Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পুরাণী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এক পাতা গল্প516 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সংস্কৃত সমাজের আড়কাটীরা

    ধূর্ত-পুরুষেরা রাজাকে বোঝাচ্ছিল—মহারাজ, আপনি যে নেশা করেন নিন্দুকেরাই একে নেশা বলে—আসলে এটুকু হল রাজ-সুলভ বিলাসিতা। আপনার ইচ্ছে লোকে জানুক—তাদের রাজা ইন্দ্রিয় পরবশ নয়। এই যে আপনি নিজের স্ত্রী পর্যন্ত ত্যাগ করে বসে আছেন, অনাসক্তির প্রমাণ এর থেকে বড় আর কী হতে পারে। আর পরস্ত্রী-গমনের কথা বলছেন—ওটুকুও যদি না থাকে, লোকে জানবে কী করে যে আপনি বিদগ্ধ পুরুষ। নৃত্য-গীত-বেশ্যা—এগুলো আপনার রসিকতা-বোধের পরিচয় দেয় মাত্র—এর বেশি কিছু নয়।

    আমরা যে কাদম্বরী-চিত্রের একাংশ দেখলাম, তার কারণ এই নয় যে আমরা এইসব মহৎকর্মে কাউকে উৎসাহিত করতে চাই। তবে সংস্কৃত সাহিত্য পুরোহিত দর্পণ নয়—এই সাহিত্যের ধর্মীয় অংশ যেমন তৎকালীন সমাজকে ধারণ করেছে, তেমনি এক বিরাট জায়গা জুড়ে রয়েছে অন্যকিছু। সুন্দরের মধ্যে ছোট ছোট অসুন্দরের কথা, কল্পনার মধ্যে বাস্তবের ছোট ছোট রূঢ়তা, ভালোবাসার গভীরে কামনা-বাসনা লোভ—যা নাকি সমাজকে সত্যিকারের সমাজ করে তুলেছে। আলো যেমন সত্যি, অন্ধকারও তেমনি। কাজেই এই অন্ধকারের মধ্যে যাদের আনাগোনা তাদের কথা বলাও তো সত্যি কথা বলা।

    এই যে ধূর্তপুরুষের কথা আমরা বললাম এরা সে যুগেও ছিল এ যুগেও আছে। বন্ধু-বান্ধব, দূত-দূতী—প্রেমের ক্ষেত্রে এদের মতো বড় সহায় আর কেউ নেই। কিন্তু এও তো আলোর কথা—প্রেমিক-প্রেমিকার হৃদয়ের আলো সমপ্রাণ সখা-সখীকে আলোকিত করে। চিরকাল তাই সে পৌঁছে দিয়েছে প্রেমিক-হৃদয়ের ভাবনা অন্যতরের কাছে। কিন্তু অন্ধকার যেখানে, প্রেম যেখানে অবৈধ, বড় বড় মানুষেরা যেখানে গতানুগতিক ভদ্র জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে নিষিদ্ধ জায়গায় গেছে—কে তাদের নিয়ে গেছে সেখানে! যারা নিয়ে গেছে তারা রসশাস্ত্রের মার্কামারা দাস-দাসী নয়, সখা-সখীও নয়, বিদূষক তো নয়ই। যাদের কথা আমরা বলতে চাই—তাদের নামগুলো হয়তো ভরতের নাট্যশাস্ত্র থেকে আরম্ভ করে সেদিনকার সাহিত্যদর্পণে পর্যন্ত পাওয়া যাবে, ভদ্রগোছের কিছু নাটকেও হয়তো দেখতে পাব এদের, কিন্তু বাস্তবে এদের ক্রিয়াকলাপ একেবারেই আলাদা, ভাব-ভঙ্গিও একটু অন্যরকম। নিরুত্তাপ হৃদয়েও মোহের সংক্রান্তি কাটিয়ে কখনও ভদ্রঘরের বউ-ঝিকে এরা ফুসলে নিয়ে আসে, কখনও তা তপ্ত-হৃদয়ে ইন্ধন জোগায় বহুতর।

    অবশ্য প্রণয় যেখানে অবৈধ, রমণী যেখানে স্বৈরিণী, সেখানে সবসময় যে অন্যের সাহায্য লাগে তাও নয়—ইশারা-ইঙ্গিত সেখানে স্বমুখেই চলে। এদের বলে স্বয়ংদূতী—রমণী নিজেই এখানে মনের মানুষ জোগাড় করে—সে নিজেই নিজের দূতী। স্বামী প্রবাসে গেছেন, বিদেশি পান্থকে দেখে মনে হল ‘আহা মরি মরি’—শরীর-মন তাও তো ব্যর্থ—একে না পেলে। সে বলল—আমার বুড়ি শাশুড়ি শুয়ে থাকেন এখানটায়, আর শ্বশুর তিনি আবার বুড়োদের মধ্যেও বুড়ো—তিনি থাকেন এখানটায়, কাজের মেয়েটি সারাদিন ঘরের সমস্ত কাজে ক্লান্ত—গা এলিয়ে পড়ে থাকে এইখানে। আর আমি—কদিন হল আমার প্রাণনাথ প্রবাসে—এ অধমকে তাই একাই থাকতে হয় এ ঘরে।

    উতলা স্বৈরিণী ভাবে-ভঙ্গিতে কথা কয়ে নিজেই পান্থকে জানিয়ে দিল তার একা থাকার ঠিকানা। বুঝিয়ে দিল—জড়, অক্ষম শ্বশুর-শাশুড়ি, আর গভীর নিদ্রাচ্ছন্ন দাসী—কেউ ঘুণাক্ষরেও জানবে না পথিকের অবস্থিতি।

    তবে স্বৈরিণী-সমাজে সবাই সুমুখেই ভোগের কথা বলে না, তারও বন্ধুবান্ধব আছে দাসদাসী আছে—তারা তাদের মতো করেই মানুষ জোগাড় করে। তবে অন্যায়, অবৈধতা যেহেতু সোজা রাস্তায় হয় না, তাই এদেরও সবসময় সাধারণ বেশে পাওয়া যায় না। এইরকম একটা নাম হল লিঙ্গিনী। লিঙ্গিনী মানে এমন এক মহিলা যিনি বৃদ্ধা এবং তপস্বিনী কিংবা পরিব্রাজিকা বলে পরিচিত—বেশবাসও তপস্বিনীর। সাধারণত এদের কেউ সন্দেহ করে না, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরা শ্রদ্ধাস্পদও বটে এবং সেই সুযোগেই এরা কুলনাশিনী। এইরকম একজন লিঙ্গিনীর সঙ্গে পরিচয় হবে কথাসরিৎসাগরে—বণিক গুহসেন বাণিজ্যের জন্য তাম্রলিপ্ত থেকে কটাহদ্বীপে গেছেন। অন্যদিকে চারজন লম্পট গুহসেনের স্ত্রী দেবস্মিতার চরিত্র নষ্ট করার জন্য তাম্রলিপ্ত পৌঁছান। উদ্দেশ্য সিদ্ধি করার জন্য তারা যোগকরণ্ডিকা নামে এক ভিক্ষুণীর সঙ্গে দেখা করল এবং অনেক টাকাপয়সার লোভ দেখাল। ভিক্ষুণী বলল—”তোমাদের মতো যুবকদের নিশ্চয়ই কোনো স্ত্রীলোক প্রয়োজন, তার পরিচয় বল, আমি তোমাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করব। টাকাপয়সায় আমার দরকার নেই, আমার শিষ্যা সিদ্ধিকরীর দৌলতে টাকা আমার অনেক আছে।” বোঝা যায় ঘরভাঙার কাজ-এর পেশা ও নেশা, এখন সে টাকাপয়সারও ধার ধারে না। সিদ্ধিকরীও তপস্বিনী এবং মনে হয় এ হল ‘সাব-এজেন্ট’। এরপর দুই তপস্বিনী কাজে নামল এবং বুদ্ধির প্রখরতায় চার পাপিষ্ঠকে দেবস্মিতার ঘরেও তুলে দিয়েছিল। ঘরের কুকুরটিকে পর্যন্ত চেঁচাতে দেয়নি, লঙ্কামাখা মাংসখণ্ড খাইয়ে তাকে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল লালা ঝরায়। তবু শেষ রক্ষা হয়নি, তার কারণ—দেবস্মিতার সতীত্ব নয়, তার কারণ—লিঙ্গিনীর চেয়েও তার বুদ্ধি বেশি।

    যোগকরণ্ডিকার মতো ভিক্ষুণীরা যে এইসব কূট মধ্যস্থতার ব্যাপারে সিদ্ধহস্ত ছিল, সেটা বোঝা যাবে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে। কৌটিল্য মূলত রাজনীতিক, তাই তিনি এদের ব্যবহার করেছেন রাজ্যের মধ্যে প্রতিকূল সংঘ, যাকে আমরা ইংরেজিতে ‘অ্যাসোসিয়েশন’ কিংবা ‘ইউনিয়ন’ বলি—সেগুলো ভাঙার কাজে। তাঁর মতে রাজা প্রতিকূল সংঘমুখ্যের (অ্যাসোসিয়েশন লিডার) বিরুদ্ধে আরেক সংঘমুখ্যকে লাগিয়ে দেবেন। ধরা যাক, যাঁর বিরুদ্ধে রাজা এইরকম ভেদনীতি গ্রহণ করেছেন, তিনি একটু পত্নী-প্রেমিক। তাঁর কাছে একটি স্ত্রী-গুপ্তচর যাবে এবং সে যাবে ভিক্ষুণীর বেশে। সে বলবে ”অমুক প্রধান যৌবনের উন্মাদনায় আপনার স্ত্রীর ওপর কামনা-মোহগ্রস্ত। তাঁর ভয়ে আমি এই চিঠি আর উপহার নিয়ে এসেছি দূতীয়ালি করতে। আমি জানি আপনার স্ত্রী নির্দোষ, সেক্ষেত্রে আপনি প্রচ্ছন্নভাবে এর ব্যবস্থা নিন।” কৌটিল্য এই ভিক্ষুণীদের আবার নিয়ে এসেছেন রাজমন্ত্রীর চরিত্র পরীক্ষার ব্যাপারে। সেখানে রাজমহিষীকে জড়িয়েই ভিক্ষুণী তার পরীক্ষার কাজ চালাবে।

    ভিক্ষুণীর বেশের মধ্যে গুপ্তচর থাকুক আর যাই থাকুক, ঠিক এই ধরনের মধ্যস্থতায় ভিক্ষুণীর ব্যবহার অবৈধ প্রেমে তাদের কর্মকুশলতা সূচিত করে। তাছাড়া রাজমহিষীর ওপর বিশ্বাসের থেকে ভিক্ষুণীর ওপর কৌটিল্যের অবিশ্বাস বেশি ছিল কেননা তাঁর মতে রাজমন্ত্রীকে পরীক্ষার ব্যাপারে রাজমহিষীকে না জড়ানোই ভালো কেননা ভিক্ষুণীর পরিচালনায় রাজমহিষীই হয়তো ফেঁসে গেলেন, তখন? শুধু ভিক্ষুণী কেন, এদের কর্মকুশলতায় শঙ্কিত হয়ে কৌটিল্য বলেছেন—রাজমহিষীরা যেন কখনও কোনো মুণ্ডিতমস্তক বৌদ্ধ ভিক্ষুক কিংবা জটাধারী সাধু-সন্তদের সঙ্গে মেলামেশা না করেন। তার মানে উলটো দিক দিয়ে মেয়েদের মন ভাঙাতে এরাও কম নয়।

    ভিক্ষুণী-পরিব্রাজিকা ছাড়াও আর কতকগুলো নাম পাওয়া যাবে বাৎস্যায়নের কামশাস্ত্রে এবং আলংকারিক শারদাতনয়ের ভাবপ্রকাশনে। পরিশীলিত রুচি এবং রূঢ় বাস্তব—এই দুয়ের দ্বৈরথে রুচিই যেহেতু আলংকারিকের কাছে বড়, বাৎস্যায়নের নামগুলোকেই তাই তাঁরা মেনে নিয়েছেন রসশাস্ত্রের অনুপান মিশিয়ে, কিন্তু হাজার খুঁজলেও সে চরিত্র কোনও ভালো কাব্য-নাটকে পাওয়া যাবে না—যেমন শারদাতনয়ের কাহিনি। শব্দটি অভিধানে পাওয়া যায় না, তবে নাম শুনে বঙ্কিমচন্দ্রের মৃণালিনীতে গিরিজায়ার কথা মনে পড়ে। বঙ্কিম এর পরিচয় দিয়েছেন ভিখারিণী বলে, তবে কথা এবং গানের দৌলতে তাকে কথিনী বলতে অসুবিধে নেই। আরও দুটি শব্দ পাওয়া যাবে ঈক্ষণিকা আর প্রেক্ষণিকা। প্রথমটির উল্লেখ করেছেন স্বয়ং বাৎস্যায়ন, দ্বিতীয়টি শারদাতনয়। ঈক্ষণিকা মানে মোনিয়র উইলিয়মস লিখেছেন দৈবজ্ঞ, মোটামুটি স্ত্রী-জ্যোতিষী। জ্যোতিষীরা অনেকে, প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে গণিকার গুণগ্রাহিতায় সাহায্য করত, তার প্রমাণ পাওয়া যাবে দণ্ডীর দশকুমারচরিতে। বেশ্যামাতারা এই জ্যোতিষীদের কাজে লাগাত কোনও গণিকার সুলক্ষণ ঘোষণা করার জন্য। জ্যোতিষে বিশ্বাসী অথচ কোনও লম্পট যদি সেই জ্যোতিষের কাছে আসে তবে সে বলবে—অমুক জায়গায় এক সুলক্ষণা গণিকা আছে, তার সংসর্গে প্রভূত কল্যাণ হতে পারে।

    শারদাতনয়ের প্রেক্ষণিকা কিন্তু একেবারে আলাদা, প্রেক্ষণিকা মানে যারা খুব নাটক-থিয়েটার দেখতে ভালোবাসে। সুদূর অতীতে যারা বেশিমাত্রায় বাড়ির বাইরে নাটক-থিয়েটার দেখতে যেত তাদের খুব ভালো চোখে দেখা হয়নি কারণ সেই বৈদিক যুগে শতপথব্রাহ্মণে লেখা হচ্ছে—মেয়েরা স্বভাবতই অনর্থক গল্প করতে ভালোবাসে আর নাচা-গানা হলেই সেখানে তারা একেবারে আসক্ত হয়ে পড়ে। তৈত্তিরীয় সংহিতায় আছে—গায়ক দেখলেই মেয়েরা একেবারে ঢলে পড়ে—গায়ন্তং স্ত্রিয়ং কাময়ন্তে। কাজেই নাচ-গান-নাটকের আসরে যাদের গমনাগমন বেশি, বাইরে বেড়ানোর সুযোগ তো তাদের রয়েছেই—মনটাও তাদের একটু বেশি রস-নিষিক্ত। স্বাভাবিক কারণেই হৃদয়ে হৃদয়ে পরিচয় করানোর কায়দাটিও তারা জানে ভালোই। এই সব নাট্যামোদী মেয়েরা যে ভদ্রঘরের মেয়েদের মন উচাটন করতে পারে সে কথা আরও বোঝা যাবে হিন্দুসমাজের সর্বকালের অভিভাবক মনু-মহারাজের কপালে ভাঁজ পড়ায়। নবম অধ্যায়ের প্রথমেই তিনি সাবধান করে দিয়েছেন—মেয়েরা যেন গান-বাজনা এই সব বিষয়ে একেবারে আসক্ত না হয়। তা ছাড়া ছোটখাটো ব্যাপারেও দুষ্ট-স্বভাব স্ত্রীলোকদের কিংবা বদলোকের সঙ্গে মেলামেশা করা, যখন-তখন দোকানে-বাজারে, মেলায়-মন্দিরে যাওয়া—এসব তিনি একদম পছন্দ করতন না। আমাদের মনে হয় এই অপছন্দের কারণ হল—তিনি জানতেন এই সব জায়গায়ই দুষ্ট স্বভাবের মেয়েরা এবং ছেলেরা মেয়ে ধরার জন্য ওৎ পেতে বসে থাকে।

    সাহিত্যদর্পণ আবার ঈক্ষণিকা-প্রেক্ষণিকা—এ সবাইকে বাদ দিয়ে দূতী হিসেবে নটীদের কথা বলেছে। নটীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেরাই গণিকা ছিল, কাজেই তারা যে মধ্যস্থতার কাজও ভালো করবে—তাতে সন্দেহ কি? আসলে নটীই কী আর ভিক্ষুণীই কী, ঈক্ষণিকাই হোক আর প্রেক্ষণিকা—এরা একটা জাত, যে জাতের সাধারণ নাম কুট্টনী। মালিনী কি তাম্বুলিকা—এটা এদের বাইরের মনভুলানো পেশা। পেশাটি এদের সুযোগ দেয় মাত্র—যে সুযোগে তারা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, কিন্তু অন্যেরাও তাতে সন্দেহ করে না। সংস্কৃত সাহিত্যের এই কুট্টনীকে রসশাস্ত্রের জারক মিশিয়ে একেবারে বাঙালি আদলে উপস্থিত করেছেন ভারতচন্দ্র—

    সূর্য্য যায় অস্তগিরি আইসে যামিনী।
    হেনকালে তথা এক আইল মালিনী।।
    কথায় হীরার ধার, হীরা তার নাম।
    দাঁত ছোলা, মাজা দোলা হাস্য অবিরাম।।
    গাল-ভরা গুয়া পান পাকি মালা গলে।
    কাণে কড়ি, কড়ে রাড়ী, কথা কয় ছলে।।
    চূড়া বাঁধা চুল, পরিধানে সাদা শাড়ী।
    ফুলের চুপড়ি কাঁখে ফিরে বাড়ী বাড়ী।।

    প্রাতঃস্মরণীয় দীনেশ সেন মশায় লিখেছেন—”বিদ্যাসুন্দরের হীরা, বিদু ব্রাহ্মণী প্রভৃতি কুট্টনী ও কামিনীকুমারের সোনামুখীর ন্যায় দাসী বঙ্গীয় হিন্দু সমাজের খাঁটি চরিত্র নহে…হীরার ন্যায় নাগর ধরিবার ফাঁদ বিদেশের আমদানী।”—তা হলেও হতে পারে এবং তাতে আমরা গর্বিত। দীনেশ সেন মহাশয়ের কল্পিত বঙ্গীয় হিন্দু সমাজে হয়তো এরা ছিল না, কিন্তু বিদেশের, মানে ভারতবর্ষের হিন্দু সমাজে এরা ছিল এবং বেশ ঠাট-বাট নিয়েই ছিল। কারণ ভারতচন্দ্রের এই সাদা শাড়ি পরা রাড়ীর সঙ্গে বাৎস্যায়নের ‘বিধবা’ দূতীর বেশ মিল আছে এবং বাৎস্যায়নের মতে এই সব দূতীর অন্যতম কাজ হল—এরা স্বামীর ওপর স্ত্রীর মন বিষিয়ে দেবে, বিচিত্র সুরতসম্ভোগের চিত্র দেখাবে, যে পুরুষের জন্য কাজ করতে এসেছে তার অনুরাগ এবং রতি-কৌশল জানাবে, আর সে পুরুষটিও যে অনেক রমণীর কাম্য, তাও বোঝাবে। দূতী-কুট্টনীর এই সমস্ত কর্মপদ্ধতি সাতবাহন হালের গাহাসত্তসঈ খুললে অনেক পাওয়া যাবে। অতদূর না গেলেও হাতের সামনে বাল্মীকি রামায়ণ খুললে দেখা যাবে, রাবণের কুট্টনীরা রাবণের অতুল রতিক্ষমতার বর্ণনা করে রামের প্রতি সীতার মন বিষিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে এরা বিধবা কিনা সন্দেহ আছে। পাঠক আরও বলতে পারেন—এরা তো চেড়ী, অন্তত কৃত্তিবাসের প্রমাণে তো তাই। আমরা বলব—এ চেড়ী আর কিছুই নয়, আসলে এরা চেটী। চেড়ী শব্দটি সংস্কৃত চেটীর রূপান্তর মাত্র, যার অর্থ মোটামুটিভাবে দাসী। দাসী হলেও নায়িকার মনের মানুষ পাওয়াতে এরা সাহায্য করে, তবে এ চেটী বা দাসী ঠিক সাহিত্যের দাসী নয়, বাৎস্যায়নের দাসী। কৌটিল্যও ঠিক বাইরের দাস-দাসীদের রাজমহিষীর অন্দরমহলে প্রবেশ নিষেধ করে দিয়েছেন, কারণ কি কিছুই নেই? এই চেটী বা দাসী কী করতে পারে তার প্রমাণ পাব সুপ্রাচীন বৌদ্ধগ্রন্থ মহাবস্তু অবদানের শ্যামা জাতকে, যে জাতকের আমূল রূপান্তর ঘটিয়ে অপূর্ব এবং ভদ্রস্থ করেছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।

    শ্যামাজাতকের শ্যামা সুন্দরীপ্রধানা বটে, তবে গণিকা। অশ্ববণিক বজ্রসেনের মহেন্দ্রনিন্দিত কান্তি দেখে শ্যামা ‘শীঘ্র যা লো সহচরী’ বলে প্লুতস্বরে যাকে ডাকছেন সে কিন্তু আসলে চেটী। শ্যামার মন বুঝে সে কোটালের হাতে টাকাপয়সা গুঁজে দিয়ে বলল—একইরকম চেহারার আর একটি পুরুষ তোমায় দেব, তাকে মার—কিন্তু একে ছেড়ে দাও—এ আমার মালিকানীর মনে ধরেছে। কোটাল মেনে নিল তথাস্তু বলে। অন্যদিকে আর এক বণিকপুত্র এসে শ্যামার ঘরে ঢুকল—তিনি বারো বছরের জন্য গণিকা শ্যামাকে কিনে নিয়ে বাঁধাবাবু সেজেছিলেন। দশ বছর কেটেছে, তাই একটু মায়াও আছে শ্যামার ওপর। শ্যামা করল কী—অনেক খাবার-দাবার সাজিয়ে বাঁধা-বাবুকে বলল—আর্যপুত্র, একজনকে শূলে চড়ানোর জন্য বধ্যভূমিতে নিয়ে গেল, বড় মায়া লাগছে, তাই এই খাবারগুলো তাকে একটু দিয়ে আসব। বণিকপুত্র বলল—ওসব জায়গায় তুমি একা মেয়েমানুষ, যেয়ো না। তার চেয়ে দাও, আমিই দিয়ে আসি। শ্যামা বলল—আর্যপুত্র, সে কি হয়, আপনাকে যেতে হবে না, আমিই যাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত শ্যামার ছলনায় ভুলে, লক্ষ্নৌ-এর বাবুর মতো ভদ্রতা দেখিয়ে বণিকপুত্র নিজেই গেল। এবার চেটীর কাজ। চেটী বণিকপুত্রের প্রাণের বিনিময়ে বজ্রসেনকে লুকিয়ে শ্যামার ঘরে এনে তুলল। বিলাসে, ব্যসনে ভালোই কাটছিল দিন কিন্তু ক্রমে বজ্রসেন সব জানতে পারলেন এবং ভাবলেন—একইভাবে তাঁকেও প্রাণ দিতে হতে পারে, আরেকজনের প্রাণের বিনিময়ে। পালাবার জন্য শেষ পর্যন্ত এক উপায় বার করলেন। বারাণসীর উদ্যানভূমি সংলগ্ন এক ক্রীড়া-সরোবরে কেলি করার নাম করে শ্যামাকে নিয়ে গেলেন সেখানে। তারপর প্রেম-প্রেম চোখের ঠারে তাকিয়ে, শ্যামাকে প্রচুর পরিমাণ মদ খাইয়ে এবং তার থেকেও বেশিবার জলে ডুবিয়ে একেবারে মৃতপ্রায় অবস্থায় পদ্মপুকুরের সিঁড়ির ওপর ফেলে রেখে পালালেন। চেটীরা এতক্ষণ উদ্যানে—একটু দূরেই বসেছিল। মালিকানী প্রেমিকের সঙ্গে ক্রীড়া করছেন—দেখাটা একটু লজ্জাও বটে। শেষে কোনো শব্দ না শুনে সন্দেহ হল, দেখল শ্যামা মৃতপ্রায়। নানা কৌশলে শ্যামাকে বাঁচিয়ে তুলল চেটীরা। কাজেই গণিকা শ্যামার চেটী শুধু দুঃসাহসী কুট্টনী নয়, বিশ্বাসী দাসীও বটে। রামায়ণে রাবণের চেড়ীদের তাই অন্যরকম ভাবার কোনো কারণ নেই—তবে তফাত এইটুকু যে, তারা জাতে রাক্ষসী; ভালো কথায় পরস্ত্রীর মন ভাঙাতে অসুবিধা হলে একটু-আধটু ক্রোধাবেশ হয় চেড়ীদের, তাছাড়া পরস্ত্রীটিও তো আর পরের ঘরে নেই, সে রয়েছে তাদের নিজেদেরই অশোকফুলের বাগানে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শ্যামা দ্বিতীয়বার যাদের মাধ্যমে বজ্রসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল—তারা ছিল নট-অভিনেতা। নটীদের কথা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি, এখন দেখছি তাদের পতি-দেবতারাও এ বিষয়ে কম যায় না।

    আসল কথা কুট্টনী চেটী হবে, না নটী হবে, দাসী হবে, না সখী হবে, মালিনী হবে, না ভিক্ষুণী হবে—তার কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। তার চেহারাটিও যে সবসময় হীরা মালিনীর মতো হবে তাও নয়—যেমন দামোদর গুপ্তের বর্ণনায় বারাণসীর বেশযুবতী মালতী গণিকোচিত পাঠ-গ্রহণের জন্য বিকরালা নামে এক কুট্টনীর কাছে গেল। বিকরালা পাকা ঝানু এক মহিলা, সংসারের হালচাল দেখে তার চুল পেকে গেছে। তার বাড়িতে বিশ্ব-কামীর গমনাগমন। দাঁত প্রায় পড়ে গেছে, যা আছে তাও আবার উঁচু-উঁচু, নাকটা মোটা আর চ্যাপটা, স্তনযুগল শুষ্ক—তনু শিথিল। সে আসনে বসে আছে, তার অঙ্গুলি-মূলে এক তন্বী বালিকা—নবিশি করে মনে হয়। তার চারদিকে গণিকাগণের পরিবার। মালতীর জবানিতে বোঝা যায়—বিকরালা ভুবনত্রাতা হরির কৌস্তুভমণি খসিয়ে দিতে পারে, ধনীকে নির্ধন করে দিতে পারে, নির্ধনকে ধনী। এসব যে, সে করতে পারে না—তার কারণ তার অসামান্য বুদ্ধি, যে বুদ্ধির কথা, হাজারো উপদেশের কথা—শুনতে পাওয়া যাবে দামোদর গুপ্তের সারা ‘কুট্টনীমতম’ জুড়ে।

    বিকরালার মতোই এক প্রবীণা কুট্টনীকে দেখতে পাব হালের ‘গাহাসত্তসঈতে’। সে তার কাঁচা বয়সের কথা স্মরণ করে এক নবীনাকে উত্তেজিত করছে। বলছে—তখন সে-সব যুবকেরাও ছিল, সেই সেই গ্রাম-সম্পত্তিও ছিল, আর আমাদের ভরা যৌবনও ছিল—লোকেরা গল্পকথার মতো সে-সবের বর্ণনা করবে, আর বেঁচে থেকে সেগুলো আমাদের শুনতে হবে। অর্থাৎ তোদের এখন সেই বয়েস,বসে বসে কচ্ছিস কী? এমনকি মহিলা কবির শিরোমণি বিজ্জকা—যাঁর এক-একখানি শ্লোক এক-একখানি কাব্য বলে আলংকারিকেরা নির্ধারণ করেছেন—তিনি কুট্টনীর বেশে সতীপনায় বিশ্বাসী এক যুবতীকে বলছেন—আমরা বাল্যবয়সে অল্পবয়সী ছেলেদের মাথা চিবিয়ে খেয়েছি, যৌবনে তরুণদের আর এখন পরিণত বয়সেও প্রৌঢ়-বৃদ্ধদের ইচ্ছা করি। দেখ বাপু পরিণয়-বিধির এই রীতি। আর তুমি কিনা একটা স্বামীর সঙ্গে দিন কাটিয়ে মানবজন্ম ব্যর্থ করতে বসেছ, আমাদের গোত্রে ওরকম সতীর মার্কামারা কেউ নেই বাপু—’ন নো গোত্রে পুত্রি ক্বচিদপি সতীলাঞ্ছনমভূৎ।’

    এ একেবারে পাকা কুট্টনীর কথা। কুট্টনীরা আসলে প্রায়ই বেশ্যাপ্রেমের সঙ্গে যুক্ত, যে প্রেমের রাস্তা—বহু-কৈতব-মার্গ-বিনির্মিতানি—ছল-চাতুরির রাস্তা। কুট্টনীরা এই কৈতব-মার্গের আট-ঘাট সব জানে, আর তার কথাবার্তার বাঁধন অতি বিদগ্ধ সাহিত্যিককেও হার মানাবে, কেননা—অত্যুৎসাহী যুবকের কানে কানে যদি এমন কথা বলা হয়—যৌবনোদগমে পল্লীবধূর উত্তমাঙ্গ যেমন পীন হয়ে উঠেছে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে তার কটিদেশ, তার প্রিয়তম, তার কুটুম্বস্বজন, তার সতীনেরা, আর রোগা হয়ে যাচ্ছে পল্লীর যুবক ছেলেরা। অর্থাৎ ভাবখানা হল—যুবতীর ওপর তার কুটুম্বস্বজনেরও নজর আছে—সেখানে তোমার দোষ কী?

    কুট্টনীদের মধ্যে সেরা কুট্টনী হল বেশ্যামাতা যাকে আমরা কাঁচা বাংলায় ‘মাসি’ বলি। বিজ্জকার যে শ্লোকটির কথা আমরা আগে উল্লেখ করেছি সেটি সম্ভবত কোনো মাসিরই জবানি হবে। এই মাসিরা বিনে পয়সার ভোগে গালাগালি দেয়, অর্থাভাবে যাকে ঘর থেকে বার করে দেওয়া হয়েছিল, টাকা হলে তাকে আবার ঘরে তোলার উপদেশ দেয়। কামি-পুরুষকে হাতে রাখার বুদ্ধিও তার অপূর্ব—যেমন এক জায়গায় সে বলছে—ওরে—তোকে আর সাজগোজ করতে হবে না, ওই আধাসাজেই প্রিয়জনের ঘরে ঢোক, দেরি হওয়ার জন্য যদি তার আগ্রহ কমে যায়, তবে তুই তার মনে আর জায়গা পাবি না। কথাগুলো জোরেই বলা হল, পুরুষটিও শুনে পুলকিত হল, কিন্তু সাজগোজের কথাটি বাহানা। আসলে দেরি হচ্ছিল—মেয়ের সঙ্গে অন্য মানুষ ছিল বলে।

    বেশ্যামাতারা খদ্দের জোগাড় করার জন্য যে কত কিছু করে, তার প্রমাণ পাওয়া যাবে দণ্ডীর দশকুমারচরিতে—একজন গণিকাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যত মানুষ সে কাজে লাগায়, পরোক্ষ কিংবা অপরোক্ষভাবে তারা সকলেই বেশ্যাপ্রেমের গুণগ্রাহী, তবে সবাই এরা জাত আড়কাঠি নয়। যেমন নৃত্য-গীত-বিশারদ যারা, তাদের কাছ থেকে আগে-ভাগেই অনুনয়-বিনয় করে প্রশংসা-পত্র জোগাড় করে বেশ্যামাতা। নানারকম শিল্পীদের দিয়েও একইরকমভবে সেই গণিকার যশ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে, দৈবজ্ঞ-জ্যোতিষীর কাজ তো আগেই বলেছি। আর সোজাসুজি খদ্দের জোগাড় করবে যারা তাদের নাম হল পীঠমর্দ, বিট, বিদূষক এবং পরিব্রাজিকা। এরা গণিকার শারীরিক সৌন্দর্য, সৎস্বভাব, শিল্পনৈপুণ্য, আলাপের মধুরতা—আরও সব গুণের কথা রসিক লোকের মাঝে ছড়িয়ে দেবে, দরকার হলে প্রাথমিকভাবে পয়সা দিয়ে তাদের নিয়েও আসবে।

    পরিব্রাজিকা ভিক্ষুণীর কথা আমরা আগেই বলেছি, দণ্ডী আর যে নামগুলো করেছেন তারা কুট্টনীদের পুরুষ সংস্করণ মাত্র। বাৎস্যায়নের মতে পীঠমর্দ হল ভদ্রবেশের গরিব মানুষ, পুত্র-পরিবারের বালাই নেই, রুজিরোজগারের জন্য এদিক-ওদিক ঘোরে, কলানৈপুণ্যও আছে ভালো আর বেশ্যাদের ব্যাপারেই তার জীবিকানির্বাহ হয়। নাট্যশাস্ত্রগুলোতে পীঠমর্দ কিন্তু গুণে প্রায় নায়কের মতোই। অভিধান আবার তা বলে না, সেখানে পীঠমর্দকে পাওয়া যায় গণিকাদের নৃত্য-প্রশিক্ষক হিসেবে। বাৎস্যায়নের দৃষ্টিভঙ্গির নিরিখে এবং দণ্ডী এদের যেভাবে কাজে লাগিয়েছেন—তার নিরিখে এদের মূল চরিত্রটি খুব ভালো বলে মনে হয় না। দণ্ডী বিদূষকের নামও করেছেন, তবে আমরা জানি বিদূষক মোসাহেবিতে সিদ্ধহস্ত, কাজেই নায়ক যদি বিদগ্ধা নায়িকার প্রেমে মত্ত হয় সেখানেও সে আছে, নায়িকা যদি গণিকা হয় সেখানেও সে আছে। এরা ব্যক্তিত্বহীন এবং এদের মূলধন হল ভাঁড়ামি। তবে পীঠমর্দ কিংবা বিদূষক—এরা কেউ জাত আড়কাঠি নয়—পুরুষদের মধ্যে জাত আড়কাঠি হল ‘বিট’।

    নাট্যশাস্ত্রগুলোতে বিটের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে অনেকবার, তবে সেগুলোতে বিটকে আমরা একটু ভদ্র-ভদ্র চেহারায় দেখি, আসলে সে তা মোটেই নয়। বাৎস্যায়নের মতে বিট হল তারাই—অল্পবয়সে, অতিরিক্ত শৌখিনতায়, বিলাস-ব্যসনে যাদের টাকাপয়সা ফুরিয়ে গেছে। সাহিত্যদর্পণও তাই বলেছে। বলেছে—সম্ভোগের কারণে তার সম্পদ নষ্ট হয়ে গেছে। তবে সম্ভোগ মানে, আমাদের ধারণা—এ প্রচুর স্ত্রী-সম্ভোগও করেছে যৌবনে, যে কারণে টাকাপয়সা ফুরিয়ে সে তখন ফতুর। ঠিক এই জায়গাটাতে সংজ্ঞাকারেরা আড়কাঠি হওয়ার মনস্তত্ত্বে গিয়ে পৌঁছেছেন, কেননা একথা আমাদের কুট্টনীদের সম্বন্ধেও খাটে। কুট্টনীরা হয় আগে গণিকা ছিল, না হয় কামোপভোগে তৃপ্ত হয়নি তত অথবা গলিত-যৌবনে কামনার বিকার কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি তাদের পক্ষে।

    পদ্মপুরাণের ভূমিখণ্ডে দেখি—বারাণসীতে সুধীর নামে এক মহাপ্রাজ্ঞ, ধনবান ব্যক্তি ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম চিত্রা। সে কিন্তু স্বামীর থেকেও অন্য পুরুষের গুণগ্রাহী ছিল বেশি। পরগৃহে বাস তার ব্রত। তার কাজ হল স্বামীর সঙ্গে সবসময় ঝগড়া করা আর অভ্যাস হল—বাড়ি বাড়ি ঘোরা, পরের দোষ দেখে বেড়ানো আর সবসময় হাসা। এসব দেখেশুনে সুধীর আরও ধীরভাবে অন্য এক বৈশ্যকন্যার পাণি-গ্রহণ করলেন। কিন্তু সুধীর তো আর মনস্তত্ত্ববিদ নন—ফল হল বিপরীত। পদ্মপুরাণ লিখলেন, ”তখন চিত্রা অতি প্রচণ্ডরূপে পাপমতি দুষ্ট নরগণের সহিত ভূতলে পরিভ্রমণ করিতে লাগিল। ক্রমে সেই পাপকারিণী তাহাদের দূতীকর্মে নিযুক্ত হইল। সে সাধু ব্যক্তিগণের গৃহভঙ্গ করিতে লাগিল; সাধ্বী রমণীগণকে পাপবাক্যে আহ্বান করিয়া প্রলোভিত করিতে থাকিল, সাধুপত্নীকে সে অন্যের হস্তে সমর্পণ করিতে লাগিল। এইভাবে সেই পাপকারিণী তাহাদের দূতীকর্মে নিযুক্ত হইল। সে সাধু ব্যক্তিগণের গৃহভঙ্গ করিতে লাগিল; সাধ্বী রমণীগণকে পাপবাক্যে আহ্বান করিয়া প্রলোভিত করিতে থাকিল, সাধুপত্নীকে সে অন্যের হস্তে সমর্পণ করিতে লাগিল। এইভাবে সেই পাপকারিণী চিত্রা শত শত গৃহ ভগ্ন করিল।”

    করিবেই। সুধীর জানে না—সে কাকে ঘাঁটিয়েছে। এ হল জাত কুট্টনী; মহামতি ফ্রয়েড থাকলে এই গল্প থেকে কুট্টনীর কুষ্ঠি তৈরি করে ফেলতে পারতেন, আমরা তা পারি না, তবে কুট্টনীর প্রসঙ্গ আমরা দ্বিতীয়বার উত্থাপন করলাম এই জন্য যে, বিট একজন বিদগ্ধা কুট্টনীর পুরুষ সংস্করণ। বিট নাচা-গানা মোটামুটি জানে, কথাবার্তা চালাতে পারে দারুণ, সভাসমিতিতে বহুলোক তাকে আদরও করে। ভরতের নাট্যশাস্ত্রমতে—বিটের বিশিষ্টতা হল গণিকালয়ের আচার-ব্যবহারে সে একেবারে পাকাপোক্ত মানুষ, আর সবচেয়ে বড় কথা সে বুদ্ধিমান এবং চতুর। এর চাতুর্য কতখানি তা বোঝা যাবে ধ্বন্যালোকের একটি উদাহরণে। বিট তার প্রেমিক বন্ধুর জন্য প্রেমিকার কাছে জানতে এসেছে যে, কখন সে দেখা করতে পারবে তার বন্ধুর সঙ্গে। লোকজন থাকায় বিদগ্ধ প্রেমিকা হাসিমাখা চোখের ভঙ্গিতে তার হাতের লীলাপদ্মের পাপড়িগুলো বুজিয়ে দিলেন।

    আমরা জানি সূর্যাস্ত হলে পদ্মফুল নিমীলিত হয়, এখানে বিট কতখানি ইঙ্গিতজ্ঞ এবং চতুর যে, সে বুঝে নিল—প্রেমিকার সঙ্গে মিলন হবে সূর্যাস্তের পর—সন্ধ্যেবেলায়। মধ্যস্থ হিসেবে বিটের কর্মকুশলতা, বুদ্ধি, বাগ্মিতা—এসবের থেকেও বিটের বড় পরিচয়—বিট নিজেই কাম-কলা-কোবিদ, নিজেই রমণীলম্পট। কবি-নাট্যকারেরাও বালিকা, কন্যা কিংবা রমণী—এইসব শব্দের সঙ্গে বিট শব্দের সমাস করে নায়কের লাম্পট্য প্রকাশ করেছেন, অবশ্য কখনো এই লাম্পট্য সত্যি, কখনো পরিহাস, কখনো বা ইচ্ছে করে ভয় দেখানো যেমন ভবভূতির মালতীমাধবে কপালকুণ্ডলা মালতীকে বলছে—তোমার মাধব হল কুমারীলম্পট—কন্যাবিটঃ পতিরসৌ। রসিকের শিরোমণি চৈতন্যদেব কিন্তু বিটের আসল চরিত্রটি ঠিক ধরেছেন। তিনি বললেন—কোনো এক শঠ গোপবধূ-লম্পট আমাদের জোর করে তাঁর দাসী বানিয়ে ছেড়েছেন—কেনাপি শঠেন বয়ং হঠেন, দাসীকৃতা গোপ-বধূ-বিটেন।

    এই শঠতা আর লাম্পট্যই বিটের আসল স্বভাব। বিট কথাটা থেকে পরবর্তীকালে বিটলে, বিটকেল কিংবা বিটলেমি—এই শব্দগুলো এসেছে কিনা ভাষাতাত্ত্বিকেরা তার বিচার করবেন, কিন্তু সত্যিকারের বিটের মধ্যে বিটলেমি কিছু আছেই। পয়সা ফুরিয়ে গেলেও তার জমিদারি চালের সঙ্গে আরও কিছু দেখা যায়। একটি একাঙ্ক নাটকে দেখি—বুড়ো হয়ে গেলেও এ মাথায় কলপ লাগায়, আর যৌবন ফেরানোর জন্য মদনানন্দ মোদকের মতো হিমরসায়ন খায়। আর বিটলেমি—এ নিজে বিবাহিত, কিন্তু ঘরে মন বসে না। আরেক জায়গায় দেখি—বিট একজনের মধ্যস্থতা করতে যাচ্ছে। যেতে যেতে গণিকালয়ের রাস্তায় এসে খুব পুলক জেগেছে মনে। বলছে—আহা এইখানেই কত মারামারি করেছি, কত বেশ-যুবতীকে এখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে গেছি—কাঁচা বয়সের সেসব ভোগের কথা ভেবে আজ মজা লাগছে দারুণ। বিট আবার নিজেই বলছে—আসল বিট হল সে যে সারাদিন মহাজনের সঙ্গে ঝগড়া করবে, দিন শেষ হলে কোনো বন্ধুর বাড়িতে আচ্ছা করে খাবে আর রাত হলেই বেশ্যাবাড়ি চলে যাবে।

    এ হেন লোকেরই বিট হওয়া সাজে। এ যেমন গণিকাদের জন্য খদ্দের জোগাড় করে তেমনি কুট্টনীমতম-এ দেখব সে গণিকার ভাড়া না দিয়ে পালিয়েছে, যে ভাড়া হয়তো সে জোগাড় করেছে খদ্দেরের কাছ থেকেই। চম্পট দিতে গিয়ে সেই গণিকার কাছে ধরাও পড়ল, তাতে আবার লজ্জা নেই। কোনও বিট আবার বড়লোক খদ্দের জুটিয়ে দিয়ে রসিকতা করছে গণিকার সঙ্গেই—তোমার জন্য আমি ঘর ছাড়লাম, আর এখন তুমিই হলে পরের মতো। এই রসিকতার পূর্বাভাসটি ভালো নয় মোটেই। বিট নিজে কামুক হোক আর মতলববাজই হোক, আমাদের আলোচনায় তার মূল চরিত্র কিন্তু—সে সবচেয়ে সার্থক মধ্যস্থ। মধ্যস্থ হিসেবে একজন বিদগ্ধ বিটের নাম পাব শূদ্রকের নামে প্রচলিত একটি একাঙ্ক নাটকে—তার নাম শশ। মহাকবি বাণভট্ট পর্যন্ত এর নাম উল্লেখ করেছেন রাজা মূলদেবের বন্ধু বলে। সে চলেছে—এলিচপুরের রাজা কর্ণিসুত মূলদেবের মনের মানুষ জোগাতে। মূলদেব কম মানুষ নন—জ্ঞানী, ধনী এবং রসজ্ঞ, আর এই তৃতীয় গুণটির জন্যই বাঁধা পড়লেন দেবসেনার রূপের ফাঁদে। কিন্তু এ বসন্তে দেবসেনা সত্য হলেও অন্য বসন্তে তার বড় বোন দেবদত্তাই সত্য ছিলেন মূলদেবের কাছে। দেবদত্তা খুব বড়মুখ করে খবর পাঠালেন রাজার কাছে—”আমি কালকে সময়মতো আসতে পারিনি বলে রাগ রেখ না মনে, আমার ছোটবোন দেবসেনা অসুস্থ—তার একটু ব্যবস্থা করে এই আমি এলাম বলে।” দেবসেনার শারীরিক অসুস্থতা আর রাজার মানসিক অসুস্থতা—কারণ কিন্তু একই। রাজা বন্ধুবর বিটকে বললেন—”শুনলে তো—এখনই আসছে।” বিট বলল—”তুমি কি দিনের বেলায় আলো জ্বালাচ্ছ, তোমাদের নট-ঘট কি আমি কিছুই জানি না? নিশ্চিন্ত থাক, আমি হলাম শশ—তোমার বন্ধু বিট। এখনই তোমার অসুখের প্রতিকার করছি।” রাস্তায় যেতে যেতে নানা লোকের সঙ্গে রঙ্গরসিকতা চলল—কারণ সময় নেওয়া, দেবদত্তা চলে আসে যাতে। এই রঙ্গরসিকতায় মানুষের মধ্যে কিন্তু পুরোনো সব নাগরিকারাও রয়েছে, যাদের সঙ্গে বিটের এককালে মন দেওয়া-নেওয়া ছিল নিশ্চয়ই। সময়মতো বিট এসে পৌঁছাল দেবসেনার বাড়িতে এবং শেষে তার অন্তর জয় করে ফিরে এল বন্ধু মূলদেবের কাছে।

    এই কাজ হাসিল করাটাই ভালো মধ্যস্থের কাজ। সংস্কৃত সাহিত্যের স্বাভাবিক প্রবণতা অনুসারে এদের নানারকম সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে—বিট, পীঠমর্দ, চেটী কিংবা কারুশিল্পনী, কিন্তু অবৈধ প্রেমে মধ্যস্থতা করার জন্য কোনো উপাধি দরকার হয় না। বাণভট্টের ইতিহাসাশ্রয়ী রচনা হর্ষচরিতের সপ্তম উচ্ছ্বাসে এই চিরায়ত মধ্যমাচারের ইঙ্গিত পাই। হর্ষদেব যুদ্ধযাত্রা করেছেন গৌড়েশ্বরের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরাট সৈন্যবাহিনী চলেছে—তার বহুতর সাজ-সরঞ্জাম, বহুতর আয়োজন। এই সৈন্যবাহিনীর সঙ্গেই চলেছে কতকগুলো মেয়েমানুষ—বাণভট্ট এদের নাম বলেছেন—চুন্দী। অমরকোষের টীকাকার ক্ষীরস্বামী বলেছেন শব্দটি সংস্কৃত নয়—দেশী শব্দ। একটি অতি দেশজ গালাগালির সঙ্গে এ শব্দের অননুনাসিক মিল থাকায় আমরাও শব্দটিকে দেশজ মনে করি। এই চুন্দীদের পা-গুলো বাঁকা আর এরা এতই মোটা এবং থপথপে যে চলতে-ফিরতেই কষ্ট হয়, তবু এদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, কেননা এই চুন্দীদের কাজ হল ভদ্রলোকের মেয়েদের ফুঁসলে নিয়ে আসা এবং তাদের বেশ্যাবৃত্তিতে প্রযুক্ত করা। আবার এই যুদ্ধযাত্রাতেই দেখা যাবে—কুলীন কুলপুত্রদের মহিষীরা বাহনে চেপে চলেছেন, কিন্তু বাহনের চলার পথ যেন অবরোধ করেছে কতকগুলো কুচরিত্র বদমাস লোক, কিন্তু মজার কথা হল এই কুচরিত্র লোকগুলোকে পাঠিয়েছে অন্য অভিজাত রাজপুত্ররাই—অভিজাত-রাজপুত্র-প্রেষ্যমান—কুপ্রযুক্তা…। এই বদমাশদের কাজ কিন্তু কুলবধূদের মন ভাঙিয়ে রাজপুত্রদের কাছে নিয়ে আসা।

    বাণভট্টের এই সূক্ষ্ম বর্ণনা থেকে এবং এদের বাধা দেওয়ার মতো কোনো মানুষের বর্ণনা যেহেতু বাণভট্ট দেননি তা থেকেও বোঝা যায় এই কুচরিত্র মধ্যস্থদের কাজের সীমা কতদূর। স্থান-কাল-পাত্র-নির্বিশেষে এরা সর্বত্রগামী এবং স্বসাধনে সিদ্ধ। তবে এই মধ্যস্থেরা যেহেতু প্রায়ই সরাসরি বেশ্যারতির সঙ্গে যুক্ত, কর্মক্ষেত্রে তাই তারা স্বভাবতই মুক্ত এবং স্বাধীন কিন্তু তবু এমনও জায়গা আছে যেখানে তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ়; দৈহিক লেনদেন তাদের কাছে জলভাত হয়ে গেলেও একটি জায়গাতেই তারা দারুণ হোঁচট খায়—তা হল গণিকাও যদি প্রেমে পড়ে যায়। গণিকারা দেহসর্বস্ব—তবু মনের আনাচে-কানাচে কখনো কুলবধূর আশা দেহের আচরণ-ভঙ্গ করে বেরিয়ে পড়ে এবং মধ্যস্থের মুশকিল সেইখানেই।

    গাহাসত্তসঈ-তে দেখি—এক নির্ধন পুরুষকে নির্ধনতার অপরাধে বার করে দিয়েছিল বেশ্যামাতা, পরে যখন তার অর্থসমৃদ্ধি ঘটেছে তখন কুট্টনী বেশ্যামাতাই কন্যাকে চাপ দিতে আরম্ভ করল পুরুষটিকে স্ববশে আনবার জন্য কিন্তু হায়, গণিকা যে তার প্রেমে পড়েছিল এককালে, সে এখন তাকে মুখ দেখাবে কী করে, সে বলল—মাগো, যে প্রেম আগে কেটে গিয়ে পরে আবার জোড়া লাগে সে প্রেমের সরসতা থাকে না। আগে জল গরম করে পরে সেটা আবার ঠান্ডা করলে সে জল যেমন তার স্বাভাবিক মাধুর্য হারিয়ে ফেলে—এ প্রেমও তেমনই, কাজেই আর ওকথা বোল না মা।

    আর একটি ঘটনা পাব কথাসরিৎসাগরে—স্থান মথুরা। বারমুখ্যার নাম রূপণিকা। শহরের সমস্ত গণিকার শিক্ষাদাত্রী তার জননী। সে বৃদ্ধা কুট্টনী—নাম মকরদংষ্ট্রা, কন্যার রূপগুণে আকৃষ্ট যুবকদের চোখে সে বিষপিণ্ডের মতো। একদিন মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে লোহজঙ্ঘ নামে এক নির্ধন যুবকের প্রেমে পড়ে গেল সে, দাসীর মারফত যোগাযোগ করে ঘরেও এনে তুলল তাকে। রূপণিকার এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃদ্ধা কুট্টনী বলল—কন্যা, কেন এই নির্ধন পুরুষকে নিয়ে এসেছ ঘরে। অভিজাত গণিকা প্রয়োজনে শবদেহ স্পর্শ করতে পারে কিন্তু বিত্তহীনকে কখনওই নয়। অনুরাগে রাঙাবেশ্যা-প্রেম রক্তরাগে রাঙা সন্ধ্যার মতো—দুই ক্ষণস্থায়ী। রূপণিকা বলল—অমন কথা বোলো না মাগো—ওকে যে আমি ভালোবাসি।

    এর পরেও বেশ্যামাতা তার ধর্মে চেষ্টা করে গেছে রূপণিকাকে নিবৃত্ত করতে—কিন্তু এত করেও শেষ রক্ষা হয়নি, রূপণিকার প্রেম পরিণতি লাভ করেছে, তার কারণ প্রেমের কোনো জাত নেই—তার বসতি অভিজাতের মনেও যেমন, গণিকা-হৃদয়েও তেমনই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাঙালীর ইতিহাস (আদিপর্ব) – নীহাররঞ্জন রায়
    Next Article মহাভারতের ছয় প্রবীণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    Related Articles

    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কথা অমৃতসমান – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের ভারতযুদ্ধ এবং কৃষ্ণ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    কলিযুগ – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    মহাভারতের অষ্টাদশী – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    চৈতন্যদেব – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    দেবতার মানবায়ন : শাস্ত্রে সাহিত্যে ও কৌতুকে – নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

    September 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }