যাত ভরতের জননীর সঙ্গে হঠাৎই দেখা হয়ে গেল বিরহাতুর দুষ্যন্তের—তিনি স্বর্গ থেকে ফিরছিলেন—পথে মারীচ মহর্ষির আশ্রমে প্রবেশ করেছিলেন তাঁকে প্রণাম জানিয়ে যাবার জন্য।

    মারীচের আশ্রমেই পুনর্মিলন হয়ে গেল দুষ্যন্ত-শকুন্তলার। হর্ষোৎফুল্ল দুষ্যন্ত যখন বিদায় নিচ্ছেন আশ্রম থেকে, তাঁকে তখন ব্রহ্মপুত্র প্রজাপতি মারীচ আশীর্বাদ উচ্চারণ করে বললেন—আজ বড়ো সৌভাগ্যের দিন। তোমার এই স্ত্রী সাধ্বী শকুন্তলা, এই রকম সমৃদ্ধিমান তোমার অপত্য আর তুমি নিজে—দিষ্ট্যা শকুন্তলা সাধ্বী সদপত্যম ইদং ভবান—উপমার নিদর্শনায় এই তিনের সমাগমে যেন শ্রদ্ধা, বিত্ত এবং শাস্ত্রবিধি একত্র সঙ্গত হল। এখানে শকুন্তলা শ্রদ্ধা এবং দুষ্যন্তকে বিধি বলা হল কেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তর্ক বোধহয় এটাই যে এই স্বামী-স্ত্রীর পুত্রকে বলা হল ‘সদ অপত্যং’ এবং তার তুলনা হল স্বামী-স্ত্রীর নবলব্ধ এক বিরাট সম্পত্তি হিসেবে—সরলভাষায় পুত্র সম্পদ।

    অপত্য-কথাটার তাৎপর্য কিন্তু পুত্রের সম্পত্তি-ভাবনার মধ্যেই শুধু আবদ্ধ নয়, বরঞ্চ তার চেয়েও অনেক বড়ো এক পারলৌকিক মুক্তির নিশ্বাস আছে এই অপত্য শব্দের মধ্যে এবং এটা প্রথম জানিয়েছিলেন মহামতি যাস্ক—খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ শতাব্দীতে বৈদিক শব্দরাশির একটি কোষগ্রন্থ লিখে তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন। যাস্ক পুত্র-শব্দের অন্তত পনেরোটি প্রতিশব্দ বা পর্যায় শব্দের কথা বলেছেন যেগুলি বেদে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু সমস্তগুলি একত্রিত করার পর যাস্ক কিন্তু অপত্য শব্দটিকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে বলেছেন—এগুলি হল অপত্যের পর্যায়বাচক শব্দ—ইতি অপত্য নামানি পঞ্চদশ। এতগুলি পুত্রনামের মধ্যে অপত্য শব্দটাকেই কেন তিনি এত প্রাধান্য দিচ্ছেন, সেটা বোঝানোর জন্য তিনি এই শব্দটির ধাতুমূল ধরে বিচার করে বলেছেন—কেন অপত্য বলছি এই শব্দটাকে—অপত্যং কস্মাৎ? কেননা পিতার কাছে আসার পর এ নিজেও আবার পৃথকভাবে আরও বিস্তার লাভ করে আরও ব্যাপ্ত হয়—পিতৃ সকাশাদ এতৎ পৃথগিব ততং ভবতি।

    অপত্য-শব্দের এই অর্থটিই পঞ্চম-ষষ্ঠ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এই মহামান্য কোষকারকে ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত ফ্রয়েড সাহেবের পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে—যিনি ‘রিপ্রোডাকশন’ এবং ‘সাসটেনান্স’কে পৌরুষেয় যৌনতার অন্তর্গত মূল বলে জানিয়েছেন। মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকার যে ইচ্ছেটা আছে, সেটা জীবিতাবধি নয়, মরণের পরেও তাঁর মনে হয় যেন এই সুন্দরী পৃথিবীতে তিনি থেকে যাবেন অন্য কোনো রূপে অন্য কোনো নামে। এই অতীপ্সিত নাম-রূপের মূর্ত চেহারাই হল অপত্য বা পুত্র-কন্যা। লক্ষণীয়, সংস্কৃতের অনেক শব্দই তার ধাতুমূলে একটা সমাজতাত্ত্বিক ভাবনা তুলে ধরে যেখানে অপত্য-শব্দের তাৎপর্য আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। সংস্কৃতে ‘জায়া’ শব্দের অর্থভাষা এটাই যে, একজন পুরুষ পিতা যেহেতু জায়ার মাধ্যমে পুনর্বার জন্মায়, তাই স্ত্রীকে বা পত্নীকে জায়া বলা হয়—জায়ায়াস্তদ্ধি জায়াত্বং যদস্যাং জায়তে পুনঃ।

    আমাদের বক্তব্য—যাঁর মাধ্যমে পুরুষ আবার জন্মাচ্ছে—এখানে জন্মের মাধ্যমের চেয়েও পুরুষের আরও এক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পর্যন্ত বেঁচে থাকার তাৎপর্য নিয়েই অপত্য-শব্দের সার্থকতা তৈরি হয়—অপত্যের মাধ্যমে পিতা আরও বিস্তার লাভ করেন—ততং ভবতি। নিজেকে বিস্তারিত উত্তরাধিকারের মধ্যে স্থাপন করার কথাটা মানুষ যদি সাধারণভাবে না বোঝে, তাই মানুষকে খানিক আধ্যাত্মিক ভয় দেখিয়ে যাস্ক আবার বলেছেন—নানেন পততীতি বা—অর্থাৎ যে জন্মালে পুরুষ-পিতার আর পতন হয় না, নরকে পতন হয় না, সেইজন্যই তার নাম অপত্য। এই বিকল্প ভাষ্য ঘুরিয়ে একই কথা জোর দিয়ে বলছে অপত্য-লাভের ভাবনা তোমাকে করতেই হবে, তা নইলে নরকে গতি হবে তোমার। তার মানে, তুমি এক আছ, বহু হও এবং বংশের পরম্পরা তৈরি করো।

    আমরা বেশ বুঝতে পারি যে, নরক কিংবা পতনের কথাটা বাড়াবাড়ি, কিন্তু নিজেকে বিস্তারিত করে পরম্পরা রক্ষার যে তাগিদ, সেটা বৈদিককালেই ঋষি-মুনিরা বুঝেছিলেন বলেই দেবতার কাছে তাঁরা অপত্যলাভের প্রার্থনা করেছেন বারবার। অবশ্য অপত্য-লাভের জন্য বৈদিক আর্যজনজাতির আকূতি আমরা বুঝি—একটি পশুপালক জাতি দূর থেকে এসে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পঞ্চনদীর তীরে পৌঁছোতেই অনেক যুদ্ধবিগ্রহ করতে হয়েছিল তাঁদের। তারপর সেখান থেকে আবার সরস্বতী-দৃষদবতী নদীর মধ্যস্থানে আসা, তারপর আবার গঙ্গার স্রোতধৌত অঞ্চলগুলি দিয়ে পুব দিকে যাত্রা—এ যাত্রায় যুদ্ধবিগ্রহ অনেক ছিল—ফলত প্রয়োজন ছিল পুরুষের প্রয়োজন ছিল বীর পুত্রের ঋগবৈদিক ভাষায় অপত্যের—যথা রয়িং সর্ববীরং নশামহা/অপত্যসাচং শ্রুত্যং দিবে দিবে।

    পরম্পরাক্রমে বিস্তারিত হওয়ার জন্য অপত্য-শব্দের ব্যাখ্যায় যে ধাতুটি যাস্ক ব্যবহার করেছেন, সেটি হল ‘তন’ ধাতু, যার অর্থই হল বিস্তার করা, বিস্তারিত হওয়া—তনু বিস্তারে। এই ধাতু থেকে অপত্য শব্দ, তেমনই একই ধাতু থেকে সন্তান এবং সন্ততি—সম্যকভাবে যা বিস্তারিত হয়—এখানেও কিন্তু সেই একই ভাবনা—এই ভাবনা বেদ থেকে মহাভারতের কালে কীভাবে নেমে এসেছে, তার সামান্য একটা উদাহরণ দিই। মহাভারতে মহারাজ শান্তনু ঔরসে গঙ্গার গর্ভে জন্ম হয়েছিল দেবব্রতের—ভবিষ্যতে ভীষণ প্রতিজ্ঞা করে যিনি ভীষ্ম নামে পরিচিত হবেন।

    দেবব্রত যখন ভীষ্ম হননি, তখন মহারাজ শান্তনু ধীবরকন্যা সত্যবতীর রূপে মুগ্ধ হলেন এবং তাঁকে বিবাহ করতে চাইলেন। অবধারিত সেই শর্ত এল—দেবব্রতের রাজা হওয়া চলবে না, বিবাহ করাও চলবে না। অর্থাৎ দেবব্রতের বংশপরম্পরা স্তব্ধ করে দেবার ব্যবস্থা হয়ে গেল। পিতা শান্তনু এই শর্ত শুনে পিছিয়ে এলেন বটে, কিন্তু সেটার মধ্যে এক কপট-নাটকের প্রস্তাবনা লুকিয়ে ছিল। তাই দেবব্রত যখন পিতাকে খানিক আনমনা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন—কী হয়েছে তাঁর—তখন কথায় কথায় বেরিয়ে এল সত্যবতীর কথা এবং সেই সত্যের কথা। তাই বলে দেবব্রতের জন্য তিনি যে অশেষ মায়ায় সত্যবতীর কথা ভুলে যাচ্ছেন তা নয়, বরঞ্চ তিনি কুমার দেবব্রতকে অপত্যের তত্ত্ব বোঝালেন খানিক। দেবব্রতের মতো এক উপযুক্ত পুত্র থাকতেও শান্তনু তাঁকেই বললেন—বৎস! তোমার জন্যই তো আমার এত দুশ্চিন্তা। মানুষের জীবন কোথায়, কী যে হয়। তার মধ্যে সারা দিন-রাত তো তুমি যুদ্ধ-যুদ্ধ করে পাগল হচ্ছ। তুমি তো আমার একটাই মাত্র ছেলে। তাই ভয় হয়। কোনোভাবে তোমার কিছু হয়ে গেলে এই বংশ এখানেই শেষ—কথঞ্চিৎ তত্র গাঙ্গেয় বিপত্তৌ নাস্তি নঃ কুলম।’

    শান্তনু খুব ‘নেইভলি’ কুমার দেবব্রতের কাছে সত্যবতীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করছেন। একদিকে দেখাচ্ছেন যেন তাঁর এই ছেলের মতো ছেলে হয় না, অন্যদিকে তিনি তাঁর ভোগবাসনার কথাটাও অতিসূক্ষ্মভাবে মিশিয়ে দিচ্ছেন বংশপরম্পরা রক্ষার মহান দায়িত্বের সঙ্গে। শান্তনু বললেন—বাছা! একথার মধ্যে এতটুকু ভুলও নেই যে, তুমি আমার একশো ছেলের বাড়া এক ছেলে, তুমি একাই একশো—শতাদপি বরঃ সুতঃ—আর সেইজন্যই আমি শুধু শুধু আর বিয়ে করতে চাই না। শুধু চাই, এই বংশের পরম্পরা-বিস্তার যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য তুমি শুধু সুস্থ থাকো। লোকে কী বলে জানো? লোকে বলে—এক ছেলে থাকাও যা, অপত্যহীনতাও তাই—অনপত্যঞ্চ একপুত্রত্বমিত্যাহুর্ধর্মবাদিনঃ। অর্থাৎ এক ছেলে থাকাও যা, কোনো ছেলে না থাকাও তাই। সত্যি কথা বলতে কী—আমাদের ধর্মকর্ম, অগ্নিহোত্র, বেদ-বেদাঙ্গের জ্ঞান এবং অখিন্ন-ছেদশূন্য একটা বংশপরম্পরা—এইসব কিছুই অপত্যলাভের মতো একটা বিশাল ঘটনার ধারেকাছেও যায় না—সর্বান্যেতানি অপত্যস্য কলাং নার্হতি ষোড়শীম। অর্থাৎ অপত্যলাভকে যদি ষোলো আনা বলি, তাহলে তার তুলনায় অন্য সব কিছু এক আনা। সেকালের উপমায় চাঁদের ষোলো কলা হল অপত্য বা সন্তান, আর অন্য সবকিছু চাঁদের এককলা।

    আমরা অপত্য-লাভের প্রসঙ্গে মহারাজ শান্তনুর প্রসঙ্গ টেনে আনলাম এইজন্য যে, এইখানেই অপত্য-শব্দের মুখ্য তাৎপর্যটুকু একেবারে তৎকালীন সমাজ-মানসের প্রতিবিম্বভাবে ধরা পড়েছে। লক্ষণীয়, অনেকে অপত্য-শব্দটাকে স্নেহের সঙ্গে যুক্ত করে অপত্যস্নেহের ব্যাপারটাকে পুত্রস্নেহের চেয়েও অধিক গুরুতর এবং ঘনতর কোনো স্নেহপদার্থ বলে মনে করেন। তাঁদের জানাই, পুত্র স্নেহের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অপত্যস্নেহ শব্দটা অজ্ঞাত সংস্কৃত শব্দের একটা অধিক্ষেপ ভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তাঁরা ভাবেন অনুষ্ণ বর্ণের প্রয়োগে অপত্য-শব্দের মধ্যে বুঝি স্নেহের মাত্রাতিরিক্ত রসমাধুর্য নিহিত আছে। বস্তুত কিন্তু তা মোটেই নয়, অপত্যের মধ্যে সন্তান-স্নেহের সাধারণ বাৎসল্য ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত কিছু নেই এবং মাত্রাতিরিক্ত যেটা আছে, সেটা ওই বংশধারা অক্ষত রাখার প্রাচীন চেষ্টা।

    তবে এরই মধ্যে অপত্য-শব্দের ভাষ্যে একটা সুখের খবরও দেওয়া যায় এবং সে সুখটা এই যে, অপত্য বলতে শুধু পুত্রই বোঝায় না, কন্যাও বোঝায়। অর্থাৎ প্রাচীনকালে বংশপরম্পরা বিস্তারিত করার যে দুর্ভাবনা ছিল, সেটা যে কন্যা-সন্তানের মাধ্যমেও সম্ভব, সেই তাৎপর্যটা কিন্তু অপত্যশব্দের একটা বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ একটা বিশেষ বংশধারা অক্ষুণ্ণ রাখা নয়, নিজেকে বহুলভাবে জড়িয়ে দেওয়াটা যে কন্যাসন্তানের মাধ্যমেই সম্ভব সেই শুভ চিন্তাটাও অপত্য ভাবনার একটা অঙ্গ। সম্ভবত সেই কারণেই অপত্য শব্দটি সংস্কৃতে পুংলিঙ্গও নয়, স্ত্রীলিঙ্গও নয়, এটি ক্লীবলিঙ্গ শব্দ। ছোটবেলায় পাণিনি ব্যাকরণের তদ্ধিত প্রত্যয় শেখার সময় ‘দাশরথি’ কিংবা ‘আর্জুনি’ পদটি ভেঙে বলার সময় বলতে হত—’দশরথস্য অপত্যং পুমান’ অর্থাৎ দশরথের পুরুষ সন্তান হল দাশরথি; অর্জুনের পুরুষ সন্তান হল আর্জুনি। এই যে আলাদা করে পুমান বা পুরুষ অপত্যের কথা বলে তদ্ধিত প্রত্যয় যুক্ত করতে হচ্ছে তাতেই পরিষ্কার বুঝি যে, বংশপরম্পরা বহনের ক্ষেত্রে স্ত্রীলোকও অপত্য-শব্দের অর্ধেক তাৎপর্য বহন করে। একথা সবচেয়ে ভালো বোঝা যাবে মহাভারতের একটি ঘটনায়।

    মহাভারতের বিখ্যাত একটি উপাখ্যান হল সাবিত্রী-সত্যবানের উপাখ্যান। এখানে সাবিত্রীর বাবা মদ্রদেশের রাজা অশ্বপতি তাঁর কন্যাজন্মের আগে পুত্রলাভের উদ্দেশেই তপস্যা আরম্ভ করেছিলেন। যৌবন অতীত হয়ে যাওয়ার পরেও কোনো পুত্র না হওয়ায় অশ্বপতি গায়ত্রীস্বরূপা সাবিত্রী দেবীর আরাধনা-তপস্যা আরম্ভ করলেন। এইভাবে আঠেরো বছর কেটে গেল। রাজার এক লক্ষ হোম করার সংকল্প এবং অপার কৃচ্ছ্রসাধনের পর অগ্নিহোত্র হোমের কুণ্ড থেকেই আবির্ভূতা হলেন দেবী সাবিত্রী। রাজা অশ্বপতিকে তিনি বর চাইতে বললেন তুষ্টির প্রতিদান দিয়ে। অশ্বপতি পরিষ্কার জানালেন—আমি বংশপরম্পরাবাহী অপত্য-লাভের বাসনায় এতকাল ধরে তপস্যা করেছি, আমাকে বহু বহু পুত্রলাভের বর দিন, যে পুত্রেরা আবার এই কুলের কথা ভাববে—

    অপত্যার্থঃ সমারম্ভঃ কৃতো ধর্মেপ্সয়া ময়া।

    পুত্রো মে বহবো দেবি ভবেয়ুঃ কুলভাবনা।।

    এখানে অশ্বপতি প্রথমে বংশকর অপত্যের কথা বলেছেন, তারপর অপত্যকে বিশেষিত করে বহু পুত্রলাভের বর চেয়েছেন। কিন্তু বরদা সাবিত্রী স্ত্রী বলেই বোধহয় তাঁর ভাবনার মধ্যে স্ত্রীলোকের হৃদয়যন্ত্রণার অনুভব ছিল। তিনি রাজাকে বললেন—আমি জানতাম, তুমি পুত্রলাভের জন্যই এই তপস্যা করেছো। কিন্তু তুমি আমার কথা শোনো। আমার বরে খুব ব্যক্তিত্বময়ী একটি কন্যা লাভ করবে তুমি—কন্যা তেজস্বিনী সৌম্য ক্ষিপ্রমেব ভবিষ্যতি। ভগবান ব্রহ্মার নির্দেশে আমি এই বর দিয়েছি এবং এরপরে তুমি আর একটি কথাও বলবে না। অর্থাৎ এখানে কোনো তর্ক চলবে না—আমি পুত্র চেয়েছি, কেন পুত্র পেলাম না—এসব তর্ক চলবে না এখানে।

    রাজা অশ্বপতি শীঘ্রই স্ত্রী মালবীর গর্ভে একটি কন্যা লাভ করলেন এবং তিনি তার নামও রাখলেন সাবিত্রী। সাবিত্রী-সত্যবানের কাহিনির মধ্যে আমরা ঢুকছি না। আমরা শুধু বলতে চাই অপত্য শব্দের মধ্যে পুত্রের অনুষঙ্গ যতখানি কন্যার ঠিক ততখানি। তা না হলে দ্রৌপদীর মতো মহাভারত-সার এক রমণী দুষ্টজনের সামনে এই সগর্ব উচ্চারণ করতেন না যে, ‘ওরে শোন! আমি মহারাজ দ্রুপদের কন্যা-অপত্য। লোকে আমাকে কৃষ্ণা বলে ডাকে; আমি পাঁচজন পুরুষকে স্বামী হিসেবে বেছে নিয়েছি, তাদের কথা তুই শুনেছিস নিশ্চয়—অপত্যস্মি দ্রুপদস্য রাজ্ঞঃ/কৃষ্ণেতি মাং শৈব্য বিদুর্মনুষ্যাঃ।

    দ্রৌপদী-কৃষ্ণা নিজেকে দ্রুপদরাজার অপত্য বলে যে গর্বোক্তি করেছেন, তাতে অপত্য-অর্থের মধ্যে পুত্রের মতো স্ত্রীলোকেরও পরিসর আছে, এটাই প্রমাণ হয়। তবে অপত্য শব্দের মুখ্য তাৎপর্যে পরম্পরাবাহী বংশরক্ষার যে তাৎপর্য, সেটা সবথেকে ভালোভাবে প্রমাণ করেছেন প্রজাপতি দক্ষ। সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় ব্রহ্মা তাঁর মানসপুত্রদের প্রজা সৃষ্টি করতে বলেছিলেন। প্রজা মানে কিন্তু পুত্র-কন্যা—প্রজায়তে যতঃ, অর্থাৎ যাদের থেকে পুনরায় প্রজনন সম্ভব হয়, তাদেরই প্রজা বলা যায়। প্রজা মানে—সাধারণ অর্থে পুরুষ-নারী। কিন্তু সৃষ্টির প্রথম পর্বে ব্রহ্মা তাঁর পুত্রদের প্রজা সৃষ্টি করতে বললে, তাঁরা অনেক পুত্র উৎপাদন করে প্রজাপতি বলে বিখ্যাত হলেন। এখানেই টিপ্পনীটা দরকার যে, যাঁরা বিয়ের ‘কার্ডে’ ওপরে একবার ‘প্রজাপতয়ে নমঃ’ লিখে ওপরে একখানি প্রজাপতির রঙিন ছবি সরবরাহ করেন। তাঁরা একেবারেই জানেন না যে, বৈবাহিক প্রজননধর্মিতা স্মরণ করেই কিন্তু সৃষ্টিকালের আদি পিতাদের সাধারণ উপাধি বৈবাহিক পত্রে লেখা হয় ‘প্রজাপতয়ে নমঃ’। তা নইলে পতঙ্গ প্রজাপতির কোনো মর্মার্থ নেই বিবাহের কোনো প্রসঙ্গে—এটি কোনো চিত্রকরের মূর্খের প্রতি কৌতুক।

    ঠিক এই প্রজননী ভূমিকায় অপত্য-শব্দের তাৎপর্যটুকু স্ত্রীলোকের প্রাধান্যে গ্রহণ করেছিলেন প্রজনন-দক্ষ দক্ষ-প্রজাপতি। তিনি ব্রহ্মার পুত্রদের মতো পুত্র উৎপাদন না করে ষাটটি কন্যার জন্ম দিলেন বীরিণীর গর্ভে। সেই কন্যাদের দশটিকে তিনি বিয়ে দিলেন ধর্মের সঙ্গে; তেরোটি কন্যা দিলেন কশ্যপ প্রজাপতির হাতে, সাতাশটি মেয়ে তুলে দিলেন চন্দ্রের হাতে, চারটি অরিষ্টনেমিকে, দুটি বহুপুত্রকে, দুটি কৃশাশ্বকে এবং দুটি অঙ্গিরাকে। এবার এদের গর্ভে যেসব পুত্র-কন্যা জন্মাল, তাতে দেবতা, অসুর এবং মানুষে এই সমস্ত জগৎ ভরে গেল—দেবাসুর-মনুষ্যাদি তাভ্য সর্বমভূজ জগৎ। তাই বলি, অপত্য শব্দের বংশবিস্তারিকা শক্তিটুকু মেয়েদের মধ্যেই বেশি আছে—এই তত্ত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বুঝেছিলেন বলেই প্রজাপতি দক্ষের নাম দক্ষ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব) – নীহাররঞ্জন রায়
    Next Article মহাভারতের ছয় প্রবীণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }